পরীক্ষা আর্কাইভ

নতুনদের বিসিএস প্রস্তুতি - ২০০ দিনে পুরো সিলেবাস

পরীক্ষানতুনদের বিসিএস প্রস্তুতি - ২০০ দিনে পুরো সিলেবাসতারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়17 minutes
মোট প্রশ্ন৩৬
সিলেবাস
বিষয় - বাংলাদেশ বিষয়াবলি টপিক - বাংলাদেশের জাতীয় বিষয়াবলি [বাংলাদেশের ইতিহাস, কৃষ্টি ও সংস্কৃতি সম্পর্কিত] i) আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা ও ৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান ii) ১৯৭০ সালের নির্বাচন। iii) ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ: পটভূমি, স্বাধীনতা ঘোষণা, অস্থায়ী সরকার, মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক, সেক্টর কমান্ডারগণ, বীরশ্রেষ্ঠগণ এবং সংশ্লিষ্ট সকল গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। iv) স্বাধীনতা পরবর্তী সময় থেকে সমসাময়িক ইতিহাস, জুলাই ২০২৪ এর ছাত্র জনতার গণঅভ্যুত্থান ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। v) জাতীয় ইতিহাসের উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিত্বসমূহ। (শেরেবাংলা, সোহরাওয়ার্দি, মাওলানা ভাসানী, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, জেনারেল মুহাম্মদ আতাউল গণি ওসমানী, জিয়াউর রহমান, বিচারপতি সাহাবুদ্দীন, ড.ইউনুস সহ অন্যান্য সকল গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ও অন্যান্য ব্যক্তিত্ব) উৎস: ইতিহাস সংক্রান্ত বোর্ড বই (NCTB ও উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়), স্বাধীনতা যুদ্ধের দলিলপত্র, বাংলাপিডিয়া বাংলাদেশ সংশ্লিষ্ট নির্ভরযোগ্য ওয়েবসাইট ও যেকোনো গাইডবই। [গাইড বই থেকে পড়ার ক্ষেত্রে কনফিউজিং বিষয়গুলো ক্রসচেক করে পড়া উত্তম।] ---------------------- [নির্দেশিকা: এই রুটিনে সারাবছর জুড়ে পরীক্ষা চলমান থাকে। আপনি আজ ১ম পরীক্ষা দেওয়া শুরু করলে ২০০ দিনের মধ্যে পুরো সিলেবাস সম্পন্ন হবে।]
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

নতুনদের বিসিএস প্রস্তুতি - ২০০ দিনে পুরো সিলেবাস

নতুনদের বিসিএস প্রস্তুতি - ২০০ দিনে পুরো সিলেবাস · তারিখ অনির্ধারিত · ৩৬ প্রশ্ন

.
আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র পাঠ করেন কে?
  1. তাজউদ্দিন আহমেদ
  2. ব্যারিস্টার আমিরুল ইসলাম
  3. মনসুর আলী
  4. অধ্যাপক এম ইউসুফ আলী
সঠিক উত্তর:
অধ্যাপক এম ইউসুফ আলী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অধ্যাপক এম ইউসুফ আলী
ব্যাখ্যা
স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র:
- স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র বলতে মুজিবনগর সরকার কর্তৃক বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণাকে বোঝানো হয়।
- ১০ এপ্রিল, ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র জারি করার মাধ্যমে বাংলাদেশকে গণপ্রজাতন্ত্রী হিসেবে ঘোষণা করা হয়।
- ১৭ এপ্রিল, ১৯৭১ সালে মুজিবনগর সরকার শপথ নেওয়ার মাধ্যমে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মপ্রকাশ করে।
- ১৭ এপ্রিল মেহেরপুরের সীমান্তবর্তী বৈদ্যনাথতলায় এক অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানে গণপরিষদ সদস্য অধ্যাপক এম ইউসুফ আলী আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র পাঠ করেন।
- ঘোষণার মাধ্যমে নবগঠিত আইন পরিষদ বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব ঘোষণা করে।
- স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র লিপিবদ্ধ করেন ব্যারিস্টার আমিরুল ইসলাম।

উল্লেখ্য,
- মুজিবনগর সরকারের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন আবদুল মান্নান এম.এন.এ।
- মুজিবনগর সরকারের ভারপ্রাপ্ত ও উপরাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলামকে গার্ড অব অনার প্রদান করেন তৎকালীন ঝিনাইদহ মহকুমার পুলিশপ্রধান মাহবুব উদ্দিন আহমেদের নেতৃত্বে আনসার, পুলিশ ও উপস্থিত মুক্তিযোদ্ধাদের সমন্বয়ে গঠিত ১২ সদস্যের একটি যৌথ দল।
- এ সরকার গঠনের মাত্র দুই ঘন্টা পর পাকিস্তানি বাহিনীর বিমান মুজিবনগরে বোমাবর্ষণ করে এবং মেহেরপুর দখল করে নেয়।

উৎস: i) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
ii) বাংলাপিডিয়া।
.
২০২৪ সালের বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রথম শহিদ কে?
  1. আবু সাঈদ
  2. আবরার
  3. ওয়াসিম আকরাম
  4. আদনান
সঠিক উত্তর:
আবু সাঈদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আবু সাঈদ
ব্যাখ্যা
ছাত্র-গণ-অভ্যুত্থান:
- জুলাই বিপ্লব নামে পরিচিত ছাত্র-জনতার আন্দোলন হচ্ছে বাংলাদেশে একটি গণতান্ত্রিক গণঅভ্যুত্থান যা ২০২৪ সালের ৫ জুন থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত অগণিত প্রাণ বিসর্জন দেয়ার মধ্য দিয়ে বিগত ১৬ বছরের স্বৈরাচারী শাসনের অবসান ঘটিয়েছে।
- ঐতিহাসিক এই বিপ্লবের বিজয়ের ধারার সূচনা হয়েছিল সরকারি চাকুরিতে কোটা পদ্ধতি বাতিলের দাবির আন্দোলনের মধ্য দিয়ে।
- এটি পরে সরকারের কঠোর অবস্থানের কারণে আরো প্রবল হয়ে উঠেছিল যা ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট চূড়ান্ত রূপ লাভ করে।
- প্রায় ১৫০০ মানুষকে হত্যার প্রেক্ষিতে বিগত প্রায় পনের বছরেরও বেশি সময় ধরে দেশকে শাসন করার পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে।

উল্লেখ্য,
- ২০২৪ সালের বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রথম শহিদ আবু সাঈদ।
- ১৬ জুলাই, ২০২৪ তারিখে রংপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ পুলিশের বুলেটে নিহত হন।

অন্যদিকে,
- বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে চট্টগ্রামের প্রথম শহীদ ওয়াসিম আকরাম।

উৎস: i) প্রথম আলো। [link]
ii) বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা।
.
১৯৭০-এ ইয়াহিয়া খান কোন নীতিতে সাধারণ নির্বাচন ঘোষণা করেন?
  1. এক ব্যক্তি এক ভোট
  2. এক ব্যক্তি দুই ভোট
  3. এক ব্যক্তি বহু ভোট
  4. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
এক ব্যক্তি এক ভোট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এক ব্যক্তি এক ভোট
ব্যাখ্যা
১৯৭০ এর সাধারণ নির্বাচন:
- ২৫শে মার্চ ১৯৬৯ তারিখে সারা দেশে সামরিক শাসন জারির মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা হস্তান্তর হলেও সামরিক সরকার গণ-দাবিকে উপেক্ষা করার মত শক্তি সঞ্চয় করতে পারেনি।
- তাই প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক জেনারেল আগা মোহাম্মদ ইয়াহিয়া খান সারা দেশে এক ব্যক্তি এক ভোটের নীতিতে সাধারণ নির্বাচন দিতে বাধ্য হন।
- ৭ই ডিসেম্বর '৭০ থেকে ১৯শে ডিসেম্বর' ৭০ এর মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে তফসিল ঘোষণা করা হয় এবং শান্তিপূর্ণভাবে দেশব্যাপী এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
- নির্বাচনে দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণ ৬ দফা ও বাঙালি জাতীয়তাবাদের পক্ষে রায় প্রদান করে।

উৎস: i) মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ওয়েবসাইট।
ii) বাংলাপিডিয়া।
.
ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মুখে কত তারিখে শেখ হাসিনা সরকারের পতন ঘটে?
  1. ৪ আগস্ট, ২০২৪
  2. ৫ আগস্ট, ২০২৪
  3. ৬ আগস্ট, ২০২৪
  4. ৭ আগস্ট, ২০২৪
সঠিক উত্তর:
৫ আগস্ট, ২০২৪
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৫ আগস্ট, ২০২৪
ব্যাখ্যা
শেখ হাসিনা সরকারের পতন:
- সরকারি চাকরিতে কোটাব্যবস্থা সংস্কারের দাবিতে ১ জুলাই, ২০২৪ আন্দোলনে নামে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন।
- শুরুতে এ আন্দোলন অহিংস ছিল, কিন্তু পরবর্তীকালে শিক্ষার্থীদের ওপর ছাত্রলীগসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বেপরোয়া হলে ১৫ জুলাই, ২০২৪ আন্দোলন সহিংস রূপ নেয়।
- অতঃপর শিক্ষার্থীদের এ আন্দোলন প্রবল আকার ধারণ করে, যার শেষ পরিণতি ঘটে ছাত্র-জনতার তুমুল আন্দোলনের মাধ্যমে।
- ৫ আগস্ট, ২০২৪ পতন ঘটে দীর্ঘ প্রায় ১৬ বছরের কর্তৃত্ববাদী সরকার শেখ হাসিনার।

উল্লেখ্য,
- ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মুখে ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ৮ আগস্ট, ২০২৪ তারিখে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়েছে।
- নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে আগস্ট, ২০২৪ সালে দেশে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত হয়েছে।
- অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে শপথ বাক্য পাঠ করান রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন।

উৎস: i) BBC.
ii) প্রথম আলো।
.
এগার দফা আন্দোলন কখন হয়েছিল?
  1. ১৯৬৬ সালে
  2. ১৯৬৮ সালে
  3. ১৯৬৯ সালে
  4. ১৯৭০ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯৬৯ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৬৯ সালে
ব্যাখ্যা
১১ দফা আন্দোলন:
- ১৯৬৮ সালে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলাসহ রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে ছয় দফা কর্মসূচি অনেকটাই থেমে যায়।
- ঠিক এ সময়ে আবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীরা ঐক্যবদ্ধ ছাত্র আন্দোলন গড়ে তোলেন।
- পরে ১৯৬৯ সালের ৪ জানুয়ারি ‘ডাকসু’র দপ্তরে ‘সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ’–এর নেতারা সংবাদ সম্মেলন করেন।
- ঘোষণা করা হয় ১১ দফা কর্মসূচি, যেখানে পূর্ব পাকিস্তানের শিক্ষা, শিল্প, স্বায়ত্তশাসন, ভোটাধিকার ইত্যাদির মতো বিষয় তুলে ধরা হয়।

