পরীক্ষা আর্কাইভ

ডেইলি কুইজ [২০০ দিন]

পরীক্ষাডেইলি কুইজ [২০০ দিন]তারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়10 minutes
মোট প্রশ্ন
সিলেবাস
বিষয় - বাংলাদেশ বিষয়াবলি টপিক - বাংলাদেশের জাতীয় বিষয়াবলি [বাংলাদেশের ইতিহাস, কৃষ্টি ও সংস্কৃতি সম্পর্কিত - ১৭৫৭ সাল থেকে ১৯৪৭ সাল পর্যন্ত] উপমহাদেশ ইউরোপীয়দের আগমন, ইংরেজ শাসন ও ইংরেজ শাসনামলে আন্দোলন সংগ্রাম ও উপমহাদেশের ইতিহাস। উৎস: বোর্ড বই (বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা সংশ্লিষ্ট NCTB ও উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের বই), বাংলাপিডিয়া অথবা যেকোনো ভালো গাইড বই। [গাইড বই থেকে পড়ার ক্ষেত্রে কনফিউজিং বিষয়গুলো ক্রসচেক করে পড়া উত্তম।]
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

ডেইলি কুইজ [২০০ দিন]

ডেইলি কুইজ [২০০ দিন] · তারিখ অনির্ধারিত · প্রশ্ন

.
কোন শাসকের আমলে ‘বারোদুয়ারি মসজিদ’ নির্মিত হয়েছিল?
  1. ক) সুলতান ইলিয়াস শাহ
  2. খ) সুলতান হোসেন শাহ
  3. গ) সুলতান নুসরত শাহ
  4. ঘ) সুলতান হোসেন শাহ
ব্যাখ্যা
মুসলিম শাসন
- মুসলমান শাসকগন ইসলামের গৌরবকে সুপ্রতিষ্ঠিত এবং নিজেদের শাসনকালকে স্মরণীয় করে রাখতে বাংলার বিভিন্ন স্থানে বিভিন্ন সময়ে অনেক প্রাসাদ, মসজিদ, কবর, দরগাহ ইত্যাদি নির্মাণ করেছিলেন।
- মসজিদ নির্মাণকে মুসলমান শাসকগণ অতিশয় পূণ্যের কাজ বলে বিবেচনা করতেন।
- ‘কদম রসূল’ গৌড়ে অবস্থিত।
- মহানবীর পদচিহ্নের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের জন্য এ ভবনটি নির্মাণ করা হয়।
- এটি ১৫৩১ খ্রিষ্টাব্দে সুলতান হোসেন শাহের পুত্র সুলতান নাসিরুদ্দিন নুসরত শাহ নির্মাণ করেছিলেন।

- এই ভবনের এক কক্ষে একটি কালো কারুকার্যখচিত মর্মর বেদির উপরে হযরত মুহম্মদ (স) এর পদচিহ্ন সংবলিত একখন্ড প্রস্তর স্থাপিত হয়েছিল।
 - গৌড়ের সুবিখ্যাত ‘বড় সোনামসজিদ’ বা ‘বারোদুয়ারি মসজিদ’ নুসরত শাহ আমলের কীর্তি।
- বর্ধমান জেলার মঙ্গলকোট নগর এবং রাজশাহী জেলার বাঘা নামক স্থানে তিনি দুইটি মসজিদ নির্মাণ করেছিলেন।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
.
বাংলায় মুসলমান শাসনের সূত্রপাতকারী বখতিয়ার খলজী বাংলা বিজয়ের পর কয়েকটি প্রদেশে ভাগ করেছিলেন; প্রদেশগুলো কী নামে পরিচিত ছিলো?
  1. ক) ইকতা
  2. খ) মুকতা
  3. গ) গজনী
  4. ঘ) ওয়াসিত
ব্যাখ্যা
মুসলিম শাসন:
- ১২০৪ সালে বাংলায় মুসলমান শাসনের সূত্রপাত করেন ইখতিয়ার উদ্দিন মুহাম্মদ বখতিয়ার খলজি ১২০৪ সালে।
- এই শাসন প্রায় সাড়ে পাঁচশ বছর বাংলায় স্থায়ী হয়েছিল ( ১২০৪-১৭৬৫ পর্যন্ত)। 

