পরীক্ষা আর্কাইভ

গুরুত্বপূর্ণ টপিকের উপর পরীক্ষা - ১৩৫ মার্কস্‌ কাভার

পরীক্ষাগুরুত্বপূর্ণ টপিকের উপর পরীক্ষা - ১৩৫ মার্কস্‌ কাভারতারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়14 minutes
মোট প্রশ্ন২৮
সিলেবাস
পরীক্ষা - ১৯ বিষয়: সাধারণ বিজ্ঞান -------------------- টপিক: i) বিজ্ঞানের শাখা-প্রশাখা (যেমন, মাইক্রোবায়োলজি, সেরিকালচার ইত্যাদি), ii) বিভিন্ন পরিমাপক যন্ত্র। iii) মানবদেহ, রোগের কারণ ও ভ্যাক্সিন। iv) উদ্ভিদ ও প্রাণির পুষ্টি, পরাগায়ন, খাদ্য ও পুষ্টি, সালোকসংশ্লেষণ। v) তেজস্ক্রিয়তা, X-Ray, MRI, CT Scan ইত্যাদি। vi) গুরুত্বপূর্ণ রাসায়নিক নাম ও সংকেত, কার্বন, এসিড ও ক্ষার। vii) চৌম্বকত্ব, তরঙ্গ ও শব্দ, আলো, ইলেকট্রনিক্স, [নম্বর কাভার - ৯]
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

গুরুত্বপূর্ণ টপিকের উপর পরীক্ষা - ১৩৫ মার্কস্‌ কাভার

গুরুত্বপূর্ণ টপিকের উপর পরীক্ষা - ১৩৫ মার্কস্‌ কাভার · তারিখ অনির্ধারিত · ২৮ প্রশ্ন

.
মাইক্রোবায়োলজি শাখায় কোন ধরনের জীব নিয়ে গবেষণা করা হয়?
  1. হরমোন
  2. কীটপতঙ্গ
  3. অণুজীব
  4. খনিজ
সঠিক উত্তর:
অণুজীব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অণুজীব
ব্যাখ্যা

মাইক্রোবায়োলজি (Microbiology) মূলত অণুজীব নিয়ে গবেষণা করে, যেমন ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস, ছত্রাক ও প্রোটোজোয়া।

মাইক্রোবায়োলজি:
- মাইক্রোবায়োলজি (Microbiology) হল জীববিজ্ঞানের একটি শাখা, যা অণুজীব বা মাইক্রোঅর্গানিজম নিয়ে গবেষণা করে। অণুজীব বলতে বোঝায় ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস, ছত্রাক, প্রোটোজোয়া এবং শৈবাল, যা খালি চোখে দেখা যায় না এবং সাধারণত অণুবীক্ষণ যন্ত্রের সাহায্যে পর্যবেক্ষণ করা হয়।

মাইক্রোবায়োলজি বিভিন্ন ভাগে বিভক্ত, যেমন:
i) ব্যাকটেরিয়ালজি (Bacteriology) – ব্যাকটেরিয়ার গঠন, বৃদ্ধি, জিনতত্ত্ব ও রোগতত্ত্ব নিয়ে গবেষণা করে।
ii) ভাইরোলজি (Virology) – ভাইরাসের গঠন, প্রজনন এবং এর প্রতিরোধ ব্যবস্থা নিয়ে কাজ করে।
iii) মাইকোলজি (Mycology) – ছত্রাক বা ফাঙ্গাস নিয়ে গবেষণা করে, যা খাদ্য উৎপাদন ও চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়।
iv) ইমিউনোলজি (Immunology) – শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার ওপর গবেষণা করে।
v) অ্যান্টিবায়োটিক ও জৈবপ্রযুক্তি (Biotechnology & Antibiotics Research) – জীবাণুর সাহায্যে ওষুধ ও টিকা তৈরি করা হয়।

অন্যান্য অপশনসমূহ, 
ক) জীবদেহে হরমোনের কার্যকারিতা বিষয়ক আলোচনা করা হয় এন্ডোক্রাইনোলজি শাখায়।
খ) কীটপতঙ্গ নিয়ে গবেষণা করা হয় এনটোমোলজি (Entomology)-তে। 
ঘ) খনিজ নিয়ে গবেষণা করা হয় ভূতত্ত্ব (Geology) ও খনিজবিদ্যা (Mineralogy)-তে, যা জীববিজ্ঞানের শাখা নয়।

উৎস: 
১। উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২। ব্রিটানিকা। 

.
নিচের কোনটি দ্বারা তেজস্ক্রিয়তা প্রভাবিত হয়?
  1. তাপ
  2. তড়িৎ ক্ষেত্র
  3. চৌম্বক ক্ষেত্র
  4. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
কোনোটিই নয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা

◉ তেজস্ক্রিয়তা মূলত একটি পারমাণবিক প্রক্রিয়া, যা মৌলিক কণার অবক্ষয়ের মাধ্যমে ঘটে এবং এটি বাইরের পরিবেশগত পরিবর্তন দ্বারা প্রভাবিত হয় না।

তেজস্ক্রিয়তা:
- প্রকৃতিতে এমন কতকগুলি পরমাণু পাওয়া যায় যারা স্বতঃস্ফুর্তভাবে উচ্চ ভেদনদক্ষমতা সম্পন্ন গামা রশ্মি, বিটা কণিকা ও আলফা কণিকা বিকিরণ করে।
- ইউরেনিয়াম, থোরিয়াম, রেডিয়াম প্রভৃতি এ ধরণের পরমাণু।
- স্বতঃস্ফুর্তভাবে রশ্মি বিকিরণের প্রক্রিয়াকেই তেজস্ক্রিয়তা বলে।
- ১৮৯৬ খ্রিস্টাব্দে ফরাসী বিজ্ঞানী হেনরী বেকেরেল (Henry Becquerel) আকস্মিকভাবে এ রশ্মি আবিষ্কার করেন।
- তাঁর নাম অনুসারে এই রশ্মির নাম দেয়া হয় “বেকেরেল রশ্মি”।
- এই রশ্মি বর্তমানে তেজস্ক্রিয় রশ্মি (Radioactive rays) নামে পরিচিত পরমাণুর নিউক্লিয়াস থেকে স্বতঃস্ফুর্তভাবে রশ্মি বিকিরণের প্রক্রিয়াকেই তেজস্ক্রিয়তা বলে।

তেজস্ক্রিয়তা দুই প্রকার। যথা-
১। প্রাকৃতিক তেজস্ক্রিয়তা ও
২। কৃত্রিম তেজস্ক্রিয়তা।
১। প্রাকৃতিক তেজস্ক্রিয়তা: কোনো পদার্থ হতে স্বতঃস্ফুর্ত ভাবে যে তেজস্ক্রিয়তা ঘটে তাকে প্রাকৃতিক তেজস্ক্রিয়তা বলে।
২। কৃত্রিম তেজস্ক্রিয়তা: কৃত্রিম উপায়ে কোনো মৌলকে তেজস্ক্রিয় মৌলে পরিণত করলে যে তেজস্ক্রিয়তা ঘটে তাকে কৃত্রিম তেজস্ক্রিয়তা বলে।

তেজস্ক্রিয়তার বৈশিষ্ট্য:
- বিভিন্ন তেজস্ক্রিয় পদার্থ থেকে নির্গত রশ্মি পর্যবেক্ষণ করে নিম্নলিখিত তথ্যগুলো পাওয়া যায়-
১। তেজস্ক্রিয়তা একটি স্বতঃস্ফুর্ত ও অবিরাম ঘটনা। তাপ, চাপ, তড়িৎ ক্ষেত্র, চৌম্বক ক্ষেত্র অথবা কোনো ভৌত কারণ দ্বারা তেজস্ক্রিয়তা প্রভাবিত হয় না।
২। তেজস্ক্রিয় পদার্থ থেকে আলফা কণিকা, বিটা কণিকা ও গামা রশ্মি নির্গত হয়।
৩। তেজস্ক্রিয়তার উৎপত্তি স্থল হলো নিউক্লিয়াস। পরমাণুর ভাঙ্গনের ফলেই তেজস্ক্রিয় রশ্মি নির্গত হয়। তেজস্ক্রিয়তার ফলে এক প্রকার পরমাণু অন্য এক প্রকার পরমাণুতে পরিণত হয়।
৪ । তেজস্ক্রিয়তা একটি অপ্রত্যাবর্তী প্রক্রিয়া।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

