পরীক্ষা আর্কাইভ

৪০ দিনে ৪৭তম বিসিএস প্রস্তুতি - Archived

পরীক্ষা৪০ দিনে ৪৭তম বিসিএস প্রস্তুতি - Archivedতারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়20 minutes
মোট প্রশ্ন২৭
সিলেবাস
পরীক্ষা - ১৩ পার্ট – ১: বাংলাদেশ বিষয়াবলি টপিকসমূহ: বাংলাদেশের জাতীয় বিষয়াবলি: [বাংলাদেশের ইতিহাস, কৃষ্টি ও সংস্কৃতি সম্পর্কিত] i) ভাষা আন্দোলন, ii) যুক্তফ্রন্ট গঠন ও নির্বাচন, iii) ৫৬ - এর শাসনতন্ত্র আন্দোলন, iv) পাকিস্তানে সামরিক শাসন ও শাসন বিরোধী আন্দোলন, v) ৬২-এর শিক্ষা আন্দোলন, vi) ছয়দফা পার্ট – ২: সাধারণ বিজ্ঞান টপিকসমূহ: ভৌত বিজ্ঞান: (পদার্থ বিজ্ঞান বিষয়ক) ১. ভৌত রাশি এবং এর পরিমাপ, ভৌত বিজ্ঞানের উন্নয়ন, আধুনিক পদার্থবিজ্ঞান, পদার্থের চৌম্বকত্ব, তড়িৎ চৌম্বক ও তাড়িত চৌম্বকীয় আবেশ, তরঙ্গ এবং শব্দ, শক্তি। ২. কাজ, শক্তি ও ক্ষমতা; তাপ ও তাপগতি বিদ্যা, পদার্থের গ্যাসীয় ধর্ম, আলোর প্রকৃতি, স্থির এবং চল তড়িৎ, আলোক বিজ্ঞান ও আলোক যন্ত্রপাতি, ট্রান্সফরমার, এক্সরে, তেজস্ক্রিয়তা।
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

৪০ দিনে ৪৭তম বিসিএস প্রস্তুতি - Archived

৪০ দিনে ৪৭তম বিসিএস প্রস্তুতি - Archived · তারিখ অনির্ধারিত · ২৭ প্রশ্ন

.
যুক্তফ্রন্ট সরকার কতদিন ক্ষমতায় ছিলো?
  1. ৫২ দিন
  2. ৫৪ দিন
  3. ৫৬ দিন
  4. ৫৮ দিন
ব্যাখ্যা
যুক্তফ্রন্ট সরকার ৫৬ দিন ক্ষমতায় ছিলো।

যুক্তফ্রন্ট:

- যুক্তফ্রন্ট চারটি দল নিয়ে ১৯৫৩ সালের ৪ ডিসেম্বর গঠিত হয়।
- এ চারটি দল হলো আওয়ামী লীগ, কৃষক শ্রমিক পার্টি, নেজামে ইসলাম ও গণতন্ত্রী দল।
- যুক্তফ্রণ্ট ১৯৫৪ সালের ৮-১২ মার্চ তারিখে অনুষ্ঠিত পূর্ব বাংলার আইনসভার নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য গঠিত বিরোধী রাজনৈতিক দল সমুহের নির্বাচনী মোর্চা।
- যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনী প্রতীক ছিল নৌকা।
- নির্বাচনী ইশতেহার ছিল ২১ দফা।
- এ নির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জন করে।
- নির্বাচনে ৩০৯টি আসনের ২২৩টি আসনে জয় লাভ করে যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রীসভা গঠন করে।
- ৩ এপ্রিল, ১৯৫৪ সালে যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভা গঠিত হয় এবং ৩০ মে, ১৯৫৪ সালে যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভা ভেঙ্গে কেন্দ্রীয় শাসন জারি করেন পাকিস্তানের তৎকালীন গভর্নর জেনারেল গোলাম মোহাম্মদ।
- মাত্র ৫৬ দিন যুক্তফ্রন্ট সরকার ক্ষমতায় ছিল।

উৎস: ইতিহাস, SSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
১৯৫৬ সালের কোয়ালিশন সরকারের প্রধানমন্ত্রী কে ছিলেন?
  1. মাওলানা ভাসানী
  2. হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী
  3. এ. কে. ফজলুল হক
  4. শেখ মুজিবুর রহমান
ব্যাখ্যা
কোয়ালিশন সরকারের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী।

১৯৫৬ সালের কোয়ালিশন সরকার:

- আওয়ামী লীগ প্রধান হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ৫ দফা কর্মসূচীর ভিত্তিতে একটি কোয়ালিশন গঠন করেন। 
- এর ফলে ১৯৫৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর চৌধুরী মোহাম্মদ আলী পদত্যাগ করেন।
- হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ১৯৫৬ সালের ১২ সেপ্টেম্বর পাকিস্তানের ৬ষ্ঠ প্রধানমন্ত্রী হন।
- ১৯৫৬ সালে কোয়ালিশন সরকারের মন্ত্রিসভায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান শিল্প, বাণিজ্য, শ্রম, দুর্নীতি দমন ও ভিলেজ এইড মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন।
- ইস্কান্দার মীর্জার গোপন ষড়যন্ত্রে রিপাবলিকান দলীয় কিছুসংখ্যক সদস্য সোহরাওয়ার্দী মন্ত্রিসভার উপর থেকে সমর্থন প্রত্যাহার করে নিলে মন্ত্রিসভা নাজুক অবস্থার সম্মুখীন হয়।
- ১৯৫৭ সালের ১৮ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী পদ ত্যাগ করতে বাধ্য হন।

