পরীক্ষা আর্কাইভ

ফ্রি সাপ্তাহিক মডেল টেস্ট

পরীক্ষাফ্রি সাপ্তাহিক মডেল টেস্টতারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়01 hr 30 mins
মোট প্রশ্ন১৪৯
সিলেবাস
"Award Mania: Season - 14” এর জন্য প্রযোজ্য -------------------------------------------- Live MCQ ফ্রি সাপ্তাহিক ফুল মডেল টেস্ট: বিসিএসের সম্পূর্ণ সিলেবাসের উপর ২০০ নাম্বারের ফুল মডেল টেস্ট। [Live MCQ - তে প্রতি শুক্রবার সবার জন্য ফ্রি একটি ফুল মডেল টেস্ট অনুষ্ঠিত হয়।]
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

ফ্রি সাপ্তাহিক মডেল টেস্ট

ফ্রি সাপ্তাহিক মডেল টেস্ট · তারিখ অনির্ধারিত · ১৪৯ প্রশ্ন

.
প্রমথ চৌধুরী রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ নয় কোনটি?
  1. আমাদের শিক্ষা
  2. নানা কথা
  3. আহুতি
  4. রায়তের কথা
ব্যাখ্যা

'আহুতি' প্রমথ চৌধুরী রচিত একটি গল্পগ্রন্থ।
- গ্রন্থটি ১৯১৯ সালে প্রকাশিত হয়।

-------------------
• প্রমথ চৌধুরী:

- বাংলা চলিত গদ্যরীতির প্রবর্তক প্রমথ চৌধুরী ১৮৬৮ সালের ৭ আগস্ট যশোরে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি বাংলা সাহিত্যে ইতালীয় সনেটের প্রবর্তন করেন।
- ফরাসি সনেটরীতি ট্রিয়লেট, তের্জারিমা ইত্যাদি বাংলা সাহিত্যে তিনিই প্রথম প্রবর্তন করেন।
- ১৯১৪ সালে মাসিক সবুজপত্র প্রকাশনা এবং তার মাধ্যমে বাংলা চলিত গদ্যরীতির প্রবর্তন তাঁর জীবনের শ্রেষ্ঠ কীর্তি।
- পরবর্তীতে বীরবল' ছদ্মনামে সবুজপত্র পত্রিকায় ব্যঙ্গরসাত্মক প্রবন্ধ ও নানা গল্প প্রকাশ করেন। এ ছদ্মনাম থেকে পরবর্তীতে বাংলা সাহিত্যে বীরবলী ধারা প্রবর্তিত হয়।
- চলিত রীতিতে তাঁর প্রথম গদ্যরচনা 'বীরবলের হালখাতা' (ভারতী পত্রিকায় প্রকাশ: ১৯০২)।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- নানা কথা,
- আমাদের শিক্ষা,
- রায়তের কথা,
- নানাচর্চা,
- প্রবন্ধ সংগ্রহ,
- বীরবলের হালখাতা,
- তেল নুন লকড়ি ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- চার ইয়ারী কথা,
- আহুতি,
- নীললোহিত,
- গল্পসংগ্রহ।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- সনেট পঞ্চাশৎ,
- পদচারণ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

.
'বিশ শতকের মেয়ে' উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. আল মাহমুদ
  2. জহির রায়হান
  3. আহমদ শরীফ
  4. নীলিমা ইব্রাহিম
ব্যাখ্যা

'বিশ শতকের মেয়ে' নীলিমা ইব্রাহিম রচিত একটি উপন্যাস। উপন্যাসটি ১৯৫৮ সালে প্রকাশিত হয়।

অন্যদিকে, 
• 'আগুনের মেয়ে' নামক উপন্যাসটির রচয়িতা আল মাহমুদ।
• জহির রায়হানের 'শেষ বিকেলের মেয়ে' যত না প্রেমের উপন্যাস, আসলে এটি তার চেয়ে বেশী করে প্রেমহীনতার উপন্যাস। 
• "বিশ শতকের বাঙালি" ন্থটির লেখক হলেন আহমদ শরীফ। 

-------------------
• নীলিমা ইব্রাহিম:
- নীলিমা ইব্রাহিম (১৯২১-২০০২) ছিলেন একজন শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক ও সমাজকর্মী। ১৯২১ সালের ১১ অক্টোবর বাগেরহাট জেলার ফকিরহাট উপজেলার মূলঘর গ্রামের এক জমিদার পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- কর্মজীবনের শুরুতে নীলিমা ইব্রাহিম কলকাতার লরেটো হাউজে লেকচারার (১৯৪৩-৪৪) হিসেবে চাকরি করেন। নীলিমা ইব্রাহিম বেশকিছু উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ ও প্রবন্ধ রচনা করেছেন।

তাঁর গ্রন্থবদ্ধ রচনাসমূহের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:
• গবেষণা:
- শরৎ-প্রতিভা,
- বাংলার কবি মধুসূদন,
- ঊনবিংশ শতাব্দীর বাঙালী সমাজ ও বাংলা নাটক।
 
• উপন্যাস:
- বিশ শতকের মেয়ে,
- এক পথ দুই বাঁক,
- কেয়াবন সঞ্চারিণী,
- বহ্নিবলয়।

• নাটক:
- দুয়ে দুয়ে চার,
- যে অরণ্যে আলো নেই,
- রোদ জ্বলা বিকেল,
- সূর্যাস্তের পর।

• আত্মজীবনী:
- বিন্দু-বিসর্গ।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

.
হোমারের রচনার বঙ্গানুবাদ কোনটি?
  1. ব্রজাঙ্গনা
  2. হেক্টরবধ
  3. মেঘনাদবধ
  4. বীরঙ্গনা
ব্যাখ্যা

• হেক্টরবধ:
- 'হেক্টরবধ' (১৮৭১) হোমারের 'ইলিয়াড' মহাকাব্যের প্রথম কয়েকটি সর্গের গদ্যে রচিত বঙ্গানুবাদ।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচনাটি ১৮৬৭তে শুরু করেন কিন্তু অসমাপ্ত অবস্থাতেই ১৮৭১ সালের ১লা সেপ্টেম্বর তা প্রকাশিত হয়।
- হোমারের রচনা মূল গ্রিক থেকে বাংলায় অনুবাদের এটিই প্রথম প্রচেষ্টা।
- গ্রন্থটি ভূদেব মুখোপাধ্যায়কে উৎসর্গ করা হয়েছিল।

অন্যদিকে,
• সংস্কৃত মহাকাব্য 'রামায়ণ'র ক্ষুদ্র ভগ্নাংশ কাহিনি অবলম্বন করে মধুসূদন দত্ত ১৮৬১ সালের জুন মাসে 'মেঘনাদবধ কাব্য' রচনা করেন। ১৮৫৭ সালের সংঘটিত সিপাহি বিপ্লবের স্বাধীনতামন্ত্রে উজ্জীবিত হয়ে রাবণকে নায়ক এবং রামকে খলনায়ক করে মধুসূদন দত্ত এটি রচনা করেন।

• মাইকেল মুধুসূধন দত্ত রচিত রাধাকৃষ্ণ বিষয়ক গীতিকাব্যের নাম 'ব্রজাঙ্গনা'। এটি ১৮৬১ সালে প্রকাশিত হয়। 'ব্রজাঙ্গনা' কাব্যের কবিতাগুলো ওড্ জাতীয় গীতিকবিতা। মধুসূদন কাব্যটিকে দুই খণ্ডে বিভক্ত করে রচনার পরিকল্পনা করেছিলেন, বিরহ ও মিলন। তবে 'মিলন' খণ্ডটি তিনি লিখে যেতে পারেন নি।

• 'বীরাঙ্গনা কাব্য' একটি পত্র কাব্য। পত্রাকারে এ ধরনের সাহিত্য বাংলা সাহিত্যে এটাই প্রথম। পৌরাণিক নারীরা মধুসূদনের হাতে যেন আধুনিক মানুষ হিসেবে পুনর্জাগরিত হয়ে নিজেদের প্রণয় কামনা ইত্যাদি প্রকাশ করেছে এই কাব্যে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

.
বিহারীলাল চক্রবর্তীর সর্বশ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. সারদামঙ্গল
  2. বঙ্গসুন্দরী
  3. বন্ধু বিয়োগ
  4. স্বপ্নদর্শন
ব্যাখ্যা

সারদামঙ্গল কাব্য:
- কবি বিহারীলাল চক্রবর্তীর সর্বশ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ 'সারদামঙ্গল' (১৮৭৯)।
- এই কাব্যগ্রন্থটি প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল 'আর্যদর্শন' পত্রিকায়। আখ্যানকাব্য হলেও এর আখ্যানবস্তু সামান্যই। মূলত গীতিকবিতাধর্মী কাব্য এটি।
- এটি পাঁচটি সর্গে বিভক্ত। ভোরের পাখি খ্যাত রোমান্টিক কবি বিহারীলাল প্রিয়তমার মধ্যে দেবী সারদাকে অন্বেষণ করেছেন।
- কাব্যগ্রন্থটি আধুনিক বাংলা সাহিত্যের একটি স্তম্ভস্বরূপ।

- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এই কাব্য সম্পর্কে লিখেছেন, "সূর্যাস্ত কালের সুবর্ণমণ্ডিত মেঘমালার মত সারদামঙ্গলের সোনার শ্লোকগুলি বিবিধরূপের আভাস দেয়। কিন্তু কোন রূপকে স্থায়ীভাবে ধারণ করিয়া রাখে না। অথচ সুদূর সৌন্দর্য স্বর্গ হইতে একটি অপূর্ণ পূরবী রাগিণী প্রবাহিত হইয়া অন্তরাত্মাকে ব্যাকুল করিয়া তুলিতে থাকে।"

অন্যদিকে, 
বিহারীলাল চক্রবর্তী রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ:
- স্বপ্নদর্শন,
- সঙ্গীতশতক,
- বঙ্গসুন্দরী,
- নিসর্গ সন্দর্শন,
- বন্ধু বিয়োগ,
- সারদা মঙ্গল।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং 'সারদামঙ্গল'কাব্য।

.
বিশ্বযুদ্ধ, দুর্ভিক্ষ, সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা ও দেশবিভাগের মতো ঐতিহাসিক ঘটনার পটভূমিতে রচিত উপন্যাস কোনটি?
  1. কখনো আসে নি
  2. হাজার বছর ধরে 
  3. সূর্য দীঘল বাড়ী
  4. চিলেকোঠার সেপাই
ব্যাখ্যা

'সূর্য দীঘল বাড়ী' উপন্যাস:
- 'সূর্য দীঘল বাড়ী' আবু ইসহাক রচিত একটি সামাজিক উপন্যাস। ১৯৫৫সালে উপন্যাসটি প্রকাশিত হয়।
- বাংলাদেশের গ্রাম জীবনের বিশ্বস্ত দলিল এই গ্রন্থ।
- বিশ্বযুদ্ধ, দুর্ভিক্ষ, সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা, দেশবিভাগ প্রভৃতি পরপর চারটি বড় ঐতিহাসিক ঘটনার পটভূমিতে তিনি রচনা করেন 'সূর্য দীঘল বাড়ী'
- জয়গুন এই উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র।

উপন্যাসের অন্যান্য চরিত্রগুলো হলো: 
- হাসু, 
- মায়মুন, 
- শাফি, 
- ডা. রমেশ চক্রবর্তী, 
- মোরল গদু ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• আবহমান বাংলার জীবন ও জনপদ 'হাজার বছর ধরে' (১৯৬৪) উপন্যাসের মূল প্রতিপাদ্য। 
• 'চিলেকোঠার সেপাই' ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে আখতারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত একটি মহাকাব্যিক উপন্যাস।
• জহির রায়হান পরিচালিত প্রথম চলচ্চিত্র 'কখনো আসে নি'।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

.
মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক কোন উপন্যাসের মধ্য দিয়ে মুসলমান সমাজের বেদনাঘন চিত্র অঙ্কন করেছেন?
  1. আনোয়ারা
  2. জোহরা
  3. আবদুল্লাহ 
  4. গরীবের মেয়ে 
ব্যাখ্যা

• 'জোহরা' উপন্যাস:
- জোহরা উপন্যাসের রচয়িতা মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক।
- তিনি তাঁর জোহরা উপন্যাসের মধ্য দিয়ে মুসলমান সমাজের বেদনাঘন চিত্র অঙ্কন করেছেন। জোহরা উপন্যাসে সে আমলের মুসলমান সমাজের অন্যায় অনাচার রূপ দিয়েছেন।
- কন্যার মতামত অগ্রাহ্য করে আত্মীয় স্বজনেরা বিয়ে দিতে গিয়ে মেয়েদের জীবনে যে দুর্ভোগের সৃষ্টি করে তা-ই এ উপন্যাসের উপজীব্য।

অন্যদিকে, 
'গরীবের মেয়ে' মোহাম্মদ নজিবর রহমান রচিত একটি জনপ্রিয় উপন্যাস। 

• 'আনোয়ারা' উপন্যাস: 
মোহাম্মদ নজিবর রহমান এর জনপ্রিয় ও প্রথম উপন্যাস হচ্ছে আনোয়ারা। উপন্যাসটি ১৯১৪ সালে প্রকাশিত হয়। উপন্যাসটিতে মধ্যবিত্ত বিকাশের চিত্রের কথা তুলে ধরা হয়েছে।

• 'আবদুল্লাহ' উপন্যাস:
- কাজী ইমদাদুল হক বিখ্যাত 'আবদুল্লাহ' উপন্যাসটি রচনা করেন। ১৯৩৩ সালে এটি গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়। উপন্যাসটি রচনাকালীন সময়ে তার মৃত্যু হলে কাজী আনোয়ারুল কাদির ইমদাদুল হকের খসড়া অবলম্বন করে অসমাপ্ত উপন্যাসটি সমাপ্ত করেন।
- উপন্যাসটিতে চিত্রিত হয়েছে গ্রামীণ মুসলিম সমাজের পিরভক্তি, ধর্মীয় কুসংস্কার, পর্দাপ্রথা, সম্প্রদায়বিদ্বেষ ইত্যাদির বিরুদ্ধে মানবতাবাদী প্রতিবাদ।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

.
ব্যঙ্গপ্রধান গল্পসংগ্রহ কোনটি?
  1. লিপিমালা
  2. রাজাবলি
  3. তোতা ইতিহাস
  4. ইতিহাসমালা
ব্যাখ্যা

• 'ইতিহাসমালা':
- প্রায় দেড় শ ইতিহাসাশ্রিত গল্প অবলম্বনে ১৮১২ সালে 'ইতিহাসমালা' নামক অন্য একটি গ্রন্থ উইলিয়াম কেরি প্রকাশ করেন। এ দেশের সাহিত্যের ইতিহাসে এই গ্রন্থটি প্রথম গল্পসংগ্রহ হিসেবে মর্যাদাপূর্ণ স্থান পাওয়ার যোগ্য। 

- সংগৃহীত গল্পগুলোর অধিকাংশই ব্যঙ্গপ্রধান। এতে প্রাচ্য-পাশ্চাত্য উভয় উৎস থেকে গল্প সংগৃহীত হয়েছিল।

- 'হিতোপদেশ', 'পঞ্চতন্ত্র' প্রভৃতি প্রাচীন সংস্কৃত গ্রন্থের গল্প থেকে শুরু করে অপেক্ষাকৃত আধুনিক ধনপতি-খুল্লনা-লহনা, রূপ সনাতন গোস্বামির কথা এতে স্থান পেয়েছে। অনুবাদে যে যথেষ্ট পরিমাণ প্রাঞ্জলতা সঞ্চারিত হতে পারে ইতিহাসমালা তার বিশিষ্ট নিদর্শন। 

- সুষম ও প্রাঞ্জল রচনারীতির জন্য এই কলেজ থেকে প্রকাশিত সমস্ত গ্রন্থের মধ্যে তা শ্রেষ্ঠস্থানের অধিকারী। এই গ্রন্থের ভাষা ছিল ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের প্রাথমিক যুগের ভাষা অপেক্ষা অনেক উন্নত এবং গদ্য রচনার একটা স্টাইলও এতে পরিলক্ষিত হয়।

অন্যদিকে, 
'লিপিমালা' ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের ছাত্রদের চলিত ভাষা ও দেশীয় লোকের বৈষয়িক ব্যবহারের পরিচয়দানের জন্য পত্রাকারে লিখিত প্রবন্ধ।

• কিংবদন্তি ও লোকপ্রসিদ্ধির ওপর নির্ভর করে রচিত 'রাজাবলি' গ্রন্থে গদ্যরীতি আরও সুষ্ঠু রূপ নিয়েছে। আরবি ফারসি শব্দবাহুল্যপূর্ণ এই গ্রন্থটি প্রাঞ্জল ভাষারীতির জন্য মৃত্যুঞ্জয়ের শ্রেষ্ঠ রচনা হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করতে পারে।

• চণ্ডীচরণ মুনশীর 'তোতা ইতিহাস' (১৮০৫) ফারসি থেকে অনুবাদ। পাঠ্যপুস্তক ও গল্পগ্রন্থ হিসেবে গ্রন্থটি যথেষ্ট সমাদর লাভ করেছিল।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম। 

.
মাইকেল মধুসূদন দত্তের 'একেই কি বলে সভ্যতা'র প্রভাব রয়েছে নিচের কোন প্রহসনে?
  1. এর উপায় কি
  2. টালা অভিনয়
  3. ফাঁস কাগজ
  4. কমলে কামিনী 
ব্যাখ্যা

'এর উপায় কি' প্রহসন: 
- 'এর উপায় কি' মীর মশাররফ হোসেন রচিত প্রহসন। 
- উনিশ শতকে এক শ্রেণির লোক যে স্ত্রীর প্রতি অবহেলা দেখিয়ে মদ ও পতিতাবৃত্তিতে আকৃষ্ট হয়ে নানা ধরনের অনাচার ও উচ্ছৃঙ্খলতায় নিমজ্জিত হয়েছিল-লেখক এই প্রহসনে সে রকম একটি ঘটনাই তুলে ধরেছেন। 
- এই প্রহসনে মাইকেল মধুসূদন দত্তের 'একেই কি বলে সভ্যতা'র প্রভাব রয়েছে।

উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- রাধাকান্ত,
- স্ত্রী মুক্তকেশী,
- নয়নতারা,
- ইয়ার মদন প্রমুখ।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

.
ডোম সম্প্রদায়ের একজন যুবকের কবিরূপে প্রতিষ্ঠার কাহিনি উল্লেখ রয়েছে কোন উপন্যাসে?
  1. নিকেতন
  2. আরোগ্য
  3. কালিন্দী
  4. কবি
ব্যাখ্যা

• 'কবি' উপন্যাস:
- 'কবি' একটি বহুল আলোচিত বাংলা উপন্যাস। এটির রচয়িতা বাংলাভাষার প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়। 
- কাহিনির বিবেচনায় এটি একটি সামাজিক উপন্যাস।
- ডোম সম্প্রদায়ের একজন যুবক কবিরূপে প্রতিষ্ঠা এবং দুটি নারীর সঙ্গে তার সম্পর্ক বিষয়ক উপন্যাস।

তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস:
- চৈতালি ঘূর্ণি,
- ধাত্রীদেবতা,
- কালিন্দী,
- কবি,
- হাঁসুলি বাঁকের উপকথা,
- গণদেবতা,
- আরোগ্য,
- নিকেতন,
- পঞ্চপুণ্ডলী,
- রাধা ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১০.
ভাষা আন্দোলনভিত্তিক প্রথম সাহিত্য সংকলন কোনটি?
  1. আরেক ফাল্গুন 
  2. একুশে ফেব্রুয়ারী
  3. একুশের গল্প
  4. আর্তনাদ
ব্যাখ্যা

• 'একুশে ফেব্রুয়ারী' সংকলন:
- 'একুশে ফেব্রুয়ারী' ভাষা আন্দোলনভিত্তিক প্রথম সাহিত্য সংকলন। 
- ১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারিতে বাংলা ভাষার জন্য ঢাকায় যে আত্মদান করা হয় তার স্মরণে ১৯৫৩ সালের মার্চ মাসে হাসান হাফিজুর রহমান 'একুশে ফেব্রুয়ারী' নামে একটি সাহিত্য সংকলন সম্পাদনা করেন। এর প্রকাশক ছিলেন মোহাম্মদ সুলতান।
- সম্পাদক ও প্রকাশক উভয়েই বামপন্থি রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
- এই সংকলনে কবিতা, প্রবন্ধ, গল্প, গান, নকশা, ইতিহাস শিরোনামে ৬টি বিভাগে মোট ২২ জন লেখক লিখেছেন।
- এই সংকলনেই প্রথম প্রকাশিত হয় আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী রচিত 'আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো' গানটি। প্রকাশের তিন সপ্তাহের মধ্যে পাকিস্তানের তৎকালীন সরকার সংকলনটি বাজেয়াপ্ত করে।

অন্যদিকে, 
• বাঙালি জাতীয়তাবাদী আন্দোলন ও ১৯৫২ সালে ২১শে ফেব্রুয়ারি পালনের অভিজ্ঞতায় জহির রায়হান 'আরেক ফাল্গুন' উপন্যাসটি রচনা করেন।
• জহির রায়হানের বিখ্যাত সাহিত্যকর্মের মধ্যে 'একুশের গল্প' অন্যতম। ভাষা আন্দোলনকে কেন্দ্র করে রচিত এই গল্পের প্রধান চরিত্র: তপু, রেণু ও রাহাত।
• শওকত ওসমান রচিত ভাষা আন্দোলনভিত্তিক উপন্যাস - আর্তনাদ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১১.
সেক শুভোদয়া গ্রন্থের গল্প প্রথম কোন রাজার রাজসভায় উপস্থাপন করা হয়?
  1. সামন্ত সেনের
  2. বিজয় সেনের
  3. লক্ষ্মণ সেনের 
  4. বল্লাল সেনের
ব্যাখ্যা

• সেক শুভোদয়া:
- 'সেক শুভোদয়া' অন্ধকার যুগের একটি সাহিত্য নিদর্শন।
- হলায়ুধ মিশ্র রচিত পীর মাহাত্ম্য-ব্যঞ্জক কাব্য 'সেক শুভোদয়া'। এটি সংস্কৃত গদ্যপদ্যে লেখা চম্পুকাব্য।
- অশুদ্ধ বাংলা ও প্রচুর ভুল সংস্কৃত শব্দের ব্যবহার পাওয়া যাওয়ায় সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় 'সেক শুভোদয়া' কে dog sanskrit বলেছেন।
- ড. মুহাম্মদ এনামুল হকের মতে, 'সেক শুভদয়া' খ্রিস্টীয় ত্রয়োদশ শতাব্দীর গোড়ার দিকের রচনা।

- শেখ জালালুদ্দীন তাবরেজি নামের এক অলৌকিক শক্তিধর মুসলমান রাজা লক্ষ্মণ সেনে সভায় গল্পটি পরিবেশন করেন। গ্রন্থে বেশ কিছু বাংলা ছড়া ও বাগধারার ব্যবহার লক্ষ করা যায়। গদ্যপদ্য মিলিয়ে গ্রন্থটিতে অধ্যায় আছে ২৫টি। ১৩২০-২১ বঙ্গাব্দে মণীন্দ্রমোহন বসু ১৩টি পরিচ্ছেদ বঙ্গানুবাদসহ প্রকাশ করেন 'কায়স্থ' পত্রিকায়।

- ১৩৩৪ বঙ্গাব্দে সুকুমার সেনের সম্পাদনায় গ্রন্থটি প্রথম মুদ্রিত হয়।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১২.
হুমায়ুন আজাদ রচিত কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. কাফনে মোড়া অশ্রুবিন্দু
  2. বাতাসে লাশের গন্ধ
  3. বাংলাদেশ স্বপ্ন দ্যাখে
  4. বন্দী শিবির থেকে
ব্যাখ্যা

• 'কফিনে মোড়া অশ্রুবিন্দু' হুমায়ূন আজাদ রচিত কাব্যগ্রন্থ।
- এটি ১৯৯৮ সালে প্রকাশিত হয়।

--------------------------
• হুমায়ুন আজাদ:
- হুমায়ুন আজাদ ছিলেন একজন কবি, ঔপন্যাসিক, গল্পকার, গবেষক, ভাষাবিজ্ঞানা।
- তিনি বিক্রমপুরের রাড়িখালে ১৯৪৭ সালের ২৮ এপ্রিল জন্মগ্রহণ করেন।
- ১৯৭৩ সালে প্রকাশিত হয় তাঁর প্রথম কাব্য অলৌকিক ইস্টিমার।
- ১৯৮৩ সালে প্রকাশিত হয় তাঁর দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ জ্বলো চিতাবাঘ।

হুমায়ুন আজাদ রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ:
- অলৌকিক ইস্টিমার
- জ্বলো চিতাবাঘ
- যতোই গভীরে যাই মধু,
- যতোই উপরে যাই নীল,
- সবকিছু নষ্টদের অধিকারে যাবে,
- কাফনে মোড়া অশ্রুবিন্দু ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- রুদ্র মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ রচিত কবিতা: বাতাসে লাশের গন্ধ।
-  শামসুর রাহমান রচিত কিছু উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ: বাংলাদেশ স্বপ্ন দ্যাখে, বন্দী শিবির থেকে। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৩.
চর্যাপদের পুথি থেকে কোন শাসন আমলে বাঙালির সমাজ ও সংস্কৃতির পরিচয় পাওয়া যায়?
  1. মৌর্য
  2. গুপ্ত
  3. সেন 
  4. পাল 
ব্যাখ্যা

• চর্যাপদ:
- এটি বাংলা সাহিত্যের আদি যুগের একমাত্র লিখিত নিদর্শন।

- ১৯০৭ খ্রিষ্টাব্দে মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী নেপাল রাজদরবারের গ্রন্থাগার থেকে চর্যাপদের পুথি আবিষ্কার করেন।  তাঁরই সম্পাদনায় ৪৭টি পদবিশিষ্ট পুথিখানি হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধগান ও দোহা (১৯১৬) নামে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ কর্তৃক প্রকাশিত হয়।

- তিনি পুথির সূচনায় একটি সংস্কৃত শ্লোক থেকে নামের যে ইঙ্গিত পান তাতে এটি চর্যাশ্চর্যবিনিশ্চয় নামেও পরিচিত হয়।
- এটি 'বৌদ্ধগান ও দোহা' বা 'চর্যাপদ' নামেই অভিহিত হয়ে থাকে।
- চর্যাপদ তিব্বতি ভাষায় অনুবাদ করেন কীর্তিচন্দ্র।

- চর্যাপদ আবিষ্কারের মাধ্যমে বাংলা ভাষার আদি স্তরের লক্ষণ সম্পর্কে অবহিত হওয়া সম্ভব হয়েছে। সেই সঙ্গে পালযুগের সাধারণ বাঙালির সমাজ ও সংস্কৃতির পরিচয় এতে রূপলাভ করেছে। চর্যাপদ বাংলা সাহিত্যের আদি নিদর্শন বলে বিবেচিত হওয়ায় প্রাচীন বাঙালির জীবন ও সাধনা সম্বন্ধে অনেক রহস্যের সমাধান ঘটেছে। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাস এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

১৪.
ব্রাহ্মসমাজের সভার মুখপত্র ছিলো- 
  1. সংবাদ প্রভাকর
  2. তত্ত্ববোধিনী
  3. কল্লোল 
  4. বঙ্গদর্শন
ব্যাখ্যা

• 'তত্ত্ববোধিনী' পত্রিকা:
- এটি ব্রাহ্মসমাজের তত্ত্ববোধিনী সভার মুখপত্র ছিলো। ব্রাহ্মধর্মের প্রচার এবং তত্ত্ববোধিনী সভার সভ্যদের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষার উদ্দেশ্যে ১৮৪৩ সালের ১৬ আগস্ট অক্ষয়কুমার দত্তের সম্পাদনায় তত্ত্ববোধিনী পত্রিকা প্রথম প্রকাশিত হয়। এর সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর।

- উনিশ শতকের শ্রেষ্ঠ গদ্যলেখক ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, রাজনারায়ণ বসু, দ্বিজেন্দ্রনাথ ঠাকুর প্রমুখ এ পত্রিকায় নিয়মিত লিখতেন এবং তাঁদের লেখার মাধ্যমে তখন বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে এক নবযুগের সূচনা হয়।

- বেদান্ত-প্রতিপাদ্য ব্রহ্মবিদ্যার প্রচার পত্রিকারমুখ্য উদ্দেশ্য হলেও জ্ঞানবিজ্ঞান, ইতিহাস, সাহিত্য, ধর্ম, রাজনীতি, অর্থনীতি, সমাজতত্ত্ব এবং দর্শনবিষয়ক মূল্যবান রচনাও এতে প্রকাশিত হতো।

- তত্ত্ববোধিনী পত্রিকা ১৯৩২ সাল পর্যন্ত প্রকাশিত হয়েছে। অক্ষয়কুমারের পরে বিভিন্ন সময়ে এর সম্পাদনার দায়িত্ব পালন করেন নবীনচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়, সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর, অযোধ্যানাথ পাকড়াশী, হেমচন্দ্র বিদ্যারত্ন, দ্বিজেন্দ্রনাথ ঠাকুর, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও ক্ষিতীন্দ্রনাথ ঠাকুর।

অন্যদিকে, 
--------------------
'সংবাদ প্রভাকর' বাংলা ভাষায় প্রকাশিত প্রথম দৈনিক পত্রিকা। দৈনিক পত্রিকা রূপে ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের সম্পাদনায় ১৮৩৯ সালে প্রকাশিত হয়। 

• ১৯২৩ খ্রিষ্টাব্দ আধুনিক লেখকদের সাহিত্যিক মুখপত্র হিসেবে কলকাতা থেকে মাসিক 'কল্লোল' প্রকাশিত হয়। এর সম্পাদক ছিলেন দীনেশরঞ্জন দাস। রবীন্দ্র-রোমান্টিক বিরুদ্ধধারা হিসেবে আধুনিক সাহিত্যের সূচনার ক্ষেত্রে এ পত্রিকার ভূমিকা অনস্বীকার্য।

• বাংলা উপন্যাসের জনক বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের সম্পাদনায় ১৮৭২ সালে প্রথম মাসিক 'বঙ্গদর্শন' পত্রিকা প্রকাশিত হয়। এ পত্রিকার মাধ্যমে বাংলা গদ্যের প্রভূত উন্নতি সাধনের লক্ষ্যে বঙ্কিমচন্দ্র একটি শক্তিশালী লেখকগোষ্ঠী গড়ে তুলেছিলেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১৫.
শুদ্ধ বানান কোনটি?
  1. অনির্বচ্যনীয়
  2. অনির্বাচ্যনীয়
  3. অনির্বচনীয়
  4. অনির্বাচনীয়
ব্যাখ্যা

• শুদ্ধ বানান- অনির্বচনীয়। 
- শব্দটি বিশেষণ পদ। 
- এটি একটি সংস্কৃত শব্দ। 
অর্থ:
- বর্ণনাতীত, অবর্ণনীয়।  /অনিরবচোনিয়া।।

• এর স্ত্রীবাচক শব্দ- অনির্বচনীয়া। 

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান। 

১৬.
বাংলার আদি জনগোষ্ঠী কোন ভাষাভাষী ছিল?
  1. বৈদিক
  2. অস্ট্রিক
  3. পালি
  4. ধ্রুপদী
ব্যাখ্যা

• বাংলা ভাষার উৎপত্তি:
- বাংলা ভাষার উৎপত্তি ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষা-গোষ্ঠীর অন্তর্গত ইন্দো-ইরানীয় শাখাভুক্ত নব্য-ভারতীয় আর্য ভাষা থেকে।
- বাংলা ভাষা ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষাগোষ্ঠীর সদস্য। ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষার শাখা ২ টি; কেন্তম ও শতম। ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষাগোষ্ঠীর শতম শাখা থেকে বাংলা ভাষার উৎপত্তি।
- বাংলার আদি জনগোষ্ঠী অস্ট্রিক ভাষাভাষী ছিল।

- ভারতীয় উপমহাদেশের আঞ্চলিক ভাষাগুলোর আদিম উৎস অনার্য ভাষা। আর্যদের ভাষার নাম বৈদিক ভাষা। বেদের ভাষাকেও বৈদিক ভাষা বলা হয়।
- বৈদিক ভাষার সংস্কারজাত নতুন ভাষাই সংস্কৃত ভাষা। ভাষা হিসেবে সংস্কৃত শব্দটির উল্লেখ প্রথম পাওয়া যায় মহাকাব্য রামায়ণে।
- বাংলা ভাষার নিকটতম আত্মীয় অহমিয়া ও ওড়িয়া। ধ্রুপদী ভাষা সংস্কৃতি ও পালির সঙ্গে বাংলা ভাষার রয়েছে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক।

- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌র মতে গৌড়ি প্রাকৃত থেকে গৌড়ি অপভ্রংশ হয়ে বঙ্গ-কামরুপির মধ্য দিয়ে বাংলা এসেছে।
- ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের মতে, বাংলা এসেছে মাগধী প্রাকৃত থেকে মাগধী অপভ্রংশ হয়ে।

- ভাষার উৎপত্তি সম্পর্কে ভাষা গবেষকদের মধ্যে ড. শহীদুল্লাহ্‌র মতামতটি অধিক গ্রহণযোগ্য। অন্যান্য পণ্ডিতগণও এই মতামতকে প্রাধান্য দিয়েছেন।
- উদ্ভবের সময় থেকে আজ পর্যন্ত বাংলাকে তিনটি ঐতিহাসিক পর্যায়ে ভাগ করে দেখা হয়: প্রাচীন বাংলা (৯০০/১০০০-১৩৫০), মধ্যবাংলা (১৩৫০-১৮০০) এবং আধুনিক বাংলা (১৮০০-র পরবর্তী)। প্রাচীন বাংলার লিখিত নিদর্শনের মধ্যে চর্যাগীতিকাগুলি সর্বপ্রধান।

উৎস: বাংলা একাডেমি, প্রমিত বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (দ্বিতীয় খণ্ড); ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলাপিডিয়া।

১৭.
'চাকর' কোন ভাষার শব্দ?
  1. বাংলা 
  2. চীনা 
  3. ফারসি 
  4. আরবি
ব্যাখ্যা

• চাকর।
- ফারসি ভাষার শব্দ। 
- শব্দটি বিশেষ্য পদ। 
অর্থ:
- পরিচারক;
- কর্মচারী।

• ফারসি ভাষা থেকে আগত কিছু শব্দ হলো:
গ্রেপ্তারি, গ্রেফতার, দারোগা, দারোয়ান, সাদা, খরগোশ, কাজি, খোয়াব, চেহারা, কাগজ, চশমা, চাকর ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

১৮.
মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস কোনটি?
  1. সাম্যবাদ
  2. স্থিরপ্রতিজ্ঞ
  3. সস্ত্রীক
  4. সবিনয়
ব্যাখ্যা

• মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস:
যে কর্মধারয় সমাসে ব্যাসবাক্যের মধ্যপদের লোপ পায় তাকে বলা হয় মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস।
যেমন:
- পল (মাংস) মিশ্রিত অন্ন = পলান্ন;
- সিংহ চিহ্নিত আসন = সিংহাসন;
- প্রীতিসূচক উপহার = প্রীতিউপহার;
- মৌ আশ্রিত মাছি = মৌমাছি;
- সাহিত্য বিষয়ক সভা = সাহিত্যসভা;
- ঘরে আশ্রিত জামাই =ঘরজামাই;
- সাম্য বিষয়ক বাদ = সাম্যবাদ;
- স্মৃতি রক্ষার্থে সৌধ = স্মৃতিসৌধ ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
---------------

