পরীক্ষা আর্কাইভ

১৯তম জুডিসিয়াল সার্ভিস (BJS) প্রস্তুতি

পরীক্ষা১৯তম জুডিসিয়াল সার্ভিস (BJS) প্রস্তুতিতারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়12 minutes
মোট প্রশ্ন৩০
সিলেবাস
পরীক্ষা - ০১ আইন বিষয়াবলী - ১ Subject: The Code of Civil Procedure, 1908 Topic: Preliminary Discussion of CPC, Definitions (Section 2), Civil Courts Act, 1887 (All Sections), Rule-Making Power of the Supreme Court (Sections 122-123), Place of Suing (Sections 15-20), Res Sub Judice & Res Judicata (Sections 10-11), Transfer of Civil Suit (Sections 22-24A), Parties of the Suit (Order 1), Summon (Sections 27-32 & Orders 5 & 16), Pleadings (Order 6), Plaint (Order 7).
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

১৯তম জুডিসিয়াল সার্ভিস (BJS) প্রস্তুতি

১৯তম জুডিসিয়াল সার্ভিস (BJS) প্রস্তুতি · তারিখ অনির্ধারিত · ৩০ প্রশ্ন

.
According to Section 2(2) of The Code of Civil Procedure, 1908, which of the following is not included in the definition of “decree”?
  1. Rejection of a plaint
  2. Any order of dismissal for default
  3. Determination of question under section 144
  4. Both 'A' & 'B'
ব্যাখ্যা

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ২(২) অনুসারে "ডিক্রি" এর সংজ্ঞাটি স্পষ্টভাবে কিছু বিষয় অন্তর্ভুক্ত এবং বাদ দিয়েছে।
- এটি নিম্নলিখিত বিষয়গুলোকে অন্তর্ভুক্ত করবে বলে গণ্য করা হয়:
ক) আরজি বাতিল (Rejection of a plaint)
গ) ধারা ১৪৪-এর অধীন কোনো প্রশ্নের নির্ধারণ (Determination of question under section 144)
- এটি নিম্নলিখিত বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করবে না:
খ) ত্রুটির জন্য খারিজের কোনো আদেশ (any order of dismissal for default) এটি সরাসরি অপশন খ এর সাথে মিলে যায়।

⇒ The Code of Civil Procedure, 1908, Section 2(2)-
"decree" means the formal expression of an adjudication which, so far as regards the Court expressing it, conclusively determines the rights of the parties with regard to all or any of the matters in controversy in the suit and may be either preliminary or final. It shall be deemed to include the rejection of a plaint and the determination of any question within section 144,
but shall not include- 
(a) any adjudication from which an appeal lies as an appeal from an order, or 
(b) any order of dismissal for default.

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ২(২) অনুসারে-
ডিক্রি বলতে কোন আদালত কর্তৃক  আনুষ্ঠানিকভাবে ভাবে প্রকাশিত এমন বক্তব্য বুঝায়, যা মোকদ্দমার বিতর্কিত সমগ্র বা যেকোন বিষয় সম্পর্কে পক্ষগণের অধিকার চূড়ান্তভাবে নির্ধারণ করে এবং এই “ডিক্রি” প্রাথমিক বা চূড়ান্ত হতে পারে। নিম্নলিখিত বিষয় ডিক্রি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হবে-  আদেশ ৭ বিধি ১১ এর অধীন আরজি প্রত্যাখ্যান এবং ১৪৪ ধারায় বর্ণিত কোন প্রশ্ন নির্ধারণও ডিক্রি বলে গণ্য হবে।

⇒ তবে নিম্নলিখিত বিষয় এর অন্তর্ভুক্ত হবে না:
- যে বিচারকৃত রায়ের বিরুদ্ধে কোন আদেশের বিরুদ্ধে আপিলের মত আপিল করা যায়; অথবা
- কোন ত্রুটির জন্য খারিজের আদেশ।

.
Civil Courts (Amendment) Ordinance, 2025 এর অধ্যাদেশ নম্বর কত?
  1. ২৫ নং
  2. ৪৫ নং
  3. ৫৫ নং
  4. ৬৫ নং
ব্যাখ্যা

⇒ Civil Courts (Amendment) Ordinance, 2025 ( ২০২৫ সনের ৫৫ নং অধ্যাদেশ )
অধ্যাদেশ নম্বর: ২০২৫ সনের ৫৫ নং অধ্যাদেশ।
জারির তারিখ: ২ নভেম্বর, ২০২৫
অর্থাৎ ২০২৫ সালে প্রণীত এই অধ্যাদেশটির ক্রমিক নম্বর হলো ৫৫।

অধ্যাদেশটির প্রেক্ষাপট ও উদ্দেশ্য:
- এই অধ্যাদেশটি প্রণয়নের মূল উদ্দেশ্য হলো Civil Courts Act, 1887 আইনে ব্যবহৃত কিছু পদবী (Designation) আধুনিকীকরণ ও পরিবর্তন করা। ব্রিটিশ আমল থেকে চলে আসা "অ্যাসিস্ট্যান্ট জজ" (Assistant Judge) পদবীটিকে "সিভিল জজ" (Civil Judge) পদবী দ্বারা প্রতিস্থাপন করা এই সংশোধনীর মূল বিষয়। রাষ্ট্রপতির সংবিধানের ৯৩(১) অনুচ্ছেদ-এ প্রদত্ত ক্ষমতাবলে এই অধ্যাদেশ প্রণয়ন করা হয়েছে।

আইনে কী ছিল এবং কী পরিবর্তন করা হয়েছে (মূল সংশোধনীসমূহ)
- এই অধ্যাদেশটি মূলত একটি শব্দগত পরিবর্তন করেছে। পুরো আইন জুড়ে যেখানেই "Assistant" শব্দটি (যেমন: Assistant Judge, Senior Assistant Judge) ব্যবহৃত হয়েছে, সেখানে "Civil" শব্দটি প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।
- পদবীর আধুনিকীকরণ: "Assistant Judge" পদবীটি একটি সহায়ক (Assistant) ভাবাপন্ন, যেখানে "Civil Judge" পদবীটি স্পষ্ট এবং স্বতন্ত্র ক্ষমতার পরিচয় দেয়। এটি বিচারকদের মর্যাদার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

নতুনভাবে যোগকৃত বা প্রতিস্থাপিত গুরুত্বপূর্ণ ধারা:
ধারা ১১: এই ধারা দ্বারা পুরনো ধারা ২৫এক -কে সম্পূর্ণভাবে প্রতিস্থাপন করে একটি নতুন ধারা যুক্ত করা হয়েছে।
- নতুন ধারা ২৫ক-এর বিষয়বস্তু: অন্যান্য আইনে জজদের নির্দেশনা (Reference of Judges in other laws):
- যখন কোনো প্রচলিত আইনে অ্যাডিশনাল জজ (Additional Judge), সাব-অর্ডিনেট জজ (Subordinate Judge), সিনিয়র অ্যাসিস্ট্যান্ট জজ (Senior Assistant Judge), বা অ্যাসিস্ট্যান্ট জজ (Assistant Judge)-এর উল্লেখ থাকবে, তখন সেই উল্লেখকে যথাক্রমে অ্যাডিশনাল ডিস্ট্রিক্ট জজ (Additional District Judge), জয়েন্ট ডিস্ট্রিক্ট জজ (Joint District Judge), সিনিয়র সিভিল জজ (Senior Civil Judge), বা সিভিল জজ (Civil Judge) হিসেবে ব্যাখ্যা করতে হবে।

.
দেওয়ানি কার্যবিধির First Schedule-এর নিয়মাবলী পরিবর্তন, বাতিল বা সংযোজন করার ক্ষমতা কার আছে?
  1. সরকারের
  2. জেলা জজের
  3. সুপ্রিম কোর্টের
  4. আইন মন্ত্রণালয়ের
ব্যাখ্যা

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর ধারা ১২২ অনুসারে, সুপ্রিম কোর্টকে সময় সময়ে পূর্বকালীন প্রকাশনার পরে বিধি প্রণয়নের ক্ষমতা প্রদান করা হয়েছে, যা সুপ্রিম কোর্টের প্রত্যেক বিভাগ এবং এর নিয়ন্ত্রণাধীন দেওয়ানি আদালতসমূহের কার্যপদ্ধতি নিয়ন্ত্রণ করে। এই বিধির মাধ্যমে প্রথম তফশীলের সকল বা যে-কোনো বিধি বাতিল, পরিবর্তন বা সংযোজন করা যায়।

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির ১২২ ধারা- বিধি প্রণয়নে সুপ্রীমকোর্টের ক্ষমতা:
- সুপ্রীমকোর্ট সময় সময়ে সুপ্রিম কোর্টের প্রত্যেক বিভাগের ও ইহার নিয়ন্ত্রণাধীন দেওয়ানি আদালতসমূহের কার্যপদ্ধতি নিয়ন্ত্রণ কালে পূর্বকালীন প্রকাশনার পরে বিধি প্রণয়ন করতে পারেন এবং এরূপ প্রণীত বিধি দ্বারা প্রথম তফশীলের সকল বা যে কোন বিধি বাতিল, পরিবর্তন বা সংযোজন করতে পারবেন।
---------
⇒ The Code of Civil Procedure, 1908 Section- 122. Power of the Supreme Court to make rules.
- The Supreme Court may, from time to time after previous publication, make rules regulating the procedure of each Division of the Supreme Court and the procedure of Civil Courts subject to its Superintendence and may by such rules annul, alter or add to all or any of the rules in the First Schedule.

