পরীক্ষা আর্কাইভ

নতুনদের বিসিএস প্রস্তুতি - ২০০ দিনে পুরো সিলেবাস

পরীক্ষানতুনদের বিসিএস প্রস্তুতি - ২০০ দিনে পুরো সিলেবাসতারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়19 minutes
মোট প্রশ্ন৩৬
সিলেবাস
আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি: টপিকসমূহ: ১. আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা, ভূ-রাজনীতি: [গুরুত্বপূর্ণ মহাদেশ, দেশ (যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ভারত, চীন, ফ্রান্স, রাশিয়ার, মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি, কানাডা, অস্ট্রেলিয়ার, দক্ষিণ আফ্রিকা, জাপান প্রভৃতি) ইত্যাদি সম্পর্কিত সাধারণ তথ্য ও ইতিহাস] ২. আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ও আন্তঃরাষ্ট্রীয় ক্ষমতা সম্পর্ক: নিরাপত্তা ও কূটনীতি সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক গুরুত্বপূর্ণ চুক্তিসমূহ [অর্থনৈতিক ও পরিবেশ সংক্রান্ত চুক্তি বাদে] উৎস: বোর্ড বই [NCTB ও উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়], ব্রিটানিকা, ওয়ার্ল্ড এটলাস ওয়েবসাইট, সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইট এবং যেকোনো গাইডবই। [গাইড বই থেকে পড়ার ক্ষেত্রে কনফিউজিং বিষয়গুলো ক্রসচেক করে পড়া উত্তম।]
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

নতুনদের বিসিএস প্রস্তুতি - ২০০ দিনে পুরো সিলেবাস

নতুনদের বিসিএস প্রস্তুতি - ২০০ দিনে পুরো সিলেবাস · তারিখ অনির্ধারিত · ৩৬ প্রশ্ন

.
বর্তমানকালের দৃশ্যমান মহাদেশগুলোর আদি-অকৃত্রিম রূপ -
  1. ক) প্যানথালাসা
  2. খ) প্যানজিয়া
  3. গ) গন্ডোয়ানাল্যান্ড
  4. ঘ) লরেশিয়া
ব্যাখ্যা
• বিজ্ঞানী ওয়েগনারের মতে, ইন্ডিয়া, সাউথ আমেরিকা, আফ্রিকা, অস্ট্রেলিয়া ও অ্যান্টার্কটিকা একসঙ্গে জড়ো হয়ে গন্ডোয়ানাল্যান্ড গঠন করে।
- অন্যদিকে, নর্দান আমেরিকা, ইউরোপ, নর্থ ও মিড এশিয়া লরেশিয়ার অন্তর্ভুক্ত।
- এই দুই ভূখণ্ড গন্ডোয়ানাল্যান্ড ও লরেশিয়া মিলে যে সুবিশাল স্থলভাগ গঠন করেছিল সেটির নামই প্যানজিয়া
- এই প্যানজিয়াই হলো বর্তমানকালের দৃশ্যমান মহাদেশগুলোর আদি-অকৃত্রিম রূপ।
- আলফ্রেড ওয়েগনার এই প্যানজিয়াকে ঘিরে থাকা বিশাল জলভাগের নামকরণ করেছিলেন প্যানথালাসা।

সুত্র: ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক
.
প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সূত্রপাত হয়েছিল -
  1. ক) ১৯১২ সালে
  2. খ) ১৯১৩ সালে
  3. গ) ১৯১৪ সালে
  4. ঘ) ১৯১৫ সালে
ব্যাখ্যা
• প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সূত্রপাত হয়েছিল ১৯১৪ সালের ২৮ জুন অস্ট্রিয়ার যুবরাজ আর্কডিউক ফার্ডিন্যান্ড, বসনিয়ার রাজধানী সারায়েভোতে আততায়ীর হাতে নিহত হবার ঘটনার মধ্য দিয়ে।

• এর আগে অস্ট্রিয়ার সাথে সার্বিয়ার শত্রুতা চরম আকার ধারণ করেছিল।
- ধারণা করা হয়েছিল সার্বিয়ার নেতৃবৃন্দ এই হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত।
- এই হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে অস্ট্রিয়া কিছু শর্তসহ চরমপত্র দেয়।
- কিন্তু সার্বিয়া ওইসব শর্ত (অস্ট্রিয়া বিরোধী সকল প্রচারণা বন্ধ, হত্যাকাণ্ডের তদন্তে রাজকর্মচারীদের সুযোগ দেওয়া, অস্ট্রিয়াবিরোধী সকল সার্বীয় কর্মচারী ও স্কুল শিক্ষকদের চাকরিচ্যুতি) না মানলে অস্ট্রিয়া ও জার্মান সেনাবাহিনী সারায়েভোতে অভিযান চালায়।
- রাশিয়া, ফ্রান্স সার্বিয়ার পাশে এসে দাঁড়ায়। ফলে জার্মানি ফ্রান্স ও রাশিয়া আক্রমণ করে। আর এভাবেই যুদ্ধ শুরু হয়ে যায়।
- যুদ্ধের মধ্য দিয়েই জন্ম হয় কেন্দ্রীয় শক্তিজোট (জার্মানি, অস্ট্রিয়া ও তুরস্ক) ও মিত্রশক্তি জোটের (রাশিয়া, ফ্রান্স, ব্রিটেন, জাপান, সার্বিয়া, বেলজিয়াম)। 
- ১৯১৮ সালের ১১ নভেম্বর প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পরিসমাপ্তি ঘটে। 

সূত্র: বিশ্বরাজনীতির ১০০ বছর, তারেক শামসুর রেহমান।
.
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে অ্যাডলফ হিটলার প্রথম আক্রমণ করে কোন দেশে?
  1. ক) পোল্যান্ড
  2. খ) ব্রিটেন
  3. গ) সার্বিয়া
  4. ঘ) ফ্রান্স
ব্যাখ্যা
• ১৯৩৯ সালের ১ সেপ্টেম্বর অ্যাডলফ হিটলারের জার্মানি পোল্যান্ড আক্রমণ করে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শুরু করেন।
- এর দুদিন পরেই ব্রিটেন ও ফ্রান্স জার্মানির বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে।
- ১৯৪০ সালের মে মাসে হিটলার ফ্রান্স আক্রমণ করেন এবং মাত্র ছয় সপ্তাহের মধ্যে ফ্রান্স দখল করে নেন।

• দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধেও পৃথিবীর ক্ষমতাধর রাষ্ট্রগুলো দুভাগে বিভক্ত হয়ে গিয়েছিল।
- জার্মানি, জাপান, ইতালির সমন্বয়ে গঠিত  অক্ষশক্তির  প্রধান প্রতিপক্ষ ছিল রাশিয়া, ব্রিটেন, ফ্রান্স ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সমন্বয়ে গঠিত মিত্রশক্তি। 
- যুদ্ধে একের পর এক জার্মানির পরাজয়ের পরিপ্রেক্ষিতে ১৯৪৫ সালের এপ্রিলে জার্মানি ও ইতালি মিত্রবাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ করে। হিটলার আত্মহত্যা করেন, আর মুসোলিনিকে গ্রেফতার করে হত্যা করা হয়।
- ১৪ আগস্ট (১৯৪৫) জাপান শর্তহীনভাবে আত্মসমর্পণ করে।  

সূত্র: বিশ্বরাজনীতির ১০০ বছর, তারেক শামসুর রেহমান।
.
R2P এর পূর্ণরূপ -
  1. ক) Responsibility to Propaganda
  2. খ) Responsibility to Protect
  3. গ) Responsibility to Provide
  4. ঘ) Responsibility to Protest
ব্যাখ্যা
• R2P এর পূর্ণরূপ - Responsibility to Protect

