পরীক্ষা আর্কাইভ

৫০ দিনে ৫০তম বিসিএস প্রস্তুতি [সমন্বিত] - Archived

পরীক্ষা৫০ দিনে ৫০তম বিসিএস প্রস্তুতি [সমন্বিত] - Archivedতারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়20 minutes
মোট প্রশ্ন৪৫
সিলেবাস
"Award Mania: Season - 15” এর জন্য প্রযোজ্য -------------------------------------------- পরীক্ষা - ১ পার্ট-১) বাংলা সাহিত্য: টপিকসমূহ বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগের লেখকগণ: [গুরুত্বপূর্ণ লেখকদের জীবনী, সাহিত্য-কর্ম, অবদান, স্বীকৃতি ইত্যাদি সম্পর্কে বিস্তারিত পড়তে হবে। অন্যান্য লেখকদের গুরুত্বপূর্ণ অবদান ও সাহিত্যকর্ম সম্পর্কে পড়লেই হবে।] ১. গুরুত্বপূর্ণ লেখকগণ: কাজী নজরুল ইসলাম, জসীম উদ্দীন, জহির রায়হান, জীবনানন্দ দাশ, তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়, দীনবন্ধু মিত্র, মাইকেল মধুসূদন দত্ত, হাসান আজিজুল হক, হাসান হাফিজুর রহমান, হুমায়ুন আজাদ, হুমায়ূন আহমেদ। ২. অন্যান্য লেখকগণ: কাজী মোতাহার হোসেন, কামিনী রায়, কালীপ্রসন্ন সিংহ, কুসুমকুমারী দাশ, কায়কোবাদ, গিরিশচন্দ্র ঘোষ, গোলাম মোস্তফা, চণ্ডীচরণ মুনশী, জাহানারা ইমাম, জর্জ আব্রাহাম গ্রিয়ারসন, জন ক্লার্ক মার্শম্যান, জোশুয়া মার্শম্যান, হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও, দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার, দাউদ হায়দার, দ্বিজেন্দ্রলাল রায়, দীনেশচন্দ্র সেন, রফিক আজাদ, হুমায়ুন কবির, হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়। পার্ট-২) ১) এটমের গঠন, কার্বনের বহুমুখী ব্যবহার, এসিড, ক্ষার, লবণ, পদার্থের ক্ষয়, সাবানের কাজ, মৌলিক কণা, ধাতব পদার্থ এবং তাদের যৌগসমূহ, অধাতব পদার্থ, জারণ-বিজারণ, তড়িৎ কোষ, অজৈব যৌগ, জৈব যৌগ, ইলেকট্রনিক্স, আধুনিক পদার্থবিজ্ঞান, শক্তির উৎস ও প্রয়োগ, নবায়নযোগ্য শক্তির উৎস, পারমাণবিক শক্তি, খনিজ উৎস, শক্তির রূপান্তর। ২) ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া, হৃদ্পিণ্ড ও হৃদরোগ, স্নায়ু ও স্নায়ুরোগ, রক্ত ও রক্ত সঞ্চালন, রক্তচাপ, খাদ্য ও পুষ্টি, ভিটামিন, মাইক্রোবায়োলজি। ------------------ পার্ট–১ সোর্স: উৎস: ষষ্ঠ থেকে উচ্চ-মাধ্যমিক শ্রেণি পর্যন্ত বাংলা সাহিত্যপাঠ বোর্ড বই [NCTB ও উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়], যেকোনো একজন ভালো একাডেমিক লেখকের বই; বাংলাপিডিয়া; বাজারে প্রচলিত যেকোনো ভালো গাইড বই। [গাইড বই থেকে পড়ার ক্ষেত্রে কনফিউজিং বিষয়গুলো ক্রসচেক করে পড়া উত্তম।] পার্ট–২ সোর্স: যেকোনো গাইড বই, ষষ্ঠ থেকে SSC & HSC বোর্ড বই।
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

৫০ দিনে ৫০তম বিসিএস প্রস্তুতি [সমন্বিত] - Archived

৫০ দিনে ৫০তম বিসিএস প্রস্তুতি [সমন্বিত] - Archived · তারিখ অনির্ধারিত · ৪৫ প্রশ্ন

.
'অগ্নিবীণা' কাব্যগ্রন্থের প্রথম কবিতা কোনটি?
  1. ধূমকেতু
  2. বিদ্রোহী
  3. আগমণী
  4. প্রলয়োল্লাস
সঠিক উত্তর:
প্রলয়োল্লাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রলয়োল্লাস
ব্যাখ্যা

• 'অগ্নিবীণা' কাব্যগ্রন্থ:
- 'অগ্নিবীণা' হলো কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ।
- এই কাব্যের সবচেয়ে বিখ্যাত কবিতা 'বিদ্রোহী'। 'বিদ্রোহী' কবিতার জন্যই নজরুলকে 'বিদ্রোহী কবি' বলা হয়।
- কাব্যের প্রথম কবিতা হলো 'প্রলয়োল্লাস'।
- বইটি নজরুল উৎসর্গ করেছেন বিপ্লবী বারীন্দ্রকুমার ঘোষকে।

অগ্নিবীণা গ্রন্থে মোট ১২টি কবিতা রয়েছে:
- প্রলয়োল্লাস,
- বিদ্রোহী,
- রক্তাম্বর-ধারিণী মা,
- আগমণী,
- ধূমকেতু,
- কামাল পাশা,
- আনোয়ার,
- রণভেরী,
- শাত-ইল-আরব,
- খেয়াপারের তরণী,
- কোরবানী,
- মহররম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

.
'বছির, আজহার' জসীম উদ্‌দীন রচিত কোন গ্রন্থের চরিত্র?
  1. নক্সী কাঁথার মাঠ
  2. বোবা কাহিনী
  3. সোজন বাদিয়ার ঘাট
  4. পদ্মাপাড়
সঠিক উত্তর:
বোবা কাহিনী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বোবা কাহিনী
ব্যাখ্যা

• 'বোবা কাহিনী' উপন্যাস:
- বোবা কাহিনী (১৯৬৪) জসীম উদ্‌দীন রচিত একটি সুখপাঠ্য উপন্যাস।
- জসীম উদ্‌দীন রচিত 'বোবা কাহিনী' উপন্যাসে মহাজনী শোষণের কারণে গ্রামের প্রান্তিক চাষি আজহারের ভূমিহীন হওয়া, শহরের সুবিধাবাদী উকিল ও ভণ্ড ধার্মিক কর্তৃক মেধাবী বছির নিগ্রহ ইত্যাদি কাহিনি বর্ণিত হয়েছে।
- উপন্যাসে কোন জটিলতা নেই। নিছক সরল ও সাদামাটা একটি গল্প আছে উপন্যাসটিতে।

উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য কয়েকটি চরিত্র:
- বছির,
- আজহার,
- আরজান,
- রহিমুদ্দিন।

---------------
জসীম উদ্‌দীন রচিত সাহিত্যকর্মগুলো হলো-
• কাব্যগ্রন্থ:
- রাখালী,
- নক্সী কাঁথার মাঠ,
- সোজন বাদিয়ার ঘাট,
- মাটির কান্না,
- ভয়াবহ সেই দিনগুলো,
- বালুচর,
- রূপবতী, ইত্যাদি।

• নাটক:
- পদ্মাপাড়,
- বেদের মেয়ে,
- পল্লীবধূ,
- মধুমালা,
- গ্রামের মায়া।

• শিশুতোষ রচনা:
- এক পয়সার বাঁশী,
- হাসু,
- ডালিম কুমার।

• ভ্রমণকাহিনি:
- চলে মুসাফির,
- হলদে পরীর দেশ,
- যে দেশে মানুষ বড়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

.
কোনটি তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস? 
  1. কাবিলের বোন
  2. একটি কালো মেয়ের কথা
  3. রেইনকোট
  4. চিলেকোঠার সেপাই
সঠিক উত্তর:
একটি কালো মেয়ের কথা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
একটি কালো মেয়ের কথা
ব্যাখ্যা

• 'একটি কালো মেয়ের কথা' উপন্যাস:
- 'একটি কালো মেয়ের কথা' তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের রচিত একটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস।
- মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাসগুলোর মধ্যে প্রকাশকালের বিচারে প্রথম দিককার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপন্যাস হলো তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের 'একটি কালো মেয়ের কথা'।
- প্রকাশকাল: ১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দ, ১৩৭৮ বঙ্গাব্দ, নবকল্লোল পত্রিকার উল্টোরথ পূজাসংখ্যা।
- উপন্যাসটির প্রেক্ষাপট শুরু হয়েছে ডেভিড আর্মস্ট্রং ওরফে মনসুর আলীর বর্ণনায়, যেখানে তিনি ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের কালরাতের নৃশংসতার কথা বলেছেন।
-জীবনের শেষ পর্যায়ে অসুস্থ অবস্থায় দায়বদ্ধতার জায়গা থেকে তারাশঙ্কর নাজমা নামের এক কালো মেয়েকে হাজারো নির্যাতিতা নারীর প্রতীক হিসেবে উপস্থাপন করেছেন।
- উপন্যাসে মুক্তিযুদ্ধের সূচনালগ্নে পাকিস্তানি সেনাদের নৃশংসতা বাস্তব চিত্রের মতো ফুটে উঠেছে।
- প্রধান চরিত্র: নাজমা।

অন্যদিকে, 
• 'কাবিলের বোন' একটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস, যা লিখেছেন আল মাহমুদ। এটি 'উপমহাদেশ' উপন্যাসের সাথে একটি বইতে প্রকাশিত হয়েছে এবং ১৯৪৭ সালের দেশভাগ এবং ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে রচিত।

• আখতারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত 'রেইনকোট' একটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক ছোটগল্প। রেইনকোট ছোটগল্পটিতে মনস্তাত্ত্বিক ব্যাপার থাকলেও এটি মূলত প্রতীকী গল্প। 'রেইনকোট' গল্পটি ১৯৯৫ সালে প্রকাশিত হয়। 

• 'চিলেকোঠার সেপাই' বিশিষ্ট কথা সাহিত্যিক আখতারুজ্জামান ইলিয়াস এর লেখা। এটি তার একটি মহাকাব্যোচিত উপন্যাস। ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে লেখা উপন্যাস চিলেকোঠার সেপাই। উপন্যাসটির প্রধান চরিত্র ওসমান।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

.
জহির রায়হান রচিত উপন্যাস কোনটি? 
  1. শেষ বিকেলের মেয়ে
  2. কখনও আসেনি
  3. জীবন থেকে নেয়া 
  4. সঙ্গম
সঠিক উত্তর:
শেষ বিকেলের মেয়ে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শেষ বিকেলের মেয়ে
ব্যাখ্যা

• শেষ বিকেলের মেয়ে:
- 'শেষ বিকেলের মেয়ে' উপন্যাস হিসেবে জহির রায়হানের প্রথম সৃষ্টি।
- প্রেমের উপাখ্যান হিসেবে উপন্যাসটির জুড়ি মেলা ভার।
- বাংলা সাহিত্যে যতগুলো প্রেমের উপাখ্যান রয়েছে তার মধ্যে 'শেষ বিকেলের মেয়ে' গ্রন্থটি সম্ভবত পাঠক প্রিয়তার শীর্ষের দিকেই অবস্থান করছে।

--------------------
• জহির রায়হান:

- জহির রায়হান ছিলেন একজন প্রখ্যাত বাংলাদেশি কথাশিল্পী এবং চলচ্চিত্র পরিচালক। তিনি জহির রায়হান ১৯৩৫ সালে ফেনি জেলায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম মোহাম্মদ জহিরুল্লাহ।
- ১৯৫৬ সালে জহির রায়হান চলচ্চিত্রে প্রবেশ করেন। ১৯৬১ সালে তাঁর পরিচালিত প্রথম চলচ্চিত্র 'কখনও আসেনি' মুক্তি পায়।
- জহির রায়হান সৃষ্টি প্রথম রঙিন চলচ্চিত্র 'সঙ্গম'
- তাঁর সৃষ্ট প্রথম সিনেমাস্কোপ ছবি 'বাহানা'।
- তাঁর সৃষ্ট 'কাঁচের দেয়াল' চলচ্চিত্রটি শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র হিসেবে নিগার পুরস্কার লাভ করে।

জহির রায়হানের অন্যান্য উপন্যাস:
- হাজার বছর ধরে,
- আরেক ফাল্গুন,
- বরফ গলা নদী,
- শেষ বিকেলের মেয়ে,
- তৃষ্ণা,
- কয়েকটি মৃত্যু।

তাঁর অন্যান্য পরিচালিত চলচ্চিত্র:
- কখনো আসেনি (প্রথম পরিচালিত চলচ্চিত্র),
- সোনার কাজল (১৯৬২),
- কাঁচের দেয়াল (১৯৬৩),
- বেহুলা (১৯৬৬),
- জীবন থেকে নেয়া (১৯৭০),
- আনোয়ারা (১৯৬৭),
- সঙ্গম (১৯৬৪),
- বাহানা (১৯৬৫)।
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

.
'বাসমতীর উপাখ্যান' উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. কামিনী রায়
  2. কালীপ্রসন্ন সিংহ
  3. জীবনানন্দ দাশ
  4. দীনবন্ধু মিত্র
সঠিক উত্তর:
জীবনানন্দ দাশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জীবনানন্দ দাশ
ব্যাখ্যা

• 'বাসমতীর উপাখ্যানা' উপন্যাস:
- 'বাসমতীর উপাখ্যান' জীবনানন্দ দাশ রচিত উপন্যাস।
- উপন্যাসের কাহিনি এগিয়ে চলেছে- অধ্যাপক প্রভাস সেনের ছেলে ও মেয়ের বাড়ি না ফেরার এক ঘটনার মধ্যে দিয়ে। নাম দপ্তরী ও কুড়ুনি এর।

কাহিনি সংক্ষেপ:
এই আখ্যানের শেষ দিকে এক মারাত্মক ঝড়জলের রাতে সন্ধের পরেও প্রভাস সেনের ছেলে দপ্তরী ও মেয়ে কুভুনি বাড়ি না ফেরাতে এক ভয়ঙ্কর সমবেত উদ্বেগের পরিস্থিতি আঁকা হয়। অথচ উপন্যাস শেষ হয়ে গেলেও কোথাও পাওয়া গেল না, দপ্তরী ও কুডুনি ফিরল কি ফিরল না। এমনই আনমনা, অপ্রত্যাশিত জীবনানন্দের এই কুহেলি-ভুবন।

উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- প্রভাস সেন,
- দপ্তরী,
- কুড়ুনি।

