পরীক্ষা আর্কাইভ

GKPedia - বাংলাদেশ বিষয়াবলি

পরীক্ষাGKPedia - বাংলাদেশ বিষয়াবলিতারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়07 minutes
মোট প্রশ্ন১৭
সিলেবাস
পরীক্ষা – ১ টপিক: বাংলার প্রাচীন ইতিহাস, জনপদ, পরিব্রাজক, প্রাচীন বাংলার ইতিহাস-মৌর্য বংশ, গুপ্ত বংশ, গুপ্ত পরবর্তী যুগ পাল বংশ, প্রাচীন আমলের শিল্পকলা, মধ্যযুগে বাংলার ইতিহাস, মুসলিম শাসনের চিত্র, তুর্কি শাসনামল [Live Class - 1 & 2 ক্লাস মেন্টর: নিশাত রায়হান অমনি]
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

GKPedia - বাংলাদেশ বিষয়াবলি

GKPedia - বাংলাদেশ বিষয়াবলি · তারিখ অনির্ধারিত · ১৭ প্রশ্ন

.
বাংলার প্রাচীন আদি ভাষাভাষী জনগোষ্ঠীর মধ্যে কোন নরগোষ্ঠীর প্রভাব সবচেয়ে বেশি ছিল?
  1. ককেশীয়
  2. নিগ্রীয়
  3. মঙ্গোলীয়
  4. অষ্ট্রেলীয় 
সঠিক উত্তর:
অষ্ট্রেলীয় 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অষ্ট্রেলীয় 
ব্যাখ্যা

• বাঙালি জাতি:
- বাঙালি জাতি একটি মিশ্রিত জাতি, যা নানা যুগে বিভিন্ন নরগোষ্ঠীর মেলবন্ধনের ফলে গঠিত হয়েছে। 
- নৃবিজ্ঞানীদের মতে, বাংলায় পৃথিবীর চারটি প্রধান নরগোষ্ঠীর (নিগ্রীয়, মঙ্গোলীয়, ককেশীয় ও অষ্ট্রেলীয়) শাখার আগমন ঘটেছে।
- বাংলার প্রাচীন জনগুলির মধ্যে অষ্ট্রিক ভাষীরাই সবচেয়ে বেশি। 
- প্রাচীন সময়ে আদি অষ্ট্রেলীয় জনগোষ্ঠী—যেমন সাঁওতাল, বাঁশফোড়, রাজবংশী—এ অঞ্চলে বাস করত। 
- পরবর্তীতে আর্য, পারস্য-তুর্কিস্তান, গুপ্ত, সেন, বর্মণ, তুর্কি, আফগান, মুগল, ইংরেজ, আর্মেনীয় প্রভৃতি বহু জাতির আগমন বাঙালি রক্তে নতুন মিশ্রণ ঘটায়।
- এমনকি পাকিস্তান যুগ ও বর্তমান বিশ্বায়নের সময়েও এই শংকর প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।
- সুতরাং, বাঙালি জাতি ইতিহাসভিত্তিক ও বৈচিত্র্যময় রক্তের মিশ্রণের ফলশ্রুতিতে একটি শংকর জাতি হিসেবে পরিচিত।

উৎস: বাংলাপিডিয়া [লিংক]।

.
”শশাঙ্ক” প্রাচীন বাংলার কোন জনপদের রাজা ছিলেন?
  1. গৌড়
  2. বঙ্গ
  3. সমতট
  4. পুণ্ড্র
সঠিক উত্তর:
গৌড়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গৌড়
ব্যাখ্যা

• গৌড়: 
- ষষ্ঠ শতকে বাংলার উত্তর ও উত্তর-পশ্চিম অংশে গৌড় রাজ্য বলে একটি স্বাধীন রাজ্যের কথা জানা যায়। 
- সপ্তম শতকে শশাঙ্ককে গৌড়রাজ বলা হতো।
- এ সময় গৌড়ের রাজধানী ছিল কর্ণসুবর্ণ। 
- বর্তমান পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলায় ছিল এর অবস্থান। 
- বাংলায় তুর্কি বিজয়ের কিছু আগে মালদহ জেলার লক্ষণাবতীকেও গৌড় বলা হতো।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম ও দশম শ্রেণি।