• Responsibility to Protect:
- আর টু পি বা Responsibility to Protect তত্ত্ব মূলত এক ধরণের কমিটমেন্ট, যা জাতিসংঘের সদস্যপদ প্রাপ্ত প্রতিটি রাষ্ট্র মানতে বাধ্য। জাতিসংঘের ২০০৫ সালের এক শীর্ষ সম্মেলনে ‘আর টু পি’ গ্রহণ করা হয়।
- এর উদ্দেশ্য হচ্ছে গণহত্যা যুদ্ধ বন্ধ, ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র জাতিসত্তাকে নিমূর্লের হাত থেকে রক্ষা করা, যুদ্ধাপরাধ, ইত্যাদি ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা।
- অর্থাৎ একটা বিশাল জনগোষ্ঠীকে সকল ধরনের সন্ত্রাস, গণহত্যার হাত থেকে রক্ষা করার জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করার কথা বলা হয়েছে এই তত্ত্বে।
- এই তত্ত্বের আওতায় যে রাষ্ট্র বা গোষ্ঠী যুদ্ধাপরাধ সংঘটিত করছে, তার বিরুদ্ধে বলপ্রয়োগ, সামরিক শক্তি প্রয়োগ, অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিধান রাখা হয়েছে।
- জাতিসংঘের মহাসচিব ২০০৯ সাল থেকে প্রতিবছর এই তত্ত্বের আওতায় কী ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন, সে সম্পর্কে রিপোর্ট প্রদান করেন।
- লিবিয়া, সুদান, সিরিয়ায় এই তত্ত্ব প্রয়োগ করে গণহত্যা বন্ধ ও ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীকে উচ্ছেদ অভিযান থেকে রক্ষা করার জন্য বৃহৎ রাষ্ট্রকে সামরিক অভিযান চালাতে আমরা দেখেছি।
- যদিও এই তত্ত্বের প্রয়োগ নিয়ে এখনও বিতর্ক আছে।

সূত্র: আন্তর্জাতিক রাজনীতিকোষ, তারেক শামসুর রেহমান।
.
‘নীলনদের দান' বলে অভিহিত করা হয় -
  1. ক) সুদানকে
  2. খ) দক্ষিণ সুদানকে
  3. গ) উগান্ডাকে
  4. ঘ) মিশরকে
ব্যাখ্যা
মিশর:
- আফ্রিকা মহাদেশের উত্তর-পূর্ব অংশে মিশরের অবস্থান।
- এটি ১৯২২ সালে ব্রিটেনের কাছ থেকে স্বাধীনতা লাভ করে।
- এর রাষ্ট্রীয় নাম ‘রিপাবলিকান অব ইজিপ্ট' যা মিশর নামে পরিচিত।
- মিশরের রাজধানী কায়রো।
- এদেশের সাথে চারটি দেশের স্থল সীমানা রয়েছে।
- দেশসমূহ হলো-ইসরাইল, লিবিয়া, সুদান এবং ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকা।
- অবশিষ্ট এলাকা ভূ-মধ্যসাগর ও লোহিত সাগর দ্বারা বেষ্টিত। 
- মিশর নীলনদের উপর খুব বেশি মাত্রায় নির্ভরশীল হওয়ায় একে ‘নীলনদের দান' বলে অভিহিত করা হয়।
- বৃহত্তম শহরগুলোর মধ্যে রয়েছে আলেকজান্দ্রিয়া, গিজা, পোর্ট সৈয়দ, সুয়েজ, আসওয়ান প্রভৃতি।
- এখানকার প্রায় ৯৫% মানুষ নীলনদ প্লাবিত অববাহিকায় বসবাস করে।
- মিশরের প্রাচীন সভ্যতার তীর্থভূমি হিসেবে সুপরিচিত।
- ঐতিহাসিক নিদর্শনসমূহের মধ্যে অন্যতম ফারাও সম্রাটদের নির্মিত পিরামিড।

সূত্র: ভূগোল ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
.
'ওয়াটারগেট কেলেঙ্কারি' সাথে জড়িত দেশের নাম -
  1. ক) যুক্তরাজ্য
  2. খ) যুক্তরাষ্ট্র
  3. গ) ভারত
  4. ঘ) পাকিস্তান
ব্যাখ্যা
ওয়াটারগেট কেলেঙ্কারি: 
• ওয়াশিংটনের একটি হোটেলের নাম ওয়াটারগেট। সেখানে ডেমোক্র্যাট ন্যাশনাল কমিটির কার্যালয় ছিল। ১৯৭২ সালের ১৬ জুন রাত থেকে ১৭ জুন পর্যন্ত ওয়াটারগেট হোটেল এবং অফিস কমপ্লেক্সে ডেমোক্রেটিক ন্যাশনাল কমিটির সদর দপ্তরে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁদের কাছ থেকে আড়ি পাতার যন্ত্র উদ্ধার করা হয়।

• রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সন তখন দ্বিতীয় মেয়াদে নির্বাচিত হওয়ার চেষ্টা করছিলেন। তাঁর নির্বাচন কমিটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কয়েকজন প্রতিপক্ষ ডেমোক্রেটিক পার্টির খবর পেতে ওয়াশিংটন ডিসিতে অবস্থিত দলটির সদর দপ্তরে গোপনে টেপ রেকর্ডার স্থাপন করেছিলেন। ঘটনাটি ফাঁস হওয়ার পর হোয়াইট হাউসের কয়েকজন কর্মকর্তা পদত্যাগ করেন 

• ১৯৭৪ সালের এপ্রিলে চাপের মুখে কিছু টেপ প্রকাশ করেন নিক্সন। জুলাইয়ে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে টেপগুলো হস্তান্তর করেন নিক্সন। স্বীকার করেন, আড়ি পাতা সম্পর্কে জানতেন তিনি। এফবিআইয়ের তদন্তে বাধা দিয়েছিলেন। আগস্ট নাগাদ জনমত চলে যায় বিপক্ষে। শুরু হয় সাংবিধানিক সংকট। কংগ্রেসের একটা বড় অংশ চলে যায় নিক্সনের বিরুদ্ধে। এ অবস্থায় কংগ্রেসে অভিসংশন শুনানি এড়াতে ১৯৭৪ সালের ৮ আগস্ট পদত্যাগের ঘোষণা দেন তিনি।

সূত্র: প্রথম আলো।
.
'বেলফোর ঘোষণা' করা হয় কবে?
  1. ক) ১৯১৭ সালের ১ ডিসেম্বর
  2. খ) ১৯১৭ সালের ২ ডিসেম্বর
  3. গ) ১৯১৮ সালের ১ ডিসেম্বর
  4. ঘ) ১৯১৮ সালের ২ ডিসেম্বর
ব্যাখ্যা
বেলফোর ঘোষণা (Balfour Delclaration):
- বেলফোর ঘোষণার সাথে আজকের ইহুদী রাষ্ট্র ইসরাইল প্রতিষ্ঠার প্রশ্নটি সরাসরিভাবে জড়িত।
- ১৯১৭ সালের ২ ডিসেম্বর তৎকালিন ব্রিটেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ জে বেলফো ব্রিটিশ জায়নিষ্ঠ ফেডারেশনের সভাপতি লর্ড রথচাইল্ডকে একটি চিঠি দেন।
- ওই চিঠির উদ্দেশ্য ছিল ইহুদীদের জন্য একটি আবাসভূমি প্রতিষ্ঠা।
- ইতিহাসে এটাই বেলফোর ঘোষণা হিসেবে পরিচিত।
- ১৯৪৭ সালে জাতিসংঘ প্যালেস্টাইন অধ্যুষিত আরব এলাকা বিভক্তির মধ্যে দিয়ে ইসরাইল রাষ্ট্রটি প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত নেয়। 
- ১৯৪৮ সালে ইসরাইল প্রতিষ্ঠিত হয়।

