পরীক্ষা আর্কাইভ

প্রাইমারি ডেইলি কুইজ

পরীক্ষাপ্রাইমারি ডেইলি কুইজতারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়05 minutes
মোট প্রশ্ন১২
সিলেবাস
পরীক্ষা - ১: বিষয়: সাধারণ জ্ঞান (বাংলাদেশ বিষয়াবলি) টপিক: ইতিহাস ও সংস্কৃতি, ভাষা আন্দোলন। উৎস: বাংলাপিডিয়া, জাতীয় তথ্যবাতায়ন, বোর্ড বই (NCTB ও উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়), যেকোনো ভালো গাইড বই।
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

প্রাইমারি ডেইলি কুইজ

প্রাইমারি ডেইলি কুইজ · তারিখ অনির্ধারিত · ১২ প্রশ্ন

.
সেন বংশের কোন রাজা কৌলিন্য প্রথা প্রবর্তন করেন?
  1. লক্ষ্মণ সেন
  2. বিজয় সেন
  3. হেমন্ত সেন
  4. বল্লাল সেন
ব্যাখ্যা
বল্লাল সেন:
- সেন বংশের দ্বিতীয় রাজা হলো বল্লাল সেন।
- বিজয় সেনের মৃত্যুর পর আনুমানিক ১১৬০ সালে তার পুত্র বল্লাল সেন সিংহাসনে আরোহণ করেন।
- তিনি রাজ্য জয়ের চেয়ে দেশের ভেতরে উন্নয়ন, নতুন প্রথা চালু ও সংস্কারের কাজে অধিকতর মনোযোগী ছিলেন।
- তবে তিনি গোবিন্দপালকে পরাজিত করে মগধের পূর্বাঞ্চল অধিকার করেন।
- কথিত আছে যে, বল্লাল সেন তাঁর পিতার রাজত্বকালে মিথিলা জয় করেন।

উল্লেখ্য,
- কৌলিন্য প্রথা বলতে বোঝায়, যে কোনো জাতি বা গোষ্ঠী বা বর্ণ বা সম্ভ্রান্ত বংশ যারা সামাজিক সম্মান ভোগ করে এবং ঐতিহ্যগতভাবে নিজেদের সামাজিক অবস্থান এবং ‘কুল’ পরিচিতি ধরে রাখতে বদ্ধপরিকর।
- সেন আমলে বল্লাল সেন কৌলিন্য প্রথা প্রবর্তন করেন।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি বাংলা কোন সন ছিল? 
  1. ১৩৫৭
  2. ১৩৫৮
  3. ১৩৫৯
  4. ১৩৬১
ব্যাখ্যা
১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি:
- ২১ ফেব্রুয়ারি 'অমর একুশে', ভাষা শহীদ দিবস এবং আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস।
- ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি তৎকালীন পাকিস্তান সরকার বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি না দেওয়ায় এবং পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা হিসেবে উর্দুকে চাপিয়ে দেওয়ার প্রতিবাদে ঢাকার ছাত্র ও সাধারণ জনগণ রাস্তায় নেমে আসে।
- ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারির ভাষা আন্দোলনের ইতিহাসে স্মরণীয় দিনটি ছিল বাংলা ১৩৫৮ সনের ৮ ফাল্গুন।
- এবং সেই দিনটি ছিল বৃহস্পতিবার।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
.
প্রাচীন বাংলার প্রথম স্বাধীন রাজ্য কোনটি?
  1. গৌড়
  2. পুন্ড্র
  3. রাঢ়
  4. বরেন্দ্র
ব্যাখ্যা
গৌড় রাজ্য:
- প্রাচীন বাংলার প্রথম স্বাধীন রাজ্য গৌড় রাজ্য।
- খ্রিস্টপূর্ব ৭৩০ অব্দে মালদহ অঞ্চলে ভোজ বংশীয় গৌড় নামক জনৈক ব্যক্তি যে রাজ্যের পত্তন করেছিলেন কালক্রমে তাই গৌড় রাজ্য নামে পরিচিত হয়।
- শশাঙ্ক সপ্তম শতকের শুরুতে আনুমানিক ৬০৬ সালে গৌড়ে এক স্বাধীন রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন।
- স্বাধীন গৌড়রাজ্য বাংলার উত্তর, উত্তর-পশ্চিমাংশ ও মগধে বিস্তৃত ছিল।
- কর্ণসুবর্ণ ছিল গৌড় রাজ্যের রাজধানী।
- বর্তমান মুর্শিদাবাদ জেলার বহরমপুরের ১০ কিলোমিটার দক্ষিণ - পশ্চিমে অবস্থিত রাঙ্গামাটি নামক স্থানটিই প্রাচীন কর্ণসুবর্ণ।
- ত্রয়োদশ শতাব্দীতে মুসলিম শাসন প্রতিষ্ঠিত হলে গৌড়ের নাম লখনৌতি (প্রদেশের নামে) পরিচিতি পায়।

