পরীক্ষা আর্কাইভ

১০০ দিনে বিসিএস প্রস্তুতি [বিষয়ভিত্তিক]

পরীক্ষা১০০ দিনে বিসিএস প্রস্তুতি [বিষয়ভিত্তিক]তারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়28 minutes
মোট প্রশ্ন৩৫
সিলেবাস
৪৫তম বিসিএস: শেষ মুহুর্তের বিশেষ প্রস্তুতি পরীক্ষা - ৫: বাংলা ব্যাকরণ - সম্পূর্ণ সিলেবাস [৮০ নম্বর] উৎস: বাংলা একাডেমি অভিধান, মাধ্যমিক ব্যাকরণ বই (২০২২ ও ২০১৯ সংস্করণ), ভাষা শিক্ষা বই, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাকরণ বই ইত্যাদি।
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

১০০ দিনে বিসিএস প্রস্তুতি [বিষয়ভিত্তিক]

১০০ দিনে বিসিএস প্রস্তুতি [বিষয়ভিত্তিক] · তারিখ অনির্ধারিত · ৩৫ প্রশ্ন

.
কামাল বাড়িতে নেই- এখানে ‘বাড়িতে’ কোন কারকের উদাহরণ?
  1. ক) অপাদান কারকে
  2. খ) কর্মকারক
  3. গ) করণ কারক
  4. ঘ) অধিকরণ কারক
সঠিক উত্তর:
ঘ) অধিকরণ কারক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) অধিকরণ কারক
ব্যাখ্যা
• কামাল বাড়িতে নেই- এখানে বাড়িতে অধিকরণ কারকের উদাহরণ। 

অধিকরণ কারক:
- যে কারকে স্থান, কাল, বিষয়, ও ভাব নির্দেশিত হয়, তাকে অধিকরণ কারক বলে। 
- এ কারকে সাধারণত 'এ', 'য়', 'তে' ইত্যাদি বিভক্তি শব্দের সাথে যুক্ত হয়। 

কর্তৃকারক:
বাক্যস্থিত যে বিশেষ্য বা সর্বনাম পদ ক্রিয়া সম্পন্ন করে, তাকে ক্রিয়ার কর্তা বা কর্তৃকারক বলে।
ক্রিয়াকে ‘কে/ কারা’ দিয়ে প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায়, সেটিই কর্তৃকারক।

কর্মকারক:
যাকে আশ্রয় করে কর্তা ক্রিয়া সম্পাদন করে, তাকে ক্রিয়ার কর্ম বা কর্মকারক বলে। 
ক্রিয়ার সঙ্গে 'কী' বা 'কাকে' যোগ করে প্রশ্ন করলে কর্মকারক পাওয়া যায়৷

করণ কারক:
যার দ্বারা বা যে উপায়ে কর্তা ক্রিয়া সম্পাদন করে তাকে, করণ কারক বলে। 
- এই কারকে সাধারণত দ্বারা, দিয়ে, কর্তৃক ইত্যাদি অনুসর্গ যুক্ত হয়। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
.
'পাখি' শব্দের সমার্থক শব্দ নয় কোনটি?
  1. ক) বিহগ
  2. খ) খেচর
  3. গ) পঙ্কজ
  4. ঘ) দ্বিজ
সঠিক উত্তর:
গ) পঙ্কজ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) পঙ্কজ
ব্যাখ্যা
'পাখি' শব্দের সমার্থক শব্দ নয়- পঙ্কজ।
- 'পঙ্কজ' হলো 'পদ্ম' শব্দের সমার্থক শব্দ। 

• পাখি শব্দের সমার্থক শব্দ - বিহগ, শকুন্ত, খগ, পতগ, চিড়িয়া, খেচর, বিহঙ্গ, দ্বিজ, অন্ডজ, পত্রী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
.
'চাঁদ'এর প্রতিশব্দ নয় কোনটি?
  1. ক) শশী
  2. খ) বিধু
  3. গ) প্রভাকর
  4. ঘ) সুধাকর
সঠিক উত্তর:
গ) প্রভাকর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) প্রভাকর
ব্যাখ্যা
• 'চাঁদ' এর প্রতিশব্দ নয়- 'প্রভাকর'
• প্রভাকর - সূর্য এর প্রতিশব্দ। 

'চাঁদ' এর প্রতিশব্দ-
চন্দ্র, শশী, শশধর, শশাঙ্ক, বিধু, সোম, নিশাকর, সুধাংশু, ইন্দু, সিতাংশু, হিমাংশু ইত্যাদি। 

'সূর্য' এর প্রতিশব্দ -
রবি, সবিতা, আদিত্য, দিবাকর, দিনমনি, দিননাথ, দিবাবসু, অর্ক, ভানু, তপন, ভাস্কর, মার্তণ্ড, অংশু, প্রভাকর, কিরণমালী, অরুণ, মিহির,  দিনপতি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (সর্বশেষ সংস্করণ)।
.
'তারা মাঠে খেলছিল' বাক্যটি কোন কালের উদাহরণ?
  1. ক) সাধারণ অতীত
  2. খ) ঘটমান অতীত
  3. গ) পুরাঘটিত অতীত
  4. ঘ) নিত্য অতীত
সঠিক উত্তর:
খ) ঘটমান অতীত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ঘটমান অতীত
ব্যাখ্যা
'তারা মাঠে খেলছিল' ঘটমান অতীত কালের উদাহরণ।

ঘটমান অতীত:
যে ক্রিয়া অতীত কালে চলছিল বোঝায়, তাকে ঘটমান অতীত কাল বলে। 
যেমন: আমরা তখন বই পড়ছিলাম। 