• বহুব্রীহি সমাস:
যে সমাসে সমস্যমান পদগুলোর কোনোটির অর্থ না বুঝিয়ে, অন্য কোনো পদকে বোঝায়, তাকে বহুব্রীহি সমাস বলে।বহুব্রীহি সমাসে সাধারণত যার, যাতে ইত্যাদি শব্দ ব্যাসবাক্যরূপে ব্যবহৃত হয়।
যথা: আয়ত লোচন যার = আয়তলোচনা (স্ত্রী), মহান আত্মা যার = মহাত্মা, স্বচ্ছ সলিল যার = নীলবসনা, স্থির প্রতিজ্ঞা যার = স্থিরপ্রতিজ্ঞ, ধীর বুদ্ধি যার = ধীরবুদ্ধি।

• সহার্থক বহুব্রীহি সমাস:
তাকে সহার্থক বহুব্রীহি সমাস বলে। যেমন: সহার্থক (অর্থ- সহ অর্থজ্ঞাপক) পদের সঙ্গে বিশেষ্য পদের বহুব্রীহি সমাস হলে স্ত্রীর সঙ্গে বর্তমান = সস্ত্রীক, বিনয়ের সঙ্গে বর্তমান = সবিনয়। এরকম- সফল, সবান্ধব, সকরুণ, সহিত, সবল, সহদয় সক্রিয় সবিরাম, সগোত্র, সচকিত। 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়

১৯.
'দুরাত্মা' শব্দের শুদ্ধ সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. দুরহ্‌ + আত্মা
  2. দুর্‌ + আত্মা
  3. দুঃ + আত্মা
  4. দুরা্‌ + আত্মা
ব্যাখ্যা

• বিসর্গ সন্ধি:
পূর্বপদের শেষে যদি অ/আ ভিন্ন অন্য স্বরধ্বনির পর বিসর্গ (র-জাত) থাকে এবং পরপদের প্রথমে যদি স্বরধ্বনি থাকে তবে সন্ধির ফলে বিসর্গ র্ হয়ে যায় এবং পরের স্বরধ্বনির সঙ্গে যুক্ত হয়।
যেমন:
নিয়ম: ইঃ + অ = ই + র্:
- নিঃ + অন্ন = নিরন্ন।
- বহিঃ + অঙ্গ = বহিরঙ্গ।

নিয়ম: ইঃ + আ = ই + রা:
- নিঃ + আকার = নিরাকার।
- নিঃ + আশা = নিরাশা।

নিয়ম: উঃ + অ = উ + র:
- দুঃ + অবস্থা = দুরবস্থা।
- চতুঃ + অঙ্গ = চতুরঙ্গ।

নিয়ম: উঃ + আ = উ + রা:
- দুঃ + আত্মা = দুরাত্মা।
- দুঃ + আশা = দুরাশা।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

২০.
কোনটি প্রাতিপদিকের উদাহরণ?
  1. গাছে
  2. ঘর
  3. পদ্মর 
  4. ঘোড়ায়
ব্যাখ্যা

• প্রাতিপদিক:
বিভক্তিহীন নাম শব্দকে বলে প্রাতিপদিক।
যেমন:
লাজ, বড়, ঘর এ শব্দগুলোর সঙ্গে কোনো বিভক্তি যুক্ত হয়নি সুতরাং এগুলো প্রাতিপদিক।

প্রাতিপদিক তদ্ধিত প্রত্যয়ের প্রকৃতি বলে প্রাতিপদিককে নাম-প্রকৃতিও বলা হয়। ধাতু যেমন কৃৎ-প্রত্যয়ের প্রকৃতি, তেমনি প্রাতিপদিকও তদ্ধিত প্রত্যয়ের প্রকৃতি। প্রত্যয় যুক্ত হলে ধাতুকে বলা হয় ক্রিয়া এবং প্রাতিপদিককে বলা হয় নাম-প্রকৃতি।

অন্যদিকে,
গাছে ও ঘোড়ায় সপ্তমী এবং পদ্মর শব্দে ষষ্ঠী বিভক্তি যুক্ত হয়েছে।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

২১.
'আনমনা' শব্দের 'আন' উপসর্গটি কী অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. বিক্ষিপ্ত
  2. কম 
  3. আধা 
  4. অভাব 
ব্যাখ্যা

• 'আন' বাংলা উপসর্গ যোগে 'না' অর্থে গঠিত শব্দ- আনকোরা। 
• 'আন' বাংলা উপসর্গ যোগে 'বিক্ষিপ্ত' অর্থে গঠিত শব্দ- আনচান, আনমনা। 

----------------------
• খাঁটি বাংলা উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত নিজেস্ব উপসর্গকে খাঁটি বাংলা উপসর্গ বলা হয়। খাঁটি বাংলা উপসর্গ ২১ টি।
যথা:
অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

- তবে বাংলা উপসর্গের মধ্যে আ, সু, বি, নি এই চারটি উপসর্গ তৎসম শব্দেও পাওয়া যায়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

২২.
'বিষবৃক্ষ' বাগ্‌ধারাটি কী অর্থ প্রকাশ করে?
  1. প্রতিবন্ধক
  2. অনিষ্টকারী
  3. অদৃশ্য বস্তু
  4. নষ্ট করা
ব্যাখ্যা

• 'বিষবৃক্ষ' অর্থ - অনিষ্টকারী। 
বাক্য- চোরের ছেলে বাটপাড় হয়েছে-বিষবৃক্ষের ফল আর কী হবে? 

অন্যদিকে, 
• 'পথের কাঁটা' অর্থ - প্রতিবন্ধক। 
• 'ডুমুরের ফুল' অর্থ -  অদৃশ্য বস্তু। 
• 'মাথা খাওয়' অর্থ -  নষ্ট করা। 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

২৩.
'অরবিন্দ' শব্দের অর্থ কী?
  1. সূর্য 
  2. যোদ্ধা 
  3. বন 
  4. পদ্ম
ব্যাখ্যা



'পদ্ম' শব্দের অন্যান্য সমার্থক শব্দ:
কমল, উৎপল, পঙ্কজ, কুমুদ, কুবলয়, শতদল, অরবিন্দ, রাজীব, নলিনী, সরোজ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ) এবং বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

২৪.
সাধারণ পূরণবাচক সংখ্যা শব্দ কোনটি?
  1. পহেলা
  2. দ্বিতীয়া
  3. একত্রিশে
  4. সোয়া
ব্যাখ্যা

পূরণবাচক সংখ্যা শব্দ তিন প্রকার। যথা:
১. সাধারণ পূরণবাচক,
২. তারিখ পূরণবাচক,
৩. ভগ্নাংশ পূরণবাচক।

• সাধারণ পূরণবাচক:
ক্রমবাচক সংখ্যার পর্যায় বা অবস্থানকে নির্দেশ করতে সাধারণ পূরণবাচক হয়ে থাকে। যেমন- প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয়, চতুর্থ, পঞ্চম, ষষ্ঠ, সপ্তম, অষ্টম, নবম, দশম, একাদশ বা এগারোতম ইত্যাদি। সাধারণ পূরণবাচক সংক্ষিপ্ত রূপেও লেখা যায়। যেমন ১ম, ২য়, ৩য়, ৪র্থ, ৫ম, ৬ষ্ঠ, ৭ম, ৮ম, ৯ম, ১০ম ইত্যাদি।

- ১১ থেকে ১৮ পর্যন্ত সংখ্যার পূর্ণ পূরণবাচক ও সংক্ষিপ্ত পূরণবাচক দুই রকম: একাদশ (১১শ) ও এগারোতম (১১তম), দ্বাদশ (১২শ) ও বারোতম (১২তম), ত্রয়োদশ (১৩শ) ও তেরোতম (১৩তম), চতুর্দশ (১৪শ) ও চোদ্দতম (১৪তম), পঞ্চদশ (১৫শ) ও পনেরোতম (১৫তম)।

- ১৯ থেকে ৯৯ পর্যন্ত সংখ্যার সংক্ষিপ্ত পূরণবাচকে শুধু 'তম' প্রত্যয় যোগ করা হয়। যথা: উনিশতম বা ঊনবিংশতিতম (১৯তম), বিশতম বা বিংশতিতম (২০তম), একুশতম বা একবিংশতিতম (২১তম), আটাশতম বা অষ্টাবিংশতিতম (২৮তম)...নিরানব্বইতম বা নবনবতিতম (৯৯তম) ইত্যাদি।

- বাংলা ভাষায় সাধারণ পূরণবাচকের নারীবাচক রূপের ব্যবহার আছে। যেমন প্রথমা (১মা), দ্বিতীয়া (২য়া), তৃতীয়া (৩য়া), চতুর্থী (৪র্থী), পঞ্চমী (৫মী), ষষ্ঠী (৬ষ্ঠী), সপ্তমী (৭মী), অষ্টমী (৮মী), নবমী (৯মী), দশমী (১০মী), একাদশী (১১শী), দ্বাদশী (১২শী), ত্রয়োদশী (১৩শী), চতুর্দশী (১৪শী), পঞ্চদশী (১৫শী), ষোড়শী (১৬শী), সপ্তদশী (১৭শী), অষ্টাদশী (১৮শী) ইত্যাদি।

-------------------------
তারিখ পূরণবাচক:
বাংলা ভাষায় তারিখ নির্দেশ করার জন্য সংখ্যাশব্দের পূরণবাচকে নির্দিষ্ট কিছু প্রত্যয় ব্যবহৃত হয়। যেমন: পয়লা/পহেলা, দোসরা, তেসরা, চৌঠা, পাঁচই, ছয়ই, সাতই, আটই.......ত্রিশে, একত্রিশে ইত্যাদি।

ভগ্নাংশ পূরণবাচক:
কখনো পূর্ণসংখ্যার থেকে খানিকটা কম বা খানিকটা বেশি বোঝাতে ভগ্নাংশ পূরণবাচক হয়। যেমন: আধ, সাড়ে, পোয়া, সোয়া, দেড়, আড়াই, তেহাই ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ)।

২৫.
'দুঃখ বিনা সুখ লাভ হয় কি মহীতে"- বাক্যে 'বিনা' কোন পদ?
  1. যোজক 
  2. উপসর্গ 
  3. অনুসর্গ 
  4. আবেগ 
ব্যাখ্যা

'দুঃখ বিনা সুখ লাভ হয় কি মহীতে"- বাক্যে 'বিনা' অনুসর্গ পদের উদাহরণ। 

-------------------
• অনুসর্গ:

বাংলা ভাষায় যে অব্যয় শব্দগুলো কখনো স্বাধীন পদরূপে, আবার কখনো শব্দ বিভক্তির ন্যায় বাক্যে ব্যবহৃত হয়ে বাক্যের অর্থ প্রকাশে সাহায্য করে, সেগুলোকে অনুসর্গ বা কর্মপ্রবচনীয় বলে।
[অনুসর্গগুলো কখনো প্রতিপাদিকের পরে ব্যবহৃত হয়, আবার কখনো বা 'কে' এবং 'র' বিভক্তিযুক্ত শব্দের পরে বসে।]

বাংলা ভাষায় বহু অনুসর্গ আছে, যেমন:
প্রতি, বিনা, বিহনে, সহ, ওপর, অবধি, হেতু, মধ্যে, মাঝে, পরে, ভিন্ন, বই, ব্যতীত, জন্যে, পর্যন্ত, মতো, নামে, পানে, অধিক, পক্ষে, দ্বারা, দিয়ে, ভিতর, পাছে, চেয়ে ইত্যাদি।

- এদের মধ্যে দ্বারা, দিয়ে, কর্তৃক (তৃতীয়া বিভক্তি), হইতে, হতে, চেয়ে (পঞ্চমী বিভক্তি), অপেক্ষা, মধ্যে প্রভৃতি কয়েকটি অনুসর্গ বিভক্তিরূপে ব্যবহৃত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

২৬.
'উদর সম্পর্কিত' এক কথায় কী বলে?
  1. ঔদনিক
  2. ঔদ্ধারিক
  3. ঔদবাহিক
  4. ঔদরিক
ব্যাখ্যা

• 'উদর সম্পর্কিত' এক কথায় বলে- ঔদরিক।

• ঔদরিক (বিশেষণ পদ)
অর্থ: উদর-সম্বন্ধীয়, উদরসর্বস্ব, উদরপরায়ণ, পেটুক।

অন্যদিকে, 
-------------
• 'ঔদনিক' অর্থ - পাচক; সূপকার।
• 'ঔদবাহিক' অর্থ - বিবাহসংক্রান্ত, বৈবাহিকসূত্রে প্রাপ্ত।
• 'ঔদ্ধারিক' অর্থ - উদ্ধারবিষয়ক, ঋণ পরিশোধসংক্রান্ত।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

২৭.
'মুখর' এর বিপরীতার্থক শব্দ কোনটি?
  1. জ্ঞানী
  2. মৌনী
  3. গৌণ
  4. মিতব্যয়ী 
ব্যাখ্যা

• 'মুখর' এর বিপরীতার্থক শব্দ - মৌনী। 

অন্যদিকে, 
-----------------
• মূর্খ - জ্ঞানী। 
• মুখ্য - গৌণ। 
• মিতব্যয়ী - অমিতব্যয়ী। 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

২৮.
1832-1901 - This is the time frame of -
  1. The Restoration Period 
  2. The Romantic Period 
  3. The Victorian Period
  4. The Modern Period
ব্যাখ্যা
• The Victorian period: [1832-1901]
- 19th century of English literature refers to The Victorian Period.
- 1832–1901- time frame is known as the ‘Victorian Period’ in English Literature.
- এই যুগটি Queen Victoria র নামে নামকরণ করা হয়।
- Queen Victoria যদিও 1837 সালে ক্ষমতায় আসে কিন্তু এই যুগটির সূচনা হয় 1832 সালে।
- এর কারণ হলো 1832 সাল থেকেই সাহিত্যিক বৈশিষ্ট্যে আমুল পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়।
- Fabian Society was founded in 1883 to avoid violence in class-struggle.
- G.B. Shaw was one of the members of the Fabian Society.

• Victorian period মোট ২টি সময়কালে বিভক্ত।
- যথা:
- The Pre-Raphaelites: (1848-1860),
- Aestheticism & Decadence: (1880-1901).

• A list of writers of the Victorian Age:
- Charles Dickens,
- Thomas Hardy,
- Matthew Arnold,
- Lord Alfred Tennyson,
- Robert Browning,
- George Eliot,
- Samuel Butler etc.

------------------

• English Literature Periods and their sub-ages:
1. The Old English Period (450 -1066).

2. The Middle English Period (1066 -1500).
i) The Anglo-Norman Period,
ii) The Age of Chaucer.

3. The Renaissance Period (1500 -1660).
i) Elizabethan Period (1558-1603),
ii) Jacobean Period (1603-1625),
iii) Caroline Period (1625-1649) and
iv) Commonwealth Period (1649-1660).

4. The Neoclassical Period (1660 -1785).
i) The Restoration Period (1660-1700),
ii) The Augustan Period (1700-1745) and
iii) The Age of Sensibility (1745-1785/1798).

5. The Romantic Period (1798 -1832).

6. The Victorian Period (1832 -1901).
i) The Pre-Raphaelites: (1848-1860),
ii) Aestheticism & Decadence: (1880-1901).

7. The Modern Period (1901 -1939).

 • The Modern Period (1901-1939) is divided into two shorter periods.
1. The Edwardian Period (1901-1910).
2. The Georgian Period (1910-1939).

8. Present: The Post-Modern Period (1939 ).

Source: An ABC of English Literature by Dr M Mofizar Rahman.
২৯.
Which kind of literary work is Harold Pinter's "The Birthday Party"?
  1. Novel
  2. Play
  3. Short story
  4. Poem
ব্যাখ্যা
The Birthday Party হলো ব্রিটিশ নাট্যকার Harold Pinter-এর লেখা একটি play.

• The Birthday Party: 
- এটি Harold Pinter রচিত একটি play.
- এই play টি comedy of menace নামে পরিচিত।
- The Birthday Party হচ্ছে Harold Pinter এর প্রথম full-length play যা তাঁর trademark 'comedy of menace,' সাহিত্য জগতে প্রতিষ্ঠা করে।

• এই নাটকটির কেন্দ্রীয় চরিত্র Stanley যে একটি সস্তা, অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে একটি বাড়িতে ভাড়া থাকে।
- সে সারাখন দু:চিন্তা করে এবং ভাবে যে Goldberg and McCann নামের দুইজন মানুষ অসৎ উদ্দেশ্য নিয়ে তাকে অনুসরণ করছে এবং তার ক্ষতি করতে চায়।
- তার বাড়ীওয়ালা মহিলা একটি জন্মদিনের পার্টি আয়োজন করে।
- পুরো সময় জুড়ে Stanley এর আতঙ্ক, এবং তার মানসিক অবস্থার বিবরণ দিয়ে নাটকের কাহিনি এগিয়ে চলে।

• Harold Pinter is an English playwright who achieved international renown as one of the most complex and challenging post-World War II dramatists.

• Some of his notable plays - 
- Moonlight
- The Birthday Party,
- The Caretaker,
- The Dumb Waiter,
- The Homecoming.

• উল্লেখ্য,
T.S. Eliot: The Cocktail Party.
K. Mansfield: The Garden Party.
Harold Pinter: The Birthday Party.

Source: Britannica and Live MCQ Lecture.
৩০.
Who wrote The Ant and The Grasshopper?
  1. Charles Perrault
  2. James Joyce
  3. E.M. Forster
  4. William Somerset Maugham
ব্যাখ্যা
• The Ant and The Grasshopper
- এটি রচনা করেন William Somerset Maugham.
- এটি একটি short story.
- William Somerset Maugham তাঁর এই ছোট গল্পটির নামকরণ করেছেন famous Aesop fable এর একটি fable এর নামানুসারে।
- The story presents a more balanced view of the world.

• William Somerset Maugham:
- William Somerset Maugham ছিলেন একজন প্রখ্যাত ইংরেজী লেখক, নাট্যকার এবং উপন্যাসিক।
- তিনি ২৫ জানুয়ারী ১৮७৪ সালে প্যারিসে জন্মগ্রহণ করেন এবং ১৬ ডিসেম্বর ১৯৬৫ সালে মারা যান।
- তার লেখায় মানব প্রকৃতি, সামাজিক সম্পর্ক, এবং জীবনের জটিলতা সম্পর্কে গভীর অন্তর্দৃষ্টি পাওয়া যায়।

• Short Stories:
- The Ant and the Grasshopper,
- The Luncheon.

• Notable works (Novels):
- Of Human Bondage,
- The Sacred Flames,
- The Razor's Edge,
- Cakes and Ale,
- The Musician,
- The Moon and Sixpence,
- Lady Frederick.

Source:
1. Britannica.
2. SparkNotes.
৩১.
Which play tells the story of a jealous Moorish general?
  1. Othello
  2. Macbeth
  3. Julius Caesar
  4. King Lear
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: ক) Othello.

- এই নাটকটি উইলিয়াম শেকসপিয়ারের লেখা একটি বিখ্যাত ট্র্যাজেডি, যার প্রধান চরিত্র Othello. Othello ছিল the Moor of Venice. গল্পের মূল বিষয় তার অহংকার, বিশ্বাসঘাতকতা, এবং অত্যধিক ঈর্ষা। Othello তার স্ত্রী Desdemona সম্পর্কে ভুল ধারণায় পড়ে অতিমাত্রায় ঈর্ষান্বিত হয়ে ভয়ঙ্কর পরিণতি ডেকে আনে।

• Othello: 

- Othello ছিল the Moor of Venice.
- Iago, Othello কে manipulates করে Desdemona এর বিরুদ্ধে।
- সে Othello কে বলে যে Desdemona তার প্রতি unfaithful.
- এতে Othello ঈর্ষান্বিত হয়ে হঠে। 
- হিংসায় অন্ধ হয়ে Othello প্রথমে Desdemona পরে নিজেকে হত্যা করে।
- Othello gave a handkerchief to his lover Desdemona as symbol of love.

William Shakespeare:
- তার জন্মস্থান Stratford Avon.
- তিনি একাধারে একজন English poet, dramatist এবং actor.
- তাকে English national poet বলা হয়।
- তাকে 'Bard of Avon' বলা হয়।
- He is considered by many to be the greatest dramatist of all time. 

Notable works:
Tragedy:
- Hamlet,
- Othello,
- King Lear,
- Macbeth,
- Julius Caesar.

Comedy:
- As You Like It,
- The Tempest,
- Twelfth Night,
- A Midsummer Night's Dream etc.

Famous poem:
- Shall I Compare Thee to a Summer Day/Sonnet 18,
- The Rape of Lucrece,
- Venus and Adonis.

Source: britannica.com

৩২.
The famous play The Borderers was written by -
  1. Thomas Hardy
  2. William Wordsworth
  3. Ernest Hemingway
  4. P.B. Shelley
ব্যাখ্যা

The Borderers একটি নাটক, যা লিখেছেন বিখ্যাত ইংরেজ কবি William Wordsworth.

• The Borderers:

- এটি William Wordsworth রচিত একমাত্র নাটক এবং first major work.
- ১৮৯৬-৯৭ সালের মধ্যে লেখা এটি blank verse এ লেখা একটি 5 acts বিশিষ্ট ট্র্যাজিডি।
- নাটকটি যখন রচনা করা হয়েছে, তখন লেখক সবেমাত্র ফ্রান্স থেকে ফিরে এসেছেন french revolution এ অংশগ্রহণের পর।
- তাই তাঁর এই নাটকটি French revolution দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়ে লেখা হয়েছে এবং লেখক তাঁর বাস্তব অভিজ্ঞতাগুলোকেই বিভিন্ন আঙ্গিকে তুলে এনেছেন নাটকটিতে।
- ১৮৪২ সালে এই নাটকটি সম্পূর্ণরূপে প্রকাশিত হয়।
- The play is about human nature, that drives human towards sin and crime.

William Wordsworth: 
- He is one of the major poets of the Romantic Period.
- William Wordsworth is pre-eminently a - nature poet.
- তিনি ১৮৪৩ থেকে ১৮৫০ সাল পর্যন্ত England এর ‘Poet Laureate’ ছিলেন। 
- William Wordsworth এবং Samuel Taylor Coleridge রচিত Lyrical Ballads এর প্রকাশনার মাধ্যমে Romantic Period এর সূচনা হয় ।
- Lyrical Ballads ⎯ William Wordsworth and Samuel Taylor Coleridge এর যৌথ প্রকাশনা; কিন্তু এই প্রকাশনায় William Wordsworth এর অবদান সর্বোচ্চ ছিল বলে তাকে The father of Romantic Age বলা হয়।

কয়েকটি উপাধি হচ্ছে -
- Poet of Nature,
- Poet of Childhood,
- Lake Poet.

His famous poem:
- The Solitary Reaper,
- Tintern Abbey,
- Rainbow,
- The Daffodils,
- The Excursion,
- Michael etc.

Source: Britannica.

৩৩.
"Beauty is truth, truth beauty,—that is all
Ye know on earth, and all ye need to know" — Who quoted it?
  1. P.B. Shelley
  2. William Wordsworth
  3. John Keats
  4. Lord Byron
ব্যাখ্যা

"Beauty is truth, truth beauty,—that is all
Ye know on earth, and all ye need to know" এই বিখ্যাত উদ্ধৃতিটি John Keats-এর কবিতা Ode on a Grecian Urn থেকে নেওয়া হয়েছে।

• Ode on a Grecian Urn is a poem written by John Keats.
- একটি Grecian urn-এর উপর অঙ্কিত শিল্পকর্মের কথা উঠে এসেছে এই কবিতায়।
- যার মাধ্যমে কবি, শিল্প, সৌন্দর্য আর সত্যের সম্পর্ক খুঁজে পেয়েছেন।
- এই কবিতার শেষ দুই লাইন হচ্ছে - 
‘Beauty is truth, truth beauty, —that is all
Ye know on earth, and all ye need to know."

• Other quotes from the poem -
"Heard melodies are sweet, but those unheard
Are sweeter; therefore, ye soft pipes, play on"

• "She cannot fade, though thou hast not thy bliss,
For ever wilt thou love, and she be fair!"

• John Keats, English Romantic lyric poet who devoted his short life to the perfection of a poetry marked by vivid imagery, great sensuous appeal, and an attempt to express a philosophy through classical legend.
- He who is also called ‘Poet of beauty’.

John Keats's famous poems are -
- Ode to Psyche,
- Ode on Melancholy,
- To Autumn,
- Bright Star,
- On First Looking into Chapman's Homer,
- Lamia,
- Hyperion,
- The Eve of St,
- La Belle Dame Sans Merci, etc.

Source: Britannica

৩৪.
Gulliver's Travels was written by -
  1. Thomas Hardy
  2. Mark Twain
  3. Daniel Defoe
  4. Jonathan Swift
ব্যাখ্যা

Answer - ঘ) Jonathan Swift.

• Gulliver's Travels:

- Jonathan Swift রচিত একটি novel, তিনি Augustan age এর একজন Author, তাই এটি Augustan age এর রচনা।
- এটি 18th century এর একটি famous satire.
- এটি ৪ খন্ডের একটি রম্য রচনা। 
- এর full title হচ্ছে - Travels into Several Remote Places in the World.
- এই novel টি ১৭২৬ সালে প্রকাশিত হয়।

• Lemuel Gulliver সমুদ্র ভ্রমণে বের হয় এবং পথিমধ্যে ঝড়ের কবলে পড়ে জাহাজ ভেঙ্গে যায়।
- Gulliver প্রানে বেঁচে যায় কিন্তু এক অদ্ভুত দেশে নিজেকে আবিষ্কার করে যেখানে সবার উচ্চতা ৬ ইঞ্চির নিচে।
- তার বিশাল দেহ নিয়ে লিলিপুটদের নানা উপকারে আসে, এমনকি পার্শ্ববর্তী রাজ্য Blefuscu এর সাথে চলমান যুদ্ধেও লড়াই করে।
- এভাবে সে লিলিপুটদের রাজ্যে একপ্রকার হিরোতে পরিণত হয়।
- যদিও এক পর্যায়ে Gulliver তাদের রোষের শিকার হয় এবং তার শাস্তি হয় তার চোখ তুলে ফেলা হবে।
 -পরিশেষে Gulliver শাস্তি এড়াতে সমর্থ হয় এবং বেঁচে ফিরে আসে।

Gulliver’s Travels এর চারটি খন্ডের নাম -
- A Voyage to Lilliput,
- A Voyage to Brobdingnag,
- A Voyage to Balnibarbi,
- A Voyage to the country of Houyhnhnms.

Jonathan Swift:
- তিনি একজন Anglo-Irish author এবং clergyman ছিলেন।
- তিনি Augustan age এর একজন Author.
- Jonathon Swift, an Anglo-Irish author, who was the foremost prose satirist in the English language.
- অর্থাৎ, ইংরেজি সাহিত্যের সবচেয়ে বিখ্যাত ব্যঙ্গরচয়িতা বা satirist হলেন Jonathan Swift.
- তার রচিত বিখ্যাত satire হলো ‘Gulliver’s Travels’.
- তাঁর ছদ্মনাম Isaac Bickerstaff.

Famous works:
- Gulliver's Travels,
- A Tale of a Tub,
- A Modest Proposal,
- The Battle of Books.

Source: Britannica.

৩৫.
Who wrote the novella 'Seize the Day'?
  1. John Steinbeck
  2. Toni Morrison
  3. Chinua Achebe
  4. Saul Bellow
ব্যাখ্যা
• Seize the Day:
- Saul Bellow রচিত।
- এটি একটি novella.
- First published in 1956.

• এই ছোট উপন্যাসটি Tommy Wilhelm-এর জীবনের একদিনের কাহিনী তুলে ধরে, যে ব্যক্তি marginal middle-management থেকে পতিত হয়ে বেকারত্ব, বিবাহবিচ্ছেদ এবং হতাশার মধ্যে পড়েছে। Bellow-র অন্যান্য অনেক উপন্যাসের মতোই Seize the Day পার্থিব সাফল্যের প্রতি এক দ্ব্যর্থক মনোভাব প্রকাশ করে এবং এটি তার সংবেদনশীল, সহজ-সরল নায়কের বিশৃঙ্খল ও শত্রুভাবাপন্ন পৃথিবীতে জীবনের অর্থ খোঁজার যাত্রাকে অনুসরণ করে।

• Saul Bellow is a famous American novelist.

Awards And Honors:
- Nobel Prize (1976),
- Pulitzer Prize (1976).

• His famous novels:
- Seize the Day,
- The Adventure of Augie March,
- Herzog,
- Dangling Man,
- Henderson the Rain King,
- The Victim etc.

Source: Britannica
৩৬.
"Life is but a walking shadow, a poor player" - This quote is from -
  1. Macbeth
  2. As You Like It
  3. Hamlet
  4. Othello
ব্যাখ্যা

"Life is but a walking shadow, a poor player" - এই উক্তিটি উইলিয়াম শেকসপিয়ারের নাটক Macbeth থেকে নেওয়া।

• Macbeth: 

- Macbeth is Shakespeare’s greatest tragedies tells the story of the fall of a Scottish nobleman.
- এই Tragedy টি হচ্ছে William Shakespeare এর অন্যতম শ্রেষ্ঠ tragedy এবং Macbeth হলো এর মূল চরিত্র/ tragic hero.
- এটি ১৬০৭-০৭ সালের দিকে লেখা এবং ১৬২৩ সালে প্রথম প্রকাশিত এই tragedy টি Shakespeare রচিত Tragedy গুলোর মধ্যে সবচেয়ে সংক্ষিপ্ত।
- Macbeth ছিলেন স্কটল্যান্ডের রাজা Duncan এর একজন বিশ্বস্ত General.
- নাটকে দেখা যায় তিনজন ডাইনী সেনাপতি Macbeth এর সাথে দেখা করে এবং সে ভবিষ্যতে Scotland এবং পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের রাজা হবে।
- Encouraged by his wife, Macbeth kills the king, becomes the new king, and kills more people out of paranoia.
- Civil war erupts to overthrow Macbeth, resulting in more death.
- নাটকটির মূল বিষয়বস্তু হলো King Duncan এর হত্যা ও তার ফলে ঘটে যাওয়া ঘটনাবলি।
- এটি Shakespeare এর সবচেয়ে ছোট Tragedy.
- Macbeth হলো এর প্রধান চরিত্র।
- তাকে tragic hero ও বলা হয়।

Some other famous quotations of Macbeth:
- 'Fair is foul, and foul is fair.'
- 'All the perfumes of Arabia will not sweeten this little hand'
- 'Life is but a walking shadow.'
- 'What's done cannot be undone'
- 'Life is but a walking shadow, a poor player'.

William Shakespeare:
- William Shakespeare was born on 23 April 1564 AD and died on 23 April 1616 AD.
- তার জন্মস্থান Stratford Avon.
- তিনি একাধারে একজন English poet, dramatist এবং actor.
- তাকে English national poet বলা হয়।
- তাকে 'Bard of Avon' বা Swan of Avon বলা হয়।
- Shakespeare wrote a total of 37 plays and 154 sonnets.

Source: Britannica.

৩৭.
Choose the incorrect spelling.
  1. Conscience
  2. Priviledge
  3. Harassment
  4. Occurrence
ব্যাখ্যা

Answer - খ) Priviledge.

সঠিক বানান হলো Privilege.

• Privilege:
English meaning: an advantage that only one person or group of people has, usually because of their position or because they are rich.
Bangla meaning: যে অধিকার বা সুবিধা কোনো বিশেষ ব্যক্তি; শ্রেণি পদমর্যাদা বা পদাধিকারীর পক্ষেই শুধু ভোগ্য; বিশেষাধিকার। 

Other options,

ক) Conscience: 
- বিবেক; নীতিচেতনা; ভালো ও মন্দের মধ্যে পার্থক্য করার সক্ষম অন্তর্গত চেতনা।

গ) Harassment:
-  হয়রানি; উৎপীড়ন।

ঘ) Occurrence:
- ঘটনা।

Source: 
1. Accessible Dictionary.
2. Cambridge Dictionary.

৩৮.
The ceiling was embellished ____ flowers and leaves.
  1. of
  2. in
  3. on
  4. with
ব্যাখ্যা

Complete sentence: The ceiling was embellished with flowers and leaves.

• Embellish:

English meaning: to make something more beautiful by adding something to it.
Bangla meaning: সুন্দর করা; অলংকৃত করা; চুমকি বসানো।

Embellished [with]:
- Appropriate preposition এর ক্ষেত্রে,
- 'অলংকৃত করা' অর্থে Embellished এর সাথে with বসে।
- তাই শূন্যস্থানে with বসালে বাক্যটি পরিপূর্ণ হয়।

Source:
1. Accessible Dictionary.
2. Cambridge Dictionary.

৩৯.
Choose the correct sentence.
  1. The game of football is not all that complicated.
  2. The game of football is not so that complicated.
  3. The game of football is not as that complicated.
  4. The game of football is not all so complicated.
ব্যাখ্যা

Correct sentence: The game of football is not all that complicated.

ইংরেজিতে "not all that + adjective" ব্যবহার করা হয় কোনো কিছু খুব বেশি বা অতিরিক্ত নয় বোঝাতে।

• not all that: [idiom]
English meaning: not very, or not really.
Bangla meaning: তেমন নয়; খুব বেশি নয়; আসলে নয়।

Example:
- It isn’t all that cheap.
- The game of football is not all that complicated.
- I'm not all that excited about going camping.

অপশনের বিশ্লেষণ:
খ) The game of football is not so that complicated. 
- "So that" একটি conjunction যা purpose/result clause শুরু করে।
- এখানে এর ব্যবহার ভুল।

গ) The game of football is not as that complicated. 
- "As that" এভাবে ব্যবহার করা যায় না।
- "As" সাধারণত comparison এর জন্য ব্যবহৃত হয় (as...as structure).

ঘ) The game of football is not all so complicated. 
- "All so" combination ভুল।
- এটি standard English এ ব্যবহৃত হয় না।

Source: Cambridge Dictionary.

৪০.
It was a _____ a historic match.
  1. disappointed end to
  2. disappointment end to
  3. disappointing end to
  4. disappointment to
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো — গ) disappointing end to.

Complete sentence: It was a disappointing end to a historic match.
অর্থ: এটি একটি ঐতিহাসিক ম্যাচের হতাশাজনক সমাপ্তি ছিল।

• এখানে "end" একটি noun, আর এর আগে একটি adjective লাগবে।
- "Disappointing" একটি present participle যা adjective হিসেবে কাজ করে।
- "disappointing" একটি adjective যা "end" শব্দটিকে বর্ণনা করছে।
- এটি "end" কে বর্ণনা করছে - মানে সমাপ্তিটি হতাশাজনক ছিল।

অপশন ব্যাখ্যা:

ক) disappointed end to - ভুল।
- "Disappointed" একটি past participle যা সাধারণত মানুষের অনুভূতি বর্ণনা করে।
- এখানে "end" (সমাপ্তি) কোনো ব্যক্তি নয়, তাই এটি disappointed হতে পারে না।

খ) disappointment end to - ভুল।
- "Disappointment" একটি noun.
- দুটি noun একসাথে ব্যবহার করলে ব্যাকরণগতভাবে ভুল হয়।
- এখানে adjective প্রয়োজন noun নয়।

ঘ) disappointment to - ভুল।
- এখানে "end" শব্দটিই নেই।
- বাক্যের অর্থ অসম্পূর্ণ থেকে যায়।

৪১.
My phone's in my back pocket. Here 'back' is -
  1. Noun
  2. Adjective
  3. Adverb
  4. Preposition
ব্যাখ্যা

My phone's in my back pocket. Here 'back' is - Adjective.
-  এখানে 'back' শব্দটি pocket কে বর্ণনা করছে, অর্থাৎ পেছনের পকেট। তাই এটি একটি adjective, যা noun কে modify করে।

• Back: [adjective]
English meaning: located behind or at the back of something.

