পরীক্ষা আর্কাইভ

১৪০ দিনে ৫১তম বিসিএস প্রস্তুতি

পরীক্ষা১৪০ দিনে ৫১তম বিসিএস প্রস্তুতিতারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়17 minutes২৭ বৈধ · অসম্পূর্ণ
মোট প্রশ্ন২৮
সিলেবাস
বিষয় - নৈতিকতা, মূল্যবোধ ও সু-শাসন টপিকসমূহ: 1) Impact of Values Education and Good Governance in national development; 2) How the element of Good Governance and Values Education can be established in society in a given social context; 3) The benefits of Values Education and Good Governance and the cost society pays adversely in their absence. এবং বিষয় - বাংলাদেশ বিষয়াবলি টপিকসমূহ: ১. বাংলাদেশের রাজনৈতিক ব্যবস্থা: রাজনৈতিক দলসমূহের গঠন, ভূমিকা ও কার্যক্রম, ক্ষমতাসীন ও বিরোধী দলের পারস্পরিক সম্পর্কাদি, সুশীল সমাজ ও চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠীসমূহ এবং এদের ভূমিকা। ২. বাংলাদেশ ও উপমহাদেশের বিখ্যাত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, সমাজ সংস্কারক। ------------------- [নির্দেশিকা: এই রুটিনে সারাবছর জুড়ে পরীক্ষা চলমান থাকে। আজ বা যেকোন সময় পরীক্ষা শুরু করা হলেও নির্দিষ্ট সময়ে পুরো সিলেবাস সম্পন্ন হবে]
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

১৪০ দিনে ৫১তম বিসিএস প্রস্তুতি

১৪০ দিনে ৫১তম বিসিএস প্রস্তুতি · তারিখ অনির্ধারিত · ২৮ প্রশ্ন

.
'জাসদ' কোন আদর্শে বিশ্বাসী?
  1. গণতান্ত্রিক
  2. সমাজতান্ত্রিক
  3. ধর্মভিত্তিক
  4. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
সমাজতান্ত্রিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সমাজতান্ত্রিক
ব্যাখ্যা
• জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ):
- জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের পর একটি বামপন্থী দল হিসেবে আবির্ভূত হয়।
- আওয়ামী লীগের ছাত্র সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ভাঙন থেকেই এর উৎপত্তি।
- সিরাজুল আলম খান এবং আ.স.ম আব্দুর রবের নেতৃত্বাধীন ছাত্রলীগের বামপন্থী অংশটির হাতেই ১৯৭২ সালের ৩১ অক্টোবর জাসদের গোড়াপত্তন হয় এবং মেজর (অব) এম.এ জলিল ও আব্দুর রব দলের যুগ্ম-আহ্বায়ক হন।
- দলটির লক্ষ্য ছিল বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্র এবং কৃষক-শ্রমিকদের নেতৃত্বে বিপ্লব সংঘটিত করার মাধ্যমে একটি শোষণমুক্ত শ্রেণীহীন সমাজ প্রতিষ্ঠা করা।
- এ দলটি ১৯৭২ থেকে ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের তীব্র বিরোধিতা করে।
- আওয়ামী লীগ সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার লক্ষ্যে এটি একটি গণবাহিনী গঠন করে।
- ১৯৭৪ থেকে ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত সময়কালে এ দল সরকার বিরোধী প্রচণ্ড আন্দোলন গড়ে তোলে।
- জাসদ জনগণের বিপ্লবী সেনাবাহিনী নামের আড়ালে সেনাবাহিনীর মধ্যে নিজস্ব কিছু গোপন সেল গঠন করে।
-১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের অভ্যুত্থান এবং একটি পাল্টা অভ্যুত্থানের পর এই দলের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে সংশ্লিষ্ট লে. কর্নেল (অব) আবু তাহেরের নেতৃত্বে একটি ‘বিপ্লব’ সংঘটিত করারও প্রচেষ্টা নেয়া হয়।
-সরকার দলটির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করে এবং এর বহু নেতা ও কর্মীকে গ্রেফতার করা হয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
.
'সতীদাহ প্রথা' বিলুপ্তকরণে মুখ্য ভূমিকা রাখেন -
  1. রাজা রামমোহন রায়
  2. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  3. শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক
  4. হাজী মুহাম্মদ মুহসীন
সঠিক উত্তর:
রাজা রামমোহন রায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাজা রামমোহন রায়
ব্যাখ্যা
 • সতীদাহ প্রথা:
- সতীদাহ প্রথা হলো হিন্দু সমাজের একটি প্রথা যেখানে স্বামীর শবের সাথে বিধবা স্ত্রীকেও দাহ করা হতো।
- ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির গভর্নর জেনারেল লর্ড উইলিয়াম বেন্টিংক ১৮২৯ সালে আইনের মাধ্যমে সতীদাহ প্রথা রহিত করেন।
- রাজা রামমোহন রায় সতীদাহ প্রথা নিষিদ্ধকরণে মূখ্য ভূমিকা পালন করেন।

রাজা রামমোহন রায়:
- বাংলার নবজাগরণের আদি পুরুষ রাজা রামমোহন রায় এর জন্ম ১৭৭২ সালের ২২শে মে হুগলী জেলার রাধানগর গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত ও ব্রাহ্মণ পরিবারে।
- ১৮৩০ সালে মুগল সম্রাট দ্বিতীয় আকবর (১৮০৬-১৮৩৭) রামমোহন রায়কে ‘রাজা’ উপাধিতে ভূষিত করেন।
- রামমোহন রায় কলকাতায় ২০ আগস্ট, ১৮২৮ সালে প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুরের সহায়তায় 'ব্রাহ্মসমাজ' স্থাপন করেন
- তিনি বেদান্ত কলেজ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
.
সরকারের কোনো ভুল হলে বিরোধী দলের প্রধান কাজ কী?
  1. হরতাল ডাকা
  2. বিশৃঙ্খলা করা
  3. গঠনমূলক সমালোচনা করা
  4. সরকারকে পদত্যাগে বাধ্য করা
সঠিক উত্তর:
গঠনমূলক সমালোচনা করা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গঠনমূলক সমালোচনা করা
ব্যাখ্যা
- রাজনৈতিক দলের অন্যতম কাজ হচ্ছে সরকারে গঠনমূলক বিরোধিতা করা।

• গঠনমূলক বিরোধিতা:

- রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনকারী দল সরকার গঠন করে এবং দ্বিতীয় সংখ্যাগরিষ্ঠ দল আইনসভায় বিরোধী দল হিসেবে ভূমিকা পালন করে।
- সরকারের কোনো কার্যক্রম ভুল হলে বিরোধী দলের প্রধান কাজ হচ্ছে গঠনমূলক সমালোচনার মাধ্যমে সরকারের ভুলত্রুটি ধরিয়ে দেওয়া।

রাজনৈতিক দলের অন্যান্য ভূমিকা:

- নেতৃত্ব তৈরি করা। 
- সরকার গঠন করা। 
- জনমত গঠন করা। 
- জনগণকে রাজনৈতিক শিক্ষাদান।
- সামাজিক ঐক্য প্রতিষ্ঠা করা।

উৎস:পৌরনীতি ও নাগরিকতা, ৯ম -১০ম শ্রেণি।
.
বাংলাদেশে বর্তমানে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল কয়টি? (ফেব্রুয়ারি, ২০২৫)
  1. ৪৪ টি
  2. ৪৬ টি
  3. ৪৮ টি
  4. ৫০ টি
অনির্ধারিত
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: ৪৯টি। 
অপশনে সঠিক উত্তর না থাকায় প্রশ্নটি বাতিল করা হলো। 
------------------------------- 

• রাজনৈতিক দল নিবন্ধন:
- রাজনৈতিক দলসমূহকে নিবন্ধনের আওতায় আনার জন্য বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন 'রাজনৈতিক দল নিবন্ধন বিধিমালা, ২০০৮' প্রণয়ন করেন।
- যেকোনো দল নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে চাইলে নির্বাচন কমিশন বরাবর দরখাস্ত ও যথাযথ দালিলাদি পদান সাপেক্ষে নিবন্ধনের আবেদন করতে পারবে।
- বর্তমানে বাংলাদেশে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের সংখ্যা ৪৯টি। (ফেব্রুয়ারি, ২০২৫)
- বাংলাদেশে সর্বশেষ নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল 'বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি'। (ফেব্রুয়ারি, ২০২৫)
- দলটির প্রতীক ফুলকপি।

উৎস: বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন ওয়েবসাইট।

.
"স্বার্থগোষ্ঠী বলতে আমরা নির্দিষ্ট স্বার্থের বন্ধনে আবদ্ধ অথবা সুযোগ-সুবিধা দ্বারা সংযুক্ত এমন এক ব্যক্তিসমষ্টিকে বুঝি যারা এরূপ বন্ধন সম্পর্কে সচেতন।" সংঙ্গাটি কার?
  1. এইচ জিগলার
  2. অ্যালমন্ড গ্যাব্রিয়েল
  3. অ্যালেন পটার
  4. অ্যালান বল
সঠিক উত্তর:
অ্যালমন্ড গ্যাব্রিয়েল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অ্যালমন্ড গ্যাব্রিয়েল
ব্যাখ্যা
• চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী:
- অ্যালমন্ড গ্যাব্রিয়েল ও জি পাওয়েল
এর মতে, "স্বার্থগোষ্ঠী বলতে আমরা নির্দিষ্ট স্বার্থের বন্ধনে আবদ্ধ অথবা সুযোগ-সুবিধা দ্বারা সংযুক্ত এমন এক ব্যক্তিসমষ্টিকে বুঝি যারা এরূপ বন্ধন সম্পর্কে সচেতন।"

অন্যদিকে,
- অ্যালেন পটার চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর পরিবর্তে 'সংগঠিত গোষ্ঠী' (Organized group) শব্দ দু'টি ব্যবহারের পক্ষে। কারণ এ ধারণার মাধ্যমে গোষ্ঠীর সংগঠনের ব্যাপকতাকে আরো যথার্থভাবে অনুধাবন করা সম্ভব।

- অ্যালান বলের মতে, “চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী হল এমন একটি গোষ্ঠী যার সদস্যগণ 'অংশীদারী মনোভাবের' দ্বারা আবদ্ধ।"

