পরীক্ষা আর্কাইভ

ডেইলি কুইজ [২০০ দিন]

পরীক্ষাডেইলি কুইজ [২০০ দিন]তারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়09 minutes
মোট প্রশ্ন১৬
সিলেবাস
[For iPad Mania: Season - 2] --------------------------- বিষয় - ভূগোল (বাংলাদেশ ও বিশ্ব), পরিবেশ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা টপিক - দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ১) বাংলাদেশ ও বৈশ্বিক পরিবেশ পরিবর্তন: আবহাওয়া ও জলবায়ু নিয়ামকসমূহের সেক্টরভিত্তিক (যেমন অভিবাসন, কৃষি, শিল্প, মৎস্য ইত্যাদি) স্থানীয়, আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক প্রভাব। ২) প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও ব্যবস্থাপনা: দুর্যোগের ধরন, প্রকৃতি ও ব্যবস্থাপনা। উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ সম্পর্কিত অষ্টম, মাধ্যমিক ও উচ্চ-মাধ্যমিক শ্রেণির বোর্ড বই [NCTB ও উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়], ওয়ার্ল্ড এটলাস ওয়েবসাইট, ব্রিটানিকা, সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইট এবং যেকোনো গাইডবই। [গাইড বই থেকে পড়ার ক্ষেত্রে কনফিউজিং বিষয়গুলো ক্রসচেক করে পড়া উত্তম।]।
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

ডেইলি কুইজ [২০০ দিন]

ডেইলি কুইজ [২০০ দিন] · তারিখ অনির্ধারিত · ১৬ প্রশ্ন

.
নিচের কোনটি বায়ুর চাপ নির্ধারণকারী রেখা নির্দেশ করে?
  1. আইসোহাইট রেখা
  2. আইসোবার রেখা
  3. আইসোথার্ম রেখা
  4. উপরের কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
♣ সমচাপ রেখা (Isober Line):
কোনো নির্দিষ্ট সময়ে দেশের বিভিন্ন স্থানের বায়ুর চাপ নির্ধারণ করে যখন মানচিত্রে প্রকাশ করা হয় তাকে সমচাপ রেখা মানচিত্র এবং রেখাসমূহকে সমচাপ রেখা বলে। 

সমতাপ রেখা (Isotherm line): 
কোনো নির্দিষ্ট সময়ে ভূ-পৃষ্ঠের কোনো স্থান বা দেশের সমান বায়ুতাপ বিশিষ্ট স্থানসমূহকে মানচিত্রের উপর সাবলীল বক্ররেখা দ্বারা সংযুক্ত করে যে মানচিত্র তৈরি করা হয়, তাকে সমতাপ রেখা মানচিত্র বলে এবং সমান রেখাসমূহকে বলা হয় সমতাপ রেখা।

♣ সমবর্ষণ রেখা (Isohyet Line): 
ভূ-পৃষ্ঠের একই পরিমাণ বৃষ্টিপাত বিশিষ্ট স্থানসমূহকে যখন মানচিত্রে রেখা দ্বারা সংযুক্ত করা হয় তখন তাকে বলা হয় সমবর্ষণ রেখা এবং যে মানচিত্রে এ রেখাগুলো দেখানো হয় তাকে সমবর্ষণ রেখা মানচিত্র বলে।

উৎস: ভূগোল ১ম পত্র, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
নিচের কোনটি জলবায়ু পরিবর্তনে বাংলাদেশের উপর প্রভাব বলে বিবেচিত?
  1. জীবাশ্ম জ্বালানির মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহার
  2. বনভূমি এলাকায় দাবানল
  3. ওজোন স্তর ক্ষয়
  4. উপকূলীয় অঞ্চলের জমিতে লবনাক্ততার পরিমাণ বৃদ্ধি
ব্যাখ্যা
জলবায়ু পরিবর্তন :
• কোনো একটি নির্দিষ্ট অঞ্চল বা এলাকায় দীর্ঘ মেয়াদে গড় আবহাওয়ার পরিবর্তনকে জলবায়ুর পরিবর্তন বলে। 

♠ জলবায়ু পরিবর্তনের কারণ: 
• জলবায়ু পরিবর্তন হয়ে থাকে মূলত পৃথিবীর গড় তাপমাত্রার বৃদ্ধির ফলে।
• আর তাপমাত্রা বৃদ্ধির প্রধান কারণ হলো-
১. জীবাশ্ম জ্বালানির মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহার;
২. শিল্প-কারখানার ধোঁয়া ও বিষাক্ত বর্জ্য;
৩. যানবাহন থেকে নির্গত ধোঁয়া যেমন- কার্বন মনোঅক্সাইড, সালফার ডাই-অক্সাইড;
৪. ব্যাপকহারে বনাঞ্চল ধ্বংস;
৫. তেজষ্ক্রিয় দূষণ;
৬. বনভূমি এলাকায় দাবানল; 
৭. ওজোন স্তর ক্ষয় এবং 
৮. মানুষের বিলাসবহুল জীবযাপনের জন্য প্রস্তুত বিভিন্ন সামগ্রী (যেমন- এয়ারকন্ডিশনার) প্রভৃতি।

