পরীক্ষা আর্কাইভ

১০০ দিনে বিসিএস প্রস্তুতি [বিষয়ভিত্তিক]

পরীক্ষা১০০ দিনে বিসিএস প্রস্তুতি [বিষয়ভিত্তিক]তারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়27 minutes
মোট প্রশ্ন৫৯
সিলেবাস
"Award Mania: Season - 13” এর জন্য প্রযোজ্য -------------------------------------------- বিষয়: বাংলা সাহিত্য (সম্পূর্ণ সিলেবাস) উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ষষ্ঠ থেকে উচ্চমাধ্যমিক সাহিত্য পাঠ বোর্ড বই, বাংলাপিডিয়া, লাল নীল দীপাবলি, যেকোনো গাইড বই ইত্যাদি।
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

১০০ দিনে বিসিএস প্রস্তুতি [বিষয়ভিত্তিক]

১০০ দিনে বিসিএস প্রস্তুতি [বিষয়ভিত্তিক] · তারিখ অনির্ধারিত · ৫৯ প্রশ্ন

.
কোনটি শোককাব্য?
  1. হপ্তপয়কর
  2. গুলে বকাওলী
  3. জয়নবের চৌতিশা
  4. সিকান্দারনামা
সঠিক উত্তর:
জয়নবের চৌতিশা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জয়নবের চৌতিশা
ব্যাখ্যা
• মর্সিয়া কাব্য:
- মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যে 'মর্সিয়া সাহিত্য' নামে এক ধরনের শোককাব্য বিস্তৃত অঙ্গন জুড়ে ছড়িয়ে আছে।

- 'মর্সিয়া' কথাটি আরবি এর অর্থ শোক প্রকাশ করা। আরবি সাহিত্যে মর্সিয়ার উদ্ভব নানা ধরনের শোকাবহ ঘটনা থেকে হলেও পরে তা কারবালা প্রান্তরে নিহত ইমাম হোসেন ও অন্যান্য শহীদকে উপজীব্য করে লেখা কবিতা মর্সিয়া নামে আখ্যাত হয়।

- আরবি সাহিত্য থেকে মর্সিয়া কাব্য ফারসি সাহিত্যে স্থান পায়। ভারতে মোগল শাসন প্রতিষ্ঠিত হলে এদেশে ফারসি ভাষায় মর্সিয়া প্রচলিত হয় এবং পরে উর্দু ভাষাতেও তার প্রসার ঘটে।

- মর্সিয়া কাব্য বা শোক কাব্যের পটভূমিকা বর্ণনা করতে গিয়ে ড. আহমদ শরীফ লিখেছেন, 'যুদ্ধ কাব্যের মধ্য কারবালাযুদ্ধ কাব্যই ষোল-সতের শতক থেকে বাংলার মুসলিম সমাজে বিশেষ জনপ্রিয় হতে থাকে।

- শেখ ফয়জুল্লাহকে মর্সিয়া সাহিত্যের আদি কবি বলা হয়। তাঁর রচিত কাব্য 'জয়নবের চৌতিশা'। এটি মর্সিয়া সাহিত্যের প্রথম গ্রন্থ। এটি কারবালার কাহিনি নিয়ে রচিত।
- মর্সিয়া সাহিত্যের প্রধান কবি - ফকির গরীবুল্লাহ্।

অন্যদিকে, 
• গুলে বকাওলী মধ্যযুগের রোমান্টিক প্রণয়কাব্যের একটি ধারা।
• সৈয়দ আলাওল রচিত 'হপ্তপয়কর' কাব্যটি পারস্য কবি নিজামী গঞ্জভীর কাব্যের ভাবানুবাদ।
• সিকান্দারনামা হলো মধ্যযুগের বাঙালি কবি আলাওলের একটি বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ। এটি মূলত শাহ্‌ সুজা কর্তৃক আদিষ্ট হয়ে রচিত হয়। এই গ্রন্থে সিকান্দার (আলেকজান্ডার) এর জীবন ও কার্যাবলী বর্ণিত হয়েছে।  
 
উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
.
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় কয়টি ছদ্মনাম ব্যবহার করেছেন?
  1. চারটি
  2. পাঁচটি
  3. ছয়টি
  4. সাতটি
সঠিক উত্তর:
সাতটি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাতটি
ব্যাখ্যা
• শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় সাতটি ছদ্মনাম ব্যবহার করেছেন এগুলো হলো:
- অনিলা দেবী;
- অপরাজিতা দেবী;
- শ্রী চট্টোপাধ্যায়;
- অনুরূপা দেবী;
- পরশুরাম;
- শ্রীকান্ত শর্মা ও
- সুরেন্দ্রনাথ গঙ্গোপাধ্যায়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
.
'অধ্যাপক রায়হান' মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক কোন উপন্যাসের প্রধান চরিত্র?
  1. জাহান্নম হইতে বিদায়
  2. যাত্রা
  3. দুই সৈনিক
  4. নেকড়ে অরণ্য
সঠিক উত্তর:
যাত্রা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যাত্রা
ব্যাখ্যা
'যাত্রা' উপন্যাস:
- মুক্তিযুদ্ধের প্রথম দিকের ঘটনা ও সময় নিয়ে রচিত উপন্যাস শওকত আলীর 'যাত্রা'।
- যুদ্ধ শুরুর প্রাক্কালে দলে দলে মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যাচ্ছে; আবার পেছন ফিরে তাকাচ্ছে। এ পলায়ন শুধু চেতনাগত নয়, মানসিকভাবেও পলায়ন।
- উপন্যাসের প্রধান চরিত্র অধ্যাপক রায়হান মুক্তিযুদ্ধ প্রত্যক্ষ করেছেন। একসময় প্রগতিশীল রাজনীতিক রায়হান মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেবেন কি নেবেন না- এ সংশয় ও দ্বিধায় শেষাবধি যুদ্ধে যাওয়ার সিদ্ধান্তে আসতে পারেননি।
- ১৯৭২ সালে রচিত হয় 'যাত্রা' উপন্যাসটি। তবে প্রকাশ পায় ১৯৭৬ সালে।

অন্যদিকে, 
শওকত ওসমান রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস-  
- জাহান্নম হইতে বিদায়,
- দুই সৈনিক,
- নেকড়ে অরণ্য,
- জলাংগী। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং 'যাত্রা' উপন্যাস।
.
'এ লাশ আমরা রাখব কোথায়' কবিতাটির রচয়িতা কে?
  1. হুমায়ুন আজাদ
  2. শামসুর রাহমান 
  3. রফিক আজাদ
  4. রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ
সঠিক উত্তর:
শামসুর রাহমান 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শামসুর রাহমান 
ব্যাখ্যা
• 'এ লাশ আমরা রাখব কোথায়' শামসুর রাহমান রচিত একটি কবিতা। এই কবিতার মাধ্যমে কবি তৎকালীন সমাজের অস্থিরতা, রাজনৈতিক সংকট এবং মানুষের অসহায়ত্ব ফুটিয়ে তুলেছেন।
- ১৯৭০ সালে শামসুর রাহমানের 'নিজ বাসভূমে' কাব্যগ্রন্থে কবিতাটি ছাপা হয়।

'নিজ বাসভূমে' কাব্যগ্রন্থের বিখ্যাত কিছু কবিতা হলো-
- বর্ণমালা, আমার দুঃখিনী বর্ণমালা, 
- ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯, 
- পুলিশ রিপোর্ট, 
- হরতাল, 
- এ লাশ আমরা রাখব কোথায়?,
- আসাদের শার্ট ইত্যাদি। 

------------
 এ লাশ আমরা রাখব কোথায়?
- শামসুর রাহমান 

এ লাশ আমরা রাখব কোথায়?
তেমন যোগ্য সমাধি কই?
মৃত্তিকা বলো পর্বত বলো
অথবা সুনীল সাগর-জল-
সব কিছু ছেঁদো, তুচ্ছ শুধুই।
তাই তো রাখি না এ লাশ আজ
মাটিতে পাহারে কিংবা সাগরে,
হৃদয়ে হৃদয়ে দিয়েছি ঠাঁই।

উৎস: 'নিজ বাসভূমে' কাব্যগ্রন্থ এবং 'এ লাশ আমরা রাখব কোথায়?' কবিতা।
.
'কলমগীর' কার ব্যবহৃত ছদ্মনাম?
  1. সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের
  2. সৈয়দ মুজতবা আলীর
  3. আবু জাফর শামসুদ্দীনের
  4. আবদুল হকের
সঠিক উত্তর:
সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের
ব্যাখ্যা
• সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের কিছু ছদ্মনাম হলো: নবকুমার, কবিরত্ন, অশীতিপর শর্মা, ত্রিবিক্রম বর্মণ, কলমগীর।

অন্যদিকে,
• সৈয়দ মুজতবা আলী তাঁর বিভিন্ন গ্রন্থে কয়েকটি ছদ্মনাম ব্যবহার করেন, এগুলো হলো: প্রিয়দর্শী, ওমর খৈয়াম, মুসাফির ও সত্যপীর।
• আবু জাফর শামসুদ্দীন 'অল্পদর্শী' ছদ্মনামে দৈনিক সংবাদে 'বৈহাসিকের পার্শ্বচিন্তা' শীর্ষক সাপ্তাহিক কলাম লিখতেন।
• 'কলমসৈনিক' আবদুল হকের উপাধি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
.
মঙ্গলকাব্যের প্রধান দেবতা হচ্ছেন-
  1. শ্রীরাম
  2. ধর্মঠাকুর
  3. শ্রীকৃষ্ণ
  4. শ্রীচৈতন্য
সঠিক উত্তর:
ধর্মঠাকুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধর্মঠাকুর
ব্যাখ্যা
• মঙ্গলকাব্য:
- বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগে বিশেষ এক শ্রেণির ধর্মবিষয়ক আখ্যান কাব্য 'মঙ্গলকাব্য' নামে পরিচিত। এগুলো খ্রিস্টীয় পনের শতকের শেষ ভাগ থেকে আঠার শতকের শেষার্ধ পর্যন্ত পৌরাণিক, লৌকিক ও পৌরাণিক-লৌকিক সংমিশ্রিত দেবদেবীর লীলামাহাত্ম্য, পূজাপ্রচার ও ভক্তিকাহিনি অবলম্বনে রচিত সম্প্রদায়গত প্রচারধর্মী ও আখ্যানমূলক কাব্য।

- দেবমাহাত্ম্যমূলক সমাজচিত্রভিত্তিক এ কাব্যই বাংলা সাহিত্যের প্রথম ও নিজস্ব কাহিনীকাব্য। এই কাব্য রচনার মূল উল্লেখিত কারণ, প্রায় সব কবিই স্বপ্নে দেবতাদের নির্দেশ পেয়ে রচনা করেছেন।

- এর প্রধান শাখা ৩টি- মনসামঙ্গল, চণ্ডীমঙ্গল ও ধর্মমঙ্গল/অন্নদামঙ্গল। মঙ্গলকাব্যের প্রধান দেবতারা হচ্ছেন মনসা, চণ্ডী ও ধর্মঠাকুর। এঁদের মধ্যে মনসা ও চণ্ডী এই দুই স্ত্রীদেবতার প্রাধান্য বেশি।

- একটি সার্থক মঙ্গলকাব্যে ৫টি অংশ থাকে: বন্দনা, আত্মপরিচয়, দেবখণ্ড, মর্ত্যখণ্ড এবং শ্রুতিফল।
- মঙ্গলকাব্যে ৬২ জন কবির সন্ধান পাওয়া যায়। এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো কানাহারি দত্ত, মানিক দত্ত, ভারতচন্দ্র, দ্বিজমাধম, ঘনরাম চক্রবর্তী প্রমুখ।
মঙ্গলকাব্যের দেবীদের মধ্যে মনসা ও চণ্ডী দেবী সর্বাপেক্ষা গুরুত্বপূর্ণ।

- মঙ্গলকাব্যের দেব দেবীরা মূলত অনার্যদের দেব-দেবী। চণ্ডীমঙ্গল কাব্যধারায় কবি দ্বিজমাধবকে 'স্বভাবকবি' বলা হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
.
'সারেং বৌ' উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. জহির রায়হান
  2. শহীদুল্লা কায়সার 
  3. মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
শহীদুল্লা কায়সার 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শহীদুল্লা কায়সার 
ব্যাখ্যা
• 'সারেং বৌ' উপন্যাস: 
- "সারেং বৌ" শহীদুল্লাহ কায়সার রচিত একটি কালজয়ী বাংলা উপন্যাস। এই উপন্যাসটি বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের জীবন, সংগ্রাম ও প্রেম-ভালোবাসাকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে। 

- কদম আলী (সারেং) ও নবিতুন এই উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র।

উপন্যাসের কাহিনি সংক্ষেপ-  
“কদম” সারেং জাহাজে কাজ করে অনেক দিন পর ফিরে আসে নিজ বাড়িতে, তারপর ভালবেসে বিয়ে করে “নবিতন”কে। বিয়ের কিছু দিন পরে আবার চলে যায় জাহাজের কাজে, কদম চলে যাওয়ার পর মাঝে মাঝেই নবিতনের কাছে চিঠি ও টাকা পাঠায়। কিন্তু গ্রামের প্রভাবশালী “মোড়ল” ডাক পিয়নকে হাত করে সেইসব চিঠি ও টাকা নিয়ে নেয়, যাতে করে নবিতনের সংসারে অভাব চলে আসে। আর এই অভাবের সুযোগে নবিতনকে তার লালসার শিকার বানাতে চায়, কিন্তু নবিতন নিজে গায়ে খেঁটে ঢেঁকিতে ধান বেঁনে কোন মতে সংসার চালায়। 

----------------
শহীদুল্লা কায়সার রচিত উপন্যাস:
- সারেং বৌ,
- সংশপ্তক,
- কৃষ্ণচূড়া মেঘ,
- তিমির বলয়,
- দিগন্তে ফুলের আগুন,
- সমুদ্র ও তৃষ্ণা,
- চন্দ্রভানের কন্যা,
- কবে পোহাবে বিভাবরী (অসমাপ্ত)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
.
'ছন্দ-সরস্বতী' ছন্দ সম্পর্কিত প্রসিদ্ধ গ্রন্থটি কার রচনা?
  1. অতুলপ্রসাদ সেন
  2. সুকুমার রায়
  3. বিহারীলাল চক্রবর্তী
  4. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
সঠিক উত্তর:
সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
ব্যাখ্যা
• সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত:
- সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত ছিলেন কবি ও ছান্দসিক। কলকাতার নিকটবর্তী নিমতা গ্রামে ১৮৮২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- সত্যেন্দ্রনাথ ছিলেন ভারতী পত্রিকাগোষ্ঠীর অন্যতম বিশিষ্ট কবি।
- বাংলা ভাষার নিজস্ব বাগধারা ও ধ্বনি সহযোগে নতুন ছন্দসৃষ্টি তাঁর কবিপ্রতিভার মৌলিক কীর্তি। এজন্য তিনি 'ছন্দের জাদুকর' ও 'ছন্দোরাজ' নামে সাধারণ্যে পরিচিত।
- ১৯১৮ সালে ভারতী পত্রিকার বৈশাখ সংখ্যায় ছন্দ সম্পর্কিত তাঁর প্রসিদ্ধ রচনা 'ছন্দ-সরস্বতী' প্রকাশিত হয়।
- সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত একাধিক ছদ্মনামে কাব্যচর্চা করতেন, যেমন- নবকুমার, কবিরত্ন, অশীতিপর শর্মা, ত্রিবিক্রম বর্মণ, কলমগীর ইত্যাদি।
- ১৯২২ সালের ২৫শে ফেব্রুয়ারি তাঁর মৃত্যু হয়। তাঁর মৃত্যুর পর রচিত 'সত্যেন-প্রয়াণ' কবিতা কাজী নজরুল ইসলাম লিখেন।