Example:
- My phone's in my back pocket. 
- We were sitting in the back row.
- We drove along miles of twisty back roads (= away from the main roads).

Source: Oxford Dictionary.

৪২.
I'd love to come, only I have to work. Here, 'only' is -
  1. Noun
  2. Adjective
  3. Preposition
  4. Conjunction
ব্যাখ্যা

•  I'd love to come, only I have to work. Here, 'only' is - Conjunction.
- এখানে “only” ব্যবহার করা হয়েছে দুই Independent Clause-এর মধ্যে একটি সীমাবদ্ধতা বা বিপরীততা দেখানোর জন্য।
অর্থাৎ, “আমি আসতে চাই, কিন্তু আমার কাজ করতে হবে।”
এই ধরনের ব্যবহারকে conjunction হিসেবে ধরা হয়।

• Only: [conjunction]
English meaning: except that; but.
Bangla meaning: শুধুমাত্র; কিন্তু।

Example:
- I'd love to come, only I have to work.
- It tastes like chicken, only stronger.

Source: Oxford Dictionary.

৪৩.
They prepared ___ lovely dinner for the guests.
  1. a
  2. an
  3. the
  4. Zero article
ব্যাখ্যা

• Article এর নিয়মানুযায়ী,
খাবারের(meals) এর পূর্বে a/an বসে না।
যেমন: I have breakfast at 8 a.m.

• তবে খাবারের পূর্বে adjective বসলে a/an বসে।
যেমন: We had a good breakfast yesterday.

Complete sentence: They prepared a lovely dinner for the guests.

Source: Advanced Learner’s by Chowdhury & Hossain.

৪৪.
We have already done the exercise. [passive]
  1. Already the exercise have been done by us.
  2. The exercise has already been done by us.
  3. The exercise had been already done by us.
  4. The exercise is already done by us.
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো খ) The exercise has already been done by us.

• Present perfect tense এর sentence এর Active voice কে passive করার নিয়ম:
- Object টির Subject হয়।
- have been/ has been বসে।
- মূল verb এর past participle form হয়।
- by বসে।
- Subject এর object form হয়।

Structure: Object টির Subject + have been/ has been + মূল verb এর past participle form + by + Subject এর object form.

Active: We have already done the exercise. 
Passive: The exercise has already been done by us.

Options,

ক) Already the exercise have been done by us. - ভুল।
- "Already" এর অবস্থান ভুল, Passive voice এ adverb সাধারণত auxiliary verb এর পরে বসে।
- "Have been" ভুল - "The exercise" singular, তাই "has been" হবে।

গ) The exercise had been already done by us. - ভুল।
- "Had been"- Past Perfect Passive.
- কিন্তু মূল বাক্য Present Perfect এ ছিল।

ঘ) The exercise is already done by us. - ভুল।
- "Is done" -Simple Present Passive.
- কিন্তু মূল বাক্য Present Perfect এ ছিল।

৪৫.
Plural of 'Phenomenon' -
  1. Phenomenii
  2. Phenomen
  3. Phenomena
  4. Phenomenonses
ব্যাখ্যা

• Phenomenon: [singular]
English meaning: a fact or an event in nature or society, especially one that is not fully understood.
Bangla meaning: ইন্দ্রিয়গোচর বস্তু বা বিষয়।

Phenomenon এর plural হলো Phenomena.

Source: Oxford Dictionary.

৪৬.
If they had listened to the advice, they _______ the problem.
  1. had avoid
  2. might avoid
  3. might have avoided
  4. might avoided
ব্যাখ্যা

• 3rd Conditional এর নিয়মানুযায়ী,
- If clause- এ যদি (had + V3) হয়, তবে পরবর্তী clause a would/could/might + have + V3 + extension ব্যবহৃত হয়।
- Conditional sentence এ Had + Sub + V3 + Extension এভাবে কোন sentence শুরু হলে সেটি Perfect conditional / 3rd conditional হয়।

তাই নিয়মানুযায়ী, শূন্যস্থানে সঠিক উত্তর হবে - might have avoided.

Complete Sentence: If they had listened to the advice, they might have avoided the problem.

এটি একটি 3rd Conditional Sentence, অন্য অপশন গুলো 3rd Conditional এর নিয়মানুযায়ী হয়নি তাই বাকি গুলো ভুল।

৪৭.
Burn the candle at both ends means -
  1. To suffer the unpleasant results of an action
  2. To be very generous without worrying about consequences
  3. To make a quick decision
  4. To work hard for long hours without rest
ব্যাখ্যা

Answer - To work hard for long hours without rest.

• Burn the candle at both ends

English Meaning: go to bed late and get up early, especially to get work done.
Bangla Meaning: কাজ সমাধান করার জন্য দিনরাত পরিশ্রম করা / অক্লান্ত পরিশ্রম করা

Ex. Sentence: We should avoid burning candles at both ends, otherwise it will make us suffer.
Bangla Meaning: পর্যাপ্ত বিশ্রাম না নিয়ে দিনরাত পরিশ্রম করে গেলে এর জন্য আমাদেরকে ভুগতে হবে।

Source: Live MCQ Lecture.

৪৮.
Synonym of Veracious -
  1. Honest
  2. Mendacious
  3. Radiant
  4. Shadowy
ব্যাখ্যা

• Veracious (adjective)
English Meaning: Precisely accurate; habitually speaking the truth.
Bangla Meaning: সত্য; যথার্থ; সত্যপরায়ণ; সত্যসন্ধ; সত্যনিষ্ঠ; সত্যবাদী।

Synonyms: Exact (যথাযথ), Literal (আক্ষরিক), Faithful (বিশ্বস্ত), Honest (সৎ), Truthful (সত্যপরায়ণ; সত্যবাদী)।
Antonyms: Untrue (অসত্য), Dishonest (অসৎ), Improper (অনুপযুক্ত), Fraudulent (প্রতারণামূলক), Mendacious (দুষ্টু)।

Example Sentence:
1. We are the more pleased to have its authenticity vouched for by this veracious witness.
2. It is such a rarity to discover an album that is held together by songs of veracious beauty.

Options,
- Radiant (দীপ্তিমান),
- Shadowy (ছায়াময়)।

Source: Live MCQ Lecture.

৪৯.
Would you mind ______?
  1. send me the details
  2. to send me the details
  3. to sending me the details
  4. sending me the details
ব্যাখ্যা

উল্লিখিত প্রশ্নে সঠিক উত্তর হচ্ছে - sending me the details?
Complete sentenece: Would you mind sending me the details?

• Would you mind যুক্ত incomplete sentence কে complete করার নিয়ম:
- Would you mind এরপর verb এর মূল form এর সাথে ing যোগ করতে হয়।

Structure: Would you mind + verb + ing + object.

Example:
Would you mind coming to my house?
Would you mind taking a cup of tea?
Would you mind giving me some money?

৫০.
Swimming is refreshing. Here 'refreshing' is —
  1. Gerund
  2. Participle
  3. Main verb
  4. Finite verb
ব্যাখ্যা

• Swimming is refreshing. Here 'refreshing' is — Participle.
- refreshing শব্দটি এখানে Participle (বিশেষত Present Participle) হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে।
- এটি “refresh” verb -ing ফর্ম, যা এখানে adjective হিসেবে “Swimming” কে বর্ণনা করছে।
- এখানে "refreshing" একটি Present Participle যা Adjective হিসেবে কাজ করছে। এটি "swimming" এর গুণ বা বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করছে।

A participle is a verb that ends in -ing (present participle) or -ed, -d, -t, -en, -n (past participle). Participles may function as adjectives, describing or modifying nouns.
- Participle একই সাথে Verb ও Adjective এর কাজ করে।

Participle মূলত: তিন প্রকার:
1. Present Participle. Ex: Do not disturb a sleeping dog.
2. Past Participle. Ex: This is a book written by Charles Dickens.
3. Perfect Participle. Ex: Having eaten rice, he went to bed.

৫১.
Antonym of Connoisseur -
  1. Swagger
  2. Ignoramus
  3. Practical
  4. Acquiescence
ব্যাখ্যা

• Connoisseur (noun)
English Meaning: A person who has expert knowledge of something, especially an art, food, or drink, and is qualified to judge and appreciate its quality.
Bangla Meaning: প্রধানত চারুকলা (আর্ট) বিষয়ে রসজ্ঞ; পণ্ডিত বিচারক; সমঝদার: a connoisseur of painting/wine.

Antonyms: Ignoramus (অজ্ঞ, অজ্ঞানী), Fool, Ignoramus (নির্বোধ), Dope (নিরেট বোকা), Dummy (গন্ডমূর্খ)।
Synonyms: Specialist (বিশেষজ্ঞ), Pundit (পণ্ডিত), Savant (অত্যন্ত পণ্ডিতব্যক্তি), Expert (দক্ষ), Boss (নেতা, কুশলী)।

Example Sentence:
- It looks the same and only the connoisseur would tell the difference in taste.

Options,
- Swagger (সদম্ভে চলাফেরা করা), 
- Practical (প্রায়োগিক), 
- Acquiescence (সহনশীলতা)।

Source: Live MCQ Lecture.

৫২.
Nun is -
  1. Masculine gender 
  2. Feminine gender
  3. Common gender
  4. Neuter gender
ব্যাখ্যা

• Nun:
Bangla meaning: মঠবাসিনী; সন্ন্যাসিনী।
- It is a feminine gender.
- এর masculine gender হচ্ছে - Monk (সন্ন্যাসী)। 

Source: Accessible Dictionary.

৫৩.
I will call you when I reach home. The underlined part is an example of -
  1. Noun clause
  2. Adjective clause
  3. Adverb clause
  4. Principal clause
ব্যাখ্যা

• I will call you when I reach home. The underlined part is an example of - Adverb clause.
- এই বাক্যে underlined part টি adverb clause.
- Work বা verb সংগঠিত হওয়ার সময় বুঝাচ্ছে তাই এটি adverb clause of time.
- এখানে "when I reach home" হলো adverb clause.
- এটি কাজ (call করা) কখন হবে তা বোঝাচ্ছে, তাই এটি adverb clause of time.

• Adverbial clause:
- যে subordinate clause একটি বাক্যে একটি adverb হিসেবে কাজ করে এবং একটি verb,বা একটি adjective-clause বা অন্য একটি adverbial clause-কে modify করে তাকে Adverbial Clause বলে।
- Adverb এর মত এরা - time, place, cause, effect, purpose ইত্যাদি বুঝায়।
- অর্থাৎ, Adverbial clause সবসময় সময়, স্থান, কাল, কারন, উদ্দেশ্য, ধরন, ফলাফল ইত্যাদি প্রকাশ করে।

৫৪.
Choose the incorrect sentence.
  1. I feel so better after I’ve been for a run in the park.
  2. The kitchen is very old-fashioned, the living room more so.
  3. Using that camera is easy. Why is she making it so difficult?
  4. That’s kind of you. Thanks so much for thinking of us.
ব্যাখ্যা

Answer: ক) I feel so better after I’ve been for a run in the park. 
- এখানে "so better" বলা ভুল।
- এই বাক্যটি ব্যাকরণগতভাবে ভুল কারণ "so" এবং "better" একসাথে ব্যবহার করা যায় না।
- "Better" নিজেই একটি comparative adjective, "so" শব্দটি, comparative adjective - "better" এর সাথে সরাসরি ব্যবহার হয় না। এর জন্য "so much better" বলতে হয়।

• We use so much, not so, before comparatives:
- অর্থাৎ, আমরা comparative-এর আগে so নয়, so much ব্যবহার করি।

Correct: I feel so much better after I’ve been for a run in the park.
-----------------

• When we are comparing, we use more so and less so as substitutes:
-  অর্থাৎ, যখন আমরা তুলনা করি, তখন more so এবং less so প্রতিশব্দ বা বিকল্প রূপ হিসেবে ব্যবহার করি।

খ) The kitchen is very old-fashioned, the living room more so. 
--------------
• We often use so when we mean ‘to such a great extent’. With this meaning, so is a degree adverb that modifies adjectives and other adverbs:
- অর্থাৎ, আমরা প্রায়ই so ব্যবহার করি যখন এর অর্থ হয় ‘to such a great extent’.
- এই অর্থে, so হলো একটি degree adverb যা adjective এবং অন্যান্য adverb-কে modify করতে ব্যবহৃত হয়।

গ)
Using that camera is easy. Why is she making it so difficult?
---------------
• We also use so as an intensifier to mean ‘very, very’:
- অর্থাৎ, আমরা so-কে একটি intensifier হিসেবেও ব্যবহার করি, যার অর্থ হয় ‘very, very’।

ঘ) That’s kind of you. Thanks so much for thinking of us.

Source: Cambridge Dictionary.

৫৫.
It is no use _____ with him; he never changes his mind.
  1. of arguing
  2. to arguing
  3. arguing
  4. to argue
ব্যাখ্যা

• It is no use যুক্ত incomplete sentence কে complete করার নিয়ম:-
- it is of no use (it’s no use doing something) এর পরে কোনো preposition/ infinitive বা অন্য কিছু বসে না।
- এরপর সরাসরি verb আসে এবং এর সাথে ing যুক্ত হয়।

সুতরাং, নিয়মানুযায়ী, Complete sentence: It is no use arguing with him; he never changes his mind.

More examples:
- It's no use crying over spilled milk
- It's no use locking the door now
- It's no use trying again
- It's no use arguing with a drunk.

সেই অনুসারে অন্য অপশন গুলো ভুল। 

৫৬.
Writing a diary is a very good practice to develop the writing skill. The underlined part is a/an-
  1. Noun phrase
  2. Verbal phrase
  3. Adjective phrase
  4. Adverbial phrase
ব্যাখ্যা

→[46 BCS Preliminary]

Writing a diary is a very good practice to develop the writing skill.
- এই বাক্যে 'Writing a diary' phrase টি Subject হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে এবং একই সাথে এটি একটি Gerund phrase.
- তাই, 'Writing a diary' হচ্ছে Noun phrase.
--------------------
• Noun phrase:
- যে phrase বা শব্দগুচ্ছ noun এর কাজ করে তাই মূলত Noun phrase.
- অর্থ এবং বাক্যে অবস্থান অনুযায়ী Noun phrase বিভিন্ন ভূমিকা পালন করে।
যেমন:
- Subject হিসেবে; (এই বাক্যে 'Writing a diary' phrase টি Subject হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে, তাই এটি Noun Phrase.)
- Object of a verb হিসেবে;
- Object of a preposition হিসেবে;
- Subject complement হিসেবে;
- Object complement হিসেবে।

৫৭.
গ্রে হ্যাট হ্যাকার সাধারণত নিচের কোন দক্ষতাটি সবচেয়ে কম ব্যবহার করে?
  1. পেনেট্রেশন টেস্টিং
  2. সোশ্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং
  3. অর্থ চুরির উদ্দেশ্যে ফিশিং
  4. ভলনারেবিলিটি স্ক্যানিং
ব্যাখ্যা

• গ্রে হ্যাট হ্যাকার সাধারণত নৈতিক এবং অনৈতিক হ্যাকিংয়ের মধ্যে একটি সীমান্তে কাজ করে। তারা পেনেট্রেশন টেস্টিং এবং ভলনারেবিলিটি স্ক্যানিং-এ দক্ষ, কারণ এগুলো মূলত সিস্টেমের দুর্বলতা খুঁজে বের করার জন্য ব্যবহার করা হয়। এছাড়াও, সোশ্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং-এর মাধ্যমে মানুষকে বিভ্রান্ত করে সিস্টেমে প্রবেশের চেষ্টা করা হতে পারে। তবে, অর্থ চুরির উদ্দেশ্যে ফিশিং তাদের প্রায়শই কম ব্যবহার করা হয়, কারণ এটি সম্পূর্ণভাবে বেআইনি এবং গুরুতর অপরাধ হিসেবে গণ্য হয়। তাই গ্রে হ্যাট হ্যাকারদের ক্ষেত্রে সবচেয়ে কম ব্যবহৃত দক্ষতা হলো অর্থ চুরির উদ্দেশ্যে ফিশিং, যা তাদের নৈতিক সীমার বাইরে যায়।

হ্যাকিং: 

- প্রোগ্রাম রচনা ও প্রয়োগের মাধ্যমে কোনো কম্পিউটার সিস্টেম বা নেটওয়ার্কের ক্ষতিসাধন করাকে হ্যাকিং বলা হয়।
- বর্তমানে প্রধানত তিন ধরনের হ্যাকার দেখতে পাওয়া যায়।
যথা:
১. ব্ল্যাক হ্যাট হ্যাকার:
- একজন ব্ল্যাক হ্যাট হ্যাকার যখন কোন একটি সিকিউরিটি সিস্টেমের ত্রুটি খুঁজে বের করে, তখন দ্রুত ঐ ত্রুটিকে নিজের স্বার্থে কাজে লাগায়।
- বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য, আর্থিক তথ্যাদি হাতিয়ে নিয়ে আর্থিক ক্ষতিসাধন করে।

২. গ্রে হ্যাট হ্যাকার:
- এ ধরনের হ্যাকাররা বৈধ এবং অবৈধ দুই ধরনের কাজই করতে পারে।
- একজন গ্রে হ্যাট হ্যাকার যখন একটি সিকিউরিটি সিস্টেমের ত্রুটিগুলো খুঁজে বের করে তখন সে তার মন মতো কাজ করে।
- এরা নেটওয়ার্কের দুর্বলতাকে খুঁজে বের করে তা যথাযথ কর্তৃপক্ষকে অবহিত করে এবং দুর্বল দিকগুলোকে ঠিক করার মাধ্যমে নেটওয়ার্কের সুরক্ষার জন্য কাজ করে অর্থ উপার্জন করে।

৩. হোয়াইট হ্যাট হ্যাকার:
- একজন হোয়াইট হ্যাট হ্যাকার একটি সিকিউরিটি সিস্টেমের ত্রুটিগুলো বের করে এবং ঐ সিকিউরিটি সিস্টেমের মালিককে ত্রুটির বিষয়ে দ্রুত অবহতি করে।
- সিকিউরিটি সিস্টেমটি হতে পারে একটি কম্পিউটার, একটি কম্পিউটার নেটওয়ার্ক, একটি ওয়েবসাইট, একটি সফটওয়্যার ইত্যাদি।

উৎস: 
১) তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মাহবুবুর রহমান।
২) kaspersky [লিংক]

৫৮.
বিভিন্ন প্রোটোকল সম্বলিত নেটওয়ার্কের মধ্যে সংযোগ স্থাপন করতে সক্ষম ডিভাইসটির নাম কী?
  1. গেটওয়ে
  2. হাব
  3. সুইচ
  4. রাউটার
ব্যাখ্যা

• নেটওয়ার্কে বিভিন্ন প্রোটোকল সম্বলিত সিস্টেম বা সাবনেটের মধ্যে তথ্য আদান-প্রদান করতে এবং সংযোগ স্থাপন করতে যে ডিভাইস ব্যবহৃত হয় তাকে গেটওয়ে (Gateway) বলা হয়। গেটওয়ে একটি বিশেষ ডিভাইস যা বিভিন্ন নেটওয়ার্ক প্রোটোকল এবং আর্কিটেকচারের মধ্যে ডেটা অনুবাদ এবং রূপান্তর করতে সক্ষম। এটি কেবল একটি সাধারণ ডিভাইসের মতো প্যাকেট ফরওয়ার্ড করে না, বরং প্রোটোকল এবং ডেটা ফরম্যাটকে সামঞ্জস্যপূর্ণ করে, যাতে দুই ভিন্ন নেটওয়ার্কের মধ্যে কমিউনিকেশন সম্ভব হয়। অন্যদিকে, হাব, সুইচ এবং রাউটার মূলত একই প্রোটোকল ব্যবহারকারী ডিভাইসের মধ্যে বা সাবনেটের মধ্যে ডেটা সরবরাহ করে, কিন্তু ভিন্ন প্রোটোকলের নেটওয়ার্ক সংযোগ করতে পারে না। তাই বিভিন্ন প্রোটোকল সম্বলিত নেটওয়ার্কের মধ্যে সংযোগ স্থাপনের জন্য গেটওয়ে অপরিহার্য।

উত্তর: ক) গেটওয়ে।

সুইচ:

- সুইচ একটি ডিভাইস যা নেটওয়ার্কের ডাটাকে বিভক্ত করে নেটওয়ার্কের সকল সিস্টেমে না পাঠিয়ে নির্দিষ্ট গন্তব্যে পাঠিয়ে দেয়।
- হাব এবং সুইচ এর কাজ প্রায় একই। তবে হাব প্রেরিত সিগন্যাল গ্রহণ করার পর একই সাথে প্রত্যেকটি কম্পিউটারে পাঠায় কিন্তু সুইচ প্রেরিত সিগন্যাল গ্রহণ করার পর টার্গেট কম্পিউটারে পাঠায়।
- স্টার টপোলজিতে সুইচ একটি কেন্দ্রিয় কানেকটিভ ডিভাইস হিসাবে ব্যবহৃত হয়।

রাউটার:
- রাউটার ব্যবহার করে নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের কাজ করা হয়।
- ছোট ছোট নেটওয়ার্ক রাউটারের মাধ্যমে সংযুক্ত করে বড় ধরনের নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা হয়।
- রাউটার নেটওয়ার্কের মধ্যে একাধিক পথ সৃষ্টি করে ভিন্ন ভিন্ন ধরনের নেটওয়ার্ক যেমন ইথারনেট, টোকেন, রিং কে সংযুক্ত করতে পারে।
- রাউটার একই প্রোটোকল বিশিষ্ট নেটওয়ার্ক সংযুক্ত করতে পারে।

গেটওয়ে:
- গেটওয়ে ব্যবহার করে নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের কাজ করা হয়।
- গেটওয়ে এবং রাউটার ব্যবহার করে ছোট ছোট নেটওয়ার্ককে সংযুক্ত করে বড় ধরনের নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা হয়।
- রাউটার একই প্রোটোকল বিশিষ্ট নেটওয়ার্ক সংযুক্ত করতে পারে কিন্তু গেটওয়ে বিভিন্ন প্রোটোকল বিশিষ্ট নেটওয়ার্ক সংযুক্ত করতে পারে।

উৎস: তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫৯.
নিচের কোন সফটওয়্যারটি ব্রাউজ করার জন্য নয়?
  1. Brave
  2. Safari
  3. Netscape Navigator
  4. Notepad++
ব্যাখ্যা

• উল্লিখিত সফটওয়্যারগুলোর মধ্যে “Notepad++” ব্রাউজ করার জন্য ব্যবহৃত হয় না। Brave, Safari এবং Netscape Navigator সবই ওয়েব ব্রাউজার, যা ইন্টারনেটে ওয়েবসাইট দেখার এবং তথ্য অনুসন্ধান করার জন্য ব্যবহৃত হয়। ব্রাউজারগুলো হাইপারলিংক, ছবি, ভিডিও এবং অন্যান্য ওয়েব উপাদান প্রদর্শন করতে সক্ষম। অন্যদিকে, Notepad++ একটি টেক্সট এডিটর, যা মূলত কোড লেখা, সম্পাদনা এবং প্রোগ্রামিং করার জন্য ব্যবহৃত হয়। এটি ওয়েব ব্রাউজ করার ক্ষমতা রাখে না। তাই, যদি ওয়েবসাইট ব্রাউজিং সংক্রান্ত প্রশ্ন আসে, সেক্ষেত্রে Notepad++ নয়, বরং Brave, Safari বা Netscape Navigator ব্যবহার করা উচিত।

• ওয়েব ব্রাউজার:
- ওয়েব ব্রাউজার হলো একটি বিশেষ সফটওয়্যার, যা ওয়েবসাইটে বিভিন্ন তথ্য অনুসন্ধানে ব্যবহৃত হয়।
- ওয়েব ব্রাউজারকে ওয়েবসাইটে প্রবেশ করার গেটওয়ে বলা যেতে পারে।
- যেমন - ক্রোম হলো প্রধান আমেরিকান সার্চ ইঞ্জিন কোম্পানি Google Inc. দ্বারা প্রকাশিত একটি ইন্টারনেট ব্রাউজার।

কিছু জনপ্রিয় ওয়েব ব্রাউজারের নাম হলো -
- Google Chrome,
- Mozilla Firefox,
- Safari,
- Opera,
- Microsoft Edge,
- Maxthon,
- Brave,
- UC Browser.

উৎস: 
১) ব্রিটানিকা।
২) সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইট।

৬০.
"হ্যাপটিক গ্লাভস" - কোন ডিভাইস হিসেবে পরিচিত?
  1. ইনপুট ডিভাইস
  2. আউটপুট ডিভাইস
  3. ইনপুট-আউটপুট ডিভাইস
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা

• “হ্যাপটিক গ্লাভস” হলো এমন একটি ডিভাইস যা ব্যবহারকারীর হাতের গতিবিধি শনাক্ত করে এবং একই সাথে স্পর্শ বা প্রতিক্রিয়ার অনুভূতি প্রদান করতে পারে। এগুলো ভার্চুয়াল রিয়ালিটি (VR) বা অ্যাগমেন্টেড রিয়ালিটি (AR) পরিবেশে ব্যবহার করা হয়, যেখানে ব্যবহারকারী ভার্চুয়াল অবজেক্ট স্পর্শ করলে বাস্তবের মতো অনুভব করতে পারে। এই কারণে হ্যাপটিক গ্লাভস শুধুমাত্র ইনপুট ডিভাইস নয়, কারণ এটি হাতের অবস্থান ও আঙ্গুলের গতিবিধি সনাক্ত করে, বরং এটি আউটপুট ডিভাইস হিসেবেও কাজ করে কারণ এটি স্পর্শের অনুভূতি প্রদান করে। তাই এটি হলো ইনপুট-আউটপুট ডিভাইস, যা ব্যবহারকারীর হাত এবং ভার্চুয়াল সিস্টেমের মধ্যে দুইমুখী যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে কাজ করে।

উত্তর: গ) ইনপুট-আউটপুট ডিভাইস।


• পেরিফেরাল ডিভাইস:

- কম্পিউটারের সাথে সংযুক্ত ইনপুট-আউটপুট ডিভাইসগুলোকে কম্পিউটার পেরিফেরালস বলে।
- কম্পিউটার পেরিফেরাল ডিভাইসগুলোকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। যথা:

১. ইনপুট ডিভাইস:
- যে হার্ডওয়্যার বা ডিভাইসের মাধ্যমে কম্পিউটার বিভিন্ন পরিবেশ বা ব্যবহারকারীর কাছ থেকে ডেটা গ্রহণ করে থাকে সেই সমস্ত হার্ডওয়্যারগুলোকে ইনপুট ডিভাইস বলে।

• উল্লেখযোগ্য ইনপুট ডিভাইস সমূহ:
Keyboard, Mouse, Trackball, Joystick, Touch Screen, Barcode Reader, Point-of-sale, OMR, OCR, Scanner, Digitizer, Lightpen, Graphics pad, Digital Camera ইত্যাদি।

২. আউটপুট ডিভাইস:
- কম্পিউটারের ফলাফল প্রদর্শনের জন্য ব্যবহৃত হার্ডওয়্যারগুলোকে আউটপুট ডিভাইস বলে।

• উল্লেখযোগ্য আউটপুট ডিভাইস সমূহ:
Monitor, Printer, Plotter, Speaker, Multimedia Projector, Image setter, Film Recorder, Headphone ইত্যাদি।

৩. ইনপুট-আউটপুট ডিভাইস:
- কম্পিউটারের সঙ্গে সংযুক্ত যে ডিভাইসগুলো একইসাথে ইনপুট ও আউটপুট হিসেবে কাজ করে তাদেরকে ইনপুট-আউটপুট ডিভাইস বলে।

• উল্লেখযোগ্য ইনপুট-আউটপুট ডিভাইস সমূহ:
Hard Disk, CD/DVD, Touch screen, Pendrive ইত্যাদি।

উৎস: 
১) মৌলক কম্পিউটার শিক্ষা, বিবিএ প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২) Cornell University [লিংক]

৬১.
লাইন ব্রেক দেওয়ার জন্য সঠিক HTML ট্যাগ কোনটি?
  1. < break >
  2. < brk >
  3. < br >
  4. < lb >
ব্যাখ্যা

• HTML-এ লাইন ব্রেক দেওয়ার জন্য সঠিক ট্যাগ হলো < br >। এটি একটি সেলফ-ক্লোজিং ট্যাগ, অর্থাৎ এর জন্য আলাদা বন্ধ ট্যাগের প্রয়োজন হয় না। যখন কোনো টেক্সটের মধ্যে নতুন লাইনে যাওয়ার দরকার হয়, তখন < br > ব্যবহার করা হয়। উদাহরণস্বরূপ, একটি অনুচ্ছেদে যদি দুটি লাইনে লেখা থাকে এবং তাদের আলাদা করতে চাই, তাহলে < br > ব্যবহার করে তা করা যায়। < break > বা, < brk > বা, < lb > কোনো valid HTML ট্যাগ নয়, তাই এগুলো কাজ করবে না। সুতরাং, লাইন ব্রেকের জন্য < br > সর্বদা ব্যবহার করাই সঠিক ও প্রচলিত। এটি সহজ এবং জনপ্রিয় পদ্ধতি।

• HTML:

- ‘HTML’ এর পূর্ণরূপ HyperText Markup Language.
- HTML (HyperText Markup Language) হলো একটি সহজ ডাটা ফরম্যাট, যা প্ল্যাটফর্ম-নিরপেক্ষ হাইপারটেক্সট ডকুমেন্ট তৈরি করতে ব্যবহৃত হয়।
- এটি SGML ভিত্তিক একটি মার্কআপ ভাষা, যা বিভিন্ন তথ্য উপস্থাপনের জন্য উপযুক্ত।
- HTML ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েবে (WWW) ১৯৯০ সাল থেকে ব্যবহৃত হচ্ছে।
- HTML প্ল্যাটফর্ম-নিরপেক্ষ ওয়েবপেজ তৈরির জন্য আদর্শ ভাষা।
- HTML ওয়েবসাইট তৈরি ও তথ্য উপস্থাপনার অন্যতম প্রধান ভাষা, যা আজও ক্রমাগত উন্নত হচ্ছে।

উৎস: w3.org

৬২.
F5 কী সাধারণত ওয়েব ব্রাউজারে কী জন্য ব্যবহৃত হয়?
  1. পেজ রিফ্রেশ/রিলোড করা
  2. নতুন ট্যাব খোলা
  3. ব্রাউজার বন্ধ করা
  4. ডেভেলপার টুলস খোলা
ব্যাখ্যা

• F5 সাধারণত ওয়েব ব্রাউজারে পেজ রিফ্রেশ বা রিলোড করার জন্য ব্যবহার করা হয়। যখন আমরা কোনো ওয়েবসাইটে নতুন তথ্য দেখতে চাই বা যদি পেজে কোনো সমস্যা থাকে, তখন F5 চাপলে ব্রাউজার সার্ভার থেকে পুনরায় সর্বশেষ তথ্য নিয়ে পেজটি পুনরায় লোড করে। এটি নতুন ট্যাব খোলা, ব্রাউজার বন্ধ করা বা ডেভেলপার টুলস খোলার জন্য ব্যবহৃত হয় না। F5 শর্টকাটটি সময় বাঁচায় এবং ব্যবহারকারীদের পেজটি ম্যানুয়ালি রিফ্রেশ করার ঝামেলা কমায়। তাই ওয়েব ব্রাউজিংয়ের সময় এটি সবচেয়ে সাধারণ এবং জরুরি কিবোর্ড শর্টকাট হিসেবে বিবেচিত হয়।

উত্তর: ক) পেজ রিফ্রেশ/রিলোড করা।

• ফাংশন কী:

- বিশেষ কার্য সম্পাদনের জন্য কম্পিউটারের কী-বোর্ডের বাম পাশের ওপরের সন্নিবেশিত F1, F2......F12 নম্বরযুক্ত কী গুলোকে ফাংশন কী বলা হয়।
- কম্পিউটারে মোট ১২ টি ফাংশন কী আছে।
- ফাংশন কী গুলোর মাধ্যমে তথ্য সংযোজন, বিয়োজন, সম্পাদনার কাজ সহ মেনুর বিভিন্ন কমান্ড বা অপশন নির্বাচন করা হয়।

• কম্পিউটার কী বোর্ড এর ফাংশন কী সমূহের ব্যবহার:
- F1 এর সাহায্যে হেল্প মেনু দেখা যায়।
- F2 এর সাহায্যে কোনো ফাইল বা ফোল্ডার এর নাম পরিবর্তন করা যায়।
- F3 সার্চ সুবিধা দেয় ।
- F4 last action performed repeat করা যায় এবং কমান্ড পুনরাবৃত্তি করার জন্য ব্যবহৃত হয়।
- F5 পেইজ রিফ্রেশ করা যায়।
- F6 মাউসের কারসরকে ইন্টারনেট ব্রাউজারের অ্যাড্রেসবারে নিয়ে যেতে ব্যবহার করা হয়।
- F7 বানান ও ব্যাকরণ ঠিক করা হয়।
- F8 অপারেটিং সিস্টেমের safe mood চালু করার জন্য ব্যবহার করা হয়।
- F9 কোয়ার্ক এক্সপ্রেসের মেজারমেন্ট টুলবার চালু করার জন্য ব্যবহার করা হয়।
- F10 ইন্টারনেট ব্রাউজারের কোনো খোলা উইন্ডোর মেনুবার চালু করা হয়।
- F11 ফুলস্ক্রিন দেখতে ব্যবহার করা হয়।
- F12 ইংরেজি থকে বাংলা বা বাংলা থেকে ইংরেজি করার জন্য ব্যবহার করা হয়।

উৎস: ব্রিটানিকা।

৬৩.
নিম্নলিখিত কোনটি ALU দ্বারা সম্পাদিত হয় না?
  1. গুণ
  2. বিয়োগ
  3. ইন্টারনেট রাউটিং
  4. যোগ
ব্যাখ্যা

• ALU বা Arithmetic Logic Unit একটি কম্পিউটার প্রসেসরের অংশ যা মূলত অঙ্ক এবং লজিকাল অপারেশন সম্পাদন করে। এটি সংখ্যাগত ক্রিয়াকলাপ যেমন যোগ, বিয়োগ, গুণ এবং ভাগ, এছাড়াও তুলনা বা লজিক অপারেশন যেমন AND, OR, NOT প্রক্রিয়াকরণ করতে সক্ষম। তবে, ইন্টারনেট রাউটিং ALU-এর কাজের মধ্যে পড়ে না। রাউটিং মূলত নেটওয়ার্ক প্রোটোকল এবং রাউটার বা নেটওয়ার্ক ডিভাইস দ্বারা পরিচালিত হয়। ALU শুধুমাত্র প্রসেসরের অভ্যন্তরীণ গণনা ও লজিকাল সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য ব্যবহৃত হয়, কিন্তু নেটওয়ার্ক ডেটা প্রেরণ বা প্যাকেটের পথ নির্ধারণ করা তার ক্ষমতার বাইরে। সুতরাং, ALU দ্বারা সম্পাদিত নয়।