♣ জলবায়ু পরিবর্তনে বাংলাদেশের উপর প্রভাব: 
১. উপকূলীয় অঞ্চলের জমিতে লবনাক্ততার পরিমাণ বৃদ্ধি,
২. কৃষি জমির উর্বরতা হ্রাস,
৩. অধিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি,
৪. দেশের উত্তরাংশসহ বিস্তীর্ণ এলাকা খরায় আক্রান্ত হওয়া,
৫. ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়া,
৬. আবাদী জমির পরিমাণ হ্রাস পাওয়া,
৭. মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ, যেমন- অতিরিক্ত লবনাক্ততায় মৎস্য প্রজাতির বিলুপ্তি দেখা যাচ্ছে।  
৮. যে হারে বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে সেই হারে যদি সমুদ্র পৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি পায় তাহলে প্রায় ১৫% স্থলভাগ হারানোর সম্ভাবনা আছে। এক্ষেত্রে উপকূলীয় অঞ্চলে বসবাসকারী প্রায় ৩০ মিলিয়ন (৩কোটি) মানুষ ও নানা প্রজাতির জীবজন্তু, সম্পদ প্রভৃতি ক্ষতিগ্রস্থ হতে পারে ।
৯. এদেশের স্বতন্ত্র বাস্তুতন্ত্রের সবচেয়ে বড় উদাহরণ হলো সুন্দরবন, সেখানে প্রাণি বৈচিত্র্য হুমকির সম্মুখীন হতে পারে। 
১০. বিশুদ্ধ খাবার পানির সংকট প্রভৃতি। 

উৎস: ভূগোল ১ম পত্র, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
.
উচ্চতা বৃদ্ধির সাথে সাথে বায়ুর তাপমাত্রা -
  1. বৃদ্ধি পায়
  2. হ্রাস পায়
  3. ধ্রুব থাকে
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
আবহাওয়া ও জলবায়ুর নিয়ামক:
• আবহাওয়া ও জলবায়ুর নিয়ামকসমূহ সর্বত্র সমানভাবে কাজ করে না।
• নিম্নে আবহাওয়া ও জলবায়ুর নিয়ামকসমূহ আলোচনা করা হলো-
১. অক্ষাংশ,
২. উচ্চতা,
৩. সমুদ্র থেকে দূরত্ব,
৪. স্থলভাগ ও জলভাগের অবস্থান, 
৫. সমুদ্রস্রোত,   
৬. ভূমির ঢাল, 
৭. ভূ-প্রকৃতি, 
৮. বায়ুপ্রবাহ,  
৯. বায়ুর চাপ এবং
১০. বনভূমির অবস্থান।   

♣ উচ্চতা: 
• উচ্চতা যত বৃদ্ধি পায় বায়ুমন্ডলীয় তাপমাত্রা তত বেশি হ্রাস পায়। 
• সাধারণত প্রতি ১০০০ মিটার উচ্চতায় ৬° সেলসিয়াস তাপমাত্রা হ্রাস পায়।
• উচ্চতার জন্যই একই অক্ষাংশে অবস্থিত দুই জায়গার জলবায়ুতে পার্থক্য দেখা যায়। 
• যেমন- দিনাজপুর ও শিলং একই অক্ষাংশে অবস্থিত হওয়া সত্ত্বেও শুধু উচ্চতা ভিন্নতার জন্য এদের জলবায়ু ভিন্নরকম হয়।
• দিনাজপুরের চেয়ে শিলং এর তাপমাত্রা অনেক কম। 

উৎস: ভূগোল ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
পার্বত্য এলাকায় কোন ধরনের বন্যা বেশি দেখা যায়?
  1. মৌসুমি বন্যা
  2. জোয়ার-ভাটাজনিত বন্যা
  3. আকস্মিক বন্যা
  4. নিয়মিত বন্যা
ব্যাখ্যা
বন্যা:
• বাংলাদেশের প্রাকৃতিক দুর্যোগের মধ্যে বন্যা অন্যতম।
• এ দেশের মানুষের কাছে বন্যা যেমন ভয়াবহ তেমনি অর্থনৈতিক অবস্থার উপর অপরিসীম প্রভাব ফেলে।
• প্রকৃতপক্ষে এ দেশের প্রেক্ষিতে কোনো এলাকা প্লাবিত হয়ে যদি মানুষের জীবন ও সম্পদের ক্ষতিসাধন হয় তাহলেই বন্যা হয়েছে ধরা হয়।

♣ বন্যার শ্রেণিবিভাগ: 
১. মৌসুমি বন্যা: 
• ঋতুভিত্তিক;
• বিস্তৃতি ব্যাপক;
• ক্ষতির পরিমাণ বেশি;
• পানি হ্রাস-বৃদ্ধির গতি ধীর।  