উৎস: i) বাংলাদেশ স্টাডিজ, বিবিএস প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
কত সালে বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষার সাংবিধানিক স্বীকৃতি দেয়া হয়?
  1. ১৯৫২ সালে
  2. ১৯৫৩ সালে
  3. ১৯৫৪ সালে
  4. ১৯৫৬ সালে
ব্যাখ্যা
বাংলাকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষার সাংবিধানিক স্বীকৃতি:
- ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে মানুষ ১৪৪ ধারা অমান্য করে রাস্তায় নামলে শহীদ হন সালাম, রফিক, সফিক, বরকত, জব্বার প্রমুখ জাতির সূর্যসন্তান।
- কিন্তু আমরা সেদিনও বাংলা ভাষায় কথা বলার সাংবিধানিক অধিকার পাইনি। তবে সেদিন থেকেই বাংলাকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা করার প্রক্রিয়াটি শুরু হয়ে গিয়েছিল।
- তার দু’বছর পর ৭ মে ১৯৫৪ সালে পাকিস্তানের গণপরিষদের অধিবেশনে বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষার স্বীকৃতি দেয়া হয়।
- বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষার সাংবিধানিক স্বীকৃতি দেয়া হয় তারও দু’বছর পর ২৯ ফেব্রুয়ারি ১৯৫৬ সালে।

উৎস: i) BBC.
ii) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
পাল রাজারা কোন ধর্মের অনুসারী ছিলেন?
  1. হিন্দু
  2. বৌদ্ধ
  3. খ্রিস্টান
  4. জৈন
ব্যাখ্যা
পাল রাজবংশ:
- পাল বংশ আট শতকের মাঝামাঝি সময় থেকে প্রায় চারশত বছর বাংলা ও বিহারে শাসনকারী রাজবংশ।
- শশাঙ্কের মৃত্যুর পর প্রায় একশ বছর বাংলায় অরাজকতা চলে। এই অরাজক অবস্থাকে বলা হয় 'মাৎস্যন্যায়'।
- গোপাল নামক একজন শক্তিশালী লোক এই অরাজকতার অবসান ঘটান।
- তাঁর প্রতিষ্ঠিত বংশের নাম পালবংশ।
- পালবংশের রাজারা প্রায় চারশ বছর রাজত্ব করেন।
- এযুগে বাংলা একটি স্থিতিশীল ও ঐশ্বর্যশালী রাষ্ট্রে পরিণত হয়।

⇒ গোপালের পর তাঁর পুত্র ধর্মপাল সিংহাসনে বসেন।
- দেবপালের পর পাল সাম্রাজ্য দুর্বল হয়ে পড়ে। প্রথম মহীপালের রাজত্বকালে পালবংশের গৌরব পুনরায় ফিরে আসে।
- দ্বিতীয় মহীপাল ও রামপালের রাজত্বকালে বরেন্দ্র অঞ্চলে কৈবর্ত বিদ্রোহ সংঘটিত হয়। রামপাল কৈবর্ত বিদ্রোহ দমন করে বরেন্দ্র অঞ্চল পুনরুদ্ধার করেন। তিনি পালবংশের শেষ মুকুটমণি।
- অবশেষে সেনবংশের উত্থানের মধ্য দিয়ে পাল শাসনের অবসান ঘটে।

