পরীক্ষা আর্কাইভ

১৪০ দিনে ৫১তম বিসিএস প্রস্তুতি

পরীক্ষা১৪০ দিনে ৫১তম বিসিএস প্রস্তুতিতারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়17 minutes৩৪ বৈধ · অসম্পূর্ণ
মোট প্রশ্ন৩৫
সিলেবাস
পৃথিবী সৃষ্টির ইতিহাস, কসমিক রে, ব্লাক হোল, হিগের কণা, বারিমণ্ডল, টাইড, বায়ুমণ্ডল, টেকটোনিক প্লেট, সাইক্লোন, সুনামি, বিবর্তন, সামুদ্রিক জীবন, মানবদেহ, রোগের কারণ ও প্রতিকার, সংক্রামক রোগ, রোগ জীবাণুর জীবনধারণ, মা ও শিশু স্বাস্থ্য, ইম্যুনাইজেশন এবং ভ্যাকসিনেশন, এইচআইভি, এইডস, টিবি, পোলিও, জোয়ার-ভাটা, এপিকালচার, সেরিকালচার, পিসিকালচার, হর্টিকালচার, ডায়োড, ট্রানজিস্টর, আইসি, আপেক্ষিক তত্ত্ব, ফোটন কণা ইত্যাদি। সোর্স: যেকোনো গাইড বই, ষষ্ঠ থেকে SSC & HSC বোর্ড বই।
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

১৪০ দিনে ৫১তম বিসিএস প্রস্তুতি

১৪০ দিনে ৫১তম বিসিএস প্রস্তুতি · তারিখ অনির্ধারিত · ৩৫ প্রশ্ন

.
মহাবিশ্বের উৎপত্তি এবং বিবর্তন সম্পর্কে কোনটিতে আলোচনা করা হয়?
  1. ক) জেনেটিক্স 
  2. খ) কসমোলজি
  3. গ) সমুদ্রবিদ্যা
  4. ঘ) প্রত্নতত্ত্ববিদ্যা
সঠিক উত্তর:
খ) কসমোলজি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) কসমোলজি
ব্যাখ্যা
মহাবিশ্বের উৎপত্তি এবং বিবর্তন সম্পর্কে কসমোলজি শাখায় আলোচনা ও গবেষণা করা হয়। কসমোলজি মূলত জ্যোতির্বিদ্যার একটি শাখা। NASA'র সংজ্ঞানুসারে, কসমোলজির সংজ্ঞা হল "সম্পূর্ণ মহাবিশ্বের বৃহৎ আকারের বৈশিষ্ট্যগুলির বৈজ্ঞানিক অধ্যয়ন।" 

সূত্র: নাসা ওয়েবসাইট। 
.
ট্রানজিস্টরে কয় ধরণের জাংশন বিদ্যমান?
  1. ক) দুই ধরণের
  2. খ) তিন ধরণের
  3. গ) চার ধরণের
  4. ঘ) পাঁচ ধরণের
সঠিক উত্তর:
ক) দুই ধরণের
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) দুই ধরণের
ব্যাখ্যা
- ট্রানজিস্টরে দুটি জাংশন থাকে।
যথা: এমিটার-বেস জাংশন এবং বেস-কালেক্টর জাংশন।

- এমিটার-বেস জাংশনে সম্মুখ ঝোঁক প্রদান করা হয় এবং কালেক্টর বেস জাংশনে বিপরীত ঝোঁক প্রদান করা হয়। ফলে ইলেকট্রন বা হোল এমিটার থেকে কালেক্টর-এর দিকে প্রবাহিত হয়।
- সম্মুখ বায়াস যুক্ত জাংশনের রোধ বিপরীত বায়াসযুক্ত জাংশনের তুলনায় খুবই নগণ্য।
- দুর্বল সিগন্যাল (Signal) বা সংকেতকে কম রোধ বিশিষ্ট জাংশনে প্রয়োগ করা হয় এবং উচ্চ রোধ বিশিষ্ট জাংশন থেকে আউটপুট নেয়া হয়। 

সূত্র: ৩৫৫ পৃষ্ঠা, পদার্থবিজ্ঞান ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
কাকে 'আধুনিক জ্যোতির্বিদ্যার জনক' হিসেবে অভিহিত করা হয়?
  1. ক) টলেমি
  2. খ) আইনস্টাইন
  3. গ) স্টিফেন হকিং
  4. ঘ) গ্যালিলিও গ্যালিলি
সঠিক উত্তর:
ঘ) গ্যালিলিও গ্যালিলি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) গ্যালিলিও গ্যালিলি
ব্যাখ্যা
গ্যালিলিও গ্যালিলিকে 'আধুনিক জ্যোতির্বিদ্যার জনক' হিসেবে অভিহিত করা হয়। 

গ্যালিলিও গ্যালিলি পরীক্ষামূলক বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির পথপ্রদর্শক এবং গুরুত্বপূর্ণ জ্যোতির্বিদ্যা আবিষ্কার করার জন্য একটি প্রতিসরণকারী টেলিস্কোপ ব্যবহার করেন।
আইনস্টাইন গ্যালিলিও গ্যালিলিকে আধুনিক বিজ্ঞানের জনক হিসেবে অভিহিত করেন। 

গ্যালিলিও গ্যালিলি ১৫ই ফেব্রুয়ারী, ১৫৬৪ সালে ইতালির পিসাতে জন্মগ্রহণ করেছিলেন কিন্তু শৈশবের বেশিরভাগ সময় তিনি ইতালির ফ্লোরেন্সে বসবাস করেছিলেন। তার পিতা ছিলেন ভিনসেঞ্জো গ্যালিলি, একজন দক্ষ ফ্লোরেনটাইন গণিতবিদ এবং সঙ্গীতজ্ঞ। গ্যালিলিও ১৫৮১ থেকে ১৫৮৫ সাল পর্যন্ত পিসা বিশ্ববিদ্যালয়ে মেডিসিন অধ্যয়ন করেছিলেন কিন্তু কোনো ডিগ্রি ছাড়াই ফ্লোরেন্সে গণিতের শিক্ষকে ফিরে আসেন। তিনি ১৫৮৯ সালে পিসা বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিরে যান তারপর জ্যামিতি, বলবিদ্যা এবং জ্যোতির্বিদ্যা শেখানোর জন্য ১৫৯২ সালে পাডুয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে চলে যান। 

সূত্র: New Mexico Museum of Space History Website.
 
 
.
মহাবিশ্ব নিজে নিজে সম্প্রসারিত হচ্ছে- এই উক্তিটি সর্বপ্রথম কে করেন?
  1. ক) স্টিফেন হকিং
  2. খ) টলেমী
  3. গ) নিউটন
  4. ঘ) হাবল
সঠিক উত্তর:
ঘ) হাবল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) হাবল
ব্যাখ্যা
এডউইন হাবল বলেন, 'মহাবিশ্ব নিজে নিজে সম্প্রসারিত হচ্ছে'।

- তার পুরো নাম হচ্ছে এডউইন পাওয়েল হাবল।
- তিনি ছিলেন ২০ শতকের একজন বিখ্যাত জ্যোতির্বিজ্ঞানী। 
- সৃষ্টির প্রথমাবস্থায় মহাবিশ্ব সুষম এবং সমতাপীয়রূপে একটি অতি উচ্চ শক্তি ঘনত্ব এবং উচ্চ তাপমাত্রা ও চাপবিশিষ্ট বিন্দুবৎ পদার্থ ছিল।
- মহাবিশ্ব সৃষ্টির ১০৪৩ সেকেন্ড পর পদার্থবিজ্ঞানের সূত্রগুলো কার্যকারিতা লাভ করে, তাই এই সময়কে প্ল্যাংকের সময় বলা হয়।
- প্ল্যাংকের সময়ের প্রায় ১০৩৫ সেকেন্ড পর একটি অবস্থান্তর অবস্থার সূচনা ঘটে যার ফলে মহাজাগতিক স্ফীতি শুরু হয়, এই সময় মহাবিশ্ব সম্প্র্রসারিত হতে শুরু করে।

সূত্র: নাসা ওয়েবসাইট।
.
সর্বপ্রথম বিগ ব্যাঙ মতবাদ কে প্রদান করেন?
  1. ক) স্টিফেন হকিং
  2. খ) জি.লেমেটার
  3. গ) টলেমী
  4. ঘ) আইনস্টাইন
সঠিক উত্তর:
খ) জি.লেমেটার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) জি.লেমেটার
ব্যাখ্যা
বেলজিয়ামের নাগরিক জি.লেমেটার, যিনি একজন ধর্মযাজক ছিলেন সর্বপ্রথম বিগ ব্যাঙ মতবাদ প্রদান করেন ১৯২০ সালে। 

বর্তমান থেকে প্রায় ১৩৭০ কোটি বছর আগে মহাবিশ্ব এক অতি ঘন ও উত্তপ্ত বিন্দুর মতো অবস্থা থেকে প্রচন্ড বিস্ফোরণের মাধ্যমে সৃষ্টি হয়েছে। এক অকল্পনীয় ক্ষুদ্র বিন্দুর প্রকান্ড বিস্ফোরণের মাধ্যমে সম্প্রসারণশীল মহাবিশ্বের সৃষ্টি হয় বলে এই মতবাদ বিগ ব্যাং বা মহাবিস্ফোরণ তত্ত্ব নামে পরিচিত।