উত্তর: গ) ইন্টারনেট রাউটিং।

• গাণিতিক যুক্তি অংশ:

- ALU এর পূর্ণরূপ হচ্ছে Arithmetic Logic Unit।
- ALU নিয়ন্ত্রণ অংশের তত্ত্বাবধানে গাণিতিক এবং লজিক্যাল অপারেশনের কাজ সম্পাদন করে।
- সাধারণত, গাণিতিক অপারেশনগুলো যেমন যোগ, বিয়োগ, গুণ, ভাগ এবং লজিক্যাল অপারেশনগুলো যেমন তুলনা, সত্য-মিথ্যা যাচাই ইত্যাদি সম্পাদন করা হয়।
- ALU রেজিস্টার পরিষ্কারকরণ এবং রেজিস্টারে সংরক্ষিত তথ্য বা সংখ্যাকে ডানে-বামে সরানো ইত্যাদি কাজও করে।
- বর্তমানের মাইক্রোপ্রসেসরগুলোতে কাজের গতি বাড়ানোর জন্য একাধিক গাণিতিক যুক্তি অংশ ব্যবহার করা হয়।
- বিভিন্ন ধরনের ইলেকট্রনিক বর্তনীর সহায়তায় গাণিতিক যুক্তি অংশ এই কার্যাবলি সম্পাদন করে এবং প্রয়োজনে ফলাফল অস্থায়ীভাবে রেজিস্টারে সংরক্ষণ করে রাখে।

উৎস: মৌলিক কম্পিউটার শিক্ষা, বিবিএ প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬৪.
ক্লাউড কম্পিউটিং-এর প্রধান সুবিধা কোনটি?
  1. অন-ডিমান্ড কম্পিউটিং রিসোর্স সরবরাহ করে
  2. বেশি খরচের হার্ডওয়্যার দরকার
  3. কেবলমাত্র স্থানীয় সার্ভারেই চলে
  4. ইন্টারনেট নির্ভরতা হ্রাস করে
ব্যাখ্যা

• ক্লাউড কম্পিউটিং-এর প্রধান সুবিধা হলো এটি অন-ডিমান্ড কম্পিউটিং রিসোর্স সরবরাহ করে। এর মানে ব্যবহারকারীরা প্রয়োজন অনুযায়ী যেকোনো সময় কম্পিউটিং ক্ষমতা, স্টোরেজ বা সফটওয়্যার ব্যবহার করতে পারে, যা তাদের জন্য অত্যন্ত সুবিধাজনক। এতে ব্যবহারকারীদের বড় ধরনের হার্ডওয়্যার কিনতে হয় না এবং স্থানীয় সার্ভারে নির্ভর থাকার প্রয়োজন কমে। এছাড়া, ক্লাউড ভিত্তিক পরিষেবা যেকোনো জায়গা থেকে ইন্টারনেটের মাধ্যমে অ্যাক্সেসযোগ্য, ফলে ব্যবসা ও ব্যক্তিগত কাজে নমনীয়তা বৃদ্ধি পায়। খরচ এবং সময় উভয়ই সাশ্রয় হয়, এবং স্কেলিং বা রিসোর্স বাড়ানো সহজ হয়। তাই অন-ডিমান্ড রিসোর্স সরবরাহ করা প্রধান সুবিধা।

উত্তর: ক) অন-ডিমান্ড কম্পিউটিং রিসোর্স সরবরাহ করে।

ক্লাউড কম্পিউটিং: 

- ক্লাউড অর্থ হচ্ছে মেঘ। আসলে ক্লাউড শব্দটি ইন্টারনেটের রূপক হিসাবে ব্যবহৃত হয়েছিল।
- আকাশে সর্বত্র যেভাবে মেঘ ছড়িয়ে আছে, ইন্টারনেটও ঠিক তেমনিভাবে সর্বত্র জালের মত ছড়িয়ে আছে।
- ইন্টারনেটের মেঘ থেকে সর্বনিম্ন খরচে সর্বোচ্চ সুবিধা পাওয়ার উপায় বের করতে গিয়েই ক্লাউড কম্পিউটিং এর জন্ম হয়।
- অর্থনৈতিক এবং প্রযুক্তিগত দিক থেকে কম্পিউটারের জগতে ক্লাউড কম্পিউটিং এক নতুন বিপ্লবের সূচনা করেছে।
- ক্লাউড কম্পিউটিং এর মূল বিষয়টি হলো নিজের ব্যবহৃত কম্পিউটারের হার্ড ড্রাইভের পরিবর্তে ইন্টারনেট সেবা প্রদানকারী কোন প্রতিষ্ঠানের নিকট হতে সার্ভিস বা হার্ডওয়‍্যার ভাড়া নেওয়া।
- ক্লাউড কম্পিউটিং এর ইতিহাস শুরু হয় ১৯৬০ এর দশকে।
- ২০০৬ সালে বিশ্ব বিখ্যাত অ্যামাজোন ওয়েব সার্ভিস বাণিজ্যিকভাবে ক্লাউড কম্পিউটিং এর ব্যবহার শুরু করে।
- ২০১০ সালে The Rackspace Cloud এবং NASA মুক্ত অ্যাপ্লিকেশন প্রোগ্রামিং ইন্টারফেস শুরু করে। এভাবেই ক্লাউড কম্পিউটিং জন সাধারণের হাতের মুঠোয় আসে।
- যুক্তরাষ্ট্রের "ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অব স্ট্যন্ডার্ড এন্ড টেস্টিং (NIST)" এর মতে ক্লাউড কম্পিউটিং হলো ক্রেতার তথ্য ও বিভিন্ন এ্যাপ্লিকেশনকে কোন সেবাদাতার সিস্টেমে আউটসোর্স করার এমন একটি মডেল যাতে নিম্নোক্ত ৩টি বৈশিষ্ট্য থাকবে-

১. রিসোর্স স্কেলেবিলিটি:
- ছোট বা বড় যাই হোক, ক্রেতার সব ধরনের চাহিদাই মেটানো হবে, ক্রেতা যত চাইবে সেবা দাতা ততোই অধিক পরিমাণে সেবা দিতে পারবে।
 
২. অন-ডিমান্ড:
- ক্রেতা যখন চাইবে, তখনই সেবা দিতে পারবে। ক্রেতা তার ইচ্ছা অনুযায়ী যখন খুশি তার চাহিদা বাড়াতে বা কমাতে পারবে।
 
৩. পে-অ্যাজ-ইউ-গো:
- এটা একটি পেমেন্ট মডেল। ক্রেতাকে আগে থেকে কোন সার্ভিস রিজার্ভ করতে হবে না। ক্রেতা যা ব্যবহার করবে কেবলমাত্র তার জন্যই পেমেন্ট দিতে হবে।

উৎস: তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬৫.
গুগলের তৈরি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার নাম কী?
  1. অ্যালেক্সা
  2. সিরি
  3. জেমিনি
  4. কোরটানা
ব্যাখ্যা

• গুগল কোম্পানি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ক্ষেত্রে অনেক উদ্ভাবন করেছে, তবে তাদের সর্বশেষ ও সবচেয়ে উন্নত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার নাম হলো জেমিনি (Gemini)। এটি মূলত ব্যবহারকারীদের জটিল তথ্য বিশ্লেষণ, প্রশ্নোত্তর, লেখালিখি এবং বিভিন্ন কাজের জন্য ডিজাইন করা হয়েছে। জেমিনি অন্যান্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মতো অ্যালেক্সা, সিরি বা কোরটানার মতো সাধারণ ব্যক্তিগত সহকারী (digital assistant) নয়; এটি আরও উন্নত এবং শিক্ষণীয় মডেল হিসেবে কাজ করে। ব্যবহারকারীরা জেমিনির মাধ্যমে সহজে তথ্য সংগ্রহ করতে পারেন, সমস্যা সমাধান করতে পারেন এবং দৈনন্দিন কাজগুলিকে আরও দক্ষভাবে সম্পন্ন করতে পারেন। তাই গুগলের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সঠিক উত্তর হলো জেমিনি (গ)।

• অপশন আলোচনা:
ক) অ্যালেক্সা - এটি অ্যামাজনের ভয়েস অ্যাসিস্ট্যান্ট।
খ) সিরি - এটি অ্যাপলের ভয়েস অ্যাসিস্ট্যান্ট।
গ) জেমিনি -এটি গুগলের তৈরি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার নাম।
ঘ) কোরটানা - এটি মাইক্রোসফটের ভয়েস অ্যাসিস্ট্যান্ট।


• কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা:

- কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা হচ্ছে বিজ্ঞান এবং প্রযুক্তির সমন্বয়।
- মানুষ যেভাবে চিন্তা করে তেমনি কৃত্রিম উপায়ে কম্পিউটারে সেভাবে চিন্তা ভাবনার রূপদান করাকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বলে।
- কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রধান উদ্দেশ্য হলো কম্পিউটারকে উন্নত করা যাতে কম্পিউটার চিন্তা করার ক্ষমতা, পাশাপাশি দেখতে পারা, শুনতে পারা, হাঁটা এবং অনুভব করার ক্ষমতা পায়।

• কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় যেসব স্বতন্ত্র্য বৈশিষ্ট্য পরিলক্ষিত হয় তা নিম্নরূপ:
১। কোন বিষয় সম্পর্কে ধারণা গ্রহণ।
২। সমস্যার কারণ নির্ণয়পূর্বক সমাধানের পথ নির্দেশ।
৩। সিদ্ধান্ত গ্রহণ ক্ষমতা।
৪। সমস্যা সমাধানের ক্ষমতা।
৫।নতুন নতুন জ্ঞান অর্জন।
৬। ভাষা বুঝার ক্ষমতা।
৭। অর্জিত জ্ঞান কাজে লাগাবার মত সক্ষমতা।
৮। মানুষের মত অভিজ্ঞতা কাজে লাগানো।
৯। পরস্পর সম্পর্কিত বিভিন্ন বিষয় অনুধাবন এবং সাড়া দেয়ার ক্ষমতা।
১। ভুল, অপ্রাসঙ্গিক এবং অসম্পূর্ণ তথ্য-উপাত্ত পরিচালনা।
১১। জটিল অবস্থা অনুধাবন ও পরিচালনার ক্ষমতা।
১২। নতুন পরিস্থিতিতে খাপ খাইয়ে নেয়ার ক্ষমতা; ইত্যাদি।

উৎস: তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬৬.
ভিআর জগতে “HMD” বলতে বোঝায়:
  1. Head-Mounted Display
  2. High Motion Device
  3. Human-Machine Design
  4. Head-Motion Detector
ব্যাখ্যা

• ভিআর (ভার্চুয়াল রিয়েলিটি) জগতে “HMD” বলতে বোঝায় Head-Mounted Display। এটি একটি এমন ডিভাইস যা সরাসরি ব্যবহারকারীর মাথায় ব্যবহার করা হয় এবং ব্যবহারকারীর চোখের সামনে একটি স্ক্রিনের মাধ্যমে ভার্চুয়াল পরিবেশ প্রদর্শন করে। HMD ব্যবহার করে ব্যবহারকারী 3D গ্রাফিক্স, ভিডিও, গেম বা ভার্চুয়াল সিমুলেশন দেখতে পারে এবং অভিজ্ঞতা করতে পারে যেন তারা বাস্তব জগতে উপস্থিত। এই ডিভাইসটি সাধারণত লেন্স, সেন্সর, এবং ডিসপ্লে ইউনিট নিয়ে তৈরি হয়, যা চোখের সামঞ্জস্য এবং মুভমেন্ট ট্র্যাকিং করে। HMD-এর মাধ্যমে ব্যবহারকারী ভার্চুয়াল জগতে ঘুরতে, দেখার দিক পরিবর্তন করতে এবং ইন্টারঅ্যাকশন করতে সক্ষম হয়। তাই সঠিক উত্তর হলো ক) Head-Mounted Display.

• ভার্চুয়াল রিয়েলিটি:

- হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যারের সমন্বয়ে কম্পিউটার সিস্টেমের মাধ্যমে কোনো বস্তু, ঘটনা বা পরিবেশের বাস্তবভিত্তিক বা ত্রিমাত্রিক চিত্রভিত্তিক রূপায়ণকে ভার্চুয়াল রিয়েলিটি বলা হয়।
- প্রকৃত অর্থে বাস্তব নয় কিন্তু বাস্তবের চেতনা উদ্যোগকারী বিজ্ঞাননির্ভর কল্পনাকে ভার্চুয়াল রিয়েলিটি বলে।
- ভার্চুয়াল রিয়েলিটি মূলত কম্পিউটার প্রযুক্তি ও সিমুলেশন তত্ত্বের উপর প্রতিষ্ঠিত।
- কম্পিউটার প্রযুক্তির মাধ্যমে কৃত্রিম পরিবেশকে এমনভাবে উপস্থাপন করা হয়, যা ব্যবহারকারীর কাছে সত্য ও বাস্তব মনে হয়।
- ভার্চুয়াল রিয়েলিটিতে ত্রি-মাত্রিক ইমেজ তৈরির মাধ্যমে অতি অসম্ভব কাজও করা সম্ভব হয়।

উৎস: 
১) তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২) sciencedirect [লিংক]

৬৭.
নিচের কোনটি একটি ভুল IPv4 ঠিকানা?
  1. 256.1.1.1
  2. 100.64.0.1
  3. 198.51.100.23
  4. 172.31.255.255
ব্যাখ্যা

• IPv4 ঠিকানা হলো ৩২-বিটের একটি সংখ্যা, যা সাধারণত চারটি অক্টেটের মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়, যেমন 0 থেকে 255 এর মধ্যে চারটি সংখ্যার বিন্যাস। প্রতিটি অক্টেট ৮-বিটের সমান। IPv4 ঠিকানার ক্ষেত্রে প্রতিটি অক্টেটের মান সর্বোচ্চ 255 হতে পারে। তাই যদি কোনো অক্টেটে 255-এর বেশি সংখ্যা থাকে, তবে সেটি একটি অবৈধ ঠিকানা হিসেবে গণ্য হয়। প্রদত্ত বিকল্পগুলির মধ্যে, “ক) 256.1.1.1” একটি ভুল IPv4 ঠিকানা, কারণ প্রথম অক্টেটের মান 256, যা 0–255 সীমার বাইরে। অন্য ঠিকানাগুলো—100.64.0.1, 198.51.100.23 এবং 172.31.255.255 - সঠিক সীমার মধ্যে আছে এবং বৈধ IPv4 ঠিকানা। সুতরাং সঠিক উত্তর হলো ক) 256.1.1.1

• আইপি অ্যাড্রেস:
- ইন্টারনেটে যুক্ত প্রত্যেকটি কম্পিউটারের একটি আইডেন্টিটি থাকে যা আইপি অ্যাড্রেস নামে পরিচিত।
- আইপি হল এক ধরনের নেটওয়ার্ক প্রটোকল।
- প্রত্যেকটি কম্পিউটারকে আলাদা করে সনাক্ত করতে আইপি অ্যাড্রেস ব্যবহৃত হয়।
- আইপি অ্যাড্রেস মূলত চারটি অংশে বিভক্ত এবং প্রতিটি অংশ ডট (.) চিহ্ন দ্বারা আলাদাভাবে বিভক্ত। এক একটি ভাগকে বলা হয় অকটেট (Octet)।
- একটি আইপি অ্যাড্রেসকে প্রকাশ করার তিনটি পদ্ধতি আছে। যথা-

১. ডটেড ডেসিমেল নোটেশন (Dotted decimal notation)
- উদাহরণ: 192.168.15.5

২. হেক্সাডেসিম্যাল নোটেশন (Hexadecimal notation)
- উদাহরণ: CO.A8.0F.05

৩. বাইনারি নোটেশন (Binary notation)
- উদাহরণ: 11000000.10101000.00001111.00000101

- চারটি অংশের সমন্বয়ে গঠিত আইপি অ্যাড্রেস IPv4 (IP ভার্সন 4) নামে পরিচিত।
- IPv4 এই অ্যাড্রেস হলো 4× ৪ বা 32 বিটের।
- আইপি অ্যাড্রেসের নতুন ভার্সন হলো IPv6, যার সাহায্যে 2128 সংখ্যা ডিভাইসকে সনাক্ত করা যায় এবং যা 128 বিটের অ্যাড্রেস।

উৎস: তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬৮.
১৯৮০-এর দশকে কোন কম্পিউটিং প্রযুক্তি তৈরিতে IBM সুপরিচিত ছিল?
  1. স্মার্টফোন
  2. পার্সোনাল কম্পিউটার
  3. কোয়ান্টাম কম্পিউটিং
  4. ক্লাউড স্টোরেজ
ব্যাখ্যা

• IBM ১৯৮০-এর দশকে মূলত পার্সোনাল কম্পিউটার (PC) তৈরিতে সুপরিচিত ছিল। এই সময়ে IBM প্রথমবার বাজারে একটি সহজলভ্য এবং অফিস বা ঘরে ব্যবহারযোগ্য কম্পিউটার নিয়ে আসে, যা বড় কর্পোরেশন থেকে শুরু করে ব্যক্তিগত ব্যবহারকারীর জন্যও সহজ করে তোলে। IBM PC-এর উদ্ভাবন কম্পিউটার শিল্পে বিপ্লব ঘটায়, কারণ এটি মডুলার ডিজাইন এবং ওপেন আর্কিটেকচারের মাধ্যমে বিভিন্ন হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যার নির্মাতাকে উৎসাহিত করে। এর ফলে বাজারে কম্পিউটার অনেক বেশি জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। স্মার্টফোন, কোয়ান্টাম কম্পিউটিং বা ক্লাউড স্টোরেজ তখনো এই পর্যায়ে পৌঁছায়নি। তাই ১৯৮০-এর দশকে IBM-এর প্রধান অবদান ছিল পার্সোনাল কম্পিউটার।

আইবিএম: 

- IBM একটি আমেরিকান বহুজাতিক প্রযুক্তি কোম্পানি।
- IBM এর পূর্ণরূপ হচ্ছে International Business Machines Corporation.
- আইবিএম কোম্পানিকে বিগ ব্লু নামে ডাকা হয়।
- IBM এর প্রতিষ্ঠাতা হলেন চার্লস র‍্যানলেট ফ্লিন্ট।
- এটি ১৯১১ সালের ১৬ জুন প্রতিষ্ঠিত হয়।
- এটি শুরুতে কম্পিউটিং-ট্যাবুলেটিং-রেকর্ডিং কোম্পানি হিসেবে যাত্রা শুরু করে।
- পরে ১৯২৪ সালে নাম দেওয়া হয় 'ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস মেশিনস'।
- IBM এর সদরদপ্তর আরমংক, নিউইয়র্ক, যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থিত।
- IBM এর বর্তমান লোগোটি ১৯৭২ সাল থেকে ব্যবহার করা হচ্ছে।
- আইবিএম কোম্পানির তৈরি প্রথম কম্পিউটারের নাম মেইনফ্রেম কম্পিউটার।

উৎস: আইবিএম অফিসিয়াল ওয়েবসাইট।

৬৯.
বাস টপোলজিতে ডিভাইসগুলো কীভাবে সংযুক্ত থাকে?
  1. মেশ নেটওয়ার্কে
  2. একটি কেন্দ্রীয় হাব ব্যবহার করে
  3. একটি বৃত্তাকার লুপে
  4. একটি একক কেন্দ্রিয় ক্যাবলের মাধ্যমে
ব্যাখ্যা

• বাস টপোলজিতে ডিভাইসগুলো একক কেন্দ্রীয় ক্যাবলের মাধ্যমে সংযুক্ত থাকে। অর্থাৎ, সমস্ত কম্পিউটার বা ডিভাইস একই মূল তার বা ক্যাবলের সাথে যুক্ত থাকে, যা ডেটা ট্রান্সমিশনের জন্য কেন্দ্র হিসেবে কাজ করে। যখন একটি ডিভাইস ডেটা পাঠায়, তা পুরো লাইনে প্রবাহিত হয় এবং সংশ্লিষ্ট গন্তব্য ডিভাইস তা গ্রহণ করে। অন্য সংযোগ পদ্ধতিগুলোর সঙ্গে এটি আলাদা; উদাহরণস্বরূপ, মেশ নেটওয়ার্কে প্রতিটি ডিভাইস একে অপরের সঙ্গে সংযুক্ত থাকে, কেন্দ্রীয় হাব ব্যবহার করা হলে সব ডিভাইস হাবের মাধ্যমে যুক্ত হয়, আর বৃত্তাকার লুপে ডিভাইসগুলো একটি সার্কুলার চেইনে থাকে। বাস টপোলজি সহজ, কম খরচে, কিন্তু লাইনের কোনো সমস্যা হলে পুরো নেটওয়ার্কে প্রভাব পড়ে।

নেটওয়ার্ক টপোলজি: 

- দুই বা ততোধিক কম্পিউটারকে ক্যাবল, হাব বা সুইচ ইত্যাদি দ্বারা নেটওয়ার্কের আওতাভুক্ত করার জন্য যুক্তি নির্ভর পথের ডিজাইন এবং ব্যবস্থাপনাকে নেটওয়ার্ক টপোলজি বলা হয়।
অর্থাৎ, যে ব্যবস্থায় কম্পিউটারসমূহ বা নোডসমূহ পরস্পরের সাথে সংযুক্ত থাকে, তাকে নেটওয়ার্ক টপোলজি বলে।
- ব্যবহারের ক্ষেত্র, তথ্য আদান প্রদানের গতি ও নেটওয়ার্ক রক্ষণাবেক্ষণের ভিত্তিতে কম্পিউটার নেটওয়ার্কে কম্পিউটারগুলি বিভিন্ন ভাবে সংযুক্ত থাকে।

বাস টপোলজি (Bus Topology):
- যে টপোলজিতে একটি মূল ক্যাবলের সাথে সব কয়েকটি ওয়ার্কস্টেশন বা কম্পিউটার সংযুক্ত থাকে তাকে বাস টপোলজি বলে।
- একে অনেক সময় লিনিয়ার বাস টপোলজিও বলা হয়।
- এখানে মূল ক্যাবল বা তারটিকে বলা হয় ব্যাকবোন (Backbone)।
- মূল ক্যাবলের উভয় প্রান্তে টারমিনেটর ব্যবহার করার প্রয়োজন হয়। এখানে কোন কেন্দ্রিয় কম্পিউটার থাকে না।
- প্রতিটি কম্পিউটার বা ওয়ার্কস্টেশন মূল বাসের সাথে তারের মাধ্যমে সংযুক্ত থাকে।

উৎস: তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৭০.
নিচের কোনটি রক্তরসের জৈব পদার্থ? 
  1. ক্যালসিয়াম
  2. লেসিথিন
  3. আয়োডিন
  4. সোডিয়াম
ব্যাখ্যা
রক্তরস বা প্লাজমা: 
- রক্তের তরল অংশকে প্লাজমা বলে। 
- রক্তরসের প্রায় ৯০% পানি, বাকি ১০% দ্রবীভূত অবস্থায় থাকে বিভিন্ন রকমের জৈব এবং অজৈব পদার্থ। 
- অজৈব পদার্থগুলোর মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের খনিজ পদার্থের আয়ন, যেমন- সোডিয়াম, পটাশিয়াম, ক্যালসিয়াম, ক্লোরিন, ম্যাগনেসিয়াম, ফসফরাস, লৌহ, আয়োডিন, O2, CO2, এবং N2, জাতীয় গ্যাসীয় পদার্থ। 
- জৈব পদার্থগুলো হলো- 
১. খাদ্যসার: গ্লুকোজ, অ্যামিনো এসিড, স্নেহপদার্থ, ভিটামিন ইত্যাদি। 
২. রেচন পদার্থ: ইউরিয়া, ইউরিক এসিড, অ্যামোনিয়া, ক্রিয়েটিনিন ইত্যাদি। 
৩. প্রোটিন: ফাইব্রিনোজেন, গ্লোবিউলিন, অ্যালবুমিন, প্রোথ্রম্বিন ইত্যাদি। 
৪. প্রতিরক্ষামূলক দ্রব্যাদি: অ্যান্টিটক্সিন, অ্যাগ্লুটিনিন ইত্যাদি। 
৫. অন্তঃক্ষরা গ্রন্থির নিঃসৃত বিভিন্ন হরমোন। 
৬. কোলেস্টেরল, লেসিথিন, বিলিরুবিন ইত্যাদি নানা ধরনের যৌগ। 

রক্তরসের কাজ: 
- রক্তকোষসহ রক্তরসে দ্রবীভূত খাদ্যসার দেহের বিভিন্ন অংশে বাহিত করা। 
- টিস্যু থেকে বর্জ্য পদার্থ নির্গত করে, সেগুলো রেচনের জন্য বৃক্কে পরিবহণ করা। 
- শ্বসনের ফলে কোষের সৃষ্ট CO2 কে বাইকার্বনেট হিসেবে ফুসফুসে পরিবহণ করা। 
- রক্ত জমাট বাঁধার প্রয়োজনীয় উপাদানগুলো পরিবহণ করা। 
- হরমোন, এনজাইম, লিপিড প্রভৃতি দেহের বিভিন্ন অংশে বহন করা। 
- রক্তের অম্ল-ক্ষারের ভারসাম্য রক্ষা করা। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৭১.
বায়ুমণ্ডলের কোন স্তর সবচেয়ে শীতলতম তাপমাত্রা ধারণ করে? 
  1. তাপমণ্ডল
  2. স্ট্র্যাটোমণ্ডল
  3. মেসোমণ্ডল
  4. এক্সোমণ্ডল
ব্যাখ্যা
মেসোমণ্ডল (Mesosphere): 
- স্ট্রাটোবিরতির উপরে প্রায় ৮০ কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত বায়ুস্তরকে মেসোমণ্ডল বলে।
- এই স্তরের উপরে তাপমাত্রা হ্রাস পাওয়া থেমে যায়, এই স্তরকে মেসোবিরতি (Mesopause) বলে। 

মেসোমণ্ডলের বৈশিষ্ট্য: 
- এই স্তরে ট্রপোমণ্ডলের মতোই উচ্চতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বায়ুমণ্ডলের তাপমাত্রা কমতে থাকে, যা - ৮৩° সেলসিয়াস পর্যন্ত নিচে নেমে যায়। 
মেসোমণ্ডল বায়ুমণ্ডলের সবচেয়ে শীতলতম তাপমাত্রা ধারণ করে। 
- মহাকাশ থেকে যেসব উল্কা পৃথিবীর দিকে ছুটে আসে সেগুলোর অধিকাংশই এই স্তরের মধ্যে এসে পুড়ে যায়। 

তাপমণ্ডল (Thermosphere): 
- মেসোবিরতির উপরে প্রায় ৫০০ কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত বায়ুস্তরকে তাপমণ্ডল বলে। 
- এই মণ্ডলে বায়ুস্তর অত্যন্ত হালকা ও চাপ ক্ষীণ। তাপমণ্ডলের নিম্ন অংশকে আয়নমণ্ডল (Ionosphere) বলে। 

তাপমণ্ডলের বৈশিষ্ট্য: 
- এই স্তরে বায়ুমণ্ডলের তাপমাত্রা অত্যন্ত দ্রুত হারে বৃদ্ধি পেয়ে ১৪৮০° সেলসিয়াসে পৌঁছায়। 
- তাপমণ্ডলের উপরের স্তরে তাপমাত্রার পরিমাণ প্রায় স্থির থাকে। 
- তীব্র সৌর বিকিরণে রঞ্জন রশ্মি ও অতিবেগুনি রশ্মির সংঘাতে এই অংশের বায়ু আয়নযুক্ত হয়। 
- ভূপৃষ্ঠ থেকে পাঠানো বিভিন্ন বেতার তরঙ্গ আয়নমণ্ডলের বিভিন্ন আয়নে বাধা পেয়ে পুনরায় ভূপৃষ্ঠে ফিরে আসে। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
৭২.
তড়িৎ মুদ্রণ কী? 
  1. ডিজিটাল প্রিন্টিং প্রযুক্তি
  2. ফটোগ্রাফির প্রিন্টিং প্রযুক্তি
  3. কাগজে হাতের লেখা মুদ্রণের পদ্ধতি
  4. তড়িৎ প্রলেপের মাধ্যমে হরফ বা ব্লক তৈরি করার পদ্ধতি
ব্যাখ্যা
তড়িৎ মুদ্রণ (Electrotyping): 
- তড়িৎ প্রলেপের একটি বিশেষ পদ্ধতি ব্যবহার করে হরফ, ব্লক মডেল ইত্যাদি তৈরি করাকে তড়িৎ মুদ্রণ বলে
- তড়িৎ মুদ্রণের জন্য প্রথমে লেখাটি সাধারণ টাইপে মোমের ওপর ছাপ নেওয়া হয়। 
- এর উপরে কিছু গ্রাফাইট গুঁড়ো ছড়িয়ে একে তড়িৎ পরিবাহী করা হয়। 
- তারপর কপার সালফেট দ্রবণে এটি ক্যাথোড পাত হিসেবে ডুবানো হয় এবং একটি তামার পাতকে অ্যানোড হিসেবে ব্যবহার করা হয়। 
- তারপর দ্রবণের মধ্যে তড়িৎ প্রবাহ চালালে মোমের ছাঁচের ওপর তামার প্রলেপ পড়বে। 
- প্রলেপ খানিকটা পুরু হলে ছাঁচ থেকে ছাড়িয়ে ছাপার কাজে ব্যবহার করা হয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৭৩.
যদি একটি লেন্সের ফোকাস দূরত্ব ২ মিটার হয়, তবে তার ক্ষমতা কত হবে? 
  1. ০.২ ডায়াপ্টর
  2. ০.৫ ডায়াপ্টর
  3. ২.০ ডায়াপ্টর
  4. ৫.০ ডায়াপ্টর
ব্যাখ্যা
লেন্সের ক্ষমতা: 
- প্রধান অক্ষের সমান্তরাল এক গুচ্ছ আলোকরশ্মিকে উত্তল লেন্স কেন্দ্রীভূত বা অভিসারী করে এক বিন্দুতে মিলিত করে। 
- অপরদিকে অবতল লেন্স একগুচ্ছ সমান্তরাল রশ্মিকে অপসারী করে; ফলে ঐ রশ্মিগুচ্ছ কোনো একটি বিন্দু থেকে অপসারিত হচ্ছে বা ছড়িয়ে যাচ্ছে বলে মনে হয়। 
- আলোকরশ্মিকে অভিসারী বা অপসারী করার প্রক্রিয়াটি পরিমাপ করার জন্য লেন্সের "ক্ষমতা" সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে। ১-কে লেন্সের ফোকাস দূরত্ব (মিটারে প্রকাশ করে) দিয়ে ভাগ করা হলে লেন্সের ক্ষমতা পাওয়া যায়, যার একক হল ডায়াপ্টর। 
অর্থাৎ, একটি উত্তল লেন্সের ফোকাস দূরত্ব ২ মিটার হলে তার ক্ষমতা হবে ১/২ ডায়াপ্টর বা ০.৫ ডায়াপ্টর। 
- লেন্সের ক্ষমতা ধনাত্মক বা ঋণাত্মক দুই-ই হতে পারে। 
- কোনো লেন্সের ক্ষমতা +1D বলতে বোঝায়, লেন্সটি উত্তল এবং এটি প্রধান অক্ষের ১ মিটার দূরে আলোকরশ্মিগুচ্ছকে মিলিত করবে। 
- আবার লেন্সের ক্ষমতা -2D হলে বুঝতে হবে লেন্সটি অবতল এবং এটি প্রধান অক্ষের সমান্তরাল একগুচ্ছ আলোকরশ্মিকে এমনভাবে অপসারিত করে যে, এগুলো কোনো লেন্স থেকে ১/২ মিটার বা ৫০ সেমি দূরের কোনো বিন্দু থেকে অপসৃত হচ্ছে বলে মনে হয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৭৪.
বেকিং সোডা ব্যবহার করে তাপ দিলে কোন গ্যাস উৎপন্ন হয় যা কেক বা পাউরুটিকে ফুলিয়ে তোলে? 
  1. হাইড্রোজেন
  2. অক্সিজেন
  3. কার্বন ডাই-অক্সাইড
  4. নাইট্রোজেন
ব্যাখ্যা

প্রাত্যহিক জীবনে এসিডের ব্যবহার: 
- বোলতা বা বিচ্ছু হুল ফুটালে প্রচণ্ড জ্বালা করে কারণ বোলতা এবং বিচ্ছুর হুলে থাকে হিস্টামিন (Histamine) নামে এক ধরনের ক্ষারক পদার্থ। তাই এসব ক্ষেত্রে জ্বালা নিবারণের জন্য এসিড কিংবা এসিডজাতীয় মলম ব্যবহার করা হয়, যাতে থাকে ভিনেগার অথবা বেকিং সোডা।  এসিড কিংবা এসিডজাতীয় ঐ ক্ষারকের সাথে বিক্রিয়া করে সেগুলো নিষ্ক্রিয় করে, ফলে জ্বালা আর থাকে না। 
- সাধারণত মাংস, পোলাও, বিরিয়ানি এ ধরনের খাবার খাওয়ার পর খাবার হজম করার জন্য বিভিন্ন ধরনের কোমল পানীয় পান করা হয়, কারণ পাকস্থলীতে নির্দিষ্ট মাত্রায় হাইড্রোক্লোরিক এসিডের প্রয়োজন হয়। এই মাত্রার হেরফের হলে পরিপাকে অসুবিধা হয়। কোমল পানীয়গুলো অল্পমাত্রায় এসিডিক, তাই গুরুপাক খাবার পর কোমল পানীয় পরিপাকে সাহায্য করে। 
- লেবু, কমলা, আপেল, পেয়ারা, আমলকী ইত্যাদি নানা রকম ফলের মাঝে আছে নানা রকমের জৈব এসিড যেগুলো খুবই প্রয়োজনীয় এবং রোগ প্রতিরোধ করে। যেমন- ভিটামিন সি বা এসকরবিক এসিড। ভিটামিন সি ক্ষত সারাতে খুবই সহায়ক হিসেবে কাজ করে এবং শরীরে এর অভাবে স্কার্ভি রোগ হয়। 
- আম, জলপাই ইত্যাদি নানা রকম আচার সংরক্ষণে ভিনেগার বা এসিটিক এসিড (CH3COOH) ব্যবহার করা হয়। 
- বোরহানি বা দই খেলে এতে বিদ্যমান ল্যাকটিক এসিড হজমে সহায়তা করে। 

