পরীক্ষা আর্কাইভ

IBA ফ্যাকাল্টি ভিত্তিক প্রস্তুতি

পরীক্ষাIBA ফ্যাকাল্টি ভিত্তিক প্রস্তুতিতারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়07 minutes
মোট প্রশ্ন২০
সিলেবাস
পরীক্ষা - ৪৫ বিষয়: বাংলা - ৭ টপিক: ১. বাংলা সাহিত্যের যুগ বিভাগ, অন্ধকার যুগ, যুগ-সন্ধিক্ষণ, ২. প্রাচীন যুগ ও চর্যাপদ, ৩. মধ্যযুগের গুরত্বপূর্ণ তথ্য ও সাহিত্যকর্ম ৪. সাহিত্যিক ছদ্মনাম, উক্তি, চরিত্র, উপাধি, সাহিত্য বিষয়ক পত্রিকা।
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

IBA ফ্যাকাল্টি ভিত্তিক প্রস্তুতি

IBA ফ্যাকাল্টি ভিত্তিক প্রস্তুতি · তারিখ অনির্ধারিত · ২০ প্রশ্ন

.
ড. সুনীতিকুমারের মতে চর্যাপদের ভাষা কোন অঞ্চলের উপভাষা?
  1. পশ্চিম বঙ্গ
  2. পূর্ব বঙ্গ
  3. মধ্য বঙ্গ
  4. দক্ষিণ বঙ্গ 
  5. কোনটি নয় 
সঠিক উত্তর:
পশ্চিম বঙ্গ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পশ্চিম বঙ্গ
ব্যাখ্যা

চর্যাপদ:
- চর্যাপদ মানে হলো প্রাচীন বাংলা সাহিত্যের লিখিত প্রথম নিদর্শন।
- এটি বৌদ্ধ সহজিয়া সিদ্ধাচার্যদের দ্বারা রচিত এক প্রকার সাধনমূলক গীতিকবিতা।
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে আদি ও শ্রেষ্ঠ নিদর্শন হলো চর্যাপদ।
- এটি গানের সংকলন এবং একে সাধন-সংগীতও বলা হয়।
- চর্যাপদ মাত্রাবৃত্ত ছন্দে রচিত।
- একে চর্চাগীতিকোষ বলা হয়।
-পাল শাসন আমলে এটি রচিত হয়।
- চর্যাপদকে বলা হয় সহজিয়া বা বৌদ্ধ ধর্ম অবলম্বনকারীদের সাহিত্য।
- এর ভাষা রীতি হলো কথ্য ভাষারীতি।

- ড. সুনীতিকুমারের মতে চর্যাপদের ভাষা পশ্চিম বঙ্গের উপভাষা।
- এবং ড. শহীদুল্লাহর মতে চর্যাপদের ভাষা প্রাচীন বঙ্গকামরূপী অথবা প্রাচীন বাংলা ভাষা।
- চর্যাপদের ভাষাকে সন্ধ্যাভাষা ও বলা হয়।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; 
বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস — মাহবুবুল আলম।

.
পুঁথি সাহিত্যের উল্লেখযোগ্য রচনা- 
  1. ইউসুফ-জুলেখা
  2. সয়ফুলমুলক বদিউজ্জামান
  3. লাইলি-মজনু
  4. উপরের সবগুলো 
  5. কোনোটিই নয় 
সঠিক উত্তর:
উপরের সবগুলো 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপরের সবগুলো 
ব্যাখ্যা

পুঁথি সাহিত্য: 
- পুঁথি সাহিত্য মূলত আঠারো ও ঊনবিংশ শতাব্দীতে মুসলিম সমাজে প্রচলিত এক বিশেষ ধরণের কাব্য বা আখ্যান।
- এটি বাংলা, আরবি, ফারসি ও হিন্দি শব্দের মিশ্রণে রচিত হয়।
- এটি মূলত ছাপাখানা আবিষ্কারের আগে হাতে লেখা ধর্মীয়, ঐতিহাসিক বা রোমান্টিক কাহিনীর জন্য ব্যবহৃত হত।
- এবং কখনও কখনও ‘দোভাষী-পুঁথি’ নামে পরিচিত।
- পুঁথি সাহিত্যের ভাষা মিশ্র, এবং এর বিষয়বস্তু ইসলামী চেতনা, প্রেমকাহিনী (যেমন লাইলি-মজনু, ইউসুফ-জুলেখা), যুদ্ধবিগ্রহ (জঙ্গনামা) ও অলৌকিক কাহিনী নিয়ে গঠিত।
- রচয়িতা ও পাঠক ছিলেন সাধারণ মুসলিম সমাজ এবং শায়ের বা কবি।
- হাতে লেখা হওয়ায় এবং কলকাতার বটতলার ছাপাখানায় প্রচুর মুদ্রিত হওয়ায় একে ‘বটতলার পুঁথি’ বা ‘দোভাষী-পুঁথি’ বলা হয়।
- পুঁথি সাহিত্য রচয়িতাদের বলা হয় শায়ের কবি।

- এই সাহিত্যের উল্লেখযোগ্য উদাহরণ হলো—
- ইউসুফ-জুলেখা, সয়ফুলমুলক বদিউজ্জামান, লাইলি-মজনু ইত্যাদি।
- সৈয়দ হামজার 'মধুমালতী' পুঁথি সাহিত্যের ধারায় অত্যন্ত জনপ্রিয়। 

- পুঁথি সাহিত্য রচয়িতাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছেন ফকির গরীবুল্লাহ, সৈয়দ হামজা প্রমুখ।
- পুঁথি সাহিত্যের প্রথম সার্থক ও সমৃদ্ধ পুঁথিকার হিসেবে পরিচিত ফকির গরীবুল্লাহ।
- তিনি ইউসুফ জুলেখা,জঙ্গনামা, আমীর হামজা, সোনাবান ও সত্যপীরসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পুঁথি রচনা করেছেন।
----------------------------------
উৎস: 
বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস — মাহবুবুল আলম;
বাংলাপিডিয়া।

.
কারবালার ঘটনা কেন্দ্র করে রচিত কাব্যকে কী নামে অভিহিত করা হয়?
  1. মসিহা সাহিত্য  
  2. মুরাসা সাহিত্য 
  3. মর্সিয়া সাহিত্য
  4. মুর্শিদ সাহিত্য 
  5. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
মর্সিয়া সাহিত্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মর্সিয়া সাহিত্য
ব্যাখ্যা

মর্সিয়া সাহিত্য:
- মর্সিয়া আরবি শব্দ।
- এর অর্থ হলো শক্তি।
- মূলত কারবালা ও ইসলামি বেদনার্ত কাহিনীর ওপর ভিত্তি করে মুসলমান লেখকরা এই ধরনের সাহিত্য রচনা করেন, যা মর্সিয়া সাহিত্য নামে পরিচিত।
- যেসব সাহিত্য রচনায় শোক বা দুঃখের বিষয় প্রধানতভাবে প্রকাশ পায়, সেগুলোকে মর্সিয়া সাহিত্য বা শোককাব্য বলা হয়।

- বাংলা মর্সিয়া সাহিত্যের আদি কবি হলেন শেখ ফয়জুল্লাহ।
- তিনি 'জয়নবের চৌতিশা' রচনা করেন।
- এই কাব্যটি ১৫৪৫ খ্রিষ্টাব্দে রচিত হয়েছিল।
- এবং এটিকেই বাংলা সাহিত্যের প্রথম মর্সিয়া কাব্য হিসেবে ধরা হয়। 

- রাধাচরণ গোপ এই সাহিত্যের একজন হিন্দু কবি যিনি মর্সিয়া সাহিত্য রচনা করেছেন।
- তার রচিত দুটি উল্লেখযোগ্য কাব্য হলো- ইমামগণের কেচ্ছা এবং আফৎনামা।
- ‘ইমামগণের কেচ্ছা’ এবং ‘আফৎনামা’ বাংলা সাহিত্যের মর্সিয়া ধারার দুই গুরুত্বপূর্ণ শোকাবহ কাব্য।
- এই কাব্যদ্বয়ে কারবালার যুদ্ধ এবং ইমাম হোসেনের শাহাদাতের ঘটনা কেন্দ্রে রয়েছে।
- আরবি ও ফারসি ধারার প্রভাব নিয়ে রচিত এই রচনায় গভীর শোক ও ভক্তি ফুটে উঠেছে। 