সূত্র: আন্তর্জাতিক রাজনীতিকোষ, তারেক শামসুর রেহমান।
.
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে বাফার স্টেট ছিল কোন দেশ?
  1. ক) ফ্রান্স
  2. খ) জার্মানি
  3. গ) রাশিয়া
  4. ঘ) বেলজিয়াম
ব্যাখ্যা
বাফার স্টেট: 
- দুটি বৃহৎ অথচ বিপরীতমনা রাষ্ট্রের ভৌগোলিক অবস্থানের মধ্যবর্তী এলাকায় অবস্থিত কোন ক্ষুদ্র রাষ্ট্র, যা সংঘর্ষে জড়িয়ে যেতে রাষ্ট্র দুটোকে নিবৃত্ত করে তাকে বাফার স্টেট বলে।
- দুটি বৃহৎ শক্তিশালী দেশের মধ্যস্থলে অবস্থিত ক্ষুদ্র রাষ্ট্রটি শক্তির ভারসাম্য বজায় রাখতে অনেক সময় বিশেষভাবে সাহায্য করে।
- দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী রাষ্ট্র ফ্রান্স ও জার্মানির মধ্যবর্তী এলাকায় অবস্থিত বেলজিয়ামের কথা উল্লেখ করতে পারি।

সূত্র: আন্তর্জাতিক রাজনীতিকোষ, তারেক শামসুর রেহমান।
.
কোন দ্বীপটি আটলান্টিক মহাসাগরে অবস্থিত নয়?
  1. ক) ফকল্যান্ড
  2. খ) রোবেন দ্বীপ
  3. গ) সেন্ট হেলেনা
  4. ঘ) সিসিলি
ব্যাখ্যা
• আটলান্টিক মহাসাগরে অবস্থিত দ্বীপসমূহ:
- ফকল্যান্ড (যুক্তরাজ্য),
- গ্রেট ব্রিটেন,
- রোবেন দ্বীপ (দ. আফ্রিকা),
- সেন্ট হেলেনা (যুক্তরাজ্য)।

• ভূমধ্যসাগরে অবস্থিত দ্বীপসমূহ:
- সিসিলি (ইতালি),
- সাইপ্রাস,
- মাল্টা।

উৎস: World Atlas
১০.
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র 'ডমিনো তত্ত্ব' প্রয়োগ করে -
  1. ক) ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়া ও লাওসে
  2. খ) চীন, মঙ্গোলিয়া ও উত্তর কোরিয়ায়
  3. গ) সোমালিয়া, ইরিত্রিয়া, ও সুদানে
  4. ঘ) মালি, ঘানা ও লাইবেরিয়ায়
ব্যাখ্যা
ডমিনো তত্ত্ব (Domino Theory):
- ডমিনো তত্ত্ব-এর মূল কথা হচ্ছে কোনো একটি দেশে যদি সমাজতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়, তাহলে তার পাশের এবং আশেপাশের দেশগুলোও এই মতাদেশে উদ্বুদ্ধ হবে এবং এক সময় রাষ্ট্রগুলো সমাজতন্ত্রী রাষ্ট্রে পরিণত হবে।
- মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বিংশ শতাব্দীর সত্তরের দশকে দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ায় বিশেষ করে ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়া ও লাওসে এই তত্ত্ব প্রয়োগ করে সেখানে সমাজতন্ত্রের উত্থান ঠেকাতে সামরিক হস্তক্ষেপ করেছিল।
- তবে প্রেসিডেন আইসেনহাওয়ার এর ১৯৫৪ সালের ৭ এপ্রিলের সংবাদ সম্মেলনে প্রথমবারের মতো পরোক্ষভাবে ডমিনো তত্ত্ব-এর কথা বলেছিলেন। মূল বিষয় ছিল কোনো অবস্থাতেই দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া এবং অন্যত্র সমাজতন্ত্রের প্রসারকে এগিয়ে নিজে যেতে দেয়া যাবে না। প্রয়োজনে সেইসব দেশে সামরিক হস্তক্ষেপ কর হবে। 

সূত্র: আন্তর্জাতিক রাজনীতিকোষ, তারেক শামসুর রেহমান।
১১.
প্রথম বিশ্বযুদ্ধে মিত্রশক্তি জোট -
  1. ক) জার্মানি, অস্ট্রিয়া ও তুরস্ক
  2. খ) রাশিয়া, ফ্রান্স, ব্রিটেন
  3. গ) জাপান, সার্বিয়া, বেলজিয়াম
  4. ঘ) খ+গ
ব্যাখ্যা
•  প্রথম বিশ্বযুদ্ধের মধ্য দিয়েই জন্ম হয় কেন্দ্রীয় শক্তিজোট (জার্মানি, অস্ট্রিয়া ও তুরস্ক) ও মিত্রশক্তি জোটের (রাশিয়া, ফ্রান্স, ব্রিটেন, জাপান, সার্বিয়া, বেলজিয়াম)। 

• প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সূত্রপাত হয়েছিল ১৯১৪ সালের ২৮ জুন অস্ট্রিয়ার যুবরাজ আর্কডিউক ফার্ডিন্যান্ড, বসনিয়ার রাজধানী সারায়েভোতে আততায়ীর হাতে নিহত হবার ঘটনার মধ্য দিয়ে।
- এর আগে অস্ট্রিয়ার সাথে সার্বিয়ার শত্রুতা চরম আকার ধারণ করেছিল।
- ধারণা করা হয়েছিল সার্বিয়ার নেতৃবৃন্দ এই হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত।
- এই হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে অস্ট্রিয়া কিছু শর্তসহ চরমপত্র দেয়।
- কিন্তু সার্বিয়া ওইসব শর্ত (অস্ট্রিয়া বিরোধী সকল প্রচারণা বন্ধ, হত্যাকাণ্ডের তদন্তে রাজকর্মচারীদের সুযোগ দেওয়া, অস্ট্রিয়াবিরোধী সকল সার্বীয় কর্মচারী ও স্কুল শিক্ষকদের চাকরিচ্যুতি) না মানলে অস্ট্রিয়া ও জার্মান সেনাবাহিনী সারায়েভোতে অভিযান চালায়।
- রাশিয়া, ফ্রান্স সার্বিয়ার পাশে এসে দাঁড়ায়। ফলে জার্মানি ফ্রান্স ও রাশিয়া আক্রমণ করে। আর এভাবেই যুদ্ধ শুরু হয়ে যায়।
- যুদ্ধের মধ্য দিয়েই জন্ম হয় কেন্দ্রীয় শক্তিজোট (জার্মানি, অস্ট্রিয়া ও তুরস্ক) ও মিত্রশক্তি জোটের (রাশিয়া, ফ্রান্স, ব্রিটেন, জাপান, সার্বিয়া, বেলজিয়াম)। 
- ১৯১৮ সালের ১১ নভেম্বর প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পরিসমাপ্তি ঘটে। 

সূত্র: বিশ্বরাজনীতির ১০০ বছর, তারেক শামসুর রেহমান। 
১২.
ইতিহাসে দুই পরাশক্তির মধ্যে উত্তেজনা প্রশমন অবস্থাকে বলা হয় -
  1. ক) শ্বেতপত্র (White Paper)
  2. খ) দাঁতাত (Detente)
  3. গ) স্নায়ুযুদ্ধ (Cold War)
  4. ঘ) শান্তি চুক্তি (Peace Pact)
ব্যাখ্যা
দাঁতাত (Detente) বা উত্তেজনা প্রশমন: 
ষাটের দশকের শুরুতে দুই পরাশক্তির মধ্যে সামরিক উত্তেজনা অত্যন্ত বেশি মাত্রায় প্রসারিত হয়েছিল। বিশেষ করে ১৯৬১ সালের এপ্রিলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক কিউবার সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্রবিরোধী অভিযানে সহায়তা প্রদান, একই বছর পূর্ব জার্মানিতে সোভিয়েত সমর্থনে পূর্ব ও পশ্চিম বার্লিনকে বিভক্তকারী প্রাচীর (Berlin Wall) নির্মাণ, ১৯৬২ সালে সংঘটিত কিউবান মিসাইল সংকট (Cuban Missile Crisis)—এই উত্তেজনা বৃদ্ধির পশ্চাতে সবচেয়ে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে। কিউবান মিসাইল সংকট ছিল সবচেয়ে ভয়াবহ ও উত্তেজনাপূর্ণ অধ্যায়। এ সংকটকে কেন্দ্র করে উভয় পরাশক্তির মধ্যে নতুন সম্পর্কের উদ্ভব হয়। তারা বিশ্বকে পরমাণু যুদ্ধের আশঙ্কা থেকে যুক্ত করতে ও উভয়ের মধ্যে উত্তেজনা প্রশমন করতে সম্মত হয়। মস্কো ও ওয়াশিংটনের মধ্যে সরাসরি টেলিফোন যোগাযোগ (Hotline) প্রতিষ্ঠিত হয়। ইতিহাসে উভয় পরাশক্তির মধ্যে এ উত্তেজনা প্রশমন অবস্থাকে দাঁতাত (Detente) বলা হয়। 

