পরীক্ষা আর্কাইভ

৪৯তম বিসিএস ⎯ জেনারেল পার্ট [Archived]

পরীক্ষা৪৯তম বিসিএস ⎯ জেনারেল পার্ট [Archived]তারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়25 minutes
মোট প্রশ্ন৬২
সিলেবাস
পরীক্ষা - ২৭ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য - ৬ সাবজেক্ট ফাইনাল (সম্পূর্ণ সিলেবাস)
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

৪৯তম বিসিএস ⎯ জেনারেল পার্ট [Archived]

৪৯তম বিসিএস ⎯ জেনারেল পার্ট [Archived] · তারিখ অনির্ধারিত · ৬২ প্রশ্ন

.
'লেখক' শব্দের সঠিক প্রকৃতি-প্রত্যয় কোনটি?
  1. √ লেখ্‌ + অক
  2. √ লিখ্‌ + অক
  3. √ লেখ + অক
  4. √ লিখ্‌ + য়ক
সঠিক উত্তর:
√ লিখ্‌ + অক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
√ লিখ্‌ + অক
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর - গ) √ লিখ্‌ + অক।

ব্যাখ্যা:
'লেখক' শব্দের গঠন বিশ্লেষণ:
-√ লিখ্ (মূল ধাতু) + অক (প্রত্যয়) = লেখক।

অন্যান্য উদাহরণ:
- √গৃহ্ + অক = গ্রাহক
- √নী + অক = নায়ক।
- √কৃ + অক = কারক।
 
উৎস: বাংলা একাডেমী আধুনিক বাংলা অভিধান; বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

.
কণ্ঠনালীয় ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ কোনটি?
  1. প 
  2. হ 
  3. ত 
  4. ন 
সঠিক উত্তর:
হ 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হ 
ব্যাখ্যা

• কণ্ঠনালীয় ব্যঞ্জন:
- কণ্ঠনালীয় ব্যঞ্জন উচ্চারণের সময়ে ধ্বনিদ্বার থেকে বায়ু কণ্ঠনালি হয়ে সরাসরি বের হয়ে আসে।
- “হ” কণ্ঠনালীয় ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।
 ---------------
• ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জন:
- যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ঠোঁট দুটি কাছাকাছি এসে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলোকে ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জন বলে।
- এগুলো দ্বি-ওষ্ঠ্য ধ্বনি নামেও পরিচিত।
- ”প, ফ, ব, ভ, ম” ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

• দন্ত্য ব্যঞ্জন:
- যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা উপরের পাটির দাঁতে লেগে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলোকে দন্ত্য ব্যঞ্জন বলে।
- ”ত, থ, দ, ধ” দন্ত্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

• দন্তমূলীয় ব্যঞ্জন:
- যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা উপরের পাটির দাঁতের গোড়ার সঙ্গে লেগে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলোকে দন্তমূলীয় ব্যঞ্জন বলে।
- ”ন, র, ল, স” দন্ত্যমূলীয় ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

• মূর্ধন্য ব্যঞ্জন:
- দন্তমূল এবং তালুর মাঝখানে যে উঁচু অংশ থাকে তার নাম মূর্ধা। যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা মূর্ধার সঙ্গে লেগে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে,সেগুলোকে মূর্ধন্য ব্যঞ্জন বলে।
- “ট, ঠ, ড, ঢ, ড়, ঢ়” মূর্ধন্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

• তালব্য ব্যঞ্জন:
- যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়েজিভের ডগা খানিকটা প্রসারিত হয়ে শক্ত তালুর কাছে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলোকে তালব্য ব্যঞ্জন বলে।
- ”চ, ছ, জ, ঝ, শ” তালব্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

• কণ্ঠ্য ব্যঞ্জন:
যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের পিছনের অংশ উঁচু হয়ে আলজিভের কাছাকাছি নরম তালুর কাছে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলোকে কণ্ঠ্য ব্যঞ্জন বলে।
 - ”ক, খ, গ, ঘ, ঙ” কণ্ঠ্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ ২০২৫)।

.
বাংলা ব্যঞ্জনবর্ণে মাত্রাহীন বর্ণের সংখ্যা কয়টি?
  1. আটটি 
  2. ছয়টি
  3. দশটি 
  4. চারটি 
সঠিক উত্তর:
ছয়টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ছয়টি
ব্যাখ্যা

অর্ধমাত্রার বর্ণ:
- বাংলা বর্ণমালায় অর্ধমাত্রার বর্ণ সংখ্যা ৮টি।
- ব্যঞ্জনবর্ণে অর্ধমাত্রার বর্ণ সংখ্যা সাতটি (৭)।
- স্বরবর্ণে অর্ধমাত্রার বর্ণ সংখ্যা ১টি।

মাত্রাহীন বর্ণ:
- বাংলা বর্ণমালায় মাত্রাহীন বর্ণ সংখ্যা ১০টি।
- ব্যঞ্জনবর্ণে মাত্রাহীন বর্ণের সংখ্যা — ছয়টি (৬)।
- স্বরবর্ণে মাত্রাহীন বর্ণ সংখ্যা ৪টি।

পূর্ণমাত্রার বর্ণ:
- ব্যঞ্জনবর্ণে পূর্ণমাত্রার বর্ণের সংখ্যা ছাব্বিশটি (২৬)।
- স্বরবর্ণে পূর্ণমাত্রার বর্ণের সংখ্যা ৬টি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২২ সংস্করণ), প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি- ড. হায়াৎ মামুদ এবং ড. মোহাম্মদ আমীন, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

.
দ্বিস্বরধ্বনিযুক্ত শব্দ কোনটি?
  1. বল
  2. তাই
  3. চাঁদ
  4. নদ
সঠিক উত্তর:
তাই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তাই
ব্যাখ্যা

• "তাই" শব্দে [আ] পূর্ণ স্বরধ্বরি এবং [ই্‌] অর্ধস্বরধ্বনি মিলে দ্বিস্বরধ্বনি [তাই] তৈরি হয়েছে।

অন্যান্য অপশনগুলোর ব্যাখ্যা:
• নদ: এখানে শুধু /অ/ স্বরধ্বনি রয়েছে, দ্বিস্বরধ্বনি নয়।
• চাঁদ: এখানে /আ/ (দীর্ঘ স্বর) রয়েছে, কিন্তু দ্বিস্বরধ্বনি নয়।
• বল: এখানে /অ/ স্বরধ্বনি রয়েছে, দ্বিস্বরধ্বনি নয়।

--------------------
• দ্বিস্বরধ্বনি:
- পাশাপাশি দুটি স্বরধ্বনি থাকলে দ্রুত উচ্চরণের সময় তা একটি সংযুক্ত স্বরধ্বনি রূপে উচ্চারিত হয় যা দ্বিস্বর নামে পরিচিত।
-অর্থাৎ একসঙ্গে উচ্চারিত দুটো মিলিত স্বরধ্বনিকে যৌগিক স্বর বা দ্বি-স্বর বলা হয়। দ্বিস্বরে দুটি স্বর থাকে একটি পূর্ণ, আর একটি অপূর্ণ। বাংলায় পরের স্বরটিই সাধারণত অর্ধ হয়। বাংলা ভাষায় ২৫টি যৌগিক স্বরধ্বনি রয়েছে।
- বাংলা বর্ণমালায় যৌগিক স্বরজ্ঞাপক দুটো বর্ণ রয়েছে ঐ এবং ঔ। অন্য যৌগিক স্বরের চিহ্ন স্বরূপ কোনো বর্ণ নেই।
উদাহরণ: কৈ, বৌ।

আবর,
• পূর্ণ স্বরধ্বনি ও অর্ধস্বরধ্বনি একত্রে উচ্চারিত হলে দ্বিস্বরধ্বনি হয়। যেমন- 'লাউ' শব্দের [আ] পূর্ণ স্বরধ্বরি এবং [উ্‌] অর্ধস্বরধ্বনি মিলে দ্বিস্বরধ্বনি [লাউ] তৈরি হয়েছে।

দ্বিস্বরধ্বনির কিছু উদাহরণ:
[আই্‌]: তাই, নাই।
[এই্‌]: সেই, নেই।
[আও্‌]: যাও, দাও।
[আএ্‌]: খায়, যায়।
[উই্‌]: দুই, রুই।
[অএ্‌]: নয়, হয়।
[ওউ্‌]: মৌ, বউ।
[ওই্‌]: কৈ, দই।
[এউ্‌]: কেউ, ঘেউ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম ও দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ) এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

.
'অত্যাচার' এর প্রতিশব্দ নয় কোনটি?
  1. নিষ্পেষণ
  2. লাঞ্ছনা
  3. নিগ্রহ
  4. পাথার
সঠিক উত্তর:
পাথার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পাথার
ব্যাখ্যা

• অত্যাচার এর প্রতিশব্দ: 
- নির্যাতন, নিষ্পেষণ, লাঞ্ছনা, পীড়ন, উৎপীড়ন, নিপীড়ন, নিগ্রহ, জুলুম, জবরদস্তি, উৎপাত, উপদ্রব।

• 'সমুদ্র' শব্দের প্রতিশব্দ শব্দ = পাথার।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

.
স্বরধ্বনির অনুনাসিকতা বোঝাতে কোন চিহ্ন ব্যবহৃত হয়?
  1. বিসর্গ (ঃ)
  2. য-ফলা (্য)
  3. চন্দ্রবিন্দু (ঁ) 
  4. অনুস্বার (ং)
সঠিক উত্তর:
চন্দ্রবিন্দু (ঁ) 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চন্দ্রবিন্দু (ঁ) 
ব্যাখ্যা

• অনুনাসিক স্বরধ্বনি:
মৌলিক স্বরধ্বনিগুলো উচ্চারণের সময়ে বায়ু শুধু মুখ দিয়ে বেরিয়ে আসে। এ সময়ে কোমল তালু স্বাভাবিক অবস্থায় থাকে। কিন্তু ধ্বনিগুলো উচ্চারণের সময়ে কোমল তালু খানিকটা নিচে নেমে গেলে কিছুটা বায়ু নাক দিয়েও বের হয়। এর ফলে ধ্বনিগুলো অনুনাসিক হয়ে যায়। স্বরধ্বনির এই অনুনাসিকতা বোঝাতে বাংলা স্বরবর্ণের উপরে চন্দ্রবিন্দু (ঁ) ব্যবহৃত হয়ে থাকে।

• মৌলিক স্বরধ্বনি ৭টি:
যথা- 
[ই], [এ], [অ্যা], [আ], [অ], [ও], [উ]।

• অনুনাসিক স্বরধ্বনি ৭টি:
যথা-
[ইঁ], [এঁ], [অ্যাঁ], [আঁ], [অঁ], [ওঁ], [উঁ]।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২সংস্করণ)।

.
কোনটি রূঢ়ি শব্দ নয়? 
  1. সন্দেশ 
  2. অতিথি
  3. প্রবীণ
  4. মধুর
সঠিক উত্তর:
মধুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মধুর
ব্যাখ্যা

• রূঢ়ি শব্দ:
- যে শব্দ প্রত্যয় বা উপসর্গযোগে মূল শব্দের অর্থের অনুগামী না হয়ে অন্য কোন বিশিষ্ট অর্থ জ্ঞাপন করে, তাকে রূঢ়ি শব্দ বলে।
যেমন-
"অতিথি = √ অত্‌ + ইথি" বলতে 'মেহমানকে' বুঝায়।
কিন্তু ব্যুৎপত্তিগত অর্থ অনুসারে বোঝায়- যার তিথি নেই। অর্থাৎ প্রকৃত অর্থ না বুঝিয়ে অন্য অর্থ বোঝাচ্ছে, তাই এটি রূঢ়ি শব্দ।