.
দেওয়ানি কার্যবিধির Order-XVI, Rule-17 অনুসারে, কোন Rules-এর বিধানগুলি সাক্ষীর বেআইনিভাবে প্রস্থানের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য?
  1. Rules 1-5
  2. Rules 6-9
  3. Rules 10-13
  4. Rules 14-16
ব্যাখ্যা

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির Order XVI, Rule 17-এ স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে: Application of rules 10 to 13: "The provisions of rules 10 to 13 shall, so far as they are applicable, be deemed to apply to any person who having attended in compliance with a summons departs, without lawful excuse, in contravention of rule 16."
- Rules 10 থেকে 13-এর বিধানাবলী, যতদূর applicable, সেই ব্যক্তির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য বলে গণ্য হবে, যে তলব মোতাবেক উপস্থিত হওয়ার পর বেআইনিভাবে Rule 16-এর লঙ্ঘন করে প্রস্থান করে।

- অর্থাৎ যে সাক্ষী সমন মেনে আদালতে এসেছে, কিন্তু Rule 16 ভঙ্গ করে (অর্থাৎ আদালতের অনুমতি ছাড়া বা বেআইনিভাবে) চলে গেলে তার বিরুদ্ধে Rule 10 থেকে Rule 13 পর্যন্ত যে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা আছে (প্রক্লামেশন, ওয়ারেন্ট, সম্পত্তি অ্যাটাচমেন্ট, জরিমানা ইত্যাদি)—সেগুলোই প্রযোজ্য হবে।
- সুতরাং, Order XVI, Rule 17 অনুসারে সাক্ষীর বেআইনিভাবে প্রস্থানের ক্ষেত্রে Rules 10-13-এর বিধানাবলী প্রযোজ্য হবে।

.
দেওয়ানি কার্যবিধির কোন ধারায় বলা আছে যে, মামলা সর্বনিম্ন আর্থিক এখতিয়ারসম্পন্ন আদালতে দায়ের করতে হবে?
  1. ধারা ৬
  2. ধারা ৯
  3. ধারা ১৫
  4. ধারা ২০
ব্যাখ্যা

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর ধারা ১৫-এ স্পষ্টভাবে বর্ণিত আছে যে, প্রত্যেক মোকদ্দমা এমন সর্বনিম্ন গ্রেডের আদালতে দায়ের করতে হবে যা তা বিচার করার এখতিয়ারসম্পন্ন। দেওয়ানি কার্যবিধির ১৫ ধারায় বলা হয়েছে যে, আর্থিক ও আঞ্চলিক এখতিয়ার সম্পন্ন সর্বনিম্ন আদালতে মোকদ্দমা দায়ের করতে হবে।

⇒The Civil Court Act,1887 এর ২০২১ সালের সংশোধনী অনুসারে, দেওয়ানি আদালতে আর্থিক এখতিয়ার-
- সিভিল জজের আদালতে (The Court of civil Judge ) = ১৫ লক্ষ পর্যন্ত;
- সিনিয়র সিভিল জজের আদালতে (The Court of Senior civil Judge) = ২৫ লক্ষ পর্যন্ত;
- যুগ্ম জেলা জজের আদালতে (The Court of Joint District Judge) = ২৫ লক্ষ এর উপরে।
-----------
⇒ The Code of Civil Procedure, 1908- Section-6 :Pecuniary Jurisdiction:
-Save in so far as is otherwise expressly provided, nothing herein contained shall operate to give any Court jurisdiction over suits the amount or value of the subject-matter of which exceeds the pecuniary limits (if any) of its ordinary jurisdiction.

⇒ The Code of Civil Procedure, 1908- Section-15: Court in which suits to be instituted:
-Every suit shall be instituted in the Court of the lowest grade competent to try it.

.
The Civil Courts Act, 1887 এর ধারা ৩৭(১) অনুযায়ী, মুসলিম ব্যক্তিদের মধ্যে উত্তরাধিকার সংক্রান্ত কোন বিষয়ে সিদ্ধান্ত কীসের ভিত্তিতে নেওয়া হবে?
  1. পারিবারিক আইন
  2. হিন্দু আইন
  3. মুসলিম আইন
  4. উত্তরাধিকার আইন
ব্যাখ্যা

⇒ The Civil Courts Act,1887 আইনের ৩৭ ধারায় কতিপয় বিষয়ে রাষ্ট্রীয় আইন নয় বরং হিন্দু এবং মুসলিমদের ধর্মীয় আইনের বিধানকে সংরক্ষণ করা হয়েছে।
⇒ The Civil Courts Act, 1887-এর ধারা ৩৭(১) অনুসারে, কোনো মামলা বা কার্যক্রমে যদি উত্তরাধিকার (Succession), বিবাহ (Marriage), জাতি (Caste), বা ধর্মীয় প্রথা ও প্রতিষ্ঠান (Religious Usage or Institution) সংক্রান্ত কোনো প্রশ্নের সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রয়োজন হয়, তবে পক্ষগুলোর ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে আইন প্রয়োগ করা হয়। বিশেষ করে:
- যদি পক্ষগুলো মুসলিম হয়, তবে মুসলিম আইন প্রয়োগ করা হবে।
- যদি পক্ষগুলো হিন্দু হয়, তবে হিন্দু আইন প্রয়োগ করা হবে।

সুতরাং প্রশ্নে যেহেতু বলা হয়েছে “মুসলিম ব্যক্তিদের মধ্যে উত্তরাধিকার সংক্রান্ত বিষয়ে” → সিদ্ধান্ত হবে শুধুমাত্র মুসলিম আইনের ভিত্তিতে। সঠিক উত্তর: গ) মুসলিম আইন।
----------
⇒ The Civil Courts Act,1887, Section 37- Certain decisions to be according to local law:
(1) Where in any suit or other proceeding it is necessary for a Civil Court to decide any question regarding succession, inheritance, marriage or caste, or any religious usage or institution, the Muslim law in cases where the parties are Muslim, and the Hindu law in cases where the parties are Hindus, shall form the rule of decision except in so far as such law has, by legislative enactment, been altered or abolished.
(2) In cases not provided for by sub-section (1) or by any other law for the time being in force, the Court shall act according to justice, equity and good conscience.

.
The Code of Civil Procedure, 1908 came into force on:
  1. 21st March, 1908
  2. 1st July, 1909
  3. 1st January, 1909
  4. 1st January, 1908
ব্যাখ্যা

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮ আইনটি পাস হয় ২১শে মার্চ, ১৯০৮ তারিখে, কিন্তু এটি কার্যকর হয় ১লা জানুয়ারি, ১৯০৯ থেকে।
- আইনের ধারা ১(২)-এ স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে: "(2) It shall come into force on the first day of January, 1909."
অর্থাৎ, আইনটি পাস হওয়ার তারিখ এবং কার্যকর হওয়ার তারিখ ভিন্ন।

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধি ১৯০৮ সালের ৫ নং আইন।
- The Code of Civil Procedure, 1908 (ACT NO. V OF 1908)
- সর্ব প্রথম ১৮৫৯ সালে সিভিল কোড সংক্রান্ত পদ্ধতিগত আইন বিধিবদ্ধ [codified] করা হয়।
- বর্তমানের দেওয়ানি কার্যবিধি পাশ হয় ১৯০৮ সালের ২১ মার্চ এবং ১৯০৯ সালের ১লা জানুয়ারী থেকে কার্যকর হয়।
- দেওয়ানি কার্যবিধি (Civil Procedure Code) একটি পদ্ধতিগত আইন, যা দেওয়ানি মামলার বিচার ও নিষ্পত্তির নিয়ম-কানুন নির্ধারণ করে।
- এই আইনে দেওয়ানি আদালত এবং মামলার পক্ষগুলোর জন্য যেসব নিয়ম মানতে হবে তা উল্লেখ করা হয়েছে।
এর মাধ্যমে জানা যায়:
- কিভাবে মামলা দায়ের করতে হয়।
- মামলার আবেদন বা জবাব কিভাবে দিতে হয়।
- কিভাবে সমন (জবানবন্দি বা উপস্থিতির আদেশ) জারি করতে হয়।
- কিভাবে আদালতে শুনানি হয়।
- রায় এবং ডিক্রি (আদালতের আদেশ) কিভাবে ঘোষণা এবং কার্যকর করা হয়।
- আপিল, রিভিশন এবং রিভিউ করার নিয়ম।
- অর্থাৎ এটি মামলার প্রতিটি ধাপে আইনসম্মত পদ্ধতি অনুসরণ করার জন্য দিকনির্দেশনা দেয়।

.
দেওয়ানি কার্যবিধির ১২৩ ধারা অনুযায়ী, রুল কমিটির (Rule Committee) সদস্য হিসেবে নিচের কে বা কারা অন্তর্ভুক্ত নয়?
  1. অ্যাটর্নি জেনারেল
  2. সুপ্রিম কোর্টের তিনজন বিচারপতি
  3. সুপ্রিম কোর্টে প্র্যাকটিস করা দুইজন আইনজীবী
  4. হাইকোর্ট বিভাগের অধস্তন একজন সিভিল কোর্টের বিচারক
ব্যাখ্যা

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ১২৩(২) অনুসারে রুল কমিটির সদস্যপদ নিম্নরূপ:
(খ) সুপ্রিম কোর্টের তিনজন বিচারপতি। (যাদের মধ্যে অন্তত একজন তিন বছর জেলা জজ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন)
(গ) সুপ্রিম কোর্টে প্র্যাকটিস করা দুইজন আইনজীবী।
(ঘ) হাইকোর্ট বিভাগের অধস্তন একজন সিভিল কোর্টের বিচারক। 
- কিন্তু অ্যাটর্নি জেনারেল-এর কোনো উল্লেখ ধারা ১২৩-এ নেই। তাই তিনিও রুল কমিটির স্বাভাবিক সদস্য নন।
- সুতরাং, প্রদত্ত অপশনগুলোর মধ্যে অ্যাটর্নি জেনারেল রুল কমিটির সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত নন।

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির ১২৩ ধারা অনুযায়ী রুল কমিটির (Rule Committees) গঠন:
দেওয়ানি কার্যবিধির ১২৩(২) ধারা অনুসারে, রুল কমিটি গঠিত হয়—
- ৩ জন সুপ্রিম কোর্টের বিচারক, যাদের মধ্যে অন্তত একজন ৩ বছর জেলা জজ হিসেবে কাজ করেছেন।
- ২ জন আইনজীবী, যারা সুপ্রিম কোর্টে প্র্যাকটিস করেন।
- ১ জন দেওয়ানি আদালতের বিচারক, যিনি উচ্চ আদালতের অধীনস্থ।
এই সমস্ত সদস্য প্রধান বিচারপতির মাধ্যমে নিয়োগপ্রাপ্ত হন এবং তিনি নিজেও চাইলে কমিটির সদস্য হতে পারেন, সে ক্ষেত্রে তিনি কমিটির সভাপতি হবেন।

→ The Code of Civil Procedure, 1908- Section- 123. Constitution of Rule Committees.
(1) A Committee, to be called the Rule Committee, shall be constituted for the purpose referred to in section 122. 
(2) Such Committee shall consist of the following persons, namely:- 
(a) three Judges of the Supreme Court, one of whom at least has served as a District Judge for three years; 
(b) two advocates parctising in that Court; and 
(c) a Judge of a Civil Court subordinate to the High Court Division.
(3) The members of such Committee shall be appointed by the Chief Justice, who shall also nominate one of their number to be president: 
Provided that, if the Chief Justice elects to be himself a member of the Committee, the number of other Judges appointed to be members shall be two, and the Chief Justice shall be the President of the Committee.
(4) Each member of such committee shall hold office for such period as may be prescribed by the Chief Justice in this behalf; and whenever any member retires, resigns, dies or becomes incapable of acting as a member of the Committee, the said Chief Justice may appoint another person to be a member in his stead. 
(5) There shall be a Secretary to such Committee, who shall be appointed by the Chief Justice and shall receive such remuneration as may be provided in this behalf by the Government.

