পরীক্ষা আর্কাইভ

১৪তম - ২০তম গ্রেড পরীক্ষার প্রস্তুতি

পরীক্ষা১৪তম - ২০তম গ্রেড পরীক্ষার প্রস্তুতিতারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়09 minutes২২ বৈধ · অসম্পূর্ণ
মোট প্রশ্ন২৩
সিলেবাস
[নির্দেশিকা: এই রুটিনে সারাবছর জুড়ে পরীক্ষা চলমান থাকে। আপনি আজ ১ম পরীক্ষা দেওয়া শুরু করলে ২৪০ দিনের মধ্যে পুরো সিলেবাস সম্পন্ন হবে।] বিষয়: বাংলা (ব্যাকরণ) টপিক: ১. ধ্বনি ও বর্ণ, ২. ধ্বনি পরিবর্তন, ৩. বর্ণের উচ্চারণ
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

১৪তম - ২০তম গ্রেড পরীক্ষার প্রস্তুতি

১৪তম - ২০তম গ্রেড পরীক্ষার প্রস্তুতি · তারিখ অনির্ধারিত · ২৩ প্রশ্ন

.
বাংলা ভাষায় কয়টি মৌলিক ধ্বনি রয়েছে?
  1. ৩২টি
  2. ৩০টি
  3. ৩৭টি
  4. ২৭টি
ব্যাখ্যা
• ধ্বনি ভাষার ক্ষুদ্রতম একক।
- বাংলা ভাষায় ৩৭টি মৌলিক ধ্বনি রয়েছে।

• এই ধ্বনিগুলোকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়:
- স্বরধ্বনি ও ব্যঞ্জনধ্বনি।

• মৌলিক স্বরধ্বনি ৭টি:
[ই], [এ), [অ্যা], [আ], [অ], [ও], [উ]; 

• মৌলিক ব্যঞ্জনধ্বনি ৩০টি:
[প্], [ফ], [ব], ভিা, [ত্], [থ], [দ], [ধ], [ট], [ঠ], [ড], [ঢ়], [চ], [ছ], [জ], [ব],[ক], [খ], [গা,[ঘ], [ম], [ন], [ঙ], [স্], [শ], [হা, [ল], [র], [ড়], [ঢ়।।
- এখানে তৃতীয় বন্ধনী দিয়ে ধ্বনি বা উচ্চারণ নির্দেশ করা হয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ৯ম-১০ম শ্রেণি, ২০২৫ সালের সংস্করণ।
.
কোন দুটি ঘোষ ব্যঞ্জনধবনির উদাহরণ?
  1. ছ, শ
  2. স, ট
  3. জ, ঝ
  4. ফ, ত
ব্যাখ্যা

ঘোষ ব্যঞ্জনধবনি:
- যেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ধ্বনিদ্বারের কম্পন অপেক্ষাকৃত বেশি, সেসব ধ্বনিকে বলা হয় ঘোষধ্বনি।
যথা: ব, ভ, ম, দ, ধ, ন, র, ল, ড, ঢ, ড়, ঢ়, জ, ঝ, গ, ঘ, ঙ, হ।

অন্যদিকে,
অঘোষ ব্যঞ্জনধবনি:
- যেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ধ্বনিদ্বারের কম্পন অপেক্ষাকৃত কম, সেসব ধ্বনিকে বলা হয় অঘোষধ্বনি।
যথা: প, ফ, ত, থ, স, ট, ঠ, চ, ছ, শ, ক, খ।

উৎস:বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২সংস্করণ)।

.
কোনটি অভিশ্রুতির ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ নয়?
  1. মাছুুয়া > মেছো
  2. বলিয়া > বলে
  3. শুনিয়া > শুনে
  4. আলাহিদা > আলাদা
ব্যাখ্যা

