পরীক্ষা আর্কাইভ

নৈতিকতা, মূল্যবোধ ও সুশাসন

পরীক্ষানৈতিকতা, মূল্যবোধ ও সুশাসনতারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়07 minutes
মোট প্রশ্ন
সিলেবাস
"পরীক্ষা – ২ টপিক: পরীক্ষা – ২ টপিক: i) সু-শাসনের বৈশিষ্ট্য, শর্ত, উপাদান, স্তম্ভ, সু-শাসন ও বিভিন্ন সংস্থা সু-শাসন সম্পর্কিত সূচক, বই, টার্ম। ii) নীতিবিদ্যার ধারণা, বৈশিষ্ট্য, প্রকারভেদ, আদর্শ। [Live Class – 3 & 4]"
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

নৈতিকতা, মূল্যবোধ ও সুশাসন

নৈতিকতা, মূল্যবোধ ও সুশাসন · তারিখ অনির্ধারিত · প্রশ্ন

.
কোন একটি দেশের পার্লামেন্ট বা জাতীয় পরিষদ কর্তৃক প্রকাশিত দলিলকে কী বলা হয়ে?
  1. সংবাদপত্র
  2. আইনপত্র
  3. শ্বেতপত্র
  4. সরকারি চিঠি
সঠিক উত্তর:
শ্বেতপত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শ্বেতপত্র
ব্যাখ্যা
শ্বেতপত্র:
- কোন একটি দেশের পার্লামেন্ট বা জাতীয় পরিষদ কর্তৃক প্রকাশিত দলিলকে শ্বেতপত্র বলা হয়ে থাকে।
- কোনো বিশেষ বিষয়ে জনগণ বা পার্লামেন্টকে অবহিত করার জন্য সরকারি বিবরণী।
- একই ধরনের প্রথা অপরাপর গণতান্ত্রিক দেশ যথা অস্ট্রেলিয়া ও কানাডায় প্রচলিত রয়েছে।
- কোনো কোনো ক্ষেত্রে নতুন আইন অথবা কোনো সংস্কারমূলক পদক্ষেপ চূড়ান্ত করার পূর্বেও শ্বেতপত্র জারী করা হয়ে থাকে।
- ইউরোপীয় ইউনিয়নও একই ধরনের বিষয়ে শ্বেতপত্র জারী করে।
- শ্বেতপত্র জারী করার প্রথা বিংশ শতাব্দীর প্রথমার্ধেও দেখা যায়।

উদাহরণ স্বরূপ:
- চার্চিল হোয়াইট পেপার (১৯২২) এবং একীভূত প্যালেস্টাইনীয় রাজ্য গঠন সংক্রা্ন্ত শ্বেতপত্র (১৯৩৯) উল্লেখ করা যায়।
- অস্ট্রেলিয়া ও কানাডার গুরুত্বপূর্ণ শ্বেতপত্রের মধ্যে যথাক্রমে রয়েছে পূর্ণ কর্মসংস্থান (১৯৪৫) এবং প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত শ্বেতপত্র (১৯৬৪)।

উল্লেখ্য,
- ব্রিটিশ সংসদীয় প্রথায় ’সবুজপত্র’ জারী করার রীতিও বিদ্যমান।
- সবুজপত্র মূলত বিভিন্ন জনস্বার্থ বিষয়ক সমস্যার জন্য ব্যাপক আলোচনার উদ্দেশ্যে জারী করা হয়।
- সবুজপত্রে সরকার কোনো নির্দিষ্ট সমস্যা উল্লেখ করে এ সমস্যা সমাধানের পথ সম্পর্কিত দিক নির্দেশনা দেয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
.
সুশাসন প্রতিষ্ঠায় নাগরিকের কর্তব্য হলো -
  1. আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা
  2. জনসচেতনতা বৃদ্ধিকরণ
  3. সততার সাথে নির্বাচনে ভোট প্রদান
  4. অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়া
সঠিক উত্তর:
সততার সাথে নির্বাচনে ভোট প্রদান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সততার সাথে নির্বাচনে ভোট প্রদান
ব্যাখ্যা
• সুশসান:
- একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে অধিকার ভোগের বিনিময়ে নাগরিককে বেশ কিছু দায়িত্ব ও কর্তব্য পালন করতে হয়। একজন নাগরিক যখনই কোনো অধিকার ভোগ করতে চায় তখনই এর সাথে কিছু কিছু কর্তব্য পালনের বিষয়ও চলে আসে। সুশাসন প্রতিষ্ঠা করত হলে শুধু সরকারকেই সচেষ্ট হতে হবে তা নয়। এজন্য নাগরিকেরও অনেক দায়িত্ব ও কর্তব্য রয়েছে। কেননা কর্তব্যবিমুখ জাতি কখনো উন্নতি লাভ করতে পারেনা, সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে পারে না।