স্টিফেন হকিং-এর মতে, মহাবিস্ফোরণের সেই মুহূর্তকে ‘সময়ের সূচনা’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। শুরুর মুহূর্তে মহাবিশ্বের যাবতীয় পদার্থ এক অতি ক্ষুদ্র বিন্দুর মধ্যে কেন্দ্রীভূত ছিল যার উষ্ণতা ও ঘনত্ব ছিল অসীম। সেই প্রচন্ড উষ্ণতায় ছিল শুধু বিশুদ্ধ শক্তি ও ধূলির মতো কিছু কণা। তারপর মহাবিস্ফোরণের বহির্মুখী চাপে মহাবিশ্ব যতই সম্প্রসারিত হয়েছে তার ফলে ক্রমশ শীতল হয়েছে। 

সূত্র: National Geographic Website 
.
কৃষ্ণগহবরের ক্ষেত্রে কোনটি প্রযোজ্য?
  1. ক) কৃষ্ণগহবরের মহাকর্ষীয় বল দুর্বল প্রকৃতির
  2. খ) কৃষ্ণগহবর হতে আলো বের হয় না
  3. গ) কৃষ্ণগহবর একটি বিশাল কালো আকৃতির গ্রহ
  4. ঘ) উপরের সবগুলোই
সঠিক উত্তর:
খ) কৃষ্ণগহবর হতে আলো বের হয় না
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) কৃষ্ণগহবর হতে আলো বের হয় না
ব্যাখ্যা
ব্ল্যাক হোল হল মহাকাশের এমন একটি জায়গা যেখানে মাধ্যাকর্ষণ এত বেশি যে এর মহাকর্ষীয় বলের  টানে আলোও বের হতে পারে না।

মাধ্যাকর্ষণ এত শক্তিশালী কারণ পদার্থ একটি ক্ষুদ্র স্থানের মধ্যে চাপা পড়ে গেছে। একটি তারকা মারা গেলে এটি ঘটতে পারে। মানুষ ব্ল্যাক হোল দেখতে পায় না, কারণ ইহা অদৃশ্য। বিশেষ সরঞ্জাম সহ স্পেস টেলিস্কোপ ব্ল্যাক হোল খুঁজে পেতে সাহায্য করতে পারে। 

ব্ল্যাক হোল বড় বা ছোট হতে পারে। বিজ্ঞানীরা মনে করেন ক্ষুদ্রতম ব্ল্যাক হোল একটি পরমাণুর মতোই ছোট। এই ব্ল্যাক হোলগুলি খুব ছোট কিন্তু একটি বড় পাহাড়ের ভর রয়েছে। আরেক ধরনের ব্ল্যাক হোলকে বলা হয় ‘স্টেলার’। এর ভর সূর্যের ভরের চেয়ে ২০ গুণ বেশি হতে পারে।  পৃথিবীর ছায়াপথকে মিল্কিওয়ে বলা হয়। 

সবচেয়ে বড় ব্ল্যাক হোলকে বলা হয় "সুপারম্যাসিভ"। বিজ্ঞানীরা প্রমাণ পেয়েছেন যে প্রতিটি বড় গ্যালাক্সির কেন্দ্রে একটি সুপারম্যাসিভ ব্ল্যাক হোল রয়েছে।

সূত্র: নাসা ওয়েবসাইট। 
.
ঈশ্বর কণা কে আবিষ্কার করেন?
  1. ক) স্টিফেন হকিং
  2. খ) পিটার হিগস
  3. গ) আইনস্টাইন
  4. ঘ) জি. লেমেটার
সঠিক উত্তর:
খ) পিটার হিগস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) পিটার হিগস
ব্যাখ্যা
পিটার হিগস একজন ব্রিটিশ পদার্থবিদ, যার পুরো নাম পিটার ওয়ার হিগস।

তিনি ২০১৩ সালে পদার্থবিজ্ঞানের উপর নোবেল পুরস্কার পান। পিটার ওয়ার হিগস এবং তার সহকর্মী ১৯৬৪ সালে এই বসন কণা সম্পর্কে ধারণা দেন। পরবর্তীকালে, বিজ্ঞানীরা ২০১২ সালে এর অস্তিত্ব খুজে পান। 

সূত্র: ব্রিটানিকা ওয়েবসাইট। 
 
.
সূর্য পৃথিবী হতে কত কিলোমিটার দূরে অবস্থান করে?
  1. ক) ১২০ মিলিয়ন
  2. খ) ১৩০ মিলিয়ন
  3. গ) ১৪০ মিলিয়ন
  4. ঘ) ১৫০ মিলিয়ন
সঠিক উত্তর:
ঘ) ১৫০ মিলিয়ন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ১৫০ মিলিয়ন
ব্যাখ্যা
সূর্য পৃথিবী হতে ১৫০ মিলিয়ন কিলোমিটার দূরে অবস্থান করে।

সূর্যের বয়স প্রায় ৪.৫ বিলিয়ন বছর, একটি নক্ষত্র যা হাইড্রোজেন এবং হিলিয়ামের সমন্বয়ে গঠিত। সূর্যের আকারটি কার্যত গোলাকৃতির। মহাবিশ্বের অন্যান্য নক্ষত্রের মতো, সূর্য প্রায় সম্পূর্ণ আকারে গোলাকার। আমরা যদি আমাদের গ্রহ থেকে দেখি তবে আমরা একটি নিখুঁতভাবে বিজ্ঞপ্তি ডিস্ক দেখতে পারি। বিজ্ঞানীদের মতে, সূর্যের অভ্যন্তরে নিউক্লিয়ার বিক্রিয়ার ফলে এর থেকে তাপ ও আলোর বিচ্ছুরণ ঘটে। এই বিক্রিয়ায় জ্বালানি হিসেবে কাজ করে হাইড্রোজেন। 

সূত্র: নাসা ওয়েবসাইট। 
.
বায়ুমণ্ডলের কোন স্তরটিকে 'ওজন স্তর' নামে অভিহিত করা হয়?
  1. ক) ট্রপোস্ফিয়ার
  2. খ) মেসোস্ফিয়ার
  3. গ) স্ট্রাটোস্ফিয়ার
  4. ঘ) এক্সোস্ফিয়ার
সঠিক উত্তর:
গ) স্ট্রাটোস্ফিয়ার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) স্ট্রাটোস্ফিয়ার
ব্যাখ্যা

বায়ুমণ্ডলের স্ট্রাটোস্ফিয়ারটি ওজন স্তর নামে পরিচিত।

কারণ, এই স্তরের ওজন লেয়ার পৃথিবীর জীবজগতকে সূর্য থেকে আশা ক্ষতিকর রশ্মি থেকে রক্ষা করে। বায়ুমণ্ডলের ১২ কিলোমিটার থেকে ৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত এই স্তরের অবস্থান। 

বৈশিষ্ট্যসমূহ-
১) এই স্তরে বায়ুর ঘনত্ব খুব কম। তাই এর অপর নাম সুক্ষমন্ডল।
২) বায়ু মন্ডলের এই স্তরে ধূলিকণা ও জলীয় বাষ্প না থাকায় মেঘ বৃষ্টি হয় না। তাই অপর নাম শান্ত মন্ডল।
৩) এই স্তরে অক্সিজেনের পরিমান খুব কম থাকায় স্বাস প্রশ্বাসে অসুবিধা হয়।
৪) বায়ু মন্ডলের এই স্তর শান্ত থাকার জন্য খুব সহজেই এরোপ্লেন চলতে পারে। 

সূত্র: নাসা গ্লোবাল ক্লাইমেট চেঞ্জ ওয়েবসাইট।  



১০.
নিচের কোনটি ভুমিকম্প সৃষ্টির জন্য দায়ী?
  1. ক) ট্রপোমন্ডল
  2. খ) স্ট্রাটোমন্ডল
  3. গ) তাপমন্ডল 
  4. ঘ) টেকটোনিক প্লেট
সঠিক উত্তর:
ঘ) টেকটোনিক প্লেট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) টেকটোনিক প্লেট
ব্যাখ্যা
টেকটোনিক প্লেট ভুমিকম্প এবং আগ্নেয়গিরি উদগীরনের জন্য দায়ী। 

প্লেট টেকটোনিক হচ্ছে একটি বৈজ্ঞানিক তত্ত্ব। এই তত্ত্বে পৃথিবীর অশ্বমণ্ডল—অর্থাৎ একে অপরের দিকে চলাচল করতে সক্ষম এমন অনমনীয় খণ্ডের সমন্বয়ে তৈরি ভূত্বক বা পৃথিবীর উপরিতলের বর্ণনা করা হয়েছে। সর্বপ্রথম ১৯১২ সালে জার্মান আবহাওয়াবিদ আলফ্রেড ওয়েগনার ‘কন্টিনেন্টাল ড্রিফট’ নামে একটি তত্ত্ব প্রদান করেন। তাঁর এই তত্ত্বে তিনি ব্যাখ্যা দেন যে ‘বহুকাল আগে সবগুলো মহাদেশ পরস্পর সংযুক্ত ছিল।
একত্রে এদের প্যানজিয়া বা সুপারকন্টিনেন্ট বলা হতো। পরে কালের আবর্তে ভূত্বকীয় পাতের নড়াচড়ায় আলাদা আলাদা মহাদেশে বিভক্ত হয়ে যায়। ’ পরবর্তী বিজ্ঞানীরা তাঁর এই তত্ত্বটির ওপর ভিত্তি করে বিভিন্ন গবেষণা ও তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে আধুনিকতম তত্ত্ব বের করেন, যা সবার কাছে প্লেট টেকটোনিক হিসেবে পরিচিত। এই তত্ত্বের মূল ধারণা হলো, ভূপৃষ্ঠের নিচে পৃথিবীর শিলামণ্ডল কতগুলো অংশে বা খণ্ডে বিভক্ত। এগুলোকে প্লেট বলে। এই প্লেটগুলো গুরুমণ্ডলের আংশিক তরল অংশের ওপরে ভাসমান অবস্থায় আছে। ভূত্বকীয় প্লেটগুলোকে মূলত সাত ভাগে ভাগ করা হয়েছে, যেমন—আফ্রিকান প্লেট, এন্টার্কটিক প্লেট, ইউরেশিয়ান প্লেট, ইন্দো-অস্ট্রেলিয়ান প্লেট, উত্তর আমেরিকান প্লেট, প্যাসিফিক প্লেট, দক্ষিণ আমেরিকান প্লেট। এই প্লেটগুলো প্রতিবছর কয়েক সেন্টিমিটার কোনো এক দিকে সরে যায়। কখনো একে অন্যের দিকে আসে, কখনো আবার কয়েক মিলিমিটার ওপরে ওঠে বা নিচে নামে। যখন একটি প্লেটের সঙ্গে আরেকটি প্লেট ঘষা বা ধাক্কা খায় তখন ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরির উদগিরণের ঘটনা ঘটে। ধারণা করা হয়, প্লেটগুলো একটি আরেকটির সঙ্গে ঘষা বা ধাক্কা খেলে সেখানে প্রচুর তাপ সৃষ্টি হয়। তাপে ভূ-অভ্যন্তরের পদার্থ গলে যায়। এ গলিত পদার্থ চাপের ফলে নিচ থেকে ভূ-পৃষ্ঠ ভেদ করে বেরিয়ে আসে। একেই আগ্নেয়গিরির উদগিরণ বলে। বেরিয়ে আসা গলিত তরল পদার্থ ম্যাগমা নামে পরিচিত। একইভাবে প্লেটগুলো একটি অন্যটির সঙ্গে ধাক্কা খেলে পৃথিবী কেঁপে ওঠে। একেই ভূমিকম্প বলে। এ ছাড়া বিজ্ঞানীরা এ তত্ত্ব ব্যবহার করে পর্বত সৃষ্টি এবং মহাসাগর ও মহাদেশ সৃষ্টির ব্যাখ্যা দিয়ে থাকেন।

