পরীক্ষা আর্কাইভ

৪৯তম বিসিএস ⎯ সংস্কৃত [১৫১]

পরীক্ষা৪৯তম বিসিএস ⎯ সংস্কৃত [১৫১]তারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়01 hr 30 mins১০০ বৈধ · অসম্পূর্ণ
মোট প্রশ্ন১০১
সিলেবাস
ফুল মডেল টেস্ট - ৪
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

৪৯তম বিসিএস ⎯ সংস্কৃত [১৫১]

৪৯তম বিসিএস ⎯ সংস্কৃত [১৫১] · তারিখ অনির্ধারিত · ১০১ প্রশ্ন

.
গীতায় শ্রীকৃষ্ণ অর্জুনকে কী উপদেশ দেন?
  1. জ্ঞানই সর্বশ্রেষ্ঠ
  2. ভোগই মুক্তির পথ
  3. কর্তব্যকর্ম সম্পাদনই ধর্ম
  4. যুদ্ধ কর পলায়ন নয়
ব্যাখ্যা

কৃষ্ণ অর্জুনকে স্মরণ করিয়ে দেন যে ক্ষত্রিয় হিসেবে তাঁর কর্তব্য হলো যুদ্ধ করা।
ফলাফল নয়, কর্তব্যই প্রধান।
কর্মে আসক্তি ত্যাগ করে কর্তব্য পালনই শ্রেষ্ঠ জীবনপথ।
এভাবেই কৃষ্ণ কর্মযোগের মূল তত্ত্ব ব্যাখ্যা করেন।
অতএব কর্তব্যকর্মই গীতার মূল শিক্ষা।

.
গীতায় কৃষ্ণ অর্জুনকে কী রূপে প্রকাশ করেন?
  1. সাধারণ বন্ধু
  2. যোগেশ্বর ও বিশ্বরূপ
  3. শুধু রাজকুমার
  4. শিষ্য
ব্যাখ্যা

গীতার ১১তম অধ্যায়ে কৃষ্ণ বিশ্বরূপ দর্শন দেন।
তাঁকে তখন যোগেশ্বর, সর্বব্যাপী ঈশ্বর রূপে প্রকাশ করা হয়।
অর্জুন তাঁর মধ্যে অসীম শক্তি, দেবতা, রুদ্র, সৃষ্টি-সংহার সবকিছু দেখতে পান।
এই দর্শন গীতার সর্বোচ্চ আধ্যাত্মিক মুহূর্ত।
অতএব কৃষ্ণ যোগেশ্বররূপে প্রতীয়মান।

.
গীতার ভক্তিযোগে মুক্তির উপায় কী বলা হয়েছে?
  1. দানশীলতা
  2. যুদ্ধ জয়
  3. ত্যাগ
  4. একাগ্র ভক্তি
ব্যাখ্যা

ভক্তিযোগে কৃষ্ণ বলেন—যে ভক্ত একাগ্রচিত্তে ঈশ্বরের উপাসনা করে, সে মুক্তি পায়।
ভক্তি সর্বজনীন ও সহজপথ।
সামাজিক অবস্থান, জাতি বা জ্ঞান এখানে বাধা নয়।
অটল ভক্তিই ঈশ্বরপ্রাপ্তির প্রধান মাধ্যম।
এটি গীতার ভক্তিদর্শনের মূল ভিত্তি।

.
গীতায় কৃষ্ণের মতে শ্রেষ্ঠ যোগী কে?
  1. যে ধ্যানে স্থিত
  2. যে কর্মত্যাগী
  3. যে ভক্তিসম্পন্ন
  4. যে জ্ঞানী
ব্যাখ্যা

গীতায় কৃষ্ণ বলেন—যোগীদের মধ্যে ভক্তিসম্পন্ন যোগী শ্রেষ্ঠ।
কারণ ভক্তি ঈশ্বরের সঙ্গে সরাসরি যোগ স্থাপন করে।
জ্ঞান বা ধ্যান গুরুত্বপূর্ণ হলেও ভক্তি সহজ ও হৃদয়গ্রাহী।
ভক্তিই মানুষকে পরমাত্মার কাছে পৌঁছে দেয়।
তাই ভক্তিকে শ্রেষ্ঠ যোগ বলা হয়েছে।

.
গীতার শিক্ষা কোন গ্রন্থের অন্তর্গত?
  1. মহাভারত
  2. রামায়ণ
  3. উপনিষদ
  4. ঋকবেদ
ব্যাখ্যা

শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা মহাভারতের অন্তর্ভুক্ত।এটি ভীষ্মপর্বের একটি অংশ।মহাভারতের যুদ্ধক্ষেত্রেই এই শিক্ষা প্রদান করা হয়।অতএব গীতা মহাকাব্যের অংশ হয়েও স্বতন্ত্র দর্শনগ্রন্থ।এ কারণে তাকে "উপনিষদসম" বলা হয়।

.
গীতার মূল উদ্দেশ্য কী?
  1. দর্শন প্রচার ও ধর্মপথ নির্দেশ
  2. যুদ্ধে জয়লাভ ও ধর্মপথ নির্দেশ
  3. ভক্তি, জ্ঞান ও কর্মের সমন্বয়ে ধর্মপথ নির্দেশ
  4. রাজনীতি শিক্ষা ও ধর্মপথ নির্দেশ
ব্যাখ্যা

গীতার উদ্দেশ্য শুধু যুদ্ধ বা রাজনীতি নয়।এখানে ভক্তি, জ্ঞান ও কর্ম—এই তিনটির সমন্বয় ঘটেছে।মানুষকে কর্তব্যপথে স্থাপন করে মুক্তির দিকে নিয়ে যাওয়া গীতার মূল লক্ষ্য।
তাই একে সর্বজনীন জীবনদর্শন বলা হয়।এটি মানবকল্যাণের জন্য আধ্যাত্মিক পথপ্রদর্শক।

.
শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা কাকে "কর্মযোগ" শিখিয়েছে?
  1. অর্জুনকে
  2. যুধিষ্ঠিরকে
  3. সঞ্জয়কে
  4. ধৃতরাষ্টকে
ব্যাখ্যা

অর্জুন যুদ্ধক্ষেত্রে ভগ্নচিত্ত হলে কৃষ্ণ তাঁকে কর্মযোগ শিখিয়েছিলেন।
কর্মযোগের মাধ্যমে ফলের আসক্তি ত্যাগ করে কর্তব্য পালন করতে বলা হয়েছে।
অর্জুনের দ্বিধা দূর করতেই এই শিক্ষা দেওয়া হয়।অতএব কর্মযোগের প্রধান শ্রোতা অর্জুন।

.
গীতায় কোন পথকে সহজ ও সর্বজনগ্রাহ্য বলা হয়েছে?
  1. জ্ঞানপথ
  2. ধ্যানপথ
  3. ভক্তিপথ
  4. মুক্তিপথ
ব্যাখ্যা

গীতায় কৃষ্ণ ভক্তিকে সর্বজনগ্রাহ্য বলেছেন।জ্ঞান ও ধ্যান কঠিন, কিন্তু ভক্তি সহজ এবং সবার জন্য উন্মুক্ত।একাগ্রচিত্তে ঈশ্বরকে স্মরণ করাই ভক্তির মূল।এটি জাতি, বর্ণ, বয়স বা লিঙ্গের সীমাবদ্ধতায় আবদ্ধ নয়।তাই ভক্তিপথকে সহজ বলা হয়েছে।

.
শ্রীকৃষ্ণ গীতায় কাকে প্রকৃত জ্ঞানী বলেছেন?
  1. যে জগতকে ক্ষণস্থায়ী জেনে আসক্তিহীন থাকে
  2. যে ধন সম্পদ রাখে
  3. যে যুদ্ধ এড়িয়ে চলে
  4. যে মন্ত্র জানে
ব্যাখ্যা

গীতায় কৃষ্ণ বলেন—যিনি দুঃখ-সুখে সমান থাকেন, জগতকে ক্ষণস্থায়ী জানেন এবং আসক্তিহীন থাকেন, তিনিই প্রকৃত জ্ঞানী।তিনি কর্মে থাকলেও তার সঙ্গে লিপ্ত নন।
আসক্তিহীনতাই মুক্তির চাবিকাঠি।অতএব জ্ঞানীর বৈশিষ্ট্য হলো বৈরাগ্য।

১০.
গীতায় কৃষ্ণ শেষে অর্জুনকে কী নির্দেশ দেন?
  1. সবকিছু ছেড়ে ভোগ করো
  2. জ্ঞান চর্চা করো
  3. সব ধর্ম ত্যাগ করে ঈশ্বরের শরণ নাও
  4. যুদ্ধ থেকে সরে যাও
ব্যাখ্যা

গীতার শেষ অধ্যায়ে কৃষ্ণ বলেন—“সর্বধর্মান্ পরিত্যজ্য মামেকং শরণং বৃজ”।
অর্থাৎ সব কর্তব্য, ধর্ম, আসক্তি ছেড়ে ঈশ্বরের শরণ নাও।এটাই মুক্তির একমাত্র পথ।
ভক্তি ও সমর্পণ গীতার পরিসমাপ্তির মূল শিক্ষা।অতএব শেষ নির্দেশ হলো পূর্ণ আত্মসমর্পণ।

১১.
‘শ্লোক’ সাধারণত কোন ছন্দে রচিত হয়?
  1. গায়ত্রী
  2. জগতি
  3. অনুষ্টুপ
  4. বৃহতী
ব্যাখ্যা

শ্লোক হলো মহাকাব্য, স্তোত্র ও দার্শনিক রচনার প্রধান ছন্দ।অনুষ্টুপ এ প্রতি পাদে ৮ মাত্রা থাকে, মোট ৩২ মাত্রা।এই ছন্দের সরলতা ও ছন্দবিন্যাসে যাযাবর বাণী সহজে উচ্চারণযোগ্য।বেদে ও মহাভারতে শ্লোকের রচনায় অনুষ্টুপ বহুল ব্যবহৃত।
এটি শিল্পকাব্য ও ধর্মগ্রন্থে প্রচলিত প্রধান ছন্দ।

১২.
ত্রিষ্টুপ ছন্দে প্রতি পাদে কত মাত্রা থাকে?