এরূপ- 
- সন্দেশ - সংবাদ (মূল অর্থ) - মিষ্টান্ন (পরিবর্তিত অর্থ);
- চিকন - চকচকে (মূল অর্থ) - সরু (পরিবর্তিত অর্থ);
- জ্যাঠামি - জেঠার ভাব (মূল অর্থ) - চাপল্য (পরিবর্তিত অর্থ);
- প্রবীণ - প্রকৃষ্ট বীণাবাদক (মূল অর্থ) - বয়স্ক ব্যক্তি (পরিবর্তিত অর্থ)।

আরো কিছু রূঢ়ি শব্দ:
- বাঁশি, তৈল, প্রবীণ, সন্দেশ, বৎস, শুশ্রূষা ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
যৌগিক শব্দ:
যে সকল শব্দের ব্যুৎপত্তিগত অর্থ একই রকম, সেগুলোকে যৌগিক শব্দ বলে।
যেমন-
- গায়ক (মূল শব্দ) - গৈ + অক (শব্দ গঠন অর্থ) - যে গান করে (অর্থ)।
- মধুর = মধু + র; অর্থ - মধুর মতো মিষ্টি গুণযুক্ত।

উংস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

.
যে ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময় জিভের ডগা উপরের দাঁতে লেগে বায়ুতে বাধা সৃষ্টি করে, তাকে কী বলে?
  1. দন্তমূলীয়
  2. দন্ত্য
  3. মূর্ধন্য
  4. কণ্ঠনালীয়
সঠিক উত্তর:
দন্ত্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দন্ত্য
ব্যাখ্যা

• দন্ত্য ব্যঞ্জন:
- যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা উপরের পাটির দাঁতে লেগে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলোকে দন্ত্য ব্যঞ্জন বলে।
- ”ত, থ, দ, ধ” দন্ত্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।
 ---------------
• ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জন:
- যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ঠোঁট দুটি কাছাকাছি এসে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলোকে ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জন বলে।
- এগুলো দ্বি-ওষ্ঠ্য ধ্বনি নামেও পরিচিত।
- ”প, ফ, ব, ভ, ম” ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

• দন্তমূলীয় ব্যঞ্জন:
- যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা উপরের পাটির দাঁতের গোড়ার সঙ্গে লেগে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলোকে দন্তমূলীয় ব্যঞ্জন বলে।
- ”ন, র, ল, স” দন্ত্যমূলীয় ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

• কণ্ঠনালীয় ব্যঞ্জন:
- কণ্ঠনালীয় ব্যঞ্জন উচ্চারণের সময়ে ধ্বনিদ্বার থেকে বায়ু কণ্ঠনালি হয়ে সরাসরি বের হয়ে আসে।
- “হ” কণ্ঠনালীয় ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

• মূর্ধন্য ব্যঞ্জন:
- দন্তমূল এবং তালুর মাঝখানে যে উঁচু অংশ থাকে তার নাম মূর্ধা। যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা মূর্ধার সঙ্গে লেগে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে,সেগুলোকে মূর্ধন্য ব্যঞ্জন বলে।
- “ট, ঠ, ড, ঢ, ড়, ঢ়” মূর্ধন্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

• তালব্য ব্যঞ্জন:
- যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়েজিভের ডগা খানিকটা প্রসারিত হয়ে শক্ত তালুর কাছে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলোকে তালব্য ব্যঞ্জন বলে।
- ”চ, ছ, জ, ঝ, শ” তালব্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

• কণ্ঠ্য ব্যঞ্জন:
যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের পিছনের অংশ উঁচু হয়ে আলজিভের কাছাকাছি নরম তালুর কাছে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলোকে কণ্ঠ্য ব্যঞ্জন বলে।
 - ”ক, খ, গ, ঘ, ঙ” কণ্ঠ্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ ২০২৫)।

.
'যাহারা সত্য বলে, তাহারা সম্মানিত হয়।' – এখানে 'যাহারা, তাহারা' কী?
  1. বিশেষণ
  2. অব্যয়
  3. যোজক অব্যয়
  4. সর্বনাম
সঠিক উত্তর:
সর্বনাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সর্বনাম
ব্যাখ্যা

• 'যাহারা সত্য বলে, তাহারা সম্মানিত হয়।' – এখানে 'যাহারা, তাহারা' - সাপেক্ষ সর্বনামের উদাহরণ।

সর্বনাম পদ:
- বাক্যে বিশেষ্য পদের পরিবর্তে যে পদ ব্যবহৃত হয়, তাকেই সর্বনাম পদ বলে।
- বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত সর্বনামসমূহকে নিম্নলিখিত কয়েকটি ভাগে ভাগ করা হয়ে থাকে।

যথা:
১. ব্যক্তিবাচক বা পুরুষবাচক সর্বনাম: আমি, আমরা, তুমি, তোমরা, সে, তারা, তাহারা, তিনি, তাঁরা, এ, এরা, ও, ওরা ইত্যাদি।
২. আত্মবাচক সর্বনাম: স্বয়ং, নিজে, খোদ, আপনি।
৩. সামীপ্যবাচক সর্বনাম: এ, এই, এরা, ইহারা, ইনি ইত্যাদি।
৪. দূরত্ববাচক সর্বনাম: ঐ, ঐসব।
৫. সাকুল্যবাচক সর্বনাম: সব, সকল, সমুদয়, তাবৎ।
৬. প্রশ্নবাচক সর্বনাম: কে, কি, কী, কোন, কাহার, কার, কিসে?
[প্রশ্ন তৈরির জন্য প্রশ্নবাচক সর্বনাম প্রয়োগ করা হয়। যেমন - কী দিয়ে ভাত খায়?]
৭. অনির্দিষ্টতাজ্ঞাপক সর্বনাম: কোন, কেহ, কেউ, কিছু।
৮. ব্যতিহারিক সর্বনাম: আপনা আপনি, নিজে নিজে, আপসে, পরস্পর ইত্যাদি।
৯. সংযোগজ্ঞাপক সর্বনাম: যে, যিনি, যাঁরা, যারা, যাহারা ইত্যাদি।
১০. অন্যাদিবাচক সর্বনাম: অন্য, অপর, পর ইত্যাদি।
১১. সাপেক্ষ সর্বনাম: যেমন - যারা তারা, যে-সে, যেমন-তেমন (যেমন কর্ম তেমন ফল) ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ ও ২০২১ সংস্করণ)।

১০.
নিচের কোন বানানটি অশুদ্ধ?
  1. তিরস্কার
  2. দুস্কর
  3. পরিষ্কার
  4. আবিষ্কার
সঠিক উত্তর:
দুস্কর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দুস্কর
ব্যাখ্যা

বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
- 'দুস্কর' বানানটি অশুদ্ধ ।
- শুদ্ধ বানান: দুষ্কর।

অন্যদিকে,
- আবিষ্কার, পরিষ্কার, তিরস্কার এর বানান শুদ্ধ ।

নিয়ম:
- বিসর্গযুক্ত ই/উ ধ্বনি এর পর 'ষ' হবে। যেমন: আবিষ্কার (আবিঃ + কার); পরিষ্কার।
- অ-যুক্ত বা মুক্ত বর্ণের পর 'স' হবে ।যেমন: তিরস্কার।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।

১১.
'কৃশ' শব্দের বিপরীতার্থক শব্দ -
  1. সুন্দর
  2. স্থূল
  3. চঞ্চল 
  4. বিলম্ব
সঠিক উত্তর:
স্থূল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্থূল
ব্যাখ্যা

• 'কৃশ' শব্দের বিপরীতার্থক শব্দ - স্থূল।

অন্যদিকে,
- 'সুন্দর' শব্দের বিপরীতার্থক শব্দ - অসুন্দর।
- 'চঞ্চল' শব্দের বিপরীতার্থক শব্দ - স্থির।
- ‘ত্বরা’ শব্দের বিপরীতার্থ শব্দ - বিলম্ব।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১২.
'Deadlock' এর বাংলা পরিভাষা-
  1. অনুমোদন
  2. সতর্কতামূলক ব্যবস্থা
  3. অচলাবস্থা
  4. বিরুদ্ধাচরণ
সঠিক উত্তর:
অচলাবস্থা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অচলাবস্থা
ব্যাখ্যা

 • 'Deadlock' এর বাংলা পরিভাষা- 'অচলাবস্থা'।

অন্যদিকে,  
• 'Approbation' এর বাংলা পরিভাষা - অনুমোদন।
• 'Anticipatory measure' এর বাংলা পরিভাষা- সতর্কতামূলক ব্যবস্থা। 
• 'Antagonism' এর বাংলা পরিভাষা- বিরুদ্ধাচরণ।

উৎস: বাংলা একাডেমি, প্রশাসনিক পরিভাষা।

১৩.
প্রথম বাংলা ব্যাকরণ কোন ভাষায় প্রকাশিত হয়?
  1. বাংলা ভাষায় 
  2. ইংরেজি ভাষায়
  3. ফরাসি ভাষায়
  4. পর্তুগিজ ভাষায়
সঠিক উত্তর:
পর্তুগিজ ভাষায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পর্তুগিজ ভাষায়
ব্যাখ্যা

বাংলা ব্যাকরণ রচনার ইতিহাস:

প্রথম পর্যায়:
• প্রথম বাংলা ব্যাকরণ প্রকাশিত হয় — ১৭৪৩ সালে।
• এটি পর্তুগিজ ভাষায় রচিত, লেখক ছিলেন — মনোএল দা আসসুম্পসাঁউ।
• তিনি তাঁর — বাংলা-পর্তুগিজ অভিধানের ভূমিকাংশ হিসেবে এই ব্যাকরণ রচনা করেন।
 
ইংরেজি ভাষায় বাংলা ব্যাকরণ:
• ১৭৭৮ সালে প্রকাশিত হয় — নাথানিয়েল ব্রাসি হ্যালহেড প্রণীত বাংলা ব্যাকরণ।
• নাম: A Grammar of the Bengal Language. এটি ইংরেজি ভাষায় রচিত প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাংলা ব্যাকরণ।
• ১৮০১ সালে — উইলিয়াম কেরি ইংরেজি ভাষায় রচনা করেন — A Grammar of the Bengalee Language। এর বঙ্গানুবাদ করেন — জন রবিনসন (১৮৪৬)।
 
বাংলা ভাষায় রচিত ব্যাকরণ:
• ১৮৩৩ সালে প্রকাশিত হয় — রামমোহন রায়ের — ‘গৌড়ীয় ব্যাকরণ’।
• এটি বাংলা ভাষায় রচিত — প্রথম বাংলা ব্যাকরণ।
 
উৎস:
- বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (নবম-দশম শ্রেণি, সংস্করণ ২০২১)।
- বাংলাপিডিয়া।

১৪.
কোন বানানটি শুদ্ধ?
  1. বাল্মিকী
  2. বাল্মীকী
  3. বাল্মিকি
  4. বাল্মীকি
সঠিক উত্তর:
বাল্মীকি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাল্মীকি
ব্যাখ্যা

• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
- 'বাল্মীকি' বানানটি শুদ্ধ।
- 'বাল্মীকি' একটি সংস্কৃত শব্দ।
- বাল্মীকি = বল্মীক + ই।

অর্থ: রামায়ণের প্রণেতা কবি, আদিকবি।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।