.
রাঢ়ের রাজধানীর নাম কী ছিল?
  1. কর্ণসুবর্ণ
  2. মহাস্থানগড়
  3. পাটনা
  4. কোটিবর্ষ
সঠিক উত্তর:
কোটিবর্ষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কোটিবর্ষ
ব্যাখ্যা

• রাঢ়:
- রাঢ় বলতে পশ্চিম বাংলার দক্ষিণাঞ্চলকেই বুঝানো হতো। 
- এটি গঙ্গা নদীর দক্ষিণ ও পশ্চিম ভাগে সীমাবদ্ধ ছিল।
- জনপদটি দুটি অংশে বিভক্ত ছিল।
- একটি ছিল দক্ষিণ রাঢ় এবং অন্যটি ছিল উত্তর রাঢ়।
- এই উত্তর ও দক্ষিণ রাঢ়ই ছিল যথাক্রমে বজ্রভূমি ও সূহ্মভূমি। 
- রাঢ়ের প্রধান নগর বা রাজধানী ছিল কোটিবর্ষ।
- রাঢ় বা সূহ্মদেশের অন্তর্গত তাম্রলিপ্তের কথা টলেমির ভূগোলে উল্লিখিত ছিল। 
- অনেক ঐতিহাসিক মেদিনীপুর জেলার পূর্বপ্রান্ত অবস্থিত আধুনিক তমলুককে প্রাচীন তাম্রলিপ্ত বলে চিহ্নিত করেছেন।
- শুধু বাংলা নয় এটি প্রাচীন ভারতেরও পূর্বাঞ্চলের শ্রেষ্ঠ বন্দর।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম ও দশম শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

.
ফা-হিয়েন কোন ধর্মের তীর্থযাত্রী ছিলেন?
  1. হিন্দু ধর্ম
  2. শৈব ধর্ম
  3. বৌদ্ধ ধর্ম
  4. খ্রিস্ট ধর্ম
সঠিক উত্তর:
বৌদ্ধ ধর্ম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বৌদ্ধ ধর্ম
ব্যাখ্যা

• ফা-হিয়েন:
- ফা-হিয়েন প্রাচীন চৈনিক বৌদ্ধ তীর্থযাত্রী।
- তিনি মধ্য এশিয়া, ভারত ও শ্রীলংকা ভ্রমণ করেন ও তাঁর ভ্রমণ বৃত্তান্ত লিপিবদ্ধ করেন।
- ৩৯৯ খ্রিস্টাব্দে তিনি যখন ভারতের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেন তখন তাঁর বয়স সম্ভবত ৬৪ বছর।
- তিনি তাঁর ভ্রমণের অধিকাংশ সময়ই মধ্য ভারত বা মগধ পরিভ্রমণ অতিবাহিত করেন।
- তাঁর গন্তব্যস্থল ছিল সে সময়ের বিখ্যাত আন্তর্জাতিক বন্দর তাম্রলিপ্তি (বর্তমান পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুর জেলার অন্তর্গত তমলুক)।
উল্লেখ্য,
- চিনা পরিব্রাজক ফা-হিয়েন গুপ্ত সম্রাট দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্তের শাসনকালে গৌতমবুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত স্থানগুলি পরিদর্শনের উদ্দেশ্যে ভারত অভিমুখে যাত্রা করেন।
- ফা-হিয়েনের বর্ণনায় পাটলীপুত্র, তাম্রলিপ্তি, তক্ষশীলা, সারনাথ, মথুরা, পেশোয়ার, কুশীনগরসহ বেশ কিছু প্রসিদ্ধ স্থানের বিবরণ আছে।
- তাঁর ভ্রমণ কাহিনী থেকে গুপ্তযুগীয় ভারতের আর্থ-সামাজিক, ধর্মীয় এবং পরোক্ষভাবে রাজনৈতিক অবস্থার কিছু চিত্র পাওয়া যায়, যা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
- ফা-হিয়েন গুপ্ত শাসনের উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেন। 

উৎস: i) ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশবিদ্যালয়।
         ii) বাংলাপিডিয়া।

