পরীক্ষা আর্কাইভ

Science Expert

পরীক্ষাScience Expertতারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়07 minutes
মোট প্রশ্ন২০
সিলেবাস
পরীক্ষা- ২ টপিক স্থিতি, গতি ও বল: (স্থিতি, গতি, গতির প্রকারভেদ, নিউটনের গতিসূত্রসমূহ, জড়তা, বল, ভরবেগ, ক্রিয়া ও প্রতিক্রিয়া, ঘর্ষণ, স্থিতিস্থঅপকতা) বস্তুর উপর চাপের প্রভাব: (ঘনত্ব, চাপ, বায়ুমণ্ডলের চাপ, প্লবতা, আর্কিমিডিসের নীতি, পৃষ্ঠটান, কৈশিক ক্রিয়া, সান্দ্রতা) তরঙ্গ ও শব্দ: (সরল ছন্দিত গতি, তরঙ্গ, শব্দ, শব্দের প্রতিধ্বনি, শ্রাব্যতার পাল্লা, শব্দোত্তর তরঙ্গ, শব্দেতর তরঙ্গ, শব্দের তীব্রতা, টানা তারের আড় কম্পন) [ক্লাস ৩ ও ৪]
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

Science Expert

Science Expert · তারিখ অনির্ধারিত · ২০ প্রশ্ন

.
নিউটনের প্রথম গতিসূত্র কী নির্দেশ করে?
  1. জড়তার ধারণা
  2. বল ও ভরের সম্পর্ক
  3. ভরবেগের সংরক্ষণ
  4. ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া
ব্যাখ্যা

• জড়তার ধারণা — নিউটনের প্রথম গতিসূত্র মূলত বস্তুর জড়তার ধারণা প্রদান করে।

• নিউটনের প্রথম গতিসূত্র:
- বাহ্যিক বল প্রয়োগ না করলে স্থির বস্তু স্থিরই থাকবে।
- বাহ্যিক বল প্রয়োগ না করলে গতিশীল বস্তু সমবেগে সরলরেখায় চলতে থাকবে।
- কোনো বস্তু তার বর্তমান অবস্থা পরিবর্তন করতে চায় না। বস্তুর এই স্বাভাবিক প্রবণতাকে জড়তা বলা হয়।

• জড়তা:
- জড়তা বস্তুর একটি ধর্ম।
- জড়তার কারণে স্থির বস্তু স্থির থাকতে চায়।
- জড়তার কারণে গতিশীল বস্তু সমবেগে চলতে চায়।
- জড়তার পরিমাণ বস্তুর ভরের উপর নির্ভর করে।
- ভর যত বেশি, জড়তা তত বেশি।

• নিউটনের প্রথম সূত্র ও জড়তার সম্পর্ক:
- প্রথম গতিসূত্রকে জড়তার সূত্রও বলা হয়।
- বাহ্যিক বল না থাকলে বস্তুর অবস্থা অপরিবর্তিত থাকে।
- এই সূত্র থেকেই জড়তার ধারণা প্রতিষ্ঠিত হয়।

• অন্যান্য অপশন:
- বল ও ভরের সম্পর্ক → নিউটনের দ্বিতীয় গতিসূত্রে বল, ভর ও ত্বরণের সম্পর্ক নির্ধারিত হয়।
- ভরবেগের সংরক্ষণ → ভরবেগ সংরক্ষণ নীতি আলাদা নীতি, যা সংঘর্ষ ইত্যাদিতে প্রযোজ্য।
- ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া → নিউটনের তৃতীয় গতিসূত্র অনুযায়ী প্রত্যেক ক্রিয়ার বিপরীতে সমান ও বিপরীত প্রতিক্রিয়া থাকে।

উৎস:
1) পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়,
2) Science Expert, Live Publications.

.
একটি ঘড়ির কাঁটা নির্দিষ্ট সময় পরপর একই দিক থেকে একই বিন্দু অতিক্রম করে। এ ধরনের গতি কোন শ্রেণিভুক্ত?
  1. সরল রৈখিক গতি
  2. বক্র রৈখিক গতি
  3. ঘূর্ণন গতি
  4. পর্যায় গতি
ব্যাখ্যা

• পর্যায় গতি — নির্দিষ্ট সময় পরপর কোনো গতি যদি একই দিক থেকে একই বিন্দু অতিক্রম করে, তাকে পর্যায় গতি বলা হয়।

• স্থিতি ও গতি:
- সময়ের সাথে পারিপার্শ্বিকের সাপেক্ষে অবস্থানের পরিবর্তন হলে গতি।
- অবস্থানের পরিবর্তন না হলে স্থিতি।
- সকল গতি ও স্থিতি আপেক্ষিক।

• গতির প্রকারভেদ:
- সরল রৈখিক গতি → বস্তু সরলরেখা বরাবর চললে।
- বক্র রৈখিক গতি → বস্তু বক্রপথে চললে।
- ঘূর্ণন গতি → নির্দিষ্ট অক্ষকে কেন্দ্র করে ঘূর্ণন।
- পর্যায় গতি → নির্দিষ্ট সময় পরপর একই অবস্থান ও দিক পুনরাবৃত্তি।
- দোলন গতি → পর্যায় গতির বিশেষ রূপ, যেখানে বস্তু সামনে–পিছনে গমন করে।
- যৌগিক গতি → একই সাথে একাধিক প্রকার গতি উপস্থিত থাকলে।

• অন্যান্য অপশন:
- সরল রৈখিক গতি → সোজা পথে চলাচল।
- বক্র রৈখিক গতি → বাঁকা পথে চলাচল।
- ঘূর্ণন গতি → অক্ষকে কেন্দ্র করে ঘোরা।

উৎস:
1) পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়,
2) Science Expert, Live Publications.