সূত্র: বিশ্বরাজনীতির ১০০ বছর, তারেক শামসুর রেহমান।
১৩.
কোন আন্দোলনের সাথে 'পঞ্চশীলা' নীতির সর্ম্পক রয়েছে?
  1. ক) জোট নিরপেক্ষ আন্দোলন
  2. খ) অসহযোগ আন্দোলন
  3. গ) নকশাল আন্দোলন
  4. ঘ) ফরায়েজি আন্দোলন
ব্যাখ্যা
• 'পঞ্চশীলা' নীতি:
 ১৯৫৪ সালের এপ্রিল মাসে ভারত-চীন সম্পর্ক নির্ধারণের জন্য পাঁচটি নীতি গৃহীত হয়েছিল। এই পাঁচটি নীতি 'পঞ্চশীলা' নামে পরিচিত। 'পঞ্চশীলা" নীতি জোট নিরপেক্ষ আন্দোলনের পথকে আরোও ত্বরান্বিত করেছিল।

• এই পাঁচটি নীতি হলো:
[১] শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান;
[২] ভূঅখণ্ডতা এবং সার্বভৌমিকতা সম্পর্কে পারস্পরিক শ্রদ্ধা; 
[৩] অনাগ্রাসন; 
[8] অন্যের অভ্যন্তরীণ ব্যাপারে হস্তক্ষেপ না করা;
[৫] সমতা ও পারস্পরিক সুবিধা।

• এই ‘পঞ্চশীল নীতির ওপর ভিত্তি করেই জোট নিরপেক্ষ আন্দোলনের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপিত হয়েছিল। তবে বান্দুং সম্মেলন ও কায়রো সম্মেলনে জোট গঠনের প্রাথমিক কাজ সম্পন্ন হয়। জোট নিরপেক্ষ আন্দোলনের প্রধান প্রবক্তা এবং নেতা ছিলেন ভারতের পণ্ডিত জওহরলাল নেহেরু, সাবেক যুগোশ্লাভিয়ার মার্শাল টিটো, ইন্দোনেশিয়ার সুকর্ন, মিশরের নাসের এবং ঘানার নক্রমা।

সূত্র: বিশ্বরাজনীতির ১০০ বছর, তারেক শামসুর রেহমান।
১৪.
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে পরমাণু অস্ত্র নিষিদ্ধকরণ চুক্তি অনুমোদন হয়েছিল কত সালে?
  1. ক) ২০১৫ সালে
  2. খ) ২০১৬ সালে
  3. গ) ২০১৭ সালে
  4. ঘ) ২০১৮ সালে
ব্যাখ্যা
পরমাণু অস্ত্র নিষিদ্ধকরণ চুক্তি ২০১৭:
- জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে এই চুক্তি ২০১৭ সালে অনুমোদন করেছিল ১২২টি দেশ।
- কিন্তু এটি আইন হিসাবে কার্যকর করতে অন্তত ৫০টি দেশের চূড়ান্ত অনুমোদনের প্রয়োজন ছিল।
- পঞ্চাশতম দেশ হিসাবে চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে হন্ডুরাস।
- এর ফলে আগামী নব্বই দিন পর এই চুক্তি কার্যকর হবে।
- তবে এ চুক্তি বয়কট করেছে পরমাণু শক্তিধর রাষ্ট্র যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন ও ফ্রান্স।
- নতুন পরমাণু চুক্তির পরিবর্তে এ দেশ তিনটি কয়েক দশকের পুরনো পরমাণু অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তিতেই প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকবে বলে জানিয়েছে।
- পরমাণু যুদ্ধ এড়াতে সাত দশকের প্রচেষ্টার পর প্রথমবারের মতো পারমাণবিক অস্ত্র নিষিদ্ধ করতে বৈশ্বিক ওই চুক্তি হয়। জাতিসংঘের ১৯৩টি সদস্য দেশের মধ্যে দুই-তৃতীয়াংশ দেশের আলোচকরা ১০ পাতার চুক্তি চূড়ান্ত করেন।

সূত্র: বিবিসি বাংলা ও আন্তর্জাতিক রাজনীতিকোষ, তারেক শামসুর রেহমান।
১৫.
সারাবছর বরফে আচ্ছন্ন থাকে বলে মানুষ বসবাসের অনুপযোগী মহাদেশ কোনটি?
  1. ক) এন্টার্কটিকা
  2. খ) আফ্রিকা
  3. গ) উওর আমেরিকা
  4. ঘ) দক্ষিণ আমেরিকা
ব্যাখ্যা
এন্টার্কটিকা (Antarctica):
- এন্টার্কটিকা মহাদেশ আয়তনে বিশ্বে পঞ্চম।
- এ মহাদেশটি পৃথিবীর দক্ষিণ প্রান্তে অবস্থিত এবং দক্ষিণ মেরুকে কেন্দ্র করে প্রায় বৃত্তাকারে অবস্থিত।
- এ মহাদেশের চতুর্দিকে দক্ষিণ মহাসাগর অবস্থিত।
- মহাদেশটি সারাবছর বরফে আচ্ছন্ন থাকে বলে মনুষ্য বসবাসের অনুপযোগী।
-  শীতলতম এই মহাদেশে কোনো দেশ নেই।
- এখানকার উল্লেখযোগ্য প্রাণি অ্যালবাট্রস, পেঙ্গুইন, সীল ইত্যাদি।
- এছাড়া এ মহাদেশে মস ও শৈবাল জাতীয় উদ্ভিদ জন্মে।

সূত্র: ভূগোল ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও World Atlas।
১৬.
'সাংহাই' সমুদ্র বন্দর কোথায়?
  1. ক) চীনে
  2. খ) ভারতে
  3. গ) শ্রীলঙ্কায়
  4. ঘ) পাকিস্তানে
ব্যাখ্যা
• চীনে অবস্থিত সমুদ্র বন্দর: সাংহাই, কিনগাদু, হংকং, ক্যান্টন, গুয়াংজু ইত্যাদি

অন্যদিকে,
- শ্রীলঙ্কায় অবস্থিত সমুদ্র বন্দর: কলম্বো, হাম্বানটোটা।
- বাংলাদেশে অবস্থিত সমুদ্র বন্দর: চট্টগ্রাম, মংলা।
- ভারতে অবস্থিত সমুদ্র বন্দর: কান্দলা, মুম্বাই, চেন্নাই, বিশাখাপটনাম, পোর্ট ব্লেয়ার।
- পাকিস্তানে অবস্থিত সমুদ্র বন্দর: করাচি, গোয়াদার (বেলুচিস্তান)

উৎস: World Atlas
১৭.
Debt-Trap Diplomacy সাথে সম্পৃক্ত দেশ -
  1. ক) যুক্তরাষ্ট্র
  2. খ) যুক্তরাজ্য
  3. গ) চীন
  4. ঘ) জাপান
ব্যাখ্যা
ঋণফাঁদ কূটনীতি:
- 'ঋণফাঁদ কূটনীতি'- বেশ চটকদার এই শব্দযুগল ২০১৭ সালে ভারতীয় ভূ-কৌশলবিদ ব্রহ্মা চেলানি প্রথম ব্যবহার করেন।
তাঁর মতে, যখন কোনো ঋণগ্রস্ত দেশ অর্থ প্রদানের শর্তাবলি পূরণ করতে পারে না, তখন অর্থনৈতিক বা রাজনৈতিক বিভিন্ন সুবিধা লাভে চীন সেই দেশকে ঋণ প্রদান করে।
- এভাবে দরিদ্র দেশগুলোকে ঋণে জর্জরিত করার মধ্য দিয়ে চীন প্রধানত সেসব দেশের ওপর আধিপত্য বিস্তার করে।

