পরীক্ষা আর্কাইভ

৪৫ দিনে ৫০তম বিসিএস প্রস্তুতি [বিষয়ভিত্তিক] - Archived

পরীক্ষা৪৫ দিনে ৫০তম বিসিএস প্রস্তুতি [বিষয়ভিত্তিক] - Archivedতারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়14 minutes
মোট প্রশ্ন১৮
সিলেবাস
পরীক্ষা - ১০: নৈতিকতা, মূল্যবোধ ও সু-শাসন টপিক: সম্পূর্ণ সিলেবাস উৎস: অষ্টম, মাধ্যমিক ও উচ্চ-মাধ্যমিক শ্রেণির পৌরনীতি বোর্ড বই [NCTB ও উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়], জাতিসংঘসহ সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইট এবং যেকোনো গাইডবই। [গাইড বই থেকে পড়ার ক্ষেত্রে কনফিউজিং বিষয়গুলো ক্রসচেক করে পড়া উত্তম।]।
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

৪৫ দিনে ৫০তম বিসিএস প্রস্তুতি [বিষয়ভিত্তিক] - Archived

৪৫ দিনে ৫০তম বিসিএস প্রস্তুতি [বিষয়ভিত্তিক] - Archived · তারিখ অনির্ধারিত · ১৮ প্রশ্ন

.
নিচের কোনটি মূল্যবোধ গঠনের সহায়ক?
  1. পরিবার
  2. সংস্কৃতি
  3. শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান
  4. বর্ণিত সবগুলো
সঠিক উত্তর:
বর্ণিত সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বর্ণিত সবগুলো
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধ:
- মূল্যবোধ হলো মানুষের আচরণ পরিচালনাকারী নীতি ও মানদণ্ড।
- জ্ঞানার্জন বা শিক্ষার মাধ্যমেই মূল্যবোধ সুদৃঢ় হয়।
- মানুষের শিক্ষাজীবনকে ব্যক্তিগত মূল্যবোধ অর্জনের শ্রেষ্ঠ সময় বলা হয়।
- মূল্যবোধ শিক্ষার প্রাথমিক উৎস হলো পরিবার।
- পরিবার থেকেই মূল্যবোধ শিক্ষার সূচনা হয়।
- মূল্যবোধ শিক্ষার প্রধান প্রাতিষ্ঠানিক উৎস হলো বিদ্যালয়।

⇒ মূল্যবোধ গড়ে ওঠার পেছনে যেসব সহায়ক কাজ করে তা হলো- পরিবার, ধর্ম, সামাজিক রীতিনীতি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, আইনকানুন, সংবিধান, সংস্কৃতি, নীতিবোধের চর্চা, সংগঠন ও সামাজিক প্রতিষ্ঠান, সভাসমিতি সামাজিক ন্যায়-বিচার, আইনের শাসন, সামাজিক অনুষ্ঠান, নাগরিক চেতনা, সামাজিক শিক্ষা ইত্যাদি।

উৎস: কৌশলগত মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনায় নৈতিকতার বিষয়সমূহ, এমবিএ প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
'মূল্যবোধ মানুষের ইচ্ছার একটি প্রধান মানদণ্ড'-উক্তিটি কার?
  1. নিকোলাস রেসার
  2. এম আর উইলিয়াম
  3. স্টুয়ার্ট সি ডড
  4. এম ডি স্টেইন
সঠিক উত্তর:
এম আর উইলিয়াম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এম আর উইলিয়াম
ব্যাখ্যা
গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ (Democratic Values):
- একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে যেসব চিন্তাভাবনা, লক্ষ্য, উদ্দেশ্য ও সংকল্প মানুষের গণতান্ত্রিক আচার-ব্যবহার ও দৈনন্দিন কর্মকাণ্ডকে নিয়ন্ত্রিত ও পরিচালিত করে তাকে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ বলে।
- গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে এসব মূল্যবোধ মানুষের ইচ্ছার একটি প্রধান মানদণ্ড।
- একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের নাগরিকদেরকে অন্যের মতামত ও মনোভাবকে শ্রদ্ধা জানাতে হয়।
- কেননা সহনশীলতা গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের নাগরিকদের অন্যতম গুণ।
- গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের নাগরিককে দেশ ও জাতির বৃহত্তর স্বার্থে ক্ষুদ্র ব্যক্তিস্বার্থ, গোষ্ঠীস্বার্থ ও দলীয় স্বার্থকে বিসর্জন দিতে হয়।
- গঠনমূলক সমালোচনা করার অভ্যাস গড়ে তোলা এবং সমালোচনা সহ্য করার মানসিকতা ও সংযম গড়ে তুলতে হবে।
- গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের মানুষকে পারস্পরিক সুখে-দুঃখে একে অপরের পাশে দাঁড়াতে হবে।
- সবসময় ভাবতে হবে ‘সকলের তরে সকলে আমরা, প্রত্যেকে আমরা পরের তরে।
- ’শৃঙ্খলাবোধে বিশ্বাসী হতে হবে।
- অধিকার ও কর্তব্য সচেতন হতে হবে।
- সরকারকে তাদের নীতি ও সিদ্ধান্তের জন্য দায়িত্বশীল ও জবাবদিহিমূলক আচরণ বা মানসিকতা গড়ে তুলতে হবে।
- নির্বাচনে জয়- পরাজয়কে মেনে নিতে হবে।
- আইনসভাকে কার্যকর করতে হবে।
- হরতাল, জ্বালাও-পোড়াও নয়, বরং আইনসভায় বসে আলোচনার মাধ্যমে জাতীয় সব সমস্যার সমাধান খুঁজতে হবে।