১৫.
"অন্তরঙ্গ" শব্দটি কোন সন্ধির নিয়মে গঠিত?
  1. স্বরসন্ধি
  2. ব্যঞ্জনসন্ধি
  3. বিসর্গসন্ধি
  4. নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি
সঠিক উত্তর:
বিসর্গসন্ধি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিসর্গসন্ধি
ব্যাখ্যা

 • "অন্তরঙ্গ" শব্দটি বিসর্গসন্ধির নিয়মে গঠিত।

• সন্ধির নিয়ম:
- অন্তঃ, পুনঃ, প্রাতঃ (অন্তর্, পুনর্, প্রাতর্) ইত্যাদির পর স্বরধ্বনি থাকলে সন্ধির ফলে বিসর্গ র হয়ে পরবর্তী স্বরধ্বনির সঙ্গে যুক্ত হয়।

যেমন:
অন্তঃ + অঙ্গ = অন্তরঙ্গ,
পুনঃ +অধিকার = পুনরধিকার,
প্রাতঃ + আশ = প্রাতরাশ,
অন্তঃ + আত্মা = অন্তরাত্মা,
অন্তঃ + ইত = অন্তরিত,
অন্তঃ + ইন্দ্রিয় = অন্তরিন্দ্রিয়।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

১৬.
"ন, র, ল, স" কোন শ্রেণির ব্যঞ্জনধ্বনি?
  1. দন্তমূলীয়
  2. মূর্ধন্য
  3. তালব্য
  4. কণ্ঠ্য
সঠিক উত্তর:
দন্তমূলীয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দন্তমূলীয়
ব্যাখ্যা

• দন্তমূলীয় ব্যঞ্জন:
- যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা উপরের পাটির দাঁতের গোড়ার সঙ্গে লেগে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলোকে দন্তমূলীয় ব্যঞ্জন বলে।
- ”ন, র, ল, স” দন্ত্যমূলীয় ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।
 ---------------
• কণ্ঠনালীয় ব্যঞ্জন:
- কণ্ঠনালীয় ব্যঞ্জন উচ্চারণের সময়ে ধ্বনিদ্বার থেকে বায়ু কণ্ঠনালি হয়ে সরাসরি বের হয়ে আসে।
- “হ” কণ্ঠনালীয় ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

• ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জন:
- যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ঠোঁট দুটি কাছাকাছি এসে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলোকে ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জন বলে।
- এগুলো দ্বি-ওষ্ঠ্য ধ্বনি নামেও পরিচিত।
- ”প, ফ, ব, ভ, ম” ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

• দন্ত্য ব্যঞ্জন:
- যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা উপরের পাটির দাঁতে লেগে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলোকে দন্ত্য ব্যঞ্জন বলে।
- ”ত, থ, দ, ধ” দন্ত্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

• মূর্ধন্য ব্যঞ্জন:
- দন্তমূল এবং তালুর মাঝখানে যে উঁচু অংশ থাকে তার নাম মূর্ধা। যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা মূর্ধার সঙ্গে লেগে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে,সেগুলোকে মূর্ধন্য ব্যঞ্জন বলে।
- “ট, ঠ, ড, ঢ, ড়, ঢ়” মূর্ধন্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

• তালব্য ব্যঞ্জন:
- যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়েজিভের ডগা খানিকটা প্রসারিত হয়ে শক্ত তালুর কাছে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলোকে তালব্য ব্যঞ্জন বলে।
- ”চ, ছ, জ, ঝ, শ” তালব্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

• কণ্ঠ্য ব্যঞ্জন:
যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের পিছনের অংশ উঁচু হয়ে আলজিভের কাছাকাছি নরম তালুর কাছে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলোকে কণ্ঠ্য ব্যঞ্জন বলে।
 - ”ক, খ, গ, ঘ, ঙ” কণ্ঠ্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ ২০২৫)।

১৭.
বাংলা অনুনাসিক স্বরধ্বনির সংখ্যা কতটি?
  1. ৫টি
  2. ৬টি
  3. ৭টি 
  4. ৮টি
সঠিক উত্তর:
৭টি 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৭টি 
ব্যাখ্যা

• অনুনাসিক স্বরধ্বনি:
মৌলিক স্বরধ্বনিগুলো উচ্চারণের সময়ে বায়ু শুধু মুখ দিয়ে বেরিয়ে আসে। এ সময়ে কোমল তালু স্বাভাবিক অবস্থায় থাকে। কিন্তু ধ্বনিগুলো উচ্চারণের সময়ে কোমল তালু খানিকটা নিচে নেমে গেলে কিছুটা বায়ু নাক দিয়েও বের হয়। এর ফলে ধ্বনিগুলো অনুনাসিক হয়ে যায়। স্বরধ্বনির এই অনুনাসিকতা বোঝাতে বাংলা স্বরবর্ণের উপরে চন্দ্রবিন্দু (ঁ) ব্যবহৃত হয়ে থাকে।

• মৌলিক স্বরধ্বনি ৭টি: 
যথা- 
[ই], [এ], [অ্যা], [আ], [অ], [ও], [উ]।

• অনুনাসিক স্বরধ্বনি ৭টি: 
যথা- 
[ইঁ], [এঁ], [অ্যাঁ], [আঁ], [অঁ], [ওঁ], [উঁ]।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২সংস্করণ)।

১৮.
নিচের কোন বানানটি শুদ্ধ?
  1. ব্যাক্তি
  2. দুর্বিসহ
  3. ভূল
  4. জাজ্বল্যমান
সঠিক উত্তর:
জাজ্বল্যমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জাজ্বল্যমান
ব্যাখ্যা

• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
শুদ্ধ বানান- 'জাজ্বল্যমান'।

• 'জাজ্বল্যমান' (বিশেষণ) শব্দ:
- এর সঠিক উচ্চারণ- জাজ্‌জোল্‌লোমান্‌।
- অর্থ: অত্যন্ত উজ্জ্বল; অত্যন্ত ভাস্বর;
- সুস্পষ্ট; সুপ্রকট।

অন্যান্য অপশন, 
• 'দুর্বিসহ' এর শুদ্ধ বানান- দুর্বিষহ,
• 'ব্যাক্তি' এর শুদ্ধ বানান- ব্যক্তি,
• 'ভূল' এর শুদ্ধ বানান- ভুল। 

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

১৯.
'কলমবাজ' - শব্দের 'বাজ' কোন ধরনের প্রত্যয়?
  1. বাংলা কৃৎ প্রত্যয়
  2. বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয়
  3. সংস্কৃত কৃৎ প্রত্যয়
  4. বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়
সঠিক উত্তর:
বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয়
ব্যাখ্যা

• 'কলমবাজ' শব্দের 'বাজ' - বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয়।

----------------
• তদ্ধিত প্রত্যয়:

- শব্দের সঙ্গে (শেষে) যেসব প্রত্যয় যোগে নতুন শব্দ গঠিত হয়, তাদের তদ্ধিত প্রত্যয় বলা হয়।
যেমন -
→ লাজ + উক = লাজুক,
→ বড় + আই = বড়াই,
→ ঘর + আমি = ঘরামি।

• বাংলা ভাষায় তদ্ধিত প্রত্যয় তিন প্রকার।
যথা:
ক. বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়।
খ. বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয়।
গ. তৎসম বা সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়।

• বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয়:
বাজ (দক্ষ অর্থে)- কলমবাজ, ধড়িবাজ, ধোঁকাবাজ। 
• বন্দি (বন্দ্-ফারসি): জবানবন্দি, সারিবন্দি, নজরবন্দি, কোমরবন্দ।
• সই: (মতো অর্থে) - জুতসই, মানানসই, চলনসই, টেকসই।

দ্রষ্টব্য: 'টিপসই' ও 'নামসই' শব্দ দুটোর 'সই' প্রত্যয় নয়। এটি 'সহি' (অর্থ-স্বাক্ষর) শব্দ থেকে উৎপন্ন।
-----------------
বিশেষ তথ্য:
- বিভক্তিহীন নাম শব্দকে বলা হয় প্রাতিপদিক।
- প্রাতিপদিক তদ্ধিত প্রত্যয়ের প্রকৃতি বলে প্রাতিপদিককে নাম প্রকৃতিও বলা হয়।
- ধাতু যেমন কৃৎ-প্রত্যয়ের প্রকৃতি, তেমনি প্রাতিপদিকও তদ্ধিত প্রত্যয়ের প্রকৃতি।
- প্রত্যয় যুক্ত হলে ধাতুকে বলা হয় ক্রিয়া প্রকৃতি এবং প্রাতিপদিককে বলা হয় নাম প্রকৃতি।
- তদ্ধিত প্রত্যয়গুলো বিভিন্ন অর্থে ব্যবহৃত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

২০.
'আকুঞ্চন' শব্দের বিপরীতার্থক শব্দ কোনটি?
  1. বিকুঞ্চন
  2. প্রসারণ
  3. নিষ্পেষণ
  4. ক ও খ
সঠিক উত্তর:
ক ও খ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক ও খ
ব্যাখ্যা

• 'আকুঞ্চন' শব্দের বিপরীতার্থক শব্দ - বিকুঞ্চন, প্রসারণ।

 আরো কিছু বিপরীতার্থক শব্দ:
- ‘ডাগর’ শব্দের বিপরীতার্থক শব্দ - ম্লান।
- ‘তীব্র’ শব্দের বিপরীতার্থক শব্দ - লঘু।
- ‘তেজ’ শব্দের বিপরীতার্থক শব্দ - নিস্তেজ।
- ‘ত্বরা’ শব্দের বিপরীতার্থক শব্দ - বিলম্ব।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

২১.
"মহৌৎসুক্য' শব্দের সঠিক সন্ধিবিচ্ছেদ কোনটি?
  1. মহা + ওৎসুক্য
  2. মহ + ঔৎসুক্য
  3. মহা + ঔৎসুক্য
  4. মহঃ + ঔৎসুক্য
সঠিক উত্তর:
মহা + ঔৎসুক্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মহা + ঔৎসুক্য
ব্যাখ্যা

সন্ধির নিয়ম:
• প্রথম পদের শেষের অ-ধ্বনি বা আ-ধ্বনির সঙ্গে দ্বিতীয় পদের প্রথম ও-ধ্বনি বা ঔ-ধ্বনির যোগে ঔ-ধ্বনি হয়। বানানে তা ঔ-কারের রূপ নিয়ে আগের বর্ণে যুক্ত হয়।

যেমন:
আ + ঔ = ঔ:
মহা + ঔৎসুক্য = মহৌৎসুক্য,
মহা + ঔদার্য = মহৌদার্য,
মহা + ঔদাস্য = মহৌদাস্য ইত্যাদি।

অ + ঔ = ঔ:
পরম + ঔষধ = পরমৌষধ,
চিত্ত + ঔদার্য = চিত্তৌদার্য,
দিব্য + ঔষধ = দিব্যৌষধ ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

২২.
'মাধ্যমিক' - শব্দটির সঠিক প্রকৃতি- প্রত্যয় কোনটি?
  1. মাধ্য + মিক
  2. মধ্যম + ইক
  3. মাধ্যমিক + অ
  4. মধ্যম + অ
সঠিক উত্তর:
মধ্যম + ইক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মধ্যম + ইক
ব্যাখ্যা

• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে, 
'মাধ্যমিক' এর প্রকৃতি- প্রত্যয়: 'মধ্যম + ইক'।

• মাধ্যমিক (বিশেষণ): 
- সংস্কৃত শব্দ।
- প্রকৃতি প্রত্যয় = মধ্যম + ইক।
অর্থ: 
- মধ্যবর্তী,
- মধ্যস্থ, 
- মধ্যম সম্পর্কিত।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ; বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।