.
দেওয়ানি কার্যবিধির Order-VII,Rule-1 অনুযায়ী, প্লেইন্টে (plaint) মোট কতটি বিষয় (particulars) অন্তর্ভুক্ত করতে হয়?
  1. ৭টি
  2. ৮টি
  3. ৯টি
  4. ১০টি
ব্যাখ্যা

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির Order VII, Rule 1 অনুসারে একটি প্লেইন্টে নিম্নলিখিত ৯টি বিষয় (particulars) অন্তর্ভুক্ত করতে হয়:
১. (a) যে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে তার নাম। 
২. (b) বাদীর নাম, বিবরণ ও বসবাসের স্থান (ফোন/মোবাইল নম্বর, এনআইডি ও ইমেইল সহ)। 
৩. (c) বিবাদীর নাম, বিবরণ ও বসবাসের স্থান (ফোন/মোবাইল নম্বর, এনআইডি ও ইমেইল সহ)। 
৪. (d) বাদী বা বিবাদী নাবালক বা অপ্রকৃতস্থ হলে তার বিবৃতি। 
৫. (e) কারণ সৃষ্টিকারী ঘটনা (cause of action) ও কখন তা সৃষ্টি হয়েছে। 
৬. (f) আদালতের এখতিয়ার রয়েছে এমন ঘটনাবলি। 
৭. (g) বাদী কীরূপ প্রতিকার (relief) চান। 
৮. (h) বাদী যদি দাবির一 যা ছেড়ে দেন বা সমন্বয় করেন তার পরিমাণ। 
৯. (i) এখতিয়ার ও কোর্ট ফি নির্ধারণের জন্য মামলার বিষয়বস্তুর মূল্য। 

সুতরাং, Order VII, Rule 1 এ মোট ৯টি উপধারা (a থেকে i) রয়েছে, যেখানে প্লেইন্টে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে এমন বিষয়গুলি উল্লেখ করা হয়েছে।
---------- 
⇒ The Code of Civil Procedure, 1908, Order-VII, Rule-1 Particulars to be contained in plaint: 
- The plaint shall contain the following particulars:
(a) the name of the Court in which the suit is brought; 
(b) the name, description and place of residence (including phone or mobile number, national identification number (NID) and email address, if any, of the plaintiff;
(c) the name, description and place of residence (including phone or mobile number, national identification number (NID) and email address, if any, of the defendant so far as they can be ascertained;
(d) where the plaintiff or the defendant is a minor or a person of unsound mind, a statement to that effect;
(e) the facts constituting the cause of action and when it arose;
(f) the facts showing that the Court has jurisdiction;
(g) the relief which the plaintiff claims;
(h) where the plaintiff has allowed a set-off or relinquished a portion of his claim, the amount so allowed or relinquished; and
(i) a statement of the value of the subject-matter of the suit for the purposes of jurisdiction and of court-fees, so far as the case admits.

১০.
একই পক্ষ একই বিষয়ে দুটি মামলা একই সঙ্গে চালাতে পারবে না—এটি কোন নীতি?
  1. Estoppel
  2. Res Judicata
  3. Res Sub Judice
  4. Constructive Res Judicata
ব্যাখ্যা

⇒ "Res Sub Judice" একটি ল্যাটিন শব্দগুচ্ছ, যার অর্থ "a matter under judgment" বা "বিচারাধীন বিষয়"। এই নীতিটি দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ১০-এ বর্ণিত আছে।
- Res Sub Judice নীতির মূল কথা: একই পক্ষদের মধ্যে একই কারণ থেকে উদ্ভূত একই বিষয় নিয়ে একই সময়ে একাধিক মামলা চলতে পারে না। যদি একই বিষয়ে একটি মামলা ইতিমধ্যে কোনো উপযুক্ত আদালতে বিচারাধীন থাকে, তাহলে অন্য কোনো আদালত পরবর্তীতে দায়ের করা একই রকম মামলা পরিচালনা করতে পারবে না।
- এর মূল উদ্দেশ্য হল:
বিরোধপূর্ণ সিদ্ধান্ত রোধ করা: ভিন্ন ভিন্ন আদালত থেকে একই বিষয়ে ভিন্ন রায় না আসা।
আদালতের সময় ও সম্পদের সদ্ব্যবহার: একই মামলা বারবার বিচার করা থেকে বিরত থাকা।
- অর্থাৎ Res Sub Judice নীতিটি মামলা চলাকালীন সময়ে প্রযোজ্য হয় এবং একই সাথে একাধিক মামলা চলা বন্ধ করে। অন্যদিকে, Res Judicata নীতিটি মামলা শেষ হওয়ার পর প্রযোজ্য হয় এবং একই মামলা আবার দায়ের করা বন্ধ করে।

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির ১০ ধারায় মোকদ্দমা স্থগিতকরণ (stay of suit) বা res sub judice সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে। একই পক্ষগণের বা তাদের প্রতিনিধিদের মধ্যে পূর্বে দায়েরকৃত এবং পরবর্তীতে দায়েরকৃত মোকদ্দমার বিচার্য বিষয় প্রত্যক্ষ এবং মৌলিকভাবে একই হলে, আদালত পরবর্তী মোকদ্দমার কার্যক্রম স্থগিত করবেন।
- এই নীতি প্রয়োগ করতে শর্তসমূহ-
১. দুইটি মোকদ্দমা থাকতে হবে। একটি হলো পূর্বে দায়েরকৃত মোকদ্দমা এবং অন্যটি হলো পরবর্তীতে দায়েরকৃত মোকদ্দমা;
২. উভয় মোকদ্দমার বিচার্য বিষয় প্রত্যক্ষ এবং মৌলিকভাবে একই হতে হবে;
৩. উভয় মোকদ্দমা একই পক্ষগণের বা তাদের প্রতিনিধিদের মধ্যে হতে হবে;
৪. পূর্ববর্তী মোকদ্দমাটি অবশ্যই বিচারাধীন থাকতে হবে;
৫. পূর্ববর্তী মোকদ্দমাটি যে আদালতে দায়ের করা হয়েছে সেই আদালতের দাবীকৃত প্রতিকার দেওয়ার এখতিয়ার থাকতে হবে;
৬. উভয় মোকদ্দমায় উভয় পক্ষগণ একই স্বত্ত্বের অধীন মোকদ্দমা [under same title) দায়ের করেছে।

- বিদেশি আদালতে বিচারাধীন কোন মোকদ্দমার ক্ষেত্রে Res-Subjudice নীতি প্রযোজ্য হবে না।

⇒ The Code of Civil Procedure, 1908-Section 10: Stay of suit-
No Court shall proceed with the trial of any suit in which the matter in issue is also directly and substantially in issue in previously instituted suit between the same parties, or between parties under whom they or any of them claim litigating under the same title where such suit is pending in the same or any other Court in Bangladesh having jurisdiction to grant the relief claimed, or in any Court beyond the limits of Bangladesh Established or continued by the Government and having like jurisdiction, or before the Supreme Court.

Explanation-The pendency of a suit in a foreign Court does not preclude the Court in Bangladesh from trying a suit founded on the same cause of action.

১১.
A person who intermeddles with the estate of a deceased person is included in the definition of: 
  1. Public officer
  2. Decree-holder
  3. Judgment-debtor
  4. Legal representative
ব্যাখ্যা

⇒ The definition of "legal representative" in Section 2(11) explicitly states: "(11) "legal representative" means a person who in law represents the estate of a deceased person, and includes any person who intermeddles with the estate of the deceased and where a party sues or is sued in a representative character the person on whom the estate devolves on the death of the party so suing or sued."
Therefore, a person who intermeddles with the estate of a deceased person is specifically included in the definition of a Legal Representative.

Other options are incorrect:
ক) Public officer: This is defined in Section 2(17) and refers to various government and court officials. It has no connection to someone dealing with a deceased person's estate.
খ) Decree-holder: This is defined in Section 2(3) as a person in whose favour a decree has been passed. It is not related to the status of handling an estate.
গ) Judgment-debtor: This is defined in Section 2(10) as a person against whom a decree has been passed. This is also unrelated to the administration of a deceased person's estate.
------------
⇒ দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর ধারা ২(১১) অনুসারে "আইনানুগ প্রতিনিধি" (Legal Representative) বলতে মূলত তিন ধরনের ব্যক্তিকে বোঝায়:
- যে মৃত ব্যক্তির সম্পত্তির প্রতিনিধিত্ব করে;
- যে ব্যক্তি মৃত ব্যক্তির সম্পত্তি পরিচালনা করে; এবং
- যে ব্যক্তি মৃত ব্যক্তির প্রতিনিধি হিসেবে মোকদ্দমা করতে পারে বা যার বিরুদ্ধে মোকদ্দমা করা যায়।

সুতরাং, "যে ব্যক্তি মৃত ব্যক্তির সম্পত্তি পরিচালনা করে" সে নিশ্চিতভাবেই এই সংজ্ঞার আওতায় পড়ে এবং তাকে আইনানুগ প্রতিনিধি গণ্য করা হবে।

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ২(১১) অনুসারে, "আইনগত প্রতিনিধি" বলতে বোঝায় সেই ব্যক্তিকে, যিনি আইন অনুযায়ী কোনো মৃত ব্যক্তির সম্পত্তির প্রতিনিধিত্ব করেন। এবং এর মধ্যে সেই ব্যক্তিও পড়েন, যে মৃত ব্যক্তির সম্পত্তির সাথে অনধিকার হস্তক্ষেপ (Intermeddle) করেন।

