পরীক্ষা আর্কাইভ

শিক্ষক নিবন্ধন (NTRCA) প্রস্তুতি [১৯তম]

পরীক্ষাশিক্ষক নিবন্ধন (NTRCA) প্রস্তুতি [১৯তম]তারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়10 minutes
মোট প্রশ্ন১৭
সিলেবাস
পরীক্ষা – ৬ সাধারণ জ্ঞান – বিজ্ঞান টপিক: মানবদেহ, রোগ ও প্রতিষেধক, স্বাস্থ্য, চিকিৎসা ও পরিবেশ বিজ্ঞান।
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

শিক্ষক নিবন্ধন (NTRCA) প্রস্তুতি [১৯তম]

শিক্ষক নিবন্ধন (NTRCA) প্রস্তুতি [১৯তম] · তারিখ অনির্ধারিত · ১৭ প্রশ্ন

.
মানবদেহের স্বাভাবিক রক্তচাপ কত?
  1. ক) ১৪০/১০০ (mm Hg)
  2. খ) ১২০/৮০ (mm Hg)
  3. গ) ১২০/৬০ (mm Hg)
  4. ঘ) ১৩০/৫০ (mm Hg)
সঠিক উত্তর:
খ) ১২০/৮০ (mm Hg)
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ১২০/৮০ (mm Hg)
ব্যাখ্যা
রক্তচাপ:

- হৃৎপিণ্ডের সংকোচন এবং প্রসারণের ফলে হৃৎপিণ্ড থেকে রক্ত ধর্মনির মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার সময় ধমনিপ্রাচীরে যে পার্শ্বচাপ সৃষ্টি হয়, সেটাকে রক্তচাপ বলে। 
- নিলয়ের সিস্টোল অবস্থায় ধর্মনিতে যে চাপ থাকে, তাকে সিস্টোলিক রক্তচাপ বলে।
- ডায়াস্টোল অবস্থায় যে চাপ থাকে, তাকে ডায়াস্টোলিক রক্তচাপ বলে। 
- স্বাভাবিক এবং সুস্থ একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের সিস্টোলিক রক্তচাপ পারদ স্তম্ভের ১১০-১৪০ মিলিমিটার (mm Hg) এবং ডায়াস্টোলিক রক্তচাপ পারদ স্তম্ভের ৬০-৯০ মিলিমিটার (mm Hg)। 
- মানবদেহের স্বাভাবিক রক্তচাপকে ১২০/৮০ (mm Hg) এভাবে প্রকাশ করা হয়। 
- স্ফিগমোম্যানোমিটার নামক যন্ত্রের সাহায্যে রক্তচাপ নির্ণয় করা যায়। 

তথ্যসূত্র - বিজ্ঞান, ৯ম-১০ম শ্রেণি।
.
মানুষের হাতের পেশি কোন ধরনের পেশি?
  1. ক) ঐচ্ছিক পেশি
  2. খ) অনৈচ্ছিক পেশি
  3. গ) ক ও খ
  4. ঘ) সবগুলো
সঠিক উত্তর:
ক) ঐচ্ছিক পেশি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ঐচ্ছিক পেশি
ব্যাখ্যা
ঐচ্ছিক পেশি (Voluntary) বা ডোরাকাটা পেশি (Striated muscle):

- এই পেশি প্রাণীর ইচ্ছানুযায়ী সংকুচিত বা প্রসারিত হয়।
- ঐচ্ছিক পেশিটিস্যুর কোষগুলো নলাকার, শাখাবিহীন ও আড়াআড়ি ডোরাযুক্ত হয়।
- এদের সাধারণত একাধিক নিউক্লিয়াস থাকে।
- এই পেশি দ্রুত সংকুচিত এবং প্রসারিত হতে পারে।
- ঐচ্ছিক পেশি অস্থিতন্ত্রে সংলগ্ন থাকে।
- মানুষের হাত এবং পায়ের পেশি ঐচ্ছিক পেশি।

তথ্যসূত্র - জীব বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
.
ম্যালেরিয়া টিকা নিচের কোনটি?
  1. ক) RTS,S/ AS01
  2. খ) Avil-3
  3. গ) STZ328
  4. ঘ) RPM/vx336
সঠিক উত্তর:
ক) RTS,S/ AS01
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) RTS,S/ AS01
ব্যাখ্যা
ম্যালেরিয়া টিকা:

- WHO অনুমোদিত বিশ্বের প্রথম ম্যালেরিয়া টিকার নাম - RTS,S/AS01.
- টিকাটি ১৯৮৭ সালে প্রথম উদ্ভাবন করে ব্রিটিশ ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান জিএসকে।
- গত ৬ অক্টোবর ২০২১ সালে টিকাটিকে অনুমোদন দেয়া হয়।

তথ্যসূত্র - বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ওয়েবসাইট ও দৈনিক প্রথম আলো, ০৭ অক্টোবর ২০২১।
.
বাংলাদেশে প্রতি লিটার পানিতে আর্সেনিকের সহনীয় মাত্রা কত মিলিগ্রাম?
  1. ক) ০.০১ মিলিগ্রাম
  2. খ) ০.০১ মিলিগ্রাম
  3. গ) ০.১ মিলিগ্রাম
  4. ঘ) ০.০৫ মিলিগ্রাম
সঠিক উত্তর:
ঘ) ০.০৫ মিলিগ্রাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ০.০৫ মিলিগ্রাম
ব্যাখ্যা
আর্সেনিক দূষণ:

- ধূসর আভাযুক্ত সাদা রংবিশিষ্ট ভঙ্গুর প্রকৃতির একটি অর্ধধাতু বা উপধাতু হচ্ছে আর্সেনিক (Arsenic).
- প্রকৃতিতে আর্সেনিক বিভিন্ন যৌগ আকারে প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যায়।
- ৩৩ আণবিক সংখ্যাবিশিষ্ট আর্সেনিকের আণবিক ভর ৭৪.৯২।
- প্রকৃতিতে প্রাপ্ত আর্সেনিক একটি নির্দিষ্ট মাত্রা পর্যন্ত মানুষের জন্য ক্ষতিকর নয়।

- বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, পানিতে আর্সেনিকের সহনীয় মাত্রা প্রতি লিটারে ০.০১ মিলিগ্রাম।
- তবে বিভিন্ন দেশ নিজ নিজ দেশের মাত্রা নির্ধারণ করে থাকে। বাংলাদেশে প্রতি লিটার পানিতে আর্সেনিকের সহনীয় মাত্রা ০.০৫ মিলিগ্রাম।
- চাঁদপুর জেলা দেশের মধ্যে সবচেয়ে আর্সেনিক দূষণপ্রবণ জেলা।

তথ্যসূত্র: ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়।
.
একটি পরিণত শুক্রাণুর কতটি অংশ থাকে?
  1. ক) ২টি
  2. খ) ৩টি
  3. গ) ৪টি
  4. ঘ) ৫টি
সঠিক উত্তর:
খ) ৩টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ৩টি
ব্যাখ্যা
জননকোষ:

- শুক্রাণু ও ডিম্বাণু হচ্ছে জননকোষ।
- পুং জনন কোষকে শুক্রাণু ও স্ত্রী জনন কোষকে ডিম্বাণু বলা হয়।
- একটি পরিণত শুক্রাণুর তিনটি অংশ থাকে। যথা:
• মস্তক,
• মধ্যখণ্ড,
• লেজ ।

- স্ত্রী প্রজননতন্ত্র পাঁচটি অংশ নিয়ে গঠিত। যথা:
• ডিম্বাশয়,
• ফেলোপিয়ান নালী,
• জরায়ু,
• যোনি,
• বহিঃযৌনাঙ্গ।

তথ্যসূত্র - প্রাণি বিজ্ঞান, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
কর্নিয়ার পিছনে অস্বচ্ছ আবরণকে কী বলা হয়?
  1. ক) রেটিনা
  2. খ) আইরিশ
  3. গ) রড
  4. ঘ) কোন
সঠিক উত্তর:
খ) আইরিশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) আইরিশ
ব্যাখ্যা
চোখ:

- কর্নিয়ার পেছনে অস্বচ্ছ আবরণীকে আইরিশ বলা হয়।
- একটি শক্ত গোলকের মধ্যে বিভিন্ন জৈব পদার্থের সমন্বয়ে চক্ষু গঠিত, গোলকটির নাম অক্ষি গোলক।
- গোলকটির বাইরের অংশ একটি শক্ত সাদারঙের অস্বচ্ছ তন্তু দিয়ে আবৃত, এই আবরণীর নাম শ্বেতমন্ডল।
- শ্বেতমন্ডলের সামনে খানিকটা অংশ উত্তল ও স্বচ্ছ, এই অংশের নাম কর্নিয়া।
- শ্বেতমন্ডলের ভেতরের গায়ে কালো রঙের আস্তরণ থাকে এক বলে কৃষ্ণমন্ডল।
- আইরিশ চোখের উপর পতিত আলো নিয়ন্ত্রণ করে। বিভিন্ন মানুষের আইরিশের রঙ বিভিন্ন হয়।
- অক্ষিগোলকের ভেতরের পৃষ্ঠে গোলাপী রঙের ঈষদচ্ছ আলোক সংবেদন আবরণকে রেটিনা বলে।
- এটি রড এবং কোন নামে কতগুলো স্নায়ুতন্ত্র দ্বারা গঠিত এবং এগুলো চক্ষু স্নায়ুর সাথে সংযুক্ত থাকে ।

তথ্যসূত্র - পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
শহর অঞ্চলে জলাবদ্ধতার জন্য দায়ী কোনটি?
  1. ক) প্লাস্টিক
  2. খ) কাঁচ
  3. গ) অ্যালুমিনিয়াম
  4. ঘ) কাগজ
সঠিক উত্তর:
ক) প্লাস্টিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) প্লাস্টিক
ব্যাখ্যা
পানি দূষণ:

- প্লাস্টিকের বর্জ্য শহরে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি ও নদীর নাব্যতা কমানোর জন্য বহুলাংশে দায়ী।
- দামে সস্তা ও সহজলভ্য হওয়ায় বর্তমানে প্লাস্টিক পণ্যের ব্যবহার ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
- বাস্তবতা হল প্লাস্টিক সামগ্রী পরিবেশের জন্য হুমকিস্বরূপ।
- পরিত্যক্ত প্লাস্টিক বর্জ্য অনুজীব দ্বারা আক্রান্ত হয় না বলে অপরিবর্তিত অবস্থায় বছরের পর বছর ধরে মাটিতে থেকে যায়।
- ফলে বর্জ্য প্লাস্টিক মাটির উর্বরতা নষ্ট করে, নদীর নিচে তলানী হিসেবে জমা হয়ে নদীর নাব্যতা কমিয়ে দেয়, জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয় ও পানি দূষণ ঘটায়।
- তাই বলা যায়, ব্যবহার অনুপোযোগী প্লাস্টিক পরিবেশের জন্য খুবই ক্ষতিকর।

তথ্যসূত্র - রসায়ন-২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
রোগ প্রতিরোধে ইমিউনিটির প্রধান উদ্দেশ্য কয়টি?
  1. ক) ১
  2. খ) ২
  3. গ) ৩
  4. ঘ) ৪
সঠিক উত্তর:
গ) ৩
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ৩
ব্যাখ্যা
মানবদেহের প্রতিরক্ষা:

- মানবদেহের বিভিন্ন অঙ্গ, কলা ও কোষ নিয়মতান্ত্রিকভাবে একত্রে দেহের প্রতিরক্ষা (defence) ব্যবস্থাপনায় কোন ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া, ছত্রাক, পরজীবী ও অন্যান্য জীবাণুর আক্রমণ থেকে মানুষকে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করে তাকে বলা হয় ইমিউনিটি (immunity)।
- দেহের বিভিন্ন অঙ্গ, কলা ও কোষ সমন্বয়ে গঠিত যে তন্ত্র দেহকে রোগাক্রমণের হাত থেকে এবং রোগ সৃষ্টিকারী জীবাণুর ক্ষতিকারক প্রভাব থেকে রক্ষা করে তাকে ইমিউন তন্ত্র (immune system) বলা হয়।

রোগ প্রতিরোধে ইমিউনিটির প্রধান উদ্দেশ্য তিন প্রকারের।
যথা-
• অণুজীবদের (micro- organisms) বিরুদ্ধে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা।
• দেহের ক্ষতিগ্রস্ত কোষগুলোকে শনাক্ত করা ও প্রতিস্থাপিত করা।
• পরিত্যক্ত বা নষ্ট কোষগুলোকে শনাক্ত করা এবং তাদের ধ্বংস করা।