- বেকিং সোডা ব্যবহার করে তাপ দিলে বেকিং সোডা ভেঙে কার্বন ডাই-অক্সাইড উৎপন্ন হয়, যা কেক, বিস্কুট বা পাউরুটিকে ফুলিয়ে তোলে। 
- টয়লেট পরিষ্কার করার জন্য যেসব পরিষ্কারক ব্যবহার করা হয় তার মূল উপাদান হলো শক্তিশালী এসিড, যেমন- HCl, HNO3 কিংবা H2SO4 । 
- সৌর প্যানেলে তৈরি সৌরবিদ্যুৎ সংরক্ষণের জন্য বা বাসাবাড়িতে আইপিএস (IPS) চালানোর জন্য এবং গাড়িতে ব্যবহৃত ব্যাটারিতে সালফিউরিক এসিড ব্যবহার করা হয়। 
- ফসল উৎপাদনের জন্য সার হলো অতি প্রয়োজনীয় একটি জিনিস। সার হিসেবে যেগুলো ব্যবহার করা হয় তার অন্যতম উপাদান হলো অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট (NH4NO3), অ্যামোনিয়াম সালফেট (NH4)2SO4 ও অ্যামোনিয়াম ফসফেট (NH4)3PO4 । সার কারখানায় এগুলো তৈরি করা হয় যথাক্রমে নাইট্রিক এসিড (HNO3), সালফিউরিক এসিড (H2SO4) এবং ফসফরিক এসিড (H3PO4) দিয়ে। 
- এসিড কাপড়ে লাগলে কাপড় পুড়ে যায় কিংবা ছিদ্র হয়ে যায়। একইভাবে ধাতব পদার্থসমূহ এসিডের সংস্পর্শে এলে তাও ক্ষয় হয়ে যায়। অতএব এসিডের ব্যবহারে খুবই সাবধান হতে হবে। কোনো কারণে গায়ে এসিড পড়লে সাথে সাথে প্রচুর পানি দিয়ে সেই জায়গাটা ধুয়ে ফেলতে হবে। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৭৫.
নিচের কোন উপাদানের অভাবে উদ্ভিদের ক্লোরোসিস হতে পারে? 
  1. লৌহ
  2. ম্যাঙ্গানিজ
  3. দস্তা
  4. উপরোক্ত সবগুলোই
ব্যাখ্যা
নাইট্রোজেন (N): 
- নাইট্রোজেনের অভাব হলে ক্লোরোফিল সৃষ্টিতে বিঘ্ন ঘটে। 
- ক্লোরোফিলের অভাবে পাতার সবুজ রং হালকা হতে হতে একসময় হলুদ হয়ে যায়। 
- তার কারণ ক্লোরোফিল ছাড়া অন্যান্য বর্ণকণা বা পিগমেন্ট মিলিতভাবে হলুদ দেখায়। 
- পাতা হলুদ হয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়াকে 'ক্লোরোসিস' (chlorosis) বলে। 
- লৌহ, ম্যাঙ্গানিজ বা দস্তার অভাবেও ক্লোরোসিস হতে পারে। 
- কেননা এই উপাদানগুলোও ক্লোরোফিল উৎপাদনের সাথে কোনো না কোনোভাবে জড়িত। 
- ক্লোরোসিসে কোষের বৃদ্ধি এবং বিভাজন হ্রাস পায়, তাই উদ্ভিদের বৃদ্ধি কমে যায়। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৭৬.
ব্যাসল্ট ও গ্রানাইট কোন ধরনের শিলা? 
  1. স্তরীভূত শিলা
  2. পাললিক শিলা
  3. আগ্নেয় শিলা
  4. রূপান্তরিত শিলা
ব্যাখ্যা
শিলা: 
- ভূত্বক যেসব উপাদান দ্বারা গঠিত তাদের সাধারণ নাম শিলা। 
- ভূতত্ত্ববিদগণের মতে দুই বা ততোধিক খনিজ দ্রব্যের সংমিশ্রণে এসব শিলার সৃষ্টি হয়। 
- ভূত্বক গঠনকারী সকল কঠিন ও কোমল পদার্থই শিলা। 
যেমন- নুড়ি, কাঁকর, গ্রানাইট, কাদা, বালি প্রভৃতি। 
- গঠনপ্রণালি অনুসারে শিলাকে তিনটি প্রধান শ্রেণিতে বিভক্ত করা হয়। 
যথা- (১) আগ্নেয় শিলা, (২) পাললিক শিলা ও (৩) রূপান্তরিত শিলা। 

আগ্নেয় শিলা (Igneous Rocks): 
- জন্মের প্রথমে পৃথিবী একটি উত্তপ্ত গ্যাসপিণ্ড ছিল। এই গ্যাসপিণ্ড ক্রমান্বয়ে তাপ বিকিরণ করে তরল হয়। পরে আরও তাপ বিকিরণ করে এর উপরিভাগ শীতল ও কঠিন আকার ধারণ করে। এভাবে গলিত অবস্থা থেকে ঘনীভূত বা কঠিন হয়ে যে শিলা গঠিত হয় তাকে আগ্নেয় শিলা বলে। 
- আগ্নেয় শিলা পৃথিবীর প্রথম পর্যায়ে সৃষ্টি হয় তাই এই শিলাকে প্রাথমিক শিলাও বলে। 
- এ শিলায় কোনো স্তর নেই, তাই আগ্নেয় শিলার অপর নাম অস্তরীভূত শিলা। 
- এই শিলায় জীবাশ্ম নেই। এই শিলার বৈশিষ্ট্য হলো- (ক) স্ফটিকাকার, (খ) অস্তরীভূত, (গ) কঠিন ও কম ভঙ্গুর, (ঘ) জীবাশ্ম দেখা যায় না এবং (ঙ) অপেক্ষাকৃত ভারী। 
- আগ্নেয়গিরি বা ভূমিকম্পের ফলে অনেক সময় ভূত্বকের দুর্বল অংশে ফাটলের সৃষ্টি হয়। তখন পৃথিবীর অভ্যন্তর থেকে উত্তপ্ত গলিত লাভা নির্গত হয়ে আগ্নেয় শিলার সৃষ্টি করে। এভাবে ব্যাসল্ট ও গ্রানাইট শিলার সৃষ্টি হয়। 

- আগ্নেয় শিলাকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়। 
যথা- 
(ক) বহিঃজ আগ্নেয় শিলা (Extrusive Igneous Rocks): 
- ভূগর্ভের উত্তপ্ত তরল পদার্থ ম্যাগমা আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত বা অন্য কোনো কারণে বেরিয়ে এসে শীতল হয়ে জমাট বেঁধে বহিঃজ আগ্নেয় শিলার সৃষ্টি হয়, এদের দানা খুব সূক্ষ্ম এবং রং গাঢ়। এই শিলার উদাহরণ হলো ব্যাসল্ট, রায়োলাইট, অ্যান্ডিসাইট ইত্যাদি। 

(খ) অন্তঃজ আগ্নেয় শিলা (Intrusive Igneous Rocks): 
- উত্তপ্ত ম্যাগমা ভূপৃষ্ঠের বাইরে না এসে ভূগর্ভে জমাট বাঁধলে তৈরি হয় অন্তঃজ আগ্নেয় শিলা। এর দানাগুলো স্থূল ও হালকা রঙের হয়। গ্রানাইট, গ্যাব্রো, ডলোরাইট, ল্যাকোলিথ, ব্যাথোলিথ, ডাইক ও সিল এ শিলার অন্যতম উদাহরণ। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
৭৭.
ফুসফুস আবৃত থাকে কোন পর্দা দ্বারা? 
  1. ডায়াফ্রাম
  2. প্লুরা
  3. পেরিকার্ডিয়াম
  4. আলভিওলাস
ব্যাখ্যা
ফুসফুস (Lung): 
- ফুসফুস শ্বসনতন্ত্রের প্রধান অঙ্গ। 
- বক্ষগহ্বরের ভিতর হৃৎপিণ্ডের দুই পাশে দুটি ফুসফুস অবস্থিত। 
- এটি স্পঞ্জের মতো নরম, কোমল ও হালকা লালচে রঙের। 
- ডান ফুসফুস তিন খণ্ডে এবং বাম ফুসফুস দুই খণ্ডে বিভক্ত। 
- ফুসফুস দুই ভাঁজবিশিষ্ট প্লুরা নামক পর্দা দিয়ে আবৃত। 
- দুই ভাঁজের মধ্যে এক প্রকার রস নির্গত হয়। ফলে শ্বাসক্রিয়া চলার সময় ফুসফুসের সাথে বক্ষগাত্রের কোনো ঘর্ষণ হয় না। 
- ফুসফুসে অসংখ্য বায়ুথলি বা বায়ুকোষ, সূক্ষ্ম সূক্ষ্ম শ্বাসনালি ও রক্তনালি থাকে। 
- বায়ুথলিগুলোকে বলে অ্যালভিওলাস (Alveolus)। 
- বায়ুথলিগুলো ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অণুক্লোম শাখাপ্রান্তে মৌচাকের মতো অবস্থিত। 
- নাসাপথ দিয়ে বায়ু সরাসরি বায়ুথলিতে যাতায়াত করতে পারে। 
- বায়ুথলি পাতলা আবরণী দিয়ে আবৃত এবং প্রতিটি বায়ুথলি কৈশিকনালিকা দিয়ে পরিবেষ্টিত। 
- বায়ু প্রবেশ করলে এগুলো বেলুনের মতো ফুলে ওঠে এবং পরে আপনা-আপনি সংকুচিত হয়। 
- বায়ুথলি ও কৈশিক নালিকার গাত্র এত পাতলা যে এর ভিতর দিয়ে গ্যাসীয় আদানপ্রদান ঘটে। 


উৎস:
 জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৭৮.
সৃষ্টিজগতের সবচেয়ে শক্তিশালী বল কোনটি? 
  1. দুর্বল নিউক্লীয় বল
  2. মহাকর্ষ বল
  3. সবল নিউক্লীয় বল
  4. তড়িৎ চৌম্বক বল
ব্যাখ্যা
বল: 
- যা স্থির বস্তুর উপর ক্রিয়া করে তাকে গতিশীল করে বা করতে চায় অথবা যা গতিশীল বস্তুর উপর ক্রিয়া করে তার গতির পরিবর্তন করে বা করতে চায় তাকে বল বলে। - বল সবসময় জোড়ায় জোড়ায় ক্রিয়া করে। 
- প্রকৃতিতে মাত্র চার ধরনের মৌলিক বল আছে। 
যথা:- মহাকর্ষ বল, তড়িৎ চৌম্বক বা বিদ্যুৎ চৌম্বকীয় বল, দুর্বল নিউক্লীয় বল এবং সবল নিউক্লীয় বল।

মহাকর্ষ বল: 
- এই সৃষ্টিজগতের সকলবস্তু তাদের ভরের কারণে একে অপরকে যে বল দিয়ে আকর্ষণ করে, সেটাই হচ্ছে মহাকর্ষ বল। 
- এই বলের কারণে গ্যালাক্সির ভেতরে নক্ষত্ররা ঘুরপাক খায় কিংবা সূর্যকে ঘিরে পৃথিবী ঘোরে, পৃথিবীকে ঘিরে চাঁদ ঘোরে। 
- পৃথিবীর মহাকর্ষ বল যখন আমাদের ওপর কাজ করে, তখন তাকে মধ্যাকর্ষণ বল বলে।
- এই মধ্যাকর্ষণ বল মানুষকে নিচের দিকে (পৃথিবীর কেন্দ্রের দিকে) টানে এবং এর কারণেই মানুষ ওজনের অনুভূতি বুঝতে পারে। 
- ভর আছে সেরকম যেকোনো বস্তু অন্য বস্তুকে মহাকর্ষ বল দিয়ে আকর্ষণ করে। 

তড়িৎ চৌম্বক বল: 
- দুটি আহিত কণা তাদের আধানের কারণে একে অপরের ওপর যে আকর্ষণ বা বিকর্ষণ বল প্রয়োগ করে তাকে তড়িৎ চৌম্বক বল বলে।

দুর্বল নিউক্লীয় বল: 
- দুর্বল নিউক্লীয় বলকে দুর্বল বলা হয় কারণ এটা তড়িৎ চৌম্বক বল থেকে দুর্বল (প্রায় ট্রিলিওন গুণ) কিন্তু মোটেও মহাকর্ষ বল থেকে দুর্বল নয়।
- মহাকর্ষ এবং তড়িৎ চৌম্বক বল যেকোন দূরত্ব থেকে কাজ করতে পারে কিন্তু এই দুর্বল নিউক্লীয় বল খুবই অল্প দূরত্বে (১০-১৮ m) কাজ করে। 

সবল নিউক্লীয় বল: 
- সবল নিউক্লীয় বল হচ্ছে সৃষ্টিজগতের সবচেয়ে শক্তিশালী বল, তড়িৎ চৌম্বকীয় বল থেকেও ১০০ গুণ বেশি শক্তিশালি কিন্তু এটাও খুবই অল্প দূরত্বে (১০-১৫ m) কাজ করে। 
- সূর্য থকে প্রাপ্ত আলো ও তাপ এই বল দিয়ে তৈরি হয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৭৯.
পর্যায় সারণির একই গ্রুপে উপর থেকে নিচে গেলে পরমাণুর আকার- 
  1. বৃদ্ধি পায়
  2. হ্রাস পায় 
  3. হঠাৎ কমে যায়
  4. অপরিবর্তিত থাকে
ব্যাখ্যা
পরমাণুর আকার বা পারমাণবিক ব্যাসার্ধ: 
- পরমাণুর আকার তথা পারমাণবিক ব্যাসার্ধ একটি পর্যায়বৃত্ত ধর্ম। 
- যেকোনো একটি পর্যায়ের যতই বামদিক থেকে ডান দিকে যাওয়া যায় পরমাণুর আকার বা পারমাণবিক ব্যাসার্ধ তত কমতে থাকে এবং যেকোনো একটি গ্রুপের যতই উপর দিক থেকে নিচের দিকে যাওয়া যায় পরমাণুর আকার বা পারমাণবিক ব্যাসার্ধ তত বাড়তে থাকে। 
- একই পর্যায়ের বাম দিক থেকে যত ডান দিকে যাওয়া যায় পারমাণবিক সংখ্যা তত বাড়তে থাকে কিন্তু প্রধান শক্তিস্তরের সংখ্যা বাড়ে না। 
- পারমাণবিক সংখ্যা বাড়লে নিউক্লিয়াসে প্রোটন সংখ্যা বৃদ্ধি পায় এবং ইলেকট্রন সংখ্যাও বৃদ্ধি পায়। 
- নিউক্লিয়াসের অধিক প্রোটন সংখ্যা এবং নিউক্লিয়াসের বাইরের অধিক ইলেকট্রন সংখ্যার মধ্যে আকর্ষণ বেশি হয় ফলে ইলেকট্রনগুলোর শক্তিস্তর নিউক্লিয়াসের কাছে চলে আসে, ফলে পরমাণুর আকার ছোট হয়ে যায়। 

- আবার, একই গ্রুপে যতই উপর থেকে নিচের দিকে যাওয়া যায় ততই বাইরের দিকে একটি করে নতুন শক্তিস্তর যুক্ত হয়, একটি করে নতুন শক্তিস্তর যুক্ত হলে পরমাণুর আকার বৃদ্ধি পায়। 
- একই গ্রুপের উপর থেকে নিচের দিকে গেলে নিউক্লিয়াসের প্রোটন সংখ্যা এবং বাইরের কক্ষপথের ইলেকট্রন সংখ্যা বৃদ্ধির জন্য আকর্ষণ বৃদ্ধি হয়ে পরমাণুর আকার যতটুকু হ্রাস পায়, নতুন একটি শক্তিস্তর যোগ হওয়ার কারণে পরমাণুর আকার তার চেয়ে বেশি বৃদ্ধি পায়। যে কারণে উপরের মৌলের চেয়ে নিচের মৌলের আকার বড় হয়। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
৮০.
মাছ চাষের জন্য পানিতে দ্রবীভূত অক্সিজেনের প্রয়োজনীয় সর্বনিম্ন মাত্রা কত? 
  1. ২ পিপিএম
  2. ৫ পিপিএম
  3. ১০ পিপিএম
  4. ১২ পিপিএম
ব্যাখ্যা
মাছ চাষের পুকুরের পানির গুণাগুণ: 
- মাছের বেঁচে থাকা, খাদ্যগ্রহণ ও আশানুরূপ বৃদ্ধির জন্য পুকুরের পানির গুণাগুণ অনুকূল মাত্রায় থাকা দরকার। 
- পুকুরে পানির গুণাগুণকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়। 
যথা- 
১) ভৌত গুণাগুণ: 
ক) গভীরতা: 
- পুকুর বেশি গভীর হলে সূর্যের আলো পুকুরের অধিক গভীরতা পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে না। ফলে অধিক গভীর অঞ্চলে মাছের প্রাকৃতিক খাদ্য প্লাংকটন তৈরি হয় না। আবার সেখানে অক্সিজেনের অভাব হতে পারে। অন্যদিকে পুকুর অগভীর হলে গ্রীষ্মকালে পুকুরের পানি অতিরিক্ত গরম হয়ে যায়। এসব কারণে মাছের ক্ষতি হতে পারে ও উৎপাদন ব্যাহত হতে পারে। 

খ) তাপমাত্রা: 
- তাপমাত্রার বৃদ্ধির উপর মাছের বৃদ্ধি নির্ভর করে। যেমন- শীতকালে মাছ খাদ্য গ্রহণ কমিয়ে দেয় ফলে মাছের বৃদ্ধি কমে যায়। এ কারণে শীতকালে পুকুরে সার ও খাদ্য প্রয়োগের পরিমাণ কমিয়ে দিতে হয়। রুই জাতীয় মাছের বৃদ্ধি ২৫-৩০° সে. তাপমাত্রা সবচেয়ে ভালো হয়। 

গ) ঘোলাত্ব: 
- কাদা কণার কারণে পুকুরের পানি ঘোলা হলে পানিতে সূর্যালোক প্রবেশে বাধা পায়। এতে করে মাছের প্রাকৃতিক খাদ্য উৎপাদন ব্যাহত হয়। 

ঘ) সূর্যালোক: 
- যে পুকুরে সূর্যালোক বেশি পড়ে সেখানে সালোকসংশ্লেষণ ভালো হয়। ফলে সেখানে ফাইটোপ্লাংটন বেশি উৎপাদিত হয় ও মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি পায়। 

২। রাসায়নিক গুণাগুণ: 
ক ) দ্রবীভূত অক্সিজেন: 
- পুকুরের পানিতে দ্রবীভূত অক্সিজেন মাছ চাষের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রধানত ফাইটোপ্লাংকটন ও জলজ উদ্ভিদ সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় অক্সিজেন তৈরি করে পুকুরের পানিতে দ্রবীভূত হয়। বায়ুমণ্ডল হতে সরাসরি পানির উপরিভাগেও কিছু অক্সিজেন মিশ্রিত হয়। পুকুরে বসবাসকারী মাছ, জলজ উদ্ভিদ ও অন্যান্য প্রাণী এ অক্সিজেন দ্বারা শ্বাসকার্য চালায়। রাতে সূর্যালোকের অভাবে সালোকসংশ্লেষণ হয় না বলে পানিতে কোনো অক্সিজেন তৈরি হয় না। এজন্য সকালে পুকুরে অক্সিজেনের পরিমাণ কমে যায় ও বিকেলে বেশি থাকে। মাছ চাষের জন্য পুকুরের পানিতে অক্সিজেনের পরিমাণ কমপক্ষে ৫ মিলি গ্রাম/লিটার (৫ পিপিএম বা ১ মিলিয়ন ভাগের পাঁচ ভাগ) থাকা প্রয়োজন। 

খ ) দ্রবীভূত কার্বন ডাই-অক্সাইড: 
- পুকুরে মাছের প্রাকৃতিক খাদ্য ফাইটোপ্লাংকটনের উৎপাদনের জন্য পর্যাপ্ত দ্রবীভূত কার্বন ডাই-অক্সাইড থাকা প্রয়োজন। তবে মাত্রাতিরিক্ত কার্বন ডাই-অক্সাইড মাছের জন্য ক্ষতিকর। পানিতে কার্বন ডাই-অক্সাইডের মাত্রা ১২ মিলি গ্রাম/লিটারের (১২ পিপিএম) নিচে থাকলে তা মাছ ও চিংড়ির জন্য বিষাক্ত নয়। মাছের ভালো উৎপাদন পাওয়ার জন্য পুকুরের পানিতে ১-২ পিপিএম কার্বন ডাই-অক্সাইড থাকা প্রয়োজন। 

গ) পিএইচ (pH): 
- পুকুরের পানির pH মান নির্ণয় করে অম্লত্ব বা ক্ষারত্বের মাত্রা বোঝা যায়। মাছ চাষের জন্য পুকুরের পানির pH ৬.৫-৮.৫ এর মধ্যে হলে ভালো হয়। pH ৪ এর নিচে বা ১১ এর উপরে হলে মাছ মারা যায়। পানির pH কমে অম্লীয় হয়ে গেলে পুকুরে চুন (১-২ কেজি/শতক) প্রয়োগ করতে হবে। পুকুরে pH বেড়ে ক্ষারীয় অবস্থা বেশি বেড়ে গেলে অ্যামোনিয়াম সালফেট বা তেঁতুল পানিতে গুলে পুকুরে প্রয়োগ করা যেতে পারে। 

ঘ) ফসফরাস: 
- প্রাকৃতিক পানিতে অতি অল্প পরিমাণ ফসফরাস থাকে। এই ফসফরাস ফসফেটে রূপান্তরিত হয়। পরিমিত ফসফেটের উপস্থিতিতে প্রচুর পরিমাণ ফাইটোপ্লাংটন জন্মায়। 

উৎস: কৃষিশিক্ষা, নবম-দশম শ্রেণি।
৮১.
HCl (aq) + NaOH (aq) → NaCl (aq) + H2O (l) কোন ধরণের বিক্রিয়া?
  1. বিয়োজন বিক্রিয়া
  2. দহন বিক্রিয়া
  3. পানি যোজন বিক্রিয়া 
  4. প্রশমন বিক্রিয়া
ব্যাখ্যা
প্রশমন বিক্রিয়া: 
- এসিড দ্রবণ ও ক্ষার দ্রবণ যোগ করলে রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটে। 
- বিক্রিয়ার সময় এসিড তার এসিড ধর্ম এবং ক্ষার তার ক্ষার ধর্মকে হারিয়ে ফেলে লবণ ও পানি উৎপন্ন করে থাকে। 
- এসিড জলীয় দ্রবনে হাইড্রোজেন আয়ন (H+) ও ক্ষার জলীয় দ্রবণে হাইড্রোক্সিল আয়ন (OH-) দান করে থাকে। এসিডের হাইড্রোজেন আয়ন (H+) ও ক্ষারের হাইড্রোক্সিল আয়ন (OH-) যুক্ত হয়ে পানি উৎপন্ন করে। 
উদাহরণ: HCl (aq) + NaOH (aq) → NaCl (aq) + H2O (l) 

পানি যোজন বিক্রিয়া: 
- আয়নিক যৌগ দ্রবণ থেকে কেলাস গঠনের সময় এক বা একাধিক সংখ্যা পানির অণুকে সংযুক্ত করার প্রক্রিয়াকে পানি যোজন বিক্রিয়া বলে। 
- আয়নিক যৌগের কেলাসের সাথে সংযুক্ত পানিকে কেলাস পানি বলে। 

বিয়োজন বিক্রিয়া: 
- বিয়োজন বিক্রিয়া সংযোজন বিক্রিয়ার ঠিক বিপরীত ক্রিয়া।
- এ প্রক্রিয়ায় যৌগের অণু ভেঙ্গে একাধিক মৌল বা যৌগে পরিণত হয়।
- প্রকৃতপক্ষে যৌগের অণু উহার উপাদানসমূহে বিভক্ত হয়।
উদাহরণ: মারকারী (II) অক্সাইড উচ্চ তাপে বিয়োজিত হয়ে উহার সরলতম উপাদান মারকারী ও অক্সিজেনে পরিণত হয়। 

দহন বিক্রিয়া: 
- এ প্রক্রিয়ায় কোন মৌল বা যৌগকে বায়ুর অক্সিজেনের উপস্থিতিতে পুড়িয়ে তার সাথে সংযুক্ত উপাদান মৌলগুলোকে অক্সাইড যৌগে পরিণত করা হয়। 
উদাহরণ: কার্বনকে বায়ুতে পোড়ালে কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্যাস উৎপন্ন হয়। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮২.
একটি সংখ্যার এক-ষষ্ঠাংশের এক-চতুর্থাংশ ১২ হলে, সংখ্যাটির অর্ধেকের তিন-অষ্টমাংশ কত?
  1. ৭২
  2. ৬৪
  3. ৫৪
  4. ৪২
ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: একটি সংখ্যার এক-ষষ্ঠাংশের এক-চতুর্থাংশ ১২ হলে, সংখ্যাটির অর্ধেকের তিন-অষ্টমাংশ কত?

সমাধান:
ধরি,
সংখ্যাটি ক

প্রশ্নমতে,
(১/৬) × (১/৪) × ক = ১২
⇒ ক/২৪ = ১২
⇒ ক = ১২ × ২৪
∴ ক = ২৮৮

∴ সংখ্যাটি = ২৮৮
∴ সংখ্যাটির অর্ধেক = ২৮৮/২ = ১৪৪

∴ ১৪৪ এর তিন-অষ্টমাংশ = ১৪৪ × (৩/৮)= ৫৪

 ∴ সংখ্যাটির অর্ধেকের তিন-অষ্টমাংশ = ৫৪

৮৩.
a2 + b2 = 13 এবং ab = 6 হলে, a4 + b4 এর মান কত?
  1. 102
  2. 97
  3. 60
  4. 169
ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: a2 + b2 = 13 এবং ab = 6 হলে, a4 + b4 এর মান কত?

সমাধান:
দেওয়া আছে,
a2 + b2 = 13 এবং ab = 6

প্রদত্ত রাশি,
a4 + b4
=(a2)2 + (b2)2
= (a2 + b2)2 - 2a2b2
= (a2 + b2)2 - 2(ab)2
= (13)2 - 2 × (6)2
= 169 - 72
= 97

৮৪.
দুইটি ছক্কা নিরপেক্ষভাবে একসাথে নিক্ষেপ করা হলে যে সংখ্যা দুইটি উঠবে তাদের গুণফল ১২ হওয়ার সম্ভাবনা কত?
  1. ১/১৮
  2. ২/৩
  3. ১/৬
  4. ১/৯
ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: দুইটি ছক্কা নিরপেক্ষভাবে একসাথে নিক্ষেপ করা হলে যে সংখ্যা দুইটি উঠবে তাদের গুণফল ১২ হওয়ার সম্ভাবনা কত?

সমাধান:
দুটি ছক্কা একসাথে নিক্ষেপে মোট ঘটনা = ৬ = ৩৬ টি
দুটির সংখ্যার গুণফল ১২ হওয়ার অনুকূল ঘটনা = (২,৬) ও (৬,২), (৩, ৪), (৪, ৩) = ৪ টি

∴ সম্ভাবনা = ৪/৩৬= ১/৯

৮৫.
যদি (25)2x + 4 = 53x + 9 হয়, তবে x = কত?
  1. 0
  2. - 3
  3. 2
  4. 1
ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: যদি (25)2x + 4 = 53x + 9 হয়, তবে x = কত?

সমাধান:
দেওয়া আছে,
⇒ (25)2x + 4 = 53x + 9
⇒ (52)2x + 4 = 53x + 9
 ⇒ 54x + 8 = 53x + 9
 ⇒ 4x + 8 = 3x + 9
⇒ 4x - 3x = 9 - 8
∴ x = 1

৮৬.
৫০০০ টাকার ৩ বছরের সরল সুদ ৭৫০ টাকা হলে, বার্ষিক শতকরা সুদের হার কত?
  1. ৫%
  2. ৪.৫%
  3. ৬%
  4. ৭.৫%
ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: ৫০০০ টাকার ৩ বছরের সরল সুদ ৭৫০ টাকা হলে, বার্ষিক শতকরা সুদের হার কত?

সমাধান:
দেওয়া আছে,
আসল = ৫০০০ টাকা
সময় = ৩ বছর
মুনাফা = ৭৫০ টাকা

আমরা জানি,
মুনাফার হার = (মুনাফা × ১০০)/(আসল × সময়)
= (৭৫০ × ১০০)/(৩ × ৫০০০)
= ৫

∴ বার্ষিক সুদের হার ৫%

৮৭.
∣2x + 2∣ < 6 অসমতাটির সমাধান কোনটি?
  1. 3 > x < 2
  2. - 4 < x < 2
  3. - 2 < x < 3
  4. 4 < x < 2
ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: ∣2x + 2∣ < 6 অসমতাটির সমাধান কোনটি?

সমাধান:
দেওয়া আছে,
∣2x + 2∣ < 6
⇒ - 6 < 2x + 2 < 6
⇒ - 6 - 2 < 2x < 6 - 2
⇒ - 8 < 2x < 4
⇒ - 4 < x < 2 [2 দ্বারা ভাগ করে] 

৮৮.
'ENGINEER' শব্দটির স্বরবর্ণগুলোকে একত্রে রেখে মোট কতভাবে সাজানো যাবে?
  1. 240
  2. 720
  3. 380
  4. 620
ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: 'ENGINEER' শব্দটির স্বরবর্ণগুলোকে একত্রে রেখে মোট কতভাবে সাজানো যাবে?

সমাধান:
'ENGINEER' শব্দটিতে মোট বর্ণ আছে 8 টি। যার মধ্যে Vowel আছে 4টি (তবে E আছে তিনটি)।
Vowel চারটিকে একটি ধরে মোট বর্ণ = 5টি (যার মধ্যে n আছে দুইটি)

∴ 5টি বর্ণকে সাজানো যায় = 5!/2! = 120/2 = 60
Vowel চারটিকে সাজানো যায় = 4!/3! = 4

∴ স্বরবর্ণগুলোকে একত্রে রেখে মোট সাজানো যাবে = 60 × 4 = 240

৮৯.
একটি সিলিন্ডারের বৃত্তীয় তলের ব্যাসার্ধ ৪ সে মি এবং উচ্চতা ৯ সে মি হলে, সিলিন্ডারের সমগ্র তলের ক্ষেত্রফল?
  1. ৯৬π বর্গ সে.মি.
  2. ১০৪π বর্গ সে.মি.
  3. ৭৮π বর্গ সে.মি.
  4. ২৬π বর্গ সে.মি.
ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: একটি সিলিন্ডারের বৃত্তীয় তলের ব্যাসার্ধ ৪ সে মি এবং উচ্চতা ৯ সে মি হলে,সিলিন্ডারের সমগ্র তলের ক্ষেত্রফল?

সমাধান: 
দেওয়া আছে,
সিলিন্ডারের ব্যাসার্ধ, r = ৪ সে.মি.
উচ্চতা, h = ৯ সে.মি.  

আমরা জানি,
সিলিন্ডারের সমগ্র তলের ক্ষেত্রফল = 2πr(r + h)
= ২π × ৪(৪ + ৯)
= ২π × ৫২
= ১০৪π বর্গ সে.মি.

৯০.
একজন দোকানদার (১৫/২)% ক্ষতিতে একটি দ্রব্য বিক্রয় করল। যদি দ্রব্যটির ক্রয়মূল্য ১০% কম হত এবং বিক্রয়মূল্য ৩১ টাকা বেশী হত, তাহলে তার ২০% লাভ হতো । দ্রব্যটির ক্রয়মূল্য কত?
  1. ৩৫০ টাকা
  2. ৫০০ টাকা
  3. ৭৮০ টাকা
  4. ২০০ টাকা
ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: একজন দোকানদার (১৫/২)% ক্ষতিতে একটি দ্রব্য বিক্রয় করল। যদি দ্রব্যটির ক্রয়মূল্য ১০% কম হত এবং বিক্রয়মূল্য ৩১ টাকা বেশী হত, তাহলে তার ২০% লাভ হতো । দ্রব্যটির ক্রয়মূল্য কত?

সমাধান:
ধরি, 
ক্রয়মূল্য = ক টাকা
৭.৫% ক্ষতিতে দ্রব্যটির বিক্রয়মূল্য = ৯২.৫ক/১০০ টাকা
১০% কমে দ্রব্যটির ক্রয়মূল্য = ৯০ক/১০০ টাকা

ক্রয়মূল্য ৯০ক/১০০ হলে,
২০% লাভে বিক্রয়মূল্য = (৯০ক/১০০) × (১২০/১০০) = ১০৮ক/১০০

প্রশ্নমতে,
(১০৮ক/১০০) - (৯২.৫ক/১০০) = ৩১
⇒ (১০৮ক - ৯২.৫ক)/১০০ = ৩১
⇒ ১৫.৫ক/১০০ = ৩১
⇒ ক = (৩১ × ১০০)/১৫.৫
∴ ক = ২০০ টাকা

 ∴ দ্রব্যটির ক্রয়মূল্য ২০০ টাকা।

৯১.
(2x - 1)(x + 3) = 2x(x + 1) হলে, x এর মান কত?
  1. 0
  2. 1
  3. - 2
  4. 2
ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: (2x - 1)(x + 3) = 2x(x + 1) হলে, x এর মান কত?

সমাধান:
দেওয়া আছে,
(2x - 1)(x + 3) = 2x(x + 1)
⇒ 2x2 + 6x - x - 3 = 2x2 + 2x
⇒ 2x2 + 5x - 3 = 2x2 + 2x
⇒ 2x2 + 5x - 3 - 2x2 - 2x = 0
⇒ 3x - 3 = 0
⇒ 3(x - 1) = 0
⇒ x - 1 = 0
∴ x = 1

৯২.
কোনো সমান্তর ধারার ১ম পদ - 5 এবং সাধারণ অন্তর 7 হলে ধারাটির n তম পদ কত?
  1. 7n + 12
  2. 7n - 5 
  3. 7n - 12
  4. 7n + 2
ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: কোনো সমান্তর ধারার ১ম পদ - 5 এবং সাধারণ অন্তর 7 হলে ধারাটির n তম পদ কত?

সমাধান:
সমান্তর ধারার ১ম পদ, a = - 5
সাধারণ অন্তর, d = 7
∴ n তম পদ = a + (n - 1)d
= - 5 + (n - 1)7
= - 5 + 7n - 7
= 7n - 12

৯৩.
কোনো একটি ত্রিভুজের দুইটি কোণের পরিমাণ ৩৪° ও ৫৬°। ত্রিভুজটি কোন ধরনের?
  1. স্থূলকোণী
  2. সমদ্বিবাহু সমকোণী
  3. সূক্ষ্মকোণী
  4. সমকোণী
ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: কোনো একটি ত্রিভুজের দুইটি কোণের পরিমাণ ৩৪° ও ৫৬°। ত্রিভুজটি কোন ধরনের?

সমাধান:
আমরা জানি,
ত্রিভুজের তিন কোণের সমষ্টি দুই সমকোণ বা ১৮০°

ধরি,
৩য় কোণটি ‘ক’

প্রশ্নমতে,
⇒ ৩৪° + ৫৬° + ক = ১৮০°
⇒ ৯০° + ক = ১৮০°
⇒ ক = ১৮০° - ৯০°
∴ ক = ৯০°

অর্থাৎ তৃতীয় কোণ ৯০°, যা একটি সমকোণ।
সুতরাং, ত্রিভুজটি একটি সমকোণী ত্রিভুজ।

৯৪.
যদি A, B-এর মা হন এবং B, D-এর বাবা হন তাহলে A এবং D-এর সম্পর্ক কী?
  1. বোন
  2. দাদি
  3. চাচি
  4. মা
ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: যদি A, B-এর মা হন এবং B, D-এর বাবা হন তাহলে A এবং D-এর সম্পর্ক কী?