তাঁর রচিত বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থগুলো হলো:
- সবিতা,
- সন্ধিক্ষণ,
- বেণু ও বীণা,
- কুহু ও কেকা,
- অভ্র-আবীর,
- হসন্তিকা,
- বেলা শেষের গান,
- বিদায় আরতি,
- কাব্যসঞ্চয়ন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
.
'সমকাল ও দৈনিক ইত্তেফাক' পত্রিকা সম্পাদনার সাথে যুক্ত ছিলেন কে?
  1. আবু জাফর শামসুদ্দীন
  2. শামসুদ্দীন আবুল কালাম
  3. সৈয়দ শামসুল হক
  4. সিকান্দার আবু জাফর
সঠিক উত্তর:
সিকান্দার আবু জাফর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সিকান্দার আবু জাফর
ব্যাখ্যা
• সিকান্দার আবু জাফর 'সমকাল' পত্রিকা সম্পাদনা করেন। ঢাকা থেকে প্রকাশিত হতো মাসিক সাহিত্যপত্র সমকাল। সমকাল ছাড়াও দৈনিক ইত্তেফাক ও দৈনিক মিল্লাত পত্রিকার সাথে তিনি যুক্ত ছিলেন।

---------------------
• সিকান্দার আবু জাফর:
- সিকান্দার আবু জাফর একজন কবি, সঙ্গীত রচয়িতা, নাট্যকার ও সাংবাদিক ছিলেন। তিনি ১৯১৯ সালের ১৯ মার্চ সাতক্ষীরা জেলার তেঁতুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পূর্ণ নাম সৈয়দ আল্ হাশেমী আবু জাফর মুহম্মদ বস্তু সিকান্দার।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- পূরবী,
- মাটি আর অশ্রু,
- নবী কাহিনী,
- জয়ের পথে,
- নতুন সকাল ইত্যাদি।

তাঁর রচিত কবিতা:
- প্রসন্ন প্রহর,
- বৈরীবৃষ্টিতে,
- তিমিরান্তক,
- বৃশ্চিকলগ্ন,
- কবিতা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১০.
সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্‌ রচিত নাটক কোনটি?
  1. সুড়ঙ্গ
  2. গিনিপিগ
  3. ওরা কদম আলী
  4. সমতট
সঠিক উত্তর:
সুড়ঙ্গ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুড়ঙ্গ
ব্যাখ্যা
• 'সুড়ঙ্গ' নাটক:
- 'সুড়ঙ্গ' (১৯৬৪) সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্ রচিত একটি নাটক।

- এই নাটকে মানুষের চেতনার গভীরস্থ লোভ, লালসা, ঘৃণা, ঈর্ষাকে নাট্যকার রূপকাশ্রয়ে তুলে ধরতে গিয়ে এবসার্ড নাট্যধারাকে অনুসরণ করেছেন। তাই অনেক সময়ই সংলাপে সামঞ্জস্যহীনতা, অস্পষ্টতা ও নাটকে রহস্যময়তা পরিদৃষ্ট হয়।

- ষোড়শী রাবেয়া নিজের বিয়ে ঠিক হওয়ার পর আহার ত্যাগ করে। সবাই ভাবে বিয়েতে অমত তার। কিন্তু রাবেয়া জানায় বরে তার আপত্তি নেই। তাহলে কেন রাবেয়ার এ অবস্থা? শুরু হয় রহস্যময়তা! এদিকে রাবেয়ার ঘরের আলমারির নিচে থাকা গুপ্তধনের সংবাদে তার চাচাতো ভাই কলিমসহ তিনজন যুবক রাতদিন সুড়ঙ্গ কাটতে ব্যস্ত। মাটির সুড়ঙ্গ নাকি মনের সুড়ঙ্গ- রূপকটি এখানেই।

অন্যদিকে,
 গিনিপিগ, ওরা কদম আলী, সমতট ইত্যাদি নাটকের রচয়িতা মামুনুর রশিদ।

----------------
সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ রচিত সাহিত্যকর্মগুলো হলো-
• নাটক:
- বহিপীর।
- তরঙ্গভঙ্গ।
- সুড়ঙ্গ।

• উপন্যাস:
- লালসালু।
- চাঁদের অমাবস্যা।
- কাঁদো নদী কাঁদো।

• গল্পগ্রন্থ:
- নয়নচারা।
- দুই তীর ও অন্যান্য গল্প।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১১.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও কাজী নজরুল ইসলাম কাকে 'চারণকবি'র মর্যাদা প্রদান করেন?
  1. আবদুল হাকিম
  2. ভারতচন্দ্র রায়গুনাকর
  3. গোবিন্দদাস
  4. মুকুন্দদাস
সঠিক উত্তর:
মুকুন্দদাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মুকুন্দদাস
ব্যাখ্যা
• মুকুন্দদাস:
- মুকুন্দদাস ছিলেন একজন চারণকবি। ঢাকার বিক্রমপুরে তাঁর জন্ম।

- তাঁর পিতৃদত্ত নাম ছিল যজ্ঞেশ্বর। রামানন্দ নামক এক সাধকের নিকট দীক্ষা নেওয়ার পর তাঁর নাম হয় মুকুন্দদাস। পরে গুরুপ্রদত্ত এ নামেই তিনি সর্বসাধারণের নিকট পরিচিত হন।

- বিদেশী পণ্য বর্জন এবং ব্রিটিশের শাসন-শোষণের কথা তিনি অত্যন্ত সহজবোধ্য ভাষায় বর্ণনা করেন।
- তাঁর রচিত 'ছিল ধান গোলা ভরা/ শ্বেত ইঁদুরে করল সারা' জাতীয় গানে ইংরেজ সরকার ক্ষুব্ধ হয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করে। বিচারে তিনি তিন বছর কারাদন্ড ভোগ করেন এবং জরিমানার অর্থ জোগান দিয়ে সর্বস্বান্ত হন।

- তিনি ১৯২২ সালে অসহযোগ আন্দোলন এবং ১৯৩০ সালে আইন অমান্য আন্দোলনে স্বদেশপ্রেমের গান ও যাত্রাপালা লিখে ও গেয়ে জনসাধারণকে জাগিয়ে তোলেন।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও কাজী নজরুল ইসলাম তাঁকে চারণকবির মর্যাদা দেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১২.
'জার্মানির শহরে ও বন্দরে' ভ্রমণকাহিনির রচয়িতা কে?
  1. জসীম উদ্‌দীন
  2. সানাউল হক
  3. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
জসীম উদ্‌দীন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জসীম উদ্‌দীন
ব্যাখ্যা
• 'জার্মানির শহরে বন্দরে' জসীম উদ্‌দীন রচিত একটি ভ্রমণকাহিনি। 

গ্রন্থের মুখবন্ধে কবি লেখেন-
অবশেষে 'জার্মানির শহরে বন্দরে' পুস্তকাকারে প্রকাশিত হইল। এই পুস্তক প্রকাশে পলাশ মুদ্রণের মালিক সোদরপ্রতিম মোঃ রুহুল আমীন যেভাবে আমাকে সাহায্য করিয়াছে কৃতজ্ঞতা জানাইয়া আমার প্রতি তাহার সম্পর্ককে ম্লান করিতে চাহি না।

উল্লেখ্য, 
• 'বন্দর থেকে বন্দরে' সানাউল হক রচিত ভ্রমণকাহিনি। 
• দুয়ার হতে অদূরে - বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায় রচিত ভ্রমণ কাহিনি।

------------
• জসীম উদ্‌দীন রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- রাখালী,
- নক্সী কাঁথার মাঠ,
- সুচয়নী, 
- সোজন বাদিয়ার ঘাট,
- এক পয়সার বাঁশি,
- বালুচর,
- ধানক্ষেত,
- রূপবতী,
- মা যে জননী কান্দে,
- মাটির কান্না,
- সকিনা। 

• তাঁর রচিত নাটক:
- বেদের মেয়ে, 
- পদ্মাপাড়,
- মধুমালা,
- পল্লীবধূ। 

• তাঁর রচিত ভ্রমণকাহিনি:
- চলে মুসাফির,
- হলদে পীরের দেশ,
- যে দেশে মানুষ বড়,
- জার্মানির শহরে ও বন্দরে। 

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- বোবাকাহিনী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৩.
শরৎচন্দ্র চট্রোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস কোনটি?
  1. রামের সুমতি
  2. মেজদিদি
  3. দত্তা
  4. মামলার ফল
সঠিক উত্তর:
দত্তা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দত্তা
ব্যাখ্যা
• 'দত্তা' উপন্যাস:
- 'দত্তা' শরৎচন্দ্র চট্রোপাধ্যায়ের মধুরতম প্রেমের উপন্যাস।
- ১৯১৮ সালে এটি রচনা করা হয়।
- ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত হয় দত্তার নাট্যরূপ বিজয়া। 
- নরেন এবং বিজয়া উপন্যাসের প্রধান দুই চরিত্র।

উপন্যাসের অন্যান্য চরিত্রগুলো হলো- চরিত্র
- জগদীশ, 
- বনমালী, 
- রাসবিহারী, 
- নলিনী ইত্যাদি।

অন্যদিকে,  
রামের সুমতি, মেজদিদি ও মামলার ফল গল্প। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং 'দত্তা' উপন্যাস।
১৪.
'টালত মোর ঘর নাহি পড়বেষী।
হাড়ীত ভাত নাঁহি নিতি আবেশী।।'- এটি চর্যার কত নং পদ?
  1. ২৩নং
  2. ৩৩নং
  3. ৬নং
  4. ৪৩নং
সঠিক উত্তর:
৩৩নং
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩৩নং
ব্যাখ্যা
• ঢেণ্ডণপা:
- ঢেণ্ডণপা নবম শতকের কবি ছিলেন।
- তিনি পেশায় তাঁতি ছিলেন।
- চর্যাকার ঢেণ্ডণপা রচিত পদসংখ্যা ১টি (৩৩নং পদ)।
- এই একটি পদে বাঙালি জীবনে চিরায়ত দারিদ্র্যের ছবি চমৎকারভাবে ফুটে উঠেছে।

চর্যাপদের ৩৩নং পদটি হলো-
'টালত মোর ঘর নাহি পড়বেষী।
হাড়ীত ভাত নাঁহি নিতি আবেশী।।'

অর্থ- লোক শূন্য স্থানে প্রতিবেশীহীন আমার বাড়ি। হাঁড়িতে ভাত নেই, অথচ প্রেমিক এসে ভিড় করে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৫.
'জীবন আমার বোন' উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র কোনটি?
  1. মুরাদ
  2. রঞ্জু
  3. খোকা
  4. ইয়াসিন
সঠিক উত্তর:
খোকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খোকা
ব্যাখ্যা
• জীবন আমার বোন:
- মাহমুদুল হকের বহুল পঠিত উপন্যাস 'জীবন আমার বোন'।
- ‘জীবন আমার বোন’ উপন্যাসটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৭৬ সালে। এটি লেখকের তৃতীয় উপন্যাস।
- ‘জীবন আমার বোন’ দেশ-কালের সীমানা ছাড়িয়ে মানবজাতির স্বাধীনতা ও জীবনদর্শনের এক গভীর আলেখ্য। এটি মুক্তিযুদ্ধের পটভূমিতে রচিত হলেও, এর দার্শনিক গভীরতা এটিকে একটি সর্বজনীন সাহিত্যকর্মে রূপান্তরিত করে।
- জাহেদুল কবির খোকা উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র। 

উপন্যাসের অন্যান্য চরিত্রগুলো হলো-
- রঞ্জু,
- মুরাদ,
- ইয়াসিন,
- রহমান,
- লুলু চৌধুরী। 

--------------
মাহমুদুল হকের রচিত উপন্যাস:
- অনুর পাঠশালা,
- নিরাপদ তন্দ্রা,
- জীবন আমার বোন,
- কালো বরফ,
- খেলাঘর
- চিক্কোর কাবুক,
- মাঠির জাহাজ,
- অশরীরী। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৬.
'হারামণি' কোন ধরনের সাহিত্য রচনা?
  1. ধাঁধার সংকলন
  2. ছড়ার সংকলন
  3. গল্পের সংকলন
  4. লোকসঙ্গীত সংকলন
সঠিক উত্তর:
লোকসঙ্গীত সংকলন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লোকসঙ্গীত সংকলন
ব্যাখ্যা
লোকগীতি সংকলন 'হারামণি':
- মুহম্মদ মনসুরউদ্দীন এর অক্ষয় কীর্তি হলো লোকসঙ্গীত সংকলন গ্রন্থ 'হারামণি'।
- এর মোট ১৩ খণ্ডে লোকসঙ্গীত সংকলন ও সম্পাদনা করে তিনি প্রভুত খ্যাতি অর্জন করেন। প্রতিটি খণ্ডের সম্পাদনায় তিনি আধুনিক দৃষ্টিভঙ্গি ও গভীর পাণ্ডিত্যের স্বাক্ষর রেখেছেন।

-------------------
• মুহম্মদ মনসুর উদ্দীন রচিত অন্যান্য গ্রন্থ:
- শিরনী,
- ধানের মঞ্জরী,
- আগরবাতী,
- বাংলা সাহিত্যে মুসলিম সাধনা (৩ খণ্ড: ১৯৬০-৬৬) ও
- ইরানের কবি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১৭.
'ফুড কনফারেন্স' গল্পগ্রন্থটি কার রচনা?
  1. আলাউদ্দিন আল আজাদ
  2. আবুল মনসুর আহমেদ
  3. কাজী ইমদাদুল হক
  4. কাজী আবদুল ওদুদ
সঠিক উত্তর:
আবুল মনসুর আহমেদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আবুল মনসুর আহমেদ
ব্যাখ্যা
• 'ফুড কনফারেন্স' গল্পগ্রন্থ:
আবুল মনসুর আহমদ রচিত ফুড কনফারেন্স (১৯৪৪) একটি গল্পগ্রন্থ।
- এই গ্রন্থে ১৩৫০ সালের (পঞ্চাশের মন্বন্তর) দুর্ভিক্ষের বাস্তব করুণ চিত্র বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে আকার চেষ্টা করেছেন।
- এই গ্রন্থে মোট ৯টি গল্প রয়েছে।

