পরীক্ষা আর্কাইভ

প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ প্রস্তুতি (আর্কাইভ)

পরীক্ষাপ্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ প্রস্তুতি (আর্কাইভ)তারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়07 minutes
মোট প্রশ্ন১২
সিলেবাস
পরীক্ষা – ২ টপিক: সন্ধি ও সমাস [লাইভ ক্লাস – ৩, ৪ ও ৫]
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ প্রস্তুতি (আর্কাইভ)

প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ প্রস্তুতি (আর্কাইভ) · তারিখ অনির্ধারিত · ১২ প্রশ্ন

.
‘আ + ঈ = এ’ নিয়মে গঠিত শব্দ কোনটি?
  1. মহেশ
  2. শুভেচ্ছা
  3. যথেষ্ট
  4. পরমেশ
সঠিক উত্তর:
মহেশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মহেশ
ব্যাখ্যা
• অ-কার কিংবা আ-কারের পর ই-কার কিংবা ঈ-কার থাকলে উভয় মিলে এ-কার হয়; এ-কার পূর্ববর্তী ব্যঞ্জনের সঙ্গে যুক্ত হয়।
যেমন: 
অ + ই = এ; শুভ + ইচ্ছা = শুভেচ্ছা।
আ + ই = এ; যথা + ইষ্ট = যথেষ্ট। 
অ + ঈ = এ; পরম + ঈশ= পরমেশ।
আ + ঈ = এ; মহা + ঈশ = মহেশ।  

এরূপ- পূর্ণেন্দু, রমেশ. নরেন্দ্র, নরেশ, স্বেচ্ছা, শ্রবণেন্দ্রিয় ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
.
‘সিংহাসন’ শব্দের সঠিক ব্যাসবাক্য কোনটি?
  1. সিংহের আসান
  2. সিংহ আসন যার
  3. সিংহের আসন যা
  4. সিংহ চিহ্নিত আসন
সঠিক উত্তর:
সিংহ চিহ্নিত আসন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সিংহ চিহ্নিত আসন
ব্যাখ্যা
• কর্মধারয় সমাস:
যেখানে বিশেষণ বা বিশেষণভাবাপন্ন পদের সাথে বিশেষ্য বা বিশেষ্যভাবাপন্ন পদের সমাস হয় এবং পরপদের অর্থই প্রধান রূপে প্রতীয়মান হয়, তাকে কর্মধারয় সমাস বলে।

• মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস:
যে কর্মধারয় সমাসে ব্যাসবাক্যের মাঝের পদ লোপ হয়, তাকে মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস বলে।
যেমন:
- সিংহ চিহ্নিত আসন = সিংহাসন;
- হাসি মাখা মুখ = হাসিমুখ;
- ঝাল মিশ্রিত মুড়ি = ঝালমুড়ি;
- প্রাণ যাওয়ার ভয় = প্রাণভয়;
- স্মৃতি রক্ষার্থে সৌধ = স্মৃতিসৌধ।

এরূপ, সাহিত্যসভা, গোবর গণেশ, সংবাদপত্র ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
.
নিচের কোন সন্ধি বিচ্ছেদটি শুদ্ধ নয়?
  1. সদা + এব = সদৈব
  2. জন + ঐক = জনৈক
  3. মহা + ঐশ্বর্য = মহৈশ্বর্য
  4. মত + ঐক্য = মতৈক্য
সঠিক উত্তর:
জন + ঐক = জনৈক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জন + ঐক = জনৈক
ব্যাখ্যা
অশুদ্ধ: জন + ঐক = জনৈক।
শুদ্ধরূপ: অ + এ = ঐ; জন + এক = জনৈক। 

⇒ অ-কার কিংবা আ-কারের পর এ-কার কিংবা ঐ-কার থাকলে উভয় মিলে ঐ-কার হয়; ঐ-কার পূর্ববর্তী ব্যঞ্জনের সাথে যুক্ত হয়।
যেমন:
- অ + এ = ঐ; মত+ঐক্য = মতৈক্য।
- অ + এ = ঐ; জন + এক = জনৈক।
- আ + এ =ঐ; সদা + এব = সদৈব।
- আ + ঐ = ঐ; মহা + ঐশ্বর্য = মহৈশ্বর্য।