.
টানা তারের ক্ষেত্রে টান (T) ও একক দৈর্ঘ্যের ভর (m) অপরিবর্তিত থাকলে কম্পাঙ্ক (f) তারের দৈর্ঘ্য (l)-এর সাথে কী সম্পর্কযুক্ত?
  1. দৈর্ঘ্যের সমানুপাতিক
  2. দৈর্ঘ্যের ব্যস্তানুপাতিক
  3. দৈর্ঘ্যের বর্গের সমানুপাতিক
  4. দৈর্ঘ্যের বর্গমূলের ব্যস্তানুপাতিক
ব্যাখ্যা

• টান (T) ও একক দৈর্ঘ্যের ভর (m) অপরিবর্তিত থাকলে টানা তারের কম্পাঙ্ক তারের দৈর্ঘ্যের ব্যস্তানুপাতিক।

• টানা তারের আড় কম্পনের সূত্র:
- একটি তারকে দুই প্রান্তে দৃঢ়ভাবে বেঁধে নির্দিষ্ট বলে টান টান করে রাখা হয়।
- তারটিকে দৈর্ঘ্যের সাথে লম্বভাবে টেনে ছেড়ে দিলে আড় তরঙ্গ উৎপন্ন হয়।
- উৎপন্ন তরঙ্গ প্রান্তে প্রতিফলিত হয়ে স্থির তরঙ্গ সৃষ্টি করে।
- স্থির তরঙ্গের ফলে তারটি নির্দিষ্ট কম্পাঙ্কে কাঁপতে থাকে।
- ফরাসী বিজ্ঞানী মার্সেন ১৬৩৬ সালে টানা তারের কম্পনের সূত্রসমূহ আবিষ্কার করেন।

• দৈর্ঘ্যের সূত্র:
- কোনো কম্পমান তারের টান (T) ও একক দৈর্ঘ্যের ভর (m) অপরিবর্তিত থাকলে কম্পাঙ্ক (f) তারের দৈর্ঘ্য (l)-এর ব্যস্তানুপাতিক। অর্থাৎ, f ∝ 1 / l যখন T ও m স্থির থাকে।
- তারের দৈর্ঘ্য বৃদ্ধি পেলে কম্পাঙ্ক হ্রাস পায়।
- তারের দৈর্ঘ্য কমলে কম্পাঙ্ক বৃদ্ধি পায়। তাই ছোট তার তীক্ষ্ণ সুর এবং বড় তার গুরু সুর উৎপন্ন করে।

• টানের সূত্র:
- কোনো কম্পমান তারের দৈর্ঘ্য (l) স্থির থাকলে কম্পাঙ্ক (f) টান (T)-এর বর্গমূলের সমানুপাতিক।
অর্থাৎ, f ∝ √T যখন l ও m স্থির থাকে।

• ভরের সূত্র:
- দৈর্ঘ্য (l) ও টান (T) স্থির থাকলে কম্পাঙ্ক (f) প্রতি একক দৈর্ঘ্যের ভর (m)-এর বর্গমূলের ব্যস্তানুপাতিক।
অর্থাৎ, f ∝ 1 / √m যখন l ও T স্থির থাকে।

উপর্যুক্ত তিনটি সূত্র একত্র করে পাওয়া যায়,


উৎস:
1) পদার্থবিজ্ঞান ১ম পত্র, এইসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
2) Science Expert, Live Publications.

.
একটি বই টেবিলের উপর স্থির আছে। বইটির উপর অভিকর্ষজ বল ও টেবিলের প্রতিক্রিয়া বল সমান ও বিপরীতমুখী হলে বইটির অবস্থা কী হবে?
  1. বেগ বৃদ্ধি পাবে
  2. সমবেগে চলবে
  3. ত্বরণ শূন্য থাকবে
  4. ঘূর্ণন শুরু করবে
ব্যাখ্যা

• ত্বরণ শূন্য থাকবে — অভিকর্ষজ বল ও টেবিলের প্রতিক্রিয়া বল সমান ও বিপরীতমুখী হলে লব্ধবল (Resultant Force) শূন্য হয়, ফলে বস্তু সমতাবস্থায় থাকে।

• বল:
- কোনো স্থির বস্তুর উপর ক্রিয়া করে তাকে গতিশীল করে বা করতে চায়, অথবা গতিশীল বস্তুর বেগের পরিবর্তন ঘটায়—তাকে বল বলা হয়।
- বল বস্তুর আকার পরিবর্তনও করতে পারে।
- বল একটি ভেক্টর রাশি।

• সমবল ও অসমবল:
- একাধিক বল ক্রিয়া করে যদি লব্ধবল (Resultant Force) শূন্য হয়, বস্তু সমতাবস্থায় থাকে।
- সমতাবস্থায় ত্বরণ শূন্য।
- লব্ধবল (Resultant Force) শূন্য না হলে ত্বরণ সৃষ্টি হয়।

• অভিকর্ষজ বল ও প্রতিক্রিয়া বল:
- অভিকর্ষজ বল → পৃথিবীর আকর্ষণে বস্তুর ওজন।
- প্রতিক্রিয়া বল → টেবিলের দ্বারা উপরের দিকে প্রয়োগকৃত বল।
- দুই বল সমান ও বিপরীতমুখী হলে বস্তু স্থির থাকে।

উৎস:
1) পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়,
2) Science Expert, Live Publications.

.
ভরবেগ কোন ধরনের রাশি?
  1. স্কেলার রাশি
  2. ভেক্টর রাশি
  3. মাত্রাহীন রাশি
  4. ধ্রুব রাশি
ব্যাখ্যা

• ভেক্টর রাশি — ভরবেগের মানের পাশাপাশি দিকও থাকে, তাই এটি ভেক্টর রাশি।

• ভরবেগ:
- ভরবেগ = বস্তুর ভর × বেগ।
- গাণিতিকভাবে, p = mv.
- এখানে p → ভরবেগ, m → ভর, v → বেগ।
- SI একক → kg·m/s.

• ভরবেগের প্রকৃতি:
- ভরবেগের মান ও দিক উভয়ই আছে।
- বেগের দিক পরিবর্তিত হলে ভরবেগের দিকও পরিবর্তিত হয়।
- তাই ভরবেগ একটি ভেক্টর রাশি।

• অন্যান্য অপশন:
- স্কেলার রাশি → যার শুধু মান আছে, দিক নেই।
- মাত্রাহীন রাশি → যার কোনো একক বা মাত্রা নেই।
- ধ্রুব রাশি → যার মান অপরিবর্তিত থাকে।

উৎস:
1) পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়,
2) Science Expert, Live Publications.

.
প্রত্যেক ক্রিয়ার বিপরীতে প্রতিক্রিয়া কেমন হয়?
  1. সমান ও বিপরীতমুখী
  2. সমান ও একইমুখী
  3. অসমান ও বিপরীতমুখী
  4. অসমান ও একইমুখী
ব্যাখ্যা

• সমান ও বিপরীতমুখী — নিউটনের তৃতীয় গতিসূত্র অনুযায়ী প্রত্যেক ক্রিয়ার বিপরীতে সমান মানের ও বিপরীত দিকের প্রতিক্রিয়া থাকে।

• নিউটনের তৃতীয় গতিসূত্র:
- প্রত্যেক ক্রিয়ার সমান ও বিপরীত প্রতিক্রিয়া আছে।
- ক্রিয়া ও প্রতিক্রিয়া দুটি ভিন্ন বস্তুর উপর ক্রিয়া করে।
- ক্রিয়া ও প্রতিক্রিয়া একই সরলরেখায় কিন্তু বিপরীতমুখী।

• সূত্রের বৈশিষ্ট্য:
- ক্রিয়া ও প্রতিক্রিয়ার মান সমান।
- দিক বিপরীত।
- একই সময়ে ঘটে।
- একই বস্তুর উপর নয়, পৃথক বস্তুর উপর ক্রিয়া করে।

উৎস:
1) পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়,
2) Science Expert, Live Publications.