.
কলিঙ্গ যুদ্ধের ভয়াবহতা অশোককে কোন ধর্ম গ্রহণে প্রভাবিত করে?
  1. জৈন ধর্ম
  2. হিন্দু ধর্ম
  3. বৌদ্ধ ধর্ম
  4. শৈব ধর্ম
সঠিক উত্তর:
বৌদ্ধ ধর্ম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বৌদ্ধ ধর্ম
ব্যাখ্যা

• সম্রাট অশোক:
- সম্রাট অশোক ভারতের মৌর্য সাম্রাজ্যের তৃতীয় শাসক ছিলেন।
- খ্রিস্টপূর্ব ২৭৩ অব্দে তিনি সিংহাসনে বসেন। এর তের বছর পর খ্রিস্টপূর্ব ২৬১ অব্দে অশোক পার্শ্ববর্তী কলিঙ্গ রাজ্য আক্রমণ করেন।
- ভয়াবহ কলিঙ্গ যুদ্ধে সাধারণ মানুষসহ প্রায় লক্ষাধিক মানুষ মারা যায়।
- এ ভয়াবহতা সম্রাট অশোকের মনে গভীর প্রভাব ফেলে। এতে করে তিনি বৌদ্ধধর্ম গ্রহণ করেন এবং যুদ্ধ পরিহার করে সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির নীতি গ্রহণ করেন।
-তিনি ঘোষণা করেন 'সব মানুষই আমার সন্তান'।
- সম্রাট অশোক খ্রিস্টপূর্ব ২৭৩ অব্দ থেকে খ্রিস্টপূর্ব ২৩২ অব্দ পর্যন্ত রাজত্ব করেন।

উৎস: ইতিহাস প্রথমপত্র, স্নাতক শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

.
ভারতবর্ষের প্রথম সাম্রাজ্যের নাম কী?
  1. গুপ্ত সাম্রাজ্য
  2. মৌর্য সাম্রাজ্য
  3. মগধ সাম্রাজ্য
  4. পাল সাম্রাজ্য
সঠিক উত্তর:
মৌর্য সাম্রাজ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মৌর্য সাম্রাজ্য
ব্যাখ্যা

• চন্দ্ৰগুপ্ত মৌর্য :
- ভারতবর্ষের প্রথম সাম্রাজ্যের নাম মৌর্য সাম্রাজ্য।
- মৌর্য সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা পুরুষ হচ্ছেন চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য।
- তার রাজত্বকাল খ্রিস্টপূর্ব ৩২২-২৯৮ অব্দ পর্যন্ত।
- চন্দ্রগুপ্ত মৌর্যই প্রাচীন ভারতে অখন্ড ঐক্যবদ্ধ রাজনৈতিক সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠার পথে প্রথম বড় ধরনের সফল পদক্ষেপ গ্রহণ করেন।
- তাঁর সময় থেকেই সর্বভারতীয় চিন্তা-চেতনার প্রসার ঘটে।
- মৌর্য শাসন ব্যবস্থার সূচনা হয়।
- বৌদ্ধ ধর্মের প্রচার-প্রসার বাড়তে থাকে।
- সামাজিক ক্ষেত্রে আর্য-অনার্যের পার্থক্য ক্রমেই ঘুঁচে যেতে শুরু করে।
- শিল্প- সংস্কৃতির ক্ষেত্রেও গুণগত পরিবর্তনের সূচনা হয়।
- তার রাজধানী ছিল পাটালিপুত্র।
- সম্রাট চন্দ্রগুপ্ত মৌর্যের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন চাণক্য।

উৎস: i) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্ৰেণী।
       ii) ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

.
গুপ্ত সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন কে?
  1. সমুদ্রগুপ্ত 
  2. প্রথম চন্দ্রগুপ্ত
  3. বিজয়গুপ্ত
  4. সম্রাট অশোক
সঠিক উত্তর:
প্রথম চন্দ্রগুপ্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রথম চন্দ্রগুপ্ত
ব্যাখ্যা

• গুপ্ত সাম্রাজ্য:

- আনুমানিক ৩২০ খ্রিস্টাব্দে প্রথম চন্দ্রগুপ্ত পাটলীপুত্র এলাকা (বর্তমান পাটনায়) গুপ্ত সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন। 
- ধারণা করা হয়, গুপ্ত সাম্রাজ্য বর্তমান পাটনা এলাকায়, যার তৎকালীন নাম পাটলীপুত্র। 
- গুপ্ত বংশের আদি পুরুষেরা বাংলার পশ্চিমাংশে একটি ছোট রাজ্যের সামন্ত অধিপতি ছিলেন।
- পরবর্তীকালে সমগ্র বাংলাই গুপ্ত সাম্রাজ্যের অধীনস্ত হয়।