২৩.
পর্তুগিজ শব্দ কোনটি?
  1. ইংরেজ
  2. সাবান
  3. বেহালা
  4. সবগুলোই 
সঠিক উত্তর:
সবগুলোই 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবগুলোই 
ব্যাখ্যা

কিছু পর্তুগিজ শব্দ:
- ইংরেজ, পাউরুটি, আনারস , আচার, সাবান, আলকাতরা, আলপিন, চাবি, বারান্দা, আলমারি, বেহালা ,কেরানি, বর্গা, বালতি, পেয়ারা , ইস্পাত, নিলাম, গরাদ, গামলা, পেরেক, মিস্ত্রি, যিশু, কেদারা, কামরা।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।

২৪.
কার কবিতায় টি.এস এলিয়টের কবিতার প্রভাব রয়েছে?
  1. জীবনানন্দ দাশ
  2. বিষ্ণু দে
  3. জসীম উদ্‌দীন
  4. বুদ্ধদেব বসু
সঠিক উত্তর:
বিষ্ণু দে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিষ্ণু দে
ব্যাখ্যা

- বিষ্ণু দে এর কবিতায় টি.এস এলিয়টের কবিতার প্রভাব রয়েছে।

• বিষ্ণু দে:
- তিনি ছিলেন কবি, প্রাবন্ধিক, চিত্রসমালোচক ও শিল্পানুরাগী।
- ১৯০৯ সালের ১৮ জুলাই  কলকাতার পটলডাঙ্গায় তাঁর জন্ম।
- তাঁর পিতা অবিনাশচন্দ্র দে ছিলেন অ্যাটর্নি।
- বিষ্ণু দে ত্রিশোত্তর বাংলা কবিতার নব্যধারার আন্দোলনের প্রধান পাঁচজন কবির অন্যতম ছিলেন।
- তিনি মার্কসবাদী চেতনায় উদ্বুদ্ধ ছিলেন।
- তাঁর কবিতায় টি.এস এলিয়টের কবিতার প্রভাব রয়েছে।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থগুলো হল:
- উর্বশী ও আর্টেমিস,
- চোরাবালি,
- সাত ভাই চম্পা,
- সাহিত্যের ভবিষ্যৎ,
- নাম রেখেছি কোমল গান্ধার,
- তুমি শুধু পঁচিশে বৈশাখ ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধ:
- রুচি ও প্রগতি,
- সাহিত্যের ভবিষ্যৎ,
- রবীন্দ্রনাথ ও শিল্প সাহিত্যে আধুনিকতার সমস্যা।

• অনুবাদ সাহিত্য:
- এলিয়টের কবিতা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

২৫.
'Blockade' এর পারিভাষিক অর্থ হচ্ছে -
  1. আবর্ত
  2. বন্ধন
  3. অবরোধ
  4. শক্তিজোট
সঠিক উত্তর:
অবরোধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অবরোধ
ব্যাখ্যা

• 'Blockade' এর পারিভাষিক অর্থ হচ্ছে - অবরোধ।

আরো কয়েকটি বাংলা পরিভাষা:
Bribe - উৎকোচ / ঘুষ;
Cop - পুলিশ;
Background - পটভূমি;
Bail - জামিন;
Boycott বর্জন;
Cartoon - ব্যঙ্গচিত্র;
Cease Fire - অস্ত্র সংবরণ;
Covenant - চুক্তিপত্র।

উৎস: অভিগম্য অভিধান; বাংলা একাডেমি প্রশাসনিক পরিভাষা।

২৬.
বদরুদ্দীন উমর রচিত গ্রন্থ- 
  1. সংস্কৃতির সংকট
  2. সংস্কৃতির ভাঙা সেতু
  3. সংস্কৃতির চড়াই-উৎরাই
  4. সংস্কৃতি কথা
সঠিক উত্তর:
সংস্কৃতির সংকট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সংস্কৃতির সংকট
ব্যাখ্যা

• বদরুদ্দীন উমর রচিত গ্রন্থ - সংস্কৃতির সংকট।

• বদরুদ্দীন উমর:
- তিনি ২০শে ডিসেম্বর, ১৯৩১ সালে পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমানে জন্মগ্রহন করেন।
- তিনি মূলত অধ্যাপক এবং রাজনীতিক হিসেবে পরিচিত।
- তিনি ‘সংস্কৃতি’ সাময়িকী সম্পাদনা করেন।

• তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ:
- সাম্প্রদায়িকতা,
- সংস্কৃতির সাম্প্রদায়িকতা,
- পূর্ব বাঙলার ভাষা আন্দোলন ও তৎকালীন রাজনীতি,
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ও উনিশ শতকের বাঙালী সমাজ,
- যুদ্ধপূর্ব বাঙলাদেশ,
- যুদ্ধোত্তর বাঙলাদেশ,
- ভাষা আন্দোলন ও অন্যান্য প্রসঙ্গ,
- বঙ্গভঙ্গ ও সাম্প্রদায়িক রাজনীতি,
- সংস্কৃতির সংকট ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• মোতাহের হোসেন চৌধুরী রচিত গ্রন্থ - সংস্কৃতি কথা।
• শওকত ওসমান রচিত গ্রন্থ - সংস্কৃতির চড়াই-উৎরাই।
• আখতারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত গ্রন্থ - সংস্কৃতির ভাঙা সেতু।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

২৭.
'নীলিমা' শব্দের গঠনে কোন প্রত্যয় যুক্ত হয়েছে?
  1. আ 
  2. অ 
  3. ইমন্‌
  4. শানচ্‌
সঠিক উত্তর:
ইমন্‌
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইমন্‌
ব্যাখ্যা

• 'নীলিমা' শব্দের গঠনে ইমন্‌ প্রত্যয় যুক্ত হয়েছে।

• তদ্ধিত প্রত্যয়:

শব্দের শেষে ইমা থাকলে ইমন্‌ হবে এবং ভাবার্থে বিশেষ্য শব্দ গঠন করে। 
যেমন:
- মহৎ + ইমন্‌ = মহিমা,
- নীল + ইমন্‌ = নীলিমা।  

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণির (২০১৯-সংস্করণ)।

২৮.
"নিরুদ্দেশ যাত্রা" কবিতাটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কোন কাব্যগ্রন্থের কবিতা?
  1. বলাকা 
  2. মানসী
  3. কল্পনা
  4. সোনার তরী
সঠিক উত্তর:
সোনার তরী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সোনার তরী
ব্যাখ্যা

• "বর্ষাযাপন" রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'সোনার তরী' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত কবিতা।

• 'সোনার তরী' কাব্যগ্রন্থ:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'সোনার তরী' কাব্যগ্রন্থের নাম-কবিতা।
- এ কবিতায় নিবিড়ভাবে মিশে আছে কবির জীবন দর্শন। সোনার তরী 'মাত্রাবৃত্ত' ছন্দে রচিত।
- এর অধিকাংশ পঙ্‌ক্তি ৮+৫ মাত্রার পূর্ণপর্বে বিন্যস্ত।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'সোনার তরী' কাব্যগ্রন্থটি ১৮৯৪ সালে প্রকাশিত হয়। 
- এই গ্রন্থের উল্লেখযোগ্য কবিতা কুষ্টিয়ার শিলাইদহে বসে লেখা হয়েছে।

• এই গ্রন্থের উল্লেখযোগ্য কবিতাগুলো হলো:
- সোনার তরী,
- বিম্ববতী,
- বর্ষাযাপন,
- সুপ্তোত্থিতা,
- হিং টিং ছট,
- বসুন্ধরা,
- নিরুদ্দেশ যাত্রা।

রবীন্দ্রনাথ ঠকুরের অন্যান্য উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ: 
- মানসী,
- সোনার তরী,
- চিত্রা,
- কল্পনা,
- ক্ষণিকা,
- গীতাঞ্জলি,
- বলাকা,
- পূরবী,
- পুনশ্চ,
- পত্রপূট,
- সেঁজুতি,
- শেষলেখা।
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

২৯.
প্রমিত বানানের নিয়ম অনুসারে, কোন বানানটি শুদ্ধ?
  1. মূর্চ্ছা
  2. অর্জ্জন
  3. কার্য
  4. কার্ত্তিক
সঠিক উত্তর:
কার্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কার্য
ব্যাখ্যা

• প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম অনুসারে,
কার্য- শুদ্ধ বানান। 

• প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম: 
রেফের পর ব্যঞ্জনবর্ণের দ্বিত্ব হবে না। 
যেমন:
- অর্জ্জন, ঊর্দ্ধ, কার্ত্তিক,  কর্ম্ম, মূর্চ্ছ্‌ কার্য্য  ইত্যাদির পরিবর্তে যথাক্রমে- অর্জন, ঊর্ধ্ব, কার্তিক, কর্ম, মূর্ছা, কার্য ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।

৩০.
কোন বাক্যটি শুদ্ধ?
  1. আমি সন্তুষ্ট হলাম।
  2. মেয়েটি সুকেশৈলী ও সুহাসি।
  3. অধ্যাপনাই ছাত্রদের তপস্যা।
  4. তোমাকে দেখে সে আশ্চর্য হয়েছে।
সঠিক উত্তর:
আমি সন্তুষ্ট হলাম।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আমি সন্তুষ্ট হলাম।
ব্যাখ্যা

শুদ্ধ বাক্য: আমি সন্তুষ্ট হলাম।

অন্যদিকে,
অশুদ্ধ বাক্য: মেয়েটি সুকেশৈলী ও সুহাসি।
শুদ্ধ বাক্য: মেয়েটি সুকেশী ও সুহাসিনী।

অশুদ্ধ বাক্য: তোমাকে দেখে সে আশ্চর্য হয়েছে।
শুদ্ধ বাক্য: তোমাকে দেখে সে আশ্চর্যান্বিত হয়েছে।

অশুদ্ধ বাক্য: অধ্যাপনাই ছাত্রদের তপস্যা।
শুদ্ধ বাক্য: অধ্যয়নই ছাত্রদের তপস্যা।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৩১.
'মনগড়া' - কোন সমাস?
  1. কর্মধারয় সমাস
  2. তৎপুরুষ সমাস
  3. বহুব্রীহি সমাস 
  4. নিত্য সমাস
সঠিক উত্তর:
তৎপুরুষ সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তৎপুরুষ সমাস
ব্যাখ্যা

তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস:
- পূর্বপদে তৃতীয়া বিভক্তির (দ্বারা, দিয়া, কর্তৃক ইত্যাদি) লোপে যে সমাস হয়, তাকে তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস বলে।
- যথা:
- মন  দিয়ে গড়া = মনগড়া,
- শ্রম দ্বারা লব্ধ = শ্রমলব্ধ,
- মধু দিয়ে মাখা= মধুমাখা ৷

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।

৩২.
'দেওয়ানা মদিনা' পালাটির লেখক- 
  1. চন্দ্রাবতী 
  2. দ্বিজ কানাই
  3. মনসুর বয়াতি
  4. দ্বিজ ঈশান
সঠিক উত্তর:
মনসুর বয়াতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মনসুর বয়াতি
ব্যাখ্যা

• 'দেওয়ানা মদিনা' পালা:
- 'দেওয়ানা মদিনা' পালাটির লেখক মনসুর বয়াতি।
- বর্তমান হবিগঞ্জ জেলার অধীনে বাংলাদেশের বৃহত্তম গ্রাম বানিয়াচঙ্গের দেওয়ানদের সম্পর্কে এ পালা।
- বানিয়াচঙ্গের দেওয়ান সোনাফরের পুত্র আলাল ও দুলালের বিচিত্র জীবনকাহিনি এবং দুলাল ও গৃহস্থকন্যা মদিনার প্রেম কাহিনি 'দেওয়ানা মদিনা' এর মূল বিষয়।
- 'দেওয়ানা মদিনা' পালার অপর নাম 'আলাল-দুলালের' পালা।