-----------------
• আবুল মনসুর আহমেদ:
- আবুল মনসুর আহমদ একজন সাংবাদিক, আইনজীবী, রাজনীতিবিদ, সাহিত্যিক।
- তিনি ১৮৯৮ সালে ময়মনসিংহ জেলার ধানিখোলা গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন।
- তিনি খিলাফত, অসহযোগ, স্বরাজ আন্দোলনের সাথে যুক্ত ছিলেন।

• গল্পগ্রন্থ:
- আয়না,
- ফুড কনফারেন্স,  
- আসমানী পর্দা।

• স্মৃতিকথা:
- আত্মকথা (১৯৭৮, আত্মজীবনী),
- আমার দেখা রাজনীতির পঞ্চাশ বছর,
- শেরে বাংলা হইতে বঙ্গবন্ধু।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- সত্যমিথ্যা,
- জীবন ক্ষুধা,
- আবে-হায়াৎ
- অন্যান্য রচনা
- বাংলাদেশের কালচার। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৮.
অন্ধকার যুগে রচিত সাহিত্যকর্ম কোনটি?
  1. আমীর হামজা
  2. কয়রাপরী
  3. নিরঞ্জনের রুম্মা
  4. নসিহৎনামা
সঠিক উত্তর:
নিরঞ্জনের রুম্মা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিরঞ্জনের রুম্মা
ব্যাখ্যা
• অন্ধকার যুগ:
- বাংলা সাহিত্যে ১২০০ থেকে ১৩৫০ সাল পর্যন্ত দেড়'শ বছরকে কেউ কেউ অন্ধকার যুগ বা তামস যুগ বলে অভিহিত করেছেন। তথাকথিত অন্ধকার যুগের সাহিত্য সৃষ্টির কোন নিদর্শন পাওয়া যায় নি এ কথা ও সত্য নয়।

অন্ধকার যুগে প্রাপ্ত কিছু সাহিত্য নিদর্শন-
- 'প্রাকৃত পৈঙ্গল' এর কবি হলেন শ্রীহর্ষ।
- রামাই পণ্ডিত রচিত 'শূণ্যপূরাণ' এবং এর 'কলিমা জালাল' বা অংশবিশেষ 'নিরঞ্জনের রুম্মা'। রামাই পণ্ডিত রচিত বৌদ্ধ ধর্মীয় তত্ত্বের গ্রন্থের নাম 'শূণ্যপুরাণ'।
- হলায়ুধ মিশ্র রচিত 'সেক শুভদয়ার'। হলায়ুধ মিশ্র রচিত পির মাহাত্ম্য-ব্যঞ্জক কাব্য 'সেক শুভোদয়া'।

অন্যদিকে,
- সাবিরিদ খান রচিত গ্রন্থ হানিফা- কয়রাপরী।
- 'নসিহৎনামা' গ্রন্থ রচনা করেন-শেখ পরান, আবদুল হাকিম, শেখ সুলায়মান। 
- 'আমীর হামজা' গ্রন্থ রওনা করেন- আবদুন নবী, সৈয়দ হামজা। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞেসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলা সাহিত্যে অন্ধকার যুগ: মিথ বনাম বাস্তবতা।
১৯.
সেলিনা হোসেন রচিত ত্রয়ী উপন্যাস বলা হয় কোনটিকে?
  1. হাঙর নদী গ্রেনেড
  2. গায়ত্রী সন্ধ্যা
  3. পোকা মাকড়ের ঘরবসতি
  4. টানাপোড়েন
সঠিক উত্তর:
গায়ত্রী সন্ধ্যা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গায়ত্রী সন্ধ্যা
ব্যাখ্যা
• 'গায়ত্রী সন্ধ্যা' উপন্যাস:
- গায়ত্রী সন্ধ্যা' সেলিনা হোসেন রচিত একটি ত্রয়ী উপন্যাস।  গ্রন্থটি একই শিরোনামে ৩টি পটভূমিতে ৩টি খণ্ডে প্রকাশিত হয়।

- প্রথম খণ্ড প্রকাশিত হয় ১৯৯৪ সালে, এবং পরবর্তী তিন বছরে প্রকাশিত হয় তিনটি খণ্ড। ২০০১ সালের মধ্যে প্রথম দুটি খণ্ডের তৃতীয় মুদ্রণ এবং তৃতীয় খণ্ডের দুটি মুদ্রণ প্রকাশিত হয়। এই দ্রুত পুনর্মুদ্রণ পাঠকের কাছে উপন্যাসটির গ্রহণযোগ্যতার প্রমাণ। সময় প্রকাশন থেকে ২০০৩ সালের ১ জানুয়ারি এই ত্রয়ী উপন্যাসের অখণ্ড রূপ প্রকাশিত হয়। 

- সেলিনা হোসেন রচিত 'গায়ত্রী সন্ধ্যা' উপন্যাসের পটভূমি ১৯৪৭ থেকে ১৯৭৫ পর্যন্ত সময়। দীর্ঘ আটাশ বছরের অর্থ- সামাজিক, রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক পটভূমিতে রচিত হয়েছে এ উপন্যাস।

উপন্যাসের পটভূমি ও সময়কাল:
উপন্যাসটির পটভূমি ১৯৪৭ থেকে ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত, অর্থাৎ ২৮ বছরের একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়কাল। এই সময়ে পূর্ববঙ্গের বাঙালি জনগোষ্ঠীর আর্থ-সামাজিক, রাজনৈতিক, এবং সাংস্কৃতিক ইতিহাসের নানা ঘটনা প্রভাব ফেলেছে। ১৯৪৭ সালে বৃটিশ ভারতের দ্বিজাতিতত্ত্বের ভিত্তিতে স্বাধীনতা লাভ, ১৯৭১ সালে রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জন, এবং ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে ইতিহাসের পট-পরিবর্তন এই উপন্যাসের মূল বিষয়বস্তু। এই সময়কাল একটি সূচনা থেকে আরেকটি সূচনার ক্রান্তিকাল হিসেবে বিবেচিত।

-----------------
তাঁর উল্লেখযোগ্য উপন্যাস হচ্ছে:
- জলোচ্ছ্বাস,
- হাঙর নদী গ্রেনেড (মুক্তিযুভিত্তিক), 
- পোকা মাকড়ের ঘরবসতি,
- ভালোবাসা প্রীতিলতা,
- অপেক্ষা,
- টানাপোড়েন,
- কালকেতু ও ফুল্লরা,
- গায়ত্রী সন্ধ্যা। 

তাঁর রচিত গল্প :
- মতিজানের মেয়েরা,
- একালের পান্তাবুড়ি
- নারীর রূপকথা,
- মানুষটি,
- অনুড়া পূর্ণিমা,

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং 'গায়ত্রী সন্ধ্যা' উপন্যাস।
২০.
আল মাহমুদ রচিত মুক্তিজুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস কোনটি?
  1. কালো বরফ
  2. খাঁচায়
  3. উপমহাদেশ
  4. খেলাঘর
সঠিক উত্তর:
উপমহাদেশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপমহাদেশ
ব্যাখ্যা
• 'উপমহাদেশ' উপন্যাস:
- "উপমহাদেশ" কবি আল মাহমুদ রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস।
- সৈয়দ হাদী মীর নামক একজন কবির জবানবন্দিতে রচিত মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক উপন্যাস এটি।
- মুক্তিযুদ্ধের সময়কার জীবনচিত্রকে আশ্রয় করে লেখা উপন্যাসটিকে ঐতিহাসিক উপন্যাস বলা না গেলেও যুদ্ধের ভয়াবহতা, হিংস্রতা, যুদ্ধের মাঝে প্রেম, দেশপ্রেম সব কিছুরই প্রতিচ্ছবি সত্যনিষ্ঠ ভাবে তুলে ধরার প্রয়াস করেছেন লেখক।

অন্যদিকে,
- মাহমুদুল হকের রচিত উপন্যাস: কালো বরফ, খেলাঘর। 
- 'খাঁচায়' রশীদ হায়দার রচিত উপন্যাসে। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং 'উপমহাদেশ' উপন্যাস।
২১.
'সব্যসাচী' ছদ্মনামে লিখতেন-
  1. মোহিতলাল মজুমদার
  2. বিনয়কৃষ্ণ মুখোপাধ্যায়
  3. মোজাম্মেল হক
  4. সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
মোহিতলাল মজুমদার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মোহিতলাল মজুমদার
ব্যাখ্যা
• মোহিতলাল মজুমদার:
- মোহিতলাল মজুমদার ছিলেন কবি, প্রাবন্ধিক, সাহিত্যসমালোচক।
- ১৮৮৮ সালের ২৬ অক্টোবর নদীয়ার কাঁচড়াপাড়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পৈতৃক নিবাস হুগলির বলাগড়ে।
- পেশায় তিনি একজন অধ্যাপক ছিলেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা করেন।
- তিনি তাঁর সমালোচনামূলক প্রবন্ধগুলিতে 'কৃত্তিবাস ওঝা', 'সব্যসাচী', 'শ্রী সত্যসুন্দর দাস' ইত্যাদি ছদ্মনাম ব্যবহার করতেন।
- তিনি মৃত্যুবরণ করেন ২৬ জুলাই ১৯৫২ সালে।

তাঁর প্রকশিত কাব্যগ্রন্থ:
- স্বপন,
- বিস্ময়,
- স্মরগল,
- হেমন্ত গোধূলী। 

তাঁর রচিত প্রবন্ধ গ্রন্থ:
- আধুনিক বাংলা সাহিত্য,
- সাহিত্যকথা,
- বিচিত্র কথা,
- কবি শ্রীমধূদন। 

সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- সন্ধিক্ষণ,
- কাব্য সঞ্চয়ন। 

অন্যদিকে, 
• বিনয়কৃষ্ণ মুখোপাধ্যায়ের ছদ্মনাম ছিলো- যাযাবর।
• মোজাম্মেল হকের ছদ্মনাম 'শান্তিপুরের কবি'। 
• সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের ছদ্মনাম 'নীল লোহিত' ও 'সনাতন পাঠক।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২২.
'আমার ঘরের চাবি পরের হাতে।'- বিখ্যাত গানটির রচয়িতা কে?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. লালন শাহ্
  3. হাসন রাজা
  4. অতুলপ্রসাদ সেন
সঠিক উত্তর:
লালন শাহ্
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লালন শাহ্
ব্যাখ্যা
• লালন শাহ্:
- লালন শাহ্ (১৭৭২-১৮৯০) বাউল সাধনার প্রধান গুরু, বাউল গানের শ্রেষ্ঠ রচয়িতা ও গায়ক।
- ১১৭৯ বঙ্গাব্দের ১ কার্তিক (১৭৭২) ঝিনাইদহ জেলার হরিশপুর গ্রামে তাঁর জন্ম। মতান্তরে কুষ্টিয়া জেলার কুমারখালীর ভাঁড়রা গ্রামে এক কায়স্থ পরিবারে তিনি জন্মগ্রণ করেন।
- লালন কোনো জাতিভেদ মানতেন না। তাই তিনি গেয়েছে 'সব লোকে কয় লালন কি জাত সংসারে/ লালন কয় জাতির কি রূপ দেখলাম না এ নজরে।'
- "বাড়ির কাছে আরশিনগর সেথা এক পড়শি বসত করে আমি একদিনও না দেখিলাম তাঁরে"- লালন শাহ্ রচিত বিখ্যাত একটি গান।

তাঁর রচিত কয়েকটি জনপ্রিয় গান হচ্ছে:
- আমার ঘরের চাবি পরের হাতে।
- আমার ঘরখানায় কে বিরাজ করে।
- খাচার ভিতর অচিন পাখি।
- সব লোকে কয় লালন কি জাত সংসারে।
- সময় গেলে সাধন হবে না।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২৩.
'হুমরা বেদে' কোন পালার অন্তর্গত চরিত্র?
  1. মহুয়া পালা
  2. বিদ্যাসুন্দর পালা
  3. মলুয়া পালা
  4. কমলা পালা
সঠিক উত্তর:
মহুয়া পালা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মহুয়া পালা
ব্যাখ্যা
'মহুয়া' পালা:
- নমশূদ্রের ব্রাহ্মণ কবি দ্বিজ কানাই ১৬৫০ খিষ্ট্রাব্দের দিকে 'মহুয়া পালা' রচনা করেন বলে অধ্যাপক দীনেশচন্দ্রের ধারণা।
- 'মহুয়া' পালার রচনায় তাঁর যে উদার নৈতিক দৃষ্টিভঙ্গির প্রকাশ পেয়েছে তাঁর মূলে তাঁর ব্যক্তিজীবনের সংস্কারমুক্ত মানবিক বোধ সক্রিয় বলে ধারনা করা হয়।
- মৈমনসিংহ গীতিকায় ১০টি গীতিকা ও রূপকথা স্থান পেয়েছে। এদের মধ্যে 'মহুয়া' পালাটিতে ময়মনসিংহ গীতিকার বৈশিষ্ট্য চমৎকারভাবে ফুটে উঠেছে। এই পালার কাহিনির সঙ্গে কবির ব্যক্তিগত প্রেমবঞ্চনার বেদনার সাদৃশ্য রয়েছে।

• মহুয়ার পালার প্রধান কয়েকটি চরিত্র:
- মহুয়া,
- নদের চাঁদ,
- হুমরা বেদে,
- সাধু।

অন্যদিকে,
• 'কমলা' দ্বিজ ঈশান রচিত পালা।
• 'বিদ্যাসুন্দর' কবিকঙ্ক প্রণীত পালা।
• 'মলুয়া' অজ্ঞাত তবে অনুমান করা হয় চন্দ্রাবতীর লেখা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২৪.
বাংলা সাহিত্যে কে প্রথম বিদ্রূপাত্মক প্রবন্ধ রচনা করেন?
  1. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  2. ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
  3. কাজী নজরুল ইসলাম
  4. প্রমথ চৌধুরী
সঠিক উত্তর:
প্রমথ চৌধুরী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রমথ চৌধুরী
ব্যাখ্যা
• প্রমথ চৌধুরী:
- প্রমথ চৌধুরী মূলত একজন প্রাবন্ধিক। তিনি ১৮৬৮ সালের ৭ আগস্ট যশোরে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাকে বাংলা চলিত গদ্যরীতির প্রবর্তক বলা হয়।
- সাহিত্য ক্ষেত্রে প্রমথ চৌধুরীর প্রধান খ্যাতি মননশীল প্রবন্ধলেখক হিসেবে। বাংলা সাহিত্যে তিনিই প্রথম বিদ্রূপাত্মক প্রবন্ধ রচনা করেন।
- তিনি ইংরেজি ও ফরাসি সাহিত্যে সুপন্ডিত ছিলেন। ফরাসি সনেটরীতি ট্রিয়লেট, তের্জারিমা ইত্যাদি বিদেশি কাব্যবন্ধ বাংলা কাব্যে তিনিই প্রবর্তন করেন। 
- ১৯১৪ সালে মাসিক সবুজপত্র প্রকাশনা এবং তার মাধ্যমে বাংলা চলিত গদ্যরীতির প্রবর্তন তাঁর জীবনের শ্রেষ্ঠ কীর্তি।
- পরবর্তীতে বীরবল' ছদ্মনামে সবুজপত্র পত্রিকায় ব্যঙ্গরসাত্মক প্রবন্ধ ও নানা গল্প প্রকাশ করেন। এ ছদ্মনাম থেকে পরবর্তীতে বাংলা সাহিত্যে বীরবলী ধারা প্রবর্তিত হয়।