২. আকস্মিক বন্যা:
• পানি হ্রাস-বৃদ্ধির দ্রুত গতি;
• পার্বত্য এলাকায় দেখা যায়।   

৩. জোয়ার-ভাটাজনিত বন্যা:  
• স্বল্প স্থায়ী;
• সাধারণ উচ্চতা ৩ থেকে ৬ মিটার;
• অমাবস্যা ও পূর্ণিমায় বন্যার রূপ ভয়াবহ। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
.
নিচের কোন দ্রব্যের ব্যবহার বায়ুমণ্ডলের ওজোন স্তর ক্ষয়কে প্রভাবিত করে?
  1. রেফ্রিজারেটর
  2. প্লাস্টিক
  3. ফোম
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
বৈশ্বিক উষ্ণায়নের কারণ:  
• বায়ুর মূল উপাদান হলো নাইট্রোজেন ও অক্সিজেন। 
• এছাড়া বায়ুতে সামান্য পরিমাণে কার্বন-ডাই-অক্সাইড, মিথেন ও নাইট্রাস অক্সাইড আছে।
• আরও আছে জলীয় বাষ্প ও ওজোন গ্যাস।
• বায়ুমণ্ডলের এই গৌণ গ্যাসগুলোকেই গ্রিনহাউস গ্যাস বলা হয়।
♣♣
• প্রাকৃতিকভাবে সৃষ্ট এসব গ্যাস ছাড়াও মনুষ্য সৃষ্ট সিএফসি (ক্লোরো ফ্লোরো কার্বন), এইচসিএফসি (হাইড্রো ক্লোরো ফ্লোরো কার্বন), হ্যালন ইত্যাদিও গ্রিনহাউস গ্যাস।
 • এই গ্যাসগুলোর মধ্যে গত এক শতাব্দীতে বায়ুমণ্ডলে কার্বন-ডাই- অক্সাইডের পরিমাণ বেড়েছে শতকরা ২৫ ভাগ।
• একইভাবে নাইট্রাস অক্সাইডের পরিমাণ শতকরা ১৯ ভাগ; 
• এবং মিথেনের পরিমাণ ১০০ ভাগ বেড়েছে।
• যা বৈশ্বিক উষ্ণায়নের প্রধান কারণ। এছাড়া অন্যান্য কারণও রয়েছে। 
♣♣
• আমরা যেসব দ্রব্য ব্যবহার করি, যেমন: রেফ্রিজারেটর, এয়ার কন্ডিশনার, প্লাস্টিক, ফোম, এরোসল প্রভৃতির ফলেও বায়ুমণ্ডলে উৎপন্ন হচ্ছে এক ধরনের প্রিনহাউস গ্যাস (এইচসিএফসি)।
এই গ্যাসের কারণে বায়ুমণ্ডলের ওজোন স্তর ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
• বায়ুমণ্ডলের তৃতীয় স্তর হচ্ছে ওজোন স্তর, যা ২০ কি. মি. পর্যন্ত বিস্তৃত।
• ওজোন দ্বার সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি শোষণ করে পৃথিবীর জীবজগতকে রক্ষা করে।
• ওজোন স্তর ক্ষয়ের কারণে ভূপৃষ্ঠে অতিবেগুনি রশ্মির প্রভাব শতকরা পাঁচ ভাগ বৃদ্ধি পেরেছে।
• এটাও বৈশ্বিক উষ্ণতা বাড়ার কারণ। 

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, অষ্টম শ্রেণি।
.
টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার কোন অভীষ্টতে 'জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক কার্যক্রম' সম্পর্কে আলোকপাত করা হয়েছে?
  1. ৩ নং অভীষ্ট
  2. ৮ নং অভীষ্ট
  3. ১১ নং অভীষ্ট
  4. ১৩ নং অভীষ্ট
ব্যাখ্যা
টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা:   
- টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা, যা গ্লোবাল গোল নামেও পরিচিত। 
- দারিদ্র্যের অবসান ও পৃথিবীকে রক্ষা করার জন্য  জাতিসংঘ কর্তৃক  2015 সালে এবং 2030 সালের মধ্যে সকল মানুষ শান্তি ও সমৃদ্ধি উপভোগ করার জন্য একটি সর্বজনীন আহ্বান হিসাবে গৃহীত হয়েছিল।  

♣ ১৭টি স্বতন্ত্র অভীষ্ট:  
• লক্ষ্য ১: দারিদ্র্য বিলোপ;
• লক্ষ্য ২: ক্ষুধা মুক্তি;
• লক্ষ্য ৩: সুস্বাস্থ্য ও কল্যাণ;
• লক্ষ্য ৪: গুনগত শিক্ষা;
• লক্ষ্য ৫: লিঙ্গ/জেন্ডার সমতা;
• লক্ষ্য ৬: নিরাপদ পানি ও পয়ঃনিষ্কাশন;
• লক্ষ্য ৭: সাশ্রয়ী ও দূষণমুক্ত জ্বালানি;
• লক্ষ্য ৮: শোভন কাজ ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি;
• লক্ষ্য ৯: শিল্প, উদ্ভাবন ও অবকাঠামো;
• লক্ষ্য ১০: অসমতার হ্রাস;
• লক্ষ্য ১১: টেকসই নগর ও জনপদ;
• লক্ষ্য ১২: পরিমিত ভোগ ও টেকসই উৎপাদন;
• লক্ষ্য ১৩: জলবায়ু পরিবর্তন কার্যক্রম; 
• লক্ষ্য ১৪: জলজ জীবন; 
• লক্ষ্য ১৫: স্থলজ জীবন;
• লক্ষ্য ১৬: শান্তি, ন্যায়বিচার ও কার্যকর প্রতিষ্ঠান;
• লক্ষ্য ১৭: অভীষ্ট অর্জনে অংশীদারিত্ব।    