সাধারণ অতীত কাল: 
অতীত কালে যে কাজ সম্পন্ন হয়ে গিয়েছে বােঝায়, তাকে সাধারণ অতীত কাল বলে।
যেমন: তারা সেখানে বেড়াতে গেল। 
 
পুরাঘটিত অতীত: 
অতীতের যে ক্রিয়া বহু পূর্বেই ঘটে গেছে এবং পরে আরাে কিছু ঘটনা ঘটেছে, তার কালকে পুরাঘটিত অতীত কাল বলে।
যেমন: বৃষ্টি শেষ হওয়ার আগেই আমরা বাড়ি পৌঁছেছিলাম। 

নিত্য অতীত কাল:
অতীত কালে প্রায়ই ঘটতাে এমন বােঝালে নিত্য অতীত কাল হয়।
যেমন - খুব সকালে ঘুম থেকে উঠতাম
তারা সাগরের তীরে ঝিনুক কুড়াত

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
.
'Bad coin' এর বাংলা পরিভাষা-
  1. ক) মন্দা বাজার
  2. খ) জাল মুদ্রা
  3. গ) কু- ঋণ
  4. ঘ) হুন্ডি
সঠিক উত্তর:
খ) জাল মুদ্রা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) জাল মুদ্রা
ব্যাখ্যা
'Bad coin' এর বাংলা পরিভাষা- 'জাল মুদ্রা' 

তাছাড়া, 
'Bad Market' এর বাংলা পরিভাষা- মন্দা বাজার
'Bad debt' এর বাংলা পরিভাষা- কু- ঋণ 
'Bill of exchange' এর বাংলা পরিভাষা- হুন্ডি/ বিনিময় পত্র। 

উৎস: বাংলা একাডেমি প্রশাসনিক পরিভাষা। 
.
নিচের কোন শব্দার্থটি সঠিক নয়?
  1. ক) সাক্ষর- অক্ষর জ্ঞানসম্পন্ন
  2. খ) সুরভি- সুবাস
  3. গ) সুচি- তালিকা
  4. ঘ) সন- বৎসর
সঠিক উত্তর:
গ) সুচি- তালিকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) সুচি- তালিকা
ব্যাখ্যা
সুচি- তালিকা- শব্দার্থটি সঠিক নয়। 
সুচি শব্দের অর্থ- সুই। 

'সাক্ষর' শব্দের অর্থ- অক্ষর জ্ঞানসম্পন্ন 
আবার, 'স্বাক্ষর' শব্দের অর্থ- 'দস্তখত'

'সুরভি' শব্দের অর্থ-- সুভাস 
আবার, 'সুরভী' শব্দের অর্থ- 'পৃথিবী'

'সন' শব্দের অর্থ- 'বৎসর' 
'শন' শব্দের অর্থ- 'তৃণবিশেষ'

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি- ড. হায়াৎ মামুদ।
.
নিচের কোন শব্দে বিদেশী উপসর্গ বিদ্যমান?
  1. ক) অঘারাম
  2. খ) আবছায়া
  3. গ) অবরোধ
  4. ঘ) নালায়েক
সঠিক উত্তর:
ঘ) নালায়েক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) নালায়েক
ব্যাখ্যা
'নালায়েক'- শব্দে বিদেশী উপসর্গ বিদ্যমান।
এখানে ফারসি উপসর্গ 'না' না অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। 

তাছাড়া,
'অঘারাম' শব্দে বাংলা উপসর্গ 'অঘা' বোকা অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। 
'আবছায়া' শব্দে বাংলা উপসর্গ- 'আব' অস্পষ্টতা অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। 
'অবরোধ' শব্দে তৎসম উপসর্গ- 'অব' সম্যকভাবে অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি।
.
'মর্মকে পীড়া দেয় যে'- এর বাক্য সংকোচন কোনটি?
  1. ক) মনসিজ
  2. খ) দোদুল্যমান
  3. গ) মর্মন্তুদ
  4. ঘ) মর্মান্তিক
সঠিক উত্তর:
গ) মর্মন্তুদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) মর্মন্তুদ
ব্যাখ্যা
'মর্মকে পীড়া দেয় যে' এর বাক্য সংকোচন- 'মর্মন্তুদ'

তাছাড়া,
'মনে যার জন্ম' এর বাক্য সংকোচন- 'মনসিজ'
'যা বারবার দুলছে' এর বাক্য সংকোচন- 'দোদুল্যমান'
'মর্মে বেদনা দেয় যা' এর বাক্য সংকোচন- 'মর্মান্তিক'

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি- ড. হায়াৎ মামুদ।
.
নিচের কোনটি নেতিবাচক ক্রিয়াবিশেষণের উদাহরণ?
  1. ক) তাকে কোথাও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।
  2. খ) সে এখন যাবে না।
  3. গ) ঠিকভাবে চললে কেউ কিছু বলবে না।
  4. ঘ) যথাসময়ে সে হাজির হয়।
সঠিক উত্তর:
খ) সে এখন যাবে না।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) সে এখন যাবে না।
ব্যাখ্যা
ক্রিয়াবিশেষণ: যে শব্দ ক্রিয়াকে বিশেষিত করে তাঁকে ক্রিয়াবিশেষণ বলে। 

ধরনবাচক ক্রিয়াবিশেষণ: কোনো ক্রিয়া কীভাবে সম্পন্ন হয়, ধরনবাচক ক্রিয়াবিশেষণ তা নির্দেশ করে ।
যেমন – টিপ টিপ বৃষ্টি পড়ছে।
ঠিকভাবে চললে কেউ কিছু বলবে না ।

কালবাচক ক্রিয়াবিশেষণ: এই ধরনের ক্রিয়াবিশেষণ ক্রিয়া সম্পাদনের কাল নির্দেশ করে।
যেমন – আজকাল ফলের চেয়ে ফুলের দাম বেশি। যথাসময়ে সে হাজির হয়।

