পরীক্ষা আর্কাইভ

ভূগোল, পরিবেশ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা

পরীক্ষাভূগোল, পরিবেশ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনাতারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়09 minutes
মোট প্রশ্ন২১
সিলেবাস
পরীক্ষা – ১০ টপিক: রিভিশন (পরীক্ষা ৮ ও ৯) [Live Class – 12 to 15]
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

ভূগোল, পরিবেশ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা

ভূগোল, পরিবেশ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা · তারিখ অনির্ধারিত · ২১ প্রশ্ন

.
নিচের কোনটি প্রাকৃতিক দুর্যোগের মধ্যে পড়ে না?
  1. ঘূর্ণিঝড়
  2. অগ্ন্যুৎপাত
  3. অগ্নিকান্ড
  4. ভূমিকম্প
ব্যাখ্যা

• প্রাকৃতিক দুর্যোগের মধ্যে পড়ে না- অগ্নিকান্ড।
- কারন এটি একটি মানব-সৃষ্ট দুর্যোগ।

• দুর্যোগ (Disaster):
- একটি বিপর্যয় যখন কোনো নির্দিষ্ট এলাকার জনগণের বেশির ভাগ মানুষকে বিপদাপন্ন করে তুলে এবং তাদের নিজস্ব মোকাবিলা ক্ষমতার বাইরে চলে যায়, তখন তাকে দুর্যোগ বলে।
- বিশ্বব্যাপী দুর্যোগসমূহের প্রকারভেদ: পৃথিবীর যে কোনো দেশে দুই ধরনের দুর্যোগ সংঘটিত হয়।
 যেমন:
ক) প্রাকৃতিক দুর্যোগ।
খ) মানব-সৃষ্ট দুর্যোগ।

• প্রাকৃতিক দুর্যোগ বলতে প্রাকৃতিক শক্তি দ্বারা সংঘটিত দুর্যোগসমূহকে বুঝায়।
যেমন: অগ্ন্যুৎপাত, ভূমিকম্প, বন্যা, ঘূর্ণিঝড় ইত্যাদি।

• মানব-সৃষ্ট দুর্যোগ বলতে মানব কর্মকান্ডের ফলে সংঘটিত দুর্যোগসমূহকে বুঝায়।
যেমন: জলাবদ্ধতা, অগ্নিকান্ড, রাসায়নিক দূষণ, যুদ্ধ।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত ‍বিশ্ববিদ্যালয়।

.
বন্যা নিয়ন্ত্রণে সহজ প্রকৌশলগত ব্যবস্থাপনার উদাহরণ কোনটি?
  1. সুনিশ্চিত নদী-শাসন ব্যবস্থা তৈরি করা
  2. বন্যার পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ ব্যবস্থার উন্নয়ন সাধন।
  3. দেশের সর্বত্র বনায়ন সৃষ্টি করা।
  4. নদী তীরকে স্থায়ী সুদৃঢ় কাঠামোর সাহায্যে সংরক্ষণ করা।
ব্যাখ্যা

• বন্যা নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা (Flood Control Measures):

⇒ সাধারণ ব্যবস্থাপনা (General management):
(১) সহজে স্থানান্তরযোগ্য বসতি তৈরি করা।
(২) নদীর দু'তীরে ঘন জঙ্গল সৃষ্টি করা।
(৩) নদী-শাসন ব্যবস্থা সুনিশ্চিত করা।
(৪) বন্যার পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ ব্যবস্থার উন্নয়ন সাধন।
(৫) পুকুর, নালা, বিল প্রভৃতি খনন করা এবং সেচের পানি সংরক্ষণ করা।
(৬) প্রতি বছর বন্যা মোকাবেলার জন্য সরকারিভাবে স্থায়ী প্রশাসনিক কাঠামো গড়ে তোলা।

⇒ শ্রমসাধ্য ও ব্যয়বহুল প্রকৌশল ব্যবস্থাপনা (Laboure intensive and expensive engineering management):
(১) ড্রেজারের মাধ্যমে নদীর তলদেশ খনন করে পানির পরিবহন ক্ষমতা বৃদ্ধি করা।
(২) সন্নিহিত স্থানে জলাধার নির্মাণের মাধ্যমে পানিপ্রবাহকে সম্পূর্ণরূপে নিয়ন্ত্রণ করা।
(৩) ভারত থেকে আসা পানিকে বাঁধের সাহায্যে নিয়ন্ত্রণ ও নিষ্কাশন করা।
(৪) সমুদ্র উপকূলবর্তী এলাকার পানির অনুপ্রবেশ বন্ধ করা।
(৫) নদী তীরকে স্থায়ী সুদৃঢ় কাঠামোর সাহায্যে সংরক্ষণ করা।

⇒ সহজ প্রকৌশলগত ব্যবস্থাপনা (Easy engineering management):
(১) নদীর দু'তীরে বেড়িবাঁধ দিয়ে নদীর পানি উপচে পড়া বন্ধ করা।
(২) দেশের সর্বত্র বনায়ন সৃষ্টি করা।
(৩) রাস্তাঘাট নির্মাণের ক্ষেত্রে পরিকল্পিত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা রাখা।
(৪) বন্যা প্রবল অঞ্চলে সর্বোচ্চ বন্যা লেভেলের উপরে 'আশ্রয়কেন্দ্র' প্রতিষ্ঠা করা।
(৫) শহর বেষ্টনীমূলক বাঁধ দেওয়া।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম ও দশম শ্রেণি।