সূত্র: ব্রিটানিকা ওয়েবসাইট। 
১১.
সাইক্লোন শব্দের অর্থ কী?
  1. ক) হাতির শুঁড়ের ন্যায়
  2. খ) কুন্ডলী পাকানো সাপ
  3. গ) প্যাঁচানো সাপ
  4. ঘ) এক চোখা প্রাণী
সঠিক উত্তর:
খ) কুন্ডলী পাকানো সাপ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) কুন্ডলী পাকানো সাপ
ব্যাখ্যা
ঘূর্ণিঝড়ের ইংরেজি প্রতিশব্দ ‘সাইক্লোন’ গ্রিক শব্দ ‘কাইক্লোস’ (Kyklos) থেকে এসেছে। কাইক্লোস শব্দের অর্থ কুন্ডলী পাকানো সাপ। ঘূর্ণিঝড়ের উপগ্রহ চিত্র থেকে এমনতর নামকরণের যথার্থতা বোঝা যায়। ব্রিটিশ-ভারতীয় বিজ্ঞানী ও আবহাওয়াবিদ  হেনরী পিডিংটন ১৮৪৮ সালে প্রকাশিত তাঁর বিখ্যাত সামুদ্রিক দুর্যোগ বিষয়ক পুস্তক The Sailor’s Horn-book for the Law of Storms -এ প্রথমবারের মতো সাইক্লোন শব্দটি ব্যবহার করেন। 

ঘূর্ণিঝড় (Cyclone)  ঘূর্ণিঝড় হলো গ্রীষ্মমন্ডলী ঝড় বা বায়ুমন্ডলীয় একটি উত্তাল অবস্থা যা বাতাসের প্রচন্ড ঘূর্ণায়মান গতির ফলে সংঘটিত হয়। এটি সাধারণ  প্রাকৃতিক দুর্যোগসমূহের একটি। ঘূর্ণিঝড় হলো গ্রীষ্মমন্ডলীয় ঝড় (Tropical cyclone) বা বায়ুমন্ডলীয় একটি উত্তাল অবস্থা যা বাতাসের প্রচন্ড ঘূর্ণায়মান গতির ফলে সংঘটিত হয়। পৃথিবীর ৩০º উত্তর এবং ৩০º দক্ষিণ অক্ষাংশের মধ্যবর্তী অঞ্চল গ্রীষ্মমন্ডলীয় অঞ্চল হিসেবে চিহ্নিত। দক্ষিণ আটলান্টিক এবং দক্ষিণ-পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগর ব্যতীত পৃথিবীর বাদবাকি গ্রীষ্মমন্ডলীয় সাগরাঞ্চল যে মারাত্মক বায়ুমন্ডলীয় দুর্যোগসমূহ জন্ম দিচ্ছে তা সাধারণভাবে ঘূর্ণিঝড় হিসেবে পরিচিত। প্রতি বছর পৃথিবী জুড়ে গড়ে ৮০টি গ্রীষ্মমন্ডলীয় ঘূর্ণিঝড় সংঘটিত হয়।

সূত্র: বাংলাপিডিয়া ওয়েবসাইট।
১২.
নিচের কোন যুগটি 'ডায়নোসর যুগ' নামে পরিচিত?
  1. ক) প্যালিয়জোয়িক 
  2. খ) মেসোজোয়িক
  3. গ) সেনোজোয়িক
  4. ঘ) কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
খ) মেসোজোয়িক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) মেসোজোয়িক
ব্যাখ্যা

মেসোজোয়িক যুগটি 'ডায়নোসর যুগ' নামে পরিচিত। 

মেসোজোয়িক মহাযুগ আজ থেকে সাড়ে ২৪ কোটি বছর থেকে প্রায় ৬ কোটি ৬০ লক্ষ বছর আগে পর্যন্ত সীমাবদ্ধ। তিনটি যুগে এই মহাযুগ বিভক্ত। এগুলো হচ্ছে ট্রায়াসিক (Triassic), জুরাসিক (Jurassic) ও ক্রিটেসিয়াস (Cretaceous)। ডায়নোসর যুগ নামে পরিচিত এই মহাযুগেই ডায়নোসররা পৃথিবী জুড়ে রাজত্ব করতো। ট্রায়াসিক শিলা এখন পর্যন্ত বাংলাদেশে পাওয়া যায়নি। জুরাসিক-প্রবীণ ক্রিটেসিয়াস যুগে অদূরবর্তী এলাকায় আগ্নেয়গিরির ব্যাপক অগ্ন্যুৎপাতের কারণে বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলে বিশেষ করে জামালগঞ্জ, শিবগঞ্জ এবং বগুড়া গ্রস্ত উপত্যকা এলাকায় আগ্নেয় শিলাস্তর গঠিত হয়। এই শিলারাশিকে রাজমহল শিলাসোপান (ট্র্যাপ) বলে। ভূগর্ভে প্রাপ্ত কৃষ্ণবর্ণের ব্যাসল্টে এই শিলাসোপান গঠিত।

সূত্র: বাংলাপিডিয়া ওয়েবসাইট। 
১৩.
বায়ুপ্রবাহ, ঝড়, মেঘ, কুয়াশা বায়ুমণ্ডলের কোন স্তরে হয়ে থাকে?
  1. ক) ট্রপোমণ্ডল
  2. খ) স্ট্রাটোমন্ডল
  3. গ) মেসোমন্ডল
  4. ঘ) তাপমন্ডল
সঠিক উত্তর:
ক) ট্রপোমণ্ডল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ট্রপোমণ্ডল
ব্যাখ্যা
- ট্রপোমন্ডল (Troposphere): বায়ুমন্ডলের যে স্তরটি ভূ-ত্বকের সব থেকে নিচের স্তরে অবস্থিত সেটি হলো ট্রপোমন্ডল বা ট্রপোস্ফিয়ার।
- এই স্তরে বায়ুপ্রবাহ, ঝড়, মেঘ, বৃষ্টি, কুয়াশা, তুষারপাত, শিশির ইত্যাদির সৃষ্টি হয়
 - ট্রপোমন্ডলের শেষ প্রান্তের অংশের নাম ট্রপোবিরতি বা ট্রপোপজ।
- ট্রপোবিরতি এলাকায় তাপমাত্রা ৫৪° সেলসিয়াসের নিচে থাকে।
- ট্রপোমন্ডলের উচ্চতা বৃদ্ধির ফলে বাতাসের গতিবেগ বেড়ে যায় ও নিচের দিকের বাতাসে জলীয়বাষ্পের উপস্থিতি বেশি পাওয়া যায়।

সূত্র: ৬১ পৃষ্ঠা, ভূগোল ও পরিবেশ,  এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৪.
যক্ষ্মা রোগের জীবাণুর নাম কী?
  1. ক) Wuchereria bancrofti
  2. খ) Mycobacterium tuberculosis
  3. গ) Vibrio cholerae
  4. ঘ) Polio Virus
সঠিক উত্তর:
খ) Mycobacterium tuberculosis
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) Mycobacterium tuberculosis
ব্যাখ্যা
যক্ষ্মা রোগের জীবাণুর নাম হচ্ছে Mycobacterium tuberculosis. 

