উত্তর
ব্যাখ্যা
• বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে যুক্তরাজ্যের সমাজসেবী ও উন্নয়ন কর্মী জুলিয়ান ফ্রান্সিস:
- জুলিয়ান ফ্রান্সিস একজন ব্রিটিশ সমাজসেবক ও উন্নয়ন কর্মী।
- জুলিয়ান ফ্রান্সিস, ব্রিটিশ দাতব্য সংস্থা অক্সফাম-এর সাবেক কর্মকর্তা, ১৯৭১ সালের বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।
- তিনি ভারতে আশ্রয় নেওয়া বাংলাদেশি শরণার্থীদের জন্য অক্সফামের ত্রাণ কার্যক্রমের প্রধান সমন্বয়ক ছিলেন, বিশেষ করে আসাম, ত্রিপুরা ও পশ্চিমবঙ্গ অঞ্চলে।- তিনি অক্সফামের প্রকাশিত Testimony of Sixty (অক্টোবর ১৯৭১) গ্রন্থ প্রণয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন।
- এই গ্রন্থে বিশ্বের ষাটটি বিশিষ্ট ব্যক্তির অভিজ্ঞতা তুলে ধরা হয়েছিল, যা বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে আন্তর্জাতিক জনমত গঠনে সহায়ক হয়।
- স্বাধীনতার পর, ১৯৭২ সালের জানুয়ারিতে তিনি শরণার্থীদের পুনর্বাসনে সহায়তার জন্য বাংলাদেশে আসেন এবং দেশের পরিবহন ব্যবস্থার পুনঃস্থাপনে অবদান রাখেন, এমনকি যুক্তরাজ্য থেকে অক্সফামের মাধ্যমে কয়েকটি ফেরি সংগ্রহ করতে সক্ষম হন।
- পরবর্তী সময়ে, তিনি দারিদ্র্য বিমোচন ও প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করেন।
- তিনি সরকারের দারিদ্র্য হ্রাস কর্মসূচিতেও সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন।
- জুলিয়ান ফ্রান্সিস ১৯৯৮ সাল থেকে স্থায়ীভাবে বাংলাদেশে বসবাস করছেন এবং ২০১৮ সালে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব লাভ করেন। তার অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি “মুক্তিযুদ্ধ মৈত্রী সম্মাননা” পান।
উল্লেখ্য,
- মহান মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক ২০১২ সালের ২৭শে মার্চ জুলিয়ান ফ্রান্সিস-কে মুক্তিযুদ্ধ মৈত্রী সম্মাননা প্রদান করা হয়।
- বাংলাদেশের দারিদ্র্যমোচন ও আর্থসামাজিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ যুক্তরাজ্য সরকার কর্তৃক ২০১৯ সালে তাঁকে 'ওবিই" খেতাবে ভূষিত করা হয়।
তথ্যসূত্র: i) বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ জ্ঞানকোষ ৪র্থ খণ্ড।
ii) সংগ্রামের নোটবুক।