- বাংলার উত্তরাংশ 'পুণ্ড্রবর্ধন ভুক্তি' নামে একটি প্রদেশ অথবা প্রশাসনিক বিভাগ হিসেবে সংঘটিত হয়েছিল।
- গুপ্ত সম্রাটের নিযুক্ত একজন শাসনকর্তা দ্বারা এটি শাসিত হতো।
- ৫০৭ খ্রিস্টাব্দে মহারাজ বৈন্যগুপ্ত দক্ষিণ-পূর্ব বাংলা বা সমতট শাসন করতেন।
- প্রথমে তিনি গুপ্ত সম্রাটের অধীনে একজন সামন্ত শাসনকর্তা ছিলেন। 
- পরে সম্ভবত তিনি গুপ্ত সাম্রাজ্যের দুর্বলতার সুযোগে স্বাধীন স্বতন্ত্র রাজা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন।

- গুপ্ত যুগের শাসনামলে বাংলা অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ ছিল। 
- সে সময় বাংলাদেশে প্রচুর স্বর্ণ ও রৌপ্য মুদ্রার প্রচলন ছিল। 
- গুপ্ত শাসনাধীন বাংলাদেশ ছিল বেশ সমৃদ্ধ। 
- ঐতিহাসিকদের মতামত বিশ্লেষণ করলে বুঝা যায়, প্রাচীন বাংলা সমৃদ্ধশালী ছিল।

উৎস: ইতিহাস-১ম পত্র , বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

.
মেগাস্থিনিস কোন দেশের ইতিহাসবিদ ছিলেন?
  1. মরক্কো
  2. ইতালি
  3. চীন
  4. গ্রীস
সঠিক উত্তর:
গ্রীস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ্রীস
ব্যাখ্যা

• মেগাস্থিনিস:
- মেগাস্থিনিস প্রাচীন গ্রীসের একজন ইতিহাসবিদ এবং কূটনীতিক।
- তিনি এশিয়া মাইনরে জন্মগ্রহণ করেন।
- গ্রিক সেনাপতি সেলিউকাস খ্রিষ্টপূর্ব ৩০২ অব্দে তাকে দূত হিসেবে প্রথম চন্দ্রগুপ্তের রাজদরবারে প্রেরণ করেছিলেন।
- তিনি কয়েক বছর এ দেশে অবস্থান করে মৌর্য শাসন সম্পর্কে তার অভিজ্ঞতা ইন্ডিকা নামক গ্রন্থে লিপিবদ্ধ করেন।

উৎস: ব্রিটানিকা।

.
বাংলাদেশের উত্তরবঙ্গ অঞ্চল প্রাচীন কোন জনপদের অন্তর্গত ছিল?
  1. বঙ্গ
  2. হরিকেল
  3. সমতট
  4. বরেন্দ্র
সঠিক উত্তর:
বরেন্দ্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বরেন্দ্র
ব্যাখ্যা

• বরেন্দ্র:
- বরেন্দ্রী, বরেন্দ্র বা বরেন্দ্রভূমি নামে প্রাচীন বাংলায় অপর একটি জনপদের কথা জানা যায়।
- এটি বাংলাদেশের উত্তরবঙ্গের একটি জনপদ।
- অনুমান করা হয়, পুঞ্জের একটি অংশ জুড়ে বরেন্দ্রর অবস্থান ছিল।
- বগুড়া, দিনাজপুর ও রাজশাহী জেলার অনেক এলাকা এবং সম্ভবত পাবনা জেলাজুড়ে বরেন্দ্র বিস্তৃত ছিল।

অন্যদিকে,
- প্রাচীন সমতট জনপদের বর্তমান অবস্থান- কুমিল্লা, নোয়াখালী ।
- প্রাচীন হরিকল জনপদের বর্তমান অবস্থান- সিলেট, পার্বত্য চট্টগ্রাম।
- প্রাচীন বঙ্গ জনপদের বর্তমান অবস্থান- ঢাকা, ফরিদপুর ।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণী।