- উচ্চাভিলাষী ও সমর কুশলী যোদ্ধা ইখতিয়ার উদ্দিন মুহাম্মদ বিন বখতিয়ার খলজি বাংলায় অভিযান করে ক্ষমতাসীন সেনবংশীয় রাজা লক্ষণ সেনকে পরাজিত করে বাংলা দখল করে বাংলায় মুসলিম শাসনের সূত্রপাত করেন।
- সুশাসনের জন্য তিনি বাংলাকে অনেকগুলি প্রদেশে বিভক্ত করেন।
- প্রদেশগুলোকে ‘ইকতা’ বলা হত। ইকতার শাসনকর্তাকে বলা হত মুকতা।
- তিনি বাংলায় মুসলিম সমাজ ও সংস্কৃতিরও প্রতিষ্ঠা করেন। 
- তাঁর শাসনাকালে বহু মাদ্রাসা, মক্তব ও মসজিদ নির্মিত হয়েছিল। 
- ইসলাম ধর্ম ও মুসলমান সংস্কৃতি বিকাশের জন্য তাঁর ভূমিকা ছিল উল্লেখযোগ্য।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা ও ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি - ২য় পত্র, বাউবি।
.
নীল কমিশন গঠন করা হয় কত সালে?
  1. ক) ১৮৫৯ সালে
  2. খ) ১৮৫৭ সালে
  3. গ) ১৮৬৩ সালে
  4. ঘ) ১৮৬১ সালে
ব্যাখ্যা
নীল বিদ্রোহ
- ইংরেজরা এই উপমহাদেশে এসেছিল ব্যবসায়-বাণিজ্য করতে।
- ১৭৭০ থেকে ১৭৮০ সালের মধ্যে ইংরেজ আমলে বাংলাদেশে নীল চাষ শুরু হয় কারণ এ সময় নীল ব্যবসা ছিল খুবই লাভজনক।
- নীল চাষের জন্য কৃষকদের অগ্রিম অর্থ গ্রহণে ( দাদন ) বাধ্য করা হতো এবং পরে নীল চাষে রাজি না হলে কৃষকের উপরে চরম অত্যাচার চালানো হতো।
- ফরিদপুর, যশোর, ঢাকা, পাবনা, রাজশাহী, নদীয়া ও মুর্শিদাবাদে ব্যাপক নীল চাষ হতো। 
- জিনিসপত্রের মূল্যবৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে নীল চাষের খরচও বৃদ্ধি পায় ফলে চাষীরা নীল চাষের প্রতি অনাগ্রহ প্রকাশ করলে তাদের ওপরে নির্যাতন চালানো হতো।
- নীল চাষীরা ১৮৫৯ সালে নীল চাষের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ গড়ে তোলেন। 
- এ নীল বিদ্রোহের অত্যাচারের কথা দীনবন্ধু মিত্রের লেখা ‘নীলদর্পণ’ নাটকের কাহিনীর মাধ্যমে চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। 

- যশোরের নীল বিদ্রোহের নেতা ছিলেন নবীন মাধব ও বেণী মাধব নামে দুই ভাই।
- হুগলিতে নেতৃত্ব দেন বৈদ্যনাথ ও বিশ্বনাথ সর্দার।
- নদীয়ায় ছিলেন মেঘনা সর্দার এবং নদীয়ার চৌগাছায় বিদ্রোহের নেতৃত্ব দেন বিষ্ণুচরণ বিশ্বাস ও দিগম্বর বিশ্বাস নামে দুই ভাই। 
- চাষীদের এ বিদ্রোহের কারণে ১৮৬১ সালে ব্রিটিশ সরকার ‘ইন্ডিগো কমিশন বা নীল কমিশন’ গঠন করে নীল চাষকে কৃষকদের ‘ইচ্ছাধীন’ বলে ঘোষণা দেয় যার পরিপ্রেক্ষিতে নীল বিদ্রোহের অবসান হয়।
- পরবর্তীতে কৃত্রিম নীল আবিষ্কৃত হওয়ায় ১৮৯২ সালে এদেশে নীল চাষ চিরতরে বন্ধ হয়ে যায়। 