  1. ১১
  2. ১২
  3. ১৬
ব্যাখ্যা

ত্রিষ্টুপ ছন্দে প্রতি পাদে ১১ মাত্রা থাকে, মোট ৪ পাদে ৪৪ মাত্রা হয়।
রিগ্বেদে এই ছন্দ সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত।এটি দীর্ঘ এবং ভারী ছন্দ, যা উচ্চারণে মহিমা ও তেজ প্রকাশ করে। ত্রিষ্টুপে আধ্যাত্মিক, দর্শনমূলক বা মহাকাব্যিক বিষয় প্রকাশ করা হয়।
অতএব এটি বেদ ও প্রাচীন সাহিত্যিক রচনায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

১৩.
বৃহতী ছন্দে কত মাত্রা হয়?
  1. ৩৬
  2. ৪৪
  3. ৪৮
  4. ৫২
ব্যাখ্যা

বৃহতী নামের অর্থই “বৃহৎ”, তাই এটি দীর্ঘ ছন্দ।
প্রতি পাদে ১২ মাত্রা থাকে এবং ৪ পাদে ৪৮ মাত্রা হয়।
এই ছন্দ মহাকাব্য, স্তোত্র ও দীর্ঘকাব্যে ব্যবহার করা হয়।
লম্বা ও মহিমাময় হওয়ায় বৃহতী শক্তিশালী আধ্যাত্মিক ও কাব্যিক অনুভূতি প্রদান করে।
ভাষার সৌন্দর্য ও ছন্দের ভারসাম্য বজায় রাখার জন্য এটি উপযুক্ত।

১৪.
ঋগ্বেদের সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত ছন্দ কোনটি?
  1. গায়ত্রী
  2. ত্রিষ্টুপ
  3. বৃহতী
  4. অনুষ্টুপ
ব্যাখ্যা

ত্রিষ্টুপ ছন্দ রিগ্বেদের প্রধান ছন্দ।প্রতি পাদে ১১ মাত্রা, ৪ পাদে ৪৪ মাত্রা।
এটি দীর্ঘ, ভারী ও মহিমাময় ছন্দ।আধ্যাত্মিক, যজ্ঞমূলক এবং দর্শনমূলক রচনায় উপযুক্ত।
অতএব রিগ্বেদের প্রধান ছন্দ হলো ত্রিষ্টুপ।

১৫.
ধর্মেণ চিত্তং কুরু, কর্মণি চ ফলত্যাগঃ -বাংলায় এর সঠিক অনুবাদ কোনটি?
  1. ধর্ম ত্যাগ করো, কর্মে মন দাও
  2. কেবল ফলের জন্য কর্ম করো
  3. ফলের জন্য ধর্ম ত্যাগ করো
  4. ধর্মে মন রাখো, কর্মের ফল ত্যাগ করো
ব্যাখ্যা

বাক্যটি গীতার কর্মযোগের মূল ভাব প্রকাশ করছে।
কর্ম করো, কিন্তু ফলের প্রতি আসক্তি রাখো না।
‘ধর্মেণ চিত্তং কুরু, ’ অর্থ – ধ্যান বা মন সংযোগ করো ধর্মে।
‘কর্মণি চ ফলত্যাগঃ’ অর্থ – কর্ম করো, কিন্তু ফলের প্রতি লিপ্ত না হও।
বাংলায় অনুবাদে মূল ভাব, ক্রিয়া ও ফলের বিচ্ছেদ স্পষ্টভাবে ধরা হয়েছে।

১৬.
"সর্বেভ্যঃ প্রিয়ং কুরু, শুদ্ধবুদ্ধ্যা চ নিবর্তইয়"- এর সঠিক বাংলা অনুবাদ:
  1. সকলকে প্রিয় করো, কিন্তু বিচার ও জ্ঞান মেনে চলো
  2. সকলকে অপছন্দ করো, নিজের ইচ্ছা মেনে চলো
  3. কেবল প্রিয়জনকে করো প্রিয়
  4. প্রিয়তা দিয়ে নিজের মন নিয়ন্ত্রণ করো
ব্যাখ্যা

‘সর্বেভ্যঃ প্রিয়ং কুরু’ – সবার প্রতি সদয় হও।
‘শুদ্ধবুদ্ধ্যা চ নিবর্তয’ – বিচারবুদ্ধি বা সম্যক জ্ঞান দ্বারা কর।
অর্থাৎ কেবল অনুভূতি নয়, বিবেচনা ও জ্ঞান বজায় রেখে প্রিয়তা প্রকাশ করতে হবে।
অনুবাদে ব্যাকরণগত ও ভাবগত সামঞ্জস্য রাখা হয়েছে।

১৭.
"ন হি জ্ঞানেন সদৃশং পবিত্রমিহ বিদ্যতে" -এর সঠিক বাংলা অনুবাদ:
  1. জ্ঞানসদৃশ পবিত্র কিছু নেই
  2. জ্ঞানের মত পবিত্র আর নাই
  3. জ্ঞানের চেয়ে পবিত্র কিছু নেই
  4. জ্ঞানের দ্বারা পবিত্র কিছু নাই
ব্যাখ্যা

বাক্যটি বলছে, জ্ঞান দ্বারা অর্জিত যে পবিত্রতা তা সর্বোচ্চ।
অর্থাৎ জ্ঞানই মুক্তি ও পবিত্রতার মূল উৎস।
বাংলায় অনুবাদে মূল ভাব ও সংস্কৃত বাক্যের গভীর অর্থ বজায় রাখা হয়েছে।
প্রাকৃতিক ও আধ্যাত্মিক ভাব দুইই প্রতিফলিত হয়েছে।

১৮.
"কর্মণ্যেআধিকারস্তে মা ফলেষু কদাচন"- এর সঠিক বাংলা অনুবাদ:
  1. কর্ম ত্যাগ করো, ফল চাও
  2. ফলের জন্য কর্ম করো
  3. কেবল ফল ভাবো, কর্ম নয়
  4. কর্মে অধিকার রেখো, কিন্তু ফলের প্রতি নয়
ব্যাখ্যা

গীতার এই বিখ্যাত শ্লোক কর্মযোগের মূল।
কর্ম করো, কিন্তু ফলের জন্য লিপ্ত হবে না।
‘মা ফলেষু কদাচন’ – কোন অবস্থাতেই ফলের প্রতি আসক্ত হওয়া যাবে না।
বাংলা অনুবাদে মূল ভাব ও আধ্যাত্মিক নির্দেশনা বজায় রাখা হয়েছে।

১৯.
"যোগস্থঃ কুরু কর্মাণি সংগং ত্যক্ত্বা ধনঞ্জয়" -এর সঠিক বাংলা অনুবাদ:
  1. শুধুই ধ্যান করো, কর্ম ত্যাগ করো
  2. যোগে স্থির হয়ে করো কর্ম, আসক্তি ত্যাগ করো
  3. যোগ করো, ফল চাও
  4. যোগ ছাড়ো, স্বাধীনভাবে করো
ব্যাখ্যা

‘যোগস্থঃ’ – যোগে স্থিত হওয়া।
‘সংগং ত্যক্ত্বা’ – আসক্তি বা সংযুক্তি ত্যাগ করা।
অর্থাৎ কর্ম করো, কিন্তু ফলের প্রতি আসক্ত হওয়া যাবে না।
বাংলা অনুবাদে মূল ভাব ও আধ্যাত্মিক নির্দেশনা বজায় রাখা হয়েছে।

২০.
"সুখদুঃখে সমে কৃত্বা লাভালাভৌ জয়াজযৌ"-এর সঠিক বাংলা অনুবাদ:
  1. সুখ-দুঃখে সমভাবে, লাভ-লাভ ও জয়-পরাজয় সমভাবে গ্রহণ করো
  2. সুখ-দুঃখে ,লাভ-লাভ ও জয়-পরাজয় সমভাবেই গ্রহণ করো
  3. সুখ-দুঃখে ,লাভ-লাভ ও জয়-পরাজয় সবই সমভাবে গ্রহণ করো
  4. সুখ-দুঃখে ,লাভ-লাভ ও জয়-পরাজয় এসব বিষয় সমভাবে গ্রহণ করো
ব্যাখ্যা

‘সুখদুঃখে সমে কৃত্বা’ – সুখ ও দুঃখে সমভাবে আচরণ করা।
‘লাভালাভৌ জয়াজযৌ’ – লাভ-লাভ ও জয়-পরাজয়েও সমভাবে থাকা।
বাংলা অনুবাদে সমতা ও ধৈর্যের মূল ভাব স্পষ্ট করা হয়েছে।
এটি গীতার নৈতিক ও দার্শনিক শিক্ষা প্রতিফলিত করে।

২১.
"সত্যং ব্রূয়াত্ প্রিয়ং ব্রূয়াত্ ন ব্রূয়াত্ অপ্রিয়ং" -এর সঠিক বাংলা অনুবাদ:
  1. সত্য বলো, প্রিয় বলো, মিথ্যা বলো না
  2. সত্য বলো, প্রিয় বলো, অপ্রিয় বলো না
  3. সত্য ও প্রিয় বলো, অপ্রিয় মিথ্যা কথা বলো না
  4. সত্য ও প্রিয় বলো, অপ্রিয় বলো না
ব্যাখ্যা

এটি আচরণ ও ভাষার নৈতিক শিক্ষা।‘সত্যং ব্রূয়াত্’ – সত্য বলো।
‘প্রিয়ং ব্রূয়াত্’ – সদয় বা প্রিয় কথা বলো।‘ন ব্রূয়াত্ অপ্রিয়ং’ – অপ্রীয় কথা কখনো বলো না।বাংলা অনুবাদে মূল বক্তব্যের যথাযথ প্রকাশ করা হয়েছে।