অভিশ্রুতি:
- বিপর্যস্ত স্বরধ্বনি পূর্ববর্তী স্বরধ্বনির সাথে মিলে গেলে এবং তদানুসারে পরবর্তী স্বরধ্বনির পরিবর্তন ঘটলে তাকে অভিশ্রুতি বলে।

যেমন:
- শুনিয়া > শুনে,
- বলিয়া > বলে,
- মাছুুয়া > মেছো ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- 'আলাহিদা > আলাদা' অন্তর্হতি ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

.
কোনটি অর্ধস্বরধ্বনি নয়?
  1. [এ]
  2. [আ]
  3. [উ]
  4. [ই]
ব্যাখ্যা
• অর্ধস্বরধ্বনি নয় - [আ]।

অর্ধস্বরধ্বনি:

- যেসব স্বরধ্বনি পুরোপুরি উচ্চারিত হয় না সেগুলোকে অর্ধস্বরধ্বনি বলে।
- বাংলা ভাষায় অর্ধস্বরধ্বনি চারটি: [ই], [উ], [এ] এবং [ও]।
- স্বরধ্বনি উচ্চারণ করার সময়ে টেনে দীর্ঘ করা যায়, কিন্তু অর্ধস্বরধ্বনিকে কোনোভাবেই দীর্ঘ করা যায় না।

যেমন
- 'চাই' শব্দে দুটি স্বরধ্বনি আছে: [আ] এবং [ই]। এখানে [আ] হলো পূর্ণ স্বরধ্বনি, [ই] হলো অর্ধস্বরধ্বনি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি নবম দশম শ্রেণি (২০২৫ সালের সংস্করণ)।
.
ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে বায়ুপ্রবাহের বেগ কমবেশি হওয়ার ভিত্তিতে ব্যঞ্জনধ্বনিকে কয় ভাগে ভাগ করা যায়?
  1. ২ ভাগে
  2. ৩ ভাগে
  3. ৪ ভাগে
  4. ৫ ভাগে
ব্যাখ্যা
ধ্বনি সৃষ্টিতে বায়ুর প্রবাহ অনুযায়ী বিভাজন:
- ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে বায়ুপ্রবাহের বেগ কমবেশি হওয়ার ভিত্তিতে ব্যঞ্জনধ্বনিকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়: অল্পপ্রাণ ও মহাপ্রাণ।

অল্পপ্রাণ ব্যঞ্জন:
সেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ফুসফুস থেকে নির্গত বায়ুপ্রবাহের মাত্রা অপেক্ষাকৃত কম, সেগুলোকে বলা হয় অল্পপ্রাণ ধ্বনি।
যেমন: প, ব, ত, দ, স, ট, ড, ড়, চ, জ, শ, ক, গ ইত্যাদি।

মহাপ্রাণ ব্যঞ্জন:
সেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ফুসফুস থেকে নির্গত বায়ুপ্রবাহ অপেক্ষাকৃত বেশি, সেগুলোকে বলা হয় মহাপ্রাণ ধ্বনি।
যেমন: ফ, ভ, থ, ধ, ঠ, ঢ, ঢ়, ছ, ঝ, খ, ঘ, হ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২-সংস্করণ)।
.
‘ধােবা > ধােপা' - এটি ধ্বনির কোন ধরনের পরিবর্তন?
  1. অভিশ্রুতি 
  2. ব্যঞ্জনচ্যুতি
  3. অন্তর্হতি
  4. ব্যঞ্জন বিকৃতি
ব্যাখ্যা

ব্যঞ্জন বিকৃতি:
- শব্দ-মধ্যে কোনাে কোনাে সময় কোনাে ব্যঞ্জন পরিবর্তিত হয়ে নতুন ব্যঞ্জনধ্বনি ব্যবহৃত হয়। একে বলে ব্যঞ্জন বিকৃতি।

যেমন:
- কবাট > কপাট,
- ধােবা > ধােপা,
- ধাইমা > দাইমা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