স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ: ক্রিয়ার স্থান নির্দেশ করে স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ।
যেমন – মিছিলটি সামনে এগিয়ে যায়। তাকে কোথাও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। 

নেতিবাচক ক্রিয়াবিশেষণ: না, নি ইত্যাদি দিয়ে ক্রিয়ার নেতিবাচক অবস্থা বোঝায়। এগুলো সাধারণত ক্রিয়ার পরে বসে।
যেমন - সে এখন যাবে না । তিনি বেড়াতে যাননি । এমন কথা আমার জানা নেই ।


উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (সর্বশেষ সংস্করণ)।
১০.
নিচের কোনটি অলুক তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ?
  1. ক) কানাকানি
  2. খ) মনমাঝি
  3. গ) গরুরগাড়ি
  4. ঘ) একগুঁয়ে
সঠিক উত্তর:
গ) গরুরগাড়ি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) গরুরগাড়ি
ব্যাখ্যা
গরুর গাড়ি= 'গরুরগাড়ি'- অলুক তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ।

অলুক তৎপুরুষ সমাস:
যে তৎপুরুষ সমাসে পূর্বপদে বিভক্তি লোপ পায় না, সেগুলোকে অলুক তৎপুরুষ সমাস বলে। 
যেমন: তেলে ভাজা= তেলেভাজা। 

তাছাড়া, 
কানাকানি= ব্যতিহার বহুব্রীহি সমাস,
মনমাঝি- রূপক কর্মধারয় সমাস,
একগুঁয়ে = সমানাধিকার বহুব্রীহি সমাস,

ব্যতিহার বহুব্রীহি সমাস:
- পরস্পর এক জাতীয় ক্রিয়া করা বোঝালে এ সমাস হয়।
- এতে পূর্বপদে 'আ' এবং পরপদে 'ই' যুক্ত হতে দেখা যায়। 
যেমন: লাঠালাঠি, দেখাদেখি, হাসাহাসি ইত্যাদি।

রূপক কর্মধারয় সমাস:
যে কর্মধারয় সমাসে উপমান ও উপমেয়কে অভিন্ন কল্পনা করা হয় এবং উপমান ও উপমেয় বা উপমিত পদে সমাস হয় তাকে রূপক কর্মধারয় সমাস বলে।
যেমন: কাজলের ন্যায় কালো= কাজলকালো, বিষাদ রূপ সিন্ধু = বিষাদ-সিন্ধু, মন রূপ মাঝি = মনমাঝি ইত্যাদি।

সমানাধিকার বহুব্রীহি সমাস: 
যে বহুব্রীহি সমাসে পূর্বপদ বিশেষণ এবং পরপদ বিশেষ্য হয়ে থাকে, তাকে সমানাধিকরণ বহুব্রীহি সমাস বলে।
যেমন: কালাে বরণ যার = কালােবরণ; এক গোঁ যার= একগুঁয়ে। 

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (সর্বশেষ সংস্করণ)।
১১.
নিচের কোন বানানটি সঠিক?
  1. ক) নিরীক্ষণ
  2. খ) নীরিক্ষন
  3. গ) নীরিক্ষণ
  4. ঘ) নিরীক্ষন
সঠিক উত্তর:
ক) নিরীক্ষণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) নিরীক্ষণ
ব্যাখ্যা
• ‘নিরীক্ষণ’ বানান টি সঠিক
- সংস্কৃত শব্দ
- প্রকৃতি প্রত্যয় = নির্+√ঈক্ষ্+অক
অর্থ: যত্ন সহকারে অবলোকন, গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ।

উৎস:- আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
১২.
যে ক্রিয়া ভাব সম্পূর্ণ করতে পারে না, তাকে বলা হয়-
  1. ক) সমাপিকা ক্রিয়া
  2. খ) অসমাপিকা ক্রিয়া
  3. গ) অকর্মক ক্রিয়া
  4. ঘ) সকর্মক ক্রিয়া
সঠিক উত্তর:
খ) অসমাপিকা ক্রিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) অসমাপিকা ক্রিয়া
ব্যাখ্যা
যে ক্রিয়া ভাব সম্পূর্ণ করতে পারে না, তাকে বলা হয়- অসমাপিকা ক্রিয়া। 

ভাবপ্রকাশের দিক দিয়ে, বাক্যে কর্মের উপস্থিতির ভিত্তিতে এবং গঠন বিবেচনায় ক্রিয়াকে নানা ভাগে ভাগ করা যায় ।

ক. ভাবপ্রকাশের দিক দিয়ে ক্রিয়া দুই প্রকার:
১. সমাপিকা ক্রিয়া:
যে ক্রিয়া দিয়ে ভাব সম্পূর্ণ হয়, তাকে সমাপিকা ক্রিয়া বলে ৷
যেমন – ভালো করে পড়াশোনা করবে।

২. অসমাপিকা ক্রিয়া:
যে ক্রিয়া ভাব সম্পূর্ণ করতে পারে না, তাকে অসমাপিকা ক্রিয়া বলে ।
যেমন – ভালো করে পড়াশোনা করলে ভালো ফল হবে ।
অসমাপিকা ক্রিয়া তিন ধরনের: ১. ভূত অসমাপিকা, ২. ভাবী অসমাপিকা এবং ৩. শর্ত অসমাপিকা। যথা :
ভূত অসমাপিকা: সে গান করে আনন্দ পায়।
ভাবী অসমাপিকা: সে গান শিখতে রাজশাহী যায় ।
শর্ত অসমাপিকা: গান করলে তার মন ভালো হয় ৷