⇒ সমাজবিজ্ঞানী আর. এম. উইলিয়াম (R. M. William) এর মতে "মূল্যবোধ মানুষের ইচ্ছার একটি প্রধান মানদণ্ড যার আদর্শে মানুষের আচার-ব্যবহার ও রীতি-নীতি পরিচালিত এবং যার মানদণ্ডে সমাজস্থ মানুষের কার্যাবলীর ভালমন্দ বিচার করা হয়।"

উৎস: i) পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
ii) সমাজকল্যাণ ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
‘সুবর্ণ মধ্যক’ ধারণার প্রবক্তা কে?
  1. অ্যারিস্টটল
  2. প্লেটো
  3. সক্রেটিস
  4. টমাস হবস
সঠিক উত্তর:
অ্যারিস্টটল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অ্যারিস্টটল
ব্যাখ্যা
গোল্ডেন মিন (Golden Mean):
- গোল্ডেন মিন বা সুবর্ণ মধ্যক হলো একটি দার্শনিক মতবাদ।
- দুটি চরম পন্থার মধ্যবর্তী কোন পন্থাকে সুবর্ণ মধ্যক বলে।
- এই ধারণার মূল কথা হলো, কোনো বিষয়ে চরম অবস্থা পরিহার করে দুটি অবস্থার মধ্যে ভারসাম্য বা মধ্যম পথ অবলম্বন করা উচিত।
- যেমন একদিকে অতিরিক্ত ভোগবিলাস এবং অন্যদিকে অভাব- এই দুটি অবস্থার মাঝামাঝি অবস্থান হলো "সুবর্ণ মধ্যক"।
- গ্রিক দার্শনিক অ্যারিস্টটলএই ধারণার প্রবর্তক।

উৎস: Britannica.
.
সামাজিক মূল্যবোধের ভিত্তি কোনটি?
  1. আইনের অপপ্রয়োগ
  2. ন্যায়পরায়ণতা
  3. সামাজিক সাম্য
  4. রাজনীতিচর্চা
সঠিক উত্তর:
ন্যায়পরায়ণতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ন্যায়পরায়ণতা
ব্যাখ্যা
সামাজিক মূল্যবোধ:
- যে চিন্তা-ভাবনা, লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য মানুষের সামাজিক আচার-আচরণ ও কর্মকাণ্ডকে নিয়ন্ত্রিত ও পরিচালিত করে তাই সামাজিক মূল্যবোধ।
- সামাজিক মূল্যবোধ হলো সমাজের সদস্যদের সিংহভাগের সর্ব সম্মত বিশ্বাস, আদর্শ, নীতি ইত্যাদির সমষ্টি যা তারা ভাল বলে গ্রহণ করে।
- সমাজের মানুষের ভাল মন্দ আচরণ বিচারের মানদন্ড হলো সামাজিক মূল্যবোধ।
- এটি মানুষের ব্যক্তিগত ও সামাজিক আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে।
- সামাজিক পরিবর্তনের সাথে সাথে মূল্যবোধেও পরিবর্তন ঘটে।
- ব্যক্তি ও সমাজের অভিন্ন আকাংখার অভিব্যক্তিই হলো সামাজিক মূল্যবোধ।
- সমাজবিজ্ঞানী ফ্রান্সিস ই.মেরিল (Francises E. Meril) এর মতে, "সামাজিক মূল্যবোধ হলো মানুষের দলীয় কল্যাণের জন্য আচরণ সংরক্ষণ করা, যা মানুষ গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচনা করে।"
- ন্যায়পরায়ণতা, সততা ও শিষ্টাচার সামাজিক মূল্যবোধের ভিত্তি হিসেবে কাজ করে।
- বড়দের সম্মান করা, সহনশীলতা, দানশীল হওয়া, আতিথেয়তা ইত্যাদি হচ্ছে সামাজিক মূল্যবোধ।

উৎস: i) পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) কৌশলগত মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনায় নৈতিকতার বিষয়সমূহ, এমবিএ প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
কোন প্রত্যয়টি বিশ্বব্যাংকের ‘প্রেসক্রিপশন’ নামে পরিচিত?
  1. গণতন্ত্র
  2. মূল্যবোধ
  3. সুশাসন
  4. নৈতিকতা
সঠিক উত্তর:
সুশাসন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুশাসন
ব্যাখ্যা
সুশাসন:
- বিশ্বব্যাংকের 'প্রেসক্রিপশন' নামে পরিচিত প্রত্যয়টি হলো সুশাসন (Good Governance)।
- বিশ্বব্যাংক ১৯৮৯ সালে "সুশাসন" ধারণাটি চালু করে এবং এটিকে তাদের প্রেসক্রিপশন হিসেবে বিবেচনা করা হয়। 
- মূলত: ল্যাটিন আমেরিকা ও আফ্রিকা মহাদেশে বিশ্বব্যাংকের ব্যর্থতার ফলে ১৯৮৯ সালে বিশ্বব্যাংক কর্তৃক সুশাসনের ধারণাটি উদ্ভব হয়।