সমাধান:
যদি A, B-এর মা হন এবং B, D-এর বাবা হন, তাহলে A হলেন D-এর দাদি।

কারণ,
A, B-এর মা, এর মানে হলো A হলেন B-এর জন্মদাত্রী।
B, D-এর বাবা, এর মানে হলো B হলেন D-এর জন্মদাতা।
সুতরাং, A হলেন D-এর বাবার মা, অর্থাৎ দাদি। 

৯৫.
যদি GAMES দিয়ে HBNFT বোঝায়, তাহলে SPORT দিয়ে নিচের কোনটি বোঝাবে?
  1. TQPSV
  2. TQPSU
  3. TQPRS
  4. TQPRU
ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: যদি GAMES দিয়ে HBNFT বোঝায়, তাহলে SPORT দিয়ে নিচের কোনটি বোঝাবে? 

সমাধান: 
প্রতিটি বর্ণ পরিবর্তিত হয়ে পরের বর্ণটি বসেছে। 
G → H
A → B
M → N
E → F
S → T

∴ SPORT → TQPSU

৯৬.
উপস্থিত বুদ্ধি কীসের জন্য সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ?
  1. সবসময় সঠিক পরিকল্পনা করে কাজ করার জন্য
  2. অতীত সম্পর্কে চিন্তা করার জন্য
  3. দ্রুত ও সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য
  4. ধীরে ধীরে সমস্যার সমাধান করার জন্য
ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: উপস্থিত বুদ্ধি কীসের জন্য সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ?

সমাধান:
উপস্থিত বুদ্ধি মানে হলো যেকোনো অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতিতে দ্রুত ও সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা।

তাই সঠিক উত্তর হলো-
গ) দ্রুত ও সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য।

৯৭.
Sword : Warrior : : Pen : ?
  1. Painter
  2. Poet
  3. Writer
  4. Singer
ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: Sword : Warrior : : Pen : ?

সমাধান:
Sword : Warrior : : Pen : Writer
অর্থাৎ,
তলোয়ার : যোদ্ধা : : কলম : লেখক

কারণ,
যোদ্ধার হাতিয়ার হলো তলোয়ার,
তেমনি লেখকের হাতিয়ার হলো কলম।

অর্থ,
Sword = তলোয়ার
Warrior = যোদ্ধা
Pen = কলম
Writer = লেখক

৯৮.
২৮০ মিটার দীর্ঘ একটি মালবাহী ট্রেন ঘণ্টায় ৭২ কিলোমিটার বেগে ৩০ সেকেন্ড একটি সেতু অতিক্রম করে। সেতুটির দৈর্ঘ্য কত?
  1. ৩২০ মিটার
  2. ৩৫০ মিটার
  3. ২৬০ মিটার
  4. ৪০০ মিটার
ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: ২৮০ মিটার দীর্ঘ একটি মালবাহী ট্রেন ঘণ্টায় ৭২ কিলোমিটার বেগে ৩০ সেকেন্ড একটি সেতু অতিক্রম করে। সেতুটির দৈর্ঘ্য কত?

সমাধান:
ট্রেনের বেগ = ৭২ কিলোমিটার/ঘণ্টা
= (৭২ × ১০০০)/৩৬০০ মিটার/সেকেন্ড
= ২০ মিটার/সেকেন্ড

∴ ১ সেকেন্ডে যায় = ২০ মিটার
 ∴ ৩০ সেকেন্ডে যায় (২০ × ৩০) = ৬০০ মিটার

 ∴ সেতুর দৈর্ঘ্য = ৬০০ - ২৮০ = ৩২০ মিটার

৯৯.
কামাল 10 কি.মি. উত্তরে যায়। তারপর সে 15 কি.মি. পূর্বদিকে যায় এবং তারপর 10 কি.মি. উত্তরে যায়। যাত্রাস্থান থেকে কামাল কত কি.মি. দূরত্বে আছে?
  1. 35 কি.মি.
  2. 25 কি.মি.
  3. 15 কি.মি.
  4. 17 কি.মি.
ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: কামাল 10 কি.মি. উত্তরে যায়। তারপর সে 15 কি.মি. পূর্বদিকে যায় এবং তারপর 10 কি.মি. উত্তরে যায়। যাত্রাস্থান থেকে কামাল কত কি.মি. দূরত্বে আছে?

সমাধান:
প্রদত্ত তথ্যগুলোকে চিত্রের মাধ্যমে সাজিয়ে পাই,

এখানে, 
DE = DC + CE = 10 + 10 = 20 কি.মি.

এখন, যাত্রাস্থান থেকে কামালের দূরত্ব, AD = √(AE2 + DE2
 = √(152 + 202) = √(225 + 400)
= √625
= 25 কি.মি. 

১০০.
UNWORTHY শব্দটিকে পানিতে কেমন দেখাবে?
  1. 1
  2. 2
  3. 3
  4. 4
ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: UNWORTHY শব্দটিকে পানিতে কেমন দেখাবে?

সমাধান:

সঠিক উত্তর - 1 নং

১০১.
‘রূপকথা’ কোন ফসলের জাত?
  1. ভুট্টা
  2. গম
  3. ধান
  4. আখ
ব্যাখ্যা

রূপকথা একটি ধানের জাত। এটি বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি) কর্তৃক উদ্ভাবিত একটি উচ্চ ফলনশীল ধান।

⇒ বিভিন্ন ফসলের উন্নত জাত:
- উন্নত জাতের গম: সোনালিকা, বলাকা, দোয়েল, অগ্রণী, আনন্দ, কাঞ্চন, শতাব্দী ও আকবর।
- উন্নত জাতের ধান: ইরাটম, ব্রি হাইব্রিড - ১, চান্দিনা, হীরা, মালা, বিপ্লব, দুলাভোগ, মোহিনী, সুফলা, আশা, প্রগতি। 
- উন্নত জাতের তামাক: সুমাত্রা ও ম্যানিলা।
- উন্নত জাতের ভুট্টা: বর্ণালী, শুভ্রা ও উত্তরণ।
- উন্নত জাতের আম: মহানন্দা, ল্যাংড়া, গোপালভোগ, হাড়িভাঙ্গা, ক্ষীরসাপাতি ও মােহনভােগ।
- উন্নত জাতের টমেটো: বাহার, মানিক, রতন, অপূর্ব, মিন্টো, ঝুমকা, সিঁদুর, শ্রাবণী।
- উন্নত জাতের মরিচ: যমুনা।
- উন্নত জাতের বেগুন: শুকতারা, নয়নতারা, তারাপুরী, ইসলামপুরী, কাজলা, বিজয়, মুক্তকেশী, ঝুমকো।
- উন্নত জাতের আলু: হিরা, আইলসা, পেট্রোনিস, মুল্টা, ডায়ামন্ট, কার্ডিনাল, মন্ডিয়াল, কুফরী সিন্দুরী, চমক, ধীরা, গ্রানোলা, ক্লিওপেট্রা ও চিনেলা।
- উন্নত জাতের তুলা: সিবি-১০, রূপালী, ডেলফোজ।
- উন্নত জাতের আনারস: জায়ান্ট কিউ, হানি কুইন, ঘোড়াশাল, জলঢুপি।

উৎস: কৃষি তথ্য সার্ভিস।

১০২.
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদ ‘সদস্যদের আসন শূন্য হওয়া’ সম্পর্কিত?
  1. ৬৭ (১) নং
  2. ৬৯ নং
  3. ৬৮ নং
  4. ৭০ (১) নং
ব্যাখ্যা

সদস্যদের আসন শূন্য হওয়া:
- বাংলাদেশের সংবিধানের ৬৭ (১) নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোন সংসদ-সদস্যের আসন শূন্য হবে, যদি -
- (ক) তার নির্বাচনের পর সংসদের প্রথম বৈঠকের তারিখ হতে নব্বই দিনের মধ্যে তিনি তৃতীয় তফসিলে নির্ধারিত শপথগ্রহণ বা ঘোষণা করিতে ও শপথপত্রে বা ঘোষণাপত্রে স্বাক্ষরদান করতে অসমর্থ হন: তবে শর্ত থাকে যে, অনুরূপ মেয়াদ অতিবাহিত হবার পূর্বে স্পীকার যথার্থ কারণে তা বর্ধিত করতে পারবেন;
(খ) সংসদের অনুমতি না নিয়ে তিনি একাদিক্রমে নব্বই বৈঠক-দিবস অনুপস্থিত থাকেন;
(গ) সংসদ ভেঙে যায়;
(ঘ) তিনি এই সংবিধানের ৬৬ অনুচ্ছেদের (২) দফার অধীন অযোগ্য হয়ে যান; অথবা
(ঙ) এই সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদে বর্ণিত পরিস্থিতির উদ্ভব হয়।
- ৬৭ (২) নং অনুচ্ছেদ- কোন সংসদ-সদস্য স্পীকারের নিকট স্বাক্ষরযুক্ত পত্রযোগে স্বীয় পদ ত্যাগ করতে পারবেন, এবং স্পীকার- কিংবা স্পীকারের পদ শূন্য থাকলে বা অন্য কোন কারণে স্পীকার স্বীয় দায়িত্ব পালনে অসমর্থ হলে ডেপুটি স্পীকার- যখন উক্ত পত্র প্রাপ্ত হন, তখন হতে উক্ত সদস্যের আসন শূন্য হবে।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।

১০৩.
ষষ্ঠ জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ অনুয়ায়ী, দেশে মোট সাক্ষরতার হার কত?
  1. ৭৬.৪৪%
  2. ৭৬.৮৪%
  3. ৭৪.৬৪%
  4. ৭৪.৮০%
ব্যাখ্যা

জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২:
- মোট জনসংখ্যা: ১৬,৯৮,২৮,৯১১ জন।
- জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার: ১.১২%।
- জনসংখ্যার ঘনত্ব: ১,১১৯ জন।
- দেশে পুরুষ ও নারীর অনুপাত: ৯৯.০৮ : ১০০.৯০।
- সাক্ষরতার হার: ৭৪.৮০%।
- পুরুষ সাক্ষরতার হার: ৭৬.৭১%।
- নারী সাক্ষরতার হার: ৭২.৯৪%।

⇒ সাক্ষরতার হার সবচেয়ে বেশি ঢাকা বিভাগে।
- সাক্ষরতার হার সবচেয়ে কম ময়মনসিংহ বিভাগে।
- সাক্ষরতার হার সবচেয়ে বেশি পিরোজপুর জেলায়।
- সাক্ষরতার হার সবচেয়ে কম জামালপুর জেলায়।

উৎস: জনশুমারি ও গৃহগণনা চূড়ান্ত রিপোর্ট ২০২২।

১০৪.
সম্প্রতি অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর যৌথ মহড়ার নাম কী? [আগস্ট, ২০২৫]
  1. রোয়ারিং টাইগার ২০২৫
  2. টাইগার লাইটনিং ২০২৫
  3. প্যাসিফিক ব্লু অ্যাঞ্জেল ২০২৫
  4. রোয়ার লাইটনিং ২০২৫
ব্যাখ্যা

টাইগার লাইটনিং-২০২৫:
- বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও যুক্তরাষ্ট্রের প্যাসিফিক আর্মি কমান্ডের ছয় দিনব্যাপী যৌথ সামরিক মহড়ার নাম ‘টাইগার লাইটনিং-২০২৫’।

⇒ এই মহড়া বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্যারা কমান্ডো ব্রিগেড ও যুক্তরাষ্ট্রের নেভাডা ন্যাশনাল গার্ডের যৌথ তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হয়েছে।
- এটি ২৫-৩০ জুলাই পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হয়েছে।

⇒ বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক নিরাপত্তা বিধান, সন্ত্রাস দমন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা এবং মানবিক সহায়তা বিষয়ে পারস্পরিক সহযোগিতা বিদ্যমান রয়েছে।
- বাংলাদেশ প্রাকৃতিক দুর্যোগসহ যেকোনো বৈশ্বিক হুমকি মোকাবিলায় বদ্ধপরিকর এবং যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্যান্য অংশীদারদের সঙ্গে সমবেতভাবে কাজ করে আসছে।
- এরই ধারাবাহিকতায় পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি, কৌশলগত যৌথ আভিযানিক সক্ষমতা উন্নয়ন এবং প্রস্তুতি জোরদার করার লক্ষ্য নিয়ে ২০২৫ সালে টাইগার লাইটনিং অনুশীলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
- এই মহড়ায় যুক্তরাষ্ট্রের নেভাডা ন্যাশনাল গার্ডের ৬৬ জন এবং বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্যারা কমান্ডো ব্রিগেডের ১০০ সদস্য অংশ নিয়েছে।

উৎস: প্রথম আলো।

১০৫.
বাংলাদেশে সরকার অনুমোদিত প্রথম Genetically Modified (GM) খাদ্য ফসল কোনটি?
  1. গোল্ডেন রাইস
  2. বিটি তুলা
  3. গোল্ডেন জুট
  4. বিটি বেগুন
ব্যাখ্যা

প্রথম Genetically Modified (GM) খাদ্য ফসল:
- জি. এম. বা জেনেটিক্যালি মডিফায়েড হলো উদ্ভিদের বা ফসলের জিনকে মডিফাই বা পরিবর্তন করে ঐ ফসলের ফলন বাড়ানো। আর এভাবে উৎপাদিত ফসলকে জি.এম. ফসল বলা হয়। 
- হাইব্রিড সব ফসলই জি.এম. ফসল। তবে এই ধরনের ফসল প্রাকৃতিক প্রতিরূপ ফসলের তুলনায় বিষাক্ত বা কম পুষ্টি হতে পারে।

⇒ বর্তমানে জেনেটিক মডিফিকেশনের মাধ্যমে বিভিন্ন ফসলের রোগ বালাই প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি ও উৎপাদনে উন্নয়ন সাধন করা সম্ভব হয়েছে। 
- বাংলাদেশে সরকার অনুমোদিত প্রথম জিনগতভাবে পরিবর্তন (GM) খাদ্য ফসল হলো বিটি বেগুন (Bt Brinjal)।
- এটি ২০১৪ সালে বাংলাদেশ সরকার কৃষকদের মাঝে বিতরণের জন্য অনুমোদন দেয়

⇒ Bt-বেগুন: 
- Bacillus thuringiensis নামক একটি সয়েল ব্যাকটেরিয়া থেকে ক্রিস্টাল প্রোটিন জিন বেগুনের জিনোমে অন্তর্ভুক্ত করে উৎপন্ন বেগুনের নাম দেয়া হয়েছে Bt-বেগুন।
- সাধারণ বেগুন ও Bt-বেগুনের মধ্যে পার্থক্য হলো এক প্রকার পোকা সাধারণ বেগুন গাছের কচি ডগা ও ফল ছিদ্র করে নষ্ট করে ফেলে যার ফলে ফলন দারুণভাবে হ্রাস পায়। 
- পোকার আক্রমণ থেকে ফসল রক্ষা করার জন্য কৃষককে প্রতি সিজনে ৬০-১৮০ বার পোকানাশক ওষুধ স্প্রে করতে হয়। 
- Bt-বেগুনে ঐ পোকার আক্রমণ হবে না, তাই পোকানাশক ওষুধও স্প্রে করতে হবে না।

⇒ Bt-বেগুন চাষের গুরুত্ব:
১। পোকানাশক ওষুধ কিনতে হবে না এবং স্প্রে করতে হবে না। এতে লক্ষ লক্ষ টাকা উৎপাদন খরচ কম হবে।
২। যারা বেগুন খান তারাও ঐ বিষ দ্বারা বিষক্রিয়ায় আক্রান্ত হবেন না এবং ক্যান্সারের ঝুঁকি থেকে বেঁচে যাবেন।
৩। মাটি ও পরিবেশ বিষমুক্ত থাকবে।
৪। আশেপাশের জলাশয় বিষমুক্ত থাকবে এবং জলজ পরিবেশের স্বাভাবিক উৎপাদন প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে।
৫। উৎপাদন বাড়বে।

উৎস: i) উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট। 

১০৬.
‘একাত্তরের ক্ষুদিরাম’ চলচ্চিত্রটির নির্মাতা কে?
  1. নাসির উদ্দিন ইউসুফ
  2. তারেক মাসুদ
  3. তানভীর মোকাম্মেল
  4. মান্নান হীরা
ব্যাখ্যা

একাত্তরের ক্ষুদিরাম:
- ‘একাত্তরের ক্ষুদিরাম’ চলচ্চিত্রটির নির্মাতা মান্নান হীরা। 

⇒ মান্নান হীরা রচিত ও পরিচালিত শিশুতোষ চলচ্চিত্র ‘একাত্তরের ক্ষুদিরাম’। 
- মুক্তিযুদ্ধের পটভূমি নিয়ে নির্মিত এই পূর্ণদৈর্ঘ্য শিশুতোষ চলচ্চিত্র।
- এতে অভিনয় করবেন মামুনুর রশীদ, ফজলুর রহমান বাবু, ড. ইনামুল হক, মোমেনা চৌধুরী, ছবি, ফিরোজ আল মামুন, সাজু প্রমুখ। শিশু শিল্পী চরিত্রে অভিনয় করবেন স্বচ্ছ, রুদ্র, শাকিল, অন্তরা, মধুমনি প্রমুখ।
- ২০১২-২০১৩ অর্থবছরে সরকারি অনুদানে চলচ্চিত্রটির নির্মাণ শুরু হয়। 

উৎস: প্রথম আলো।

১০৭.
বাংলাদেশের সংসদীয় সরকার ব্যবস্থা সংবিধানের কততম সংশোধনীর মাধ্যমে পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়?
  1. দশম
  2. দ্বাদশ
  3. পঞ্চদশ
  4. সপ্তদশ
ব্যাখ্যা

সংবিধানের দ্বাদশ সংশোধনী:
- এই সংশোধনী আইন পাস হয় ১৯৯১ সালের ৬ আগস্ট।
- এ সংশোধনীর মূল প্রতিপাদ্য বিষয় হল রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার ব্যবস্থার পরিবর্তে মন্ত্রিপরিষদ শাসিত সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তন।
- ১৯৯১ সালের ৬ই আগস্ট ৩০৭-০ ভোটে এ সংশোধনী বিলটি গৃহীত হয়।

⇒ এ সংশোধনীর বৈশিষ্ট্য:
(১) সংসদীয় সরকার: দ্বাদশ সংশোধনীর প্রধান দিক হল সংসদীয় সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তন। এ সংশোধনীর দ্বারা বাংলাদেশের সরকার পদ্ধতি পরিবর্তন করা হয়। রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার ব্যবস্থার পরিবর্তে সংসদীয় সরকার পদ্ধতি প্রবর্তন করা হয়।
(২) নামমাত্র রাষ্ট্রপতি: এ সংশোধনীর দ্বারা বাংলাদেশে একজন নামমাত্র রাষ্ট্রপতি ব্যবস্থা প্রবর্তন করা হয়। তিনি আইনানুসারে সংসদ সদস্য দ্বারা নির্বাচিত হবেন। তিনি যাবতীয় বিষয় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে পরামর্শক্রমে কাজ করবেন।
(৩) রাষ্ট্রপতির মেয়াদ: এ সংশোধনীর মাধ্যমে রাষ্ট্রপতির মেয়াদ নির্ধারিত হয়। রাষ্ট্রপতি ৫ বছরের জন্য নির্বাচিত হবেন। একাধিক্রমে তিনি ১০ বছরের বেশি মেয়াদে ক্ষমতায় থাকবেন না।
(৪) উপ-রাষ্ট্রপতির পদ বিলোপ: উপ-রাষ্ট্রপতির পদ বিলোপ দ্বাদ্বশ সংশোধনীর একটি উল্লেখযোগ্য দিক। দ্বাদশ সংশোধনীর দ্বারা উপ-রাষ্ট্রপতির পদটি বিলোপ করা হয়। এ সংশোধনীতে বলা হয়, কোন কারণে রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে জাতীয় সংসদের স্পীকার অস্থায়ীভাবে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন।
(৫) মন্ত্রিসভা গঠন: মন্ত্রিসভা গঠন পদ্ধতি সংবিধানের দ্বাদশ সংশোধনীর একটি বিশেষ দিক। এ সংশোধনীতে বলা হয় বাংলাদেশ সরকার ব্যবস্থায় একটি মন্ত্রিসভা থাকবে। রাষ্ট্রপতি সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের আস্থাভাজন ব্যক্তিকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিযুক্ত করবেন। তিনি হবেন এ মন্ত্রিসভার নেতা।
(৬) গণভোট পদ্ধতি: এ সংশোধনীতে গণভোট পদ্ধতির কথা বলা হয়। দ্বাদশ সংশোধনী দ্বারা কেবল প্রস্তাবনা, সংবিধানের প্রস্তাবনা, অনুচ্ছেদ ৮, ৪৮, ৫৬ ও ১৪২ সংক্রান্ত কোন সংশোধনী বিল গণভোট আকারে পেশ করার বিধান রাখা হয়।

উৎস: i) BBC.
ii) বাংলাদেশের রাজনৈতিক উন্নয়ন, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১০৮.
মীর শওকত আলী মুক্তিযুদ্ধের কত নম্বর সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার ছিলেন?
  1. ২ নং
  2. ৪ নং
  3. ৫ নং
  4. ৯ নং
ব্যাখ্যা

মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর:
= ৫নং সেক্টর:
- সিলেট জেলার দুর্গাপুর থেকে ডাউকি (তামাবিল) এবং জেলার পূর্বসীমা পর্যন্ত বিস্তৃত এলাকা নিয়ে গঠিত।
- সদরদপ্তর: বাঁশতলা।
- সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর মীর শওকত আলী।

এছাড়াও,
= ১নং সেক্টর:
- চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রাম জেলা এবং নোয়াখালী জেলার সমগ্র পূর্বাঞ্চল বেলোনিয়া বুলগের মুহুরী নদীর তীরে নিয়ে গঠিত।
- বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রব।
- সদরদপ্তর: হরিণা।
- সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর জিয়াউর রহমান, পরে মেজর রফিকুল ইসলামের স্থলাভিষিক্ত হন।

= ২নং সেক্টর:
- ঢাকা, কুমিল্লা এবং ফরিদপুর জেলা এবং নোয়াখালী জেলার অংশ নিয়ে গঠিত।
- সদরদপ্তর: মেলাঘর।
- সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর খালেদ মোশাররফ, পরে মেজর এটিএম হায়দারের স্থলাভিষিক্ত হন।

= ৩নং সেক্টর:
- উত্তরে চূড়ামনকাঠি (শ্রীমঙ্গলের নিকট) থেকে সিলেট এবং দক্ষিণে ব্রাহ্মণবাড়ীয়ার সিঙ্গারবিল পর্যন্ত এলাকা নিয়ে গঠিত হয়।
- সদরদপ্তর: হেজামারা।
- সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর কে এম শফিউল্লাহ, পরে মেজর এএনএম নুরুজ্জামানের স্থলাভিষিক্ত হন।

= ৪ নং সেক্টর:
- উত্তরে সিলেট জেলার হবিগঞ্জ মহকুমা থেকে দক্ষিণে কানাইঘাট থানা পর্যন্ত ১০০ মাইল বিস্তৃত সীমান্ত এলাকা নিয়ে গঠিত।
- সদরদপ্তর: প্রথমে করিমগঞ্জে এবং পরে আসামের মাসিমপুর।
- বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান।
- সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর চিত্তরাজন দত্ত, পরে ক্যাপ্টেন এ রবের স্থলাভিষিক্ত হন।

= ৬নং সেক্টর:
- সমগ্র রংপুর জেলা এবং দিনাজপুর জেলার ঠাকুরগাঁও মহকুমা নিয়ে গঠিত। প্রধানত রংপুর ও দিনাজপুরের ইপিআর বাহিনী নিয়ে এই সেক্টর গঠিত হয়।
- সদরদপ্তর: বুড়ি মাড়ি (বাংলাদেশের ভূখণ্ডের অভ্যন্তরে একমাত্র সদর দপ্তর)।
- সেক্টর কমান্ডার ছিলেন উইং কমান্ডার এম খেদেমুল বাশার।

= ৭নং সেক্টর:
-রাজশাহী, পাবনা, বগুড়া এবং দিনাজপুর জেলার দক্ষিণাংশ নিয়ে গঠিত হয়।
- বীরশ্রেষ্ঠ মহিউদ্দীন জাহাঙ্গীর।
- সদরদপ্তর: তরঙ্গপুর।
- সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর নজরুল হক, পরে সুবেদার মেজর এ রব এবং মেজর কাজী নুরুজ্জামানের স্থলাভিষিক্ত হন।

= ৮নং সেক্টর:
- কুষ্টিয়া, যশোর থেকে খুলনা, সাতক্ষীরা,
- বীরশ্রেষ্ঠ মোস্তফা কামাল,
- বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ শেখ।
- সদরদপ্তর: কল্যাণী।
- সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর আবু ওসমান চৌধুরী, পরে মেজর এম এ মঞ্জুর স্থলাভিষিক্ত হন।

= ৯নং সেক্টর:
- বরিশাল ও পটুয়াখালি জেলা এবং খুলনা ও ফরিদপুর জেলার অংশবিশেষ নিয়ে গঠিত।
- সদরদপ্তর: বশিরহাট।
- সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর এম জলিল, পরে মেজর এম এ মঞ্জুর এবং মেজর জয়নাল আবেদীনের স্থলাভিষিক্ত হন।

= ১০নং সেক্টর:
- সকল নৌপথ ও সমুদ্র উপকূলীয় অঞ্চল,
- বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিন।

= ১১নং সেক্টর:
- টাঙ্গাইল জেলা এবং কিশোরগঞ্জ মহকুমা ব্যতীত সমগ্র ময়মনসিংহ জেলা নিয়ে গঠিত।
- সদরদপ্তর: মহেন্দ্রগঞ্জ।
- সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর এম আবু তাহের।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

১০৯.
বর্তমানে দেশে সরকারিভাবে মোট কয়টি স্থলবন্দর রয়েছে? [আগস্ট, ২০২৫]
  1. ১৬টি
  2. ২০টি
  3. ২২টি
  4. ২৪টি
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ:
- স্থলপথে পণ্য আমদানি-রপ্তানি সহজতর এবং উন্নতর করাই বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের লক্ষ্য।
- বর্তমানে দেশে সরকারিভাবে মোট ২৪টি স্থলবন্দর রয়েছে।
- উল্লেখ্য, এর মধ্যে চলমান স্থলবন্দরের সংখ্যা ১৬টি।

⇒ ১৬টি স্থলবন্দরের মধ্যে ১১টি স্থলবন্দর যেমন বেনাপোল, ভোমরা, আখাউড়া, বুড়িমারী, নাকুগাঁও, তামাবিল, সোনাহাট, গোবড়াকুড়া-কড়ইতলী, বিলোনিয়া, শেওলা ও ধানুয়াকামালপুর স্থলবন্দর বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের (বাস্থবক) নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত হচ্ছে এবং সোনামসজিদ, হিলি, টেকনাফ, বাংলাবান্ধা ও বিবিরবাজার এই ৫টি স্থলবন্দর BOT ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে।
- এছাড়া রামগড় ও বাল্লা এই ২টি স্থলবন্দর চালুর জন্য অপেক্ষাধীন রয়েছে।

⇒ বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ (বিএসবিকে) প্রতিষ্ঠিত হয় ২০০১ সালে।
- স্বায়ত্তশাসিত এ প্রতিষ্ঠানটি নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ।

উৎস: বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ ওয়েবসাইট।

১১০.
ব্যাংক কোম্পানি আইন কত সালে কার্যকর হয়?
  1. ১৯৮১ সালে
  2. ১৯৯০ সালে
  3. ১৯৯১ সালে
  4. ১৯৯৯ সালে
ব্যাখ্যা

ব্যাংক-কোম্পানী আইন:
- ব্যাংক কোম্পানি আইন ১৯৯১ সালে কার্যকর হয়।

⇒ ব্যাংক কোম্পানী আইন, ১৯৯১ বাংলাদেশে ব্যাংকিং খাতের নিয়ন্ত্রণ, পরিচালনা এবং কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণের জন্য প্রণীত একটি আইন।
- এটি ব্যাংক-কোম্পানীগুলোর কার্যক্রম, শেয়ার, পরিচালনা পর্ষদ, লাইসেন্স, নিরীক্ষা এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের ক্ষমতার বিষয়ে বিধান প্রদান করে।
- উদ্দেশ্য: ব্যাংক-কোম্পানীগুলোর কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা এবং জনস্বার্থ রক্ষা এবং ব্যাংকিং ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও দক্ষতা বৃদ্ধি। 

উল্লেখ্য,
- ২০২৩ সালে এই আইনের অধিকতর সংশোধন করা হয়েছে, যাতে ব্যাংকিং ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক ও স্বচ্ছ করা হয়।

উৎস: বাংলাদেশ ব্যাংক ওয়েবসাইট।

১১১.
কোনটি সাংবিধানিক পদ নয়?
  1. চেয়ারম্যান, পাবলিক সার্ভিস কমিশন
  2. মহা হিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক
  3. প্রধান নির্বাচন কমিশনার
  4. চেয়ারম্যান, মানবাধিকার কমিশন
ব্যাখ্যা

চেয়ারম্যান, মানবাধিকার কমিশন সাংবিধানিক পদ নয়।

সাংবিধানিক পদ:

- সংবিধান হলো গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আইন।
- সাংবিধানিক উপায়ে যে সকল প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করা হয় তাকে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান বলে।
- সংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠা, পদের মেয়াদ, পদমর্যাদা, পদত্যাগ ও অপসারণ পদ্ধতি এবং দায়িত্ব সংবিধানে সুনির্দিষ্ট ও সুষ্পষ্টভাবে লিপিবদ্ধ রয়েছে।
- বাংলাদেশের সংবিধানের তৃতীয় তফসিল সাংবিধানিক পদের উল্লেখ রয়েছে।

সাংবিধানিক পদ:
১। রাষ্ট্রপতি।
২। প্রধানমন্ত্রী এবং অন্যান্য মন্ত্রী, প্রতি-মন্ত্রী ও উপমন্ত্রী।
৩। স্পীকার।
৩। ডেপুটি স্পীকার।
৫। সংসদ সদস্য।
৬। প্রধান বিচারপতি।
৭। প্রধান নির্বাচন কমিশনার।
৮। মহা হিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক
৯। সরকারী কর্ম কমিশনের সদস্য।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।

১১২.
একটি চেকের বৈধতার মেয়াদ কত দিন?
  1. ৩ মাস
  2. ৬ মাস
  3. ১ বছর
  4. ২ বছর
ব্যাখ্যা

চেক বুক:
- চেক বা Cheque হলো বিশেষভাবে মুদ্রিত এক ধরনের কাগজ যা Bank কর্তৃক গ্রাহকের হিসাবের বিপরীতে ইস্যু করা হয়ে থাকে।
- চেক একটি হস্তান্তরযোগ্য দলিল।
- ব্যাংক সাধারণত গ্রাহক বরাবর চেক প্রদান করে।
- ব্যক্তিগত ও বাণিজ্যিক প্রয়োজনে গ্রাহক সেই চেক ইস্যু করতে পারেন।

⇒ বাংলাদেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী  একটি চেকের বৈধতার মেয়াদ সাধারণত ইস্যু করার তারিখ থেকে ৬ মাস (১৮০ দিন) পর্যন্ত হয়ে থাকে। 
- এরপর আর উক্ত চেকের মাধ্যমে টাকা তোলা যাবে না। 
- তারিখ পরিবর্তন করে প্রস্তুতকারকের স্বাক্ষরের মাধ্যমে আবার টাকা উত্তোলন করা যায়।

উৎস: i) জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
ii) ফিন্যান্স, ব্যাংকিং ও বিমা দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১১৩.
বর্তমানে বাংলাদেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রপ্তানি আয়ের উৎস কোনটি? [আগস্ট, ২০২৫]
  1. চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য
  2. চা 
  3. চিংড়ি 
  4. পাটজাত পণ্য
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের শীর্ষ রপ্তানি খাত:
- বাংলাদেশের শীর্ষ রপ্তানি খাত হলো তৈরি পোশাক।
- রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) পরিসংখ্যান অনুসারে, তৈরি পোশাকের পর দ্বিতীয় শীর্ষ রপ্তানি খাত চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য। 

⇒ ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৪ হাজার ৮২৮ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছিল। 
- ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম মাসে মোট রপ্তানির মধ্যে তৈরি পোশাকের হিস্যা ৮৩ শতাংশ। এই সময়ে রপ্তানি হয়েছে ৩৯৬ কোটি ডলারের তৈরি পোশাক। 
- তৈরি পোশাকের পর দ্বিতীয় শীর্ষ রপ্তানি খাত চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম মাসে ১২ কোটি ৭৪ লাখ ডলারের চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য রপ্তানি হয়েছে।
- ৩য় শীর্ষ রপ্তানি খাত কৃষি প্রক্রিয়াজাত পণ্য। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম মাসে কৃষি প্রক্রিয়াজাত পণ্যের রপ্তানি ৯ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে।

উৎস: i) রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি)।
ii) প্রথম আলো। [link]

১১৪.
প্রথম স্বীকৃতিপ্রাপ্ত বাংলাদেশের জিআই পণ্য কোনটি?
  1. ইলিশ 
  2. মসলিন 
  3. জামদানি শাড়ি
  4. বাগদা চিংড়ি
ব্যাখ্যা

জিআই পণ্য:
- জিআই (GI) এর পূর্ণরূপ হলো (Geographical indication) ভৌগলিক নির্দেশক। 
- WIPO (world intellectual property organization) হলো জিআই পণ্যের স্বীকৃতি দানকারী প্রতিষ্ঠান।
- কোনো একটি দেশের নির্দিষ্ট ভূখণ্ডের মাটি, পানি, আবহাওয়ার প্রেক্ষাপটে সেখানকার জনগোষ্ঠীর সংস্কৃতি যদি কোনো একটি পণ্য উৎপাদনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে, তাহলে সেটিকে সেই দেশের জিআই পণ্য হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়।
- অর্থাৎ সেই পণ্য শুধু ওই এলাকা ছাড়া অন্য কোথাও উৎপাদন করা সম্ভব নয়।
- দেশে ভৌগোলিক নির্দেশক পণ্য (নিবন্ধন ও সুরক্ষা) আইন পাস হয় ২০১৩ সালে।

⇒ দেশের প্রথম স্বীকৃতিপ্রাপ্ত জিআই পণ্য জামদানি শাড়ি।
- ২০১৬ সালে দেশের প্রথম ভৌগোলিক নির্দেশক পণ্য (জিআই) হিসেবে নিবন্ধন পায় জামদানি।

উৎস: i) পেটেন্ট, ডিজাইন ও ট্রেডমার্কস অধিদপ্তর ওয়েবসাইট।
ii) প্রথম আলো।

১১৫.
গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ [Representation of the People's Order (RPO)] প্রথম কত সালে প্রণয়ন করা হয়?
  1. ১৯৭২ সালে
  2. ১৯৭৩ সালে
  3. ১৯৭৪ সালে
  4. ১৯৭৫ সালে
ব্যাখ্যা

RPO:
- RPO-এর পূর্ণরূপ: Representation of People Order.
- বাংলাদেশে সংবিধানের আওতায় নির্বাচন সংশ্লিষ্ট যতগুলো আইন আছে তার মধ্যে নির্বাচন পরিচালনা সংক্রান্ত মূল আইন হলো আরপিও বা গণপ্রতিনিধিত্ব আইন।
-  বাংলাদেশের স্বাধীনতা পরবর্তীতে সংবিধান তৈরির পর নির্বাচন পরিচালনার জন্য প্রথমবারের মতো আরপিও বা গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ ১৯৭২ প্রণয়ন করা হয়েছিলো। 