খ. বাক্যের মধ্যে কর্মের উপস্থিতির ভিত্তিতে ক্রিয়া তিন প্রকার:
১. অকর্মক ক্রিয়া:
বাক্যে ক্রিয়ার কোনো কর্ম না থাকলে সেই ক্রিয়াকে অকর্মক ক্রিয়া বলে ।
যেমন – সে ঘুমায় । এই বাক্যে কোনো কৰ্ম নেই ৷

২. সকর্মক ক্রিয়া:
বাক্যের মধ্যে ক্রিয়ার কর্ম থাকলে সেই ক্রিয়াকে সকর্মক ক্রিয়া বলে ৷
যেমন সে বই পড়ছে। এই বাক্যে ‘পড়ছে’ হলো সকর্মক ক্রিয়া। ‘বই’ হলো ‘পড়ছে' ক্রিয়ার কর্ম ।

৩. দ্বিকর্মক ক্রিয়া:
বাক্যের মধ্যে ক্রিয়ার দুটি কর্ম থাকলে সেই ক্রিয়াকে দ্বিকর্মক ক্রিয়া বলে ।
যেমন – শিক্ষক ছাত্রকে বই দিলেন। এই বাক্যে ‘দিলেন’ একটি দ্বিকর্মক ক্রিয়া।
‘কী দিলেন' প্রশ্নের উত্তর দেয় মুখ্য কর্ম (‘বই’), আর ‘কাকে দিলেন' প্রশ্নের উত্তর দেয় গৌণ কর্ম (‘ছাত্রকে’)।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (সর্বশেষ সংস্করণ)।
১৩.
'চাকর' কোন ভাষা থেকে আগত শব্দ?
  1. ক) ফরাসি
  2. খ) হিন্দি
  3. গ) গুজরাটি
  4. ঘ) তুর্কি
সঠিক উত্তর:
ঘ) তুর্কি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) তুর্কি
ব্যাখ্যা
'চাকর'- তুর্কি ভাষা থেকে আগত শব্দ। 

বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত আরো কিছু তুর্কি শব্দ -
- চাকু,
- চাকর,
- তোপ,
- দারোগা ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (সর্বশেষ সংস্করণ)।
১৪.
'ঙ্ক্ষ'- এই যুক্তব্যঞ্জনে কোন কোন বর্ণ আছে?
  1. ক) ঞ্‌ + ক্‌+ ষ
  2. খ) ঙ্‌ + হ +ম
  3. গ) ঙ্‌ + ক্‌ + ষ
  4. ঘ) ঞ্‌ + ক্‌ + ম
সঠিক উত্তর:
গ) ঙ্‌ + ক্‌ + ষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ঙ্‌ + ক্‌ + ষ
ব্যাখ্যা
'ঙ্ক্ষ'- এই যুক্তব্যঞ্জনে (ঙ্‌ + ক্‌ + ষ)  বর্ণ আছে।
শব্দ গঠন: আকাঙ্ক্ষা, শুভাকাঙ্ক্ষী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর।
১৫.
'উহ্, কী বিপদে পড়া গেল'- এখানে কোন ধরনের আবেগ প্রকাশ পেয়েছে?
  1. ক) বিরক্তি আবেগ
  2. খ) সিদ্ধান্ত আবেগ
  3. গ) আতঙ্ক আবেগ
  4. ঘ) বিস্ময় আবেগ
সঠিক উত্তর:
গ) আতঙ্ক আবেগ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) আতঙ্ক আবেগ
ব্যাখ্যা
'উহ্, কী বিপদে পড়া গেল'- এখানে আতঙ্ক আবেগ প্রকাশ পেয়েছে।

আবেগ:
মনের নানা ভাব বা আবেগকে প্রকাশ করা হয় যেসব শব্দ দিয়ে সেগুলোকে আবেগ শব্দ বলা হয়।
এই ধরনের শব্দ বাক্যের অন্য শব্দগুলোর সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত না হয়ে আলগাভাবে বা স্বাধীনভাবে ব্যবহৃত হয়।
যেমন – ছি ছি, আহা, বাহ্, শাবাশ, হায় হায় ইত্যাদি।

নিচে বিভিন্ন ধরনের আবেগ শব্দের প্রয়োগ দেখানো হলো।
সিদ্ধান্ত আবেগ:
এ জাতীয় শব্দের সাহায্যে অনুমোদন, সম্মতি, সমর্থন ইত্যাদি ভাব প্রকাশ করা হয় ।
যেমন -
- হ্যাঁ, আমাদের জিততেই হবে।
- বেশ, তবে যাওয়াই যাক ।

বিরক্তি আবেগ:
এ ধরনের শব্দ অবজ্ঞা, ঘৃণা, বিরক্তি ইত্যাদি মনোভাব প্রকাশে ব্যবহৃত হয়।
যেমন –
- ছি ছি! এরকম কথা তার মুখে মানায় না।
- জ্বালা! তোমাকে নিয়ে আর পারি না!