⇒ ‘সুশাসন’ হলো একটি কাঙ্ক্ষিত রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার প্রতিফলন।
- ‘সুশাসন’ হলো ন্যায়নীতি অনুসারে উত্তমরূপে, সুষ্ঠভাবে ও নিরপেক্ষ দৃষ্টিতে দেশ বা রাষ্ট্র শাসন।
- অন্যকথায় সুশাসন বলতে রাষ্ট্রের সাথে সুশীল সমাজের, সরকারের সাথে শাসিত জনগণের, শাসকের সাথে শাসিতের সম্পর্ককে বুঝায়।
- সুশাসন হচ্ছে অংশগ্রহণমূলক, স্বচ্ছ, দায়িত্বশীল ও ন্যায়সংগত ব্যবস্থা যা আইনের শাসনকে নিশ্চিত করে। সুশাসনকে সরকারের উচ্চতর দক্ষতা হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

⇒ আশির দশকের দ্বিতীয়ার্ধে বিশ্বব্যাংক সুশাসনকে উন্নয়নের এজেন্ডাভুক্ত করে।
- এতে সরকার ও জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত হয় ও উভয়েই লাভবান হয় বলে সুশাসনকে সরকার ও জনগণের ‘Win Win Game’ বলা হয়।

উৎস: i) পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
ii) সুশাসন বনাম সামাজিক ও পারিবারিক মূল্যবোধ, ndicia24.com।
.
জনগণের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দিতে Aspire to Innovate (a2i) প্রকল্পটি শুরু হয় কত সালে?
  1. ২০০৫ সালে
  2. ২০০৬ সালে
  3. ২০০৭ সালে
  4. ২০০৮ সালে
সঠিক উত্তর:
২০০৬ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২০০৬ সালে
ব্যাখ্যা
Aspire to Innovate (a2i):
- ২০০৫ সালে তিউনিসিয়ায় অনুষ্ঠিত জাতিসংঘ-আইটিইউ-এর ঘোষণাপত্রে সরকারি পরিষেবার ডিজিটাল রূপান্তরকে অপরিহার্য হিসেবে তুলে ধরা হয়; পরিষেবা প্রদান প্রক্রিয়ায় সংস্কারের পাশাপাশি সরকারি পরিষেবাগুলিকে ন্যায়সঙ্গত, স্বচ্ছ এবং হয়রানিমুক্ত করার কথা বলা হয়।
- এরই ধারাবাহিকতায়, পরের বছর গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার, সম্পূর্ণরূপে ইউএনডিপি বাংলাদেশ কর্তৃক অর্থায়নে, 'অ্যাক্সেস টু ইনফরমেশন (a2i) প্রোগ্রাম' নামে একটি প্রকল্প শুরু করে।
- প্রকল্পটি আনুষ্ঠানিকভাবে ২০০৬ সালের অক্টোবরে শুরু হয় এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় বাস্তবায়নকারী সংস্থা হয়ে ওঠে।

⇒ তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে বৈষম্যমুক্ত একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গঠনের লক্ষ্যে, a2i UNDP বাংলাদেশের সহায়তায়, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের তত্ত্বাবধানে কাজ করছে, যাতে সমাজের সকল স্তরের মানুষকে দ্রুত, স্বচ্ছ, ঝামেলামুক্ত এবং সাশ্রয়ী মূল্যের পরিষেবা প্রদান করা যায়। a2i জনসেবা প্রদানের দক্ষতা বৃদ্ধি করে এবং একটি জনবান্ধব উদ্ভাবনী সংস্কৃতি গড়ে তুলে এক অভূতপূর্ব রূপান্তরে সহায়তা করছে যা পরিষেবাগুলিকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক, সাশ্রয়ী মূল্যের, নির্ভরযোগ্য এবং অ্যাক্সেসযোগ্য করে তোলে। এই কার্যক্রমের মূল লক্ষ্য হল নাগরিকদের ঐতিহ্যগতভাবে এই ধরনের পরিষেবা গ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় সময়, খরচ এবং পরিদর্শন হ্রাস করে আরও গুণগত এবং সন্তোষজনক পরিষেবা প্রদান করা, যার ফলে ডিজিটাল বৈষম্য দূর করা।

⇒ 'কাউকে পিছনে ফেলে রাখবেন না' এই নীতিবাক্য নিয়ে, a2i ধীরে ধীরে তার কার্যক্রম এবং অগ্রাধিকার ক্ষেত্রগুলি প্রসারিত করেছে। ২০২০ সালে, প্রকল্পের নাম 'অ্যাক্সেস টু ইনফরমেশন' থেকে 'অ্যাস্পায়ার টু ইনোভেট' করা হয়।

উৎস: তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ ওয়েবসাইট।
.
আইনকে সার্বভৌম শক্তির আদেশ বলে অভিহিত করেছেন-
  1. অধ্যাপক ডাইসি
  2. হল্যাণ্ড
  3. অস্টিন
  4. লর্ড এ্যাকটন
সঠিক উত্তর:
অস্টিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অস্টিন
ব্যাখ্যা
আইনের প্রামাণ্য সংজ্ঞা
১. গ্রিক দার্শনিক এ্যারিস্টটলের মতে, "আইন হল পক্ষপাতহীন যুক্তি।"
২. আইনবিদ জন অস্টিনের মতে, "সার্বভৌম শক্তির আদেশই আইন।"
৩. অধ্যাপক হল্যান্ড বলেন, "আইন হল মানুষের বাহ্যিক আচরণ নিয়ন্ত্রণের এমন কতগুলো সাধারণ নিয়ম যা সার্বভৌম রাজনৈতিক কর্তৃত্ব দ্বারা প্রযুক্ত হয়।"
৪. স্যার হেনরি মেইনের মতে, "আইন হল পরিবর্তনশীল, ক্রমাউন্নতিমূলক, ক্রমবর্ধমান ও দীর্ঘকালীন সামাজিক প্রথার গতির ফল।"
৫. আইনের সার্বজনীন ও উৎকৃষ্ট সংজ্ঞা প্রদান করেছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতি উড্রো উইলসন। তাঁর মতে, "আইন হল সমাজের সে সব সুপ্রতিষ্ঠিত প্রথা ও রীতিনীতি যেগুলো সমাজ কর্তৃক স্বীকৃত ও রাষ্ট্র কর্তৃক গৃহীত বিধিতে পরিণত হয়েছে এবং যাদের পিছনে রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্বের সুস্পষ্ট সমর্থন রয়েছে।”