উল্লেখ্য,
- ১৯৬৯ সালের ৪ জানুয়ারি পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়ন (মেনন গ্রুপ), পূর্ব পাকিস্তান ছাত্রলীগ ও পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়ন (মতিয়া গ্রুপ)-এর নেতৃবৃন্দ ‘ছাত্র সংগ্রাম কমিটি’ গঠন করে এবং তাদের ১১ দফা কর্মসূচি ঘোষণা করে।
- ১১ দফার মধ্যে ১৯৬৬ সালে শেখ মুজিবুর রহমান ঘোষিত আঞ্চলিক স্বায়ত্তশাসন সম্পর্কিত ৬ দফার সাথে ছাত্র সমস্যাকেন্দ্রিক দাবি দাওয়ার পাশাপাশি কৃষক ও শ্রমিকদের স্বার্থ সংক্রান্ত দাবিসমূহ অন্তর্ভুক্ত করা হয়। 

উৎস: i) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
ii) বাংলাপিডিয়া।
.
১৯৭০ সালের নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে -
  1. ৮টি দল
  2. ১৪টি দল
  3. ২২টি দল
  4. ২৪টি দল
সঠিক উত্তর:
২৪টি দল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২৪টি দল
ব্যাখ্যা
১৯৭০ সালের নির্বাচনের ফলাফল:
- ১৯৭০ সালের নির্বাচনে মোট ২৪টি দল অংশগ্রহণ করে।

উল্লেখ্য,
- জাতীয় পরিষদে পূর্ব পাকিস্তানের জন্য নির্ধারিত ১৬৯টি আসনের মধ্যে আওয়ামী লীগ ১৬৭টি আসন লাভ করে।
- অন্যদিকে পশ্চিম পাকিস্তানের জন্য নির্ধারিত ১৪৪টি আসনের মধ্যে জুলফিকার আলী ভূট্টোর পাকিস্তান পিপলস পার্টি ৮৮টি আসন লাভ করে।
- পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদের ৩০০টি (১০টি মহিলা সংরক্ষিত আসন ছাড়া) আসনের মধ্যে আওয়ামী লীগ ২৮৮ টি আসনে জয়লাভ করে।
- এভাবে জাতীয় ও প্রাদেশিক পরিষদের সংখ্যাগরিষ্ঠ দল হিসেবে আওয়ামী লীগ জয় লাভ করে।
- নির্বাচনে জয়লাভ করলেও আওয়ামী লীগের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে রাজি ছিলেন না পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী।
- পূর্ব পাকিস্তানের প্রতি তাদের এই বিমাতাসূলভ আচরণ মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপট রচনা করে।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।
.
মুক্তিযুদ্ধের প্রধান সেনাপতি জেনারেল এম এ জি ওসমানীর জন্ম কোন জেলায়?
  1. কুমিল্লা
  2. রাজশাহী
  3. চট্টগ্রাম
  4. সুনামগঞ্জ
সঠিক উত্তর:
সুনামগঞ্জ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুনামগঞ্জ
ব্যাখ্যা
জেনারেল আতাউল গনি ওসমানী:
- জেনারেল মুহম্মদ আতাউল গণি ওসমানী বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী এবং মুক্তিযুদ্ধে মুক্তিবাহিনীর প্রধান সেনাপতি।
- তিনি বঙ্গবীর নামেও পরিচিত।
- ১৯১৮ সালের পয়লা সেপ্টেম্বর সুনামগঞ্জে তাঁর জন্ম।
- যদিও তাদের বাড়ি সিলেটের বালাগঞ্জ থানায় যা এখন ওসমানী নগর।

উল্লেখ্য,
- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে তিনি বার্মা (মিয়ানমার) রণাঙ্গনে ব্রিটিশ বাহিনীর একটি ব্যাটেলিয়ানের কমান্ডার হিসেবে যুদ্ধ করেন।
- ওসমানী লেফটেন্যান্ট কর্নেল পদে নিয়োগের জন্য মনোনীত হন ১৯৪৭ সালে।
- আতাউল গণি ওসমানী ১৯৭০ সালে আওয়ামী লীগে যোগদান করেন।
- সত্তরের সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী হিসেবে তিনি পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন।
- ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল মুজিবনগরে অস্থায়ী বাংলাদেশ সরকার গঠিত হলে ওসমানী বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী ও মুক্তিবাহিনীর প্রধান সেনাপতি নিযুক্ত হন।
- স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালের ৭ এপ্রিল সেনাবাহিনীতে জেনারেল পদ বিলুপ্ত হওয়ার পর তিনি সামরিক বাহিনী থেকে অবসরগ্রহণ করেন।
- ১৯৭৫ সালে সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনীর মাধ্যমে দেশে একদলীয় সরকারব্যবস্থা প্রবর্তনের বিরোধিতা করে তিনি যুগপৎ সংসদ সদস্য পদ এবং আওয়ামী লীগের সদস্য পদ ত্যাগ করেন।
- ১৯৭৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসে তিনি জাতীয় জনতা পার্টি নামে একটি রাজনৈতিক দল গঠন করেন এবং দলের সভাপতি নির্বাচিত হন।
- ১৯৮৪ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি ওসমানী ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসার্থে লন্ডন থাকাকালে মৃত্যুবরণ করেন।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
ii) The Daily Star Bangla.
.
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষে অবস্থান নেওয়া দেশ হলো -
  1. ভারত
  2. যুক্তরাষ্ট্র
  3. সোভিয়েত ইউনিয়ন
  4. বর্ণিত সবগুলো
সঠিক উত্তর:
যুক্তরাষ্ট্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যুক্তরাষ্ট্র
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষে অবস্থান:
- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে সারা বিশ্ব ও পরাশক্তিসমূহ দুভাগে ভাগ হয়েছিল।
- একভাগের নেতৃত্বে পাকিস্তান, চীন, আমেরিকা ও মুসলিম দেশসমূহ, অন্যদিকে ভারত, সোভিয়েত ইউনিয়ন এবং জোট নিরপেক্ষ দেশসমূহ।
- সৌদি আরব, ইরান, ইরাক প্রভৃতি দেশসমূহ এবং ওআইসি বাংলাদেশে পাকিস্তানের গণহত্যার প্রতিবাদ করেনি বরং পাকিস্তানকে সমর্থন করতে বিশ্বের মুসলমানদের আহ্বান জানিয়েছে।
- সোভিয়েত বলয়ভুক্ত দেশসমূহ সরাসরি বাংলাদেশকে সমর্থন করেছে।
- চিন পাকিস্তানকে সমর্থন করেছে।
- মুক্তিযুদ্ধের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত যুক্তরাজ্য সরকার নিরপেক্ষ অবস্থান গ্রহণ করে।
- বাংলাদেশের ঘটনায় ব্রিটেন সরকারিভাবে উৎকণ্ঠা প্রকাশ করে এবং ভারতে আশ্রয় গ্রহণকারী শরণার্থীদের জন্য ব্রিটিশ সরকার আন্তর্জাতিক ত্রাণ তৎপরতায় অংশগ্রহণ করে।
- মুক্তিযুদ্ধের সময় মার্কিন সরকার বঙ্গোপসাগর অভিমুখে সপ্তম নৌবহর প্রেরণ করে।

উল্লেখ্য,
- ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার প্রশ্নে সমগ্র দুনিয়া দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে গিয়েছিল।
- মূলত সংঘাতটি ছিল পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের মধ্যে।
- এ রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে পাকিস্তানকে সমর্থন করেছিল: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, চীন, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, সংযুক্ত আরব আমিরাত, জর্ডান, তুরস্ক, ইরান, শ্রীলংকা, সৌদি আরব।
- জর্ডান, তুরস্ক, ইরান, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ফ্রান্স সে সময় পাকিস্তানি বিমানবাহিনীকে বিমান সহায়তা দিয়েছিল।

উৎস: i) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্ৰেণী।
ii) যুগান্তর।
.
বাংলাদেশে সরাসরি ভোটের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রথম কে বিজয়ী হয়েছিলেন?
  1. জিয়াউর রহমান
  2. বিচারপতি সাহাবুদ্দীন
  3. এম এ জি ওসমানী
  4. আতাউর রহমান
সঠিক উত্তর:
জিয়াউর রহমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জিয়াউর রহমান
ব্যাখ্যা
১৯৭৮ সালের রাষ্ট্রপতি নির্বাচন:
- ১৯৭৮ সালের ৩ জুন বাংলাদেশে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
- এটিই ছিল রাষ্ট্রপতি পদের জন্য প্রথম সরাসরি নির্বাচন।
- তবে এর আগে সংসদ দ্বারা রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হয়েছিল।
- সেই নির্বাচনে ১০ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন।

উল্লেখ্য,
- সরাসরি ভোটের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে জিয়াউর রহমান বিজয়ী হয়েছিলেন। 
- তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী এমএজি ওসমানী গণতান্ত্রিক ঐক্যজোটের ব্যানারে নির্বাচনে অংশ নিয়ে ২২ শতাংশ ভোট পেয়েছিলেন।

এছাড়াও,
⇒ আতাউর রহমানের নেতৃত্বে দলগুলোর একটি দল নির্বাচন বর্জন করে যার মধ্যে রয়েছে ডেমোক্রেটিক লীগ, ইসলামিক ডেমোক্রেটিক লীগ, জাতীয় দল, জাতীয় লীগ ও কৃষক শ্রমিক পার্টি।

উৎস: i) Britannica.
ii) যুগান্তর।
১০.
মুক্তিযুদ্ধে গঠিত উপদেষ্টা পরিষদের অন্তর্ভুক্ত বাম রাজনৈতিক দল কোনটি?
  1. ন্যাপ-ভাসানী
  2. বাংলাদেশ ন্যাশনাল কংগ্রেস
  3. বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি
  4. বর্ণিত সবগুলো
সঠিক উত্তর:
বর্ণিত সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বর্ণিত সবগুলো
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধে বিভিন্ন সংগঠনের ভূমিকা:
- ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মতভেদ লক্ষ করা যায়।
- বামপন্থী রাজনৈতিক দলগুলোর বড় অংশ মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে থাকলেও পিকিং পন্থী হিসেবে পরিচিত একটি অংশ বিরোধিতা করে।
- পাকিস্তানের আদর্শে বিশ্বাসী ইসলমপন্থী রাজনৈতিক দলগুলোও মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করে।
- এই দলগুলো পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী কর্তৃক বাঙালিদের অত্যাচার, নির্যাতন ও গণহত্যায় সহযোগিতা করে।