যক্ষ্মা  Mycobacterium tuberculosis নামের জীবাণুঘটিত দীর্ঘস্থায়ী এক সংক্রামক ব্যাধি। এ রোগ TB নামেও পরিচিত। যক্ষ্মা একটি প্রাচীন রোগ। সম্ভবত পঞ্চম শতকের প্রথম দিক থেকেই এটি মারাত্মক রোগ হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। যক্ষ্মা জীবাণুর বিভিন্ন জাত গৃহপালিত পশু ও বন্যপ্রাণীদের মধ্যেও সংক্রমণ ঘটায়। এ রোগ সচরাচর ফুসফুসের ক্ষতি করে, কিন্তু শ্বাসতন্ত্র, অস্থি ও অস্থিসন্ধি, ত্বক, লসিকাগ্রন্থি, অন্ত্র, কিডনি এবং স্নায়ুতন্ত্রও আক্রমণ করে। শ্বাসগ্রহণের সময় জীবাণু ফুসফুসে প্রবেশ করলেই সাধারণত সংক্রমণ ঘটে। দূষিত খাদ্যগ্রহণেও সংক্রমণ ঘটতে পারে। যক্ষ্মাগ্রস্ত ব্যক্তির হাঁচি ও কাশি থেকে নির্গত কফ বা থুথুর কণাগুলি অন্যের শরীরে ও বাতাসে জীবাণু ছড়ায়। এসব জীবাণু বাতাসে, শুষ্ক কফ ও থুথুতে এবং ধূলাবালিতে দীর্ঘকাল সক্রিয় থাকে। রোগটি অন্যদের তুলনায় একই পরিবারের লোকদের মধ্যে অধিক পরিমাণে সংক্রমিত হয়ে থাকে, কেননা এক পরিবারের সদস্যরা একই বাড়িতে বসবাস করে, একই টেবিলে খাবার খায় ও পরস্পরের ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শে আসে, তবে যক্ষ্মা বংশানুক্রমিক নয়।

সূত্র: বাংলাপিডিয়া ওয়েবসাইট।


১৫.
করোনা ভাইরাসের জন্য নিচের কোনটি দায়ী?
  1. ক) rRNA
  2. খ) tRNA
  3. গ) mRNA
  4. ঘ) কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
গ) mRNA
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) mRNA
ব্যাখ্যা
প্রশ্নে ভাষাগত ত্রুটি ছিল। প্রশ্নে মূলত জানতে চাওয়া হয়েছে করোনা ভাইরাসের সাথে সংশ্লিষ্ট নিচের কোনটি?
অপশনে mRNA ছিল বিধায়, একে সঠিক উত্তর হিসেবে নেওয়া হয়েছে। কারণ Infecting RNA কোষের ভিতর messenger RNA (mRNA) হিসেবে কাজ করে। 
 
- COVID-19 এর জন্য দায়ী হলো SARS CoV2 নামক বিশেষ করোনা ভাইরাস। এটি এক ধরনের আরএনএ ভাইরাস। কারণ ভাইরাসটির জিনোম হলো RNA।

SARS-CoV-2 gets into the cell through recognition by the spike glycoprotein present on the surface of the virus envelope of the angiotensin converting enzyme 2 (ACE2) receptors, as previously observed for SARS-CoV [4,5]. It is possible that other receptors mediate the entry of SARS-CoV-2 into host cells, such as CD147 [6]. After attachment, the human transmembrane protease serine 2 (TMPRSS2) cleaves and activates the spike protein [7] in an event that allows SARS-CoV-2 to enter the cells by endocytosis or direct fusion of the viral envelope with the host membrane [8,9].

Once inside the cell, the infecting RNA acts as a messenger RNA (mRNA), which is then translated by host ribosomes to produce the viral replicative enzymes, which generate new RNA genomes and the mRNAs for the synthesis of the components necessary to assemble the new viral particles. SARS-CoV-2 replication is a complex process that involves RNA synthesis, proofreading and capping. Similar to other viruses, this process is likely to actively involve many host proteins, like DDX helicases, which are exploited by the virus for more efficient replication [10,11,12].
 
 
উৎস : ন্যাশনাল লাইব্রেরি অব মেডিসিন। 
 
 
১৬.
এ্যানথ্রাক্স জীবাণুর মূল উৎস কোনটি? 
  1. ক) পানি 
  2. খ) বায়ু
  3. গ) মাটি
  4. ঘ) সবগুলোই 
সঠিক উত্তর:
গ) মাটি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) মাটি
ব্যাখ্যা
এন্থ্রাক্স জীবাণুর মূল উৎস হচ্ছে মাটি। 

এ্যানথ্রাক্স (Anthrax)  Bacillus Anthracis ব্যাকটেরিয়াঘটিত মারাত্মক সংক্রামক ব্যাধি। 
গ্রীক শব্দ এ্যানথ্রাক্স-এর অর্থ Coal বা কয়লা। এ রোগের কারণে শরীরে কালো রঙের ক্ষত সৃষ্টি হয় বলেই এর এই নামকরণ। 
বাংলায় একে তড়কা রোগ বলা হয়। 
এতে গরু, মহিষ, ছাগল, ভেড়া, কুকুর, বিড়াল ইত্যাদি গৃহপালিত প্রাণি আক্রান্ত হতে পারে। 
এটি ব্যাকটেরিয়া বা জীবাণু বাহিত রোগ। 
এ জীবাণুর মূল উৎস মাটি। দীর্ঘদিন (অন্তত ৩/৪ দশক) রড আকৃতির এই জীবাণু স্পোর মাটিতে টিকে থাকতে পারে। 
গবাদিপশু বা কোনো তৃণভোজী প্রাণি মাটি থেকে ঘাস খাবার সময় সহজেই এ রোগের জীবাণু (Spore) দ্বারা আক্রান্ত হতে পারে। 
এ রোগের জীবাণু সংক্রমিত পানি পান করলেও গবাদিপশু এ্যানথ্রাক্স দ্বারা আক্রান্ত হতে পারে। প্রাণি থেকে এ রোগ মানুষেও ছড়ায়। 
এটি জোনোটিক (zoonotic) রোগ।  তবে মানুষ থেকে মানুষে এ রোগের বিস্তার ঘটেনা। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া ওয়েবসাইট। 
১৭.
থাইরয়েড গ্রন্থির অস্বাভাবিক বৃদ্ধির ফলে কোন রোগটি হয়ে থাকে?
  1. ক) ডায়াবেটিস
  2. খ) এপিলেপসি
  3. গ) পারকিনসন
  4. ঘ) গলগণ্ড
সঠিক উত্তর:
ঘ) গলগণ্ড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) গলগণ্ড
ব্যাখ্যা
থাইরয়েড গ্রন্থির অস্বাভাবিক বৃদ্ধির ফলে গলগণ্ড রোগটি হয়ে থাকে। 

গলগন্ড (Goiter)  খাদ্য ও খাবার পানিতে আয়োডিনের অভাব, সংক্রমণজনিত প্রদাহ, টিউমার, অথবা গলগ্রন্থির কম কার্যকারিতার কারণে গলগ্রন্থির (thyroid) অস্বাভাবিক বৃদ্ধি। ফুলে ওঠা গলগ্রন্থি গলার সামনে সহজদৃষ্ট হয়ে ওঠে। বেশির ভাগ গলগন্ড গলায় সীমাবদ্ধ থাকলেও কিছু কিছু ক্ষেত্রে এগুলি বুকের উপর দিকে বা কদাচিৎ অন্তর্বক্ষীয়ও হতে পারে।

বাংলাদেশে ১৯৭৭ সালে গলগন্ড ও আয়োডিনঘটিত অন্যান্য অসুস্থতা প্রশমনের কার্যক্রম শুরু হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পুষ্টি ও খাদ্য বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট এবং ইউনিসেফের সহযোগিতায় ৯টি জেলার প্রায় ৯৫,০০০ লোককে লেপিওডল ইনজেকশন দেওয়া হয়। একইভাবে ১৯৮৩ সালে জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট ইউনিসেফের সহযোগিতায় রংপুর জেলার জলঢাকা উপজেলায় ৮০,০০০ লোককে ইনজেকশন দেয়। ১৯৮৫ সালে খাবার লবণে আয়োডিন মিশ্রণের প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়। বর্তমানে আয়োডিন মিশ্রিত লবণ বাজারজাত করা বাধ্যতামূলক এবং প্রায় দু’ডজন উদ্যোক্তা এ ধরনের খাবার লবণ তৈরি করছে। বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা কাউন্সিলের খাদ্য বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ইনস্টিটিউট এ পণ্যের উৎপাদন, সংরক্ষণ ও বিপণনের সহজ পদ্ধতি উদ্ভাবন করেছে এবং এ কর্মসূচির কার্যকারিতা পর্যবেক্ষণ করে থাকে।  

সূত্র: বাংলাপিডিয়া ওয়েবসাইট। 
১৮.
স্ট্রোক নিচের কোন শারিরিক সমস্যার জন্য দায়ী?
  1. ক) এপিলেপসি
  2. খ) পারকিনসন
  3. গ) প্যারালাইসিস
  4. ঘ) ডায়াবেটিস
সঠিক উত্তর:
গ) প্যারালাইসিস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) প্যারালাইসিস
ব্যাখ্যা
প্যারালাইসিস নামক স্নায়ুবিক শারীরিক সমস্যাটি স্ট্রোকের জন্য হয়ে থাকে সাধারণত। 

প্যারালাইসিস মূলত রোগ নয় বরং রোগের ফলে সৃষ্ট এমন একটি অবস্থা যার ফলে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ অথবা নির্দিষ্ট কোন অঙ্গ ধীরে ধীরে অথবা হঠাৎ করেই অবশ হয়ে যায় এবং সে অংশের মাংসপেশিও তাদের কর্মক্ষমতা হারিয়ে ফেলে। প্যারালাইসিসের দরুন এবং এর সুচিকিৎসার অভাবে বা অপচিকিৎসার ফলে ধীরে ধীরে রোগীর অবস্থা আরও ভয়ানক আকার ধারণ করে এবং কালক্রমে তা পঙ্গুত্ব থেকে রোগীকে মৃত্যুর দিকে নিয়ে যায়।