২২.
"বিদ্যাং দদাতি বিনয়ং, বিনয়াদ্যাতি পাত্রতাম্" -এর সঠিক বাংলা অনুবাদ:
  1. বিদ্যা কেবল বিনয় ও জ্ঞান দেয়
  2. পাত্রতা বিদ্যা নষ্ট করে বিনয় নয়
  3. বিদ্যা বিনয় দেয়, বিনয় পাত্রতা প্রদান করে
  4. বিদ্যা বিনয় দেয় আর বিনয় পাত্রতা প্রদান করে
ব্যাখ্যা

সংস্কৃত বাক্যে বিদ্যা শুধুই জ্ঞান নয়, তা বিনয়ও দেয়।
বিনয়ই মানুষের চরিত্রে উন্নতি ও পাত্রতা সৃষ্টি করে।
বাংলা অনুবাদে ভাবগত মিল রাখা হয়েছে।
এটি শিক্ষা ও নৈতিকতার গভীর দিক ফুটিয়ে তোলে।

২৩.
সংস্কৃত সাহিত্যের প্রাচীনতম রূপ কোনটি?
  1. বেদ
  2. পুরাণ
  3. মহাকাব্য
  4. উপনিষদ
ব্যাখ্যা

সংস্কৃত সাহিত্যের মূল উৎস হলো বেদ। এগুলো ধর্মীয় স্তোত্র, যজ্ঞসংক্রান্ত মন্ত্র ও জ্ঞানের ভাণ্ডার। ঋগ্বেদ প্রাচীনতম গ্রন্থ। এর মাধ্যমে সংস্কৃত ভাষার ধ্বনি, শব্দবিন্যাস ও ছন্দরীতি বিকশিত হয়। তাই সংস্কৃত সাহিত্যের সূচনা বেদ থেকেই ধরা হয়।

২৪.
“ঋগ্বেদ” কোন ধারার অন্তর্ভুক্ত?
  1. গদ্যকাব্য
  2. আখ্যান
  3. স্তোত্রসাহিত্য
  4. নাটক
ব্যাখ্যা

ঋগ্বেদ মূলত ঋষিদের স্তোত্রসংগ্রহ। এতে দেবদেবীর স্তব, প্রার্থনা ও কৃতজ্ঞতার বাণী রয়েছে। এর মাধ্যমে সেই সময়ের ধর্মীয় জীবন ও দর্শন ধরা পড়েছে। তাই একে স্তোত্রসাহিত্য বলা হয়।

২৫.
সংস্কৃত মহাকাব্যের প্রবর্তক হিসেবে কাকে ধরা হয়?
  1. ভাস
  2. কালিদাস
  3. বাল্মীকি
  4. ভর্তৃহরি
ব্যাখ্যা

“আদিকবি” বাল্মীকি রচিত রামায়ণ মহাকাব্য সংস্কৃত সাহিত্যের প্রথম মহাকাব্য। তাই মহাকাব্যের প্রবর্তক হিসেবে বাল্মীকি সর্বজনবিদিত। এর মধ্য দিয়ে সংস্কৃত কাব্যের বর্ণনামূলক ও আখ্যানধর্মী রূপ সুপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

২৬.
সংস্কৃত সাহিত্যে “কাব্য” ধারার সূচনা কোন যুগে?
  1. বৈদিক যুগে
  2. উপনিষদ যুগে
  3. গুপ্ত যুগে
  4. মোগল যুগে
ব্যাখ্যা

গুপ্ত যুগকে সংস্কৃত সাহিত্যের সুবর্ণযুগ বলা হয়। এই সময়েই কাব্যধারা সুপ্রতিষ্ঠিত হয়। কালিদাস, ভাস, ভবভূতি প্রমুখ মহাকবি এই যুগেই কীর্তি স্থাপন করেন। তাই কাব্যের পূর্ণ বিকাশ গুপ্ত যুগে।

২৭.
সংস্কৃত নাট্যসাহিত্যের জনক কাকে বলা হয়?
  1. শূদ্রক
  2. ভবভূতি
  3. ভরত
  4. কালিদাস
ব্যাখ্যা

ভরত রচিত নাট্যশাস্ত্র সংস্কৃত নাট্যসাহিত্যের প্রথম ও মৌলিক গ্রন্থ। এখানে নাটকের রীতি, রসতত্ত্ব, মঞ্চায়ন প্রভৃতি বিশদভাবে বর্ণিত। তাই ভরতকে সংস্কৃত নাট্যসাহিত্যের জনক বলা হয়।

২৮.
সংস্কৃত সাহিত্যের সুবর্ণযুগ কোন যুগকে ধরা হয়?
  1. বৈদিক যুগ
  2. মহাকাব্য যুগ
  3. গুপ্ত যুগ
  4. মুসলিম যুগ
ব্যাখ্যা

গুপ্ত যুগে কালিদাস, ভাস, ভবভূতি, শূদ্রক প্রমুখ কবি-নাট্যকার সংস্কৃত সাহিত্যকে উচ্চ শিখরে নিয়ে যান। এই সময়ে মহাকাব্য, নাটক, গীতিকাব্য প্রভৃতি সাহিত্য ধারা সমৃদ্ধ হয়। এজন্য একে সুবর্ণযুগ বলা হয়।

২৯.
সংস্কৃত সাহিত্যে “গীতিকাব্য” ধারা বিশেষভাবে বিকাশ লাভ করে কার হাতে?
  1. জয়দেব
  2. ভবভূতি
  3. কালিদাস
  4. রাজশেখর
ব্যাখ্যা

জয়দেবের গীতগোবিন্দ সংস্কৃত সাহিত্যে গীতিকাব্যের শ্রেষ্ঠ নিদর্শন। ভক্তি ও প্রেমের মিশ্রণে এটি অনন্য কাব্য হয়ে উঠেছে। এর সুরেলা ছন্দ গীতিকাব্যকে নতুন মাত্রা দিয়েছে।

৩০.
“মেঘদূত” কাব্য কোন ধারার অন্তর্ভুক্ত?
  1. মহাকাব্য
  2. গীতিকাব্য
  3. আখ্যানকাব্য
  4. প্রবন্ধ
ব্যাখ্যা

কালিদাসের “মেঘদূত” গীতিকাব্যের এক অমূল্য রচনা। এতে যক্ষ তার বার্তা প্রিয়াকে পৌঁছে দিতে মেঘকে দূত করে। এর ভাবপ্রবণতা, অলঙ্কার ও ছন্দগতি গীতিকাব্যের বৈশিষ্ট্য বহন করে।

৩১.
সংস্কৃত আখ্যানকাব্যের উত্থান মূলত কোন যুগে?
  1. বৈদিক যুগে
  2. মহাকাব্য যুগে
  3. গুপ্তোত্তর যুগে
  4. আধুনিক যুগে
ব্যাখ্যা

গুপ্তোত্তর যুগে সংস্কৃত আখ্যানকাব্যের বিশেষ বিকাশ ঘটে। বনভট্ট রচিত “হর্ষচরিত” এর উদাহরণ। এখানে ঐতিহাসিক ঘটনা সাহিত্যিক ভঙ্গিতে উপস্থাপিত হয়েছে।

৩২.
বানভট্ট কোন কাব্যের রচয়িতা?
  1. কিরাতার্জুনীয়ম
  2. হর্ষচরিত
  3. গীতগোবিন্দ
  4. অভিজ্ঞানশকুন্তলম
ব্যাখ্যা

বনভট্ট সম্রাট হর্ষবর্ধনের সভাকবি ছিলেন। তিনি রচনা করেন হর্ষচরিত, যা একটি আখ্যানমূলক গদ্যকাব্য। এর মাধ্যমে ঐতিহাসিক ঘটনার সাহিত্যরূপ দেওয়া হয়েছে।

৩৩.
সংস্কৃত সাহিত্যে দার্শনিক কাব্যের শ্রেষ্ঠ নিদর্শন কোনটি?
  1. মহাভারত
  2. রামায়ণ
  3. ভগবদ্গীতা
  4. মেঘদূত
ব্যাখ্যা

ভগবদ্গীতা মহাভারতের অংশ হলেও এটি একটি স্বতন্ত্র দার্শনিক কাব্য। এখানে কৃষ্ণ অর্জুনকে কর্মযোগ, ভক্তিযোগ ও জ্ঞানযোগের শিক্ষা দিয়েছেন। তাই এটি দর্শন ও কাব্যের মেলবন্ধন।

৩৪.
সংস্কৃত সাহিত্যের প্রথম নাট্যকার হিসেবে কাকে ধরা হয়?
  1. ভাস
  2. কালিদাস
  3. ভবভূতি
  4. শূদ্রক
ব্যাখ্যা

ভাস সংস্কৃত সাহিত্যের প্রাচীনতম নাট্যকার। তার রচিত “স্বপ্নবাসবদত্তম”, “প্রতিমানাটকম” প্রভৃতি নাটক আজও প্রসিদ্ধ। তাই তাঁকে প্রথম নাট্যকার হিসেবে ধরা হয়।

৩৫.
সংস্কৃত সাহিত্যে অলঙ্কারশাস্ত্রের ভিত্তি স্থাপন করেন কে?
  1. ভরত
  2. ভামহ
  3. আনন্দবর্ধন
  4. দণ্ডি
ব্যাখ্যা

ভামহ রচিত কাব্যালঙ্কার গ্রন্থ সংস্কৃত অলঙ্কারশাস্ত্রের প্রাচীনতম নিদর্শন। তিনি কাব্যে অলঙ্কারের প্রয়োগ, সৌন্দর্য ও গুরুত্ব নির্ধারণ করেন। এর মাধ্যমেই অলঙ্কারশাস্ত্রের ভিত্তি রচিত হয়।