.
খাদ্য সংরক্ষণে ব্যবহৃত সোডিয়াম বেনজোয়েটের রাসায়নিক সংকেত কোনটি?
  1. C6H5COONa
  2. CH3COONa
  3. NaHCO3
  4. Na2CO3
সঠিক উত্তর:
C6H5COONa
উত্তর
সঠিক উত্তর:
C6H5COONa
ব্যাখ্যা

◉ সোডিয়াম বেনজোয়েটের রাসায়নিক সংকেত হলো C6H5COONa, যা খাদ্য সংরক্ষণের জন্য অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপাদান।

সোডিয়াম বেনজোয়েট (Sodium Benzoate):
- সোডিয়াম বেনজোয়েট খাদ্য সংরক্ষণের জন্য ব্যবহৃত একটি সাধারণ সংরক্ষণকারী (Preservative), যা ব্যাকটেরিয়া, ছত্রাক ও ইস্টের (Yeast) বৃদ্ধি প্রতিরোধ করে।
- এটি প্রধানত অম্লীয় পরিবেশে কার্যকর এবং বিভিন্ন প্রসেসড খাবারে ব্যবহার করা হয়।

অন্যান্য অপশনসমূহ, 
CH3COONa - সোডিয়াম অ্যাসিটেট; 
NaHCO3 - সোডিয়াম বাইকার্বোনেট, অ্যাসিড-নিয়ন্ত্রণকারী এজেন্ট ও বেকিং উপাদান হিসেবে ব্যবহৃত হয়। 
Na2CO3 - সোডিয়াম কার্বোনেট মূলত কাচ, সাবান ও ডিটারজেন্ট তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। 

আরো কিছু মৌলের রাসায়নিক সংকেত: 
- সোডিয়াম এসিটেটের সংকেত - CH3COONa, 
- মিল্ক অফ লাইমের রাসায়নিক সংকেত- Ca(OH)2
- বেকিং সোডার রাসায়নিক সংকেত- NaHCO3
- চুনাপাথরের  রাসায়নিক সংকেত- CaCO3
- ভিনেগারের  রাসায়নিক সংকেত- CH3COOH, 
- চুনের  রাসায়নিক সংকেত- CaO, 
- তুঁতের রাসায়নিক সংকেত- CuSO4.5H2O, 
- ক্যালামিনের রাসায়নিক সংকেত- ZnCO3
- ফিটকিরির রাসায়নিক সংকেত- [K2SO4. Al2(SO4)3.24H2O].

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি এবং বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

.
ট্রানজিস্টর কী ধরনের যন্ত্র?
  1. শব্দ নিয়ন্ত্রক
  2. বিদ্যুৎ নিয়ন্ত্রক
  3. আলোক নিয়ন্ত্রক
  4. চৌম্বক নিয়ন্ত্রক
সঠিক উত্তর:
বিদ্যুৎ নিয়ন্ত্রক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিদ্যুৎ নিয়ন্ত্রক
ব্যাখ্যা

ট্রানজিস্টর (Transistor) একটি বিদ্যুৎ নিয়ন্ত্রক যন্ত্র, যা বৈদ্যুতিক সংকেত (Electric Signal) প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করে এবং পরিবর্ধক (Amplifier) ও সুইচ (Switch) হিসেবে কাজ করে।

ট্রানজিস্টর:
- ট্রানজিস্টর হলো তিন প্রান্ত (Terminal) বিশিষ্ট একটি ডিভাইস (Device)।
- ১৯৪৮ সালে আমেরিকায় বেল ল্যাবরেটরীতে প্রথম এর আবিষ্কার হয়।
- আবিষ্কারের পর থেকেই ট্রানজিস্টর ইলেকট্রনিক জগতে বিপ্লবের সৃষ্টি করেছে।
- ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতির এটি একটি অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ।
- বিবর্ধক (Amplifier) হিসেবে এর ব্যবহার সর্বাধিক।
- সাধারণ ট্রানজিস্টরে ইলেকট্রন এবং হোল উভয় ধরনের চার্জ বাহক থাকে বলে একে বাইপোলার ট্রানজিস্টর বলে।
- ইলেকট্রনিক বিবর্ধক ও সুইচ হিসেবে ট্রানজিস্টর ব্যবহৃত হয়।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

.
কার্ডিওলজি চিকিৎসাবিজ্ঞানের কোন শাখা?
  1. মস্তিষ্ক সম্পর্কিত
  2. কিডনি সম্পর্কিত
  3. হৃদযন্ত্র সম্পর্কিত
  4. ফুসফুস সম্পর্কিত
সঠিক উত্তর:
হৃদযন্ত্র সম্পর্কিত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হৃদযন্ত্র সম্পর্কিত
ব্যাখ্যা

কার্ডিওলজি (Cardiology) হল চিকিৎসাবিজ্ঞানের সেই শাখা, যা হৃদযন্ত্র (Heart) এবং রক্ত সংবহনতন্ত্র (Circulatory System) নিয়ে গবেষণা ও চিকিৎসার সাথে সম্পর্কিত।

কার্ডিওলজির গুরুত্বপূর্ণ বিষয়সমূহ:
- হৃদযন্ত্রের গঠন ও কার্যপ্রণালী বিশ্লেষণ, 
- হৃদরোগের কারণ ও প্রতিরোধ, 
- হৃদযন্ত্রের বিভিন্ন ব্যাধি, যেমন হার্ট অ্যাটাক, ব্লকেজ ও উচ্চ রক্তচাপ নির্ণয় ও চিকিৎসা। 

কার্ডিওলজির কিছু প্রধান রোগ:
- হৃদরোগ (Heart Disease), 
- উচ্চ রক্তচাপ (Hypertension), 
- হার্ট অ্যাটাক (Myocardial Infarction), 
- অ্যারিথমিয়া (Arrhythmia) – অনিয়মিত হৃদস্পন্দন, 
- কার্ডিওমায়োপ্যাথি (Cardiomyopathy) – হৃদপেশির দুর্বলতা। 

অন্যান্য অপশনসমূহ, 
ক) মস্তিষ্ক ও স্নায়ুতন্ত্র নিয়ে গবেষণা করা হয় 'নিউরোলজি (Neurology)' শাখায়।
খ) কিডনির চিকিৎসা 'নেফ্রোলজি (Nephrology)' শাখার অন্তর্ভুক্ত।
ঘ) ফুসফুস ও শ্বাসযন্ত্রের রোগ নিয়ে গবেষণা করা হয় 'পালমোনোলজি (Pulmonology)' শাখায়।

উৎস:
১) পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২) Accessible Dictionary by Bangla Academy. 

.
ল্যাক্টোমিটার (Lactometer) দ্বারা কী পরিমাপ করা হয়?
  1. দুধের ঘনত্ব
  2. দুধের আর্দ্রতা
  3. দুধের pH মান
  4. দুধের শর্করা পরিমাণ
সঠিক উত্তর:
দুধের ঘনত্ব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দুধের ঘনত্ব
ব্যাখ্যা

ল্যাক্টোমিটার (Lactometer) হলো একটি বিশেষ যন্ত্র, যা দুধের বিশুদ্ধতা নির্ণয়ের জন্য দুধের ঘনত্ব (Density) পরিমাপে ব্যবহৃত হয়।

ল্যাক্টোমিটারের কাজ:
- দুধে পানি মেশানো হয়েছে কিনা তা নির্ণয় করা যায়।
- বিশুদ্ধ দুধের তুলনায় মিশ্রিত বা পাতলা দুধের ঘনত্ব কম হয়, যা ল্যাক্টোমিটারের মাধ্যমে চিহ্নিত করা সম্ভব।
- হাইড্রোমিটারের মতোই কাজ করে, তবে এটি বিশেষভাবে দুধের জন্য ডিজাইন করা।

আরো কিছু পরিমাপক যন্ত্র:
- উড়োজাহাজের গতি পরিমাপক যন্ত্র হলো - ট্যাকোমিটার।
- সমুদ্রের গভীরতা নির্ণয় এর যন্ত্র - ফ্যাদোমিটার।
- বায়ুর চাপ নির্ণয় এর যন্ত্র - ব্যারোমিটার।
- বায়ুর গতিবেগ নির্ণয় এর যন্ত্র - এনিমোমিটার।
- বায়ুর আর্দ্রতা নির্ণয়কারী যন্ত্র - হাইগ্রোমিটার।
- তরলের ঘনত্ব নির্ণয়কারী যন্ত্র - হাইড্রোমিটার।
- দুধের বিশুদ্ধতা নির্ণয় করতে ব্যবহৃত হয় - ল্যাক্টোমিটার।
- বৃষ্টির পরিমাণ হিসেব করতে ব্যবহৃত হয় - রেইনগেজ।
- মোটর গাড়ির গতি পরিমাপ করতে ব্যবহৃত হয় - ওডোমিটার। 