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলাপিডিয়া।

.
চর্যাপদের ২ ও ২০ নং পদের রচয়িতা কে ছিলেন?
  1. কুক্কুরীপা
  2. কাহ্নপা
  3. লুইপা
  4. শবরপা
  5. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
কুক্কুরীপা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কুক্কুরীপা
ব্যাখ্যা

চর্যাপদের ২ ও ২০ নং পদের রচয়িতা- কুক্কুরীপা। 
------------------------
• কুক্কুরীপা:
- ধারনা করা হয় চর্যাপদের একমাত্র মহিলা কবি ছিলেন কুক্কুরীপা। 
- তাকে বাংলা সাহিত্যের প্রথম নারী কবি হিসেবে ধরা হয়।
- ধারণা করা হয়, তিনি চর্যাপদের ৩টি পদ লিখেছেন—২, ২০ এবং ৪৮ নং, যদিও ৪৮ নং পদ আজ পাওয়া যায়নি।

- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে, কুক্কুরীপা ৮ম শতকের প্রথমার্ধে বর্তমান বাংলাদেশের অঞ্চলের লোক ছিলেন।
- এবং বৌদ্ধ তন্ত্র সাধনার মাধ্যমে মহামায়ার সাধনা শুরু করেছিলেন।
- ড. সুকুমার সেনের মতে, কুক্কুরীপার ভাষার সঙ্গে নারীদের ভাষার মিল দেখা যায়।
- ধারনা করা হয়, কুক্কুরীপা ছিলেন ইন্দ্রভূতির অন্যতম গুরু। 

- রাহুল সংকৃত্যায়নের মতে,
• কুক্কুরীপা দেবপালের রাজত্বকালে ছিলেন।
• তার জন্মস্থান কপিলবস্তু এবং জন্ম হয়েছিল ব্রাহ্মণ বংশে।
• তিনি একজন সিদ্ধা ছিলেন।

- তারানাথের মতে, একটি কুকুরী সর্বদা সঙ্গে রাখতেন তাই এই সিদ্ধা কুক্কুরীপা নামে পরিচিত।
- কুক্কুরীপার লেখা চর্যাপদের ভাষা সহজ, গ্রাম্য এবং লোকসঙ্গীতের মতো।
- তার পরিচিত পংক্তি হলো—“দিবসহি বহুড়ী কাউহি ডর ভাই রাতি ভইলে কামরু জাই।" 
-----------------
অন্যদিকে,
- লুইপা চর্যাপদের ২টি পদের রচয়িতা। এই পদ দুটি হলো চর্যাপদের ১ নম্বর পদ (প্রথম পদ) এবং ২৯ নম্বর পদ।
- কাহ্নপা হলেন চর্যাপদের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ও সর্বাধিক সংখ্যক পদের রচয়িতা (১৩টি পদ)। পুঁথিতে তাঁর মোট ১২টি পদ (পদ – ৭, ৯, ১০, ১১, ১২, ১৩, ১৮, ১৯, ৩৬, ৪০, ৪২ ও ৪৫) পাওয়া যায়। 
- শবরপা চর্যাপদে ২টি (২৮, ৫০) পদ রচনা করেন।

উৎস:
লাল নীল দীপাবলি, হুমায়ুন আজাদ;
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।  

.
চণ্ডীমঙ্গল কাব্যধারার কোন কবিকে 'স্বভাব কবি' হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে? 
  1. চণ্ডীদাস
  2. দ্বিজমাধব
  3. মানিকদত্ত
  4. মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
  5. কোনটি নয় 
সঠিক উত্তর:
দ্বিজমাধব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দ্বিজমাধব
ব্যাখ্যা

চণ্ডীমঙ্গল কাব্যধারার দ্বিজমাধবকে 'স্বভাব কবি' হিসেবে অভিহিত করা হয়। 
---------------------------
• দ্বিজমাধব:

- ষোড়শ শতাব্দীর চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের প্রধান কবিদের মধ্যে দ্বিজমাধব বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। 
- তাকে এই কাব্যধারার ‘স্বভাবকবি’ বলা হয়। 
- দ্বিজমাধবের রচনায় সহজ-সরল ভাষা এবং প্রাকৃতিক বর্ণনার প্রকাশ লক্ষণীয়। 
- তিনি মূলত চণ্ডীমঙ্গল বা মঙ্গলচণ্ডীর গীত রচনায় নিবেদিত ছিলেন।

দ্রষ্টব্য: 
- সামগ্রিক বাংলা সাহিত্যে ‘স্বভাবকবি’ হিসেবে গোবিন্দচন্দ্র দাস পরিচিত। 
- তবে চণ্ডীমঙ্গল কাব্যে দ্বিজমাধবকে এই বিশেষণ দিয়ে অভিহিত করা হয়।

 
• চণ্ডীমঙ্গল কাব্য:
- চণ্ডীমঙ্গল মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের মঙ্গলকাব্য ধারার একটি গুরুত্বপূর্ণ ও প্রধান শাখা।
- এখানে লৌকিক দেবী চণ্ডীর মাহাত্ম্য এবং পৃথিবীতে তাঁর পূজা প্রতিষ্ঠার কাহিনি তুলে ধরা হয়েছে।
- এই ধারার আদি কবি হিসেবে খ্যাত- মানিক দত্ত। 
- এই ধারার সর্বশ্রেষ্ঠ কবি হিসেবে কবিকঙ্কন মুকুন্দরাম চক্রবর্তী বিশেষভাবে খ্যাত।
- তাঁর রচনায় চণ্ডীমঙ্গল সর্বাধিক সাহিত্যিক উৎকর্ষ লাভ করে।
- মুকুন্দরামের চণ্ডীমঙ্গলে দেবীমাহাত্ম্যের পাশাপাশি সমসাময়িক বাঙালি সমাজের বাস্তব চিত্র স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।

- চন্ডীমঙ্গল কাব্যের উল্লেখযোগ্য কবিগণ হলেন -
- মানিকদত্ত, দ্বিজ মাধব, মুকুন্দরাম চক্রবর্তী, দ্বিজরাম দেব, মুক্তরাম সেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 

.
প্যারীচাঁদ মিত্রের উদ্যোগে অল্পশিক্ষিতা মহিলাদের জন্য কোন পত্রিকা প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল? 
  1. তকবীর
  2. বঙ্গদর্শন
  3. আঙুর
  4. মাসিক পত্রিকা
  5. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
মাসিক পত্রিকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাসিক পত্রিকা
ব্যাখ্যা

প্যারীচাঁদ মিত্র:
- প্যারীচাঁদ মিত্র ১৮১৪ সালের ২২ জুলাই কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন। 
- তিনি ছিলেন লেখক, সাংবাদিক, সংস্কৃতিসেবী ও ব্যবসায়ী।
- তাঁর ছদ্মনাম ছিল 'টেকচাঁদ ঠাকুর'।
- কলকাতা পাবলিক লাইব্রেরির ডেপুটি লাইব্রেরিয়ান হিসেবে ১৮৩৬ সালে তাঁর কর্মজীবন শুরু হয়।
- তিনি বাংলা উপন্যাস রচনার পথিকৃৎ হিসেবে খ্যাত।
- সাহিত্যক্ষেত্রে তাঁর সর্বশ্রেষ্ঠ কৃতিত্ব হলো 'আলালের ঘরের দুলাল', যা বাংলা সাহিত্যের প্রথম উপন্যাস হিসেবে পরিচিত।

- প্যারীচাঁদের উদ্যোগে অল্পশিক্ষিতা মহিলাদের জন্য বাংলা ভাষায় একটি মাসিক পত্রিকা প্রথম প্রকাশিত হয়। 
- এর নাম ছিল- 'মাসিক পত্রিকা' প্রথম সংখ্যার প্রকাশকাল ১৬ আগস্ট ১৮৫৪।
- এই পত্রিকার মূল লক্ষ্য ছিল মহিলাদের সহজ ভাষায় জ্ঞান অর্জনের সুযোগ করে দেওয়া। ।
- ১৯৭৭ সালে তিনি ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন। 

• তাঁর উল্লেখযোগ্য রচিত গ্রন্থসমূহ:
- আলালের ঘরের দুলাল,
- মদ খাওয়া বড় দায়,
- জাত থাকার কি উপায়,
- রামারঞ্জিকা,
- গীতাঙ্কুর,
- যৎকিঞ্চিৎ,
- অভেদী।
---------------------
অন্যদিকে,
- আহসান হাবিব ‘দৈনিক তাকবীর’ পত্রিকার সহ-সম্পাদকের পদে নিযুক্ত ছিলেন।
- ‘বঙ্গদর্শন’ পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিলেন বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়।
- ‘আঙুর’ শিশুতোষ মাসিক পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন পণ্ডিত ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ।