- এইচ জিগলার এর মতে, চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী হচ্ছে এমন একটি সংগঠিত ব্যক্তি সমষ্টি যার সদস্যগণ সরকারি ক্ষমতা প্রয়োগে অংশগ্রহণ করে না। বরং তাদের লক্ষ্য হল সরকারি সিদ্ধান্ত প্রভাবিত করা।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হকের জন্মস্থান কোন জেলায়?
  1. খুলনা
  2. যশোর
  3. ফরিদপুর
  4. বরিশাল
সঠিক উত্তর:
বরিশাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বরিশাল
ব্যাখ্যা
• এ.কে ফজলুল হক (১৮৭৩-১৯৬২):
- এ.কে ফজলুল হক রাজনীতিবিদ ও জননেতা।
- আবুল কাশেম ফজলুল হক বর্তমান বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণাঞ্চলের বর্ধিষ্ণু গ্রাম সাটুরিয়ায় ১৮৭৩ সালের ২৬ অক্টোবর জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি কলকাতার মেয়র (১৯৩৫), অবিভক্ত বাংলার মুখ্যমন্ত্রী (১৯৩৭-১৯৪৩) এবং পূর্ব বাংলার মুখ্যমন্ত্রী (১৯৫৪), পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী (১৯৫৫) এবং পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নরের পদ (১৯৫৬-১৯৫৮) সহ বহু উঁচু রাজনৈতিক পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন।
- লোকপ্রিয়ভাবে ‘শেরে বাংলা’ বা হক সাহেব রূপে পরিচিত।
- ১৯৪০ সালের ২৩ মার্চ সর্বভারতীয় মুসলিম লীগের লাহোর অধিবেশনে লোকপ্রিয়ভাবে পাকিস্তান প্রস্তাব নামে অভিহিত  'লাহোর প্রস্তাব' উত্থাপনের জন্য জিন্নাহ্ তাঁকে নির্বাচিত করেন। 
- তাঁর প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক দলের নাম কৃষক প্রজা পার্টি (কে.পি.পি)।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
.
কার নেতৃত্বে তিতুমীরের বাঁশের কেল্লায় আক্রমণ চালানো হয়?
  1. কর্নেল স্টুয়ার্ট
  2. ওয়ারেন হেস্টিংস
  3. কর্নেল পাওয়েল
  4. কর্নেল স্টিফেন
সঠিক উত্তর:
কর্নেল স্টুয়ার্ট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কর্নেল স্টুয়ার্ট
ব্যাখ্যা
• তিতুমীর:
- তিতুমীর ১৭৮২ সালের ২৭ জানুয়ারি (১৪ মাঘ ১১৮২ বঙ্গাব্দ) ২৪ পরগনা জেলার বসিরহাট মহকুমার চাঁদপুর (মতান্তরে হায়দরপুর) গ্রামে একটি সুন্নী মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
- সেখান থেকে এসে (১৮২৭) তিতুমীর তার গ্রামের দরিদ্র কৃষকদের সাথে নিয়ে জমিদার এবং ব্রিটিশ নীলকদের বিরুদ্ধে সংগঠিত হয়ে আন্দোলন শুরু করেন।
- ১৮৩১ সালের ২৩শে অক্টোবর বারাসতের কাছে বাদুড়িয়ার ১০ কিলোমিটার দূরে নারিকেলবাড়িয়া গ্রামে তারা বাঁশের কেল্লা তৈরি করেন।
 - ১৮৩১ সালের ১৯ নভেম্বর লে. কর্নেল স্টুয়ার্টের নেতৃত্বাধীন বাহিনীর সাথে যুদ্ধে কামানের গোলায় তার বাঁশেরকেল্লা ধ্বংস হয়ে যায় এবং তিনিসহ তার বহু অনুসারী শহিদ হন।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণী এবং বাংলাপিডিয়া।
.
বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী কে ছিলেন?
  1. আইভি রহমান
  2. শেখ হাসিনা
  3. রওশন এরশাদ
  4. বেগম খালেদা জিয়া
সঠিক উত্তর:
বেগম খালেদা জিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বেগম খালেদা জিয়া
ব্যাখ্যা
বেগম খালেদা জিয়া:
- বেগম খালেদা জিয়া বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী (১৯৯১-১৯৯৬, ২০০১-২০০৬) এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের চেয়ারপার্সন।
- বেগম খালেদা জিয়া ১৯৪৫ সালের ১৫ আগস্ট দিনাজপুর জেলার জলপাইগুড়িতে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর আদি নিবাস ছিল ফেনী জেলার ফুলগাজী থানায়।
- ১৯৬০ সালে তৎকালীন ক্যাপ্টেন এবং পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়।
- ১৯৮১ সালের ৩০মে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নির্মম হত্যাকান্ডের পর তাঁর প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কঠিন সংকটের সম্মুখীন হয়।
- দলের তৎকালীন চেয়ারম্যান এবং দেশের রাষ্ট্রপতি বিচারপতি আবদুস সাত্তারকে সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল এইচ.এম এরশাদ এক সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে উৎখাত করেন এবং ১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ দেশে সামরিক আইন জারি করেন।
- দলের এ সংকটকালে ১৯৮৩ সালের মার্চ মাসে খালেদা জিয়া দলের সহসভাপতি এবং ১৯৮৪ সালের ১০ মে চেয়ারপার্সন পদে নির্বাচিত হন।
- খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল ১৯৮৩ সালে সাতদলীয় জোট গঠন করে জেনারেল এরশাদের স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে আপসহীন সংগ্রামে অবতীর্ণ হয়।
- এরশাদের স্বৈরশাসন অবসানের লক্ষ্যে পরিচালিত ৯ বছরের দীর্ঘ সংগ্রামে খালেদা জিয়া অবৈধ সরকারের সঙ্গে কোনোপ্রকার আপস করেন নি।
- ১৯৯১ সালের ২০ মার্চ বেগম খালেদা জিয়া দেশের প্রথম মহিলা প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন।
- খালেদা জিয়ার উদ্যোগে রাষ্ট্রপতি-শাসিত থেকে সংসদীয় সরকারব্যবস্থায় উত্তরণের লক্ষ্যে ১৯৯১ সালের ৬ আগস্ট জাতীয় সংসদে সংবিধানের ঐতিহাসিক দ্বাদশ সংশোধনী বিল পাস হয়।
- সংসদীয় সরকার ব্যবস্থার অধীনে খালেদা জিয়া ১৯ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পুনরায় শপথ গ্রহণ করেন।
- ১৯৯৩-৯৪ অর্থবছরে দেশে প্রথমবারের মতো উৎপাদন ও আমদানি পর্যায়ে মূল্য সংযোজন কর প্রবর্তন করা হয়, যার মাধ্যমে রাজস্ব আহরণের নতুন দুয়ার উন্মুক্ত হয়।
- পল্লী অঞ্চলে মেয়েদের মাধ্যমিক শিক্ষা অবৈতনিক করা হয় এবং মাধ্যমিক পর্যায়ের ছাত্রীদের জন্য দেশব্যাপী একটি উপবৃত্তি কর্মসূচি চালু করা হয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
.
রাজনৈতিক দলের দলীয় কর্মীদের দ্বারা সম্পাদিত কাজ কোনটি?
  1. ভোট গ্রহণ
  2. আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ
  3. প্রার্থী মনোনয়ন
  4. ভোট গণনা
সঠিক উত্তর:
প্রার্থী মনোনয়ন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রার্থী মনোনয়ন
ব্যাখ্যা
• রাজনৈতিক দলের নির্বাচনসংক্রান্ত কাজ:
- আধুনিক রাজনৈতিক ব্যবস্থা তথা গণতান্ত্রিক অথবা একনায়কতান্ত্রিক সরকারব্যবস্থায় নির্বাচন একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
- একনায়কতান্ত্রিক সরকারব্যবস্থার চেয়ে গণতান্ত্রিক সরকারব্যবস্থায় নির্বাচনের গুরুত্ব অধিকতর।
- এ সকল নির্বাচনে অংশগ্রহণের প্রস্তুতি, প্রার্থী মনোনয়ন, নির্বাচনে দলীয় কর্মসূচি প্রণয়ন, নির্বাচনি প্রচার ও ভোট সংগ্রহ দলের এবং দলীয় কর্মীদের দ্বারা সম্পাদিত হয়ে থাকে

অন্যদিকে,
- ভোট গণনা, ভোট গ্রহণ ও আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণের কাজ নির্বাচন কমিশন নির্বাচনকালীন সকারের সহায়তায় করে থাকে।

• রাজনৈতিক দল:
- রাজনৈতিক দল হচ্ছে একটি দেশের জনগোষ্ঠীর সেই অংশ যারা একটি আদর্শ বা কিছু নীতি বা কর্মসূচির ভিত্তিতে সংগঠিত হয়।
- রাজনৈতিক দলের প্রধান লক্ষ্য হচ্ছে ক্ষমতায় গিয়ে দলের নীতি ও আদর্শ অনুযায়ী দেশ পরিচালনা এবং নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করা।

• রাজনৈতিক দলের ভূমিকা:
- নেতৃত্ব তৈরি করা। 
- সরকার গঠন করা। 
- জনমত গঠন করা। 
- জনগণকে রাজনৈতিক শিক্ষাদান।
- সরকারের গঠনমূলক বিরোধিতা করা।
- সামাজিক ঐক্য প্রতিষ্ঠা করা।