উৎস: উচ্চ মাধ্যমিক পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রফেসর মোজাম্মেল হক।
.
কোন জেলায় ঐতিহাসিক কাগমারী সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়?
  1. টাঙ্গাইল
  2. পাবনা
  3. ময়মনসিংহ
  4. সিরাজগঞ্জ
ব্যাখ্যা
কাগমারী সম্মেলন:
- ১৯৫৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে অনুষ্ঠিত হয় কাগমারী সম্মেলন।
- টাঙ্গাইল জেলার সন্তোষে এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
- সম্মেলনের আহ্বায়ক ছিলেন মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী।
- প্রধান অতিথি ছিলেন হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী।
- কাগমারী সম্মেলন পূর্ব বাংলা তথা আজকের বাংলাদেশের প্রথম আন্তর্জাতিক সাংস্কৃতিক এবং রাজনৈতিক সম্মেলনে রূপ নেয়।
- কাগমারী সম্মেলনের মাত্র স্বল্প সময়ের মাথায় আওয়ামী লীগ থেকে পদত্যাগ করে মওলানা ভাসানীর নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠিত হয় ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি-ন্যাপ।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
.
বাঙ্গালি জাতির মুক্তির সনদ বলা হয় কোনটিকে?
  1. ছয়দফা
  2. ৬২ এর শিক্ষা আন্দোলন
  3. ভাষা আন্দোলন
  4. ৬৯ এর গণ-অভ্যুত্থান
ব্যাখ্যা
ছয়দফা:
- ১৯৬৬ সালের ৫-৬ ফেব্রুয়ারি লাহোরে একটি সম্মেলনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পূর্ব পাকিস্তানের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও প্রতিরক্ষার দাবি সংবলিত একটি কর্মসূচি ঘোষণা করেন। ইতিহাসে এটিই ৬ দফা কর্মসূচি নামে পরিচিত।
- পরবর্তীতে ২৩ মার্চ, ১৯৬৬ সালে লাহোরের এক সংবাদ সম্মেলনে শেখ মুজিবুর রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে ৬ দফা দাবি ঘোষণা করেন।
- ৬ দফা দাবি বাঙালি জাতির ‘মুক্তির সনদ’ বা ‘ম্যাগনেকার্টা’ হিসাবে পরিচিত।
- ছয় দফা দাবি ঐতিহাসিক ‘লাহোর প্রস্তাব’ এর ভিত্তিতে রচিত।
- ছয় দফা আন্দোলনের প্রথম শহিদ - মনু মিয়া।

উৎস: ইতিহাস প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
পাকিস্তানের কোন গভর্নর যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভা ভেঙ্গে দেন?
  1. খাজা নিজামুদ্দিন
  2. গোলাম মোহাম্মদ
  3. ইস্কান্দার মির্জা
  4. আইয়ুব খান
ব্যাখ্যা
যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভা ভেঙ্গে দেন তৎকালীন গভর্নর জেনারেল গোলাম মোহাম্মদ।

যুক্তফ্রন্ট:

- ১৯৫৩ সালের ৪ ডিসেম্বর প্রাদেশিক নির্বাচনে মুসলিক লীগকে মোকাবিলার জন্য ৪টি রাজনৈতিক দল ‘যুক্তফ্রন্ট’ নামে জোট গঠন করে।
- যুক্তফ্রন্টের প্রধান তিন নেতা ছিলেন মওলানা ভাসানী, শেরে বাংলা একে ফজলুল হক এবং হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী।
- ১৯৫৪ সালের ৮-১২ মার্চ প্রাদেশিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
- ১৯৫৪ সালের ৩ এপ্রিল যুক্তফ্রন্ট ৪ সদস্য বিশিষ্ট মন্ত্রিসভা গঠন করে।
- মুখ্যমন্ত্রী হন শের-ই-বাংলা এ কে ফজলুল হক।
- রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং ফজলুল হক মন্ত্রীসভা বাংলাকে স্বাধীন করবে এমন অজুহাতে ১৯৫৪ সালের ৩০ মে পাকিস্তানের গভর্নর জেনারেল গোলাম মোহাম্মদ যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রী পরিষদ বাতিল করেন।
- ফজলুল হক মন্ত্রীসভা দ্বায়িত্বে ছিল মাত্র ৫৬ দিন যার মধ্যে পূর্নাঙ্গ মন্ত্রীসভা দ্বায়িত্বে ছিল মাত্র ১৫ দিন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও পৌরনীতি ও সুশাসন (২য় পত্র ) ,প্রফেসর মো: মোজাম্মেল হক।
.
ন্যাপ-এর প্রতিষ্ঠাকালীন সাধারণ সম্পাদক কে ছিলেন?
  1. মাওলানা ভাসানী
  2. হাজী মুহাম্মদ দানেশ
  3. অধ্যাপক মোজাফফর আহমদ
  4. মাহমুদুল হক ওসমানী
ব্যাখ্যা
ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ):
- ১৯৫৭ সালের ২৪-২৫ জুলাই ঢাকার রূপমহল সিনেমা হলে আয়োজিত গণতান্ত্রিক কর্মী সম্মেলনের মাধ্যমে মাওলানা ভাসানীর নেতৃত্বে ‘ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ)’ গঠিত হয়।
- ন্যাপের প্রতিষ্ঠাকালীন সভাপতি ছিলেন মাওলানা ভাসানী ও সাধারণ সম্পাদক ছিলেন পশ্চিম পাকিস্তানের মাহমুদুল হক ওসমানী।
- এর আগে ১৯৫৭ সালের ৬-১০ ফেব্রুয়ারি টাঙ্গাইলে অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগের ‘কাগমারি সম্মেলনে’ পাকিস্তানের পররাষ্ট্রনীতি প্রশ্নে বিরোধের জের ধরে ১৮ই মার্চ ১৯৫৭ মাওলানা ভাসানী আওয়ামী লীগ থেকে পদত্যাগ করেন।
- ন্যাপের অন্যান্য নেতাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন পূর্ববাংলা থেকে হাজী মুহাম্মদ দানেশ, অধ্যাপক মোজাফফর আহমদ, মহিউদ্দিন আহমদ, মশিউর রহমান (যাদু মিয়া), পীর হাবিবুর রহমান, এস.এ আহাদ, আবদুল মতিন, আবদুল হক, আতাউর রহমান এবং পশ্চিম পাকিস্তান থেকে ছিলেন ওয়ালি খান, আবদুল মজিদ সিন্ধী, মিয়া ইফতেখার প্রমুখ।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, ৯ম-১০ম শ্রেণি এবং বাংলাপিডিয়া।
.
১৯৬২ এর শিক্ষা আন্দোলনের কয় দফা দাবি ছিল?
  1. ২১ দফা
  2. ২৩ দফা
  3. ২২ দফা
  4. ১৪ দফা
ব্যাখ্যা
১৯৬২ সালের শিক্ষা আন্দোলনে ২২ টি দফা ছিল।