উৎস:
বাংলাপিডিয়া;
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

.
“নদীর এপার কহে ছাড়িয়া নিশ্বাস,
ওপারেতে সর্বসুখ আমার বিশ্বাস।
নদীর ওপার বসি দীর্ঘশ্বাস ছাড়ে;
কহে, যাহা কিছু সুখ সকলই ওপারে"- পঙ্‌ক্তিদ্বয়ের রচয়িতা কে? 
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. সুফিয়া কামাল 
  3. জীবনানন্দ দাশ 
  4. কাজী নজরুল ইসলাম 
  5. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা

উদ্ধৃত পঙ্‌ক্তিদ্বয়ের রচয়িতা বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। 
-----------------------------
মোহ 
  -রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর 

“নদীর এপার কহে ছাড়িয়া নিশ্বাস, 
ওপারেতে সর্বসুখ আমার বিশ্বাস। 
নদীর ওপার বসি দীর্ঘশ্বাস ছাড়ে; কহে, 
যাহা কিছু সুখ সকলই ওপারে।" 

- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘কণিকা’ কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত ‘মোহ’ একটি বিখ্যাত ছোট কবিতা। 
- এই কবিতায় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর মানুষের চিরন্তন অতৃপ্তি এবং দূরের জিনিসের প্রতি মোহ বা আকাঙ্ক্ষাকে নদীর দুই তীরের রূপকের মাধ্যমে প্রকাশ করেছেন। এখানে নদীর এপার এবং ওপার দুই তীরকে মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি হিসেবে দেখানো হয়েছে—যেখানে আমরা সবসময় অন্য তীরে থাকা সুখকেই শ্রেষ্ঠ মনে করি। মানুষ নিজের বর্তমান অবস্থায় সন্তুষ্ট হয় না এবং সবসময় যা নেই তা পাওয়ার আশায় দৃষ্টি ঘুরিয়ে অন্যের জীবন বা দূরের অবস্থাকে ভালো মনে করে দীর্ঘশ্বাস ফেলে।
------------------
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে  কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তিনি একাধারে কবি, ঔপন্যাসিক, সংগীতস্রষ্টা, নাট্যকার, চিত্রকর ও দার্শনিক।
- তিনি বাংলা সাহিত্যের সর্বশ্রেষ্ঠ সাহিত্যিক হিসেবে পরিচিত।
- তিনি পিরালি ব্রাহ্মণ বংশের ছিলেন।
- তিনি আট বছর বয়স থেকে কবিতা রচনা শুরু করেন।
- মাত্র তেরো বছর বয়সে তাঁর 'হিন্দুমেলার উপহার' কবিতাটি অমৃতবাজার পত্রিকা-তে প্রকাশিত হয়।

- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কিছু গুরুত্বপূর্ণ কবিতা হলো—
• গীতাঞ্জলি (যার জন্য তিনি ১৯১৩ সালে নোবেল পান),
• সোনার তরী,
• ঐকতান,
• মোহ
• প্রাণ,
• বৃক্ষ,
• আষাঢ়,
• ১৪০০ সাল,
• যেতে নাহি দিব,
• দুই পাখি,
• নিরুদ্দেশ যাত্রা,
• মানষী,
• হঠাৎ দেখা,
• দান,
• দুই বিঘা জমি।
---------------------------
উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; 
বাংলাপিডিয়া; 
'মোহ' কবিতা। 

.
'দরিয়া বিবি' শওকত ওসমান রচিত কোন উপন্যাসের চরিত্র? 
  1. ক্রীতদাসের হাসি  
  2. জননী
  3. জাহান্নম হইতে বিদায়
  4. দুই সৈনিক
  5. কোনটি নয় 
সঠিক উত্তর:
জননী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জননী
ব্যাখ্যা

'দরিয়া বিবি' শওকত ওসমান রচিত জননী উপন্যাসের চরিত্র। 
---------------------
• 'জননী' উপন্যাসের মূলকথা:

- শওকত ওসমানের জননী (১৯৫৮) উপন্যাসের মূলকথা আবর্তিত হয়েছে গ্রামীণ বাংলার দারিদ্র্যপীড়িত মানুষের জীবনসংগ্রাম এবং সেই সংগ্রামের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা এক জননীর আত্মত্যাগকে ঘিরে। উপন্যাসের প্রধান চরিত্র দরিয়া বিবি একজন প্রান্তিক কৃষিজীবী সমাজভুক্ত দরিদ্র মা, যিনি চরম অভাব, ক্ষুধা ও সামাজিক প্রতিকূলতার মধ্যেও সন্তানদের বাঁচিয়ে রাখার জন্য নিরন্তর লড়াই করেন। তাঁর জীবন দিয়ে লেখক গ্রামীণ সমাজের অর্থনৈতিক সংকট, সামাজিক অবক্ষয় এবং নারীদের নিঃশব্দ সহনশীলতাকে বাস্তব ও সংবেদনশীলভাবে তুলে ধরেছেন। দরিয়া বিবির মাতৃত্ব এখানে কেবল জৈবিক নয়, বরং তা আত্মোৎসর্গ, দৃঢ়তা ও মানবিক শক্তির প্রতীক হয়ে উঠেছে। ফলে জননী উপন্যাসটি একজন নারীর ব্যক্তিগত জীবনের গল্পের সীমা ছাড়িয়ে গ্রামীণ বাংলার নিপীড়িত মানুষের সামষ্টিক জীবনযন্ত্রণার গভীর দলিল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
--------------------------  
• শওকত ওসমান:
- শওকত ওসমান ছিলেন এক বিশিষ্ট কথাসাহিত্যিক ও প্রাবন্ধিক।  
- তিনি ১৯১৭ সালের ২ জানুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার সবলসিংহপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর আসল নাম ছিল শেখ আজিজুর রহমান।
- নাটক, গল্প, উপন্যাস, প্রবন্ধ, রসাত্মক লেখা থেকে শুরু করে শিশু-কিশোর সাহিত্যে পর্যন্ত তাঁর অবদান ছিল উল্লেখযোগ্য। 

• তাঁর সাহিত্যকর্মের মধ্যে উল্লেখযোগ্য উপন্যাসগুলো হলো:
- জননী;
- ক্রীতদাসের হাসি।

• তাঁর মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস:   
- জাহান্নম হইতে বিদায়;
- দুই সৈনিক;
- নেকড়ে অরণ্য;
- জলাঙ্গী।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য নাটক:
- আমলার মামলা;
- পূর্ণ স্বাধীনতা চূর্ণ স্বাধীনতা;
- তস্কর লস্কর;
- কাঁকর মণি।

• শওকত ওসমান এর বিখ্যাত গল্প হল: জন্ম যদি তব বঙ্গে;
• আর তাঁর ভাষা আন্দোলনভিত্তিক উপন্যাস: আর্তনাদ।

উৎস:
'জননী' উপন্যাস; 
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলাপিডিয়া।

.
বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগ-আধুনিক যুগের সন্ধিক্ষণের কবি কাকে বলা হয়?
  1. ভারতচন্দ্র রায় গুণাকরকেকে
  2. বিহারীলাল চক্রবর্তীকে
  3. ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তকে
  4. মধূসূদন দত্তকে
  5. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তকে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তকে
ব্যাখ্যা

ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত:
- ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত ছিলেন একজন কবি ও সাংবাদিক।
- ১২১৮ বঙ্গাব্দের ২৫ ফাল্গুন (মার্চ ১৮১২) পশ্চিমবঙ্গের চবিবশ পরগনা জেলার কাঞ্চনপল্লী বা কাঁচড়াপাড়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে মধ্যযুগ ও আধুনিক যুগের মিলনকারী কবি হিসেবে পরিচিত।
- 'ভ্রমণকারী বন্ধু' ছিল তাঁর ছদ্মনাম।
- ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত ছিলেন যুগসন্ধিক্ষণের কবি (১৭৬১ – ১৮৬০)।
- ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত ১৮৩১ সালে সংবাদ প্রভাকর নামক সাপ্তাহিক পত্রিকা প্রকাশ শুরু করেন।
- সাংবাদিকতার মাধ্যমে তিনি সমাজের অবিচার, ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির অত্যাচার ও অন্যায়কর্মের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেছিলেন। 
- ‘সংবাদ প্রভাকর’ ছাড়াও ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত যেসব পত্রিকা সম্পাদনা করেছিলেন—
- সংবাদ রত্নাবলী,
- পাষণ্ডপীড়ন। 
-------------------------------- 
• মধ্যযুগ ও আধুনিক যুগের সন্ধিক্ষণের কবি:
- বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগ ও আধুনিক যুগের সন্ধিক্ষণের কবি হিসেবে ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত বিশেষভাবে পরিচিত।
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় তাঁকে ‘খাঁটি বাঙালি কবি’ বলে অভিহিত করেছেন।
- ১৮০১–১৮৬১- এই মধ্যবর্তী প্রায় ষাট বছর ছিল রূপান্তরের কাল। 
- এই সময় আধুনিকতার দিকে কেবল অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা চলেছে।
- এই সময়েই ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের সাহিত্যিক আবির্ভাব ঘটে। 