১০.
বাংলার প্রথম দীর্ঘস্থায়ী রাজবংশ-
  1. গুপ্ত বংশ
  2. সেন বংশ
  3. পাল বংশ
  4. দেব বংশ
সঠিক উত্তর:
পাল বংশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পাল বংশ
ব্যাখ্যা

• পাল শাসন:
- বাংলার প্রথম দীর্ঘস্থায়ী রাজবংশের পাল বংশ।
- পাল বংশ বাংলায় দৈর্ঘ্য ৪০০ বছর শাসন করেন।
- এ বংশের  প্রতিষ্ঠাতা: গোপাল।
- শেষ রাজা: মদনপাল।
- গোপাল শাসন করেছিলেন ২৭ বছর (৭৫৬-৭৮১)।
- গোপালের মৃত্যুর পর বাংলার সিংহাসনে বসেন ধর্মপাল।
- পাল রাজাদের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ ধর্মপাল। 
- সোমপুর বিহার (নওগাঁ জেলার পাহাড়পুরে অবস্থিত) এর প্রতিষ্ঠাতা- রাজা ধর্মপাল।
-  ধর্মপাল রাজত্ব করেন ৪০ বছর।
- ধর্মপালের শাসনকাল ৭৮১-৮২১ খ্রিষ্টাব্দে।
- ধর্মপাল অনুসারী ছিলেন বৌদ্ধধর্মের।
- ধর্মপালের মৃত্যুর পর সিংহাসনে বসেন দেবপাল।
- নালন্দায় এক বিশাল বৌদ্ধমন্দির নির্মাণ করেন।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম ও দশম শ্রেণি।

১১.
সেন বংশের রাজাদের আদি নিবাস কোথায়?
  1. কেরালা
  2. মহারাষ্ট্র
  3. কর্ণাটক
  4. পাঞ্জাব
সঠিক উত্তর:
কর্ণাটক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কর্ণাটক
ব্যাখ্যা

• সেন বংশ (১০৬১-১২০৪ খ্রিষ্টাব্দ):
- পাল বংশের অবসানের পর এগারো শতকের দ্বিতীয় ভাগে বাংলায় সেন রাজবংশের সূচনা হয়।
- এ বংশের গুরুত্বপূর্ণ তিনজন রাজা ছিলেন বিজয়সেন, বল্লাল সেন ও লক্ষণ সেন।
- তাদের আদি নিবাস ছিল দাক্ষিণাত্যের কর্ণাটক।
- বাংলার সেন বংশের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন সামন্ত সেন।
- কিন্তু তিনি কোনো রাজ্য প্রতিষ্ঠা না করায় সেন বংশের প্রথম রাজার মর্যাদা দেওয়া হয় সামন্ত সেনের পুত্র হেমন্ত সেনকে।
- তিনি পাল রাজা রামপালের অধীনে একজন সামস্ত রাজা ছিলেন।
- হেমন্ত সেনের মৃত্যুর পর তার পুত্র বিজয় সেন (১০৯৮-১১৬০ খ্রিষ্টাব্দ) সিংহাসনে আরোহণ করেন। 
- হেমন্তসেনের পুত্র বিজয়সেন নিজ বংশের স্বাধীন শাসনের সূচনা করেন। 
-  কৈবর্তদের সাথে যুদ্ধের মাধ্যমে বরেন্দ্র পুনরুদ্ধারে রামপালকে সহায়তা করার প্রতিদান হিসেবে তিনি রাঢ়ে স্বাধীন শাসকের মর্যাদা লাভ করেন।
- পরবর্তী পর্যায়ে তিনি পালদের পরাজিত করে গৌড়ের সিংহাসন দখল করেন।
-  বিজয়পুর ছিল বিজয় সেনের প্রথম রাজধানী।
- দ্বিতীয় রাজধানী স্থাপন করা হয় বর্তমান মুন্সিগঞ্জ জেলার বিক্রমপুরে।
- শিব অনুরাগী বিজয় সেন পরম মহেশ্বর, পরমেশ্বর,পরমভট্টারক, মহারাজাধিরাজ অরিরাজ-বৃষভ-শঙ্কর প্রভৃতি উপাধি গ্রহণ করেন।
 - সেন বংশের অধীনেই সর্বপ্রথম সমগ্র বাংলা দীর্ঘকালব্যাপী একক রাজার অধীনে ছিল।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম ও দশম শ্রেণি।