উৎস:
ইউএনডিপি ওয়েবসাইট এবং জাতিসংঘ বাংলাদেশের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট।  
.
সমুদ্র পৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধিজনিত কারণে বাংলাদেশে উপকূলীয় অঞ্চলে বসবাসকারী কী পরিমাণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্থ হতে পারে?
  1. ১৭ মিলিয়ন
  2. ৭০ মিলিয়ন
  3. ৩০ মিলিয়ন
  4. ৩০০ মিলিয়ন
ব্যাখ্যা
জলবায়ু পরিবর্তন :
• কোনো একটি নির্দিষ্ট অঞ্চল বা এলাকায় দীর্ঘ মেয়াদে গড় আবহাওয়ার পরিবর্তনকে জলবায়ুর পরিবর্তন বলে। 

♣ জলবায়ু পরিবর্তনে বাংলাদেশের উপর প্রভাব:  
• যে হারে বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে সেই হারে যদি সমুদ্র পৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি পায় তাহলে প্রায় ১৫% স্থলভাগ হারানোর সম্ভাবনা আছে।
• এক্ষেত্রে উপকূলীয় অঞ্চলে বসবাসকারী প্রায় ৩০ মিলিয়ন (৩কোটি) মানুষ ও নানা প্রজাতির জীবজন্তু, সম্পদ প্রভৃতি ক্ষতিগ্রস্থ হতে পারে ।

উৎস:
ভূগোল ১ম পত্র, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
কোন সম্মেলনে 'জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক জাতিসংঘের ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশন  (UNFCCC)' গৃহীত হয়?
  1. জাতিসংঘ জলবায়ু পরিবর্তন সম্মেলন
  2. বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলন
  3. স্টকহোম সামিট
  4. বিশ্ব ধরিত্রী সম্মেলনে
ব্যাখ্যা
♣ UNFCCC: 
• ১৯৯২ সালের ৩-১৪ জুন ব্রাজিলের রিও ডি জেনেরিও শহরে অনুষ্ঠিত 'বিশ্ব ধরিত্রী সম্মেলনে' 'জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক জাতিসংঘের ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশন  (UNFCCC)' গৃহীত হয়। 
 • UNFCCC means United Nations Framework Convention on Climate Change.  
• এটি কার্যকর হয় ১৯৯৪ সালের ২১ মার্চ। এতে মোট ১৯৭ টি দেশ ও সংস্থা স্বাক্ষর করে। 
 
 - এর উদ্দেশ্য জলবায়ুতে মানুষের সৃষ্টি ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবেলা। 
- ১৯৯৫ সাল থেকে 'জাতিসংঘ জলবায়ু পরিবর্তন সম্মেলন (COP)' নামে প্রতি বছর অনুষ্ঠিত হচ্ছে। 

♣ বিশ্বের প্রথম পরিবেশ সম্মেলন (স্টকহোম সামিট) ১৯৭২ সালে স্টকহোম, সুইডেনে অনুষ্ঠিত হয়।  

উৎস:
UNFCCC ওয়েবসাইট, জাতিসংঘ বাংলাদেশ ওয়েবসাইট।
.
কোন সংস্থার রিপোর্ট অনুযায়ী 'জলবায়ুর পরিবর্তন জনিত প্রভাবে দক্ষিণ এশিয়ার ১৫০ কোটির বেশি মানুষ সরাসরি পানি ও খাদ্য ঝুঁকিতে পড়বে'?
  1. জাতিসংঘ
  2. ইন্টারন্যাশনাল প্যানেল অন ক্লাইমেট চেঞ্জ
  3. এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (ADB)
  4. বিশ্বব্যাংক
ব্যাখ্যা
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব: বাংলাদেশ প্রেক্ষিত  
♣ জাতিসংঘ তার সতর্কীকরণে বলেছে;
• পরবর্তী ৫০ বছরে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা ৩ ফুট বাড়লে তাতে বাংলাদেশের সমুদ্র উপকূলবর্তী একটি অংশ প্লাবিত হবে;
• এবং প্রায় ১৭ শতাংশ ভূমি পানির নিচে চলে যাবে।
• আনুমানিক ৩ কোটি মানুষ তাদের ঘরবাড়ি, ফসলি জমি হারিয়ে জলবায়ু উদ্বাস্তুতে পরিণত হবে। 

♣ ইন্টারন্যাশনাল প্যানেল অন ক্লাইমেট চেঞ্জ-এর তথ্য অনুসারে:
• ২০৩০ সালের পর নদীর প্রবাহ নাটকীয়ভাবে কমে যাবে।
• ফলে এশিয়ায় পানির স্বল্পতা দেখা দেবে এবং ২০৫০ সালের মধ্যে প্রায় ১০০ কোটি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
• উচ্চ তাপমাত্রার প্রভাবে ঘন ঘন বন্যা, ঝড়, অনাবৃষ্টি এবং সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি পাবে।

এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের (ADB) একটি সমীক্ষা থেকে জানা যায়:    
• উষ্ণায়নের বর্তমান ধারা ২০৫০ সাল পর্যন্ত অব্যাহত থাকলে দক্ষিণ এশিয়ায় শস্য উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাবে। 
জলবায়ুর অন্য আনুষঙ্গিক পরিবর্তনের প্রভাবে দক্ষিণ এশিয়ার ১৫০ কোটির বেশি মানুষ সরাসরি পানি ও খাদ্য ঝুঁকিতে পড়বে।
• ভবিষ্যদ্বাণী করা হয়েছে যে, বিশ্ব উষ্ণায়নের ফলে এ শতকের শেষ নাগাদ বিশ্বে চাষাবাদ ২০ থেকে ৪০ শতাংশ হ্রাস পেতে পারে।

♣ আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলোজি (MIT) অর্থনীতিবিদদের নতুন গবেষণা অনুসারে বিশ্ব উষ্ণায়ন ধনী ও দরিদ্র দেশগুলোর মধ্যকার ব্যবধান আরও বাড়িয়ে দেবে। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
১০.
'দুর্যোগ সংক্রান্ত পরিকল্পনা প্রণয়ন' দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা চক্রের কোন ধাপের কার্যক্রমের অন্তর্ভুক্ত?
  1. প্রশমন
  2. প্রতিরোধ
  3. পূর্বপ্রস্তুতি
  4. উন্নয়ন
ব্যাখ্যা
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা চক্র:    
♣ প্রতিরোধ: 
• দুর্যোগ প্রতিরোধের কাঠামোগত এবং অকাঠামোগত প্রশমনের ব্যবস্থা রয়েছে। 
• কাঠামোগত প্রশমনের ক্ষেত্রে বিভিন্ন নির্মাণ কার্যক্রম যথা- বেড়িবাঁধ তৈরি, আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ, পাকা ও মজবুত ঘরবাড়ি তৈরি, নদী খনন ইত্যাদি বাস্তবায়নকেই বোঝায়। 
• অকাঠামোগত দুর্যোগ প্রতিরোধ, যেমন- প্রশিক্ষণ, গণসচেতনতা বৃদ্ধি, পূর্বপ্রস্তুতি ইত্যাদি কার্যক্রম স্বল্প ব্যয়ে করা সম্ভব।  

♣ প্রশমন:
• দুর্যোগের দীর্ঘস্থায়ী হ্রাস এবং দুর্যোগ পূর্বপ্রস্তুতিকেই দুর্যোগ প্রশমন বলে। 
• মজবুত পাকা ভবন নির্মাণ, শস্য বহুমুখীকরণ, ভূমি ব্যবহারে বিপর্যয় হ্রাসের কৌশল নির্ধারণ, অর্থনৈতিক উন্নয়ন, শক্ত অবকাঠামো নির্মাণ, কম ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় লোক স্থানান্তর; প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো গঠন ইত্যাদি কার্যক্রম দুর্যোগ প্রশমনের আওতাভুক্ত। 
• দীর্ঘস্থায়ী দুর্যোগ প্রশমন ব্যয়বহুল হলেও সরকার সীমিত সম্পদের মধ্যে বিভিন্ন স্থানে বেড়িবাঁধ নির্মাণ, নদী খনন, আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ, বনায়ন ইত্যাদি কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।

♣ পূর্বপ্রস্তুতি:
• দুর্যোগপূর্ব প্রস্তুতি বলতে দুর্যোগপূর্ব সময়ে দুর্যোগের ঝুঁকি কমানোর ব্যবস্থাসমূহকে বোঝায়।   
• আগে থেকে ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চল ও জনগোষ্ঠীকে চিহ্নিতকরণ, দুর্যোগ সংক্রান্ত পরিকল্পনা প্রণয়ন, প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো, জরুরি অবস্থা মোকাবিলার জন্য প্রয়োজনীয় সম্পদের ব্যবস্থা নিশ্চিতকরণ, ড্রিল বা ভূমিকা অভিনয় এবং রাস্তাঘাট, যানবাহন, বেতার যন্ত্র ইত্যাদি দুর্যোগের পূর্বে প্রস্তুত রাখা দুর্যোগ প্রস্তুতির অন্তর্ভুক্ত। 

♣ সাড়াদান: 
• সাড়াদান দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার একটি অংশ মাত্র। দুর্যোগের পরপরই উপযুক্ত সাড়াদানের প্রয়োজন হয়। 
• সাড়াদান বলতে নিরাপদ স্থানে অপসারণ, তল্লাশি ও উদ্ধার, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ এবং ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রমকে বোঝায়।