তাঁর রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- নানা কথা,
- আমাদের শিক্ষা,
- রায়তের কথা,
- নানাচর্চা,
- প্রবন্ধ সংগ্রহ,
- বীরবলের হালখাতা,
- তেল নুন লকড়ি ইত্যাদি।

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- চার ইয়ারী কথা,
- আহুতি,
- নীললোহিত,
- গল্পসংগ্রহ।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- সনেট পঞ্চাশৎ,
- পদচারণ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২৫.
সুকুমার সেনের 'বাঙ্গালা সাহিত্যের ইতিহাস' গ্রন্থে মুনিদত্ত চর্যার কয়টি পদের ব্যাখ্যা করেছিলেন বলে উল্লেখ্য আছে?
  1. ৫১টি
  2. ৫০টি
  3. ৪৯টি
  4. ৪৬টি
সঠিক উত্তর:
৫০টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৫০টি
ব্যাখ্যা
• চর্যাপদ:
- চর্যাপদ বাংলা ভাষার প্রথম কাব্যগ্রন্থ/কবিতা সংকলন/ গানের সংকলন। এটি বাংলা সাহিত্যের আদি যুগের একমাত্র লিখিত নিদর্শন।
- ড. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ১৯০৭ সালে নেপালের রাজ দরবার গ্রন্থাগার থেকে এটি আবিষ্কার করেন।
- চর্যাপদের চর্যাগুলো রচনা করেন বৌদ্ধ সহজিয়াগণ। চর্যাপদে বৌদ্ধধর্মের কথা বলা হয়েছে।

- সুকুমার সেনের 'বাঙ্গালা সাহিত্যের ইতিহাস' (প্রথম খণ্ড) গ্রন্থে চর্যাপদের ২৪ জন পদকর্তার নাম পাওয়া যায়। সুকুমার সেন মনে করেন যে, চর্যাপদের পদসংখ্যা ৫১টি; তবে তিনি তার 'চর্যাগীতি পদাবলী' গ্রন্থে ৫০টি পদের উল্লেখ করেছেন। আলোচনা অংশে তার বক্তব্য মুনিদত্ত ৫০টি ব্যাখ্যা করেছিলেন।

- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ সম্পাদিত 'Buddhist Mystic Songs' গ্রন্থে চর্যাপদের ২৩ জন কবির নাম উল্লেখ আছে। আবার ড. শহীদুল্লাহ চর্যাপদের পদ সংখ্যা ৫০টি বলে মনে করেন।

- চর্যাপদ তিব্বতি ভাষায় অনুবাদ করেন কীর্তিচন্দ্র। ১৯৩৮ সালে প্রবোধচন্দ্র বাগচী চর্যাপদের তিব্বতি ভাষার অনুবাদ আবিষ্কার করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস- মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।
২৬.
'এক পথ দুই বাঁক' নীলিমা ইব্রাহিম রচিত কী ধরনের রচনা?
  1. প্রবন্ধ-গবেষণা
  2. উপন্যাস
  3. নাটক
  4. প্রবন্ধ
সঠিক উত্তর:
উপন্যাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপন্যাস
ব্যাখ্যা
•"এক পথ দুই বাঁক" নীলিমা ইব্রাহীম রচিত বিখ্যাত একটি উপন্যাস। 
- ১৯৫৮ সালে উপন্যাসটি প্রকাশিত হয়। 

---------------
• নীলিমা ইব্রাহিম:
- নীলিমা ইব্রাহিম ছিলেন একজন শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক ও সমাজকর্মী।
- ১৯২১ সালের ১১ অক্টোবর বাগেরহাট জেলার ফকিরহাট উপজেলার মূলঘর গ্রামের এক জমিদার পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- নীলিমা ইব্রাহিম বহু জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সমাজকল্যাণ ও নারী-উন্নয়সংস্থা এবং বুদ্ধিবৃত্তিক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

তাঁর রচিত প্রবন্ধ-গবেষণা:
- শরৎ প্রতিভা,
- বাংলার কবি মধুসূদন,
- ঊনবিংশ শতাব্দীর বাঙালী সমাজ ও বাংলার নাটক,
- বাঙালী মানস ও বাংলা সাহিত্য,
- অগ্নিস্নাত বঙ্গবন্ধুর ভস্মাচ্ছাদিত কন্যা আমি,
- আমি বীরাঙ্গনা বলছি।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- বিশ শতকের মেয়ে,
- এক পথ দুই বাঁক,
- কেয়াবন সঞ্চারিণী,
- বহ্নিবলয়, ইত্যাদি।

তাঁর রচিত নাটক:
- যে অরণ্যে আলো নেই,
- দুয়ে দুয়ে চার,
- রোদ জ্বলা বিকেল,
- সূর্যাস্তের পর ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২৭.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে "বিশ্বকবি" অভিধায় প্রথম অভিষিক্ত করেন কে?
  1. নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু
  2. প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
  3. ব্রহ্মবান্ধব উপাধ্যায়
  4. কাজী নজরুল ইসলাম
সঠিক উত্তর:
ব্রহ্মবান্ধব উপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্রহ্মবান্ধব উপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
• পণ্ডিত ব্রহ্মবান্ধব উপাধ্যায় প্রথম রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে "বিশ্বকবি" উপাধিতে ভূষিত করেন। তিনি ছিলেন একজন বিশিষ্ট রোমান ক্যাথলিক পণ্ডিত, সমাজ সংস্কারক এবং জাতীয়তাবাদী চিন্তাবিদ।

• রবীন্দ্রনাথের সাহিত্য, সংগীত, এবং দার্শনিক চিন্তাধারার বিশ্বব্যাপী প্রভাব ও গভীরতার স্বীকৃতি হিসেবে তিনি এই উপাধি প্রদান করেছিলেন। এই উপাধি রবীন্দ্রনাথের সর্বজনীন সৃজনশীলতা ও মানবতাবাদী দৃষ্টিভঙ্গির প্রতি একটি উচ্চ সম্মান প্রকাশ করে।  

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অন্যান্য উপাধিসমূহ:
- 'গুরুদেব' উপাধি দেন মহাত্মা গান্ধী।
- 'কবি গুরু' উপাধি দেন ক্ষিতিমোহন সেন।
- 'ভারতের মহাকবি' উপাধি দেন চীনের কবি চি লিজন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর;  এবং বাংলাপিডিয়া।
২৮.
'গণদেবতা' উপন্যাসের দ্বিতীয় খণ্ড কোনটি?
  1. পঞ্চগ্রাম
  2. চৈতালি ঘূর্ণি
  3. নিকেতন
  4. হাঁসুলি বাঁকের উপকথা
সঠিক উত্তর:
পঞ্চগ্রাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পঞ্চগ্রাম
ব্যাখ্যা
• 'গণদেবতা' উপন্যাস:
- 'গণদেবতা' উপন্যাসটি "বিংশ শতাব্দীর প্রথম অর্ধের বাংলা তথা ভারতীয় সাহিত্যেরই একটা যুগ-পরিচায়ক উপন্যাস।

- এই সুবৃহৎ উপন্যাসটি ধারাবাহিকভাবে 'ভারতবর্ষ' পত্রিকায় 'চণ্ডীমণ্ডপ' নামে ১৩৪৭ বঙ্গাব্দের অগ্রহায়ণ মাস থেকে ১৩৪৮ বঙ্গাব্দের চৈত্র মাস সময়কালে প্রকাশিত হয়েছিল। "১৩৪৯ বঙ্গাব্দের ২০শে কার্ত্তিক গণদেবতা (চণ্ডীমণ্ডপ) নামাঙ্কিত হয়ে শক্তিরঞ্জন সোম কর্তৃক গ্রন্থাগারে প্রকাশিত হয়।” তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রত্যক্ষ অনুভূতির মাধ্যমে 'গণদেবতা' উপন্যাসটি রূপায়িত হয়েছে।

- তিনি গণদেবতা (চণ্ডীমণ্ডপ) উপন্যাসটিকে উৎসর্গ করেছিলেন সরোজ কুমার রায় চৌধুরী মহাশয়কে। উল্লেখ্য গণদেবতা উপন্যাসের দ্বিতীয় খণ্ড 'পঞ্চগ্রাম' অংশটি ১৩৫০ বঙ্গাব্দে মূল উপন্যাসের সহিত যুক্ত হয়ে ক্যাতায়নী বুক স্টল থেকে প্রকাশিত হয়। উপন্যাসটি নতুন সংস্করণ প্রকাশনার সময় লেখক প্রয়োজন মতো পরিবর্ধন ও পরিমার্জন করেছিলেন। সমগ্র 'গণদেবতা' উপন্যাসটিকে লেখক উৎসর্গ করেছিলেন তাঁর পরম শ্রদ্ধাভাজন শ্রীযুক্ত কেদারনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়কে।

- তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের রচনাপঞ্জিতে 'গণদেবতা' ও 'পঞ্চগ্রাম' নামে দুটি উপন্যাস পাওয়া যায়। আসলে "গণদেবতা ও পঞ্চগ্রাম, একটি উপন্যাসের দুটো খণ্ড” একটি 'চণ্ডীমণ্ডপ' অন্যটি 'পঞ্চগ্রাম', এই দুই অংশের সাধারণ নাম 'গণদেবতা'।

- তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় 'গণদেবতা' উপন্যাসে ১৯২০ এর দশকের বীরভূমের গণ জীবনের সার্বিক চিত্র এঁকেছেন, তা ঔপনৈবেশিক ভারতের প্রতিটি গ্রামেরই প্রতিচ্ছবি। 

----------------
তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস:
- চৈতালি ঘূর্ণি,
- ধাত্রীদেবতা,
- কালিন্দী,
- কবি,
- হাঁসুলি বাঁকের উপকথা,
- গণদেবতা,
- আরগ্য,
- নিকেতন,
- পঞ্চপুণ্ডলী,
- রাধা ইত্যাদি।

উৎস: 'গণদেবতা' উপন্যাস;  এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২৯.
"দিবারাত্রির কাব্য" উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. শামসুদ্দীন আবুল কালাম
  2. তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
  3. মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. জহির রায়হান
সঠিক উত্তর:
মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
• "দিবারাত্রির কাব্য" উপন্যাস:
- "দিবারাত্রির কাব্য" মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রথম লেখা উপন্যাস, প্রকাশক্রমের দিক থেকে দ্বিতীয়।

- এর প্রথমাংশ ('দিনের কবিতা') গল্পাকারে ('একটি দিন') প্রথম মুদ্রিত হলেও এর ঔপন্যাসিক সম্ভাবনা টের পান সম্পাদক সজনীকান্ত দাস এবং তাঁর অনুরোধে ঐ বীজময় ছোটোগল্পটি একটি দীর্ঘ উপন্যাসে রূপান্তরিত হয়। বীজ-আকারে যাই থাক, "দিবারাত্রির কাব্য"কে একটি সম্পূর্ণ ও অখণ্ড উপন্যাস হিসেবে দ্বিধাহীনভাবে গ্রহণ করা যায়।

- এ উপন্যাসে অনেক নাটকীয় ও ভয়ংকর ঘটনা ঘটেছে- আনন্দের আত্মহত্যা, সুপ্রিয়াকে ছাদ থেকে অশোকের ফেলে দেবার চেষ্টা, অনাথ ও পরে মালতীর নিরুদ্দেশ যাত্রা। কিন্তু সবার পিছনে আছে মনস্তত্ত্বের গভীর সমর্থন। 

------------------
মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়:
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় ১৯০৮ খ্রিষ্টাব্দের ২৯ মে পিতার কর্মস্থল বিহারের সাঁওতাল পরগনার দুমকা শহরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল ঢাকা জেলার বিক্রমপুরের নিকট মালবদিয়া গ্রামে।
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রকৃত নাম প্রবোধকুমার, 'মানিক' তাঁর ডাকনাম।
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় ছিলেন ত্রিশোত্তর বাংলা কথাসাহিত্যের একজন শক্তিমান লেখক।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- জননী,
- দিবারাত্রির কাব্য,
- পদ্মানদীর মাঝি,
- পুতুলনাচের ইতিকথা,
- শহরতলী,
- চিহ্ন,
- চতুষ্কোণ,
- সার্বজনীন,
- আরোগ্য ইত্যাদি।

উৎস: "দিবারাত্রির কাব্য" উপন্যাস; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩০.
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের পৈতৃক পদবি কী?
  1. শর্মা
  2. বিদ্যাসাগর
  3. মুখোপাধ্যায়
  4. বন্দ্যোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
বন্দ্যোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
• ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর:
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ছিলেন সংস্কৃত পণ্ডিত, লেখক, শিক্ষাবিদ, সমাজসংস্কারক, জনহিতৈষী। তিনি ১৮২০ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুর জেলার বীরসিংহ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈতৃক পদবি বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি 'ঈশ্বরচন্দ্র শর্মা' নামে স্বাক্ষর করতেন।
- তিনি বাংলা গদ্যের জনক হিসেবে খ্যাত। তিনি বাংলা গদ্যে প্রথম যতি বা বিরামচিহ্ন স্থাপন করেন।
- ১৮৩৯ সালে সংস্কৃত কলেজ ঈশ্বরচন্দ্রকে 'বিদ্যাসাগর' উপাধি প্রদান করে।
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ 'বেতাল পঞ্চবিংশতি'।
- বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম মৌলিক গদ্য রচনার নাম 'প্রভাবতী সম্ভাষণ'।
- তাঁর রচিত ব্যাকরণগ্রন্থের নাম 'ব্যাকরণ কৌমুদী'।

• তাঁর রচিত বিখ্যাত গ্রন্থ:
- শকুন্তলা,
- সীতার বনবাস,
- ভ্রান্তিবিলাস ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত মৌলিক রচনা:
- অতি অল্প হইল,
- আবার অতি অল্প হইল,
- ব্রজবিলাস,
- বিধবা বিবাহ ও যশোরের হিন্দু ধর্মরক্ষিণী সভা,
- রত্ন পরীক্ষা।

