পরীক্ষা আর্কাইভ

৯ম - ১৩তম গ্রেড পরীক্ষার প্রস্তুতি

পরীক্ষা৯ম - ১৩তম গ্রেড পরীক্ষার প্রস্তুতিতারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়09 minutes
মোট প্রশ্ন২১
সিলেবাস
"[৯ম - ১৩তম গ্রেড নিয়োগ প্রস্তুতি: পরীক্ষা] বাংলা পরীক্ষা (ব্যাকরণ) পরীক্ষার টপিক: ১. কারক ও বিভক্তি, ২. বচন, লিঙ্গ, সংখ্যাবাচক শব্দ, যতিচিহ্ন, ৩. পদ প্রকরণ। উৎস: অষ্টম শ্রেণি ও মাধ্যমিক বাংলা ব্যাকরণ বোর্ড বই (NCTB ও উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়), বাংলা একাডেমির অভিধান অথবা যেকোনো স্কলার (যেমন: ড. হায়াৎ মামুদ)-এর বই। (ব্যাকরণ - এর ক্ষেত্রে গাইড থেকে পড়াশুনা করলে, বিতর্কিত বিষয়গুলো বোর্ড বই ও বাংলা একাডেমি অভিধান থেকে ক্রসচেক করে নিলে উত্তম হবে।) [নির্দেশিকা: এই রুটিনে সারাবছর জুড়ে পরীক্ষা চলমান থাকে। আপনি আজ ১ম পরীক্ষা দেওয়া শুরু করলে ২০০ দিনের মধ্যে পুরো সিলেবাস সম্পন্ন হবে।]
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

৯ম - ১৩তম গ্রেড পরীক্ষার প্রস্তুতি

৯ম - ১৩তম গ্রেড পরীক্ষার প্রস্তুতি · তারিখ অনির্ধারিত · ২১ প্রশ্ন

.
"কাঁচি দিয়ে কাগজ কাটা হলো।" - এখানে 'কাঁচি দিয়ে' কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. কর্ম কারকে তৃতীয়া বিভক্তি
  2. করণ কারকে তৃতীয়া বিভক্তি
  3. অপাদান কারকে পঞ্চমী বিভক্তি
  4. অধিকরণ কারকে চতুর্থী বিভক্তি
ব্যাখ্যা
• করণ কারক:
যার দ্বারা বা যার সাহায্যে ক্রিয়া সম্পাদিত হয় তাকে করণ কারক বলে। ‘করণ' শব্দের অর্থ উপায় বা সহায়। বাক্যের ক্রিয়াপদকে 'কার দ্বারা বা কী উপায়ে জিজ্ঞাসা করলে যে উত্তর পাওয়া যায় তা-ই করণ কারক। করণ কারকে সাধারণত দ্বারা, দিয়া, কর্তৃক ইত্যাদি তৃতীয়া - বিভক্তির (অনুসর্গের) ব্যবহার হয়।
যেমন:
- "কাঁচি দিয়ে কাগজ কাটা হলো।" - বাক্যেকে ‘কী উপায়ে কাটা হলো?’ দ্বারা প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় ‘কাঁচি দিয়ে’। সুতরাং ‘কাঁচি দিয়ে’ করণ কারকের উদাহরণ।
আবার, এর সাথে - তৃতীয়া বিভক্তি যুক্ত হয়েছে। 