♣ পুনরুদ্ধার: 
• দুর্যোগে সম্পদ, পরিবেশ, সামাজিক ও অর্থনৈতিক অবকাঠামো ইত্যাদির যে ক্ষতি হয়ে থাকে তা পুননির্মাণের মাধ্যমে দুর্যোগপূর্ব অবস্থায় ফিরিয়ে আনাকেই পুনরুদ্ধার বোঝায়। 
• এক্ষেত্রে সরকারি, বেসরকারি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ও আন্তর্জাতিক সংস্থাসমূহের সাহায্য ও সহায়তার প্রয়োজন হয়।

♣ উন্নয়ন: 
• ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাকে দুর্যোগপূর্ব অবস্থায় ফিরিয়ে আনার পরপরই ঐ এলাকার উন্নয়ন কাজে হাত দিতে হয়। 
• উন্নয়ন কর্মকাণ্ড হাতে নেওয়ার পূর্বে ভৌগোলিক ও পরিবেশগত বৈশিষ্ট্যের উপর লক্ষ রাখতে হবে।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
১১.
ভৌগোলিক বৈশিষ্টের ভিত্তিতে নিচের কোন দুর্যোগটি বাংলাদেশে নিয়মিত?
  1. ঘূর্ণিঝড়
  2. ভূমিধ্বস
  3. নদীভাঙন
  4. ভূমিকম্প
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের প্রাকৃতিক দুর্যোগ: 
• বন্যা,
• খরা,
• ঘূর্ণিঝড়, 
• সুনামি;
• ভূমিধ্বস,
• নদীভাঙন, 
• ভূমিকম্প।  

♣ নদীভাঙন: 

• নদীখাতে পানিপ্রবাহের কারণে পার্শ্ব ক্ষয়কে নদীভাঙন বলে।
• পলিমাটি গঠিত সমভূমি অধ্যুষিত বাংলাদেশে নদীভাঙনে প্রতি বছর প্রচুর ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট ধ্বংস হয়।
• অনেক মানুষের জীবনহানি ঘটে।

♣ নদীভাঙনজনিত ক্ষয়ক্ষতি:  
• বাংলাদেশ নদীমাতৃক দেশ হওয়ায় নদীভাঙন এ দেশের জন্য নিয়মিত সমস্যা বলা যায়।
• নদীভাঙনের ক্ষতি ব্যাপক আকার ধারণ করে। 
• এ দেশে প্রতি বছর পদ্মা, যমুনা, মেঘনা, তিস্তাসহ প্রায় ৪১০টি নদী-উপনদীতে বন্যা এবং সন্নিহিত নদীতে ভাঙনের ঘটনা ঘটে।
• এ দেশের মানুষ নদীভাঙন নামক দুর্যোগের সঙ্গে কমবেশি জড়িত।
• এর মধ্যে প্রায় ১.৫ মিলিয়ন লোক প্রত্যক্ষভাবে নদীভাঙনের দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
• এদের মধ্যে প্রায় তিন লক্ষ লোক আশ্রয় নেয় বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, রাস্তা এবং বাঁধের উপর।
• অন্যদিকে বাংলাদেশ প্রতি বছর প্রায় ২০০ কোটি টাকার ক্ষতির সম্মুখীন হয়।
• এছাড়া প্রতি বছর প্রায় ৮,৭০০ হেক্টর জমি নদীভাঙনে নিঃশেষ হয়ে যায়৷ 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।   
১২.
'নিরক্ষরেখা থেকে উত্তর ও দক্ষিণ উভয় মেরুর দিকে তাপমাত্ৰা ক্ৰমশ কমার' প্রধান নিয়ামক -
  1. সমুদ্র থেকে দূরত্ব
  2. বায়ুপ্রবাহ
  3. উচ্চতা
  4. অক্ষাংশ
ব্যাখ্যা
♣ জলবায়ুর নিয়ামক:  
• পৃথিবীর সব অঞ্চলের জলবায়ু একই রকম নয়।
• এর কোনো অঞ্চল উষ্ণ এবং কোনো অঞ্চল শীতল।
• আবার কোনো স্থান বৃষ্টিবহুল এবং কোনো স্থান বৃষ্টিহীন।
• কিছু ভৌগোলিক বিষয়ের পার্থক্যের কারণে স্থানভেদে জলবায়ুর এরকম পার্থক্য পরিলক্ষিত হয়।
• এই বিষয়গুলোকে জলবায়ুর নিয়ামক বলে।
• যথা: 
- অক্ষাংশ, 
- উচ্চতা,
- সমুদ্র থেকে দূরত্ব,
- স্থলভাগ ও জলভাগের অবস্থান, 
- সমুদ্রস্রোত,   
- ভূমির ঢাল,   
- ভূ-প্রকৃতি, 
- বায়ুপ্রবাহ,  
- বায়ুর চাপ এবং 
- বনভূমির অবস্থান।   
 
♣ অক্ষাংশ (Latitude):  
• সূর্যকিরণের মাত্রা অক্ষাংশভেদে বিভিন্ন রকম হয়।
• নিরক্ষরেখার উপর সারাবছর সূর্য লম্বভাবে কিরণ দেয়।
• নিরক্ষরেখা থেকে যতই উত্তর বা দক্ষিণে যাওয়া যায়, সূর্যকিরণ তির্যকভাবে পড়তে থাকে। 
• এর ফলে নিরক্ষরেখা থেকে উত্তর ও দক্ষিণ উভয় মেরুর দিকে তাপমাত্ৰা ক্ৰমশ কমতে থাকে।   