- মধ্যযুগের শেষ প্রতিনিধি ভারতচন্দ্র রায় এবং আধুনিক যুগের প্রথম পুরুষ মাইকেল মধুসূদন দত্ত—এই দুই যুগান্তকারী ব্যক্তিত্বের মধ্যবর্তী সময়ে ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের অবস্থান।
- তাঁর কাব্যে মধ্যযুগের বৈশিষ্ট্য ও আধুনিক যুগের সূচনালক্ষণ একসঙ্গে বিদ্যমান থাকায় তাঁকে যথার্থভাবেই যুগসন্ধিক্ষণের কবি বলা হয়।
- তাঁর রচনায় মধ্যযুগের সাহিত্যরীতি ও বিষয়বস্তু যেমন ছিল, তেমনি আধুনিক যুগের প্রভাবও ছিল স্পষ্ট।
- তিনি ছিলেন দুই যুগের মেলবন্ধনের প্রতীক।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; 
বাংলাপিডিয়া। 

১০.
বড়ু চণ্ডীদাস রচিত শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যের জন্ম খণ্ড-এর প্রধান আলোচ্য বিষয় কোনটি?
  1. রাধা–কৃষ্ণের বিরহ ও মান-অভিমান
  2. বড়াইর মাধ্যমে কৃষ্ণের প্রেম নিবেদন 
  3. কৃষ্ণের রাধার সঙ্গে প্রেমের আদিপর্ব
  4. রাসলীলা ও গোপীবিলাস
  5. কোনটি নয় 
সঠিক উত্তর:
কৃষ্ণের রাধার সঙ্গে প্রেমের আদিপর্ব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কৃষ্ণের রাধার সঙ্গে প্রেমের আদিপর্ব
ব্যাখ্যা

‘শ্রীকৃষ্ণকীর্তন’:
- ‘শ্রীকৃষ্ণকীর্তন’ বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগের প্রথম কাব্য এবং চর্যাপদের পর আবিষ্কৃত দ্বিতীয় প্রাচীনতম বাংলা সাহিত্যকর্ম।
- শ্রীকৃষ্ণকীর্তন হলো বড়ু চণ্ডীদাস রচিত একটি মধ্যযুগীয় বাংলা কাব্য।

- ১৯০৯ সালে বসন্তরঞ্জন রায় বিদ্বদ্বল্লভ অবিভক্ত বাংলার বাঁকুড়া জেলার কাঁকিল্যা গ্রামের দেবেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়ের গোয়ালঘর থেকে এই কাব্যের একমাত্র খণ্ডিত পুথিটি আবিষ্কার করেন।
- পরে ১৯১৬ সালে তাঁরই সম্পাদনায় বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে পুথিটি গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়। 

- শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যের মূল উপজীব্য রাধা ও কৃষ্ণের প্রেমকাহিনী। 
- এখানে কৃষ্ণের জন্ম, বড়াইয়ের সহযোগিতায় রাধার সঙ্গে তাঁর প্রণয়, এবং অবশেষে মথুরায় গমন—এই তিনটি পর্যায়ে কাহিনী বিন্যস্ত।
-‘শ্রীকৃষ্ণকীর্তন’ কাব্যের প্রধান চরিত্র তিনটি — রাধা, কৃষ্ণ, ও বড়াই (যিনি রাধার সহচরী ও প্রণয়-দূতিকা হিসেবে উপস্থিত)।
- এটি ‘শ্রীকৃষ্ণসন্দর্ভ’ নামেও পরিচিত।

 - এই কাব্যটি মোট ১৩টি খণ্ডে বিভক্ত:
• জন্ম খণ্ড,
• তাম্বুল খণ্ড,
• দান খণ্ড,
• নৌকা খণ্ড,
• ভার খণ্ড,
• ছত্র খণ্ড,
• বৃন্দাবন খণ্ড,
• কালিয়দমন খণ্ড,
• যমুনা খণ্ড,
• হার খণ্ড,
• বাণ খণ্ড,
• বংশী খণ্ড ও
• বিরহ খণ্ড।
------------------------------- 
• 'জন্মখণ্ড':
- বড়ু চণ্ডীদাস রচিত শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যের প্রথম খণ্ড হলো জন্মখণ্ড।
- এই খণ্ডে মূলত ভৌম বা মর্ত্যলোকে শ্রীকৃষ্ণের অবতাররূপে জন্মের কাহিনি এবং রাধার সঙ্গে তাঁর প্রেমের সূচনার ভিত্তি উপস্থাপিত হয়েছে। কংসের ভয়ে দেবকীর সন্তান হত্যার পটভূমিতে কৃষ্ণের জন্মের পৌরাণিক উপাখ্যান এখানে বর্ণিত হয়। পাশাপাশি রাধা–কৃষ্ণের পূর্বজন্মের সম্পর্কের আভাস দেওয়া হয়েছে এবং সখীদের মাধ্যমে রাধার সঙ্গে কৃষ্ণের মিলনের ইঙ্গিত পাওয়া যায়।
অর্থাৎ, জন্মখণ্ডে কৃষ্ণের আবির্ভাব, রাধার পূর্বকথা ও তাঁদের প্রেমলীলা শুরুর আদিপর্ব একত্রে রূপায়িত হয়েছে।
--------------------------- 
অন্যদিকে,
• বড়ু চণ্ডীদাস রচিত শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যের তাম্বুলখণ্ড-এ বড়াইর (দূতী) মাধ্যমে কৃষ্ণ রাধার কাছে তাম্বুল পাঠিয়ে প্রেম নিবেদন করেন। রাধা তা প্রত্যাখ্যান করলেও এই খণ্ডে কৃষ্ণের রাধার প্রতি গভীর মুগ্ধতা ও প্রণয়াকাঙ্ক্ষাই মূল আলোচ্য বিষয়।

• বড়ু চণ্ডীদাস রচিত শ্রীকৃষ্ণকীর্তন-এর দান খণ্ড-এ যমুনাপথে কৃষ্ণ দই-দুধ বিক্রিতে রাধাকে বাধা দিয়ে ‘দান’ দাবি করে প্রণয় নিবেদন করেন। রাধার তীব্র প্রতিবাদ ও রসাত্মক সংলাপের মধ্য দিয়ে এখানে তাঁদের প্রেমলীলা প্রাণবন্তভাবে প্রকাশ পেয়েছে।

• বড়ু চণ্ডীদাস রচিত শ্রীকৃষ্ণকীর্তন-এর নৌকাখণ্ড-এ কৃষ্ণ যমুনার মাঝি সেজে রাধা ও বড়াইকে পার করাতে ছলনা করে প্রেম নিবেদন করেন। শেষে রাধার সঙ্গে প্রণয়লীলা সম্পন্ন হয়। 

• বড়ু চণ্ডীদাস রচিত শ্রীকৃষ্ণকীর্তন-এর বৃন্দাবনখণ্ড বা বংশীখণ্ডে রাধা–কৃষ্ণের প্রেমের মিলনাত্মক পর্যায় ফুটে ওঠে। এখানে রাধা ও গোপীদের সঙ্গে কৃষ্ণের নিবিড় ভক্তিপ্রেম ও ঐশ্বরিক নৃত্যের চিত্র রয়েছে।

উৎস:
বাংলাপিডিয়া; 
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা – সৌমিত্র শেখর।