৬২-র শিক্ষা আন্দোলন:

- ১৯৬২ সালের আগস্ট মাসে শরীফ কমিশনের শিক্ষাসংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করে। 
- ৬২-র শিক্ষা কমিশন পশ্চিম পাকিস্তানিদের পূর্ব পাকিস্তানের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ বৃদ্ধি করে।
- ১৯৬১ সালের শেষ দিকে পূর্ব পাকিস্তানে আইয়ুব বিরোধী আন্দোলন শুরু হয়।
- গণতন্ত্র পুনরুজ্জীবনের লক্ষ্যে পরিচালিত আন্দোলন দমনে আইয়ুব সরকার গ্রেপ্তার নির্যাতন চালালে ছাত্র গণআন্দোলন তীব্র আকার ধারণ করে।
- ১০ আগস্ট পূর্ব পাকিস্তান সরকার ১৪৪ ধারা জারি করলে ছাত্ররা ১৭ সেপ্টেম্বর হরতালের ডাক দেয়। 
- ১৭ সেপ্টেম্বর হরতাল চলাকালে পুলিশের গুলিতে কয়েকজন ছাত্র নিহত এবং কয়েক শত আহত হয়।
- তারপর থেকে ১৭ সেপ্টেম্বর শিক্ষা দিবস পালিত হয়।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
ছয়দফায় কত নং দাবিতে 'বৈদেশিক বাণিজ্য বিষয়ক ক্ষমতা' আলোচনা করা হয়েছে?
  1. ৫ম
  2. ৪র্থ
  3. ৩য়
  4. ২য়
ব্যাখ্যা
বৈদেশিক বাণিজ্য বিষয়ক ক্ষমতা পঞ্চম দফায় আলোচনা করা হয়েছে।

ছয়দফা দাবি:

- ২৩ মার্চ, ১৯৬৬ সালে লাহোরের এক সংবাদ সম্মেলনে শেখ মুজিবুর রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে ৬ দফা দাবি ঘোষণা করেন।
দফা গুলো হলো:
প্রথম দফা: প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন‌।
দ্বিতীয় দফা: কেন্দ্রীয় সরকারের ক্ষমতা,
তৃতীয় দফা: মুদ্রা বা অর্থ-সম্বন্ধীয় ক্ষমতা,
চতুর্থ দফা: রাজস্ব, কর বা শুল্ক সম্বন্ধীয় ক্ষমতা,
পঞ্চম দফা: বৈদেশিক বাণিজ্য বিষয়ক ক্ষমতা এবং
ষষ্ঠ দফা: আঞ্চলিক সেনাবাহিনী গঠনের ক্ষমতা।

উৎস: ইতিহাস প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
বাংলাদেশের বাহিরে প্রথম কত সালে বহির্বিশ্বে শহীদ মিনার তৈরি করা হয়?
  1. ১৯৯৭ সালে
  2. ১৯৯৮ সালে
  3. ১৯৯৯ সালে
  4. ২০০৩ সালে
ব্যাখ্যা
১৯৯৭ সালের ৫ অক্টোবর বাংলাদেশের বাহিরে প্রথম শহীদ মিনার তৈরি করা হয়।

বহির্বিশ্বে শহীদ মিনার:

- বাংলাদেশের বাইরে প্রথম শহীদ মিনার স্থাপিত হয় ইংল্যান্ডের রাজধানী লন্ডনে। 
- গ্রেট মেনচেস্টারের ওল্ডহ্যামের ওয়েস্টহুড নেবারহুডে তৈরি হয়েছে এ মিনার।
-  ১৯৯৭ সালের ৫ অক্টোবর সেখানকার ‘বাংলাদেশি কালচারাল অ্যান্ড হিস্ট্রি ইন ওল্ডহ্যাম’ সে দেশে শহীদ মিনার নির্মাণ করে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করে। 
- তাছাড়া গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক ২০০৫ সালে জাপানের টোকিওতে শহীদ মিনার নির্মিত হয়। 
- জাপান বাংলাদেশ সোসাইটির যৌথ উদ্যোগে প্রতিবছর বৈশাখি মেলা অনুষ্ঠিত হওয়ার সূত্র ধরে বাংলাদেশ সরকার এই শহীদ মিনারটি নির্মাণ করে।
 
উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১০.
ছয়দফা আন্দোলনের প্রথম শহিদ মনু মিয়ার বাড়ি কোথায় ছিলো?
  1. জামালগঞ্জ
  2. সিলেট
  3. গোপালগঞ্জ
  4. রাজশাহী
ব্যাখ্যা
ছয়দফা আন্দোলনের শহিদ:
- ১৯৬৬ সালের ৭ জুন হরতালে পুলিশের গুলিতে নিহত হন আওয়ামী লীগের মনু মিয়া, মজিবুল্লাহ, শফিক, শামসুল হকসহ ১১ জন।
- ৬ দফা আন্দোলনের প্রথম শহীদ হন সিলেটের মনু মিয়া।
- বর্তমানে ৭ জুন ছয় দফা দিবস হিসেবে পালিত হয়।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক এবং বাংলাপিডিয়া।
১১.
যুক্তফ্রন্টের সর্বকনিষ্ঠ মন্ত্রী কে ছিলেন?
  1. আশরাফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী
  2. শেখ মুজিবুর রহমান
  3. মাওলানা ভাসানী
  4. শের-ই-বাংলা এ কে ফজলুল হক
ব্যাখ্যা
যুক্তফ্রন্টের মন্ত্রিসভা গঠন:
- ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে জয়লাভ করে যুক্তফ্রন্ট সরকার গঠন করে।
- ১৫ মে, ১৯৫৪ সালে যুক্তফ্রন্ট পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রীসভা গঠন করে।
- ১৪ সদস্য বিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রীসভা গঠিত হলে শেখ মুজিবুর রহমান ৩৪ বছর বয়সে সর্বকনিষ্ট মন্ত্রী হিসবে কৃষি, সমবায় ও পল্লী উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান।
- রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং ফজলুল হক মন্ত্রীসভা বাংলাকে স্বাধীন করবে এমন অজুহাতে ১৯৫৪ সালের ৩০ মে পাকিস্তানের গভর্নর জেনারেল গোলাম মোহাম্মদ যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রী পরিষদ বাতিল করেন।

উৎস: ইতিহাস দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেনি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১২.
আইয়ুব খান সামরিক শাসন প্রত্যাহার করেন -
  1. ১৯৬২ সালের ৮ মার্চ
  2. ১৯৬২ সালের ৮ জুলাই
  3. ১৯৬২ সালের ৮ আগস্ট
  4. ১৯৬২ সালের ৮ জুন
ব্যাখ্যা
১৯৬২ সালের ৮ জুন আইয়ুব খান সামরিক শাসন প্রত্যাহার করেন।

সামরিক শাসন প্রত্যাহার:

- পাকিস্তান ইসলামি প্রজাতন্ত্রের প্রথম প্রেসিডেন্ট ইস্কান্দার মির্জা ১৯৫৮ সালের ৭ অক্টোবর মালিক ফিরোজ খানের সংসদীয় সরকার উৎখাত করে দেশে সামরিক শাসন জারি করেন।
- সেনাপ্রধান আইয়ুব খানকে প্রধান সামরিক শাসক নিযুক্ত করেন।
- ২৭ অক্টোবর জেনারেল আইয়ুব খান ইস্কান্দার মির্জাকে সড়িয়ে ক্ষমতা দখল করে নিজেকে প্রেসিডেন্ট ঘোষণা করেন।
- ১৯৬২ সালের ৮ জুন আইয়ুব খান সামরিক শাসন প্রত্যাহার করেন।
- ইয়াহিয়া খান ২৫ মার্চ ১৯৬৯ সালে দ্বিতীয়বারের মতো পাকিস্তানে সামরিক শাসন জারি করেন।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি এবং বাংলাপিডিয়া।
১৩.
ভাষা আন্দোলনের প্রথম শহিদ কে?
  1. আবুল বরকত
  2. আবদুস সালাম
  3. রফিক উদ্দিন আহমেদ
  4. শফিউর রহমান
ব্যাখ্যা
ভাষা আন্দোলনের শহিদ:
- ভাষা আন্দোলনে প্রথম শহিদ রফিক উদ্দিন আহমেদ।
- রফিক ছিলেন বাদামতলী কমার্শিয়াল প্রেসের মালিকের ছেলে।
- নিহত শহীদ বরকত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র।
- বহু আহতকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং তাঁদের মধ্যে সেক্রেটারিয়েটের পিয়ন আবদুস সালাম মারা যায়।
- অহিউল্লাহ্ নামে আট/নয় বছরের এক কিশোরও সেদিন নিহত হয়।
- পরদিন ২২ ফেব্রুয়ারি পুলিশের গুলিতে মারা যান রিকশাচালক সালাম এবং হাইকোর্টের কর্মচারী শফিউর রহমান।
- ২০০০ সালে তাদের রাষ্ট্রীয় একুশে পদকে ভূষিত করা হয়েছে। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১৪.
ঐতিহাসিক ছয়দফা দিবস পালিত হয় কবে?
  1. ১৭ জুন
  2. ৭ জুলাই
  3. ১৭ জুলাই
  4. ৭ জুন
ব্যাখ্যা
ঐতিহাসিক ছয়দফা দিবস পালিত হয় ৭ জুন।
ছয়দফা:

- ১৯৬৬ সালের ৫-৬ ফেব্রুয়ারি লাহোরে অনুষ্ঠিত বিরোধীদলসমূহের সম্মেলেনে বঙ্গবন্ধু পূর্ব পাকিস্তানের স্বায়ত্তশাসন সংবলিত ছয়দফা দাবি উত্থাপন করেন।
- ১৮-২০ মার্চ ১৯৬৬ আওয়ামীলীগের কার্যকরী কমিটির সভায় ছয়দফা গৃহিত হয়। ২৩শে মার্চ সংবাদ সম্মেলনে বঙ্গবন্ধু আনুষ্ঠানিকভাবে ছয়দফা দাবী তুলে ধরেন।
- ৭ জুন ছয়দফা দাবী এবং বঙ্গবন্ধুর মুক্তির দাবীতে হরতাল চলাকালে নারায়ণগঞ্জে পুলিশের গুলিতে অনেকে নিহত হয়। এর ফলশ্রুতিতে ৭ জুনকে ‘ছয়দফা দিবস’ হিসেবে পালন করা হয়।
- ছয়দফাকে ‘বাঙালির মুক্তির সনদ বলা’ বা ‘ম্যাগনাকার্টা’ হয়।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী।
১৫.
১৯৬৫ এর নির্বাচনে আইয়ুব খান কোন দলের হয়ে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন করেন?
  1. কনভেনশন মুসলিম লীগ
  2. পাকিস্তান মুসলিম লীগ
  3. পশ্চিম পাকিস্তান মুসলিম লীগ
  4. সর্বদলীয় মুসলিম লীগ
ব্যাখ্যা
১৯৬৫ সালের নির্বাচন:
- ১৯৬৪ সালে আইয়ুব খান প্রেসিডেন্ট, জাতীয় ও প্রাদেশিক নির্বাচনের ঘোষণা দেন।
- আইয়ুব খান নিজে কনভেনশন মুসলিম লীগের পক্ষ থেকে নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হন।
- ১৯৬৫ সালের ২ জানুয়ারি প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে আইয়ুব খান বিরোধী একক প্রার্থী দেওয়ার জন্য আবার আওয়ামী লীগ, ন্যাপ, কাউন্সিল মুসলিম লীগ, নেজামে ইসলাম প্রভৃতি দল মিলে 'সম্মিলিত বিরোধী দল' (Combined Opposition Party, COP) নামে একটি জোট গঠন করে।
- আইয়ুব খানের বিরুদ্ধে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে কপের প্রার্থী হিসেবে ফাতেমা জিন্নাহ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।
- মৌলিক গণতন্ত্রীদের নিরঙ্কুশ সমর্থনে আইয়ুব খান ফাতেমা জিন্নাহকে সহজেই পরাজিত করতে সক্ষম হন।
- তিনি দ্বিতীয় বারের মতো প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন।
- ১৯৬৫ সালের মার্চ মাসে অনুষ্ঠিত জাতীয় এবং মে মাসে অনুষ্ঠিত প্রাদেশিক নির্বাচনের ফলাফলও সরকারী দলের পক্ষে যায়।

উৎস: ইতিহাস প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৬.
ছয়দফা দাবির আলোচ্য বিষয় ছিলনা কোনটি?
  1. প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন‌
  2. স্বতন্ত্র ভাষা
  3. আঞ্চলিক সেনাবাহিনী গঠনের ক্ষমতা
  4. কেন্দ্রীয় সরকারের ক্ষমতা
ব্যাখ্যা
স্বতন্ত্র ভাষা ছয়দফার আলোচ্য বিষয় ছিল না।

ছয়দফা দাবি:

- ২৩ মার্চ, ১৯৬৬ সালে লাহোরের এক সংবাদ সম্মেলনে শেখ মুজিবুর রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে ৬ দফা দাবি ঘোষণা করেন।
দফা গুলো হলো:
প্রথম দফা: প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন‌।
দ্বিতীয় দফা: কেন্দ্রীয় সরকারের ক্ষমতা,
তৃতীয় দফা: মুদ্রা বা অর্থ-সম্বন্ধীয় ক্ষমতা,
চতুর্থ দফা: রাজস্ব, কর বা শুল্ক সম্বন্ধীয় ক্ষমতা,
পঞ্চম দফা: বৈদেশিক বাণিজ্য বিষয়ক ক্ষমতা এবং
ষষ্ঠ দফা: আঞ্চলিক সেনাবাহিনী গঠনের ক্ষমতা।

উৎস: ইতিহাস প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৭.
যুক্তফ্রন্টের সভাপতি কে ছিলেন?
  1. হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী
  2. মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী
  3. এ. কে. ফজলুল হক
  4. হাজী মোহাম্মদ দানেশ
ব্যাখ্যা
যুক্তফ্রন্টের সভাপতি ছিলেন হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী।
যুক্তফ্রন্ট:

- ১৯৫৩ সালের ১৪ নভেম্বর ময়মনসিংহে আওয়ামী মুসলিম লীগের কাউন্সিলে ‘যুক্তফ্রন্ট’ গঠনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। 
- যুক্তফ্রন্ট গঠন  - ১৯৫৩ সালের ৪ ডিসেম্বর।
- যুক্তফ্রন্টের প্রধান অফিস - সদরঘাটের ৫৬, সিমসন রােডে।
- যুক্তফ্রন্টে রাজনৈতিক দল ছিল ৪ টি। এগুলো হলো - 

১। আওয়ামী মুসলিম লীগ (মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী)
২। কৃষক-শ্রমিক পার্টি (এ. কে. ফজলুল হক) 
৩। নেজামে-ই-ইসলাম (মাওলানা আতাহার আলী) 
৪। গণতন্ত্রী দল (হাজী মোহাম্মদ দানেশ)

- যুক্তফ্রন্টের সভাপতি - হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী।
- পার্লামেন্টারি বাের্ডের সদস্য - এ.কে. ফজলুল হক, হােসেন শহীদ সােহরাওয়ার্দী ও মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী।
- যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনী প্রতীক - নৌকা।

উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, SSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৮.
বাংলাদেশের অর্থায়নে বহির্বিশ্বে প্রথম শহিদ মিনার কোথায় নির্মিত হয়?
  1. ইংল্যান্ড
  2. জাপান
  3. রাশিয়া
  4. ওমান
ব্যাখ্যা
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক নিজের অর্থায়নে ২০০৫ সালে জাপানের টোকিওতে শহিদ মিনার নির্মিত হয়। 
দেশের বাহিরে শহিদ মিনার:

- বাংলাদেশের বাইরে প্রথম শহিদ মিনার স্থাপিত হয় ইংল্যান্ডের রাজধানী লন্ডনে। 
- গ্রেট মেনচেস্টারের ওল্ডহ্যামের ওয়েস্টহুড নেবারহুডে তৈরি হয়েছে এ মিনার।
-  ১৯৯৭ সালের ৫ অক্টোবর সেখানকার ‘বাংলাদেশি কালচারাল অ্যান্ড হিস্ট্রি ইন ওল্ডহ্যাম’ সে দেশে শহিদ মিনার নির্মাণ করে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করে। 
- তাছাড়া গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক ২০০৫ সালে জাপানের টোকিওতে শহিদ মিনার নির্মিত হয়। 
- জাপান বাংলাদেশ সোসাইটির যৌথ উদ্যোগে প্রতিবছর বৈশাখি মেলা অনুষ্ঠিত হওয়ার সূত্র ধরে বাংলাদেশ সরকার এই শহিদ মিনারটি নির্মাণ করে।
 
উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১৯.
ভাষা শহিদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত কবে পাকিস্তান গণপরিষদে বাংলা ভাষার দাবি উত্থাপণ করেন?
  1. ১৯৪৯ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি
  2. ১৯৪৮ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি
  3. ১৯৪৮ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি
  4. ১৯৪৭ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি
ব্যাখ্যা
ভাষা আন্দোলন ও ধীরেন্দনাথ দত্ত:
- ১৯৪৮ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তান প্রথমগণপরিষদ অধিবেশনে কংগ্রেস দলীয় সদস্য ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত উর্দু ও ইংরেজির পাশাপাশি বাংলাকেও গণপরিষদের অন্যতম ভাষা হিসেবে ব্যবহারের দাবি উত্থাপন করেন। কিন্তু মুসলিম লীগের সদস্যদের ভোটে তা অগ্রাহ্য হয়।
- ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত ১৮৮৬ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সদর থানার রামরাইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তবে তিনি থাকতেন কুমিল্লা শহরে।
- ১৯৪৬ সালে কংগ্রেস থেকে বঙ্গীয় বিধানসভার সদস্য নির্বাচিত হন।
- ১৯৭১ সালের ২৯ মার্চ পাকবাহিনী তাকে কুমিল্লার বাসা থেকে ধরে নিয়ে গুলি করে হত্যা করে।
- ১৯৫৬-৫৮ সালের পূর্ব পাকিস্তানে আতাউর রহমান খানের মন্ত্রীসভায় তিনি স্বাস্থ্য ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
২০.
১৯৬৫ এর নির্বাচনে আইয়ুব খানের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন কে?
  1. মাওলানা ভাসানী
  2. শেখ মুজিবুর রহমান
  3. ফাতেমা জিন্নাহ
  4. এ. কে. ফজলুল হক
ব্যাখ্যা
আইয়ুব খানের বিরুদ্ধে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রার্থী হিসেবে ফাতেমা জিন্নাহ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।
১৯৬৫ সালের নির্বাচন:

- ১৯৬৪ সালে আইয়ুব খান প্রেসিডেন্ট, জাতীয় ও প্রাদেশিক নির্বাচনের ঘোষণা দেন।
- আইয়ুব খান নিজে কনভেনশন মুসলিম লীগের পক্ষ থেকে নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হন।
- ১৯৬৫ সালের ২ জানুয়ারি প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে আইয়ুব খান বিরোধী একক প্রার্থী দেওয়ার জন্য আবার আওয়ামী লীগ, ন্যাপ, কাউন্সিল মুসলিম লীগ, নেজামে ইসলাম প্রভৃতি দল মিলে 'সম্মিলিত বিরোধী দল' (Combined Opposition Party, COP) নামে একটি জোট গঠন করে।
- আইয়ুব খানের বিরুদ্ধে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে কপের প্রার্থী হিসেবে ফাতেমা জিন্নাহ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।
- মৌলিক গণতন্ত্রীদের নিরঙ্কুশ সমর্থনে আইয়ুব খান ফাতেমা জিন্নাহকে সহজেই পরাজিত করতে সক্ষম হন।