সুতরাং,
‘কাঁচি দিয়ে’ করণ কারকে তৃতীয়া বিভক্তির উদাহরণ।


উৎস: উচ্চমাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
.
'পুষ্প' শব্দটির পর কোন বহুবচনবোধক শব্দটি বসবে?
  1. চয়
  2. রাশি
  3. রাজি
  4. সবগুলোই
ব্যাখ্যা
‘পুষ্প’ শব্দের বহুবচনের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত বহুবচন লগ্নকগুলো হলো:
• চয়: পুষ্পচয়, বুধচয়।
• রাশি: পুষ্পরাশি, পত্ররাশি।
• রাজি: পুষ্পরাজি, বৃক্ষরাজি, গ্রন্থরাজি।
• নিচয়: পুষ্পনিচয়, বুধনিচয়।
• গুচ্ছ: পুষ্পগুচ্ছ, কেশগুচ্ছ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
.
নিত্য পুরুষবাচক শব্দ কোনটি?
  1. সুন্দর
  2. তেজস্বী
  3. কবিরাজ
  4. কনিষ্ঠ
ব্যাখ্যা
• নিত্য পুরুষবাচক শব্দ:
যে শব্দের স্ত্রীবাচক হয় না তাকে নিত্য পুরুষবাচক শব্দ বলে।
যেমন,
রাষ্ট্রপতি, বিপত্নীক, কৃতদার, অকৃতদার, কবিরাজ, কুস্তিগির, পুরোহিত, স্ত্রৈণ, কোটিপতি, মন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রী, ঢাকি, ঢুলি, চৌকিদার, দফাদার ইত্যাদি।
----------------------
‘আ’ প্রত্যয়যোগে লিঙ্গান্তরিত শব্দ:
• প্রিয় - প্রিয়া;
• কনিষ্ঠ - কনিষ্ঠা।

‘ইনী’ প্রত্যয়যোগে লিঙ্গান্তরিত শব্দ:
• বিজয়ী - বিজয়িনী;
• যোগী - যোগিনী;
• তেজস্বী - তেজস্বিনী।

শব্দের শেষে '-ঈ' প্রত্যয়যোগ গঠিত স্ত্রীবাচক শব্দ:
যেমন:
→ সিংহ-সিংহী,
→ সুন্দর-সুন্দরী,
→ হরিণ-হরিণী।

উৎস: প্রমিত বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিত, ড. হায়াৎ মামুদ; বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
.
সংখ্যা গণনার মূল একক কোনটি?
  1. শূন্য
  2. এক
  3. দশ
  4. শত
ব্যাখ্যা
• অঙ্কবাচক শব্দ:
যে শব্দ দ্বারা অঙ্কবাচক শব্দ নির্দেশ করা হয় তাকে বলা হয় অঙ্কবাচক শব্দ।

- সংখ্যার একক হলো 'এক'।
- সুতরাং কোনো শব্দকে ভাঙতে হলে এক সংখ্যাকে একক হিসেবে গণ্য করা হয়।
যেমন- তিন টাকা বলতে এক টাকার তিনটি একক বা এককের সমষ্টি বোঝায়।
- অতএব 'তিন' সংখ্যাকে আমরা ভাঙতে পারি এভাবে এক+এক+এক। এভাবে এবা থেকে একশ পর্যন্ত গণনা করা যায়।

উৎস: উচ্চমাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
কারক সম্পর্ক বোঝাতে বিশেষ্য ও সর্বনামের সঙ্গে কী যুক্ত হয়?
  1. পদ ও অনুসর্গ
  2. নির্দেশক ও বিভক্তি
  3. বিভক্তি ও অনুসর্গ
  4. উপসর্গ ও প্রত্যয়
ব্যাখ্যা
• কারক:
মূলত ক্রিয়ার সঙ্গে বাক্যের বিশেষ্য ও সর্বনামের যে সম্পর্ক, তাকে কারক বলে।
- কারক সম্পর্ক বোঝাতে বিশেষ্য ও সর্বনামের সঙ্গে সাধারণত বিভক্তি ও অনুসর্গ যুক্ত হয়ে থাকে।

• কারক ছয় প্রকার:
- কর্তা কারক,
- কর্ম কারক,
- করণ কারক,
- অপাদান কারক,
- অধিকরণ কারক ও
- সম্বন্ধ কারক।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
.
নিচের কোনটি একবচন?
  1. তারা
  2. বইটা 
  3. মেয়েরা 
  4. পাখিগুলো
ব্যাখ্যা
বচন:
- ‘বচন' ব্যাকরণের একটি পারিভাষিক শব্দ। এর অর্থ সংখ্যার ধারণা।
- ব্যাকরণে বিশেষ্য বা সর্বনামের সংখ্যাগত ধারণা প্রকাশের উপায়কে বলে বচন।
- বাংলা ভাষায় বচন দুই প্রকার : একবচন ও বহুবচন ।
 
• একবচন :
যে শব্দ দ্বারা কোনো প্রাণী, বস্তু বা ব্যক্তির একটিমাত্র সংখ্যার ধারণা হয়, তাকে একবচন বলে।
- যেমন- বইটা কোথায় হারিয়ে গেল? 