.
সমান আয়তনের লোহা ও কাঠের মধ্যে লোহার ভর বেশি হওয়ার কারণ কী?
  1. লোহার ঘনত্ব কম
  2. লোহার ঘনত্ব বেশি
  3. লোহার আয়তন বেশি
  4. লোহার বেগ বেশি
ব্যাখ্যা

• লোহার ঘনত্ব বেশি — লোহার কণাগুলো কাঠের তুলনায় অধিক সন্নিবিষ্ট থাকায় সমান আয়তনে লোহার ভর বেশি হয়।

• ঘনত্ব:
- কোনো বস্তুর একক আয়তনের ভরকে ঘনত্ব বলা হয়।
- গাণিতিকভাবে, ρ = m/V.
- এখানে ρ → ঘনত্ব, m → ভর, V → আয়তন।
- SI একক → kg·m-3

• ঘনত্বের ধারণা:
- সমান আয়তনের ভিন্ন বস্তুর ভর ভিন্ন হতে পারে।
- যে বস্তুর কণাগুলো অধিক সন্নিবিষ্ট থাকে তার ঘনত্ব বেশি।
- লোহার কণাগুলো কাঠের তুলনায় অধিক সন্নিবিষ্ট।
- তাই সমান আয়তনে লোহার ভর বেশি হয়।

উৎস:
1) পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়,
2) Science Expert, Live Publications.

.
কোনো বস্তু তরলে আংশিক বা সম্পূর্ণ নিমজ্জিত হলে তরল বস্তুটির উপর উপরের দিকে যে বল প্রয়োগ করে, তাকে কী বলা হয়?
  1. অভিকর্ষ বল
  2. প্রতিক্রিয়া বল
  3. প্লবতা বল
  4. ঘর্ষণ বল
ব্যাখ্যা

• প্লবতা বল — কোনো বস্তু তরলে আংশিক বা সম্পূর্ণ নিমজ্জিত হলে তরল বস্তুটির উপর উপরের দিকে যে বল প্রয়োগ করে তাকে প্লবতা বল বলা হয়।

• প্লবতা:
- কোনো বস্তু তরলে আংশিক বা সম্পূর্ণ নিমজ্জিত হলে তরল তার উপর একটি ঊর্ধ্বমুখী বল প্রয়োগ করে।
- এই ঊর্ধ্বমুখী বলকে প্লবতা বা প্লবতা বল বলা হয়।
- প্লবতা বলের কারণে অনেক বস্তু পানিতে ভাসে।
- প্লবতা বলের মান নির্ভর করে অপসারিত তরলের ওজনের উপর।

• আর্কিমিডিসের নীতি:
- কোনো বস্তু তরলে নিমজ্জিত হলে বস্তুটি যতটুকু তরল অপসারণ করে, সেই অপসারিত তরলের ওজনের সমান ঊর্ধ্বমুখী বল বস্তুটির উপর ক্রিয়া করে।
- এই ঊর্ধ্বমুখী বলই প্লবতা বল।
- যদি প্লবতা বল বস্তুর ওজনের সমান হয়, তবে বস্তু ভাসবে।
- যদি প্লবতা বল বস্তুর ওজনের কম হয়, তবে বস্তু ডুবে যাবে।
- যদি প্লবতা বল বস্তুর ওজনের বেশি হয়, তবে বস্তু উপরের দিকে উঠবে।

• প্লবতার প্রয়োগ:
- জাহাজ পানিতে ভাসে প্লবতা বলের কারণে।
- সাবমেরিন প্লবতা নিয়ন্ত্রণ করে ডুবে ও ভাসে।
- হাইড্রোমিটার তরলের ঘনত্ব নির্ণয়ে প্লবতার নীতি ব্যবহার করে।

• সম্পর্কিত ধারণা:
- অভিকর্ষ বল বস্তুকে নিচের দিকে টানে।
- প্লবতা বল বস্তুকে উপরের দিকে ঠেলে দেয়।
- বস্তু ভাসবে কি ডুববে তা নির্ভর করে ঘনত্বের উপর।
- বস্তুর ঘনত্ব তরলের ঘনত্বের কম হলে বস্তু ভাসে।
- বস্তুর ঘনত্ব তরলের ঘনত্বের বেশি হলে বস্তু ডুবে যায়।

• অন্যান্য অপশন:
- অভিকর্ষ বল → পৃথিবীর আকর্ষণজনিত নিম্নমুখী বল।
- প্রতিক্রিয়া বল → স্পর্শের ফলে সৃষ্ট বিপরীতমুখী বল।
- ঘর্ষণ বল → সংস্পর্শে গতির প্রতিবন্ধক বল।

উৎস:
1) পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়,
2) Science Expert, Live Publications.

.
পৃষ্ঠটান প্রধানত কোন বলের কারণে সৃষ্টি হয়?
  1. ঘর্ষণ বল
  2. অভিকর্ষ বল
  3. বাহ্যিক চাপ
  4. আন্তঃআণবিক আকর্ষণ
ব্যাখ্যা

• আন্তঃআণবিক আকর্ষণ — তরলের পৃষ্ঠে অণুগুলোর মধ্যে পারস্পরিক আকর্ষণ বলের অসম বণ্টনের ফলেই পৃষ্ঠটান সৃষ্টি হয়।

• পৃষ্ঠটান:
- তরলের পৃষ্ঠে অবস্থিত অণুগুলোর উপর ভেতরের দিকে আন্তঃআণবিক আকর্ষণ বল ক্রিয়া করে।
- পৃষ্ঠের অণুগুলো চারদিক থেকে সমান বল পায় না।
- ভেতরের অণুগুলো চারদিক থেকে সমান আকর্ষণ পায়, কিন্তু পৃষ্ঠের অণুগুলো নিচের ও পাশের দিক থেকে আকর্ষণ পায়। ফলে পৃষ্ঠটি সংকুচিত হয়ে টানটান অবস্থায় থাকতে চায়। এই প্রবণতাকে পৃষ্ঠটান বলা হয়।