আইনের উপরিউক্ত সংজ্ঞাগুলো বিশ্লেষণ করে বলা যেতে পারে যে, আইন হল মানুষের বাহ্যিক আচরণ নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত কতগুলো বিধিবদ্ধ নিয়মাবলি, যা রাষ্ট্র ও সমাজ কর্তৃক গৃহীত, সমর্থিত ও প্রযুক্ত হয়। জনগণের কল্যাণের জন্য আইন অত্যাবশ্যক। আইন ভঙ্গ করলে সার্বভৌম কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনে বল প্রয়োগ ও শাস্তি প্রদান করে আইন মেনে চলতে বাধ্য করে।

উৎস: পৌরনীতি, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
সুখবাদ ও বুদ্ধিবাদের মধ্যে সমন্বয়সাধনকারী মতবাদ কোনটি?
  1. জ্ঞানবাদ
  2. পূর্ণতাবাদ
  3. উপযোগবাদ
  4. উদারতাবাদ
সঠিক উত্তর:
পূর্ণতাবাদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পূর্ণতাবাদ
ব্যাখ্যা
সুখবাদ ও বুদ্ধিবাদের মধ্যে সমন্বয় সাধন:
- সুখবাদ ও বুদ্ধিবাদের মধ্যে সমন্বয়সাধনকারী মতবাদ হলো পূর্ণতাবাদ।
- পূর্ণতাবাদের মতে, পূর্ণতালাভ বা আত্মোপলব্ধিই নৈতিকতার মানদণ্ড।
- এ মতবাদ অনুসারে আত্মোপলব্ধি বলতে মানুষের ব্যক্তিত্বের পূর্ণ বিকাশকেই বোঝানো হয়ে থাকে।
- পূর্ণ বিকাশ বলতে বোঝায় মানুষের মধ্যে একপ্রকার অন্তর্নিহিত শক্তি আছে সেই শক্তিসমূহের পূর্ণ বাস্তবায়ন।
- মানুষ বিচারবুদ্ধিসম্পন্ন জীব হওয়ায় মানুষের পূর্ণতা লাভ বা আত্মোপলব্ধির ক্ষেত্রে ইন্দ্রিয় প্রবৃত্তি ও বিচারবুদ্ধি এই উভয় দিকের বিচার বিবেচনা করতে হয়।
- এ কথা ঘোষণা করার সাথে সাথে পূর্ণতাবাদ, সুখবাদ ও বুদ্ধিবাদের মধ্যে সমন্বয় সাধন করে।

⇒  পূর্ণতাবাদ:
- পূর্ণতাবাদ বা কল্যাণবাদ অনুসারে পূর্ণতা লাভ বা আত্মোপলব্ধিই মানব জীবনের পরম কল্যাণ।
- প্লেটোর মতে, বুদ্ধি বা প্রজ্ঞার দ্বারা কামনা বাসনা জাতীয় প্রবৃত্তিগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করার ফলেই মানুষের পূর্ণতা বা কল্যাণ আসে।
- এরিস্টটলের মতে, সদগুণ অনুযায়ী মানুষের অন্ত নিহিত শক্তিগুলোর পূর্ণ বাস্তবায়ন করার ফলেই পূর্ণতা আসে।
- তিনি মনে করেন, মানব জীবনের উৎকর্ষতা ইন্দ্রিয়জ অনুভূতির পরিবর্তে বুদ্ধির উপর নির্ভর করে।

উৎস: নীতিবিদ্যা, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
কে প্রথম সংবাদপত্রকে Fourth Estate হিসেবে আখ্যায়িত করেন?
  1. এডমন্ড বার্ক
  2. আব্রাহাম লিংকন
  3. উইনস্টোন চার্চিল
  4. কফি আনান
সঠিক উত্তর:
এডমন্ড বার্ক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এডমন্ড বার্ক
ব্যাখ্যা
স্বাধীন সংবাদমাধ্যম:
- স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ বলা হয়।
- ব্রিটিশ পার্লামেন্টারিয়ান এডমন্ড বার্ক (Edmund Burke) প্রথম সংবাদপত্রকে "ফোর্থ এস্টেট" বা চতুর্থ স্তম্ভ হিসেবে আখ্যায়িত করেন।
- তিনি ১৭৮৭ সালে হাউস অফ কমন্সে বিতর্ক করার সময় এই শব্দটি ব্যবহার করেন।

⇒ গণমাধ্যম যখন স্বাধীন হয়, তখনই তা প্রকৃতপক্ষে জনগণের পক্ষে কথা বলতে সক্ষম হয় এবং সত্য প্রকাশের মাধ্যমে রাষ্ট্রের তিনটি স্তম্ভের ওপর নজরদারি রাখতে পারে।
- গণমাধ্যমকে যখন কোনোভাবে দমন করা হয়, তখন সমাজে স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতা হ্রাস পায়, যা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার জন্য ক্ষতিকর।

