পরীক্ষা আর্কাইভ

১০০ দিনে বিসিএস প্রস্তুতি [বিষয়ভিত্তিক]

পরীক্ষা১০০ দিনে বিসিএস প্রস্তুতি [বিষয়ভিত্তিক]তারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়27 minutes
মোট প্রশ্ন১৭
সিলেবাস
পরীক্ষা - ৩: বিষয়ের নাম: বাংলা সাহিত্য - সম্পূর্ণ সিলেবাস [৮০ নম্বর] উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ষষ্ঠ থেকে উচ্চমাধ্যমিক সাহিত্য পাঠ বোর্ড বই, বাংলাপিডিয়া, লাল নীল দীপাবলি, যেকোনো গাইড বই ইত্যাদি।
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

১০০ দিনে বিসিএস প্রস্তুতি [বিষয়ভিত্তিক]

১০০ দিনে বিসিএস প্রস্তুতি [বিষয়ভিত্তিক] · তারিখ অনির্ধারিত · ১৭ প্রশ্ন

.
'বুলবুলিস্তান' গ্রন্থটি রচনা করেন কে?
  1. ক) ফররুখ আহমেদ
  2. খ) গোলাম মোস্তফা
  3. গ) কায়কোবাদ
  4. ঘ) আসকার ইবনে শাইখ
ব্যাখ্যা
• গোলাম মোস্তফা:
- গোলাম মোস্তফা কবি ও লেখক।
- যশোর (বর্তমান ঝিনাইদহ) জেলার শৈলকুপা উপজেলার মনোহরপুর গ্রামে তাঁর জন্ম।
- তাঁর পিতা গোলাম রববানী এবং পিতামহ কাজী গোলাম সরোয়ার দুজনেই ছিলেন লোককবি।
- গোলাম মোস্তফা পাকিস্তানি আদর্শে বিশ্বাসী ছিলেন এবং ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের সময় উর্দুর প্রতি সমর্থন জ্ঞাপন করেন।
- ১৯৪৯ সালে গঠিত পূর্ববঙ্গ সরকারের ভাষা সংস্কার কমিটির সচিব হিসেবে তিনি কাজ করেন।
- তিনি গদ্য ও পদ্য রচনায় সমান দক্ষ ছিলেন, তবে কবি হিসেবেই তাঁর মুখ্য পরিচয় ছিল।

• তাঁর কাব্য:  
- রক্তরাগ,  
- খোশরোজ, 
- কাব্য-কাহিনী, 
- সাহারা,  
- হাসনেহেনা, 
- বুলবুলিস্তান,  
- তারানা-ই-পাকিস্তান, 
- বনিআদম,  
- গীতিসঞ্চালন ইত্যাদি ।

• তাঁর গদ্যরচনার মধ্যে  রয়েছে:
- বিশ্বনবী (১৯৪২),
- ইসলাম ও কমিউনিজম (১৯৪৬),
- ইসলাম ও জেহাদ (১৯৪৭),
- আমার চিন্তাধারা (১৯৫২),
- পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা ইত্যাদি।

- তাঁর বিশ্বনবী গ্রন্থখানি বেশ জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিল।
- এতে তিনি হযরত মুহাম্মদ (স.)-কে ঐতিহাসিক মহামানব হিসেবে মূল্যায়ন করেছেন।
- গোলাম মোস্তফার কাব্যের উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হলো সহজ ও শিল্পসম্মত প্রকাশভঙ্গি এবং ছন্দোলালিত্য।
- সাহিত্য-সংস্কৃতিতে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি যশোর সংঘ কর্তৃক ‘কাব্য সুধাকর’ (১৯৫২) এবং পাকিস্তান সরকার কর্তৃক ‘সিতারা-ই-ইমতিয়াজ’ (১৯৬০) উপাধি লাভ করেন। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া। 
.
আনিসুজ্জামানের রচিত গ্রন্থ নয় কোনটি?
  1. ক) স্বরূপের সন্ধানে
  2. খ) বাঙালী মুসলমানের মন
  3. গ) আঠারো শতকের বাংলা চিঠি
  4. ঘ) বাঙালি নারী: সাহিত্য ও সমাজে
ব্যাখ্যা
• আনিসুজ্জামান:
- লেখক আনিসুজ্জামান এর প্রকৃত নাম এ.টি.এম. আনিসুজ্জামান।
- ১৯৬২ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে 'ইংরেজি আমলের বাংলা সাহিত্যে বাঙালি মুসলমানের চিন্তাধারা' শিরোনামে ডক্টরেট লাভ করেন। এই গবেষণাপত্রকে তিনি ‘মুসলিম মানস ও বাংলা সাহিত্য (১৯৬৪) নামে গ্রন্থরূপ দেন।
- তিনি রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ২০০৫ সালে সম্মানিক ডি.লিট. পদক লাভ করেন।
- এছাড়াও ভারত সরকারের পদ্মভূষণ লাভ করে ২০১৪ সালে।

• তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের নাম:
-স্বরূপের সন্ধানে, 
- আঠারো শতকের বাংলা চিঠি, 
- বাঙালি নারী: সাহিত্য ও সমাজে, 
- কাল নিরবধি। 

'বাঙালী মুসলমানের মন' প্রবন্ধগ্রন্থটি রচনা করেন আহমদ ছফা। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
.
দাউদ হায়দার রচিত গ্রন্থ নয় কোনটি?
  1. ক) জন্মই আমার আজন্ম পাপ
  2. খ) তোমাকে অভিবাদন প্রিয়তমা
  3. গ) এই শাওনে এই পরবাসে
  4. ঘ) আমি ভাল আছি তুমি
ব্যাখ্যা
• দাউদ হায়দার:
- ১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি, পাবনার দোহার নামক স্থানে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। 
- তিনি মূলত লেখক। 

• তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ:
- জন্মই আমার আজন্ম পাপ, 
- এই শাওনে এই পরবাসে, 
- আমি ভাল আছি তুমি, 
- পাথরের পুঁথি। 

• ব্রি:দ্র: 'তোমাকে অভিবাদন প্রিয়তমা' শহীদ কাদেরীর কাব্যগ্রন্থ। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
.
'এক পথ দুই বাঁক' নীলিমা ইব্রাহিমের একটি -
  1. ক) উপন্যাস
  2. খ) নাটক
  3. গ) ভ্রমণ কাহিনী
  4. ঘ) ছোটগল্প
ব্যাখ্যা
• নীলিমা ইব্রাহিম:
- নীলিমা ইব্রাহিমের জন্ম ১৯২১ সালের ১১ অক্টোবর বাগেরহাট জেলার ফকিরহাট উপজেলার মূলঘর গ্রামের এক জমিদার পরিবারে।
- নীলিমা ইব্রাহিম বহু জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সমাজকল্যাণ ও নারী-উন্নয়সংস্থা এবং বুদ্ধিবৃত্তিক সংগঠনের সঙ্গে যু্ক্ত ছিলেন।
- তিনি আমৃত্যু মানুষের শুভ ও কল্যাণী চেতনায় আস্থাশীল ছিলেন। মুক্তবুদ্ধি, অসাম্প্রদায়িক চেতনা ও উদার মানবিকতাবোধই ছিল তাঁর জীবনদর্শন।

নীলিমা ইব্রাহিম বেশকিছু উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ ও প্রবন্ধ রচনা করেছেন।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য উপন্যাস:
- বিশ শতকের মেয়ে,
- এক পথ দুই বাঁক,
- কেয়াবন সঞ্চারিণী,
- বহ্নিবলয়;

• নাটক:
- দুয়ে দুয়ে চার,
- যে অরণ্যে আলো নেই,
- রোদ জ্বলা বিকেল,
- সূর্যাস্তের পর;


উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
.
'আদর্শ হিন্দু হোটেল' উপন্যাসটির রচয়িতা কে?
  1. ক) বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
  2. খ) তারাশংকর বন্দ্যোপাধ্যায়
  3. গ) সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
  4. ঘ) বন্দে আলী মিয়া
ব্যাখ্যা
• আদর্শ হিন্দু হোটেল:
- বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস 'আদর্শ হিন্দু হোটেল'। 
- বিভূতিভূষণের বাস্তব অভিজ্ঞতার মানুষ, আদর্শ হিন্দু হোটেল উপন্যাসের প্রধান চরিত্র হাজারি ঠাকুরের অপূর্ণ স্বাদ ও আকাঙ্খাকেই উপন্যাসে রূপদানের প্রয়াস করা হয়েছে।
- নিজের অক্লান্ত পরিশ্রমের ফলস্বরূপ নিজে যেমন প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন তেমনিভাবে লাভ করেছেন মানুষের ভালোবাসা। 
- উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় ১৯৪০ সালে।
-----------------------
• বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়:
- বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় ১৮৯৪ সালে চব্বিশ পরগনায় মুরারিপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি বাংলা কথা সাহিত্যের সবচেয়ে জনপ্রিয় শিল্পী।
- বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের রচিত শেষ উপন্যাস ‘ইছামতী’ প্রকাশিত হয় ১৯৫০ সালে।
- মানুষের জীবনের কথা এই উপন্যাসের মূল উপজীব্য।
- ‘ইছামতী’ উপন্যাসের জন্য তিনি রবীন্দ্র পুরস্কার (১৯৪৯) লাভ করেন।
- ১৯৫০ সালের ১লা সেপ্টেম্বর তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