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
.
ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহ কত বছরব্যাপী হয়েছিল?
  1. ক) ১৭৬০ থেকে ১৭৭১ সাল পর্যন্ত
  2. খ) ১৭৬০ থেকে ১৮০০ সাল পর্যন্ত
  3. গ) ১৭৭৭ থেকে ১৮০০ সাল পর্যন্ত
  4. ঘ) ১৭৮৭ থেকে ১৮০০ সাল পর্যন্ত
ব্যাখ্যা
ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহ:
- ১৭৬০ খ্রিস্টাব্দে পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলায় সন্ন্যাসীরা ইংরেজদের বিরুদ্ধে প্রথম বিদ্রোহ শুরু করে।
- ১৭৭১ খ্রিস্টাব্দে মজনু শাহ সারা উত্তর বাংলায় ইংরেজ বিরোধী তৎপরতা শুরু করেন।
- ১৭৭৭ থেকে ১৮০০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত রংপুর, রাজশাহী, দিনাজপুর, বগুড়া, ঢাকা, ময়মনসিংহ, মুর্শিদাবাদ, বীরভূম, মালদহসহ বিভিন্ন অঞ্চলে ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহ ছড়িয়ে পড়ে।
- তবে এ আন্দোলনের তীব্রতা ছিল উত্তর বঙ্গে।

- ফকির মজনু শাহের যুদ্ধ কৌশল ছিল গেরিলা পদ্ধতি, অর্থাৎ অতর্কিতে আক্রমণ করে নিরাপদে সরে যাওয়া।
- তিনি ১৭৮৭ খ্রিস্টাব্দে মৃত্যবরণ করলে বিদ্রোহের নেতৃত্ব গ্রহণ করেন মুসা শাহ, সোবানশাহ, চেরাগ আলী শাহ, করিম শাহ, মাদার বক্স প্রমুখ ফকির।
- ১৮০০ খ্রিস্টাব্দে তারা চূড়ান্তভাবে পরাজিত হয়।
- ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহ ১৭৬০ থেকে ১৮০০ সাল পর্যন্ত স্থায়ী ছিল। 
- অপরদিকে সন্ন্যাসী বিদ্রোহের নেতা ভবানী-পাঠক ১৭৮৭ খ্রিস্টাব্দে লেফটেন্যান্ট ব্রেনানের নেতৃত্বে একদল ব্রিটিশ সৈন্যের আক্রমণে দুই সহকারীসহ নিহত হন।
- সন্ন্যাসী বিদ্রোহের প্রধান নেতা ছিলেন ভবানী-পাঠক।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
কৈবর্ত বিদ্রোহের নেতা কে ছিলেন?
  1. ক) প্রথম মহীপাল
  2. খ) দিব্য
  3. গ) ধর্মপাল
  4. ঘ) দ্বিতীয় মহীপাল
ব্যাখ্যা
-পাল রাজত্বের সময় উত্তর বঙ্গের বরেন্দ্র অঞ্চলের সামন্তবর্গ প্রকাশ্যে বিদ্রোহ ঘোষণা করে।
- ইতিহাসে এ বিদ্রোহ ‘কৈবর্ত বিদ্রোহ’ বা ‘বরেন্দ্র বিদ্রোহ’ নামে পরিচিত।
- কৈবর্ত বিদ্রোহের নেতা ছিলেন দিব্য
- তিনি দ্বিতীয় মহীপাল কে হত্যা করে বরেন্দ্র দখল করে নেন এবং নিজ শাসন প্রতিষ্ঠা করেন।
- অবশেষে বারো শতকের দ্বিতীয় ভাগে বিজয় সেন পাল সাম্রাজ্যের বিলুপ্তি ঘটিয়ে বাংলায় সেন বংশের শাসন প্রতিষ্ঠা করেন।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
.
“The Spirit of Islam” গ্রন্থটি রচনা করেছেন কে?
  1. ক) নওয়াব আবদুল লতিফ
  2. খ) সৈয়দ আমির আলি
  3. গ) রাজা রামমোহন রায়
  4. ঘ) ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
ব্যাখ্যা
সৈয়দ আমির আলি
- ঊনিশ শতকের শেষার্ধে বাংলার মুসলমান সমাজের নবজাগরণে যিনি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছিলেন তিনি হলেন সৈয়দ আমির আলি।
- তিনি পাশ্চাত্য শিক্ষার মাধ্যমে বাঙালি মুসলমানদের সামাজিক ও বৈষয়িক উন্নতি করতে ও পাশাপাশি রাজনৈতিক ভাবেও সচেতন করতে চেয়েছেন।
- সৈয়দ আমির আলি ১৮৪৯ সালে হুগলির এক মুসলিম সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ১৮৭৩ সালে লন্ডনের লিংকন্স ইন থেকে ব্যারিস্টারি পাস করে দেশে ফেরেন।
- পরে ১৮৯০ সালে কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি নিযুক্ত হন।
- ১৯০৯ সালে তিনি লন্ডনে প্রিভি কাউন্সিলের সদস্য হন।