আতঙ্ক আবেগ:
এ ধরনের আবেগ-শব্দ আতঙ্ক, যন্ত্রণা, কাতরতা ইত্যাদি প্রকাশ করে।
যেমন –
- উহ্, কী বিপদে পড়া গেল ৷
- বাপরে বাপ! কী ভয়ঙ্কর ছিল রাক্ষসটা।

বিস্ময় আবেগ:
এ ধরনের শব্দ বিস্মিত বা আশ্চর্য হওয়ার ভাব প্রকাশ করে।
যেমন –
- আরে! তুমি আবার কখন এলে?
- আহ্, কী চমৎকার দৃশ্য।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
১৬.
'যুগ্ম' শব্দের সঠিক উচ্চারণ কী হবে?
  1. ক) জুগ্নো
  2. খ) জুগ্‌মো
  3. গ) জুজ্ঞো
  4. ঘ) যুম্মো
সঠিক উত্তর:
খ) জুগ্‌মো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) জুগ্‌মো
ব্যাখ্যা
'যুগ্ম' শব্দের সঠিক উচ্চারণ- জুগ্‌মো। 

কিছু ক্ষেত্রে ম-ফলায় ম্‌ এর উচ্চারণ বজায় থাকে।
যেমন-
যুগ্ম এর উচ্চারণ: জুগ্‌মো,
গুল্ম এর উচ্চারণ: গুল্‌মো, 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
১৭.
'বসুমতী' শব্দের সমার্থক নয় কোনটি?
  1. ক) মেদিনী
  2. খ) ধরা
  3. গ) অবনীধর
  4. ঘ) ভুবন
সঠিক উত্তর:
গ) অবনীধর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) অবনীধর
ব্যাখ্যা
'অবনীধর'- 'বসুমতী' শব্দের সমার্থক নয়। 
- 'অবনীধর'- পর্বত শব্দের সমার্থক শব্দ। 

'বসুমতী' শব্দের অর্থ- পৃথিবী।
'বসুমতী' শব্দের সমার্থক-
- অবনি, বসুধা, ধরণি, ধরা, পৃথিবী, মেদিনী, মহী, ভুবন, সংসার, ক্ষিতি, বসুন্ধরা, ধরিত্রী, বসুমতী, অখিল, উর্বী ইত্যাদি।

 উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি- ড. হায়াৎ মামুদ। 
১৮.
নিচের কোনটি জাতিবাচক বিশেষ্য?
  1. ক) হিমালয়
  2. খ) ইট
  3. গ) আনন্দ
  4. ঘ) ফুল
সঠিক উত্তর:
ঘ) ফুল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ফুল
ব্যাখ্যা
'ফুল'- জাতিবাচক বিশেষ্য। 

জাতিবাচক বিশেষ্য:
যে পদ দ্বারা কোনো একজাতীয় প্রাণী বা পদার্থের সাধারণ নাম বোঝায় তাকে জাতিবাচক বিশেষ্য বলে।
যেমন- মানুষ, গরু, পাখি, গাছ, পর্বত, ইংরেজ ইত্যাদি। 

তাছাড়া,
হিমালয়- নাম-বিশেষ্যের উদাহরণ।
ইট- বস্তুবাচক বিশেষ্যের উদাহরণ।
আনন্দ- গুণবাচক বিশেষ্যের উদাহরণ।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
১৯.
নিচের কোনটি সকর্মক ক্রিয়ার উদাহরণ?
  1. ক) মেয়েটি হাসে
  2. খ) ছেলেরা খেলা করছে
  3. গ) সে যায়
  4. ঘ) রাজু পড়ে
সঠিক উত্তর:
খ) ছেলেরা খেলা করছে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ছেলেরা খেলা করছে
ব্যাখ্যা
সে রোজ সেখানে যায়- বাক্যটি অর্কমক ক্রিয়ার উদাহরণ। 

সকর্মক ক্রিয়া
- যে ক্রিয়ার কর্মপদ আছে তাই সকর্মক ক্রিয়া।
- ক্রিয়ার সাথে কী বা কাকে প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায়, তাই ক্রিয়ার কর্মপদ।
- কর্মপদযুক্ত ক্রিয়াই সর্কমক ক্রিয়া।

অকর্মক ক্রিয়া
- যে ক্রিয়ার কর্ম নেই, তা অকর্মক ক্রিয়া।
- যেমনঃ সে রোজ সেখানে যায়। কী ‘যায়’ বা ‘কাকে যায়’ প্রশ্ন করলে কোনো উত্তর হয় না। কাজেই ‘যায়’ ক্রিয়াটি অকর্মক ক্রিয়া।

উৎস: ভাষা শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ।
২০.
নিচের কোন বানানটি সঠিক নয়?
  1. ক) কণ্টক
  2. খ) ঘন্টা
  3. গ) বণ্টন
  4. ঘ) কণ্ঠ
সঠিক উত্তর:
খ) ঘন্টা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ঘন্টা
ব্যাখ্যা
ঘন্টা- বানানটি সঠিক নয়।
এর সঠিক রূপ: ঘণ্টা।

নিয়ম: 
'ণ'- ত্ব বিধান- ট- বর্গের শেষ অক্ষর হওয়ায় ট, ঠ, ড, ঢ- এর পূর্বে 'ণ' যুক্ত হবে, কখনোই 'ঞ' বা 'ন' হবেনা। 
যেমন-
- কণ্টক  
- বণ্টন
 - কণ্ঠ 
- দণ্ড
- খণ্ড
- লুণ্ঠন ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা লেখার নিয়মকানুন- ড. হায়াৎ মামুদ। 
২১.
কোন বাক্যে বুদ্ধি অর্থে 'মাথা' শব্দটি ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. ক) অন্যায়ের কাছে কখনো মাথা নত করো না
  2. খ) এ ব্যাপারে আমার কোনো মাথা ব্যথা নেই
  3. গ) ছেলেটির মাথা ভালো
  4. ঘ) বেশি আদরে ছেলেটির মাথা খেয়েছে
সঠিক উত্তর:
গ) ছেলেটির মাথা ভালো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ছেলেটির মাথা ভালো
ব্যাখ্যা
ছেলেটির মাথা ভালো- বাক্যে বুদ্ধি অর্থে 'মাথা' শব্দটি ব্যবহৃত হয়েছে। 