সূত্র: Project-Syndicate
১৮.
প্রথম বিশ্বযুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ছিলেন কে?
  1. ক) ফ্রাংক্‌লিন ডি. রুজভেল্ট
  2. খ) উড্রো উইলসন
  3. গ) হ্যারি এস ট্রুম্যান
  4. ঘ) জন এফ কেনেডি
ব্যাখ্যা
• উইলসনের ১৪ দফা:
- উড্রো উইলসন ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের ২৮তম প্রেসিডেন্ট।
- তিনি ক্ষমতায় ছিলেন ১৯১৩ থেকে ১৯২১ সাল পর্যন্ত।
- তিনি প্রথম বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে তার ১৪ দফা উপস্থাপন করেছিলেন।
- ১৯১৮ সালের ৮ জানুয়ারি তিনি কংগ্রেসে তার দাবিসমূহ উপস্থাপন করেন।

• তার ১৪ দফা প্রস্তাবে ছিল :
১. আলোচনার মাধ্যমে শান্তিচুক্তি স্বাক্ষর;
২. সমুদ্রপথে অবাধ যাতায়াত,
৩. আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের সব বাধা অপসারণ,
৪. যুদ্ধ উপকরণ ও যুদ্ধাস্ত্রের পরিমাণ হ্রাস করা,
৫. উপনিবেশগুলোর জনগণের স্বার্থানুসারে উপনিবেশ সম্পর্কিত দাবির বিচার ও কণ্টন করা; ৬. অধিকৃত রুশ অঞ্চল থেকে সেনা প্রত্যাহার;
৭. বেলজিয়াম থেকে সকল সৈন্য প্রত্যাহার ও বেলজিয়ামের সার্বভৌমত্ব পুনঃস্থাপন;
৮. অধিকৃত ফরাসি এলাকা থেকে সকল বৈদেশিক সৈন্য প্রত্যাহার, আলসাস ও লোরেন এলাকায় ফরাসি অধিকার প্রতিষ্ঠা,
৯. পরিচিত জাতীয় সীমারেখা অনুসারে ইতালির সীমানা পুনর্বিন্যাস;
১০. অস্ট্রীয় হাঙ্গেরি সাম্রাজ্যের জনসাধারণের স্বায়ত্তশাসনের অধিকার দান;
১১. রুমানিয়া, সার্বিয়া ও মন্‌টেনেগ্রো থেকে সেনা অপসারণ, সার্বিয়াকে সামুদ্রিক যোগসূত্র স্থাপনে সুবিধাদান ও বলকান অঞ্চলের দেশগুলোর রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্বাধীনতা নিশ্চিতকরণ;
১২. তুরস্কের অধীনস্থ সকল জাতিগোষ্ঠীর স্বায়ত্তশাসন দান;
১৩. পোলিশ জনগোষ্ঠী অধ্যুষিত এলাকা নিয়ে স্বাতন্ত্র্য পোল্যান্ড রাষ্ট্র গঠন;
১৪. ক্ষুদ্র ও বৃহৎ সকল রাষ্ট্রের রাজনৈতিক স্বাধীনতা ও রাজ্যসীমার নিরাপত্তা রক্ষার জন্য একটি বিশ্বসংস্থা গঠন। 

সূত্র: বিশ্বরাজনীতির ১০০ বছর, তারেক শামসুর রেহমান।
১৯.
Collective Security Treaty Organization এর সদর দফতর -
  1. ক) সেন্ট পির্টাসবার্গে
  2. খ) মস্কোতে
  3. গ) মিনস্কে
  4. ঘ) ওয়ারশতে
ব্যাখ্যা
CSTO- Collective Security Treaty Organization:
- সিএসটিও একটি সামরিক প্যাক্ট, যা ১৯৯২ সালের মে মাসে স্বাক্ষরিত হয়েছিল।
- এর সদর দফতর মস্কোতে।
- বর্তমানে ৬টি দেশ এই সামরিক প্যাক্টের সদস্য।
- এই দেশগুলো হচ্ছে আর্মেনিয়া, বেলারুশ, কাজাখিস্তান কিঘিজিস্তান, রাশিয়া, তাজিকিস্তান। 

সূত্র: আন্তর্জাতিক রাজনীতিকোষ, তারেক শামসুর রেহমান।
২০.
এশিয়া এবং ইউরোপ মহাদেশকে একত্রে বলা হয় -
  1. এশিয়া-ইউরোপ
  2. এশিয়ারোপ
  3. ইউরেশিয়া
  4. কোনোটি নয়
ব্যাখ্যা
ইউরোপ (Europe):
- ইউরোপ মহাদেশ আয়তনে বিশ্বে ষষ্ঠ। 
- এ মহাদেশের সর্বোচ্চ স্থান মাউন্ট এলবুর্জ (৫,৬৩৩ মিটার)।
- ইউরোপ মহাদেশ ৪৪টি দেশ নিয়ে গঠিত।
- এর মধ্যে আয়তনে বৃহৎ রাশিয়া (১,৭০,৭৫,৪০০ বর্গকিলোমিটার) এবং ক্ষুদ্রতম ভ্যাটিকান (০.৪৪ বর্গকিলোমিটার)।
- এশিয়া এবং ইউরোপ উভয় মহাদেশে রাশিয়ার অবস্থান হলেও এটি ইউরোপ মহাদেশের অন্তর্ভুক্ত।
- এ মহাদেশের দীর্ঘতম নদী ভলগা (৩,৬৮৭ কিলোমিটার)।
- ইউরোপের শ্রেষ্ঠ শিল্প প্রধান দেশ যুক্তরাজ্য।
- এশিয়া এবং ইউরোপ মহাদেশকে একত্রে ইউরেশিয়া বলা হয়

সূত্র: ভূগোল ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়  এবং WorldAtlas.Com.
২১.
'গ্লাসনস্ত' অর্থ -
  1. ক) খোলা দুয়ার
  2. খ) খোলা জানালা
  3. গ) মুক্ত বাণিজ্য
  4. ঘ) মুক্ত বাজার
ব্যাখ্যা
• গ্লাসনস্ত:
- গ্লাসনস্ত অর্থ 'খোলা দুয়ার'
- সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নে আর্থসামাজিক ক্ষেত্রে ব্যাপক পুনর্গঠনের যে প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল তার জন্য রাজনৈতিক সংস্কার ও গণসমর্থন প্রয়োজন ছিল। আর এজন্য গ্লাসনস্ত নীতি গ্রহণ করা হয়।
- গ্লাসনস্তের আওতায় রাষ্ট্রীয় রাজনৈতিক শাসনব্যবস্থায় যে রাজনৈতিক সিদ্ধান্তগুলো নেওয়া হয়েছিল তা হলো-
১. সকল পর্যায়ে নির্বাচিত পদে পর পর দুবারের বেশি কেউ নির্বাচিত হতে পারবে না;
২. কংগ্রেস অব পিপলস ডেপুটি হবে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ কর্তৃত্ব এবং এর সদস্য সংখ্যা হবে ২২৫০;
৩. ডেপুটিদের মধ্য থেকে একটি স্থায়ী কার্যনির্বাহী সুপ্রিম সোভিয়েত নির্বাচিত হবে;
৪. কংগ্রেস অব পিপলস ডেপুটি গোপন ব্যালটে রাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন করবে।