• তাঁর রচিত শিক্ষামূলক গ্রন্থ:
- আখ্যান মঞ্জরী,
- বোধোদয়,
- বর্ণপরিচয়,
- কথামালা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩১.
আখতারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত গল্পগ্রন্থ কোনটি?
  1. রেখাচিত্র
  2. খোঁয়ারি
  3. মহাপতঙ্গ
  4. জন্ম যদি তব বঙ্গে
সঠিক উত্তর:
খোঁয়ারি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খোঁয়ারি
ব্যাখ্যা
• 'খোঁয়ারি' গল্পগ্রন্থ:
- আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের দ্বিতীয় গল্পগ্রন্থ খোঁয়ারি।
- ১৯৮২ সালে এই গ্রন্থ প্রকাশের পর তিনি বাংলাদেশের প্রথম সারির অগ্রগণ্য কথাসাহিত্যিক হিসেবে স্বীকৃতি পেতে শুরু করেন।
- এই গ্রন্থভুক্ত চারটি গল্পে ইলিয়াস সময়ের ভেতরে থেকেও সময়কে অতিক্রম করা চিরকালের কিছু প্রসঙ্গ টেনে এনেছেন- নৈঃসঙ্গ, যৌনতা, বার্ধক্য, মৃত্যু। তাঁর নিজস্ব সময় এই গল্পগুলোতে যথার্থ রুক্ষ শুকনো ভাষায় জীবন্ত-স্থির হয়ে পরিণত হয়েছে বাংলা ভাষার চিরায়ত সম্পদে।

অন্যদিকে, 
• 'রেখাচিত্র' গল্পগ্রন্থের রচয়িতা বুদ্ধদেব বসু।
• 'মহাপতঙ্গ' আবু ইসহাক রচিত গল্পগ্রন্থ।
• শওকত ওসমান রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক গল্পগ্রন্থ- জন্ম যদি তব বঙ্গে।

---------------
তাঁর রচিত গ্রন্থসমূহ হলো:
• উপন্যাস:
- চিলেকোঠার সেপাই,
- খোয়াবনামা।
(এই দুটি হলো তার মহাকাব্যোচিত উপন্যাস)

• গল্পগ্রন্থ:
- অন্য ঘরে অন্য স্বর,
- খোঁয়ারি,
- দুধভাতে উৎপাত,
- দোজখের ওম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩২.
'ময়ূরভট্ট' কোন মঙ্গলকাব্যের আদি কবি?
  1. মনসামঙ্গল
  2. চণ্ডীমঙ্গল
  3. অন্নদামঙ্গল
  4. ধর্মমঙ্গল
সঠিক উত্তর:
ধর্মমঙ্গল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধর্মমঙ্গল
ব্যাখ্যা
• ধর্মমঙ্গল কাব্য:
- ধর্মমঙ্গল ধর্মঠাকুরের মাহাত্ম্যসূচক কাব্যধারা।
- ধর্ম অনার্য দেবতা এবং সূর্য কিংবা বুদ্ধের প্রতিরূপ হিসেবে কল্পিত। প্রাচীন বঙ্গের রাঢ় অঞ্চলে এর উদ্ভব ও পূজা সীমিত ছিল।
- ধর্মঠাকুরের মাহাত্ম্য প্রচারের জন্য ধর্মমঙ্গল কাব্যের ধাররি সূত্রপাত হয়েছে।

- ধর্মমঙ্গল কাব্যের দুটি কাহিনি- ১ রাজা হরিশ্চন্দ্রের কাহিনি এবং ২. লাউসেনের কাহিনি। এর মধ্যে লাউসেনের কাহিনিই কাব্যে অধিকতর প্রাধান্য পেয়েছে।

- ধর্মমঙ্গল ধারার আদি কবি ময়ূরভট্ট। তাঁর কাল খ্রিষ্টীয় পঞ্চদশ শতক বা এর কাছাকাছি অনুমান করা হয়, কিন্তু তাঁর কাব্যের নিদর্শন পাওয়া যায়নি।
- ধর্মমঙ্গল ধারার শ্রেষ্ঠ কবি ঘনরাম চক্রবর্তী। তাঁর কাব্যের রচনাকাল ১৭১১ খ্রিষ্টাব্দ বা আঠারো শতক। তাঁর রচিত গ্রন্থ লাউসের কাহিনি অবলম্বনে 'শ্রীধর্মমঙ্গল'।
- এরপর আর যাঁরা ধর্মমঙ্গল রচনা করেছেন তাঁরা হলেন সহদেব, নরসিংহ, হৃদয়রাম, গোবিন্দরাম প্রমুখ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহাবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।
৩৩.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বিহারীলাল চক্রবর্তীর কোন কাব্যটি পড়ে তাঁকে 'ভোরের পাখি' উপাধিতে আখ্যায়িত করেছেন?
  1. সাধের আসন
  2. সারদামঙ্গল
  3. সঙ্গীত শতক
  4. বঙ্গসুন্দরী
সঠিক উত্তর:
সারদামঙ্গল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সারদামঙ্গল
ব্যাখ্যা
• 'সারদামঙ্গল' কাব্য বিহারীলালের শ্রেষ্ঠ রচনা। এটি আধুনিক বাংলা সাহিত্যের একটি স্তম্ভস্বরূপ। এর মাধ্যমেই তিনি উনিশ শতকের গীতিকবিদের গুরুস্থানীয় হয়েছেন। রবীন্দ্রনাথ এ কাব্যটি পড়ে নানাভাবে প্রভাবিত হয়েছেন এবং বিহারীলালকে আখ্যায়িত করেছেন 'ভোরের পাখি' বলে।

• সারদামঙ্গল কাব্য:
- কবি বিহারীলাল চক্রবর্তীর সর্বশ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ 'সারদামঙ্গল' (১৮৭৯)।এই কাব্যগ্রন্থটি প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল 'আর্যদর্শন' পত্রিকায়।
- আখ্যানকাব্য হলেও এর আখ্যানবস্তু সামান্যই। মূলত গীতিকবিতাধর্মী কাব্য এটি।
- এটি পাঁচটি সর্গে বিভক্ত।  এটি আধুনিক বাংলা সাহিত্যের একটি স্তম্ভস্বরূপ।
- ভোরের পাখি খ্যাত রোমান্টিক কবি বিহারীলাল প্রিয়তমার মধ্যে দেবী সারদাকে অন্বেষণ করেছেন।

- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এই কাব্য সম্পর্কে লিখেছেন, "সূর্যাস্ত কালের সুবর্ণমণ্ডিত মেঘমালার মত সারদামঙ্গলের সোনার শ্লোকগুলি বিবিধরূপের আভাস দেয়। কিন্তু কোন রূপকে স্থায়ীভাবে ধারণ করিয়া রাখে না। অথচ সুদূর সৌন্দর্য স্বর্গ হইতে একটি অপূর্ণ পূরবী রাগিণী প্রবাহিত হইয়া অন্তরাত্মাকে ব্যাকুল করিয়া তুলিতে থাকে।"

-------------------
• বিহারীলাল চক্রবর্তী রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- স্বপ্নদর্শন,
- সঙ্গীত শতক,
- বন্ধু-বিয়োগ,
- প্রেম প্রবাহিণী,
- নিসর্গ সন্দর্শন,
- বঙ্গসুন্দরী,
- সারদা মঙ্গল,
- নিসর্গ সঙ্গীত,
- মায়াদেবী,
- দেবরাণী,
- বাউল বিংশতি,
- সাধের আসন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩৪.
"মাগো, ওরা বলে, সবার কথা কেড়ে নেবে।"- পঙ্‌ক্তিটি কার রচনা?
  1. আবুল ফজল
  2. মাহাবুব উল আলম চৌধুরী
  3. আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ
  4. আলাউদ্দিন আল আজাদ
সঠিক উত্তর:
আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ
ব্যাখ্যা
• "মাগো, ওরা বলে, সবার কথা কেড়ে নেবে।"- পঙ্‌ক্তিটি কবি আবু জাফর ওবায়দুল্লাহর লেখা "মাগো, ওরা বলে" কবিতার অংশ।  
- এই কবিতাটি ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে রচিত এবং এটি বাংলা সাহিত্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন। 
- কবিতাটিতে মায়ের কাছে সন্তানের আকুতি এবং ভাষার অধিকার কেড়ে নেবার চেষ্টার প্রতিবাদের চিত্র ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।  

“মাগো, ওরা বলে" কবিতার অংশবিশেষ-

“মাগো, ওরা বলে
সবার কথা কেড়ে নেবে।
তোমার কোলে শুয়ে
গল্প শুনতে দেবে না।
বলো, মা,
তাই কি হয়?
তাইতো আমার দেরি হচ্ছে।
তোমার জন্য
কথার ঝুরি নিয়ে
তবেই না বাড়ি ফিরবো।

অন্যদিকে, 
• 'কাঁদতে আসিনি ফাঁসির দাবি নিয়ে এসেছি' ভাষা আন্দোলনভিত্তিক কবিতাটির রচিয়তা মাহাবুব-উল-আলম চৌধুরী।
• 'স্মৃতিস্তম্ভ' আলাউদ্দিন আল আজাদ রচিত ভাষা আন্দোলনভিত্তিক কবিতা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং “মাগো, ওরা বলে" কবিতা।
৩৫.
রামনিধি গুপ্তকে কোন গানের জনক বলা হয়?
  1. ঠুমরি
  2. পালা
  3. জারি
  4. টপ্পা
সঠিক উত্তর:
টপ্পা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
টপ্পা
ব্যাখ্যা
• টপ্পা গান:
- কবিগানের সমসাময়িক কালে কলকাতা ও শহরতলীতে টপ্পাগান নামে রাগ-রাগিনী সংযুক্ত এক ধরনের ওস্তাদি গানের প্রচলন ছিল।
- হিন্দি টপ্পাগান এর আদর্শ তবে বাংলা টপ্পা সর্বতোভাবে পাঞ্জাবি টপ্পার অনুকরণ নয়।
- বাংলা টপ্পাগানের জনক ছিলেন নিধু বাবু বা রামনিধি গুপ্ত।

- তাঁর রচিত বিখ্যাত টপ্পা-
"নানান দেশের নানান ভাষা,
বিনে স্বদেশী ভাষা,
মিটে কি আশা?"


অনদিকে, 
• বাংলা ঠুমরি গানের প্রবর্তক অতুল প্রসাদ সেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহাবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।
৩৬.
পঞ্চকবিদের কে কলকাতার পটলডাঙ্গায় জন্মগ্রহণ করেন?
  1. বুদ্ধদেব বসু
  2. অমিয় চক্রবর্তী
  3. জীবনানন্দ দাশ
  4. বিষ্ণু দে
সঠিক উত্তর:
বিষ্ণু দে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিষ্ণু দে
ব্যাখ্যা
• বিষ্ণু দে:
- বিষ্ণু দে ছিলেন কবি, প্রাবন্ধিক, চিত্রসমালোচক ও শিল্পানুরাগী। ১৯০৯ সালের ১৮ জুলাই কলকাতার পটলডাঙ্গায় তাঁর জন্ম।
- বিষ্ণু দে ত্রিশোত্তর বাংলা কবিতার নব্যধারার আন্দোলনের প্রধান পাঁচজন কবির অন্যতম ছিলেন।
- তিনি মার্কসবাদী চেতনায় উদ্বুদ্ধ ছিলেন। তাঁর কবিতায় টি.এস এলিয়টের কবিতার প্রভাব রয়েছে।
- বিষ্ণু দে 'পরিচয়' পত্রিকায় (১৯৩১ থেকে ১৯৪৭ পর্যন্ত) সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। এবং তাঁর প্রকাশিত অপর পত্রিকা হচ্ছে 'সাহিত্যপত্র'।

তাঁর রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থগুলো হলো:
- উর্বশী ও আর্টেমিস,
- চোরাবালি,
- স্মৃতি সত্তা ভবিস্যৎ,
- সেই অন্ধকার চাই,
- নাম রেখেছি কোমল গান্ধার,
- তুমি শুধু পঁচিশে বৈশাখ ইত্যাদি।

তাঁর রচিত প্রবন্ধ:
- রুচি ও প্রগতি,
- সাহিত্যের ভবিষ্যৎ,
- রবীন্দ্রনাথ ও শিল্প সাহিত্যে আধুনিকতার সমস্যা।

অনুবাদ সাহিত্য:
- এলিয়টের কবিতা।

অন্যদিকে,
- বুদ্ধদেব বসু ছিলেন তিরিশের দশকের একজন সাহিত্যিক, সমালোচক, সম্পাদক। ১৯০৮ সালের ৩০ নভেম্বর কুমিল্লায় তাঁর জন্ম।
- অমিয় চক্রবর্তী ছিলেন কবি, গবেষক ও শিক্ষাবিদ। ১০ এপ্রিল, ১৯০১ পশ্চিমবঙ্গের হুগলীর শ্রীরামপুরে তাঁর জন্ম।
- জীবনানন্দ দাশ কবি, শিক্ষাবিদ। তিনি ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩৭.
কবি আলাওল রচিত সঙ্গীতবিষয়ক কাব্য কোনটি?
  1. সতীময়না ও লোরচন্দ্রানী
  2. রাগতালনামা
  3. সয়ফুলমুলুক বদিউজ্জামাল
  4. সিকান্দরনামা
সঠিক উত্তর:
রাগতালনামা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাগতালনামা
ব্যাখ্যা
• আলাওল:
- আরাকান রাজসভার শ্রেষ্ঠ কবি আলাওল ১৭শতক/ মধ্যযুগের শ্রেষ্ঠ মুসলিম কবি ছিলেন।
- তাঁর জন্ম আনুমানিক ১৬০৭ সালে।
- কবি আলাওল আরাকান-রাজা উমাদারের রাজদেহরক্ষী অশ্বারোহীর পেশায় নিয়োজ্জিত ছিলেন।

• আলাওল রচিত বিখ্যাত সাহিত্যকর্মগুলো হলো:
- পদ্মাবতী (১৬৪৮),
- সতীময়না ও লোরচন্দ্রানী(১৬৫৯),
- সপ্তপয়কর/হপ্তপয়কর (১৬৬৫),
- সয়ফুলমুলুক বদিউজ্জামাল (১৬৬৯) ও
- সিকান্দরনামা (১৬৭৩)।

• নীতিকাব্য: তোহফা (১৬৬৪)।

• সঙ্গীতবিষয়ক কাব্য: রাগতালনামা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩৮.
'হাজার বছর ধরে' উপন্যাসের চরিত্র কোনটি?
  1. রেনু
  2. টুনি
  3. রসুল
  4. বানু
সঠিক উত্তর:
টুনি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
টুনি
ব্যাখ্যা
• 'হাজার বছর ধরে' উপন্যাস:
- আবহমান বাংলার জীবন ও জনপদ 'হাজার বছর ধরে' (১৯৬৪) উপন্যাসের মূল প্রতিপাদ্য।
- 'টুনি' চরিত্রের দেখা পাওয়া যায় জহির রায়হান রচিত 'হাজার বছর ধরে' উপন্যাসে।
- উপন্যাসের নায়িকা টুনি একমাত্র জীবন্ত চরিত্র। আর সবাই যেন মৃত ও বিবর্ণ।
- 'হাজার বছর ধরে' উপন্যাসের জন্য লেখক আদমজী পুরস্কার লাভ করেন।