'দেওয়ানা মদিনা'র প্রধান কয়েকটি চরিত্র হলো:
- আলাল,
- দুলাল,
- মদিনা,
- সোনাফর।

---------------------
• মৈমনসিংহ গীতিকা:
- মৈমনসিংহ গীতিকা ময়মনসিংহ অঞ্চলের প্রাচীন পালাগানের সংকলন।
- কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. দীনেশচন্দ্র সেন বৃহত্তর ময়মনসিংহ জেলা থেকে স্থানীয় সংগ্রাহকদের সহায়তায় প্রচলিত এ পালাগানগুলো সংগ্রহ ও সম্পাদনা করে মৈমনসিংহ গীতিকা (১৯২৩) নামে গ্রন্থাকারে প্রকাশ করেন।
- গ্রন্থটি বিষয়মাহাত্ম্য ও শিল্পগুণে শিক্ষিত মানুষেরও মন জয় করে। মৈমনসিংহ গীতিকায় ১০টি গীতিকা রয়েছে।

এগুলো হলো- 
- চন্দ্রাবতী (নয়ানচাঁদ ঘোষ),
- দেওয়ানা মদিনা (মনসুর বয়াতি),
- মহুয়া (দ্বিজ কানাই),
- মলুয়া (চন্দ্রাবতী),
- কমলা (দ্বিজ ঈশান),
- দেওয়ান ভাবনা,
- দস্যু কেনারামের পালা (চন্দ্রাবতী),
- রূপবতী,
- কাজল রেখা,
- কঙ্ক ও লীলা উল্লেখযোগ্য।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৩৩.
কোন শব্দটির শুদ্ধ প্রয়োগ ঘটেছে?
  1. অধীনস্ত
  2. সৌন্দর্যতা
  3. বিলাসবহুল
  4. প্রসারতা
সঠিক উত্তর:
বিলাসবহুল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিলাসবহুল
ব্যাখ্যা

• 'বিলাসবহুল' — শব্দটির প্রয়োগ শুদ্ধ।
এর অর্থ - আমোদ-প্রমোদের পর্যাপ্ত ব্যবস্থাযুক্ত।

অন্য অপশনের অশুদ্ধ শব্দগুলোর শুদ্ধ প্রয়োগ হলো:
সৌন্দর্যতা - সৌন্দর্য,
প্রসারতা - প্রসার,
অধীনস্ত - অধীন।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান, ভাষা শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ।

৩৪.
কবি আলাওল রচিত 'পদ্মাবতী' একটি- 
  1. মৌলিক রচনা
  2. ভ্রমণকাহিনি
  3. অনুবাদ গ্রন্থ
  4. নাটক 
সঠিক উত্তর:
অনুবাদ গ্রন্থ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনুবাদ গ্রন্থ
ব্যাখ্যা

‘পদ্মাবতী’ কাব্য সম্পর্কে কিছু তথ্য:
• পদ্মাবতী কবি আলাওলের প্রথম ও শ্রেষ্ঠ কাব্য। এটি মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের একটি জনপ্রিয় প্রণয়কাব্য।
• কাব্যটি প্রখ্যাত হিন্দি কবি মালিক মুহাম্মদ জায়সির ‘পদুমাবৎ/ পদুমাবত’ কাব্যের অনুবাদ।
• আলাওল ১৬৫১ সালে আরাকান রাজ সাদ থদোমিন্তারের রাজত্বকালে মন্ত্রী মাগন ঠাকুরের আদেশে ‘পদ্মাবতী’ কাব্য রচনা করেন।

• কাব্যটিতে — দুইটি পর্ব রয়েছে।
এদের মধ্যে- 
প্রথম পর্বে সিংহলের রাজকন্যা পদ্মাবতীকে লাভ করার জন্য চিতোররাজ রত্নসেনের সফল অভিযান এবং দ্বিতীয় পর্বে রানি পদ্মাবতীকে লাভ করার জন্য দিল্লির সুলতান আলাউদ্দিন খিলজির ব্যর্থ সামরিক অভিযানের বিবরণ আছে। 
---------------------
• সাহিত্যিক পরিচিতি: 
- মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি। 
- 'পদ্মাবতী' কবি আলাওলের প্রথম ও শ্রেষ্ঠ কাব্য।
- 'পদ্মাবতী' কবি মালিক মুহাম্মদ জয়সীর 'পদুমাবত' কাব্যের অনুবাদ। 

আলাওল রচিত বিখ্যাত গ্রন্থ:
- পদ্মাবতী,
- তোহফা,
- সপ্তপয়কার,
- সিকান্দারনামা ইত্যাদি। 

উল্লেখ্য,
- আধুনিক যুগের লেখক মাইকেল মধুসূদন দত্ত ১৮৬০ সালে পদ্মাবতী নাটক রচনা করেন।
- এটি একটি পৌরাণিক নাটক গ্রিক পুরাণের ‘অ্যাপেল অব ডিসকর্ড’ গল্প অবলম্বনে রচিত।

উৎস: লাল নীল দীপাবলি, হুমায়ুন আজাদ, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া

৩৫.
"কাঁটা হেরি ক্ষান্ত কেন কমল তুলিতে,
দুঃখ বিনা সুখ লাভ হয় কি মহীতে?"- পঙ্‌ক্তিদ্বয় কোন কবিতার অন্তর্গত?
  1. কাঁটা হেরি ক্ষান্ত কেন
  2. দুঃখ বিনা সুখ হয় না
  3. সুখ
  4. সদ্ভাবশতক
সঠিক উত্তর:
দুঃখ বিনা সুখ হয় না
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দুঃখ বিনা সুখ হয় না
ব্যাখ্যা

"কাঁটা হেরি ক্ষান্ত কেন কমল তুলিতে,
দুঃখ বিনা সুখ লাভ হয় কি মহীতে?" পঙ্‌ক্তিদ্বয় কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার এর 'সদ্ভাবশতক' কাব্যগ্রন্থের 'দুঃখ বিনা সুখ হয় না' কবিতা থেকে নেয়া হয়েছে।

কবিতাটি নিম্নরূপ- 

কি কারণ, দীন! তব মলিন বদন ?
যতন করহ লাভ হইবে রতন।
কেন পান্থ! ক্ষান্ত হও হেরে দীর্ঘ পথ ?
উদ্যম বিহনে কার পূরে মনােরথ ?
কাঁটা হেরি ক্ষান্ত কেন কমল তুলিতে,
দুঃখ বিনা সুখ লাভ হয় কি মহীতে?
মনে ভেবে বিষম-ইন্দ্রিয়-রিপু-ভয়,
হাফেজ! বিমুখ কেন করিতে প্রণয়?
-----------------------

• কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার:  
- সাহিত্যিক, সাংবাদিক কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদারের জন্ম ১৮৩৪ সালের ১০ জুন  খুলনা জেলার সেনহাটি গ্রামে এক  বৈদ্য পরিবার। 
-  ঈশ্বর গুপ্তের উৎসাহে সংবাদ সাধুরঞ্জন ও  সংবাদ প্রভাকর পত্রিকায় তাঁর লেখা প্রকাশিত হয়।
- কৃষ্ণচন্দ্রের বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ সদ্ভাবশতক প্রকাশিত হয় ১৮৬১ সালে।
- নীতি ও উপদেশমূলক এ কাব্যটি পারস্য কবি হাফিজ ও সাদীর কাব্যাদর্শে রচিত।
- তাঁর কবিতার অনেক পঙক্তি প্রবাদবাক্যস্বরূপ।
যেমন: ‘চিরসুখী জন ভ্রমে কি কখন ব্যথিত বেদন বুঝিতে পারে’ ইত্যাদি।
- এ পঙক্তিধারী কবিতাটি এক সময় স্কুলপাঠ্য বইয়ের অন্তর্ভুক্ত ছিল।

উৎস: 'দুঃখ বিনা সুখ হয় না', কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার এবং বাংলাপিডিয়া।

৩৬.
প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম অনুসারে কোনটি মিথ্যা?
  1. ঋ, র, ষ এর পরে মূর্ধন্য 'ণ' হয়।
  2. রেফের পর ব্যঞ্জনবর্ণের দ্বিত্ব হবেনা।
  3. বিদেশি শব্দের বানানে মুর্ধন্য ষ লেখার প্রয়োজন হয়না।
  4. সংস্কৃত 'সাৎ' প্রতয়যুক্ত পদে ষ হয়।
সঠিক উত্তর:
সংস্কৃত 'সাৎ' প্রতয়যুক্ত পদে ষ হয়।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সংস্কৃত 'সাৎ' প্রতয়যুক্ত পদে ষ হয়।
ব্যাখ্যা

• প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম অনুসারে,
• রেফের পর ব্যঞ্জনবর্ণের দ্বিত্ব হবেনা।
যেমনঃ অর্জ্জন, কর্ম্ম, কার্য্য, মূর্চ্ছা ইত্যাদির পরিবর্তে যথাক্রমে অর্জন, কর্ম, কার্য, মূর্ছা ইত্যাদি হবে।

• বিদেশি শব্দের বানানে মুর্ধন্য বর্ণ (ণ) লেখার প্রয়োজন হয়না।  
যেমন- পোশাক, মাস্টার। 

• ঋ, র, ষ এর পরে মূর্ধন্য 'ণ' হয়। 
যেমন - ঋণ, তৃণ, বর্ণ, বর্ণনা, কারণ, মরণ, ভীষণ, ভাষণ, উষ্ণ ইত্যাদি।

• সংস্কৃত 'সাৎ' প্রতয়যুক্ত পদে ষ হয় না।
যেমন - অগ্নিসাৎ, ধূলিসাৎ, ভূমিসাৎ ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।

৩৭.
মীর মশাররফ হোসেন কত খ্রিস্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন?
  1. ১৮৬১ সালে
  2. ১৮২০ সালে
  3. ১৮৪৭ সালে
  4. ১৮৭৭ সালে
সঠিক উত্তর:
১৮৪৭ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৮৪৭ সালে
ব্যাখ্যা

মীর মশাররফ হোসেন:
- মীর মশাররফ হোসেন ছিলেন ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক।
- ১৮৪৭ সালের ১৩ নভেম্বর কুষ্টিয়া জেলার লাহিনীপাড়ায় তাঁর জন্ম।
- তাকে বাংলা সাহিত্যের প্রথম মুসলিম ঔপন্যাসিক বলা হয়। গ্রামবার্তার সম্পাদক কাঙাল হরিনাথ ছিলেন তাঁর সাহিত্যগুরু।
- তার রচিত প্রথম গ্রন্থ হলো 'রত্নাবতী'।
- মশাররফ হোসেন ছাত্রাবস্থায় সংবাদ প্রভাকর ও কুমারখালির গ্রামবার্তা প্রকাশিকা-র মফঃস্বল সংবাদদাতার দায়িত্ব পালন করেন। এখানেই তাঁর সাহিত্যজীবনের শুরু।
- তিনি আজিজননেহার ও হিতকরী নামে দুটি পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।
- মীর মশাররফ ছিলেন বঙ্কিমযুগের অন্যতম প্রধান গদ্যশিল্পী ও উনিশ শতকের বাঙালি মুসলমান সাহিত্যিকদের পথিকৃৎ।