সূত্র: বিশ্বরাজনীতির ১০০ বছর, তারেক শামসুর রেহমান।
২২.
আটলান্টিক চার্টার (Atlantic Charter) স্বাক্ষরিত হয়েছিল -
  1. ক) ১৯৪১ সালের ১৪ আগস্ট
  2. খ) ১৯৪১ সালের ২৪ আগস্ট
  3. গ) ১৯৪২সালের ১৪ আগস্ট
  4. ঘ) ১৯৪২ সালের ২৪ আগস্ট
ব্যাখ্যা
আটলান্টিক চার্টার:
- আটলান্টিক চার্টার (Atlantic Charter) স্বাক্ষরিত হয়েছিল ১৯৪১ সালের ১৪ আগস্ট।
- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রিটেনের পরিকল্পনা কি তা ওই চার্টারে লিপিবদ্ধ ছিল।
- যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ফ্রাঙ্কলিন রুজভেল্ট ও ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী উইনস্টন চার্চিল নিউফাউন্ডল্যান্ডের Placentia Bay তে ১৯৪১ সালের ১৪ আগস্ট মিলিত হয়েছিলেন। তাদের যৌথ বিবৃতিই হচ্ছে আটলান্টিক চার্টার।
- ১৯৪২ সালের ১ জানুয়ারি Declaration by United Nations (যার ভিত্তিতে জাতিসংঘ গঠিত হয়েছিল) আটলান্টিক চার্টারের অনুপ্রেরণাতেই স্বাক্ষরিত হয়েছিল।
- অনেক গবেষকের মতে ন্যাটো গঠন, গ্যাট (General Agreement on Tariffs and Trade - GATT) এর জন্ম, সবকিছুর পেছনে ওই আটলান্টিক চার্টার কাজ করেছে।

• এখানে বলা ভালো, ‘যৌথ বিবৃতি' নামেই এই ঘোষণাটি প্রথমে প্রচারিত হয়েছিল। কিন্তু ব্রিটেনের লেবার পার্টির মুখপাত্র ডেউলি হেরাল্ড প্রথমে Atlantic Charter শব্দটি ব্যবহার করেন এবং চার্চিল ১৯৪১ সালের ২৪ আগস্ট পার্লামেন্টে আটলান্টিক চার্টার শব্দটি ব্যবহার করেন। সেই থেকে এটা আটলান্টিক চার্টার হিসেবেই ব্যবহৃত হয়ে আসছে।

সূত্র: বিশ্বরাজনীতির ১০০ বছর, তারেক শামসুর রেহমান।
২৩.
Anti-Personnel Mine Ban Convention চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয় কোথায়?
  1. ক) ভিয়েনা
  2. খ) মন্ট্রিল
  3. গ) অসলো
  4. ঘ) অটোয়া
ব্যাখ্যা
• Anti-Personnel Mine Ban Convention (Ottowa Treaty):
- ভূমি মাইন ব্যবহার, গুদামজাত করা, উৎপাদন করা ও সরবরাহ করা নিষিদ্ধ সংক্রান্ত চুক্তিটির নাম হচ্ছে 'এন্টি পারসোনাল মাইন ব্যান কনভেনশন' যা অটোয়া চুক্তি নামেও অভিহিত করা হয়।
- ১৯৯৭ সালের ডিসেম্বরে অটোয়ায় ১২২টি দেশ ভূমি-মাইন চুক্তি স্বাক্ষর করে।
- যুক্তরাষ্ট্র সহ রাশিয়া, চীন, ভারত, পাকিস্তান, ইরান, ইরাক, ভিয়েতনাম ও তুরস্ক এ চুক্তি স্বাক্ষরে অস্বীকৃতি জানায় ।
- ১৯৯৯ সালের ১ মার্চ থেকে এটি আন্তর্জাতিক আইনে পরিণত হয়েছে।

সূত্র: আন্তর্জাতিক রাজনীতিকোষ, তারেক শামসুর রেহমান।
২৪.
ট্রুম্যান ডকট্রিনের উদ্দেশ্য ছিল -
  1. ক) গণতন্ত্রের বিকাশ
  2. খ) সমাজতন্ত্রের বিকাশ
  3. গ) গণতন্ত্রের প্রসার ঠেকানো
  4. ঘ) সমাজতন্ত্রের প্রসার ঠেকানো
ব্যাখ্যা
ট্রুম্যান ডকট্রিন:
- ১৯৪৭ সালে ট্রুম্যান ডকট্রিনের প্রদান করা হয়েছিল।
- ট্রুম্যান ছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট (৩৩তম প্রেসিডেন্ট, ১৯৪৫-১৯৫৩)।
- ট্রুম্যান ডকট্রিনের উদ্দেশ্য ছিল সমাজতন্ত্রের প্রসার ঠেকানো।
- দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধোত্তর গ্রিস ও তুরস্কে কমিউনিস্টদের প্রভাব বাড়ছিল।
- ওই প্রভাব কমানোর পক্ষে যুক্তরাষ্ট্র এগিয়ে এলো।

সূত্র: বিশ্বরাজনীতির ১০০ বছর, তারেক শামসুর রেহমান।
২৫.
'অপারেশন অডিসি ডন' এর মাধ্যমে পতন ঘটে -
  1. ক) গাদ্দাফীর শাসনামল
  2. খ) সাদ্দামের শাসনামল
  3. গ) মুরসির শাসনামল
  4. ঘ) হোসনি মোবারকের শাসনামল
ব্যাখ্যা
Operation Odyssey Dawn: 
- অপারেশন অডিসি ডন (Operation Odyssey Dawn) লিবিয়ায় মার্কিন তথা আন্তর্জাতিক মিলিটারি অপারেশনস-এর কোড নাম।
- জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের একটি সিদ্ধান্ত (১৯৭৩) বাস্তবায়নের জন্যই ছিল এই মিলিটারি অপারেশনস্।
- এই অপারেশন পরিচালিত হয় ১৯ থেকে ৩১ মার্চ ২০১১ পর্যন্ত।
- এর মধ্য দিয়ে লিবিয়ায় বিমান হামলা চালানো হয় এবং লিবিয়ার উপর ‘নোফ্লাই জোন' প্রতিষ্ঠা করা হয়।
- বিমান হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের সাথে আরো অংশ নিয়েছিল বেলজিয়াম, কানাডা, ডেনমার্ক, ইতালি, হল্যান্ড, নরওয়ে, কাতার, রোম, আরব আমিরাত ও যুক্তরাজ্যের বিমান বাহিনী।
- এই বিমান হামলায় গাদ্দাফী উৎখাত হন এবং তার সরকারের পতন ঘটে।

সূত্র: আন্তর্জাতিক রাজনীতিকোষ, তারেক শামসুর রেহমান।
২৬.
বার্লিন দেয়ালের পতন হয় -
  1. ক) ১৯৮8 সালে
  2. খ) ১৯৮৯ সালে
  3. গ) ১৯৯০ সালে
  4. ঘ) ১৯৯১ সালে
ব্যাখ্যা
• জার্মান একত্রীকরণ:
- ১৯৪৯ সালের ৭ অক্টোবর জন্ম পূর্ব জার্মানির।
- আর ১৯৬১ সালের ১৩ আগস্ট বার্লিন দেয়াল তৈরি করে কৃত্রিমভাবে জার্মা-নিকে বিভক্ত করে রাখা হয়েছিল।
- ১৯৮৯ সালের ৯ নভেম্বর বার্লিন দেয়ালের পতন হয়। জার্মান একত্রীকরণের পথ এতে করে ত্বরান্বিত হয়। 
- দুই জার্মানির একত্রীকরণের ব্যাপারে একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয় ১৯৯০ সালের ১৬ মে।
- ১৯৯০ সালের ৩ অক্টোবর পূর্ব জার্মানির অবলুপ্তি ঘোষণা করা হয় এবং দুই জার্মানি একত্রিত হয়।

• আর ২ ডিসেম্বর (১৯৯০) যুক্ত জার্মানির প্রথম সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
- দুই জার্মানির একত্রীকরণ ছিল বিংশ শতাব্দীর একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা।
- স্নায়ুযুদ্ধকালীন সময় বিশ্ব দুভাগে ভাগ হয়ে গিয়েছিল।
- একভাগে ছিল মুক্ত ও গণতান্ত্রিক বিশ্ব, অন্যদিকে ছিল সমাজতান্ত্রিক দেশসমূহ।
- এই বিভক্তিই জার্মানিকে বিভক্ত করে রেখেছিল।
- পশ্চিম জার্মানিতে গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি বিকশিত হয়েছিল।
- আর পূর্ব জার্মানিতে সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। 