উল্লেখ্য, 
- ১৯৭১ সালের ৬ সেপ্টেম্বর মন্ত্রিপরিষদ বৈঠকে সমমনা বাম রাজনৈতিক দলসমূহ নিয়ে একটি উপদেষ্টা পরিষদ গঠন করা হয়।
- উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যদের মধ্যে ছিলেন মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী (ন্যাপ-ভাসানী), মণি সিংহ (বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি), মনোরঞ্জন ধর (বাংলাদেশ ন্যাশনাল কংগ্রেস), অধ্যাপক মুজাফফর আহমদ (ন্যাপ-মুজাফফর)।
- আওয়ামীলীগ থেকে ছিলেন প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ, পররাষ্ট্রমন্ত্রী খন্দকার মোশতাক আহমদ, অর্থমন্ত্রী মনসুর আলী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ এম কামারুজ্জামান।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।
১১.
বাংলাদেশের প্রথম অস্থায়ী সরকারের মন্ত্রীসভায় উপ-রাষ্ট্রপতি ছিলেন -
  1. সৈয়দ নজরুল ইসলাম
  2. তাজউদ্দিন আহমদ
  3. এ এইচ এম কামরুজ্জামান
  4. এম. মনসুর আলী
সঠিক উত্তর:
সৈয়দ নজরুল ইসলাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সৈয়দ নজরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের প্রথম অস্থায়ী সরকার:
- মুজিবনগর সরকার মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার জন্য গঠিত বাংলাদেশের প্রথম অস্থায়ী সরকার।
- স্বাধীনতা যুদ্ধ চলাকালে মুজিবনগর ছিলো স্বাধীন দেশের অস্থায়ী রাজধানী এবং সচিবালয়/সদরদপ্তর ছিলো কলকাতার ৮ নং থিয়েটার রোড।

উল্লেখ্য,
• বাংলাদেশের প্রথম অস্থায়ী সরকারের মন্ত্রীসভা:
- রাষ্ট্রপতি: বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান,
- উপ-রাষ্ট্রপতি: সৈয়দ নজরুল ইসলাম,
- প্রধানমন্ত্রী: তাজউদ্দিন আহমদ,
- পররাষ্ট্র, আইন ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়: খন্দকার মোশতাক আহমেদ,
- অর্থ ও বাণিজ্যমন্ত্রী: ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী,
- স্বরাষ্ট্র, ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রণালয়: এ এইচ এম কামরুজ্জামান,
- প্রধান সেনাপতি: কর্নেল (অব.) এম. এ. জি. ওসমানী,
- চিফ অব স্টাফ: লে. কর্নেল (অব.) আবদুর রব,
- ডেপুটি চিফ অব স্টাফ: গ্রুপ ক্যাপ্টেন এ কে খন্দকার।

উৎস: i) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
ii) বাংলাপিডিয়া।
১২.
পাকিস্তান সৃষ্টির পর কত সালে দেশটিতে প্রথমবারের মত ভোটাধিকার ভিত্তিক প্রত্যক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়?
  1. ১৯৫৪ সালে
  2. ১৯৬২ সালে
  3. ১৯৬৮ সালে
  4. ১৯৭০ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯৭০ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৭০ সালে
ব্যাখ্যা
১৯৭০ সালের নির্বাচন:
- পাকিস্তান সৃষ্টির পর দেশটির কেন্দ্রীয় আইন পরিষদ গঠনের লক্ষ্যে প্রাপ্তবয়স্ক ভোটাধিকারভিত্তিক প্রত্যক্ষ নির্বাচন প্রথমবারের মত অনুষ্ঠিত হয় ১৯৭০ সালের ৭ ডিসেম্বর।
- ১৯৪৭-১৯৫৮ সময়কালে পাকিস্তানে কেন্দ্রীয় আইন পরিষদের কোন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি।
- ১৯৫৮ থেকে ১৯৬২ সাল পর্যন্ত দেশে সামরিক আইন চালু ছিল।
- ১৯৬২ সালে মৌলিক গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে জাতীয় পরিষদ গঠন করা হয়।
- ১৯৭০ সালে পাকিস্তানের জনগণ সর্বপ্রথম দেশের কেন্দ্রীয় আইন পরিষদের প্রতিনিধি নির্বাচনের সুযোগ লাভ করে।

উল্লেখ্য,
⇒ ১৯৭০ সালে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার সূচনা:
- ১৯৬৯ সালের ২৫ মার্চ আইয়ুব খানের নিকট থেকে ক্ষমতা গ্রহণের সময় ইয়াহিয়া খান ১৯৬২ সালের সংবিধান বাতিল ঘোষণা করেছিলেন।
- স্বভাবতঃই নির্বাচন অনুষ্ঠান ও জাতীয় পরিষদ গঠন সম্পর্কিত বিষয়গুলো তিনি সামরিক আইনের অধীনে বিভিন্ন ঘোষণার মাধ্যমে জারি করেন।
- ২৮ নভেম্বরের (১৯৬৯) বেতার ভাষণে ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রক্রিয়ার অংশ হিসাবে ইয়াহিয়া খান দুই গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেন।
প্রথমত: তিনি পশ্চিম পাকিস্তানের এক ইউনিট ব্যবস্থা বাতিল করে সেখানে চারটি নতুন প্রদেশ সৃষ্টি করেন।
দ্বিতীয়ত: 'এক ব্যক্তি এক ভোট' এই নীতিতে ভোট হবে বলে ঘোষণা দেন। প্রথম সিদ্ধান্তটি পাকিস্তানের আঞ্চলিকতাবাদে বিশ্বাসী জনগণকে সন্তুষ্ট করে। দ্বিতীয় সিদ্ধান্তের মাধ্যমে পূর্ব পাকিস্তানের সংখ্যাগরিষ্ঠতার দাবি মেনে নেওয়া হয়।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।
১৩.
এ কে ফজলুল হককে কারা ‘শের-ই-বাংলা’ উপাধি দেয়?
  1. লক্ষ্ণৌর জনগণ
  2. কলকাতার জনগণ
  3. বাংলার জনগণ
  4. পাঞ্জাবের জনগণ
সঠিক উত্তর:
পাঞ্জাবের জনগণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পাঞ্জাবের জনগণ
ব্যাখ্যা
এ.কে. ফজলুল হক:
- একে ফজলুল হকের পুরো নাম আবুল কাশেম ফজলুল হক। 
- এ.কে. ফজলুল হক ছিলেন একজন রাজনীতিবিদ ও জননেতা।
- তিনি ছিলেন কলকাতা করপোশনের প্রথম বাঙালি মুসলমান, বাংলার প্রধানমন্ত্রী, পূর্বপাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী, পুর্ব পাকিস্তানের গভর্ণর, পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। 
- তিনি ছিলেন অবিভক্ত বাংলার প্রথম মুখ্যমন্ত্রী।
- আবুল কাশেম ফজলুল হক বাগ্মী হিসেবে সুপরিচিত ছিলেন। 

উল্লেখ্য,
- ১৯১৬ সালে লক্ষ্ণৌ শহরে লীগ কংগ্রেসের যুক্ত অধিবেশনে তিনি যে প্রস্তাব উত্থাপন করেন, তাই বিখ্যাত ‘লক্ষ্ণৌ চুক্তি’ নামে অভিহিত হয়।
- ১৯১৮ সালে ফজলুল হক লিখিত ভারত মুসলিম লীগের দিল্লী অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন।

⇒ ১৯৪০ সালে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর সভাপতিত্বে লাহোরে অনুষ্ঠিত নিখিল ভারত মুসলিম লীগের অধিবেশনে জ্বালাময়ী বক্তৃতায় প্রথম পাকিস্তান প্রস্তাব পেশ করেন।
- তার বক্তৃতায় মুগ্ধ হয়ে পাঞ্জাববাসীরা তাকে ‘শের-ই-বঙ্গাল’ উপাধি দেয়। ‘শের-ই-বঙ্গাল’ অর্থ বাংলার বাঘ। সেই থেকে তিনি শেরে বাংলা নামে পরিচিত।

এছাড়াও,
- তিনি জীবনে আরো অনেক উপাধি পেয়েছেন।
- ১৯৫৯ সালে তৎকালীন পাকিস্তানী প্রেসিডেন্ট আইয়ুব খান তাকে ‘হিলাল-ই-পাকিস্তান’ উপাধিতে ভূষিত করেন।

উৎস: i) দেশ রুপান্তর।
ii) জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
১৪.
আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার আইনজীবী ছিলেন কে?
  1. থমাস ডগলাস
  2. অ্যাডওয়ার্ড এনরবি
  3. টমাস উইলিয়াম
  4. মার্শাল ফিল্ড
সঠিক উত্তর:
টমাস উইলিয়াম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
টমাস উইলিয়াম
ব্যাখ্যা
আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার বিচারকার্য:
- আগরতলা মামলার বিচারকার্য পরিচালনার জন্য বিশেষ ট্রাইবুনাল গঠন করা হয়।
- ১৯৬৮ সালের ১৯ জুন বেলা এগারটায় কুর্মিটোলা ক্যান্টনমেন্টের একটি বিশেষ কক্ষে মামলার শুনানি শুরু হয়।
- মামলাটি ছিল পাকিস্তান দণ্ডবিধির ১২১-ক ধারা এবং ১৩১ ধারা অনুসারে।
- মামলায় সাক্ষীর সংখ্যা ছিল ১১ জন, রাজসাক্ষীসহ মোট ২২৭ জন।
- ২৯ জুলাই ১৯৬৮ মামলার শুনানি শুরু হয়।

উল্লেখ্য,
- প্রখ্যাত আইনজীবী আবদুস সালাম খানের নেতৃত্বে অভিযুক্তদের আইনজীবীদের নিয়ে একটি আত্মপক্ষ সমর্থকদল গঠন করা হয়।
- যুক্তরাজ্য প্রবাসী বাঙালিরা ব্রিটেনের প্রখ্যাত আইনজীবী স্যার টমাস উইলিয়াম এমপিকে বিশেষ ট্রাইবুনালে আইনজীবী হিসেবে প্রেরণ করেন।
- তাঁকে সহযোগিতা করেন আবদুস সালাম খান, আতাউর রহমান খান প্রমুখ।

অন্যদিকে,
- পাকিস্তান সরকারের পক্ষে প্রধান কৌসুলী ছিলেন সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী মনজুর কাদের ও অ্যাডভোকেট জেনারেল টি.এইচ.খান।
- ট্রাইবুনালের প্রধান বিচারপতি ছিলেন এস.এ.রহমান। অপর দুই বিচারপতি ছিলেন এম.আর.খান ও মকসুমুল হাকিম।