• বহুবচন :
যে শব্দ দ্বারা কোনো প্রাণী, বস্তু বা ব্যক্তির একের অধিক অর্থাৎ বহু সংখ্যার ধারণা হয়, তাকে বহু বচন বলে।
যেমন : তারা গেল। মেয়েরা এখনও আসেনি। সবাই কাজে মন দাও। পাখিগুলো আকাশে উড়ছে।
 
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)
.
সম্বন্ধ কারকে শব্দের সঙ্গে কোন বিভক্তি যুক্ত হয়?
  1. -র
  2. -এর
  3. -য়ের
  4. সবগুলোই
ব্যাখ্যা
• সম্বন্ধ কারক:  
যে কারকে বিশেষ্য ও সর্বনামের সঙ্গে বিশেষ্য ও সর্বনামের সম্পর্ক নির্দেশিত হয়, তাকে সম্বন্ধ কারক বলে। এই কারকে ক্রিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক পরোক্ষ।

এই কারকে শব্দের সঙ্গে ‘-র’, '-এর’, ‘-য়ের’, ‘কার’, ‘কে’ ইত্যাদি বিভক্তি যুক্ত হয়। 
যেমন:    
• ফুলের গন্ধে ঘুম আসে না । 
• আমার জামার বোতামগুলো একটু অন্য রকম। 
• তখনকার দিনে পায়ে হেঁটে চলতে হতো মাইলের পর মাইল।   

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
.
"আজ আমি আলবত যাবো।" -বাক্যে 'আলবত' কোন শ্রেণীর অব্যয়?
  1. অনন্বয়ী
  2. সমন্বয়ী
  3. অনুকার
  4. পদান্বয়ী
ব্যাখ্যা
• "আজ আমি আলবত যাবো।" - এ বাক্যে 'আলবত' অনন্বয়ী অব্যয়।

• অনন্বয়ী অব্যয়:
যে সকল অব্যয় বাক্যের অন্য পদের সঙ্গে কোন সম্বন্ধ না রেখে স্বাধীন ভাবে নানাবিধ ভাব প্রকাশে ব্যবহৃত হয়, তাকে অনন্বয়ী অব্যয় বলে।
যেমন:
- উচ্ছ্বাস প্রকাশে: মরি মরি! কী সুন্দর প্রভাতের রূপ!
- সম্মতি অর্থে: আজ আমি আলবত যাবো।
- সম্বোধন অর্থে: 'ওগো, আজ তোরা যাসনে ঘরের বাহিরে'। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি ( ২০১৯ সংস্করণ)।
.
'কুলি' শব্দের স্ত্রীবাচক শব্দ -
  1. কুলিনী
  2. কুলিন
  3. কামিন
  4. কুলীনি
ব্যাখ্যা
• কুলি শব্দের স্ত্রীবাচক শব্দ — 'কামিন'। যার অর্থ: নারী শ্রমিক।