উৎস: ব্রিটানিকা। 

.
প্রাণীদেহে প্রোটিন কোন উপাদান থেকে গঠিত?
  1. অ্যামাইনো অ্যাসিড
  2. গ্লুকোজ
  3. গ্লিসারল
  4. ফ্যাটি অ্যাসিড
সঠিক উত্তর:
অ্যামাইনো অ্যাসিড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অ্যামাইনো অ্যাসিড
ব্যাখ্যা

প্রোটিন মূলত অ্যামাইনো অ্যাসিড (Amino Acid) দিয়ে গঠিত। প্রাণীদেহে প্রোটিন সংশ্লেষণ অ্যামাইনো অ্যাসিডের মাধ্যমে হয়, যা কোষের গঠন, এনজাইম, হরমোন এবং অন্যান্য জৈবিক কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

প্রোটিন বা আমিষের গঠন:
- আমিষ বা প্রোটিনের গঠন উপাদান হলো- কার্বন (C), হাইড্রোজেন (H₂), অক্সিজেন (O₂) এবং নাইট্রোজেন (N₂)।
- আমিষে ১৬% নাইট্রোজেন থাকে।
- আমিষ বা প্রোটিনের গঠনগত একক অ্যামাইনো অ্যাসিড।
- কার্বন, হাইড্রোজেন, অক্সিজেন ও নাইট্রোজেন মৌল সমন্বয়ে আমিষ বা প্রোটিনের গঠন একক অ্যামাইনো অ্যাসিড তৈরি হয়।
- একাধিক অ্যামাইনো অ্যাসিড মিলিত হয়ে পলিপেপটাইড ও পরিশেষে প্রোটিন গঠিত হয়। তাই প্রোটিনের রাসায়নিক বিশ্লেষণের ফলে বিভিন্ন ধরনের অ্যামাইনো অ্যাসিড পাওয়া যায়।
- পরিপাকের পর আমিষ বা প্রোটিন অ্যামাইনো এসিডে পরিণত হয়।
- মাছ, মাংস, দুধ, ডিম, ডাল, মটরশুঁটি শিমেরবিচি, সয়াবিন, বাদাম ইত্যাদি আমিষ জাতীয় খাদ্য। এসব খাদ্যে যথেষ্ট পরিমাণে আমিষ পাওয়া যায়।

অত্যাবশ্যকীয় অ্যামাইনো অ্যাসিড:
- প্রোটিন গঠনকারী অ্যামাইনো অ্যাসিডের মধ্যে ৮টি অ্যামাইনো অ্যাসিড মানবদেহের জন্য অত্যাবশ্যকীয়।
- এ ৮টি অত্যাবশ্যকীয় অ্যাসিডগুলো হলো-
১। লাইসিন।
২। লিউসিন।
৩। আইসোলিউসিন।
৪। মিথিওনিন।
৫। ট্রিপটোফ্যান।
৬। ভ্যালিন।
৭। ফিনাইল অ্যালানিন।
৮। থ্রিওনিন।

উৎস - বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

.
কঠিন সাবান তৈরিতে কোন ক্ষার ব্যবহৃত হয়?
  1. সোডিয়াম হাইড্রক্সাইড
  2. পটাসিয়াম হাইড্রক্সাইড
  3. ক্যালসিয়াম হাইড্রক্সাইড
  4. অ্যামোনিয়াম হাইড্রক্সাইড
সঠিক উত্তর:
সোডিয়াম হাইড্রক্সাইড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সোডিয়াম হাইড্রক্সাইড
ব্যাখ্যা

◉ কঠিন সাবান তৈরিতে সোডিয়াম হাইড্রক্সাইড (NaOH) ব্যবহার করা হয়, কারণ এটি চর্বি বা তেলের সাথে বিক্রিয়া করে শক্ত, দীর্ঘস্থায়ী এবং কার্যকরী সাবান তৈরি করে।

সাবানায়ন: 
- সাধারণত সাবান হলো উচ্চতর ফ্যাটি এসিডের সোডিয়াম লবণ (R-COONa) বা উচ্চতর ফ্যাটি এসিডের পটাশিয়াম লবণ (R-COOK) । 
এখানে R কে অ্যালকাইল মূলক বলা হয়, R এর সাধারণ সংকেত CnH2n+1 এবং n এর মান 12 থেকে 18 পর্যন্ত। 
যেমন: সোডিয়াম স্টিয়ারেট সাবানের সংকেত C17H35COONa এবং পটাশিয়াম স্টিয়ারেট সাবানের সংকেত C17H35COOK. 
- তেল বা চর্বির সাথে সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড বা পটাশিয়াম হাইড্রোক্সাইড বিক্রিয়া করে সাবান এবং গ্লিসারিন তৈরি হয়। 
- সাবান ও গ্লিসারিন তৈরির এই প্রক্রিয়াকে সাবানায়ন বলে। 
- সাধারণত তুলনামূলক শক্ত ধরনের সাবান তৈরীর জন্যে সোডিয়াম হাইড্রক্সাইড (NaOH) এবং কোমল ধরনের সাবানের জন্যে পটাশিয়াম হাইড্রক্সাইড (KOH) ব্যবহার করা হয়।

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।

.
নিচের কোন মাধ্যমে শব্দের বেগ সবচেয়ে বেশি?
  1. বায়ু
  2. পানি
  3. ইস্পাত
  4. শূন্য
সঠিক উত্তর:
ইস্পাত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইস্পাত
ব্যাখ্যা

◉ শব্দের গতি মাধ্যমের ঘনত্ব এবং স্থিতিস্থাপকতার উপর নির্ভর করে। সাধারণত, কঠিন পদার্থে শব্দের গতি বেশি হয়, তরলে কম এবং গ্যাসে সবচেয়ে কম। ইস্পাত একটি কঠিন পদার্থ এবং এতে শব্দের গতি সবচেয়ে বেশি।

শব্দের বেগ:
- কঠিন পদার্থের মাধ্যমে শব্দের গতি সবচেয়ে বেশি হয়।
- শব্দ এক প্রকার যান্ত্রিক তরঙ্গ।
- তাই শব্দ চলার জন্য মাধ্যমের প্রয়োজন হয়।
- শব্দের বেগ কঠিন পদার্থে সবচেয়ে বেশি (যেমন- ইস্পাত, লোহা) হয়।
- তরল পদার্থের গতি কঠিন পদার্থের চেয়ে কম (যেমন- পানি) হয়।
- বায়বীয় পদার্থে সবচেয়ে কম।
- আর শূন্য মাধ্যমে শব্দের বেগ শূন্য।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১০.
এগ্রোনমি কী নিয়ে গবেষণা করে?
  1. কৃষি বিজ্ঞান
  2. মহাকাশ বিজ্ঞান
  3. প্রাণিবিজ্ঞান
  4. পরিবেশ বিজ্ঞান
সঠিক উত্তর:
কৃষি বিজ্ঞান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কৃষি বিজ্ঞান
ব্যাখ্যা

এগ্রোনমি (Agronomy) হলো কৃষি বিজ্ঞানের একটি শাখা যা ফসল উৎপাদন ও মাটি ব্যবস্থাপনা নিয়ে গবেষণা করে। এটি শস্য উৎপাদন, মাটির উর্বরতা, সার ব্যবস্থাপনা, সেচ পদ্ধতি, কীটনাশক ব্যবহার ও টেকসই কৃষি উন্নয়ন সম্পর্কিত গবেষণা করে।