⇒ বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের পর সংসদ কার্যকর না থাকায় ১৯৭২ সালের ২৬ ডিসেম্বর রাষ্ট্রপতি গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ জারি করেছিলেন।
- এটি ছিল ওই বছর রাষ্ট্রপতির ১৫৫ নম্বর আদেশ।
- ১৯৭৩ সালে নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত জাতীয় সংসদে আদেশটি অনুমোদন পায়।
- পরে বিভিন্ন সময়ে জাতীয় সংসদ আরপিও সংশোধনও করেছে।
- বাংলাদেশের সব কয়টি নির্বাচন হয়েছে ১৯৭২ সালে জারি করা রাষ্ট্রপতির আদেশ দ্য রিপ্রেজেন্টেশন অব দ্য পিপল অর্ডার, ১৯৭২ (আরপিও) অনুযায়ী।
- এটি গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ নামে পরিচিত।

⇒ ২০২৩ সালে সর্বশেষ সংসদে পাশ হয়েছে গণপ্রতিনিধিত্ব (সংশোধন) আইন ২০২৩।
- গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ অনুসারে যে কোন নিবন্ধিত দলের ন্যুনতম এক-তৃতীয়াংশ জেলা (২১ জেলা) ও ১০০ উপজেলায় অফিস থাকতে হবে। আর অন্তত ১০০টি উপজেলা বা মেট্রোপলিটন এলাকার থানায় অফিস থাকতে হবে, যার প্রতিটিতে সদস্য হিসেবে কমপক্ষে ২০০ জন ভোটার থাকবে।
- কোনো দল পরপর তিন বছর তথ্য সরবরাহে ব্যর্থ হলে নিবন্ধন বাতিল হবে।

উৎস: i) বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন ওয়েবসাইট।
ii) বিবিসি।

১১৬.
২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশের রপ্তানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা কত?
  1. ৪৬.৫ বিলিয়ন ডলার
  2. ৬৩.৫ বিলিয়ন ডলার
  3. ৫২.৫ বিলিয়ন ডলার
  4. ৭৫.৫ বিলিয়ন ডলার
ব্যাখ্যা

রপ্তানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা:
- ২০২৫-২৬ অর্থবছরে রপ্তানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ৬৩.৫ বিলিয়ন ডলার।
- এই লক্ষ্যমাত্রা ২০২৪-২৫ অর্থবছরের রপ্তানি আয়ের তুলনায় ১৬.৫ শতাংশ বেশি।

⇒ ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বিশ্ববাজারে পণ্য ও সেবা রপ্তানি করে ৬৩.৫ বিলিয়ন ডলার আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার। 
- এর মধ্যে পণ্য থেকে ৫৫ বিলিয়ন ডলার আর সেবা থেকে ৮.৫ বিলিয়ন ডলার আয় হবে বলে সরকার আশা করছে। 
- ১২ আগস্ট, ২০২৫ তারিখে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবর রহমান এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানিয়েছেন।

⇒ তিনি বলেন, পণ্যের মধ্যে তৈরি পোশাকের ওভেন খাত থেকে ২০.৭৯ বিলিয়ন ডলার ও নিট পোশাক থেকে ২৩.৭০ বিলিয়ন ডলার, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য থেকে ১.২৫ বিলিয়ন ডলার, পাট ও পাটপণ্য থেকে ৯০০ মিলিয়ন ডলার এবং কৃষিপণ্য থেকে ১.২১ বিলিয়ন ডলার রপ্তানি আয় হবে বলে মনে করছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। 

উৎস: The Business Standard. [link]

১১৭.
লেফটেন্যান্ট জেনারেল এরশাদ কত সালে দেশে সামরিক আইন জারি করে?
  1. ১৯৮১ সালে
  2. ১৯৮২ সালে
  3. ১৯৮৩ সালে
  4. ১৯৮৪ সালে
ব্যাখ্যা

১৯৮২ খ্রিস্টাব্দে সামরিক আইন জারি:
- ১৯৮১ সালে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান নিহত হওয়ার পর উপ রাষ্ট্রপতি বিচারপতি আবদুস সাত্তার অস্থায়ী রাষ্ট্রপতির দায়িত্বভার গ্রহণ করেন।
- বিচারপতি সাত্তার নির্বাচিত হওয়ার মাত্র চার মাসের মধ্যে ১৯৮২ সালে ২৪ মার্চ সেনাবাহিনীর প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল এরশাদের নেতৃত্বে সেনাবাহিনী ক্ষমতা দখল করে।
- রাষ্ট্রপতি বিচারপতি সাত্তার অপসারিত হন।
- এরশাদ নিজেকে প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক হিসেবে ঘোষণা করেন।
- একই সঙ্গে সংবিধান স্থগিত, জাতীয় সংসদ বাতিল এবং মন্ত্রিপরিষদ ভেঙ্গে দেয়া হয়।
- ১৯৮২ সালে এরশাদ সরকার দেশে সামরিক আইন জারি করেন।
- সামরিক সরকার দেশে সকল প্রকার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করে।

⇒ টানা ৯ বছর আন্দোলনের পর এ বিশ্ববিদ্যালয়ে গড়ে ওঠা সর্বদলীয় ছাত্র ঐক্যের দুর্বার আন্দোলনেই পতন ঘটে স্বৈরশাসক এরশাদের।
- অবশেষে ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর ক্ষমতা ছেড়ে দিতে বাধ্য হন এরশাদ।

উৎস: i) ইতিহাস ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) বিবিসি বাংলা।

১১৮.
‘মোহামেডান লিটারারি সোসাইটি' কে প্রতিষ্ঠা করেন?
  1. নওয়াব আবদুল লতিফ
  2. সৈয়দ আমির আলী
  3. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  4. রামমোহন রায়
ব্যাখ্যা

নওয়াব আবদুল লতিফ:
- নওয়াব আবদুল লতিফ ১৮৬৩ সালে কলকাতায় ‘মোহামেডান লিটারারি সোসাইটি' বা ‘মুসলিম সাহিত্য সমাজ' নামে একটি সমিতি প্রতিষ্ঠা করেন।
- আধুনিক শিক্ষা সম্পর্কে মুসলমানদের মধ্যে জনমত তৈরি এবং তাদেরকে পরিবর্তিত অবস্থা সম্পর্কে সচেতন করাই ছিল এ সমিতি প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্য।
- ‘মুসলিম সাহিত্য সমাজ' রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান ছিল না।
- তবে এর মাধ্যমে মুসলমানদের ন্যায়সংগত দাবি ও আশা-আকাঙ্ক্ষার কথা সরকারের কাছে তুলে ধরে তা পূরণের চেষ্টা করা হতো।
- ফলে মুসলিম সমাজে শিক্ষিত মধ্যবিত্ত শ্রেণী গড়ে ওঠে।

উল্লেখ্য,
- নওয়াব আবদুল লতিফ ছিলেন মুসলমানদের জাগরণের অন্যতম স্থপতি।
- ১৮২৮ সালে ফরিদপুর জেলার রাজাপুর গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
- নওয়াব আবদুল লতিফ ১৮৪৯ সালে ‘ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট' পদে যোগ দেন এবং ১৮৭৭ সালে ‘প্রেসিডেন্সী ম্যাজিস্ট্রেট' হিসেবে পদোন্নতি লাভ করেন।
- ১৮৮৪ সালে বিশেষ পেনশন সুবিধাসহ সরকারি চাকরি হতে অবসর নেন।
- তাঁর নিষ্ঠা ও দক্ষতা এবং সেন্ট্রাল মোহামেডান অ্যাসোসিয়েশনজনহিতকর কার্যের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৮৬২ সালে তাঁকে বঙ্গীয় আইন পরিষদের সদস্য মনোনীত করা হয়। মুসলমানদের মধ্যে তিনিই প্রথম এ গৌরবের অধিকারী।
- ইংরেজদের প্রতি আনুগত্য এবং মুসলমান সমাজের প্রতি তাঁর অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে সরকার ১৮৭৭ সালে তাঁকে 'খান বাহাদুর’, ১৮৮০ সালে ‘নওয়াব’, ১৮৮৩ সালে সি.আই.ই. এবং ১৮৮৭ সালে উচ্চতর সম্মানের প্রতীক ‘নওয়াব বাহাদুর’ উপাধিতে ভূষিত করে ।
- ১৮৬০ সালে সরকার কর্তৃক 'নীল কমিশন গঠনের পেছনে তাঁর ভূমিকা ছিল।
- ১৮৯৩ সালের ১০ জুলাই নওয়াব আবদুল লতিফ মৃত্যুবরণ করেন।

উৎস: ইতিহাস, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১১৯.
বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইনস্টিটিউট কোথায় অবস্থিত?
  1. ঢাকা 
  2. ফরিদপুর 
  3. গাজীপুর 
  4. চাঁদপুর
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইনস্টিটিউট:
- বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইনস্টিটিউট ঢাকায় অবস্থিত।

⇒ বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিজেআরআই) দেশের অন্যতম প্রাচীন গবেষণা প্রতিষ্ঠান।
- পাটের উন্নয়ন সংক্রান্ত গবেষণা পরিচালনার উদ্দেশ্যে ১৯৫১ সালে বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইনস্টিটিউট(বিজেআরআই) প্রতিষ্ঠিত হয়।
- বর্তমানে বিজেআরআই পাট ও পাট জাতীয় আঁশ ফসলের কৃষি গবেষণা, কারিগরী গবেষণা এবং পাট হতে টেক্সটাইল পণ্য উদ্ভাবন সংক্রান্ত গবেষণা পরিচালনা করে থাকে।
- রাজধানী ঢাকার প্রাণকেন্দ্র, শেরে বাংলা নগরের মানিক মিয়া এভিনিউতে বিজেআরআই এর প্রধান কার্যালয় অবস্থিত।

উল্লেখ্য,
- ১৯০৪ সালে স্যার আর.এস. ফিনলো'র নেতৃত্বে ঢাকায় প্রথম পাটের গবেষণা শুরু হয়।
- বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭৪ সালে এ্যাক্টের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হয় বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিজেআরআই)।
- পাটের অঞ্চল ভিত্তিক কৃষি গবেষণার জন্য মানিকগঞ্জে পাটের কেন্দ্রীয় কৃষি পরীক্ষণ স্টেশন।
- রংপুর, ফরিদপুর, কিশোরগঞ্জ ও চান্দিনায় (কুমিল্লা) চারটি আঞ্চলিক পাট গবেষণা কেন্দ্র।
- তারাবো (নারায়নগঞ্জ), মনিরামপুর (যশোর) ও কলাপাড়ায় (পটুয়াখালী) তিনটি পাট গবেষণা উপকেন্দ্র।
- নশিপুরে (দিনাজপুর) একটি পাট বীজ উৎপাদন ও গবেষণা কেন্দ্র রয়েছে।

উৎস: বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইনস্টিটিউট ওয়েবসাইট।

১২০.
কোনটির মাধ্যমে মুদ্রাস্ফীতি বন্ধ হয়?
  1. পণ্যের দাম কমা
  2. মূলধনের জোগান কমা
  3. মুনাফার হার কমা
  4. সরকারি ব্যয় হ্রাস
ব্যাখ্যা

মুদ্রাস্ফীতি:
- যদি পণ্যের তুলনায় মুদ্রার সরবরাহ অনেক বেড়ে যায় অর্থাৎ দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক অতিরিক্ত মাত্রায় টাকা ছাপায় তখনই মুদ্রাস্ফীতি ঘটে।
- বাজারে উৎপাদনের তুলনায় মুদ্রার সরবরাহ বেড়ে গেলে মুদ্রাস্ফীতি ঘটে। অর্থাৎ মুদ্রাস্ফীতি হলো মুদ্রার সরবরাহ বৃদ্ধি।
- এতে করে টাকা তথা মুদ্রার মান হ্রাস পায়, পক্ষান্তরে দ্রব্যের মূল্য বৃদ্ধি পায়।
- একই পরিমাণ পণ্য ক্রয়ে পূর্বাপেক্ষা অধিক অর্থ ব্যয় হয়।
- উৎপাদনের তুলনায় বাজারে মুদ্রার সরবরাহ কমে গেলে মুদ্রা সংকোচন ঘটে।

⇒ মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রনের উপায়:
- মুদ্রাস্ফীতি দূর করতে হলে অর্থের পরিমাণ কমাতে হবে। এ অর্থের পরিমাণ কমাতে হলে ব্যাংক সৃষ্ট ঋণের পরিমাণও কমাতে হবে। 
- মুদ্রাস্ফীতি ব্যবধান দূর করতে হলে সরকারি ব্যয় হ্রাস করতে হবে।
- মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের জন্য সরকার পণ্যসামগ্রীর দামের সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারণ করে দিতে পারে। এভাবে পণ্যসামগ্রীর সর্বোচ্চ বিক্রয়মূল্য বেধে দেওয়া হলে দামস্তর একটি নির্দিষ্ট পর্যায়ে সীমাবদ্ধ রাখা সম্ভব হয়।
- মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের জন্য ন্যায্যমূল্যে ভোগ্যপণ্য সরবরাহের জন্য সরকার 'ন্যায্য মূল্যের বিক্রয় কেন্দ্র' স্থাপন করতে পারে। এছাড়া সরকার রেশনিং ব্যবস্থা চালু করতে পারে।
- মুদ্রাস্ফীতির সময় শ্রমিকগণ মজুরির হার বাড়ানোর জন্য চাপ প্রয়োগ করে। তাদের অধিক মজুরি দেয়ার ফলে উৎপাদন ব্যয় এবং মূল্যস্তর বেড়ে যায়; তখন শ্রমিকেরা পুনরায় মজুরি বৃদ্ধির দাবি করে।
- অত্যাবশ্যক দ্রব্যাদির মূল্য নিয়ন্ত্রণ ও রেশনিং ব্যবস্থা চালু করে মুদ্রাস্ফীতির চাপ কিছুটা কমানো যেতে পারে।
- মুদ্রাস্ফীতি চরম আকার ধারণ করলে অনেক সময় পুরাতন মুদ্রা পরিত্যাগ করে নতুন মুদ্রার প্রচলন করা হয়। কোন কোন সময় বেশি মূল্যের নোটকে অচল করে দেওয়া হয়।
- করের পরিমাণ বৃদ্ধি করা হলে জনগণের ব্যয়যোগ্য আয় হ্রাস পায়। এর ফলে ভোগব্যয় কমে আসে। এ অবস্থায় সামগ্রিক চাহিদা হ্রাস পাবে। এর ফলে দ্রব্যমূল্য কমবে ও চলতি আয় হ্রাস পেয়ে পূর্ণ নিয়োগ স্তরে ফিরে আসবে এবং মুদ্রাস্ফীতি ব্যবধান দূর হবে।
- বাণিজ্যিক ব্যাংকসমূহ সুদের হার বাড়লে বিনিয়োগ চাহিদা হ্রাস পায়। এর ফলে বিনিয়োগ সংকুচিত হয় এবং সামগ্রিক চাহিদা হ্রাস পায়। এভাবে সামগ্রিক চাহিদা হ্রাস পেলে মুদ্রাস্ফীতি ব্যবধান দূরীভূত হয়।
- মুদ্রাস্ফীতি ব্যবধান দূরীকরনের অন্যতম উপায় হল বিদেশ থেকে আমদানি বৃদ্ধি। এ ক্ষেত্রে দেশীয় পণ্যের যোগান বৃদ্ধির সুযোগ থাকে না। এ অবস্থায় বিদেশ থেকে ভোগ্যপণ্য ও বিনিয়োগ দ্রব্য আমদানি করে দেশে সামগ্রিক যোগান বৃদ্ধি করা যায়। এর ফলে সামগ্রিক চাহিদা যোগানের মধ্যে ভারসাম্য প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে মুদ্রাস্ফীতি ব্যবধান দূর করা যায়।

উৎস: অর্থনীতি ২য় পত্র, এইচএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১২১.
পিআর নির্বাচন পদ্ধতিতে আসন বণ্টন কিসের ভিত্তিতে হয়?
  1. এলাকার জনসংখ্যার ভিত্তিতে
  2. রাজনৈতিক দলের বয়সের ভিত্তিতে
  3. সর্বাধিক ভোট পাওয়া প্রার্থীর ভিত্তিতে
  4. প্রতিটি দলের প্রাপ্ত ভোটের আনুপাতিক হারে
ব্যাখ্যা

পিআর নির্বাচন পদ্ধতি:
- আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব বা পিআর হচ্ছে নির্বাচনি ব্যবস্থার এমন একটি পদ্ধতি যেখানে আসন বণ্টন হয় প্রতিটি রাজনৈতিক দলের প্রাপ্ত ভোটের আনুপাতিক হারে।
- এ পদ্ধতিতে একটি নির্বাচনে দেওয়া প্রত্যেকটি ভোট কাজে লাগে এবং প্রতিটি ভোট সংসদে সমানভাবে প্রতিনিধিত্ব করে। তাছাড়া একটি নির্বাচনে প্রদত্ত ভোটের সংখ্যা ও হারের ভিত্তিতে সংসদে আসন বণ্টন হয়। উদাহরণস্বরূপ, কোনো দল যদি ১০% ভোট পায়, তাহলে সংসদে তাদের আসনও হবে প্রায় ১০% হারে।
- আনুপাতিক নির্বাচন পদ্ধতিতে ভোটের আগে প্রতিটি দল ক্রম ভিত্তিতে প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করবে। প্রতিটি রাজনৈতিক দল তার প্রাপ্ত ভোটের হার অনুসারে আসন সংখ্যা পাবে।

⇒ পিআর পদ্ধতির ধরন:
১. মুক্ত তালিকা পদ্ধতি: দলগুলো ভোটের ভিত্তিতে তালিকাভুক্ত প্রার্থীদের মধ্যে থেকে আসন পায়।
২. বদ্ধ তালিকা পদ্ধতি: দল ঠিক করে দেয় কে হবেন সংসদ সদস্য।
৩. মিশ্র পদ্ধতি: কিছু আসনে প্রতীকভিত্তিক, কিছু আসনে পিআর ভিত্তিতে নির্বাচন হয়।

⇒ বাংলাদেশসহ অনেক দেশে বর্তমানে প্রচলিত ‘ফার্স্ট পাস্ট দ্য পোস্ট’ (FPTP) পদ্ধতিতে যে দল বেশি আসনে জয় পায়, তারা সরকার গঠন করে, ভোটের মোট শতাংশ নয়।
- বর্তমান বাংলাদেশের সংসদীয় নির্বাচন ব্যবস্থায় ৩০০টি আসনে আলাদা আলাদা প্রার্থী দিয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে রাজনৈতিক দলগুলো।

উৎস: BBC.

১২২.
বাংলাদেশে কবে প্রথম জাতীয় ঔষধ নীতি প্রণীত হয়?
  1. ১৯৮২ সালে
  2. ১৯৮৩ সালে
  3. ১৯৮৪ সালে
  4. ১৯৮৫ সালে
ব্যাখ্যা

জাতীয় ঔষধনীতি:
- বাংলাদেশে প্রথম জাতীয় ঔষধ নীতি প্রণীত হয় ১৯৮২ সালে।

⇒ ১৯৮২ সালে বাংলাদেশ সরকার প্রথম জাতীয় ঔষধনীতি প্রণয়ন করে, যা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাসহ দেশীয় ও আন্তর্জাতিক সংস্থাসমূহ কর্তৃক বিপুলভাবে প্রশংসিত ও সমাদৃত হয়।
- এ ঔষধনীতির ফলে বাংলাদেশের ওষুধের নিরাপত্তা নিশ্চিত হয় ও মান উন্নত হয়, ওষুধের দামের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হয়। আমদানি নির্ভরতা কমে দেশ ওষুধের ক্ষেত্রে স্বনির্ভর হতে শুরু করে, ঔষধ সেক্টরে বিদেশি আধিপত্য কমে আসে, দেশীয় ঔষধ কোম্পানিসমূহ আধুনিক প্রযুক্তিসমৃদ্ধ বৃহদাকার কারখানা স্থাপন করতে থাকে। আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের ঔষধ সেক্টরের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হয় এবং এক সময়কার ঔষধ আমদানিকারী দেশটি ঔষধ রপ্তানিকারী দেশে পরিণত হয়।
- সর্বশেষ ২০১৬ সালে সংস্কার করে নতুন ওষুধনীতি করা হয়।

⇒ জাতীয় ঔষধ নীতি, ২০১৬:
১. গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ১৫(ক), ১৫(ঘ) ও ১৮(১) ধারা অনুযায়ী বাংলাদেশ সরকার কার্যকর স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের বিষয়ে জনগণের কাছে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
২. এক সময় যেখানে চাহিদার প্রায় ৮০% ঔষধ আমদানি করা হত সেখানে বর্তমানে ৯৭% এরও অধিক ঔষধ দেশেই উৎপাদিত হচ্ছে। বাংলাদেশে উৎপাদিত গুণগতমানসম্পন্ন ঔষধ এখন বিশ্বের বিভিন্ন উন্নত দেশসহ ১১৩টি দেশে রপ্তানি হচ্ছে।
৩. বঙ্গবন্ধু দেশে মানসম্মত ওষুধের উৎপাদন বাড়ানো এবং এ শিল্পকে সহযোগিতা ও নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে ১৯৭৪ সালে 'ঔষধ প্রশাসন পরিদপ্তর' গঠন করেন।
৪. ১৯৮২ সালে বাংলাদেশ সরকার প্রথম জাতীয় ঔষধনীতি প্রণয়ন করে।

⇒ জাতীয় ঔষধনীতির লক্ষ্যসমূহ:
১। জনগণ যাতে নিরাপদ, কার্যকর ও মানসম্পন্ন ঔষধ সহজে ক্রয়সাধ্য মূল্যে পেতে পারে তা নিশ্চিত করা।
২। ঔষধের যৌক্তিক ও নিরাপদ ব্যবহার এবং সুষ্ঠু পরিবেশন ব্যবস্থা (Dispensing) নিশ্চিত করা।
৩। স্থানীয় সকল পদ্ধতির ঔষধ প্রস্তুতকারী শিল্পসমূহকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় সেবা ও সুযোগ-সুবিধা প্রদান করা, যাতে মানসম্পন্ন ঔষধ ও ঔষধের কাঁচামাল উৎপাদনের ক্ষেত্রে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জিত হয়।
৪। দেশের উৎপাদিত ঔষধের রপ্তানি বৃদ্ধি করা।
৫। ঔষধের কার্যকর নজরদারী (Surveillance) ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা।

উৎস: জাতীয় ঔষধনীতি-২০১৬।

১২৩.
বাংলাদেশের জাতীয় প্রতীকে নিম্নের কোনটি নেই? 
  1. তারকা 
  2. পান পাতা 
  3. শাপলা 
  4. ধানের শীষ
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের জাতীয় প্রতীকে পান পাতা নেই।

বাংলাদেশের জাতীয় প্রতীক:

- ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার পরপরই বাংলাদেশের জাতীয় প্রতীক গ্রহণ করা হয়।
- এ প্রতীক হলো পানিতে ভাসমান জাতীয় ফুল শাপলা এবং এর উভয় পার্শ্বে একটি করে ধানের শীষ, চূড়ায় পাটগাছের পরস্পরযুক্ত তিনটি পাতা এবং পাতার উভয় পার্শ্বে দুটি করে মোট চারটি তারকা।
- পানি, ধান ও পাট প্রতীকে বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত হয়েছে বাংলাদেশের নিসর্গ ও অর্থনীতি। এ তিনটি উপাদানের ওপর স্থাপিত জলজ প্রস্ফুটিত শাপলা হল অঙ্গীকার, সৌন্দর্য ও সুরুচির প্রতীক। 
- তারকাগুলোতে ব্যক্ত হয়েছে জাতির লক্ষ্য ও উচ্চাকাঙ্ক্ষা।

⇒ জাতীয় প্রতীকের ডিজাইনার পটুয়া কামরুল হাসান।
- সংবিধানের প্রথম ভাগ (প্রজাতন্ত্র) অনুচ্ছেদে : ৪ (৩)-এ জাতীয় প্রতীক সম্পর্কে বর্ণনা করা আছে।

⇒ ভাসমান শাপলাটি এঁকেছেন মোহাম্মদ ইদ্রিস ও এর দুই পাশে ধানের শীষবেষ্টিত পাটপাতা ও চারটি তারকা যুক্ত করেছেন শামসুল আলম।
- কামরুল হাসান ও তাঁর দলের করা এই প্রতীকটি জাতীয় প্রতীক হিসেবে অনুমোদন দেওয়া হয় ১৯৭২ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি।
- জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা বাংলাদেশের সংবিধানের চারটি মূলনীতি।
- জাতীয় প্রতীকের চারটি তারকা চিহ্ন দিয়ে এই চারটি মূলনীতিকেই বোঝানো হয়েছে।

⇒ এই জাতীয় প্রতীক কিন্তু সবাই ব্যবহার করতে পারেন না।
- শুধু রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার ব্যবহারের ক্ষমতা রাখেন।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
ii) জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

১২৪.
জুলাই ঘোষণাপত্র কত তারিখে প্রণয়ন করা হয়েছে?
  1. ৩ আগস্ট, ২০২৫
  2. ৫ আগস্ট, ২০২৫
  3. ৬ আগস্ট, ২০২৫
  4. ৮ আগস্ট, ২০২৫
ব্যাখ্যা

জুলাই ঘোষণাপত্র:
-  ‘জুলাই ঘোষণাপত্র’ হলো ২০২৪ সালের জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানের একটি দলিল যার মাধ্যমে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকে রাষ্ট্রীয় ও সাংবিধানিকভাবে স্বীকৃতি দেওয়া হবে।
- অন্যদিকে জুলাই জাতীয় সনদ হলো রাষ্ট্রের বিভিন্ন ক্ষেত্রে সংস্কার প্রস্তাব বাস্তবায়নে ঐকমত্যের একটি রাজনৈতিক দলিল।
- অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস ৫ আগস্ট, ২০২৫ তারিখে র ‘৩৬ জুলাই উদ্‌যাপন’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে জুলাই ঘোষণাপত্র পাঠ করেছেন।

⇒ জুলাই ঘোষণাপত্রে ২৮টি ধারা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। 
- ২৮ দফা এ ঘোষণাপত্রে বলা হয়েছে, “বাংলাদেশের জনগণ এই অভিপ্রায় ব্যক্ত করছে যে, ছাত্র-গণঅভ্যুত্থান ২০২৪-এর উপযুক্ত রাষ্ট্রীয় ও সাংবিধানিক স্বীকৃতি প্রদান করা হবে এবং পরবর্তী নির্বাচনে নির্বাচিত সরকারের সংস্কারকৃত সংবিধানের তফসিলে এ ঘোষণাপত্র সন্নিবেশিত থাকবে।

উৎস: প্রথম আলো।

১২৫.
বর্তমানে দেশে স্বীকৃত ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী কয়টি? [আগস্ট, ২০২৫]
  1. ৪৮টি
  2. ৪৯টি
  3. ৫০টি
  4. ৫১টি
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী:
- বর্তমানে দেশে স্বীকৃত ৫০টি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী রয়েছে।
- জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ অনুযায়ী, বাংলাদেশে ‘ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর’ সংখ্যা ৫০টি।

⇒ বাংলাদেশের সবচেয়ে বেশি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী বসবাস করে রাঙামাটিতে। জেলার দিক দিয়ে -দ্বিতীয় অবস্থানে আছে পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়ি।
- ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর মধ্যে পুরুষ ৪৯.৯৮% ও নারী ৫০.০২%। এর মধ্যে ৬০.০৪% চট্টগ্রাম বিভাগে বসবাস।
- এছাড়াও ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর ১৪.৮২% রাজশাহী, ৮.২৮% সিলেট, ৫.৫২% রংপুর ও ৪.৯৯% ঢাকা বিভাগে বসবাস করে।

⇒ পার্বত্য চট্টগ্রামে ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। এ অঞ্চলে বসবাস করে ১৩টি ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর মানুষ।তাদের মধ্যে চাকমা, ত্রিপুরা, ম্রো, খুমি, লুসাই, মারমা, রাখাইন, চাক, বম, খেয়াং, পাঙ্খোয়া জাতিগোষ্ঠী উল্লেখযোগ্য। 

⇒ সংখ্যার দিক দিয়ে বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী হলো চাকমা। দ্বিতীয় অবস্থানে আছে মারমা। তৃতীয় অবস্থানে আছে ত্রিপুরা।

উৎস: i) জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২।
ii) প্রথম আলো।

১২৬.
২০২৫ সালে ইকোনোমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (ইআইইউ) এর প্রকাশিত রিপোর্ট অনুযায়ী, বিশ্বের বসবাসযোগ্য শীর্ষ শহর কোনটি? (আগস্ট, ২০২৫) 
  1. মেলবোর্ন, অস্ট্রেলিয়া
  2. জুরিখ, সুইজারল্যান্ড
  3. ভিয়েনা, অস্ট্রিয়া
  4. কোপেনহেগেন, ডেনমার্ক
ব্যাখ্যা

গ্লোবাল লিভেবিলিটি ইনডেক্স- ২০২৫:
- ইকোনোমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (ইআইইউ) প্রতি বছর বিশ্বের বসবাসযোগ্য শহরের তালিকা প্রকাশ করে।
- তালিকায় পাঁচটি প্রধান মানদণ্ডে বিশ্বের ১৭৩টি শহরের মূল্যায়ন করা হয়।
- মানদণ্ডগুলো হলো–স্থিতিশীলতা, স্বাস্থ্যসেবা, সংস্কৃতি ও পরিবেশ, শিক্ষা এবং অবকাঠামো।
- গত ১৬ জুন, ২০২৫ ইআইইউ ২০২৫ সালের তালিকা প্রকাশ করে।

শীর্ষ দেশ:
- কোপেনহেগেন, ডেনমার্ক।
- ভিয়েনা, অস্ট্রিয়া।
- জুরিখ, সুইজারল্যান্ড।
- মেলবোর্ন, অস্ট্রেলিয়া।
- জেনেভা, সুইজারল্যান্ড।

⇒ বাংলাদেশের অবস্থান ১৭১ তম।

তথ্যসূত্র - পত্রিকা রিপোর্ট।

১২৭.
জাতিসংঘের পশ্চিম এশীয় অর্থনৈতিক ও সামাজিক কমিশন কোনটি?
  1. ECE
  2. ECLAC
  3. ESCWA
  4. ESCAP
ব্যাখ্যা

ESCWA:
- পশ্চিম এশীয় অর্থনৈতিক ও সামাজিক কমিশন ESCWA.
- ECWA এর পূর্ণরূপ United Nations Economic and Social Commission for Western Asia.
- প্রতিষ্ঠিত হয়: ১৯৭৩ সালে।
- এর উদ্দেশ্য ছিল সদস্য দেশগুলিতে অর্থনৈতিক ক্রিয়াকলাপকে উত্সাহিত করা, তাদের মধ্যে সহযোগিতা জোরদার করে উন্নয়ন ত্বরান্বিত করা।
- সদর দপ্তর: বৈরুত, লেবানন।

তথ্যসূত্র - ESCWA ওয়েবসাইট।

১২৮.
ওজোনস্তর সংরক্ষণ বিষয়ক চুক্তি কোনটি?
  1. মন্ট্রিল প্রটোকল
  2. বাসেল কনভেনশন
  3. কিয়োটো প্রটোকল
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

মন্ট্রিল প্রটোকল:
- মন্ট্রিল প্রটোকল ওজোনস্তর সংরক্ষণ বিষয়ক একটি বৈশ্বিক চুক্তি।
- পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের স্ট্রাটোস্ফিয়ারে অবস্থিত ওজোনস্তরের ক্ষয় সাধনকারী পদার্থের নির্গমন হ্রাস করে ওজোনস্তরকে সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে ১৯৮৭ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর এই প্রটোকল কানাডার মন্ট্রিল শহরে গৃহীত হয়।
- ১৯৮৯ সালের ১ জানুয়ারি মন্ট্রিল প্রটোকল কার্যকর হয়।
- মন্ট্রিল প্রটোকল গৃহীত হওয়ার দিন ১৬ সেপ্টেম্বর প্রতিবছর আন্তর্জাতিক ওজোন স্তর সংরক্ষণ দিবস হিসেবে পালিত হয়।

তথ্যসূত্র - জাতিসংঘ ওয়েবসাইট।

১২৯.
নিচের কোন শহরটি 'পিংক সিটি' নামে পরিচিত?
  1. অসলো
  2. বোগোটা
  3. জয়পুর
  4. বেইজিং
ব্যাখ্যা

জয়পুর:
- জয়পুর 'পিংক সিটি' নামে পরিচিত।
- জয়পুর শহর রাজস্থান রাজ্যের রাজধানী।
- এটি রাজস্থানের সবচেয়ে জনবহুল শহর।
- শহরটি ১৭২৭ সালে মহারাজা সওয়াই জয় সিং দ্বারা জয়পুর রাজ্যের রাজধানী হিসাবে প্রতিস্থাপনের জন্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।
- জয়পুরে মিশ্র হিন্দু-মুসলিম জনসংখ্যা রয়েছে।
- জয়পুর একটি জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র।
- জয়পুরের বিখ্যাত শিল্প ও কারুশিল্পের মধ্যে রয়েছে গয়না, এনামেল, ধাতুর কাজ, এবং মুদ্রিত কাপড়, সেইসাথে পাথর, মার্বেল এবং হাতির দাঁত খোদাই করা।

তথ্যসূত্র- Britannica.com

১৩০.
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের উচ্চকক্ষ সিনেটের মেয়াদ -
  1. ৩ বছর
  2. ৪ বছর
  3. ৫ বছর
  4. ৬ বছর
ব্যাখ্যা

কংগ্রেস:
- মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় সরকারের আইন সভার নাম কংগ্রেস।
- আইন প্রণয়ন করাই এর প্রধান কাজ।
- কংগ্রেস একটি দ্বি-কক্ষ বিশিষ্ট আইন সভা।
- কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ ‘প্রতিনিধি সভা' (The House of Representative) এবং উচ্চকক্ষ 'সিনেট' (The Senate) নামে পরিচিত।

⇒ নিম্নকক্ষ:
- কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ ‘প্রতিনিধি সভা' বা 'হাউস অফ রিপ্রেজেন্টেটিভ' নামে পরিচিত।
- আসন সংখ্যা - ৪৩৫টি।
- মেয়াদ - ২ বছর।
- 'হাউস অফ রিপ্রেজেন্টেটিভ' সদস্য নির্বাচিত হওয়ার জন্য, একজন ব্যক্তির বয়স কমপক্ষে ২৫ বছর হতে হবে।

⇒ উচ্চকক্ষ:
- কংগ্রেসের উচ্চকক্ষ 'সিনেট' নামে পরিচিত।
- আসন সংখ্যা - ১০০টি।
- মেয়াদ - ৬ বছর।
- 'সিনেট' সদস্য নির্বাচিত হওয়ার জন্য, একজন ব্যক্তির বয়স কমপক্ষে ৩০ বছর হতে হবে।