⇒ পাল রাজারা বৌদ্ধ ধর্মের অনুসারী ছিলেন। পালযুগে বৌদ্ধ ধর্ম প্রসার লাভ করেছিল তিববত, জাভা, সুমাত্রা ও মালয়েশিয়াতে।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
ii) ইতিহাস, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
পাকিস্তান Constituent Assembly এর ধারা বিবরণীতে বাংলা ভাষা ব্যবহারের দাবী প্রথম কে তুলেছিলেন?
  1. ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
  2. ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত
  3. আবুল কাশেম
  4. আবুল হাসেম
ব্যাখ্যা
ভাষা আন্দোলনে ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত:
- ১৯৪৮ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তানের করাচিতে গণপরিষদের অধিবেশন শুরু হয়।
- সেদিন কুমিল্লার সন্তান ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত সর্বপ্রথম পাকিস্তান গণপরিষদে বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার প্রস্তাব তুলেছিলেন।
- তিনি সরকারি কাগজে বাংলা ব্যবহার না করার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন।
- ২৫ ফেব্রুয়ারি ওই অধিবেশনে ধীরেন্দ্রনাথ দত্তই সর্বপ্রথম রাষ্ট্রভাষা বাংলা করার দাবিতে সোচ্চার হন।
- তিনি অধিবেশনে স্পিকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, গণপরিষদে যে কার্যবিবরণী লেখা হয় তা ইংরেজি ও উর্দু ভাষায় লিপিবদ্ধ হয়।
- সমগ্র পাকিস্তানের ৫৬ শতাংশ মানুষ বাংলা ভাষায় কথা বলেন।
- অধিবেশনে ইংরেজি ও উর্দুর সঙ্গে বাংলা ভাষা ব্যবহারের দাবি তোলেন তিনি।

উৎস: প্রথম আলো।
.
দিল্লির সুলতান মুহাম্মদ বিন তুঘলক ইবনে বতুতাকে কোন পদে নিযুক্ত করেন?
  1. সেনাপতি
  2. প্রধানমন্ত্রী
  3. কাজী
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
ইবনে বতুতা:
- মরক্কোর বিখ্যাত পর্যটক ইবনে বতুতা।
- তাঁর পুরো নাম শেখ আবু আবদুল্লাহ মুহম্মদ।
- বাংলায় সফরের উদ্দেশ্য তিনি নিজেই তাঁর ভ্রমন কাহিনীতে উল্লেখ করেছেন এবং তা ছিল কামরূপের পার্বত্য অঞ্চলে বিখ্যাত সুফিসাধক শেখ জালালউদ্দিনের (হযরত শাহজালাল মুজার্রদ-ই-ইয়েমেনী) দর্শন লাভ।
- ইবনে বতুতা ১৩২৫ খ্রিস্টাব্দে একুশ বছর বয়সে বিশ্ব সফরে বের হন এবং আট বছরের মধ্যে সমগ্র উত্তর আফ্রিকা, আরব, পারস্য, ভূমধ্যসাগরের পূর্ব তীরবর্তী অঞ্চল ও কনস্টান্টিনোপল পরিভ্রমণ করেন।
- এরপর তিনি ভারতে আসেন।
- তিনি ১৩৩৪ খ্রিস্টাব্দে দিল্লিতে আসেন এবং সুলতান মুহম্মদ বিন তুঘলকের অধীনে দীর্ঘ প্রায় আট বছর কাজীর পদে নিয়োজিত ছিলেন।
- ইবনে বতুতা ১৩৪৬ খ্রিস্টাব্দে ফখরুদ্দিন মুবারক শাহের শাসনকালে বাংলায় সফর করেন।
- ইবনে বতুতা তার 'আর রিহলা' গ্রন্থে বাংলাকে ‘দোজখ-ই-পুর নিয়ামত (A Hell Full Of Good Things) ’ অর্থাৎ প্রাচুর্যপূর্ণ নরক বলে অভিহিত করেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
.
'গম্ভীরা' বাংলাদেশের কোন অঞ্চলের লোক সংগীত?
  1. বরিশাল
  2. রাজশাহী
  3. খুলনা
  4. সিলেট
ব্যাখ্যা
গম্ভীরা:
- গম্ভীরা গান এক প্রকার জনপ্রিয় লোকসঙ্গীত।
- ‘গম্ভীরা’ হচ্ছে এক প্রকার উৎসব।
- সাধারণত বৃহত্তর রাজশাহী অঞ্চলে এ গান প্রচলিত।