.
নিচের কোনটি কারবর্ণ নয়?
  1. ঋ-কার
  2. ঔ-কার
  3. অ-কার
  4. উ-কার
ব্যাখ্যা
• কারবর্ণ নয় - অ-কার

কারবর্ণ:
- স্বরবর্ণের মোট ১০টি সংক্ষিপ্ত রূপ রয়েছে, এগুলোকে কারবর্ণ বলে। কারবর্ণের স্বতন্ত্র ব্যবহার নেই। এগুলো ব্যঞ্জনবর্ণের আগে, পরে, উপরে, নিচে বা উভয় দিকে যুক্ত হয়। কোনো ব্যঞ্জনের সঙ্গে কারবর্ণ বা হশ্চিহ্ন না থাকলে ব্যঞ্জনটির সঙ্গে একটি [অ] আছে বলে ধরে নেওয়া হয়।

১০টি কারবর্ণ হলো:
- আ-কার,
- এ-কার,
- ঈ-কার,
- ই-কার,
- উ-কার,
- ঊ-কার,
- ঋ-কার,
- ও-কার,
- ঔ-কার,
- ঐ-কার।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২-সংস্করণ)।
.
কোনটি সঠিক যুক্তবর্ণ?
  1. হ্ + ঋ = হৃ
  2. হ্ + ণ = হ্ন
  3. হ্ + ঊ = হু
  4. ঞ্ + ছ = ঞ্চ
ব্যাখ্যা

• সঠিক যুক্তবর্ণ - হ্ + ঋ = হৃ

অন্যদিকে,
অশুদ্ধ যুক্তবর্ণের শুদ্ধরূপ নিম্নে দেওয়া হলো:
- ঞ্ + চ = ঞ্চ।
- হ্ + উ = হু।
- হ্ + ন = হ্ন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি, (সংস্করণ-২০২১)।

.
পরবর্তী ধ্বনির প্রভাবে পূর্ববর্তী ধ্বনির পরিবর্তনকে কী বলা হয়?
  1. অপিনিহিতি
  2. প্রগত সমীভবন
  3. অন্যোন্য সমীভবন
  4. পরাগত সমীভবন
ব্যাখ্যা

পরাগত সমীভবন:
- পরবর্তী ধ্বনির প্রভাবে পূর্ববর্তী ধ্বনির পরিবর্তন কে পরাগত সমীভবন বলে।

যেমন:
- তৎ + জন্য > তজ্জন্য,
- তৎ + হিত >তদ্ধিত।

অন্যদিকে,
প্রগত সমীভবন:
- পূর্ব ধ্বনির প্রভাবে পরবর্তী ধ্বনির পরিবর্তনকে প্রগত সমীভবন বলে।
যেমন: চক্র > চক্ক,
- পক্ব > পক্ক।

অন্যোন্য সমীভবন:
- যখন পরস্পরের প্রভাবে দুটো ধ্বনিই পরিবর্তিত হয় তখন তাকে বলে অনন্যান্য সমীভবন।
যেমন:
- সংস্কৃত সত্য > প্রাকৃত সচ্চ।
- সংস্কৃত বিদ্যা > প্রাকৃত বিজ্জা ইত্যাদি।

অপিনিহিতি:
- পরে উচ্চারিত হওয়া ‘ই/উ’ আগে উচ্চারিত হওয়াকে অপিনিহিতি বলে।
যেমন:
- চারি > চাইর,
- মারি > মাইর।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।

১০.
কোন দুটি ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জন নয়?
  1. ট, ভ
  2. প, ম
  3. ফ, ব
  4. ট, ড়
ব্যাখ্যা
ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জন:
- যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ঠোঁট দুটি কাছাকাছি এসে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলোকে ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জন বলে।
- এগুলো দ্বি-ওষ্ঠ্য ধ্বনি নামেও পরিচিত। প, ফ, ব, ভ, ম ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