⇒ তাঁর রচিত গ্রন্থ: 
• উপন্যাস:
- পথের পাঁচালী, 
- অপরাজিত, 
- অশনি সংকেত, 
- আরণ্যক, 
- আদর্শ হিন্দু হোটেল, 
- দেবযান, 
- ইছামতী, 
- দৃষ্টি প্রদীপ,  
- চাঁদের পাহাড়।  

• ছোটগল্প:
- মেঘমল্লার,  
- মৌরীফুল,  
- যাত্রাবদল,  
- কিন্নরদল ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
.
'বুকের ভিতর আগুন' গ্রন্থটির রচয়িতা কে?
  1. ক) দাউদ হায়দার
  2. খ) নীলিমা ইব্রাহিম
  3. গ) জাহানারা ইমাম
  4. ঘ) সেলিনা হোসেন
ব্যাখ্যা
• জাহানারা ইমাম:
- অবিভক্ত বাংলার মুর্শিদাবাদ জেলার সুন্দরপুর গ্রামের এক রক্ষণশীল পরিবারে ১৯২৯ সালের ৩ মে জাহানারা ইমাম জন্মগ্রহণ করেন। 
- তিনি শহীদ জননী হিসেবে খ্যাত।
- মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়ন ও ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটির আহবায়করূপে তিনি ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেন।
- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক একটি শিহরণমূলক ও মর্মস্পর্শী ঘটনাবৃত্তান্ত হলো একাত্তরের দিনগুলি।
- ১৯৮১-র দিকে জাহানারা ইমাম মুখের ক্যান্সারে আক্রান্ত হন।
- ১৯৯৪ সালের ২৬ জুন আমেরিকার মিশিগান স্টেটের ডেট্রয়েটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর জীবনাবসান ঘটে।
- পরবর্তীতে সেখান থেকে ঢাকায় এনে তাঁকে সমাহিত করা হয়।

• তাঁর রচিত কয়েকটি গ্রন্থ:
- সাতটি তারার ঝিকিমিকি, 
- অন্যজীবন, 
- বুকের ভিতর আগুন
- নাটকের অবসান, 
- নিঃসঙ্গ পাইন, 
- ক্যানসারের সঙ্গে বসবাস,
- প্রবাসের দিনগুলি।

• একাত্তরের দিনগুলি:
- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের উপর স্মৃতিচারণমূলক তাঁর অসাধারণ ডায়েরি গ্রন্থ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
.
উইলিয়াম কেরী রচিত গ্রন্থ কোনটি?
  1. ক) কথোপকথন
  2. খ) হিতোপদেশ
  3. গ) বত্রিশ সিংহাসন
  4. ঘ) লিপিমালা
ব্যাখ্যা
• ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ: 
- লর্ড ওয়েলেসলী ১৮০০ সালে কলকাতায় ফোর্ট উইলিয়ম কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন। 
- বাংলাসহ ভারতের অনেক ভাষা বিশেষজ্ঞ ও ধর্মপ্রচারক উইলিয়াম কেরীকে স্থানীয় ভাষা বিভাগের প্রধান নিয়োগ করা হয়।
- ১৮০১ সালের মে মাসে উইলিয়াম কেরী ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক নিযুক্ত হন।
- পরবর্তীতে ১৮০৫ সালের মধ্যে কলেজে মোট ১২টি অনুষদ খোলা হয়।

 • উইলিয়াম কেরী: 
- উইলিয়াম কেরি ছিলেন একজন ইংরেজ মিশনারি।
- বাংলা গদ্যের বিকাশে এই বিদেশের অবদান সর্বাধিক।
- তিনি ইতিহাসমালা ও কথোপকথন নামে দুটি মৌলিক গ্রন্থ রচনা করেন।
- ইতিহাসমালা বাংলা ভাষার প্রথম গল্পসংগ্রহ।
- ১৮১০ সালে তিনি দরিদ্র কৃষকদের জন্য কলকাতায় বোর্ডিং স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন।