তাঁর রচিত সাহিত্যকর্ম:
• নাটক:
- বসন্তকুমারী,
- জমীদার দর্পণ,
- বেহুলা গীতাভিনয়।

• প্রহসন:
- টালা অভিনয়,
- এর উপায় কি,
- ফাঁস কাগজ,
- ভাই ভাই এইতো চাই।

• উপন্যাস:
- বিষাদ-সিন্ধু।

• আত্মজীবনীমূলক রচনা:
- উদাসীন পথিকের মনের কথা,
- গাজী মিয়াঁর বস্তানী,
- আমার জীবনী,
- কুলসুম জীবনী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, এবং বাংলাপিডিয়া।

৩৮.
"প্রতাপ ও শৈবলিনীর বাল্যপ্রণয় এবং সেই প্রেমের করুণ পরিণতি" কোন উপন্যাসের প্রধান কাহিনি?
  1. চন্দ্রশেখর
  2. বিষবৃক্ষ
  3. রাজসিংহ
  4. আনন্দমঠ
সঠিক উত্তর:
চন্দ্রশেখর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চন্দ্রশেখর
ব্যাখ্যা

• 'চন্দ্রশেখর' উপন্যাস:
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত চন্দ্রশেখর (১৮৭৫) উপন্যাসটি প্রথমে 'বঙ্গদর্শন' পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়।

- প্রতাপ ও শৈবলিনীর বাল্যপ্রণয় এবং সেই প্রেমের করুণ পরিণতি এই উপন্যাসের প্রধান কাহিনি। প্রেম, দাম্পত্য আদর্শ, সমাজের শাসন, সতীত্ব ইত্যাদি এই কাহিনিতে বিশেষভাবে সমস্যায়িত হয়েছে।

- এই উপন্যাসের বিরুদ্ধে প্রধান অভিযোগ বঙ্কিমের নীতি ও প্রথানুগত্য। কেননা, লেখক এখানে 'তবে যাও প্রতাপ, স্বর্গধামে' বলে নায়ককে পরলোকের পথ দেখিয়েছেন।

- উপন্যাসটির পটভূমি ইংরেজ শাসনের প্রতিষ্ঠা এবং মির কাসিমের সঙ্গে ইংরেজদের সংগ্রাম। ইতিহাসাশ্রয়ী ঘটনার সঙ্গে গার্হস্থ্য জীবনের কাহিনির রূপায়ণ ঘটেছে বলে মির কাসিম-দলনি বেগমের সঙ্গে চন্দ্রশেখর-প্রতাপ-শৈবলিনীর আখ্যান রচিত হয়েছে এই উপন্যাসে।

----------------------
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত অন্যান্য উপন্যাস সমূহ:
- কপালকুণ্ডলা,
- মৃণালিনী,
- রাজসিংহ, 
- বিষবৃক্ষ,
- ইন্দিরা,
- আনন্দমঠ, 
- যুগলাঙ্গুরীয়,
- চন্দ্রশেখর,
- রাধারানী,
- রজনী,
- কৃষ্ণকান্তের উইল।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৩৯.
নিচের কোন বানানটি ভুল?
  1. গার্হস্থ্য
  2. অধঃগতি
  3. স্তূপ
  4. পিপীলিকা
সঠিক উত্তর:
অধঃগতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অধঃগতি
ব্যাখ্যা

বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
- অধঃগতি এর শুদ্ধ বানান হবে -অধোগতি।

- 'অধোগতি' শব্দের অর্থ: নিম্নগতি, দুর্দশা।
- এটি একটি সংস্কৃত ভাষার শব্দ।

অন্যদিকে,
স্তূপ, পিপীলিকা, গার্হস্থ্য বানানগুলো শুদ্ধ।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।

৪০.
'অম্বর' এর প্রতিশব্দ কোনটি?
  1. জল
  2. মেঘ
  3. আকাশ
  4. সমুদ্র 
সঠিক উত্তর:
আকাশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আকাশ
ব্যাখ্যা

• 'অম্বর' এর প্রতিশব্দ- 'আকাশ'। 

--------------
• আকাশ এর কিছু সমার্থক শব্দ: 
অম্বর, ব্যোম, খ, গগণ, অন্তরিক্ষ, শূণ্যলোক, আসমান, দ্যূলোক, অভ্র, নীলিমা, শূণ্য নভঃ, অনন্ত, সুরপথ, অম্বরতল,খলোক, ইত্যাদি।

• ‘জল’ এর সমার্থক শব্দ:
অম্বু, জীবন, নীর, পানি, সলিল, উদক, বারি, অপ, তোয়, অর্ণঃ।

• 'মেঘ' এর  সমার্থক শব্দ: 
- বারিদ, জলধর, অম্বুদ, পয়োধর, নীরদ, জলদ, জীমূত, তোয়দ, পর্জন্য, পয়োদ, বলাহক, তোয়ধর।

উৎস: বাংলা একাডেমি অভিধান এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৪১.
"কথাটা আমার স্মৃতিপটে জাগরূক আছে।" - বাক্যটি কোন বিবেচনায় অশুদ্ধ?
  1. প্রত্যয়সাধিত শব্দের ভুল প্রয়োগ 
  2. অসঙ্গতিপুর্ণ অশুদ্ধ শব্দের প্রয়োগ হয়েছে
  3. বানান ভুল আছে
  4. বিশেষ্য-বিশেষণের অপপ্রয়োগ ঘটেছে
সঠিক উত্তর:
অসঙ্গতিপুর্ণ অশুদ্ধ শব্দের প্রয়োগ হয়েছে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অসঙ্গতিপুর্ণ অশুদ্ধ শব্দের প্রয়োগ হয়েছে
ব্যাখ্যা

• "কথাটা আমার স্মৃতিপটে জাগরূক আছে।" - বাক্যে অসঙ্গতিপুর্ণ অশুদ্ধ শব্দের প্রয়োগ হয়েছে।
স্মৃতির প্রসঙ্গে "অঙ্কিত" শব্দটি সঠিক হবে, "জাগরূক" নয়। কারণ, জাগরূক অর্থ- সজাগ, হুঁশিয়ার।

• বাক্যটির শুদ্ধ রূপ - কথাতা আমার স্মৃতিপটে অঙ্কিত আছে। 

অন্য অপশন,
ক) প্রত্যয়সাধিত শব্দের ভুল প্রয়োগ - নেই।
গ) বানান ভুল - নেই।
ঘ) বিশেষ্য-বিশেষণের অপপ্রয়োগ - নেই।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।

৪২.
মুসলিম জাগরণমূলক কাব্য 'অনল প্রবাহ' এর রচয়িতা কে?
  1. সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
  2. ফররুখ আহমদ 
  3. সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী
  4. আবুল ফজল 
সঠিক উত্তর:
সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী
ব্যাখ্যা

• 'অনল প্রবাহ' কাব্য:
- সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী রচিত মুসলিম জাগরণমূলক কাব্য 'অনল প্রবাহ' প্রকাশিত হয় ১৯০০ সালে।
- 'যা চলে গেছে তার জন্য শোক বৃথা বরং জাতির হৃতগৌরব উদ্ধারের প্রচেষ্টাই মুখ্য'-এই বাণীতে মুসলমানদের দুরবস্থা ও অধঃপতন ব্যক্ত করে ইংরেজদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ ও রোষ প্রকাশ করা হয়েছে এই কাব্যটিতে।
- 'অনল প্রবাহে' কবি হেমচন্দ্ৰ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘ভারত ভিক্ষা’, ‘ভারত বিলাপ' ইত্যাদি কবিতার সুস্পষ্ট প্রভাব আছে।
- ১৩১৫ বঙ্গাব্দে (১৯০৮) পরিবর্তিত ও পরিবর্ধিত দ্বিতীয় সংস্করণ বের হয়।
- প্রথম সংস্করণে কবিতা ছিল মাত্র নয়টি।
- এগুলো হচ্ছে : অনল-প্রবাহ, তুর্যধ্বনি, মূর্ছনা, বীর-পূজা, অভিভাষণ : ছাত্রগণের প্রতি, মরক্কো-সঙ্কটে, আমীর- আগমনে, দীপনা, আমীর-অভ্যর্থনা।
- বইটির বর্ধিত সংস্করণ প্রকাশিত হলে তৎকালীন বাংলার সরকার এটি বাজেয়াপ্ত করে এবং তাঁর প্রতি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে।
- সিরাজী তখন ফরাসি অধিকৃত চন্দননগরে গিয়ে ৮ মাস আত্মগোপন করে থাকেন।
- পরে আত্মসমর্পণ করলে বৃটিশ সরকারের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ প্রচারের অভিযোগে তাঁকে দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- রায়নন্দিনী,
- তারাবাঈ,
- ফিরোজা বেগম।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধ:
- স্বজাতি প্রেম,
- তুর্কি নারী জীবন,
- স্পেনীয় মুসলান সভ্যতা।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- অনল প্রবাহ,
- উচ্ছ্বাস,
- উদ্বোধন,
- স্পেন বিজয় কাব্য ইত্যাদি।

• ভ্রমণ কাহিনী:
-তুরস্ক ভ্রমণ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, এবং বাংলাপিডিয়া।

৪৩.
কাকে 'চলিষ্ণু অভিধান' বলা হয়?
  1. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
  2. চন্দ্রকুমার দে 
  3. দীনেশচন্দ্র সেন
  4. ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্
সঠিক উত্তর:
ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্
ব্যাখ্যা

• ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ:
- ১৮৮৫ সালের ১০ জুলাই পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার পেয়ারা গ্রামে তাঁর জন্ম। 
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ ভারতীয় উপমহাদেশের একজন স্মরণীয় বাঙালি ব্যক্তিত্ব, বহুভাষাবিদ, বিশিষ্ট শিক্ষক ও দার্শনিক ছিলেন।

- তিনি 'জ্ঞানতাপস' হিসেবে অধিক পরিচিত।
- তাঁকে 'চলিষ্ণু অভিধান' বলা হয়।
- ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপট জাতিসত্তা সম্পর্কে ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহর বিখ্যাত উক্তি- ''আমরা হিন্দু বা মুসলমান যেমন সত্য, তার চেয়ে বেশি সত্য আমরা বাঙালি।''
- ১৯৫৯ সালে প্রকাশিত 'বাঙ্গালা ভাষার ইতিবৃত্ত' রচনা করেন ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ।
 
তাঁর ভাষা ও সাহিত্যবিষয়ক উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ: 
- ভাষা ও সাহিত্য, 
- বাঙ্গালা ব্যাকরণ, 
- বাংলা সাহিত্যের কথা, 
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস ইত্যাদি।

এছাড়া তিনি বাংলা একাডেমির 'আঞ্চলিক ভাষার অভিধান' সম্পাদনা করেন।
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

৪৪.
'অতিথি' এর সমার্থক শব্দ কোনটি?
  1. অভ্যাগত
  2. কুটুম
  3. কুটুম্ব
  4. উপরের সবগুলোই 
সঠিক উত্তর:
উপরের সবগুলোই 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপরের সবগুলোই 
ব্যাখ্যা

• 'অতিথি' এর প্রতিশব্দ:
- অভ্যাগত,
- মেহমান,
- নিমন্ত্রিত,
- আমন্ত্রিত,
- কুটুম,
- কুটুম্ব,
- আগন্তুক ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ।

৪৫.
'চোখের বালি' - কোন তৎপুরুষ সমাস?
  1. তৃতীয় 
  2. দ্বিতীয়া 
  3. অলুক
  4. চতুর্থী 
সঠিক উত্তর:
অলুক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অলুক
ব্যাখ্যা