এরূপ- সর্বৈব, হিতৈষী, অতুলৈশ্বর্য ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
.
ব্যঞ্জনসন্ধির নিয়মে সাধিত শব্দ কোনটি?
  1. সতীন্দ্র
  2. বহূর্ধ্ব
  3. নদ্যম্বু
  4. উচ্ছেদ
সঠিক উত্তর:
উচ্ছেদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উচ্ছেদ
ব্যাখ্যা

ব্যঞ্জনধ্বনির সাথে ব্যঞ্জনধ্বনি যোগে গঠিত ব্যঞ্জনসন্ধির নিয়ম-

⇒ ত্ ও দ্-এর পর চ্ ও ছ্ থাকলে ত্ ও দ্ স্থানে চ হয়।
যেমন:
- ত্ + ছ = চ্ছ; উৎ + ছেদ = উচ্ছেদ।
- ত্ + চ = চ্চ; সৎ + চিন্তা = সচ্চিন্তা।
- দ্ + চ = চ্চ; বিপদ + চয় = বিপচ্চয়।
- দ্ + ছ = চ্ছ; বিপদ + ছায়া = বিপচ্ছায়া।

অন্যদিকে,
স্বরসন্ধি যোগে গঠিত শব্দ হলো:
- ঈ + ই = ঈ; সতী + ইন্দ্র = সতীন্দ্র।
- উ + ঊ = ঊ; বহু + উর্ধ্ব = বহূর্ধ্ব।
- ঈ + অ = য্ + অ; নদী + অম্বু = নদ্যম্বু।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

.
‘প্রবচন’ কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. নিত্যসমাস
  2. দ্বিগু সমাস
  3. তৎপুরুষ সমাস
  4. প্রাদি সমাস
সঠিক উত্তর:
প্রাদি সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রাদি সমাস
ব্যাখ্যা
⇒ প্রাদি সমাস:
প্র, প্রতি, অনু প্রভৃতি অব্যয়ের সঙ্গে যদি কৃৎ প্রত্যয় সাধিত বিশেষ্যেও সমাস হয় তাকে বলে প্রাদি সমাস।
যেমন:
• প্র (প্রকৃষ্ট) যে বচন = প্রবচন,
• প্র ( প্রকৃষ্ট রূপে) গতি = প্রগতি।