তাছাড়া,
অন্যায়ের কাছে কখনো মাথা নত করো না- মস্তক বা শির অর্থে 'মাথা' শব্দটি ব্যবহৃত হয়েছে। 
এ ব্যাপারে আমার কোনো মাথা ব্যথা নেই - আগ্রহ বা দুশ্চিন্তা অর্থে 'মাথা' শব্দটি ব্যবহৃত হয়েছে। 
বেশি আদরে ছেলেটির মাথা খেয়েছে- স্বভাব নষ্ট করা অর্থে 'মাথা' শব্দটি ব্যবহৃত হয়েছে। 

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি- ড. হায়াৎ মামুদ।
২২.
নিচের কোনটি সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়?
  1. ক) পনা
  2. খ) আই
  3. গ) ষ্ণিক
  4. ঘ) ইয়া
সঠিক উত্তর:
গ) ষ্ণিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ষ্ণিক
ব্যাখ্যা
- সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয় হলো- ষ্ণিক। 

সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়:
- ষ্ণ, ষ্ণি, ষ্ণ্য, ষ্ণিক, ইত, ইমন, ইল, ইষ্ট, ঈন, তর, তম, তা, ত্ব, নীন, নীয়, বতুপ্‌, বিন্‌, র, ল প্রভৃতি সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়যোগে যে সমস্ত শব্দ গঠিত হয়, সেগুলো বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত হয়। 
তাছাড়া,
পনা- বিদেশী তদ্ধিত প্রত্যয়;
আই, ইয়া- বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়;

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি। 
২৩.
নিচের কোনটি সাধিত শব্দ নয়?
  1. ক) চলন্ত
  2. খ) লাল
  3. গ) গরমিল
  4. ঘ) প্রশাসন
সঠিক উত্তর:
খ) লাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) লাল
ব্যাখ্যা
- সাধিত শব্দ নয়- লাল, এটি একটি মৌলিক শব্দের উদাহরণ। 

সাধিত শব্দ
- যেসব শব্দকে বিশ্লেষণ করা হলে আলাদা অর্থবোধক শব্দ পাওয়া যায়, সেগুলোকে সাধিত শব্দ বলে। 
- সাধারণত একাধিক শব্দের সমাস হয়ে কিংবা প্রত্যয় বা উপসর্গ যোগ হয়ে সাধিত শব্দ গঠিত হয়ে থাকে।  
যেমন- 
• চাঁদমুখ (চাঁদের মতো মুখ)
• নীলাকাশ ( নীল যে আকাশ) 
• ডুবুরি (ডুব্‌ + উরি) 
• চলন্ত (চল্‌ + অন্ত) 
• প্রশাসন (প্র + শাসন) 
• গরমিল (গর + মিল) ইত্যাদি। 

উৎস
: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি। 
২৪.
নিচের কোনটি অব্যয়টি নাম বিশেষণের উদাহরণ?
  1. ক) অতি ভক্তি চোরের লক্ষণ
  2. খ) আবার যেতে হবে
  3. গ) অন্যত্র চলে যায়
  4. ঘ) কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
ক) অতি ভক্তি চোরের লক্ষণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) অতি ভক্তি চোরের লক্ষণ
ব্যাখ্যা
- অব্যয়ের নাম বিশেষণের উদাহরণ হচ্ছে- অতি ভক্তি চোরের লক্ষণ।  

অব্যয় বিশেষণ:
- কতগুলো অব্যয় বাক্যে ব্যবহৃত হলে নাম-বিশেষণ, ক্রিয়া-বিশেষণ এবং বিশেষণীয় বিশেষণের অর্থবাচকতা প্রকাশ করে থাকে। এদের অব্যয় বিশেষণ বলা হয়। যথা- 
• নাম-বিশেষণ- অতি ভক্তি চোরের লক্ষণ। 
• ভাব-বিশেষণ- আবার যেতে হবে। 
• ক্রিয়া- বিশেষণ- অন্যত্র চলে যায়। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
২৫.
'Consultant' এর বাংলা পরিভাষা-
  1. ক) ভোক্তা
  2. খ) বাণিজ্য দূত
  3. গ) উপদেষ্টা
  4. ঘ) ঠিকাদার
সঠিক উত্তর:
গ) উপদেষ্টা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) উপদেষ্টা
ব্যাখ্যা
'Consultant' এর বাংলা পরিভাষা- উপদেষ্টা। 

তাছাড়া,
Consumer -এর বাংলা পরিভাষা- ভোক্তা 
Consul এর বাংলা পরিভাষা- বাণিজ্য দূত 
Contractor এর বাংলা পরিভাষা- ঠিকাদার  

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি- ড. হায়াৎ মামুদ।
২৬.
গুরুচণ্ডালী দোষমুক্ত শব্দ কোনটি?
  1. ক) শবদাহ
  2. খ) মড়াদাহ
  3. গ) গরুর শকট
  4. ঘ) শবপোড়া
সঠিক উত্তর:
ক) শবদাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) শবদাহ
ব্যাখ্যা
- গুরুচণ্ডালী দোষমুক্ত শব্দটি হচ্ছে- শবদাহ। 

গুরুচণ্ডালী দোষ:
- তৎসম শব্দের সঙ্গে দেশীয় শব্দের প্রয়োগ কখনো কখনো গুরুচণ্ডালী দোষ সৃষ্টি করে। 
- এ দোষে দুষ্ট শব্দ তার যোগ্যতা হারায়। 
- 'গরুর গাড়ি', 'শবদাহ', 'মড়াপোড়া' প্রভৃতি স্থলে যথাক্রমে 'গরুর শকট', 'শবপোড়া', 'মড়াদাহ' প্রভৃতির ব্যবহার গুরুচণ্ডালী দোষ সৃষ্টি করে।  