.
রিখটার স্কেল কোন বিষয়ের পরিমাপ করে?
  1. ভূমিকম্পের কেন্দ্র সনাক্ত 
  2. কম্পনজনিত ঘটনা
  3. ভূমিকম্পের তীব্রতা
  4. বিস্ফোরণ 
ব্যাখ্যা

- রিখটার স্কেল হল একটি লগারিদমিক স্কেল যা ভূমিকম্পের তীব্রতা নির্ধারণে ব্যবহৃত হয়।
- এটি ১৯৩৫ সালে ভূকম্পবিদ চার্লস এফ. রিখটার এবং বেনো গুটেনবার্গ দ্বারা তৈরি করা হয়েছিল।
- এটি ভূমিকম্পের আকার নির্ধারণের জন্য সিসমোগ্রাফ দ্বারা ক্যালিব্রেটেড বৃহত্তম ভূকম্পিক তরঙ্গের প্রশস্ততা (উচ্চতা) এর লগারিদম ব্যবহার করে।

- অপরদিকে, 
⇒ সিসমোগ্রাফ হল ভূমিকম্প, বিস্ফোরণ এবং অন্যান্য ভূমি-কম্পনজনিত ঘটনা দ্বারা সৃষ্ট ভূমিকম্প তরঙ্গ সনাক্ত এবং রেকর্ড করার জন্য ব্যবহৃত একটি যন্ত্র। 

- রিকটার স্কেল ও সিসমোগ্রাফ দুটাই ভূমিকম্পের ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়।

উৎস: ব্রিটানিকা

.
বাংলাদেশের আন্তঃসীমান্ত নদীর সংখ্যা কতটি?
  1. ৫৯টি
  2. ৫৩টি
  3. ৫৭টি
  4. ৫১টি
ব্যাখ্যা

• বাংলাদেশের আন্তঃসীমান্ত নদী:
- আন্তঃসীমান্ত নদী ৫৭টি। 
- ভারত থেকে বাংলাদেশে আসা নদী ৫৪টি।
- মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে আসা নদী ৩ টি। (নাফ, সাঙ্গু, মাতামুহুরী)
- আন্তর্জাতিক নদী ১ টি। (পদ্মা)
- বাংলাদেশের প্রায় সব নদীর প্রবাহের দিক উত্তর থেকে দক্ষিণে (সর্পিল গতি)।
- পূর্ব থেকে পশ্চিমে প্রবাহিত নদী মাতামুহুরী, ডাকাতিয়া, গোমতী।
- দুবার ভারতে ও বাংলাদেশে প্রবেশ করে আত্রাই, পুনর্ভবা ও টাঙ্গন নদী। 
- সর্বাধিক নাব্য নদী মেঘনা। 
- বাংলাদেশে উৎপত্তি হয়ে ভারতে যাওয়া নদী ১ টি (কুলিখ)।
- বাংলাদেশে উৎপত্তি ও সমাপ্তি হওয়া নদী ১ টি (হালদা)।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন ও যৌথ নদী কমিশনের ওয়েবসাইট।

.
দুর্যোগের দীর্ঘস্থায়ী হ্রাস এবং দুর্যোগ পূর্বপ্রস্তুতিকে বলা হয় -
  1. উন্নয়ন
  2. সাড়াদান
  3. পুনরুদ্ধার
  4. প্রশমন 
ব্যাখ্যা

• দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা (Disaster Management)
- দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা হচ্ছে এরূপ একটি ব্যবহারিক বিজ্ঞান যার আওতায় পড়ে- যথাযথ পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণের মাধ্যমে দুর্যোগ প্রতিরোধ,দুর্যোগ প্রস্তুতি এবং দুর্যোগে সাড়াদান ও পুনরুদ্ধার ইত্যাদি কার্যক্রম।

• প্রশমন (Mitigation)
⇒ দুর্যোগের দীর্ঘস্থায়ীহ্রাস এবং দুর্যোগ পূর্বপ্রস্তুতিকেই দুর্যোগ প্রশমন বলে।

⇒ মজবুত পাকা ভবন নির্মাণ, শস্য বহুমুখীকরণ, ভূমি ব্যবহারে বিপর্যয় হ্রাসের কৌশল নির্ধারণ, অর্থনৈতিক উন্নয়ন, শক্ত অবকাঠামো নির্মাণ, কম ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় লোক স্থানান্তর; প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো গঠন ইত্যাদি কার্যক্রম দুর্যোগ প্রশমনের আওতাভুক্ত।

⇒  দীর্ঘস্থায়ী দুর্যোগ প্রশমন ব্যয়বহুল ।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

.
মৌসুমী বায়ুর প্রভাবে বাংলাদেশের বৃষ্টিপাত প্রধানত কোন সময় ঘটে?
  1. জানুয়ারি–মার্চ
  2. এপ্রিল–মে
  3. জুন–অক্টোবর
  4. নভেম্বর–ফেব্রুয়ারি
ব্যাখ্যা