উৎস: i) পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি।
ii) প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (পিআইবি)।
১০.
অস্ট্রেলীয় দার্শনিক পিটার সিঙ্গারের বিখ্যাত বই কোনটি?
  1. দি সামিট
  2. অ্যানিমেল লিবারেশন
  3. দি প্রিন্স
  4. মোরাল এন্ড জাস্টিস
সঠিক উত্তর:
অ্যানিমেল লিবারেশন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অ্যানিমেল লিবারেশন
ব্যাখ্যা
পিটার সিঙ্গার:
- পিটার সিঙ্গার একজন অস্ট্রেলিয়ান নৈতিক দার্শনিক।
- তিনি প্রিন্সটন ইউনিভার্সিটির বায়োএথিক্সের ইমেরিটাস ইরা ডব্লিউ. ডিক্যাম্প অধ্যাপক।
- পিটার সিঙ্গারের ব্যবহারিক নীতিবিদ্যার বৈশিষ্ট্য হলো তথ্যগত উপাদানের ব্যবহার।
- তথ্য যেখানে থেমে যায়, দর্শন সেখান থেকে শুরু হয়। এজন্য তিনি বলেন "দার্শনিকরা তাদের স্বীয় কাজে ফিরে এসেছে"।

উল্লেখ্য,
- পিটার সিঙ্গারের বিখ্যাত বই Animal Liberation ।
- উপযোগবাদকে গ্রহণ না করেও এ গ্রন্থটি গুরুত্বপূর্ণ একটি দার্শনিক গ্রন্থে পরিণত হয়েছে।
- গোটা গ্রন্থের দুই-তৃতীয়াংশ অ-মানব প্রাণীর প্রতি আমাদের আচরণ কেমন হওয়া উচিত এ সম্পর্কে ব্যবহারিক কিছু নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

উৎস: i) Britannica.
ii) পিটার সিঙ্গারের ব্যবহারিক নীতিবিদ্যা গ্রন্থের পর্যালোচনা, আনোয়ারুল্লাহ ভূঁইয়া।
১১.
গণতন্ত্রের মূলমন্ত্র হলো -
  1. সাম্য ,স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা
  2. সাম্য ,স্বাধীনতা ও অধিকার
  3. সাম্য, স্বাধীনতা ও ভ্রাতৃত্ব
  4. সাম্য ,স্বাধীনতা ও আইন
সঠিক উত্তর:
সাম্য, স্বাধীনতা ও ভ্রাতৃত্ব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাম্য, স্বাধীনতা ও ভ্রাতৃত্ব
ব্যাখ্যা
গণতন্ত্র:
- গণতন্ত্র হলো জনগণের শাসন।
- বর্তমান বিশ্বে এটি একটি জনপ্রিয় শাসনব্যবস্থা।
- যে শাসনব্যবস্থায় জনগণের হাতে ক্ষমতা থাকে তাকেই গণতন্ত্র বলে।
- প্রাচীন গ্রীক দার্শনিক হেরোডোটাস বলেছেন, 'গণতন্ত্র এক প্রকার শাসনব্যবস্থা, যেখানে শাসনক্ষমতা কোনো শ্রেণি বা শ্রেণিসমূহের উপর ন্যস্ত থাকে না; বরং সমাজের সদস্যগণের উপর ন্যস্ত হয় ব্যাপকভাবে।'
- মার্কিন প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিঙ্কন গণতন্ত্রের সংজ্ঞা দিতে গিয়ে বলেন, 'Democracy is a government of the people, by the people, and for the people.' অর্থাৎ, 'গণতন্ত্র হচ্ছে জনগণের সরকার, জনগণের দ্বারা নির্বাচিত এবং জনগণের জন্য পরিচালিত সরকারব্যবস্থা।'

⇒ গণতন্ত্রের মূলমন্ত্র হলো সাম্য, স্বাধীনতা ও ভ্রাতৃত্ব।

উৎস: i) পৌরনীতি ও সুশাসন ১মপত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
ii) পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি।
১২.
'লালফিতার দৌরাত্ম্য' খুব বেশি কোথায় দেখা যায়?
  1. আমলাতন্ত্রে
  2. রাজতন্ত্রে
  3. একনায়কতন্ত্রে
  4. গণতন্ত্রে
সঠিক উত্তর:
আমলাতন্ত্রে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আমলাতন্ত্রে
ব্যাখ্যা
আমলাতন্ত্র:
- আমলাতন্ত্র হচ্ছে স্থায়ী, বেতনভুক্ত, নিরপেক্ষ, দক্ষ ও পেশাদারী সংগঠন যার দ্বারা সরকারের নীতি ও সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হয়।
- আমলাতন্ত্রের ইংরেজি প্রতিশব্দ 'Bureaucracy'।
- আমলাতন্ত্রের শাব্দিক অর্থ হচ্ছে `Desk government' বা 'দাপ্তরিক সরকার'।
- আমলাতন্ত্র বলতে বুঝায় আমলা বা প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের শাসন।
- বাস্তবে আমলারা পরস্পর সুশৃঙ্খলভাবে সংযুক্ত এবং রাজনৈতিকভাবে নিরপেক্ষ থেকে দায়িত্ব পালন করেন।
- জার্মান সমাজবিজ্ঞানী ম্যাক্স ওয়েবার সর্বপ্রথম 'Legal and rational Model' এর মাধ্যমে আমলাতন্ত্রকে উপস্থাপন করেন।