উৎস:পৌরনীতি ও নাগরিকতা, ৯ম -১০ম শ্রেণি।
১০.
ঈশ্বরচন্দ্রকে 'বিদ্যাসাগর' উপাধিতে ভূষিত করে -
  1. মোগল সম্রাট
  2. ব্রিটিশ সরকার
  3. কলকাতা সংস্কৃত কলেজ
  4. ব্রাক্ষ্মসমাজ
সঠিক উত্তর:
কলকাতা সংস্কৃত কলেজ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কলকাতা সংস্কৃত কলেজ
ব্যাখ্যা
• ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর (১৮২০-১৮৯১ খ্রি.):
- বাংলার নবজাগরণের ক্ষেত্রে রাজা রামমোহন রায়ের যোগ্য উত্তরসূরি ছিলেন ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর।
- উনিশ শতকের বাংলার অন্যতম শ্রেষ্ঠ বুদ্ধিজীবী ও সমাজকর্মী ।
ঈশ্বরচন্দ্রের জন্ম পশ্চিম বঙ্গের মেদিনীপুর জেলার বীর সিংহ গ্রামের এক দরিদ্র পরিবারে।
- কাব্য, অলঙ্কার শাস্ত্র, বেদান্ত, স্মৃতি, জ্যোতিষ ও যুক্তিবিদ্যায় তাঁর অসামান্য পাণ্ডিত্যের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৮৩৯ সালে কলেজ কর্তৃপক্ষ তাঁকে 'বিদ্যাসাগর' উপাধি দেন
- তিনি সংস্কৃত কলেজে ইংরেজি শিক্ষা চালু করেন।
- শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপনে তাঁর মহৎ কীর্তি কলকাতা মেট্রোপলিটন ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা।
- উদার ও সংস্কারমনা বিদ্যাসাগর হিন্দু সমাজে প্রচলিত, বাল্য বিবাহ, বহু বিবাহ, বিধবা বিবাহ নিষিদ্ধ, সতীদাহ প্রথা সহ সামাজিক উন্নয়ন ব্যাহতকারী অন্যান্য অশুভ তৎপরতার বিরুদ্ধে জোর আন্দোলন পরিচালনা করেন।
- তাঁর প্রচেষ্টায় বিধবা বিবাহ আইনসম্মত করণে ১৮৫৬ সালে একটি আইন পাস করা হয়।
- ১৮৭২ সালে বহু বিবাহ ও বাল্য বিবাহ রহিতকরণে 'সিভিল ম্যারেজ এ্যাক্ট' প্রণয়নেও তাঁর প্রভূত অবদান রয়েছে।
-  ১৮৯১ সালের ২৫ জুলাই তিনি পরলোকগমণ করেন।

উৎস: ইতিহাস, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১১.
নিচের কোনটি চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠী?
  1. এনবিআর
  2. এফবিসিসিআই
  3. বিডা
  4. জাসদ
সঠিক উত্তর:
এফবিসিসিআই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এফবিসিসিআই
ব্যাখ্যা
• চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠী:
- চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠী হলো এমন এক গোষ্ঠী যার সদস্যগণ সমজাতীয় মনোভাব এবং স্বার্থের দ্বারা পরস্পরের সাথে আবদ্ধ।
- তাদের মূল উদ্দেশ্য হলো সরকারি নীতি ও সিদ্ধান্তকে নিজেদের অনুকূলে প্রভাবিত করার মাধ্যমে নিজেদের স্বার্থ হাসিল করা।
- এদের কোন বৃহৎ বা জাতীয় লক্ষ্য থাকে না।
- উদাহরণ:
- আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থা, এনজিও, সুশীল সমাজ, বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠন প্রভৃতি চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত।
-  এছাড়াও আইন ও সালিশ কেন্দ্র, সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি), সুশাসনের জন্যে নাগরিক(সুজন), এফবিসিসিআই প্রভৃতি চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত।

অন্যদিকে,
- বিডা ও এনবিআর সরকারি প্রতিষ্ঠান।
- জাসদ একতি রাজনৈতিক দল।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রথমপত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো. মোজাম্মেল হক।
১২.
নওয়াব আব্দুল লতিফ সম্পর্কে কোন তথ্যটি ভুল?
  1. বাঙালিদের মধ্যে প্রথম ইংল্যান্ডের প্রিভি কাউন্সিলের সদস্য
  2. 'মোহামেডান লিটারারি সোসাইটি' প্রতিষ্ঠা করেন
  3. 'নীল কমিশন' গঠনের পেছনে তাঁর ভূমিকা ছিল
  4. মুসলমানদের জাগরণের অন্যতম স্থপতি
সঠিক উত্তর:
বাঙালিদের মধ্যে প্রথম ইংল্যান্ডের প্রিভি কাউন্সিলের সদস্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাঙালিদের মধ্যে প্রথম ইংল্যান্ডের প্রিভি কাউন্সিলের সদস্য
ব্যাখ্যা
• নওয়াব আব্দুল লতিফ:
- তিনি ছিলেন মুসলমানদের জাগরণের অন্যতম স্থপতি।
- নওয়াব আবদুল লতিফ ১৮২৮ সালে ফরিদপুর জেলার রাজাপুর গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
- ইংরেজদের প্রতি আনুগত্য এবং মুসলমান সমাজের প্রতি তাঁর অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে সরকার ১৮৭৭ সালে তাঁকে 'খান বাহাদুর', ১৮৮০ সালে 'নওয়াব', ১৮৮৩ সালে সি.আই.ই. এবং ১৮৮৭ সালে উচ্চতর সম্মানের প্রতীক 'নওয়াব বাহাদুর' উপাধিতে ভূষিত করে।
- ১৮৬০ সালে ব্রিটিশ সরকার কর্তৃক 'নীল কমিশন গঠনের পেছনে তাঁর ভূমিকা ছিল।
- এ কমিশনের সুপারিশ অনুসারে নীল চাষে কৃষকদের স্বাধীনতা দেওয়া হয়।
- নওয়াব আবদুল লতিফ ১৮৬৩ সালে কলকাতায় 'মোহামেডান লিটারারি সোসাইটি' বা 'মুসলিম সাহিত্য সমাজ' নামে একটি সমিতি প্রতিষ্ঠা করেন।
- আধুনিক শিক্ষা সম্পর্কে মুসলমানদের মধ্যে জনমত তৈরি এবং তাদেরকে পরিবর্তিত অবস্থা সম্পর্কে সচেতন করাই ছিল এ সমিতি প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্য।

অন্যদিকে,
- বাঙালিদের মধ্যে প্রথম ইংল্যান্ডের প্রিভি কাউন্সিলের সদস্য ছিলেন সৈয়দ আমির আলী।

উৎস: ইতিহাস, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৩.
'Poverty and Famines: An Essay on Entitlement and Deprivation' গ্রন্থটির রচয়িতা কে?
  1. ড. মুহাম্মদ ইউনুস
  2. ফজলে হাসান আবেদ
  3. ড. কুদরত-ই-খুদা
  4. অমর্ত্য সেন
সঠিক উত্তর:
অমর্ত্য সেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অমর্ত্য সেন
ব্যাখ্যা
অমর্ত্য সেন:
- অমর্ত্য সেন একজন বিশ্বখ্যাত ভারতীয় অর্থনীতিবিদ ও দার্শনিক, যিনি কল্যাণমূলক অর্থনীতি, দারিদ্র্য নিরসন, এবং সামাজিক ন্যায়বিচারের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন।
- তিনি 1998 সালে এশিয়ার প্রথম ব্যাক্তি হিসেবে  অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন।
- অমর্ত্য সেনকে অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কার দেওয়া হয় তাঁর কল্যাণমূলক অর্থনীতি, দারিদ্র্য বিশ্লেষণ, এবং সামাজিক ন্যায়বিচার সংক্রান্ত গবেষণার জন্য।
- বিশেষভাবে, তিনি দারিদ্র্য পরিমাপের নতুন পদ্ধতি উদ্ভাবন করেন এবং দেখান যে দুর্ভিক্ষ কেবল খাদ্যের অভাবের কারণে ঘটে না, বরং অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক কারণেও ঘটে।
- গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থ: Development as Freedom, The Idea of Justice, Poverty and Famines: An Essay on Entitlement and Deprivation।