• বাংলাদেশের জলবায়ু:
- বাংলাদেশের জলবায়ু মোটামুটি সমভাবাপন্ন।
- কর্কটক্রান্তি রেখা এ দেশের প্রায় মাঝখান দিয়ে অতিক্রম করায় এখানে ক্রান্তীয় জলবায়ু বিরাজমান।
- তবে বিভিন্ন ঋতুর আবির্ভাব থাকায় এদেশের সামগ্রিক জলবায়ুকে ক্রান্তীয় মৌসুমিন জলবায়ু বলা হয়।
-  শীতকালে তাপমাত্রা ৭০ সেলসিয়াস পর্যন্ত নামে অপর দিকে গ্রীস্মকালে কখনও কখনও তাপমাত্রা ৪০° সেলসিয়াসের উপরেও উঠে।
- কিন্তু বার্ষিক গড় তাপমাত্রা কম বেশী ২৪° সেলসিয়াস।
- কিন্তু গ্রীষ্মকালীন গড় তাপমাত্রা প্রায় ২৮° সেলসিয়াস।
- শীত ও গ্রীষ্মের উত্তাপের পার্থক্য খুবই কম। এ মাসের গড় তাপমাত্রা থাকে ১৭° সেলিসিয়াসের কাছাকাছি।
- মৌসুমী বায়ুর প্রভাবে জুন থেকে অক্টোবর মাস পর্যন্ত বৃষ্টি হয়।
- বাংলাদেশের সবচেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত হয় সিলেট অঞ্চলে।
- নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারী মাস শীত কাল বলে পরিচিত। জানুয়ারী হচ্ছে সবচেয়ে শীতল মাস।

উৎস: ভূগোল, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

.
খুলনা কোন নদীর তীরে অবস্থিত?
  1. কীর্তনখোলা নদী
  2. রূপসা নদী
  3. সুরমা নদী
  4. তিস্তা নদী
ব্যাখ্যা

• রূপসা-পসুর নদী :
- রূপসা-পসুর নদী  বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমে সুন্দরবনের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত একটি বৃহৎ শাখা নদী।
- নদীটি প্রকৃতপক্ষে রূপসা নদীরই বর্ধিত রূপ।
- খুলনা জেলার দক্ষিণে ভৈরব নদী বা রূপসা নদী আরও দক্ষিণে মংলা বন্দরের কাছে পসুর নামে প্রবাহিত হয়ে ত্রিকোণা ও দুবলা দ্বীপদুটির ডানদিক দিয়ে বঙ্গোপসাগরে পতিত হয়েছে।
- মংলার দক্ষিণে পসুর নদী সুন্দরবনের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
- গড়াই নদীর অধিকাংশ প্রবাহ নবগঙ্গা নদীর মধ্য দিয়ে এই নদীতে প্রবাহিত হয়। 
- বদ্বীপ অঞ্চলে আকারের দিক দিয়ে মেঘনার পর রূপসা-পসুরের স্থান। 
- মংলা থেকে পসুর প্রায় ৩২ কিমি দক্ষিণে মংলা খালের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে।
- তারপর প্রায় দক্ষিণাভিমুখে প্রবাহিত হয়ে মোহনার ৩২ কিমি উত্তরে শিবসার সঙ্গে মিলিত হয় এবং পসুর নামে সাগরে পতিত হয়।

অন্যদিকে,
- কীর্তনখোলা নদীর তীরে অবস্থিত- বরিশাল।
- তিস্তা নদীর তীরে অবস্থিত- রংপুর।
- সুরমা নদীর তীরে অবস্থিত- সিলেট, সুনামগঞ্জ।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

.
বাংলাদেশের বন গবেষণা কেন্দ্র কোথায় অবস্থিত?
  1. খুলনা
  2. ময়মনসিংহ
  3. বরিশাল
  4. চট্টগ্রাম
ব্যাখ্যা

• বাংলাদেশ বন গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএফআরআই):
- বাংলাদেশ বন গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএফআরআই) দেশের বন গবেষণা বিষয়ক একমাত্র জাতীয় প্রতিষ্ঠান।
- দেশের বনজ সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহার ও প্রযুক্তি উদ্ভাবনের উদ্দেশ্যে ‘‘ফরেস্ট রিসার্চ ল্যাবরেটরি’’ নামে ১৯৫৫ সালে চট্টগ্রামে এটি প্রতিষ্ঠিত হয়।
- পরবর্তীতে বন ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত গবেষণার সুযোগ সৃষ্টি করে ১৯৬৮ সালে উক্ত ল্যাবরেটরিকে বন বিষয়ক একটি পূর্ণাঙ্গ জাতীয় গবেষণা প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরিত করা হয়।
- এ প্রতিষ্ঠানটি ১৯৮৫ সাল থেকে পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয় (বর্তমানে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়)-এর সরাসরি নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত হচ্ছে।
- প্রতিষ্ঠানটি ১৯৯৬ সালে National Agriculture Research System (নার্স) এর আওতাভুক্ত হয়।