• পৃষ্ঠটানের বৈশিষ্ট্য:
- তরলের পৃষ্ঠকে স্থিতিস্থাপক পর্দার মতো আচরণ করতে দেখা যায়।
- পৃষ্ঠটান কম হলে তরল সহজে ছড়িয়ে পড়ে।
- পৃষ্ঠটান বেশি হলে তরল ফোঁটার আকার ধারণ করে।
- তাপমাত্রা বৃদ্ধির সাথে পৃষ্ঠটান হ্রাস পায়।

• পৃষ্ঠটানের উদাহরণ:
- পানির ফোঁটা গোলাকার হয়।
- ক্ষুদ্র পোকা পানির উপর ভাসতে পারে।
- সাবান মেশালে পানির পৃষ্ঠটান কমে যায়।

• অন্যান্য অপশন:
- অভিকর্ষ বল → তরলকে নিচের দিকে টানে, পৃষ্ঠটানের কারণ নয়।
- ঘর্ষণ বল → সংস্পর্শে গতির প্রতিবন্ধক বল।
- বাহ্যিক চাপ → পৃষ্ঠটানের মৌলিক কারণ নয়।

উৎস:
1) পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়,
2) Science Expert, Live Publications.

১০.
স্থিতিস্থাপকতার প্রধান বৈশিষ্ট্য কোনটি?
  1. বিকৃতি স্থায়ী হয়
  2. পূর্বাবস্থায় প্রত্যাবর্তন
  3. ভর বৃদ্ধি পায়
  4. আয়তন অপরিবর্তিত থাকে
ব্যাখ্যা

• পূর্বাবস্থায় প্রত্যাবর্তন — স্থিতিস্থাপকতার প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো বল অপসারণ করলে বস্তু তার পূর্বের আকার ও অবস্থায় ফিরে আসে।

• স্থিতিস্থাপকতা:
- বাহ্যিক বল প্রয়োগে বস্তু বিকৃত হয়।
- বল অপসারণ করলে বস্তু পূর্বাবস্থায় ফিরে আসে। এই ধর্মকে স্থিতিস্থাপকতা বলা হয়।
- স্থিতিস্থাপকতা বস্তুর একটি ভৌত ধর্ম।

• স্থিতিস্থাপক সীমা:
- নির্দিষ্ট সীমা পর্যন্ত বস্তু স্থিতিস্থাপক আচরণ করে। এই সীমাকে স্থিতিস্থাপক সীমা বলা হয়।
- সীমা অতিক্রম করলে বস্তু স্থায়ী বিকৃত হয়।

• উদাহরণ:
- স্প্রিং টানলে লম্বা হয়, ছেড়ে দিলে আগের দৈর্ঘ্যে ফিরে আসে।
- রাবার ব্যান্ড প্রসারিত করলে আবার আগের অবস্থায় ফিরে আসে।

• অন্যান্য অপশন:
- বিকৃতি স্থায়ী হয় → স্থিতিস্থাপক সীমা অতিক্রম করলে ঘটে।
- ভর বৃদ্ধি পায় → স্থিতিস্থাপকতার সাথে সম্পর্ক নেই।
- আয়তন অপরিবর্তিত থাকে → সব ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।

উৎস:
1) পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়,
2) Science Expert, Live Publications.

১১.
তরলের মধ্যে বস্তুর চলাচলের ফলে যে ঘর্ষণ বল সৃষ্টি হয় তা মূলত কোন ধরনের ঘর্ষণ?
  1. স্থিতি ঘর্ষণ
  2. চল ঘর্ষণ
  3. আবর্ত ঘর্ষণ
  4. প্রবাহী ঘর্ষণ
ব্যাখ্যা

• তরলের মধ্যে বস্তুর চলাচলের ফলে যে ঘর্ষণ বল সৃষ্টি হয় তাকে প্রবাহী ঘর্ষণ বলে।

• ঘর্ষণ:
- দুটি স্পর্শকৃত পৃষ্ঠের মধ্যে আপেক্ষিক গতির বিরোধী যে বল ক্রিয়া করে তাকে ঘর্ষণ বলে।
- ঘর্ষণ বল সর্বদা গতির বিপরীত দিকে ক্রিয়া করে।
- স্পর্শকৃত পৃষ্ঠের প্রকৃতি, মসৃণতা ও চাপের উপর ঘর্ষণের মান নির্ভর করে।
- ঘর্ষণ না থাকলে হাঁটা, বস্তু ধরা বা যানবাহন চলাচল সম্ভব হতো না।

• ঘর্ষণের প্রকারভেদ:
- স্থিতি ঘর্ষণ: কোনো বস্তু স্থির অবস্থায় থাকলে এবং তাকে সরানোর চেষ্টা করলে যে প্রতিরোধী বল ক্রিয়া করে।
- চল বা পিছলানো ঘর্ষণ: একটি বস্তু অন্য বস্তুর উপর দিয়ে স্লাইড বা পিছলে চললে যে ঘর্ষণ বল সৃষ্টি হয়।
- আবর্ত ঘর্ষণ: কোনো বস্তু গড়িয়ে চলার সময় যে ঘর্ষণ বল ক্রিয়া করে।
- প্রবাহী ঘর্ষণ: তরল বা বায়ুর মধ্যে বস্তুর চলাচলের ফলে যে প্রতিরোধমূলক ঘর্ষণ বল সৃষ্টি হয়।

• প্রবাহী ঘর্ষণের বৈশিষ্ট্য:
- এটি তরল বা গ্যাসের কণার সঙ্গে বস্তুর পারস্পরিক ক্রিয়ার ফলে উৎপন্ন হয়।
- বস্তুর বেগ যত বেশি হয়, প্রবাহী ঘর্ষণ তত বৃদ্ধি পায়।
- বস্তুর আকৃতি ও তরলের ঘনত্ব প্রবাহী ঘর্ষণের মানকে প্রভাবিত করে।
- বিমান, জাহাজ ও সাবমেরিনের নকশায় প্রবাহী ঘর্ষণ কমানোর বিষয়টি বিবেচনা করা হয়।

উৎস:
1) পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়,
2) Science Expert, Live Publications.