অন্যদিকে,
- ট, ড় মূর্ধন্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ৯ম-১০ম শ্রেণি, ২০২৫ সালের সংস্করণ।
১১.
'শ্রমিক' - শব্দের শুদ্ধ উচ্চারণ কোনটি?
  1. স্রোমিক্‌
  2. শ্রোমিক্‌
  3. স্রোমিইক্‌
  4. শ্রমিইক্‌
ব্যাখ্যা

শ, ষ, স এর উচ্চারণ:
- শ কখনাে [শ]-এর মতাে উচ্চারিত হয়, কখনাে [স]-এর মতাে উচ্চারিত হয়। স কখনাে [শ]-এর মতাে উচ্চারিত হয়, আবার কখনাে [স]-এর মতাে উচ্চারিত হয়। ষ বর্ণের উচ্চারণ সব সময়ে [শ]।

উদাহরণ:
- শ বর্ণের [শ] উচ্চারণ: শত [শতো], শসা [শশা]।
- শ বর্ণের [স] উচ্চারণ: শ্রমিক [স্রোমিক্‌], শৃগাল [সৃগাল্‌]।
- ষ বর্ণের [শ] উচ্চারণ: ভাষা [ভাশা], ষােলাে [শােলাে]।
- স বর্ণের [শ) উচ্চারণ: সাধারণ [শাধারােন], সামান্য [শামান্‌নো] ।
- স বর্ণের [স] উচ্চারণ: আস্তে [আসতে], সালাম [সালাম্‌]।

উৎস:
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ-২০২১)।
২) বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

১২.
কোনটি মধ্য স্বরাগম পরিবর্তনের উদাহরণ নয়?
  1. মুক্তা > মুকুতা
  2. ফিল্ম > ফিলিম
  3. স্রেফ > সেরেফ
  4. স্কুল > ইস্কুল
ব্যাখ্যা
মধ্য স্বরাগম, বিপ্রকর্ষ বা স্বরভক্তি:
- সময় সময় উচ্চারণের সুবিধার জন্য সংযুক্ত ব্যঞ্জনধ্বনির মাঝখানে স্বরধ্বনি আসে। একে বলা হয় মধ্য স্বরাগম বা বিপ্রকর্ষ বা স্বরভক্তি।

যেমন:
- অ - রত্ন > রতন; ধর্ম > ধরম; স্বপ্ন > স্বপন; হর্ষ > হরষ; বস্‌তি > বসতি ইত্যাদি।
- ই - প্রীতি > পিরীতি; ক্লিপ > কিলিপ; ফিল্ম > ফিলিম ইত্যাদি।
- উ - মুক্তা > মুকুতা, তুর্ক > তুরুক; ভ্রু > ভুরু; শুক্রবার >শুক্কুরবার ইত্যাদি।
- এ - গ্রাম > গেরাম; প্রেক > পেরেক; স্রেফ > সেরেফ ইত্যাদি।
- ও - শ্লোক > শোলক, মুরগ > মুরােগ > মােরগ ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- 'স্কুল > ইস্কুল' আদি স্বরাগম ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৩.
কোনটি দন্ত্য ব্যঞ্জন?
ব্যাখ্যা
দন্ত্য ব্যঞ্জন:
- যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা উপরের পাটির দাঁতে লেগে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলােকে দন্ত্য ব্যঞ্জন বলে।
- তাল, থালা, দাদা, ধান প্রভৃতি শব্দের ত,, দ, ধ দন্ত্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।
 
অন্যদিকে,
দন্তমূলীয় ব্যঞ্জন - নানা, রাত, লাল, সালাম প্রভৃতি শব্দের , র, , দন্ত্যমূলীয় ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি, (সংস্করণ-২০২১)।
১৪.
কোনটি অস্বচ্ছ যুক্তবর্ণ?
  1. জ্জ
  2. ক্ষ্ম
  3. ক্স
  4. ক্ত
অনির্ধারিত
ব্যাখ্যা