সূত্র: আন্তর্জাতিক রাজনীতিকোষ, তারেক শামসুর রেহমান।
২৭.
সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে বাণিজ্য সম্পর্ক বাড়ানো ও আর্থিক সহযোগিতা গড়ে তোলার লক্ষ্যে গঠিত হয় -
  1. ক) COMECON
  2. খ) NATO
  3. গ) EU
  4. ঘ) NAM
ব্যাখ্যা
• ওয়ারশ সামরিক জোট:
- মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যখন ট্রুমান ডকট্রিন, মার্শাল প্ল্যান আর ন্যাটো সামরিক জোট গঠন করে পশ্চিম ইউরোপে সমাজতন্ত্রের বিরোধী একটা জোট গড়ে তুলেছিল, তখন সোভিয়েত ইউনিয়নই ইউরোপের সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্রগুলোকে নিয়ে ‘ওয়ারশ’ সামরিক জোট গড়ে তোলে।
- এটি গঠিত হয়েছিল ১৯৫৫ সালের ১৪ মে।
- সদস্য রাষ্ট্রগুলো ছিল আলবেনিয়া (প্রত্যাহার ১৯৬৮), বুলগেরিয়া, চেকোস্লাভিয়া, পূর্ব জার্মানি, হাঙ্গেরী, পোল্যান্ড, রুমানিয়া ও সোভিয়েত ইউনিয়ন।
- সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে বাণিজ্য সম্পর্ক বাড়ানো ও আর্থিক সহযোগিতা গড়ে তোলার লক্ষ্যে একই সাথে কমিকন বা Council for Mutual Economic Assistance-COMECON গঠন করে।
- গরবাচেভ ওয়ারশ সামরিক জোট ভেঙ্গে দেন ১৯৯১ সালের ১ জুলাই। 

সূত্র: আন্তর্জাতিক রাজনীতিকোষ, তারেক শামসুর রেহমান।
২৮.
মার্শাল প্ল্যান এর পরিচিতি হচ্ছে -
  1. ক) European Recovery Program
  2. খ) African Recovery Program
  3. গ) Asian Recovery Program
  4. ঘ) American Recovery Program
ব্যাখ্যা
• মার্শাল প্ল্যান এর পরিচিতি হচ্ছে European Recovery Program.

• প্রেসিডেন্ট ট্রুম্যান কংগ্রেসের কাছে প্রেরিত এক বার্তায় বলেছিলেন, যে সকল স্বাধীন জনগণ যারা সশস্ত্র সংখ্যালঘু বা বহিরাগত চাপের মারফত পদানত করার প্রচেষ্টা প্রতিহত করতে সচেষ্ট, যুক্তরাষ্ট্রের নীতি হবে তাদের সমর্থন করা। অর্থাৎ এখানে কমিউনিজম ভীতি কাজ করছিল।
- প্রেসিডেন্ট ট্রুম্যানের এই নীতি আর্থিকভাবে প্রয়োগ করার জন্য ১৯৪৭ সালের জুন মাসে তৎকালীন যুক্তরাষ্ট্রের সেক্রেটারি অব স্টেট ঘোষণা করেছিলেন যে ইউরোপের পুনর্গঠনে যুক্তরাষ্ট্র সাহায্য করবে।
- প্রেসিডেন্ট ট্রুম্যান এতে স্বাক্ষর করেন ১৯৪৮ সালের ৩ এপ্রিল। ওইদিন থেকেই তা কার্যকর হয়।
- পশ্চিম ইউরোপ পুনর্গঠনের পরিকল্পনা সফল হয়েছিল।
- যুক্তরাষ্ট্র এই প্রোগ্রামের আওতায় ওই সময় ১৫ বিলিয়ন ডলার যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা দিয়েছিল।
- এই আর্থিক সহায়তার কারণে পশ্চিম ইউরোপের জিডিপি ১৫ থেকে ২৫ ভাগ বৃদ্ধি পেয়েছিল।
- পরবর্তীতে অনুন্নত দেশগুলোর জন্যও মার্শাল পরিকল্পনা প্রয়োগ করা হয়। 

সূত্র: বিশ্বরাজনীতির ১০০ বছর, তারেক শামসুর রেহমান।
২৯.
নিচের কোনটি ছিদ্রায়িত রাষ্ট্র?
  1. ক) দক্ষিণ আফ্রিকা
  2. খ) ইতালি
  3. গ) সোমালিয়া
  4. ঘ) ক+খ
ব্যাখ্যা
• বিশ্বে ছিদ্রায়িত রাষ্ট্রের সংখ্যা দুইটি। 
- এগুলো হলো- ১. দক্ষিণ আফ্রিকা ও ২. ইতালি ।
- দক্ষিণ আফ্রিকার অভ্যন্তরে ‘লেসোথ' নামের আরেকটি স্বাধীন রাষ্ট্র অবস্থিত।
- অন্যদিকে, ইতালির অভ্যন্তরে ‘ভ্যাটিকান সিটি' ও ‘সানম্যারিনো' রাষ্ট্রদ্বয়  অবস্থিত।

উৎস: ওয়ার্ল্ড অ্যাটলাস, ব্রিটানিকা।
৩০.
'মারিয়ানা' সমুদ্র খাতের অবস্থান -
  1. ক) ভারত মহাসাগরে
  2. খ) প্রশান্ত মহাসাগরে
  3. গ) উত্তর মহাসাগরে
  4. ঘ) দক্ষিণ মহাসাগরে
ব্যাখ্যা
• প্রশান্ত মহাসাগরে গভীর সমুদ্র খাতের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। 
- সর্বাপেক্ষা গভীরতম সমুদ্র খাত মারিয়ানা খাত।
- এটি গুয়াম দ্বীপের ৩২২ কি.মি. দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত।
- ভারত মহাসাগরের গভীরতম খাত 'সুন্দা খাত'।
- আটলান্টিক মহাসাগরের গভীরতম খাত পোর্টেরিকো খাত।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
৩১.
হলোকাস্টের শিকার হয়েছিল -
  1. ক) শিখ জনগোষ্ঠী
  2. খ) খ্রিস্টান জনগোষ্ঠী
  3. গ) মুসলিম জনগোষ্ঠী
  4. ঘ) ইহুদি জনগোষ্ঠী
ব্যাখ্যা
হলোকাস্ট (Holocaust):
- জার্মানির নাজি সরকার ১৯৪১-৪৫ সময় সীমায় নিজ দেশের দখলিকৃত অঞ্চলে ইহুদি জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে হত্যা কনসেনটেশন ক্যাম্পে নিয়ে রাখা, গ্যাস চেম্বারে রেখে হত্যা ইত্যাদি নানা ঘটনা চিহ্নিত হয়ে আছে ‘হলোকাস্ট' হিসেবে।
- হলোকাস্টের ঘটনায় প্রায় ৬০ লাখ ইহুদিকে হত্যা ও ডিপোর্টেশনের জন্য জার্মানরা সারা বিশ্বের কাছে তাদের সম্মান হারিয়েছে। - ইহুদি হত্যার দায়ভার আজও জার্মানি বহন করে চলেছে।
- ওই সময় ইউরোপে যে ইহুদি জনগোষ্ঠী বসবাস করতো, তার তিনভাগের দুই ভাগই হলোকাস্টের শিকার হয়েছিল।
- অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে জার্মানি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালীন যেসব অঞ্চল দখল করে নিয়েছিল, সেইসব জায়গায় 'কনসেনট্রেশন ক্যাম্প' তৈরি করে ইহুদি জনগোষ্ঠীতে সেখানে স্থানান্তর করেছিল।
- যেমন, বলা যেতে পারে Auschwitz, Belzec, Chelmno, Majdanek, Sobibor, Treblinka ক্যাম্পের কথা।
- এইসব স্থাপনাগুলো আজকের পোল্যান্ডের বিভিন্ন শহরে অবস্থিত।
- আজও সেই ক্যাম্পগুলো সেভাবে রেখে দেয়া হয়েছে স্মৃতি চিহ্ন হিসেবে।