এছাড়াও,
- ফলচাষ বিষয়ক বিদ্যাকে পোমোলজি বলা হয়।
- হর্টিকালচার হল উন্নয়ন, টেকসই উৎপাদন, বাজারজাতকরণ এবং উচ্চ-মূল্যের, নিবিড়ভাবে চাষ করা খাদ্য এবং শোভাময় উদ্ভিদের বিজ্ঞান ও শিল্প।
- রেশম চাষ বিষয়ক বিদ্যাকে বলা হয়- সেরিকালচার।
- মৌমাছির পালন বিষয়ক বিদ্যাকে বলা হয়- এপিকালচার।
- মৎস্য চাষ বিষয়ক বিদ্যাকে বলা হয়- পিসিকালচার।
- চিংড়ি চাষ বিষয়ক বিদ্যাকে বলা হয়- প্রণকালচার।
- পাখী পালন বিদ্যাকে বলা হয়- এভিকালচার এবং
- সামুদ্রিক মৎস্য পালন বিদ্যাকে বলা হয়- মেরিকালচার।

অন্যান্য অপশনসমূহ, 
মহাকাশ বিজ্ঞান – এটি অ্যাস্ট্রোনমি (Astronomy) নামে পরিচিত, যা মহাকাশ ও গ্রহ-নক্ষত্র নিয়ে গবেষণা করে।
প্রাণিবিজ্ঞান – এটি জুলজি (Zoology) নামে পরিচিত, যা প্রাণী ও তাদের আচরণ নিয়ে গবেষণা করে।
পরিবেশ বিজ্ঞান – এটি এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স (Environmental Science) নামে পরিচিত, যা পরিবেশ ও বাস্তুতন্ত্র নিয়ে গবেষণা করে।

উৎস: এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা।

১১.
পোটেনশিওমিটার (Potentiometer) যন্ত্রটি কীসের সাথে সম্পর্কিত?
  1. তড়িৎ প্রবাহ পরিমাপ
  2. তড়িৎ বিভব পরিমাপ
  3. তড়িৎ রোধ পরিমাপ
  4. তড়িৎ ক্ষমতা পরিমাপ
সঠিক উত্তর:
তড়িৎ বিভব পরিমাপ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তড়িৎ বিভব পরিমাপ
ব্যাখ্যা

পোটেনশিওমিটার (Potentiometer) হলো একটি তড়িৎ পরিমাপক যন্ত্র, যা মূলত তড়িৎ বিভব (Voltage) পরিমাপ করতে ব্যবহৃত হয়। এটি একটি নির্ভুল (Precise) এবং উচ্চ সংবেদনশীল (High Sensitivity) যন্ত্র, যা তড়িৎ বিভবের তুলনামূলক মান পরিমাপ করতে সাহায্য করে।

পোটেনশিওমিটারের ব্যবহার:
- এটি একটি ভেরিয়েবল রেজিস্টর (Variable Resistor) হিসাবে কাজ করে।
- এটি তড়িৎ বিভবের পার্থক্য নির্ণয় করতে পারে এবং সাধারণ ভোল্টমিটারের তুলনায় এটি আরও নির্ভুল পরিমাপ দেয়।
- পোটেনশিওমিটারের সাহায্যে দুটি কোষের তড়িচ্চালক বলের তুলনা করা যায়। 
- পোটেনশিওমিটার ইলেকট্রনিক সার্কিটে ভোল্টেজ কন্ট্রোলার হিসেবেও ব্যবহৃত হয়।

অন্যান্য অপশনসমূহ, 
ক) তড়িৎ প্রবাহ পরিমাপ – এটি অ্যামিটার (Ammeter) দিয়ে পরিমাপ করা হয়।
গ) রেজিস্ট্যান্স পরিমাপ – এটি ওহমমিটার (Ohmmeter) দিয়ে পরিমাপ করা হয়।
ঘ) তড়িৎ ক্ষমতা পরিমাপ – এটি ওয়াটমিটার (Wattmeter) দিয়ে পরিমাপ করা হয়।

উৎস: রসায়ন ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

১২.
মানবদেহে রক্তের গ্রুপ নির্ধারণ করে কোন উপাদান?
  1. হিমোগ্লোবিন
  2. প্লাজমা
  3. ইরিথ্রোসাইট ও লিউকোসাইট
  4. এন্টিজেন ও এন্টিবডি
সঠিক উত্তর:
এন্টিজেন ও এন্টিবডি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এন্টিজেন ও এন্টিবডি
ব্যাখ্যা

◉ মানবদেহের রক্তের গ্রুপ নির্ধারণ করে লোহিত রক্তকণিকার (RBC) গায়ে থাকা বিশেষ প্রোটিন উপাদান, যাকে এন্টিজেন (Antigen) বলা হয়। এছাড়া, প্লাজমাতে উপস্থিত এন্টিবডি (Antibody) ও রক্তের গ্রুপ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

রক্তের গ্রুপ (Blood group):
- মানুষের লোহিত রক্ত কণিকায় 'A' এবং 'B' নামক দু'ধরনের অ্যান্টিজেন (Antigen) এবং রক্ত রসে 'a' ও 'b' দু'ধরনের অ্যান্টিবডি (Antibodies) থাকে।
- অ্যান্টিজেন এক প্রকারের পদার্থ যা কোন জীবদেহে প্রবেশ করানোর ফলে ঐ জীবদেহে অ্যান্টিবডি তৈরি হয় এবং অ্যান্টিবডি হলো এক প্রকারের পদার্থ যা জীবদেহে রোগের বিরুদ্ধে কাজ করে।
- অ্যান্টিজেন ও অ্যান্টিবডির উপস্থিতির উপর ভিত্তি করে মানুষের রক্তকে বিভিন্ন গ্রুপে ভাগ করা হয় যাকে রক্তের গ্রুপ বলে।
- বিজ্ঞানী কার্লল্যান্ড স্টেইনার ১৯০১ সালে মানুষের রক্তের শ্রেণিবিন্যাস করে তা 'A', 'B', 'O' এবং ‘AB' এ চারটি গ্রুপের নামকরণ করেন।
- আজীবন মানুষের রক্তের গ্রুপ একই রকম থাকে যা পরিবর্তন হয় না।
- অতএব রক্তে বিভিন্ন অ্যান্টিজেন ও অ্যান্টিবডির উপস্থিতির উপর ভিত্তি করে রক্তের গ্রুপকে চিহ্নিত করা যায়।

উৎস:
১। জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২। ব্রিটানিকা। 

১৩.
পাতায় ক্লোরোফিলের উপস্থিতি পরীক্ষা করার জন্য ব্যবহৃত পদার্থ হল-
  1. বেনেডিক্ট দ্রবণ
  2. ম্যাগনেসিয়াম দ্রবণ
  3. অ্যালকোহল
  4. ফেহলিং দ্রবণ
সঠিক উত্তর:
অ্যালকোহল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অ্যালকোহল
ব্যাখ্যা

◉ পাতায় ক্লোরোফিলের উপস্থিতি পরীক্ষা করার জন্য পাতার সবুজ রঙ (ক্লোরোফিল) অপসারণ করতে অ্যালকোহল ব্যবহার করা হয়।

প্রয়োজনীয় উপকরণ: একদিন অন্ধকারে রাখা টবে লাগানো সবুজ পাতাবিশিষ্ট একটি গাছ, কালো কাগজ, ৯৫% ইথাইল অ্যালকোহল, ১% আয়োডিন দ্রবণ, ক্লিপ প্রভৃতি।
আলো

কাজের ধারা: অন্ধকারে রাখা সবুজ পাতাবিশিষ্ট গাছটির একটি পাতার উভয় পাশের মাঝামাঝি অংশে কালো কাগজ দ্বারা আবৃত করুন। একটি ক্লিপ দ্বারা এমনভাবে আটকে দিন যাতে ঐ অংশে সূর্যালোক প্রবেশ করতে না পারে। এরপর গাছসহ টবটিকে সূর্যালোকে রেখে দিন। একঘণ্টা পর পাতাটিকে গাছ থেকে ছিড়ে ফেলুন। একে ক্লোরোফিল মুক্ত করার জন্য ৯৫% ইথাইল অ্যালকোহলে সিদ্ধ করুন। এবার সিদ্ধ করা বর্ণহীন পাতাটিকে আয়োডিন দ্রবণে ডুবিয়ে রাখুন।

পর্যবেক্ষণ: আয়োডিন দ্রবণ থেকে পাতাটিকে তুলে ফেললে দেখা যাবে যে, কালো কাগজ দিয়ে আবৃত অংশ ছাড়া পাতার বাকি সবটুকু অংশই নীল (গাঢ় বেগুনি বা কালো) বর্ণ ধারণ করেছে। ক্লোরোফিল অপসারণের পর আয়োডিন দ্রবণ ব্যবহার করা হয় → যাতে শ্বেতসার (Starch) আছে কিনা তা নির্ণয় করা যায়।