প্যারালাইসিস বিষয়টি মূলত নিউরোমাসকুলার অর্থাৎ নার্ভ ও মাংসপেশির সঙ্গে সম্পর্কিত। সুতরাং নার্ভের ইনজুরি বা অস্বাভাবিকতার কারণে মাংসপেশির পরিবর্তন বা দুর্বলতা বা অক্ষমতাই প্যারালাসিস হওয়ার জন্য প্রাথমিক সূচক। প্যারালাইসিসের দরুন মাংসপেশির শক্তি কমে যাওয়া,
হঠাৎ মাংশপেশীর টান বেড়ে যাওয়া বা শক্ত হয়ে যাওয়া, মাংসপেশি শুকিয়ে যাওয়া, থলথলে হয়ে যাওয়া ইত্যাদি হতে পারে। 

সূত্র: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১৯.
পারকিনসন রোগ সম্পর্কে কোনটি প্রযোজ্য?
  1. ক) নারীদের তুলনায় পুরুষরা বেশি আক্রান্ত হয়
  2. খ) পুরুষের তুলনায় নারীরা বেশি আক্রান্ত হয়
  3. গ) শিশুরা এ রোগে বেশি আক্রান্ত হয়
  4. ঘ) কোনটিই নয় 
সঠিক উত্তর:
ক) নারীদের তুলনায় পুরুষরা বেশি আক্রান্ত হয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) নারীদের তুলনায় পুরুষরা বেশি আক্রান্ত হয়
ব্যাখ্যা
পারকিনসন রোগটি নারীদের তুলনায় পুরুষরা বেশি আক্রান্ত হয়ে থাকে।

মস্তিস্কে এক ধরনের রাসায়নিক পদার্থের ঘাটতির কারণে এই রোগ দেখা দেয়। ব্রেন এর মধ্যে ছোট একটা অংশ রয়েছে, যেটিকে চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় 'সাবস্ট্যানশিয়া নাইগ্রা' বলা হয়। এই অংশের স্নায়ু কোষ বা নিউরোন শুকিয়ে যাওয়ার কারণে ডোপামিন নামক নিউরোট্রান্সমিটার (এক ধরণের রাসায়নিক পদার্থ) নষ্ট হয়ে যায় অথবা এর ঘাটতি দেখা দেয়। স্বাভাবিক অবস্থায় মস্তিস্কে ব্যাজাল গ্যাংলিয়া নামের একটি অংশ মানুষের চলাফেরা এবং গতির সমন্বয় করে থাকে, ডোপামিনের অভাবে সেই সমন্বয়ের প্রক্রিয়া নষ্ট হয়ে যায়, তখন একজন মানুষ আক্রান্ত হয় পারকিনসন্স রোগে।

পারকিনসন্স এর লক্ষণসমূহ-
এই রোগে আক্রান্ত হলে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি উপসর্গ দৃশ্যমান হয়।
প্রথমত: হাত এবং পায়ে কাঁপুনি হয়।
দ্বিতীয়ত: শরীরের একপাশের হাত এবং পা স্বাভাবিকের তুলনায় শক্ত হয়ে যায়।
তৃতীয়ত: চলাফেরার গতি ধীর হয়ে যায়।

আরও কিছু উপসর্গ দেখা দিতে পারে:
কেউ আক্রান্ত হলে শরীরের ভারসাম্য ধরে রাখতে না পারায় সামনের দিকে ঝুঁকে হাঁটতে দেখা যাবে।
কণ্ঠ বা কথার স্বর নীচু হতে পারে বা কমে যেতে পারে।
এমনকি চোখের পাতার নড়াচড়াও কমে যেতে পারে।
শরীরের ভারসাম্য ধরে রাখতে সমস্যা হওয়ায় আক্রাত ব্যক্তি বার বার পড়ে যেতে পারেন।
এছাড়া হতাশা, উদ্বেগ, উদাসীনতা ঘুম কমে যাওয়া- এধরনের লক্ষণ যেমন দেখা দেয়।
কোষ্ঠ কাঠিন্য এবং প্রস্রাব আটকে যাওয়ার মতো সমস্যাও হয়ে থাকে।

সূত্র: National Institute on Aging Website. 
২০.
ইবোলা ভাইরাসের বাহক কোনটি?
  1. ক) বানর 
  2. খ) কুকুর
  3. গ) বিড়াল
  4. ঘ) বাদুড়
সঠিক উত্তর:
ঘ) বাদুড়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) বাদুড়
ব্যাখ্যা
ইবোলা ভাইরাসের বাহকের বাহক হচ্ছে বাদুড়।

ইবোলা হল এক প্রকার মারাত্মক প্রতিক্রিয়া সম্পন্ন ভাইরাস যা ইবোলা ভাইরাস (ebola virus) জনিত বিভিন্ন রোগ সৃষ্টি করে থাকে। ইবোলা ভাইরাস জনিত রোগ একটি মারাত্মক অসুখ যা ভাইরাল হেমোরজিক জ্বর সৃষ্টি করে এবং ৯০% রোগীর ক্ষেত্রে এটি মারাত্মক হয়। 

ইবোলা একটি একক এবং নেতিবাচক আরএনএ (RNA) ভাইরাস যা ভাইরাস পরিবার ফিলোভিরিডের অন্তর্গত। মারবুর্গ ভাইরাসগুলি ফিলোভিরিডে পরিবারের অন্তর্ভুক্ত। এই ভাইরাস পরিবারটি তাদের রডের মতো শেপ, থ্রেডের মতো কাঠামো, বৈচিত্র্যময় দৈর্ঘ্য এবং এদের ঝিল্লিটি, আবদ্ধ ক্যাপসিড দ্বারা চিহ্নিত করা হয়। ইবোলা ভাইরাসের সাধারন দৈর্ঘ্য ১৪,০০০ নানোমিটার এবং ব্যাসার্ধ ৮০ নানোমিটারের চেয়ে তুলনামূলকভাবে কিছুটা বড় । এ ভাইরাসগুলো প্রায়ই একটি ইউ আকার ধারণ করে থাকে।

ইবোলার লক্ষণসমূহ-
জ্বর, মাথাব্যথা, দুর্বলতা, মাংশ পেশীর ব্যথা এবং গলা ব্যথার মতো লক্ষণগুলো দ্রুত প্রকাশ পেতে শুরু করে।

ভুক্তভোগীরা প্রায়শই ডায়রিয়া, বমি এবং ফুসকুড়ির মতো সমস্যায় ভোগেন। তারপরে আক্রান্ত ব্যক্তির অভ্যন্তরীণ এবং বাহ্যিক রক্তক্ষরন শুরু হয়।

সূত্র: Centers for Disease Control and Prevention Website.
২১.
আমাশয় রোগের জীবাণুর জন্য দায়ী কোনটি?
  1. ক) Yersinia pestis
  2. খ) Entamoeba histolytica
  3. গ) Escherichia coli
  4. ঘ) Myxococcus xanthus
সঠিক উত্তর:
খ) Entamoeba histolytica
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) Entamoeba histolytica
ব্যাখ্যা
আমাশয় রোগের জীবাণুর জন্য দায়ী- Entamoeba histolytica. 

অ্যামিবীয় আমাশয় (Amoebic dysentery, Amoebiasis) Entamoeba histolytica নামক এককোষী পরজীবীঘটিত আমাশয়। এ এককোষী জীবাণু অন্ত্রের শ্লৈষ্মিক ঝিল্লি আক্রমণ করে এবং রোগ শুরু হলে শ্লৈষ্মিক ঝিল্লির স্থানে স্থানে ক্ষত সৃষ্টি হয় এবং সেগুলি থেকে শ্লেষ্মা, পচা দেহকোষ, অ্যামিবা-কোষ নির্গত হয়। রোগ লক্ষণে থাকে পেটব্যথা, ঘন ঘন শ্লেষ্মা সহকারে ঘন ঘন মলত্যাগ (দিনে ৩০ বার বা ততোধিক হতে পারে), মলত্যাগে যন্ত্রনা, বমি ও সাধারণ দৌর্বল্য। পেটে  একটি বিশেষ ধরণের (tenesmus) ব্যথা অনুভুত হতে দেখা যায়। নাভীর চারপাশে কামড়সহ মলত্যাগের তাড়াহুড়ো ইচ্ছে কিন্তু বাথরুমে গিয়ে মলত্যাগের অতৃপ্তি।  জীবাণুঘটিত রক্ত আমাশয়ে যেখানে মলের সঙ্গে টাটকা রক্তপাত ঘটে, সেখানে অ্যামিবীয় আমাশয়ে মারাত্মক পরিস্থিতি ব্যতীত সাধারণত মলে কোনো রক্ত থাকে না।

সূত্র: বাংলাপিডিয়া ওয়েবসাইট। 
২২.
রিকেটস রোগে প্রধানত কারা আক্রান্ত হয়?
  1. ক) বৃদ্ধ
  2. খ) শিশু
  3. গ) যুবক-যুবতী
  4. ঘ) উপরের সবগুলো
সঠিক উত্তর:
খ) শিশু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) শিশু
ব্যাখ্যা
রিকেটস রোগে প্রধানত শিশুরা আক্রান্ত হয়ে থাকে। 

ভিটামিন-ডি এর অভাবে রিকেটস রোগ হয়ে থাকে। 

রিকেটসের মূল কারণগুলো হলো-
১. অপর্যাপ্ত সূর্যালোক।
২. অপর্যাপ্ত ভিটামিন-ডি সমৃদ্ধ খাবার।
৩. ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস- এ দুটো খনিজ লবণের অভাব।
৪. দেহে স্নেহ পদার্থের অভাব- কেননা স্নেহ পদার্থেই ভিটামিন-ডি দ্রবীভূত হয়। স্নেহ পদার্থের অভাবে ভিটামিন-ডি পর্যাপ্ত পরিমাণে শোষিত হতে পারে না এবং দেহের কাজে লাগে না।
এ ছাড়া যকৃত ও কিডনির রোগ এবং খিঁচুনি নিরোধক ওষুধের কারণেও দেহে ভিটামিন-ডি’র অভাব দেখা দিতে পারে।