• অন্যদিকে: 
- হিতোপদেশ, বত্রিশ সিংহাসন - মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কারের রচনা। 
- লিপিমালা- রাম রাম বসু রচনা করেন। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর, লাল নীল দীপাবলি (হুমায়ুন আজাদ) এবং বাংলাপিডিয়া। 
.
আবু ইসহাক রচিত 'সূর্য দীঘল বাড়ী' উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র কোনটি?
  1. ক) জামিলা
  2. খ) জয়গুন
  3. গ) শশী
  4. ঘ) তাহেরা
ব্যাখ্যা
• সূর্য দীঘল বাড়ী:
- 'সূর্য দীঘল বাড়ী' আবু ইসহাক রচিত একটি সামাজিক উপন্যাস। 
- ১৯৫৫সালে উপন্যাসটি প্রকাশিত হয়। 
- বাংলাদেশের গ্রাম জীবনের বিশ্বস্ত দলিল এই গ্রন্থ। 
- বিশ্বযুদ্ধ, দুর্ভিক্ষ, সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা, দেশবিভাগ প্রভৃতি পরপর চারটি বড় ঐতিহাসিক ঘটনার পটভূমিতে তিনি রচনা করেন 'সূর্য দীঘল বাড়ী' 
- জয়গুন এই উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র।
- উপন্যাসের অন্যান্য চরিত্র: হাসু, মায়মুন, শাফি, ডা. রমেশ চক্রবর্তী, মোরল গদু ইত্যাদি। 
------------------------
• আবু ইসহাক: 
- আবু ইসহাক কথাসাহিত্যিক, অভিধান-প্রণেতা। জন্ম শরিয়তপুর জেলার শিরঙ্গল গ্রামে, ১৯২৬ সালের ১ নভেম্বর। 
- কাজী নজরুল ইসলাম সম্পাদিত নবযুগ পত্রিকায় আবু ইসহাকের ‘অভিশাপ’ নামে একটি গল্প প্রকাশিত হয়।
- পরে কলিকাতার সওগাত, আজাদ প্রভৃতি পত্রিকায় তাঁর বিভিন্ন রচনা প্রকাশিত হয়। 
- আবু ইসহাকের দ্বিতীয় উপন্যাস পদ্মার পলিদ্বীপ (১৯৮৬); এ উপন্যাসে পদ্মার বুকে জেগে-ওঠা চরের শ্রমজীবী মানুষের জীবন-সংগ্রামের কথা আছে।
- তাঁর তৃতীয় উপন্যাস জাল। এটি গোয়েন্দা জাতীয় উপন্যাস।
- সাহিত্যকর্মে অবদানের জন্য আবু ইসহাক ‘বাংলা একাডেমী সাহিত্য পুরস্কার’ (১৯৬৩), ‘সুন্দরবন সাহিত্য পদক’ (১৯৮১), ‘বাংলাদেশ লেখিকা সংঘ সাহিত্য পদক’ (১৯৯০),  ‘একুশে পদক’ (১৯৯৭), ‘স্বাধীনতা পদক’ এবং ‘শিশু একাডেমী পদক’ (মরণোত্তর, ২০০৬) লাভ করেন।
- ২০০৩ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় তাঁর মৃত্যু হয়। 

• আবু ইসহাক রচিত অন্যান্য উপন্যাস: 
- পদ্মার পলিদ্বীপ,
- জাল।  

• তাঁর গল্পগ্রন্থ:
- হারেম, 
- মহাপতঙ্গ। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
.
আলাউদ্দিন আল আজাদ রচিত 'স্মৃতিস্তম্ভ' কবিতাটি তাঁর কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত?
  1. ক) জেগে আছি
  2. খ) মানচিত্র
  3. গ) ভোরের নদীর মোহনায় জাগরণ
  4. ঘ) স্বপ্নশিলা
ব্যাখ্যা
• আলাউদ্দিন আল আজাদ:
- আলাউদ্দিন আল আজাদ একজন  শিক্ষাবিদ, কবি, কথাশিল্পী, প্রাবন্ধিক, শিশুসাহিত্যিক, গবেষক, সাহিত্য-সমালোচক।
- তিনি  ১৯৩২ সালের  ৬ মে , নরসিংদী জেলার রায়পুর থানার রামনগর গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন।
- আলাউদ্দিন আল আজাদ রচিত কবিতা 'স্মৃতিস্তম্ভ' মানচিত্র কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত। 

• তাঁর রচিত উপন্যাস :
- তেইশ নম্বর তৈলচিত্র, 
- শীতের শেষ রাত বসন্তের প্রথম দিন, 
- কর্ণফুলী, 
- ক্ষুধা ও আশা, 
- খসড়া কাগজ, 
- স্বপ্নশিলা, 
- বিশৃঙ্খলা।  