• অ্যালকোহল মূলত ক্লোরোফিল অপসারণের জন্য ব্যবহৃত হয়, যাতে অন্যান্য পরীক্ষাগুলো সহজে করা যায়।

অন্যান্য অপশনসমূহ, 
ক) বেনেডিক্ট দ্রবণ - এটি গ্লুকোজ পরীক্ষার জন্য ব্যবহৃত হয়। 
ঘ) ফেহলিং দ্রবণ - এটি শর্করা (Reducing Sugar) শনাক্ত করতে ব্যবহৃত হয়। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

১৪.
ক্লোরোফর্মের রাসায়নিক সংকেত কোনটি?
  1. CCl4
  2. CHCl3
  3. CH2Cl2
  4. CH3Cl
সঠিক উত্তর:
CHCl3
উত্তর
সঠিক উত্তর:
CHCl3
ব্যাখ্যা

◉ ক্লোরোফর্ম (Chloroform) হলো একটি জৈব যৌগ, যার রাসায়নিক সংকেত CHCl3

ক্লোরোফর্মের ব্যবহার: 
- পূর্বে সার্জারির সময় অ্যানেসথেটিক হিসেবে ব্যবহৃত হতো।
- জৈব দ্রাবক (Organic Solvent) হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
- প্লাস্টিক ও ওষুধ তৈরিতে ব্যবহৃত হয়।
- ক্লোরোফর্ম অতিরিক্ত গ্রহণ করলে স্নায়ুতে প্রভাব ফেলতে পারে এবং দীর্ঘমেয়াদী ব্যবহারে ক্ষতিকর হতে পারে।

অন্যান্য অপশনসমূহ, 
CCl4 - কার্বন টেট্রাক্লোরাইড; 
CH2Cl2 - ডাইক্লোরোমিথেন; 
CH3Cl - মিথাইল ক্লোরাইড। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি এবং ব্রিটানিকা। 

১৫.
কোষ ও কোষাঙ্গাণুর গঠন সম্বন্ধে জীববিজ্ঞানের কোন শাখায় আলোচনা করা হয়?
  1. জেনেটিক্স
  2. সাইটোলজি
  3. এনাটমি
  4. শারীরবিদ্যা
সঠিক উত্তর:
সাইটোলজি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাইটোলজি
ব্যাখ্যা

◉ সাইটোলজি (Cytology) হলো জীববিজ্ঞানের একটি শাখা, যেখানে কোষের গঠন, কার্যপ্রণালী, কোষাঙ্গাণু এবং কোষ বিভাজন নিয়ে গবেষণা করা হয়। এটি মূলত কোষতত্ত্ব (Cell Biology)-এর একটি অংশ।

কোষবিদ্যা (Cytology):
- জীবদেহের গঠন ও কার্যের একক হলো কোষ।
- কোষ ও কোষাঙ্গাণুর গঠন, কাজ ও বিভাজন সম্বন্ধে এ শাখায় আলোচনা করা হয়।

অন্যান্য অপশনসমূহ, 
জেনেটিক্স - এটি বংশগতির বিজ্ঞান, যেখানে DNA, জিন, মিউটেশন ও বংশগত বৈশিষ্ট্য নিয়ে আলোচনা করা হয়। 
এনাটমি - এটি শরীরের গঠন ও অঙ্গপ্রত্যঙ্গের গঠন ও বিন্যাস নিয়ে আলোচনা করে। 
শারীরবিদ্যা - জীবের শ্বসন, রেচন, প্রজনন, পরিপাক ও আত্তীকরণ, সবুজ উদ্ভিদে সালোকসংশ্লেষণ এসব জৈব রাসায়নিক প্রক্রিয়াসমূহ এ শাখায় আলোচনা করা হয়। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৬.
উড়োজাহাজের গতি নির্ণায়ক যন্ত্রের নাম-
  1. ট্যাকোমিটার
  2. ক্রনোমিটার
  3. ম্যানোমিটার
  4. গ্রাডিমিটার
সঠিক উত্তর:
ট্যাকোমিটার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ট্যাকোমিটার
ব্যাখ্যা

◉ উড়োজাহাজের গতি নির্ণায়ক যন্ত্রের নাম- ট্যাকোমিটার। 

ট্যাকোমিটার (Tachometer) ঘূর্ণনশীল যন্ত্রের গতি পরিমাপের জন্য ব্যবহৃত হয় এবং একক হিসেবে RPM (Revolutions Per Minute) ব্যবহার করা হয়। এটি গাড়ি, ইঞ্জিন, মোটর, টারবাইন এবং উড়োজাহাজে ব্যবহৃত হয়।

এছাড়াও,
- মোটর গাড়ির গতি নির্ণায়ক যন্ত্র- ওডোমিটার।
- উচ্চতা নির্ণায়ক যন্ত্র- অ্যালটিমিটার।
- সমুদ্রের দ্রাঘিমা পরিমাপক যন্ত্র - ক্রনোমিটার
- শব্দের তীব্রতা পরিমাপক যন্ত্র- অডিওমিটার।
- গ্যাসের চাপ নির্ণায়ক যন্ত্র - ম্যানোমিটার
- তরলের আপেক্ষিক গুরুত্ব নির্ণায়ক যন্ত্র - হাইড্রোমিটার।
- পানির তলায় তেলের সঞ্চায়ক যন্ত্র - গ্রাডিমিটার

উৎস: এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা।

১৭.
তেজস্ক্রিয়তার ব্যবহার হচ্ছে-
  1. ট্রেসার হিসাবে
  2. মহাকাশে যোগাযোগ স্থাপনে
  3. হরমোন সংশ্লেষণে
  4. নিউট্রিয়েন্ট সংযোজনে
সঠিক উত্তর:
ট্রেসার হিসাবে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ট্রেসার হিসাবে
ব্যাখ্যা

◉ তেজস্ক্রিয়তা (Radioactivity) বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এর মধ্যে ট্রেসার (Tracer) হিসাবে অর্থাৎ শনাক্তকরণে তেজস্ক্রিয় পদার্থের ব্যবহার অন্যতম

তেজস্ক্রিয়তা:
- ভারী মৌলিক পদার্থের নিউক্লিয়াস থেকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অবিরত আলফা, বিটা ও গামা রশ্মি নির্গমনের প্রক্রিয়াকে তেজস্ক্রিয়তা বলে।
- যে সব মৌল হতে তেজস্ক্রিয় রশ্মি নির্গত হয় তাদেরকে তেজস্ক্রিয় মৌল বলে।
- ফরাসি বিজ্ঞানী হেনরী বেকেরেল ১৮৯৬ সালে এক্সরে নিয়ে গবেষণা করার সময় একটি স্বতঃস্ফূর্ত প্রাকৃতিক ঘটনা আবিষ্কার করেন।
- তাঁর নামানুসারে এই রশ্মির নাম দেওয়া হয় বেকেরেল রশ্মি।

ব্যবহার:
১. ক্যান্সার রােগ নিরাময়ের কাজে তেজস্ক্রিয়তার ব্যবহার করা হয়। রেডিওনিউক্লাইড ট্রেসার (Radionuclide Tracer) ব্যবহার করে ক্যান্সার, থাইরয়েড সমস্যা ও হৃৎপিণ্ডের রোগ শনাক্ত করা হয়।
২. উন্নত বীজ তৈরির গবেষণায় তেজস্ক্রিয়তা সফলভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
৩. ঘড়ির কাঁটায় তেজস্ক্রিয় থােরিয়ামের সাথে জিঙ্ক সালফাইড মিশিয়ে ঘড়ির কাঁটা ও নম্বরে প্রলেপ দেওয়া হয় ফলে এরা অন্ধকারে জ্বলজ্বল করে।
৪. তেজস্ক্রিয় আইসােটোপ থেকে ফিশন প্রক্রিয়ায় উৎপাদিত তাপ শক্তিকে কাজে লাগিয়ে টারবাইন ও জেনারেটরের মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়।
৫. নির্মাণ বা উৎপাদন শিল্পে কাগজ, প্লাস্টিক, অ্যালুমিনিয়াম ইত্যাদি বিভিন্ন বস্তুর পুরুত্ব, ঘনত্ব ও উপাদানের সঠিক পরিমাণ নির্ণয়ে আলফা ও বিটা রশ্মিকে ব্যবহার করা হয়