- মানবদেহে প্রধাণত লিস্ফয়েড অঙ্গ ও শ্বেত রক্ত কণিকাগুলো দেহের প্রতিরক্ষার কাজে অংশ গ্রহণ করে থাকে।
- ইমিউন তন্ত্রের লিস্ফয়েড অঙ্গগুলো প্রাথমিক বা মুখ্য ও গৌন অঙ্গ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়।

তথ্যসূত্র - প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
শ্বেত রক্তকণিকাকে প্রধানত কতভাগে ভাগ করা যায়?
  1. ক) ২
  2. খ) ৩
  3. গ) ৪
  4. ঘ) ৫
সঠিক উত্তর:
ক) ২
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ২
ব্যাখ্যা
শ্বেত রক্তকণিকা:

- গঠনগতভাবে এবং সাইটোপ্লাজমে দানার উপস্থিতি বা অনুপস্থিতি অনুসারে শ্বেত কণিকাকে প্রধানত দু'ভাগে ভাগ করা যায়। - যথা-
• অ্যাগ্রানুলোসাইট বা দানাবিহীন।
• গ্রানুলোসাইট বা দানাযুক্ত।

- শ্বেত কণিকার নির্দিষ্ট কোনো আকার নেই।
- এগুলো হিমোগ্লোবিনবিহীন এবং নিউক্লিয়াসযুক্ত বড় আকারের কোষ।
- শ্বেত কণিকার গড় আয়ু ১-১৫ দিন।
- হিমোগ্লোবিন না থাকার কারণে এদের শ্বেত রক্তকণিকা বলে। ইংরেজিতে White Blood Cell বা WBC বলে।
- এই রক্তকণিকা ফ্যাগোসাইটোসিস প্রক্রিয়ায় জীবাণুকে ধ্বংস করে।
- মানবদেহে প্রতি ঘন মিলিমিটার রক্তে ৪-১০ হাজার শ্বেত রক্তকণিকা থাকে। শিশু ও অসুস্থ মানবদেহে এর সংখ্যা বেড়ে যায়।

তথ্যসূত্র - প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১০.
পরিবেশ দূষণের কোন অংশটির কারণে বিশ্বে প্রতিবছর সর্বাধিক সংখ্যক মানুষ মারা যায়?
  1. ক) শব্দ দূষণ
  2. খ) পানি দূষণ
  3. গ) মাটি দূষণ
  4. ঘ) বায়ুদূষণ
সঠিক উত্তর:
ঘ) বায়ুদূষণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) বায়ুদূষণ
ব্যাখ্যা
বায়ুদূষণ:

- বিশ্বে প্রতিবছর সর্বাধিক সংখ্যক মানুষ মারা যায় বায়ুদূষণের কারণে।
- ক্রমবর্ধমান বায়ু দূষণ ও সিসার বিষক্রিয়ায় ২০১৫ সাল থেকে প্রতি বছর প্রায় ৯০ লাখ মানুষ মারা গেছেন। তাদের প্রায় তিন-চতুর্থাংশ মারা গেছেন বায়ুদূষণে।
- দূষণের কারণে মৃত্যুর হার গত ২ দশকে ৬৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
- অপরিকল্পিত নগরায়ন, জনসংখ্যা বৃদ্ধি এবং জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা এর পেছনে কারণ হিসেবে কাজ করছে।

তথ্যসূত্র - ডেইলী স্টার, মে ১৮, ২০২২।
১১.
পিত্তরস তৈরি করে-
  1. ক) যকৃৎ
  2. খ) পিটুইটারি গ্রন্থি
  3. গ) অ্যাড্রিনাল গ্রন্থি
  4. ঘ) গ্যাস্ট্রিক গ্রন্থি
সঠিক উত্তর:
ক) যকৃৎ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) যকৃৎ
ব্যাখ্যা
যকৃৎ:
- মধ্যচ্ছদার নিচে উদরগহ্বরের উপরে পাকস্থলীর ডান পাশে যকৃৎ অবস্থিত।
- এটি মানবদেহের সবচেয়ে বড় গ্রন্থি।
- প্রকৃতপক্ষে চারটি অসম্পূর্ণ খণ্ড নিয়ে যকৃৎ গঠিত।
- যকৃতে বিভিন্ন রকম জৈব রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটে, তাই একে রসায়ন গবেষণাগার বলা হয়।