• কিছু শব্দে ভিন্ন শব্দ ব্যবহার করে লিঙ্গ পরিবর্তন করা হয়।
যেমন:
কুলি - কামিন,
খানসামা - আয়া,
চাকর - ঝি,
দেবর - ননদ/জা,
শূক - শারি,
গোলাম - বাঁদী,
সাধু - সাধবী ইত্যাদি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১০.
'ক্রিয়াপদ' সম্পর্কে কোনটি সত্য?
  1. বাক্যগঠনের অপরিহার্য অঙ্গ।
  2. কখনো কখনো বাক্যে ক্রিয়াপদ উহ্য বা অনুক্ত থাকতে পারে।
  3. ক্রিয়াপদ ভিন্ন কোনো মনোভাবই সম্পূর্ণরূপে প্রকাশ করা যায় না।
  4. সবগুলোই
ব্যাখ্যা
• অনুক্ত ক্রিয়াপদ:
- ক্রিয়াপদ বাক্যগঠনের অপরিহার্য অঙ্গ।
- ক্রিয়াপদ ভিন্ন কোনো মনোভাবই সম্পূর্ণরূপে প্রকাশ করা যায় না।
- তবে কখনো কখনো বাক্যে ক্রিয়াপদ উহ্য বা অনুক্ত থাকতে পারে।
যেমন -
→ ইনি আমার ভাই = ইনি আমার ভাই (হন)।
→ আজ প্রচণ্ড গরম = আজ প্রচণ্ড গরম (অনুভূত হচ্ছে)।
→ তোমার মা কেমন? = তোমার মা কেমন (আছেন)?
- বাক্যে সাধারণত 'হ্' এবং 'আছ' ধাতু গঠিত ক্রিয়াপদ উহ্য থাকে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১১.
'আবলি’ লগ্নক যোগে বহুবচনের সঠিক উদাহরণ কোনটি?
  1. শৈবালাবলি
  2. দর্শকাবলি
  3. পুস্তকাবলি
  4. শিক্ষকাবলি
ব্যাখ্যা
• 'আবলি', 'গুচ্ছ', 'মালা'- অপ্রাণিবাচক শব্দের বহুবচনে ব্যবহৃত হয়। বস্তুবাচক বা অপ্রাণীবাচক শব্দের সঙ্গে ব্যবহৃত বহুবচন বোধক শব্দ-
আবলি- পুস্তকাবলি।
গুচ্ছ- কবিতাগুচ্ছ। 
দাম- কুসুমদাম, পুষ্পদাম।
নিকর- কমলনিকর।
পুঞ্জ- মেঘপুঞ্জ। 
মালা- পর্বতমালা।
রাজি- তারকারাজি।
রাশি- বালিরাশি।
নিচয়- কুসুমনিচয়।

অন্য অপশনের শুদ্ধ বহুবচনবোধক শব্দ:
● শৈবালাবলি - শৈবালদাম,
● দর্শকাবলি - দর্শকবৃন্দ,
● শিক্ষকাবলি - শিক্ষকমণ্ডলী।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- নবম ও দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১২.
"ফুল থেকে মধু সংগ্রহ করা হয়।" - এ বাক্যে 'ফুল থেকে' কোন কারকের উদাহরণ?
  1. কর্তৃকারক
  2. করণকারক
  3. অপাদান কারক
  4. অধিকরণ কারক
ব্যাখ্যা
• অপাদান কারক:
যা থেকে কোনো কিছু উৎপত্তি, বিচ্যুত, জাত, গৃহীত, আরম্ভ, দূরীভূত ও রক্ষিত হয়, তাকে বলা হয় অপাদান কারক। বাক্যের ক্রিয়াপদকে কোথা হতে, কি থেকে, কিসের থেকে ইত্যাদি প্রশ্ন করলে উত্তরে যে কারক পাওয়া যায়, তা-ই হলো অপাদান কারক।
যেমন:
- "ফুল থেকে মধু সংগ্রহ করা হয়।" - এ বাক্যে 'ফুল থেকে' মধুর উৎপত্তি বোঝানো হয়েছে। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৩.
কোনটি উভলিঙ্গ প্রকাশক শব্দ?
  1. শ্রীমতি
  2. ধাতা
  3. ঋষি
  4. কর্তা
ব্যাখ্যা
• উভয়লিঙ্গ শব্দ:
- সন্তান, মন্ত্রী, ঋষি, সৈন্য, পুলিশ, শিশু, হাতি, মানুষ, গরু, আমি, তুমি, তুই, আপনি, সে, তিনি, ইনি, উনি, জল, পাখি ইত্যাদি।

• যেসব পুরুষবাচক শব্দের শেষে তা রয়েছে, স্ত্রীবাচক বোঝাতে সেসব শব্দে ত্রী হয়।
যেমন,
নেতা নেত্রী, কর্তা- কত্রী, শ্রোতা- শ্রোত্রী, ধাতা- ধাত্রী ইত্যাদি।

• পুরুষবাচক শব্দের শেষে অত, বান, মান, ঈয়ান থাকলে স্ত্রীবাচক শব্দ করার জন্য যথাক্রমে অতী, বতী, মতি, ঈয়সী হয়।
যেমন:
শ্রীমান- শ্রীমতি, গুণবান- গুণবতী, রূপবান- রূপবতী, বুদ্ধিমান- বুদ্ধিমতি ইত্যাদি।