১২.
বিক্রমশীল বিহার প্রতিষ্ঠা করেন —
  1. গোপাল
  2. দেবপাল
  3. ধর্মপাল 
  4. মহীপাল
সঠিক উত্তর:
ধর্মপাল 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধর্মপাল 
ব্যাখ্যা

• ধর্মপালের সাফল্য:
- বাংলা সর্বপ্রথম উত্তর ভারতীয় রাজনীতিতে স্বল্পকালের জন্য হলেও কিছু সাফল্য অর্জন করেছিল। 
- ধর্মপালের অধীনে বাংলার নতুন শক্তি ও উদ্দীপনার পরিচয় এই প্রশস্তিসমূহেই পাওয়া যায়।
- পাল রাজাদের মধ্যে ধর্মপালই প্রথম সর্বোচ্চ সার্বভৌম উপাধি পরমেশ্বর, পরমভট্টারক ও মহারাজাধিরাজ গ্রহণ করেন। 
- পিতার ন্যায় তিনিও বৌদ্ধ ছিলেন।
- বরেন্দ্র অঞ্চলের সোমপুর নামক স্থানে (বর্তমান নওগাঁ জেলার পাহাড়পুরে) একটি বিহার বা বৌদ্ধ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নির্মাণ করেন যা সোমপুর মহাবিহার নামে পরিচিত।
- খুব সম্ভবত এটি সমগ্র ভারতবর্ষে সর্ববৃহৎ বৌদ্ধ বিহার।
- ভাগলপুরের ২৪ মাইল পূর্বে তিনি আরেকটি বৌদ্ধ বিহার প্রতিষ্ঠা করেন। 
- ধর্মপালের অপর নাম 'বিক্রমশীল' অনুসারে বিহারটির নাম দেয়া হয় বিক্রমশীল বিহার। 
- তারনাথ উল্লেখ করেন যে, ধর্মপাল বৌদ্ধ শিক্ষার জন্য ৫০টি শিক্ষা কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করেন।
- ধর্মপাল নিজে বৌদ্ধ হলেও হিন্দু ধর্মের প্রতি উদার ছিলেন। 
- নারায়ণ মন্দিরের জন্য তিনি নিষ্কর ভূমিদান করেন। 

উৎস: ইতিহাস-১ম পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৩.
বাংলায় মুসলিম শাসনের সূচনা করেন-
  1. কুতুবউদ্দীন আইবক
  2. বখতিয়ার খলজী
  3. সুলতান মাহমুদ
  4. শের শাহ
সঠিক উত্তর:
বখতিয়ার খলজী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বখতিয়ার খলজী
ব্যাখ্যা

• বখতিয়ার খলজী:
- বখতিয়ার খলজী  ১২০৫ খ্রিস্টাব্দের প্রথম দিকে নদীয়া জয় করেন এবং বাংলায় মুসলিম শাসনের সূচনা করেন।
- উত্তর আফগানিস্তানের গরমশির (আধুনিক দস্ত-ই-মার্গ) এলাকার বাসিন্দা ইখতিয়ারউদ্দীন মুহম্মদ বখতিয়ার খলজী তুর্কি জাতির খলজী সম্প্রদায়র্ভুক্ত ছিলেন। 

- ১২০৩ খ্রিস্টাব্দে বখতিয়ার খলজী বিহার আক্রমণ করেন এবং ওদন্তপুরী বৌদ্ধবিহারটি সম্পূর্ণ ধ্বংস করে।
- অতঃপর তারা সে স্থান থেকে মূল্যবান সম্পদ লুণ্ঠন করে প্রত্যাবর্তন করে।
- তিনি কুতুবউদ্দীন আইবকের সাথে সাক্ষাৎ করে তাঁকে মূল্যবান উপহার প্রদান করেন। 
- অপরপক্ষে কুতুবউদ্দীনও তাঁকে সাদর অভ্যর্থনা জানান।
- অতঃপর ১২০৪ খ্রিস্টাব্দের শীতকালে তিনি ঝাড়খন্ডের দুর্গম অরণ্যাঞ্চলের মধ্য নদীয়া আক্রমন করেন।
- রাজা লক্ষ্মণসেন নৌপথে তাঁর রাজধানী বিক্রমপুরে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছিলেন।
- ইতোমধ্যে বখতিয়ার খলজীর মূল বাহিনীও এসে পড়েছিল।
- ফলে নদীয়া মুসলমানদের  অধিকারে আসে।