-------------------
• জীবনানন্দ দাশ:
- তিনি ছিলেন কবি, শিক্ষাবিদ ছিলেন। তিনি ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁদের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের গাওপাড়া গ্রামে। তাঁর ডাক নাম ছিল মিলু।
- তাঁর পিতা সত্যানন্দ দাশ ছিলেন স্কুলশিক্ষক ও সমাজসেবক। মাতা কুসুমকুমারী দাশ ছিলেন একজন কবি।
- স্কুলে ছাত্রাবস্থায় তাঁর প্রথম কবিতা 'বর্ষ-আবাহন' ব্রহ্মবাদী পত্রিকায় (বৈশাখ ১৩২৬/এপ্রিল ১৯১৯) প্রকাশিত হয়।
- মূলত কবি হলেও তিনি অসংখ্য ছোটগল্প, কয়েকটি উপন্যাস ও প্রবন্ধগ্রন্থ রচনা করেন।
- কবিতার কথা (১৯৫৫) নামে তাঁর একটি মননশীল ও নন্দনভাবনামূলক প্রবন্ধগ্রন্থ আছে।
- সম্প্রতি কলকাতা থেকে তাঁর গদ্যরচনা ও অপ্রকাশিত কবিতার সংকলনরূপে জীবনানন্দ সমগ্র (১৯৮৫-৯৬) নামে বারো খণ্ড রচনাবলি প্রকাশিত হয়েছে।
- ১৯৫৪ খ্রিষ্টাব্দের ১৪ অক্টোবর জীবনানন্দ দাশ কলকাতায় এক ট্রাম-দুর্ঘটনায় আহত হন এবং ২২ অক্টোবর মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর উল্লেখযোগ্য উপন্যাসের মধ্যে রয়েছে:
- মাল্যবান,
- সুতীর্থ,
- জলপাইহাটি,
- জীবনপ্রণালী,
- বাসমতীর উপাখ্যান ইত্যাদি।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থগুলো হলো:
- ঝরা পালক (এটি জীবনানন্দ দাশের প্রথম কাব্য গ্রন্থ),
- ধূসর পাণ্ডুলিপি,
- বনলতা সেন,
- মহাপৃথিবী,
- সাতটি তারার তিমির,
- রূপসী বাংলা,
- বেলা অবেলা কালবেলা।

উৎস: বাংলা ভাষা সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলাপিডিয়া এবং জীবনানন্দ দাশ জীবনী।

.
সাগরদাঁড়ি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন কোন কবি?
  1. জীবনানন্দ দাশ
  2. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  3. তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. কায়কোবাদ
সঠিক উত্তর:
মাইকেল মধুসূদন দত্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাইকেল মধুসূদন দত্ত
ব্যাখ্যা

• মাইকেল মধুসূদন দত্ত:
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত একজন মহাকবি, নাট্যকার। তিনি ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত বাংলাভাষার সনেটের প্রবর্তক। তিনি বাংলায় মিত্রাক্ষর ছন্দেরও প্রবর্তক।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত প্রথম অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রয়োগ করেন 'পদ্মাবতী' নাটকে।
- অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য।অর্থ্যাৎ, এই কাব্যটি সম্পূর্ণ অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'দ্য ক্যাপটিভ লেডি'।

তাঁর উল্লেখযোগ্য সাহিত্যকর্মগুলো হলো:
• নাটক:
- শর্মিষ্ঠা,
- পদ্মাবতী,
- কৃষ্ণকুমারী।

• কাব্য:
- তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য,
- মেঘনাদবধ কাব্য,
- ব্রজাঙ্গনা কাব্য,
- বীরাঙ্গনা কাব্য (পত্রকাব্য),
- চতুর্দশপদী কবিতাবলী।

• প্রহসন:
- একেই কি বলে সভ্যতা,
- বুড় সালিকের ঘাড়ে রোঁ।

অন্যদিকে, 
• জীবনানন্দ দাশ: তিনি ছিলেন কবি, শিক্ষাবিদ ছিলেন। তিনি ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।

• তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়, (১৮৯৮-১৯৭১) একজন কথাসাহিত্যিক ও রাজনীতিবিদ। ১৮৯৮ সালের ২৩ জুলাই পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার লাভপুর গ্রামে এক জমিদারবংশে তাঁর জন্ম।

• তাঁর প্রকৃত নাম মোহাম্মদ কাজেম আল কোরেশী, 'কায়কোবাদ' তাঁর সাহিত্যিক ছদ্মনাম। ১৮৫৭ সালে ঢাকা জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলার আগলা গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।

.
মাইকেল মধুসূদন দত্ত কর্তৃক 'নীলদর্পণ' নাটকের ইংরেজি অনুবাদটি প্রকাশিত হয় কত সালে?
  1. ১৮৬০ সালে 
  2. ১৮৬১ সালে
  3. ১৮৬৩ সালে
  4. ১৮৬৪ সালে
সঠিক উত্তর:
১৮৬১ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৮৬১ সালে
ব্যাখ্যা

• 'নীলদর্পণ' নাটক:
- দীনবন্ধু মিত্রের প্রথম ও সর্বশ্রেষ্ঠ নাটক নীলদর্পণ। এটি বাংলা সাহিত্যে একটি বিখ্যাত নাটক।
- ১৮৬০ সালে নাটকটি প্রথম ঢাকা থেকে প্রকাশিত হয়। এটি ঢাকা থেকে প্রকাশিত প্রথম এবং নাটকটি ঢাকায় প্রথম মঞ্চস্থ হয়।
-  A Native ছদ্মনামে মাইকেল মধুসূদন দত্ত এর ইংরেজি অনুবাদ করেন। অনুবাদটি ১৮৬১ সালে Nil Darpan or The Indigo Planting Mirror নামে প্রকাশিত হয়।
করেন।
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর "নীল দর্পন" নাটকের অভিনয় দেখে মঞ্চে জুতা ছুড়ে মেরেছিলেন।
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় "নীল দর্পন" নাটকটিকে uncle toms cabin এর সাথে তুলনা করেছেন।

-----------------
• দীনবন্ধু মিত্র:
পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার চৌবেড়িয়া গ্রামে এক দরিদ্র পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতৃদত্ত নাম গন্ধর্বনারায়ণ।
- ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের অনুপ্রেরণায় কবিতা লিখতেন। তিনি কলেজে পড়ার সময়ই ঈশ্বর গুপ্তের সংস্পর্শে গিয়ে সংবাদ প্রভাকর, সাধুরঞ্জন প্রভৃতি পত্রিকায় কবিতা লিখতে শুরু করেন।
- তবে নাটক ও প্রহসন লিখেই তিনি সর্বাধিক খ্যাতি অর্জন করেন
- নীলদর্পণ তাঁর শ্রেষ্ঠ নাটক এবং শ্রেষ্ঠ রচনাও। এটি নীলকরদের অত্যাচারের কাহিনী নিয়ে দিনবন্ধু মিত্রের নাটক।
- ১৮৭৩ সালের ১ নভেম্বর তাঁর অকাল মৃত্যু ঘটে।

দীনবন্ধু মিত্রের উল্লেখযোগ্য নাটক:
- নীল-দর্পন,
- নবীন তপস্বিন,
- কমলে কামিনী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

.
হাসান আজিজুল হক রচিত গল্পগ্রন্থ নয় কোনটি?
  1. জীবন ঘষে আগুন
  2. আত্মজা ও একটি করবী গাছ
  3. শামুক
  4. রোদে যাবো
সঠিক উত্তর:
শামুক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শামুক
ব্যাখ্যা

• "শামুক" উপন্যাস:
- ভাবলেও বিস্ময় জাগে যে, এ উপন্যাসটি হাসান আজিজুল হক লিখেছেন তাঁর ১৮ বছর বয়সে। এবং লেখক একটি অমোঘ বাক্য দিয়ে শুরু করেছেন উপন্যাসটি: 'তেলাপোকা পাখি নয়।'
- কথাটি বলেছেন বিশ শতকের তিনের দশকের বাঙালি নিম্ন-মধ্যবিত্ত চেহারার-চরিত্র, বিশেষত একটি কেরানি-চরিত্রর জীবনবাস্তবতা নির্মাণ করতে গিয়ে।

'শামুক' রচিত ও প্রকাশিত হবার ইতিহাস লেখক স্বয়ং লিখেছেন ভূমিকায়-
আমি উপন্যাসটি লিখি এবং মানিক স্মৃতি উপন্যাস প্রতিযোগিতায় জমা দিই। ওরা প্রথমে ৩০০ বইয়ের মধ্যে ১০০ বই বাছাই করে, তারপর ১০০ বইয়ের মধ্যে ২৮টা বই বাছাই করে, তারপরে ২৮টা বইয়ের মধ্যে বেছে নেয় ৭টা বই। 'শামুক' এই সাতটি বইয়ের মধ্যেও ছিল তবে প্রতিযোগিতায় কোন পুরস্কার লাভ করেনি। 'পূর্বমেঘ' পত্রিকায় যখন নিয়মিত লেখালেখি শুরু করি তখন উপন্যাসটি একটি মুসলিম কেরানি চরিত্রে রূপান্তর করে পত্রিকায় পাঠাই। 'পূর্বমেঘ'-এ তিন কিস্তিতে প্রকাশিত 'শামুক'-ই এখন বই আকারে বের হচ্ছে প্রকাশকের চাপে।

কথাপ্রকাশের জসিম উদ্দিন আমার প্রথম উপন্যাস ছাপবেনই। কাজেই আমি বাধ্য হয়ে রাজি হয়েছি। আমি এই উপন্যাসটির কোনো রকম সংশোধনে যাইনি। বিস্তৃত করা, সংশোধন বা কাটাকাটি করার জন্য হাত লাগাইনি। কারণ তা করলেই আমি জানি, বর্তমানের আমি এর মধ্যে ঢুকে পড়ব। যদি কাঁচা মনে হয় কাঁচাই মনে হোক, দরকচা মনে হয়, দরকচাই মনে হোক, জায়গায় জায়গায় কাঁচা, জায়গায় জায়গায় পাকা মনে 

---------------------
• হাসান আজিজুল হক:

- হাসান আজিজুল হক মূলত কথাসাহিত্যিক হিসেবে পরিচিত।তিনি ১৯৩৯ সালের ২রা ফেব্রুয়ারি, যবগ্রাম, বর্ধমান, পশ্চিমবঙ্গে জন্মগ্রহণ করেন।
- ১৯৬০ সাল থেকে লেখক হিসেবে নিজেকে তৈরি করার সিদ্ধান্ত নিয়ে সক্রিয় সাহিত্যচর্চার আরম্ভ।
- রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শনশাস্ত্র বিভাগে অধ্যাপনা শেষে তিনি অবসর নিয়েছেন।
- তিনি আদমজি সাহিত্য পুরস্কার, বাংলা একাডেমি পুরস্কার, আলাওল পুরস্কার, অগ্রণী পুরস্কার, আনন্দ পুরস্কার লাভ করেন। তাঁর গল্প ইংরেজি, হিন্দি, উর্দু, রুশ ও চেক ভাষায় অনূদিত হয়েছে।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- সমুদ্রের স্বপ্ন শীতের অরণ্য,
- আত্মজা ও একটি করবী গাছ,
- জীবন ঘষে আগুন,
- নামহীন গোত্রহীন,
- পাতালে হাসপাতালে,
- আমরা অপেক্ষা করছি,
- রোদে যাবো,
- মা-মেয়ের সংসার,
- নির্বাচিত গল্প,
- রাঢ়বঙ্গের গল্প।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- বৃত্তায়ন,
- শিউলি,
- আগুনপাখি,
- সাবিত্রী উপাখ্যান।

তাঁর রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- কথাসাহিত্যের কথকতা,
- অপ্রকাশের ভার,
- অতলের আঁধি,
- ছড়ানো ছিটানো,
- কথা লেখা কথা।
- তাঁর রচিত সম্পাদনা:
- জি.সি. দেব রচনাবলী,
- অসীমান্তিক।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং "শামুক" উপন্যাস হাসান আজিজুল হক।

.
'আগুনের পরশমণি' উপন্যাসের পটভূমি ছিল- 
  1. ভাষা আন্দোলন 
  2. সত্তরের নির্বাচন 
  3. ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান
  4. মুক্তিযুদ্ধ 
সঠিক উত্তর:
মুক্তিযুদ্ধ 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মুক্তিযুদ্ধ 
ব্যাখ্যা

• 'আগুনের পরশমণি' উপন্যাস:
- ১৯৮৬ সালে হুমায়ূন আহমেদ রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস 'আগুনের পরশমণি'।
- 'আগুনের পরশমণি'তে ঢাকায় মুক্তিযুদ্ধে গেরিলা অপারেশনের দুঃসাহসিক বর্ণনা, গেরিলাদের গোপন তৎপরতা, স্বাধীনতা সমর্থনকারী ও বিরোধিতাকারী কিছু চরিত্র উপস্থাপন করে ঔপন্যাসিক হুমায়ূন আহমেদ রচনা করলেন মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস।
- অপরিচিত গেরিলা মুক্তিযোদ্ধা বদিউল আলমকে আশ্রয় দেয় মতিন সাহেব নামে একজন ভদ্রলোক। এভাবেই উপন্যাসটির কাহিনি শুরু হয়েছে।
- বদিউলের সঙ্গে ওই ভদ্রলোকের কন্যার মানবিক দুর্বলতা প্রকাশিত যুদ্ধকালীন পরিবেশে।

হুমায়ূন আহমেদ রচিত অন্যান্য মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস হলো:
- শ্যামল ছায়া,
- জোছনা ও জননীর গল্প,
- অনিল বাগচীর একদিন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১০.
'অশোক সঙ্গীত' কামিনী রায় রচিত কোন ধরনের সাহিত্য রচনা?
  1. সঙ্গীত গ্রন্থ 
  2. সনেট সংগ্রহ
  3. আত্মজীবনী
  4. নাটক 
সঠিক উত্তর:
সনেট সংগ্রহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সনেট সংগ্রহ
ব্যাখ্যা

'অশোক সঙ্গীত' কামিনী রায় রচিত সনেট সংগ্রহ।
- এটি ১৯১৪ সালে প্রকাশিত।

----------------
• কামিনী রায়:
- কামিনী রায় ছিলেন কবি ও সমাজকর্মী। ১৮৬৪ সালের ১২ অক্টোবর বাকেরগঞ্জের বাসন্ডা গ্রামে তাঁর জন্ম।
- তাঁর পিতা চণ্ডীচরণ সেন ছিলেন একজন ঐতিহাসিক উপন্যাস লেখক ও পেশায় বিচারক।
- তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ আলো ও ছায়া প্রকাশিত হয় ১৮৮৯ সালে। হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় এর ভূমিকা লিখে দেন।
- বাংলা সাহিত্যে অসাধারণ অবদানের জন্য তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগত্তারিণী পদক (১৯২৯) লাভ করেন।
- ১৯৩৩ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর তাঁর মৃত্যু হয়।