উৎস: i) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
ii) বাংলাপিডিয়া।
১৫.
১৯৭১ সালের জর্জ হ্যারিসন আয়োজিত কনসার্টের নাম কী ছিল?
  1. কনসার্ট ফর বাংলাদেশ
  2. স্বাধীন বাংলা কনসার্ট
  3. ইস্ট ব্যাঙ্গল কনসার্ট
  4. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
কনসার্ট ফর বাংলাদেশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কনসার্ট ফর বাংলাদেশ
ব্যাখ্যা
কনসার্ট ফর বাংলাদেশ:
- মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে নিউইয়র্কের ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনে ১৯৭১ সালের ১ আগস্ট অনুষ্ঠিত হয়েছিল ‘দ্য কনসার্ট ফর বাংলাদেশ’।
- ৪০ হাজারের বেশি মানুষ নিউইয়র্কের ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনে এমন একটি আয়োজনে যোগ দিয়েছিলেন।
- নিউইয়র্কে যুক্তরাষ্ট্রের শিল্পী জর্জ হ্যারিসন 'বাংলাদেশ কনসার্ট' আয়োজন করে তা থেকে প্রাপ্ত অর্থ মুজিবনগর সরকারের কাছে তুলে দেন।
- ভারতের খ্যাতিমান শিল্পী রবি শঙ্কর মুক্তিযুদ্ধে মানুষকে উজ্জীবিত করেন।
- তিনি বাংলাদেশ কনসার্টের আয়োজকদের মধ্যে অন্যতম"।

⇒ কনসার্ট ফর বাংলাদেশ'-এর মূল উদ্যোক্তা ছিলেন বিশ্বখ্যাত সেতারবাদক পণ্ডিত রবিশঙ্কর।
- বাংলাদেশের জনগণের সাহায্যার্থে কিছু করার জন্য তিনি প্রথম যোগাযোগ করেন জনপ্রিয় বিটলসের অন্যতম সদস্য জর্জ হ্যারিসনের সঙ্গে।
- জর্জ হ্যারিসন 'কন্সার্ট ফর বাংলাদেশ' থেকে প্রাপ্ত অর্থ মুজিবনগর সরকারের কাছে তুলে দেন।
- ১৯৭১ সালের ১লা অগাস্টের সেই আয়োজনে অংশ নিয়েছিলেন পপ সঙ্গীতের তৎকালীন সুপারস্টার বব ডিলান, জর্জ হ্যারিসন এবং এরিক ক্ল্যাপটনের মত তারকারা।

উৎস: i) বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয়, অষ্টম শ্রেণী।
ii) BBC।
১৬.
অখণ্ড স্বাধীন বাংলা গঠনের প্রস্তাবক কে ছিলেন?
  1. হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী
  2. মুহাম্মদ আতাউল গণি ওসমানী
  3. মাওলানা ভাসানী
  4. সি আর দাশ
সঠিক উত্তর:
হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী
ব্যাখ্যা
অখণ্ড স্বাধীন বাংলা:
- ১৯৪৭-পূর্ব যেসব ঘটনাপ্রবাহের ভিত্তিতে দুটি পৃথক রাষ্ট্রের জন্ম হয়েছিল, সেখানে গুরুত্বপূর্ণ একটি ভূমিকায় ছিলেন মি. সোহরাওয়ার্দী।
- অখণ্ড স্বাধীন বাংলা গঠনের প্রস্তাবক ছিলেন হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী।
- ১৯৪৭ সালের ২৭ শে এপ্রিল, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী তখন বাংলার প্রধানমন্ত্রী।

⇒ ব্রিটিশরা তখন ভারতবর্ষ বিভক্ত করে ভারত ও পাকিস্তান নামে দুটি আলাদা রাষ্ট্রের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রস্তুতি নিচ্ছে। লর্ড মাউন্টব্যাটেন ভাইসরয় হিসাবে ভারতে এসে উপমহাদেশ ভাগ করার পরিকল্পনা পেশ করেন।
- দিল্লীতে এক সংবাদ সম্মেলনে মি. সোহরাওয়ার্দীর প্রস্তাবটি ছিল, অবিভক্ত এবং স্বাধীন বাংলার ধারনা।
- ভারতবর্ষ ভাগ হয়ে যখন ভারত ও পাকিস্তান নামে দুটি আলাদা রাষ্ট্রের জন্ম হতে যাচ্ছে তখন তিনি অবিভক্ত বাংলাকে নিয়ে আলাদা একটি রাষ্ট্রের ধারণা তুলে ধরেন।
- বাংলা, আসাম এবং বিহার অঞ্চলের কয়েকটি জেলা নিয়ে বৃহৎ বাংলা নামে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র গঠনের আকাঙ্ক্ষা ছিল হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর।

উল্লেখ্য,
- অখণ্ড বাংলা গঠনের প্রস্তাবটি শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হয়। এর প্রধান কারণ ছিল মুসলিম লীগ এবং কংগ্রেসের দ্বন্দ্ব এবং বাংলার ভবিষ্যৎ নিয়ে মতভেদ। মুসলিম লীগের একটি অংশ এবং কংগ্রেস দুই পক্ষই বাংলাকে একটি পৃথক রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠার প্রস্তাবে আপত্তি জানায়। এছাড়া ব্রিটিশ শাসকরা দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে সাম্প্রদায়িক দ্বন্দ্বের কারণে বাংলার বিভক্তিকে সমর্থন করে।

উৎস: i) বিবিসি।
ii) বাংলাপিডিয়া। 
১৭.
১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর পাক বাহিনীর কত হাজার সৈন্য আত্মসমর্পণ করে?
  1. ৯০ হাজার
  2. ৯১ হাজার
  3. ৯৩ হাজার
  4. ৯৭ হাজার
সঠিক উত্তর:
৯৩ হাজার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৯৩ হাজার
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধে পাকি-বাহিনীর আত্মসমর্পণ:
- ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বিকেলে ঢাকা রেসকোর্স ময়দানে মিত্রবাহিনীর কাছে পাকিস্তান সেনাবাহিনী নিঃশর্তভাবে আত্মসমর্পণ করে।
- ১৬ ডিসেম্বর বিকালে পাকিস্তান সামরিক বাহিনীর ৯৩ হাজার সৈন্য বিনা শর্তে সম্মিলিত বাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ করে।
- এই আত্মসমর্পণ দলিলে স্বাক্ষর করেন পূর্বাঞ্চলের সম্মিলিত বাহিনী প্রধান লেঃ জেনারেল জগজিত সিং অরোরা ও পাকিস্তান সেনাবাহিনীর পূর্বাঞ্চলীয় অধিনায়ক লেঃ জেঃ এ কে নিয়াজী।
- এই আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ সরকারের প্রতিনিধিত্ব করেন মুক্তিবাহিনীর উপ-সেনা প্রধান ও বিমান বাহিনী প্রধান গ্রুপ ক্যাপ্টেন এ কে খন্দকার।

এছাড়াও,
- এই অনুষ্ঠানে মুক্তিবাহিনীর নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিদের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন এস ফোর্স অধিনায়ক লেঃ কর্নেল কে এম সফিউল্লাহ, ২নং সেক্টরের ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক মেজর এ টি এম হায়দার এবং টাঙ্গাইল মুক্তি বাহিনীর অধিনায়ক জনাব কাদের সিদ্দিকী।

⇒ তাদের এ আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়ে ২৬ মার্চ শুরু হওয়া মুক্তিযুদ্ধের সফল পরিসমাপ্তি ঘটে।
- ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭১ বাংলাদেশ শত্রুমুক্ত হয়।
- প্রতি বছর এই দিনটি "বিজয় দিবস" হিসাবে পালিত হয়।

উৎস: i) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্ৰেণি।
ii) ইতিহাস, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৮.
মুক্তিযুদ্ধে ১০ নং সেক্টর কাদের নিয়ে গঠিত হয়েছিল?
  1. কৃষকদের
  2. ছাত্রদের নিয়ে
  3. বিমান বাহিনী নিয়ে
  4. নৌ-কমান্ডো নিয়ে
সঠিক উত্তর:
নৌ-কমান্ডো নিয়ে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নৌ-কমান্ডো নিয়ে
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধের ১০ নম্বর সেক্টর:
- একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার জন্য তৎকালীন অস্থায়ী বাংলাদেশ সরকার সমগ্র পূর্ব পাকিস্তানকে (বর্তমান বাংলাদেশ) ১১টি সেক্টরে বিভক্ত করে।
- এটি ছিলো যুদ্ধ পরিচালনার একটি সামরিক কৌশল।
- ১০ নম্বর সেক্টর গঠন হয়েছিলো নৌ-কমান্ডো বাহিনী নিয়ে।
- ফ্রান্সে প্রশিক্ষণরত পাকিস্তান নৌবাহিনীর আটজন বাঙালি নৌ-কর্মকর্তা মিলে এ বাহিনী গঠনের উদ্যোগ নেন।
- ভারতীয় নৌবাহিনী এ আটজন বাঙালি নাবিককে দিল্লির নিকটবর্তী যমুনা নদীতে বিশেষ নৌ-প্রশিক্ষণ দেয়। এরপর পাকিস্তান নৌবাহিনীর কিছু সংখ্যক নৌ-সেনা তাদের সঙ্গে এসে যোগ দেন।

উল্লেখ্য,
- ১৪ আগস্ট পাকিস্তানের স্বাধীনতা দিবসে এ দল একযোগে আক্রমণ করে বেশকিছু পাকিস্তানি জাহাজ ধ্বংস করে।
- এ ডব্লিউ চৌধুরীর (আর.ও-১) নেতৃত্বে চট্টগ্রাম বন্দর অন্তর্ভুক্ত দলটি পাকিস্তানি কার্গো জাহাজ ও এমভি আল-আব্বাসসহ সাতটি জাহাজ ধ্বংস করে।
- পরে অক্টোবর-নভেম্বরে দেশের সব বন্দরে দলটির পক্ষ থেকে আরও কয়েকটি অভিযান চালানো হয়। 

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
ii) মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ওয়েবসাইট।
১৯.
স্বাধীনতা যুদ্ধে বিশেষ অবদানের জন্য বীর প্রতীক খেতাব প্রাপ্তির সংখ্যা কত?
  1. ৬৭৬ জন
  2. ৬৮ জন
  3. ৪২৬ জন
  4. ১৭৫জন
সঠিক উত্তর:
৪২৬ জন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৪২৬ জন
ব্যাখ্যা
স্বাধীনতাযুদ্ধে খেতাবপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা:
- ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় মুক্তিবাহিনীর সদস্যদের বীরত্ব ও সাহসিকতাপূর্ণ কাজের স্বীকৃতিদান এবং তাদের মধ্যে আত্মত্যাগের প্রেরণা সৃষ্টির লক্ষে বীরত্বসূচক খেতাব প্রদান করা হয়।
- এই প্রস্তাব উপস্থাপন করেন মুক্তিযুদ্ধের প্রধান সেনাপতি এম এ জি ওসমানী।
- ১৫ ডিসেম্বর, ১৯৭৩ সালে সরকারি গেজেট নোটিফিকেশনের মাধ্যমে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার মুক্তিযোদ্ধাদের খেতাব প্রদান করেন।