কোনটি অস্বচ্ছ যুক্তবর্ণ?
সঠিক উত্তর: ক্ত; ক্স; ক্ষ্ম। 
অপশনে একাধিক উত্তর থাকায় প্রশ্নটি বাতিল করা হলো। 

• যুক্তবর্ণ দুই রকম: স্বচ্ছ ও অস্বচ্ছ।

স্বচ্ছ যুক্তবর্ণ:
- ক্ট, জ্জ, জ্ব, ণ্ট, ণ্ঠ, দ্দ, দ্ব, দ্ম, ঠ, ন্স, প্ট, প্ত, প্প, ন্স, ন্স, জ, ব্দ, ম্ফ, ল্ক, ল্প, ল্ট, ল্ড, ল্প, ফ্ল, স্থ, ষ্ট, ষ্ঠ, স্ফ, স্থ, স্ট, স্ক ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
অস্বচ্ছ যুক্তবর্ণ:
- ক্ত (ক্ + ত),
- ক্স (ক্ + ম),
- ক্ষ (ক্ + ষ),
- ক্ষ্ম (ক্ + ষ + ম),
- ক্স (ক্ + স),
- গু (গ + উ),
- গ্ধ (গ্‌ + ধ),
- ঙ্গ (ঙ্‌ + গ),
- জ্ঞ (জ্‌ + ঞ),
- ঞ্চ (ঞ্‌ + চ),
- ঞ্জ (ঞ্‌ + জ),
- ষ্ণ (ষ্‌ + ণ)
- হু (হ্ + উ),
- হ্ন (হ্ + ন),
- হ্ম (হ্‌ + ম) ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ-২০২১)।

১৫.
কোনটি অন্তর্হতি ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ?
  1. গাছুয়া > গেছো
  2. কবাট > কপাট
  3. ধাইমা > দাইমা
  4. ফাল্গুন > ফাগুন
ব্যাখ্যা

অন্তর্হতি:
- পদের মধ্যে কোনো ব্যঞ্জনধ্বনি লোপ পেলে তাকে বলে অন্তর্হতি।

যেমন:
- ফাল্গুন > ফাগুন,
- ফলাহার > ফলার,
- আলাহিদা > আলাদা।

অন্যদিকে,
ব্যঞ্জন বিকৃতি - কবাট > কপাট, ধাইমা > দাইমা।
অভিশ্রতি - গাছুয়া > গাউছা > গেছো।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

১৬.
কোন শব্দে তাড়িত ব্যঞ্জন আছে?
  1. বাড়ি
  2. হাঙর
  3. ভার
  4. হুঙ্কার
ব্যাখ্যা
তাড়িত ব্যঞ্জন:
- যে ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের সামনের অংশ দন্তমূলের একটু উপরে অর্থাৎ মূর্ধায় টোকা দেওয়ার মতো করে একবার ছুঁয়ে যায় তাকে তাড়িত ব্যঞ্জন বলে।
- বাড়ি, মূঢ় প্রভৃতি শব্দের ড়, ঢ় তাড়িত ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

অন্যদিকে,
নাসিক্য ব্যঞ্জন:
- যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ফুসফুস থেকে আসা বাতাস মুখের মধ্যে প্রথমে বাধা পায় এবং নাক ও মুখ দিয়ে বেরিয়ে যায়, সেসব ধ্বনিকে নাসিক্য ব্যঞ্জন বলে।
- মা, নতুন, হাঙর প্রভৃতি শব্দের ম, ন, ঙ নাসিক্য ব্যঞ্জনধ্বনি।

উষ্ম ব্যঞ্জন:
- যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে দুটি বাম্প্রত্যঙ্গ কাছাকাছি এসে নিঃসৃত বায়ুতে ঘর্ষণ সৃষ্টি করে, সেগুলােকে উষ্ম ব্যঞ্জন বলে।
- সালাম, শসা, হুঙ্কার প্রভৃতি শব্দের স, শ, হ উষ্ম ধ্বনির উদাহরণ।