সূত্র: National Institutes of Health Website. 
২৩.
করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার সাধারণত কতদিনের মধ্যে লক্ষণ প্রকাশ পায়?
  1. ক) ৬ দিন
  2. খ) ৩০ দিন 
  3. গ) ২১ দিন
  4. ঘ) ২৮ দিন
সঠিক উত্তর:
ক) ৬ দিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ৬ দিন
ব্যাখ্যা
করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার সাধারণত ৫-৬ দিনের মধ্যেই লক্ষণ প্রকাশ পায়। তবে, কোন কোন ক্ষেত্রে ইহা ১৪ দিনের উপরেও সময় নিয়ে থাকে। 

করোনা ভাইরাস সমগোত্রীয় ভাইরাসের একটি বড় পরিবার, যেগুলি সাধারণ সর্দিজ্বর থেকে শুরু করে মিডল ইস্ট রেসপিরেটরি সিন্ড্রোম (মার্স) ও সিভিয়ার অ্যাকিউট রেস্পিরেটরি সিন্ড্রোমের (সার্স) মতো মারাত্মক রোগ সৃষ্টি করে।

২০১৯ সালে চীনের উহান প্রদেশে একটি নতুন করোনা ভাইরাস (কোভিড-১৯) সনাক্ত করা হয়েছিল। এটি একটি নতুন করোনা ভাইরাস যা আগে কখনো মানুষের মধ্যে দেখা যায়নি।

রেসপিরেটরি লক্ষণ ছাড়াও জ্বর, কাশি, শ্বাস প্রশ্বাসের সমস্যাই মূলত প্রধান লক্ষণ।
এটি ফুসফুসে আক্রমণ করে। 
সাধারণত শুষ্ক কাশি ও জ্বরের মাধ্যমেই শুরু হয় উপসর্গ, পরে শ্বাস প্রশ্বাসে সমস্যা দেখা দেয়।
সাধারণত রোগের উপসর্গগুলো প্রকাশ পেতে গড়ে পাঁচ দিন সময় নেয়।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, ভাইরাসটির ইনকিউবেশন পিরিয়ড ১৪দিন পর্যন্ত স্থায়ী থাকে। তবে কিছু কিছু গবেষকের মতে এর স্থায়িত্ব ২৪ দিন পর্যন্ত থাকতে পারে।

সূত্র: World Health Organization Website. 
২৪.
শিশুদের বাচ্চার কত বছর থেকে মায়ের বুকের দুধের সাথে অন্যান্য খাবার খেতে দিতে হয়?
  1. ক) ১২ মাস 
  2. খ) ৬ মাস
  3. গ) ১৮ মাস
  4. ঘ) ২৪ মাস
সঠিক উত্তর:
খ) ৬ মাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ৬ মাস
ব্যাখ্যা
শিশুদের বয়স ৬ মাস পূর্ণ হলে মায়ের বুকের দুধের সাথে অন্যান্য খাবার দিতে হয়। 

পুষ্টিকর উপাদান নিশ্চিত করা এবং শক্তিশালী রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্য শিশুকে ছয় মাস বয়স পর্যন্ত অবশ্যই মায়ের দুধ খাওয়াতে হবে। শিশুর বয়স ছয় মাস পূর্ণ হলে তাকে সিরিয়াল এবং শাকসবজি ও ডিমের মতো পারিবারিক খাবার চটকে খাওয়াতে হবে। দুই বছর বয়স পর্যন্ত শিশুকে অন্যান্য পারিবারিক খাবারের পাশাপাশি মায়ের দুধ খাইয়ে যেতে হবে।

একেই বলে পরিপূরক খাবার খাওয়ানো। এর মধ্য দিয়ে শিশু শুধুমাত্র মায়ের দুধ খাওয়া থেকে পারিবারিক খাবার খাওয়ায় অভ্যস্ত হয়। শিশুর ক্রমবর্ধমান পুষ্টি চাহিদা পূরণে এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই পর্বে ছয় মাস থেকে ২৪ মাস বয়স পর্যন্ত শিশুর পুষ্টি চাহিদা পূরণ হয় এবং এমন একটি সময়ে এটা হয় যখন তার শারীরিক ও মানসিক বিকাশ ঘটে।

সূত্র: ইউনিসেফ বাংলাদেশ। 
২৫.
MCH এর পূর্ণরূপ কোনটি?
  1. ক) Maternal and Care Health
  2. খ) Maternal and Caring Health
  3. গ) Maternal and Child Health
  4. ঘ) Mother and Child Health
সঠিক উত্তর:
গ) Maternal and Child Health
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) Maternal and Child Health
ব্যাখ্যা
MCH এর পূর্ণরূপ হচ্ছে- Maternal and Child Health. 

মা ও শিশুর বিদ্যালয় পূর্ব বয়স পর্যন্ত প্রদেয় উন্নয়নমূলক, প্রতিরোধমূলক, আরোগ্য সহায়ক এবং পুনর্বাসনমূলক স্বাস্থ্য সেবাকে মা ও শিশু স্বাস্থ্য সেবা বলে।

উদ্দেশ্যঃ
1.মাতৃ মৃত্যু, নবজাতক মৃত্যু হার হ্রাস করা;
2.প্রজনন স্বাস্থ্যের উন্নয়ন;
3.পরিবারে শিশুর শারীরিক এবং মানসিক বিকাশ।
4.মা ও শিশু স্বাস্থ্যের উপাদান সমূহঃ
5.মাতৃ স্বাস্থ্য;
6.পরিবার পরিকল্পনা;
7.শিশু স্বাস্থ্য;
8.স্কুল স্বাস্থ্য;
9.প্রতিবন্ধী শিশুর যত্ন;
10.শেষ স্থানে শিশুর যত্ন যেমন, ডে-কেয়ার সেন্টারে শিশুর যত্ন।

সূত্র: World Vision Website.
২৬.
থ্যালাসেমিয়া কী?
  1. ক) হরমোনজনিত সমস্যা
  2. খ) রক্তজনিত সমস্যা
  3. গ) স্নায়ুজনিত সমস্যা
  4. ঘ) হৃদরোগজনিত সমস্যা
সঠিক উত্তর:
খ) রক্তজনিত সমস্যা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) রক্তজনিত সমস্যা
ব্যাখ্যা
থ্যালাসেমিয়া হচ্ছে একটি রক্তজনিত সমস্যা। 

থ্যালাসেমিয়া হচ্ছে এমন একটি রোগ, যেটি উত্তরাধিকারসূত্রে হয়ে থাকে। আর এ রোগে আক্রান্ত রোগীর শরীরে রক্তের ব্যাধি হয়ে থাকে, যা শরীরের হিমোগ্লোবিন এবং লোহিত রক্তকণিকা তৈরির ক্ষমতাকে প্রভাবিত করে।

লক্ষণসমূহ- 
১. জন্ডিস ও ত্বক ফ্যাকাশে হয়ে যাওয়া
২. তন্দ্রা ও ক্লান্তি
৩. বুকে ব্যথা
৪. হাত পা ঠণ্ডা হয়ে যাওয়ার সমস্যা দেখা দিতে পারে।
৫. নিঃশ্বাস নিতে সমস্যা দেখা দিতে পারে।
৬. থ্যালাসেমিয়ার কারণে পায়ে ক্রাম্প হতে পারে।
৭. থ্যালাসেমিয়া হলে হৃদস্পন্দন বেড়ে যেতে পারে।
৮. অনেক সময় থ্যালাসেমিয়া হলে শিশুরা আর খেতে চায় না বা খাবারে অনীহা দেখা দিতে পারে।
৯. থ্যালাসেমিয়ার কারণে শিশুদের বৃদ্ধিতে বিলম্ব দেখা দিতে পারে বা শিশুরা ঠিক মতো বেড়ে ওঠে না।
১০. অনেক সময় মাথাব্যথা দেখা দিতে পারে।

সূত্র: https://www.mayoclinic.org/diseases-conditions/thalassemia/symptoms-causes/syc-20354995
২৭.
'হাইপারমেসিস গ্র্যাভিডারাম' গর্ভবতী মায়ের কোন সময়ে দেখা দেয়?
  1. ক) গর্ভাবস্থার প্রথম ১ মাস
  2. খ) গর্ভাবস্থার প্রথম ৩ মাস
  3. গ) গর্ভাবস্থার প্রথম ৫ মাস
  4. ঘ) গর্ভাবস্থার প্রথম ৭ মাস
সঠিক উত্তর:
খ) গর্ভাবস্থার প্রথম ৩ মাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) গর্ভাবস্থার প্রথম ৩ মাস
ব্যাখ্যা
গর্ভাবস্থার প্রথম ৩ মাসের মাথায় গর্ভবতী মায়েদের হাইপারমেসিস গ্র্যাভিডারাম সমস্যা দেখা দেয়।

অনেক মহিলার গর্ভাবস্থার প্রথম ৩ মাসের মাথায় বমি বমি ভাব হয় যাকে 'মর্নিং সিকনেস' হিসেবেও অভিহিত করা হয়। গর্ভাবস্থায় বমি বমি ভাব এবং বমি হওয়ার কারণ এইচসিজি (হিউম্যান কোরিওনিক গোনাডোট্রপিন) নামক হরমোনের রক্তের মাত্রা দ্রুত বৃদ্ধি বলে মনে করা হয়, যা প্লাসেন্টা দ্বারা নিঃসৃত হয়।
এটি ওজন হ্রাস এবং ডিহাইড্রেশন হতে পারে এবং নিবিড় চিকিত্সার প্রয়োজন হতে পারে।