• "হাজার বছর ধরে" উপন্যাসের প্রধান চরিত্রগুলি হলো: মন্তু, টুনি, এবং বুড়ো মকবুল।  

অন্যদিকে, 
আরেক ফাল্গুন উপন্যাসের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র হলো: মুনিম, আসাদ, সালমা, নীলা, রেনু, বানু, এবং রসুল। 
 
-------------------
• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- শেষ বিকেলের মেয়ে,
- হাজার বছর ধরে,
- আরেক ফাল্গুন,
- বরফ গলা নদী,
- আর কত দিন,
- কয়েকটি মৃত্যু।

• তাঁর পরিচালিত চলচ্চিত্র:
- সোনার কাজল,
- কাঁচের দেয়াল,
- বেহুলা,
- জীবন থেকে নেয়া,
- আনোয়ারা,
- সঙ্গম,
- বাহানা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩৯.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কোন গ্রন্থে সর্বপ্রথম চলিতরীতির প্রবর্তন ঘটান?
  1. জাপান যাত্রী
  2. রাশিয়ার চিঠি
  3. য়ুরোপ প্রবাসীর পত্র
  4. জাভা যাত্রীর পত্র
সঠিক উত্তর:
য়ুরোপ প্রবাসীর পত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
য়ুরোপ প্রবাসীর পত্র
ব্যাখ্যা
• য়ুরোপ প্রবাসীর পত্র (১৮৮১):
- 'যুরোপ প্রবাসীর পত্র' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রথম ভ্রমণকাহিনি।
- চলিত ভাষায় লেখা এবং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের এই বইয়েই সর্বপ্রথম চলিতরীতির প্রবর্তন হয়।

গ্রন্থের কাহিনি সংক্ষেপ:
১৮৭৮ সালের সেপ্টেম্বর মাসে সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুরের সঙ্গে রবীন্দ্রনাথ ইংল্যান্ড যান। সেখানে কিছুদিন ব্রাইটনের একটি পাবলিক স্কুলে এবং পরে লন্ডনের ইউনিভার্সিটি কলেজে তিনি পড়াশোনা করেন। তবে এ পড়াও সম্পূর্ণ হয়নি। দেড় বছর অবস্থানের পর তিনি দেশে ফিরে আসেন। এই দেড় বছর তিনি সে দেশের সমাজ ও জীবনকে গভীরভাবে নিরীক্ষণ করেন। এর প্রমাণ পাওয়া যায় ভারতীতে প্রকাশিত তাঁর যুরোপ-প্রবাসীর পত্রে (১৮৮১)।

---------------
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত ভ্রমণকাহিনি:
- য়ুরোপ প্রবাসীর পত্র,
- য়ুরোপ যাত্রীর ডায়েরী,
- পথের সঞ্চয়,
- জাপান যাত্রী,
- পশ্চিম যাত্রীর ডায়েরী,
- জাভা যাত্রীর পত্র,
- রাশিয়ার চিঠি,
- পারস্য যাত্রী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৪০.
'A Native' ছদ্মনামে 'নীল-দর্পণ' নাটকটি ইংরেজি অনুবাদ করেন কে?
  1. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  2. পাদ্রি জেমস লং
  3. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  4. সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্‌
সঠিক উত্তর:
মাইকেল মধুসূদন দত্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাইকেল মধুসূদন দত্ত
ব্যাখ্যা
• 'নীল-দর্পণ' নাটক:
- 'নীল-দর্পণ' (১৮৬০) দীনবন্ধু মিত্র রচিত শ্রেষ্ঠ নাটক এবং শ্রেষ্ঠ রচনাও। ১৮৬০ সালে প্রকাশিত হয়।

- সমকালের নীলচাষ ও নীলকর সাহেবদের প্রজাপীড়ন এবং শাসকশ্রেণীর পক্ষপাতমূলক আচরণ নাটকটির বিষয়বস্তু। নাটকটি তৎকালীন সমাজে বিশেষ আলোড়ন সৃষ্টি করে এবং কৃষকদের নীলবিদ্রোহে ইন্ধন জোগায়।

- মাইকেল মধুসূদন দত্ত 'A Native' ছদ্মনামে নাটকটির ইংরেজি অনুবাদ করেন ও নাম দেন 'Nil Darpan or The Indigo Planting Mirror' (1861) এবং পাদ্রি জেমস লং তা প্রকাশ করে আদালত কর্তৃক অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হন।

- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় নীল-দর্পণকে 'আঙ্কল টমস কেবিন'-এর সঙ্গে তুলনা করেন।
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর 'নীল দর্পন' নাটকের অভিনয় দেখে মঞ্চে জুতা ছুড়ে মেরেছিলেন।

- নাটকটি রচনাকাল থেকে আজ পর্যন্ত জাতীয় চেতনার পথিকৃৎ হয়ে আছে। এটিই বিদেশি ভাষায় অনূদিত প্রথম বাংলা নাটক।
- ১৮৬০ সালে 'কস্যচিৎ পথিকস্য' ছদ্মনামে নাটকটি প্রথম ঢাকা থেকে প্রকাশিত হয় এবং ১৮৭২ সালের ৭ ডিসেম্বর এটি দিয়েই শুরু হয় সাধারণ রঙ্গালয়ের অভিনয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৪১.
হুমায়ুন আজাদ রচিত কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. সবকিছু ভেঙে পড়ে
  2. সবকিছু নষ্টদের অধিকারে যাবে
  3. পাক সার জমিন সাদ বাদ
  4. ছাপ্পান্ন হাজার বর্গমাইল
সঠিক উত্তর:
সবকিছু নষ্টদের অধিকারে যাবে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবকিছু নষ্টদের অধিকারে যাবে
ব্যাখ্যা
'সবকিছু নষ্টদের অধিকারে যাবে' হুমায়ুন আজাদ রচিত একটি কাব্যগ্রন্থ।
- কাব্যগ্রন্থটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত হয়।
- লেখক কাব্যটি হুমায়ুন আহমেদ ও ইমদাদুল হক মিলনকে উৎসর্গ করেন।

------------------
• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- অলৌকিক ইস্টিমার (প্রথম কাব্যগ্রন্থ),
- কাফনে মোড়া অশ্রুবিন্দু,
- জ্বলো চিতাবাঘ,
- সব কিছু নষ্টদের অধিকারে যাবে,
- যতোই গভীরে যায় মধু, যতোই ওপরে যাই নীল,
- আমি বেঁচে ছিলাম অন্যদের সময়ে,
- পেরোনোর কিছু নেই ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- ছাপ্পান্ন হাজার বর্গমাইল (প্রথম প্রকাশিত),
- সবকিছু ভেঙে পড়ে,
- মানুষ হিসেবে আমার অপরাধসমূহ,
- রাজনীতিবিদগণ,
- পাক সার জমিন সাদ বাদ,
- একটি খুনের স্বপ্ন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৪২.
"সকলেই কবি নয়, কেউ কেউ কবি"- উক্তিটি কোন গ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত?
  1. কবি কাহিনী
  2. শেষের কবিতা
  3. কবিতার কথা
  4. কবি
সঠিক উত্তর:
কবিতার কথা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কবিতার কথা
ব্যাখ্যা
• 'কবিতার কথা' প্রবন্ধ:
- "কবিতার কথা" কবি জীবনানন্দ দাশের প্রথম প্রবন্ধ যা তাঁর মৃত্যুর পর প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল। যেখানে তিনি কবিতা ও কবি-সত্তা নিয়ে নিজস্ব ভাবনা প্রকাশ করেছেন।
- গ্রন্থটি প্রকাশিত হয়েছিল ১৯৬২ খ্রিস্টাব্দে।
- এই প্রবন্ধে তিনি "সকলেই কবি নয়, কেউ কেউ কবি" এই বিখ্যাত উক্তিটি করেন, যা বাংলা সাহিত্য জগতে একটি উল্লেখযোগ্য স্থান অধিকার করে আছে।  
- "কবিতার কথা" প্রবন্ধে জীবনানন্দ দাশ কবিতার সংজ্ঞা, কবিতার উপাদান, কবির মানসিকতা এবং কবিতার ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা করেছেন। 

---------------
জীবনানন্দ দাশ রচিত কাব্যগ্রন্থগুলো হলো:
- ঝরাপালক,
- ধূসর পান্ডুলিপি,
- বনলতা সেন,
- মহাপৃথিবী,
- সাতটি তারার তিমির,
- বেলা অবেলা কালবেলা ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 
• 'কবি' তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত একটি উপন্যাস। 
• 'কবি কাহিনী' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত একটি কাব্যগ্রন্থ। 
• 'শেষের কবিতা' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত উপন্যাস। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪৩.
আধুনিক বাংলা মহাকাব্য ধারার শেষ কবি কে?
  1. নবীনচন্দ্র সেন
  2. হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
  3. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  4. মোহাম্মদ কাজেম আল কোরেশী
সঠিক উত্তর:
মোহাম্মদ কাজেম আল কোরেশী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মোহাম্মদ কাজেম আল কোরেশী
ব্যাখ্যা
• আধুনিক বাংলা মহাকাব্য ধারার শেষ কবি ছিলেন- মোহাম্মদ কাজেম আল কোরেশী (কায়কোবা)। 

-----------------
• কায়কোবাদ:

- কায়কোবাদ (১৮৫৭-১৯৫১) ছিলেন আধুনিক বাংলা মহাকাব্য ধারার শেষ কবি, তিনি বাঙ্গালি মুসলিম কবিদের মধ্যে প্রথম সনেট রচয়িতা এবং আধুনিক বাংলাসাহিত্যের প্রথম মুসলিম কবি।

- তাঁর প্রকৃত নাম মোহাম্মদ কাজেম আল কোরেশী, 'কায়কোবাদ' তাঁর সাহিত্যিক ছদ্মনাম। ১৮৫৭ সালে ঢাকা জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলার আগলা গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।

- অতি অল্পবয়স থেকে কায়কোবাদের সাহিত্য-প্রতিভার স্ফুরণ ঘটে। মাত্র তেরো বছর বয়সে তাঁর প্রথম কাব্য 'বিরহবিলাপ' (১৮৭০) প্রকাশিত হয়।

- নিখিল ভারত সাহিত্য সংঘ কর্তৃক কবি কায়বোবাদকে কাব্যভূষণ, বিদ্যাভূষণ ও সাহিত্যরত্ন উপাধিতে ভূষিত করা হয়।
- কবির মৃত্যুর বহুদিন পরে- প্রেমের ফুল; প্রেমের বাণী; প্রেম-পারিজাত; মন্দাকিনী-ধারা; ও গওছ পাকের প্রেমের কুঞ্জ প্রকাশিত হয়। সম্প্রতি বাংলা একাডেমি কায়কোবাদ রচনাবলী (৪ খণ্ড, ১৯৯৪-৯৭) প্রকাশ করেছে।

তাঁর অন্যান্য কাব্যগ্রন্থগুলো হচ্ছে:
- কুসুম কানন,
- অশ্রুমালা,
- মহাশ্মশান,
- শিব-মন্দির,
- অমিয়ধারা,
- শ্মশান-ভস্ম ও
- মহরম শরীফ।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪৪.
নবদ্বীপের রাজা রামপ্রসাদ সেনকে কোন উপাধিতে ভূষিত করেন?
  1. কবিগুঞ্জন
  2. কবিরঞ্জন
  3. কবিকঙ্কণ
  4. দুঃখের কবি
সঠিক উত্তর:
কবিরঞ্জন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কবিরঞ্জন
ব্যাখ্যা
• রামপ্রসাদ সেন:
- শাক্তসঙ্গীত/শ্যামাসঙ্গীত রচনা করে বিখ্যাত ছিনেন" রামপ্রসাদ সেন"। তিনি শাক্ত পদাবলীর আদি ও শ্রেষ্ঠ কবি। তাঁর রচিত শ্যামাসঙ্গীতের সংখ্যা প্রায় তিনশ।
- পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার কুমারহট্ট গ্রামের কবিরাজ বংশে তাঁর জন্ম।
- নবদ্বীপের রাজা কৃষ্ণচন্দ্র রায় রামপ্রসাদের কবিত্ব ও সঙ্গীতখ্যাতির কথা শুনে তাঁকে নিজের রাজসভায় যোগদানের আহবান জানান এবং 'কবিরঞ্জন' উপাধিতে ভূষিত করেন।
- একসময় মুর্শিদাবাদ থেকে কলকাতা যাওয়ার পথে নবাব সিরাজউদ্দৌলা নদীর পাড়ে রামপ্রসাদের গান শুনে মুগ্ধ হন। তিনি ভক্তিভাব এবং রাগ ও বাউল সুরের মিশ্রণে এক ভিন্ন কভিন্ন সুরের সৃষ্টি করেন, যা বাংলা সঙ্গীতজগতে 'রামপ্রসাদী সুর' নামে পরিচিত।

তাঁর বিখ্যাত উক্তি,
'আমি কি দুঃখেরে ডরাই'।

তাঁর বিখ্যাত গান-
'মন রে কৃষি কাজ জানো না', 'ডুব দেরে মন কালী বলে', 'মা আমায় ঘুরাবি কত' ইত্যাদি।

অনদিকে, 
• মুকুন্দরাম চক্রবর্তীর উপাধি ছিল কবিকঙ্কন।
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর চণ্ডীদাসকে দুঃখের কবি বলেছিলেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৪৫.
হুমায়ূন আহমেদ পরিচালিত চলচ্চিত্র কোনটি?
  1. শ্যামল ছায়া
  2. নন্দিত নরকে
  3. দারুচিনি দ্বীপ
  4. নিরন্তর
সঠিক উত্তর:
শ্যামল ছায়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শ্যামল ছায়া
ব্যাখ্যা
হুমায়ূন আহমেদ ও তাঁর নির্মিত চলচ্চিত্র:
- হুমায়ূন আহমেদ চলচ্চিত্র নির্মাণেও সার্থক। তাঁর প্রথম চলচ্চিত্র "আগুনের পরশমণি" (১৯৯৫) এবং শেষ চলচ্চিত্র "ঘেটুপুত্র কমলা" (২০১২)।

- ৮৫তম অস্কার বাংলাদেশ কমিটি ৮৫তম একাডেমী অ্যাওয়ার্ড (অস্কার) প্রতিযোগিতার জন্য ঘেটুপুত্র কমলা ছবিটি মনোনীত করে। সুস্থ ধারার চলচ্চিত্র উপহার দিয়ে হুমায়ূন আহমেদ মধ্যবিত্ত দর্শকদের হলমুখী করে তোলেন।

- তাঁর উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্র 'শ্যামল ছায়া' ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের পটভূমি অবলম্বনে নির্মিত। এটি 'অস্কার একাডেমী পুরস্কার'-এর জন্য 'সেরা বিদেশি ভাষার চলচ্চিত্র' বিভাগে বাংলাদেশ থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য নির্বাচিত হয়।