অর্থাৎ যদি কেউ মৃত ব্যক্তির সম্পত্তি নিয়ে নিজে থেকে নাড়াচাড়া করে বা ব্যবস্থা নেয় (যদিও তার সেই সম্পত্তিতে কোনো আইনগত অধিকার নেই), তাকেও এই আইনের দৃষ্টিতে "আইনগত প্রতিনিধি" ধরা হবে।

১২.
দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ১৯ অনুসারে মামলা দায়েরের স্থান নির্বাচনের অধিকার কাকে দেওয়া হয়েছে?
  1. বাদীকে
  2. উকিলকে
  3. বিবাদীকে
  4. আদালতকে
ব্যাখ্যা

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ১৯-এর মাঝে বলা হয়েছে, "বাদী তার ইচ্ছা অনুসারে দুই আদালতের যেকোন একটিতে ক্ষতিপূরণের মামলা করতে পারে"।
সুতরাং, এই ধারা অনুযায়ী মামলা দায়েরের স্থান নির্বাচনের একক অধিকার বা option দেওয়া হয়েছে বাদী-কে। বাদীই সিদ্ধান্ত নেবেন তিনি কোন আদালতে মামলা দায়ের করবেন।

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির ১৯ ধারার বিধান- ব্যক্তি বা অস্থাবর সম্পত্তির প্রতি অনিষ্টের জন্য ক্ষতিপূরণের মামলা:
কোনো ব্যক্তি বা কোন অস্থাবর সম্পত্তির প্রতি এক আদালতের এখতিয়ারের স্থানীয় সীমারেখার মধ্যে অনিষ্ট সাধন করা হলে এবং বিবাদী অপর আদালতের এখতিয়ারের স্থানীয় সীমারেখার মধ্যে বসবাস করলে বা ব্যবসা চালালে অথবা এখতিয়ারের স্থানীয় সীমারেখার মধ্যে বসবাস করলে বা ব্যবসা চালালে অথবা ব্যক্তিগতভাবে লাভের জন্য কাজ করলে, বাদী তার ইচ্ছা অনুসারে দুই আদালতের যেকোন একটিতে ক্ষতিপূরণের মামলা করতে পারে।

উদাহরণ:
(ক) ক-চট্টগ্রামে বসবাস করে এবং সে ‘খ’-কে ঢাকায় মারধর করে। ‘খ’ ঢাকায় অথবা চট্টগ্রামে 'ক’, এর বিরুদ্ধে মামলা করতে পারে।
(খ) 'ক' চট্টগ্রামে বসবাস করে এবং ঢাকায় ‘খ’ সম্পর্কে মানহানিকর বিবৃতি প্রকাশ করে। ‘খ’ ঢাকায় অথবা চট্টগ্রামে “ক” এর বিরুদ্ধে মামলা করতে পারে।
-------------
⇒ The Code of Civil Procedure, 1908 section-19. Suits for compensation for wrongs to person or movables:
- Where a suit is for compensation for wrong done to the person or to movable property, if the wrong was done within the local limits of the jurisdiction of one Court and the defendant resides, or carries on business, or personally works for gain, within the local limits of the jurisdiction of another Court, the suit may be instituted at the option of the plantiff in either of the said Courts.

Illustrations:
(a) A, residing in Chittagong beats B in Dhaka. B may sue A either in Dhaka or in Chittagong.
(b) A, residing in Chittagong publishes in Dhaka statements defamatory of B. B may sue A either in Dhaka, or in Chittagong.

১৩.
দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ-৭ অনুসারে প্লেইন্ট গৃহীত হলে বাদীকে কতগুলো কপি জমা দিতে হবে?
  1. দুইটি কপি
  2. যত জন বাদী তত কপি
  3. যত জন সাক্ষী তত কপি
  4. যত জন বিবাদী তত কপি
ব্যাখ্যা

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধি, Order VII, Rule 9(1)-এ স্পষ্টভাবে বলা আছে: Procedure of admitting plaint:
(1) The plaintiff shall endorse on the plaint, or annex thereto, a list of the documents (if any) which he has produced along with it; and, if the plaint is admitted, shall present as many copies on plain paper of the plaint as there are defendants, unless the Court by reason of the length of the plaint or the number of the defendants, or for any other sufficient reason, permits him to present a like number of concise statements of the nature of the claim made, or of the relief claimed in the suit, in which case he shall present such statements.

অর্থাৎ প্লেইন্ট অ্যাডমিট (গৃহীত) হলে বাদীকে বিবাদীর সংখ্যার সমান প্লেইন্টের সাধারণ কাগজে কপি (অথবা আদালত অনুমতি দিলে concise statement) জমা দিতে হবে।
সুতরাং উত্তর: ঘ) যত জন বিবাদী তত কপি।

- বিবাদী-ভিত্তিক কপি: কপির সংখ্যা নির্ভর করে বিবাদীর সংখ্যা এর উপর। প্রত্যেক বিবাদীর জন্য আলাদা কপি জমা দিতে হয়।
- শর্তসাপেক্ষ ব্যতিক্রম: Rule 9(1)-এ আরও বলা হয়েছে যে, যদি প্লেইন্ট খুব বড় হয় বা বিবাদীর সংখ্যা অনেক বেশি হয়, তাহলে আদালত বাদীকে সংক্ষিপ্ত দাবির বিবরণ জমা দিতে অনুমতি দিতে পারেন।
- প্রতিটি বিবাদীর কাছে প্লেইন্টের কপি পৌঁছে দেওয়ার জন্য এই কপিগুলো প্রয়োজন হয়, যাতে বিবাদী বাদীর দাবি সম্পর্কে জানতে পারে এবং তার জবাব দাখিল করতে পারে।

সুতরাং, দেওয়ানি কার্যবিধির Order VII, Rule 9(1) অনুযায়ী প্লেইন্ট গৃহীত হলে বাদীকে যত জন বিবাদী তত কপি জমা দিতে হবে।

১৪.
দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ২৪ক অনুসারে, যদি কোনো মামলা পক্ষের আবেদনে স্থানান্তর করা হয়, তাহলে উপস্থিতির তারিখ কে নির্ধারণ করবে?
  1. উকিলরা নিজেরা স্থির করবে
  2. যে আদালত স্থানান্তর আদেশ দিয়েছে
  3. যে আদালতে মামলা স্থানান্তর করা হয়েছে
  4. মামলার পক্ষগণ নিজেরা স্থির করবে
ব্যাখ্যা

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ২৪ক(১) এর মাঝে বলা আছে যে, যখন ধারা ২২ এর অধীনে কোন মামলা স্থানান্তর করা হয় অথবা ধারা ২৪(১) এর অধীনে কোন মামলা, আপিল বা অন্য কার্যক্রম পক্ষের আবেদনে স্থানান্তর বা প্রত্যাহার করা হয়, তখন যে আদালত স্থানান্তর বা প্রত্যাহারের আদেশ দিয়েছে সেই আদালতই পক্ষদের উপস্থিতির তারিখ নির্ধারণ করবে। ("the Court ordering the transfer or withdrawal shall fix a date for the appearance of the parties")

সুতরাং, উকিল, পক্ষগণ বা স্থানান্তরিত আদালত নয়, বরং স্থানান্তর আদেশ প্রদানকারী আদালতই উপস্থিতির তারিখ নির্ধারণ করবে।

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ২৪ক- মোকদ্দমা ইত্যাদি স্থানান্তরের ক্ষেত্রে পক্ষগণের উপস্থিতি:
১) দেওয়ানি কার্যবিধি আইনের ২২ ধারার অধীনে কোন মোকদ্দমা স্থানান্তরিত হলে বা পক্ষদের আবেদনে ২৪(১) ধারার অধীনে মোকদ্দমা, আপিল ইত্যাদি স্থানান্তর বা প্রত্যাহার আদেশদানকারী আদালত নিজেই বিচার করতে ইচ্ছা করলে পক্ষদের এর সম্মুখে হাজির হওয়ার জন্য দিন নির্ধারণ করবে, বা যে আদালতে মোকদ্দমা স্থানান্তর হয়েছে সে আদালতে হাজির হওয়ার জন্য একটি তারিখ নির্ধারণ করবেন।

২) আবেদন ব্যতীত মোকদ্দমা, আপিল ইত্যাদি স্থানান্তর হলে পূর্ব নির্ধারিত দিনে স্থানান্তর আদেশ প্রদানকারী আদালতে উপস্থিত হবে। উক্ত আদালত তখন পক্ষসমূহের স্থানান্তর বিষয়ে অবহিত করাবেন এবং পক্ষগণকে নির্ধারিত ধার্যকৃত তারিখে অথবা সুবিধা অনুসারে নিকটতম মোকদ্দমা স্থানান্তরিত আদালতে হাজির হতে নির্দেশ দিবেন।

⇒ The Code of Civil Procedure, 1908- Section 24A: Appearance of parties on transfer of suit, etc.-
(1) Where any suit is transferred under section 22, or any suit, appeal or other proceeding is transferred or withdrawn under sub-section (1) of section 24 on the application of a party, the Court ordering the transfer or withdrawal shall fix a date for the appearance of the parties before itself, if the suit, appeal or other proceeding is to be tried or disposed of by itself, or before the Court to which the case is so transferred.

(2) Where any suit, appeal or other proceeding is transferred from one Court to another, otherwise than on the application of a party, the parties thereto shall appear before the Court from which the suit, appeal or other proceedings is to be transferred, on the day already fixed for their appearance before that Court, and such Court shall then communicate the order of transfer to such parties and direct them to appear before the Court to which the suit, appeal or other proceeding is to be transferred, either on the same day, or on such earliest day as may be reasonable having regard to the distance at which the other Court is located.