সূত্র:  https://my.clevelandclinic.org/health/diseases/12232-hyperemesis-gravidarum-severe-nausea--vomiting-during-pregnancy
২৮.
গর্ভকালীন সময়ে অত্যাবশ্যকীয় টিকা কোনটি?
  1. ক) হেপাটাইটিস-বি
  2. খ) করোনা
  3. গ) রুবেলা
  4. ঘ) টিটেনাস
সঠিক উত্তর:
ঘ) টিটেনাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) টিটেনাস
ব্যাখ্যা
গর্ভকালীন সময়ে একজন মায়ের টিটেনাস টিকা গ্রহণ করতে হয়। 

টিটেনাস (ধনুষ্টংকার) থেকে রক্ষ পাওয়ার জন্য টিটি টিকা নিতে হয়। হবু মায়েদের টিটি টিকা নিতে হবে যেন বাচ্চার ধনুষ্টঙ্কার না হয়। যদি আগে কোণ টিকা নেওয়া না থাকে, তবে সবগুলোই দিতে হবে। শিশুদের যে পেন্টা ভ্যালেন্ট টিকা দেয়া হয় তাতে ধনুষ্টঙ্কার প্রতিরোধী টিকা থাকে। কিন্তু এই টিকা নবজাতককে সুরক্ষা দিতে পারে না বিধায় সম্প্রসারিত টিকা দান কর্মসূচির আওতায় আমাদের দেশে সন্তান জন্মদানে সক্ষম নারী—যাদের বয়স ১৫ থকে ৪৯ বছর, তাদের জন্য ধনুষ্টঙ্কার ও রুবেলার বিরুদ্ধে টিটি ও এমআর টিকা দেয়া হয়।

টিটেনাসের ৫টি টিকার ডোজ সম্পন্ন থাকলে আর গর্ভাবস্থায় এই টিকা নেয়ার প্রয়োজন নেই। আর কেউ যদি কোনো টিকা না নিয়ে থাকেন, সেক্ষেত্রে গর্ভাবস্থায় ৫ মাসের পর ১ মাসের ব্যবধানে পর পর দুটি টিটি টিকা দিয়ে নিতে হবে। আর যদি পূর্বে দুই ডোজ টিকা নেয়া থাকে তাহলে প্রতি গর্ভাবস্থায় মাত্র একটি বুষ্টার ডোজ নিতে হবে। মাকে দেয়া এই টিকা মা ও বাচ্চা উভয়েরই ধনুষ্টংকার রোগের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তুলে। প্রসবকালে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ, পরিচ্ছন্নতায় অসতর্কতা এবং অপরিষ্কার ছুরি, ব্লেড বা কাঁচি ব্যবহার করলে (বাচ্চার নাভী কাটার সময়) অথবা নাভীর গোড়ায় নোংরা কিছু লাগিয়ে দিলে নবজাতকের ধনুষ্টংকার রোগ হয়।

সূত্র:  উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়, কিশোরগঞ্জ ওয়েবসাইট। 
২৯.
হাম রোগের জন্য নিচের কোনটি দায়ী?
  1. ক) মোরবিলি ভাইরাস
  2. খ) ভ্যারিওলা ভাইরাস
  3. গ) পলিওমাভাইরাস
  4. ঘ) আলফাভাইরাস
সঠিক উত্তর:
ক) মোরবিলি ভাইরাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) মোরবিলি ভাইরাস
ব্যাখ্যা
হাম রোগের জন্য মোরবিলি ভাইরাস দায়ী।  এই ভাইরাস রক্তকণিকা গলিয়ে দেয় অথবা ভেঙে ফেলে, কোষ নষ্ট করে ইত্যাদি। লক্ষণ প্রকাশের আগে ১০-১৪ দিন পর্যন্ত জীবাণু সুপ্তাবস্থায় থাকে। প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে এ সময় বেশিও হতে পারে।

হাম (Measles)  একটি মারাত্মক সংক্রামক ব্যাধি রোগ। এ রোগের লক্ষণগুলি হচ্ছে জ্বর, শরীরে ব্যথা, হাঁচি, নাক বন্ধ এবং মুখ গহবরের ভিতরে ছোট ছোট দানার উদ্ভব। তৃতীয় বিশ্বে এ রোগ শিশুদের ব্যাপক ভোগান্তি এবং মৃত্যুর কারণ। সপ্তম শতাব্দী থেকে এ রোগের কথা জানা গেছে। অনুন্নত দেশে এ রোগে প্রতি বছর প্রায় ১৫ লক্ষ শিশু মারা যায়।

জীবাণুকণিকা বা নিউক্লিয়াসের মাধ্যমে এ রোগের সংক্রমণ ও বিস্তার ঘটে। শ্বাসনালীর মাধ্যমে এ রোগজীবাণু শরীরে প্রবেশ করে। তবে চোখের পর্দা বা কনজাংটিভা দিয়েও এ রোগ প্রবেশ করতে পারে। তৃতীয় বিশ্বের শিশুদের মধ্যে এ রোগের হার বেশি এবং অনেক দিন শরীরে জীবাণু বহনের জন্য এ রোগে মৃত্যুর হারও বেশি। একমাত্র টিকার মাধ্যমে মৃত্যুর হার প্রতিরোধ করা সম্ভব। এই ভাইরাস নষ্ট করার কোন ঔষধ নেই। তবে তেমন কোন জটিলতা না থাকলে সম্পূর্ণ বিশ্রামই এ রোগের প্রধান প্রতিষেধক।

সূত্র: বাংলাপিডিয়া ওয়েবসাইট। 
৩০.
অ্যান্টিবায়োটিকের কাজ কী?
  1. ক) ভাইরাস ধ্বংস করা
  2. খ) জীবাণু বহন করা
  3. গ) জীবাণু ধ্বংস করা
  4. ঘ) ক ও গ 
সঠিক উত্তর:
গ) জীবাণু ধ্বংস করা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) জীবাণু ধ্বংস করা
ব্যাখ্যা
অ্যান্টিবায়োটিকের কাজ হচ্ছে জীবাণু ধ্বংস করা। 

এন্টিবায়োটিক হলো এমন একটা উপাদান যা ব্যাকটেরিয়া বা ফাঙ্গাস থেকে সংগ্রহ করে অন্য ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া বা ফাঙ্গাস কে ধ্বংস জন্য বা তার বংশবৃদ্ধি রোধ করার জন্য ব্যবহার করা হয়। এন্টিবায়োটিক ভাইরাসের ক্ষেত্রে অকার্যকর।  

এন্টিবায়োটিকের ক্ষতিকর দিকগুলো:
১. এন্টিবায়োটিকের অতিরিক্ত ব্যবহারে রাসায়নিক বিক্রিয়ায় শারীরিক স্থূলতার ঝুঁকি থাকে।
২. এন্টিবায়োটিক অন্ত্রের অনেক উপকারী ব্যাকটেরিয়াও মেরে ফেলে যাতে অগ্ন্যাশয়ের কার্যক্ষমতা কমে গিয়ে টাইপ ২ ডায়াবেটিস হওয়ার সম্ভবনা বেড়ে যায়।

এন্টিবায়োটিকের ক্ষতিকর দিক রোধে করণীয়- 
১) ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া সাধারন রোগে ভুগলেই এন্টিবায়োটিক ব্যবহার না করা।
২) ডাক্তারের পরামর্শ মত ডোজ ও সময় অনুসারে এন্টিবায়োটিক সেবন করা।
৩) ডাক্তারের ব্যবস্থাপত্রে দেয়া ঔষধের ব্যাপারে ডাক্তারকে জিজ্ঞেস করা, কোন ঔষধ কেন দেয়া হয়েছে সে সম্পর্কে ধারনা নেয়া।
৪) মেয়াদ উত্তীর্ণ এন্টিবায়োটিক সেবন না করা।

সূত্র: https://www.nhs.uk/conditions/antibiotics/
৩১.
রক্ত সঞ্চালন পদ্ধতি আবিষ্কার করেন কে?
  1. ক) ফিনলে
  2. খ) লিউয়েন হুক
  3. গ) উইলিয়াম হার্ভে
  4. ঘ) জোনাস সাল্ক
সঠিক উত্তর:
গ) উইলিয়াম হার্ভে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) উইলিয়াম হার্ভে
ব্যাখ্যা
রক্ত সঞ্চালন পদ্ধতি আবিষ্কার করেন উইলিয়াম হার্ভে। 

১৬২৮ সালে ৫০ বছর বয়সে হার্ভে প্রকাশ করলেন তাঁর অবিস্মরণীয় গ্রন্থ ‘Exercitatio Anatomica de Moto Cordis er Sanguinis in Animalibus’। বাংলা করলে দাঁড়ায়, ‘প্রাণীজগতের রক্ত এবং হৃৎপিন্ডের গতি সম্বন্ধীয় পর্যবেক্ষণ’, যা সূচনা করলো এক বৈপ্লবিক চেতনার। হার্ভেই প্রথম সঠিক এবং বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করলেন যে রক্ত হৃৎপিন্ড থেকে ফুসফুসে যায় এবং পরে ফুসফুস থেকে হৃৎপিন্ডে ফিরে এসে তা আবার সারা দেহে ছড়িয়ে পড়ে। এটি একটি চক্রাকার প্রক্রিয়া।

সূত্র: ব্রিটানিকা ওয়েবসাইট। 
৩২.
সেরিকালচার কী?
  1. ক) মৌমাছি পালনকে
  2. খ) রেশমপোকা পালনকে
  3. গ) মৎস্যচাষ পালনকে
  4. ঘ) সমন্বিত হাঁস-মুরগি পালনকে
সঠিক উত্তর:
খ) রেশমপোকা পালনকে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) রেশমপোকা পালনকে
ব্যাখ্যা
বাণিজ্যিকভিত্তিতে রেশমপোকার পালনকে সেরিকালচার বলে। 