- বখতিয়ার খলজী স্বল্প সময়ের জন্য নদীয়ায় অবস্থান করেন এবং পরে তিনি গৌড়ের দিকে যাত্রা করেন।
- তিনি ৬০১ হিজরিতে (১২০৫ খ্রি.) বিনা বাধায় গৌড় জয় করেন এবং লখনৌতি নাম দিয়ে সেখানে তাঁর রাজধানী স্থাপন করেন। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা-৯ম-১০ম শ্রেণি।

১৪.
”ষাট গম্বুজ মসজিদ” কোন শতাব্দীতে নির্মিত হয়?
  1. ১৫শ
  2. ১৬শ
  3. ১৩শ
  4. ১৪শ
সঠিক উত্তর:
১৫শ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৫শ
ব্যাখ্যা

• ষাট গম্বুজ মসজিদ:
- ষাট গম্বুজ মসজিদ বাংলাদেশের বাগেরহাট জেলার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত একটি প্রাচীন মসজিদ।
- মসজিদটির গায়ে কোনো শিলালিপি নেই।
- মসজিদটির স্থাপত্যশৈলী দেখলে এটি যে খান-ই-জাহান নির্মাণ করেছিলেন সে সম্বন্ধে কোনো সন্দেহ থাকে না।
- তিনি ১৫শ শতাব্দীতে এটি নির্মাণ করেন। 
- এ মসজিদটি বহু বছর ধরে ও বহু অর্থ খরচ করে নির্মাণ করা হয়েছিলো। 
- পাথরগুলো আনা হয়েছিলো রাজমহল থেকে।
- এটি বাংলাদেশের তিনটি বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থানের একটির মধ্যে অবস্থিত; 
- বাগেরহাট শহরটিকেই বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থানের মর্যাদা দেয়া হয়েছে। 
- ১৯৮৫ খ্রিস্টাব্দে ইউনেস্কো এই সম্মান প্রদান করে।

উৎস: বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন।

১৫.
দিল্লির সুলতান মুহাম্মদ বিন তুঘলক বাংলাকে কতটি প্রশাসনিক ইউনিটে ভাগ করেন?
  1. চারটি
  2. তিনটি 
  3. দুইটি 
  4. পাচঁটি
সঠিক উত্তর:
তিনটি 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তিনটি 
ব্যাখ্যা

• স্বাধীন সুলতানি আমল (১৩৩৮ ১৫৩৮ খ্রিষ্টাব্দ):
- দিল্লির সুলতান মুহাম্মদ বিন তুঘলক বিদ্রোহপ্রবণ বাংলাকে দিল্লির অধীনে রাখার জন্য বাংলাকে তিনটি প্রশাসনিক ইউনিটে ভাগ করেন।
- ইউনিটগুলো হলো:  লাখনৌতি, সাতগাঁও ও সোনারগাঁ।

- ১৩৩৮ খ্রিষ্টাব্দে সোনারগাঁয়ের শাসনকর্তা বাহরাম খানের মৃত্যু হয়।
- বাহরাম খানের বর্মরক্ষক ছিলেন 'ফখরা' নামের একজন রাজকর্মচারী।
- প্রভুর মৃত্যুর পর তিনি স্বাধীনতা ঘোষণা করেন এবং 'ফখরুদ্দিন মুবারক শাহ' নাম নিয়ে সোনারগাঁয়ের সিংহাসনে বসেন।
- এভাবেই সূচনা হয় বাংলার স্বাধীন সুলতানি যুগের।
- দিল্লির সুলতান মুহম্মদ-বিন-তুঘলকের পক্ষে এ সময় বাংলার দিকে দৃষ্টি দেওয়ার সুযোগ ছিল না। 
- তাই সোনারগাঁয়ে স্বাধীনতার সূচনা হলেও ধীরে ধীরে স্বাধীন অংশের সীমা বিস্তৃত হতে থাকে।
- পরবর্তী দুই'শ বছর এ স্বাধীনতা কেউ কেড়ে নিতে পারেনি।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম ও দশম শ্রেণি।