⇒ "লালফিতার দৌরাত্ম্য" (Red tape) সাধারণত আমলাতন্ত্রে বেশি দেখা যায়।
- লালফিতার দৌরাত্ম্য আমলাতন্ত্রের অন্যতম একটি বৈশিষ্ট্য।
- লালফিতার দৌরাত্ম্য বলতে কঠোর নিয়মনীতির মাধ্যমে প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা করা বোঝায়।
- এতে ফাইল বা নথি দীর্ঘসময় বন্দী হয়ে পড়ে। জনগণ স্বাভাবিক সময়ে সেবা প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত হয় এবং কাজের গতিশীলতা কমে যায়।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
১৩.
জাতীয় রাষ্ট্রের স্বপ্নদ্রষ্টা কে ছিলেন?
  1. বেনিতো মুসোলিনি
  2. নিকোলো ম্যাকিয়াভেলি
  3. অ্যাডলফ হিটলার
  4. রুশো
সঠিক উত্তর:
নিকোলো ম্যাকিয়াভেলি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিকোলো ম্যাকিয়াভেলি
ব্যাখ্যা
নিকোলো ম্যাকিয়াভেলি:
- নিকোলো ম্যাকিয়াভেলি ইতালির ফ্লোরেন্স নগরীতে ১৪৬৯ খ্রিষ্টাব্দের ৩ মে জন্মগ্রহণ করেন নিকোলো।
- ইতালীয় রাষ্ট্রদার্শনিক নিকোলো ম্যাকিয়াভেলিকে 'জাতীয় রাষ্ট্রের' প্রবক্তা বা স্বপ্নদ্রষ্টা বলা হয়।
- নিকোলো মেকিয়াভেলি ছিলেন একাধারে রাজনীতিবিদ, কূটনীতিক, উপদেষ্টা, নাট্যকার, কবি, দার্শনিক, ঐতিহাসিক, সামরিকবিদ ও আরও অনেক কিছু।
- তাকে আধুনিক রাজনীতি ও দর্শনের জনক বলা হয়ে থাকে।
- তিনি প্রাকৃতিক ও সামাজিক বিজ্ঞানেরও প্রতিষ্ঠাতা।
- ১৫২৭ সালে ইতালির ফ্লোরেন্সে তিনি মারা যান।

⇒ তার বিখ্যাত গ্রন্থগুলোর মধ্যে অন্যতম:
- The Prince, Discourses on Livy, The Life of Castruccio Castracani of Lucca, Florentine Histories, Lettera to Francesco Vettori, The Portable Machiavelli, The Complete Art of War ইত্যাদি।

উৎস: i) Britannica.
ii) পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
১৪.
সততা সম্পর্কে এরিষ্টটলের মতে কোনটি সঠিক?
  1. সততা কেবল আইনের মাধ্যমে অর্জিত হয়
  2. সততা শুধুমাত্র কর্তব্য পালনের ফল
  3. সততা মনের স্থায়ী অবস্থা যা ইচ্ছার দ্বারা গঠিত
  4. সততা জন্মগত প্রবৃত্তি
সঠিক উত্তর:
সততা মনের স্থায়ী অবস্থা যা ইচ্ছার দ্বারা গঠিত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সততা মনের স্থায়ী অবস্থা যা ইচ্ছার দ্বারা গঠিত
ব্যাখ্যা
সততা (Honesty):
- নীতিশাস্ত্রে সততা বলতে বুঝায় মানুষের চরিত্রের স্থায়ী প্রবণতা।
- সততা মানুষের স্বভাবজাত প্রবণতা নয়, অর্জিত প্রবণতা।
- কর্তব্য করার অভ্যাসের ফলেই সততা জন্মে।
- সততার স্বরূপ সম্পর্কে এরিষ্টটল বলেন, সততা মনের স্থায়ী অবস্থা যা ইচ্ছার দ্বারা গঠিত এবং যার ভিত্তি বাস্তব জীবনের সর্বোৎকৃষ্ট আদর্শ-যে আদর্শটি বিচারবুদ্ধি স্থির করে দিয়েছে।
- তাই দেখা যায় নৈতিক আদর্শ অনুসারে ভাল কাজ নির্বাচন ও সম্পাদনের মাধ্যমেই যে অভ্যাস গড়ে উঠে তাই সততা।
- কোন মানুষ জন্মগতভাবে সৎ হতে পারে না, মানুষ ভাল কাজ করতে যখন সৎ অভ্যাস গঠন করে, তখন তাকে সৎলোক বলা হয়।
- মানুষ যখন তার প্রবৃত্তি, কামনা ও বাসনাকে বিচার-বুদ্ধির দ্বারা নিয়ন্ত্রণ করে জীবনযাপন করে তখন সে চরিত্রবান বলে বিবেচিত হয়।
- তাই ম্যাকেনজী বলেন, সততা বলতে বুঝায় চরিত্রের সৎ অভ্যাস এবং তা কর্তব্য থেকে পৃথক।
- কর্তব্য বলতে বুঝায় এক বিশেষ ধরনের কাজ যা আমাদের করা উচিত।