• কাব্যগ্রন্থ:
- মানচিত্র, 
- ভোরের নদীর মোহনায় জাগরণ, 

• গল্পগ্রন্থ:
- জেগে আছি, 
- মৃগনাভি, 
- ধানকন্যা, 
- যখন সৈকত, 
- অন্ধকার সিঁড়ি, 
- জীবনজামিন,  
- আমার রক্ত স্বপ্ন আমার। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর। 
১০.
‘রেইনকোট’ গল্পটি রচিত হয়েছে কোন প্রেক্ষাপটে?
  1. ক) ভাষা আন্দোলন
  2. খ) মুক্তিযুদ্ধ
  3. গ) ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান
  4. ঘ) প্রাকৃতিক দুর্যোগ
ব্যাখ্যা
• আখতারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত রেইনকোট গল্পটিতে মনস্তাত্ত্বিক ব্যাপার থাকলেও একটি মূলত প্রতীকী গল্প।
- মুক্তিযোদ্ধা শ্যালকের রেইনকোট গায়ে দিয়ে ভীতু প্রকৃতির নুরুল হুদার মধ্যে সঞ্চারিত হয় যে উষ্ণতা, সাহস ও দেশপ্রেম - তারই ব্যঞ্জণাময় প্রকাশ ঘটেছে এ গল্পে।

• আখতারুজ্জামান ইলিয়াস:
- আখতারুজ্জামান ইলিয়াস হলেন কথাসাহিত্যিক।
- পূর্ণনাম আখতারুজ্জামান মুহম্মদ ইলিয়াস।
- ১৯৪৩ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি গাইবান্ধা জেলার গোটিয়া গ্রামে মাতুলালয়ে তাঁর জন্ম।

 তাঁর উল্লেখযোগ্য উপন্যাস: 
→ চিলেকোঠার সেপাই,
→ খোয়াবনামা। 

তাঁর উল্লেখযোগ্য: 
→ অন্যঘরে অন্যস্বর, 
→ খোঁয়ারি, 
→ দুধভাতে উৎপাত, 
→ দোজখের ওম, 

- বাংলা ভাষা ও বাংলা সাহিত্যে অবদানের জন্য তিনি ‘বাংলা একাডেমী পুরস্কার’ (১৯৮২), খোয়াবনামা  উপন্যাসের জন্য ‘সাদত আলী আখন্দ পুরস্কার’ (১৯৯৫) ও কলকাতার ‘আনন্দ পুরস্কার’ (১৯৯৬) লাভ করেন।
- তাঁর রচনা কয়েকটি ভারতীয় ভাষাসহ অন্যান্য ভাষায় অনূদিত হয়েছে।
- তাঁর চিলেকোঠার সেপাই  নাটকে রূপায়িত হয়েছে।
- আখতারুজ্জামান ইলিয়াস ১৯৯৭ সালের ৪ জানুয়ারি ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন।

উৎস: সাহিত্য পাঠ, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির বোর্ড বই, বাংলাপিডিয়া।
১১.
নিচের কোনটি নির্মলেন্দু গুণের কাব্যগ্রন্থ নয়?
  1. ক) পৃথিবীজোড়া গান
  2. খ) দীর্ঘ দিবস দীর্ঘ রজনী
  3. গ) তার আগে চাই সমাজতন্ত্র
  4. ঘ) গোলাপ কেন কালো
ব্যাখ্যা
• নির্মলেন্দু গুণ:
- ১৯৪৫ সালে নেত্রকোণার বারহাট্টার কাশবন গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- নির্মলেন্দু গুণ এর সম্পূর্ণ নাম নির্মলেন্দু প্রকাশ  গুণ চৌধুরী।
- নির্মলেন্দু প্রকাশ গুণ চৌধুরী কে কবিদের কবি বলা হয়। 
- তাঁকে  ১৯৮২ সালে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কারে ভূষিত করা হয়।
- এছাড়া ১৯৮২ সালেই আলাওল সাহিত্য পুরস্কার, ২০০১ সালে একুশে পদক প্রদান করা হয়। 

• নির্মলেন্দু গুণের কাব্যগুলো হলো :
- প্রেমাংশুর রক্ত চাই, 
- না প্রেমিক না বিপ্লবী, 
- দীর্ঘ দিবস দীর্ঘ রজনী
- ও বন্ধু আমার, 
- তার আগে চাই সমাজতন্ত্র, 
- চাষাভূষার কাব্য, 
- পৃথিবীজোড়া গান
- দূর হ দুঃশাসন। 