• কোনো কোনো পুরুষবাচক শব্দ থেকে বিশেষ নিয়মে স্ত্রীবাচক শব্দ গঠিত হয়।
যেমন:
বন্ধু-বান্ধবী, নর-নারী, পতি-পত্নী, সম্রাট-সম্রাজ্ঞী, শিক্ষক-শিক্ষয়িত্রী, স্বামী-স্ত্রী ইত্যাদি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৪.
'জনতা, সমিতি' কোন ধরনের বিশেষ্য?
  1. জাতিবাচক বিশেষ্য
  2. সমষ্টিবাচক বিশেষ্য
  3.  ভাববাচক বিশেষ্য
  4. গুণবাচক বিশেষ্য
ব্যাখ্যা
• সমষ্টিবাচক বিশেষ্য (Collective Noun) :
যে পদে ব্যক্তি বা প্রাণীর সমষ্টি বােঝায়, তা-ই সমষ্টিবাচক বিশেষ্য।
যথা,
- সভা, জনতা, সমিতি, সমাজ, পঞ্চায়েত, মিছিল, ঝাঁক, বহর, দল ইত্যাদি।

------------------- 
অপরদিকে,
• গুণ-বিশেষ্য:
- গুণগত অবস্থা ও ধারণার নামকে গুণ-বিশেষ্য বলে।
যেমন – সরলতা, দয়া, আনন্দ, গুরুত্ব, দীনতা, ধৈর্য ইত্যাদি।

জাতিবাচক বিশেষ্য: 
যে পদ দ্বারা কোনো একজাতীয় প্রাণী বা পদার্থের সাধারণ নাম বোঝায় তাকে জাতিবাচক বিশেষ্য বলে।
যেমন- মানুষ, গরু, পাখি, গাছ, সাগর, পর্বত, ইংরেজ ইত্যাদি জাতিবাচক বিশেষ্যের উদাহরণ। 

বস্তু-বিশেষ্য: 
কোনো দ্রব্য বা বস্তুর নামকে বস্তু-বিশেষ্য বলে।
যেমন – ইট, লবণ, আকাশ, টেবিল, বই ইত্যাদি।

নাম-বিশেষ্য:
ব্যক্তি, স্থান, দেশ, কাল, সৃষ্টি প্রভৃতির সুনির্দিষ্ট নামকে নাম-বিশেষ্য বলা হয়।
যেমন – স্থাননাম: ঢাকা, বাংলাদেশ, হিমালয়।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ও০২২ সংস্করণ)।
১৫.
নিচের কোন লগ্নকটি মানী লোকের বহুবচনে ব্যবহৃত হয় না?
  1. গণ
  2. বৃন্দ
  3. বর্গ
  4. মালা
ব্যাখ্যা
• 'মানী' লোকের বেলায় বহুবচনে 'মালা' লগ্নকটি ব্যবহৃত হয়।

• মানী পক্ষের বহুবচন করার সময়ে ‘গণ’ ‘বৃন্দ’ ‘মণ্ডলী’ ‘বর্গ’ ইত্যাদি লগ্নক করা হয়।
যেমন-
গণ - সদস্যগণ, সচিবগণ
বৃন্দ - দর্শকবৃন্দ, শিক্ষকবৃন্দ
মণ্ডলী - সুধীমণ্ডলী, সম্পাদকমণ্ডলী
বর্গ - পণ্ডিতবর্গ, মন্ত্রীবর্গ।

তাছাড়া, 
- প্রাণী বা বস্তুর নামকে বহুবচন করতে ‘সব’ ‘সমূহ’ ‘আবলি’ ‘মালা’ ইত্যাদি লগ্নক যোগ করতে হয়।
যেমন: 
সব - ভাইসব, পাখিসব।
সমূহ - গ্রন্থসমূহ, বৃক্ষসমূহ।
আবলি - নিয়মাবলি, রচনাবলি।
মালা - মেঘমালা, পর্বতমালা।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি(২০২২ সংস্করণ)।
১৬.
অধিকরণ কারকের উদাহরণ কোনটি?
  1. গাছ থেকে পাতা পড়ে।
  2. ফুলের গন্ধে ঘুম আসেনা
  3. আমি গাছের নিচে দাঁড়িয়ে আছি।
  4. গরুতে দুধ দেয়।
ব্যাখ্যা
• "আমি গাছের নিচে দাঁড়িয়ে আছি।"
 - নিম্নরেখ শব্দটি অধিকরণ কারকের উদাহরণ।