 • সুশাসন প্রতিষ্ঠায় নাগরিকের কর্তব্য:
→ সামাজিক দায়িত্ব পালন।
→ রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য প্রদর্শন।
→ আইন মান্য করা।
→ সৎ ও যোগ্য নেতৃত্ব নির্বাচন। (অর্থাৎ সততার সাথে নির্বাচনে ভোট প্রদান।)
→ নিয়মিত কর প্রদান।
→ রাষ্ট্রের সেবা করা।
→ সন্তানদের শিক্ষাদান।

উল্লেখ্য, 
সৎ ও যোগ্য নেতৃত্ব নির্বাচন (Selection of honest and qualified leadership):
- নির্বাচনে ব্যক্তিগত স্বার্থের ঊর্ধ্বে থেকে সততা ও বিজ্ঞতার সাথে যোগ্য ও উপযুক্ত প্রার্থী নির্বাচিত করা উচিত।
- সৎ ও যোগ্য নেতৃত্ব নির্বাচিত হলে সুশাসন প্রতিষ্ঠার পথ সুগম হবে।
-এই জন্য সুশাসন প্রতিষ্ঠায় নাগরিকের অন্যতম কর্তব্য হলো সততার সাথে নির্বাচনে ভোট প্রদান।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন (প্রথম পত্র), একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
.
নিচের কোনটি লর্ড ব্রাইস প্রদত্ত সুনাগরিকের গুণ নয়?
  1. বুদ্ধি
  2. বিবেক
  3. সু-শিক্ষা
  4. আত্মসংযম
সঠিক উত্তর:
সু-শিক্ষা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সু-শিক্ষা
ব্যাখ্যা
সুনাগরিক:
- সু শব্দের অর্থ হল ভালো বা আদর্শ। তাহলে সুনাগরিক মানে হল আদর্শ নাগরিক।
- যেকোন রাষ্ট্রের উন্নতি ও সমৃদ্ধির জন্য সুনাগরিকের প্রয়োজনীয়তা অপরিহার্য। আবার এই সুনাগরিক গড়ে তোলাও রাষ্ট্রের দায়িত্ব।
- কেউ একজন খুব সহজে একটা রাষ্ট্রের নাগরিক হলেও কেবল সুনাগরিকই রাষ্ট্রের প্রতি দায়িত্ব ও কর্তব্য পালন করে।

- অধ্যাপক ই, এম, হোয়াইট এর মতে ’সাধারণ জ্ঞান, প্রজ্ঞা ও নিষ্ঠা এ তিনটি গুন যদি কোন নাগরিকের থাকে তাহলে সে-ই সুনাগরিক।
- বিভিন্ন রাষ্ট্রবিজ্ঞানীর বক্তব্যে নাগরিকের অনেকগুলো গুণের উল্লেখ রয়েছে,

- তবে লর্ড ব্রাইস প্রদত্ত উপাদানগুলোই এ পর্যন্ত সবেচেয়ে গ্রহণযোগ্য।
- তিনি মনে করেন কোন নাগরিক সুনাগরিক হিসেবে পরিগণিত হবে যদি তিনটি গুণ যথা- (১) বুদ্ধি (২) আত্মসংযম (৩) বিবেক থাকে।