যকৃতের কাজ:
- যকৃৎ পিত্তরস তৈরি করে।
- যকৃৎ উদ্বৃত্ত গ্লুকোজ নিজদেহে গ্লাইকোজেনরূপে সঞ্চয় করে রাখে।
- রক্তে কখনো গ্লুকোজের মাত্রা কমে গেলে যকৃতের সঞ্চিত গ্লাইকোজেনের কিছুটা অংশ গ্লুকোজে পরিণত হয় এবং রক্তস্রোতে মিশে যায়। এভাবে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রিত থাকে।

তথ্যসূত্র - প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১২.
হৃদপিন্ডের ক্ষেত্রে কোনটি সত্য নয়?
  1. ক) হৃদপিন্ডের প্রসারনকে বলা হয় ডায়াস্টোল।
  2. খ) হৃদপিণ্ড যখন প্রসারিত হয় তখন রক্ত চাপের ফলে ধমনীতে প্রবেশ করে।
  3. গ) হৃদপিণ্ড অনবরত সংকোচন-প্রসারনের মাধ্যমে রক্ত প্রবাহকে ক্রমাগত সঞ্চালন করে।
  4. ঘ) হৃদপিণ্ড প্রসারিত হলে রক্ত ধমনী থেকে হৃদপিণ্ডে ফিরে আসে।
সঠিক উত্তর:
খ) হৃদপিণ্ড যখন প্রসারিত হয় তখন রক্ত চাপের ফলে ধমনীতে প্রবেশ করে।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) হৃদপিণ্ড যখন প্রসারিত হয় তখন রক্ত চাপের ফলে ধমনীতে প্রবেশ করে।
ব্যাখ্যা
হৃৎপিন্ড:

- সিস্টোলিক চাপ বলতে বোঝায় হৃৎপিন্ডের সংকোচন চাপ।
- হৃদপিন্ডের প্রসারনকে বলা হয় ডায়াস্টোল এবং সংকোচন কে বলা হয় সিস্টোল।
- হৃদপিণ্ড অনবরত সংকোচন-প্রসারনের মাধ্যমে রক্ত প্রবাহকে ক্রমাগত সঞ্চালন করে।
- হৃদপিণ্ড যখন সংকুচিত হয় তখন রক্ত চাপের ফলে ধমনীতে প্রবেশ করে।
- আবার প্রসারিত হলে রক্ত ধমনী থেকে হৃদপিন্ডে ফিরে আসে।

তথ্যসূত্র - বিজ্ঞান, এসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৩.
পরিবেশ দূষককে প্রধানত কতটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে?
  1. ক) ১টি
  2. খ) ২টি
  3. গ) ৩টি
  4. ঘ) ৪টি
সঠিক উত্তর:
ঘ) ৪টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ৪টি
ব্যাখ্যা
পরিবেশ দূষক:

- Environmental Pollutant নানাবিধ কারণে পরিবেশ দূষিত হতে পারে।
- যে সকল উপাদানের কারণে পরিবেশের বিভিন্ন উপাদানের ভারসাম্য নষ্ট হয় পরিবেশের সেই সকল উপাদানকে পরিবেশ দূষক (Environmental Pollutant) বলে।
- Smith (১৯৭৭) এর মতে, “মানুষের কার্যকলাপে সৃষ্ট বস্তু বা পদার্থ যে মাত্রায় জীবমণ্ডলে প্রবেশ করলে বাস্ত প্রতিবেশের স্বাভাবিক পরিবেশ বিঘ্নিত হয় এবং কার্যকারিতা বিনষ্ট হয় এবং জীব-প্রজাতি ও মানুষের বিকাশ ক্ষতিগ্রস্ত হয় তাকে দূষক বলে।”
- দূষকের প্রকারভেদ Classification of Pollutant বিভিন্ন ধরনের দূষক রয়েছে।

দূষককে প্রধানত ৪ টি ভাগে ভাগ করা হয়েছে।
যথা-
১. কঠিন বর্জ্য পদার্থ।
২. তরল বর্জ্য পদার্থ।
৩. বায়বীয় বা গ্যাসীয় পদার্থ।
৪. ওজনহীন প্রভাবক।