অন্যান্য চলচ্চিত্র:
- শ্রাবণ মেঘের দিন (২০০০),
- দুই দুয়ারী (২০০১),
- চন্দ্রকথা (২০০৩),
- নয় নম্বর বিপদ সংকেত (২০০৭) এবং
- আমার আছে জল (২০০৮)।

------------------
তাঁর উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত হয় কয়েকটি চলচ্চিত্র। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য-
- মোরশেদুল ইসলাম পরিচালিত 'দূরত্ব' (২০০৬),
- সুভাষ দত্ত পরিচালিত 'আবদার',
- বেলাল আহমেদ পরিচালিত 'নন্দিত নরকে',
- আবু সাইদ পরিচালিত 'নিরন্তর',
- শাহ আলম কিরণ পরিচালিত 'সাজঘর' (২০০৭) এবং
- তৌকির আহমেদ নির্মিত 'দারুচিনি দ্বীপ'।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৪৬.
ড. শশিভূষণ দাশগুপ্ত চর্যাপদের কোন তত্ত্বের ব্যাখ্যা করেন?
  1. ছন্দের বৈজ্ঞানিক তত্ত্বের
  2. ধর্মতত্ত্বের
  3. সহজযান প্রসঙ্গে অন্তর্নিহিত তত্ত্বের
  4. তিব্বতি অনুবাদ তত্ত্বের
সঠিক উত্তর:
সহজযান প্রসঙ্গে অন্তর্নিহিত তত্ত্বের
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সহজযান প্রসঙ্গে অন্তর্নিহিত তত্ত্বের
ব্যাখ্যা
চর্যাপদ বিষয়ক গবেষণা:
• ড. বিজয়চন্দ্র মজুমদার ১৯২০ সালে প্রপথম চর্যাপদের ভাষা নিয়ে আলোচনা করেন।

• ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় ১৯২৬ সালে ভাষা আলোচনা করে স্বীকৃতি দেন যে, চর্যাপদ বাংলা ভাষায় রচিত। ১৯২৬ সালে ড. সুনীতি কুমার চট্টোপাধ্যায় 'দি অরিজিন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অব দি বেঙ্গলি ল্যাংগুয়েজ' গ্রন্থে সম্পূর্ণ বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে বিস্তারিতভাবে চর্যাপদের ভাষার ধ্বনিতত্ত্ব, ব্যাকরণ ও ছন্দ বিচার বিশ্লেষণ করে প্রমাণ করেন চর্যাপদ বাংলা ভাষার সম্পদ। অধিকাংশ ভাষাবিজ্ঞানী এ অভিমত সমর্থন করেন।

• ড. প্রবোধচন্দ্র বাগচী, ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্, ড. সুকুমার সেন, ড. শশিভূষণ দাশগুপ্ত চর্যাপদের ভাষা, বিষয়বস্তু, প্রভৃতি আলোচনা করে প্রমাণ করেন যে-চর্যাপদ বাংলা ভাষায় রচিত।
• ১৯২৭ সালে ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ চর্যাপদের ধর্মতত্ত্ব বিশ্লেষণ করেন।
• ১৯৪৬ সালে ড. শশিভূষণ দাশগুপ্ত সহজযান প্রসঙ্গে চর্যাপদের অন্তর্নিহিত তত্ত্বের ব্যাখ্যা করেন।
• বিহারের বিখ্যাত পণ্ডিত রাহুল সাংকৃত্যায়ন বৌদ্ধ সিদ্ধাচার্য, বৌদ্ধ সহজযান ও চর্যাগীতিকা নিয়ে ইংরেজি ও হিন্দিতে প্রচুর গবেষণা করেন।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৪৭.
'নাটুকে নারায়ণ' নামে খ্যাতি লাভ করেছিলেন কে?
  1. গিরিশচন্দ্র ঘোষ
  2. রামনারায়ণ তর্করত্ন
  3. তারাচরণ শিকদার
  4. যোগেন্দ্রচন্দ্র গুপ্ত
সঠিক উত্তর:
রামনারায়ণ তর্করত্ন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রামনারায়ণ তর্করত্ন
ব্যাখ্যা
• রামনারায়ণ তর্করত্ন:
- নাট্যকার হিসেবে রামনারায়ণ তর্করত্ন প্রভূত খ্যাতিলাভের পশ্চাতে রয়েছে তাঁর সামাজিক নাটক 'কুলীনকুলসর্বস্ব' (১৮৫৪) সালে অভিনয় সাফল্য লাভ করে।
- তাঁর 'কুলীনকুলসর্বস্ব' নাটক তৎকালীন নাট্যসাহিত্যে প্রবল আলোড়ন সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়।
- সমকালীন সমাজব্যবস্থার কুসংস্কারাচ্ছন্ন দিকগুলো নাটকে রূপায়িত করতে গিয়ে আঙ্গিকগত দিক থেকে তাঁর চূড়ান্ত সার্থকতা লাভ করা সম্ভব হয় নি।
'কুলীনকুলসর্বস্ব' নাটক রচনার জন্য রামনারায়ণ রংপুরের জমিদার কালীচন্দ্র রায়চৌধুরী ঘোষিত পঞ্চাশ টাকা পুরস্কার লাভ করেন।
- এই নাটকের মাধ্যমে দর্শকদের প্রবলভাবে মাতিয়ে তোলা সম্ভব হয়েছিল। সে কারণে তিনি 'নাটুকে নারায়ণ' নামে খ্যাতি লাভকরেছিল।

সংস্কৃতে সুপণ্ডিত রামনারায়ণ তর্করত্ন সংস্কৃত থেকে কতিপয় নাটক বাংলায় অনুবাদ করেন:
- শকুন্তলা, 
- মালতীমাধব, 
- রত্নাবলী। 

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহবুবুল আলম।
৪৮.
কীর্তিচন্দ্র কর্তৃক চর্যাপদের তিব্বতি অনুবাদের নাম কী?
  1. চর্যাগীতিকোষবৃত্তি
  2. চর্যাচর্যবিনিশ্চয়
  3. চর্যাচর্যগীতিকোষ
  4. চর্যাগীতি
সঠিক উত্তর:
চর্যাগীতিকোষবৃত্তি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চর্যাগীতিকোষবৃত্তি
ব্যাখ্যা
• চর্যাপদ তিব্বতি ভাষায় অনুবাদ করেন কীর্তিচন্দ্র। কীর্তিচন্দ্র মুনিদত্তের টীকার তিব্বতি অনুবাদ করেছিলেন 'চর্যাগীতিকোষবৃত্তি' নামে।

-------------
• চর্যাপদ:
- বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনযুগের একমাত্র নিদর্শন চর্যাচর্যবিনিশ্চয় বা চর্যাগীতিকোষ বা চর্যাগীতি বা চর্যাপদ। ড. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ১৯০৭ সালে নেপালের রাজ দরবার গ্রন্থাগার থেকে এটি আবিষ্কার করেন।

- চর্যাপদের পদ সংখ্যা: চর্যাপদের পদ সংখ্যা ৫০টি। তবে সুকুমার সেন মনে করেন পদসংখ্যা ৫১টি। উদ্ধারকৃত পদের সংখ্যা: চর্যাপদের সাড়ে ৪৬টি পদ পাওয়া যায়। অনুদ্ধারকৃত/বিলুপ্ত পদের সংখ্যা: সাড়ে ৩টি।

- প্রাপ্ত সাড়ে ৪৬টি পদের মধ্যে ভুসুকুপা রচিত ২৩নং পদটি খণ্ডিত আকারে পাওয়া গেছে। পদটির ৬টি পদ পাওয়া গেছে কিন্তু বাকি ৪টি পদ পাওয়া যায়নি।
এছাড়াও চর্যাপদের ২৪নং (কাহ্নপা রচিত), ২৫নং (তন্ত্রীপা রচিত) এবং ৪৮নং (কুক্কুরীপা রচিত) পদগুলো পাওয়া যায়নি।

- সংস্কৃত ভাষায় মুনিদত্ত চর্যাপদের ব্যাখ্যা করেন। তিনি ১১নং পদের ব্যাখ্যা করেননি।
- চর্যাপদের তিব্বতি ভাষায় অনুবাদ করেন কীর্তিচন্দ্র। ১৯৩৮ সালে ড. প্রবোধচন্দ্র বাগচী কর্তৃক চর্যার তিব্বতি অনুবাদটি প্রকাশিত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৪৯.
'জাল স্বপ্ন, স্বপ্নের জাল' গল্পগ্রন্থের গল্পগুলো কোন পটভূমিতে রচিত?
  1. ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের
  2. মুক্তিযুদ্ধের
  3. তেতাল্লিশের মন্বন্তরের
  4. ভাষা আন্দলনের
সঠিক উত্তর:
মুক্তিযুদ্ধের
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মুক্তিযুদ্ধের
ব্যাখ্যা
• জাল স্বপ্ন, স্বপ্নের জাল:
- 'জাল স্বপ্ন, স্বপ্নের জাল' আক্তারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত গল্পগ্রন্থ।
- এই সংকলনের বিভিন্ন গল্পে পরোক্ষ বা প্রত্যক্ষভাবে মুক্তিযুদ্ধ এবং যুদ্ধ-পরবর্তী রাজনৈতিক এবং সামাজিক বাস্তবতার চিত্র ফুটে উঠেছে।

এই গল্পগ্রন্থে ৫টি গল্প সংকলিত হয়েছে। এগুলো হলো:
- প্রেমের গপ্পো,
- ফোঁড়া,
- জাল স্বপ্ন, স্বপ্নের জাল,
- কান্না,
- রেইনকোট।

---------------------
• তাঁর রচিত গল্প:
- মিলির হাতে স্টেনগান,
- রেইনকোট,
- দুধভাতে উৎপাত,
- জাল স্বপ্ন, স্বপ্নের জাল,
- ফোঁড়া,
- নিরুদ্দেশ যাত্রা ইত্যাদি।

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- অন্য ঘরে অন্য স্বর,
- খোঁয়ারি,
- দুধভাতে উৎপাত,
- দোজখের ওম।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- চিলে কোঠার সেপাই (ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের পটভূমিতে রচিত),
- খোয়াবনামা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; 'জাল স্বপ্ন স্বপ্নের জাল' গল্পগ্রন্থ।
৫০.
পদ্মার তীরবর্তী চরকেন্দ্রিক অধিবাসীদের নিয়ে আবু ইসহাক রচিত উপন্যাস-
  1. পদ্মা মেঘনা যমুনা
  2. পদ্মা নদীর মাঝি
  3. পদ্মার পলিদ্বীপ
  4. পদ্মার চর
সঠিক উত্তর:
পদ্মার পলিদ্বীপ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পদ্মার পলিদ্বীপ
ব্যাখ্যা
• 'পদ্মার পলিদ্বীপ' উপন্যাস:
- আবু ইসহাক রচিত উপন্যাস 'পদ্মার পলিদ্বীপ'।
- ১৯৮৬ খ্রিস্টাব্দে ঢাকার মুক্তধারা থেকে উপন্যাসটি প্রকাশ পেলেও ১৯৬০ খ্রিস্টাব্দে আবু ইশাক উপন্যাসটি রচনায় হাত দেন।
- উপন্যাসের প্রথম ষোলটি অধ্যায় বাংলা একাডেমির 'উত্তরাধিকার' পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে মে ১৯৭৪ থেকে ফেব্রুয়ারি ১৯৭৬ পর্যন্ত প্রকাশিত হয়।
- অবশ্য তখন এর নাম ছিল 'মধুর মাটি'।
- এ উপন্যাসে পদ্মা তীরবর্তী চরকেন্দ্রিক অধিবাসী, তাদের চরদখল, জীবন-সংগ্রাম মুখ্য।
- 'ফজল' এ উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র।

অন্যান্য চরিত্রগুলো হলো:
- এরফান মাতব্বর,
- আরশেদ মোল্লা,
- জঙ্গুরুল্লা,
- জরিনা,
- রূপজান ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫১.
'ঈশ্বরী পাটনী' কোন মঙ্গলকাব্যর অন্তর্ভুক্ত চরিত্র?
  1. মনসামঙ্গল
  2. চণ্ডীমঙ্গল
  3. ধর্মমঙ্গল
  4. অন্নদামঙ্গল
সঠিক উত্তর:
অন্নদামঙ্গল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অন্নদামঙ্গল
ব্যাখ্যা
• 'অন্নদামঙ্গল' কাব্য:
- নবদ্বীপের রাজা কৃষ্ণচন্দ্ররে আদেশে ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর 'অন্নদামঙ্গল' কাব্যটি রচনা করেন।
- ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর বেশ কিছু গ্রন্থ রচনা করলেও তাঁর শ্রেষ্টসৃষ্টি 'অন্নদামঙ্গল' (১৭৫২-৫৩ সালে) রচনা করেন ও এই কাব্যের দ্বিতীয়ংশ 'বিদ্যাসুন্দর'।
- 'অন্নদামঙ্গল' কাব্যের বৈশিষ্ট্য হলো ছন্দ ও অলঙ্কারের সুদক্ষ প্রয়োগ।
- সমালোচক অধ্যাপক অসিতকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতে: 'অন্নদামঙ্গলকাব্য অষ্টদশ শতাব্দীর সর্বশ্রেষ্ঠ কাব্য, সমগ্র বাংলা সাহিত্যের উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের অন্যতম।
- অন্নদামঙ্গল কাব্য ৩টি খণ্ডে বিভক্ত। যথা: শিবনারায়ণ, কালিকামঙ্গল এবং মানসিংহ-ভবানন্দ খণ্ড।

এই কাব্যের প্রধান চরিত্র:
- মানসিংহ,
- ভবানন্দ,
- বিদ্যাসুন্দর,
- মালিনী,
- ঈশ্বরী পাটনী ইত্যাদি।

অন্নদামঙ্গল কাব্যের কিছু বিখ্যাত পঙ্‌ক্তি হলো:
- 'আমার সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে।'
- 'মন্ত্রের সাধন কিংবা শরীর পাতন।'
- 'হাভাতে যদ্যপি চায় সাগর শুকায়ে যায়।'
- 'নগর পুড়িলে দেবালয় কি এড়ায়?'
- 'না রবে প্রাসাদগুণ না হবে রসাল, অতএব কহি ভাষা যাবনী মিশাল।'
- 'বড়র পিরীতি বালির বাঁধ! ক্ষণে হাতে দড়ি, ক্ষনেকে চাঁদ।'