কম্পিত ব্যঞ্জন:
- যে ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভ একাধিক বার অতি দ্রুত দন্তমূলকে আঘাত করে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, তাকে কম্পিত ব্যঞ্জন বলে।
- কর, ভার, হার প্রভৃতি শব্দের র কম্পিত ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১৭.
'আটমেসে ˃ আটাসে' - এটি কোন ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ?
  1. সম্প্রকর্ষ
  2. অভিশ্রতি
  3. স্বরলোপ
  4. ক ও গ উভয়ই
ব্যাখ্যা

সম্প্রকর্ষ বা স্বরলোপ: 
- দ্রুত উচ্চারণের জন্য শব্দের আদি, অন্ত্য বা মধ্যবর্তী কোনো  স্বরধ্বনির লোপকে বলা হয় সম্প্রকর্ষ বা স্বরলোপ।

যেমন:
- আটমেসে ˃ আটাসে,
- কুটুম্ব ˃ কুটুম,
- জানালা ˃ জান্লা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।

১৮.
'অদ্য' - শব্দের সঠিক উচ্চারণ কোনটি?
  1. অদ্‌দো
  2. ওদ্‌দো
  3. ওইদ্‌দো
  4. ঔদ্‌দো
ব্যাখ্যা

'অ' বর্ণের উচ্চারণ:
- অ বর্ণের উচ্চারণ দুই রকম: [অ] এবং [ও]। সাধারণ উচ্চারণ [অ], কিন্তু পাশের ধ্বনির প্রভাবে [অ] কখনো কখনো [ও]-এর মতো উচ্চারিত হয়।

- অ বর্ণের স্বাভাবিক উচ্চারণ: অনেক [অনেক্], কথা [কথা্‌], অনাথ [অনাথ্‌]।
- অ বর্ণের [ও] উচ্চারণ: অতি [ওতি], অণু [ওনু], পক্ষ [পোক্খো‌], অদ্য [ওদ্‌দো], মন [মোন্]।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

১৯.
কোন ধ্বনিগুলো উচ্চারণের সময়ে মুখগহ্বরের কোথাও বাধা পায় না?
  1. যুগ্মধ্বনি
  2. মৌলিকধ্বনি
  3. ব্যঞ্জনধ্বনি
  4. স্বরধ্বনি
ব্যাখ্যা

স্বরধ্বনি:
- সেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে বায়ু মুখগহ্বরের কোথাও বাধা পায় না, সেগুলোকে স্বরধ্বনি বলে।

উল্লেখ্য,
ব্যঞ্জনধ্বনি:
- যেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে বায়ু মুখের বাহিরে বের হওয়ার আগে বাকপ্রত্যঙ্গের বিভিন্ন জায়গায় বাধা পায়, সেগুলোকে ব্যঞ্জনধ্বনি বলে।

মৌলিক স্বরধ্বনি ৭টি:
[ই], [এ), [অ্যা], [আ], [অ], [ও], [উ];

• মৌলিক ব্যঞ্জনধ্বনি ৩০টি:
[প্], [ফ], [ব], ভিা, [ত্], [থ], [দ], [ধ], [ট], [ঠ], [ড], [ঢ়], [চ], [ছ], [জ], [ব],[ক], [খ], [গা,[ঘ], [ম], [ন], [ঙ], [স্], [শ], [হা, [ল], [র], [ড়], [ঢ়।।
- এখানে তৃতীয় বন্ধনী দিয়ে ধ্বনি বা উচ্চারণ নির্দেশ করা হয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২সংস্করণ)।

২০.
কোন শব্দে 'আ' 'অ্যা-' এর মতো উচ্চারিত হয়েছে?
  1. আলো
  2. জ্ঞাপন
  3. রাত
  4. আকাশ
ব্যাখ্যা