১২.
একটি ড্রেসিং টেবিল ও একটি টুলকে একই ত্বরণে সরাতে গেলে দেখা গেল ড্রেসিং টেবিলকে তুলনামূলক বেশি জোরে ধাক্কা দিতে হচ্ছে। এই ঘটনার ব্যাখ্যা কোন সূত্রের সাহায্যে করা যায়?
  1. নিউটনের প্রথম সূত্র
  2. নিউটনের দ্বিতীয় সূত্র
  3. নিউটনের তৃতীয় সূত্র
  4. মহাকর্ষ সূত্র
ব্যাখ্যা

• নিউটনের দ্বিতীয় সূত্র — একই ত্বরণ সৃষ্টি করতে ভর বেশি হলে বেশি বল প্রয়োজন হয়; তাই এ ঘটনাটি নিউটনের দ্বিতীয় সূত্র দ্বারা ব্যাখ্যা করা যায়।

 
• নিউটনের দ্বিতীয় সূত্র:
- কোনো বস্তুর উপর প্রয়োগকৃত বল তার ভর ও ত্বরণের গুণফলের সমান।
- গাণিতিকভাবে, F = ma.
- নির্দিষ্ট ত্বরণ সৃষ্টি করতে ভর যত বেশি হবে, প্রয়োজনীয় বলও তত বেশি হবে।
 
• ঘটনার বিশ্লেষণ:
- ড্রেসিং টেবিলের ভর টুলের তুলনায় বেশি।
- একই ত্বরণে সরাতে হলে ড্রেসিং টেবিলের জন্য বেশি বল প্রয়োগ করতে হয়।
- তাই ড্রেসিং টেবিলকে তুলনামূলক বেশি জোরে ধাক্কা দিতে হয়।
 
• অন্যান্য অপশন:
- নিউটনের প্রথম সূত্র: বাহ্যিক বল না থাকলে বস্তু স্থির বা সমবেগে চলমান থাকে।
- নিউটনের তৃতীয় সূত্র: প্রত্যেক ক্রিয়ার সমান ও বিপরীত প্রতিক্রিয়া থাকে।
- মহাকর্ষ সূত্র: দুটি বস্তুর মধ্যে পারস্পরিক আকর্ষণ বল নির্ণয়ের সূত্র।
 
উৎস:
1) পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
2) Science Expert, Live Publications.

১৩.
একটি তরঙ্গের ক্ষেত্রে যদি মাধ্যমের কণাগুলোর স্পন্দনের দিক এবং তরঙ্গ সঞ্চালনের দিক পরস্পর লম্ব হয়, তবে সেই তরঙ্গটি কোন ধরনের?
  1. অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গ
  2. যান্ত্রিক তরঙ্গ
  3. অনুপ্রস্থ তরঙ্গ
  4. তাপ তরঙ্গ
ব্যাখ্যা

• অনুপ্রস্থ তরঙ্গ হলো সেই তরঙ্গ, যেখানে মাধ্যমের কণাগুলোর স্পন্দনের দিক ও তরঙ্গ সঞ্চালনের দিক পরস্পর লম্ব।

• অনুপ্রস্থ তরঙ্গ:
- যে তরঙ্গ মাধ্যমের কণাগুলোর স্পন্দনের দিকের সাথে সমকোণে অগ্রসর হয় তাকে অনুপ্রস্থ তরঙ্গ বলে।
- পানিতে তরঙ্গ সৃষ্টি হলে পানির কণাগুলো উপরে-নিচে ওঠানামা করে, কিন্তু তরঙ্গ সামনের দিকে ছড়িয়ে পড়ে।
- অনুপ্রস্থ তরঙ্গে তরঙ্গ শীর্ষ ও তরঙ্গ পাদ গঠিত হয়।
- পরপর দুটি তরঙ্গ শীর্ষ অথবা দুটি তরঙ্গ পাদের মধ্যবর্তী দূরত্বকে তরঙ্গ দৈর্ঘ্য বলা হয়।
- আলো তরঙ্গ, বেতার তরঙ্গ ও পানির তরঙ্গ অনুপ্রস্থ তরঙ্গের উদাহরণ।

• অনুপ্রস্থ তরঙ্গের বৈশিষ্ট্য:
- মাধ্যমের কণাগুলো সাম্য অবস্থান থেকে উপরে-নিচে স্পন্দিত হয়।
- কণার স্পন্দনের দিক ও তরঙ্গ সঞ্চালনের দিক পরস্পর লম্ব।
- তরঙ্গ শক্তি এক স্থান থেকে অন্য স্থানে সঞ্চালন করে, কিন্তু কণাগুলো স্থানান্তরিত হয় না।

• অন্যান্য অপশন:
- অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গ: যে তরঙ্গে কণার স্পন্দনের দিক ও তরঙ্গ সঞ্চালনের দিক সমান্তরাল হয়।
- যান্ত্রিক তরঙ্গ: যে তরঙ্গ সঞ্চালনের জন্য মাধ্যমের প্রয়োজন হয়।
- তাপ তরঙ্গ: সূর্য থেকে তাপ শক্তি তরঙ্গ আকারে সঞ্চালিত হয়, যা তড়িৎচৌম্বকীয় তরঙ্গের অন্তর্ভুক্ত।

উৎস:
1) পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়,
2) Science Expert, Live Publications.

১৪.
তরঙ্গ সঞ্চালনকারী কোনো কণা একটি পূর্ণ স্পন্দন সম্পন্ন করতে যে সময় নেয় তাকে কী বলে?
  1. কম্পাঙ্ক
  2. বিস্তার
  3. দশা
  4. পর্যায়কাল
ব্যাখ্যা

• তরঙ্গ সঞ্চালনকারী কোনো কণা একটি পূর্ণ স্পন্দন সম্পন্ন করতে যে সময় নেয় তাকে পর্যায়কাল বলে।

• পর্যায়কাল:
- তরঙ্গ সঞ্চালনকারী কোনো কণা একটি পূর্ণ স্পন্দন সম্পন্ন করতে যে সময় নেয় তাকে ঐ তরঙ্গের পর্যায়কাল বলা হয়।
- পর্যায়কালকে সাধারণত T দ্বারা প্রকাশ করা হয়।
- পর্যায়কালের একক সেকেন্ড (s)।
- একটি কণা সাম্য অবস্থান থেকে শুরু করে একই দিক থেকে পুনরায় সেই অবস্থানে ফিরে এলে একটি পূর্ণ স্পন্দন সম্পন্ন হয়।
- একটি পূর্ণ স্পন্দনের জন্য যে সময় প্রয়োজন, সেটিই পর্যায়কাল।
- পর্যায়কাল যত কম, কণার স্পন্দন তত দ্রুত সম্পন্ন হয়।
- পর্যায়কাল ও কম্পাঙ্কের মধ্যে বিপরীত সম্পর্ক বিদ্যমান।
- যদি কম্পাঙ্ক f হয় এবং পর্যায়কাল T হয়, তবে f = 1/T.