৩৬.
সংস্কৃত সাহিত্যের ইতিহাসে "অবধি যুগ" কোন সময়কে বোঝায়?
  1. খ্রিস্টপূর্ব ১৫০০–খ্রিস্টপূর্ব ৬০০
  2. খ্রিস্টীয় প্রথম থেকে পঞ্চম শতক
  3. অষ্টম থেকে দ্বাদশ শতক
  4. পঞ্চদশ থেকে অষ্টাদশ শতক
ব্যাখ্যা

অষ্টম থেকে দ্বাদশ শতককে সংস্কৃত সাহিত্যের অবধি যুগ বলা হয়। এই সময়ে আখ্যান, কাহিনী, অলঙ্কারশাস্ত্র ও দর্শনমূলক রচনা সমৃদ্ধ হয়। যদিও নাটক ও মহাকাব্যের জৌলুস কিছুটা হ্রাস পায়।

৩৭.
ব্রাহ্মণ সাহিত্য মূলত কোন বিষয়কে কেন্দ্র করে রচিত?
  1. যুদ্ধ ও রাজনীতি
  2. যজ্ঞকর্ম ও তার ব্যাখ্যা
  3. প্রেম ও ভক্তি
  4. দর্শনচিন্তা
ব্যাখ্যা

ব্রাহ্মণ সাহিত্য হলো বৈদিক সাহিত্যের একটি ধারা, যা মূলত যজ্ঞকর্ম, তার ব্যাখ্যা, নিয়মনীতি ও ফলাফল বিষয়কে কেন্দ্র করে। এগুলোতে বৈদিক মন্ত্রের ব্যবহারিক দিক ব্যাখ্যা করা হয়েছে। তাই এদের বৈদিক সংস্কৃতির অঙ্গ হিসেবে ধরা হয়।

৩৮.
ব্রাহ্মণ সাহিত্যের প্রাচীনতম নিদর্শন কোনটি?
  1. শতপথ ব্রাহ্মণ
  2. গোপথ ব্রাহ্মণ
  3. কৌষীতকী ব্রাহ্মণ
  4. ঐতরেয় ব্রাহ্মণ
ব্যাখ্যা

ঋগ্বেদের সাথে সম্পর্কিত ঐতরেয় ব্রাহ্মণ প্রাচীনতম। এতে যজ্ঞকাণ্ড, দেবতা ও স্তোত্র ব্যাখ্যা করা হয়েছে। বৈদিক যুগের ধর্মীয় আচার বুঝতে এই গ্রন্থ অপরিহার্য।

৩৯.
“শতপথ ব্রাহ্মণ” কোন বেদের সঙ্গে সম্পর্কিত?
  1. ঋগ্বেদ
  2. সামবেদ
  3. যজুর্বেদ
  4. অথর্ববেদ
ব্যাখ্যা

শতপথ ব্রাহ্মণ যজুর্বেদের সঙ্গে সম্পর্কিত। এতে শতাধিক অধ্যায়ে যজ্ঞবিধান ও পৌরাণিক কাহিনির বিশদ বর্ণনা রয়েছে। বৈদিক আচার-সংস্কৃতির মূল্যবান উৎস এটি।

৪০.
“আরণ্যক” সাহিত্য কাদের জন্য প্রণীত হয়েছিল?
  1. রাজাদের জন্য
  2. বণিকদের জন্য
  3. কৃষকদের জন্য
  4. বনবাসী ঋষিদের জন্য
ব্যাখ্যা

“আরণ্যক” শব্দের অর্থ বনসম্পর্কিত। এই গ্রন্থগুলো বনে বসবাসকারী ঋষি-মুনিদের জন্য প্রণীত হয়েছিল। এদের মধ্যে দার্শনিক আলোচনা ও ধ্যানসংক্রান্ত উপদেশ প্রধান।

৪১.
আরণ্যক সাহিত্যে মূলত কী বিষয় আলোচিত হয়েছে?
  1. যজ্ঞ ও দার্শনিক চিন্তা
  2. নাট্যকলার ব্যাখ্যা
  3. ভক্তিমূলক স্তোত্র
  4. যুদ্ধনীতি
ব্যাখ্যা

আরণ্যক গ্রন্থগুলোতে যজ্ঞ, ধ্যান, দার্শনিক ব্যাখ্যা স্থান পেয়েছে। এগুলো ব্রাহ্মণ সাহিত্যের গূঢ় দিককে আধ্যাত্মিক পর্যায়ে উন্নীত করেছে।

৪২.
উপনিষদ কোন সাহিত্যের অঙ্গ?
  1. ব্রাহ্মণ
  2. পুরাণ
  3. আরণ্যক
  4. মহাকাব্য
ব্যাখ্যা

উপনিষদ মূলত আরণ্যক সাহিত্যের শেষ অংশ। এখানে আত্মা, ব্রহ্ম, মোক্ষ প্রভৃতি দার্শনিক তত্ত্ব আলোচিত হয়েছে। তাই উপনিষদকে আরণ্যকের আধ্যাত্মিক সম্প্রসারণ বলা হয়।

৪৩.
পুরাণ সাহিত্যের প্রধান উদ্দেশ্য কী?
  1. বিনোদন
  2. যুদ্ধবিবরণ
  3. রাজনৈতিক চিন্তা
  4. ধর্মশিক্ষা ও নৈতিক শিক্ষা প্রদান
ব্যাখ্যা

পুরাণ সাহিত্যের প্রধান লক্ষ্য ছিল ধর্মশিক্ষা ও নৈতিক শিক্ষা প্রদান। এখানে সৃষ্টিতত্ত্ব, দেবতার মাহাত্ম্য, বংশাবলি, ধর্মনীতি ইত্যাদি বর্ণিত হয়েছে। সাধারণ মানুষের মধ্যে ধর্মবোধ জাগ্রত করাই এর মূল উদ্দেশ্য।

৪৪.
“বিষ্ণুপুরাণ” মূলত কাকে কেন্দ্র করে রচিত?
  1. শিব
  2. বিষ্ণু
  3. দেবী দুর্গা
  4. ব্রহ্মা
ব্যাখ্যা

“বিষ্ণুপুরাণ” মূলত বিষ্ণু ও তাঁর অবতারসমূহকে কেন্দ্র করে রচিত। এখানে সৃষ্টিতত্ত্ব, মন্বন্তর, বংশাবলি ও কৃষ্ণলীলার বিশদ বিবরণ রয়েছে। তাই এটি বৈষ্ণবধর্মের প্রধান গ্রন্থ।

৪৫.
“শিবপুরাণ” কোন দেবতার মাহাত্ম্য বর্ণনা করে?
  1. বিষ্ণু
  2. কার্তিকেয়
  3. শিব
  4. ব্রহ্মা
ব্যাখ্যা

“শিবপুরাণ” মূলত শিবের মাহাত্ম্য ব্যাখ্যা করে। এখানে তাঁর বিভিন্ন রূপ, লীলা ও পূজাপদ্ধতি বর্ণিত হয়েছে। শৈব সম্প্রদায়ের কাছে এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ধর্মগ্রন্থ।

৪৬.
“ভাগবতপুরাণ”-এ বিশেষভাবে কাহিনি কার?
  1. শিব
  2. ব্রহ্মা
  3. দেবী দুর্গা
  4. বিষ্ণু ও কৃষ্ণ
ব্যাখ্যা

“ভাগবতপুরাণ” বিশেষভাবে কৃষ্ণলীলা কেন্দ্র করে রচিত। গোপীপ্রেম, ভক্তিযোগ ও কৃষ্ণভক্তির মাহাত্ম্য এখানে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। তাই ভক্তিসাহিত্যে এর গুরুত্ব অপরিসীম।

৪৭.
“গোপথ ব্রাহ্মণ” কোন বেদের সঙ্গে সম্পর্কিত?
  1. ঋগ্বেদ
  2. সামবেদ
  3. অথর্ববেদ
  4. যজুর্বেদ
ব্যাখ্যা

গোপথ ব্রাহ্মণ হলো অথর্ববেদের সঙ্গে সম্পর্কিত একমাত্র ব্রাহ্মণগ্রন্থ। এতে যজ্ঞসংক্রান্ত ও পৌরাণিক বিষয় ব্যাখ্যা করা হয়েছে। তাই এটি বিশেষ স্থান দখল করে আছে।

৪৮.
পুরাণ সাহিত্যের ভাষা কেমন ছিল?
  1. অতি কৃত্রিম ও জটিল
  2. কেবল বৈদিক সংস্কৃত
  3. কেবল প্রাকৃত ভাষা
  4. সহজ ও সাধারণ মানুষের উপযোগী
ব্যাখ্যা

পুরাণ সাহিত্যের ভাষা ছিল সহজ ও সাধারণ মানুষের উপযোগী। এর উদ্দেশ্য ছিল ধর্মনীতি সাধারণ মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়া। এজন্য অলঙ্কারবহুল নয়, বরং সহজবোধ্য ভাষা ব্যবহার করা হয়েছে।

৪৯.
“ঐতরেয় আরণ্যক”-এ প্রধানত কোন তত্ত্ব আলোচনা করা হয়েছে?
  1. যুদ্ধনীতি
  2. প্রাণবিদ্যা ও ধ্যান
  3. কৃষিব্যবস্থা
  4. রসতত্ত্ব
ব্যাখ্যা

ঐতরেয় আরণ্যক-এ মূলত প্রাণবিদ্যা ও ধ্যানসংক্রান্ত আলোচনা রয়েছে। এটি আরণ্যক সাহিত্যের আধ্যাত্মিক দিককে প্রকাশ করে। এখানে জীবন ও ব্রহ্মের সম্পর্ক ব্যাখ্যা করা হয়েছে।

৫০.
পুরাণ সাহিত্যের রচয়িতা হিসেবে কাকে ধরা হয়?
  1. ব্যাস
  2. বাল্মীকি
  3. কালিদাস
  4. ভরত
ব্যাখ্যা