১১.
সন্ধ্যাযুগকে সাহিত্যিকভাবে “অন্ধকার যুগ” বলা হয়েছে মূলত কোন কারণে?
  1. সাহিত্য সম্পূর্ণ বিলুপ্ত হওয়ায়
  2. রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে সাহিত্যচর্চায় ভাটা পড়ায়
  3. সংস্কৃত ভাষার ব্যবহার বন্ধ হওয়ায়
  4. সাহিত্যিক চর্চার জন্য সহায়ক প্রতিষ্ঠান ও সমর্থনের অভাবে
  5. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে সাহিত্যচর্চায় ভাটা পড়ায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে সাহিত্যচর্চায় ভাটা পড়ায়
ব্যাখ্যা

অন্ধকার যুগ:
- বাংলা সাহিত্যে ১২০১ থেকে ১৩৫০ খ্রিষ্টাব্দের সময়কালকে সাধারণত “অন্ধকার যুগ” বা “সন্ধ্যাযুগ ” বলা হয়।
- এটি বন্ধ্যা যুগ নামেও পরিচিত। 
- এই সময়কালে বখতিয়ার খলজির ১২০৪ সালের বঙ্গবিজয়ের পর রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সামাজিক বিশৃঙ্খলার কারণে সাহিত্যচর্চায় উল্লেখযোগ্য ভাটা দেখা দেয়।
- ফলে সাহিত্যের কোনো বড় নিদর্শন এই সময় থেকে পাওয়া যায়নি।
- তাই অনেক সমালোচক এবং লেখক (যেমন—হুমায়ুন আজাদ, লাল নীল দীপাবলি) এ সময়কালকে সাহিত্যিকভাবে “অন্ধকার যুগ” হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।

- তবুও এই যুগে কিছু সীমিত সাহিত্যকর্ম রচিত হয়েছিল।
- উল্লেখযোগ্য নিদর্শনের মধ্যে আছে ‘সেক শুভোদয়া’ ও ‘শূন্যপুরাণ’।
- দুটোই সংস্কৃত ভাষায় রচিত এবং গদ্য-পদ্য মিশ্র রচনাশৈলীতে লেখা হয়েছে।
- ফলে এদের চম্পু কাব্য হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
- সমালোচকরা মনে করেন, যদিও এই সময়ে সাহিত্যচর্চা খুবই সীমিত আকারে হয়েছে, তবে একেবারেই বিলুপ্ত হয়নি।

উৎস: লাল নীল দীপাবলি, হুমায়ুন আজাদ। 

১২.
'দাদাভাই' ছদ্মনামে লেখালেখি করতেন কোন সাংবাদিক? 
  1. মনিরুজ্জামান
  2. রোকনুজ্জামান খান
  3. বলাইচাঁদ বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. রাজশেখর বসু
  5. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
রোকনুজ্জামান খান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রোকনুজ্জামান খান
ব্যাখ্যা

রোকনুজ্জামান খান:
- রোকনুজ্জামান খান ছিলেন একজন প্রখ্যাত সাংবাদিক ও শিশুসংগঠক।
- ১৯২৫ সালে তিনি ফরিদপুর জেলার পাংশা উপজেলায় সাহিত্য ও সংস্কৃতিসমৃদ্ধ পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর জ্ঞাতি ছিলেন এয়াকুব আলী চৌধুরী ও রওশন আলী চৌধুরী।
- তিনি মোহাম্মদ নাসিরউদ্দীনের কন্যা নূরজাহান বেগমের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন।
- নূরজাহান নিজেও সাপ্তাহিক বেগম পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।

- তিনি ইত্তেহাদ-এর ‘মিতালী মজলিস’ এবং মিল্লাত-এর ‘কিশোর দুনিয়া’ শিশুপাতার সম্পাদনা করতেন।
- ১৯৫৫ সালে তিনি দৈনিক ইত্তেফাক-এ যোগদান করে ‘দাদাভাই’ ছদ্মনামে শিশুদের পাতা কচি-কাঁচার আসর সম্পাদনা শুরু করেন। 
- পরবর্তীতে 'দাদাভাই' ছদ্মনামেই দেশব্যাপী পরিচিত হন।
-
তিনি সম্পাদনা করেছেন শিশুসংকলন ঝিকিমিকি। 
- ১৯৫৬ সালে তিনি কচি-কাঁচার মেলা নামে একটি শিশুসংগঠনও প্রতিষ্ঠা করেন, যা শিশুদের সাহিত্য ও সংস্কৃতি চর্চায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে।

- তাঁর প্রকাশিত শিশুতোষ গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে- 
 • হাট্টিমাটিম,
• খোকন খোকন ডাক পাড়ি,
• আজব হলেও গুজব নয়।
-------------------- 
অন্যদিকে, 
- 'হায়াৎ মামুদ'- মোহাম্মদ মনিরুজ্জামানের ছদ্মনাম।
- বলাইচাঁদ বন্দ্যোপাধ্যায় এর ছদ্মনাম- 'বনফুল'।
- রাজশেখর বসু'র ছদ্মনাম- 'পরশুরাম'। 

উৎস:
বাংলাপিডিয়া;
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা – সৌমিত্র শেখর।

১৩.
মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের সবচেয়ে ষড়যন্ত্রকারী চরিত্র কোনটি?
  1. মুরারী শীল
  2. ভাড়ুদত্ত
  3. ফুল্লরা
  4. কালকেতু
  5. কোনটি নয় 
সঠিক উত্তর:
ভাড়ুদত্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভাড়ুদত্ত
ব্যাখ্যা

মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের সবচেয়ে ষড়যন্ত্রকারী চরিত্র- চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের ভাড়ুদত্ত। 
--------------------
ভাড়ুদত্ত:
- ভাড়ুদত্ত হলো মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের সবচেয়ে খল চরিত্র এবং প্রধান ষড়যন্ত্রকারী। 
- সে কালকেতুর রাজ্যে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে নানা অঘটন ঘটাতো। 
- এবং ফুল্লরা-কালকেতুর কাহিনীতে গুরুত্বপূর্ণ নেতিবাচক ভূমিকা পালন করেছিল।
- ভাড়ুদত্ত এমন একজন চরিত্র, যে নিজের স্বার্থে যে কোনো ধরনের হীন ষড়যন্ত্র করতে দ্বিধা করতো না। 
- তার ধূর্ততা ও কুমন্ত্রণার কারণে তাকে চণ্ডীমঙ্গলের সবচেয়ে কুখ্যাত খলচরিত্র হিসেবে গণ্য করা হয়। 
--------------------------- 
• চণ্ডীমঙ্গল কাব্য:
- চণ্ডীমঙ্গল মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের মঙ্গলকাব্য ধারার একটি গুরুত্বপূর্ণ ও প্রধান শাখা।
- এখানে লৌকিক দেবী চণ্ডীর মাহাত্ম্য এবং পৃথিবীতে তাঁর পূজা প্রতিষ্ঠার কাহিনি তুলে ধরা হয়েছে।
- এই ধারার আদি কবি হিসেবে খ্যাত- মানিক দত্ত। 
- এই ধারার সর্বশ্রেষ্ঠ কবি হিসেবে কবিকঙ্কন মুকুন্দরাম চক্রবর্তী বিশেষভাবে খ্যাত।
- তাঁর রচনায় চণ্ডীমঙ্গল সর্বাধিক সাহিত্যিক উৎকর্ষ লাভ করে।
- মুকুন্দরামের চণ্ডীমঙ্গলে দেবীমাহাত্ম্যের পাশাপাশি সমসাময়িক বাঙালি সমাজের বাস্তব চিত্র স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।

- চন্ডীমঙ্গল কাব্যের উল্লেখযোগ্য কবিগণ হলেন -
- মানিকদত্ত, দ্বিজ মাধব, মুকুন্দরাম চক্রবর্তী, দ্বিজরাম দেব, মুক্তরাম সেন।

- এ কাব্যের প্রধান চরিত্র হলো -
- খুল্লনা, ফুল্লরা, কালকেতু, ধনপতি, ভাড়ুদত্ত, মুরারী শীল৷ 

- চণ্ডীমঙ্গল কাব্য মূলত দুটি প্রধান কাহিনির সমন্বয়ে গঠিত—
• ব্যাধ কালকেতু ও ফুল্লরার কাহিনি, যা ‘আখেটিক খণ্ড’ নামে পরিচিত,
• এবং বণিক ধনপতি সদাগর ও খুল্লনার কাহিনি, যা ‘বণিক খণ্ড’ নামে অভিহিত।
-------------------- 
অন্যদিকে,
• মুরারী শীল ধূর্ত বা ঠগ চরিত্র।
• ফুল্লরা মধ্যযুগের সবচেয়ে প্রতিবাদী নারী।
• কালকেতু চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের নায়ক চরিত্র।
• ধনপতি চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের চরিত্র।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 