উৎস: বাংলাদেশ বন গবেষণা ইনস্টিটিউট।

.
দুর্যোগ প্রতিরোধের কাঠামোগত দুর্যোগ প্রশমনের উদাহরণ কোনটি?
  1. বেড়িবাঁধ তৈরি
  2. জনগণকে সচেতন করা
  3. প্রশিক্ষণ দেওয়া
  4. পূর্বপ্রস্তুতি নেওয়া
ব্যাখ্যা

• দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা:
- দুর্যোগ প্রতিরোধ, দুর্যোগ প্রশমন এবং দুর্যোগের পূর্বপ্রস্তুতি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার মুখ্য উপাদান। 

• প্রতিরোধ (Prevention)
- প্রাকৃতিক দুর্যোগকে সম্পূর্ণরূপে প্রতিরোধ করা সম্ভব না হলেও এর ক্ষয়ক্ষতি কমানোর ব্যাপারে প্রতিরোধ কার্যক্রম সফলতা বয়ে আনতে পারে।
- দুর্যোগ প্রতিরোধের কাঠামোগত এবং অকাঠামোগত প্রশমনের ব্যবস্থা রয়েছে।

কাঠামোগত প্রশমনের ক্ষেত্রে বিভিন্ন নির্মাণ কার্যক্রম যথা- বেড়িবাঁধ তৈরি, আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ, পাকা ও মজবুত ঘরবাড়ি তৈরি, নদী খনন ইত্যাদি বাস্তবায়নকেই বোঝায়। কাঠামোগত দুর্যোগ প্রশমন খুবই ব্যয়বহুল, যা অনেক দরিদ্র দেশের পক্ষে বহন করা কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে।

⇒ অকাঠামোগত দুর্যোগ প্রতিরোধ যেমন- প্রশিক্ষণ, গণসচেতনতা বৃদ্ধি, পূর্বপ্রস্তুতি ইত্যাদিকার্যক্রম স্বল্প ব্যয়ে করা সম্ভব।

 উৎস: ভূগোল ‍ও পরিবেশ, এসএসসি, নবম-দশম শ্রেণি।

১০.
গ্রীষ্মকালে বাংলাদেশের গড় তাপমাত্রা প্রায় কত ডিগ্রী সেলসিয়াস?
  1. ২৪° সেলসিয়াস
  2. ২৮° সেলসিয়াস 
  3. ৩০° সেলসিয়াস
  4. ৩৫° সেলসিয়াস
ব্যাখ্যা

• বাংলাদেশের জলবায়ু:
- বাংলাদেশের জলবায়ু মোটামুটি সমভাবাপন্ন।
- কর্কটক্রান্তি রেখা এ দেশের প্রায় মাঝখান দিয়ে অতিক্রম করায় এখানে ক্রান্তীয় জলবায়ু বিরাজমান।
- তবে বিভিন্ন ঋতুর আবির্ভাব থাকায় এদেশের সামগ্রিক জলবায়ুকে ক্রান্তীয় মৌসুমিন জলবায়ু বলা হয়।
-  শীতকালে তাপমাত্রা ৭০ সেলসিয়াস পর্যন্ত নামে অপর দিকে গ্রীস্মকালে কখনও কখনও তাপমাত্রা ৪০° সেলসিয়াসের উপরেও উঠে।
- কিন্তু বার্ষিক গড় তাপমাত্রা কম বেশী ২৪° সেলসিয়াস।
- কিন্তু গ্রীষ্মকালীন গড় তাপমাত্রা প্রায় ২৮° সেলসিয়াস।
- শীত ও গ্রীষ্মের উত্তাপের পার্থক্য খুবই কম। এ মাসের গড় তাপমাত্রা থাকে ১৭° সেলিসিয়াসের কাছাকাছি।
- মৌসুমী বায়ুর প্রভাবে জুন থেকে অক্টোবর মাস পর্যন্ত বৃষ্টি হয়।
- বাংলাদেশের সবচেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত হয় সিলেট অঞ্চলে।
- নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারী মাস শীত কাল বলে পরিচিত। জানুয়ারী হচ্ছে সবচেয়ে শীতল মাস।

উৎস: ভূগোল, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১১.
২০০৯ সালে বিশ্বব্যাংক বৈশ্বিক উষ্ণায়নের জন্য কতটি দিককে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে?
  1. ৩টি
  2. ৪টি
  3. ৭টি 
  4. ৫টি
ব্যাখ্যা

• বাংলাদেশে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব:
- জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে ঝুঁকিপূর্ণ দেশসমূহের মধ্যে শীর্ষে অবস্থান করছে বাংলাদেশ।
- জাতিসংঘ তার সতর্কীকরণে বলেছে পরবর্তী ৫০ বছরে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা ৩ ফুট বাড়লে বাংলাদেশের সমুদ্র উপকূলবর্তী একটি অংশ প্লাবিত হবে এবং দেশের প্রায় ১৭ শতাংশ ভূমি পানির নিচে চলে যাবে। ’আনুমানিক ৩ কোটি মানুষ তাদের ঘরবাড়ি, ফসলি জমি হারিয়ে উদ্বাস্তুতে পরিণত হবে। উচ্চ তাপমাত্রার প্রভাবে ঘন ঘন বন্যা, ঝড়, অনাবৃষ্টি, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি ইত্যাদি ঝুঁকি বাড়বে।