১৫.
দেওয়ানি কার্যবিধির Order-VI, Rule-18 অনুসারে সংশোধনীর আদেশ পাওয়ার পর কত দিনের মধ্যে সংশোধন করতে হবে?
  1. ৭ দিন
  2. ১৪ দিন
  3. ২১ দিন
  4. ৩০ দিন
ব্যাখ্যা

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৬, বিধি ১৮ অনুযায়ী: যদি কোনো পক্ষ প্লিডিংস সংশোধনের জন্য আদালতের অনুমতি (order for leave to amend) পায়, এবং আদালত সংশোধনের জন্য কোনো সময় নির্ধারণ না করে, তাহলে আদেশ প্রদানের তারিখ থেকে ১৪ দিনের মধ্যে সংশোধিত প্লিডিংস আদালতে দাখিল করতে হবে।
- যদি নির্ধারিত এই ১৪ দিনের মধ্যে সংশোধন না করা হয়, তাহলে সংশোধনের অনুমতি বাতিল হয়ে যাবে যদি না আদালত সময় বৃদ্ধি করে।

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮ এর আদেশ ৬, বিধি ১৮: আদেশ প্রাপ্তির পর সংশোধনে ব্যর্থতা:
যদি কোন পক্ষ তার প্লিডিংস সংশোধনের জন্য আদালতের অনুমতি আদেশের মাধ্যমে পায় এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সংশোধন না করে, অথবা আদেশে যদি কোন নির্দিষ্ট সময় নির্ধারণ করা না থাকে, তবে আদেশ প্রদানের তারিখ হইতে চৌদ্দ দিনের মধ্যে সংশোধন না করে, তাহা হইলে উক্ত নির্ধারিত সময় বা উক্ত চৌদ্দ দিন অতিবাহিত হইলে সংশোধনের অনুমতি দেওয়া হইবে না; যদি না আদালত সময় বৃদ্ধি করিয়া দেয়।

⇒ The Code of Civil Procedure, 1908, Order VI, Rule 18: Failure to Amend After Order: 
If a party who has obtained an order for leave to amend does not amend accordingly within the time limited for that purpose by the order, or if no time is thereby limited, then within fourteen days from the date of the order, he shall not be permitted to amend after the expiration of such limited time as aforesaid or of such fourteen days, as the case may be, unless the time is extended by the Court.

১৬.
দেওয়ানি কার্যবিধি অনুসারে “Res Judicata” শব্দের অর্থ কী?
  1. অসম্পূর্ণ বিষয়
  2. অকার্যকর বিষয়
  3. বিচারাধীন বিষয়
  4. নিষ্পত্তিকৃত বিষয়
ব্যাখ্যা

⇒ "Res Judicata" একটি ল্যাটিন শব্দগুচ্ছ, যার আক্ষরিক অর্থ "a matter judged" বা "নিষ্পত্তিকৃত বিষয়"।
-  Res Judicata হলো একটি আইনি নীতি যা বলে, একটি মামলা যখন চূড়ান্তভাবে নিষ্পত্তি হয়ে গেছে, তখন একই ইস্যু, একই কারণ, এবং একই পক্ষদের নিয়ে সেই মামলা আবার উঠানো যাবে না। তাই এটিকে "নিষ্পত্তিকৃত বিষয়" বলা হয়। অর্থাৎ দেওয়ানি কার্যবিধির Res Judicata নীতির মূল উদ্দেশ্য আদালতের একই বিষয়ে পুনরায় বিচার নিষিদ্ধ করা।
⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির ১১ ধারায় দোবারা দোষ নীতিটি [Res Judicata] আলোচনা করা হয়েছে। রেস জুডিকাটা নীতির মূল কথা হলো এখতিয়ারসম্পন্ন আদালত কর্তৃক চূড়ান্তভাবে নিষ্পত্তিকৃত কোন বিচারিত বিষয়কে পরবর্তীতে পুনরায় বিচার করা যাবেনা। এই নীতির মূল কথা হলো, একবার নিষ্পত্তিকৃত কোন মোকদ্দমা, পুনরায় বিচারযোগ্য নয়।
→ Res Judicata নীতি আদালতের জন্য বাধ্যতামূলক, এটি মানা আদালতের দায়িত্ব।

Res Judicata (দোবারা দোষ) কার্যকর হওয়ার শর্তসমূহ:
→ দুইটি মামলা থাকতে হবে:
একটি মামলা আগে নিষ্পত্তি হয়ে থাকতে হবে।
অন্যটি পরবর্তীতে দায়েরকৃত হতে হবে।
→ উভয় মামলার বিষয়বস্তু একই হতে হবে:
আগের মামলায় যে বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে, নতুন মামলাতেও সেই একই বিষয় থাকতে হবে।
→ পক্ষগণ একই হতে হবে:
পরবর্তী মামলা যারা করেছে, তারা আগের মামলার পক্ষ হতে হবে।
অথবা তারা তাদের পক্ষের হয়ে মামলা করেছে।
→একই বিষয়ে পূর্বেও মামলা করা হয়েছে:
পূর্ববর্তী মামলার পক্ষগণ একই বিষয় নিয়ে মামলা করেছিল।
→ আগের মামলাটি এখতিয়ারসম্পন্ন আদালত নিষ্পত্তি করেছে:
যে আদালত আগের মামলা নিষ্পত্তি করেছে, তার বিচার করার ক্ষমতা (এখতিয়ার) থাকতে হবে।

১৭.
দেওয়ানি কার্যবিধিতে “Pleading” বলতে কী বোঝায়?
  1. Plaint
  2. Written statement
  3. Plaint or written statement
  4. Plaint and written statement
ব্যাখ্যা

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির Order VI, Rule 1-এ "Pleading" এর সংজ্ঞা স্পষ্টভাবে দেওয়া আছে: "Pleading" shall mean plaint or written statement.
- "প্লীডিং" বলতে প্লেইন্ট বা লিখিত জবাব (written statement) বোঝায়।
- প্লেইন্ট (Plaint): বাদী তার দাবি উপস্থাপনের জন্য যে দলিল দাখিল করে।
- লিখিত জবাব (Written Statement): বিবাদী তার প্রতিরক্ষা উপস্থাপনের জন্য যে দলিল দাখিল করে।
 “or” শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছে, অর্থাৎ Pleading বলতে হয় প্লেইন্ট (মামলার আরজি), নয়তো রিটেন স্টেটমেন্ট (লিখিত জবাব) — এই দুটির যেকোনো একটিকে বোঝায়।
অর্থাৎ প্লীডিং বলতে হয় প্লেইন্ট বা লিখিত জবাব বোঝায় - উভয়ই একসাথে নয়। তাই অপশন 'গ' সঠিক।
সুতরাং, দেওয়ানি কার্যবিধি অনুযায়ী "Pleading" বলতে প্লেইন্ট বা লিখিত জবাব (Plaint or written statement) বোঝায়।

১৮.
দেওয়ানি কার্যবিধির ৩০ ধারার অধীনে জারিকৃত সমনের অবমাননা করলে আদালত কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারে না?
  1. গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা
  2. সম্পত্তি ক্রোক ও বিক্রি করা
  3. পাঁচশত টাকা পর্যন্ত জরিমানা করা
  4. মামলা স্বতঃসিদ্ধভাবে খারিজ করে দেওয়া
ব্যাখ্যা

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ৩২-এ স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ধারা ৩০-এর অধীনে জারিকৃত সমনের অবমাননা করলে আদালত নিম্নলিখিত পদক্ষেপ নিতে পারবে:
(ক) গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা। (ধারা ৩২(ক) অনুসারে)
(খ) সম্পত্তি ক্রোক ও বিক্রি করা। (ধারা ৩২(খ) অনুসারে)
(গ) পাঁচশত টাকা পর্যন্ত জরিমানা করা। (ধারা ৩২(গ) অনুসারে)
জামানত দিতে বাধ্য করা এবং জামানত না দিতে পারলে কারাদণ্ড দেওয়া। (ধারা ৩২(ঘ) অনুসারে)
তবে মামলা স্বতঃসিদ্ধভাবে খারিজ করে দেওয়া ধারা ৩২-এর কোনো উপধারায় উল্লেখ নেই। সমন অমান্যকারীর বিরুদ্ধে আদালত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে পারলেও, শুধুমাত্র সমন অমান্যের কারণে সম্পূর্ণ মামলা খারিজ করে দেওয়ার কোনো বিধান এই ধারায় নেই।

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধি ১৯০৮ সালের আইন এর  ৩২ ধারার বিষয়বস্তু হলো ৩০ ধারা অনুযায়ী সমন দেওয়া হলে হাজির না হলে দণ্ড।
যদি সমন দেওয়ার পরও হাজির না হলে ৪ ধরনের দণ্ড দেওয়া যায়।
- গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি
- সম্পত্তি ক্রোক ও বিক্রয়
- অনধিক ৫০০ টাকা জরিমানা
- হাজির হওয়ার জন্য জামানত দেওয়ার আদেশ
-------------
⇒ The Code of Civil Procedure, 1908-Section 32. Penalty for default.
The Court may compel the attendance of any person to whom a summons has been issued under section 30 and for that purpose may-
(a) issue a warrant for his arrest;
(b) attach and sell his property;
(c) impose a fine upon him not exceeding five hundred Taka;
(d) order him to furnish security for his appearance and in default commit him to the civil prison.

১৯.
দেওয়ানি মামলায় ২০ জন বিবাদী আছে। ১৯ জন লিখিতভাবে ১ জনকে ক্ষমতা দিল যে সে তাদের পক্ষে সব কার্য করবে। এটা দেওয়ানি কার্যবিধির Order-1 এর কোন Rule এ সমর্থিত?
  1. Rule-8
  2. Rule-10
  3. Rule-11
  4. Rule-12
ব্যাখ্যা

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির অর্ডার ১, রুল ১২ বিশেষভাবে একাধিক বাদী বা বিবাদীর মধ্যে প্রতিনিধিত্বের বিষয়টি নিয়ন্ত্রণ করে। এই বিধি অনুসারে, যখন কোনো মামলায় একাধিক বাদী বা বিবাদী থাকে, তখন তারা তাদের মধ্য থেকে কোনো একজন বা একাধিক ব্যক্তিকে লিখিতভাবে ক্ষমতা দিতে পারে যাতে সেই ব্যক্তি বা ব্যক্তিগণ সকলের পক্ষে আদালতে উপস্থিত হতে, যুক্তিতর্ক প্রদান করতে এবং অন্যান্য কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারে।
- প্রশ্নে উল্লিখিত পরিস্থিতিতে ২০ জন বিবাদীর মধ্যে ১৯ জন বিবাদী তাদের একজনকে লিখিতভাবে সকলের পক্ষে কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষমতা দিয়েছে। এটি সরাসরি রুল ১২(১) এর অধীনে পড়ে, যা স্পষ্টভাবে বলে যে "Where there are more defendants than one, any one or more of them may be authorized by any other of them to appear, plead or act for such other in any proceeding"।