• অলুক তৎপুরুষ সমাস:
পূর্বপদের বিভক্তি লোপ না পেয়ে যে তৎপুরুষ সমাস হয় তাকে অলুক তৎপুরুষ সমাস বলে।
যেমন: 
- চোখের বালি = চোখের বালি।
- সোনার তরী = সোনার তরী।
- তেলে ভাজা = তেলেভাজা।
- চিনির বলদ = চিনির বলদ ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৪৬.
কোন বানানটি শুদ্ধ?
  1. নিষ্প্রভ
  2. নিষ্তব্ধ
  3. নিষ্পন্দ
  4. পুরষ্কার
সঠিক উত্তর:
নিষ্প্রভ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিষ্প্রভ
ব্যাখ্যা

শুদ্ধ বানান: নিষ্প্রভ। 
অর্থ: প্রভাহীন, অনুজ্জ্বল। 

অশুদ্ধ বানানগুলোর শুদ্ধ রূপ হলো:
- পুরস্কার,
- নিস্পন্দ,
- নিস্তব্ধ। 

-------------------
• বানানের নিয়ম:
• বিসর্গযুক্ত অ-ধ্বনির সঙ্গে সন্ধি হলে বর্ণে সাধারণত 'স' যুক্ত হয় (পুরঃ + কার = পুরস্কার) এবং বিসর্গযুক্ত ই-ধ্বনির সঙ্গে সন্ধি হলে সাধারণত 'ষ' যুক্ত হয় (বহিঃ + কার = বহিষ্কার)।

• তবে স্ক / স্ক সংক্রান্ত সমস্যার সহজ সমাধানকল্পে বলা যায় : অ-যুক্ত বা মুক্ত বর্ণের পরে সাধারণত 'স' হবে। যেমন: নমস্কার, পুরস্কার, বনস্পতি, তিরস্কার, বাচস্পতি ইত্যাদি।

• অন্যদিকে,
ই-যুক্ত বর্ণের পর সাধারণত 'ষ' হবে। যেমন: আবিষ্কার, নিষ্কলঙ্ক, পরিষ্কার, নিষ্ফল, নিষ্প্রভ, নিষ্পাপ, নিষ্পন্ন, নিষ্কর, জ্যোতিষ্ক ইত্যাদি।
(স্প / স্ত / স্থ থাকলে 'ষ' হয় না। যেমন: নিস্পন্দ / নিস্তব্ধ / দুস্থ ইত্যাদি)।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা

৪৭.
কোন বাক্যে শুদ্ধ প্রয়োগ ঘটেছে?
  1. এ কথা প্রমাণ হয়েছে। 
  2. আমি অপমান হয়েছি।
  3. পূর্বদিকে সূর্য উদয় হয়।
  4. তিনি সস্ত্রীক রাজশাহী থাকেন।
সঠিক উত্তর:
তিনি সস্ত্রীক রাজশাহী থাকেন।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তিনি সস্ত্রীক রাজশাহী থাকেন।
ব্যাখ্যা

• শুদ্ধ প্রয়োগ ঘটেছে : তিনি সস্ত্রীক রাজশাহী থাকেন। 

• বাক্যে যথার্থ শব্দ প্রয়োগ না করায় বাক্য গঠনে ভুল হয়। 
যেমন-
⇒ অশুদ্ধ: তিনি স্বস্ত্রীক রাজশাহী থাকেন।
⇒ শুদ্ধ বাক্য: তিনি সস্ত্রীক রাজশাহী থাকেন।

অন্য অপশনে, 
অশুদ্ধ: আমি অপমান হয়েছি।
শুদ্ধ: আমি অপমানিত হয়েছি।

অশুদ্ধ: এ কথা প্রমাণ হয়েছে। 
শুদ্ধ বাক্য: এ কথা প্রমাণিত হয়েছে।  

অশুদ্ধ: পূর্বদিকে সূর্য উদয় হয়।
শুদ্ধ: পূর্বদিকে সূর্য উদিত হয়।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৪৮.
'ঈষৎ কম্পিত' এর এক শব্দে প্রকাশ কোনটি?
  1. স্পন্দিত
  2. আধুত
  3. কম্পিত
  4. কম্পন
সঠিক উত্তর:
আধুত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আধুত
ব্যাখ্যা

• "ইষৎ কম্পিত" এর এক কথায় প্রকাশ — 'আধুত'।

অনুরূপ কিছু এক কথায় প্রকাশ:
• "ইষৎ রক্তবর্ণ" — 'আরক্ত'।
• 'ইষৎ উষ্ণ' - 'কবোষ্ণ'।
• ঈষৎ নীলবর্ণ - নীলাভ

উৎস:
- বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধানা, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ভাষা শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ।

৪৯.
'ভাবুক' শব্দের সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. ভৌ + ঊক
  2. ভৌ + উক
  3. ভাব + উক
  4. ভো + অক
সঠিক উত্তর:
ভৌ + উক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভৌ + উক
ব্যাখ্যা

• 'ভাবুক' শব্দের সন্ধি বিচ্ছেদ- 'ভৌ + উক'।
- এটি স্বরসন্ধির উদাহরণ। 

• সন্ধি বিচ্ছেদ: 
- এ, ঐ, ও, ঔ- কারের পরে এ, ঐ স্থানে যথাক্রমে অয়, আয় এবং ও, ঔ স্থানে যথাক্রমে অব্‌, আব্‌ হয়। 
যেমন,
- ভৌ + উক = ভাবুক; (সূত্র: ঔ+উ = আব্‌+উ)।
- পৌ + অক = পাবক,
- গো + আদি = গবাদি,
- গো + এষণা = গবেষণা,
- পো + ইত্র = পবিত্র,
- নৌ + ইক = নাবিক ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৫০.
'যে জাতি মনে বড় নয়, সে জাতি জ্ঞানেও বড় নয়'- এই উক্তিটি কার?
  1. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ 
  2. কাজী মোতাহার হোসেন
  3. প্রমথ চৌধুরী
  4. মোতাহের হোসেন চৌধুরী
সঠিক উত্তর:
প্রমথ চৌধুরী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রমথ চৌধুরী
ব্যাখ্যা

- 'যে জাতি মনে বড় নয়, সে জাতি জ্ঞানেও বড় নয়' উক্তিটি প্রমথ চৌধুরী করেছেন।

• তাঁর অন্যান্য বিখ্যাত উক্তি:
- সুশিক্ষিত লোক মাত্রই স্বশিক্ষিত'।
- ‘ব্যাধিই সংক্রামক, স্বাস্থ্য নয়'।
- 'যে জাতি মনে বড় নয়, সে জাতি জ্ঞানেও বড় নয়'।
- 'বাংলা ভাষা আহত হয়েছে সিলেটে আর নিহত হয়েছে চট্টগ্রামে'।

• প্রমথ চৌধুরী:
- বাংলা সাহিত্যে প্রথম বিদ্রুপাত্নক প্রবন্ধ রচনাকারী, গদ্য সাহিত্যে চলিত রীতির প্রবর্তক বলা হয়।
- ইতালীয় সনেটের প্রবর্তকও হলেন প্রমথ চৌধুরী।
- তাঁর ছদ্মনাম বীরবল।
- তিনি সবুজপত্র (১৯১৪) ও বিশ্বভারতী, রূপ ও রীতি এবং অলকা পত্রিকা সম্পাদনা করেন ।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- সনেট পঞ্চাশৎ।
- পদচারণ।
• গল্পগ্রন্থ:
- চার ইয়ারি কথা।
- আহুতি।
- নীললোহিত ও গল্প সংগ্রহ।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- তেল- নুন -লাকড়ী।
- বীরবলের হালখাতা (চলিত রীতির প্রথম গদ্য রচনা)।
- নানাকথা।
- আমাদের শিক্ষা।
- রায়তের কথা।
- নানাচর্চা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৫১.
বাংলা ব্যাকরণ প্রথম কে রচনা করেছিলেন?
  1. নাথানিয়েল ব্রাসি হ্যালহেড
  2. মনোএল দা আসসুম্পসাঁউ 
  3. রাজা রামমোহন রায়
  4. উইলিয়াম কেরি
সঠিক উত্তর:
মনোএল দা আসসুম্পসাঁউ 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মনোএল দা আসসুম্পসাঁউ 
ব্যাখ্যা

বাংলা ব্যাকরণ রচনার ইতিহাস:

প্রথম পর্যায়:
• প্রথম বাংলা ব্যাকরণ প্রকাশিত হয় — ১৭৪৩ সালে।
• এটি পর্তুগিজ ভাষায় রচিত, লেখক ছিলেন — মনোএল দা আসসুম্পসাঁউ। অর্থ্যাৎ, প্রথম বাংলা ব্যাকরণ রচনা করেছিলেন— মনোএল দা আসসুম্পসাঁউ।
• তিনি তাঁর — বাংলা-পর্তুগিজ অভিধানের ভূমিকাংশ হিসেবে এই ব্যাকরণ রচনা করেন।
 
ইংরেজি ভাষায় বাংলা ব্যাকরণ:
• ১৭৭৮ সালে প্রকাশিত হয় — নাথানিয়েল ব্রাসি হ্যালহেড প্রণীত বাংলা ব্যাকরণ।
• নাম: A Grammar of the Bengal Language. এটি ইংরেজি ভাষায় রচিত প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাংলা ব্যাকরণ।
• ১৮০১ সালে — উইলিয়াম কেরি ইংরেজি ভাষায় রচনা করেন — A Grammar of the Bengalee Language। এর বঙ্গানুবাদ করেন — জন রবিনসন (১৮৪৬)।
 
বাংলা ভাষায় রচিত ব্যাকরণ:
• ১৮৩৩ সালে প্রকাশিত হয় — রামমোহন রায়ের — ‘গৌড়ীয় ব্যাকরণ’।
• এটি বাংলা ভাষায় রচিত — প্রথম বাংলা ব্যাকরণ।
 
উৎস:
- বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (নবম-দশম শ্রেণি, সংস্করণ ২০২১)।
- বাংলাপিডিয়া।

৫২.
'ত্রিফলা' - কোন ধরনের সমাস সাধিত শব্দ?
  1. উপমান কর্মধারয় সমাস
  2. দিগু কর্মধারয় সমাস
  3. উপমিত কর্মধারয় সমাস
  4. রূপক কর্মধারয় সমাস
সঠিক উত্তর:
দিগু কর্মধারয় সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দিগু কর্মধারয় সমাস
ব্যাখ্যা

• দিগু কর্মধারয় সমাস:
- কিছু  কর্মধারয় সমাসের পূর্বপদ সংখ্যা বাচক হয় তাকে দিগু কর্মধারয় সমাস বলে।
যেমন-
তিন ফলের সমাহার = ত্রিফলা।
চার রাস্তার মিলন = চৌরাস্তা।

এছাড়াও,
• উপমান কর্মধারয় সমাস:
- যার সঙ্গে তুলনা করা হয় তা উপমান। কিছু কর্মধারয় সমাসে উপমানের সঙ্গে গুণবাচক শব্দের সমাস হয়।
- এগুলোকে উপমান কর্মধারয় সমাস বলে।
যেমন-
কাজলের মতো কালো = কাজলকালো।
শশের মতো ব্যস্ত = শশব্যস্ত।

• উপমিত কর্মধারয় সমাস:
- যাকে তুলনা করা হয় তা উপমেয়। কিছু কর্মধারয় সমাসে উপমেয় পদের সাথে উপমান পদের সমাস হয় এগুলকে উপমিত কর্মধারয় সমাস বলে।
যেমন-
পুরুষ সিংহের ন্যায়= সিংহপুরুষ 
আঁখি পদ্মের ন্যায় = পদ্মআঁখি