- জলবায়ু পরিবর্তনের ফলেই এশিয়ায় পানির স্বল্পতা দেখা যাবে এবং ২০৫০ সালের মধ্যে প্রায় ১৫০ কোটি মানুষ ক্ষতিগ্রস্থ হবে।
- ইন্টারগভার্মেন্টাল প্যানেল অন ক্লাইমেন্ট চেঞ্জ (আইপিসিসি) এর তথ্যানুযায়ী, ২০৩০ সালের পর এদেশের নদীর প্রবাহ অনেক কমে যাবে।

• ২০০৯ সালে বিশ্বব্যাংক বৈশ্বিক উষ্ণায়নের জন্য ৫টি ঝুঁকিপূর্ণ দিক চিহ্নিত করেছে: 
যথা-
→ বন্যা,
→ ঝড়,
→ মরুকরণ,
→ সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি এবং
→ কৃষিক্ষেত্রে অধিকতর অনিশ্চয়তা।

- এগুলোর প্রতিটিতে শীর্ষ ঝুঁকিপূর্ণ ১২টি দেশের তালিকা তৈরি হয়েছে।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১২.
একটি দেশের পারস্পরিক ভারসাম্য এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য মোট ভূমির কতভাগ বনভূমি থাকা প্রয়োজন?
  1. ২৫ ভাগ
  2. ২৯ ভাগ
  3. ২৩ ভাগ
  4. ১৭ ভাগ
ব্যাখ্যা

• বাংলাদেশের বনাঞ্চল (Forest of Bangladesh):
- বনভূমি থেকে যে সম্পদ উৎপাদিত হয় বা পাওয়া যায় তাকে বনজ সম্পদ বলে।
- কোনো দেশের পারস্পরিক ভারসাম্য এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য মোট ভূমির ২৫ ভাগ বনভূমি থাকা প্রয়োজন।
- কিন্তু বাংলাদেশ বন অধিদপ্তর কর্তৃক ২০১৭ সালের হিসাব অনুযায়ী ডিসেম্বর ২০১৬ পর্যন্ত বাংলাদেশে মোট বনভূমির পরিমাণ শতকরা প্রায় ১৭.৪৭৯১ ভাগ।
- জলবায়ু ও মাটির গুণাগুণের তারতম্যের কারণে বাংলাদেশের বনভূমিকে তিন শ্রেণিতে বিভক্ত করা যায়:

ক) ক্রান্তীয় চিরহরিৎ এবং পাতাঝরা গাছের বনভূমি।
খ) ক্রান্তীয় পাতাঝরা গাছের বনভূমি।
গ) স্রোতজ বনভূমি বা সুন্দরবন।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

১৩.
UNESCO সুন্দরবনকে বিশ্ব ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে ঘোষণা করে কত সালে?
  1. ১৯৯৩ সালে
  2. ১৯৯৭ সালে
  3. ১৯৯৬ সালে
  4. ১৯৯১ সালে
ব্যাখ্যা

 সুন্দরবন:
- সমুদ্র উপকূলবর্তী নোনা পরিবেশের সবচেয়ে বড় ম্যানগ্রোভ বনভূমি হিসেবে অখন্ড বন যা বিশ্বে সর্ববৃহৎ।
- এই বনভূমি গঙ্গা ও ব্রহ্মপুত্রের মোহনায় অবস্থিত এবং বাংলাদেশ ও ভারতের পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে বিস্তৃত ।
- ১০,০০০ বর্গ কিলোমিটার জুড়ে গড়ে ওঠা সুন্দরবনের ৬,০১৭ বর্গ কিলোমিটার রয়েছে বাংলাদেশে।
- UNESCO ১৯৯৭ সালের ৬ ডিসেম্বর সুন্দরবনকে ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।
- সুন্দরবনকে জালের মত জড়িয়ে রয়েছে সামুদ্রিক স্রোতধারা, কাদা চর এবংম্যানগ্রোভ বনভূমির লবণাক্ততাসহ ছোট ছোট দ্বীপ।
- ১৯৯২ সালের ২১শে মে সুন্দরবন রামসার স্থান হিসেবে স্বীকৃতি পায়।

উৎস: বাগেরহাট জেলা, জাতীয় তথ্য বাতায়ন ওয়েবসাইট।

১৪.
পদ্মানদীর প্রধান শাখা নদী কোনটি?
  1. তিস্তা
  2. আড়িয়াল খাঁ 
  3. করতোয়া
  4. আত্রাই
ব্যাখ্যা

• পদ্মানদীর শাখা নদী- ভাগীরথী, হুগলি, মাথাভাঙ্গা, ইছামতী, ভৈরব, কুমার, কপোতাক্ষ, নবগঙ্গা, চিত্রা, মধুমতী, আড়িয়াল খাঁ ইত্যাদি। 

• মহানন্দার উপনদী পুবর্ভবা, নাগর, কুলিক, ট্যাংগন, পাগলা প্রভৃতি।
• কর্ণফুলীর প্রধান উপনদী হলো- কাপ্তাই, হালদা, কাসালায়ং, রাঙখিয়াং,
• যমুনার উপনদীগুলোর মধ্যে ধরলা, তিস্তা, করতোয়া, আত্রাই অন্যতম। 
• মেঘনার উপনদীসমূহের মধ্যে মনু, বাউলাই, গোমতী, তিতাস, কাসনি অন্যতম।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম ও দশম শ্রেণি ।