• অধিকরণ কারক:
- ক্রিয়ার আধারকে বলা হয় অধিকরণ কারক। আধার বলতে ক্রিয়া নিষ্পন্ন হওয়ার স্থান, কাল ও ভাবকে বােঝায়।
- অর্থাৎ ক্রিয়া সম্পাদনের কাল এবং আধারকে বলা হয় অধিকরণ কারক।
- বাক্যের ক্রিয়াপদকে কোথায়, কখন ও কোনাে বিষয় বােঝাতে অধিকরণ কারক হয়।
----------------------------------------
• 'আমি গাছের নিচে দাঁড়িয়ে আছি।' - বাক্য়ের ক্রিয়াকে 'কোথায়' দ্বারা প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় 'গাছের নিচে'।
তাই,
নিম্নরেখ শব্দটি অধিকরণ কারকের উদাহরণ।  
 
অন্যদিকে,
• 'ফুলের গন্ধে ঘুম আসেনা।'- এখানে 'ফুলের' সম্বন্ধ কারকের উদাহরণ।
• "গাছ থেকে পাতা পড়ে।" - অপাদান কারক।
• "গরুতে দুধ দেয়।" - কর্তৃকারক।

উৎস:
- মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৭.
বাক্যের অন্তর্গত পদকে কতটি শ্রেণিতে ভাগ করা যায়?
  1. চারটি
  2. তিনটি
  3. ছয়টি
  4. আটটি
ব্যাখ্যা
• পদ বিবেচনায় শব্দের শ্রেণিবিভাগ:
- শব্দ যখন বাক্যে ব্যবহৃত হয়, তখন তার নাম হয় পদ।
- বাক্যের অন্তর্গত এসব শব্দ বা পদকে মােট আটটি শ্রেণিতে ভাগ করে বর্ণনা করা যায়।
যথা:
- বিশেষ্য,
- সর্বনাম,
- বিশেষণ,
- ক্রিয়া,
- ক্রিয়াবিশেষণ,
- অনুসর্গ,
- যােজক,
- আবেগ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১৮.
'৯৩' এর সংখ্যাবাচক শব্দ কোনটি?
  1. নবনবতিতম
  2. নবতিতম
  3. উননবতিতম
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
• '৯৩' এর সংখ্যাবাচক শব্দ - ত্রিনবতিতম।

• ১৯ থেকে ৯৯ পর্যন্ত সংখ্যার সংক্ষিপ্ত পূরণবাচকে শুধু ‘তম’ প্রত্যয় যােগ করা হয়।
যথা: 
• উনিশতম বা ঊনবিংশতিতম (১৯তম),
• বিশতম বা বিংশতিতম (২০তম),
• একুশতম বা একবিংশতিতম (২১তম),
• আটাশতম বা অষ্টাবিংশতিতম (২৮তম),
• উনপঞ্চাশতম বা ঊনপঞ্চাশত্তম (৪৯তম),
• আশিতম বা অশীতিতম (৮০তম),
• নব্বইতম বা নবতিতম (৯০তম),
• নিরানব্বইতম বা নবনবতিতম (৯৯তম) ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ, বাংলা একাডেমি অভিধান, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (নবম-দশম শ্রেণি) ২০২১ সংস্করণ।
১৯.
"তিনি গোপনে কাজটি করলেন।" - নিম্নরেখ শব্দটি কোন ধরনের পদ নির্দেশ করে?
  1. বিশেষ্য
  2. ক্রিয়া
  3. ক্রিয়া বিশেষণ
  4. অব্যয়
ব্যাখ্যা
• ক্রিয়াবিশেষণ:
- যে শব্দ ক্রিয়াকে বিশেষিত করে, তাকে ক্রিয়াবিশেষণ বলে।
- নিচের বাক্য তিনটির নিম্নরেখ শব্দগুলো ক্রিয়াবিশেষণের উদাহরণ:
ছেলেটি দ্রুত দৌড়ায়।
লোকটি ধীরে হাঁটে।
মেয়েটি গুনগুনিয়ে গান করছে।