প্রচলিত মতে, ব্যাস ১৮টি পুরাণ রচনা বা সংকলন করেছিলেন। তাই তাঁকে পুরাণকার বলা হয়। যদিও বিভিন্ন পুরাণ পরবর্তীকালে সংশোধিত হয়েছে, তবুও ব্যাসের নামই সর্বাধিক গৃহীত।

৫১.
সংস্কৃত ছন্দে ‘গণ’ বলতে কী বোঝায়?
  1. শব্দ
  2. মাত্রা
  3. তিন অক্ষরের সমষ্টি
  4. অলঙ্কার
ব্যাখ্যা

ছন্দশাস্ত্রে ‘গণ’ হলো তিন অক্ষরের একটি সমষ্টি। যেমন— ‘য’, ‘ম’, ‘ত’ প্রভৃতি গণ। প্রত্যেকটি গণে লঘু ও গুরু অক্ষরের ভিন্ন ভিন্ন বিন্যাস থাকে। এই গণগুলির ভিত্তিতেই সংস্কৃত ছন্দের কাঠামো গঠিত হয়। তাই ছন্দ বোঝার জন্য গণজ্ঞান অপরিহার্য।

৫২.
‘শার্দূলবিক্রীড়িত’ ছন্দকে আর কী বলা হয়?
  1. স্লোকছন্দ
  2. চতুর্দশাক্ষর ছন্দ
  3. উনবিংশাক্ষর ছন্দ
  4. ষোড়শাক্ষর ছন্দ
ব্যাখ্যা

শার্দূলবিক্রীড়িত ছন্দের প্রতিটি পাদে ১৯টি অক্ষর থাকে। এজন্য একে উনবিংশাক্ষর ছন্দও বলা হয়। এটি গম্ভীর, মহিমান্বিত ভাব প্রকাশের জন্য ব্যবহৃত হয়। রঘুবংশ ও কুমারসম্ভবের মতো মহাকাব্যে এর প্রয়োগ লক্ষ্য করা যায়।

৫৩.
‘ইন্দ্রবজ্রা’ ছন্দে কত অক্ষর থাকে?
  1. ১১
  2. ১২
  3. ২৩
  4. ১৭
ব্যাখ্যা

ইন্দ্রবজ্র ছন্দে প্রতিটি পাদে ১৭টি অক্ষর থাকে। এটি দীর্ঘ ও শক্তিশালী ছন্দ, যার নামকরণই ইন্দ্রের বজ্রের শক্তির সঙ্গে তুলনা করে হয়েছে। এই ছন্দ মূলত বীররস প্রকাশে ব্যবহৃত হয়।

৫৪.
‘মন্দাক্রান্তা’ ছন্দে কোন কাব্য রচিত?
  1. কুমারসম্ভব
  2. গীতগোবিন্দ
  3. শকুন্তলা
  4. মেঘদূত
ব্যাখ্যা

কালিদাসের বিখ্যাত কাব্য মেঘদূত মন্দাক্রান্তা ছন্দে রচিত। এর প্রতিটি পাদে ১৭টি অক্ষর থাকে। এই ছন্দের ধ্বনি ও গতি মেঘের ধীর-গম্ভীর গতিকে সুন্দরভাবে প্রকাশ করে। তাই কবি মেঘের যাত্রাপথের জন্য এ ছন্দকে বেছে নেন।

৫৫.
‘আৰ্যা ছন্দ’-এর বৈশিষ্ট্য কী?
  1. নির্দিষ্ট অক্ষর সংখ্যা
  2. নির্দিষ্ট গণ
  3. মাত্রাভিত্তিক গঠন
  4. লঘু-গুরু নিরপেক্ষ
ব্যাখ্যা

আর্যা ছন্দ সংখ্যা নয়, বরং মাত্রা-ভিত্তিক। এর প্রতিটি পাদে নির্দিষ্ট মাত্রা থাকে। তাই অন্য ছন্দের মতো নির্দিষ্ট অক্ষরের বাধ্যবাধকতা নেই। বাণভট্টের কাদম্বরীর মতো গদ্যকাব্যে আর্যা ছন্দের ব্যবহার দেখা যায়।

৫৬.
‘জাতি ছন্দ’ কিসের উপর নির্ভর করে?
  1. অক্ষর সংখ্যা
  2. শব্দ সংখ্যা
  3. অলঙ্কার প্রয়োগ
  4. মাত্রা সংখ্যা
ব্যাখ্যা

জাতি ছন্দ প্রধানত মাত্রার উপর নির্ভরশীল। এখানে লঘু ও গুরু অক্ষরের মিলন থেকে নির্দিষ্ট মাত্রা সৃষ্টি হয়। এই ছন্দে অক্ষরের সংখ্যা পরিবর্তন হলেও নির্দিষ্ট মাত্রার সামঞ্জস্য বজায় থাকে। তাই জাতি ছন্দকে মাত্রাধিষ্ঠিত ছন্দ বলা হয়।

৫৭.
‘উপজাতি ছন্দ’ কিসের মিশ্রণ?
  1. মন্দাক্রান্তা ও মালিনী
  2. ইন্দ্রবজ্র ও উপেন্দ্রবজ্র
  3. অনুষ্টুপ ও শার্দূলবিক্রীড়িত
  4. বসন্ততিলক ও আর্যা
ব্যাখ্যা

উপজাতি ছন্দ আসলে ইন্দ্রবজ্র ও উপেন্দ্রবজ্র ছন্দের মিশ্রণ। এই দুই ছন্দে প্রতিটি পাদে ১৭ অক্ষর থাকে, তবে বিন্যাস ভিন্ন। উপজাতি ছন্দে দুটি মিলিত হয়ে এক নতুন ছন্দরূপ পায়। বহু মহাকাব্যে উপজাতি ছন্দ ব্যবহৃত হয়েছে।

৫৮.
ভুজঙ্গপ্রয়াত’ ছন্দের বিশেষত্ব কী?
  1. মধুর ও সুরেলা গতি
  2. যুদ্ধবর্ণনার উপযোগী
  3. সাপের গতির অনুকরণ
  4. ভক্তিমূলক কাব্যের জন্য ব্যবহৃত
ব্যাখ্যা

ভুজঙ্গপ্রয়াত ছন্দের প্রতিটি পাদে ১২টি অক্ষর থাকে এবং এর গতি সাপের গতির মতো ঢেউ খেলানো। এজন্যই একে ভুজঙ্গপ্রয়াত বলা হয়। এই ছন্দে গদগদ ও স্রোতস্বিনী ধ্বনি তৈরি হয়। ভক্তিমূলক স্তোত্র ও গীতিধর্মী কাব্যে এর ব্যবহার জনপ্রিয়।

৫৯.
‘গায়ত্রী ছন্দ’-এর প্রতিটি পাদে কয়টি অক্ষর থাকে?




ব্যাখ্যা

গায়ত্রী ছন্দে প্রতিটি পাদে ৮টি অক্ষর থাকে। এটি একটি বৈদিক ছন্দ, যা অত্যন্ত প্রাচীন ও পবিত্র বলে বিবেচিত। গায়ত্রী মন্ত্র এই ছন্দে রচিত। বৈদিক ঋষিরা দেবতার স্তব ও প্রার্থনার জন্য গায়ত্রী ছন্দ ব্যবহার করেছেন। তাই এটি সংস্কৃত ছন্দের মধ্যে আধ্যাত্মিক গুরুত্বে অনন্য।

৬০.
অভিজ্ঞান শকুন্তলম নাটকের কাহিনী কোন মহাকাব্য থেকে নেওয়া হয়েছে?
  1. রামায়ণ
  2. মহাভারত
  3. রঘুবংশ
  4. কুমারসম্ভব
ব্যাখ্যা

অভিজ্ঞান শকুন্তলম নাটকের মূল কাহিনী মহাভারতের আদি পর্ব থেকে গৃহীত। মহাভারতে শকুন্তলা ও দुष्यন্তের কাহিনী সংক্ষেপে বলা হয়েছে। কিন্তু কালিদাস তাঁর কাব্যপ্রতিভা দিয়ে কাহিনীকে নাট্যরূপ দিয়ে পূর্ণাঙ্গ রস ও নাট্যসৌন্দর্যে ভরিয়ে তুলেছেন।

৬১.
'অভিজ্ঞান শকুন্তলম' নাটকের নামের মধ্যে “অভিজ্ঞান” শব্দের অর্থ কী?
  1. পরিচয়
  2. প্রেম
  3. বিবাহ
  4. বেদনা
ব্যাখ্যা

"অভিজ্ঞান" শব্দের অর্থ পরিচয় বা স্মৃতি। নাটকে শকুন্তলার পরিচয়ের জন্যই আংটির ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। আংটি হারিয়ে যাওয়ার ফলে দুষ্যন্ত শকুন্তলাকে চিনতে পারেন না। পরে আংটি ফিরে আসলে অভিজ্ঞান ঘটে এবং কাহিনী সমাধান পায়। তাই নাটকের নাম অভিজ্ঞান শকুন্তলম।

৬২.
শকুন্তলাকে লালনপালন কে করেছিলেন?
  1. বিশ্বামিত্র
  2. মেনকা
  3. কন্ব ঋষি
  4. দুর্বাশা
ব্যাখ্যা

শকুন্তলা জন্মের পর মা-বাবার সঙ্গ পাননি। ঋষি কান্ব তাঁকে আশ্রমে নিয়ে প্রতিপালন করেন। কান্বর আশ্রমেই শকুন্তলার বড় হওয়া এবং সেখানেই দুষ্যন্তের সঙ্গে তাঁর সাক্ষাৎ ঘটে। তাই কান্ব শকুন্তলার জীবনে পিতৃস্বরূপ।

৬৩.
'অভিজ্ঞান শকুন্তলম' নাটকে দুর্বাশার অভিশাপ কী ভূমিকা পালন করে?
  1. দুষ্যন্তকে হত্যা করে
  2. রাজ্য নষ্ট করে
  3. অভিশাপের কোনো ভূমিকা নেই
  4. শকুন্তলাকে বিস্মৃত করে
ব্যাখ্যা

দুর্বাশা ঋষি অভিশাপ দেন যে, শকুন্তলা যাকে মন থেকে ভাবছে, সে তাঁকে চিনতে পারবে না। এর ফলে দুষ্যন্ত শকুন্তলাকে মনে রাখতে পারেন না। এই অভিশাপই নাটকের প্রধান সংঘাত সৃষ্টি করে এবং নাটকের কাহিনীকে নাটকীয় মোড় দেয়।

৬৪.
অভিজ্ঞান শকুন্তলম নাটক কত অঙ্কে বিভক্ত?