- তিনি ১৮৭৭ সালে কোলকাতায় “সেন্ট্রাল মোহামেডান অ্যাাসোসিয়েশন” নামে একটি সমিতি গঠন করেন।
- তাঁর বিখ্যাত দুইটি গ্রন্থ ‘The Spirit of Islam” এবং “A Short History of the Saracens” -এ ইসলাম ধর্মের বিজ্ঞানসম্মত ব্যাখ্যা ও ইসলামের অতীত গৌরবের কথা তুলে ধরা হয়েছে। 
- তিনি ১৯০৬ সালে মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠাকে স্বাগত জানান এবং ১৯১২ সালে মুসলিম লীগের সভাপতি নির্বাচিত হন।
- তিনি নারী অধিকারের বিষয়েও সচেতন ছিলেন। আধুনিক ভারতের উন্নতির জন্য হিন্দু-মুসলমান উভয় সম্প্রদায়ের একযোগে কাজ করা প্রয়োজন বলে তিনি বিশ্বাস করতেন।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
.
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর কোন গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন?
  1. ক) বীরসিংহ
  2. খ) কাঁঠালপাড়া
  3. গ) মেহেন্দিগঞ্জ
  4. ঘ) দেবানন্দপুর
ব্যাখ্যা
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ১৮২০ সালে মেদিনীপুর জেলার বীরসিংহ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তার পিতার নাম ঠাকুরদাস বন্দ্যোপাধ্যায় ও মাতার নাম ভাগবতী দেবী।
- অসাধারণ মেধা আর অধ্যবসায়ের ফলে তিনি মাত্র একুশ বছর বয়সে সংস্কৃত সাহিত্য, ব্যাকরণ, ন্যায়, বেদান্ত, স্মৃতি ইত্যাদি বিষয়ে অগাত পাণ্ডিত্য অর্জন করেছিলেন।
- ১৮৩৯ সালে কলকাতার ‘সংস্কৃত কলেজ’ থেকে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরকে 'বিদ্যাসাগর' উপাধি দেওয়া হয়।