• রূপক কর্মধারয় সমাস:
- কিছু কর্মধারয় সমাসে উপমান পদের সাথে উপমান পদের অভেদ কল্পনা করা হয় তাকে রূপক কর্মধারয় সমাস বলে।
যেমন -
বিষাদ রূপ সিন্ধু = বিষাদসিন্ধু।
মন রূপ মাঝি = মনমাঝি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

৫৩.
কোন বানানটি অশুদ্ধ?
  1. পরাহ্ণ
  2. অপরাহ্ণ
  3. প্রাহ্ণ 
  4. পূর্বাহ্ন
সঠিক উত্তর:
পূর্বাহ্ন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পূর্বাহ্ন
ব্যাখ্যা

• প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম:
তৎসম শব্দে 'অপর, পরা, পূর্ব, প্রা' ইত্যাদি উপসর্গের সঙ্গে 'অহ্ন' প্রত্যয় যুক্ত হলে 'অহ্ন' শব্দের 'দন্ত- ন' পরিবর্তিত হয়ে 'মূর্ধন্য- ণ' হয়। 
যেমন,
- অপরাহ্ণ, পরাহ্ণ, প্রাহ্ণ, পূর্বাহ্ণ ইত্যাদি। 

• প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম অনুসারে,
- পূর্বাহ্ন শুদ্ধ নয়, এর শুদ্ধ বানান- 'পূর্বাহ্ণ'। 

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান; প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মতি- ড. হায়াৎ মামুদ এবং ড. মোহাম্মদ আমীন।

৫৪.
ধূসরতার কবি বলা হয় কাকে?
  1. বিষ্ণু দে 
  2. নির্মলেন্দু গুণ
  3. জীবনানন্দ দাশ
  4. সমর সেন 
সঠিক উত্তর:
জীবনানন্দ দাশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জীবনানন্দ দাশ
ব্যাখ্যা

• জীবনানন্দ দাশ:
- জীবনানন্দ দাশ ১৮৯৯ সালে বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
- জীবনানন্দ দাশকে ধূসরতার কবি বলা হয়।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর জীবনানন্দ দাশের কবিতাকে চিত্ররূপময় কবিতা বলেছেন।
- তাঁর রচিত ‘বনলতা সেন’ আধুনিক বাংলা সাহিত্যের খ্যাতনামা গ্রন্থগুলির অন্যতম।
এ কাব্যের ‘বনলতা সেন’ কবিতাটি বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবিতা এবং জীবনানন্দের কবিতদাগুলির মধ্যে জনপ্রিয়।

• জীবনানন্দ দাশ রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- ঝরাপালক (প্রথম প্রকাশিত),
- ধূসর পাণ্ডুলিপি,
- মহাপৃথিবী,
- সাতটি তারার তিমির,
- বেলা অবেলা কালবেলা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, বাংলাপিডিয়া।

৫৫.
কোন বানানটি অশুদ্ধ?
  1. ফণী
  2. নির্নিমেষ
  3. গভর্ণর
  4. চক্ষুষ্মান
সঠিক উত্তর:
গভর্ণর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গভর্ণর
ব্যাখ্যা

• 'গভর্ণর' - অশুদ্ধ বানান।
এখানে 'গভর্ণর' বিদেশি শব্দ। তাই এর শুদ্ধ বানান হবে- 'গভর্নর'। 

• প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম:
অতৎসম শব্দের বানানে 'ণ' ব্যবহার করা হবে না।
যেমন,
- অঘ্রান, ঝরনা, গভর্নর, হর্ন।

• অপশনের অন্যান্য শব্দের বানানগুলো শুদ্ধ।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ; বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

৫৬.
কোন শব্দে শুদ্ধ প্রয়োগ ঘটেছে?
  1. নিরপরাধী
  2. অহর্নিশি
  3. নির্দোষ
  4. দিবারাত্রি
সঠিক উত্তর:
নির্দোষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নির্দোষ
ব্যাখ্যা

• শুদ্ধ প্রয়োগ - নির্দোষ। 

সমাস-ঘটিত কিছু অশুদ্ধি শব্দের শুদ্ধরূপ:
অশুদ্ধ শব্দ ----- শুদ্ধ শব্দ
- নিরপরাধী = নিরপরাধ।
- অহর্নিশি = অহর্নিশ।
- নিরহঙ্কারী = নিরহঙ্কার।
- নির্দোষী = নির্দোষ।
- পিতাহারা = পিতৃহারা।
- অর্ধরাত্রি = অর্ধরাত্র।
- নিরভিমানী = নিরভিমান।
- দিবারাত্রি = দিবারাত্র।
- নীরোগী = নীরোগ ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৫৭.
'গবেষণা' কোন ধরনের শব্দ?
  1. মৌলিক 
  2. যৌগিক 
  3. রূঢ়ি
  4. যোগরূঢ়
সঠিক উত্তর:
রূঢ়ি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রূঢ়ি
ব্যাখ্যা

রূঢ়ি শব্দ: 
যেসব শব্দ ব্যুৎপত্তিগত অর্থ না বুঝিয়ে অন্য অর্থ প্রকাশ করে তাকে রূঢ়ি শব্দ বলে।
যেমন:
- ‘কুশল’ ব্যুৎপত্তিগত অর্থ ‘যে কুশ আনে’; প্রচলিত অর্থ মঙ্গল।
- গবেষণা (গো + এষণা) অর্থ গরু খোজা এটি প্রকৃত অর্থকে না বুঝিয়ে অন্য অর্থ বুঝাচ্ছে, তাই এটি রুঢ়ি শব্দ।

আরো কিছু রূঢ়ি শব্দ:
হস্তী, বাঁশি, তৈল, প্রবীণ, সন্দেশ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৫৮.
কোন বানানটি শুদ্ধ নয়?
  1. চিকীর্ষা
  2. চকুস্মান
  3. মুমূর্ষু
  4. রুক্ষ
সঠিক উত্তর:
চকুস্মান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চকুস্মান
ব্যাখ্যা

• প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম: 
তৎসম শব্দে 'ক', 'র'- এর পরে সাধারণত 'দন্ত্য-স' বসে না, মূর্ষণ্য- ষ বসে।  
যেমন,
ক- এর পর: চক্ষু (ক্ষ= ক্‌ + ষ), চক্ষুষ্মান, রুক্ষ, ভিক্ষুক, ভিক্ষা।
র- এর পরে: মুমূর্ষু, চিকীর্ষা। 

• প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম অনুযায়ী,
'চকুস্মান' অশুদ্ধ, এর শুদ্ধ বানান হবে- 'চক্ষুষ্মান'। 

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান; প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মতি- ড. হায়াৎ মামুদ এবং ড. মোহাম্মদ আমীন।

৫৯.
ব্যাসবাক্যের প্রয়োজন হয় না কোন সমাসে?
  1. প্রাদি সমাস
  2. অলুক সমাস
  3. নিত্য সমাস
  4. দ্বন্দ্ব সমাস
সঠিক উত্তর:
নিত্য সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিত্য সমাস
ব্যাখ্যা

নিত্য সমাস:
যে সমাসে সমস্যমান পদ দ্বারা সমাস-বাক্য হয় না, অন্য পদের দ্বারা সমস্ত পদের অর্থ প্রকাশ করতে হয় তাকে নিত্য সমাস বলে। অর্থাৎ যে সমাসে সমস্যমান পদগুলো সর্বদা সমাসবদ্ধ থাকে এবং ব্যাসবাক্যের প্রয়োজন হয় না, সে সমাসকে নিত্য সমাস বলা হয়। এ সমাসের ব্যাসবাক্যের প্রারম্ভে 'অন্য' বা 'কেবল' প্রভৃতি শব্দ বসে।
যেমন:
- অন্য গ্রাম = গ্রামান্তর,
- অন্য দেশ = দেশান্তর,
- কেবল দর্শন = দর্শনমাত্র,
- কেবল যাওয়া = যাওয়ামাত্র,
- কেবল বলা = বলামাত্র। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ), প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।

৬০.
গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে রচিত 'চিলেকোঠার সেপাই' উপন্যাসের প্রধান চরিত্র -
  1. সুদীপ্ত শাহিন 
  2. ওসমান
  3. আজাদ 
  4. অধ্যাপক রায়হান 
সঠিক উত্তর:
ওসমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ওসমান
ব্যাখ্যা

• 'চিলেকোঠার সেপাই' উপন্যাস:
- ‘চিলেকোঠার সেপাই’ বিশিষ্ট কথা সাহিত্যিক আখতারুজ্জামান ইলিয়াস এর লেখা।
- এটি তার একটি মহাকাব্যোচিত উপন্যাস।
- ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে লেখা উপন্যাস চিলেকোঠার সেপাই।
- উপন্যাসটির প্রধান চরিত্র ওসমান।
- কোন বাড়ির চিলেকোঠায় বাস করেও স্বাধীনতার লক্ষ্যে গড়ে ওঠা বৃহত্তর আন্দোলনের জোয়ারে সেদিন মিলিত হয়েছিল ওসমান।
- এখানে ইতিবাচক রাজনীতির উপস্থাপনায় বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের অব্যবহিত পূর্বরূপটি ওঠে এসেছে।

আখতারুজ্জামান ইলিয়াস:
- ১৯৪৩ সালে গাইবান্ধা জেলায় জন্মগ্রহন করেন।
- তিনি চিলেকোঠার সেপাই, খােয়াবনামা নামে দুটি মহাকাব্যোচিত উপন্যাস রচনা করেছেন।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- চিলেকোঠার সেপাই,
- খােয়াবনামা।

তাঁর রচিত ছােটগল্প:
- অন্য ঘরে অন্য স্বর,
- খোয়ারি,
- দুধভাতে উৎপাত,
- দোজখের ওম।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) বাংলাপিডিয়া।

৬১.
'মেঘ' এর  সমার্থক শব্দ নয় কোনটি?
  1. জলধর
  2. পয়োধর
  3. জলদ
  4. উদক
সঠিক উত্তর:
উদক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উদক
ব্যাখ্যা

• 'মেঘ' এর  সমার্থক শব্দ: 
- বারিদ, জলধর, অম্বুদ, পয়োধর, নীরদ, জলদ, জীমূত, তোয়দ, পর্জন্য, পয়োদ, বলাহক, তোয়ধর।

অন্যদিকে,
• ‘জল’ এর সমার্থক শব্দ:
অম্বু, জীবন, নীর, পানি, সলিল, উদক, বারি, অপ, তোয়, অর্ণঃ।

উৎস: বাংলা একাডেমি অভিধান এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৬২.
'সদাশয়' এর সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. সদা + আশয়
  2. সদ + আশয়
  3. সৎ + আশয়
  4. সদা + শয়
সঠিক উত্তর:
সৎ + আশয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সৎ + আশয়
ব্যাখ্যা

• 'সদাশয়' শব্দের সন্ধি বিচ্ছেদ- 'সৎ + আশয়'।
----------------
• কয়েকটি নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি বিচ্ছেদ:
বন + পতি = বনস্পতি,
আ + চর্য = আশ্চর্য,
গো + পদ = গোস্পদ,
পর + পর = পরস্পর,
ষট্ + দশ = ষোড়শ,
এক + দশ = একাদশ,
পতৎ + অঞ্জলি = পতঞ্জলি ইত্যাদি।

উৎস:  বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ-২০১৯)।