উল্লেখ্য, 
- ধারণা করা হয় যে, গম্ভীরা উৎসবের প্রচলন হয়েছে শিবপূজাকে কেন্দ্র করে।
- শিবের এক নাম ‘গম্ভীর’, তাই শিবের উৎসব গম্ভীরা উৎসব এবং শিবের বন্দনাগীতিই হলো গম্ভীরা গান।
- গম্ভীরা গানের উৎপত্তি পশ্চিমবঙ্গের মালদহ জেলায় হিন্দুসমাজে।
- পাকিস্তান সৃষ্টির পর মালদহ থেকে গম্ভীরা গান রাজশাহীর চাঁপাইনবাবগঞ্জে চলে আসে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
.
তমদ্দুন মজলিশ সংগঠনটি কীসের সাথে জড়িত?
  1. দেশভাগ
  2. বঙ্গভঙ্গ
  3. ভাষা আন্দোলন
  4. স্বাধীনতা সংগ্রাম
ব্যাখ্যা
ভাষা আন্দোলন:
- ভাষা আন্দোলন ছিলো বাঙালি সংস্কৃতির স্বাধিকার আন্দোলন।
- ভাষার আন্দোলনের সূত্রপাত ঘটে ১৯৪৭ সালে এবং চূড়ান্ত রূপ লাভ করে ১৯৫২ সালে।

⇒ তমদ্দুন মজলিশ:
- তমদ্দুন মজলিশ ছিলো ভাষা আন্দোলনের প্রথম সংগঠন।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞানের অধ্যাপক আবুল কাসেমের নেতৃত্বে তমদ্দুন মজলিশ গঠিত হয়।
- তমদ্দুন মজলিশের উদ্যোগে ১৯৪৭ সালের ১০ সেপ্টেম্বর ভাষা আন্দোলনের ওপর প্রথম পুস্তিকা ‘পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা কি হবে? বাংলা নাকি উর্দু‌’।

উৎস: i) ইতিহাস ২য় পত্র, HSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) প্রথম আলো।
১০.
বর্তমানের কোন জেলা প্রাচীন জনপদ চন্দ্রদ্বীপের মূল ভূখণ্ড ও প্রাণকেন্দ্র ছিল?
  1. চট্টগ্রাম
  2. সিলেট
  3. বরিশাল
  4. কুষ্টিয়া
ব্যাখ্যা
চন্দ্রদ্বীপ:
- বর্তমান বরিশাল জেলা ছিল চন্দ্রদ্বীপের মূল ভূখন্ড ও প্রাণকেন্দ্র।
- এ প্রাচীন জনপদটি বালেশ্বর ও মেঘনার মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত ছিল।
- চন্দ্রদ্বীপ নামের আগে এ অঞ্চলটির নাম ছিল ‘বাকলা’।
- চন্দ্রদ্বীপের রাজধানী ছিল কচুয়া।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
১১.
'সর্বদলীয় কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ' গঠিত হয় - 
  1. ২১ অক্টোবর, ১৯৪৭
  2. ২ মার্চ, ১৯৪৮
  3. ১১ মার্চ, ১৯৫০
  4. ৩১ জানুয়ারি, ১৯৫২
ব্যাখ্যা
রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ:
- ভাষা ও সংস্কৃতির প্রশ্নে শুরু থেকেই যে আলোড়ন সৃষ্টি হয় তার মধ্য থেকে জন্ম নিতে থাকে অনেক সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান।