অনির্ধারিত
ব্যাখ্যা

অভিজ্ঞান শকুন্তলম নাটক মোট ৭ অঙ্কে বিভক্ত। প্রতিটি অঙ্কে আলাদা আলাদা নাট্যবৈশিষ্ট্য ও ঘটনা রয়েছে। প্রেম, অভিশাপ, বিরহ ও পুনর্মিলন সাত অঙ্ক জুড়ে নাটকের পূর্ণাঙ্গ রূপ দেয়। এটি সংস্কৃত সাহিত্যের সর্বশ্রেষ্ঠ সপ্তাঙ্ক নাটক হিসেবে খ্যাত।

৬৫.
অভিজ্ঞান শকুন্তলম নাটক কোন শ্রেণীর নাটক?
  1. একাঙ্ক নাটক
  2. প্রহসন
  3. প্রণয় নাটক
  4. ইতিহাস নাটক
ব্যাখ্যা

অভিজ্ঞান শকুন্তলম মূলত একটি প্রণয় নাটক। এতে প্রেম, বিরহ ও পুনর্মিলনের কাহিনী সুন্দরভাবে উপস্থাপিত হয়েছে। যদিও এতে রাজনীতি, ধর্ম ও সমাজজীবনের ইঙ্গিত আছে, তবু প্রেমই নাটকের মুখ্য বিষয়। এজন্য এটি প্রণয় নাটকের শ্রেষ্ঠ উদাহরণ।

৬৬.
অভিজ্ঞান শকুন্তলম নাটককে প্রথম কে ইউরোপে পরিচিত করিয়েছিলেন?
  1. উইলিয়াম জোন্স
  2. ম্যাক্স মুলার
  3. হেগেল
  4. কোলরিজ
ব্যাখ্যা

১৭৮৯ সালে উইলিয়াম জোন্স অভিজ্ঞান শকুন্তলম নাটককে ইংরেজিতে অনুবাদ করেন। এই অনুবাদ ইউরোপীয় সাহিত্য জগতে আলোড়ন তোলে। গ্যেটে সহ বহু ইউরোপীয় সাহিত্যিক কালিদাসের এই নাটক দ্বারা অনুপ্রাণিত হন। ফলে এটি ভারতীয় সাহিত্যের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি লাভ করে।

৬৭.
অভিজ্ঞান শকুন্তলম নাটকে দুর্বাশার অভিশাপ ভাঙার শর্ত কী ছিল?
  1. শকুন্তলার দুঃখভোগ
  2. প্রমাণস্বরূপ আংটি প্রদর্শন
  3. রাজকীয় নির্দেশ
  4. ঋষির ক্ষমাপ্রার্থনা
ব্যাখ্যা

দুর্বাশা অভিশাপে দুষ্যন্ত শকুন্তলাকে চিনতে পারেননি। তবে শর্ত ছিল, কোনো অভিজ্ঞান বা চিহ্ন দেখালে স্মৃতি ফিরে আসবে। শকুন্তলার আংটি সেই অভিজ্ঞান হিসেবে কাজ করে। তাই আংটি ফিরে আসাই অভিশাপ ভঙ্গের কারণ হয়।

৬৮.
অভিজ্ঞান শকুন্তলম নাটকের নায়ক দুষ্যন্ত কোন বংশের রাজা ছিলেন?
  1. সোলঙ্কি
  2. চন্দ্রবংশ
  3. চক্রবর্তী
  4. সৌম্যবংশ
ব্যাখ্যা

দুষ্যন্ত ছিলেন চন্দ্রবংশীয় রাজা। মহাভারত ও কালিদাস উভয় ক্ষেত্রেই দুষ্যন্তকে এই বংশের শাসক বলা হয়েছে। চন্দ্রবংশীয় রাজাদের মধ্যে দুষ্যন্ত বিশেষভাবে খ্যাত, কারণ তাঁর পুত্র ভরতের নামেই ভারতবর্ষের নামকরণ হয়েছে।

৬৯.
অভিজ্ঞান শকুন্তলম নাটক কতটি ভাষায় অনূদিত হয়েছে?
  1. প্রায় ২০
  2. প্রায় ৪০
  3. প্রায় ৫০
  4. প্রায় ৬০
ব্যাখ্যা

অভিজ্ঞান শকুন্তলম নাটক প্রায় ৫০টিরও বেশি ভাষায় অনূদিত হয়েছে। সংস্কৃত সাহিত্যের মধ্যে এটিই সর্বাধিক অনূদিত নাটক। ইউরোপ, এশিয়া ও আফ্রিকার বহু ভাষায় এই নাটক অনুবাদ হয়েছে, যা এর বিশ্বজনীন গ্রহণযোগ্যতার প্রমাণ।

৭০.
‘স্বপ্নবাসবদত্তম’ নাটকের মূল বিষয়বস্তু কী?
  1. রামচন্দ্রের বনবাস
  2. উদয়ন ও বাসবদত্তার প্রেম
  3. কৃষ্ণ-রাধার মিলন
  4. অগ্নিমিত্র ও মালবিকার কাহিনি
ব্যাখ্যা

নাটকটির কেন্দ্রীয় কাহিনি উদয়ন ও বাসবদত্তার প্রেম ও বিবাহকে ঘিরে আবর্তিত। এতে রাজনৈতিক কূটচাল, প্রেম, দ্বন্দ্ব এবং নাটকীয় ঘটনাপ্রবাহ মিলিত হয়েছে। নাটকের নামেও বাসবদত্তার গুরুত্ব স্পষ্ট। ভাস এই কাহিনি সাজিয়েছেন মহাভারতীয় উপাখ্যান অবলম্বনে।

৭১.
ভাস কবে বাস করতেন বলে অনুমান করা হয়?
  1. খ্রিষ্টপূর্ব ২য় শতাব্দী
  2. খ্রিষ্টীয় ১ম শতাব্দী
  3. খ্রিষ্টীয় ৪র্থ শতাব্দী
  4. খ্রিষ্টীয় ৯ম শতাব্দী
ব্যাখ্যা

গবেষকরা মনে করেন ভাস খ্রিষ্টপূর্ব ২য় শতাব্দী থেকে খ্রিষ্টীয় ১ম শতাব্দীর মধ্যে বাস করতেন। তাঁর ভাষা ও নাট্যরীতি কালিদাসের পূর্ববর্তী। প্রাচীন নাট্যধারা, সরল সংলাপ এবং পৌরাণিক-ঐতিহাসিক উপাদান ভাসের নাটকে বিশেষভাবে লক্ষণীয়। তাই তাঁকে সংস্কৃত নাট্যসাহিত্যের প্রাচীন ভিত্তি বলা হয়।

৭২.
বাসবদত্তা কোন রাজ্যের রাজকুমারী?
  1. মাগধ
  2. কলিঙ্গ
  3. উজ্জয়িনী
  4. অবন্তী
ব্যাখ্যা

বাসবদত্তা অবন্তীর রাজকুমারী। তিনি উদয়নের সঙ্গে বিবাহ সূত্রে ভৎসরাজ্যে প্রবেশ করেন। অবন্তীর রাজনৈতিক ভূমিকা নাটকের কাহিনিকে জটিলতা ও গতি দিয়েছে। প্রেম ও রাজনীতির সমন্বয় এই নাটকের কাহিনি কাঠামোতে গুরুত্বপূর্ণ দিক।

৭৩.
‘স্বপ্নবাসবদত্তম’ নাটকের শিরোনামে “স্বপ্ন” শব্দের তাৎপর্য কী?
  1. স্বপ্নে যুদ্ধের কাহিনি বর্ণিত হয়েছে
  2. স্বপ্নে দেব-অবতারের আবির্ভাব
  3. স্বপ্নে বাসবদত্তার মৃত্যু ও পুনর্জাগরণ কাহিনি
  4. স্বপ্নে কৃষ্ণের লীলা
ব্যাখ্যা

নাটকের নাম “স্বপ্নবাসবদত্তম”-এ স্বপ্নের তাৎপর্য হলো, উদয়নকে রক্ষার জন্য একসময় বাসবদত্তাকে মৃত বলে ভ্রম তৈরি করা হয়েছিল। পরে সেই ভ্রম ভেঙে উদয়নের সঙ্গে পুনর্মিলন ঘটে। এই স্বপ্নতুল্য নাটকীয় ঘটনা থেকেই নাটকের নামকরণ হয়েছে।

৭৪.
ভাসের নাট্যরীতির বিশেষ বৈশিষ্ট্য কী?
  1. জটিল উপমা
  2. দীর্ঘ দার্শনিক তত্ত্ব
  3. সরল সংলাপ ও নাটকীয়তা
  4. কেবলমাত্র যুদ্ধের বর্ণনা
ব্যাখ্যা

ভাসের নাট্যরীতি কালিদাসের তুলনায় অনেক বেশি সরল ও প্রত্যক্ষ। তাঁর নাটকে কাব্যিকতা অপেক্ষা নাটকীয়তা বেশি প্রাধান্য পায়। সংলাপ সহজবোধ্য এবং নাটকীয় পরিসর দ্রুত অগ্রসর হয়। এজন্যই তাঁকে সংস্কৃত সাহিত্যে নাট্যধারার অন্যতম পথিকৃৎ হিসেবে গণ্য করা হয়।