তাঁর রচিত গ্রন্থগুলো হলো:
- নির্মাল্য,
- পৌরাণিকী,
- গুঞ্জন (শিশুকাব্য),
- ধৰ্ম্মপুত্র (অনুবাদ),
- মাল্য ও নির্মাল্য,
- অশোক সঙ্গীত (সনেট),
- অম্বা (নাটক)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১১.
'শোকার্ত তরবারি' কাব্যগ্রন্থটি কার রচনা?
  1. হুমায়ুন আজাদ
  2. কায়কোবাদ
  3. গোলাম মোস্তফা
  4. হাসান হাফিজুর রহমান
সঠিক উত্তর:
হাসান হাফিজুর রহমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হাসান হাফিজুর রহমান
ব্যাখ্যা

• 'শোকার্ত তরবারি' কাব্যগ্রন্থ ও কবিতা:
- 'শোকার্ত তরবারি' হাসান হাফিজুর রহমান রচিত কাব্যগ্রন্থ।
- হাসান হাফিজুর রহমানের 'শোকার্ত তরবারি' কাব্যের সবগুলো কবিতাতেই মূলত গদ্যছন্দ ব্যবহৃত হয়েছে। হয়তো ছন্দহীন জীবন সময় কে ফুটিয়ে তুলতে কবি গদ্যছন্দের আশ্রয় নিয়েছেন।
- রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট:এই কবিতা ১৯৫২-এর ভাষা আন্দোলন এবং পরবর্তীকালে বাংলাদেশের জাতীয় চেতনা গঠনে এক শক্তিশালী শিল্পরূপ। তরবারি এখানে নিপীড়িত বাঙালি জাতির সংগ্রামের প্রতীক — যারা কাঁদে, কিন্তু শেকল ভাঙতেও জানে।

---------------------
• হাসান হাফিজুর রহমান:
- হাসান হাফিজুর রহমান (১৯৩২ ১৯৮৩) বাংলাদেশের একজন প্রথিতযশা কবি, সাংবাদিক ও সমালোচক ছিলেন।
- ১৯৩২ সালের ১লা জুন জামালপুর শহরে তাঁর জন্ম।
- হাসান হাফিজুর রহমান রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ: বিমুখ প্রান্তর।
 -তাঁর সম্পাদনায় প্রকাশিত ভাষা আন্দোলন নিয়ে প্রথম সংকলন গ্রন্থ "একুশে ফেব্রুয়ারী"। এটি ১৯৫৩ সালে প্রকাশিত হয়।
- তিনি 'বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধঃ দলিলপত্র' সম্পাদনা করেন।

হাসান হাফিজুর রহমান রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- আর্ত শব্দাবলী,
- অন্তিম শহরের মতো,
- যখন উদ্যত সঙ্গীন,
- ভবিতব্যের বাণিজ্য তরী,
- শোকার্ত তরবারি,
- বিমুখ প্রান্তর,
- প্রতিবিম্ব ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; 'শোকার্ত তরবারি' কাব্যগ্রন্থ এবং বাংলাপিডিয়া।

১২.
'শিখা' পত্রিকার সম্পাদনার সাথে যুক্ত ছিলেন কে? 
  1. কাজী মোতাহার হোসেন
  2. হাসান হাফিজুর রহমান
  3. হাসান আজিজুল হক
  4. হুমায়ুন কবির
সঠিক উত্তর:
কাজী মোতাহার হোসেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাজী মোতাহার হোসেন
ব্যাখ্যা

• কাজী মোতাহার হোসেন:
- কাজী মোতাহার হোসেন (১৮৯৭-১৯৮১) ছিলেন একজন শিক্ষাবিদ, বিজ্ঞানী এবং সাহিত্যিক।
- তিনি 'বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলন' এর সাথে যুক্ত ছিলেন।
- কাজী আবদুল ওদুদ, সৈয়দ আবুল হুসেন, আবুল ফজল প্রমুখের সহযোগিতায় ১৯২৬ সালে তিনি 'মুসলিম সাহিত্য সমাজ' প্রতিষ্ঠা করেন।
- কাজী মোতাহার হোসেন অল্প কিছুকাল উক্ত সংগঠনের মুখপত্র 'শিখা' পত্রিকা সম্পাদনা করেন।

তাঁর উলেখযোগ্য প্রকাশনাসমূহ হচ্ছে:
- সঞ্চয়ন,
- নজরুল কাব্য পরিচিত,
- সে পথ লক্ষ্য কর,
- সিম্পোজিয়াম গণিত শাস্ত্রের ইতিহা,
- আলোক বিজ্ঞান।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া। 

১৩.
বাংলা সাহিত্যে 'হুতোমী বাংলা' রীতির প্রবর্তন করেন কে?
  1. চণ্ডীচরণ মুনশী
  2. কালীপ্রসন্ন সিংহ
  3. গিরিশচন্দ্র ঘোষ
  4. প্যারীচাঁদ মিত্র
সঠিক উত্তর:
কালীপ্রসন্ন সিংহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কালীপ্রসন্ন সিংহ
ব্যাখ্যা

• কালীপ্রসন্ন সিংহ:
- তিনি ছিলেন একাধারে সংগঠক, সাংবাদিক, লেখক, সমাজকর্মী।
- বাংলা সাহিত্যে 'হুতোমী বাংলা' রীতির প্রবর্তক কালীপ্রসন্ন সিংহ।
- কালীপ্রসন্ন সিংহ মাত্র তেরো বছর বয়সে 'বিদ্যোৎসাহিনী সভা' প্রতিষ্ঠা করেন।
- বিদ্যোৎসাহিনী সভাতে সদস্যরা প্রতি সপ্তাহে মিলিত হয়ে নিয়মিত প্রবন্ধ উপস্থাপন ও আলোচনা করতেন।

তাঁর রচিত বিখ্যাত দুইটি গ্রন্থ:
• হুতোম প্যাঁচার নকশা:
- হুতোম প্যাঁচার নকশা তাঁর শ্রেষ্ঠ মৌলিক রচনা।
- এতে কলকাতার সামাজিক ব্যঙ্গচিত্র অঙ্কন করা হয়েছে এবং কলকাতার কথ্য ভাষাকে প্রথম সাহিত্যে স্থান দেওয়া হয়েছে।
- বাংলা গদ্যের উন্নয়নে হুতোম প্যাঁচার নকশা মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত।

• সংস্কৃত মহাভারতের গদ্য-অনুবাদ:
- সতেরো খণ্ডে সংস্কৃত মহাভারতের বাংলা গদ্যানুবাদও তাঁর অন্যতম শ্রেষ্ঠ সাহিত্যকীর্তি।
- এটি বাংলা সাহিত্যের একটি অনন্য দৃষ্টান্ত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১৪.
হুমায়ুন আজাদ রচিত কাব্যগ্রন্থ নয় কোনটি?
  1. কাফনে মোড়া অশ্রুবিন্দু
  2. সব কিছু নষ্টদের অধিকারে যাবে
  3. পাক সার জমিন সাদ বাদ
  4. আমি বেঁচে ছিলাম অন্যদের সময়ে,
সঠিক উত্তর:
পাক সার জমিন সাদ বাদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পাক সার জমিন সাদ বাদ
ব্যাখ্যা

• 'পাক সার জমিন সাদ বাদ' উপন্যাস:
- হুমায়ুন আজাদ রচিত উপন্যাস 'পাক সার জমিন সাদ বাদ'। উপন্যাসটি প্রথম বেরোয় দৈনিক ইত্তেফাক- এর ঈদ সংখ্যা ২০০৩-এ। বেরোনোর পর প্রগতিশীলেরা একে অভিনন্দিত করেন, আর মৌলবাদীরা মেতে ওঠে তার বিরুদ্ধে অক্রিমণে-উপন্যাসটিকে নিষিদ্ধ করার দাবি জানায়। পুস্তকারে উপন্যাসটি পরিবর্ধিত হয়েছে।
- হুমায়ুন আজাদ এই উপন্যাসটি উৎসর্গ করেছিলেন '১৯৭১' সালকে; পাকিস্তানের জাতীয় সঙ্গীতের নামানুসারে এই উপন্যাসে বাংলাদেশের স্বাধীনতাবিরোধী শক্তিকে কটাক্ষ করা হয়েছে।

উপন্যাসের পটভূমি-
১৯৬০-এর দশকে বাংলাদেশে ছিল পাকিস্তানের উপনিবেশ। তখন একটি উর্দুগানের নিরন্তর ঝালাপালা হতো আমাদের কান, যার প্রথম পংক্তি ছিলো 'পাক সার জমিন সাদ বাদ'। সামরিক শাসন আর উর্দু জাতীয় সঙ্গীতে বাঙলাদেশ ছিল পীড়িত। ১৯৭১-এ মহান মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে আমরা সৃষ্টি করি একটি স্বাধীন দেশ; বাংলাদেশ। কিন্তু প্রতিক্রিয়াশীল অন্ধকারের শক্তিরাশি আমাদের সামনের দিকে এগোতে দেয়নি, বরং নিয়ে চলছে মধ্যযুগের দিকে; বাংলাদেশকে করে তুলছে একটি অপপাকিস্তান। মৌলবাদ এখন দিকে দিকে হিংস্ররূপ নিয়ে দেখা দিচ্ছে; ত্রাসে ও সন্ত্রাসে দেশকে আতঙ্কিত করে তুলছে। তারই এক ভয়াবহ ও শিল্পিত চিত্র রচিত হয়েছে হুমায়ুন আজাদের পাক সার জমিন সাদ বাদ উপন্যাসে।

উপন্যাসের কাহিনি সংক্ষেপ-
উপন্যাসটির প্রধান নায়ক একটি কাল্পনিক ইসলামপন্থী রাজনৈতিক দলের সদস্য থাকে যে একটি হিন্দু মেয়ের প্রেমে পড়ে উপন্যাসটির শেষের দিকে তাকে বিয়ে করে এবং ইসলামপন্থী রাজনৈতিক দলটি ত্যাগ করে।

--------------------
• হুমায়ুন আজাদ:

- হুমায়ুন আজাদ একজন কবি, ঔপন্যাসিক, গল্পকার, গবেষক, ভাষাবিজ্ঞানী।
- তিনি বিক্রমপুরের রাড়িখালে ১৯৪৭ সালের ২৮ এপ্রিল জন্মগ্রহণ করেন।
- ১৯৭৩ সালে প্রকাশিত হয় তাঁর প্রথম কাব্য অলৌকিক ইস্টিমার।
- ১৯৮৩ সালে প্রকাশিত হয় তাঁর দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ জ্বলো চিতাবাঘ।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- অলৌকিক ইস্টিমার (প্রথম কাব্যগ্রন্থ),
- কাফনে মোড়া অশ্রুবিন্দু,
- জ্বলো চিতাবাঘ,
- সব কিছু নষ্টদের অধিকারে যাবে,
- যতোই গভীরে যায় মধু, যতোই ওপরে যাই নীল,
- আমি বেঁচে ছিলাম অন্যদের সময়ে,
- পেরোনোর কিছু নেই ইত্যাদি।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- ছাপ্পান্ন হাজার বর্গমাইল (প্রথম প্রকাশিত)
- সবকিছু ভেঙে পড়ে,
- মানুষ হিসেবে আমার অপরাধসমূহ,
- রাজনীতিবিদগণ,
- পাক সার জমিন সাদ বাদ,
- একটি খুনের স্বপ্ন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; 'পাক সার জমিন সাদ বাদ' উপন্যাস এবং বাংলাপিডিয়া।

১৫.
"আমাদের দেশে হবে সেই ছেলে কবে,
কথায় না বড় হয়ে কাজে বড় হবে?"- পঙ্‌ক্তিদ্বয়ের রচয়িতা কে?
  1. কাজী নজরুল ইসলাম 
  2. কামিনী রায়
  3. কায়কোবাদ
  4. কুসুমকুমারী দাশ
সঠিক উত্তর:
কুসুমকুমারী দাশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কুসুমকুমারী দাশ
ব্যাখ্যা

• কুসুমকুমারী দাশ:
- তিনি ১৮৮২ সালে বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর আরেকটি পরিচয়, তিনি বাংলা সাহিত্যের অন্যতম উজ্জ্বল কবি জীবনান্দ দাশের মাতা।
- তাঁর গদ্যগ্রন্থের নাম 'পৌরাণিক আখ্যায়িকা।
- শিশুদের জন্যে তিনি 'কবিতা মুকুল' নামে একটি পুস্তিকা রচনা করেন।
- তাঁর কবিতা প্রকাশিত হত 'প্রবাসী', 'ব্রহ্মবাদী', 'মুকুল' প্রভৃতি পত্রিকায়।
- তিনি ১৯৪৮ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

কুসুমকুমারী দাশের বিখ্যাত কবিতা 'আদর্শ ছেলে'। তার রচিত এই কবিতা পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্ত করায় সর্বাধিক পরিচিত।

যার প্রথম দুই চরণ-
"আমাদের দেশে হবে সেই ছেলে কবে,
কথায় না বড় হয়ে কাজে বড় হবে?"