⇒ মুক্তিযুদ্ধের খেতাব ৪ পর্বে বিভক্ত।
- মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বসূচক অবদানের জন্য ৬৭৬ জনকে খেতাব প্রদান করা হয়। যথা:
• বীরশ্রেষ্ঠ ৭ জন,
• বীর উত্তম ৬৮ জন,
• বীর বিক্রম ১৭৫ জন এবং
• বীর প্রতীক ৪২৬ জন।

উৎস: i) মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়।
ii) প্রথম আলো।
২০.
সত্তরের নির্বাচনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে ছিলেন?
  1. বিচারপতি একেএম নুরুল ইসলাম
  2. বিচারপতি এম ইদ্রিস
  3. বিচারপতি এটিএম মাসুদ
  4. বিচারপতি আব্দুস সাত্তার
সঠিক উত্তর:
বিচারপতি আব্দুস সাত্তার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিচারপতি আব্দুস সাত্তার
ব্যাখ্যা
সত্তরের নির্বাচন:
- পাকিস্তান সৃষ্টির পর দেশটির কেন্দ্রীয় আইন পরিষদ গঠনের লক্ষ্যে প্রাপ্তবয়স্ক ভোটাধিকারভিত্তিক প্রত্যক্ষ নির্বাচন প্রথমবারের মত অনুষ্ঠিত হয় ১৯৭০ সালের ৭ ডিসেম্বর।
- ১৯৪৭-১৯৫৮ সময়কালে পাকিস্তানে কেন্দ্রীয় আইন পরিষদের কোন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি।
- ১৯৫৮ থেকে ১৯৬২ সাল পর্যন্ত দেশে সামরিক আইন চালু ছিল।
- ১৯৬২ সালে মৌলিক গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে জাতীয় পরিষদ গঠন করা হয়।
- ১৯৭০ সালে পাকিস্তানের জনগণ সর্বপ্রথম দেশের কেন্দ্রীয় আইন পরিষদের প্রতিনিধি নির্বাচনের সুযোগ লাভ করে।

উল্লেখ্য,
⇒ নির্বাচনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ছিলেন বিচারপতি আব্দুস সাত্তার।
- ১৯৭০ সালের ১ জানুয়ারি সকল রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের উপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয়। ফলে সেদিন থেকেই নির্বাচনী প্রচারাভিযান শুরু হয়।

উৎস: i) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
ii) বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।
২১.
২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানকে মুনসুন অভ্যুত্থান (Monsoon Revolution) হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন কে?
  1. ড. মুহাম্মদ ইউনূস
  2. অ্যান্তোনিও গুতেরেস
  3. ওয়াকার-উজ-জামান
  4. বৈষম্যবিরোধী ছাত্র সংগঠন
সঠিক উত্তর:
ড. মুহাম্মদ ইউনূস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ড. মুহাম্মদ ইউনূস
ব্যাখ্যা
মুনসুন অভ্যুত্থান (Monsoon Revolution):
- ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানকে মুনসুন অভ্যুত্থান (Monsoon Revolution) হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
- তিনি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৯তম অধিবেশনে ২০২৪ সালের এই অভ্যুত্থানকে মুনসুন অভ্যুত্থান হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।
- ৫ আগস্টের অভ্যুত্থানকে ‘মনসুন অভ্যুত্থান’ আখ্যায়িত করে তিনি বলেন, আগামীতে বিশ্বের নানা প্রান্তের মানুষকে মুক্তি ও ন্যায়ের পক্ষে অবস্থান নিতে তারুণ্যের এই অভ্যুত্থান প্রেরণা জুগিয়ে যাবে।

উল্লেখ্য,
- সরকারি চাকরিতে কোটাব্যবস্থা সংস্কারের দাবিতে ১ জুলাই, ২০২৪ আন্দোলনে নামে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন।
- শুরুতে এ আন্দোলন অহিংস ছিল কিন্তু পরবর্তীকালে শিক্ষার্থীদের ওপর ছাত্রলীগসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বেপরোয়া হলে ১৫ জুলাই, ২০২৪ আন্দোলন সহিংস রূপ নেয়।
- অতঃপর শিক্ষার্থীদের এ আন্দোলন প্রবল আকার ধারণ করে যার শেষ পরিণতি ঘটে ছাত্র-জনতার তুমুল আন্দোলনের মাধ্যমে।
- ৫ আগস্ট, ২০২৪ পতন ঘটে দীর্ঘ প্রায় ১৬ বছরের কর্তৃত্ববাদী সরকার শেখ হাসিনার।

উৎস: i) BBC.
ii) প্রথম আলো।
২২.
আইয়ুব খান বিরোধী 'ঘেরাও' কর্মসূচি কে চালু করেন?
  1. জিয়াউর রহমান
  2. এ কে ফজলুল হক
  3. মওলানা ভাসানী
  4. হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী
সঠিক উত্তর:
মওলানা ভাসানী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মওলানা ভাসানী
ব্যাখ্যা
মওলানা ভাসানী:
- ১৯৬৮ সালের ডিসেম্বরে পল্টন ময়দানে জনসভা করে গণঅভ্যুত্থানের সূচনা করেছিলেন ন্যাপের সভাপতি মওলানা ভাসানী।
- পরে আওয়ামী লীগ ও জামায়াতে ইসলামীসহ সর্বদলীয় সংগ্রাম পরিষদ (ডেমোক্রেটিক অ্যাকশন কমিটি) স্বতন্ত্রভাবে গণঅভ্যুত্থানের ঘোষণা দিলে অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়।
- ভাসানী সর্বদলীয় সংগ্রাম পরিষদে যোগ না দিয়ে ঘেরাও আন্দোলন চালাতে থাকেন।
- তার সঙ্গে ছিল পিকিংপন্থী বলে পরিচিত বামপন্থী দলগুলো এবং শ্রমিক ফেডারেশন ও কৃষক সমিতি।
- মস্কোপন্থী দলগুলো ক্রমে আওয়ামী লীগের সমর্থনে গিয়ে আন্দোলনে যুক্ত থাকে।

উল্লেখ্য,
- ১৯৬৯ সালে আইয়ুব বিরোধী আন্দোলনে মাওলানা ভাসানী বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করেন।
- আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার আসামীদের মুক্তি দাবি করেন। ৮ মার্চ (১৯৬৯) পশ্চিম পাকিস্তানে গিয়ে সেখানে পাকিস্তান পিপলস পার্টির নেতা জুলফিকার আলী ভুট্টোর সাথে সাক্ষাত করে গণতন্ত্র ও সমাজতন্ত্র কায়েমের লক্ষ্যে একমত হন।
- ২৬শে ফেব্রুয়ারি আইয়ুব খান কর্তৃক আহুত গোলটেবিল বৈঠক প্রত্যাখান করে শ্রমজীবীদের ঘেরাও কর্মসূচী পালনে উৎসাহ প্রদান করেন।

উৎস: i) The Daily Star Bangla,.
ii) বণিক বার্তা।
২৩.
নিয়মিত সেনা ব্যাটালিয়ন নিয়ে কয়টি ফোর্স গঠিত হয়?
  1. একটি
  2. দুটি
  3. তিনটি
  4. এগারোটি
সঠিক উত্তর:
তিনটি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তিনটি
ব্যাখ্যা
নিয়মিত ও অনিয়মিত বাহিনী:
- মুক্তিবাহিনী সরকারি পর্যায়ে দুটি শাখায় বিভক্ত ছিল ১. নিয়মিত বাহিনী ও ২. অনিয়মিত বাহিনী।
১. নিয়মিত বাহিনী:
- ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের ইউনিটগুলোর বাঙালি সৈনিকদের নিয়ে এই বাহিনী গঠিত হয়। সরকারিভাবে এদের নামকরণ করা হয় এম. এফ. (মুক্তিফৌজ)। মুক্তিযুদ্ধকালে বাংলাদেশ সরকার নিয়মিত বাহিনী হিসেবে সেনা, বিমান ও নৌবাহিনীও গড়ে তোলে।

উল্লেখ্য,
⇒ প্রতিরক্ষা বাহিনীর নিয়মিত সদস্যদের নিয়ে তিনটি বাহিনী গঠন করা হয়। এগুলো হলো:
- মেজর জিয়াউর রহমানের অধীনে জেড ফোর্স,
- খালেদ মোশারফের অধীনে কে ফোর্স এবং
- কে.এম শফিউল্লাহর নেতৃত্বে এস ফোর্স। 

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, অষ্টম শ্রেণি।
২৪.
মেজর জিয়াউর রহমান কোন বেতার কেন্দ্র থেকে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন?
  1. স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র
  2. কালুরঘাট বেতারকেন্দ্র
  3. চট্টগ্রাম বেতার কেন্দ্র
  4. রেডিও পাকিস্তান, চট্টগ্রাম
সঠিক উত্তর:
কালুরঘাট বেতারকেন্দ্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কালুরঘাট বেতারকেন্দ্র
ব্যাখ্যা
স্বাধীনতা ঘোষণা:
- ১৯৭১ সালের মার্চ মাসে মুক্তিযুদ্ধ শুরুর প্রথম প্রহরেই মেজর জিয়াউর রহমান নিজেকে প্রভিশননাল প্রেসিডেন্ট হিসেবে উল্লেখ করে কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন।