তথ্যসূত্র - পরিবেশ দূষক ও দূষণ, বিবিএ প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৪.
রক্তের লিউকোমিয়া রোগের চিকিৎসায় নিচের কোনটি ব্যবহার করা হয়?
  1. ক) 32p
  2. খ) 60Co
  3. গ) 30p
  4. ঘ) 39q
সঠিক উত্তর:
ক) 32p
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) 32p
ব্যাখ্যা
ক্যান্সার:

- সর্বপ্রথম থাইরয়েড ক্যান্সার নিরাময়ে তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ ব্যবহার করা হয়।
- রোগীকে পরিমাণমতো তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ 131 I সমৃদ্ধ দ্রবণ পান করানো হয়।
- এই আইসোটোপ থাইরয়েডে পৌঁছায়।
- এ আইসোটোপ থেকে বিটা রশ্মি নির্গত হয় এবং থাইরয়েডের ক্যান্সার কোষকে ধ্বংস করে।
- ইরিডিয়াম আইসোটোপ ব্রেইন ক্যান্সার নিরাময়ে ব্যবহার করা হয়।
- টিউমারের উপস্থিতি নির্ণয় ও নিরাময়ে তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ 60Co ব্যবহার করা হয়। 
- 60Co থেকে নির্গত গামা রশ্মি ক্যান্সারের কোষকলাকে ধ্বংস করে।
- রক্তের লিউকোমিয়া রোগের চিকিৎসায় 32p এর ফসফেট ব্যবহার করা হয়।

তথ্যসূত্র - রসায়ন বিজ্ঞান, নবম শ্রেণি।
১৫.
নিচের কোনটি লসিকার কাজ নয়?
  1. ক) প্রোটিন পরিবহন
  2. খ) দেহ রসের সংবহন
  3. গ) প্রজনন
  4. ঘ) শোষণ
সঠিক উত্তর:
গ) প্রজনন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) প্রজনন
ব্যাখ্যা
লসিকা গ্রন্থি:
- লসিকা নালিতে বেশ কাছাকাছি অবস্থিত গোলাকার বা ডিম্বাকার ফোলা অংশগুলোকে “লসিকা গ্রন্থি” বলে।
- যান্ত্রিক ছাঁকুনি হিসেবে কাজ করে বিভিন্ন জীবাণু ও ক্ষতিকর কোষের হাত থেকে এগুলো দেহকে রক্ষা করে।
- ঘাড়ে, বগলে ও কুঁচকিতে লসিকা গ্রন্থি থাকে।


লসিকার কাজ,

- প্রোটিন পরিবহন: কলার ফাঁকা স্থান থেকে প্রোটিন লসিকার মাধ্যমে রক্তে ফিরে আসে। 
- স্নেহ পরিবহন: যে সব স্নেহ কলা কৈশিক নালির বাধা অতিক্রমে অক্ষম সেগুলো লসিকার মাধ্যমে পরিবাহিত হয়। 
- পুষ্টি সরবরাহ: দেহের যে সব কলা কোষে রক্ত পৌঁছাতে পারে না সেখানে লসিকা অক্সিজেন ও পুষ্টি সরবরাহ করে। 
- শোষণ: স্নেহ পদার্থ অন্ত্র থেকে শোষিত হয়ে লসিকার মাধ্যমে প্রবাহিত হয় । 
- প্রতিরক্ষা: লসিকায় অবস্থিত প্রচুর শ্বেত কণিকা দেহের প্রতিরক্ষার কাজে নিয়োজিত থাকে। 
- প্রতিরোধ: B-লিম্ফোসাইট থেকে উৎপন্ন অ্যান্টিবডি দেহের প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। 
- দেহ রসের সংবহন: রক্ত সংবহনের এক অংশ থেকে অন্য অংশে তরল পদার্থের পরিবহনে অংশ নেয়।