• পূর্ণ স্পন্দন:
- কোনো কণা সাম্য অবস্থান থেকে একদিকে গিয়ে পুনরায় সাম্য অবস্থানে ফিরে এলে সেটি অর্ধ স্পন্দন।
- সাম্য অবস্থান থেকে বিপরীত দিকে গিয়ে আবার প্রাথমিক অবস্থানে ফিরে এলে একটি পূর্ণ স্পন্দন সম্পন্ন হয়।
- একটি পূর্ণ স্পন্দনের জন্য নির্দিষ্ট সময় লাগে, যা পর্যায়কাল দ্বারা নির্দেশিত হয়।

• তরঙ্গের ক্ষেত্রে পর্যায়কালের গুরুত্ব:
- তরঙ্গের গতি, কম্পাঙ্ক ও তরঙ্গদৈর্ঘ্যের সাথে পর্যায়কালের গাণিতিক সম্পর্ক রয়েছে।
- তরঙ্গ বেগ নির্ণয়ে পর্যায়কাল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
- তরঙ্গের সময়ভিত্তিক আচরণ বিশ্লেষণে পর্যায়কাল ব্যবহৃত হয়।

• অন্যান্য অপশন:
- কম্পাঙ্ক: এক সেকেন্ডে সম্পন্ন স্পন্দনের সংখ্যা।
- বিস্তার: সাম্য অবস্থান থেকে কণার সর্বাধিক সরণ।
- দশা: নির্দিষ্ট মুহূর্তে কণার সরণ, বেগ ও ত্বরণ দ্বারা নির্দেশিত অবস্থা।

উৎস:
1) পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়,
2) Science Expert, Live Publications.

১৫.
শব্দকে যান্ত্রিক ও অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গ বলা হয় কেন?
  1. কারণ শব্দ মাধ্যম ছাড়াই চলতে পারে
  2. কারণ শব্দ কণার স্পন্দনের দিকের সাথে লম্বভাবে অগ্রসর হয়
  3. কারণ শব্দ মাধ্যমের কণার কম্পনের মাধ্যমে সমান্তরালভাবে অগ্রসর হয়
  4. কারণ শব্দ কেবল কঠিন মাধ্যমে চলতে পারে
ব্যাখ্যা

• শব্দ যান্ত্রিক ও অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গ, কারণ এটি মাধ্যমের কণার কম্পনের মাধ্যমে স্পন্দনের দিকের সমান্তরালে অগ্রসর হয়।

• শব্দ:
- যা শোনা যায় তাই শব্দ।
- শব্দ এক প্রকার শক্তি, যা আমাদের শ্রবণ ইন্দ্রিয়ে শোনার অনুভূতি সৃষ্টি করে।
- শব্দ শক্তি তরঙ্গাকারে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে সঞ্চালিত হয়।
- শব্দ এক প্রকার যান্ত্রিক তরঙ্গ, কারণ এর সঞ্চালনের জন্য মাধ্যমের প্রয়োজন হয়।
- শব্দ এক প্রকার অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গ, কারণ এতে মাধ্যমের কণার স্পন্দনের দিক ও তরঙ্গ সঞ্চালনের দিক সমান্তরাল।
- বস্তুর কম্পন থেকে শব্দের উৎপত্তি হয়।
- কম্পন বন্ধ হলে শব্দও বন্ধ হয়ে যায়।

• শব্দের উৎপত্তি:
- কোনো বস্তুতে আঘাত করলে বা কম্পন সৃষ্টি করলে তার চারপাশের মাধ্যমের কণাগুলো স্পন্দিত হয়।
- এই স্পন্দনের ফলে মাধ্যমের মধ্যে পর্যায়ক্রমে সংকোচন ও প্রসারণ সৃষ্টি হয়।
- সংকোচন অংশে কণাগুলো ঘনভাবে অবস্থান করে এবং প্রসারণ অংশে কণাগুলো তুলনামূলকভাবে দূরে সরে যায়।
- এই সংকোচন ও প্রসারণ ক্রমান্বয়ে সামনে অগ্রসর হয়ে তরঙ্গ সৃষ্টি করে।
- মাধ্যমের কণাগুলো তাদের সাম্য অবস্থানের আশেপাশে সামনে-পেছনে স্পন্দিত হয়, কিন্তু স্থায়ীভাবে স্থানান্তরিত হয় না।
- শক্তি এক স্থান থেকে অন্য স্থানে সঞ্চালিত হয়, কিন্তু মাধ্যমের কণাগুলো নিজ অবস্থান ত্যাগ করে না।

• শব্দের সঞ্চালন প্রক্রিয়া:
- উৎসে কম্পন সৃষ্টি হলে সংলগ্ন বায়ু স্তরে কম্পন শুরু হয়।
- এই কম্পন অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গ আকারে চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে।
- বায়ু, তরল বা কঠিন মাধ্যমে শব্দ সঞ্চালিত হতে পারে।
- মাধ্যম না থাকলে শব্দ সঞ্চালিত হতে পারে না।
- শব্দ তরঙ্গ কানে প্রবেশ করলে কর্ণঝিল্লিতে কম্পন সৃষ্টি করে।
- কর্ণঝিল্লির কম্পন স্নায়ুর মাধ্যমে মস্তিষ্কে পৌঁছে শব্দের অনুভূতি সৃষ্টি করে।

• শব্দের বৈশিষ্ট্য:
- এটি যান্ত্রিক তরঙ্গ।
- এটি অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গ।
- এটি শক্তি পরিবহন করে।
- এটি সংকোচন ও প্রসারণের মাধ্যমে অগ্রসর হয়।
- শব্দের সঞ্চালনের জন্য মাধ্যম অপরিহার্য।

• অন্যান্য অপশন:
- মাধ্যম ছাড়াই চলতে পারে: তড়িৎচৌম্বকীয় তরঙ্গের বৈশিষ্ট্য।
- স্পন্দনের দিকের সাথে লম্বভাবে অগ্রসর হয়: অনুপ্রস্থ তরঙ্গের বৈশিষ্ট্য।
- কেবল কঠিন মাধ্যমে চলতে পারে: শব্দ কঠিন, তরল ও বায়বীয় মাধ্যমে চলতে পারে।

উৎস:
1) পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়,
2) Science Expert, Live Publications.