⇒ বি:দ্র: গোলাপ কেন কালো' উপন্যাসের রচয়িতা বুদ্ধদেব বসু। 

উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর। 
১২.
ওঙ্কার উপন্যাসটি কোন পটভূমিতে লেখা হয়েছে?
  1. ক) মুক্তিযুদ্ধ
  2. খ) ভাষা আন্দোলন
  3. গ) ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান
  4. ঘ) দেশভাগ
ব্যাখ্যা
• ওঙ্কার:
- ওঙ্কার উপন্যাসটি মূলত ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের পটভূমিতে লেখা হয়েছে।
- আহমদ ছফা রচিত ওঙ্কার উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় ১৯৭৫ সালে। 
- আহমদ ছফা রচিত এই উপন্যাসের নায়ক, আবু নসরের বোবা মেয়েকে বিয়ে করে।
- আবু নসরের সঙ্গে আইয়ুব খানের সম্পর্ক থাকায় সে এক ধরনের ক্ষমতা লাভ করে।
- আর এই ঘটনার সূত্র ধরে উপন্যাসটির কাহিনী গতি লাভ করেছে।
- ওঙ্কার উপন্যাস অবলম্বনে 'বাঙলা' চলচ্চিত্র নির্মিত হয়। 
-------------------

• আহমদ ছফা:
- আহমদ ছফা প্রতিবাদী লেখক, প্রগতিপন্থি সাহিত্যকর্মী ও সংগঠক।
- ১৯৪৩ সালের ৩০ জুন  চট্টগ্রাম জেলার  চন্দনাইশ উপজেলার গাছবাড়িয়া গ্রামের এক মধ্যবিত্ত পরিবারে তাঁর জন্ম। 
- ষাটের দশকে তাঁর সাহিত্য-জীবনের সূচনা হয়।
- সৃষ্টিধর্মী লেখক হিসেবে তিনি গল্প,  উপন্যাস, কবিতা, প্রবন্ধ, সমালোচনা, অনুবাদ,  শিশুসাহিত্য ইত্যাদি ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য কৃতিত্ব দেখান।
- ছফার চিন্তার প্রতিফলন ঘটেছে তাঁর দুটি উল্লেখযোগ্য রচনা বুদ্ধিবৃত্তির নতুন বিন্যাস ও বাঙালি মুসলমানের মন-এ।
- তাঁর মৃত্যু হয় ২০০১ সালের ২৮ জুলাই।

• আহমদ ছফা রচিত উপন্যাস:
- সূর্য তুমি সাথী,
- ওঙ্কার,
- মরণ বিলাস,
- গাভি বিত্তান্ত,
- অর্ধেক নারী অর্ধেক ঈশ্বরী,
- পুষ্পবৃক্ষ ও বিহঙ্গপুরাণ,
- একজন আলী কেনানের উত্থান-পতন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৩.
নিচের কোনটি দিলারা হাসেম রচিত উপন্যাস?
  1. ক) জন্মই আমার আজন্ম পাপ
  2. খ) বাংলার মাটি বাংলার জল
  3. গ) ঘর মন জানালা
  4. ঘ) সাজাহান
ব্যাখ্যা
• ঘর মন জানালা' উপন্যাসটির রচয়িতা- 'দিলারা হাসেম'
- 'ঘর মন জানালা' ১৯৬৫ সালে প্রকাশিত হয়। 

• দিলারা হাসেম: 
- দিলারা হাসেম একজন প্রসিদ্ধ বাংলাদেশী লেখক এবং বিখ্যাত ঔপন্যাসিক।
- ১৯৩৬ সালে যশোরে জন্মগ্রহণ করেন।  

• তাঁর রচিত উপন্যাস: 
- ঘর মন জানালা,
- একদা এবং অনন্ত,
- স্তব্ধতার কানে কানে,
- আমলকির মৌ,
- বাদামী বিকেলের গল্প,
- কাকতালীয়,
- শঙ্খকরাত,
- অনুক্ত পদাবলী। 


• অন্যদিকে: 
- 'জন্মই আমার আজন্ম পাপ' দাউদ হায়দার কর্তৃক রচিত একটি কাব্য।
- 'বাংলার মাটি বাংলার জল' বাংলাদেশের কবিদের কবি নির্মলেন্দু গুণের একটি কাব্যগ্রন্থ।
- 'সাজাহান' দ্বিজেন্দ্রলাল রায় রচিত বাংলা সাহিত্যের একটি ঐতিহাসিক নাটক।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর। 
১৪.
বাংলা ভাষায় বৈষ্ণব পদাবলির আদি রচয়িতা কে?
  1. ক) জ্ঞানদাস
  2. খ) চণ্ডীদাস
  3. গ) বিদ্যাপতি
  4. ঘ) গোবিন্দদাস
ব্যাখ্যা
• চণ্ডীদাস:
- বাংলা ভাষায় বৈষ্ণব পদাবলির আদি রচয়িতা কবি চণ্ডীদাস।
- তাঁর রাধাকৃষ্ণ বিষয়ক পদাবলি যুগ যুগ ধরে বাঙালির হৃদয়কে সীমাহীন রসমাধুর্যে পরিপূর্ণ করে তুলেছে।
- চণ্ডীদাস রাধাকে কৃষ্ণপ্রেমে আত্মহারারূপে চিত্রিত করেছেন।
- দেহগত কামনা- বাসনা রাধাচরিত্রে প্রাধান্য পায় নি। কবি তাকে মর্ত্যলোক থেকে বহু দূরদুর্গম অধ্যাত্মতীর্থে স্থান দিয়েছেন।
- চণ্ডীদাস রাধার কামগন্ধহীন প্রেম অত্যন্ত সহজ সরল কথায় ছন্দে ও অলঙ্কার প্রয়োগে প্রস্ফুটিত করেছেন।
- কবি রাধার চরিত্রে মিলনের আনন্দের চেয়ে বিচ্ছেদের বেদনা তীব্রতর করে রূপ দিয়েছেন।