- প্রজনন লসিকার কাজ নয়।

তথ্যসূত্র - প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৬.
শ্বসনতন্ত্রের প্রধান অঙ্গ-
  1. ক) নাসিকা
  2. খ) ফুসফুস
  3. গ) ব্রংকাস
  4. ঘ) স্বরযন্ত্র
সঠিক উত্তর:
খ) ফুসফুস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ফুসফুস
ব্যাখ্যা
শ্বসনতন্ত্র:
- ফুসফুস হচ্ছে শ্বসনতন্ত্রের প্রধান অঙ্গ।
- যে সকল অঙ্গ শ্বসনকার্য চালানোর কাজে অংশ নেয় তাদের একসাথে শ্বসনতন্ত্র বলে।
- নাসিকা, গলবিল, স্বরযন্ত্র, শ্বাসনালি, ব্রংকাস, ফুসফুস ও মধ্যচ্ছদা এগুলো নিয়ে শ্বসনতন্ত্র গঠিত।
- ফুসফুস শ্বসনতন্ত্রের প্রধান অঙ্গ।
- এটি দুই খণ্ডে বিভক্ত এবং প্লুরা নাম পর্দা দ্বারা আবৃত। বাতাসের সঙ্গে অক্সিজেন ফুসফুসে প্রবেশ করে। পরে তা রক্তের মাধ্যমে পরিবহন হয়ে দেহের সব অঙ্গে পৌঁছায়।

• শ্বসনতন্ত্রের কাজসমূহ,
- শ্বসন গ্যাসের বিনিময়: শ্বাসক্রিয়ার সময় পরিবেশের O2 রক্তে মিশে এবং রক্ত থেকে CO2 পরিবেশে বের হয়।
- শক্তি উৎপাদন: শ্বসনতন্ত্রের মাধ্যমে গ্রহণ করা CO2 কোষীয় শ্বসনে ব্যবহৃত হয়ে শক্তি উৎপন্ন করে।
- পানি সাম্যতা: নিঃশ্বাসের মাধ্যমে প্রতিদিন প্রায় ৪০০-৬০০ মিলিলিটার পানি দেহ থেকে বের হয়ে যায়। এতে দেহের পানির সাম্যতা বজায় রাখতে সহায়তা হয়।
- তাপ নিয়ন্ত্রণ: নিঃশ্বাসের সময় CO2 এর সাথে দেহের কিছু তাপ নির্গত হয়ে দেহের তাপমাত্রা বজায় থাকে।
- এসিড ও ক্ষারের সাম্যতা: নিঃশ্বাস বায়ুর মাধ্যমে দেহের বাইরে বের হওয়ায় pH নিয়ন্ত্রণে সহায়তা হয়।

তথ্যসূত্র - জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১৭.
মানুষের মস্তিষ্কে স্নায়বিক চাপ সৃষ্টি করে কোনটি?
  1. ক) বায়ু দূষণ
  2. খ) পানি দূষণ
  3. গ) শব্দ দূষণ
  4. ঘ) সবগুলো
সঠিক উত্তর:
গ) শব্দ দূষণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) শব্দ দূষণ
ব্যাখ্যা
শব্দ দূষণ:

- অতি উচ্চ শব্দ আমাদের মনোযোগে বিঘ্ন ঘটায়, মেজাজ খারাপ করে ফেলে এধরণের অতি শব্দ দ্বারা পরিবেশ নষ্ট হয়। এ অবস্থাকে বলা হয় শব্দ দূষণ।
- উচ্চ শব্দ মানুষের মস্তিষ্কে স্নায়বিক চাপ সৃষ্টি করে।
- অর্থাৎ স্নায়ুর স্বাভাবিক সংযোগ ব্যহত করে, কাজে মনোযোগ কমিয়ে দেয়, মেজাজ খিটখিটে করে, কর্মদক্ষতা কমিয়ে দেয়, পরিপাক ক্রিয়া ব্যহত করে।
- পাকস্থলী ও পরিপাক তন্ত্রের পীড়া বা ব্যাধি সৃষ্টি করে।
- আলসার ও আন্ত্রিক পীড়ায় আক্রান্ত হওয়ার আশংকা বাড়িয়ে দেয়।
- সারাক্ষণ কানে মাইক্রোফোন লাগিয়ে উচ্চ স্বরে গান শুনলে পেটের পীড়া ও কানের অসুখ দেখা দেয়, বিশেষ করে শ্রবণ শক্তি ধীরে ধীরে কমে যায়। ফলে অল্প বয়সেই বধিরতা আসতে পারে।

তথ্যসূত্র - পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।