১৬.
নিম্নের কোনটি সরল ছন্দিত গতির বৈশিষ্ট্য?
  1. ত্বরণ সর্বদা সাম্য অবস্থানের দিকে নির্দেশিত
  2. গতি সব সময় সমবেগে হয়
  3. কণার স্থানচ্যুতি শূন্য থাকে
  4. গতি কেবল বৃত্তাকার হয়
ব্যাখ্যা

• সরল ছন্দিত গতিতে ত্বরণ সর্বদা সাম্য অবস্থানের দিকে নির্দেশিত থাকে।

• সরল ছন্দিত গতি:
- সরল ছন্দিত গতি একটি পর্যাবৃত্ত গতি।
- এটি একটি সরল স্পন্দন গতি।
- এটি সরলরেখীয় গতি।
- এই গতিতে কণার ত্বরণ সাম্য অবস্থান থেকে সরণের সমানুপাতিক।
- ত্বরণ সর্বদা সাম্য অবস্থানের দিকে নির্দেশিত থাকে।
- কণা সাম্য অবস্থানের একদিকে গিয়ে পুনরায় বিপরীত দিকে ফিরে আসে।
- কণার গতি নির্দিষ্ট সময় পর পর পুনরাবৃত্ত হয়।
- সাম্য অবস্থান থেকে কণার সরণ পরিবর্তিত হলে ত্বরণও পরিবর্তিত হয়।
- ত্বরণ ও সরণের দিক পরস্পর বিপরীতমুখী হয়।

• সরল ছন্দিত গতির বৈশিষ্ট্য:
- এটি পর্যাবৃত্ত গতি।
- এটি সরলরেখায় সংঘটিত হয়।
- ত্বরণ সাম্য অবস্থান অভিমুখী।
- ত্বরণ সরণের সমানুপাতিক।
- কণার অবস্থান, বেগ ও ত্বরণ নির্দিষ্ট নিয়মে পরিবর্তিত হয়।

উৎস:
1) পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়,
2) Science Expert, Live Publications.

১৭.
শব্দের প্রতিধ্বনি স্পষ্টভাবে শোনার জন্য মূল শব্দ ও প্রতিফলিত শব্দের মধ্যে ন্যূনতম কত সময় ব্যবধান প্রয়োজন?
  1. ০.০১ সেকেন্ড
  2. ০.১ সেকেন্ড
  3. ১ সেকেন্ড
  4. ২ সেকেন্ড
ব্যাখ্যা

• শব্দের প্রতিধ্বনি স্পষ্টভাবে শোনার জন্য মূল শব্দ ও প্রতিফলিত শব্দের মধ্যে ন্যূনতম ০.১ সেকেন্ড সময় ব্যবধান প্রয়োজন।

• শব্দের প্রতিধ্বনি:
- কোনো শব্দ তরঙ্গ প্রতিফলক পৃষ্ঠে আঘাত করে প্রতিফলিত হয়ে পুনরায় শ্রোতার কানে ফিরে এলে তাকে প্রতিধ্বনি বলে।
- প্রতিধ্বনি মূল শব্দের পুনরাবৃত্ত রূপ হিসেবে শোনা যায়।
- প্রতিধ্বনি স্পষ্টভাবে শোনার জন্য মূল শব্দ ও প্রতিফলিত শব্দের মধ্যে অন্তত ০.১ সেকেন্ড ব্যবধান থাকতে হয়।
- যদি সময় ব্যবধান ০.১ সেকেন্ডের কম হয়, তবে প্রতিফলিত শব্দ মূল শব্দের সাথে মিশে যায়।
- প্রতিধ্বনি শোনার জন্য প্রতিফলক পৃষ্ঠ যথেষ্ট দূরে থাকতে হয়।
- প্রতিধ্বনি শব্দের প্রতিফলনের ফল।

• প্রতিধ্বনি সৃষ্টির শর্ত:
- শব্দের উৎস ও প্রতিফলক পৃষ্ঠের মধ্যে পর্যাপ্ত দূরত্ব থাকতে হবে।
- মূল শব্দ ও প্রতিফলিত শব্দের মধ্যে ন্যূনতম ০.১ সেকেন্ড ব্যবধান থাকতে হবে।
- প্রতিফলক পৃষ্ঠ মসৃণ ও কঠিন হলে প্রতিফলন স্পষ্ট হয়।
- শব্দ তরঙ্গ প্রতিফলিত হয়ে পুনরায় শ্রোতার কানে প্রবেশ করলে প্রতিধ্বনি অনুভূত হয়।

উৎস:
1) পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়,
2) Science Expert, Live Publications.

১৮.
মানুষের কানে শ্রাব্য শব্দের কম্পাঙ্কের পরিসর কত?
  1. ১০ Hz – ১০০০ Hz
  2. ২০ Hz – ২০০০০ Hz
  3. ৫০ Hz – ৫০০০০ Hz
  4. ১০০ Hz – ১০০০০ Hz 
ব্যাখ্যা

• মানুষের শ্রাব্যতার সীমা ২০ Hz থেকে ২০,০০০ Hz কম্পাঙ্কের মধ্যে।

• শ্রাব্যতার সীমা:
- শব্দের উৎস বস্তুর কম্পন।
- কম্পন হলেই সব শব্দ মানুষ শুনতে পায় না।
- মানুষের শ্রবণ ইন্দ্রিয়ের একটি নির্দিষ্ট সীমা রয়েছে।
- প্রতি সেকেন্ডে ২০ টির নিচে কম্পন হলে উৎপন্ন শব্দ মানুষ শুনতে পায় না।
- প্রতি সেকেন্ডে ২০,০০০ টির বেশি কম্পন হলেও উৎপন্ন শব্দ মানুষ শুনতে পায় না।
- তাই মানুষের শ্রাব্যতার সীমা ২০ Hz থেকে ২০,০০০ Hz কম্পাঙ্কের মধ্যে।
- এই সীমার মধ্যে উৎপন্ন শব্দকে শ্রাব্য শব্দ বলা হয়।
- মানুষের শ্রাব্যতার পাল্লা ব্যক্তি ভেদে ভিন্ন হতে পারে।

• শব্দেতর (Infrasonic) তরঙ্গ:
- ২০ Hz-এর নিচের কম্পাঙ্কের তরঙ্গকে শব্দেতর তরঙ্গ বলে।
- এ ধরনের তরঙ্গ মানুষের কানে শোনা যায় না।
- শব্দের চেয়ে কম কম্পাঙ্কের জন্য একে শব্দেতর বলা হয়।