উৎস: i) সিভিক এডুকেশন-১, বিএ/বিএসএস প্রোগ্রাম, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) কৌশলগত মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনায় নৈতিকতার বিষয়সমূহ, এমবিএ প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৫.
রাষ্ট্রের পঞ্চম স্তম্ভ ধরা হয় কোনটিকে?
  1. আইন বিভাগ
  2. সংবাদপত্র
  3. সুশীল সমাজকে
  4. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
সুশীল সমাজকে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুশীল সমাজকে
ব্যাখ্যা
সুশীল সমাজ (Civil Society):
- ইংরেজি ‘সিভিল সোসাইটি’ কথাটির বাংলা অর্থ হল ‘সুশীল সমাজ’।
- সাধারণভাবে বলা যায়, সুশীল সমাজ হলো একটি সংগঠিত গোষ্ঠী, যার সদস্যরা সরকারের কাছ থেকে নাগরিক অধিকার অর্জনের জন্য স্বতঃস্ফূর্তভাবে একত্রিত হয়।
- সুশীল সমাজ ব্যক্তি ও সরকারের মধ্যে একটি মাধ্যম হিসেবে কাজ করে। সুশীল সমাজ কখনও কখনও সরকার ও জনগণের মধ্যকার দ্বান্দ্বিক সম্পর্ক নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এরা সাধারণত বহুদলীয় গণতন্ত্রে বিশ্বাসী। সর্বসাধারণের উন্নতি বিধান, রাজনৈতিক সংস্কৃতি, সুশাসন এবং টেকসই উন্নয়নের জন্য গৃহীত কার্যক্রমে স্বাধীনভাবে অথবা সরকারের সহযোগিতায় সুশীল সমাজ অংশগ্রহণ করে থাকে। বলা হয়ে থাকে, রাষ্ট্রের ক্ষমতা কিংবা প্রভাব যেখানে শেষ সেখানেই সুশীল সমাজের শুরু।
- সুশীল সমাজ চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর অংশ।
- সুশীল সমাজের অন্তর্ভুক্ত ব্যক্তিগণ প্রেস, রেডিও, টিভি মাধ্যম, বিভিন্ন সামাজিক, আর্থিক, সাংস্কৃতিক সংগঠনের সাথে যুক্ত থেকে বা মুখপাত্র হিসেবে যে বক্তব্য প্রকাশ করে থাকেন তা সুষ্ঠু জনমত সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে।

⇒ রাষ্ট্রের পঞ্চম স্তম্ভ ধরা হয় সুশীল সমাজকে (Civil Society)।
- রাষ্ট্রের চারটি স্তম্ভ হল আইনসভা, শাসন বিভাগ, বিচার বিভাগ এবং সংবাদমাধ্যম।
- সুশীল সমাজ এই চারটি স্তম্ভের বাইরে থেকে জনগণের কণ্ঠস্বর হিসেবে কাজ করে, সরকারের ভুলত্রুটি ধরিয়ে দেয় এবং সরকারের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে সহায়তা করে।
- তাই একে রাষ্ট্রের পঞ্চম স্তম্ভ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। 

উৎস: i) পৌরনীতি ও সুশাসন একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি ১ম পত্র, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
ii) Britannica.
১৬.
'ওয়াশিংটন কনসেনসাস' কোন নীতির সাথে সম্পৃক্ত?
  1. নয়া উদারতাবাদী অর্থনীতি
  2. কেইনসীয় অর্থনীতি
  3. মার্কসবাদী অর্থনীতি
  4. সমাজতান্ত্রিক অর্থনীতি
সঠিক উত্তর:
নয়া উদারতাবাদী অর্থনীতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নয়া উদারতাবাদী অর্থনীতি
ব্যাখ্যা
ওয়াশিংটন কনসেনসাস:
- ওয়াশিংটন কনসেনসাস নয়া উদারতাবাদী অর্থনৈতিক নীতি বাস্তবায়নের সাথে সম্পৃক্ত।
- মূলত আই এম এফ, বিশ্বব্যাংক, আর যুক্তরাষ্টের ট্রেজারী বিভাগকে পরোক্ষভাবে 'ওয়াশিংটন কনসেনসাস' বলে।
- এই তিনটি প্রতিষ্ঠান কতগুলো সংস্কার প্রস্তাব দিয়ে থাকে যা উন্নয়নশীল দেশগুলোতে প্রয়োগ করা হয়।
- ধারণাটি সর্বপ্রথম ১৯৮৯ জনসম্মুখে নিয়ে আসেন জন উইলিয়ামসন নামের একজন অর্থনীতিবিদ যিনি ওয়াশিংটনভিত্তিক একজন আন্তর্জাতিক অর্থনীতিবিদ ছিলেন। 

⇒ নীতিগুলো হচ্ছে:
- বাণিজ্য উদার করা, অন্তর্মুখী বিনিয়োগ বৃদ্ধি, অর্থনৈতিক-শৃঙ্খলা, দক্ষ সরকারি ব্যয়ের অগ্রাধিকার, কর সংস্কার, ফিন্যানশিয়াল উদারীকরণ, প্রতিযোগিতামূলক বিনিময় হার, বেসরকারি খাতে হস্তান্তরকরণ নিয়ন্ত্রণ শিথিল করা এবং সম্পত্তির অধিকার নিশ্চিত করা।

উৎস: Britannica.
১৭.
'স্বাধীনতা ও সাম্য পরস্পর বিরোধী এবং আপোসহীন'-উক্তিটি করেছেন -
  1. লর্ড এ্যাকটন
  2. জি, ডি, এইচ, কোল
  3. আর, এইচ টনী
  4. হার্বার্ট এ, ডীন
সঠিক উত্তর:
লর্ড এ্যাকটন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লর্ড এ্যাকটন
ব্যাখ্যা
সাম্য ও স্বাধীনতা:
- সাম্য ও স্বাধীনতার পারস্পরিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে দুটো পরস্পর বিরোধী মতবাদ প্রচলিত রয়েছে।
ক. 'স্বাধীনতা ও সাম্য পরস্পর বিরোধী'.
খ. 'স্বাধীনতা ও সাম্য পরস্পর সম্পূরক'.