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
২৭.
নিচের কোন বাক্যে যতিচিহ্নের সঠিক প্রয়োগ ঘটে নি?
  1. ক) ‘আমি নির্দোষ, আমি খালাস প্রার্থনা করি।’
  2. খ) গঠিত কমিটিতে সভাপতি, মোহাম্মদ আমজাদ, সহ-সভাপতি, নুর উদ্দীন প্রমুখ।
  3. গ) ব্যাপারটা কী তা বোঝা যাচ্ছে না।
  4. ঘ) সিরাজ বললেন : ‘মূর্খ মানুষ পশুর চেয়ে নিকৃষ্ট।’
সঠিক উত্তর:
খ) গঠিত কমিটিতে সভাপতি, মোহাম্মদ আমজাদ, সহ-সভাপতি, নুর উদ্দীন প্রমুখ।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) গঠিত কমিটিতে সভাপতি, মোহাম্মদ আমজাদ, সহ-সভাপতি, নুর উদ্দীন প্রমুখ।
ব্যাখ্যা
অশুদ্ধ বাক্য - গঠিত কমিটিতে সভাপতি, মোহাম্মদ আমজাদ, সহ-সভাপতি, নুর উদ্দীন প্রমুখ।
• শুদ্ধ বাক্য - গঠিত কমিটিতে সভাপতি, মোহাম্মদ আমজাদ; সহ-সভাপতি, নুর উদ্দীন প্রমুখ।

সেমিকোলন:
সেমিকোলনের স্থানে কমার চেয়ে বেশি কিন্তু দাড়িঁর চেয়ে কম থামতে হয়। বাক্যের ভেতরে শুধু থামার জন্য কমা-সেমিকোলন ব্যবহার করা হয় না। অর্থ প্রকাশেও কমা ও সেমিকোলন ভূমিকা পালন করে। যেমন-

- কোনো তালিকায় বিদ্যমান একাধিক ব্যক্তির নাম ও পদের তালিকা অনুধাবনের সুবিধার্থে সেমিকোলন ব্যবহার করা হয়।
যেমন- গঠিত কমিটিতে সভাপতি, মোহাম্মদ আমজাদ; সহ-সভাপতি, নুর উদ্দীন; সাধারণ সম্পাদক, হামেদ আলি প্রমুখ।

- আইনের কোনো ধারায় এক বা একাধিক উপধারা কিংবা শর্ত থাকলে তা পৃথককরণের জন্য সেমিকোলন ব্যবহার করা হয়।
যেমন- ধরা যাক, সংবিধানের ৩৬ নং ধারা নিম্নোক্ত উপধারা (১) বয়স ১৮ বছর হতে হবে; (২) প্রকৃতিস্থ হতে হবে।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ।
২৮.
নিচের কোনটি গুণবাচক বিশেষ্যের উদাহরণ?
  1. ক) গমন
  2. খ) বহর
  3. গ) যৌবন
  4. ঘ) চাল
সঠিক উত্তর:
গ) যৌবন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) যৌবন
ব্যাখ্যা
- গুণবাচক বিশেষ্যের উদাহরণ হলো- যৌবন। 

গুণবাচক বিশেষ্য:
- যে বিশেষ্য দ্বারা কোনো বস্তুর দোষ বা গুণের নাম বোঝায়, তা-ই গুণবাচক বিশেষ্য। 
যেমন- মধুর মিষ্টতার গুণ- মধুরতা, তরল দ্রব্যের গুণ- তারল্য, তিক্ত দ্রব্যের গুণ- তিক্ততা ইত্যাদি। 
তদ্রুপ- সৌরভ, স্বাস্থ্য, যৌবন, সুখ, দুঃখ ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
২৯.
বাংলায় কোন পদের পুরুষ হয় না?
  1. ক) বিশেষ্য
  2. খ) সর্বনাম
  3. গ) ক্রিয়া
  4. ঘ) অব্যয়
সঠিক উত্তর:
ঘ) অব্যয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) অব্যয়
ব্যাখ্যা
- বাংলায় অব্যয় পদের পুরুষ হয় না।  

সর্বনামের পুরুষ:
- 'পুরুষ' একটি পারিভাষিক শব্দ। 
- বিশেষ্য, সর্বনাম ও ক্রিয়ার পুরুষ আছে। 
- বিশেষণ ও অব্যয়ের পুরুষ নেই। 
- ব্যাকরণে পুরুষ তিন প্রকার। যথা- 
১। উত্তম পুরুষ- আমি, আমরা, আমাকে, আমাদের ইত্যাদি। 
২। মধ্যম পুরুষ- তুমি, তোমরা, তোমাকে, তোমাদের, আপনার, আপনাদের ইত্যাদি। 
৩। নাম পুরুষ- সে, তারা, তাহারা, তাদের, তিনি, তাঁকে ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
৩০.
নিচের কোনটি সংকোচক অব্যয় নয়?
  1. ক) যদি
  2. খ) অথচ
  3. গ) কিন্তু
  4. ঘ) বরং
সঠিক উত্তর:
ক) যদি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) যদি
ব্যাখ্যা
- সংকোচক অব্যয় নয়- যদি। এটি একটি অনুগামী সমুচ্চয়ী অব্যয়ের উদাহরণ। 