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।
৫২.
অন্নদাশঙ্কর রায় রচিত উপন্যাস কোনটি?
  1. আগুন পাখি
  2. আগুন নিয়ে খেলা
  3. আগুনের মেয়ে
  4. আগুনডানা মেয়ে
সঠিক উত্তর:
আগুন নিয়ে খেলা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আগুন নিয়ে খেলা
ব্যাখ্যা
• "আগুন নিয়ে খেলা" উপন্যাস:
- "আগুন নিয়ে খেলা" অন্নদাশঙ্কর রায়ের প্রথম প্রকাশিত উপন্যাস। উপন্যাসটি ১৯৩০ সালে প্রকাশিত হয়।
- উপন্যাসে একদিন গল্প শুরু হয়েছে, তারপর গল্প পিছিয়ে গিয়েছে একদিন একদিন করে। এইভাবে ছদিনের কাহিনি নিয়ে এই উপন্যাসটি রচিত।

- যারা বর্তমানের ভালোলাগাতেই বিশ্বাস করে, সম্পর্কের স্থায়িত্বে বিশ্বাস করে না, তেমন দুটি তরুণ-তরুণীর কাহিনি এই উপন্যাসে বর্ণিত হয়েছে। প্রেমের উপন্যাস কিন্তু এ-উপন্যাসে প্রেমের কোনো পরিণতি নেই, শুধু একসঙ্গে চলার আনন্দ আছে, কিন্তু চলার শেষে কোথাও পৌঁছনো নেই। যেন দুটি পাখি পাশাপাশি কলকল করে উড়ে চলার পরে যে-যার-মতো উড়ে গেল খোলা আকাশে।

উপন্যাসের ছয়টি দিনের কাহিনিগুলো হলো:
- শেষের দিন,
- তার আগের দিন.
- তারও আগের দিন,
- আরও আগের দিন,
- সব আগের দিন,
- শেষের দিনের শেষ।

অন্যদিকে,
• 'আগুন পাখি' দেশভাগের সময়ের পটভূমিতে হাসান আজিজুল হক রচিত উপন্যাস।
• ‘আগুনের মেয়ে’ উপন্যাসের রচয়িতা আল মাহমুদ
• 'আগুনডানা মেয়ে' উপন্যাসের রচয়িতা সাদাত হোসাইন।  

উৎস: "আগুন নিয়ে খেলা" উপন্যাস অন্নদাশঙ্কর রায় এবং বাংলাপিডিয়া।
৫৩.
চর্যাপদের বিলুপ্ত পদ কোনটি?
  1. ২৫নং
  2. ৪৯নং
  3. ২৩নং
  4. ৩২নং
সঠিক উত্তর:
২৫নং
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২৫নং
ব্যাখ্যা
• চর্যাপদের পদ সংখ্যা সম্পর্কিত আলোচনা:
- বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনযুগের একমাত্র নিদর্শন চর্যাচর্যবিনিশ্চয় বা চর্যাগীতিকোষ বা চর্যাগীতি বা চর্যাপদ।
- চর্যাপদের পদ সংখ্যা: চর্যাপদের পদ সংখ্যা ৫০টি। তবে সুকুমার সেন মনে করেন পদসংখ্যা ৫১টি।
- উদ্ধারকৃত পদের সংখ্যা: চর্যাপদের সাড়ে ৪৬টি পদ পাওয়া যায়।
- অনুদ্ধারকৃত/বিলুপ্ত পদের সংখ্যা: সাড়ে ৩টি। প্রাপ্ত সাড়ে ৪৬টি পদের মধ্যে ভুসুকুপা রচিত ২৩নং পদটি খণ্ডিত আকারে পাওয়া গেছে। পদটির ৬টি পদ পাওয়া গেছে কিন্তু বাকি ৪টি পদ পাওয়া যায়নি।

- এছাড়াও চর্যাপদের ২৪নং (কাহ্নপা রচিত), ২৫নং (তন্ত্রীপা রচিত) এবং ৪৮নং (কুক্কুরীপা রচিত) পদগুলো পাওয়া যায়নি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫৪.
ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের পণ্ডিত ছিলেন-
  1. যোগেন্দ্রচন্দ্র গুপ্ত
  2. তারাচরণ শিকদার
  3. রামনারায়ণ তর্করত্ন
  4. চণ্ডীচরণ মুনশী
সঠিক উত্তর:
চণ্ডীচরণ মুনশী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চণ্ডীচরণ মুনশী
ব্যাখ্যা
•  চণ্ডীচরণ মুনশী ফোর্ট উইলিয়ম কলেজের বাংলা বিভাগের অন্যতম অধ্যাপক। ১৮০৫ খ্রী. কাদির বখশ রচিত ফারসী গ্ৰন্থ ‘তুতীনামা’র বঙ্গানুবাদ করেন। গ্রন্থটি ‘তোতা ইতিহাস’ নামে প্রথমে শ্ৰীরামপুর মিশনারী প্রেস থেকে মুদ্রিত ও প্রকাশিত হয়। পরে ১৮২৫ খ্রী. লন্ডনে পুনর্মুদ্রিত হয়েছিল।

---------------------
• ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ:

- লর্ড ওয়েলেসলী ১৮০০ সালে কলকাতায় ফোর্ট উইলিয়ম কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন।
- বাংলাসহ ভারতের অনেক ভাষা বিশেষজ্ঞ ও ধর্মপ্রচারক উইলিয়ম কেরীকে স্থানীয় ভাষা বিভাগের প্রধান নিয়োগ করা হয়।
- ১৮০০ সালে প্রতিষ্ঠিত ফোর্ট উইলিয়াম কলেজে বাংলা বিভাগ চালু হয় ১৮০১ সালে এবং এর দায়িত্ব দেয়া হয় উইলিয়াম কেরিকে।
- পরবর্তীতে ১৮০৫ সালের মধ্যে কলেজে মোট ১২টি অনুষদ খোলা হয়।

ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের পণ্ডিতগণ হলেন:
- উইলিয়াম কেরী,
- রামরাম বসু,
- গোলকনাথ শর্মা,
- মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার,
- তারিণীচরণ মিত্র,
- রাজীবলোচন,
- চণ্ডীচরণ মুনশী,
- হরপ্রসাদ রায় ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 
• যোগেন্দ্রচন্দ্র গুপ্ত, তারাচরণ শিকদার ও  রামনারায়ণ তর্করত্ন বাংলা নাটকের সূচনাপর্বের নাট্যকার। 

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৫৫.
চর্যার কবি ডোম্বীপা ছিলেন-
  1. ত্রিপুরা রাজ্যের রাজা
  2. তাঁতি
  3. জেলে
  4. নৌকার মাঝি
সঠিক উত্তর:
ত্রিপুরা রাজ্যের রাজা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ত্রিপুরা রাজ্যের রাজা
ব্যাখ্যা
• ডোম্বীপা:
- চর্যাপদের পদকর্তাদের মধ্যে ত্রিপুরা রাজ্যের রাজা ছিলেন-ডোম্বীপা।
- তিনি চর্যাপদের ১৪নং পদটির রচয়িতা।
- ডোম্বীপার গুরু ছিলেন বিরূপা।
- গঙ্গা ও যমুনা নদীতে নৌকা বেয়ে নেয়ার চিত্র এবং গঙ্গা ও যমুনা নদীতে কড়ি ছাড়াই নদী পার হওয়া যেত বলে ডোম্বীপা রচিত পদ থেকে জানা যায়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫৬.
আহসান হাবীব রচিত কাব্যগ্রন্থ নয় কোনটি?
  1. ছায়াহরিণ
  2. আশায় বসতি
  3. অরণ্য নীলিমা
  4. দুহাতে দু আদিম পাথর
সঠিক উত্তর:
অরণ্য নীলিমা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অরণ্য নীলিমা
ব্যাখ্যা
• 'অরণ্য নীলিমা' উপন্যাস:
- আহসান হাবীব রচিত উপন্যাস 'অরণ্য নীলিমা'।
- উপন্যাসটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৬২ সালে।
- উদীয়মান মুসলমান মধ্যবিত্ত বাঙালি সমাজের প্রতিনিধি এক তরুণ চিত্রশিল্পী ও তাঁর স্ত্রীর মনোজাগতিক সংকটক এ উপন্যাসের উপজীব্য।

--------------------
• আহসান হাবীব:

- আহসান হাবীব একজন কবি ও সাংবাদিক।
- তিনি ১৯১৭ সালের ২ ফেব্রুয়ারি পিরোজপুর জেলার শংকরপাশা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- আহসান হাবীব এর শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থের নাম 'সারাদুপুর'। ১৯৬৪ সালে ঢাকা থেকে 'সারা দুপুর' প্রকাশিত হয়। কাব্যগ্রন্থটিতে মোট কবিতার সংখ্যা ২৬। কাব্যভাষা, ঐতিহ্যান্বেষণ ও বক্তব্য প্রকাশে কবি এখানে পরিপক্ক।

• তাঁর দুটি বিশিষ্ট উপন্যাস হলো-
- অরণ্য নীলিমা ও
- রাণীখালের সাঁকো।

• তাঁর কাব্যগ্রন্থ:
- ছায়াহরিণ,
- সারা দুপুর,
- আশায় বসতি,
- মেঘ বলে চৈত্রে যাবো,
- দুহাতে দু আদিম পাথর,
- প্রেমের কবিতা,
- বিদীর্ণ দর্পণে মুখ ইতাদি।

তাঁর কয়েকটি উল্লেখযোগ্য শিশুতোষ গ্রন্থ:
- জ্যোৎস্না রাতের গল্প,
- বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর,
- ছুটির দিন দুপুরে ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৫৭.
দ্বিতীয় বিদ্যাপতি নামে খ্যাত ছিলেন মধ্যযুগের কোন কবি?
  1. চণ্ডীদাস
  2. গোবিন্দদাস
  3. জ্ঞানদাস
  4. লোচনদাস
সঠিক উত্তর:
গোবিন্দদাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গোবিন্দদাস
ব্যাখ্যা
• গোবিন্দদাস:
- শ্রীচৈতন্য ও চৈতন্যোত্তরকালে যে কয়জন কবি বৈষ্ণবপদ রচনা করে খ্যাতি অর্জন করেন, তাঁদের মধ্যে গোবিন্দদাস অন্যতম।
- গোবিন্দদাস রচিত সংস্কৃত নাটকের নাম 'সংগীতমাধব'।
- গোবিন্দদাসের আসল পদবি সেন।
- বিদ্যাপতির ভাবশিষ্য ছিলেন গোবিন্দদাস। তিনি দ্বিতীয় বিদ্যাপতি নামেও খ্যাত।
গোবিন্দদাসের নামে প্রায় সাড়ে চারশত বৈষ্ণবপদ পাওয়া যায়।

গোবিন্দদাসের উপাধিগুলো হলো-
- শ্রীজীব গোস্বামী গোবিন্দদাসকে 'কবিরাজ' উপাধি দেন।
- জীব গোস্বামী গোবিন্দদাসকে 'কবীন্দ্র' উপাধিও প্রদান করেন।

গোবিন্দদাস রচিত পঙ্‌ক্তির কিছু অংশ:
"ঢল ঢল কাঁচা
অঙ্গের লাবণি
অবনী বহিয়া যায়।
ঈষত হাসির তরঙ্গ-হিল্লোলে
মদন মুরুছা পায়।।"

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৫৮.
১৯৪৪ সালের দুর্ভিক্ষের পটভূমিতে ফররুখ আহমদ রচিত কবিতা কোনটি?
  1. লাশ
  2. অকাল
  3. নবান্ন
  4. মানুষ
সঠিক উত্তর:
লাশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লাশ
ব্যাখ্যা
"লাশ" কবিতা ও পটভূমি:
• ফররুখ আহমদের "লাশ" কবিতাটি ১৯৪৪ সালে কলকাতার দুর্ভিক্ষের পটভূমিতে রচিত। এই কবিতায় কবি দুর্ভিক্ষের কারণে সৃষ্ট দুর্দশা ও অসহায় মানুষের করুণ পরিণতি ফুটিয়ে তুলেছেন। 'লাশ' কবিতাটি লিখে তিনি প্রথম খ্যাতি অর্জন করেন।

• কবিতাটি ফররুখ আহমদের 'সাত সাগরের মাঝি' কাব্যগ্রন্থে সংকলিত হয়েছে। 

লাশ
ফররুখ আহমদ
যেখানে প্রশস্ত পথ ঘুরে গেল মোেড়,
কালো পিচ-ঢালা রঙে লাগে নাই ধূলির আঁচড়,
সেখানে পথের পাশে মুখ গুঁজে প'ড়ে আছে জমিনের 'পর;
সন্ধ্যার জনতা জানি কোনদিন রাখে না সে মৃতের খবর।

----------------
ফররুখ আহমদ রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- সিরাজাম মুনীরা,
- নৌফেল ও হাতেম,
- মুহূর্তের কবিতা,
- হাতেমতায়ী ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 
• ১৯৪৪ সালের দুর্ভিক্ষের পটভূমিতে রচিত একটি উল্লেখযোগ্য কবিতা হল সুকান্ত ভট্টাচার্য্যের "আকাল"। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৫৯.
বৃন্দাবন দাস রচিত শ্রীচৈতন্যদেবের জীবনী গ্রন্থ কোনটি?
  1. চৈতন্য-চরিত্রামৃত
  2. চৈতন্য-ভাগবত
  3. চৈতন্য-মঙ্গল
  4. শ্রী শ্রী কৃষ্ণ চৈতন্যচরিতামৃত
সঠিক উত্তর:
চৈতন্য-ভাগবত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চৈতন্য-ভাগবত
ব্যাখ্যা
• শ্রীচৈতন্যদেব ও জীবনী সাহিত্য:
- শ্রীচৈতন্যদেব এর প্রকৃত নাম বিশ্বম্ভর মিশ্র। কৃষ্ণ চৈতন্য নামেও তিনি পরিচিত। তাঁর ডাক নাম রাখা হয় নিমাই।
- তিনি ১৪৮৬ সালের ১৮ই ফেব্রুয়ারি শনিবার নবদ্বীপে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন ব্রাহ্মণ থেকে রূপান্তরিত এক ধর্মবেত্তা, যিনি তাঁর স্বকীয় ভক্তির মাধ্যমে বাংলা ও উড়িষ্যার বৈষ্ণব সম্প্রদায়ের মধ্যে দারুণ চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছিলেন।
শ্রীচৈতন্যদেবের জীবনী রচনার মধ্য দিয়ে বাংলায় জীবনীসাহিত্য রচনা আরম্ভ হয়।

• সর্বাপেক্ষা তথ্যবহুল চৈতন্যজীবনী হলো কৃষ্ণদাস কবিরাজের 'চৈতন্য-চরিত্রামৃত'।
• বাংলা ভাষায় শ্রীচৈতন্যদেবের প্রথম জীবনী গ্রন্থ হলো বৃন্দাবন দাস রচিত 'চৈতন্য-ভাগবত'।
• শ্রীচৈতন্যদেবের দ্বিতীয় জীবনীগ্রন্থ হলো লোচন দাসের 'চৈতন্য-মঙ্গল'।
• মুরারিগুপ্ত রচিত চৈতন্যজীবনী শ্রী শ্রী কৃষ্ণ চৈতন্যচরিতামৃত।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।