১৬.
লালবাগ কেল্লার নির্মাণ কাজ শুরু হয় কত সালে?
  1. ১৬৭৮ সালে
  2. ১৬৭৯ সালে
  3. ১৬৭৩ সালে
  4. ১৬৭২ সালে
সঠিক উত্তর:
১৬৭৮ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৬৭৮ সালে
ব্যাখ্যা

• লালবাগ কেল্লার ইতিহাসঃ
- লালবাগ কেল্লার নির্মাণ কাজ শুরু হয় ১৬৭৮ সালে। 
- তৎকালীন মুঘল সম্রাট আজম শাহ এর নির্মাণ কাজ শুরু করেন। 
- যদিও আজম শাহ খুব কম সময়ের জন্যেই মুঘল সম্রাট হিসেবে ছিলেন। 
- তবুও তার অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি তার এই অসাধারণ কাজটি শুরু করেন।
- উল্লেখ্য আজম শাহ ছিলেন মুঘল সম্রাট আওরঙ্গজেব এর পুত্র আর সম্রাট শাহ জাহানের নাতি, 
- এই দুর্গ নির্মাণ কাজ শুরু হওয়ার প্রায় এক বছরের মাথায় তার বাবার ডাকে তাকে দিল্লিতে চলে যেতে হয় ।
- সম্রাট আজম শাহ চলে যাওয়ার পর দুর্গ নির্মাণের কাজ সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়। 
- তখন এই দুর্গ নির্মাণের কাজ আদৌ সম্পূর্ণ হবে কিনা তা নিয়ে সংশয় দেখা দেয়।
- তৎকালীন নবাব শায়েস্তা খাঁ পুনরায় লালবাগ কেল্লার নির্মাণ কাজ শুরু করে দেন কাজ থেমে যাওয়ার প্রায় এক বছর পরে। 
- পুরো উদ্যমে আবার কাজ চলতে থাকে দুর্গ নির্মাণের।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

১৭.
বাংলার স্বাধীন সুলতানি যুগের সূচনা করেন-
  1. আলী মর্দান খলজী
  2.  আলাউদ্দিন খিলজি
  3. শামসুদ্দীন ইলিয়াস শাহ
  4. ফখরুদ্দিন মুবারক শাহ
সঠিক উত্তর:
ফখরুদ্দিন মুবারক শাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফখরুদ্দিন মুবারক শাহ
ব্যাখ্যা

• স্বাধীন সুলতানি আমল (১৩৩৮ ১৫৩৮ খ্রিষ্টাব্দ):
- দিল্লির সুলতান মুহাম্মদ বিন তুঘলক বিদ্রোহপ্রবণ বাংলাকে দিল্লির অধীনে রাখার জন্য বাংলাকে তিনটি প্রশাসনিক ইউনিটে ভাগ করেন।
- ইউনিটগুলো হলো:  লাখনৌতি, সাতগাঁও ও সোনারগাঁ।

- ১৩৩৮ খ্রিষ্টাব্দে সোনারগাঁয়ের শাসনকর্তা বাহরাম খানের মৃত্যু হয়।
- বাহরাম খানের বর্মরক্ষক ছিলেন 'ফখরা' নামের একজন রাজকর্মচারী।
- প্রভুর মৃত্যুর পর তিনি স্বাধীনতা ঘোষণা করেন এবং 'ফখরুদ্দিন মুবারক শাহ' নাম নিয়ে সোনারগাঁয়ের সিংহাসনে বসেন।
- এভাবেই সূচনা হয় বাংলার স্বাধীন সুলতানি যুগের।
- দিল্লির সুলতান মুহম্মদ-বিন-তুঘলকের পক্ষে এ সময় বাংলার দিকে দৃষ্টি দেওয়ার সুযোগ ছিল না। 
- তাই সোনারগাঁয়ে স্বাধীনতার সূচনা হলেও ধীরে ধীরে স্বাধীন অংশের সীমা বিস্তৃত হতে থাকে।
- পরবর্তী দুই'শ বছর এ স্বাধীনতা কেউ কেড়ে নিতে পারেনি।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম ও দশম শ্রেণি।