অন্যদিকে,
- যুক্তরাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার ঐতিহ্য অনুসারে 'নিম্নকক্ষ' বা 'হাউস অফ রিপ্রেজেন্টেটিভ' হল মার্কিন জনগণের প্রতিনিধিত্বমূলক কক্ষ আর উচ্চকক্ষ বা ‘সিনেট' হল অঙ্গরাজ্যগুলোর প্রতিনিধিত্বমূলক কক্ষ।
- মার্কিন কংগ্রেসের হাউস অফ রিপ্রেজেন্টেটিভ ও সিনেটের সদস্যরা জনগণের দ্বারা প্রত্যক্ষভাবে নির্বাচিত হন।
- বর্তমানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ডেমোক্রেটিক পার্টি ও রিপাবলিকান পার্টি এ দু'টি দলের প্রাধান্য বিদ্যমান।

তথ্যসূত্র - যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি ওয়েবসাইট।

১৩১.
'ওডার-নেইস লাইন' কোন দুটি দেশের মধ্যকার সীমানা?
  1. জার্মানি ও পোল্যান্ড
  2. পর্তুগাল ও স্পেন
  3. মেক্সিকো ও যুক্তরাষ্ট্র
  4. ইসরাইল ও সিরিয়া
ব্যাখ্যা

বিভিন্ন দেশের সীমানা:
⇒ পার্পল লাইন: ইসরাইল ও সিরিয়ার মধ্যে সীমানা।
⇒ সনেরা লাইন: মেক্সিকো ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার সীমানা।
⇒ ওডার-নেইস লাইন: জার্মানি ও পোল্যান্ডের মধ্যকার সীমানা।
⇒ ব্লু লাইন: লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যকার সীমানা।
⇒ লাইন অব ডিমারকেশন: পর্তুগাল ও স্পেনের মধ্যে সীমানা।
⇒ ডুরান্ড লাইন: পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে সীমানা।
⇒ রেডক্লিফ লাইন: ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সীমারেখা।
⇒ লাইন অব একচুয়াল কন্ট্রোল / ম্যাকমোহন লাইন: চীন ও ভারতের মধ্যে সীমানা।
⇒ লাইন অব কন্ট্রোল: ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সীমানা।

তথ্যসূত্র - Britannica.com

১৩২.
সমুদ্র চলাচল বিষয়ক আন্তর্জাতিক সংস্থা কোনটি?
  1. ICAO
  2. WMO
  3. IOM
  4. IMO
ব্যাখ্যা

IMO:
- IMO এর পূর্ণরূপ International Maritime Organization.
- IMO হলো সমুদ্র চলাচল বিষয়ক আন্তর্জাতিক সংস্থা।
- IMO প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ১৯৪৮ সালের ৬ মার্চ জেনেভায় একটি কনভেনশন গৃহিত হয় যা ১৭ মার্চ ১৯৫৮ কার্যকর হয়।
- শুরুতে এর নাম ছিলো Inter-governmental Maritime Consultative Organisation (IMCO) Sabse International Maritime Organisation নামকরণ করা হয়।
- ১৯৫৯ সালের ১৩ জানুয়ারি এটি জাতিসংঘের বিশেষায়িত সংস্থার মর্যাদা লাভ করে।
- IMO এর সদর দপ্তর যুক্তরাজ্যের লন্ডন শহরে অবস্থিত।
- বর্তমান সদস্য সংখ্যা ১৭৬টি। (জুন, ২০২৫)
- বাংলাদেশ ১৯৭৬ সালে IMO এর সদস্যপদ লাভ করে।

অন্যদিকে,
- IOM: আন্তর্জাতিক অভিবাসী সংস্থা।
- WMO: বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা।
- ICAO: আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থা।

তথ্যসূত্র - IMO অফিসিয়াল ওয়েবসাইট।

১৩৩.
'আজভ ব্রিগেড' কোন দেশের সশস্ত্র বাহিনী?
  1. জর্ডান
  2. দক্ষিণ সুদান
  3. ইউক্রেন
  4. ইরান
ব্যাখ্যা

আজভ ব্রিগেড:
- 'আজভ ব্রিগেড' ইউক্রেনের একটি সশস্ত্র বাহিনী।
- এর সব সদস্যই স্বেচ্ছাসেবী।
- ২০১৪ সালের মে মাসে স্বেচ্ছাসেবী গোষ্ঠী হিসেবে আজভ ব্রিগেড প্রতিষ্ঠিত হয়।
- এর উদ্যোক্তা ছিল একদল ইউক্রেনীয় অতি-জাতীয়তাবাদী এবং নব্য-নাৎসি সোশ্যাল ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলি (এসএনএ) গোষ্ঠী।
- অ্যান্ড্রি বিলেটস্কি সশস্ত্র বাহিনীটি প্রতিষ্ঠাতা নেতা ছিলেন।
- আজভ ব্যাটালিয়নের খরচ বহন করেন অলিগার্ক ইগর কলোময়েস্কি। তিনি ইউক্রেনিয়ান বিদ্যুৎ গ্রিডের মালিক।

তথ্যসূত্র - আল জাজিরা, ০১ মে, ২০২২।

১৩৪.
'কনস্টান্টিনোপল' কোন সভ্যতার রাজধানী ছিল?
  1. বাইজেন্টাইন
  2. মায়া
  3. সুমেরীয়
  4. হিব্রু
ব্যাখ্যা

বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্য:
- বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্য আনুমানিক ৩৯৫ খ্রিস্টাব্দ থেকে - ১৪৫৩ সাল পর্যন্ত বিদ্যমান ছিল৷
- ১৫ শতকে অটোমান তুর্কি আক্রমণে পতনের আগে এটি বিশ্বের অন্যতম প্রধান সভ্যতা ছিল।
- অঞ্চলটিকে সাধারণত পূর্ব রোমান সাম্রাজ্য বলা হত।
- ৪৭৬ সালে রোমের পতনের ফলে রোমান সাম্রাজ্যের পশ্চিম অর্ধেক শেষ হয় এবং পূর্ব অর্ধেক বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্য হিসাবে পরিচালিত হয়।
- বাইজেনটাইন সাম্রাজ্যের রাজধানী ছিল কনস্টান্টিনোপল।
- বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্য ভূমধ্যসাগরের আশেপাশের বেশিরভাগ ভূমি জুড়ে ছিল, যার মধ্যে বর্তমানে ইতালি, গ্রীস এবং তুরস্ক এবং উত্তর আফ্রিকা।
- এই সাম্রাজ্যের সর্বশ্রেষ্ঠ সম্রাট ছিলেন জাস্টিনিয়ান।
- ১৪ শতকে অটোমান তুর্কিরা দখল করতে শুরু করে এবং ১৪৫৩ সালে এটি অটোমান নিয়ন্ত্রণে চলে যায়।

তথ্যসূত্র - Britannica.com

১৩৫.
কোন মার্কিন প্রেসিডেন্ট অসলো-১ শান্তি চুক্তির মধ্যস্থতা করেন?
  1. রিগান
  2. জিমি কার্টার
  3. বিল ক্লিনটন
  4. রিচার্ড নিক্সন
ব্যাখ্যা

অসলো-১ শান্তি চুক্তি:
- ইসরাইল ও ফিলিস্তিনের মধ্যে অসলো শান্তি চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়।
- ১৩ সেপ্টেম্বর ১৯৯৩ সালে চুক্তিটি সাক্ষরিত হয়।
- অসলো-১ শান্তি চুক্তিটি ১৯৯৩ সালে যুক্তরাস্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিতে অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
- চুক্তি স্বাক্ষরের পূর্বে নরওয়ের রাজধানী অসলোতে চুক্তিটি নিয়ে আলোচনা হওয়ায় চুক্তিটি অসলো চুক্তি নামে পরিচিত।
- অসলো-১ চুক্তির ফলে ইসরাইল ও পিএলও পরস্পরকে স্বীকৃতি প্রদান করে।
- সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন এতে মধ্যস্থতা করেন।

তথ্যসূত্র - Britannica.com & History.com

১৩৬.
শেনজেন ভুক্ত দেশের সংখ্যা কত? (আগস্ট, ২০২৫)
  1. ২৮টি
  2. ২৯টি
  3. ৩০টি
  4. ৩১টি
ব্যাখ্যা

শেনজেন অঞ্চল:
- শেনজেন একটি আন্তর্জাতিক চুক্তি যা ইউরোপীয় দেশগুলোর মধ্যে ব্যক্তিদের অবাধ চলাচলের অনুমতি প্রদান করে।
- শেনজেন চুক্তি স্বাক্ষরিত হয় ১৯৮৫ সালে।
- চুক্তি স্বাক্ষরের স্থান: লুক্সেমবার্গের শেনজেন শহরে।
- ১৯৯৫ সালের ২৬ মার্চ চুক্তিটি কার্যকর হলে ভিসামুক্ত ইউরোপের যাত্রা শুরু হয়।
- শেনজেন ভুক্ত দেশ: ২৯টি। (আগস্ট, ২০২৫)
- ১ জানুয়ারী ২০২৫ এ সম্পূর্ণরূপে যোগদানকারী সর্বশেষ দেশ রোমানিয়া ও বুলগেরিয়া। (আগস্ট, ২০২৫)

উল্লেখ্য:
- লিচেনস্টাইন, আইসল্যান্ড, সুইজারল্যান্ড এবং নরওয়ে এই দেশ চারটি ইউরোপীয় ইউনিয়ন এর অন্তর্ভুক্ত না হয়েও শেনজেনভুক্ত দেশের তালিকায় রয়েছে।

তথ্যসূত্র - European Union ওয়েবসাইট।

১৩৭.
'স্মাইল ট্রেন' কী নিয়ে কাজ করে?
  1. শিশুশ্রম নিরসন
  2. নারী অধিকার
  3. শিশু চিকিৎসা
  4. মানবাধিকার
ব্যাখ্যা

স্মাইল ট্রেন:
- আন্তর্জাতিক দাতব্য সংস্থ।
- বিশ্বব্যাপী শিশুদের ঠোট ও তালুকাটা বিনামূল্যে অস্ত্রোপাচার করে আন্তর্জাতিক দাতব্য সংস্থা 'স্মাইল ট্রেন'।
- স্মাইল ট্রেন ১৯৯৯ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়।
- স্মাইল ট্রেন যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংস্থা।

তথ্যসূত্র - স্মাইল ট্রেন-এর ওয়েবসাইট।

১৩৮.
'ইন্টারফ্যাক্স' কোন দেশের সংবাদ সংস্থা?
  1. যুক্তরাজ্য
  2. যুক্তরাষ্ট্র
  3. কানাডা
  4. রাশিয়া
ব্যাখ্যা

বিভিন্ন দেশের সংবাদ সংস্থা:
- বাংলাদেশ: বাসস, এনা, আইএসপিআর, ইউএনবি, আবাস, পিআইবি।
- যুক্তরাষ্ট্র: এপি, ভয়েস অব আমেরিকা (VOA), CNN.
- যুক্তরাজ্য: রয়টার্স, বিবিসি।
- পাকিস্তান: এপিপি, পিপিআই, ইউপিপি।
- চীন: সিনহুয়া।
- ফ্রান্স: এএফপি।
- অষ্ট্রেলিয়া: অষ্ট্রেলিয়ান ব্রডকাষ্টিং কর্পোরেশন (এবিসি)।
- কানাডা: কানাডিয়া প্রেস (সিপি)।
- সিরিয়া: সানা।
- লিবিয়া: জানা।
- মালয়েশিয়া: বারনামা।
- মিশর: মেনা (মিডিল ইস্ট নিউজ এজেন্সি)।
- পর্তুগাল: লুসা।
- বেলজিয়াম: বেলজা।
- ভারত: PTI, ইউএনআই।
- রাশিয়া: ITAR-TASS, Rossiya Segodnya, ইন্টারফ্যাক্স।
- ইন্দোনেশিয়া: আনতারা।
- ইরান: ইরনা, আইএনএ।
- ইরাক: নিউজ এজেন্সি (ইনা)।

তথ্যসূত্র - সংশ্লিষ্ট দেশের ওয়েবসাইট।

১৩৯.
সম্প্রতি, কোথায় ৮.৮ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে? [আগস্ট, ২০২৫]
  1. চিলির বিওবিও প্রদেশে
  2. রাশিয়ার পূর্ব উপকূলে
  3. যুক্তরাষ্ট্রের আলাস্কায়
  4. ইন্দোনেশিয়ার সুমাত্রা দ্বীপে
ব্যাখ্যা
ভূমিকম্প:
- ৩০ জুলাই, ২০২৫ রাশিয়ার পূর্ব উপকূলে, বিশেষ করে কামচাটকা উপদ্বীপ সংলগ্ন রুশ উপকূলে মেগাথ্রাস্ট ভূমিকম্প আঘাত হানে।
- যার মাত্রা  প্রথমে ৮.০ রিপোর্ট করা হলেও পরবর্তীতে তা ৮.৭ থেকে ৮.৮ এ উন্নীত হয়।
- এটির কেন্দ্রস্থল ছিল রাশিয়ার পেত্রোপাভলোভস্ক-কামচাতস্কি শহর থেকে ১৩৬ কিলোমিটার পূর্বে, প্রশান্ত মহাসাগরের তলদেশে।
- এই ভূমিকম্পকে বর্তমানে বিশ্বব্যাপী বিংশ শতাব্দীর ষষ্ঠ সর্বোচ্চ শক্তির ভূমিকম্প হিসেবে স্থান দেয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য,
- ১৯০০ সাল থেকে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি অনুসরণ করে ভূমিকম্পের রেকর্ড রাখা শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্রের ভূতত্ব জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস)।
- বিশ্বের ইতিহাসে এ যাবৎকালের সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্পটি হয়েছিল ১৯৬০ সালে চিলির বিওবিও প্রদেশে।
- ৯ দশমিক ৫ মাত্রার সেই ভূমিকম্পে নিহত হয়েছিলেন ১ হাজার ৬৫৫ জন মানুষ এবং বাড়িঘর ভাঙার জেরে আশ্রয়হীন হন আরও ২০ লাখ মানুষ।

তথ্যসূত্র- পত্রিকা রিপোর্ট। [Link]
১৪০.
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার মুখ্য উপাদান নয় কোনটি?
  1. প্রতিরোধ
  2. পূর্বপ্রস্তুতি
  3. পুনরুদ্ধার
  4. কাঠামোগত প্রশমন
ব্যাখ্যা
• দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা:
- দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার অর্থ হলো যথাযথ পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণের মাধ্যমে দুর্যোগ প্রতিরোধ, দুর্যোগ প্রস্তুতি এবং দুর্যোগে সাড়াদান ও পুনরুদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করা।
- দুর্যোগ মোকাবিলার জন্যে দুর্যোগ-পূর্ব প্রস্তুতির কাজ সম্পন্ন করা আবশ্যক, যা মূলত আক্রান্ত অঞ্চলের অধিবাসীদেরকে দুর্যোগের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সহায়তা করে।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার মুখ্য উপাদান:
১. দুর্যোগ প্রতিরোধ:
দুর্যোগের সম্ভাবনা বা ঝুঁকি কমাতে যে সকল ব্যবস্থা নেওয়া হয়, তা দুর্যোগ প্রতিরোধের অংশ। এর মধ্যে পূর্বাভাস ব্যবস্থা, সতর্কতা কার্যক্রম এবং প্রতিরোধী কাঠামো তৈরি করা অন্তর্ভুক্ত থাকে।

২. দুর্যোগ প্রশমন:
দুর্যোগের সম্ভাব্য ক্ষতিকর প্রভাব কমানোর জন্য দুর্যোগ প্রশমনের কাজ করা হয়। এটি সরাসরি দুর্যোগের তীব্রতা কমানোর জন্য পদক্ষেপ গ্রহণ, যেমন বাঁধ নির্মাণ, নিরাপত্তা প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং পরিবেশগত বিপর্যয় রোধ করা।

৩. দুর্যোগের পূর্বপ্রস্তুতি:
দুর্যোগের প্রাক্কালে সঠিক প্রস্তুতি গ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ। এটি ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলের জনগণকে সচেতন করা, দুর্যোগের সময় দ্রুত সাহায্য পৌঁছানোর জন্য প্রস্তুতি তৈরি করা এবং উপকরণ সংরক্ষণ করা ইত্যাদি বিষয়গুলির অন্তর্ভুক্ত।

অন্যদিকে,
দুর্যোগ সংগঠনের পরপরই এর ব্যবস্থাপনার অন্যান্য উপাদানের মধ্যে রয়েছে - 
- সাড়াদান,
- পুনরুদ্ধার
- উন্নয়ন।
- এইগুলো দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার মুখ্য উপাদান নয়।

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
১৪১.
রাঙামাটি, খাগড়াছড়ির পাহাড়সমূহ কোন অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত?
  1. টারশিয়ারি যুগের পাহাড়
  2. প্লাইস্টোসিন যুগের পাহাড়
  3. সাম্প্রতিক কালের পাহাড়
  4. উপকূলীয় অঞ্চলের পাহাড়
ব্যাখ্যা
টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ:
- টারশিয়ারি যুগে হিমালয় পর্বত উত্থিত হওয়ার সময় যে সকল পর্বতের সৃষ্টি হয়েছে সেগুলো টারশিয়ারি যুগের পাহাড় নামে পরিচিত।
- আজ থেকে প্রায় ২০ লক্ষ বছর পূর্বের সময়কে টারশিয়ারি যুগ বলা হয়।
- টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ বেলেপাথর, শেল ও কর্দম দ্বারা গঠিত।
- টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহকে দুইভাগে ভাগ করা হয়েছে। যথা-

ক. দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহ:
- রাঙামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি এবং কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম জেলার পূর্বাংশ এ অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত।
- দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের এ পাহাড়গুলোর গড় উচ্চতা ৬১০ মিটার।
- এ অঞ্চলের পাহাড়সমূহ কৃষিকাজের জন্য উপযোগী নয়।
- তবে স্থানীয় অধিবাসীগণ সীমিত পরিসরে জুম পদ্ধতিতে চাষাবাদ করে থাকেন।

খ. উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহ:
- ময়মনসিংহ ও নেত্রকোনা জেলার উত্তরাংশ, সিলেট জেলার উত্তর ও উত্তর- পূর্বাংশ এবং মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলার দক্ষিণের পাহাড়গুলো এ অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত।
- এখানকার পাহাড়গুলোর গড় উচ্চতা ২৪৪ মিটারের বেশি নয়।
- উত্তরের পাহাড়গুলো স্থানীয়ভাবে টিলা নামে পরিচিত। এগুলোর উচ্চতা ৩০ থেকে ৯০ মিটার।
- এ পার্বত্য অঞ্চলে অধিক বৃষ্টিপাত হওয়ায় পাহাড়ের ঢালে প্রচুর চা উৎপন্ন হয়।

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, এস এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৪২.
যমুনা নদীর প্রধান উপনদী কোনটি?
  1. ধরলা
  2. গোমতী
  3. ধলেশ্বরী
  4. শীতলক্ষ্যা
ব্যাখ্যা
যমুনা নদী:
- এটি বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান নদী।
- ময়মনসিংহ জেলার দেওয়ানগঞ্জের কাছে ব্রহ্মপুত্রের একটি শাখা যমুনা নদী নামে দক্ষিণ দিকে প্রবাহিত হয়েছে।
- এটি গোয়ালন্দের নিকট পদ্মার সাথে মিলিত হয়ে দক্ষিণ-পূর্বদিকে পদ্মা নামে প্রবাহিত হয়েছে। 
- যমুনার প্রধান উপনদী হলো ধরলা, তিস্তা, করতোয়া ও আত্রাই।
- এছাড়া যমুনার প্রধান শাখানদী ধলেশ্বরী এবং ধলেশ্বরীর শাখানদী বুড়িগঙ্গা।

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, এস এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৪৩.
বিষমমণ্ডলের মধ্যে কোন স্তরগুলো অন্তর্ভুক্ত?
  1. ট্রপোমণ্ডল ও মেসোমণ্ডল
  2. মেসোমণ্ডল ও এক্সোমণ্ডল
  3. তাপমণ্ডল ও এক্সোমণ্ডল
  4. স্ট্রাটোমণ্ডল ও তাপমণ্ডল
ব্যাখ্যা
বায়ুমণ্ডলের স্তরসমূহ:
- ভূ-পৃষ্ঠ ও তার আশেপাশে যে বায়বীয় মন্ডল আবর্তিত আছে তাকে বায়ুমণ্ডল বলে।
- বায়ুমণ্ডল নানাপ্রকার গ্যাসীয় উপাদান, জলীয়বাষ্প, ধূলিকণা ও কনিকা দ্বারা গঠিত।
- মূলত বায়ুমণ্ডলের গঠনকারী উপাদানসমূহের প্রকৃতি, উষ্ণতার পার্থক্য অর্থাৎ অন্যান্য সকল বৈশিষ্ট্যের তারতম্যের জন্য বায়ুমণ্ডলকে নানা স্তরে ভাগ করা যায়।
- এই সকল স্তর মূলত ভূ-পৃষ্ঠ হতে উপরের দিকে মোট পাঁচটি পর্যায়ে রয়েছে।
- বায়ুমণ্ডলের এই স্তরসমূহ হলো-ট্রপোমণ্ডল, স্ট্রাটোমন্ডল, মেসোমণ্ডল, তাপমণ্ডল ও এক্সোমণ্ডল।

⇒ আবার এই সকল স্তরকেও প্রধানত দুইটি স্তরে ভাগ করা হয়। যথা- সমমণ্ডল বা হোমোস্ফিয়ার ও বিষমমণ্ডল বা হেট্যারোস্ফিয়ার।

সমমণ্ডল ও বিষমমণ্ডল:
- সমমণ্ডল বা হোমোস্ফিয়ার এর বৈশিষ্ট্য হলো যে এই মণ্ডলে ভূ-পৃষ্ঠ হতে প্রায় ৮০ কিলোমিটার পর্যন্ত বায়ুস্তরে বিভিন্ন গ্যাসের অনুপাত প্রায় সমান থাকে।
- এই সমমণ্ডলের মধ্যেই বায়ুমণ্ডলের প্রথম তিনটি স্তর অর্থাৎ ট্রপোমণ্ডল, স্ট্রাটোমণ্ডল ও মেসোমণ্ডল অন্তর্ভুক্ত।
- বিষমমণ্ডল এর মধ্যে বায়ুমণ্ডলের বাকী দুইটি স্তর অর্ন্তভুক্ত। এ স্তর দুটি হলো তাপমণ্ডল ও এক্সোমণ্ডল। 
- মূলত এই মণ্ডলটি সমমণ্ডলের উপরে অবস্থিত। সমমণ্ডলের উপরের স্তরে বিভিন্ন গ্যাসের অনুপাত অসমান থাকে বলেই একে বিষমমণ্ডল বলা হয়।
- বিষমমণ্ডল প্রায় ১০,০০০ কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত।

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৪৪.
জার্মানির 'ব্ল‍্যাক ফরেস্ট' কোন ধরনের পর্বত?
  1. আগ্নেয় পর্বত
  2. ভঙ্গিল পর্বত
  3. চ্যুতি-স্তূপ পর্বত
  4. ল্যাকোলিথ পর্বত
ব্যাখ্যা
পর্বত (Mountains):
- সমুদ্র সমতল থেকে অন্তত ১,০০০ মিটার-এর অধিক উঁচু, সুবিস্তৃত, খাড়া ঢালবিশিষ্ট শিলাস্তূপকে পর্বত বলে।
- পর্বতের ভূ-প্রকৃতি বন্ধুর, ঢাল খুব খাড়া এবং সাধারণত চূড়া বিশিষ্ট হয়।
- কোনো কোনো পর্বত বিচ্ছিন্নভাবে অবস্থান করে। আবার কিছু পর্বত অনেকগুলো পৃথক শৃঙ্গসহ ব্যাপক এলাকা জুড়ে অবস্থান করে।

পর্বতের প্রকারভেদ:
উৎপত্তিগত বৈশিষ্ট্য ও গঠন প্রকৃতির ভিত্তিতে পর্বত প্রধানত চার প্রকার। যথা-
(ক) ভঙ্গিল পর্বত (Fold Mountains),
(খ) আগ্নেয় পর্বত (Volcanic Mountains),
(গ) চ্যুতি-স্তূপ পর্বত (Fault-block Mountains) এবং
(ঘ) ল্যাকোলিথ পর্বত (Dome/Laccolith Mountains)।

চ্যুতি-স্তূপ পর্বত:
- ভূ-আলোড়নের সময় ভূ-পৃষ্ঠের শিলাস্তরে প্রসারণ এবং সংকোচনের সৃষ্টি হলে ভূ-ত্বকে ফাটলের সৃষ্টি হয়।
- কালক্রমে ফাটল বরাবর ভূ-ত্বকের উপরের শিলাসমূহ ক্রমে স্থানচ্যুত হয়, যা চ্যুতি নামে পরিচিত।
- ভূ-ত্বকের এ স্থানচ্যুতির ফলে একটি বিশাল শিলা খন্ড উপরে বা নিচের দিকে সরে যায়। চ্যুতির ফলে উঁচু হওয়া অংশকে স্তূপ পর্বত বলে। 
- ভারতের বিন্ধ্যা ও সাতপুরা পর্বত, জার্মানির ব্ল‍্যাক ফরেস্ট, পাকিস্তানের লবণ পর্বত চ্যুতি-স্তূপ পর্বতের উদাহরণ।

উল্লেখ্য,
আগ্নেয় পর্বত: 
- আগ্নেয়গিরি থেকে উদগিরিত পদার্থ সঞ্চিত হয়ে ও জমাট বেঁধে আগ্নেয় পর্বত সৃষ্টি হয়। এটি সঞ্চয়জাত পর্বত নামেও পরিচিত।
- ইতালির ভিসুভিয়াস, কেনিয়ার কিলিমানজারো, জাপানের ফুজিয়ামা এবং ফিলিপাইনের পিনাটুবো পর্বত আগ্নেয় পর্বতের উদাহরণ।

ভঙ্গিল পর্বত:
- স্তরীভূত পাললিক শিলা পার্শ্ব ভাঁজ পড়ে যে পর্বত গঠিত হয়েছে, তাকে ভঙ্গিল পর্বত বলে।
- এশিয়ার হিমালয়, ইউরোপের আল্পস, উত্তর আমেরিকার রকি, দক্ষিণ আমেরিকার আন্দিজ পর্বত ভঙ্গিল পর্বতের উদাহরণ।

ল্যাকোলিথ পর্বত: 
- ভূ-অভ্যন্তর থেকে গলিত শিলা বা ম্যাগমা কোনো কোনো ক্ষেত্রে বাঁধা পেয়ে ভূ-পৃষ্ঠের বাইরে না এসে ভূ-ত্বকের নিচে জমাট বেঁধে উর্ধ্বমুখী চাপের কারণে স্ফীত হয়ে ভূ-ত্বকের অংশবিশেষ গম্বুজ আকার ধারণ করে।
- এভাবে সৃষ্ট শৃঙ্গবিহীন সামান্য খাড়া ঢাল বিশিষ্ট ও স্বল্প অঞ্চল ব্যাপী বিস্তৃত এই পর্বতকে ল্যাকোলিথ পর্বত বলে। 
- আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের হেনরী পর্বত এর উদাহরণ।

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৪৫.
টেকসই উন্নয়নের অপরিহার্য অঙ্গ কোনটি?
  1. আইন
  2. সুশাসন
  3. মূল্যবোধ
  4. নৈতিক ধ্যান ধারণা
ব্যাখ্যা
টেকসই উন্নয়ন ও সুশাসন:
- টেকসই উন্নয়ন মূলত ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কথা ভেবে গৃহীত একটি উন্নয়ন পরিকল্পনা।
- সুশাসন হলো এমন একটি শাসনব্যবস্থা, যেখানে ন্যায়বিচার, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, অংশগ্রহণ এবং আইনের শাসন বজায় থাকে।
- টেকসই উন্নয়নের জন্য সুশাসন অপরিহার্য, কারণ এটি ন্যায়বিচার, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে।
- সুশাসন শুধু প্রশাসনের দক্ষতা বৃদ্ধি করে না, বরং সমাজের সবস্তরে উন্নয়নের পথ তৈরি করে।
- এটি সামাজিক, অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় সহায়ক- যা টেকসই উন্নয়নের মূল লক্ষ্য।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৪৬.
নিচের কোনটি রাজনৈতিক অধিকারভুক্ত?
  1. মত প্রকাশ
  2. সম্পত্তি ভোগ
  3. সংবাদপত্রের স্বাধীনতা
  4. সরকারি চাকরি লাভ
ব্যাখ্যা
আইনগত অধিকারের শ্রেণিবিভাগ:
- যেসব অধিকার রাষ্ট্র কর্তৃক স্বীকৃত ও অনুমোদিত, সেগুলোকে আইনগত অধিকার বলে।
- যেমন-জীবন ধারণের অধিকার, ভোটদানের অধিকার, শিক্ষার অধিকার।
- আইনগত অধিকারকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। যথা-

(ক) সামাজিক অধিকার:
- সমাজে সুন্দরভাবে সুখ-শান্তিতে বসবাসের জন্য নাগরিকগণ যেসব অধিকার ভোগ করে, সেগুলোকে সামাজিক অধিকার ভোগ বলে।
- যেমন- জীবন রক্ষা, মত প্রকাশ, চলাফেরা, বিনা বিচারে আটক না হওয়া, সংঘবদ্ধ হওয়া, সভা-সমিতি, চুক্তি স্থাপন, সম্পত্তি ভোগ, আইনের চোখে সমতা লাভ, শিক্ষা লাভ, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা, পরিবার গঠন, নিজ-নিজ সংস্কৃতি ও ভাষা চর্চার অধিকার।

(খ) রাজনৈতিক অধিকার:
- রাষ্ট্রীয় কাজে অংশগ্রহণের জন্য নাগরিকরা যেসব অধিকার ভোগ করে, সেগুলোকে রাজনৈতিক অধিকার বলে।
- যেমন- ভোটদান, নির্বাচনে অংশগ্রহণ, সরকারি চাকরি লাভ, সরকারি কাজের সমালোচনা, আবেদন করা রাজনৈতিক অধিকার।

(গ) অর্থনৈতিক অধিকার:
- ক্ষুধা, দারিদ্র ও বেকারত্ব থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য নাগরিকগণ যেসব অধিকার ভোগ করেন, সেগুলোকে অর্থনৈতিক অধিকার বলে।
- যেমন- কর্মের অধিকার, উপযুক্ত পারিশ্রমিক, অবকাশ যাপন প্রভৃতি অর্থনৈতিক অধিকার।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৪৭.
কার মতে 'ধর্ম, ঐতিহ্য ও মানব আচরণ'- এই তিনটি থেকেই নৈতিকতার উদ্ভব হয়?
  1. জি  ম্যুর
  2. জেরেমি বেন্থাম
  3. উইলিয়াম লিলি
  4. জোনাথান হেইট
ব্যাখ্যা
নৈতিকতা:
- নৈতিকতা হলো মানুষের অন্তর্নিহিত ধ্যান-ধারণার সমষ্টি, যা মানুষকে সুকুমার বৃত্তি অনুশীলনে অনুপ্রাণিত করে।
- নৈতিকতা বা নীতিবোধ একান্তভাবেই মানুষের হৃদয়-মন থেকে উৎসারিত।
- এর বিকাশ ঘটে মানুষের ন্যায়-অন্যায়, ভালো-মন্দ, উচিত-অনুচিত বোধ বা অনুভূতি থেকে।

গুরুত্বপূর্ণ কিছু প্রামাণ্য সংজ্ঞা:
- জোনাথান হেইট মনে করেন,
'ধর্ম, ঐতিহ্য এবং মানব আচরণ-তিনটি থেকেই নৈতিকতার উদ্ভব হয়েছে।'


- নীতিবিদ ম্যুর বলেছেন,
'শুভর প্রতি অনুরাগ ও অশুভর প্রতি বিরাগই হচ্ছে নৈতিকতা।'

- নৈতিকতার সংজ্ঞায় Collins English Dictionary-তে বলা হয়েছে যে,
'Morality is concerned with on negating to human behaviour, esp. the distinction between good and bad and right and wrong behaviour.'

- Cambridge International Dictionary of English-তে বলা হয়েছে যে,
'নৈতিকতা হলো 'ভালো-মন্দ আচরণ, স্বচ্ছতা, সততা ইত্যাদির সাথে সম্পর্কযুক্ত একটি গুণ, যা প্রত্যেক ব্যক্তিই আইন কিংবা অন্য কোনো বিষয়ের থেকে বেশি গুরুত্ব প্রদান করে থাকে।'

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মো: মোজাম্মেল হক।
১৪৮.
মূল্যবোধের ___________হলো সংস্কৃতি। 
  1. প্রাণ
  2. ভিত্তি
  3. সোপান
  4. চালিকাশক্তি
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধের চালিকাশক্তি:
-মূল্যবোধের চালিকাশক্তি হলো সংস্কৃতি।
- মূল্যবোধ (Values) হলো সমাজে ভালো-মন্দ, উচিত-অনুচিত, ন্যায়-অন্যায়ের ভিত্তিতে গৃহীত কিছু আদর্শ ও নীতিমালা।
- মূল্যবোধ গড়ে ওঠে একটি সমাজের বিশ্বাস, আচরণ, নীতি ও ঐতিহ্যের ভিত্তিতে।
- এসব উপাদান সবচেয়ে গভীরভাবে প্রতিফলিত হয় সংস্কৃতিতে।

অন্যদিকে,
- সংস্কৃতি বলতে বোঝায় একটি সমাজের ইতিহাস, ঐতিহ্য, রীতি-নীতি, ধর্ম, বিশ্বাস, শিল্প, সাহিত্য, শিক্ষা, সামাজিক আচার-আচরণ ও জীবনযাত্রার পদ্ধতি।
- সংস্কৃতি এমন একটি শক্তি, যা নিরবিচারে ব্যক্তি ও সমাজের মনন, চিন্তা ও আচরণের ভিত গড়ে তোলে।
- এই সংস্কৃতিই সমাজের মানুষের মানসিকতা, চিন্তাধারা ও মূল্যবোধ গঠনে মুখ্য ভূমিকা পালন করে।
- তাই, সংস্কৃতিকেই বলা হয় মূল্যবোধের চালিকাশক্তি।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
১৪৯.
সুশাসনের মূল চাবিকাঠি কী?
  1. গণতন্ত্র
  2. জবাবদিহিতা
  3. ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ
  4. নাগরিক ক্ষমতায়ণ
ব্যাখ্যা

সুশাসনের চাবিকাঠি:
- সুশাসন বলতে বোঝায় একটি কার্যকর, স্বচ্ছ, ন্যায়ভিত্তিক ও জনমুখী প্রশাসনিক ব্যবস্থা, যেখানে জনগণের অধিকার ও কল্যাণ নিশ্চিত হয়।
- জবাবদিহিতা হচ্ছে সুশাসনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান বা "মূল চাবিকাঠি"।
- এটি নিশ্চিত করে -
⇒ শাসক ও সরকারি কর্মচারীরা তাদের কাজের জন্য জনগণের কাছে দায়বদ্ধ,
⇒ কেউ আইন ও দায়িত্বের ঊর্ধ্বে নয়,
⇒ স্বচ্ছতা বজায় থাকে,
⇒ দুর্নীতি কমে এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়।

উল্লেখ্য,
- গণতন্ত্র, নাগরিক ক্ষমতায়ন ও ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ - এসবই সুশাসনের অংশ, তবে জবাবদিহিতা ছাড়া সুশাসন টেকসই হয় না।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।