পরীক্ষা আর্কাইভ

প্রাইমারি শিক্ষক নিয়োগ প্রস্তুতি [লং কোর্স]

পরীক্ষাপ্রাইমারি শিক্ষক নিয়োগ প্রস্তুতি [লং কোর্স]তারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়11 minutes
মোট প্রশ্ন১১
সিলেবাস
পরীক্ষা - ৩১: বাংলা টপিক: প্রাচীন ও মধ্যযুগের সাহিত্যকর্ম, সাহিত্যের শ্রেণি। উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, মাধ্যমিক সাহিত্যপাঠ বই (NCTB ও উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়), বাংলাপিডিয়া ও যেকোনো ভালো গাইড বই।
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

প্রাইমারি শিক্ষক নিয়োগ প্রস্তুতি [লং কোর্স]

প্রাইমারি শিক্ষক নিয়োগ প্রস্তুতি [লং কোর্স] · তারিখ অনির্ধারিত · ১১ প্রশ্ন

.
চর্যাপদের আবিষ্কারক কে?
  1. ক) লুইপা
  2. খ) হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
  3. গ) রামমোহন রায়
  4. ঘ) বসন্তরঞ্জন রায়
সঠিক উত্তর:
খ) হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
ব্যাখ্যা
• হরপ্রসাদ শাস্ত্রী নেপালের রয়েল লাইব্রেরি থেকে, ১৯০৭ সালে চর্যাপদ আবিষ্কার করেন।
- হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ‘মহামহোপাধ্যায়’ উপাধি প্রাপ্ত হন।
- ১৯১৬ খ্রিষ্টাব্দে (১৩২৩ বঙ্গাব্দ) কলকাতার বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ থেকে চর্যাপদ আধুনিক লিপিতে প্রকাশিত হয়।
- এর সম্পাদনা করেন মহামহোনপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
.
বল্মীকির ‘রামায়ণ’ প্রথম বাংলায় অনুবাদ করেন কে?
  1. ক) কৃত্তিবাস ওঝা
  2. খ) কবি কঙ্ক
  3. গ) গোবিন্দদাস
  4. ঘ) কানাহরি দত্ত
সঠিক উত্তর:
ক) কৃত্তিবাস ওঝা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) কৃত্তিবাস ওঝা
ব্যাখ্যা
- কবি বাল্মীকি রচিত রামায়ণ সংস্কৃত ভাষার কাব্য। বাল্মীকি আগে রত্নাকার নামে দস্যুবৃত্তি করতেন।
- বল্মীকির ‘রামায়ণ’ প্রথম বাংলায় অনুবাদ করেন চৈতন্যপূর্ব যুগের কবি কৃত্তিবাস ওঝা
- কৃত্তিদাস ওঝা রামায়ণের শ্রেষ্ঠ অনুবাদক। তাঁর রচিত রামায়ণের অন্যনাম ‘শ্রীরাম-পাঁচালি’
- তাঁর বাংলায় অনুবাদ কৃত রামায়ণ টি এতোটাই জনপ্রিয়তা অর্জন করে যে, ১৮০২-০৩ খ্রিষ্টাব্দে শ্রীরামপুরের পাদ্রিরা তাদের নব প্রতিষ্ঠিত প্রেসে গ্রন্থটি মুদ্রণ করেন।


উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
.
কাকে মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের মানব-রসের প্রথম ও একমাত্র স্রষ্টা বলা হয়?
  1. ক) দ্বিজ বংশীদাস
  2. খ) বড়ু চণ্ডীদাস
  3. গ) মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
  4. ঘ) মানিক দত্ত
সঠিক উত্তর:
গ) মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
ব্যাখ্যা
- মুকুন্দরাম চক্রবর্তী মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের মানব-রসের প্রথম ও একমাত্র স্রষ্টা।
- চণ্ডীমঙ্গলের প্রধান কবি হলেন মুকুন্দরাম চক্রবর্তী। তিনি ষোল শতকের কবি।
- মেদিনীপুরের রাজা রঘুনাথ রায়ের অনুরোধে তিনি চণ্ডীমঙ্গল কাব্য লেখেন।
- গণজীবনের করুণ চিত্র তাঁর কাব্যে তুলে ধরেন।
- কবির প্রতিভার স্বকৃতিস্বরূপ রাজা রঘুনাথ তাকে কবিকঙ্কন উপাধি প্রদান করেন।
- তাঁকে দুঃখ বর্ণনার কবি বলা হয়।


উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
.
চর্যাপদে কয়টি প্রবাদ বাক্য রয়েছে?
  1. ক) ৪টি
  2. খ) ৫টি
  3. গ) ৬টি
  4. ঘ) ৭টি
সঠিক উত্তর:
গ) ৬টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ৬টি
ব্যাখ্যা
• চর্যাপদে প্রবাদ বাক্য রয়েছে ৬টি। এগুলো হলো:
- আপণা মাংসেঁ হরিণা বৈরী ( ভুসুকুপা, ৬ নং পদ)।
- দুহিলা দুধু কি বেন্টে সামায় (ঢেণ্ডণপা, ৩৩ নং পদ)।
- হাতের কাঙ্কণ মা লোউ দাপন (সরহপা, ৩২ নং পদ)।
- হাড়িতে ভাত নাহি নিতি আবেশী ( ঢেণ্ডণপা,৩৩ নং পদ)।
- বর সুন গোহালী কি মো দুঠ্য বলংদেঁ (সরহপা,৩৯ নং পদ)।
- আন চাহন্তে আন বিনধা (কাঙ্কণপা, ৪৪ নং পদ)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞেসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
.
মর্সিয়া সাহিত্যের আদি কবি কে?
  1. ক) আবদুল হাকিম
  2. খ) শেখ ফয়জুল্লাহ
  3. গ) আলাওল
  4. ঘ) দৌলত কাজী
সঠিক উত্তর:
খ) শেখ ফয়জুল্লাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) শেখ ফয়জুল্লাহ
ব্যাখ্যা
-  মর্সিয়া সাহিত্যের আদি কবি বলা হয় শেখ ফয়জুল্লাহকে
- কারবালা ও ইসলামি বিয়োগান্তক কাহিনি নিয়ে মূলত মুসলমানদের রচিত সাহিত্যই মর্সিয়া সাহিত্য।
- শেখ ফয়জুল্লাহ রচিত মর্সিয়া সাহিত্যের গ্রন্থের নাম জয়নালের চৌতিশা। গ্রন্থটি ১৫৭০ সালে রচনা করা হয়।
- মর্সিয়া সাহিত্যের হিন্দু কবি রাধারমণ গোপ। তাঁর রচিত গ্রন্থ সমূহ হচ্ছে ‘ইমামগণের কেচ্ছা' ‘আফনামা’।
- ‘মুক্তল হোসেন’ মুহম্মদ খান রচিত পারসি থেকে অনূদিত (১৬৪৫) বাংলা মর্সিয়া সাহিত্যগ্রন্থ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড সৌমিত্র শেখর।
.
মঙ্গলকাব্যের প্রধান শাখা কয়টি?
  1. ক) ২টি
  2. খ) ৩টি
  3. গ) ৪টি
  4. ঘ) ৫টি
সঠিক উত্তর:
খ) ৩টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ৩টি
ব্যাখ্যা
- মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের প্রথম ও নিজস্ব কাহিনীকাব্য / উপ্যনাস মঙ্গলকাব্য হচ্ছে দেবদেবীর মাহাত্ন্য নির্ভর কাব্য।
- এই কাব্য রচনার মূল উল্লেখিত কারণ, প্রায় সব কবিই স্বপ্নে দেবতাদের নির্দেশ পেয়ে রচনা করেছেন।
- মঙ্গলকাব্যের প্রধান দেবতারা হচ্ছেন - মনসা, চন্ডী ও ধর্মঠাকুর।
- এর প্রধান শাখা ৩টি— মনসামঙ্গল, চন্ডীমঙ্গল ও ধর্মমঙ্গল।
- একটি সার্থক মঙ্গলকাব্যে ৫টি অংশ থাকে — বন্দনা, আত্নপরিচয়, দেবখন্ড, মর্ত্যখন্ড এবং শ্রুতিফল।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
.
মধ্যযুগের রচিত বাংলা ভাষার প্রথম কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. ক) মঙ্গলকাব্য
  2. খ) শ্রীকৃষ্ণকীর্তন
  3. গ) পদ্মাবতী
  4. ঘ) লায়লী মজনু
সঠিক উত্তর:
খ) শ্রীকৃষ্ণকীর্তন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) শ্রীকৃষ্ণকীর্তন
ব্যাখ্যা
• শ্রী বসন্তরঞ্জন রায় ১৩১৬ বঙ্গাব্দে (১৯০৯ খ্রিস্টাব্দ) পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়া জেলার বনবিষ্ণুপুরের কাকিল্যা গ্রামের দেবেন্দ্রনাথ মুখ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির গোয়ালঘর থেকে শ্রীকৃষ্ণকীর্তন পুঁথি আবিষ্কার করেন।
- এটি মধ্যযুগের বাংলা ভাষায় রচিত কোনো লেখকের প্রথম একক কাব্যগ্রন্থ যেখানে রাধা কৃষ্ণ কাব্যের আড়ালে ঈশ্বরের প্রতি জীবকুলের আকুলতা প্রকাশিত।
- শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যের রচয়িতা বড়ু চন্ডীদাস।
- এই কাব্যের প্রধান চরিত্র রাধা, কৃষ্ণ এবং বড়ায়ি।
- এটি ১৩ খন্ডের কাব্য।
- মোট ১৩ খন্ডে ৪১৮টি পদে এটি বিন্যস্ত।
খন্ডগুলি হচ্ছে -
- জন্মখন্ড, তাম্বূল খন্ড, দানখন্ড, নৌকাখন্ড, ভারখন্ড, ছত্রখন্ড, বৃন্দাবন খন্ড, কালীয়দমন খন্ড, যমুনা খন্ড, হারখন্ড, বাণখন্ড, বংশীখন্ড ও বিরহখন্ড।