১৫.
বাংলাদেশে প্রথম গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কার করা হয়েছিল কোথায়?
  1. বাখরাবাদ
  2. হরিপুর
  3. রশিদপুর
  4. তিতাস
ব্যাখ্যা

• প্রাকৃতিক গ্যাস
- বাংলাদেশের খনিজ সম্পদের মধ্যে প্রাকৃতিক গ্যাসই গুরুত্বপূর্ণ।
- ১৯৫৫ সালে বার্মা ওয়েল কোম্পানি সিলেটের হরিপুর এলাকায় দেশের প্রথম গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কার করে।
- ১৯৫৭ সাল থেকে গ্যাস উৎপাদন শুরু হয়।

- বর্তমানে দেশে মোট ২৯টি গ্যাস ক্ষেত্র রয়েছে।
- বাংলাদেশে বেশ কয়েকটি গ্যাসক্ষেত্র রয়েছে, যেমন- বিবিয়ানা, তিতাস, হবিগঞ্জ, বাখরাবাদ, রশিদপুর ইত্যাদি।
- এর মধ্যে ভোলার ইলিশা-১ কূপটি দেশের সর্বশেষ (২৯তম) গ্যাসক্ষেত্র।
- বাংলাদেশের অন্যান্য খনিজ সম্পদের মধ্যে কয়লা, চুনাপাথর, কঠিন শিলা, গন্ধক ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।

উৎস: এস এস সি পোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়  এবং পেট্রোবাংলা।

১৬.
চা চাষের জন্য বার্ষিক কত বৃষ্টিপাত প্রয়োজন?
  1. ৪৫০ সেমি
  2. ৫০০ সেমি
  3. ৩০০ সেমি
  4. ২৫০ সেমি 
ব্যাখ্যা

• চা (Tea) 
- বাংলাদেশের অর্থকরী ফসলের মধ্যে চা অন্যতম।
- দেশে উৎপাদিত চা-এর প্রায় বেশিরভাগ বিদেশে রপ্তানি হয়।
- পানি নিষ্কাশনবিশিষ্ট ঢালু জমিতে চা ভালো হয়। 
- মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, সিলেটে সবচেয়ে বেশি চা বাগান রয়েছে।
- এছাড়া চট্টগ্রাম, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি, বান্দরবান, ঠাকুরগাঁও ও পঞ্চগড়ে চা চাষহচ্ছে

- চা চাষের জন্য উষ্ণ ও আর্দ্র জলবায়ু প্রয়োজন। 
- ১৬° থেকে ১৭° সেলসিয়াস তাপমাত্রা এবং ২৫০ সেন্টিমিটার বৃষ্টিপাত প্রয়োজন।
- উর্বর লৌহ ও জৈব পদার্থ মিশ্রিত দোআঁশ মাটিতে চা চাষ ভালো হয়।

উৎস: ভূগোল পরিবেশ, নবম ও দশম শ্রেণি।

১৭.
নিম্নলিখিত কোনটি প্লাইসটোসিন উচ্চভূমির অন্তর্গত নয়?
  1. লালমাই পাহাড়ি অঞ্চল
  2. বরেন্দ্রভূমি
  3. মধুপুর ভাওয়ালের গড়
  4. বান্দরবান পাহাড় 
ব্যাখ্যা

প্লাইসটোসিন উচ্চভূমির অন্তর্গত নয়- বান্দরবন পাহাড় ।

- বাংলাদেশের প্রায় সমগ্র অঞ্চল এক বিস্তীর্ণ সমভূমি।
-  বাংলাদেশে সামান্য পরিমাণে উচ্চভূমি রয়েছে। 
- ভূপ্রকৃতির ভিত্তিতে বাংলাদেশকে প্রধানত তিনটি শ্রেণিতে ভাগ করা যায়।

- টারশিয়ারি পাহাড় অঞ্চল,
- প্লাইসটোসিন উচ্চভূমি ,
- এবং প্লাবন সমভূমি ।

• প্লাইসটোসিন উচ্চভূমি :
- আনুমানিক ২৫০০০ বছর পূর্বের  সময়কে প্লাইস্টানকাল বলে।
- প্লাইসটোসিন উচ্চভূমির অন্তর্গত ভূ-অঞ্চাল হল-
- লালমাই পাহাড়ি অঞ্চল,
- বরেন্দ্রভূমি, মধুপুর ভাওয়ালের গড় ( টাঙ্গাইল)। 

• টারশিয়ারি পাহাড় অঞ্চলের অন্তর্গত ভূ-অঞ্চল -  
- উত্তর ও পূর্বাঞ্চলের পাহাড়ি অঞ্চল,
- দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চালের পাহাড় সমূহ।
- বাংলাদেশের মোট ভূমির প্রায় ১২% ভাগ নিয়ে টারশিয়ারি পাহাড় অঞ্চল গঠিত।
- দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চালের পাহাড় সমূহ- রাঙ্গামাটি, বান্দরবন, কক্সবাজার,ও চট্টগ্রাম, জেলার পূর্বাংশ এ অঞ্চলের অন্তর্গত।
- উত্তর ও পূর্বাঞ্চলের পাহাড়ি অঞ্চল- ময়মনসিংহ ও নেত্রকোণা জেলার উত্তরাংশ, সিলেট জেলার উত্তর ও উত্তর- পূর্বাংশ এবং মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলার পাহাড়গুলো নিয়ে এ অঞ্চল গঠিত।  