উৎস:
ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি এবং ভূগোল ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
১৩.
'জাতিসংঘ জলবায়ু পরিবর্তন সম্মেলন, কপ- ২৮' কোন শহরে অনুষ্ঠিত হবে?
  1. শারম্ এল-শেখ
  2. দুবাই
  3. সিডনি
  4. রিয়াদ
ব্যাখ্যা
জলবায়ু পরিবর্তন সম্মেলন (COP): 
• ১৯৯২ সালের ৩-১৪ জুন ব্রাজিলের রিও ডি জেনেরিও শহরে অনুষ্ঠিত বিশ্ব ধরিত্রী সম্মেলনে জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক জাতিসংঘের ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশনে (UNFCCC) গৃহীত হয়।
• UNFCCC means United Nations Framework Convention on Climate Change.  
• এর উদ্দেশ্য জলবায়ুতে মানুষের সৃষ্টি ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবেলা।  

• ১৯৯৫ সাল থেকে 'জাতিসংঘ জলবায়ু পরিবর্তন সম্মেলন (COP)' নামে প্রতি বছর অনুষ্ঠিত হচ্ছে।   
• ২০২২ সালের নভেম্বরে মিশরের শারম্ এল-শেখ এলাকায় 'কপ-২৭' অনুষ্ঠিত হয়। 
• আগামী ৩০ নভেম্বর থেকে ১২ ডিসেম্বর ২০২৩ পর্যন্ত সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে 'কপ-২৮' আয়োজিত হবে। 

• 'কপ-২৯' আয়োজিত হবে আজারবাইজানে। 
• 'কপ-৩০' ব্রাজিলের বেলেম শহরে।   

উৎস: UNFCCC ওয়েবসাইট, জাতিসংঘ বাংলাদেশ ওয়েবসাইট এবং সময়নিউজ (২৭ মে ২০২৩)।
১৪.
নিচের কোনটি অকাঠামোগত দুর্যোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা?
  1. বেড়িবাঁধ তৈরি
  2. ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ
  3. নদী খনন
  4. গণসচেতনতা বৃদ্ধি
ব্যাখ্যা
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা:  
• দুর্যোগ প্রতিরোধ, দুর্যোগ প্রশমন এবং দুর্যোগের পূর্বপ্রস্তুতি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার মুখ্য উপাদান। 
• সুতরাং দুর্যোগকে কার্যত মোকাবিলার লক্ষ্যে দুর্যোগপূর্ব সময়েই এর ব্যবস্থাপনার বেশি কাজ সম্পন্ন করতে হয় । 
• দুর্যোগ সংঘটনের পরপরই এর ব্যবস্থাপনার অন্যান্য উপাদানের মধ্যে রয়েছে, সাড়াদান, পুনরুদ্ধার ও উন্নয়ন। 
• অতীতে দুর্যোগে  সাড়াদানকেই সম্পূর্ণ দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বলে ধরে নেওয়া হতো। 

♣ প্রতিরোধ:
• প্রাকৃতিক দুর্যোগকে সম্পূর্ণরূপে প্রতিরোধ করা সম্ভব না হলেও এর ক্ষয়ক্ষতি কমানোর ব্যাপারে প্রতিরোধ কার্যক্রম সফলতা বয়ে আনতে পারে।
• দুর্যোগ প্রতিরোধের কাঠামোগত এবং অকাঠামোগত প্রশমনের ব্যবস্থা রয়েছে।
• কাঠামোগত প্রশমনের ক্ষেত্রে বিভিন্ন নির্মাণ কার্যক্রম যথা- বেড়িবাঁধ তৈরি, আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ, পাকা ও মজবুত ঘরবাড়ি তৈরি, নদী খনন ইত্যাদি বাস্তবায়নকেই বোঝায়।
• কাঠামোগত দুর্যোগ প্রশমন খুবই ব্যয়বহুল, যা অনেক দরিদ্র দেশের পক্ষে বহন করা কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে। 
অকাঠামোগত দুর্যোগ প্রতিরোধ, যেমন- প্রশিক্ষণ, গণসচেতনতা বৃদ্ধি, পূর্বপ্রস্তুতি ইত্যাদি কার্যক্রম স্বল্প ব্যয়ে করা সম্ভব।  

♣ সাড়াদান: 
• সাড়াদান দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার একটি অংশ মাত্র। দুর্যোগের পরপরই উপযুক্ত সাড়াদানের প্রয়োজন হয়। 
• সাড়াদান বলতে নিরাপদ স্থানে অপসারণ, তল্লাশি ও উদ্ধার, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ এবং ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রমকে বোঝায়। 