উল্লেখ্য,
- পাকিস্তানের স্বৈরশাসক ইয়াহিয়ার নির্দেশে তার সামরিক বাহিনী তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের (বর্তমান বাংলাদেশ) জনগণের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে ২৫ মার্চ কালরাতে।
- মেজর জেনারেল রাও ফরমান আলীকে ঢাকা শহরে অপারেশন সার্চলাইটের মূল দায়িত্ব দেওয়া হয়।
- সেদিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলোতে আক্রমণ শুরু হয় গভীর রাতে। জহুরুল হক হল, জগন্নাথ হল, রোকেয়া হলে চালানো হয় হত্যা ও পাশবিক নির্যাতন। এছাড়া পিলখানা, ইপিআর সদর দপ্তর, রাজারবাগ পুলিশ লাইন্সে আক্রমণ করে নির্বিচার হত্যা চালানো হয়। একইভাবে গণহত্যা চলেছিল পুরনো ঢাকায়, কচুক্ষেত, তেজগাঁও, ইন্দিরা রোড, মিরপুর, মোহাম্মদপুর, ঢাকা বিমানবন্দরের অভ্যন্তরে, রায়েরবাজার, গণকটুলি, ধানমণ্ডি, কলাবাগান, কাঁঠালবাগান প্রভৃতি স্থানে।
- ঢাকার ন্যায় দেশের অন্যান্য শহরেও পাকিস্তানি বাহিনী ব্যাপক গণহত্যা শুরু করে।
- এ পরিস্থিতিতে ২৬শে মার্চ তারিখে মেজর জিয়াউর রহমান চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন।
- এরপর তিনি ২৭শে মার্চ তারিখে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পক্ষে আবারও স্বাধীনতার ঘোষণা দেন।
- তাঁর স্বাধীনতা ঘোষণা এবং এর প্রতি বাঙালি সামরিক, আধাসামরিক ও বেসামরিক বাহিনীর সমর্থন ও অংশগ্রহণের খবরে স্বাধীনতাকামী জনগণ উজ্জীবিত হয়।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
২৫.
১৯৭১ সালে বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ডের প্রধান দায়িত্ব পালন করে কারা?
  1. শান্তি কমিটি
  2. আল বদর বাহিনী
  3. মুক্তিবাহিনী
  4. বর্ণিত সবাই
সঠিক উত্তর:
আল বদর বাহিনী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আল বদর বাহিনী
ব্যাখ্যা
স্বাধীনতাবিরোধী সংগঠন ও বাহিনী:
- মুক্তিবাহিনীর ক্রমবর্ধমান তৎপরতা বৃদ্ধি পেলে ১৯৭১ সালে পাকিস্তান সমর্থক রাজনীতিবিদদের ও ধর্মভিত্তিক দলের সমন্বয়ে শান্তি কমিটি গঠন করা হয়।
- ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাত থেকে ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশ জুড়ে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও তাদের এদেশীয় দোসররা নির্যাতন, গণহত্যা আর ধ্বংসলীলায় মেতে উঠে।
- পাকিস্তানি বাহিনীকে নির্যাতন, হত্যা, অগ্নিসংযোগ, লুণ্ঠন ইত্যাদি মানবতাবিরোধী অপরাধে সহযোগিতা করেছে রাজাকার, আলবদর, আলশামস ও শান্তি কমিটি।

উল্লেখ্য,
- পকিস্তানি হানাদার বাহিনীর সহযোগী সংগঠন হিসেবে রাজাকার, আলবদর, আল শামস বাহিনী গঠন করা হয়।
- রাজাকারদের প্রশিক্ষণ দিতো পাকিস্তানি বাহিনী এবং প্রশিক্ষণের মেয়াদ ছিল এক সপ্তাহ।
- আলবদর বাহিনী বাঙালি বুদ্ধিজীবী হত্যার প্রধান দায়িত্ব পালন করে

⇒ যৌথ বাহিনীর ঢাকার উপকণ্ঠে আগমণ ও ভারতীয় বিমান বাহিনীর ঢাকা আক্রমণের প্রেক্ষাপটে ১৪ ডিসেম্বর গভর্ণর মালিকের নেতৃত্বাধীন সরকার পদত্যাগ করে।
- এ সময় পাকিস্তান বাহিনী তাদের এদেশীয় দোসর রাজাকার, আলবদর ও আল শামস এর সহযোগিতায় ব্যাপক গণহত্যা চালায়।
- যুদ্ধের শুরু থেকেই পাকিস্তানি বাহিনী বাংলাদেশের খ্যাতিমান শিক্ষক, চিকিৎসক ও সাংবাদিকসহ অনেক বুদ্ধিজীবীকে হত্যা করা হয়।
- তবে ১০-১৪ ডিসেম্বর পরিকল্পিতভাবে আলবদর বাহিনী বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করে।
- বাংলাদেশের ইতিহাস এ ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক।
- হত্যাকাণ্ডের শিকার বুদ্ধিজীবীদের স্মরণে ১৪ ডিসেম্বর শহিদ বুদ্ধিজীবী দিবস পালিত হয়।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।
২৬.
মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী সময়ে কার নেতৃত্বে প্রথম শিক্ষা কমিশন গঠিত হয়?
  1. এস এম শরীফ
  2. কুদরাত-ই-খুদা
  3. মওলানা আকরম খাঁ
  4. আতাউর রহমান খান
সঠিক উত্তর:
কুদরাত-ই-খুদা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কুদরাত-ই-খুদা
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী সময়ে শিক্ষার উন্নয়ন:
- সম্পদের সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী সময়ে মানবসম্পদের উন্নয়নে শিক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
- দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র ছয় মাসের মধ্যে স্বাধীন দেশের উপযোগী শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলার কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়।
- এই লক্ষ্যে বিশিষ্ট বিজ্ঞানী ড. মুহাম্মদ কুদরাত-ই-খুদার নেতৃত্বে ১৯৭২ সালের ২৬ জুলাই শিক্ষা কমিশন গঠন করা হয়।

এছাড়াও,
- শিক্ষা ক্ষেত্রে জরুরি ভিত্তিতে ৯০০ কলেজ ভবন ও ৪০০ হাইস্কুল পুননির্মাণ করা হয়।
- প্রথমবারের মতো সকল প্রাথমিক বিদ্যালয়কে সরকারিকরণ করা হয়।
- মুক্তিযুদ্ধের সময় শিক্ষকদের পাওনা ৯ মাসের বকেয়া বেতন পরিশোধ করা হয়।
- সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়সমূহে স্বায়ত্তশাসন প্রদানের জন্য জাতীয় সংসদে ১৯৭৩ সালের বিশ্ববিদ্যালয় আইন পাস করেন।

অন্যদিকে,
- মওলানা আকরম খাঁ শিক্ষা কমিশন (১৯৪৯) প্রচলিত শিক্ষা ব্যবস্থার পুনর্মূল্যায়ন এবং শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার ও পুনর্বিন্যাসের ক্ষেত্রে সুপারিশ পেশ করার জন্য ১৯৪৯ সালে পাকিস্তানে প্রথম শিক্ষা কমিশন গঠিত হয়।
- আতাউর রহমান খান শিক্ষা কমিশন (১৯৫৭) পূর্ব পাকিস্তান সরকার প্রদেশে শিক্ষার সার্বিক সংস্কার সুপারিশের জন্য ১৯৫৭ সালের জানুয়ারি মাসে আতাউর রহমান খানকে চেয়ারম্যান করে একটি শিক্ষা কমিশন নিয়োগ করে।
- জাতীয় শিক্ষা বিষয়ক কমিশন (১৯৫৮)  পশ্চিম পাকিস্তানের শিক্ষাসচিব এস এম শরীফকে চেয়ারম্যান এবং দশজন শিক্ষাবিদকে সদস্য করে পাকিস্তান সরকার ১৯৫৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর এই কমিশন গঠন করে। 

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
ii) বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।
২৭.
১৯৯৬ সালের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে ড: মুহাম্মদ ইউনূস কোন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার দায়িত্ব পালন করেন?
  1. অর্থ ও পরিকল্পনা
  2. আইন, বিচার ও সংসদ
  3. বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা
  4. স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়
সঠিক উত্তর:
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের তত্ত্বাবধায়ক সরকার:
- বাংলাদেশের তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাংলাদেশের একপ্রকারের শাসন ব্যবস্থা, যার অধীনে দুইটি নির্বাচিত সরকারের মধ্যবর্তী সময়কালে সাময়িকভাবে অনির্বাচিত ব্যক্তিবর্গ কোন দেশের শাসনভার গ্রহণ করে থাকে।
- বিএনপি সরকারের পদত্যাগের পর ১৯৯৬ সালে ত্রয়োদশ সংশোধনের মাধ্যমে সংবিধানে যোগ হয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি।
- তখন সাংবিধানিকভাবে প্রথম তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান।

অন্যান্য উপদেষ্টাগণ ছিলেন -
- ব্যারিস্টার সৈয়দ ইশতিয়াক আহমেদ, ড. মুহাম্মদ ইউনূস, অর্থনীতিবিদ ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ, অধ্যাপক মো. শামসুল হক, অধ্যাপক জামিলুর রেজা চৌধুরী, শেগুফতা বখত চৌধুরী, এ জেড এম নাছিরুদ্দিন, সৈয়দ মঞ্জুর এলাহী, অধ্যাপক নাজমা চৌধুরী ও মেজর জেনারেল (অব.) আব্দুর রহমান খান।

উল্লেখ্য,
ড: মুহাম্মদ ইউনুস:
- তত্ত্বাবধায়ক সরকারে ড: মুহাম্মদ ইউনুস বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা এবং পরিবেশ ও বন- এই তিনটি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার দায়িত্ব পালন করেন।
- তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে বিএ অনার্সসহ মাস্টার্স ডিগ্রি লাভ করেন। ১৯৭০ সালে আমেরিকার ভেনডারবিন্ট বিশ্ববিদ্যালয় থেকে লাভ করেন পিএইচডি ডিগ্রি।
- ব্যাংকিং-এ বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বে যুগান্তকারী ধ্যান-ধারণা নিয়ে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন গ্রামীণ ব্যাংক।
- দেশের দরিদ্র ও পশ্চাৎপদ জনগোষ্ঠী বিশেষভাবে মহিলাদের ক্ষুদ্র ঋণ সরবরাহ করে তাদের আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নয়ন ঘটানো গ্রামীণ ব্যাংকের ব্যাংকিং কর্মকান্ডের মূল বৈশিষ্ট্য।

উৎস: i) ইতিহাস ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) The Business Standard.
২৮.
স্বাধীন বাংলাদেশে সংবিধান রচনার জন্য 'বাংলাদেশ গণপরিষদ আদেশ’ জারি করেন কে?
  1. সৈয়দ নজরুল ইসলাম
  2. শেখ মুজিবুর রহমান
  3. আবু সাঈদ চৌধুরী
  4. আতাউর রহমান খান
সঠিক উত্তর:
আবু সাঈদ চৌধুরী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আবু সাঈদ চৌধুরী
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ গণপরিষদ আদেশ:
- স্বাধীন বাংলাদেশে সংবিধান রচনার জন্য তৎকালীন রাষ্ট্রপতি বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরী ১৯৭২ সালের ২৩ মার্চ 'বাংলাদেশ গণপরিষদ আদেশ’ জারি করেন।
- এ আদেশ ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ থেকে কার্যকরী বলে ধরে নেয়া হয়।
- এ আদেশ বলে ১৯৭০ সালের ৭ ডিসেম্বর থেকে ১৯৭১ সালের ১ মার্চ পর্যন্ত জাতীয় ও প্রাদেশিক পরিষদে বাংলাদেশ থেকে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নিয়ে গণপরিষদ গঠন করা হয়।