• শব্দোত্তর (Ultrasonic) তরঙ্গ:
- ২০,০০০ Hz-এর উপরের কম্পাঙ্কের তরঙ্গকে শব্দোত্তর তরঙ্গ বলে।
- এ ধরনের তরঙ্গ মানুষের কানে শোনা যায় না।
- শব্দের চেয়ে বেশি কম্পাঙ্কের জন্য একে শব্দোত্তর বলা হয়।

• বিভিন্ন প্রাণীর শ্রাব্যতার পাল্লা:
- মানুষের শ্রাব্যতার পাল্লা ২০ Hz থেকে ২০,০০০ Hz,
- বিড়ালের শ্রাব্যতার পাল্লা ৪৫ Hz থেকে ৬৪,০০০ Hz,
- ইঁদুরের শ্রাব্যতার পাল্লা ১,০০০ Hz থেকে ৯১,০০০ Hz,
- বাদুরের শ্রাব্যতার পাল্লা ২,০০০ Hz থেকে প্রায় ১১০,০০০ Hz,
- ডগ হুইসেল বা নীরব বাঁশিতে উৎপন্ন শব্দ মানুষ শুনতে পায় না, কিন্তু কুকুর ও বিড়াল শুনতে পারে।
- প্রাণীভেদে শ্রাব্যতার পাল্লার পার্থক্য রয়েছে।

উৎস:
1) পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়,
2) Science Expert, Live Publications.

১৯.
শব্দের তীব্রতার SI একক কোনটি?
  1. নিউটন
  2. জুল
  3. হার্টজ
  4. ওয়াট প্রতি বর্গমিটার
ব্যাখ্যা

• শব্দের তীব্রতার SI একক হলো ওয়াট প্রতি বর্গমিটার।

• শব্দের তীব্রতা (Intensity):
- শব্দের তীব্রতা হলো একক ক্ষেত্রফল দিয়ে প্রতি সেকেন্ডে প্রবাহিত শব্দশক্তির পরিমাণ।
- এটি নির্দেশ করে নির্দিষ্ট ক্ষেত্রফলে কত দ্রুত শক্তি সঞ্চালিত হচ্ছে।
- শব্দের তীব্রতা শক্তির সাথে সম্পর্কিত একটি ভৌত রাশি।
- তীব্রতা যত বেশি, শব্দ তত বেশি জোরালো অনুভূত হয়।
- শব্দের উৎস থেকে দূরত্ব বৃদ্ধি পেলে তীব্রতা হ্রাস পায়।
- তীব্রতা ক্ষেত্রফলের ব্যস্তানুপাতিকভাবে পরিবর্তিত হয়।

• শব্দের তীব্রতার একক:
- শব্দের তীব্রতার SI একক ওয়াট প্রতি বর্গমিটার (Wm-2)।
- এখানে ওয়াট শক্তির একক এবং বর্গমিটার ক্ষেত্রফলের একক।
- একক ক্ষেত্রফলে প্রতি সেকেন্ডে যত ওয়াট শক্তি প্রবাহিত হয় সেটিই তীব্রতা।
- তীব্রতার মান পরিমাপ করে শব্দের শক্তির বিস্তার নির্ণয় করা হয়।

• অন্যান্য একক:
- নিউটন → বলের একক,
- জুল → শক্তির একক,
- হার্টজ → কম্পাঙ্কের একক,
- শব্দের তীব্রতা স্তর (Intensity Level): ডেসিবেল (dB).

উৎস:
1) পদার্থবিজ্ঞান ১ম পত্র, এইসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
2) Science Expert, Live Publications.

২০.
টানা তারের আড় কম্পনের ক্ষেত্রে তারের দুই প্রান্ত বাঁধা থাকলে প্রান্ত বিন্দুতে কী সৃষ্টি হয়?
  1. সুস্পন্দ বিন্দু
  2. নিস্পন্দ বিন্দু
  3. অনুনাদ বিন্দু
  4. সংকোচন বিন্দু 
ব্যাখ্যা

• টানা তারের আড় কম্পনের ক্ষেত্রে তারের দুই প্রান্ত বাঁধা থাকায় প্রান্ত বিন্দুতে নিস্পন্দ বিন্দু সৃষ্টি হয়।

• টানা তারের আড় কম্পন:
- একটি তারকে দুই প্রান্তে দৃঢ় অবলম্বনে টান টান করে বাঁধা হলে তা কম্পনের উপযোগী হয়।
- তারটিকে দৈর্ঘ্যের সাথে লম্বভাবে টেনে ছেড়ে দিলে আড় তরঙ্গ সৃষ্টি হয়।
- উৎপন্ন তরঙ্গ তারের আবদ্ধ প্রান্তে প্রতিফলিত হয়ে ফিরে আসে।
- আগত ও প্রতিফলিত তরঙ্গের সমন্বয়ে স্থির তরঙ্গ সৃষ্টি হয়।
- স্থির তরঙ্গের ফলে তারটি অবিরত কাঁপতে থাকে।

• নিস্পন্দ বিন্দু:
- তারের যে বিন্দুতে কোনো সরণ হয় না তাকে নিস্পন্দ বিন্দু বলে।
- দুই প্রান্ত বাঁধা থাকায় প্রান্ত বিন্দুতে সরণ শূন্য থাকে।
- তাই প্রান্তদ্বয় নিস্পন্দ বিন্দু হিসেবে কাজ করে।
- মধ্যবর্তী অংশে এক বা একাধিক নিস্পন্দ ও সুস্পন্দ বিন্দু সৃষ্টি হতে পারে।

• সুস্পন্দ বিন্দু:
- যে বিন্দুতে সরণ সর্বাধিক হয় তাকে সুস্পন্দ বিন্দু বলে।
- একটি মাত্র সুস্পন্দ বিন্দু থাকলে যে সুর উৎপন্ন হয় তাকে মূল সুর বলা হয়।
- একাধিক সুস্পন্দ বিন্দু থাকলে উৎপন্ন সুরকে উপসুর বলা হয়।

• অন্যান্য অপশন:
- সুস্পন্দ বিন্দু: যেখানে কম্পনের বিস্তার সর্বাধিক।
- অনুনাদ বিন্দু: অনুনাদের ক্ষেত্রে সৃষ্ট বিশেষ অবস্থা নির্দেশ করে।
- সংকোচন বিন্দু: অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গে ঘন অংশ নির্দেশ করে।

উৎস:
1) পদার্থবিজ্ঞান ১ম পত্র, এইসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
2) Science Expert, Live Publications.