উৎস:
ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
১৫.
বৈশ্বিক উষ্ণায়নের ফলে একবিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময় বিশ্বের মোট জনসমষ্টির কত শতাংশ অধিবাসীর সরাসরি ভাগ্য বিপর্যয় দেখা দিতে পারে?
  1. প্রায় ১০ শতাংশ
  2. প্রায় ২০ শতাংশ
  3. প্রায় ২৫ শতাংশ
  4. প্রায় ৩০ শতাংশ
ব্যাখ্যা
জলবায়ু পরিবর্তনের বৈশ্বিক প্রভাব: 
• বিজ্ঞানীদের হিসাব অনুযায়ী গ্রিনহাউস প্রভাব পৃথিবীর কয়েকটি দেশে যথা- কানাডা, রাশিয়া, নরওয়ে, ফিনল্যান্ড, সুইডেন, দক্ষিণ আমেরিকা প্রভৃতি দেশগুলোর জন্য সাফল্য বয়ে আনবে।
• এ কারণে ঐসব অঞ্চলের লক্ষ লক্ষ একর জমি বরফমুক্ত হয়ে চাষাবাদ ও বসবাসযোগ্য হয়ে উঠবে।
• অন্যদিকে দুর্ভোগ বাড়বে পৃথিবীর প্রায় ৪০ শতাংশ এলাকার দরিদ্র অধিবাসীদের।
• কারণ গ্রিনহাউস প্রতিক্রিয়ার ফলে বাংলাদেশসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে উপকূলীয় এলাকার এক বিরাট অংশ পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
• সমুদ্র উপকূলবর্তী পৃথিবীর বেশ কয়েকটি বিখ্যাত শহর হবে ব্যাপক আকারে ক্ষতিগ্রস্ত।  
♠♠ 
• পৃথিবী উষ্ণায়নের ফলে একবিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময় বিশ্বের মোট জনসমষ্টির প্রায় ২০ শতাংশ অধিবাসীর সরাসরি ভাগ্য বিপর্যয় দেখা দিতে পারে।
• এশীয় ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে সমুদ্রপৃষ্ঠ ফুলে উঠলে আবহাওয়ার প্রকৃতিই বদলে যাবে। 
• সময়ে অসময়ে জলোচ্ছ্বাসের শিকার হয়ে ফসল ডুবে যাবে, দূষিত হবে সুপেয় পানি, লোনা পানি প্রবেশের ঝুঁকি বাড়বে, বনাঞ্চল ধ্বংস হবে, বন্য জীবজন্তুর সংখ্যা হ্রাস পাবে এবং একই দেশের মানুষ অন্য অঞ্চলে হবে জলবায়ু শরণার্থী (Climate refugee)।
• এক্ষেত্রে বাংলাদেশের সমুদ্র উপকূলীয় নিম্নাঞ্চলের মানুষ হবে প্রথম শিকার।  

 উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
১৬.
নিচের কোনটি মানবসৃষ্ট দুর্যোগের উদাহরণ?
  1. নদীভাঙন
  2. খরা
  3. বনভূমি বিনাশ
  4. বন্যা
ব্যাখ্যা
দুর্যোগের ধরন: 
♠ কোনো প্রাকৃতিক বা মানবসৃষ্ট অবস্থা যখন অস্বাভাবিক ও অসহনীয় পরিবেশের সৃষ্টি করে এবং এর ফলে শস্য ও সম্পদের অনেক ক্ষয়ক্ষতি ও ব্যাপক প্রাণহানি ঘটে, পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয় তখন তাকে দুর্যোগ হিসাবে বিবেচনা করা যায়।
⇒ দুর্যোগ দুই ধরনের: 
• প্রাকৃতিক দুর্যোগ এবং 
• মানবসৃষ্ট দুর্যোগ। 

♠ প্রাকৃতিক দুর্যোগ: 
• আকস্মিকভাবে ঘটে এবং তার উপর সাধারণত মানুষের হাত থাকে না। 
• প্রাকৃতিক কোনো দুর্ঘটনা বা বিপর্যয় যখন কোনো জনপদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রাকে বিপর্যস্ত করে তোলে তখন তাকে আমরা প্রাকৃতিক দুর্যোগ বলি।
• যেমন: বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, টর্নেডো, ভূমিকম্প, খরা, নদীভাঙন, সুনামি, আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত প্রভৃতি।  

♠ মানবসৃষ্ট দুর্যোগ:
• মানুষের অসচেতনতা বা দূরদৃষ্টির অভাবে যে দুর্যোগ সৃষ্টি হয় এবং যা মানুষের প্রাণহানি ঘটানোর পাশাপাশি তার স্বাভাবিক জীবনযাত্রাকে বিপর্যস্ত করে, পরিবেশের ভারসাম্য বিনষ্ট করে এবং সমাজকে অস্থিতিশীল করে তোলে, তাকে মানবসৃষ্ট দুর্যোগ বলে।
• অনেকটা মানুষের কর্মকাণ্ডের ফল এবং মানুষ সচেতন ও সতর্ক থাকলে এ দুর্যোগ থেকে আত্মরক্ষা করতে পারে।  
• যেমন: যুদ্ধ-বিগ্রহ, সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা, বনভূমি বিনাশ, নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত করে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি, মরুকরণ, অগ্নিকাণ্ড প্রভৃতি।  

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, অষ্টম শ্রেণি।