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ১ বিধি ১২ অনুযায়ী-
১) কোন মোকদ্দমায় অধিক সংখ্যক বাদি বিদ্যমান থাকলে তন্মধ্যে যেকোন এক ব্যক্তিকে অথবা একাধিক ব্যক্তিকে সকলে তাদের পক্ষে আদালতে উপস্থিত হয়ে মোকদ্দমাকেন্দ্রিক অভিযোগাদির উত্তর দিতে বা কার্য করতে তথা তদারক করার ক্ষমতা প্রদান করতে পারবে,
অনুরূপভাবে কোন মোকদ্দমার অধিক সংখ্যক বিবাদি বিদ্যমান থাকলে, তন্মধ্যে যেকোন একজনকে বা একাধিক জনকে অপর সকলে তাদের পক্ষে আদালতে হাজির হয়ে মোকদ্দমাকেন্দ্রিক অভিযোগাদির উত্তর দিতে বা কার্য করতে তথা তদারক করার ক্ষমতা অর্পণ করতে পারবে।
২) ক্ষমতা প্রদানকারী পক্ষের স্বাক্ষরে ক্ষমতা অর্পণ লিখিতভাবে করতে হবে এবং তা আদালতে দাখিল করতে হবে।

⇒ The Code of Civil Procedure, 1908- Order 1 Rule-12: Appearance of one of several plaintiffs or defendants for others-
(1) Where there are more plaintiffs than one, any one or more of them may be authorized by any other of them to appear, plead or act for such other in any proceedings; and in like manner, where there are more defendants than one, any one or more of them may be authorized by any other of them to appear, plead or act for such other in any proceeding.
(2) The authority shall be in writing signed by the party giving it and shall be filed in Court. 

২০.
দেওয়ানি কার্যবিধির ১৬ ধারা অনুযায়ী, স্থাবর সম্পত্তি পুনরুদ্ধারের মামলা সাধারণত কোথায় দায়ের করতে হবে?
  1. বাদীর বাসস্থানের আদালতে
  2. বিবাদীর বাসস্থানের আদালতে
  3. সম্পত্তি অবস্থিত স্থানের আদালতে
  4. মামলার কারণ উদ্ভবের স্থানের আদালতে
ব্যাখ্যা

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮ এর ১৬ ধারা অনুযায়ী মোকদ্দমার বিষয়বস্তু যে আদালতের আঞ্চলিক সীমানার মধ্যে অবস্থিত সেই আদালতে মোকদ্দমা দায়ের করতে হবে। সাধারণত স্থাবর সম্পত্তি সংক্রান্ত মোকদ্দমা যেমন স্থাবর সম্পত্তি পুনরুদ্ধার, ভাগ বাটোয়ারা, স্থাবর সম্পত্তির বিনা সংক্রান্ত মামলা, সেই আদালতে দায়ের করাতে হবে, যেখানে উক্ত বিরোধীয় সম্পত্তি অবস্থিত।

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির ১৬ ধারার বিধান- বিষয়বস্তু যেখানে অবস্থিত, মামলা সেখানেই দায়ের করতে হবে:
- যে কোন আইনে নির্ধারিত আর্থিক বা অন্যান্য এখতিয়ার সাপেক্ষ -
ক) খাজনা বা মুনাফাসহ বা ব্যতীত স্থাবর সম্পত্তি পুনরুদ্ধারের জন্য,
খ) স্থাবর সম্পত্তি বাটোয়ারা জন্য,
গ) স্থাবর সম্পত্তির বন্ধক বা দায় (charge) উদ্ধারের অধিকার, হরণ, বিক্রয় বা
ঘ) স্থাবর সম্পত্তির অন্য কোনো প্রকার অধিকার বা স্বার্থ নির্ণয়ের জন্য,
ঙ) স্থাবর সম্পত্তির অনিষ্টের জন্য ক্ষতিপূরণের দাবিতে,
চ) আটক বা ক্রোককৃত অস্থাবর সম্পত্তি উদ্ধারের জন্য -
আনীত মামলাগুলি যে সকল আদালতের স্থানীয় সীমারেখার মধ্যে সংশ্লিষ্ট সম্পত্তি অবস্থিত, অথবা, ‘গ’ দফায় বর্ণিত মামলার ক্ষেত্রে যে স্থানে মামলার কারণ পূর্ণভাবে অথবা আংশিকভাবে উদ্ভব হয়, সেসব আদালতেই দায়ের করতে হবে:
তবে শর্ত থাকে যে, বিবাদী কর্তৃক বা তার পক্ষে দাখিলী কোন স্থাবর সম্পত্তি সম্পর্কিত প্রতিকার বা উহার অনিষ্টের জন্য ক্ষতিপূরণের মামলা, প্রার্থতি প্রতিকার যদি সম্পূর্ণরূপে বিবাদির ব্যক্তিগতভাবে আনুগতভাবে আনুগত্যের ফলে লাভ করা যায়, তবে তাহলে যে আদালতের স্থানীয় সীমানার মধ্যে সম্পত্তি অবস্থিত, অথবা (ঙ) দফায় বর্ণিত ক্ষেত্রে যে স্থানে পূর্ণ বা আংশিকভাবে মামলার কারণ উদ্ভব হয়েছে অথবা যে আদালতের স্থানীয় সীমানার মধ্যে প্রকৃত পক্ষে এবং স্বেচ্ছায় বিবাদী বাস করে বা ব্যবসা-বাণিজ্য চালায় বা ব্যক্তিগতভাবে লাভের জন্য কর্ম করে সেই আদালতে দায়ের করা যাবে।
------------
→ The Code of Civil Procedure, 1908- Section-16. Suits to be instituted where subject-matter situate: 
Subject to the pecuniary or other limitations prescribed by any law, suits- 
(a) for the recovery of immovable property with or without rent or profits, 
(b) for the partition of immovable property, 
(c) for foreclosure, sale or redemption in the case of a mortgage of or charge upon immovable property, 
(d) for the determination of any other right to or interest in immovable property, 
(e) for compensation for wrong to immovable property, 
(f) for the recovery of movable property actually under distraint or attachment, 
shall be instituted in the Court within the local limits of whose jurisdiction the property is situate, or, in the case of suits referred to in clause (c), at the place where the cause of action has wholly or partly arisen: 
Provided that a suit to obtain relief respecting, or compensation for wrong to, immovable property held by or on behalf of the defendant may, where the relief sought can be entirely obtained through his personal obedience, be instituted either in the Court within the local limits of whose jurisdiction the property is situate, or, in the case of suits referred to in clause (c), at the place where the cause of action has wholly or partly arisen, or in the Court within the local limits of whose jurisdiction the defendant actually and voluntarily resides, or carries on business, or personally works for gain. 
Explanation.-In this section "property' means property situate in Bangladesh.

২১.
দেওয়ানি কার্যবিধির Order-V Rule-28 অনুসারে, যদি বিবাদী একজন সৈনিক, নাবিক বা বৈমানিক হন, তবে সমন কার নিকট পাঠানো হয়?
  1. তার পরিবারের নিকট
  2. প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের নিকট
  3. তার অধিনায়কের নিকট
  4. তার বাহিনীর প্রধানের নিকট
ব্যাখ্যা

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির Order V, Rule 28-এর সরাসরি বিধান হলো: Service on soldiers, sailors or airmen: "Where the defendant is a soldier, sailor or airman, the Court shall send the summons for service to his commanding officer together with a copy to be retained by the defendant."
- "যখন বিবাদী একজন সৈনিক, নাবিক বা বৈমানিক হন, আদালত তার অধিনায়কের (Commanding Officer) নিকট সমন জারির জন্য প্রেরণ করবেন, বিবাদীর জন্য রাখার একটি কপিসহ।"
- অর্থাৎ যদি বিবাদী বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী বা বিমানবাহিনীর কর্মরত সদস্য হন (soldier, sailor or airman), তবে আদালত সমন সরাসরি তার নিজের হাতে পাঠাবে না। সমনটি তার কমান্ডিং অফিসারের (যিনি তার ইউনিট/জাহাজ/স্কোয়াড্রনের দায়িত্বে আছেন) কাছে পাঠাতে হবে। কমান্ডিং অফিসার সমনটি বিবাদীর হাতে পৌঁছে দেবেন এবং একটি কপি তার কাছে রেখে দেবেন।
- সুতরাং, দেওয়ানি কার্যবিধির Order V, Rule 28 অনুযায়ী বিবাদী সৈনিক, নাবিক বা বৈমানিক হলে তার সমন তার অধিনায়কের (Commanding Officer) নিকট পাঠানো হয়।

২২.
দেওয়ানি কার্যবিধির ১২৩(৩) ধারা অনুযায়ী, Rule Committee-এর সদস্যদের কে নিয়োগ করেন?
  1. সরকার
  2. রাষ্ট্রপতি
  3. আইনমন্ত্রী
  4. প্রধান বিচারপতি
ব্যাখ্যা

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির ১২৩(৩) ধারা অনুযায়ী, রুল কমিটির সদস্যদের প্রধান বিচারপতি নিয়োগ করেন এবং তিনি কমিটির একজন সদস্যকে সভাপতি হিসেবে মনোনীত করেন।
- দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ১২৩(৩) স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছে: "The members of such Committee shall be appointed by the Chief Justice"
- অর্থাৎ, রুল কমিটির সদস্যগণ প্রধান বিচারপতি কর্তৃক নিয়োগপ্রাপ্ত হন।এছাড়াও প্রধান বিচারপতি কমিটির সদস্যদের মধ্য থেকে একজনকে সভাপতিও নিয়োগ করেন।

রুল কমিটির (Rule Committees) গঠন:
দেওয়ানি কার্যবিধির ১২৩(২) ধারা অনুসারে, রুল কমিটি গঠিত হয়—
- ৩ জন সুপ্রিম কোর্টের বিচারক, যাদের মধ্যে অন্তত একজন ৩ বছর জেলা জজ হিসেবে কাজ করেছেন।
- ২ জন আইনজীবী, যারা সুপ্রিম কোর্টে প্র্যাকটিস করেন।
- ১ জন দেওয়ানি আদালতের বিচারক, যিনি উচ্চ আদালতের অধীনস্থ।
এই সমস্ত সদস্য প্রধান বিচারপতির মাধ্যমে নিয়োগপ্রাপ্ত হন এবং তিনি নিজেও চাইলে কমিটির সদস্য হতে পারেন, সে ক্ষেত্রে তিনি কমিটির সভাপতি হবেন।
- সুতরাং, দেওয়ানি কার্যবিধির বিধান অনুসারে রুল কমিটির সদস্যদের নিয়োগের দায়িত্ব একমাত্র প্রধান বিচারপতির।