উৎস: ইতিহাস প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২১.
সবচেয়ে উত্তম ধাতব পরিবাহক কোনটি? 
  1. লোহা
  2. সোনা
  3. রূপা
  4. তামা
ব্যাখ্যা
পরিবাহী: 
- যে সকল পদার্থের মধ্য দিয়ে সহজে তড়িৎ প্রবাহ চলতে পারে তাদেরকে পরিবাহী বলে। 
- সাধারণত ধাতব পদার্থ তড়িৎ সুপরিবাহী হয়। 
যেমন- তামা, রূপা, লোহা, অ্যালুমিনিয়াম ইত্যাদি পরিবাহী। 
- পরিবাহীর আপেক্ষিক রোধ অনেক কম হয় প্রায় 10-8 Ωm ক্রমের। 
- রূপা হলো সবচেয়ে উত্তম ধাতব পরিবাহক। 
- পরিবাহীতে প্রচুর পরিমাণে মুক্ত ইলেকট্রন থাকে। 
- ফলে পরিবাহীর দুই প্রান্তে সামান্য বিভব পার্থক্য প্রয়োগ করলেই মুক্ত ইলেকট্রনগুলো তড়িৎ প্রবাহের সৃষ্টি করে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২২.
এক্স-রে কোন সালে আবিষ্কৃত হয়? 
  1. ১৮৮৫ সালে
  2. ১৮৯৫ সালে
  3. ১৮৯৯ সালে
  4. ১৮৮৯ সালে
ব্যাখ্যা
এক্স-রে: 
- ১৮৯৫ সালে উইলহেম রন্টজেন এক্স-রে আবিষ্কার করেন। 
- এক্স-রে এর একক হলো রন্টজেন যা আবিষ্কারকের নামানুসারে করা হয়। 
- এক্স-রে -এর তরঙ্গ দৈর্ঘ্য 10-8 m থেকে 10-13 m এর কাছাকাছি। 
- এক্স-রে গ্যাসীয় মাধ্যমকে আয়নিত করে। 

এক্স-রের ব্যবহার: 
- স্থানচ্যুত হাড়, হাড়ে ফাটল, ভেঙ্গে যাওয়া হাড় ইত্যাদি খুব সহজে শনাক্ত করা যায়। 
- পেটের এক্স-রে করে অন্ত্রের প্রতিবন্ধকতা শনাক্ত করা যায়। 
- এক্স-রে করে পিত্তথলি ও কিডনিতে পাথরের অস্তিত্ব নির্ণয় করা যায়। 
- রেডিওথেরাপিতে এক্স-রে চিকিৎসার জন্য ব্যবহার করা হয়। 
- দাঁতের ক্যাভিটি ও অন্যান্য ক্ষয় বের করার জন্য এক্স-রে ব্যবহার করা হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৩.
তাড়িতচৌম্বক তরঙ্গ ব্যবহার করে অধিক দূরত্বে সংকেত পাঠানোর পন্থা আবিষ্কার করেন কে? 
  1. গ্যালিলিও
  2. মার্কনী
  3. আইনস্টাইন
  4. ম্যাক্সওয়েল
ব্যাখ্যা
- ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষের দিকে আধুনিক পদার্থবিজ্ঞানের অভূতপূর্ব উন্নতি ঘটে। 
- ১৮৬৪ সালে বিখ্যাত পদার্থবিজ্ঞানী জেমস ক্লার্ক ম্যাক্সওয়েল আলোর তড়িৎ চুম্বকীয় তত্ত্বের ধারণা দেন। 
- তিনি তড়িৎ ক্ষেত্র এবং চুম্বক ক্ষেত্র একত্র করে তড়িৎ চুম্বকীয় তত্ত্বের বিকাশ ঘটান যা পরবর্তীতে জার্মান পদার্থবিজ্ঞানী হেনরিখ হার্জের পরীক্ষা দ্বারা প্রমাণিত হয়। 
- ১৮৯৬ সালে বিজ্ঞানী মার্কনী তাড়িতচৌম্বক তরঙ্গ ব্যবহার করে অধিক দূরত্বে সংকেত পাঠানোর পন্থা আবিষ্কার করেন। 
- বাঙ্গালী বিজ্ঞানী জগদীশ চন্দ্র বসুও একই প্রকার পরীক্ষা নীরিক্ষা চালান। 
- পরবর্তীতে তিনি বেতার যন্ত্র আবিষ্কার করেন। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৪.
'গ্রাভিটন' কোন বলের বাহক কণা? 
  1. মহাকর্ষ বল
  2. তাড়িতচৌম্বক বল
  3. দুর্বল নিউক্লিয় বল
  4. সবল নিউক্লিয় বল
ব্যাখ্যা
মৌলিক বল: 
- যে সকল বল মূল বা স্বাধীন অর্থাৎ যে সকল বল অন্য কোনো বল থেকে উৎপন্ন হয় না বা অন্য কোনো বলের কোনো রূপ নয় বরং অন্যান্য বল এই সকল বলের কোনো না কোনো রূপের প্রকাশ তাদেরকে মৌলিক বল বলে। 
- এই মৌলিক বলগুলো হলো- 
১। মহাকর্ষ বল, 
২। তাড়িতচৌম্বক বল, 
৩। সবল নিউক্লিয় বল এবং 
৪। দুর্বল নিউক্লিয় বল। 
- মহাকর্ষ বলের বাহক কণা- গ্রাভিটন। 