উল্লেখ্য,
- গণপরিষদের প্রথম অধিবেশন বসে ১৯৭২ সালের ১০ এপ্রিল।
- গণপরিষদের প্রথম স্পিকার ছিলেন শাহ আবদুল হামিদ এবং ডেপুটি স্পিকার ছিলেন মোহাম্মদ উল্লাহ।
- গণপরিষদের সদস্যদের মধ্য থেকে ৩৪ জন নিয়ে বাংলাদেশের সংবিধান রচনা কমিটি গঠিত হয়।
- কমিটির সভাপতি ছিলেন ড. কামাল হোসেন।
- সংবিধান কমিটির একমাত্র মহিলা সদস্য ছিলেন বেগম রাজিয়া বানু।
- ১৯৭২ সালের ১২ অক্টোবর গণপরিষদের দ্বিতীয় অধিবেশনে তৎকালীন আইনমন্ত্রী ড. কামাল হোসেন খসড়া সংবিধান বিল আকারে উত্থাপন করেন।
- ১৯৭২ সালের ৪ নভেম্বর গণপরিষদে বাংলাদেশের সংবিধান গৃহীত হয় এবং ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭২ (বিজয় দিবস) থেকে কার্যকর হয়।
- ৪ নভেম্বরকে বাংলাদেশের সংবিধান দিবস বলা হয়।

উৎস: i) বাংলাদেশ সংবিধান, আরিফ খান।
ii) বাংলাদেশের রাজনৈতিক উন্নয়ন, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৯.
গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে কত সালে এরশাদ সরকারের সামরিক শাসনের পতন ঘটে?
  1. ১৯৮৯ সালে
  2. ১৯৯০ সালে
  3. ১৯৯১ সালে
  4. ১৯৯২ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯৯০ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৯০ সালে
ব্যাখ্যা
এরশাদ সরকারের সামরিক শাসনের পতন:
- ১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ সামরিক অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে তৎকালীন সেনাপ্রধান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ক্ষমতা দখল করে স্বৈরশাসন প্রতিষ্ঠা করেন।
- টানা ৯ বছর আন্দোলনের পর এ বিশ্ববিদ্যালয়ে গড়ে ওঠা সর্বদলীয় ছাত্র ঐক্যের দুর্বার আন্দোলনেই পতন ঘটে স্বৈরশাসক এরশাদের।
- ধারাবাহিক আন্দোলনের এক পর্যায়ে ১৯৯০ সালের ১০ অক্টোবর শিক্ষার্থী জেহাদ পুলিশের গুলিতে নিহত হয়।
- ১৯৯০ সালের ২৭ নভেম্বর স্বৈরাচারবিরোধী মিছিলে হামলা চালায় নতুন বাংলা ছাত্র সমাজের ক্যাডাররা।
- সে হামলায় নিহত হন বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের যুগ্ম মহাসচিব ডা. শামসুল আলম খান মিলন।
- এর পর সারাদেশের শহর-বন্দর, এমনকি গ্রামে-গঞ্জে ছড়িয়ে পড়ে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন।
- অবশেষে ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর ক্ষমতা ছেড়ে দিতে বাধ্য হন এরশাদ।

উৎস: i) বাংলাদেশের রাজনৈতিক উন্নয়ন, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) বিবিসি বাংলা।
৩০.
আগরতলা মামলার কত নং আসামীকে ক্যান্টনমেন্টে হত্যা করা হয়?
  1. ৩ নম্বর
  2. ৩৪ নম্বর
  3. ১৭ নম্বর
  4. ২৩ নম্বর
সঠিক উত্তর:
১৭ নম্বর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৭ নম্বর
ব্যাখ্যা
শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক:
⇒ ১৯৬৭ সালের ডিসেম্বর মাসে পাকিস্তান বিমান বাহিনীতে কর্মরত থাকা অবস্থাতেই আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলায় গ্রেপ্তার করা হয় সার্জেন্ট জহুরুল হককে। মামলায় তাকে করা হয়েছিল ১৭ নম্বর আসামি। তাকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে আটকে রাখা হয়েছিল।

⇒ পাকিস্তান সরকার আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলাটির সরকারি নাম দিয়েছিল 'রাষ্ট্র বনাম শেখ মুজিবুর রহমান ও অন্যান্যদের বিচার'। এই মামলায় ৩৫ জনকে আসামি করা হয়। প্রথমে আসামিদের 'দেশরক্ষা আইন' থেকে মুক্তি দেওয়া হয়। কিন্তু পরে 'সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনী অ্যাক্টে' সার্জেন্ট জহুরুল হকসহ অন্যান্য আসামিদের পুনরায় গ্রেপ্তার করে পাকিস্তানের সামরিক সরকার। এরপর তাদের ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে কুর্মিটোলার ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে স্থানান্তর করা হয়। ১৯৬৮ সালের ১৯ জুন মামলাটির শুনানি কার্যক্রম শুরু হয়।

⇒ মামলার স্থান হিসেবে ঢাকা ক্যান্টনমেন্টের অভ্যন্তরে অবস্থিত 'সিগন্যাল অফিসার মেস' নির্ধারণ করা হয়। মামলার শেষ তারিখ ছিল ১৯৬৯ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি। এরপর ছাত্র জনতার তীব্র গণঅভ্যুত্থানের মুখে আইয়ুব খানের সামরিক সরকার আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা প্রত্যাহার করতে বাধ্য হয়। 

⇒ এমনি উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে ঢাকা সেনানিবাসে মামলার ১৭নং আসামী সার্জেন্ট জহুরুল হককে গুলি করে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
ii) The Daily Star Bangla.
৩১.
নিম্নের কোনটি মুক্তিযুদ্ধে ১নং সেক্টরের অধীনে ছিল?
  1. ঢাকা
  2. কুমিল্লা
  3. মেহেরপুর
  4. চট্টগ্রাম
সঠিক উত্তর:
চট্টগ্রাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চট্টগ্রাম
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধ:
- মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশকে ১১টি সেক্টরে ভাগ করা হয়েছিলো।

⇒ সেক্টরগুলো:
=১নং সেক্টর:
- চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রাম জেলা এবং নোয়াখালী জেলার সমগ্র পূর্বাঞ্চল বেলোনিয়া বুলগের মুহুরী নদীর তীরে নিয়ে গঠিত।
- বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রব।
- সদরদপ্তর: হরিণা।
- সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর জিয়াউর রহমান, পরে মেজর রফিকুল ইসলামের স্থলাভিষিক্ত হন।

অন্যদিকে,
= ২নং সেক্টর: ঢাকা, কুমিল্লা এবং ফরিদপুর জেলা এবং নোয়াখালী জেলার অংশ নিয়ে গঠিত।
- সদরদপ্তর: মেলাঘর।

= ৩নং সেক্টর: উত্তরে চূড়ামনকাঠি (শ্রীমঙ্গলের নিকট) থেকে সিলেট এবং দক্ষিণে ব্রাহ্মণবাড়ীয়ার সিঙ্গারবিল পর্যন্ত এলাকা নিয়ে গঠিত হয়।
- সদরদপ্তর: হেজামারা।

= ৪ নং সেক্টর: উত্তরে সিলেট জেলার হবিগঞ্জ মহকুমা থেকে দক্ষিণে কানাইঘাট থানা পর্যন্ত ১০০ মাইল বিস্তৃত সীমান্ত এলাকা নিয়ে গঠিত।
- সদরদপ্তর: প্রথমে করিমগঞ্জে এবং পরে আসামের মাসিমপুর।

= ৫নং সেক্টর: সিলেট জেলার দুর্গাপুর থেকে ডাউকি (তামাবিল) এবং জেলার পূর্বসীমা পর্যন্ত বিস্তৃত এলাকা নিয়ে গঠিত।
- সদরদপ্তর: বাঁশতলা।

= ৬নং সেক্টর: সমগ্র রংপুর জেলা এবং দিনাজপুর জেলার ঠাকুরগাঁও মহকুমা নিয়ে গঠিত। প্রধানত রংপুর ও দিনাজপুরের ইপিআর বাহিনী নিয়ে এই সেক্টর গঠিত হয়।
- সদরদপ্তর: বুড়ি মাড়ি (বাংলাদেশের ভূখণ্ডের অভ্যন্তরে একমাত্র সদর দপ্তর)।

= ৭নং সেক্টর: রাজশাহী, পাবনা, বগুড়া এবং দিনাজপুর জেলার দক্ষিণাংশ নিয়ে গঠিত হয়।
- সদরদপ্তর: তরঙ্গপুর।

= ৮নং সেক্টর: কুষ্টিয়া, যশোর থেকে খুলনা, সাতক্ষীরা,
- সদরদপ্তর: কল্যাণী।

= ৯নং সেক্টর: বরিশাল ও পটুয়াখালি জেলা এবং খুলনা ও ফরিদপুর জেলার অংশবিশেষ নিয়ে গঠিত।
- সদরদপ্তর: বশিরহাট।

= ১০নং সেক্টর: সকল নৌপথ ও সমুদ্র উপকূলীয় অঞ্চল,

= ১১নং সেক্টর: টাঙ্গাইল জেলা এবং কিশোরগঞ্জ মহকুমা ব্যতীত সমগ্র ময়মনসিংহ জেলা নিয়ে গঠিত।
- সদরদপ্তর: মহেন্দ্রগঞ্জ।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৩২.
মুক্তিবাহিনীর 'ওয়ার স্ট্র্যাটেজি' কী নামে পরিচিত ছিল?
  1. মুজিবনগর স্ট্র্যাটেজি
  2. চুকনগর স্ট্র্যাটেজি
  3. তেলিয়াপাড়া স্ট্র্যাটেজি
  4. আগরতলা স্ট্র্যাটেজি
সঠিক উত্তর:
তেলিয়াপাড়া স্ট্র্যাটেজি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তেলিয়াপাড়া স্ট্র্যাটেজি
ব্যাখ্যা
মুক্তিবাহিনীর 'ওয়ার স্ট্র্যাটেজি:
- ১৯৭১ সালের একাত্তর সালের ৪ এপ্রিল সামরিক বাহিনীর বাঙালি কর্মকর্তারা সিলেটের হবিগঞ্জের তেলিয়াপাড়া চা বাগানে এক বৈঠকে মিলিত হন।
- সেখানে তারা মুক্তিযুদ্ধের রণকৌশল প্রণয়ন করে।
- পরে এটি তেলিয়াপাড়া স্ট্র্যাটেজি নামে পরিচিত হয়।
- বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয় এম এ জি ওসমানী যুদ্ধে নেতৃত্ব দেবেন এবং বাংলাদেশকে চারটি সামরিক অঞ্চলে ভাগ করে সশস্ত্র যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া হবে।
- ১২-১৭ জুলাই কলকাতায় মুজিবনগর সরকারের নেতৃত্বে আমাদের মুক্তিযুদ্ধ সংক্রান্ত একটি দীর্ঘ সম্মেলন হয়, সেখানেই তিনটি নিয়মিত বাহিনী তৈরি এবং বাংলাদেশকে ১১টি সেক্টরে ভাগ করা হয়।
- মূলত কলকাতার ৮ নং থিয়েটার রোডের প্রবাসী বাংলাদেশ সরকারের সদর দপ্তরে সেক্টর কমান্ডার এবং উর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তাদের নিয়ে এই সম্মেলন হয়।
- সেখানে বাংলাদেশ বাহিনীর নেতৃত্ব, সংগঠন, প্রশিক্ষণ, অভিযান, প্রশাসন ইত্যাদি বিষয়ে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
- সেখানেই সুষ্ঠুভাবে মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার লক্ষ্যে সেক্টর ভাগ এবং প্রতি সেক্টরের জন্য একজন করে সেক্টর কমান্ডার নিযুক্ত করা হয়। পাশাপাশি প্রতিটি সেক্টরকে অঞ্চলভেদে ভাগ করা হয় কয়েকটি সাব-সেক্টরে।