৭৫.
কাব্যের নামকরণ কেন ‘মেঘদূতম’?
  1. মেঘ যুদ্ধ করে
  2. মেঘ বৃষ্টি আনে
  3. মেঘ দূত হিসেবে কাজ করে
  4. মেঘ প্রকৃতির রূপ বর্ণনা করে
ব্যাখ্যা

কাব্যের যক্ষ মেঘকে প্রিয়ার কাছে দূত হিসেবে পাঠান। যক্ষের বাণী পৌঁছে দেওয়ার কারণে মেঘ এখানে দূতের ভূমিকা পালন করে। এই কল্পনা থেকেই কাব্যের নাম হয়েছে ‘মেঘদূতম’। নামকরণে বিষয়বস্তুর সারকথা সুন্দরভাবে প্রতিফলিত।

৭৬.
‘পূর্বমেঘ’ অংশে কী বর্ণিত হয়েছে?
  1. যক্ষের নির্বাসনের কারণ
  2. যক্ষের স্ত্রী কেমন আছে
  3. দেবরাজ কুবেরের মহিমা
  4. মেঘের যাত্রাপথ ও প্রকৃতিচিত্র
ব্যাখ্যা

পূর্বমেঘ অংশে যক্ষ মেঘকে নির্দেশ দেন কোন পথে উড়ে যেতে হবে। এখানে নদী, পর্বত, নগর, বনভূমি ও জনপদের মনোরম বর্ণনা পাওয়া যায়। প্রকৃতির বর্ণনার সঙ্গে আবেগমিশ্রিত মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি কালিদাসের কবিসুলভ বৈশিষ্ট্য।

৭৭.
যক্ষকে নির্বাসনে পাঠানো হয়েছিল কেন?
  1. অসততা করার জন্য
  2. কর্তব্যে অবহেলার কারণে
  3. বিদ্রোহ করার জন্য
  4. দেবরাজ ইন্দ্রকে অসম্মান করার কারণে
ব্যাখ্যা

যক্ষ দেবরাজ কুবেরের কর্মচারী ছিলেন। কর্তব্যে অবহেলার জন্য তাঁকে এক বছর রামগিরি পর্বতে নির্বাসনে পাঠানো হয়। স্ত্রী থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যক্ষ দুঃখে ভেঙে পড়েন। এই বিরহ থেকেই মেঘদূতম কাব্যের সূচনা।

৭৮.
কাব্যের ভূগোলচিত্রের মাধ্যমে কী প্রকাশ পেয়েছে?
  1. ভারতের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও জনপদচিত্র
  2. ভারতের রাজনৈতিক ইতিহাস
  3. দেব-অবতারের কাহিনি
  4. মহাভারতের যুদ্ধ
ব্যাখ্যা

মেঘদূতম কেবল কাব্য নয়, ভারতের প্রাচীন ভূগোল ও প্রকৃতিচিত্রেরও এক অনন্য দলিল। পূর্বমেঘ অংশে নদী, পর্বত, বন, নগর ও জনপদের বিশদ বর্ণনা রয়েছে। এতে সমকালীন ভারতের ভৌগোলিক ও সাংস্কৃতিক চিত্রকল্পও স্পষ্টভাবে ধরা পড়ে।

৭৯.
উত্তরমেঘ অংশে যক্ষপ্রিয়ার মানসিক অবস্থা কেমনভাবে ফুটে উঠেছে?
  1. আনন্দে ভরা
  2. উদাসীন
  3. বিরহ-যন্ত্রণায় কাতর
  4. ক্রোধে পূর্ণ
ব্যাখ্যা

উত্তরমেঘ অংশে যক্ষপ্রিয়ার মানসিক অবস্থা করুণ ও বিষাদময়। স্বামীর অনুপস্থিতিতে তিনি একাকী, ব্যাকুল ও প্রেমবেদনা-আক্রান্ত। কালিদাস তাঁর রূপ, আচার-আচরণ এবং অন্তরের যন্ত্রণা অত্যন্ত আবেগঘন ভঙ্গিতে তুলে ধরেছেন।

৮০.
‘কিরাতার্জুনীয়ম’ কোন ধরণের কাব্য?
  1. নাট্যকাব্য
  2. গীতিকাব্য
  3. মহাকাব্য
  4. আখ্যায়িকা
ব্যাখ্যা

এটি একটি মহাকাব্য। সংস্কৃত সাহিত্যে মহাকাব্য সাধারণত বীরগাথা ও মহাকাব্যিক উপাখ্যানের উপর ভিত্তি করে রচিত হয়। এখানে অর্জুনের তপস্যা, শিবের সঙ্গে যুদ্ধ ও পরবর্তীতে বরপ্রাপ্তি মহাকাব্যের গাম্ভীর্য বহন করে।

৮১.
অর্জুন কেন তপস্যা করেছিলেন?
  1. রাজ্যপ্রাপ্তির জন্য
  2. ভ্রাতাদের সুরক্ষার জন্য
  3. যুদ্ধের জন্য শক্তি সঞ্চয় করতে
  4. কৃষ্ণকে সন্তুষ্ট করতে
ব্যাখ্যা

অর্জুন জানতেন, কৌরবদের সঙ্গে যুদ্ধে জয়ী হতে হলে দেবাস্ত্র প্রয়োজন। তাই তিনি কঠোর তপস্যা করেন শিবের বরলাভের উদ্দেশ্যে। তাঁর এই তপস্যার ফলেই শিব কিরাত রূপে আবির্ভূত হয়ে তাঁকে শক্তিশালী অস্ত্র প্রদান করেন।

৮২.
ভারবির কাব্যরীতি কোন কারণে বিশেষ খ্যাতি পেয়েছে?
  1. সরল ভাষা
  2. সংলাপের সরলতা
  3. অলঙ্কার-প্রধান বর্ণনা
  4. নাটকীয়তা
ব্যাখ্যা

ভারবির কাব্যরীতি বিশেষভাবে অলঙ্কারশোভিত। তিনি উপমা, রূপক, শ্লেষ প্রভৃতি অলঙ্কারের প্রয়োগে কাব্যকে সৌন্দর্যপূর্ণ করেছেন। এজন্য তাঁকে ‘অলঙ্কারশাস্ত্রের আচার্য’ হিসেবেও অভিহিত করা হয়। তাঁর কাব্যে দার্শনিক গাম্ভীর্যও পাওয়া যায়।

৮৩.
বিসর্গ সিদ্ধ ও নিপাতন সিদ্ধের মধ্যে পার্থক্য কী?
  1. বিসর্গ সিদ্ধ ব্যঞ্জন সংযোগ, নিপাতন সিদ্ধ স্বর সংযোগ
  2. বিসর্গ সিদ্ধ বিসর্গ সংযোগ, নিপাতন সিদ্ধ নিপাত সংযোগ
  3. উভয়ই সমান
  4. বিসর্গ সিদ্ধ স্বর সংযোগ, নিপাতন সিদ্ধ স্বর সংযোগ
ব্যাখ্যা

বিসর্গ সিদ্ধ বিসর্গ সংযোগ, নিপাতন সিদ্ধ নিপাত সংযোগ
ব্যাখ্যা: বিসর্গ সিদ্ধে ‘ঃ’ শব্দের শেষে ধ্বনি পরবর্তী স্বরের সঙ্গে মিলিত হয়ে পরিবর্তিত হয়। নিপাতন সিদ্ধে নিপাত বা ব্যঞ্জনের সংযোগের ফলে ধ্বনি পরিবর্তিত হয়। পার্থক্য হলো কোন ধ্বনি পরিবর্তিত হচ্ছে।

৮৪.
‘রামঃ + অহম্’ কোন সিদ্ধ সন্ধি তৈরি করে?
  1. বিসর্গ সিদ্ধ
  2. স্বরসিদ্ধ
  3. ব্যঞ্জনসিদ্ধ
  4. নিপাতনসিদ্ধ
ব্যাখ্যা

রামঃ’ শব্দের শেষে বিসর্গ ‘ঃ’ পরবর্তী স্বর ‘অ’ এর সঙ্গে যুক্ত হয়ে ‘রামোऽহম্’ তৈরি হয়েছে। এটি বিসর্গ সিদ্ধের ক্লাসিক উদাহরণ। বিসর্গের পরিবর্তিত ধ্বনি ছন্দ ও উচ্চারণ সুন্দরভাবে সংযুক্ত করেছে।

৮৫.
‘তত্ + ইতি’ কোন সিদ্ধ সন্ধি তৈরি করে?
  1. স্বরসন্ধি
  2. ব্যঞ্জনসন্ধি
  3. বিসর্গসন্ধি
  4. নিপাতনেসিদ্ধ সন্ধি
ব্যাখ্যা

‘তত্’ শব্দের নিপাত ‘ত্’ পরবর্তী স্বর ‘ই’ এর সঙ্গে মিলিত হয়ে ‘তি’ তৈরি করেছে। এটি নিপাতনের সিদ্ধ সন্ধির পরিচিত উদাহরণ।

৮৬.
কর্মধারয় সমাস কীভাবে গঠিত হয়?
  1. প্রধান শব্দের সঙ্গে পদার্থ যুক্ত হয়
  2. প্রধান শব্দ কর্মের উপর ভিত্তি করে
  3. প্রধান শব্দ ক্রিয়ার সঙ্গে সম্পর্কিত হয়
  4. প্রধান শব্দের সঙ্গে বিশেষ্য যুক্ত হয়
ব্যাখ্যা

কর্মধারয় সমাসে প্রথম শব্দ প্রধান ক্রিয়া বা পদার্থ নির্দেশ করে এবং দ্বিতীয় শব্দ তার কার্য বা পদার্থকে প্রকাশ করে। এটি মূলত এমন সমাস যা মূল শব্দকে কর্ম বা দিক নির্দেশক হিসেবে গ্রহণ করে। যেমন: গগনচুম্বি (গগন + চুম্বি)।