উৎস: ব্রিটানিকা।
১৪.
মওলানা ভাসানীর জন্মস্থান কোন জেলায়?
  1. টাঙ্গাইল
  2. সিরাজগঞ্জ
  3. পাবনা
  4. বগুড়া
সঠিক উত্তর:
সিরাজগঞ্জ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সিরাজগঞ্জ
ব্যাখ্যা
• মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী:
- মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী (১৮৮০-১৯৭৬) একজন বিখ্যাত  রাজনীতিক।
- ভাসানী ১৮৮০ সালে সিরাজগঞ্জ জেলার ধনপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- মওলানা ভাসানী নামে সমধিক পরিচিত।
- তিনি ছিলেন একজন স্ব-শিক্ষিত ব্যক্তি।
- তাঁর জীবন ছিল গ্রাম ভিত্তিক, মতবাদ উগ্র এবং ঔপনিবেশিক রীতিনীতির প্রতি আস্থাহীন।
- সারা রাজনৈতিক জীবনে তিনি প্রচুর প্রভাব প্রতিপত্তির অধিকারী ছিলেন এবং বেশ কিছু সাধারণ ও স্থানীয় নির্বাচনে জয়ীও হয়েছিলেন; তবে কখনও ক্ষমতায় যাওয়ার চেষ্টা করেন নি।
- তাঁর নেতৃত্বের ভিত্তি ছিল কৃষক শ্রমিক জনসাধারণ, যাদের অধিকার এবং স্বার্থ রক্ষার জন্য তিনি নিরবচ্ছিন্ন সংগ্রাম করে গেছেন।
- ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ) নামে একটি নতুন দল গঠন করেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১৫.
'সেন্ট্রাল ন্যাশনাল মোহামেডান অ্যাসোসিয়েশন' এর প্রতিষ্ঠাতা কে?
  1. সৈয়দ আমীর আলী
  2. স্যার সৈয়দ আহমদ খান
  3. নওয়াব আব্দুল লতিফ
  4. নওয়াব স্যার সলিমুল্লাহ
সঠিক উত্তর:
সৈয়দ আমীর আলী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সৈয়দ আমীর আলী
ব্যাখ্যা
• সৈয়দ আমীর আলী:
- সৈয়দ আমীর আলী ১৮৪৯ খ্রিস্টাব্দে হুগলীতে জন্ম গ্রহণ করেন।
- উনিশ শতকের শেষার্ধে বাংলার মুসলমান সমাজের নবজাগরণে যিনি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে ছিলেন তিনি হলেন সৈয়দ আমীর আলী।
- তিনি পাশ্চাত্য শিক্ষার মাধ্যমে বাঙালি মুসলমানদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নতি করতে চেয়েছেন। 
- ১৯০৯ খ্রিস্টাব্দে তিনি লন্ডনে প্রিভি কাউন্সিলের সদস্য হন।
- সৈয়দ আমীর আলী ১৮৭৭ সালে ন্যাশনাল মোহামেডান অ্যাসোসিয়েশন প্রতিষ্ঠা করেন।
- এটিকে তিনি ভারতের অন্যান্য প্রদেশসমূহের শাখাগুলি অধিভুক্তির পর 'সেন্ট্রাল ন্যাশনাল মোহামেডান অ্যাসোসিয়েশন' নামে নতুন নামকরণ করেন।

• সংগঠনের উদ্দেশ্য:

- মুসলমান সম্প্রদায়ের মধ্যে রাজনৈতিক চেতনা সঞ্চার ও তাদের মধ্যে ঐক্য প্রতিষ্ঠা।
- মুসলমানদের নৈতিক উন্নতি সাধন।
- মুসলমানদের ন্যায্য দাবি-দাওয়া নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে সরকারের নিকট পেশ করা এবং
- ভারতের হিন্দু-মুসলমানদের মধ্যে মৈত্রী ও সম্প্রীতি সৃষ্টি করা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলাশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাপিডিয়া।
১৬.
সুশাসনের ধারণা প্রথম উপস্থাপন করে কে?
  1. বিশ্বব্যাংক
  2. জাতিসংঘ
  3. ইউএনডিপি
  4. ইউরোপীয় ইউনিয়ন
সঠিক উত্তর:
বিশ্বব্যাংক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিশ্বব্যাংক
ব্যাখ্যা
সুশাসন: 
- তৃতীয় বিশ্বের উন্নয়ন ও শাসন প্রক্রিয়ায় সুশাসন এক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
- নাগরিক অধিকার প্রতিষ্ঠা, সরকারের জবাবদিহিতা, নারীর ক্ষমতায়ন, দুর্নীতি দূরীকরণ, অর্থনৈতিক উন্নয়ন, শিল্পায়ন সব ক্ষেত্রেই সুশাসন জরুরি।
- তৃতীয় বিশ্বে সুশাসনের সমস্যাকে সব সমস্যার মূল কারণ হিসাবে সনাক্ত করেছে দাতারা।
- তাদের মতে, এসব রাষ্ট্রে সম্পদের স্বল্পতা রয়েছে।
- তবে এর থেকেও বড় সমস্যা হল সম্পদের ব্যবস্থাপনা ও দুর্নীতি।
- একটি বহুমুখী ধারণা হিসাবে (Multi-dimentional) সুশাসনের উদ্ভব হয় মূলত ১৯৮৯ সালে।
- বিশ্বব্যাংক প্রথম এই ধারণা উপস্থাপন করে।
- 'সবুজ বিপ্লব' আর 'কাঠামো সমন্বয় কর্মসূচি'র ব্যর্থতার পর বিশ্বব্যাংক ও আন্তর্জাতিক অর্থ তহবিল (আইএমএফ) উন্নয়নের শর্ত হিসাবে এ ধারণার অবতারণা করে।

• মোটা দাগে সুশাসনের প্রধান ক্ষেত্রসমূহ হল-
(ক) রাজনৈতিক: গণতন্ত্র ও সরকারের স্বচ্ছতা-জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ,
(খ) অর্থনৈতিক: মুক্তবাজার অর্থনীতি ও বেসরকারিকরণ,
(গ) সামাজিক-সংস্কৃতিক: পশ্চিমা সংস্কৃতির প্রসার এবং
(ঘ) তথ্য ও প্রযুক্তি: বিশ্বজুড়ে তথ্য-প্রযুক্তির প্রসার।

উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৭.
ই-গভর্নেন্স শব্দটি নিচের কোনটির সংক্ষিপ্ত রূপ?
  1. ইলেক্ট্রনিক গভর্নেন্স
  2. ইলেক্ট্রিক গভর্নেন্স
  3. ইলেক্টেড গভর্নেন্স
  4. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
ইলেক্ট্রনিক গভর্নেন্স
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইলেক্ট্রনিক গভর্নেন্স
ব্যাখ্যা
ই-গভর্নেন্স:
- ই-গভর্নেন্স শব্দটি 'ইলেক্ট্রনিক গভর্নেন্স' এর সংক্ষিপ্ত রূপ।
- অনলাইনের মাধ্যমে পাবলিক ডেলিভারি ও সেবা জনগণের কাছে সহজলভ্য করা ই-গভর্নেন্স এর লক্ষ্য।
- ডিজিটাল পদ্ধতিতে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে মিথস্ক্রিয়া সাধিত হলে ই-গভর্নেন্স এর উদ্ভব ঘটে।
- জাতিসংঘের মতে, "সরকারি তথ্য ও সেবা ইন্টারনেত এবং ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েবের মাধ্যমে জনগণের নিকট পৌঁছানোর ব্যাবস্থাই হল ই-গভর্নেন্স"।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
১৮.
সুশাসন কত ধরণের ধারণা নির্মাণ করে?
  1. ২ ধরণের
  2. ৩ ধরণের
  3. ৪ ধরণের
  4. ৬ ধরণের
সঠিক উত্তর:
৪ ধরণের
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৪ ধরণের
ব্যাখ্যা
সুশাসনের ধারণা: 
- সুশাসন শব্দটি বিভিন্ন ক্ষেত্রে যেমন: আন্তর্জাতিক শাসন, জাতীয় শাসন, স্থানীয় শাসন, যৌথ শাসন ইত্যাদি হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে।
- বর্তমানে সুশাসনকে একটি দেশের উন্নয়নের দিক নির্দেশনা প্রদানকারী হিসেবে দেখা হয়।
- সুশাসন প্রত্যয়টিকে সংজ্ঞায়িত করতে হলে শাসন বলতে কি বুঝায় তা জানা প্রয়োজন।
- শাসন বলতে বুঝায় ক্ষমতাকে কিভাবে প্রয়োগ করা হয়, কিভাবে জনগণের দাবি-দাওয়ার প্রতি সাড়া প্রদান করা হয় কিংবা কিভাবে একটি জনসমষ্টি শাসিত ও পরিচালিত হয়।
- সাধারণ অর্থে সুশাসন হল এমন এক প্রক্রিয়া যা একটি দেশের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখে। 
- সুশাসনের ধারণাটি বহুমাত্রিক।
- এটি ৪ ধরণের ধারণা নির্মাণ করে: রাজনৈতিক সুশাসন, সামাজিক সুশাসন, অর্থনৈতিক সুশাসন এবং সাংস্কৃতিক সুশাসন।
- তৃতীয় বিশ্বের উন্নয়ন ও শাসন প্রক্রিয়ায় সুশাসন এক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
- নাগরিক অধিকার প্রতিষ্ঠা, সরকারের জবাবদিহিতা, নারীর ক্ষমতায়ন, দুর্নীতি দূরীকরণ, অর্থনৈতিক উন্নয়ন, শিল্পায়ন সব ক্ষেত্রেই সুশাসন জরুরি।

উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
১৯.
কত সালের রিপোর্টে বিশ্বব্যাংক সুশাসনের চারটি উপাদানের কথা বলেছে?
  1. ১৯৮৯ সাল
  2. ১৯৯১ সাল
  3. ১৯৯২ সাল
  4. ১৯৯৪ সাল
সঠিক উত্তর:
১৯৯৪ সাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৯৪ সাল
ব্যাখ্যা
সুশাসনের উপাদান: 
- যে শাসন ব্যবস্থায় আইনের শাসন, দায়িত্বশীলতা, জবাবদিহিতা, ক্ষমতা বিকেন্দ্রীকরণ এবং জনগণের অংশগ্রহণ গনতান্ত্রিক উপায়ে সুনিশ্চিত হয় তাকেই সুশাসন বলে।
- ১৯৯৪ সালে বিশ্বব্যাংক রিপোর্টে সুশাসনের চারটি উপাদানের কথা বলেছে।
- এগুলো হল: সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা, জবাদিহিতা, অংশগ্রহণ এবং স্বচ্ছতা।
- ইউনেস্কো (UNESCO) সুশাসনের উপাদনের কথা বলতে গিয়ে বিশ্বব্যাংকের উপাদানগুলোর পাশাপাশি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর অংশগ্রহণের কথা বলেছেন।
- ইউএনডিপি (UNDP) সুশাসনের ৫টি মূল উপদানের কথা বলেছেন।
- এগুলো হল; বৈধতা, জবাবদিহিতা, আইনের শাসন, মানবাধিকার ও সাম্য।
- আইডিএ (International Development Agency) সুশাসনের চারটি মূল উপাদানের কথা বলেছেন।
- এগুলো হল: জবাবদিহিতা, স্বচ্ছতা, আইনের শাসন ও অংশগ্রহণ।

উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২০.
"সরকারি তথ্য ও সেবা ইন্টারনেট এবং ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েবের মাধ্যমে জনগণের নিকট পৌছানের ব্যবস্থাই হলো ই-গভর্নেন্স” - সংজ্ঞাটি দিয়েছে -
  1. বিশ্ব ব্যাংক
  2. জাতিসংঘ
  3. ইউনেস্কো
  4. ইউএনডিপি
সঠিক উত্তর:
জাতিসংঘ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জাতিসংঘ
ব্যাখ্যা
ই-গভর্নেন্স: 
- বিশ্ব ব্যাংক (world Bank) প্রদত্ত সংজ্ঞায় বলা হয়েছে যে, “ই-গভর্নেন্স বলতে সরকারি তথ্য প্রযুক্তি (নেটওয়ার্ক, ইন্টারনেট, মোবাইল প্রভৃতি) ব্যবহারের মাধ্যমে জনগণ, ব্যবসায়ী এবং সরকারের অন্যান্য সম্প্রদায়ের মধ্যে যোগাযোগের সক্ষমতাকে বোঝায়।" 

- জাতিসংঘ (UN) ২০০৬ সালে প্রদত্ত এক সংজ্ঞায় বলেছে যে, "সরকারি তথ্য ও সেবা ইন্টারনেট এবং ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েবের মাধ্যমে জনগণের নিকট পৌছানের ব্যবস্থাই হলো ই-গভর্নেন্স।”

- আমেরিকার যুক্তরাষ্ট্রের ই-গভর্নেন্স আইন-২০০২'-এ বলা হয়েছে যে, "ই-গভর্নেন্স বলতে বোঝায় ওয়েব নির্ভর ইন্টারনেট এবং অন্যান্য তথ্য-প্রযুক্তি। " 