উৎস: বাংলা ভাষা ও জিজ্ঞাসা ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
.
ব্রজবুলি ভাষার প্রবর্তক কে?
  1. ক) চণ্ডীদাস
  2. খ) আলাওল
  3. গ) গোবিন্দ দাস
  4. ঘ) বিদ্যাপতি
সঠিক উত্তর:
ঘ) বিদ্যাপতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) বিদ্যাপতি
ব্যাখ্যা
- ব্রজবুলি মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের দ্বিতীয় কাব্যভাষা বা উপভাষা
- মিথিলার কবি বিদ্যাপতি (আনু. ১৩৭৪-১৪৬০) এর উদ্ভাবক।
- তিনি মৈথিলী ভাষার সঙ্গে বাংলা ভাষার মিশ্রণে এই কৃত্রিম সাহিত্যিক ভাষা উদ্ভাবন করেন।
- বৈষ্ণব পদাবলির অধিকাংশই রচিত হয়েছে 'ব্রজবুলি' নামে এক কৃত্রিম মিশ্র ভাষায়।
- ষোল শতকের বাঙালি বৈষ্ণব কবিরা বিদ্যাপতির পদের ভাষা ও ছন্দের অনুকরণে রাধাকৃষ্ণবিষয়ক পদ রচনা করতে শুরু করেন।
- হিন্দু-মুসলিম নির্বিশেষে সকল বৈষ্ণব কবি এ ভাষায় বহু পদ রচনা করেন। এই ধারা উনিশ শতক পর্যন্ত চলেছিল।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর ভানুসিংহ ঠাকুরের পদাবলী রচনা করেছেন এ ভাষায়।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক এবং বাংলাপিডিয়া।
.
‘মৈথিল কোকিল’ বলা হয় কাকে?
  1. ক) বড়ু চণ্ডীদাস
  2. খ) বিজয় গুপ্ত
  3. গ) কবি কঙ্ক
  4. ঘ) বিদ্যাপতি
সঠিক উত্তর:
ঘ) বিদ্যাপতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) বিদ্যাপতি
ব্যাখ্যা
- ‘মৈথিল কোকিল’ বলতে মিথিলার কবি বিদ্যাপতিকে বোঝায়।
- কোকিল যেমন সুললিত সুমধুর গান গেয়ে সকলকে মুগ্ধ করে, মিথিলার রাজসভার কবি বিদ্যাপতিও মৈথিলি ভাষায় সুন্দর পদাবলি ও অন্যান্য গীতিকবিতা রচনা করে সকলকে মুগ্ধ করেছেন বলে তাঁকে ‘মৈথিল কোকিল’ বলা হয়।
- তিনি ছিলেন বৈষ্ণব কবি এবং পদসঙ্গীত ধারার রূপকার।
- তাঁর শ্রেষ্ঠ কীর্তি হচ্ছে ব্রজবুলিতে রচিত রাধাকৃষ্ণ বিষয়ক পদ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১০.
মুহাম্মদ শহীদুল্লাহর মতে ‘চর্যাপদে’র পদ সংখ্যা-
  1. ক) ৪৬টি
  2. খ) ৪৭টি
  3. গ) ৫০টি
  4. ঘ) ৫২টি
সঠিক উত্তর:
গ) ৫০টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ৫০টি
ব্যাখ্যা
• বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন যুগের একমাত্র নিদর্শনের নাম চর্যাপদ
- চর্যাপদ হচ্ছে গানের সংকলন।
- চর্যাপদের বিষয়বস্তু বৌদ্ধ ধর্ম মতে সাধনভজনের তত্ত্ব প্রকাশ।
- চর্যাপদ রচনা করেন বৌদ্ধ সহজিয়াগণ। সহজিয়াগণ হচেছ বৌদ্ধ সহজযান পন্থি।
- চর্যাপদের পদ সংখ্যা নিয়ে মতাবিরোধ আছে। সুকুমার সেনের হিসাবে ৫১টি পদ এবং মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ্ বলেছেন ৫০টি পদ। চর্যাপদ ছিন্নবস্থায় পাওয়া যাওয়ায় এই মতান্তরের সৃষ্টি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১১.
মধ্যযুগের সাহিত্যের প্রধান বৈশিষ্ট্য-
  1. ক) ধর্মকেন্দ্রিকতা
  2. খ) মানবতা
  3. গ) দেশপ্রেম
  4. ঘ) লৌকিকতা
সঠিক উত্তর:
ক) ধর্মকেন্দ্রিকতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ধর্মকেন্দ্রিকতা
ব্যাখ্যা
• মধ্যযুগের প্রধান বৈশিষ্ট্য ছিল ধর্মকেন্দ্রিকতা
বাংলা সাহিত্যকে প্রধানত তিনটি যুগে বা পর্যায়ে ভাগ করা হয়। যথা :
১. প্রাচীন যুগ
২. মধ্যযুগ
৩. আধুনিক যুগ

• বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন যুগে ব্যক্তি ও সমষ্টিজীবনই প্রধান ছিল।
• বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগে ধর্মটাই মুখ্য ছিল, মানুষ হয়ে পড়ে গৌণ।
• আর আধুনিক যুগে মানুষ মুখ্যহয় এবং মানবতায় একমাত্র কাম্য হয়ে ওঠে। সে সঙ্গে যোগ হয় অন্ধবিশ্বাসের বদলে যুক্তিশীলতা। স্বাজাত্যবোধ, স্বদেশপ্রেম, ব্যক্তিস্বাধীনতা বিশেষ করে নারী-স্বাধীনতা আধুনিক যুগের অন্যতম বৈশিষ্ট।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।