সংকোচক অব্যয়:
- যে অব্যয় দুটি বাক্যের মধ্যে ভাবের সংকোচ সাধন করে, তাকে সংকোচক অব্যয় বলে।
যেমন- তিনি বিদ্বান, অথচ সৎ ব্যক্তি নন। এখানে 'অথচ' অব্যয়টি দুটি বাক্যের মধ্যে ভাবের সংকোচ সাধন করেছে। 
- কিন্তু, বরং শব্দগুলোও সংকোচক অব্যয়। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
৩১.
'অনুরোধ' অর্থে অনুজ্ঞার উদাহরণ কোনটি?
  1. ক) মন দিয়ে পড়
  2. খ) আপনারা আসবেন
  3. গ) মিথ্যা বলবে না
  4. ঘ) চুপ কর
সঠিক উত্তর:
খ) আপনারা আসবেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) আপনারা আসবেন
ব্যাখ্যা
- 'অনুরোধ' অর্থে অনুজ্ঞার উদাহরণ হলো-আপনারা আসবেন। 

অনুজ্ঞা ভাব:
- আদেশ, নিষেধ, উপদেশ, অনুরোধ, আশীর্বাদ ইত্যাদি সূচিত হলে ক্রিয়াপদের অনুজ্ঞা ভাব হয়। যেমন- 
১। আদেশাত্মক- চুপ কর। 
২। নিষেশাত্মক- মিথ্যা বলবে না। 
৩। অনুরোধসূচক- আপনারা আসবেন। 
৪। উপদেশাত্মক- মন দিয়ে পড়। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
৩২.
সমস্ত পদকে ভেঙে যে বাক্যাংশ করা হয়, তার নাম কী?
  1. ক) সমাসবাক্য
  2. খ) ব্যাসবাক্য
  3. গ) বিগ্রহবাক্য
  4. ঘ) সবগুলোই
সঠিক উত্তর:
ঘ) সবগুলোই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সবগুলোই
ব্যাখ্যা
- সমস্ত পদকে ভেঙে যে বাক্যাংশ করা হয়, তার নাম সমাসবাক্য, ব্যাসবাক্য বা বিগ্রহবাক্য। 

সমাস:
- সমাস মানে সংক্ষেপ, মিলন, একাধিক পদের একপদীকরণ। 
- অর্থসম্বন্ধ আছে এমন একাধিক শব্দের এক সঙ্গে যুক্ত হয়ে একটি নতুন শব্দ গঠনের প্রক্রিয়াকে সমাস বলে। 
- সমাসের প্রক্রিয়ায় সমাসবদ্ধ বা সমাসনিষ্পন্ন পদটির নাম সমস্ত পদ। 
- সমস্তপদ বা সমাসবদ্ধ পদটির অন্তর্গত পদগুলোকে সমস্যমান পদ বলে। 
- সমাসযুক্ত পদের প্রথম অংশকে বলা হয় পূর্বপদ এবং পরবর্তী অংশকে বলা উত্তরপদ বা পরপদ। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
৩৩.
নিচের কোনটি ক্রমবাচক সংখ্যাশব্দের উদাহরণ?
  1. ক) সতেরো
  2. খ) উনিশে
  3. গ) ষোড়শ
  4. ঘ) দেড়
সঠিক উত্তর:
ক) সতেরো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) সতেরো
ব্যাখ্যা
ক্রমবাচক সংখ্যাশব্দ:
একের পর এক যে সংখ্যাগুলো আসে, সেগুলোকে ক্রমবাচক সংখ্যাশব্দ বলে।
যেমন: এক, দুই, তিন ইত্যাদি।
পূরণবাচক সংখ্যাশব্দ:
- পূরণবাচক সংখ্যা দিয়ে যেকোনো সংখ্যার ক্রমিক অবস্থান ও পরিমাণকে বোঝায়। 
- যেমন 'এক' সংখ্যার ক্রমিক অবস্থান ' প্রথম', 'পহেলা', 'প্রথমা' ইত্যাদি। এগুলোকে পূরণবাচক সংখ্যাশব্দ বলে। 

পূরণবাচক সংখ্যা শব্দ ৩ ধরনের হয়,
সাধারণ পূরণবাচক; যেমন- ষোড়শ;
তারিখ পূরণবাচক; যেমন- উনিশে;
ভগ্নাংশ পূরণবাচক; যেমন- দেড়;

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (সর্বশেষ সংস্করণ)।
৩৪.
'নরম নরম হাত' কী অর্থে দ্বিরুক্ত শব্দ?
  1. ক) সমার্থক শব্দ বোঝাতে
  2. খ) সামান্যতা বোঝাতে
  3. গ) তীব্রতা বোঝতে
  4. ঘ) পৌনঃপুনিকতা বোঝাতে
সঠিক উত্তর:
গ) তীব্রতা বোঝতে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) তীব্রতা বোঝতে
ব্যাখ্যা
- 'নরম নরম হাত' তীব্রতা অর্থে দ্বিরুক্ত শব্দ। 

পদের দ্বিরুক্তির প্রয়োগ:
- বিশেষণ শব্দযুগলের বিশেষণ রূপে ব্যবহার-
• আধিক্য বোঝাতে- ভালো ভালো আম নিয়ে এসো, ছোট ছোট ডাল কেটে ফেল। 
তীব্রতা বা সঠিকতা বোঝাতে- গরম গরম জিলাপি, নরম নরম হাত। 
• সামান্যতা বোঝাতে- উড়ু উড়ু ভাব, কালো কালো চেহারা। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।  
৩৫.
নিচের কোন বানানটি শুদ্ধ?
  1. ক) অপশ্রূতি
  2. খ) অপশ্রুতী
  3. গ) অপ্রোশ্রুতি
  4. ঘ) অপশ্রুতি
সঠিক উত্তর:
ঘ) অপশ্রুতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) অপশ্রুতি
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ বানান - অপশ্রুতি
- সংস্কৃত শব্দ
- প্রকৃতি প্রত্যয় = [অপ+√শ্রু+তি]
অর্থ: স্বর ধ্বনির পরিবর্তনসংক্রান্ত গুণ বৃদ্ধি ও সম্প্রসারণ।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।