ক. স্বাধীনতা ও সাম্য পরস্পর বিরোধী এবং আপোসহীন। একটির উপস্থিতি অপরটির মৃত্যু ঘটায়।
- লর্ড এ্যাকটন (Lord Acton) এ মতবাদে বিশ্বাসী। তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, সাম্য ব্যক্তি স্বাধীনতার উপর সামাজিক নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে।
- বলা বাহুল্য, লর্ড এ্যাকটেনের এ মতবাদ গ্রহণযোগ্য নয়। কেননা, তাঁর মতানুসারে স্বাধীনতার অর্থ দাঁড়ায় নিয়ন্ত্রণবিহীন স্বাধীনতা যা প্রকৃত প্রস্তাবে স্বেচ্ছারিতারই নামান্তর। আর সাম্য বলতে বোঝায় সুযোগের সমতা: সকল মানুষ সমান তা নয়।

খ. 'স্বাধীনতা ও সাম্য পরস্পর সম্পূরক। অর্থাৎ সাম্য ও স্বধীনতা পরস্পর বিরোধী নয়। একটি অপরটির পথে অন্তরায় তো নয়ই বরং উভয়ে পরস্পর সহায়ক ও সম্পূরক। স্বাধীনতার প্রকৃত অর্থ অনুধাবন করলে দেখা যায় যে, অন্যের অনুরূপ স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ না করে স্বীয় ইচ্ছানুসারে সবকিছু করার যে ক্ষমতা সেটিই স্বাধীনতা। কাজেই এটি স্পষ্ট যে, সাম্য ব্যতীত স্বাধীনতা কার্যকর হতে পারে না। অসাম্য স্বাধীনতার অন্তরায় এবং এর বিনষ্টকারী। অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে সাম্য প্রতিষ্ঠিত না হলে নাগরিক স্বাধীনতা বিনষ্ট হতে বাধ্য।
- জি, ডি, এইচ, কোল (G. D. H. Cole) এবং আর, এইচ টনী (R. H. Tawny) উভয়ে এ মতবাদে বিশ্বাসী। তাঁরা সাম্যের উপস্থিতিকে স্বাধীনতার জন্য প্রকান্ত অপরিহার্য বলে মনে করেন। হার্বার্ট এ, ডীন (Herbert A. Deane) যথার্থই বলেন, "স্বাধীনতা ও সাম্য একে অপরের বিরোধী নয়, এমনকি এ দুটো পরস্পর বিচ্ছিন্নও নয় বরং একই আদর্শের ভিন্ন বিষয় মাত্র।" আধুনিক গণতান্ত্রিক যুগে এটি এক অনন্য সত্য।

উৎস: রাষ্ট্রবিজ্ঞান: রাষ্ট্রতত্ত্ব, এস এস এইচ এল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৮.
ম্যাকাইভার এবং পেজের মতে, আমরা যা তা হলো ___ এবং আমরা যা ব্যবহার করি তা হলো _________'
  1. সংস্কৃতি, সভ্যতা
  2. সভ্যতা, সংস্কৃতি
  3. সভ্যতা, সমাজ
  4. সমাজ, সভ্যতা
সঠিক উত্তর:
সংস্কৃতি, সভ্যতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সংস্কৃতি, সভ্যতা
ব্যাখ্যা
সভ্যতা (Civilization):
- সভ্যতা হলো উন্নত জীবনধারা তথা সংস্কৃতির উন্নত ধরন।
- সভ্যতা প্রযুক্তিবিদ্যা, বস্তুগত সংস্কৃতি ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানসমূহের সমষ্টিকে বোঝায়।
- সভ্যতা হচ্ছে সংস্কৃতির অধিকতর অগ্রসর ও জটিল বিষয় যা বিভিন্ন সমাজে প্রবাহিত হয়।
- অর্থাৎ, সমাজ সভ্যতার প্রতিচ্ছবি।
- সমাজের বিশ্লেষণ করেই সভ্যতার সম্পর্কে ধারনা পাওয়া যায়।

উল্লেখ্য, 
• ম্যাকাইভার এবং পেজের মতে 'আমরা যা তা হলো সংস্কৃতি এবং আমরা যা ব্যবহার করি তা হলো সভ্যতা'।

এছাড়াও, 
• স্কটের মতে 'সভ্যতা হচ্ছে একটি উচ্চতর জটিল বিষয় যা সংস্কৃতির সাথে আপেক্ষিকতার আলোকে তুলনা করা হয়।'
• বটোমোরের মতে 'সভ্যতা হলো কতকগুলো নির্দিষ্ট মানবগোষ্ঠীর অভিন্ন সাংস্কৃতিক বৈশিষ্ট্যসমূহের সমন্বয়'।
• জেরি এবং জেরি বলেন, “সভ্যতা হচ্ছে সংস্কৃতির উন্নত ধরন যেমন- কেন্দ্রীয় সরকার, শিল্পকলা ও শিক্ষণের উন্নয়ন, নীতি-নৈতিকতার সমন্বিত রূপ যা নগরের সাথে সম্পর্কিত এবং বৃহত্তর সমাজ যার মধ্যে নির্দিষ্ট।”

উৎস: সমাজবিজ্ঞান ১ম পত্র, এইচএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।