১৪.
“হাতের কাঙ্কণ মা লোউ দাপন” দ্বারা কোন অর্থ বোঝানো হয়?
  1. যা স্পষ্ট, তা দেখার জন্য আলাদা প্রমাণের দরকার নেই
  2. সবসময় ধৈর্যধারণ করতে হয়
  3. পরিশ্রমের মূল্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে মেলে
  4. অপরের সহায়তা ছাড়া কিছু সম্ভব নয়
  5. কোনটি নয় 
সঠিক উত্তর:
যা স্পষ্ট, তা দেখার জন্য আলাদা প্রমাণের দরকার নেই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যা স্পষ্ট, তা দেখার জন্য আলাদা প্রমাণের দরকার নেই
ব্যাখ্যা

• 'হাতের কাঙ্কন মা লোউ দাপন'- পদটির রচয়িতা সরহপা।
- এটি সরহপা-রচিত ৩২ নং পদ।
- প্রবাদটি বোঝায় যে, যেটা স্পষ্ট ও প্রত্যক্ষ, তার জন্য আলাদা কোনো প্রমাণের প্রয়োজন হয় না।
-------------------------------------
প্রবাদ বাক্য:
- চর্যাপদ বৌদ্ধ সংস্কৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ সাহিত্যকর্ম, যা নৈতিক শিক্ষা এবং জীবনমুখী বার্তা সমৃদ্ধ।
- এতে মোট ৬টি প্রবাদ বাক্য রয়েছে, যা সহজবোধ্য ভাষায় জ্ঞানগর্ভ উপদেশ প্রদান করে।
- এই প্রবাদগুলো হলো:
• আপণা মাংসে হরিণা বৈরী – নিজের লোভই নিজের ক্ষতি করে।
• দুহিল দুধু কি বেন্টে সামায় – একবার যা হয়েছে, তা ফেরানো যায় না।
হাতের কাঙ্কণ মা লোউ দাপন – যা স্পষ্ট, তা দেখার জন্য আলাদা প্রমাণের দরকার নেই।
• হাড়ীত ভাত নাহি নিতি আবেশী – যা নেই, তা আশা করা অর্থহীন।
• বর সুন গোহালী কি মো দুঠ্য বলংদেঁ – আমার দোষ নয়, অপরের; নিজেকে নির্দোষ ধরা।
• আন চাহন্তে আন বিনধা – অন্য কিছু চাইতে গিয়ে অন্য কিছু অপ্রত্যাশিতভাবে পাওয়া বা ঘটে যাওয়া।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 

১৫.
চুল তার কবেকার অন্ধকার বিদিশার নিশা,
মুখ তার শ্রাবস্তীর কারুকার্য; অতিদূর সমুদ্রের'পর হাল ভেঙে যে নাবিক হারায়েছে দিশা - পঙ্‌ক্তিদ্বয় কোন সাহিত্যিকের সৃষ্টিকর্ম? 
  1. জীবনানন্দ দাশ
  2. মহাদেব সাহা 
  3. নির্মলেন্দু গুণ 
  4. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর 
  5. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
জীবনানন্দ দাশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জীবনানন্দ দাশ
ব্যাখ্যা

পঙ্‌ক্তিদ্বয় জীবনানন্দের সৃষ্টিকর্ম। 
--------------------- 
বনলতা সেন
 - জীবনানন্দ দাশ 

“হাজার বছর ধরে আমি পথ হাঁটিতেছি পৃথিবীর পথে,
সিংহল সমুদ্র থেকে নিশীথের অন্ধকারে মালয় সাগরে
অনেক ঘুরেছি আমি; বিম্বিসার অশোকের ধূসর জগতে
সেখানে ছিলাম আমি; আরো দূর অন্ধকারে বিদর্ভ নগরে;
আমি ক্লান্ত প্রাণ এক, চারিদিকে জীবনের সমুদ্র সফেন,
আমারে দুদন্ড শান্তি দিয়েছিল নাটোরের বনলতা সেন।

চুল তার কবেকার অন্ধকার বিদিশার নিশা,
মুখ তার শ্রাবস্তীর কারুকার্য; অতিদূরে সমুদ্রের 'পর হাল ভেঙে যে-নাবিক হারায়েছে দিশা
সবুজ ঘাসের দেশ যখন সে চোখে দেখে দারুচিনি-দ্বীপের ভিতর
তেমনি দেখেছি তারে অন্ধকারে; বলেছে সে, 'এতদিন কোথায় ছিলেন'
পাখির নীড়ের মতো চোখ তুলে নাটোরের বনলতা সেন।"
-----------------------------
• ‘বনলতা সেন' নিয়ে কিছু কথা: 
- বনলতা সেন জীবনানন্দ দাশের কালজয়ী কবিতা। 
- কবিতাটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৩৫ সালের ডিসেম্বর মাসে।
- বুদ্ধদেব বসু সম্পাদিত কবিতা পত্রিকায় কবিতাটি প্রকাশিত হয়।
- পরে ১৯৪২ সালে এক পয়সার একটি গ্রন্থমালায় প্রথমবার গ্রন্থাকারে অন্তর্ভুক্ত হয়।
- পরবর্তীতে কবিতাটি ১৯৪৪ সালে মহাপৃথিবী কাব্যে প্রকাশ পায়।
- এবং ১৯৫২ সালে প্রকাশিত বনলতা সেন কাব্যগ্রন্থের দ্বিতীয় সংস্করণেও স্থান লাভ করে।

- জীবনানন্দ দাশ রচিত ‘বনলতা সেন’ কবিতা বাংলা সাহিত্যের একটি অসাধারণ রোমান্টিক ও আধুনিক সৃষ্টি। কবিতাটি হাজার বছরের ক্লান্তি, হাহাকার এবং হতাশাগ্রস্ত মানবসত্তার আখ্যান, যেখানে মানুষ নারী ও প্রকৃতির মধ্যে চিরশান্তি বা 'দুদণ্ড শান্তি' খুঁজে পায়। কবিতায় দীর্ঘ পথচলার ক্লান্ত কবি নাটোরের বনলতা সেনের কাছে এসে জীবনের সব দুঃখ-দুর্দশা ভুলে শান্তির আশ্রয় পান।
-------------------
• জীবনানন্দ দাশ:
- জীবনানন্দ দাশ ছিলেন বিংশ শতাব্দীর একজন প্রধান আধুনিক বাঙালি কবি, লেখক ও প্রাবন্ধিক।
- জীবনানন্দ দাশ ছিলেন একজন কালসচেতন ও ইতিহাসচেতন কবি। 
- জীবনানন্দ দাশের জন্ম ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে।
- তাঁর পিতা সত্যানন্দ দাশ এবং মা কুসুমকুমারী দাশ দুজনেই সাহিত্যচর্চার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। 
- জীবনানন্দ দাশের প্রথম কাব্য রচিত হয়েছে নজরুল, সত্যেন্দ্রনাথ ও মোহিতলালের কাব্যধারার অনুসরণে।   
- কিন্তু তাঁর দ্বিতীয় কাব্য তিনি নিজস্ব মৌলিক ধারায় রচনা করেছেন। 
- রবীন্দ্রনাথের নিবিড় প্রকৃতিচেতনা তাঁর কবিতায় গভীরভাবে প্রকাশ পেয়েছে। 
- তাঁকে বলা হয় ‘রূপসী বাংলার কবি’, কারণ তাঁর কাব্যে বাংলার প্রকৃতি, মাটি, মানুষ ও স্মৃতিমগ্ন সৌন্দর্য গভীরভাবে প্রকাশ পেয়েছে। 
- ১৯৫৪ সালের ২২ অক্টোবর কলকাতায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

• বনলতা সেন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত কবিতা-
- ধান কাটা হ’য়ে গেছে, 
- পথ হাঁটা, 
- বনলতা সেন, 
- আমাকে তুমি, 
- অন্ধকার, 
- সুরঞ্জনা, 
- সবিতা, 
- সুচেতনা, 
- আবহমান, 
- ভিখিরী, 
- তোমাকে।

উৎস:
‘বনলতা সেন' কবিতা; 
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা – সৌমিত্র শেখর;
বাংলাপিডিয়া।