৮৭.
বহুব্রীহি সমাসের মূল উদ্দেশ্য কী?
  1. অর্থ সংক্ষেপে প্রকাশ করা
  2. ক্রিয়াকে বর্ণনা করা
  3. কেবল অলঙ্কার তৈরি করা
  4. শব্দের ছন্দ পরিবর্তন করা
ব্যাখ্যা

বহুব্রীহি সমাস মূলত দীর্ঘ বা জটিল তথ্য সংক্ষেপে প্রকাশ করতে ব্যবহৃত হয়। এটি একাধিক শব্দকে সংযুক্ত করে একটি নতুন শব্দ তৈরি করে, যা মূল বিষয় বা ব্যক্তিকে নির্দেশ করে। যেমন: চন্দ্রবদন—যার মুখ চাঁদের মতো।

৮৮.
‘দন্তনিধি’ কোন ধরনের সমাস?
  1. বহুব্রীহি
  2. কর্মধারয়
  3. দ্বন্দ্ব
  4. তৎপুরুষ
ব্যাখ্যা

‘দন্তনিধি’ সমাসে দন্ত + নিধি মিশে তৈরি হয়েছে। এটি তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ কারণ এখানে দুটি শব্দ সরাসরি অর্থগতভাবে যুক্ত হয়েছে: দন্ত অর্থ দাঁত এবং নিধি অর্থ ধন, যা দাঁতের রূপক অর্থে ব্যবহৃত।

৮৯.
কারক বিশ্লেষণ কেন গুরুত্বপূর্ণ?
  1. শুধু ব্যাকরণ পরীক্ষার জন্য
  2. অলঙ্কার নির্ধারণে
  3. বাক্যের অর্থ এবং সম্পর্ক বুঝতে
  4. বাক্যের শব্দসমূহের অন্বয় বুঝতে
ব্যাখ্যা

কারক বিশ্লেষণ বাক্যের সমস্ত অংশের সম্পর্ক বোঝায়, যেমন কে কাজ করছে, কার প্রতি, কী দ্বারা এবং কোথায়। এটি সঠিক অর্থ নির্ধারণে ও বাক্য সংবেদনশীল করতে সাহায্য করে।

৯০.
করণ কারক কী নির্দেশ করে?
  1. কাজের সময়
  2. কাজের স্থান
  3. ক্রিয়ার কর্তা
  4. কাজের উপকরণ
ব্যাখ্যা

করণ কারক নির্দেশ করে যে কোন উপকরণ, হাতিয়ার বা মাধ্যম দ্বারা কাজ সম্পন্ন হচ্ছে। উদাহরণ: রাম তলোয়ার দ্বারা শত্রুকে মারল, এখানে ‘তলোয়ার’ করণ কারক।

৯১.
অব্যয় পদ কত প্রকার?




ব্যাখ্যা

সাধারণভাবে অব্যয়কে চার ভাগে ভাগ করা হয়: ক্রিয়াবিশেষণ, ক্রিয়াপদ, সম্পর্কসূচক এবং সমাসবাচক অব্যয়। প্রতিটি অব্যয় বাক্যে ভিন্ন কার্য সম্পাদন করে। যেমন: ‘সদা’ ক্রিয়াবিশেষণ।

৯২.
আত্মনেপদ ধাতু কোন বাক্যে ব্যবহৃত হয়?
  1. যখন কর্তা নিজেই কাজ করছে
  2. যখন অন্যকে কাজ করতে বলা হচ্ছে
  3. কেবল অব্যয় পদে
  4. নারী লিঙ্গ নির্দেশে
ব্যাখ্যা

আত্মনেপদ ধাতু নির্দেশ করে যে কাজ সম্পাদনকারী নিজেই কার্য উপভোগ করছে বা নিজের জন্য কাজ করছে। উদাহরণ: অহম স্নানং করোমি।

৯৩.
নিচের বাক্যে লিঙ্গান্তর করলে মূল অর্থের পরিবর্তন হবে কি?
“বালকং ফলং খাদতি।”
  1. পরিবর্তন হবে না
  2. খাদ্য গ্রহণকারী নারী হবে
  3. সম্পূর্ণ বাক্য অচল হবে
  4. অর্থ সম্পূর্ণ বিপরীত হবে
ব্যাখ্যা

‘বালকং’ পুংলিঙ্গ। লিঙ্গান্তর করলে ‘বালিকা’ হয়। বাক্যের ক্রিয়া এবং অব্যয় অপরিবর্তিত থাকলেও লিঙ্গ পরিবর্তনের ফলে ক্রিয়ার কর্তা নারী হয়ে যায়। এটি লিঙ্গান্তরের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রয়োগ।





৯৪.
সিংহ -এর সাথে ঈয় প্রত্যয় যোগ করলে যে নতুন শব্দ গঠিত হবে-
  1. সিংহিয়
  2. সিংহী
  3. সিংহীয়
  4. সীংহীয়
ব্যাখ্যা

ঈয়’ তদ্ধিত প্রত্যয় সাধারণত বিশেষ্য থেকে বিশেষণ তৈরি করে। এখানে ‘সিংহ + ‘ঈয়’ → ‘সিংহীয়’, যা ‘সিংহের বা সিংহ সম্পর্কিত’ অর্থ প্রকাশ করে।

৯৫.
কৃৎ প্রত্যয়ের প্রধান বৈশিষ্ট্য কী?
  1. ধাতু থেকে বিশেষ্য বা ক্রিয়া তৈরি করা
  2. ক্রিয়াপদের মাত্রা নির্ধারণ
  3. ক্রিয়ার অব্যয় রূপ নির্ধারণ
  4. ধাতু থেকে গুণবাচক বিশেষণ তৈরি করা
ব্যাখ্যা

কৃৎ প্রত্যয় মূলত ধাতু থেকে নতুন শব্দ বা পদ (বিশেষ্য বা ক্রিয়া) তৈরি করে। উদাহরণ: ‘পঠ’ + ‘ অ’ → ‘পাঠ’। এটি ধাতুর ক্রিয়াকে নির্দিষ্ট রূপে ধ্রুবক করে।

৯৬.
ঋ, ঋৃ, র, ষ এর পরবর্তী ন/স, যথাক্রমে ণ, ষ হওয়ার নিয়মকে কি বলে?
  1. ্ণত্ব বিধি
  2. ষত্ব বিধি
  3. ণত্ব ও ষত্ব বিধি
  4. কোনোটি নয়
ব্যাখ্যা

ঋ, ঋৃ, র, ষ এর পরবর্তী ন/স, যথাক্রমে ণ, ষ হওয়ার নিয়মকে ণত্ব ও ষত্ব বিধি বলে।

৯৭.
নিচের কোনটি শুদ্ধ?
  1. পূর্বাহ্ন
  2. মধ্যাহ্ণ
  3. অপরাহ্ণ
  4. সায়াহ্ণ
ব্যাখ্যা

ণত্ব বিধানের নিয়মানুসারে অপরাহ্ণ শুদ্ধ।

৯৮.
"রাজা প্রাসাদে বসে সভাসদদের সঙ্গে রাষ্ট্রের কল্যাণ আলোচনা করছেন।" -এর সংস্কৃত অনুবাদ-
  1. রাজঃ গৃহে উপবিষ্টঃ জনৈঃ সহ কল্যাণং করোতি।
  2. রাজা সভা মধ্যে উপবিষ্টঃ জনৈঃ সহ কল্যাণং করোতি।
  3. রাজা প্রাসাদে উপবিশ্য সভাসদৈঃ সহ রাষ্ট্রস্য কল্যাণং করোতি
  4. রাজা প্রাসাদে উপবিশ্য সভাসদৈঃ সহ রাষ্ট্রস্য কল্যাণং চর্চয়তি।
ব্যাখ্যা

রাজা’ = রাজা, ‘প্রাসাদে বসে’ = প্রাসাদে উপবিশ্য, ‘সভাসদদের সঙ্গে’ = সভাসদৈঃ সহ, ‘রাষ্ট্রের কল্যাণ আলোচনা করছেন’ = রাষ্ট্রস্য কল্যাণং চর্চয়তি।

৯৯.
"গুরু শিষ্যদের জ্ঞানদান করে সমাজকে উন্নতির পথে পরিচালিত করেন।"- এর সঠিক সংস্কৃত অনুবাদ হবে-
  1. গুরুঃ শিষ্যান্ জ্ঞানং দত্ত্বা সমাজং উন্নতেঃ পন্থানং করোতি।
  2. গুরুঃ শিষ্যান্ জ্ঞানং দত্ত্বা সমাজস্য উন্নতেঃ পন্থানং নযতি।
  3. গুরুঃ শিষ্যান্ জ্ঞানং দত্ত্বা সমাজং উন্নতি পন্থানং নযতি।
  4. গুরুঃ শিষ্যান্ জ্ঞানং দত্ত্বা সমাজং উন্নতেঃ পন্থানং নয়তি।
ব্যাখ্যা

‘গুরু’ = গুরুঃ, ‘শিষ্যদের জ্ঞানদান করে’ = শিষ্যান্ জ্ঞানং দত্ত্বা, ‘সমাজকে উন্নতির পথে পরিচালিত করেন’ = সমাজং উন্নতেঃ পন্থানং নয়তি।

১০০.

  1. - 3
  2. - 1
  3. 3
  4. 1
ব্যাখ্যা

প্রশ্ন:


সমাধান:

১০১.
প্রশ্নবোধক স্থানে কোন সংখ্যাটি বসবে?

  1. 112
  2. 104
  3. 84
  4. 92
ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: প্রশ্নবোধক স্থানে কোন সংখ্যাটি বসবে?

সমাধান:
(২য় কলাম × ৩য় কলাম) - ১ম কলাম = ৪র্থ কলাম

(6 × 10) - 2 = 60 - 2 = 58
(7 × 11) - 3 = 77 - 3 = 74
(8 × 12) - 4 = 96 - 4 = 92

সুতরাং, প্রশ্নবোধক স্থানে 92 সংখ্যাটি বসবে।