উৎস- পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১৮.
বাফার দ্রবণ সম্পর্কে কোন বক্তব্যটি সঠিক?
  1. এটি উচ্চ অম্লীয় বা ক্ষারীয় বৈশিষ্ট্য প্রদর্শন করে
  2. এটি রাসায়নিক বিক্রিয়ায় অংশ নেয় না
  3. সামান্য অম্ল বা ক্ষার যোগ করলে pH এ উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হয় না
  4. বেশি সময় রেখে দিলে বা দ্রবণকে লঘুকরণ করলে এর pH পরিবর্তিত হয়
সঠিক উত্তর:
সামান্য অম্ল বা ক্ষার যোগ করলে pH এ উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হয় না
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সামান্য অম্ল বা ক্ষার যোগ করলে pH এ উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হয় না
ব্যাখ্যা

◉ বাফার দ্রবণ (Buffer Solution) হলো এমন একটি দ্রবণ, যা সামান্য পরিমাণ অম্ল (Acid) বা ক্ষার (Base) যোগ করার পরেও এর pH মানকে প্রায় স্থির রাখতে সক্ষম।

বাফার দ্রবণ:
- যে দ্রবণে সামান্য পরিমাণে এসিড বা ক্ষারক যোগ করার পরও তার pH অপরিবর্তিত থাকে তাকে বাফার দ্রবণ বলে।
- pH পরিবর্তন প্রতিরোধ করার এই ক্ষমতাকে দ্রবণটির বাফার ক্ষমতা (buffer capacity) বলে।

বাফার দ্রবণগুলো সাধারণত
(i) মৃদু এসিড ও ঐ এসিডের সঙ্গে তীব্র ক্ষারকের বিক্রিয়ায় উৎপন্ন কোন লবণ (যেমন এসিটিক এসিড ও সোডিয়াম এসিটেট) বা
(ii) মৃদু ক্ষার ও এর সঙ্গে তীব্র এসিডের বিক্রিয়ায় উৎপন্ন কোন লবণ (যেমন NH4OH-NH4CI)-এর মিশ্রণ দ্বারা প্রস্তুত করা হয়।
উল্লেখ্য যে এসিটিক এসিড ও সোডিয়াম এসিটেট দ্বারা প্রস্তুত বাফার দ্রবণের ব্যবহার সবচেয়ে বেশি।

বাফার দ্রবণের বৈশিষ্ট্যগুলো নিম্নরূপ:
(i) এই দ্রবণের একটি নির্দিষ্ট pH থাকে।
(ii) এই দ্রবণে সামান্য পরিমাণ এসিড বা ক্ষার যোগ করলেও এর pH এর পরিবর্তন হয় না।
(iii) বেশি সময় রেখে দিলে বা দ্রবণকে লঘুকরণ করলেও এর pH অপরিবর্তিত থাকে।
এই দ্রবণ তার বাফার ক্রিয়া (buffer action) দ্বারা pH পরিবর্তনে বাধা দান করে।

উৎস: রসায়ন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

১৯.
একটি ক্যাপাসিটরের মূল কাজ কী?
  1. বিদ্যুৎ প্রবাহকে বাধা দেওয়া
  2. বিদ্যুৎ শক্তি সঞ্চয় করা
  3. বিদ্যুৎ প্রবাহকে নিয়ন্ত্রণ করা
  4. বিদ্যুৎ শক্তিকে তাপ শক্তিতে রূপান্তর করা
সঠিক উত্তর:
বিদ্যুৎ শক্তি সঞ্চয় করা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিদ্যুৎ শক্তি সঞ্চয় করা
ব্যাখ্যা

◉ ধারক (Capacitor) হলো একটি ইলেকট্রনিক উপাদান, যা বৈদ্যুতিক চার্জ (Electric Charge) সংরক্ষণ করতে পারে।

ধারক (Capacitor):
- যে বস্তু আধান ধারণ অর্থাৎ সঞ্চয় করে রাখে, তাকে আধান ধারক বা শুধু ধারক বলে।
- এটি দুটি পরিবাহী প্লেটের মধ্যে একটি ডাই-ইলেকট্রিক (Non-conductive insulating material) পদার্থ দ্বারা গঠিত হয়।
- যখন ক্যাপাসিটরের দুই প্লেটে ভোল্টেজ প্রয়োগ করা হয়, তখন এটি চার্জ জমা করে এবং প্রয়োজনে সেই চার্জ সরবরাহ করতে পারে।

ধরকের কাজ: 
- এটি চার্জ ধরে রাখতে পারে এবং প্রয়োজন হলে নির্দিষ্ট সময়ে চার্জ মুক্ত করতে পারে।
- এটি AC প্রবাহকে পার করতে দেয়, কিন্তু DC প্রবাহকে বাধা দেয়।
- পাওয়ার সার্কিটে সার্কিটের সঠিক ভোল্টেজ বজায় রাখতে সাহায্য করে।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

২০.
মেটেরিওলজির আলোচ্য বিষয় কী?
  1. আবহাওয়া
  2. মহাকাশ
  3. অস্ত্র
  4. জলানুসন্ধান
সঠিক উত্তর:
আবহাওয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আবহাওয়া
ব্যাখ্যা

◉ মেটেরিওলজি (Meteorology) হলো আবহাওয়া ও জলবায়ু সম্পর্কিত বিজ্ঞান।
- এটি বায়ুমণ্ডলের অবস্থা, আবহাওয়ার পরিবর্তন, তাপমাত্রা, বাতাসের গতি, বৃষ্টিপাত, ঝড় এবং জলবায়ুর দীর্ঘমেয়াদী প্রবণতা নিয়ে আলোচনা করে।

মেটেরিওলজির আলোচ্য বিষয়:
- আবহাওয়া পূর্বাভাস (Weather Forecasting), 
- ঝড়, ঘূর্ণিঝড়, টর্নেডো, বৃষ্টিপাত বিশ্লেষণ, 
- বায়ুর চাপ, আর্দ্রতা, তাপমাত্রা ও জলবায়ুর পরিবর্তন, 
- বৈশ্বিক উষ্ণায়ন (Global Warming) এবং জলবায়ু পরিবর্তন গবেষণা। 

অন্যান্য অপশনসমূহ, 
খ) মহাকাশ: এটি অ্যাস্ট্রোনমি (Astronomy) বা অ্যাস্ট্রোফিজিক্স (Astrophysics) এর অন্তর্ভুক্ত।
গ) অস্ত্র: অস্ত্র গবেষণা বলিস্টিক্স (Ballistics) বা মিলিটারি টেকনোলজি এর অন্তর্ভুক্ত।
ঘ) জলানুসন্ধান: জল অনুসন্ধান সংক্রান্ত গবেষণা হাইড্রোলজি (Hydrology) এর অন্তর্ভুক্ত।

উৎস: ব্রিটানিকা। 

২১.
উদ্ভিদের পাতায় অবস্থিত ক্লোরোপ্লাস্টের প্রধান কাজ কী?
  1. সালোকসংশ্লেষণ
  2. শ্বসন
  3. পরাগায়ন
  4. বীজ উৎপাদন
সঠিক উত্তর:
সালোকসংশ্লেষণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সালোকসংশ্লেষণ
ব্যাখ্যা

◉ ক্লোরোপ্লাস্ট (Chloroplast) হলো একটি কোষীয় অঙ্গাণু, যা উদ্ভিদের পাতায় এবং সবুজ অংশে পাওয়া যায়।
- এতে ক্লোরোফিল (Chlorophyll) নামক রঞ্জক পদার্থ থাকে, যা সূর্যের আলো শোষণ করে সালোকসংশ্লেষণ (Photosynthesis) প্রক্রিয়া পরিচালনা করে।