⇒ তমদ্দুন মজলিশের উদ্যোগে ভাষা আন্দোলনকে রাজনৈতিক রূপদানের জন্য ১৯৪৭ সালের অক্টোবর মাসে গঠিত হয় প্রথম ‘রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ’।
- এর আহ্বায়ক ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক নূরুল হক ভূঁইয়া।

⇒ ১৯৪৮ সালের ২ মার্চ ছাত্রসমাজ দেশের বরেণ্য বুদ্ধিজীবীদের উপস্থিতিতে দ্বিতীয়বারের মতো রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠন করে।
- এ পরিষদের আহবায়ক মনোনীত হন শামসুল আলম।

⇒ ১৯৫০ সালের ১১ মার্চ ভাষা আন্দোলনকে কেন্দ্র করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয়।
- এর আহ্বায়ক ছিলেন আবদুল মতিন।

১৯৫২ সালের ৩১ জানুয়ারি আওয়ামী মুসলিম লীগ সভাপতি মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর সভাপতিত্বে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সর্বদলীয় সভায় ‘সর্বদলীয় কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ’ গঠিত হয়।
- কাজী গোলাম মাহবুবকে আহবায়ক করে ৪০ সদস্য বিশিষ্ট সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয়।

উৎস: i) প্রথম আলো।
ii) ইতিহাস, HSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১২.
কোন যুগে তালপাতার পুঁথিতে দেশীয় রং দিয়ে ছবি আঁকা হতো?
  1. গুপ্ত যুগ
  2. পাল যুগ
  3. কুষাণ যুগ
  4. সেন যুগ
ব্যাখ্যা
তালপাতার পুঁথিচিত্র:
- পালযুগে তালপাতায় আঁকা ছবিগুলো দেশীয় রঙে আঁকা।
- এ ছাড়া এগুলো আবিষ্কৃত হওয়ার পর প্রাচীন ইতিহাস ও ঐতিহ্যের নিদর্শন হিসেবে যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা হয়।
- এ কারণে পাল যুগে তালপাতায় আঁকা ছবিগুলো এখনো ঝকঝকে রয়েছে।

উল্লেখ্য,
- পাল চিত্রকলা পাল রাজা প্রথম মহীপালের (খ্রিস্টীয় ৯৮৩) ষষ্ঠ রাজ্যাঙ্কে তালপাতার উপরে চিত্রসম্বলিত বৌদ্ধ গ্রন্থ অষ্টসাহস্রিকা-প্রজ্ঞাপারমিতা পান্ডুলিপির বারোটি রঙ্গিন চিত্র বঙ্গীয় চিত্রকলার প্রাচীনতম নিদর্শন।
- বর্তমানে দুর্লভ এই পান্ডুলিপি কলকাতার এশিয়াটিক সোসাইটিতে সংরক্ষিত আছে।
- পরবর্তী দুশ বছরে চিত্রসম্বলিত আরও বেশ কিছু পান্ডুলিপি পাওয়া যায়।
- এগুলিকে ‘পাল মিনিয়েচার’ বলে অভিহিত করা হয়।
- পান্ডুলিপিসমূহ তালপাতায় লেখা ও চিত্রায়িত করা হয়েছে।
- তালপাতা ভঙ্গুর, এ কারণে অনেক পুথিচিত্র বর্তমানে জীর্ণ হয়ে পড়েছে।
- তুলনামূলক বিচারে দেখা যায় যে, পাল যুগের চিত্রালঙ্কৃত পান্ডুলিপিসমূহ উন্নতমানের তালপাতার (শ্রীতাড়) উপর অনুলিখিত ও চিত্রালঙ্কৃত করা হতো।

উৎস: i) বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, অষ্টম শ্রেণি। 
ii) বাংলাপিডিয়া।