⇒ কবি এই অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে বলেছেন :
এমন পিরীতি কভু নাহি দেখি শুনি।
পরাণে পরাণ বান্ধা আপনা আপনি॥
দুহুঁ কোরে দুহুঁ কাঁদে বিচ্ছেদ ভাবিয়া।
আধ তিল না দেখিলে যায় যে মরিয়া॥

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক।
১৫.
মহাভারতের প্রথম বাংলা অনুবাদক কে?
  1. ক) কৃত্তিবাস ওঝা
  2. খ) মালাধর বসু
  3. গ) শ্রীকর নন্দী
  4. ঘ) কবীন্দ্র পরমেশ্বর
ব্যাখ্যা
• কবীন্দ্র পরমেশ্বর ও পরাগলী মহাভারত: 
⇒ বাংলা ভাষায় মহাভারত কাব্যের প্রথম অনুবাদক কবি ছিলেন ‘পরাগলী মহাভারতের' লেখক কবীন্দ্র পরমেশ্বর।
- গৌড়েশ্বর সুলতান আলাউদ্দিন হুসেন শাহের সেনাপতি লস্কর পরাগল খানের উৎসাহে কবি এ কাব্য রচনা করেছিলেন বলে কাব্যটি পরাগলী মহাভারত নামে খ্যাত।
- পরাগল খাঁ মহাভারতের কৌতূহলোদ্দীপক যুদ্ধকাহিনি শুনে মুগ্ধ হন এবং তা সংক্ষিপ্ত আকারে একদিনে শোনার উপযোগী করে রচনা করার জন্য সভাকবি কবীন্দ্র পরমেশ্বরকে নির্দেশ দেন।
- মহাভারত মুখ্যত রাজবংশের ইতিহাস বলে শাসকদের কাছে তা উপভোগ্য হওয়ার অধিকারী ছিল।
- পরাগল খাঁর এই নির্দেশে কবি খুব সংক্ষেপে মহাভারত অনুবাদ করেন।

• তাছাড়া:  
- কৃত্তিবাস ওঝা অনুবাদ করেছেন- রামায়ণ। 
- মালাধর বসু ভগবতের প্রথম বাংলা অনুবাদক।
- শ্রীকর নন্দী রচিত গ্রন্থ 'ছুটিখানি মহাভারত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস- মাহবুবুল আলম, বাংলাপিডিয়া।
১৬.
বঙ্গবন্ধুর জীবনী নিয়ে নির্মিত 'পলাশী থেকে ধানমন্ডি' নামক চলচ্চিত্রটির কাহিনি রচয়িতা কে?
  1. ক) আবদুল গাফফার চৌধুরী
  2. খ) শামসুর রহমান
  3. গ) জহির রায়হান
  4. ঘ) আবুল কালাম শামসুদ্দীন
ব্যাখ্যা
• 'পলাশী থেকে ধানমন্ডি' নামক চলচ্চিত্রটির কাহিনি রচয়িতা- 'আবদুল গাফফার চৌধুরী'
- বঙ্গবন্ধুর জীবনী নিয়ে নির্মিত ‘পলাশী থেকে ধানমন্ডি’ চলচ্চিত্রের কাহিনি রচনা করে তিনি খ্যাতি অর্জন করেন। 
- এটি ২০০৭ সালে মুক্তি পায়।

- তবে, 'পলাশী থেকে পাকিস্তান' নামক ইতিহাস ভিত্তিক গ্রন্থটির রচয়িতা হলেন আবুল কালাম শামসুদ্দীন 