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলা সাহিত্য পাঠ, নবম-দশম শ্রেণি এবং বাংলাপিডিয়া 

১৬.
'সিরাজদ্দৌলা' গিরিশচন্দ্র ঘোষ রচিত একটি-
  1. পৌরাণিক নাটক
  2. ঐতিহাসিক নাটক
  3. কৌতুক নাটক
  4. রোমান্টিক নাটক
সঠিক উত্তর:
ঐতিহাসিক নাটক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঐতিহাসিক নাটক
ব্যাখ্যা

• 'সিরাজদ্দৌলা' নাটক:
- 'সিরাজদ্দৌলা' ঐতিহাসিক নাটকের রচয়িতা গিরিশচন্দ্র ঘোষ।
- নাটকটি ১৯০৫ সালে প্রকাশিত হয়।
- গিরিশচন্দ্র 'সিরাজদ্দৌলা' নাটকে নবাব সিরাজদ্দৌলাকে নবজাগ্রত স্বাদেশিকতার আদর্শ বিগ্রহে পরিণত করেছিলেন।

---------------
গিরিশচন্দ্র ঘোষ রচিত নাটকসমূহ হলো-
• পৌরাণিক নাটক:
- রাবণবধ,
- সীতার বনবাস,
- সীতার বিদ্রোহ,
- লক্ষণ বর্জন,
- রামের বনবাস, 
- সীতাহরণ, 
- পান্ডবের অজ্ঞাতবাস, 
- পাণ্ডব গৌরব। 

• রোমান্টিক নাটক:
- মুকুলমুঞ্জরা, 
- আবু হোসেন, 

• ঐতিহাসিক নাটক:
- সিরাজদ্দৌলা, 
- মীরকাশিম, 
- ছত্রপতি শিবাজী, 
- অশোক। 

• কৌতুক নাটক:
- হীরার ফুল, 
- সপ্তমীতে বিসর্জন, 
- বড়দিনের বখশিশ। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১৭.
জাহানারা ইমাম রচিত মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গ্রন্থ কোনটি?
  1. একাত্তরের ডায়েরি
  2. একাত্তরের ঢাকা
  3. একাত্তরের দিনগুলি
  4. একাত্তর করতলে ছিন্নমাথা
সঠিক উত্তর:
একাত্তরের দিনগুলি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
একাত্তরের দিনগুলি
ব্যাখ্যা

• একাত্তরের দিনগুলি:
- 'একাত্তরের দিনগুলি' বাংলাদেশী কথাসাহিত্যিক জাহানারা ইমাম রচিত মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক গ্রন্থ।
- বইটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৮৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে। তাঁর সর্বাধিক খ্যাতির কারণ দিনপঞ্জিরূপে লেখা তাঁর অনবদ্য গ্রন্থ 'একাত্তরের দিনগুলি'।

- ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকালে তিনি পুত্র রুমী ও স্বামীকে হারান। মুক্তিযুদ্ধের দীর্ঘ নয় মাস কেটেছে তাঁর একদিকে উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা ও ত্রাসের মধ্য দিয়ে; অন্যদিকে মনের মধ্যে ছিল দেশপ্রেম ও স্বাধীনতার স্বপ্ন। সেই দুঃসহ দিনগুলিতে প্রাত্যহিক ঘটনা এবং মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে কাজ করার বৃত্তান্ত লিখেছিলেন তিনি নানা চিরকুটে, ছিন্ন পাতায়, গোপন ভঙ্গি ও সংকেতে।

- ১৯৮৬ সালে গ্রন্থরূপ পাওয়ার পর তা জনমনে বিপুল সাড়া জাগায়। বস্তুত বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক একটি শিহরণমূলক ও মর্মস্পর্শী ঘটনাবৃত্তান্ত হলো 'একাত্তরের দিনগুলি'।

-----------------
• জাহানারা ইমাম:
- জাহানারা ইমাম 'শহীদ জননী' হিসেবে খ্যাত। তিনি ক্র্যাক প্লাটুনের সদস্য শহীদ শফি ইমাম রুমীর মা।
- তিনি ১৯৯২ সালে 'মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়ন ও একাত্তরের ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটি'র আহবায়ক হন।
- জাহানারা ইমাম ১৯৭১-এর স্বাধীনতাবিরোধী চক্রের বিরুদ্ধে গণ-আদালত গড়ে তোলেন।
- কর্ম জীবনে তিনি শিক্ষকতা পেশায় নিযুক্ত ছিলেন।

তাঁর রচিত কয়েকটি গ্রন্থ:
- একাত্তরের দিনগুলি (বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের উপর স্মৃতিচারণমূলক তাঁর অসাধারণ ডায়েরি গ্রন্থ)
- সাতটি তারার ঝিকিমিকি,
- অন্যজীবন,
- বুকের ভিতর আগুন,
- নাটকের অবসান,
- নিঃসঙ্গ পাইন,
- ক্যানসারের সঙ্গে বসবাস,
- প্রবাসের দিনগুলি। 

অন্যদিকে,
- সুফিয়া কামালের স্মৃতিকথামূলক গ্রন্থ 'একাত্তরের ডায়েরি'।
- সেলিনা হোসেনের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রবন্ধ 'একাত্তরের ঢাকা'।
- হাসান আজিজুল হক রচিত মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গ্রন্থ- একাত্তর করতলে ছিন্নমাথা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১৮.
গোলাম মোস্তফা রচিত গদ্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. বিশ্বনবী
  2. রক্তরাগ
  3. বুলবুলিস্তান
  4. বনি আদম
সঠিক উত্তর:
বিশ্বনবী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিশ্বনবী
ব্যাখ্যা

• 'বিশ্বনবী' গদ্যগ্রন্থ:
- 'বিশ্বনবী' গদ্যগ্রন্থের রচয়িতা গোলাম মোস্তফা।
- তাঁর বিশ্বনবী গ্রন্থখানি বেশ জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিল।
- এতে তিনি হযরত মুহাম্মদ (স.) কে ঐতিহাসিক মহামানব হিসেবে মূল্যায়ন করেছেন।

-------------------
• গোলাম মোস্তফা:

- ১৮৯৭ সালে যশোর (বর্তমান ঝিনাইদহ) জেলার শৈলকুপা উপজেলার মনোহরপুর গ্রামে তাঁর জন্ম।
- ১৯৪৯ সালে গঠিত পূর্ববঙ্গ সরকারের ভাষা সংস্কার কমিটির সচিব হিসেবে তিনি কাজ করেন।
- সাহিত্য-সংস্কৃতিতে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি যশোর সংঘ কর্তৃক 'কাব্য সুধাকর' (১৯৫২) এবং পাকিস্তান সরকার কর্তৃক 'সিতারা-ই-ইমতিয়াজ' (১৯৬০) উপাধি লাভ করেন।

• গোলাম মোস্তফা রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- রক্তরাগ,
- খোশরোজ,
- কাব্যকাহিনী,
- গীতি সঞ্চয়ন,
- সাহারা,
- হাসনাহেনা,
- বুলবুলিস্তান,
- বনি আদম ইত্যাদি।

• গোলাম মোস্তফা রচিত রচিত গদ্যগ্রন্থ:
- বিশ্বনবী,
- ইসলাম ও জেহাদ,
- ইসলাম ও কমিউনিজম,
- আমার চিন্তাধারা।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৯.
'তোতা ইতিহাস' গল্পগ্রন্থটি চণ্ডীচরণ মুনশী কোন সাহিত্য থেকে অনুবাদ করেন?
  1. আরবি 
  2. ফারসি
  3. ইরানী 
  4. ফরাসি
সঠিক উত্তর:
ফারসি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফারসি
ব্যাখ্যা

• 'তোতা ইতিহাস':
- চণ্ডীচরণ মুনশী রচিত গ্রন্থ 'তোতা ইতিহাস' একটি গল্পগ্রন্থ। যা বাঙালা গদ্য সাহিত্যের অন্যতম আদি নিদর্শন।
- গ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৮০৫ খ্রিষ্টাব্দে। এটি ফারসি সাহিত্য থেকে অনুবাদকৃত।

-----------------
• চণ্ডীচরণ মুনশী:
- চণ্ডীচরণ মুনশী অষ্টাদশ শতাব্দীতে আবির্ভূত ব্রিটিশ ভারতের একজন।
- তিনি ছিলেন বাঙ্গালী লেখক। তিনি ফোর্ট উইলিয়াম কলেজে বাঙালা ভাষার অন্যতম অধ্যাপক হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

২০.
জর্জ আব্রাহাম গ্রিয়ারসনের সম্পাদনায় প্রকাশিত গ্রন্থ কোনটি? 
  1. পদুমাবৎ
  2. পদ্মাবতী
  3. মধুমালতী 
  4. চন্দ্রাবতী 
সঠিক উত্তর:
পদুমাবৎ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পদুমাবৎ
ব্যাখ্যা

• জর্জ আব্রাহাম গ্রিয়ারসন ১৮৫১ সালের ৭ জানুয়ারি আয়ারল্যান্ডের ডাবলিনে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত একজন প্রাচ্যতত্ত্ববিদ ও ভাষাতাত্ত্বিক।
- সংস্কৃত ভাষাসহ অন্যান্য প্রাচ্যভাষা ও ভাষাতত্ত্বে তাঁর আগ্রহ ছিল।
- হিন্দি কবি মালিক মুহাম্মদ জায়সীর 'পদুমাবৎ' জর্জ আব্রাহাম গ্রিয়ারসন এর সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়।
- হিন্দি কবি মালিক মুহম্মদ জায়সী-এর পদুমাবৎ অবলম্বনে মধ্যযুগের কবি আলাওল 'পদ্মাবতী' কাব্যটি রচনা করেন।

• জর্জ আব্রাহাম গ্রিয়ারসন সম্পাদিত গ্রন্থ:
- The Kashmiri Ramayana
- Comprising the Sriramavataracarita and the Lava-Kusayuddha Caritra of Divakara Prakasa Bhatta. (1930)

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

২১.
'বৃত্রসংহার' হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত কোন ধরনের সাহিত্যকর্ম?
  1. মহাকাব্যবিক উপন্যাস 
  2. কাব্যনাট্য 
  3. মহাকাব্য
  4. ত্রয়ী উপন্যাস
সঠিক উত্তর:
মহাকাব্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মহাকাব্য
ব্যাখ্যা

• 'বৃত্রসংহার' গ্রন্থ:
- হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত মহাকাব্যের নাম 'বৃত্রসংহার'।
- এ মহাকব্যের প্রকাশকাল ১৮৭৫-৭৭ খ্রিষ্টাব্দে। দুই খণ্ডে এটি প্রকাশিত হয়।
- পৌরাণিক কাহিনির নতুন ব্যাখ্যা, ঊনবিংশ শতাব্দীর জীবনজিজ্ঞাসা, অমিত্রাক্ষর ছন্দের ব্যবহার ইত্যাদির ব্যাপারে তিনি ছিলেন মাইকেল মধুসূদন দত্তের 'মেঘনাধবধ কাব্যে'র অনুসারী।
- ঊনবিংশ শতাব্দীতে এই কাব্য ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছিল।

--------------------
• হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়:
- তিনি হুগলির গুলিটা গ্রামে ১৮৩৮ সালে জন্মগ্রহণ করেন।
- কর্মজীবনে হেমচন্দ্র আইনজীবী হিসেবেই প্রতিষ্ঠা লাভ করেন।
- তাঁকে বলা হয় মহাকাব্যের কবি। 'বাংলার মিল্টন' তাঁর উপাধি।

হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় এর রচিত কাব্যগ্রন্থ গুলো হলো-
- বীরবাহু,
- আশাকানন,
- ছায়াময়ী,
- দশমহাবিদ্যা,
- চিত্তবিকাশ,
- চিন্তাতরঙ্গিণী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

২২.
'নজু মিয়া ও আসগর মিয়া' কোন উপন্যাসের অন্তর্ভুক্ত চরিত্র?
  1. পদ্মানদীর মাঝি 
  2. নদী ও নারী
  3. আলালের ঘরের দুলাল
  4. তিতাস একটি নদীর নাম 
সঠিক উত্তর:
নদী ও নারী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নদী ও নারী
ব্যাখ্যা

• 'নদী ও নারী' উপন্যাস:
- 'নদী ও নারী' উপন্যাসের রচয়িতা হুমায়ুন কবির। ১৯৪৫ সালে তাঁর 'নদী ও নারী' উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় এবং একই বছর 'Men and Rivers' নামে এর একটি ইংরেজি সংস্করণও প্রকাশিত হয়।
- এ উপন্যাসের পটভূমিতে রয়েছে চরের মানুষের জীবনালেখ্য।
- নজু মিয়া আর আসগর মিয়া দুই বন্ধু। তাদের জীবনের ঘটনাকে কেন্দ্র করেই আবর্তিত হয়েছে 'নদী ও নারী উপন্যাসের কাহিনি।
- এ উপন্যাসে তিনি পদ্মা নদীর পরিবেশে বাঙালি মুসলমান সমাজজীবনের একটি নিখুঁত চিত্র উপস্থাপন করেছেন।
- ১৯৬৫ সালে ঢাকায় উপন্যাসটি চলচ্চিত্রায়িত হয়।

অন্যদিকে, 
• পদ্মানদীর মাঝি উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্রগুলো হলো- কুবের, কপিলা, মালা, ধনঞ্জয়, গণেশ, শীতলবাবু, হোসেন মিঞা ইত্যাদি।

• 'আলালের ঘরের দুলাল' উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র হলো-  মোকাজান মিয়া বা ঠকচাচা। এছাড়াও উপন্যাসের অন্যান্য চরিত্রে হচ্ছে- বাবুরাম, বাবুরামের পুত্র মতিলাল, ধূর্ত উকিল বটলর, অর্থলোভী বাঞ্ছারাম, তোষামোদকারী বক্রেশ্বর ইত্যাদি।

• 'তিতাস একটি নদীর নাম' উপন্যাসটির কেন্দ্রীয় চরিত্র কোনো মানুষ নয় একটি নদী, নাম 'তিতাস'। উপন্যাসে কিশোর, সুবল, অনন্ত, তিলক, বাসন্তী ও মনমালী চরিত্রের মাধ্যমে লেখক কাহিনী রূপ দিয়েছেন।

----------------
• হুমায়ুন কবির:
- ১৯০৬ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি ফরিদপুর জেলার কোমরপুর গ্রামে তাঁর জন্ম।
- তাঁর প্রকৃত নাম হুমায়ুন জহিরউদ্দিন আমির-ই-কবির।
- তিনি 'চতুরঙ্গ' পত্রিকা সম্পাদনা করে স্মরণীয় হয়ে আছেন।
- ১৯৬৯ সালের ১৮ আগস্ট হৃদরোগে তাঁর মৃত্যু হয়।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- স্বপ্নসাধ,
- সাথী,
- অষ্টাদশী।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- নদী ও নারী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।

২৩.
রফিক আজাদের বিখ্যাত 'ভাত দে হারামজাদা' কবিতাটি কোন কাব্যগ্রন্থে সংকলিত হয়েছে?
  1. চুনিয়া আমার আর্কেডিয়া
  2. কোনো খেদ নেই
  3. হৃদয়ের কী বা দোষ
  4. সীমাবদ্ধ জলে, সীমিত সবুজে
সঠিক উত্তর:
সীমাবদ্ধ জলে, সীমিত সবুজে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সীমাবদ্ধ জলে, সীমিত সবুজে
ব্যাখ্যা

• 'ভাত দে হারামজাদা' কবিতা:
- 'ভাত দে হারামজাদা' রফিক আজাদ রচিত একটি বিখ্যাত কবিতা।
- এ কবিতার একটি বিখ্যাত পঙক্তি হচ্ছে- 'ভাত দে হারামজাদা, তা-না হলে মানচিত্র খাবো'।
- 'ভাত দে হারামজাদা' কবিতাটি 'সীমাবদ্ধ জলে, সীমিত সবুজে' কাব্যগ্রন্থে সংকলিত হয়েছে।

--------------------
• রফিক আজাদ:

- রফিক আজাদ টাঙ্গাইল জেলার জাহিদগঞ্জের গুণীগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- রফিক আজাদের ডাক নাম ছিল 'জীবন'।
- কর্মজীবনে তিনি সাংবাদিকতা, শিক্ষকতা ও সরকারি চাকরিতে নিয়োজিত ছিলেন।
- বাংলা একাডেমি থেকে প্রকাশিত মাসিক সাহিত্য পত্রিকা 'উত্তরাধিকার' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।
- তাঁর বিখ্যাত কবিতা 'ভাত দে হারামজাদা'। এটি 'সীমাবদ্ধ জলে, সীমিত সবুজে' কাব্যগ্রন্থে সংকলিত।
-তিনি ২০১৬ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ:
- চুনিয়া আমার আর্কেডিয়া,
- অসম্ভবের পায়ে,
- কোনো খেদ নেই,
- হৃদয়ের কী বা দোষ,
- সীমাবদ্ধ জলে, সীমিত সবুজে,
- প্রিয় শাড়িগুলো,
- অপর অরণ্যে,
- পরিকীর্ণ পানশালা আমার স্বদেশ,
- করো অশ্রুপাত,
- পাগলা গারদ থেকে প্রেমিকার চিঠি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

২৪.
'সরল বাঙ্গালা সাহিত্য' গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. দীনবন্ধু মিত্র
  2. হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও
  3. দীনেশচন্দ্র সেন
  4. জন ক্লার্ক মার্শম্যান
সঠিক উত্তর:
দীনেশচন্দ্র সেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দীনেশচন্দ্র সেন
ব্যাখ্যা

• 'সরল বাঙ্গালা সাহিত্য' গ্রন্থ:
- দীনেশচন্দ্র সেন 'সরল বাঙ্গালা সাহিত্য' রচনা করেছেন অল্পবয়স্ক ও সাধারণ পাঠকের কথা ভেবে। গল্পের ছলে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের ইতিহাস শেখানোই ছিল তাঁর উদ্দেশ্য।
- এই রচনা তথ্য ভারাক্রান্ত নয়। অনবদ্য সরল ভঙ্গিতে রচিত এই প্রাঞ্জল সাহিত্য-ইতিহাস এক অর্থে বঙ্গদেশের সামাজিক ইতিহাসও।

------------------
• দীনেশচন্দ্র সেন:

- দীনেশচন্দ্র সেন (১৮৬৬-১৯৩৯) শিক্ষাবিদ, গবেষক, লোক-সাহিত্যবিশারদ, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসকার। জন্ম মাতুলালয়ে, ১৮৬৬ সালের ৩ নভেম্বর মানিকগঞ্জ জেলার বগজুরি গ্রামে।

- ১৮৯৬ সালে দীনেশচন্দ্রের পুথিসংগ্রহ, পুথিপাঠ এর সময় তাঁর কর্মজীবনে এবং গবেষণার ক্ষেত্রে একটি নতুন পর্বের সূচনা হয়। তিনি উপাচার্য স্যর আশুতোষ মুখোপাধ্যায়ের আহবানে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হন।

- ১৯২০ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে 'বাংলা ভাষা ও সাহিত্য' নামে একটি নতুন বিভাগ খোলা হলে দীনেশচন্দ্র সেন এ বিভাগের প্রধান নিযুক্ত হন। বারো বছর তিনি যোগ্যতার সঙ্গে বিভাগীয় প্রধানের দায়িত্ব পালন করে ১৯৩২ সালে অবসর নেন।

- সৃজনশীল লেখক হিসেবেও দীনেশচন্দ্র সেন পালন করেন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। বাংলা সাহিত্য বিষয়ে গবেষণামূলক ও ইতিহাসধর্মী গ্রন্থ প্রণয়ন, পৌরাণিক আখ্যান রচনা, লোকসাহিত্য সম্পাদনা ও বাঙালির।
- সাহিত্য ও গবেষণায় অবদানের জন্য দীনেশচন্দ্র সেন ১৯২১ সালে ভারত সরকার কর্তৃক 'রায়বাহাদুর' উপাধি পান।

তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:
- বঙ্গ-সাহিত্য পরিচয় (দুই খণ্ড, সম্পাদনা: ১৯১৪),
- সরল বাঙ্গালা সাহিত্য (১৯২২),
- ঘরের কথা ও যুগসাহিত্য (১৯২২),
- বৃহৎ বঙ্গ (দুই খন্ড, ১৯৩৫),
- আশুতোষ-স্মৃতিকথা (১৯৩৬),
- বাংলার পুরনারী (১৯৩৯),
- প্রাচীন বাঙ্গলা সাহিত্যে মুসলমানের অবদান (১৯৪০)।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

২৫.
দ্বিজেন্দ্রলাল রায় রচিত গীতসংকলন কোনটি?
  1. কল্কি অবতার
  2. আনন্দ-বিদায়
  3. বঙ্গনারী
  4. আর্য্যগাথা
সঠিক উত্তর:
আর্য্যগাথা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আর্য্যগাথা
ব্যাখ্যা

'আর্য্যগাথা' গীতসংকলন:
- দ্বিজেন্দ্রলাল রায় খুব অল্পবয়স থেকেই গান রচনা করতেন এবং নিজেই সুর দিয়ে গাইতেন। বিলেত যাওয়ার আগে মাত্র সতেরো বছর বয়সের মধ্যে লেখা একশো আটটি গান নিয়ে তাঁর প্রথম গীতসংকলন আর্য্যগাথা (প্রথম ভাগ) ১৮৮২ সালে প্রকাশিত হয়।

- কিশোর বয়সে লেখা এ গানগুলিতে প্রকৃতির মনোরম সৌন্দর্য ও লাবণ্য, জগতের শোক-জরাজাত দুঃখাবসন্নতা, ঈশ্বরভক্তি এবং স্বদেশপ্রেম প্রকাশ পেয়েছে।

এ পর্বের একটি গান হলো:
'গগনভূষণ তুমি জনগণমনোহারী!/
কোথা যাও নিশানাথ, হে নীল নভোবিহারী!।'

---------------------
• দ্বিজেন্দ্রলাল রায়:
- দ্বিজেন্দ্রলাল রায় ছিলেন কবি, নাট্যকার, গীতিকার। ১৮৬৩ সালের ১৯ জুলাই পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার কৃষ্ণনগরে তাঁর জন্ম।
- দ্বিজেন্দ্রলাল কৈশোরেই কাব্যচর্চা শুরু করেন। ছাত্রজীবনে তাঁর 'আর্য্যগাথা' (১ম ভাগ, ১৮৮২) এবং বিলেতে থাকাকালে 'Lyrics of Ind' কাব্য প্রকাশিত হয়।
- দ্বিজেন্দ্রলাল ১৯০৫ সালে কলকাতায় 'পূর্ণিমা মিলন' নামে একটি সাহিত্যিক সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন।
- ১৯১৩ সালের ১৭ মে কলকাতায় তাঁর মৃত্যু হয়।

প্রহসন বা লঘু রসাশ্রয়ী নাটক:
- একঘরে,
- কল্কি অবতার,
- বিরহ,
- এ্যহস্পর্শ বা সুখী পরিবার,
- পুনর্জন্ম, 
- আনন্দ-বিদায়। 

তাঁর রচিত সামাজিক নাটক:
- পরপারে,
- বঙ্গনারী।

তাঁর রচিত রোম্যান্টিক পৌরাণিক নাটক:
- চন্দ্রগুপ্ত,
- সিংহল বিজয়।

তাঁর রচিত ঐতিহাসিক নাটক:
- নূরজাহান,
- সাজাহান,
- মেবার পতন,
- চন্দ্রগুপ্ত,
- দুর্গাদাস,
- সিংহল বিজয় ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

২৬.
দাউদ হায়দার কর্তৃক রচিত কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. সবকিছু ভেঙে পড়ে
  2. জন্মই আমার আজন্ম পাপ
  3. ফিরে চাই স্বর্ণগ্রাম
  4. ফিরিয়ে নাও ঘাতক কাঁটা
সঠিক উত্তর:
জন্মই আমার আজন্ম পাপ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জন্মই আমার আজন্ম পাপ
ব্যাখ্যা

'জন্মই আমার আজন্ম পাপ' দাউদ হায়দার কর্তৃক রচিত একটি কাব্যগ্রন্থ।
- "মিছিলে তোমার মুখ, মায়ের চোখে, আমরা যেন খাঁচায় পোষা পাখি, কবিতার এলোমেলো ভেলা" ইত্যাদি এই গ্রন্থের উল্লেখযোগ্যম কবিতা।

------------------
• দাউদ হায়দার:
- দাউদ হায়দার মূলত একজন লেখক।
- ১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি, পাবনার দোহার নামক স্থানে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।

তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ:
- জন্মই আমার আজন্ম পাপ,
- এই শাওনে এই পরবাসে,
- আমি ভাল আছি তুমি,
- পাথরের পুঁথি।

অন্যদিকে, 
• হুমায়ুন আজাদ রচিত উপন্যাস: সবকিছু ভেঙে পড়ে,
• 'ফিরে চাই স্বর্ণগ্রাম' রুদ্র মুহম্মদ শহীদুল্লাহ রচিত কাব্যগ্রন্থ। 
• 'ফিরিয়ে নাও ঘাতক কাঁটা' শামসুর রাহমান রচিত কাব্যগ্রন্থ। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

২৭.
দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার ব্যবহৃত ছদ্মনাম কোনটি?
  1. দৃষ্টিহীন
  2. দিকশূন্য
  3. প্রিয়দর্শী
  4. অল্পদর্শী
সঠিক উত্তর:
দৃষ্টিহীন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দৃষ্টিহীন
ব্যাখ্যা

• দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার ব্যবহৃত ছদ্মনাম- দৃষ্টিহীন। 

অন্যদিকে,
- সৈয়ত মুজতবা আলী তার বিভিন্ন গ্রন্থে তিনটি ছদ্মনাম ব্যবহার করে, এগুলো হলো: প্রিয়দর্শী, মুসাফির ও সত্যপীর।
- 'দিকশূন্য ভট্টাচার্য'- 'রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর' এর ছদ্মনাম।
- আবু জাফর শামসুদ্দিন 'অল্পদর্শী' ছদ্মনামে 'বৈহাসিকের পার্শ্বচিন্তা' শিরোনামে দৈনিক সংবাদ পত্রিকায় কলাম লিখতেন।

---------------------
• দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার:
- বাংলা শিশুসাহিত্যের ধারায় সর্বকালের অন্যতম শ্রেষ্ঠ নাম দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার।
- প্রধানত 'ঠাকুরমার ঝুলি' শীর্ষক অবিস্মরণীয় গ্রন্থের জন্যই বাঙালি পাঠকসমাজে সমধিক পরিচিত তিনি।
- ১৮৭৭ সালের ১৫ এপ্রিল (১২৮৪ বঙ্গাব্দের ২ বৈশাখ) ঢাকা জেলার অন্তর্গত সাভারের উলাইল গ্রামের সম্ভ্রান্ত মিত্র মজুমদার বংশে দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার জন্মগ্রহণ করেন।
- ১৯০১ সালে দক্ষিণারঞ্জনের সম্পাদিত মাসিক 'সুধা' পত্রিকা প্রকাশিত হয়। চার বছর ধরে গোটা বিশেক সংখ্যা প্রকাশিত হয়।
- দক্ষিণারঞ্জনের প্রথম গ্রন্থ 'উত্থান' কাব্য প্রকাশিত হয় ১৯০২ সালে।

তাঁর উল্লাখযোগ্য গ্রন্থ:
- ঠাকুরমার ঝুলি,
- ঠাকুরদাদার ঝুলি,
- দাদা মশায়ের থলে,
- বাংলার সোনার ছেলে ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

২৮.
'সত্যের জন্য বাঁচা, সত্যের জন্য মরা'- বিখ্যাত উপদেশটি কোন চিন্তাবিদের?
  1. জোশুয়া মার্শম্যান
  2. জর্জ আব্রাহাম গ্রিয়ারসন
  3. হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও
  4. জন ক্লার্ক মার্শম্যান
সঠিক উত্তর:
হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও
ব্যাখ্যা

• হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও:
হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও ছিলেন একজন ইউরেশীয় তরুণ কবি, যুক্তিবাদী, চিন্তাবিদ ও শিক্ষক। তিনি মাত্র ১৭ বছর বয়সে হিন্দু কলেজের - শিক্ষক নিযুক্ত হন।

- 'ইয়ংবেঙ্গল' ছিলো ডিরোজিও প্রভাবিত এক তরুণ ছাত্রগোষ্ঠী। 'ইয়ং বেঙ্গল' আন্দোলনের প্রবক্তা ছিলেন হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও।
- ছাত্রদেরকে জ্ঞানানুরাগী হতে এবং যে কোন অন্ধবিশ্বাস পরিত্যাগ করতে দীক্ষা দিয়েছিলেন ডিরোজিও। এ ক্ষেত্রে দৃষ্টান্ত ছিল ইতিহাস আর দর্শন। তাঁর উপদেশ ছিল 'সত্যের জন্য বাঁচা, সত্যের জন্য মরা'।

- 'ইয়ং বেঙ্গলে' ডিরোজিও প্রভাবিত তাঁর প্রিয় ছাত্রগোষ্ঠী ছিলেন: কৃষ্ণমোহ্ন বন্দ্যোপাধ্যায়, রসিককৃষ্ণ মল্লিক, রামগোপাল ঘোষ, রামতনু লাহিড়ী, দক্ষিণারঞ্জন মুখোপাধ্যায়, প্যারীচাঁদ মিত্র, এবং তারাচাঁদ চক্রবর্তী।
- ইউরেশীয় সম্প্রদায়ের কল্যাণ সাধনের কাজেও ডিরোজিও সক্রিয়ভাবে জড়িত ছিলেন এবং ডেইলি দি ইস্ট ইন্ডিয়ান' নামে একটি ইংরেজি দৈনিক সংবাদপত্র সম্পাদনা করতে শুরু করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

২৯.
প্রথম চীনা ভাষায় বাইবেল অনুবাদ করেন কে?
  1. হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও
  2. জোশুয়া মার্শম্যান
  3. দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
  4. জর্জ আব্রাহাম গ্রিয়ারসন
সঠিক উত্তর:
জোশুয়া মার্শম্যান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জোশুয়া মার্শম্যান
ব্যাখ্যা