- ইউনেস্কো প্রদত্ত সংজ্ঞায় বলা হয়েছে যে, "সরকার বলতে বোঝায় রাষ্ট্রের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক এবং প্রশাসনিক কর্তৃত্ব যার অন্তর্ভুক্ত হলো নাগরিকের আইনগত অধিকার ও দায়িত্বের প্রশ্ন। অপরদিকে ই-গভর্নেন্স হলো এসব কার্যাবলি সম্পাদনের ক্ষেত্রে ইলেকট্রনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে দক্ষতা, দ্রুততা ও স্বচ্ছতার সাথে জনগণ এবং প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনরত অন্যান্য সংস্থাকে তথ্য সরবরাহ করা।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
২১.
যে চিন্তাভাবনা, লক্ষ্য, উদ্দেশ্য ও সংকল্প মানুষের সামাজিক আচার-ব্যবহার ও কর্মকাণ্ডকে নিয়ন্ত্রিত ও পরিচালিত করে তার সমষ্টিকে কী বলে?
  1. সামাজিক মূল্যবোধ
  2. রাজনৈতিক মূল্যবোধ
  3. গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ
  4. ধর্মীয় মূল্যবোধ
সঠিক উত্তর:
সামাজিক মূল্যবোধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সামাজিক মূল্যবোধ
ব্যাখ্যা
সামাজিক মূল্যবোধ (social values):
- যে চিন্তাভাবনা, লক্ষ্য, উদ্দেশ্য ও সংকল্প মানুষের সামাজিক আচার-ব্যবহার ও কর্মকাণ্ডকে নিয়ন্ত্রিত ও পরিচালিত করে তার সমষ্টিকে সামাজিক মূল্যবোধ বলে।
- স্টুয়ার্ট সি. ডডএর মতে, সামাজিক মূল্যবোধ হলো সে সব রীতিনীতির সমষ্টি, যা ব্যক্তি সমাজের নিকট হতে আশা করে এবং যা সমাজ ব্যক্তির নিকট হতে লাভ করে।
- ক্লাইড কুখোন-এর মতে, সামাজিক মূল্যবোধ হচ্ছে সেসব প্রকাশ্য ও অনুমেয় আচার-আচরণের ধারা যা ব্যক্তি ও সমাজের মৌলিক বৈশিষ্ট্য বলে স্বীকৃত।
- নিকোলাস রেসার-এর মতে, সামাজিক মূল্যবোধ হচ্ছে সেসব গুণাবলি যা ব্যক্তি নিজের সহকর্মীদের মধ্যে দেখে খুশি হয় এবং নিজের সমাজ, জাতি, সংস্কৃতি ও পরিবেশকে মূল্যবান মনে করে খুশি হয়।
- সামাজিক মূল্যবোধ হচ্ছে শিষ্টাচার, সততা, ন্যায়পরায়ণতা, সহনশীলতা, সহমর্মিতাবোধ, শৃঙ্খলাবোধ, সৌজন্যবোধ প্রভৃতি সুকুমার বৃত্তি বা গুণাবলির সমষ্টি।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
২২.
বিচার বিভাগকে শাসন বিভাগ থেকে পৃথক করা প্রয়োজন কেন?
  1. নির্বাহী ক্ষমতা বৃদ্ধি করা
  2. সুশাসনের জন্য
  3. আইন প্রণয়ন সহজ করা
  4. প্রশাসনিক ব্যয় কমানো
সঠিক উত্তর:
সুশাসনের জন্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুশাসনের জন্য
ব্যাখ্যা
বিচার বিভাগের স্বাধীনতা: 
- সুশাসনের জন্য বিচার বিভাগকে শাসন বিভাগ থেকে পৃথক করা প্রয়োজন।
- বাংলাদেশে বিচার বিভাগের পৃথকীকরণ পুরো কার্যকর হয়নি। 

ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ: 
- ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ বলতে বুঝায় রাষ্ট্রের আইন প্রণয়ন, শাসন ও বিচার ক্ষমতা পৃথক ব্যক্তি বা ব্যক্তিসমষ্টির হাতে অর্পণ করা যাতে এক বিভাগ অন্য বিভাগের ক্ষমতায় হস্তক্ষেপ করতে না পারে।
- ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণের এই ধারণা প্রাচীনকালের রাষ্ট্রবিজ্ঞানীদের নিকটও পরিচিত ছিল।
- এরিস্টটল, পলিবিয়াস, সিসেরো প্রমুখ চিন্তাবিদগণ ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ সম্পর্কে আলোচনা করেছেন।
- মধ্যযুগ ও আধুনিক যুগেও এই মতবাদের সমর্থন মিলে। মধ্যযুগে মার্সিলিও অব পাদুয়া ও জিন বডিন এবং আধুনিক যুগে হবস, লক প্রভৃতি দার্শনিকগণও এই মতবাদ সমর্থন করেন।
- রাষ্ট্র বিজ্ঞানী মন্টেস্কু সুস্পষ্ট নীতি হিসেবে স্বতন্ত্রীকরণকে সমর্থন করেন।
- কিন্তু পরিপূর্ণ ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ বাস্তবে দেখা যায় না। এটি কাম্যও নয়।
- তাই ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণের সাথে ক্ষমতার স্বতন্ত্রীকরণ ও ভারসাম্যের নীতির কাম্যতা অনেকেই স্বীকার করেন।

উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
পৌরনীতি প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৩.
প্রযুক্তিনির্ভর শাসন বলা হয় কোনটিকে?
  1. সুশাসন
  2. গণতান্ত্রিক শাসন
  3. ই-গভর্নেন্স
  4. সার্ভার অ্যাডমিনিস্ট্রেশন
সঠিক উত্তর:
ই-গভর্নেন্স
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ই-গভর্নেন্স
ব্যাখ্যা
ই-গভর্নেন্স:
- ই-গভর্নেন্স শব্দটি এসেছে Electronic Government থেকে।
- বাংলায় একে বলা হয় ইলেক্ট্রনিক বা প্রযুক্তিনির্ভর শাসন'।
- এ শাসন বা সরকার পরিচালনায় ইলেক্ট্রনিক যন্ত্রপাতি বা কৌশল প্রয়োগই মুখ্য ভূমিকা পালন করে থাকে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
২৪.
সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সরকারের করণীয় নয় কোনটি?
  1. দায়িত্বশীল সরকার প্রতিষ্ঠা
  2. জবাবদিহিমূলক জনপ্রশাসন প্রতিষ্ঠা
  3. দক্ষ ও কার্যকর সরকার প্রতিষ্ঠা
  4. একক রাজনৈতিক দল ব্যবস্থা প্রবর্তন
সঠিক উত্তর:
একক রাজনৈতিক দল ব্যবস্থা প্রবর্তন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
একক রাজনৈতিক দল ব্যবস্থা প্রবর্তন
ব্যাখ্যা
- একটি রাজনৈতিক দলের উপস্থিতি সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সরকারের করণীয় নয়। একাধিক রাজনৈতিক দলের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে। 

সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সরকারকে নিম্নলখিত পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে: 
১. সংবিধানে মৈলিক অধিকারের সন্নিবেশ,  
২. মত প্রকাশের স্বাধীনতা,
৩. শান্তিপূর্ণ উপায়ে সমস্যার সমাধান, 
৪. দায়িত্বশীল সরকার প্রতিষ্ঠা, 
৫. জবাবদিহিমূলক জনপ্রশাসন, 
৬. দক্ষ ও কার্যকর সরকার, 
৭. জনসম্মতি, 
৮. একাধিক রাজনৈতিক দলের উপস্থিতি প্রভৃতি। 