• আবদুল গাফফার চৌধুরী:
- একজন সুপরিচিত বাংলাদেশী গ্রন্থকার, কলাম লেখক।
- তিনি ভাষা আন্দোলনের স্মরণীয় গান 'আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো' এর রচয়িতা।
- স্বাধীনতা যুদ্ধে মুজিবনগর সরকারে মাধ্যমে নিবন্ধিত স্বাধীন বাংলার প্রথম পত্রিকা 'সাপ্তাহিক জয় বাংলা'র প্রতিষ্ঠাতা ও সম্পাদক ছিলেন।
- বাংলাদেশী গ্রন্থকার, কলাম লেখক আবদুল গাফফার চৌধুরীর জন্ম ১২ ডিসেম্বর, ১৯৩৪ খ্রিষ্টাব্দে ।
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ 'ডানপিটা শওকত'।
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত গল্পগ্রন্থ 'কৃষ্ণপক্ষ'। 
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত উপন্যাস গ্রন্থের নাম 'চন্ত্রদ্বীপের উপাখ্যান।'  

• তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থসমূহ: 
- পলাশী থেকে ধানমণ্ডি (বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবনী ভিত্তিক একটি চলচ্চিত্রের কাহিনী)।
- চন্দ্রদ্বীপের উপাখ্যান,
- নাম না জানা ভোর,
- নীল যমুনা,
- শেষ রজনীর চাঁদ,
- কৃষ্ণপক্ষ,
- সম্রাটের ছবি,
- সুন্দর হে সুন্দর,
- ডানপিটে শওকত,
- বাংলাদেশ কথা কয়,

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া। 
১৭.
'আমার সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে।।' - অন্নদামঙ্গল কাব্যে আলোচ্য প্রার্থনাটি কে করেছেন?
  1. ক) ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
  2. খ) ঈশ্বরী পাটনী
  3. গ) আলাওল
  4. ঘ) কবীন্দ্র পরমেশ্বর
ব্যাখ্যা
• ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর:
- মধ্যযুগের সর্বশেষ কবি, আধুনিক বাংলা সাহিত্যের অগ্রদূত ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর।
- ইন্দ্রনারায়ণ তাঁর বিশিষ্ট বন্ধু নবদ্বীপ-কৃষ্ণনগরের মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্র রায়ের সঙ্গে তাঁকে পরিচয় করিয়ে দেন। মহারাজা কবির পান্ডিত্য ও ব্যবহারে মুগ্ধ হন এবং তাঁকে ৪০ টাকা মাসোহারা দিয়ে আমত্য বা রাজসভাসদ পদে নিয়োগ দেন।
- মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্র তাঁকে ‘গুণাকর’ অর্থাৎ ‘সকল গুণের আধার’ উপাধিতে সম্মানিত করেন। 

• তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনাসমূহ:
- অন্নদামঙ্গল,
- গঙ্গাষ্টক,
- রসমঞ্জরী।

• তাঁর বিখ্যাত উক্তি: 
- প্রণমিয়া পাটুনী কহিছে জোড় হাতে
আমার সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে।।'
- আলোচ্য পঙক্তি টি ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর রচিত অন্নদামঙ্গল কাব্যের 'আমার সন্তান' কবিতার অন্তর্গত। 
- এখানে লেখক 'আমার সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে' - কথাটি ঈশ্বরী পাটনীর উক্তি।

• তাঁর আরো কিছু বিখ্যাত উক্তি:
- মন্ত্রের সাধন কিংবা শরীর পাতন ।
- নগর পুড়িলে দেবালয় কি এড়ায়। যতন নহিলে নাহি মিলয়ে রতন।
-  নীচ যদি উচ্চ ভাষে সুবুদ্ধি উড়ায় হেসে।
- বাপে না জিজ্ঞাসে মায়ে না সম্ভাষে যদি দেখে লক্ষ্মীছাড়া।
- হাভাতে যদ্যপি চায় সাগর শুকায়ে যায়।
- বাঘের বিক্রম সম মাঘের শিশির।
- মাতঙ্গ পড়িলে দরে পতঙ্গ প্রহার করে।
- বাতাসে পাতিয়া ফাঁদ কন্দল ভেজায় ।
- কড়িতে বাঘের দুধ মিলে ।
- বড়র পিরীতি বালির বাঁধ
ক্ষণে হাতে দড়ি ক্ষণেকে চাঁদ।
- যার কর্ম তারে সাজে অন্য লোকের লাঠি বাজে।
-  ভাবিতে উচিত ছিল প্রতিজ্ঞা যখন।
- মিছা কথা সিচা জল কতক্ষণ রয়।
- জন্মভূমি জননী স্বর্গের গরিয়সী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর,  বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক এবং বাংলাপিডিয়া।