প্রাদি সমাসে-
- ‘প্র’ থাকলে ‘প্রকৃষ্ট’ হবে। যেমন: প্র (প্রকৃষ্ট রূপে) ভাত (আলোকিত) = প্রভাত।
- ‘পরি’ থাকলে ‘চতুর্দিকে’ হবে। যেমন: পরি (চতুর্দিকে) যে ভ্রমণ = পরিভ্রমণ।
- ‘অনু’ থাকলে ‘পশ্চাত’ হবে। যেমন: অনুতে (পশ্চাতে) যে তাপ = অনুতাপ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
.
নিচের কোনটি সঠিক নয়?
  1. সৎ + জন = সজ্জন
  2. বিপদ + জাল = বিপজ্জাল
  3. কুজ + ঝটিকা = কুজ্ঝটিকা
  4. তৎ + জন্য = তজ্জন্য
সঠিক উত্তর:
কুজ + ঝটিকা = কুজ্ঝটিকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কুজ + ঝটিকা = কুজ্ঝটিকা
ব্যাখ্যা
• ত্ ও দ্-এরপর জ্ ও ঝ্ থাকলে ত্ ও দ্- এর স্থানে জ্ হয়।
যেমন:
- কুৎ + ঝটিকা = কুজ্ঝটিকা,
- সৎ + জন = সজ্জন,
- উৎ + জীবন = উজ্জীবন,
- তৎ + জন্য = তজ্জন্য,
- বিপদ + জাল = বিপজ্জাল।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০২৯ সংস্করণ)।
.
‘প্রতিনিধি’ অর্থে অব্যয়ীভাব সমাসের উদাহরণ-
  1. প্রতিবিম্ব
  2. প্রত্যুত্তর
  3. প্রতিবাদ
  4. অনুগমন
সঠিক উত্তর:
প্রতিবিম্ব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রতিবিম্ব
ব্যাখ্যা
• অব্যয়ীভাব সমাস:
‘অব্যয়ীভাব’ অর্থ অব্যয়ের ভাব বর্তমান। অব্যয় শব্দ পূর্বে বসে যে-সমাস হয় এবং যেখানে পূর্বপদের অর্থ প্রাধান্য পায় তাকে অব্যয়ীভাব সমাস বলে। অব্যয়ীভাব সমাসের পূর্বপদে অব্যয় এবং পরপদে বিশেষ্য থাকে।
যেমন:
- বীপ্সা (অনু, প্রতি) : দিন দিন = প্রতিদিন, ক্ষণে ক্ষণে = প্রতিক্ষণ, অনুক্ষণ ইত্যাদি।
- পশ্চাৎ (অনু) : পশ্চাৎ গমন = অনুগমন, পশ্চাৎ ধাবন = অনুধাবন ইত্যাদি।
- বিরােধ (প্রতি) : বিরুদ্ধ বাদ = প্রতিবাদ, বিরুদ্ধ কূল = প্রতিকূল ইত্যাদি।
- প্রতিনিধি অর্থে (প্রতি): প্রতিচ্ছায়া, প্রতিচ্ছবি, প্রতিবিম্ব।
- প্রতিদ্বন্দ্বী অর্থে (প্রতি) : প্রত্যুত্তর, প্রতিপক্ষ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
.
নিচের কোনটি সঠিক?
  1. সং + লাপ = সংলাপ
  2. বারম্ + বার = বারংবার
  3. সম্ + যগ = সংযোগ
  4. সং + সার = সংসার
সঠিক উত্তর:
বারম্ + বার = বারংবার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বারম্ + বার = বারংবার
ব্যাখ্যা
⇒ ম্ এর পর অন্তঃস্থ ধ্বনি য, র, ল, ব কিংবা শ, ষ, স, হ থাকলে, ম্ স্থলে অনুস্বার (ং) হয়।
যেমন-
- বারম্ + বার = বারংবার;
- সম্ + যোগ = সংযোগ;
- সম্ + যম = সংযম;
- সম্ + লাপ = সংলাপ;
- সম্ + হার = সংহার;
- সম্ + সার = সংসার। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ-২০১৯)।
.
‘সপ্তাহ’ শব্দটি কোন সমাসের দৃষ্টান্ত?
  1. সংখ্যাবাচক বহুব্রীহি
  2. নিত্য সমাস
  3. সংখ্যাবাচক দ্বন্দ্ব
  4. দ্বিগু সমাস
সঠিক উত্তর:
দ্বিগু সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দ্বিগু সমাস
ব্যাখ্যা
⇒ দ্বিগু সমাস:
যে সমাসে সংখ্যাবাচক শব্দ পূর্বে বসে সমাহার বোঝায় এবং পরপদের অর্থই প্রাধান্য পায় তাকে দ্বিগু সমাস বলে। 
যেমন:
- সব রত্নের সমাহার = নবরত্ন।
- সপ্ত অহের সমাহার = সপ্তাহ।

অথবা, সমাহার (সমষ্টি) বা মিলনার্থে সংখ্যাবাচক শব্দের সঙ্গে বিশেষ্য পদের যে সমাস হয় তাকে দ্বিগু সমাস বলে।
যেমন:
- ত্রি (তিন) কালের সমাহার = ত্রিকাল;
- তে (তিন) মাথার সমাহার = তেমাথা;
- শত অব্দের সমাহার = শতাব্দী।