১৬.
মৈমনসিংহ গীতিকা-র অন্যতম জনপ্রিয় পালা “দেওয়ানা মদিনা” কে রচনা করেছিলেন?
  1. দ্বিজ কানাই
  2. ঈশান চক্রবর্তী
  3. মনসুর বয়াতি
  4. দীনেশচন্দ্র সেন
  5. কোনটি নয় 
সঠিক উত্তর:
মনসুর বয়াতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মনসুর বয়াতি
ব্যাখ্যা

দেওয়ানা মদিনা:
- দেওয়ানা মদিনা হলো মৈমনসিংহ গীতিকার একটি প্রাচীন ও করুণ রসপূর্ণ পালা। 
- এই পালাটি ১৮ শতকে মনসুর বয়াতি রচনা করেছিলেন। 
- এটি মূলত বানিয়াচঙের দেওয়ানদের জীবনভিত্তিক এবং মদিনা নামের এক নারীর স্বামী আলী-র প্রতি গভীর বিশ্বাস ও ভালোবাসার কাহিনীকে কেন্দ্র করে গঠিত। 
- পালাটি রোমান্টিক ট্রাজেডি বা করুণ রসের আখ্যান হিসেবে পরিচিত।
- এই পালাটি চন্দ্রকুমার দে সংগ্রহ করেন, এবং অধ্যাপক দীনেশচন্দ্র সেন এর নির্দেশনায় মৈমনসিংহ গীতিকা-তে সংকলিত হয়। 
- কাহিনীতে গ্রামবাংলার সাধারণ মানুষের জীবন, আবেগ, সামাজিক টানাপোড়েন এবং নারীর আত্মত্যাগের চিত্র সুন্দরভাবে ফুটে উঠেছে। 
- পালায় ধনু নদীর উল্লেখ পাওয়া যায়, যা স্থানীয় সমাজ ও প্রাকৃতিক পরিবেশের সঙ্গে সংযোগ তৈরি করে। 
--------------------
মৈমনসিংহ গীতিকা:
- মৈমনসিংহ গীতিকা হলো বৃহত্তর ময়মনসিংহ অঞ্চল (বর্তমান কিশোরগঞ্জ ও নেত্রকোনা) থেকে সংগৃহীত প্রাচীন লোকগাথা ও পালাগানের একটি গুরুত্বপূর্ণ সংকলন।
- এটি সাধারণ মানুষের মুখে মুখে প্রচলিত গল্প ও গানসমূহকে একত্রিত করেছে, যা গ্রামীণ সংস্কৃতির অনন্য দলিল হিসেবে বিবেচিত।
- ১৯২৩ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক দীনেশচন্দ্র সেন স্থানীয় সংগ্রাহকদের সহায়তায় এই গীতিকাগুলো সংগ্রহ ও সম্পাদনা করে গ্রন্থাকারে প্রকাশ করেন।
- মূল সংগ্রাহক ছিলেন চন্দ্রকুমার দে।
- মৈমনসিংহ গীতিকার কাহিনিগুলো সাধারণ মানুষের জীবন, নারীর প্রেম, সংগ্রাম ও ট্রাজিক পরিণতি নিয়ে রচিত।
- ভাষা সহজ, সরল ও গ্রামীণ ছন্দময়। 
- এই সংকলন বিশ্বসাহিত্যে স্বীকৃত এবং ২৩টি ভাষায় অনূদিত হয়েছে।
- সৌরভ পত্রিকায় কেদারনাথ মজুমদারের সম্পাদনায় এর দুটি পালা প্রথম প্রকাশিত হয়। 

- সংকলনে ১০টি গীতিকা ও রূপকথা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
- যেমন:
- মহুয়া,
- মলুয়া,
- চন্দ্রাবতী,
- কমলা,
- দেওয়ান ভাবনা,
- দস্যু কেনারামের পালা,
- রূপবতী,
- কঙ্ক ও লীলা,
- কাজলরেখা (রূপকথা),
- দেওয়ানা মদিনা।
----------------------------
অন্যদিকে, 
- দ্বিজ কানাই ‘মহুয়া পালা’র রচয়িতা।
- ঈশান চক্রবর্তী ‘কমলা’ পালার রচয়িতা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 

১৭.
‘সতীময়না-লোর-চন্দ্রানী’ গ্রন্থটির প্রধান রচয়িতা কে?
  1. মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
  2. মনসুর বয়াতি
  3. কোরেশী মাগন ঠাকুর 
  4. দৌলত কাজী
  5. কোনটি নয় 
সঠিক উত্তর:
দৌলত কাজী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দৌলত কাজী
ব্যাখ্যা

‘সতীময়না-লোর-চন্দ্রানী’ গ্রন্থটির প্রধান রচয়িতা- দৌলত কাজী। 
--------------------
• দৌলত কাজী:
- দৌলত কাজী (আনুমানিক ১৬০০-১৬৩৮) মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের একজন প্রখ্যাত কবি।
- তিনি চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার সুলতানপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- ছোটবেলায়ই বিভিন্ন শাস্ত্রে দক্ষতা অর্জন করেন।
- তবে স্বদেশে পর্যাপ্ত স্বীকৃতি না পাওয়ায় আরাকান রাজ্যে চলে যান।
- সেখানে তিনি রাজদেবহর অশ্বারোহী এবং সভাকবির মর্যাদা লাভ করেন।
- আরাকানরাজ শ্রীসুধর্মার পৃষ্ঠপোষকতায় এবং সমরসচিব আশরফ খানের নির্দেশনায় দৌলত কাজী সাহিত্যকর্মে নিয়োজিত ছিলেন।
--------------------- 
‘সতীময়না-লোর-চন্দ্রানী’:
- দৌলত কাজী রচিত ‘সতীময়না-লোর-চন্দ্রানী’ (১৬২২-১৬৩৮) একটি মধ্যযুগীয় রোমান্টিক আখ্যানকাব্য।

- কাব্যটির মূল উপজীব্য হলো সামন্তপতি লোর, চন্দ্রানী এবং ময়নার প্রেম, লোরের পরকীয়া প্রেম এবং শেষ পর্যন্ত ময়নাবতীর সঙ্গে পুনর্মিলন। এটি হিন্দি কবি মিয়া সাধনের ‘মৈনাসৎ’ কাব্য অবলম্বনে লেখা হয়েছে। দৌলত কাজী কাব্যের দুই-তৃতীয়াংশ রচনা করার পর মৃত্যু হলে, কবি আলাওল ১৬৫৯ সালে বাকি অংশ সম্পূর্ণ করেন। কাব্যটি মানবিক জীবনরস, সংযমী বর্ণনা এবং শিল্পসৌন্দর্য দ্বারা সমৃদ্ধ, যেখানে গ্রামীণ সমাজ, প্রেম ও সতীত্বের চিত্র ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। এটি চট্টগ্রাম ও আরাকান অঞ্চলের বাংলা সাহিত্যের রোমান্টিক ধারার একটি গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন।
-------------------------- 
অন্যদিকে, 
- মুকুন্দরাম চক্রবর্তী- চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের রচয়িতা। 
- মনসুর বয়াতি- দেওয়ানা মদিনা পালার রচয়িতা।
- কোরেশী মাগন ঠাকুর- পদ্মাবতী গ্রন্থের রচয়িতা। 

উৎস:
বাংলাপিডিয়া; 
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 

১৮.
সৈয়দ আলাওল রচিত ‘পদ্মাবতী’ কাব্যের মূল উপজীব্য কী?
  1. চিতোররাজ রত্নসেনের সিংহল যাত্রা
  2. রত্নসেন ও সিংহলের রাজকন্যা পদ্মাবতীর প্রেম, বিবাহ ও বিরহ
  3. সুলতান খিলজির ব্যর্থ চিতোর আক্রমণের ঘটনা 
  4. সবকয়টি 
  5. কোনটি নয় 
সঠিক উত্তর:
সবকয়টি 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবকয়টি 
ব্যাখ্যা

সৈয়দ আলাওল:
- কবি সৈয়দ আলাওল মধ্যযুগের একজন কিংবদন্তি মুসলিম কবি।
- তিনি বাংলা সাহিত্যের সর্বাধিক গ্রন্থপ্রণেতা।
- সৈয়দ আলাওল ছিলেন মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের মুসলিম কবিদের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ। 
- তাঁর পাণ্ডিত্য ও সাহিত্যকর্ম শতাব্দী ধরে পাঠক ও গবেষককে মুগ্ধ করেছে।
- তিনি বহুভাষাবিদ ও পণ্ডিত ছিলেন।
- যোগশাস্ত্র, আরবি, ফারসি, মৈথিলী, প্রাকৃতপৈঙ্গল, ব্রজবুলি, বাংলা ও সংস্কৃতসহ বিভিন্ন ভাষায় দক্ষতা অর্জন করেছিলেন।
- অনুবাদ ও নীতিকাব্যচর্চায়ও তিনি সিদ্ধহস্ত ছিলেন।

