ক্রান্তিয় আদ্র পাতাঝরা বন (শাল বন):
অবস্থান: এ বন মূলত গাজীপুর, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ ও শেরপুর জেলায় অবস্থিত। তাছাড়া দেশের উত্তরাঞ্চলের দিনাজপুর, রংপুর, নওগাঁ, ঠাকুরগাঁও ও পঞ্চগড় জেলায় অল্প কিছু শাল বন রয়েছে।
পরিমাণ: প্রায় ১,২০,০০০ হেক্টর যা দেশের আয়তনের ০.৮১% এবং বন অধিদপ্তর নিয়ন্ত্রিত বনভূমির ৭.৫%।
উদ্ভিদ প্রজাতি: এ বনের মূল প্রজাতি শাল যা অনেকেই গজারী বলে জানেন। শুষ্ক মৌসুমে (ফেব্রুয়ারি-মার্চ) শাল গাছের পাতা ঝরে যায় বলে একে পত্রঝরা বনও বলা হয়। এ ছাড়া রয়েছে হরিতকি, বহেরা, কড়ই, শিমুল, অর্জুন ইত্যাদি প্রজাতির বৃক্ষ।
বন্যপ্রাণী: এ বনের উল্লেখযোগ্য বন্যপ্রাণীর মধ্যে রয়েছে মেছোবাঘ, বনবিড়াল, বানর, শিয়াল, বেজি, হনুমান, সজারু, ঈগল, কাঠবিড়ালী, সাপ, ধলাকোমর শামা, লাল বন মুরগী, সবুজঠোঁট মালকোয়া, তিলা-নাগঈগল.
সূত্র: বন অধিদপ্তর
===========================
বাংলাপিডিয়ার তথ্য অনুসারে -
বাংলাদেশে মোট শালবন এলাকা প্রায় ১,২১,০০০ হেক্টর অর্থাৎ দেশের বনভূমির শতকরা প্রায় ৩২ ভাগ। মোটামুটি ব্যাপক হলেও শালবন দেশের মাত্র কয়েকটি জেলায় বিক্ষিপ্তভাবে ছড়ানো। বেশির ভাগ বনাঞ্চল রয়েছে গাজীপুর, টাঙ্গাইল ও ময়মনসিংহ জেলায়। এ বনাঞ্চল ভাওয়ালের গড় ও মধুপুরের গড় নামে পরিচিত। বৃহত্তর ময়মনসিংহ ও টাঙ্গাইলের শালবন এলাকা সবচেয়ে বড়, ব্রহ্মপুত্র এবং যমুনা নদীর মাঝে উত্তর-দক্ষিণে বিস্তৃত এ বনভূমির দৈর্ঘ্য প্রায় ৯৬ কিমি এবং চওড়া ৮ থেকে ২৪ কিমি। ‘মধুপুর গড়’ নামেই এটি সুপরিচিত।
এছাড়া কুমিাল্লা জেলায় এবং দেশের উত্তর অঞ্চলের দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও, রংপুর এবং রাজশাহী জেলাতেও বিক্ষিপ্তভাবে শালবন বিদ্যমান।
==========================
অন্যদিকে, বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় অনুসারে -
• মধুপুর ও ভাওয়ালের বনভূমি: ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল ও গাজীপুর জেলার বনভূমি এর অন্তর্ভুক্ত।
এ বনভূমির প্রধান বৃক্ষ গজারী হওয়ায় এটি গজারী বৃক্ষের বনভূমি হিসেবে পরিচিত।
এর আয়তন প্রায় ৮৭৫ বর্গকিলোমিটার।
• রংপুর ও দিনাজপুর অঞ্চলের বনভূমি: রংপুর ও দিনাজপুর জেলার প্লাইস্টোসিনকালের সোপানসমূহে এ বনভূমি
অবস্থিত। এখানকার প্রধান বৃক্ষ শাল। এজন্য এটি শাল বৃক্ষের বনভূমি হিসেবে পরিচিত। এ বনভূমির আয়তন প্রায় ৩৯ বর্গকিলোমিটার।
=========================
আমরা বাংলাপিডিয়া ও বন অধিদপ্তরের তথ্য অনুসারে সঠিক উত্তর হিসেবে মধুপুর ও ভাওয়ালের বনভূমি ধরে নিয়েছি।
উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের বইয়ে ভুল থাকতে পারে।