অর্থাৎ সকল নাগরিক সুনাগরিক নয়। সুনাগরিক হলো সেই ব্যক্তি, যার তিনটি প্রধান গুণ রয়েছে: ১) বুদ্ধি, ২) বিবেক, ৩) আত্মসংযম।

১. বুদ্ধি: বুদ্ধিমান নাগরিক সমাজের সমস্যা চিহ্নিত করে তা সমাধান করতে পারে। সুনাগরিকের বুদ্ধিমত্তা রাষ্ট্রের উন্নতি এবং গণতান্ত্রিক সফলতার ভিত্তি।
২. বিবেক: বিবেকবান নাগরিক ন্যায়-অন্যায়, সৎ-অসৎ বুঝতে পারে এবং রাষ্ট্রের অধিকার ও কর্তব্য যথাযথভাবে পালন করে। তারা আইন মেনে চলে ও সৎ ব্যক্তিকে ভোট দেয়।
৩. আত্মসংযম: আত্মসংযম হলো লোভ-লালসার ঊর্ধ্বে থেকে নিজের দায়িত্ব পালন করা। এ গুণের মাধ্যমে ব্যক্তি বৃহত্তর স্বার্থে নিজের ক্ষুদ্র স্বার্থ ত্যাগ করতে সক্ষম হয় এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ বজায় রাখে।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
নীতিবিদ্যার বই 'An Introduction to Ethics' এর লেখক কে?
  1. উইলিয়াম লিলি
  2. বার্ট্রান্ড রাসেল
  3. এম. ডব্লিউ. পামফ্রে
  4. নিকোলাস রেসার
সঠিক উত্তর:
উইলিয়াম লিলি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উইলিয়াম লিলি
ব্যাখ্যা
• নীতিবিদ্যার বই 'An Introduction to Ethics' এর লেখক হলেন উইলিয়াম লিলি।

• নীতিবিদ্যা:
- নীতিবিদ্যার ইংরেজি প্রতিশব্দ Ethics শব্দটি গ্রিক শব্দ Ethos থেকে উদ্ভূত যার অর্থ হলো ঐচ্ছিক আচরণ।
- মানুষের আচরণের নৈতিক মূল্য ও আদর্শ নির্ধারণ করা নীতিবিদ্যার কাজ।
- নীতিবিদ্যা হলো মানুষের আচরণের রীতিনীতি সম্পর্কিত বিজ্ঞান।
- নীতিবিদ্যার আলোচ্য বিষয় মানুষের - আচরণ।
- নীতিবিদ্যা মানুষের ঐচ্ছিক আচরণ নিয়ে আলোচনা করে।
- ঐচ্ছিক আচরণ হলো মানুষের সেসব আচরণ যেগুলো মানুষ স্বপ্রণোদিত হয়ে করে থাকে।

• উইলিয়াম লিলি- 
তাঁর An Introduction to Ethics বইয়ে নীতিবিদ্যার সংজ্ঞা দিতে গিয়ে বলেন,
‘‘নীতিবিদ্যা হলো সমাজে বসাবাসকারী মানুষের আচরণ সম্পর্কিত বিজ্ঞান যেখানে আচরণের সঠিকতা বা অসঠিকতা, ভালো বা মন্দ ইত্যাদি নিয়ে আলোচনা করা হয়।’’

সূত্র: নীতিবিদ্যা, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
আভিধানিক অর্থে দুর্নীতি হলো-
  1. ঘুষ গ্রহণ
  2. নীতির বিরুদ্ধে আচরণ
  3. ক্ষমতার অপব্যবহার
  4. দায়িত্ব পালনে অবহেলা
সঠিক উত্তর:
নীতির বিরুদ্ধে আচরণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নীতির বিরুদ্ধে আচরণ
ব্যাখ্যা
• দুর্নীতি:
- দুর্নীতি শব্দটির ইংরেজি প্রতিশব্দ হলো “Corruption”.
- এই শব্দটি এসেছে ল্যাটিন শব্দ “Corruptus” থেকে।
- আভিধানিক অর্থে দুর্নীতি হলো 'নীতির বিরুদ্ধে আচরণ'।
- সুশাসনের অন্যতম প্রধান অন্তরায় হচ্ছে 'দুর্নীতি'।
- বাংলাদেশের ‘দুর্নীতি দমন কমিশন' এর একটি প্রকাশনাতে দুর্নীতি বলতে বোঝানো হয়েছে-
'ব্যক্তি স্বার্থ অর্জনের বা ব্যক্তিগত লাভের উদ্দেশ্যে অর্পিত ক্ষমতার অপব্যবহারই দুর্নীতি।'