• জোশুয়া মার্শম্যান:
- জোশুয়া মার্শম্যান ছিলেন পণ্ডিত, প্রাচ্যবিদ্যাবিশারদ, ধর্মতাত্ত্বিক, শ্রীরামপুর মিশনের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা।
- জোশুয়া মার্শম্যান ভারতে সংবাদপত্রের সূচনাকারীদের অন্যতম। তিনি ১৮১৮ সালে প্রথম বাংলা সাপ্তাহিক সমাচার দর্পণ প্রকাশে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। এ ছাড়া তিনি Friends of India নামে একটি মাসিক পত্রিকাও প্রকাশ করেন। পরবর্তীকালে তাঁর পুত্র জন ক্লার্ক মার্শম্যান এটির প্রকাশনা ও সম্পাদনার কাজ চালিয়ে যান।
- ১৮২১ সালে তিনি শিশুদের জন্য ধর্মীয় শিক্ষামূলক গ্রন্থ School Dialogues; or Lessons on the commandments and the way of Salvation প্রকাশ করেন। মার্শম্যান প্রথম চীনা ভাষায় বাইবেল অনুবাদ করেন। এটি ১৮২১ সালে শ্রীরামপর প্রেস থেকে প্রকাশিত হয়। তিনি কিছু খ্রিস্টীয় প্রার্থনা সঙ্গীতও রচনা করেন।

তিনি যেসকল পত্রিকার প্রধান উদ্যোক্তা ছিলেন সেগুল হচ্ছে-
- সমাচার দর্পণ,
- দিগদর্শন,
- ফ্রেন্ড অব ইন্ডিয়া।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৩০.
জন ক্লার্ক মার্শম্যান সম্পাদিত পত্রিকা কোনটি?
  1. সমাচার দর্পণ
  2. গভর্নমেন্ট গেজেট
  3. দিগদর্শন
  4. উপরের সবগুলো
সঠিক উত্তর:
উপরের সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা

• জন ক্লার্ক মার্শম্যান:
- জন ক্লার্ক মার্শম্যান ছিলেন মিশনারি, ইতিহাসবিদ, সাংবাদিক। ১৭৯৪ খ্রিস্টাব্দে ইংল্যান্ডের ব্রিস্টলে তাঁর জন্ম।
- ১৮১৮ সালে মার্শম্যান শ্রীরামপুর কলেজ এর অধ্যক্ষ নিযুক্ত হন।
- এছাড়াও তিনি ১৮৩৩ সালে সরকারের অনুবাদক এবং ১৮৪০ সালে Government Gazette এর সম্পাদকের দায়িত্ব লাভ করেন।

তাঁর সম্পাদিত পত্রিকা:
- দিগদর্শন,
- সমাচার দর্পণ,
- ফ্রেন্ড অব ইন্ডিয়া,
- গভর্নমেন্ট গেজেট।

জন ক্লার্ক মার্শম্যান রচিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:
- ভারতবর্ষের ইতিহাস,
- পুরাবৃত্তের সংক্ষিপ্ত বিবরণ,
- জ্যোতিষ গোলাধ্যায়,
- সদগুণ ও বীর্জের ইতিহাস ঈশপস ফেলস,
- Murray's Grammar,
- Outline of the History of Bengal,
- The History of India,
- How Wars Arrive in India,
- ক্ষেত্রবাগান বিবরণ। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৩১.
খাবারের কৌটায় লোহার উপর সাধারণত কোন ধাতুর ইলেকট্রোপ্লেটিং করা হয়? 
  1. রূপা 
  2. দস্তা
  3. টিন 
  4. ক্রোমিয়াম
সঠিক উত্তর:
টিন 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
টিন 
ব্যাখ্যা

গ্যালভানাইজিং: 
- দৈনন্দিন জীবনের বিভিন্ন কাজে জিংক বা দস্তা ব্যবহার করা হয়, তার মধ্যে অন্যতম হলো গ্যালভানাইজিং। 
- লোহার তৈরি দ্রব্যসামগ্রীর উপর দস্তার পাতলা আস্তরণ দেওয়াকে গ্যালভানাইজেশন বলে। 
- জিংক এর আবরণ লোহাকে বাতাসের অক্সিজেন ও পানি থেকে রক্ষা করে, ফলে মরিচা পড়তে পারে না এবং লোহারও ক্ষতি হয় না। 
- দস্তার পরিবর্তে টিন দিয়েও অনেক সময় আবরণ দিয়ে ধাতব পদার্থকে ক্ষয় হতে রক্ষা করা যায়। 

ইলেকট্রোপ্লেটিং: 
- ইলেকট্রোপ্লেটিং হলো তড়িৎ বিশ্লেষণের সাহায্যে একটি ধাতুর উপর আরেকটি ধাতুর পাতলা আবরণ তৈরির প্রক্রিয়া। 
- এই প্রক্রিয়ায় সাধারনত নিকেল, ক্রোমিয়াম, টিন, সিলভার ও সোনা দিয়ে আবরণ তৈরি করা হয়। 
- এতে একদিকে যেমন ধাতুর ক্ষয় রোধ করা যায়, অন্যদিকে তেমনি বস্তুটি দেখতে আকর্ষণীয় ও চকচকে হয়। 
- খাবারের কৌটা, সাইকেল, এগুলোর ক্ষেত্রে লোহার উপর টিনের ইলেকট্রোপ্লেটিং করা হয়। 

পেইন্টিং: 
- পেইন্টিং বা রং করেও ধাতব পদার্থসমূহের ক্ষয় রোধ করা যায়। 
- বাসার রেফ্রিজারেটর, আলমারি, গাড়ি, স্টিলের আসবাবপত্র এসবেরই ক্ষয় রোধ করা জন্য পেইন্ট দিয়ে রং করা হয়। 
- এই পেইন্ট সময়ের সাথে সাথে নষ্ট হয়ে যেতে পারে, সেক্ষেত্রে যত দ্রুত সম্ভব আবার পেইন্টিং করে নেওয়া ভালো। 

উৎস: বিজ্ঞান, সপ্তম শ্রেণি।

৩২.
আমিষের পরিপাক শেষে কোন যৌগে রূপান্তরিত হয়? 
  1. গ্লুকোজ
  2. অ্যামাইনো অ্যাসিড
  3. ফ্যাট
  4. স্নেহ পদার্থ
সঠিক উত্তর:
অ্যামাইনো অ্যাসিড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অ্যামাইনো অ্যাসিড
ব্যাখ্যা

আমিষ বা প্রোটিন: 
- কার্বন, হাইড্রোজেন, অক্সিজেন এবং নাইট্রোজেন- এই চারটি মৌলের সমন্বয়ে আমিষ তৈরি হয়। 
- শরীরে আমিষ পরিপাক হওয়ার পর সেগুলো অ্যাামাইনো এসিডে পরিণত হয়। 
- মানুষের শরীরে এ পর্যন্ত ২০ ধরনের অ্যামাইনো এসিডের সন্ধান পাওয়া গেছে এবং এই অ্যামাইনো এসিড হচ্ছে আমিষ গঠনের একক। 
- উৎস বিবেচনায় আমিষ দুই প্রকার। 
যথা- 
১। প্রাণিজ আমিষ: 
- প্রাণী থেকে যে আমিষ পাওয়া যায় তা প্রাণিজ আমিষ। 
যেমন: মাছ, মাংস, ডিম, দুধ, ছানা, পনির ইত্যাদি। 
- প্রাণিদেহের গঠনে প্রোটিন অপরিহার্য। 
- দেহ কোষের বেশির ভাগই প্রোটিন দিয়ে তৈরি। 
- দেহের হাড়, পেশি, লোম, পাখির পালক, নখ, পশুর শিং- এগুলো সবই প্রোটিন দিয়ে তৈরি হয়। 
- প্রাণী দেহে শুষ্ক ওজনের প্রায় ৫০% প্রোটিন থাকে। 

২। উদ্ভিজ আমিষ: 
- উদ্ভিদ থেকে যে আমিষ পাওয়া যায় তা উদ্ভিজ্জ আমিষ। 
যেমন: ডাল, শিমের বিচি, মটরশুঁটি,বাদাম ইত্যাদি। 
- উদ্ভিজ্জ খাদ্যের মধ্যে ডাল, সয়াবিন, মটরশুঁটি বীজ এবং ভুট্টার মধ্যে পুষ্টিমূল্য বেশি এমন প্রোটিন পাওয়া যায়।

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৩৩.
রাদারফোর্ডের পরমাণু মডেল কোন বিষয়ের ব্যাখ্যা দিতে ব্যর্থ হয়েছে? 
  1. ইলেকট্রনের অস্তিত্ব
  2. প্রোটনের উপস্থিতি
  3. নিউক্লিয়াসের অস্তিত্ব প্রমাণ
  4. পরমাণুর বর্ণালী ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর:
পরমাণুর বর্ণালী ব্যাখ্যা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পরমাণুর বর্ণালী ব্যাখ্যা
ব্যাখ্যা

পরমাণু মডেল (Atom Model): 
- ১৮৯৭-১৯৩২ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত সময়ের মধ্যে বিভিন্ন বিজ্ঞানী পরমাণুর উপর বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর প্রাপ্ত তথ্য থেকে পরমাণুর গঠন সম্পর্কে যে মতবাদ উপস্থাপন করেন, তা পরমাণু মডেল নামে পরিচিত। 
যেমন- থমসন পরমাণু মডেল, রাদারফোর্ডের পরমাণু মডেল, বোর পরমাণু মডেল ইত্যাদি। 

রাদারফোর্ডের পরমাণু মডেল: 
- পরমাণুতে মৌলিক কণিকাগুলো কিভাবে সজ্জিত আছে সে সম্পর্কে বিজ্ঞানী রাদারফোর্ড একটি মডেল প্রস্তাব করেন যা রাদারফোর্ডের পরমাণু মডেল নামে পরিচিত। 
- তিনি পরমাণুর গঠনকে সৌরজগতের সাথে তুলনা করেন, তাই তাঁর প্রস্তাবিত মডেলকে পরমাণুর সৌর মডেলও বলা হয়। 
- প্রস্তাবগুলো হলো- 
১। পরমাণুর কেন্দ্রস্থলে ক্ষুদ্র পরিসরে ধনাত্মক আধান বিশিষ্ট ভারী কেন্দ্র থাকে এবং এটি পরমাণুর প্রায় সমস্ত ভর বহন করে যার নাম নিউক্লিয়াস কিন্তু আয়তন খুবই নগণ্য। 
২। নিউক্লিয়াসের চারপাশে ঋণাত্মক আধান বিশিষ্ট ইলেকট্রন নির্দিষ্ট কক্ষপথে আবর্তন করে। পরমাণু মোট আধান নিরপেক্ষ, অর্থাৎ নিউক্লিয়াসের ধনাত্মক আধানের সমান সংখ্যক ইলেকট্রন থাকে। 
৩। ইলেকট্রনের ঘূর্ণনকে সূর্যের চারপাশে গ্রহের ঘূর্ণনের সাথে তুলনা করা হয়। ইলেকট্রন ও নিউক্লিয়াসের মধ্যে কেন্দ্রমুখী ও কেন্দ্রবিমুখী বল সমান ও বিপরীতমুখী, যা ইলেকট্রনকে স্থিতিশীলভাবে আবর্তন করতে সাহায্য করে। 

রাদারফোর্ডের পরমাণু মডেলের সীমাবদ্ধতা: 
- রাদারফোর্ডের পরমাণু মডেল পরমাণুতে নিউক্লিয়াস এবং নিউক্লিয়াসের চারিদিকে পরিভ্রমণরত ইলেকট্রনের অস্তিত্ব সম্পর্কে সঠিক নির্দেশনা প্রদান করলেও এর সীমাবদ্ধতার কারণে এটি গ্রহণযোগ্য নয়। 
- রাদারফোর্ডের পরমাণু মডেলের সীমাবদ্ধতা বা ত্রুটিসমূহ নিম্নরূপ- 
১. সৌরমন্ডলের গ্রহগুলো তড়িৎ নিরপেক্ষ। কিন্তু পরমাণুর কক্ষপথে আবর্তনকারী ইলেকট্রনসমূহ ঋণাত্মক চার্জযুক্ত এবং এরা পরস্পরকে বিকর্ষণ করে। 
২। তড়িৎ চুম্বকীয় তত্ত্ব অনুযায়ী, ঘূর্ণায়মান চার্জযুক্ত ইলেকট্রন অবিচ্ছিন্ন শক্তি বিকিরণ করবে। এভাবে শক্তি হারালে ইলেকট্রন নিউক্লিয়াসে পতিত হওয়ার কথা, কিন্তু বাস্তবে তা ঘটে না। 
৩। ইলেকট্রনের কক্ষপথের আকার ও আকৃতি সম্পর্কে কোনো ধারণা মডেলে নেই। 
৪। একাধিক ইলেকট্রন বিশিষ্ট পরমাণুর ক্ষেত্রে ইলেকট্রন কিভাবে পরিভ্রমণ করে তার কোনো উল্লেখ নেই। 
৫। পরমাণুর বর্ণালী সম্পর্কেও কোনো সঠিক ব্যাখ্যা এই মডেলটি দিতে পারেনি। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩৪.
ক্ষারক মূলত কী কাজ করে? 
  1. অক্সিজেন মুক্ত করে
  2. তাপ বৃদ্ধি করে 
  3. এসিডকে প্রশমিত করে 
  4. সবগুলোই 
সঠিক উত্তর:
এসিডকে প্রশমিত করে 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এসিডকে প্রশমিত করে 
ব্যাখ্যা

ক্ষারক: 
- ধাতুর অক্সাইডকে ক্ষারক বলে। 
- ক্ষারক এসিডকে প্রশমিত করে। 

• ক্ষার: 
- ধাতু বা ধাতুর ন্যায় ক্রিয়াশীল যৌগমূলকের যে সব হাইড্রোক্সাইড পানিতে দ্রবণীয় তাদেরকে ক্ষার বলে। 

• তীব্র ক্ষার: 
- যে সব ক্ষার জলীয় দ্রবণে সম্পূর্ণভাবে আয়োনিত হয় তাদেরকে তীব্র ক্ষার বলা হয়। 
যেমন- NaOH, КОН, Ca(OH)2 ইত্যাদি তীব্র ক্ষার। 

• মৃদু ক্ষার: 
- যে সব ক্ষার জলীয় দ্রবণে আংশিক আয়নিত হয় তাদেরকে মৃদু ক্ষার বলা হয়। 
যেমন- NH4OH, Fe(OH)3, Al(OH)3 ইত্যাদি মৃদু ক্ষার। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩৫.
হৃৎপিণ্ড কোন পর্দা দ্বারা আবৃত থাকে? 
  1. মায়োকার্ডিয়াম
  2. এন্ডোকার্ডিয়াম
  3. এপিডার্মিস
  4. পেরিকার্ডিয়াম
সঠিক উত্তর:
পেরিকার্ডিয়াম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পেরিকার্ডিয়াম
ব্যাখ্যা