ক্লোরোফিল ও সালোকসংশ্লেষণ:
- ক্লোরোফিলের প্রধান উপকরণ হচ্ছে নাইট্রোজেন এবং ম্যাগনেসিয়াম।
- লোহার অনুপস্থিতিতে পাতা ক্লোরোফিল সংশ্লেষণ করতে পারে না, ফলে পাতা হলুদ হয়ে যায়।
- পাতার ক্লোরোফিলের পরিমাণের সাথে সালোকসংশ্লেষণের হারের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে, কারণ একমাত্র ক্লোরোফিলই আলোকশক্তি গ্রহণ করতে পারে।
- পুরাতন ক্লোরোপ্লাস্ট নষ্ট হয়ে যায় এবং তখন নতুন ক্লোরোপ্লাস্ট সংশ্লেষিত হয়।
- নতুন ক্লোরোপ্লাস্ট এবং ক্লোরোপ্লস্টের উপাদান সৃষ্টির হারের উপর সালোকসংশ্লেষণের হার নিভর্রশীল।
- সালোকসংশ্লেষণ ক্ষমতা রক্ষা করার জন্য ক্লোরোপ্লাস্টের বিভিন্ন উপাদান দ্রুত এবং প্রচুর পরিমাণে পুনর্গঠিত হওয়া প্রয়োজন।
- তবে কোষে খুব বেশি পরিমাণ ক্লোরোফিল থাকলে এনজাইমের অভাব দেখা দেয় এবং সালোকসংশ্লেষণ কমে যায়।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

২২.
X-Ray এর মাধ্যমে কোন রোগ নির্ণয় করা যায়?
  1. ফ্র্যাকচার
  2. নিউমোনিয়া
  3. টিউমার
  4. উপরের সবগুলি
সঠিক উত্তর:
উপরের সবগুলি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপরের সবগুলি
ব্যাখ্যা

◉ এক্স-রে (X-ray) হল এমন একটি ইমেজিং প্রযুক্তি, যা শরীরের অভ্যন্তরীণ কাঠামো পর্যবেক্ষণ করতে ব্যবহৃত হয়।
- এটি হাড়ের সমস্যা, ফুসফুসের রোগ এবং টিউমার শনাক্ত করতে কার্যকর।

এক্স-রে (রঞ্জন রশ্মি):
- জার্মান পদার্থবিদ উইলহেলম রন্টজেন এক্স-রশ্মি আবিষ্কার করেন।
- ১৮৯৫ সালে এক্স-রশ্মি আবিষ্কৃত হয়।
- এক্স-রশ্মি আবিষ্কারের জন্য বিজ্ঞানী রন্টজেন 1901 সালে নোবেল পুরষ্কার লাভ করেন।
- এটি একটি তড়িৎচুম্বকীয় তরঙ্গ।
- এক্স-রশ্মির তরঙ্গদৈর্ঘ্য 10-8 m থেকে 10-13 m পর্যন্ত।
- এক্স-রশ্মি উচ্চভেদন ক্ষমতাসম্পন্ন।

এক্স-রে রশ্মির ব্যবহার:
- হীরক সনাক্তকরণ,
- স্থানচ্যুত হাড়, হাড়ে দাগ বা ফাটল শনাক্ত করা,
- শরীরের ভিতরের কোন বস্তুর বা ফুসফুসে কোন ক্ষতের অবস্থান নির্ণয়,
- গোয়েন্দা বিভাগে কাঠের বাক্স বা চামড়ার থলিতে বিস্ফোরক রাখলে তা খুঁজে বের করতে এক্স রশ্মি বা রঞ্জন রশ্মি ব্যবহৃত হয়।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২৩.
অ্যারোমেটিক হাইড্রোকার্বনের উদাহরণ কোনটি?
  1. মিথেন
  2. টলুইন
  3. ইথেন
  4. সাইক্লোহেক্সেন
সঠিক উত্তর:
টলুইন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
টলুইন
ব্যাখ্যা

◉ টলুইন (C6H5CH3) একটি অ্যারোমেটিক হাইড্রোকার্বন, যা বেনজিন বলয়-এর সাথে একটি মিথাইল (-CH3) গ্রুপ যুক্ত থাকে।

অ্যারোমেটিক যৌগ:
- পিরিডিন অ্যারোমেটিক যৌগের উদাহরণ।
- বলয়াকার যৌগ বেনজিন, বেনজিন জাতক এবং বেনজিনের সমধর্মী যৌগসমূহকে অ্যারোমেটিক যৌগ বলে।
- অ্যারোমেটিক সকল যৌগই চাক্রিক গঠন সম্পন্ন।
- অ্যারোমেটিক চক্রে অন্ততপক্ষে তিনটি কার্বন পরমাণু উপস্থিত থাকে।
- অধিকাংশ ক্ষেত্রে ছয় কার্বন বিশিষ্ট বেনজিন চক্র বিদ্যমান।
- সকল অ্যারোমেটিক যৌগ অসম্পৃক্ত।
- সাইক্লোপ্রোপিন, বেনজিন, টলুইন, ফিউরান, পিরিডিন অ্যারোমেটিক যৌগের উদাহরণ।

উল্লেখ্য, অ্যারোমেটিক হাইড্রোকার্বন (Aromatic Hydrocarbon) হলো এমন যৌগ, যার আণবিক কাঠামোতে এক বা একাধিক বেনজিন (Benzene) বলয় থাকে।
- এদের গঠন সাধারণত চক্রাকার (Cyclic) এবং ইলেকট্রন গুলোর ডেলোকালাইজেশন (Delocalization) থাকার কারণে এটি বিশেষ রাসায়নিক বৈশিষ্ট্য প্রদর্শন করে।

অন্যান্য অপশনসমূহ, 
মিথেন ও ইথেন অ্যালিফ্যাটিক হাইড্রোকার্বন (Alkane),
সাইক্লোহেক্সেন একটি সাইক্লিক (Cyclic) হাইড্রোকার্বন, তবে অ্যারোমেটিক নয়, কারণ এতে ডেলোকালাইজড π-ইলেকট্রন নেই।

তথ্যসূত্র - রসায়ন ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২৪.
দিক নির্ধারণের জন্য কোন যন্ত্র ব্যবহার করা হয়?
  1. কম্পাস
  2. গ্যালভানোমিটার
  3. অ্যামিটার
  4. ভোল্টমিটার
সঠিক উত্তর:
কম্পাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কম্পাস
ব্যাখ্যা

◉ কম্পাস (Compass) হলো একটি যন্ত্র, যা উত্তর-দক্ষিণ দিক নির্ণয় করতে ব্যবহৃত হয়।
-
এতে একটি চুম্বকীয় সূঁচ (Magnetic Needle) থাকে, যা পৃথিবীর চৌম্বক ক্ষেত্রের কারণে সর্বদা চৌম্বকীয় উত্তর (Magnetic North) ও দক্ষিণ (Magnetic South) নির্দেশ করে।

স্থায়ী চুম্বকের ব্যবহার:
- সমুদ্রে জাহাজ নিয়ন্ত্রণের জন্য চৌম্বক কম্পাস বহু শতাব্দী ধরে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।
- এটি Navigation-এর অন্তর্ভুক্ত একটি যন্ত্র।
- পৃথিবীর চুম্বক ক্ষেত্রের প্রভাবে পৃথিবী পৃষ্ঠে মুক্তভাবে ঘূর্ণনক্ষম চুম্বক শলাকা সর্বদা উত্তর দক্ষিণ দিক বরাবর অবস্থান করে।
- চুম্বকের এ ধর্মকে কাজে লাগিয়ে চৌম্বক কম্পাস তৈরি করা হয়েছে।
- চৌম্বক কম্পাস একটি মুক্তভাবে ঘূর্ণনক্ষম চৌম্বক শলাকা দিয়ে গঠিত। চুম্বক শলাকার অবস্থান দেখে দিক নির্ণয় করা হয়।
- এছাড়াও মাইক্রোফোন ও স্পিকার, বৈদ্যুতিক মোটরে ইত্যাদিতে স্থায়ী চুম্বক ব্যবহার করা হয়ে থাকে।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২৫.
উদ্ভিদের মূল দ্বারা শোষিত নাইট্রোজেন কোন রূপে শোষিত হয়?
  1. নাইট্রেট
  2. অ্যামোনিয়া
  3. নাইট্রোজেন গ্যাস
  4. ইউরিয়া
সঠিক উত্তর:
নাইট্রেট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নাইট্রেট
ব্যাখ্যা

◉ উদ্ভিদ মাটিতে থাকা নাইট্রোজেন সরাসরি শোষণ করতে পারে না, কারণ বাতাসে উপস্থিত নাইট্রোজেন গ্যাস (N₂) উদ্ভিদের জন্য অপ্রত্যক্ষভাবে ব্যবহারের উপযোগী নয়।
- উদ্ভিদ প্রধানত নাইট্রেট আয়ন (NO₃⁻) এবং কিছু ক্ষেত্রে অ্যামোনিয়াম আয়ন (NH₄⁺) আকারে নাইট্রোজেন শোষণ করে।