যেমন-
→ রাষ্ট্রীয় সম্পদের অব্যবহার,
→ সরকারি সম্পত্তি ক্রয়-বিক্রয়ে অস্বচ্ছতা,
দায়িত্ব পালনে অবহেলা,
→ অসৎ উদ্দেশ্যে প্রভাব বিস্তার,
→ ঘুষ গ্রহণ, অর্থ বা সম্পদ আত্মসাৎ,
→ স্বজনপ্রীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার সবই দুর্নীতি।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
"Duty for Duty's Sake" -ধারণাটির প্রবর্তক কে?
  1. এ্যারিস্টটল
  2. ইমানুয়েল কান্ট
  3. বার্ট্রান্ড রাসেল
  4. হার্বার্ট স্পেন্সার
সঠিক উত্তর:
ইমানুয়েল কান্ট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইমানুয়েল কান্ট
ব্যাখ্যা
- 'কর্তব্যের জন্য কর্তব্য' বা "Duty for Duty's Sake"-ধারণাটির প্রবর্তক ইমানুয়েল কান্ট।

• ইমানুয়েল কান্ট:
- ইমানুয়েল কান্ট একজন জার্মান নীতিবিজ্ঞানী।
- তাঁর নীতিবিদ্যার মূলকথা তিনটি, যথা: সৎ ইচ্ছা, কর্তব্যের জন্য কর্তব্য এবং শর্তহীন আদেশ।

→ সৎ ইচ্ছা (Good Will):
মানুষের আন্তরিক ইচ্ছা যদি সৎ হয়, তাহলেই তার কাজটি নৈতিক হবে। সুতরাং নৈতিকতার মূল উৎস হল সৎ ইচ্ছা বা সদিচ্ছা।

→ কর্তব্যের জন্য কর্তব্য (Duty for Duty's Sake):
মানুষকে কর্তব্য পালন করতে হবে কর্তব্যবোধের কারণেই, কোনো বাহ্যিক প্রলোভন বা চাপের কারণে নয়।

→ শর্তহীন আদেশ (Categorical Imperative):
শর্তহীন আদেশ হল এমন একটি নীতি যা সর্বজনীন ও অবশ্যপালনীয়, কোনো শর্তসাপেক্ষ নয়।

উৎস: নীতিবিদ্যা, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, ব্রিটানিকা।
.
নৈতিকতার বিধান আনুসারে 'Instinct' এর অর্থ কী?
  1. ঝোঁক
  2. আগ্রহ
  3. প্রবৃত্তি
  4. প্রেষণা
সঠিক উত্তর:
প্রবৃত্তি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রবৃত্তি
ব্যাখ্যা
নৈতিকতার বিকাশের স্তর:
- নৃতাত্ত্বিক তথা সমাজতাত্ত্বিক দৃষ্টিকোণ থেকে সমগ্র নৈতিকতার বিকাশে তিনটি স্তর নির্দেশ করা হয়:
-(১) প্রবৃত্তি বা প্রবণতার স্তর
-(২) প্রথার স্তর ও
-(৩) বিবেকের স্তর।
-প্রবৃত্তি কথাটি ইংরেজি 'Instinct' এর বাংলা প্রতিশব্দ।
- অর্থাৎ 'Instinct' এর অর্থ প্রবৃত্তি।
-আজকাল মনোবিজ্ঞানীরা এ কথাটি ব্যবহার করতে চান না। তাই বিকল্প হিসেবে প্রবণতা কথাটি ব্যবহার করে।

তথ্যসূত্র: নীতিবিদ্যা, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।