• সাম্প্রতিককালের প্লাবন সমভূমিকে কয়েকটি ভাগে ভাগ করা যায়। যেমন-
(ক) রংপুর ও দিনাজপুরের পাদদেশীয় সমভূমি।
(খ) ঢাকা, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, জামালপুর, পাবনা, কুমিল্লা, নোয়াখালী ও সিলেটের অন্তর্গত বন্যা প্লাবন সমভূমি।
(গ) ফরিদপুর, কুষ্টিয়া, যশোর, খুলনা ও ঢাকা অঞ্চলের অংশবিশেষ নিয়ে ব-দ্বীপ সমভূমি।
(ঘ) নোয়াখালী ও ফেনী নদীর নিম্নভাগ থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত বিস্তৃত চট্টগ্রামের উপকূলীয় সমভূমি।
(ঙ) খুলনা ও পটুয়াখালী অঞ্চল এবং বরগুনা জেলার কিয়দংশ নিয়ে স্রোতজ সমভূমি।

উৎস: ভূগোল পরিবেশ, নবম ও দশম শ্রেণি।

১৮.
ঋতু পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে যে বায়ু প্রবাহের দিক পরিবর্তিত হয় তাকে বলা হয়-
  1. নিয়ত বায়ু
  2. মৌসুমি বায়ু
  3. মেরু বায়ু
  4. অনিয়মিত বায়ু
ব্যাখ্যা

• মৌসুমি বায়ুঃ 
- ঋতু পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে যে বায়ু প্রবাহের দিক পরিবর্তিত হয় তাকে বলা হয় মৌসুমি বায়।
- মৌসুমি শব্দটি এসেছে আরবি ভাষায় "মওসুম" শব্দ থেকে যার অর্থ হলো ঋতু।
- এটি একটি আঞ্চলিক বায়ু। 
- সূর্যের উত্তরায়ণ ও দক্ষিণায়নের ফলে শীত ও গ্রীষ্মে ঋতুভেদে স্থলভাগ ও জলভাগের তাপের তারতম্য হয় বলেই মৌসুমি বায়ুর সৃষ্টি হয়।
- প্রধানত দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় মৌসুমি বায়ুপ্রবাহ দেখা যায়।
- এছাড়াও কর্কটক্রান্তী অঞ্চলে যেমন- যুক্তরাষ্ট্র, উত্তর অস্ট্রেলিয়া, আফ্রিকার কিছু অংশ, মধ্য এশিয়া, উত্তর-পশ্চিম ভারত ইত্যাদি অঞ্চলে এই বায়ু প্রবাহের অন্তর্গত। 

- উত্তর গোলার্ধে গ্রীষ্মকালে লম্বভাবে সূর্যকিরণ পতিত হওয়ার জন্য কর্কটক্রান্তির বায়ুর চাপ কমে যায় ও সুবৃহৎ নিম্নচাপ কেন্দ্র সৃষ্টি হয়। - এ অবস্থায় দক্ষিণ গোলার্ধের ক্রান্তীয় উচ্চচাপ বলয় থেকে আগত দক্ষিণ-পূর্ব অয়ন বায়ু নিরক্ষরেখা অতিক্রম করে। 
- এশিয়া মহাদেশের নিম্নচাপ কেন্দ্রের দিকে প্রবলবেগে ছুটে যাওয়া এই বায়ুকে তাই বলা হয় উত্তর গোলার্ধে গ্রীষ্মের মৌসুমি বায়ু।
- মধ্য এশিয়ায় নিম্নচাপের দ্বারা দক্ষিণ-পূর্ব মৌসুমি বায়ু উৎপন্ন হয়।
- ফলে চীন, থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম, জাপান, কম্বোডিয়া, লাওস ইত্যাদি দেশে বৃষ্টিপাত ঘটে। 
- মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে পাকিস্তান, মিয়ানমার, বাংলাদেশ ও ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, আসাম, মেঘালয়ে বৃষ্টিপাত হয়।
- অপরদিকে শীতকালে সূর্য দক্ষিণ গোলার্ধে অবস্থান করে এবং মকরক্রান্তিতে তখন নিম্নচাপ সৃষ্ট হয়।
- উত্তর গোলার্ধে স্থলভাগ শীতল হয় বলে তখন ঐ স্থানে উচ্চচাপ বলয় সৃষ্টি হয়।
- এই সময় বায়ু উত্তর-পূর্ব দিক থেকে প্রবাহিত হয় বলে একে উত্তর-পূর্ব মৌসুমি বায়ু বলে এবং এই বায়ু শুষ্ক থাকে। 
- মৌসুমি বায়ু নিরক্ষরেখা অতিক্রম করলে ফেরেলের সূত্রানুযায়ী বাম দিকে বেঁকে যায় এবং উত্তর-পশ্চিমে মৌসুমি বায়ুরূপে উত্তর অস্ট্রেলিয়ার দিকে অগ্রসর হয়ে বৃষ্টিপাত ঘটায়।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্তবিশ্ববিদ্যালয়।