উৎস: i) জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
ii) বিবিসি বাংলা।
৩৩.
১৯৭০ সালের প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচন হয় -
  1. ১ ডিসেম্বর
  2. ৭ ডিসেম্বর
  3. ১০ ডিসেম্বর
  4. ১৭ ডিসেম্বর
সঠিক উত্তর:
১৭ ডিসেম্বর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৭ ডিসেম্বর
ব্যাখ্যা
১৯৭০ সালের নির্বাচন:
- ১৯৭০ সালে পাকিস্তানের জনগণ সর্বপ্রথম দেশের কেন্দ্রীয় আইন পরিষদের প্রতিনিধি নির্বাচনের সুযোগ লাভ করে।
- নির্বাচনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ছিলেন বিচারপতি আব্দুস সাত্তার।
- ১৯৭০ সালের ৫ অক্টোবর জাতীয় পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সেপ্টেম্বর মাসে পূর্ব পাকিস্তানে বন্যা হয়।
- জাতীয় পরিষদের নির্বাচন হয় ১৯৭০ সালের ৭ ডিসেম্বর এবং প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচনের তারিখ নির্দিষ্ট হয় ১৯৭০ সালের ১৭ ডিসেম্বর।

উল্লেখ্য,
- পূর্ব পাকিস্তানের প্রাদেশিক পরিষদের সংরক্ষিত মহিলা আসনসহ ৩১০টি আসনের মধ্যে আওয়ামী লীগ মোট ২৯৮টি আসন পেয়ে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে।
- পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদের ৩০০টি (১০টি মহিলা সংরক্ষিত আসন ছাড়া) আসনের মধ্যে আওয়ামী লীগ ২৮৮ টি আসনে জয়লাভ করে।

উৎস: i) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
ii) বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।
৩৪.
বাংলাদেশের সর্বপ্রথম সংবিধানসম্মত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ছিলেন -
  1. বিচারপতি মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান
  2. বিচারপতি আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েম
  3. বিচারপতি মোস্তফা কামাল
  4. বিচারপতি বদরুল হায়দার চৌধুরী
সঠিক উত্তর:
বিচারপতি মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিচারপতি মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের তত্ত্বাবধায়ক সরকার:
- বিএনপি সরকারের পদত্যাগের পর ১৯৯৬ সালে ত্রয়োদশ সংশোধনের মাধ্যমে সংবিধানে যোগ হয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি।
- ১৯৯৬ সালে বিচারপতি মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান বাংলাদেশের সর্বপ্রথম সংবিধানসম্মত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ লাভ করেন
- এর চারদিন পর সংবিধান অনুযায়ী ১০ জন উপদেষ্টাকে নিয়োগ দেওয়া হয়।
- তারা হলেন ব্যারিস্টার সৈয়দ ইশতিয়াক আহমেদ, ড. মুহাম্মদ ইউনূস, অর্থনীতিবিদ ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ, অধ্যাপক মো. শামসুল হক, অধ্যাপক জামিলুর রেজা চৌধুরী, শেগুফতা বখত চৌধুরী, এ জেড এম নাছিরুদ্দিন, সৈয়দ মঞ্জুর এলাহী, অধ্যাপক নাজমা চৌধুরী ও মেজর জেনারেল (অব.) আব্দুর রহমান খান।
- এই তত্ত্বাবধায়ক সরকার মোট ৮৬ দিন ক্ষমতায় ছিল।
- তিনি ১৯৯৬ সালের ১২ জুন জাতীয় সংসদের নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করেন।
- অবশেষে বিপুল উৎসাহ ও উদ্দীপনা মধ্য দিয়ে ১৯৯৬ সালের ১২ জুন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীন প্রথম সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।

উৎস: ইতিহাস ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৫.
কয়টি দলের সমন্বয়ে ১৯৬৯ সালে 'গণতান্ত্রিক সংগ্রাম পরিষদ' গঠিত হয়?
  1. ৪টি
  2. ৫টি
  3. ৬টি
  4. ৮টি
সঠিক উত্তর:
৮টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৮টি
ব্যাখ্যা
১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানে:
- ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানের মূল কারণ ছিল আগরতলা মামলা দায়ের ও নেতাদের নির্বিচারে গ্রেফতার, ছাত্রদের ওপর পুলিশী নির্যাতন।
- আর এ অভ্যুত্থানের পেছনে মুখ্য ভূমিকা পালন করেছিল পূর্ববাংলার ছাত্র সমাজ।
- আইয়ুব খানের হীন ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তোলার লক্ষে ১৯৬৯ সালের ৪ জানুয়ারি ছাত্রলীগ ও ছাত্র ইউনিয়নের দুই গ্রুপ মিলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের সহ-সভাপতি তোফায়েল আহমদকে সভাপতি করে একটি সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ গঠন করে।
- ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের পক্ষ থেকে এগার দফাভিত্তিক এক দাবিনামা প্রস্তুত করা হয়। এরমধ্যে ছয় দফাকেও সংযুক্ত করা হয়। এর সাথে আগরতলা মামলা প্রত্যাহার ও রাজবন্দিদের মুক্তিদানসহ সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়া এবং বন্দি ছাত্রদের মুক্তি প্রদান এবং ছাত্রদের শিক্ষা সংক্রান্ত কতগুলো দাবি উত্থাপিত হয়।
- একই সময়ে ৮ জানুয়ারি তৎকালীন সমগ্র পাকিস্তানের ৮টি রাজনৈতিক দল মিলে 'গণতান্ত্রিক সংগ্রাম পরিষদ' (ডাক) নামক মোর্চা গঠন করে এবং ৮ দফা দাবি উত্থাপন করে যাতে ৬ দফা ও ১১ দফার সমর্থন পাওয়া যায়।
- এরপর থেকে 'ডাক' ও ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের যৌথ প্রচেষ্টায় পূর্ব পাকিস্তানে ব্যাপক গণআন্দোলন গড়ে ওঠে।
- 'ডাক'-এর আহ্বানে ১৪ জানুয়ারি সমগ্র পাকিস্তানে পূর্ণ হরতাল পালিত হয়।
- ১৭ জানুয়ারি 'ডাক' ও 'ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের যৌথ উদ্যোগে সারা দেশে দাবি দিবস পালিত হয়।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
ii) ইতিহাস, এস এস এইচ এল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৬.
মুক্তিযুদ্ধে অবদানের জন্য নিম্নের কোন নারী 'বীরপ্রতীক' খেতাবপ্রাপ্ত হন নি?
  1. সেতারা বেগম
  2. তারামন বিবি
  3. কাঁকন বিবি
  4. সবাই খেতাবপ্রাপ্ত
সঠিক উত্তর:
কাঁকন বিবি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাঁকন বিবি
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধে নারীর অবদান:
- বাঙালির ইতিহাসে সর্ববৃহৎ এ মুক্তিসংগ্রামের আন্দোলনে পুরুষের পাশাপাশি নারীরাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।
- মুক্তিযুদ্ধে অসাধারণ কৃতিত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৭২ সালে মোট ৬৭৬ বীর যোদ্ধাকে বিভিন্ন খেতাবে ভূষিত করা হয়েছে।
- তাদের মধ্যে দুজন নারীও রয়েছেন।
- একজন হলেন ডা. সেতারা বেগম এবং অন্যজন তারামন বিবি; যাদের ‘বীরপ্রতীক’ খেতাব দেওয়া হয়।

উল্লেখ্য,
⇒ তারামন বিবি ১১ নং সেক্টর থেকে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন। তখন ১১ নং সেক্টরের নেতৃত্বে ছিলেন সেক্টর কমান্ডার আবু তাহের। মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ের পরে ১৯৭৩ সালে বঙ্গবন্ধু সরকার তাকে স্বাধীনতা যুদ্ধে অসামান্য অবদানের জন্য বীর প্রতীক উপাধিতে ভূষিত করে। ১৯৯৫ সালের ১৯ ডিসেম্বর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী তারামন বিবির হাতে তুলে দেন বীর প্রতীক সম্মাননা। ২০১৮ সালের ১ ডিসেম্বর সবাইকে ছেড়ে যান মুক্তিযুদ্ধের কিংবদন্তী নারী মুক্তিযোদ্ধা তারামন বিবি বীর প্রতীক।

⇒ ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় আহত বা অসুস্থ মুক্তিযোদ্ধাদের চিকিত্সাসেবা দেওয়ার জন্য বিভিন্ন সেক্টরে হাসপাতাল বা চিকিত্সাকেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছিল। এ রকম একটি হাসপাতাল ছিল ২ নম্বর সেক্টরে। নাম ‘বাংলাদেশ হাসপাতাল’। ডা. সিতারা বেগম বাংলাদেশ হাসপাতালে অসাধ্য সাধনের মতো সব কাজ করতেন। মুক্তিযুদ্ধে এ মহীয়সী নারীর সাহসী আবদানের জন্য তাঁকে ‘বীর প্রতীক’ খেতাবে ভূষিত করা হয়। ১৯৭২ সালে জেনারেল ওসমানী চিঠি দিয়ে তাঁকে বীর প্রতীক খেতাব পাওয়ার কথা জানান। তারপর তা গেজেট আকারে প্রকাশ পায়।

অন্যদিকে,
- কাঁকন বিবি ১৯৭১ সালে সংঘটিত বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের এক বীরযোদ্ধা, বীরাঙ্গনা ও গুপ্তচর।মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন তিনি পাকিস্তানি বাহিনীর বিপক্ষে মুক্তিবাহিনীর হয়ে ৫ নং সেক্টরের গুপ্তচরের কাজ করেন। মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদানের জন্য তাকে বীরপ্রতীক খেতাব দেওয়ার ঘোষণা দেয়া হয়। তবে এ বিষয়ে সরকারি ভাবে কোন গ্যাজেট প্রকাশিত হয়নি।

উৎস: i) প্রথম আলো।
ii) দ্য ডেইলি স্টার বাংলা।