→ The Code of Civil Procedure, 1908- Section- 123. Constitution of Rule Committees.
(1) A Committee, to be called the Rule Committee, shall be constituted for the purpose referred to in section 122. 
(2) Such Committee shall consist of the following persons, namely:- 
(a) three Judges of the Supreme Court, one of whom at least has served as a District Judge for three years; 
(b) two advocates parctising in that Court; and 
(c) a Judge of a Civil Court subordinate to the High Court Division.
(3) The members of such Committee shall be appointed by the Chief Justice, who shall also nominate one of their number to be president: 
Provided that, if the Chief Justice elects to be himself a member of the Committee, the number of other Judges appointed to be members shall be two, and the Chief Justice shall be the President of the Committee.
(4) Each member of such committee shall hold office for such period as may be prescribed by the Chief Justice in this behalf; and whenever any member retires, resigns, dies or becomes incapable of acting as a member of the Committee, the said Chief Justice may appoint another person to be a member in his stead. 
(5) There shall be a Secretary to such Committee, who shall be appointed by the Chief Justice and shall receive such remuneration as may be provided in this behalf by the Government.

২৩.
দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ২৩(২) অনুসারে, যদি এখতিয়ারসম্পন্ন একাধিক আদালত ভিন্ন ভিন্ন আপিল আদালতের অধীনস্থ হয়, তাহলে স্থানান্তর আবেদন করতে হবে –
  1. জেলা জজের নিকট
  2. হাইকোর্ট বিভাগের নিকট
  3. সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের নিকট
  4. সংশ্লিষ্ট যেকোনো আপিল আদালতের নিকট
ব্যাখ্যা

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ২২ থেকে ২৪ পর্যন্ত মোকদ্দমা স্থানান্তরের বিধান রয়েছে। দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ২৩(২) স্পষ্টভাবে নির্দেশ করে যে, যখন এখতিয়ারসম্পন্ন একাধিক আদালত ভিন্ন ভিন্ন আপিল আদালতের অধীনস্থ হয় (subordinate to different Appellate Courts), সেক্ষেত্রে স্থানান্তর আবেদন করতে হবে হাইকোর্ট বিভাগের (High Court Division) নিকট।
- সুতরাং, জেলা জজ, সংশ্লিষ্ট আপিল আদালত বা আপিল বিভাগের নিকট নয়, বরং সরাসরি হাইকোর্ট বিভাগের কাছেই এই আবেদন করতে হবে।

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ২৩: কোন আদালতে আবেদন করতে হবে:-
১) যখন এখতিয়ারসম্পন্ন একাধিক আদালত একই আপিল আদালতের অধীন হয়, তখন উক্ত আপিল আদালতে ২২ ধারানুযায়ী আবেদন পেশ করতে হবে।
২) যখন অনুরূপ আদালতসমূহ বিভিন্ন আপিল আদালতের আওতাধীনে হয় তখন হাইকোর্ট ডিভিশনে আবেদন পেশ করতে হবে।

⇒ The Code of Civil Procedure, 1908- Section-23: To what Court application lies-
1) Where the several Courts having jurisdiction are subordinate to the same Appellate Court, an application under section 22 shall be made to the Appellate Court.
2) Where such Courts are subordinate to different Appellate Courts the application shall be made to the High Court Division.

২৪.
দেওয়ানি কার্যবিধির Order-V Rule-9A অনুসারে বাদী কর্তৃক সমন ব্যক্তিগতভাবে সার্ভ করার ক্ষেত্রে কোন রুলগুলো প্রযোজ্য হবে?
  1. Rule-10 ও 11
  2. Rule-16 ও 18
  3. Rule-19 ও 20
  4. Rule-25 ও 26
ব্যাখ্যা

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির Order V Rule 9A(3) এ স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে:
"(3) The provisions of rules 16 and 18 shall apply to a summons personally served under this rule as if the person effecting the service were a serving officer and the plaintiff shall submit a report to the Court accompanied by an affidavit."
অর্থাৎ বাদী কর্তৃকৃত ব্যক্তিগত সমন সার্ভের ক্ষেত্রেও Rule 16 (Person served to sign acknowledgment) এবং Rule 18 (Endorsement of time and manner of service) পুরোপুরি প্রযোজ্য হবে – যেন সার্ভ করছে কোনো আদালতের সার্ভিং অফিসার।

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির Order-V Rule-16 - স্বীকারোক্তি সংগ্রহ: এই রুল অনুযায়ী, সমন যার কাছে জারি করা হচ্ছে, তাকে সমনের মূল কপিতে স্বীকারোক্তি (acknowledgment) স্বাক্ষর করতে হবে। বাদী যখন সমন জারি করেন, তখন তাঁকেও এই একই নিয়ম মেনে বিবাদীর কাছ থেকে স্বীকারোক্তি নিতে হবে।
⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির Order-V Rule-18 - জারির বিবরণী দাখিল: এই রুল অনুসারে, জারিকারককে সমন জারির সময়, পদ্ধতি এবং সাক্ষীর নাম-ঠিকানা সমনের মূল কপিতে লিপিবদ্ধ করতে হবে। Rule 9A-এর অধীনে বাদীকেও এই বিবরণী সহ একটি অ্যাফিডেভিট জমা দিতে হয়।
অতএব, দেওয়ানি কার্যবিধির Order V Rule 9A অনুসারে বাদী কর্তৃক সমন ব্যক্তিগতভাবে জারির ক্ষেত্রে Rule 16 ও 18 প্রযোজ্য হবে।

২৫.
দেওয়ানি কার্যবিধির ১৭ ধারার শর্তাংশ (proviso) প্রধানত কোন ধরনের এখতিয়ারের সাথে সম্পর্কিত?
  1. স্থানীয় এখতিয়ার (Territorial)
  2. আর্থিক এখতিয়ার (Pecuniary)
  3. বিষয়ভিত্তিক এখতিয়ার (Subject-matter)
  4. উল্লিখিত সবগুলো 
ব্যাখ্যা

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ১৭-এর প্রভিশন বা শর্তাংশে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, "এই প্রকার মোকদ্দমার বিষয়বস্তুর মূল্য সম্পর্কে সমগ্র দাবিটিই ঐরূপ আদালত বিচারার্থে গ্রহণ করতে পারে"।
- এটি আর্থিক এখতিয়ার (Pecuniary Jurisdiction)-এর সাথে সরাসরি সম্পর্কিত, কারণ শর্তটি হলো মামলার সম্পূর্ণ দাবির মূল্য যেন সেই আদালতের আর্থিক এখতিয়ারের সীমার মধ্যে পড়ে। অর্থাৎ, আদালতটি শুধু স্থানীয় এখতিয়ার (Territorial Jurisdiction) থাকলেই হবে না, তার আর্থিক এখতিয়ারও মামলার মোট দাবির মূল্যের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ হতে হবে।

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির ১৭ ধারার বিধান: বিভিন্ন আদালতের এখতিয়ারে অবস্থিত স্থাবর সম্পত্তি সম্পর্কিত মোকদ্দমা:-
স্থাবর সম্পত্তি সম্পর্কিত কোন মোকদ্দমা বা এতে কোন ক্ষতির কারণে আনীত মোকদ্দমার সম্পত্তি যদি বিভিন্ন আদালতের এখতিয়ারের মধ্যে থাকে, তাহলে ঐ সম্পত্তির অংশ বিশেষ যে আদালতের এখতিয়ারের মধ্যে অবস্থিত, সেরূপ যে কোন আদালতে মোকদ্দমা দায়ের করা যাতে পারে।
তবে শর্ত থাকে যে, এই প্রকার মোকদ্দমার বিষয়বস্তুর মূল্য সম্পর্কে সমগ্র দাবিটিই ঐরূপ আদালত বিচারার্থে গ্রহণ করতে পারে।
------------
⇒ The Code of Civil Procedure, 1908- Section 17: Suits for immovable property situate within jurisdiction of different Courts-
Where a suit is to obtain relief respecting, or compensation for wrong to, immovable property situate within the jurisdiction of different Courts, the suit may be instituted in any Court within the local limits of whose jurisdiction any portion of the property is situate:
Provided that, in respect of the value of the subject-matter of the suit, the entire claim is cognizable by such Court.

২৬.
বিবাদীর হাজির হওয়ার তারিখ নির্ধারণ করার সময় আদালতকে কোন বিষয়গুলো বিবেচনা করতে হয়?
  1. বিবাদীর বাসস্থান
  2. আদালতের চলমান কার্যাবলী
  3. সমন পরিবেশনের জন্য প্রয়োজনীয় সময়
  4. উপরোক্ত সবগুলো
ব্যাখ্যা

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধি Order V Rule 6-এর স্পষ্ট বিধান: Fixing day for appearance of defendant: “The day for the appearance of the defendant shall be fixed with reference to the current business of the Court, the place of residence of the defendant and the time necessary for the service of the summons; and the day shall be so fixed as to allow the defendant sufficient time to enable him to appear and answer on such day.”