'আ' বর্ণের উচ্চারণ:

• আ বর্ণের স্বাভাবিক উচ্চারণ [আ]: 
- আকাশ [আকাশ্], রাত [রাত্], আলো [আলো]। 
 
• [আ] জ্ঞ-এর সঙ্গে থাকলে [অ্যা]-এর মতো উচ্চারিত হয়। 
যেমন:
- জ্ঞান [গ্যান্‌], জ্ঞাত [গ্যাঁতো], জ্ঞাপন [গ্যাপোন্‌]।
 
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

২১.
কোনটি তালব্য বর্ণ?
ব্যাখ্যা
• তালব্য বর্ণ -

• উচ্চারণস্থান অনুসারে বর্ণের নাম:

যেমন:
কণ্ঠ্য বা জিহ্বামূলীয় বর্ণ: অ, আ, ক, খ, গ, ঘ, ঙ, হ।
তালব্য বর্ণ: ই, ঈ, চ, ছ, জ, ঝ, , য, য়, শ।
ওষ্ঠ্য বর্ণ: উ, উ, প, ফ, ব, ভ, ম।
মূর্ধন্য বর্ণ: , ট, ঠ, ড, ঢ, ণ, র, ড়, , ষ।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
২২.
'আত্মীয়' শব্দের শুদ্ধ উচ্চারণ কোনটি?
  1. আত্‌তীয়ো
  2. আত্‌তিয়ো
  3. আত্‌তীঁয়ো
  4. আত্‌তিঁয়ো
ব্যাখ্যা

'ম' বর্ণের উচ্চারণ:
- বর্ণের সাধারণ উচ্চারণ [ম]।

- শব্দের প্রথম বর্ণে ম-ফলা থাকলে সেই বর্ণ উচ্চারণের সময়ে ম-এর উচ্চারণ [অঁ]-এর মতো হয়।
যেমন - শ্মশান [শশান্‌], স্মরণ [শঁরোন্]।

- শব্দের মধ্যে ম-ফলা থাকলে সেই বর্ণ উচ্চারণে দ্বিত্ব হয় এবং সামান্য অনুনাসিক হয়।
যেমন - আত্মীয় [আত্‌তিঁয়ো], পদ্ম [পদ্‌দোঁ]।

- কিছু ক্ষেত্রে ম-ফলায় ম্-এর উচ্চারণ বজায় থাকে।
যেমন - যুগ্ম [জুগ্‌মো], জন্ম [জন্‌মো], গুল্ম [গুল্‌মো]।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)

২৩.
দ্বিস্বরধ্বনি বলতে কী বোঝায়?
  1. শুধুমাত্র অর্ধস্বরধ্বনির উচ্চারণ
  2. দুটি পূর্ণ স্বরধ্বনির সমন্বয়
  3. পূর্ণ স্বরধ্বনি এবং অর্ধস্বরধ্বনির একত্রে উচ্চারণ
  4. একটি পূর্ণ স্বরধ্বনি এবং একটি ব্যঞ্জনধ্বনির সমন্বয়
ব্যাখ্যা
দ্বিস্বরধ্বনি:
- পূর্ণ স্বরধ্বনি ও অর্ধস্বরধ্বনি একত্রে উচ্চারিত হলে দ্বিস্বরধ্বনি হয়।

যেমন:
- 'লাউ' শব্দের [আ] পূর্ণ স্বরধ্বনি এবং [উ্] অর্ধস্বরধ্বনি মিলে দ্বিস্বরধ্বনি [আউ্] তৈরি হয়েছে।

দ্বিস্বরধ্বনির কিছু উদাহরণ:
- [আই]: তাই, নাই,
- [এই]: সেই, নেই,
- [উই]: দুই, রুই,
- [ওউ]: মৌ, বউ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি, (২০২১ সংস্করণ)।