অন্যদিকে, 
- তাড়িতচৌম্বক বলের বাহক কণা- ফোটন। 
- সবল নিউক্লিয় বলের বাহক কণা- গ্লুঅন। 
- দুর্বল নিউক্লিয় বলের বাহক কণা- W এবং Z বোসন। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (শাহজাহান তপন)।
২৫.
দুইটি আধানের মধ্যবর্তী আকর্ষণ বা বিকর্ষণ বলের মান নির্ভর করে- 
  1. আধান দুইটির পরিমাণের উপর
  2. আধান দুইটির মধ্যবর্তী দূরত্বের উপর
  3. আধান দুইটি যে মাধ্যমে অবস্থিত তার প্রকৃতির উপর
  4. সবগুলোই
ব্যাখ্যা
তড়িৎ বল: 
- একটি আহিত স্থির বস্তুর নিকট অন্য একটি আহিত বস্তু আনলে বস্তু দু'টির মধ্যে একটি বল কাজ করবে। 
- আহিত বস্তু দু'টি যদি সমধর্মী আধান অর্থাৎ দু'টি বস্তুই ধনাত্মক বা দু'টি বস্তুই ঋণাত্মক আধানে আহিত হয় তবে পরস্পরের মধ্যে বিকর্ষণ বল কাজ করবে। 
আবার, আহিত বস্তু দু'টি বিপরীতধর্মী অর্থাৎ একটি বস্তু ধনাত্মক আধানে এবং অপর বস্তু ঋণাত্মক আধানে আহিত হয় তবে পরস্পরের মধ্যে আকর্ষণ বল কাজ করবে, আর এ বিকর্ষণ বা আকর্ষণ বলকে তড়িৎ বল বলে। 
- দু'টি আধানের মধ্যবর্তী এ আকর্ষণ বা বিকর্ষণ বলের মান নির্ভর করে - 
১. আধান দু'টির পরিমাণের উপর
২. আধান দু'টির মধ্যবর্তী দূরত্বের উপর এবং 
৩. আধান দু'টি যে মাধ্যমে অবস্থিত তার প্রকৃতির উপর। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৬.
273 K তাপমাত্রায় শব্দের দ্রুতি কত? 
  1. 0 ms-1
  2. 332 ms-1
  3. 338 ms-1
  4. 232 ms-1
ব্যাখ্যা
শব্দ: 
- কোন শব্দ শোনার পর প্রায় 0.1 সেকেন্ড পর্যন্ত এর রেশ আমাদের মস্তিষ্কে থাকে। 
- এই সময়কে শব্দানুভূতির স্থায়িত্বকাল বলে। 
- এই সময়ের মধ্যে প্রতিধ্বনি হলে তা শোনা যাবে না। 
- অতএব প্রতিধ্বনি শোনার জন্য মূল শব্দ এবং প্রতিধ্বনি শোনার মধ্যবর্তী সময়ের পার্থক্য 0.1 সেকেন্ড বা তার বেশি হতে হবে। 
সুতরাং প্রতিফলক এবং শব্দের উৎসের মধ্যে দূরত্ব এমন হতে হবে যেন শব্দ তরঙ্গ উৎসের কাছে ফিরে আসতে 0.1 সেকেন্ড বা তার বেশি সময় লাগে। 

- বাতাসে শব্দের দ্রুতি তাপমাত্রার সাথে পরিবর্তিত হয়। 
- 0°C বা 273 K তাপমাত্রায় শব্দের দ্রুতি 332 ms-1
- 0°C বা 273 K উষ্ণতায় প্রতিফলিত শব্দ শোনার জন্য শব্দ উৎস এবং প্রতিফলকের মধ্যে ন্যূনতম দূরত্ব 16.6 m হতে হবে। 
- তাপমাত্রা বেশি হলে প্রতি ডিগ্রির জন্য দূরত্ব 0.3m বেশি হতে হবে। 
- তাই প্রতিধ্বনি শোনার শর্তটি হলো- শ্রোতা বা উৎস এবং প্রতিফলক তলের মধ্যে ন্যূনতম দূরত্ব 16.6 m (0°C বা 273 K তাপমাত্রায়) বজায় রাখতে হবে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৭.
নিচের কোনটির কারণে তেজস্ক্রিয়তা প্রভাবিত হয় না? 
  1. চাপ
  2. তাপ
  3. চৌম্বকক্ষেত্র
  4. সবগুলোই
ব্যাখ্যা
তেজস্ক্রিয়তা: 
- প্রকৃতিতে এমন কতকগুলি পরমাণু পাওয়া যায় যারা স্বতঃস্ফুর্তভাবে উচ্চ ভেদনদক্ষমতা সম্পন্ন গামা রশ্মি, বিটা কণিকা ও আলফা কণিকা বিকিরণ করে। 
- ইউরেনিয়াম, থোরিয়াম, রেডিয়াম প্রভৃতি এ ধরণের পরমাণু। 
- স্বতঃস্ফুর্তভাবে রশ্মি বিকিরণের প্রক্রিয়াকেই তেজস্ক্রিয়তা বলে। 
- ১৮৯৬ খ্রিস্টাব্দে ফরাসী বিজ্ঞানী হেনরী বেকেরেল আকস্মিকভাবে এ রশ্মি আবিষ্কার করেন। 
- তাঁর নাম অনুসারে এই রশ্মির নাম দেয়া হয় “বেকেরেল রশ্মি”। 
- এই রশ্মি বর্তমানে তেজস্ক্রিয় রশ্মি নামে পরিচিত পরমাণুর নিউক্লিয়াস থেকে স্বতঃস্ফুর্তভাবে রশ্মি বিকিরণের প্রক্রিয়াকেই তেজস্ক্রিয়তা বলে। 

- তেজস্ক্রিয়তা একটি স্বতঃস্ফুর্ত ও অবিরাম ঘটনা। 
- তেজস্ক্রিয় পদার্থ থেকে আলফা কণিকা, বিটা কণিকা ও গামা রশ্মি নির্গত হয়। 
- তাপ, চাপ, তড়িৎক্ষেত্র, চৌম্বকক্ষেত্র অথবা কোনো ভৌত কারণ দ্বারা তেজস্ক্রিয়তা প্রভাবিত হয় না। 
- তেজস্ক্রিয়তার উৎপত্তি স্থল হলো নিউক্লিয়াস। 
- পরমাণুর ভাঙ্গনের ফলেই তেজস্ক্রিয় রশ্মি নির্গত হয়। 
- তেজস্ক্রিয়তার ফলে এক প্রকার পরমাণু অন্য এক প্রকার পরমাণুতে পরিণত হয়। 
- তেজস্ক্রিয়তা একটি অপ্রত্যাবর্তী প্রক্রিয়া। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।