অর্থাৎ বিবাদীর হাজিরার তারিখ নির্ধারণ করতে গেলে আদালতকে বাধ্যতামূলকভাবে ৩টি বিষয় বিবেচনা করতে হবে:
- আদালতের চলমান কার্যাবলী / ব্যস্ততা (current business of the Court)
- বিবাদীর বাসস্থানের দূরত্ব (place of residence of the defendant)
- সমন সার্ভ করতে যে সময় লাগবে (time necessary for service of summons)
তাই আদালতকে সবগুলোই বিবেচনা করতে হবে।

২৭.
দেওয়ানি কার্যবিধির ৩০ ধারা অনুযায়ী, আদালত কোনটি আদেশ দিতে পারে না?
  1. জিজ্ঞাসাবাদের উত্তর দানের জন্য
  2. দলিলাদি প্রদান ও পরিদর্শনের জন্য
  3. কোনো তথ্যকে হলফনামা মাধ্যমে প্রমাণ করার জন্য
  4. মামলার বিচারকার্য অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত রাখার জন্য
ব্যাখ্যা

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ৩০ আদালতকে "উদঘাটন ও অনুরূপ বিষয়ের আদেশ দানের ক্ষমতা" (Power to order discovery and the like) প্রদান করেছে। এই ধারা অনুসারে আদালত নিম্নলিখিত আদেশ দিতে পারে:
(ক) জিজ্ঞাসাবাদের (interrogatories) উত্তর দানের জন্য।
(খ) দলিলাদি প্রদান ও পরিদর্শনের জন্য।
(গ) কোনো তথ্যকে হলফনামা (affidavit) মাধ্যমে প্রমাণ করার জন্য।
তবে মামলার বিচারকার্য অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত রাখার জন্য আদেশ দেওয়ার ক্ষমতা ধারা ৩০-এর অধীন দেওয়া হয়নি।

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা-৩০: উদঘাটন ও অনুরূপ বিষয়ের আদেশ দানের ক্ষমতা:
- নির্ধারণ শর্ত এবং সীমাবদ্ধতা সাপেক্ষে আদালতে যে কোন সময় স্বতঃপ্রবৃত্ত হয়ে অথবা কোন পক্ষের আবেদনক্রমে-
ক) প্রশ্নাবলী প্রদান ও জবাবদান, দলিল ও তথ্যাবলীর স্বীকৃতি, এবং উদ্ঘাটন, পরিদর্শন, দাখিল, দলিল অন্তরীণ বা প্রত্যর্পণ অথবা সাক্ষ্য হিসাবে দাখিলযোগ্য অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়াবলী সম্পর্কিত সকল বিষয়ে প্রয়োজনীয় ও যুক্তিপূর্ণ হতে পারে এরূপ আদেশ প্রদান করতে পারেন;
খ) সাক্ষ্যদান, অথবা দলিল দাখিল অথবা উপরোক্ত অন্য উদ্দেশ্যে যাদের হাজির হওয়ার প্রয়োজন, তাদের প্রতি সমন প্রেরণ করতে পারেন;
গ) কোন তথ্য এফিডেভিট (শপথ পত্র) দ্বারা প্রমাণের আদেশ করতে পারে।

⇒ The Code of Civil Procedure, 1908- Section-30: Power to order discovery and the like:
Subject to such conditions and limitations as may be prescribed, the Court may, at any time, either of its own motion or on the application of any party,-
a) make such orders as may be necessary or reasonable in all matters relating to the delivery and answering of interrogatories, the admission of documents and facts, and the discovery, inspection, production, impounding and return of documents or other material objects producible as evidence;
b) issue summonses to persons whose attendance is required either to give evidence or to produce documents or such other objects as aforesaid;
c) order any fact to be proved by affidavit.

২৮.
দেওয়ানি মোকদ্দমা যথাযথভাবে দায়ের হওয়ার কত দিনের মধ্যে সাধারণত বিবাদীর প্রতি সমন জারি করতে হবে?
  1. পাঁচ দিন
  2. পাঁচ কার্যদিবস
  3. সাত দিন
  4. সাত কার্যদিবস
ব্যাখ্যা

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির অর্ডার ৫, রুল ১(১) এর সরাসরি বিধান অনুযায়ী, একটি মোকদ্দমা যথাযথভাবে দায়ের হওয়ার পর পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে আদালতের নিযুক্ত কর্মকর্তাকে বিবাদীর কাছে সমন জারি করতে হবে। এখানে "কার্যদিবস" শব্দটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি সাধারণ দিন নয়।
⇒ আরজির মাধ্যমে দাখিলকৃত দেওয়ানি মামলায় বিবাদী পক্ষকে আদালত কর্তৃক নির্ধারিত যে পত্র বা নোটিশের মাধ্যমে আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্য হাজির হওয়ার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়, তাকে সমন বলে ।

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৫ বিধি ১নং অনুযায়ী-
১) মোকদ্দমা যথাযথভাবে রুজু হওয়ার পর নির্ধারিত তারিখে হাজির এবং দাবির সমর্থনে জবাব দানের জন্য মোকদ্দমা রুজুর পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে এতদুদ্দেশ্যে আদালত কর্তৃক নিযুক্ত কর্মকর্তা বিবাদির নিকট সমন প্রেরণ করবে। তবে শর্ত থাকে যে, যদি আদালত কর্তৃক নিযুক্ত কর্মকর্তা উক্ত সময়সীমার মধ্যে সমন প্রেরণ করতে ব্যর্থ হন, তাহলে সে অসদাচরণের দায়ে দোষী সাব্যস্ত হবেন আরো শর্ত থাকে যে, যদি বিবাদি আরজী দাখিল করার সময়ে হাজির হয়ে বাদির দাবি স্বীকার করে নেন, তাহলে এরূপ কোন সমন প্রেরণ করা যাবে না।
২) বিবাদির উপর উপবিধি-১ মোতাবেক সমন প্রেরণ করা হলে নিম্নোক্ত যে কোন পদ্ধতিতে বিবাদি হাজিরা দিতে পারবে—
ক) ব্যক্তিগতভাবে, অথবা
খ) মক্কেলের নির্দেশ প্রাপ্ত এবং মোকদ্দমা সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সকল প্রশ্নের উত্তর প্রদানে সক্ষম এবং কোন কৌশলী কর্তৃক, অথবা
গ) অনুরূপ সকল প্রশ্নের উত্তর দানে সক্ষম কোন ব্যক্তি সহযোগে কোন কৌশলী কর্তৃক বিবাদী হাজিরা দিতে পারে।

২৯.
“No suit shall be defeated by reason of misjoinder or non-joinder of parties” – এই বিধানটি দেওয়ানী কার্যবিধি, ১৯০৮ -এর কোথায় প্রদান করা হয়েছে?
  1. Order-1 Rule-8
  2. Order-1 Rule-9
  3. Order-1 Rule-10
  4. Order-1 Rule-13
ব্যাখ্যা

⇒ The Code of Civil Procedure, 1908- Order 1 Rule-9: Misjoinder and nonjoinder:
No suit shall be defeated by reason of the misjoinder or nonjoinder of parties, and the Court may in every suit deal with the matter in controversy so far as regards the rights and interests of the parties actually before it.

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ১ বিধি ৯: অপসংযোগ এবং অ-সংযুক্তি:
কাউকে ভ্রান্তভাবে মোকদ্দমার পক্ষ করা হলে অথবা পক্ষ থেকে বাদ দেয়া হলে তজ্জন্য মোকদ্দমার কোন ক্ষতি হবে না; এবং আদালত এটির সামনে আনিত প্রত্যেকটি মোকদ্দমায় বিরোধীয় বিষয়টি পক্ষগণের অধিকার ও স্বার্থসমূহের সঙ্গে যতটুকু সম্পর্কিত ততটুকু বিবেচনা করতে পারবে।

৩০.
"Constructive Res Judicata" দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ১১-এর কোন Explanation-এ আছে? 
  1. Explanation III
  2. Explanation VIII
  3. Explanation IV
  4. Explanation VI
ব্যাখ্যা

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ১১-এর Explanation IV-এ কনস্ট্রাকটিভ রেস জুডিকাটা (Constructive Res Judicata) বা পরোক্ষ দোবারা দোষ নীতিটি বর্ণিত আছে।
- "Any matter which might and ought to have been made ground of defence or attack in such former suit shall be deemed to have been a matter directly and substantially in issue in such suit."

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির ১১ ধারায় দোবারা দোষ নীতিটি (Res Judicata) আলোচনা করা হয়েছে। রেস জুডিকাটা নীতির মূল কথা হলো- এখতিয়ারসম্পন্ন আদালত কর্তৃক চূড়ান্তভাবে নিষ্পত্তিকৃত কোন বিচারিত বিষয়কে পরবর্তীতে পুনরায় বিচার করা যাবে না। এই নীতির মূল কথা হলো, একবার নিষ্পত্তিকৃত কোন মোকদ্দমা, পুনরায় বিচারযোগ্য নয়।
- দেওয়ানি কার্যবিধির ১১ ধারায় ৬টি ব্যাখ্যা [Explanation] রয়েছে:
১ম ব্যাখ্যা: Former Suit [পূর্ববর্তী মোকদ্দমা];
২য় ব্যাখ্যা: Competence of a Court [কোর্টের বিচার করার ক্ষমতা];
৩য় ব্যাখ্যা: Direct Res-Judicata [প্রত্যক্ষ দোবারা দোষ];
৪র্থ ব্যাখ্যা: Constructive Res-Judicata [পরোেক্ষ দোবারা দোষ];
৫ম ব্যাখ্যা: Any relief not granted shall be deemed to have been refused [প্রার্থিত প্রতিকার মঞ্জুর না হলে প্রত্যাখ্যান বলে গণ্য হবে];
৬ষ্ঠ ব্যাখ্যা: Litigation for Public Rights [সার্বজনীন বা সাধারণ অধিকার বা বাস্তব সুবিধার জন্য মামলা]
----------
⇒ The Code of Civil Procedure, 1908- Section-11. Res Judicata:
- No Court shall try any suit or issue in which the matter directly and substantially in issue has been directly and substantially in issue in a former suit between the same parties, or between parties under whom they or any of them claim, litigating under the same title, in a court competent to try such subsequent suit or the suit in which such issue has been subsequently raised, and has been heard and finally decided by such Court. 

Explanation I.-The expression "former suit" shall denote a suit which has been decided prior to the suit in question whether or not it was instituted prior thereto. 
Explanation II.-For the purposes of this section, the competence of a Court shall be determined irrespective of any provisions as to a right of appeal from the decision of such Court. 
Explanation III.-The matter above referred to must in the former suit have been alleged by one party and either denied or admitted, expressly or impliedly, by the other. 
Explanation IV.-Any matter which might and ought to have been made ground of defence or attack in such former suit shall be deemed to have been a matter directly and substantially in issue in such suit. 
Explanation V.-Any relief claimed in the plaint, which is not expressly granted by the decree, shall, for the purposes of this section, be deemed to have been refused. 
Explanation VI.-Where persons litigate bona fide in respect of a public right or of a private right claimed in common for themselves and others, all persons interested in such right shall, for the purposes of this section, be deemed to claim under the persons so litigating.