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
২৫.
ই-গভর্নেন্স-এর কার্যক্রম এর অন্তর্ভুক্ত কোনটি?
  1. ইন্টারনেটের মাধ্যমে তথ্য পাঠানো
  2. লেনদেন পরিচালনা
  3. ভার্চুয়াল মিটিং
  4. সবগুলো
সঠিক উত্তর:
সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবগুলো
ব্যাখ্যা
ই-গভর্নেন্স-এর কার্যক্রম: 
- ই-সরকার বা ই-গভর্নেন্স-এর পারস্পরিক লেনদেন সরকার ও জনগণ বা সেবাগ্রহণকারী, সরকার ও ব্যবসায়ী, এক সরকারের সাথে অন্য সরকারের কিংবা সরকার ও তার কর্মকর্তাদের মধ্যে হতে পারে।
- এরূপ লেনদেনের ক্ষেত্রে কয়েক ধরনের কার্যক্রম লক্ষ করা যায়: 
১. বিভিন্ন তথ্য ইন্টারনেটের মাধ্যমে পাঠানো: যেমন নিয়ন্ত্রণমূলক কার্যক্রম, সাধারণ ছুটি, জনগণের জন্য বিভিন্ন ঘটনার দিন তারিখ, বিভিন্ন ইস্যুর ব্যাখ্যা, নোটিশ ইত্যাদি।
২. সরকার ও বিভিন্ন ধরনের প্রতিষ্ঠানের মধ্যে দ্বিমুখী যোগাযোগ: এই প্রক্রিয়ায় যেকোনো ব্যক্তি যেকোনো প্রতিষ্ঠানের সাথে ইন্টারনেট সংলাপে বসতে পারে এবং তাদের সমস্যা, মন্তব্য ও অনুরোধ প্রতিষ্ঠানকে জানাতে পারে।
৩. বিভিন্ন ধরনের লেনদেন পরিচালনা: যেমন আয়কর রিটার্ন জমা দেয়া, চাকরির জন্য আবেদন চাওয়া ও তা জমা দেয়া এবং অনুদান চাওয়া ও তা প্রদান করা।
৪. সরকার পরিচালনায় প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ: জনগণ ইলেকট্রনিক ব্যবস্থার সাহায্য গ্রহণ করে, তথ্যপ্রযুক্তির সুযোগ নিয়ে প্রত্যক্ষভাবে সরকার পরিচালনায় অংশগ্রহণের সুযোগ লাভ করে।
৫. জুম বা ভার্চুয়াল মিটিং: জুম বা ভার্চুয়াল মিটিং এর মাধ্যমে ই-গভর্নেন্স-এর কার্যক্রম পরিচালনা করা যায়। 

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
২৬.
সুশাসন প্রতিষ্ঠার প্রাণ নিচের কোনটি?
  1. গণতন্ত্র
  2. জবাবদিহিতা
  3. রাজনীতি
  4. রাজনৈতিক দল
সঠিক উত্তর:
গণতন্ত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গণতন্ত্র
ব্যাখ্যা

গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ:
- যে চিন্তাভাবনা, লক্ষ্য, উদ্দেশ্য ও সংকল্প মানুষের আচার-ব্যবহার ও কর্মকাণ্ডকে নিয়ন্ত্রিত ও পরিচালিত করে তাকেই আমরা সাধারণত মূল্যবোধ বলে থাকি।
- মূল্যবোধের বিভিন্ন দিক রয়েছে, যথা-সামাজিক মূল্যবোধ, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ প্রভৃতি।
- একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে যেসব লক্ষ্য, উদ্দেশ্য ও সংকল্প মানুষের সামগ্রিক আচার-ব্যবহার ও দৈনন্দিন কর্মকাণ্ডকে নিয়ন্ত্রিত ও পরিচালিত করে তাকে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ বলা হয়।

সুশাসন ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ: 

- সুশাসন প্রতিষ্ঠার প্রাণ গণতন্ত্র।  
- গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ সুশাসনের প্রাণ।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

২৭.
ই-গভর্নেন্স এর অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য কোনটি?
  1. স্বচ্ছতা
  2. নির্বাচন
  3. তথ্যের দুষ্প্রাপ্যতা
  4. জবাবহীনতা
সঠিক উত্তর:
স্বচ্ছতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্বচ্ছতা
ব্যাখ্যা
ই-গভর্নেন্স এর মাধ্যমে সরকারের জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠা: 
- ই-গভর্নেন্স এর অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো স্বচ্ছতা।
- সরকারের সব কার্যক্রম বা সকল পদক্ষেপ জনগণ জানতে ও বুঝতে পারে।
- এরূপ স্বচ্ছতাই জবাবদিহিতার পরিবেশ তৈরি করে।

স্বচ্ছতা আনয়ন:
- ই-গভর্নেলে স্বচ্ছতার বিষয়টিকে বড় করে দেখা হয়।
- সরকারের প্রশাসনিক সংগঠনগুলোতে, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কাজকর্মে এবং মাঠপর্যায়ের প্রশাসনে স্বচ্ছতা আনয়ন করা প্রয়োজন।
- সরকার কী কী কাজ করছে, কেন করছে, কী কী মূলনীতির ওপর সরকার সিদ্ধান্ত বা নীতি প্রণয়ন করছে তা জনগণের জানা প্রয়োজন।
- ই-গভনেন্স তা জানতে সাহায্য করে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
২৮.
সুশাসন প্রতিষ্ঠায় চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠী কীভাবে ভূমিকা রাখতে পারে?
  1. সরকারি নীতি প্রণয়নকে প্রভাবিত করা
  2. ব্যক্তি স্বার্থ সংরক্ষণ
  3. আমলাদের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা
  4. ভূমিকা রাখতে পারে না
সঠিক উত্তর:
সরকারি নীতি প্রণয়নকে প্রভাবিত করা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সরকারি নীতি প্রণয়নকে প্রভাবিত করা
ব্যাখ্যা
সুশাসন প্রতিষ্ঠায় চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা: 
১. সরকারি নীতি প্রণয়নকে প্রভাবিত করা: অনেক সময় সরকারি নীতি পরিবর্তনে চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এর ফলে সরকারের ভূলনীতি, গণবিরোধী পদক্ষেপ পরিবর্তনেও চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠী সক্ষম হয়। এর ফলে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হয়।

২. আইনসভার ওপর প্রভাব বিস্তার: চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠী আইনসভার সদস্যগণকে প্রভাবিত করে অন্যায় বা গণবিরোধী কোনো আইন প্রণয়ন থেকে সরে আসতে বাধ্য করে। এর ফলে সুশাসন প্রতিষ্ঠার পথ এবং জনকল্যাণ সাধিত হয়।

এছাড়া,
৩. ন্যায়বিচার নিশ্চিতকরণ,
৪. আমলাদের ওপর চাপ প্রয়োগ
৫. জনমত গঠন, 
৬. জাতীয় স্বার্থ সংরক্ষণ
প্রভৃতির মাধ্যমে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী ভূমিকা রাখে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।