উদ্ভিদের মাটি হতে পুষ্টি উপাদান গ্রহণ: 
- ক্যালসিয়াম মাটিতে নাইট্রোজেন আবদ্ধ করতে মৌল সাহায্য করে।
- মাটিতে নাইট্রোজেন (N) এর পরিমাণ বৃদ্ধি হয় রাইজোবিয়াম জাতীয় উদ্ভিদের মূলের নডিউলে নাইট্রোজেন সংবন্ধন করে।
- মাটিতে নাইটোজেন, অক্সিজেন, কার্বন-ডাই-অক্সাইড সহ ইত্যাদি বায়ুবীয় পদার্থ উপস্থিত থাকে।
- মাটির উর্বরতা বৃদ্ধিতে সাহায্য করে নাইট্রোজেন।
- বাতাসের নাইট্রোজেন পানিতে মিশে মাটিতে শোষিত হওয়ার পরে মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি করে।
- নাইট্রেট হিসাবে উদ্ভিদ মাটি থেকে নাইট্রোজেন গ্রহণ করে।
- উদ্ভিদ মাটি থেকে বেশি পরিমাণে গ্রহণ করে নাইট্রোজেন।

উৎস: বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২৬.
আলোর মরীচিকা (Mirage) কী কারণে ঘটে?
  1. আলোর বিচ্ছুরণ
  2. আলোর ব্যতিচার
  3. আলোর প্রতিসরণ
  4. পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন
সঠিক উত্তর:
পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন
ব্যাখ্যা

◉ আলোর মরীচিকা (Mirage) হলো একটি আলোক বিভ্রম (Optical Illusion), যা গরম মরুভূমি বা পিচঢালা রাস্তায় ঘটে। এটি মূলত আলোর অভ্যন্তরীণ প্রতিফলনের কারণে ঘটে।

মরীচিকা: 
- পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলনের কারণে মরুভূমিতে সৃষ্ট মরীচিকা অতি পরিচিত উদাহরণ।
- উত্তপ্ত মরুভূমিতে মরুচারী পথিক প্রায়শ মরীচিকা দেখতে পান এবং বিভ্রান্ত হন। মরীচিকা হল এক ধরণের দৃষ্টি ভ্রম।
- প্রচন্ড সূর্য তাপে মরুভূমির বালু খুব তাড়াতাড়ি গরম হয়। ফলে বালু সংলগ্ন বাতাসও খুব গরম হয়। এতে বালু সংলগ্ন স্তরের বায়ু খুব হালকা হয়।
- ভূ-পৃষ্ঠ থেকে যত উপরে ওঠা যায় বায়ু স্তরের তাপমাত্রা তত কম হয়। তাই ভূ সংলগ্ন বায়ু স্তর থেকে যতই ওপরে ওঠা যায় বায়ু স্তর তত ঘন হয়।
- এঅবস্থায় মরুভূমিতে দূরে কোন খেজুর গাছ থেকে পথিকের চোখে আসা আলোক রশ্মি ধাপে ধাপে ঘনতর মাধ্যম থেকে লঘুতর মাধ্যমে প্রবেশ করতে থাকে, ফলে প্রতিসরিত রশ্মি অভিলম্ব থেকে ক্রমশ দূরে সরে যেতে থাকে।
- এভাবে বাঁকতে বাঁকতে এমন কোন স্তরে পৌঁছায় যেখানে আপতন কোণ ক্রান্তি কোণের চেয়ে বড় হয়।
- ফলে আপতিত আলোক রশ্মির প্রতিসরণ না হয়ে পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন হয়।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

২৭.
মানবদেহে রোগজীবাণুর আক্রমণের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় প্রতিরক্ষা স্তরে কোনটি ভূমিকা পালন করে?
  1. লিম্ফোসাইট
  2. ত্বক
  3. ইন্টারফেরন
  4. পাকস্থলীর অ্যাসিড
সঠিক উত্তর:
ইন্টারফেরন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইন্টারফেরন
ব্যাখ্যা

◉ ইন্টারফেরন (Interferon) এক ধরনের প্রোটিন, যা ভাইরাস আক্রান্ত কোষ থেকে নিঃসৃত হয় এবং অন্যান্য কোষকে ভাইরাস সংক্রমণের বিরুদ্ধে সতর্ক করে।
- এটি ভাইরাস প্রতিরোধী প্রোটিন তৈরি করতে সাহায্য করে, যা ভাইরাসের বিস্তার কমায়।
- এটি প্রাকৃতিক রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার (Innate Immunity) অংশ।

মানবদেহে রোগজীবাণুর আক্রমণের বিরুদ্ধে তিন স্তরবিশিষ্ট প্রতিরোধব্যবস্থা বিদ্যমান। যথা-
১. প্রথম প্রতিরক্ষা স্তর:
- প্রতিরক্ষাব্যবস্থার প্রথম স্তর হলো প্যাথোজেনকে (রোগজীবাণুকে) দেহের অভ্যন্তরে প্রবেশে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা।
- এ ব্যবস্থায় আছে-
(i) ত্বক,
(ii) মিউকাস মেমব্রেন,
(iii) শ্বসনতন্ত্রের সিলিয়া,
(iv) পাকস্থলীর অ্যাসিড এবং
(v) চোখের আবরণ ও অশ্রু।

২. দ্বিতীয় প্রতিরক্ষা স্তর:
- প্রথম প্রতিরক্ষা স্তর অতিক্রম করে কোনো রোগজীবাণু দেহাভ্যন্তরে প্রবেশ করতে গেলে দ্বিতীয় প্রতিরক্ষাব্যবস্থা দ্বারা প্রতিহত হয়।
- এ ব্যবস্থায় আছে-
(i) ব্যাথাদায়ক সাড়া,
(ii) ফ্যাগোসাইটসমূহ,
(iii) কমপ্লিমেন্ট,
(iv) ইন্টারফেরন এবং
(v) ন্যাচারাল কিলার সেল।

৩. তৃতীয় প্রতিরক্ষা স্তর:
- এ ব্যবস্থায় আছে-
(i) লিম্ফোসাইট,
ii) MHC অণু এবং
(ii) ক্লোনাল সিলেকশন।

উৎস: জীববিজ্ঞান-প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান।

২৮.
নিম্নলিখিত কোন ফুলে বায়ু দ্বারা পরাগায়ন হয়?
  1. গোলাপ
  2. ভুট্টা
  3. সূর্যমুখী
  4. জুঁই
সঠিক উত্তর:
ভুট্টা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভুট্টা
ব্যাখ্যা

◉ ভুট্টা (Maize) একটি বায়ুপরাগী উদ্ভিদ। এর পুরুষ ফুল (Tassel) বাতাসে পরাগ ছড়িয়ে দেয় এবং স্ত্রী ফুল (Silk) সেই পরাগ গ্রহণ করে।

বায়ুর মাধ্যমে পরাগায়ন:
- যে ফুলের পরাগায়ন বায়ুর সাহায্যে সম্পন্ন হয়ে থাকে তাকে বায়ু পরাগী ফুল বলে এবং এ প্রক্রিয়াকে বায়ু পরাগায়ন বলে।
- বায়ু পরাগী ফুল সাধারণত আকর্ষণহীন হয়। এ সমস্ত ফুল আকারে ছোট, ফলে এদের পরাগরেণু ক্ষুদ্র ও হালকা হয়।
- এদের পরাগরেণু হালকা হওয়ায় সহজেই বাতাসে ভেসে বেড়াতে পারে।
- এ জাতীয় উদ্ভিদের ফুলে অসংখ্য পরাগরেণু সৃষ্টি হয়, কেননা বায়ুর মাধ্যমে পরাগরেণু স্থানান্তরের সময় অনেক পরাগরেণু নষ্ট হয়ে যায়।
- বাতাসে ভেসে আসা পরাগরেণু ধরার জন্য এসকল উদ্ভিদের ফুলের গর্ভমুন্ড পাখির পালকের মত রোমশ হয়।
- পাইনাস, ধান, গম, ভুট্টা, ইক্ষু, ঘাস জাতীয় উদ্ভিদে এ প্রক্রিয়ায় পরাগায়ন ঘটে।

অন্যান্য অপশনসমূহ, 
গোলাপ, সূর্যমুখী ও জুঁই হচ্ছে পতঙ্গ পরাগী ফুল। 

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।