হৃৎপিণ্ডের গঠন: 
- হৃৎপিণ্ড বক্ষ গহ্বরের বাম দিকে দুই ফুসফুসের মাঝখানে অবস্থিত একটি ত্রিকোণাকার ফাঁপা অঙ্গ। 
- এটি হৃৎপেশি নামক এক বিশেষ ধরনের অনৈচ্ছিক পেশি দ্বারা গঠিত। 
- এটি পেরিকার্ডিয়াম নামক পাতলা পর্দা দ্বারা আবৃত থাকে। 
- হৃৎপিণ্ডের প্রাচীরে তিনটি স্তর থাকে। 
যথা- 
১। বহিঃস্তর বা এপিকার্ডিয়াম: 
- বহিঃস্তর মূলত যোজক কলা দ্বারা গঠিত। 
- এতে বিক্ষিপ্তভাবে চর্বি থাকে। 
- এটি আবরণী কলা দিয়ে আবৃত থাকে। 

২। মধ্যস্তর মায়োকার্ডিয়াম: 
- এটি বহিঃস্তর এবং অন্তঃস্তরের মাঝখানে অবস্থান করে। 
- এটি দৃঢ় অনৈচ্ছিক পেশি দিয়ে গঠিত। 

৩। অন্তঃস্তর এন্ডোকার্ডিয়াম: 
- এটি সব থেকে ভেতরের স্তর। 
- হৃৎপিণ্ডের প্রকোষ্ঠগুলো অন্তঃস্তর দিয়ে আবৃত থাকে। 
- অন্তঃস্তরটি হৃৎপিণ্ডের কপাটিকাগুলোকেও আবৃত করে রাখে। 
- হৃৎপিণ্ডের ভেতরের স্তর ফাঁপা এবং চারটি প্রকোষ্ঠে বিভক্ত। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৩৬.
কোয়ার্টজ অধাতব খনিজ পদার্থ কোন কাজে ব্যবহৃত হয়?
  1. মাটির প্রশমনে 
  2. কাচ ও সিরিজ কাগজে 
  3. লোহা উৎপাদনে 
  4. ঘরবাড়ি নির্মাণে 
সঠিক উত্তর:
কাচ ও সিরিজ কাগজে 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাচ ও সিরিজ কাগজে 
ব্যাখ্যা

খনিজ পদার্থ: 
- পৃথিবীর অধিকাংশই খনিজই মাটি কিংবা শিলা থেকে পাওয়া খনিজ পদার্থ যার বেশির ভাগ খনিজ পদার্থই কঠিন অবস্থায় পাওয়া যায়। 
- এখন পর্যন্ত প্রকৃতিতে প্রায় ২৫০০ রকমের খনিজ পদার্থ পাওয়া গেছে। 
- খনিজ পদার্থ ধাতব কিংবা অধাতব দুটোই হতে পারে। 
যথা- 
১। ধাতব খনিজ পদার্থ: 
• লোহা (Fe), 
• তামা  (Cu), 
• সোনা (Au) এবং 
• রূপা (Ag) ইত্যাদি। 

২। অধাতব খনিজ পদার্থ: 
• কোয়ার্টজ (Quartz), 
• মাইকা (Mica) এবং 
• খনিজ লবণ ইত্যাদি। 

- আবার গ্যাস, কয়লা, পেট্রোল এগুলোকে জৈব খনিজ পদার্থ বলে। 
- মাইকা (Mica) খনিজ পদার্থ বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতিতে বিদ্যুৎ নিরোধক হিসেবে ব্যবহার করা হয়। 
- কোয়ার্টজ (Quartz) খনিজ পদার্থ কাচ, সিরিজ কাগজ, রেডিও বা ঘড়ি তৈরিতে ব্যবহার করা হয়। 
- ম্যাগনেটাইট খনিজ পদার্থ লোহা তৈরিতে ব্যবহার করা হয়। 
- চুনাপাথর খনিজ পদার্থ ঘরবাড়ি তৈরিতে এবং সিমেন্ট, সোডা, গ্লাস, লোহা ও স্টীল উৎপাদনে ব্যবহৃত হয়। এ ছাড়া মাটি এসিডিক হলেও এটি ব্যবহার করে মাটিকে প্রশমন করা হয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৩৭.
বিদ্যুৎ কোষ বা ব্যাটারিতে শক্তির কোন রূপান্তর ঘটে?
  1. রাসায়নিক শক্তি → বিদ্যুৎ শক্তি 
  2. তাপ শক্তি → যান্ত্রিক শক্তি 
  3. যান্ত্রিক শক্তি → তাপ শক্তি 
  4. আলোক শক্তি → রাসায়নিক শক্তি
সঠিক উত্তর:
রাসায়নিক শক্তি → বিদ্যুৎ শক্তি 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাসায়নিক শক্তি → বিদ্যুৎ শক্তি 
ব্যাখ্যা

শক্তির রূপান্তর: 
- মানুষ তার চাহিদা অনুসারে শক্তিকে এক রূপ থেকে অন্য রূপে রূপান্তর করে ব্যবহার করছে। 
- এ মহাবিশ্বে নানা ঘটনা প্রবাহ চলছে শক্তির রূপান্তর আছে বলে। 
- শক্তি একরূপ থেকে একাধিকরূপে রূপান্তর হলেও মহাবিশ্বের মোট শক্তির কোনো পরিবর্তন হচ্ছে না। 
- এক রূপের শক্তিকে রূপান্তর করে যখন অন্য রূপের শক্তিতে রূপান্তর করা হয় তখন একে শক্তির রূপান্তর বলা হয়।
- এখানে কতিপয় শক্তির রূপান্তর বণনা করা হলো-
১। যান্ত্রিক শক্তির রূপান্তর: 
- হাতে হাত ঘষলে তাপ উৎপন্ন হয়, এক্ষেত্রে যান্ত্রিক শক্তি তাপ শক্তিতে রূপান্তর হয়। 
- কলমের খালি মুখে ফুঁ দিলে যান্ত্রিক শক্তি শব্দ শক্তিতে রূপান্তরিত হয়। 
- পানি যখন ভূপৃষ্ট হতে উপরে কোন পাত্রে থাকে তখন তাতে বিভব শক্তি সঞ্চিত থাকে, নিচে প্রবাহিত হবার সময় বিভব শক্তি গতি শক্তিতে রূপান্তরিত হয়। 

২ । রাসায়নিক শক্তির রূপান্তর: 
- খাদ্য এবং জ্বালানি যেমন তেল, গ্যাস, কয়লা ও কাঠ হচ্ছে রাসায়নিক শক্তির আধার। 
- রাসায়নিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে খাদ্যের শক্তি দেহে মুক্ত হয় এবং অন্য শক্তিতে রূপান্তরিত হওয়ার সময় দরকারী কাজ করা যায়। 
- বিদ্যুৎ কোষ বা ব্যাটারিতে রাসায়নিক শক্তি বিদ্যুৎ শক্তিতে রূপান্তর হয়। 
- বিদ্যুৎ শক্তি আবার বাতির ফিলামেন্টে আলোক শক্তি ও তাপ শক্তিতে রূপান্তর হয়। 

৩। তাপ শক্তির রূপান্তর: 
- স্টীম ইঞ্জিনে তাপের সাহায্যে স্টীম উৎপন্ন করে রেলগাড়ি ইত্যাদি চালানো হয়, এখানে তাপ শক্তি যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তর হয়। 
- তড়িৎ প্রবাহের কারণে বাল্বের ফিলামেন্টের মধ্য দিয়ে বাল্বে তাপ শক্তি এবং আলোক শক্তি সৃষ্টি হয়। 

৪। আলোক শক্তির রূপান্তর: 
- হারিকেনের চিমনিতে হাত দিলে গরম অনুভূত হয়, এখানে আলোক শক্তি তাপ শক্তিতে রূপান্তর হচ্ছে। 
- ফটোগ্রাফিক ফিল্মের উপর আলোক সম্পাত করলে রাসায়নিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে আলোকচিত্র তৈরি করা হয়, এখানে আলোকশক্তি রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তর হয়। 

৫। বিদ্যুৎ শক্তির রূপান্তর: 
- বৈদ্যুতিক ইস্ত্রি, হিটার ইত্যাদিতে তড়িৎ শক্তি তাপ শক্তিতে রূপান্তর হয়। 
- বৈদ্যুতিক বাল্বে বিদ্যুৎ শক্তি আলোক শক্তিতে রূপান্তর হয়। 
- টেলিফোন ও রেডিওর গ্রাহক যন্ত্রে বিদ্যুৎ শক্তি শব্দ শক্তিতে রূপান্তর হয়। 
- সঞ্চয়ক কোষে তড়িৎ শক্তি রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তর হয়। 

৬। শব্দ শক্তির রূপান্তর: 
- কারখানার জীবাণু ধ্বংস করা কিংবা ময়লা জামাকাপড় পরিষ্কার করার জন্য শব্দোত্তর তরঙ্গ ব্যবহার করা হয়, এক্ষেত্রে শব্দ শক্তি যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়। 

৭। চৌম্বক শক্তির রূপান্তর: 
- একটি লোহার টুকরোকে দ্রুত ও বারবার চুম্বকন ও বিচুম্বকন করলে তাপ উৎপন্ন হয়, এক্ষেত্রে চৌম্বক শক্তি তাপশক্তিতে রূপান্তর হয়। 

৮। নিউক্লিয় শক্তির রূপান্তর: 
- নিউক্লিয় সাবমেরিনে নিউক্লিয় শক্তিকে যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তর করা হয়। 
- নিউক্লিয় বোমার ধ্বংস লীলা নিউক্লীয় শক্তির রূপান্তর ভিন্ন আর কিছুই নয়। 
- নিউক্লিয় চুল্লীতে নিউক্লীয় শক্তি অন্যান্য শক্তি বিশেষ করে তড়িৎ শক্তিতে রূপান্তর হলে শক্তির চাহিদা অনেকাংশেই পূরণ করে থাকে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩৮.
নিচের কোন মৌলটি বহুরূপতা প্রদর্শন করে?
  1. হাইড্রোজেন
  2. কার্বন
  3. হিলিয়াম 
  4. নাইট্রোজেন
সঠিক উত্তর:
কার্বন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কার্বন
ব্যাখ্যা

বহুরূপতা: 
- প্রকৃতিতে একই মৌলের বিভিন্ন ভৌত রূপে অবস্থান করার প্রবণতাকে বহুরূপতা বলে। 
- কার্বন, ফসফরাস, সিলিকন, সালফার, জার্মেনিয়াম, বোরন, টিন ইত্যাদি মৌল বহুরূপতা প্রদর্শন করে। 
- কার্বনের দানাদার রূপভেদ হলো- গ্রাফাইট ও হীরক।
- অদানাদার রূপভেদ হলো কোক কার্বন, চারকোল, কয়লা ও কার্বন ব্ল্যাক। 
- কার্বনের একটি দানাদার রূপভেদ হলো গ্রাফাইট যা বিদ্যুৎ পরিবহন করতে পারে। 

উৎস: বিজ্ঞান, সপ্তম শ্রেণি।

৩৯.
নিউক্লিয়ার ফিশনে কী ধরনের শক্তি উৎপন্ন হয়?
  1. রাসায়নিক শক্তি 
  2. তড়িৎ শক্তি 
  3. পারমাণবিক শক্তি 
  4. যান্ত্রিক শক্তি
সঠিক উত্তর:
পারমাণবিক শক্তি 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পারমাণবিক শক্তি 
ব্যাখ্যা

নিউক্লিয় ফিশন (Nuclear Fission): 
- কোনো ভারী নিউক্লিয়াসকে (A>230) সঠিক গতির নিউট্রন বা ফোটন দিয়ে আঘাত করে সম্পূর্ণরূপে ভেঙে প্রায় সমান অংশে বিভক্ত করে প্রচণ্ড পারমাণবিক শক্তি উৎপন্ন করার প্রক্রিয়াকে নিউক্লীয় বিভাজন বা নিউক্লিয় ফিশান বলে। 
- ইউরেনিয়ামকে তাপীয় নিউট্রন দিয়ে আঘাত করলে এই ভারী নিউক্লিয়াসটি প্রায় সমান ভাবে দুটি নিউক্লিয়াসে ভেঙ্গে যায়। এর সাথে প্রচুর শক্তি নির্গত করে। 

নিউক্লীয় ফিউশন বা সংযোজন (Nuclear Fusion): 
- একাধিক হালকা নিউক্লিয়াস একসঙ্গে জুড়ে অপেক্ষাকৃত বড়ো এবং ভারী একটি নিউক্লিয়াসে পরিণত হওয়ার ঘটনাকে নিউক্লীয় সংযোজন বলা হয়। 
- নিউক্লীয় সংযোজনকে নিউক্লীয় বিভাজনের বিপরীত ঘটনা বলা যায়। 
- দুটি হাইড্রোজেন নিউক্লিয়াস, অর্থাৎ দুটি প্রোটনের মধ্যে সংযোজনের সম্ভাবনা খুবই কম। 
- নিউক্লীয় সংযোজনের সহজতম উদাহরণ হলো দুটি ডিউটেরন (deuteron)-এর সংযোজন। 
- এছাড়া হাইড্রোজেনের আর একটি আইসোটোপ ট্রিটিয়াম এর নিউক্লিয়াস, অর্থাৎ ট্রাইটন (triton) এর সঙ্গে ডিউটেরনের সংযোজনের সম্ভাবনাও খুব বেশি। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪০.
বক্সাইট খনিজ থেকে কোন ধাতু উত্তোলন করা যায়? 
  1. লেড 
  2. জিংক
  3. আয়রন 
  4. অ্যালুমিনিয়াম
সঠিক উত্তর:
অ্যালুমিনিয়াম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অ্যালুমিনিয়াম
ব্যাখ্যা

খনিজ (Minerals): 
- মাটির উপরিভাগে বা মাটির তলদেশে যেসকল পদার্থ থেকে প্রয়োজনীয় দ্রবাদি যেমন-বিভিন্ন প্রকার ধাতু বা অধাতু ইত্যাদি সংগ্রহ করা হয় তাদেরকে খনিজ বলা হয়। 
- যে অঞ্চল থেকে খনিজ উত্তোলন করা হয় তাকে খনি বলে। 

আকরিক: 
- যে সকল খনিজ থেকে লাভজনকভাবে ধাতু বা অধাতুকে সংগ্রহ বা নিষ্কাশন করা য়ায সে সকল খনিজকে আকরিক বলে। 
যেমন- 
• গ্যালেনা থেকে লাভজনকভাবে লেড ধাতু নিষ্কাশন করা যায়, তাই গ্যালেনাকে লেড ধাতুর আকরিক বা লেড ধাতুর খনিজ বলা হয়। 
বক্সাইট থেকে লাভজনকভাবে অ্যালুমিনিয়াম ধাতু নিষ্কাশন করা যায়, অতএব বক্সাইটকে অ্যালুমিনিয়ামের আকরিক বা খনিজ বলা হয়। কাদামাটি থেকে লাভজনকভাবে অ্যালুমিনিয়াম ধাতু নিষ্কাশন করা যায় না, সেজন্য কাদামাটি শুধু অ্যালুমিনিয়ামের খনিজ কিন্তু আকরিক নয়। 
• আয়রনের সালফাইডকে আয়রন পাইরাইটস বলা হয়, আয়রন পাইরাইটস থেকে আয়রন ধাতু নিষ্কাশন করা যায়। 
অতএব, আকরিক অবশ্যই খনিজ হবে কিন্তু খনিজ হলে সেটা আকরিক নাও হতে পারে। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।