- তাঁকে বাংলা গদ্য সাহিত্যের জনক বলা হয়।
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর হিন্দু সমাজে বিধবা বিবাহের পক্ষে কঠোর অবস্থান নেন এবং তাঁর নিরলস প্রচেষ্টার কারণে ১৮৫৬ সালে গভর্নরের সাহায্য নিয়ে বিধবা বিবাহ আইন পাস করেন।
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ১৮৯১ সালে ৭১ বছর বয়সে পরলোকগমন করেন।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি এবং বাংলাপিডিয়া। 
.
ডিরোজিও কত বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন?
  1. ক) একুশ
  2. খ) বাইশ
  3. গ) তেইশ
  4. ঘ) চব্বিশ
ব্যাখ্যা
ডিরোজিও ও ইয়াং বেঙ্গল মুভমেন্ট:
- উনিশ শতকের প্রথমার্ধ জুড়ে ছিল রাজা রামমোহন রায়ের আন্দোলনের ধারা।
- দৃঢ়ভাবে সে ধারাকে বাঁচিয়ে রেখেছিল হিন্দু কলেজের প্রতিভাবান ছাত্রবৃন্দ ইয়াং বেঙ্গল আন্দোলনের মাধ্যমে।
- যার নেতৃত্বে ছিলেন হিন্দু কলেজের তরুণ অধ্যাপক হেনরি লুইস ডিরোজিও।

- ‘রেনেসাঁস যুগে বাঙালি যুব সমাজের মধ্যে আলোড়ন সৃষ্টিকারী ‘ইয়াং বেঙ্গল' আন্দোলনের প্রবক্তা ডিরোজিও ১৮০৯ খ্রিস্টাব্দে কলকাতা শহরে জন্ম গ্রহণ করেন।
- ডিরোজিও তাঁর স্কুল শিক্ষক ডেভিড ড্রামন্ডের প্রগতিবাদী, সংস্কারমুক্ত, অসাম্প্রদায়িক চেতনা সমৃদ্ধ মানবতাবাদী চিন্তাধারা দ্বারা গভীরভাবে প্রভাবিত ছিলেন।
- তরুণ সমাজের পুরোনো ধ্যান-ধারণা পাল্টে দিতে ডিরোজিও কর্তৃক ১৮২৮ খ্রিস্টাব্দে প্রতিষ্ঠিত ‘একাডেমি এ্যাসোসিয়েশন' গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
- একাডেমির তরুণদের এই শিক্ষা দেয়া হয় যে যুক্তিহীন বিশ্বাস হলো মৃত্যুর সমান।
- নতুন চিন্তাধারায় প্রভাবিত তরুণরা সনাতনপন্থী হিন্দু এবং গোঁড়াপন্থী খ্রিস্টানদের ধর্মবিশ্বাস ও কুসংস্কারের বিরুদ্ধে সমালোচনা মুখর হয়ে উঠে।

- ডিরোজিও এবং তার ছাত্রদের প্রকাশিত সাপ্তাহিক এবং দৈনিক পত্রিকাতেও সমাজ, ধর্মের বিভিন্ন কুসংস্কারের বিরুদ্ধে নিন্দাসূচক লেখা প্রকাশিত হয়।
- বাংলার ‘রেনেসাঁস’ যুগের এই প্রতিভাবান তরুণ মাত্র তেইশ বছর বয়সে ১৮৩১ খ্রিস্টাব্দে মৃত্যুবরণ করেন
- তাঁর মৃত্যুর পরও তাঁর হাতে গড়া অনুসারীদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিলেন রামতনু লাহিড়ী, রাধানাথ সিকদার, প্যারিচাঁদ মিত্র, কৃষ্ণমোহন ব্যনার্জি প্রমুখ।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত তাঁর ছাত্র না হলেও তাঁর আদর্শ দ্বারা গভীরভাবে প্রভাবিত হয়েছিলেন।
- ডিরোজিওর অনুসারীদের আন্দোলন ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরকেও প্রভাবিত করেছিল।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।