- অনেক সময়ে বিশেষ্য ও বিশেষণ শব্দের সঙ্গে '-এ', '-তে' ইত্যাদি বিভক্তি এবং '-ভাবে', '-বশত', '-মতো' ইত্যাদি শব্দাংশ যুক্ত হয়ে ক্রিয়াবিশেষণ তৈরি হয়।
যেমন - ততক্ষণে, দ্রুতগতিতে, শান্তভাবে, গোপনে, ভ্রান্তিবশত, আচ্ছামতো ইত্যাদি।

• "তিনি গোপনে কাজটি করলেন।"
- এটি ক্রিয়ার গুণ বা ধরন নির্দেশ করে বলে এটি একটি ক্রিয়াবিশেষণ।

উৎস:
- বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ) ও ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২০.
'সেমিকোলন' এর ক্ষেত্রে বিরতিকালের পরিমাণ -
  1. এক বলতে যে সময় লাগে
  2. থামার প্রয়োজন নেই
  3. এক সেকেন্ড
  4. এক বলার দ্বিগুণ সময়
ব্যাখ্যা
• সেমিকোলন:
সেমিকোলনের স্থানে কমার চেয়ে বেশি কিন্তু দাড়িঁর চেয়ে কম থামতে হয়। বাক্যের ভেতরে শুধু থামার জন্য কমা-সেমিকোলন ব্যবহার করা হয় না। অর্থ প্রকাশেও কমা ও সেমিকোলন ভূমিকা পালন করে।

• সেমিকোলন বা অর্ধচ্ছেদ থাকলে -
- 'এক' বলার দ্বিগুণ সময় থামতে হয়।
------------------
• বাক্যে যতিচিহ্ন অনুসারে থামার পরিমাণ:
• 'কোলন ড্যাস' এর ক্ষেত্রে বিরতিকালের পরিমাণ - ১ সেকেন্ড।

• কমা বা পাদচ্ছেদ থাকলে -
- 'এক' বলতে যে সময় লাগে সেই পরিমাণ সময় থামতে হয়।

• হাইফেন, ইলেক বা লোপ চিহ্ন ও ব্র্যাকেট থাকলে -
- থামার প্রয়োজন হয় না।

• দাঁড়ি বা পূর্ণচ্ছেদ, প্রশ্নবোধক চিহ্ন, বিস্ময় চিহ্ন, কোলন, কোলন ড্যাস, ড্যাস ইত্যাদি চিহ্ন থাকলে -
- 'এক' সেকেন্ড থামতে হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) ও ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২১.
অধিকরণ কারকে অনুসর্গের ব্যবহার ঘটেছে কোন বাক্যটিতে?
  1. বন্যেরা বনে সুন্দর
  2. ছাদে পানি আছে
  3. ঘরের মধ্যে কে রে?
  4. কাননে কুসুম কলি সকলি ফুটিল
ব্যাখ্যা
"ঘরের মধ্যে কে রে?" - বাক্যটিতে অধিকরণ কারকে অনুসর্গের প্রয়োগ ঘটেছে । বাক্যটিতে 'মধ্যে' অনুসর্গ রয়েছে।

অধিকরণ কারক:
ক্রিয়া সম্পাদনের কাল (সময়) এবং আধারকে অধিকরণ কারক বলে। অধিকরণ কারকে সপ্তমী অর্থাৎ ‘এ’, 'য়', ‘তে’ ইত্যাদি বিভক্তি যুক্ত হয়।
যথা-
• অধিকরণ কারকের উদাহরণ - 
- তিলে তৈল আছে - অধিকরণ কারকে ৭মী বিভক্তি।
কাননে কুসুম কলি সকলি ফুটিল - অধিকরণ কারকে ৭মী বিভক্তি।
- শিশুগণ দেয় মন নিজ নিজ পাঠে  - অধিকরণ কারকে শূন্য বিভক্তি।
- পাতায় পাতায় পড়ে শিশির নিশির - অধিকরণ কারকে ৭মী বিভক্তি।
- বাংলাদেশ আমাদের জন্মভূমি - অধিকরণ কারকে শূন্য বিভক্তি।
- বন্যেরা বনে সুন্দর - অধিকরণ কারকে ৭মী বিভক্তি।
- ছাদে পানি আছে - অধিকরণ কারকে ৭মী বিভক্তি।
- কপালের লিখন যায় না খণ্ডন - অধিকরণ কারকে ষষ্ঠী বিভক্তি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।