৪১.
রেডক্স বিক্রিয়ায় বিজারণ কীভাবে ঘটে?
  1. নিউট্রন দান করে
  2. প্রোটন দান করে
  3. ইলেকট্রন গ্রহণ করে
  4. ইলেকট্রন দান করে
সঠিক উত্তর:
ইলেকট্রন গ্রহণ করে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইলেকট্রন গ্রহণ করে
ব্যাখ্যা

ইলেকট্রনের স্থানান্তর: 
- রাসায়নিক বিক্রিয়াগুলোকে তাদের প্রকৃতি অনুযায়ী বিভিন্ন শ্রেণিতে ভাগ করা হয়। 
- ইলেকট্রনের স্থানান্তর এক ধরনের রাসায়নিক বিক্রিয়া। 
- এটি মূলত জারণ-বিজারণ বিক্রিয়া। 
- জারণ-বিজারণ বিক্রিয়া এমন একটি শ্রেণি যেখানে জারণ (Oxidation) ও বিজারণ (Reduction) একই সাথে সংঘটিত হয়। প্রচুর সংখ্যক রাসায়নিক বিক্রিয়া ও জৈবিক বিক্রিয়া এ শ্রেণির অর্ন্তভুক্ত। 
- জ্বালানিকে দহন করে শক্তি উৎপাদন, তড়িৎ রাসায়নিক পদ্ধতিতে কস্টিক সোডা ও ক্লোরিন উৎপাদন, ব্যাটারীতে তড়িৎ উৎপাদন, লোহায় মরিচা পড়া, ধাতুর ক্ষয়, তড়িৎ প্রলেপন এ সবই জারণ-বিজারণ বিক্রিয়ার উদাহরণ। 
- জারণ-বিজারণ বিক্রিয়ায় ইলেকট্রনের দান ও গ্রহণ ঘটে, এটি রেডক্স (Redox) বিক্রিয়া হিসেবে পরিচিত। 
- রেডক্স (Redox) শব্দটি বিজারণ বা Reduction এর Red এবং জারণ বা Oxidation এর Ox এর সমন্বয়ে গঠিত। সুতরাং Redox অর্থ জারণ-বিজারণ। 
- বিজারণ প্রক্রিয়ায় ইলেকট্রনের গ্রহণ এবং জারণ প্রক্রিয়ায় ইলেকট্রনের দান ঘটে। 
- জারণ-বিজারণ বিক্রিয়ায় মৌলের জারণ সংখ্যার পরিবর্তন ঘটে। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪২.
কোনটি আবিষ্কারের ফলে ইলেকট্রনিকস জগতে বিপ্লব এসেছে? 
  1. অসিলেটর
  2. ট্রানজিস্টর
  3. রেজিস্টর
  4. টেলিভিশন
সঠিক উত্তর:
ট্রানজিস্টর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ট্রানজিস্টর
ব্যাখ্যা

ট্রানজিস্টরের আবিষ্কার ও এর প্রভাব: 
- ট্রানজিস্টরের আবিষ্কার ইলেকট্রনিকস জগতে বিপ্লব ঘটিয়েছে
- ১৯৪৮ সালে বেল ল্যাবরেটরিতে উইলিয়াম শকলি, জন বার্ডিন এবং ওয়াল্টার ব্রাটেইন প্রথম ব্যবহারিক পয়েন্ট-কন্টাক্ট ট্রানজিস্টর তৈরি করেন।
- ট্রানজিস্টরে তিনটি টার্মিনাল থাকে: এমিটার, বেস, এবং কালেক্টর।
- এটি একটি তিন প্রান্তবিশিষ্ট ডিভাইস।
- ১৯৪৮ সালে আমেরিকায় বেল ল্যাবরেটরীতে এর আবিষ্কার ঘটে।
- আবিষ্কারের পর থেকে ট্রানজিস্টর ইলেকট্রনিক যন্ত্রে একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে।
- বিবর্ধক (Amplifier) হিসেবে এর ব্যবহার সর্বাধিক।
- সাধারণ ট্রানজিস্টরে ইলেকট্রন ও হোল উভয় ধরনের চার্জ বাহক থাকে, তাই এটিকে বাইপোলার ট্রানজিস্টর বলা হয়।
- ইলেকট্রনিক বিবর্ধক ও সুইচ হিসেবে ট্রানজিস্টর ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়।

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি এবং পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪৩.
নিম্নের কোনটি ধাতুর বৈশিষ্ট্য নয়?
  1. উজ্জ্বলতা
  2. আঘাত করলে টুন টুন শব্দ করা 
  3. তাপ ও বিদ্যুৎ পরিবাহিতা
  4. ঘনত্ব কম হওয়া 
সঠিক উত্তর:
ঘনত্ব কম হওয়া 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘনত্ব কম হওয়া 
ব্যাখ্যা

ধাতু-অধাতু: 
- ভূপৃষ্টের উপরিভাগ বিভিন্ন রকম যৌগিক পদার্থ যেমন-সিলিকন ডাই-অক্সাইড (বালি), ক্যালসিয়াম কার্বনেট (চুনাপাথর) ইত্যাদি দুই প্রকার মৌলিক পদার্থ দিয়ে গঠিত। 
যথা- ধাতু ও অধাতু। 
- প্রকৃতিতে প্রায় সকল ধাতু ও অধাতু যৌগিক পদার্থ হিসেবে পাওয়া যায়। তবে কয়লা, সালফার ও অল্প পরিমাণ গোল্ড মৌলিক পদার্থ হিসেবে পাওয়া যায়।
- যে সকল ধাতু ও অধাতু বেশি সক্রিয় তাদের যৌগ বেশি পরিমাণে এবং যে সকল যৌগ কম সক্রিয় তাদের যৌগ কম পরিমাণে প্রকৃতিতে পাওয়া যায়।

ধাতুর বৈশিষ্ট্য: 
ঘাতসহনীয়তা: ধাতুকে পিটিয়ে বিভিন্ন আকার দেওয়া যায়। 
নমনীয়তা: ধাতুকে বাঁকানো যায়। 
উজ্জ্বলতা: ধাতুর আলোক বিচ্ছুরণ বা প্রতিফলন করে বলে এগুলো চকচক করে। 
গলনাঙ্ক ও স্ফুটনাঙ্ক: ধাতুসমূহের গলনাঙ্ক ও স্ফুটনাঙ্ক অত্যন্ত বেশি (তবে পারদ সাধারণ তাপমাত্রায় তরল)। 
ঘনত্ব: অধাতুর চেয়ে ধাতুসমূহের ঘনত্ব বেশি। 
পরিবাহিতা: ধাতুসমূহ তাপ ও বিদ্যুৎ পরিবাহী। 
ধাতব শব্দ: আঘাত করলে ধাতু টুন টুন শব্দ করে। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪৪.
পর্যায় সারণিতে যেকোনো পর্যায়ের বাম থেকে ডানে গেলে অধাতব ধর্ম কেমন হয়?
  1. বৃদ্ধি পায়
  2. হ্রাস পায়
  3. অপরিবর্তিত থাকে
  4. হঠাৎ হ্রাস পায়
সঠিক উত্তর:
বৃদ্ধি পায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বৃদ্ধি পায়
ব্যাখ্যা

ধাতব ধর্ম: 
- যে সকল মৌল চকচকে, আঘাত করলে ধাতব শব্দ করে এবং তাপ ও বিদ্যুৎ পরিবাহী তাদেরকে ধাতু বলে। 
- আধুনিক সংজ্ঞা অনুযায়ী, যে সকল মৌল এক বা একাধিক ইলেকট্রন ত্যাগ করে ধনাত্মক আয়নে পরিণত হয় তাদেরকে ধাতু বলে। 
- ধাতুর ইলেকট্রন ত্যাগের এই ধর্মকে ধাতব ধর্ম বলে। 
- যে মৌলের পরমাণু যত সহজে ইলেকট্রন ত্যাগ করতে পারবে সেই মৌলের ধাতব ধর্ম তত বেশি। 
যেমন- লিথিয়াম (Li) একটি ধাতু কারণ Li একটি ইলেকট্রন ত্যাগ করে Li+ এ পরিণত হয়। 
• Li → Li+ + e- 
- পর্যায় সারণিতে যেকোনো পর্যায়ের বাম থেকে ডানে গেলে ধাতব ধর্ম হ্রাস পায়। 

অধাতব ধর্ম: 
- যে সকল মৌল চকচকে নয়, আঘাত করলে ধাতব শব্দ করে না এবং তাপ ও বিদ্যুৎ পরিবাহী নয় তাদেরকে অধাতু বলে। 
- আধুনিক সংজ্ঞা অনুযায়ী, যে সকল মৌল এক বা একাধিক ইলেকট্রন গ্রহণ করে ঋণাত্মক আয়নে পরিণত হয় তাদেরকে অধাতু বলে। 
- অধাতুর ইলেকট্রন গ্রহণের এই ধর্মকে অধাতব ধর্ম বলে। 
- যে মৌলের পরমাণু যত সহজে ইলেকট্রন গ্রহণ করতে পারবে সেই মৌলের অধাতব ধর্ম তত বেশি। 
যেমন- ক্লোরিন (CI) একটি অধাতু কারণ Cl একটি ইলেকট্রন গ্রহণ করে Cl- এ পরিণত হয়। 
• Cl + e- → Cl- 
- পর্যায় সারণিতে যেকোনো পর্যায়ের বাম থেকে ডানে গেলে অধাতব ধর্ম বৃদ্ধি পায়। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।

৪৫.
খাবারের স্বাদ বৃদ্ধির জন্য কোন লবণ ব্যবহৃত হয় যা ‘টেস্টিং সল্ট’ নামে পরিচিত?
  1. পটাশিয়াম স্টিয়ারেট
  2. সোডিয়াম স্টিয়ারেট 
  3. সোডিয়াম ক্লোরাইড
  4. সোডিয়াম গ্লুটামেট
সঠিক উত্তর:
সোডিয়াম গ্লুটামেট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সোডিয়াম গ্লুটামেট
ব্যাখ্যা

লবণ: 
- লবণ হলো এসিড ও ক্ষারকের বিক্রিয়ায় উৎপন্ন পদার্থ। 
- ক্ষারক ও এসিড পরস্পর বিপরীতধর্মী পদার্থ এবং বিক্রিয়া করে একে অপরকে নিষ্ক্রিয় করে নিরপেক্ষ পদার্থ লবণ ও পানি তৈরি করে। 

লবণের ব্যবহার: 
- সোডিয়াম ক্লোরাইড (NaCl) লবণ খাদ্যের স্বাদ বাড়িয়ে খাওয়ার উপযোগী করে তোলে যা সাধরণ লবণ বা টেবিল লবণ নামেও পরিচিত। তরকারি ছাড়াও আরও অনেক খাবার যেমন- পাউরুটি, আচার, চানাচুর ইত্যাদিতে খাবার লবণ ব্যবহার করা হয়। 
- খাবারের স্বাদ বৃদ্ধি করার জন্য সোডিয়াম গ্লুটামেট লবণ ব্যবহার করা হয় যা 'টেস্টিং সল্ট' নামে পরিচিত। 
- কাপড় কাচার যে সাবান ব্যবহার করা হয় তা মূলত সোডিয়াম স্টিয়ারেট (C17H35COONa) লবণ। 
- আর শেভিং ফোম বা জেলে থাকে পটাশিয়াম স্টিয়ারেট (C17H35COOK) লবণ। 
- কাপড় কাচার সোডা হিসেবে সোডিয়াম কার্বোনেট (Na2CO3) ব্যবহার করা হয় যা একটি লবণ। 
- আবার জীবাণুনাশক হিসেবে তুঁতে (CuSO4.5H2O) বা ফিটকিরি [K2SO4.Al2(SO4)3.24H2O] ব্যবহার করা হয় যা মূলত লবণ। 

কৃষিতে লবণের ব্যবহার: 
- মাটির এসিডিটি নিষ্ক্রিয় করার জন্য যে চুনাপাথর ব্যবহার করা হয়, সেই চুনাপাথর একটি লবণ। 
- আবার মাটির উর্বরতা বৃদ্ধির জন্য যে সার ব্যবহার করা হয়ে থাকে, তাদের বেশির ভাগই হলো লবণ। 
যেমন- অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট (NH4NO3), অ্যামোনিয়াম ফসফেট ((NH4)3PO4), পটাশিয়াম নাইট্রেট (KNO3) ইত্যাদি। 
- তুঁতে বা কপার সালফেট (CuSO4) কৃষিজমিতে ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাস প্রতিরোধে বহুল ব্যবহৃত একটি লবণ। এটি শৈবালের উৎপাদন বন্ধে খুব কার্যকরী। 

শিল্পকারখানায় লবণ: 
- শিল্পকারখানায় নানা কাজে খাবার লবণ অপরিহার্য। 
যেমন- চামড়াশিল্পে চামড়ার ট্যানিং করতে, মাখন ও পনিরের শিল্পোৎপাদনে, কাপড় কাচার সোডা ও খাবার সোডা তৈরি করতে, সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইডের তড়িৎ বিশ্লেষণ ইত্যাদি কাজে খাবার লবণ ব্যবহৃত হয়। 
- বেশ কিছু লবণ যেমন- তুঁতে (CuSO4), মারকিউরিক সালফেট (HgSO4), সিলভার সালফেট (Ag2SO4) শিল্পকারখানায় প্রভাবক হিসেবে ব্যবহৃত হয়। 
- টেক্সটাইল ও রং তৈরির কারখানায় রং ফিক্স করার কাজে লবণ প্রয়োজন হয়। 
- ধাতুর বিশুদ্ধকরণে লবণ লাগে। 
- রাবার প্রস্তুতিতে লবণ ব্যবহার করে রাবারকে (ল্যাটেক্স) রাবার গাছের নির্যাস থেকে আলাদা করা হয়। 
- ওষুধ কারখানায় স্যালাইন এবং অন্যান্য ওষুধেও লবণ ব্যবহৃত হয়। 
- ডিটারজেন্ট তৈরিতেও ফিলার হিসেবে লবণ খুবই প্রয়োজনীয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।