[লক্ষণীয়: পূর্বপদে সংখ্যাবাচক শব্দ থাকলে, ওই শব্দ দিয়ে যদি সমাহার বা সমষ্টি না বোঝায় এবং পরপদের অর্থ প্রাধান্য পায়, তবে তা দ্বিগু সমাস নয়।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১০.
‘দুর্যোগ’ কোন সন্ধি-সাধিত শব্দের উদাহরণ?
  1. স্বরসন্ধি
  2. ব্যাঞ্জনসন্ধি
  3. বিসর্গ সন্ধি
  4. নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি
সঠিক উত্তর:
বিসর্গ সন্ধি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিসর্গ সন্ধি
ব্যাখ্যা
• বিসর্গ সন্ধিযোগে গঠিত শব্দ হচ্ছে- দুঃ + যােগ = দুর্যোগ।

⇒ অ ও আ ভিন্ন অন্য স্বরের পর পরে বিসর্গ থাকলে এবং তার সঙ্গে অ, আ, বর্গীয় ঘােষ অল্পপ্রাণ ও ঘােষ মহাপ্রাণ নাসিক্যধ্বনি কিংবা য, র, ল, ব, হ-এর সন্ধি হলে বিসর্গ স্থানে ‘র’ হয়।
যেমন:
- দুঃ + যােগ = দুর্যোগ, 
- নিঃ + আকার = নিরাকার,
- আশীঃ + বাদ = আশীর্বাদ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
১১.
‘অনুক্ত’ কোন সমাসের দৃষ্টান্ত?
  1. অলুক দ্বন্দ্ব
  2. অব্যয়ীভাব
  3. উপমান কর্মধারয়
  4. নঞ্ তৎপুরুষ
সঠিক উত্তর:
নঞ্ তৎপুরুষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নঞ্ তৎপুরুষ
ব্যাখ্যা
• নঞ্ তৎপুরুষ সমাস:
পূর্বপদে নঞর্থক বা না-বাচক অব্যয় অর্থাৎ না, নেই, নাই, নয় প্রভৃতি ব্যবহৃত হয়ে যে তৎপুরুষ সমাস হয় তাকে নঞ তৎপুরুষ সমাস বলা হয়। বাংলায় ব্যবহৃত নঞর্থক অব্যয়গুলোর মধ্যে 'নয়, না, নেই, অ, অন, অনা, আ, গর, ন, নি, বি, বে' প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য। নঞ স্বরবর্ণের পূর্বে বসলে 'অন' এবং ব্যঞ্জনবর্ণের পূর্বে বসলে 'অ' হয়।
যেমন:
- নয় উক্ত = অনুক্ত,
- নয় কাতর = অকাতর,
- নয় বুঝ = অবুঝ,
- নয় সরকারি = বেসরকারি ইত্যাদি।

এরূপ- নীরব, বেআইনি, নির্জন, নাস্তিক, নাতিদীর্ঘ প্রভৃতি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ; প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।
১২.
দ্ + ছ = চ্ছ; নিয়মে সাধিত সন্ধি কোনটি?
  1. বিপচ্ছায়া
  2. পরিচ্ছদ
  3. উচ্ছেদ
  4. কথাচ্ছলে
সঠিক উত্তর:
বিপচ্ছায়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিপচ্ছায়া
ব্যাখ্যা
⇒ ত্ ও দ্-এর পর চ্ ও ছ্ থাকলে ত্ ও দ্ স্থানে চ হয়।
যেমন:
- দ্ + ছ = চ্ছ; বিপদ + ছায়া = বিপচ্ছায়া;
- ত্ + ছ = চ্ছ; উৎ + ছেদ = উচ্ছেদ;
- ত্ + চ = চ্চ; সৎ + চিন্তা = সচ্চিন্তা;
- দ্ + চ = চ্চ; বিপদ + চয় = বিপচ্চয়।

অন্যদিকে,
স্বরধ্বনির পর ছ থাকলে উক্ত ব্যঞ্জনধ্বনিটি দ্বিত্ব (চ্ছ) হয়। 
যথা:
- ই + ছ = চ্ছ; পরি + ছদ = পরিচ্ছদ;
- আ + ছ = চ্ছ; কথা + ছলে = কথাচ্ছলে;
- অ + ছ = চ্ছ; এক + ছত্র = একচ্ছত্র।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।