রেশমপোকা (Silkworm)  বাণিজ্যিকভাবে মূল্যবান প্রাকৃতিক রেশম উৎপাদন করে, Lepidoptera বর্গের এমন কতক লার্ভার সাধারণ নাম। এরা হতে পারে Bombycidae গোত্রের তুঁতগাছের রেশমপোকা (Mulberry silkworm, Bombyx mori) ও অন্য গাছের রেশমপোকা, যেমন Saturniidae গোত্রের এরি রেশমপোকা (Eri silkworm, Samia cynthia ricini), মুগা রেশমপোকা (Muga silkworm, Antheraea assama), তসর রেশমপোকা (Tasar silkworm, A. mylitta ও A. paphia) ইত্যাদি। 

বাংলাদেশে বাণিজ্যিকভাবে B. mori চাষ হয়। বাণিজ্যিক ব্যবহারের জন্য লোকে তুঁতগাছের রেশমপোকা multivoltine জাতগুলি প্রায় এককভাবে চাষ করে। অবশ্য পরীক্ষামূলকভাবে কিছু bivoltine জাতের রেশমপোকার চাষও হচ্ছে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়; বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ময়মনসিংহ ও ইনস্টিটিউট অব ফুড অ্যান্ড রেডিয়েশন বায়োলজি সাভার, ঢাকা পরীক্ষামূলকভাবে S. c. ricini নামক রেশমপোকা প্রতিপালন করছে। বর্তমানে দেশের রেশমচাষিদের কাছে এরি রেশমপোকা চাষের বাণিজ্যিক গুরুত্ব নেই।

সূত্র: বাংলাপিডিয়া ওয়েবসাইট। 
৩৩.
বাণিজ্যিকভাবে ফুল, ফল ও সবজি উৎপাদন করাকে কী বলে?
  1. ক) হর্টিকালচার
  2. খ) পিসিকালচার
  3. গ) সেরিকালচার
  4. ঘ) এপিকালচার
সঠিক উত্তর:
ক) হর্টিকালচার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) হর্টিকালচার
ব্যাখ্যা
বাণিজ্যিকভাবে ফুল, ফল ও সবজি উৎপাদন করাকে হর্টিকালচার বলে। 

উদ্যানতত্ত্ব  উদ্যানতত্ত্ব হচ্ছে সমন্বিত একটি বিষয়, মাটি থেকে বিভিন্ন প্রকার উৎপাদন এর অন্তর্ভূক্ত। সাধারণভাবে উদ্যানতত্ত্ব বলতে বাণিজ্যিক ভিত্তিক বাগান করা বুঝায় যাতে লাভের জন্য ফুল, ফল ও সবজি উৎপাদন করা হয়।

সূত্র: বাংলাপিডিয়া ওয়েবসাইট। 
৩৪.
পোলিও ভাইরাসে প্রধানত আক্রান্ত হয় -
  1. ক) প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষরা
  2. খ) প্রাপ্তবয়স্ক মহিলারা
  3. গ) শিশুরা
  4. ঘ) কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
গ) শিশুরা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) শিশুরা
ব্যাখ্যা
- পোলিও বা পোলিওমাইলিটিজ এক ধরনের ভাইরাসবাহিত সংক্রামক রোগ।
- সাধারণত ৫ বছরের কম বয়সের শিশুদের পোলিও হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। 
- পোলিও ভাইরাস আন্ত্রিক ভাইরাস দলেরই অন্তর্গত, কারণ এটি শরীরের অন্ত্রপথেই দেহে প্রবেশ করে থাকে।
- দূষিত খাদ্য ও পানির সাথে প্রবেশ করার পর পোলিও ভাইরাস রক্তকোষের মধ্যে দ্রুত বংশবৃদ্ধি করে রক্তে সংক্রমণ ঘটায়।

পোলিও রোগের লক্ষণসমূহ-
১. মাথা ব্যাথা করে, ঘাড় শক্ত হয়ে যায়। 
২. জ্বর থাকে। 
৩. শিশুর হাত অথবা পা অবশ হয়ে যায়। 
৪. শিশু দাঁড়াতে চায় না। 
৫. উঁচু করে ধরলে আক্রান্ত পায়ের পাতা ঝুলে পড়ে। 
৬. দাঁড়া করাতে চাইলে শিশু কান্নাকাটি করে এবং নাড়াচড়া করতে পারে না। 
৭.  শিশুর আক্রান্ত অঙ্গ ক্রমশ দুর্বল হয় এবং পরে স্থায়ীভাবে পঙ্গু হয়ে যেতে পারে।

সূত্র: বাংলাপিডিয়া ওয়েবসাইট। 
৩৫.
নিচের কোনটি সত্য?
  1. ক) পরিবহন ব্যান্ডের সকল ইলেকট্রন মুক্ত ইলেকট্রন।
  2. খ) অপরিবাহীর পরিবহন ব্যান্ড পূর্ণ থাকে।
  3. গ) অর্ধপরিবাহীর পরিবহন ব্যান্ড আংশিক পূর্ণ থাকে।
  4. ঘ) অর্ধপরিবাহীর পরিবহন ব্যান্ড ও যোজন ব্যান্ড এর মধ্যে উপরিপাতন ঘটে।
অনির্ধারিত
ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর : ক) ও গ)
দ্বৈত উত্তর থাকায় প্রশ্নটি বাতিল করা হয়েছে। 
 
পরিবাহী: পরিবাহী পদার্থে যোজন ব্যান্ড ও পরিবহন ব্যান্ডের মধ্যে আংশিক উপরিপাত (overlapping) হয়। আসলে এ দুই ব্যান্ডের মধ্যে ভৌত পার্থক্য নির্ধারণ করা কঠিন। সুতরাং, পরিবাহী পদার্থে বৈদ্যুতিক ক্ষেত্র প্রয়োগ করা মাত্র মুক্ত ইলেকট্রনের প্রবাহ ঘটে এবং বিদ্যুৎ প্রবাহিত হয়।
 
পরিবহন ব্যান্ডের সকল ইলেকট্রন মুক্ত ইলেকট্রন। পরিবহন ব্যান্ড সম্পূর্ণ ইলেকট্রন শূন্য অথবা আংশিক পূর্ণ থাকতে পারে। যদি কোনো পদার্থের পরিবহন ব্যান্ড সম্পূর্ণ ফাঁকা থাকে, তাহলে ঐ পদার্থে তড়িৎ পরিবহন সম্ভব নয়। ঐ জাতীয় পদার্থকে অন্তরক বলে। সাধারণত, অন্তরক পদার্থের পরিবহন ব্যান্ড সম্পূর্ণ ফাঁকা থাকে এবং পরিবাহীর পরিবহন ব্যান্ড আংশিক পূর্ণ থাকে। পরিবহন ব্যান্ডের অবস্থান যোজন ব্যান্ডের উপরে থাকার কারণে পরিবহন ব্যান্ডের ইলেকট্রনের শক্তি যোজন ব্যান্ডের ইলেকট্রনের শক্তির চেয়ে বেশি থাকে।

অন্তরক: অন্তরক পদার্থে যোজন ব্যান্ড সম্পূর্ণ পূর্ণ থাকে এবং পরিবহন ব্যান্ড সম্পূর্ণ খালি থাকে এবং এ দুই ব্যান্ডের মধ্যে শক্তি পার্থক্য অনেক বেশি থাকে (সাধারণত: 10ev এর বেশি)। পরিবহন ব্যান্ডে ইলেকট্রন না থাকায় বৈদ্যুতিক ক্ষেত্র প্রয়োগ করলে বিদ্যুৎ প্রবাহ ঘটে না। যোজন ব্যান্ড থেকে পরিবহন ব্যান্ডে কোন ইলেকট্রন নিতে হলে যথেষ্ট শক্তি প্রয়োজন হয়। তাপমাত্রা অনেক বাড়ালে কিছু কিছু ইলেকট্রন যথেষ্ট শক্তিপ্রাপ্ত হয়ে পরিবহন ব্যান্ডে যেতে পারে এবং ঐ  ইলেকট্রনগুলো বিদ্যুৎ প্রবাহে অংশ নিতে পারে।

অর্ধপরিবাহী: অর্ধপরিবাহী পদার্থের যোজন ব্যান্ড ও পরিবহন ব্যান্ডের মধ্যে শক্তি পার্থক্য অন্তরকের তুলনায় অনেক কম থাকে। 
যেমন সিলিকনের ক্ষেত্রে এর মান 1.1 ev এবং জার্মেনিয়াম কেলাসের জন্য 0.7ev। 
পরম শূন্য তাপমাত্রায় পরিবহন ব্যান্ড সম্পূর্ণ খালি এবং যোজন ব্যান্ড সম্পূর্ণ পূর্ণ থাকে, তাই এ তাপমাত্রায় অর্ধপরিবাহী আদর্শ অন্তরক হয়। কম তামপত্রায় পরিবহন ব্যান্ড আংশিক পূর্ণ এবং যোজন ব্যান্ড আংশিক খালি থাকে। 
তাপমাত্রা বাড়ালে যোজন ব্যান্ড থেকে অধিক পরিমাণ ইলেকট্রন শক্তি সঞ্চয় করে পরিবহন ব্যান্ডে প্রবেশ করে এবং বিদ্যুৎ প্রবাহে অংশগ্রহণ করে। 
তাই তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে বিদ্যুৎ পরিবাহিতা বৃদ্ধি পায়। 
 
উৎস: পদার্থবিজ্ঞান ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।