সূত্র: বিশ্বরাজনীতির ১০০ বছর, তারেক শামসুর রেহমান।
৩২.
'অস্ট্রেলিয়া' শব্দের অর্থ
  1. ক) এশিয়ার উত্তরাঞ্চল
  2. খ) আফ্রিকার উত্তরাঞ্চল
  3. গ) এশিয়ার দক্ষিণাঞ্চল
  4. ঘ) আফ্রিকার দক্ষিণাঞ্চল
ব্যাখ্যা
• অস্ট্রেলিয়া শব্দের অর্থ এশিয়ার দক্ষিণাঞ্চল
- বিশ্বের সবচেয়ে বড় প্রবাল প্রাচীর গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ।
- এটি অস্ট্রেলিয়ার কুইন্সল্যান্ডে অবস্থিত।
- অস্ট্রেলিয়ার সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গের নাম কোসিয়াস্কো।

উৎস:- অস্ট্রেলিয়ার সরকারি ওয়েবসাইট।
৩৩.
'ব্রুনাই' এর রাজধানীর নাম -
  1. ক) কলম্বো
  2. খ) বন্দর সেরি বেগওয়ান
  3. গ) মালে
  4. ঘ) থিম্পু
ব্যাখ্যা
• ব্রুনাই এর রাজধানী বন্দর সেরি বেগওয়ান

অন্যদিকে, 
- শ্রীলংকার প্রশাসনিক রাজধানীর নাম শ্রী জয়াবর্ধনেপুরা কোর্টে।
- শ্রীলংকার বাণিজ্যিক রাজধানী হচ্ছে কলম্বো।
- মালদ্বীপের রাজধানীর নাম হচ্ছে মালে।
- ভুটানের রাজধানীর নাম হচ্ছে থিম্পু।

সূত্র:  World Atlas
 
৩৪.
সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রিগান কর্তৃক ঘোষিত স্ট্রেটেজিক ডিফেন্স ইনিসিয়েটিভ (এস.ডি.আই) এর জনপ্রিয় নাম ছিল -
  1. ক) থাড
  2. খ) ম্যাড
  3. গ) আকাশ যুদ্ধ
  4. ঘ) তারকা যুদ্ধ
ব্যাখ্যা
SDI বা তারকাযুদ্ধ: 
- Strategic Defence Initiative বা কৌশলগত প্রতিরক্ষা উদ্যোগ হলো মিসাইল ডিফেন্স সিসটেম।
- ১৯৮৩ সালের ২৩ মার্চ সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রিগ্যান SDI উপস্থাপন করেন।
- এটি যুক্তরাষ্ট্রের একটি নিরাপত্তা কৌশল, যার মাধ্যমে আন্তমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ও সাবমেরিন পারমাণবিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে।
- এ কর্মসূচি হলো কতকগুলো অস্ত্র ও সমর সরঞ্জামের সমাহার, যা মহাকাশ, বায়ুমণ্ডল ও ভূ-পৃষ্ঠের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুর উপর আঘাত হানার উদ্দেশ্যে মহাকাশ কিংবা ভূ-পৃষ্ঠে স্থাপিত হবে।
- এ ব্যবস্থা মহাশূন্যভিত্তিক হওয়ায় একে তারকাযুদ্ধ (Star Wars) বলে অভিহিত করা হয়।

সূত্র:  Britannica 
৩৫.
সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নে 'পেরেস্ত্রোইকা'র প্রবর্তক কে ছিলেন?
  1. ক) ভ্লাদিমির পুতিন
  2. খ) ভি আই লেনিন
  3. গ) জোসেফ স্ট্যালিন
  4. ঘ) মিখাইল গর্বাচেভ
ব্যাখ্যা
পেরেস্ত্রোইকা: 
- পেরেস্ত্রইকাঅর্থ 'পুনর্গঠন' ।
- সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের কমিউনিস্ট পার্টির নেতৃত্বে মিখাইল মিখাইল গর্বাচেভের আগমনের পর (১৯৮৫) দেশ ও পার্টির সুদূরপ্রসারী পরিবর্তনের লক্ষ্য নিয়ে ব্যাপক সংস্কারমূলক কর্মসূচি ‘পেরেস্ত্রোইকা’ হাতে নেওয়া হয়েছিল।
- পেরেস্ত্রোইকায় প্রধান যে বিষয়গুলো হাতে নেওয়া হয়েছিল তা হলো:
১. অর্থনৈতিক সংস্কার;
২. সামাজিক অগ্রগণ্যতা;
৩. রাজনৈতিক গণতন্ত্রায়ন;
৪. পার্টির ভূমিকা সংশোধন;
৫. মতাদর্শ, ধর্ম ও সংস্কৃতির গুণবিন্যাস;
৬. অভ্যন্তরীণ ও জাতীয় সমস্যা সমাধান;
৭. পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষা নীতিতে পরিবর্তন।

সূত্র: বিশ্বরাজনীতির ১০০ বছর, তারেক শামসুর রেহমান।
৩৬.
উই রিভার চুক্তিকে বলা হয় -
  1. ক) ভূমির বিনিময়ে চুক্তি
  2. খ) বন্দি বিনিময় চুক্তি
  3. গ) নদীর সীমানা চিহ্নিত চুক্তি
  4. ঘ) যুদ্ধ বিরতি চুক্তি
ব্যাখ্যা
• উই রিভার চুক্তি, ১৯৯৮:
- উই রিভার চুক্তিকে বলা হচ্ছে ভূমির বিনিময়ে চুক্তি
- ১৯৯৮ সালে দীর্ঘ ১৯ মাসের অচলাবস্থার অবসান করে ওয়াশিংটনের অদূরে একটি স্থানে ওই চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়।
- সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন ও জর্দানের প্রয়াত বাদশা হোসেনও ওই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছিলেন।

• চুক্তির উল্লেখযোগ্য দিকগুলো হচ্ছে—
(১) ইসরাইল অধিকৃত আরব এলাকা পশ্চিম তীরের ১৩ শতাংশ এলাকা ফিলিস্তিনিদের হাতে অর্পণ ও ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের মাঝে ৩ শতাংশ এলাকা ‘সবুজ বেষ্টনী' অথবা সংরক্ষিত এলাকা হিসেবে ঘোষণা করবে। ওই সবুজ বেষ্টনীতে বসবাসকারী ইসরাইলিদের নিরাপত্তা ও সন্ত্রাস দমনের বিষয়টি ইসরাইল কর্তৃপক্ষের হাতে ন্যস্ত থাকবে;
(২) সন্ত্রাস দমনের ব্যপারে উভয়পক্ষ সম্মত হয়েছে এবং নিজ নিজ বিচারব্যবস্থা অনুযায়ী সন্ত্রাসীদের বিচার করা হবে এবং ইহুদি ও ফিলিস্তিনিদের সমন্বয়ে গঠিত একটি কমিটি দুই সপ্তাহ অন্তর সন্ত্রাস দমনে গৃহীত পদক্ষেপগুলো পর্যালোচনা করবে;
(৩) ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ সকল প্রকার সহিংসতা ও সন্ত্রাসী তৎপরতা নিষিদ্ধ ঘোষণা করে একটি ডিগ্রি জারি করবে;
(৪) 'নিরাপত্তা সহযোগিতা' প্রশ্নে ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ ও প্রশিক্ষক বিনিময়সহ অব্যাহতভাবে উভয়পক্ষ ব্যাপক দ্বি-পাক্ষিক কর্মসূচি গ্রহণ করবে।

সূত্র: আন্তর্জাতিক রাজনীতিকোষ, তারেক শামসুর রেহমান।