- আলাওল প্রায় ১৬০৭ খ্রিস্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন।
- জন্মস্থান নিয়ে কিছু মতবিরোধ থাকলেও অধিকাংশ পণ্ডিত ফরিদপুর জেলার ফতেয়াবাদ পরগনার জামালপুর গ্রাম উল্লেখ করেন।
- আবার কিছু পণ্ডিতের মতে তাঁর জন্মস্থান চট্টগ্রাম জেলার হাটহাজারীতে।
- তিনি আরাকান রাজসভার রাজদেহরক্ষী অশ্বারোহীর পেশায় নিয়োজিত ছিলেন।

- তাঁর উল্লেখযোগ্য সাহিত্যকর্মের মধ্যে রয়েছে- 
- ‘পদ্মাবতী’,
- ‘সতীময়না-লোর-চন্দ্রানী’,
- ‘সপ্তপয়কর’, 
- ‘সয়ফুলমুলুক-বদিউজ্জামাল’,
- ‘সিকান্দরনামা’,
- ‘তোহফা’ (নীতিকাব্য),
- ‘রাগতালনামা’ (সঙ্গীতবিষয়ক)।
---------------------------- 
• ‘পদ্মাবতী’ কাব্য নিয়ে কিছু কথা:
- আলাওল রচিত ‘পদ্মাবতী’ (১৬৪৮) মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের একটি রোমান্টিক প্রণয়কাব্য। 
- এটি হিন্দি কবি মালিক মুহম্মদ জায়সীর ‘পদুমাবৎ’ কাব্য অবলম্বনে রচিত। 
- আরাকান রাজসভার মাগন ঠাকুরের অনুপ্রেরণায় আলাওল এটি রচনা করেন।

- কাব্যটি চিতোরের রাজা রত্নসেন ও সিংহলের রাজকন্যা পদ্মাবতীর প্রেম, বিবাহ ও বিরহের কাহিনী দ্বারা বর্ণিত।
- পাশাপাশি, দিল্লির সুলতান আলাউদ্দিন খিলজি পদ্মাবতীকে পাওয়ার আকাঙ্ক্ষায় চিতোর আক্রমণ করে, যেখানে রত্নসেনের বীরত্ব ফুটে ওঠে।
- কাব্যটির দুইটি প্রধান পর্বে-
- প্রথমে রত্নসেনের সিংহল যাত্রা ও পদ্মাবতীর বিবাহ;
- এবং দ্বিতীয় পর্বে সুলতান খিলজির ব্যর্থ চিতোর আক্রমণের ঘটনা বর্ণিত হয়েছে।

- কাব্যটি বাহ্যিকভাবে রোমান্টিক প্রেমের কাহিনী হলেও রূপক অর্থে পদ্মাবতী ‘পরম সত্তা’ বা আত্মা এবং রত্নসেন ‘সাধক’ বা জীবাত্মার প্রতীক হিসেবে উপস্থাপিত। ছন্দ ও ভাষার দিক থেকে এটি পয়ার ও ত্রিপদী ছন্দে রচিত, ফারসি ও আরবি শব্দের সংমিশ্রণে অনন্য কাব্যিক শৈলী পেয়েছে। আলাওল মূল কাহিনিতে অনেক পরিবর্তন ও সংযোজন ঘটিয়ে বাংলায় এক স্বতন্ত্র এবং শ্রেষ্ঠ কাব্য হিসেবে পদ্মাবতীকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। 

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলাপিডিয়া

১৯.
ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে প্রাচীনযুগের ব্যপ্তি ছিল-    
  1. ১৫০ বছর
  2. ২৫০ বছর
  3. ৫৫০ বছর
  4. ৬০০ বছর
  5. কোনটি নয়  
সঠিক উত্তর:
৫৫০ বছর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৫৫০ বছর
ব্যাখ্যা

বাংলা সাহিত্যের যুগবিভাগ:
- ড. শহীদুল্লাহ ধারনা করেন, বাংলা সাহিত্য সুদীর্ঘ হাজার বছরেরও বেশি সময়ের ইতিহাস বহন করে।
- ড. মুহম্মদ শহিদুল্লাহ বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসকে প্রধানত তিনটি যুগে ভাগ করা হয়েছে:

• প্রাচীন যুগ (৬৫০–১২০০ খ্রিষ্টাব্দ) – 
- এই যুগে বাংলা ভাষার উদ্ভব ঘটে এবং সাহিত্য নিদর্শন হিসেবে মূলত চর্যাপদ পাওয়া যায়।

• মধ্যযুগ (১২০১–১৮০০ খ্রিষ্টাব্দ) –
- তুর্কি আক্রমণের পর থেকে ১৮০০ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগ হিসেবে গণ্য।

• আধুনিক যুগ (১৮০১–বর্তমান) –
- ঊনবিংশ শতাব্দীর শুরু থেকে বর্তমান পর্যন্ত সময়কাল আধুনিক যুগ হিসেবে বিবেচিত।

• ড. মুহম্মদ শহিদুল্লাহর মতে,
- বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন যুগের ব্যাপ্তি ছিল ৬৫০–১২০০ খ্রিস্টাব্দ, সুতরাং ৫৫০ বছর।
- বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগের ব্যাপ্তি ছিল ১২০১–১৮০০ খ্রিস্টাব্দ, সুতরাং ৫৯৯ বা ৬০০ বছর।

• ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে,
- বাংলা সাহিত্যে অন্ধকার যুগ বা বন্ধ্যা যুগ চলেছিল ১২০১–১৩৫০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত।
- এই প্রায় ১৫০ বছরের সময়কালকে তুর্কি আক্রমণের পরের রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং সাহিত্যের উল্লেখযোগ্য সৃষ্টির অভাবের কারণে এই যুগকে অন্ধকার যুগ বলা হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

২০.
বৈষ্ণব পদাবলির আদি নিদর্শন গীতগোবিন্দম্ কোন ভাষায় রচিত?
  1. সংস্কৃত
  2. ব্রজবুলি
  3. বাংলা
  4. মণিপুরি
  5. কোনটি নয় 
সঠিক উত্তর:
সংস্কৃত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সংস্কৃত
ব্যাখ্যা

আদি বৈষ্ণব পদাবলির নিদর্শন-গীতগোবিন্দম্- সংস্কৃত ভাষায় রচিত। 
---------------------------- 
• বৈষ্ণব পদাবলি:
- বৈষ্ণব পদাবলি মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের সর্বশ্রেষ্ঠ ও সমৃদ্ধ সাহিত্যধারা হিসেবে বিবেচিত।
- এই ধারার সূচনা ও বিকাশ মূলত রাধা–কৃষ্ণের প্রেমলীলা ও ভক্তিভাবকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠে।
- বাঙালি কবি জয়দেব-কে বৈষ্ণব পদাবলির প্রথম পদকর্তা বা আদিকবি বলা হয়।
- তাঁর রচিত গীতগোবিন্দম্ কাব্যে রাধা–কৃষ্ণের প্রেম ও ভক্তির রূপ চিত্রিত হলেও এটি বাংলা নয়, সংস্কৃত ভাষায় রচিত।
- তবু এটিকেই আদি বৈষ্ণব পদাবলির নিদর্শন ধরা হয়।

- পরবর্তীতে অবাঙালি কবি বিদ্যাপতি ব্রজবুলি ভাষায় প্রথম বৈষ্ণব পদ রচনা করেন।
- তাই তাঁকে ব্রজবুলি ভাষায় বৈষ্ণব পদাবলির আদিকবি বলা হয়। 
- বাংলা ভাষায় প্রথম বৈষ্ণব পদাবলি রচনা করেন চণ্ডীদাস—যার মাধ্যমে বাংলা ভাষায় এই ধারার পূর্ণ বিকাশ ঘটে।

- বৈষ্ণব পদাবলিতে মোট পাঁচটি রসের প্রকাশ দেখা যায়—
- শান্তরস,
- দাস্যরস,
- সখ্যরস,
- বাৎসল্যরস,
- ও মধুররস।
- এই রসসমূহের সমন্বয়েই বৈষ্ণব পদাবলি ভক্তি ও প্রেমের এক অনন্য সাহিত্যিক রূপ লাভ করেছে।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহবুবুল আলম।