১৯.
ভূমিকম্প সংঘটন বিন্দুর সরাসরি উপরে ভূ-পৃষ্ঠের বিন্দুকে বলা কী বলা হয়?
  1. এনডোসেন্টার
  2. পিকপয়েন্ট
  3. এপিসেন্টার
  4. মিডপয়েন্ট
ব্যাখ্যা

• এপিসেন্টার বা উপকেন্দ্র , 
এটি ভূপৃষ্ঠের উপর অবস্থিত একটি বিন্দু যা ভূগর্ভস্থ বিন্দুর ঠিক উপরে অবস্থিত (যাকে বলা হয়(যেখানে ফল্ট ফেটে যায় , সেখানে ভূমিকম্পের সৃষ্টি হয় ।
- ভূমিকম্পের প্রভাব কেন্দ্রস্থলের আশেপাশে সবচেয়ে তীব্র নাও হতে পারে। 
- তিনটি বা ততোধিক ভূকম্পিক পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র থেকে প্রতিটি কেন্দ্রস্থলে ভূকম্পিক তরঙ্গের ভ্রমণের সময়ের সমানুপাতিক চাপ গণনা করে কেন্দ্রস্থলটি সনাক্ত করা যেতে পারে।
 - চাপগুলির ছেদ বিন্দু কেন্দ্রস্থল চিহ্নিত করে।

উৎস: ব্রিটানিকা।

২০.
খরার সময় কোন ধরনের দুর্যোগের উপদ্রব বেড়ে যায়?
  1. ভূমিকম্প
  2. অগ্নিকাণ্ড 
  3. ঘূর্ণিঝড়
  4. বন্যা
ব্যাখ্যা

• খরা (Drought):
⇒ দীর্ঘ সময় বৃষ্টি না হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে যে অবস্থা তাকে খরা বলে। অনেকদিন বৃষ্টিহীন অবস্থা থাকলে অথবা অপর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত হলে মাটির আর্দ্রতা কমে যায়। সেই সঙ্গে মাটি তার স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য বা কোমলতা হারিয়ে রুক্ষরূপ গ্রহণ করে খরায় পরিণত হয়।

• অনাবৃষ্টি বা খরার প্রভাব (Rainless or Impact of Drought):
-  দেশে উত্তর-পূর্বাঞ্চলে খরার প্রভাবে কৃষিজ ফসলের উৎপাদন কমে যায়
- খাদ্যদ্রব্যের অভাব হওয়ায় দুর্ভিক্ষ দেখা দেয়
- উপদ্রুত অঞ্চলে পানির অভাব দেখা দেয়
- প্রবল উত্তাপে বিভিন্ন ধরনের অসুখের প্রাদুর্ভাব ঘটে
- পরিবেশ রুক্ষ হয়ে ওঠে
- অগ্নিকান্ডের উপদ্রব বেড়ে যায়
- বৃষ্টিহীন ও খরাযুক্ত পরিবেশ মানুষ ও জীবজগতের স্বাভাবিক কাজকর্মের বিঘ্ন সৃষ্টি করে।
- বনজ সম্পদ বৃদ্ধি তথা অধিক বৃক্ষরোপণ করে এবং ভূগর্ভস্থ পানির ব্যবহার কমিয়ে এ ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগকে কিছুটা নিয়ন্ত্রণ করা যায়।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম ও দশম শ্রেণি।

২১.
বাংলাদেশে সৃষ্ট বন্যার মানবসৃষ্ট কারণ কোনটি?
  1. মৌসুমি জলবায়ুর প্রভাব
  2. বঙ্গোপসাগরে ভরা জোয়ার
  3. নদীগুলো পলি দ্বারা ভরাট হয়ে যাওয়া
  4. নদীর উপর নির্মিত বাঁধের প্রভাব
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশে বন্যার মানবসৃষ্ট কারণ- নদীর উপর নির্মিত বাঁধের প্রভাব।

• বন্যার কারণসমূহ-
⇒ মানব সৃষ্ট কারণ:
- অপরিকল্পিত নগরায়ন ও জলাধার ভরাট করে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ বিঘ্ন করা।
- অপরিকল্পিত রাস্তাঘাট নির্মাণ।
- গঙ্গা নদীর উপর ফারাক্কা ও তিস্তা নদীর উপর নির্মিত বাঁধের প্রভাব।
- বালু ভরাট করে নদীসমূহের স্বাভাবিক প্রবাহে বাধা দান।

⇒ প্রাকৃতিক কারণ:
- বর্ষাকালে উত্তরাঞ্চলে নদীর উজানে প্রচুর বৃষ্টি।
- মৌসুমি জলবায়ুর প্রভাব।
- মূল নদীসমূহের গভীরতা হ্রাস পাওয়া।
- বঙ্গোপসাগরে ভরা জোয়ার।
- হিমালয়ের বরফগলা পানিপ্রবাহ।
- শাখা নদীগুলো পলি দ্বারা ভরাট হয়ে যাওয়া।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, ৯ম ১০ম শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।