পরীক্ষা আর্কাইভ

১০০ দিনে বিসিএস প্রস্তুতি [বিষয়ভিত্তিক]

পরীক্ষা১০০ দিনে বিসিএস প্রস্তুতি [বিষয়ভিত্তিক]তারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়14 minutes৩৮ বৈধ · অসম্পূর্ণ
মোট প্রশ্ন৩৯
সিলেবাস
পরীক্ষা - ১০: বিষয়: বাংলা ব্যাকরণ সিলেবাস: ধ্বনি, বর্ণ, শব্দ, পদ, প্রত্যয়, বাক্য, বানান ও বাক্য শুদ্ধি উৎস: বাংলা একাডেমি অভিধান, মাধ্যমিক ব্যাকরণ বই (২০২২ ও ২০১৯ সংস্করণ), ভাষা শিক্ষা বই, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাকরণ বই ইত্যাদি।
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

১০০ দিনে বিসিএস প্রস্তুতি [বিষয়ভিত্তিক]

১০০ দিনে বিসিএস প্রস্তুতি [বিষয়ভিত্তিক] · তারিখ অনির্ধারিত · ৩৯ প্রশ্ন

.
অশুদ্ধ বাক্য কোনটি?
  1. তিনি স্বস্ত্রীক ঢাকায় থাকেন।
  2. তোমাকে দেখে সে আশ্চর্য হয়েছে।
  3. আমি সন্তোষ হলাম।
  4. সবগুলোই
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর - সবগুলোই। উপরিউক্ত সবগুলো বাক্যই অশুদ্ধ।

অশুদ্ধ বাক্য: তিনি স্বস্ত্রীক ঢাকায় থাকেন।
শুদ্ধ বাক্য: তিনি সস্ত্রীক ঢাকায় থাকেন।

অশুদ্ধ বাক্য: তোমাকে দেখে সে আশ্চর্য হয়েছে।
শুদ্ধ বাক্য: তোমাকে দেখে সে আশ্চর্যান্বিত হয়েছে।

অশুদ্ধ বাক্য: আমি সন্তোষ হলাম।
শুদ্ধ বাক্য: আমি সন্তুষ্ট হলাম।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

.
নিচের কোনটি 'উচ্চ স্বরধ্বনি'-র উদাহরণ?
ব্যাখ্যা

• উচ্চারণের সময়ে জিভ কতটা উপরে ওঠে বা কতটা নিচে নামে সেই অনুযায়ী স্বরধ্বনি চার ভাগে বিভক্ত:
- উচ্চ স্বরধ্বনি [ই], [উ];
- উচ্চ-মধ্য স্বরধ্বনি [এ], [ও];
- নিম্ন-মধ্য স্বরধ্বনি [অ্যা], [অ];
- নিম্ন স্বরধ্বনি [আ]।

• উচ্চ স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভ উপরে ওঠে; নিম্ন স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভ নিচে নামে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি, (২০২২ সংস্করণ)। 

.
"তিনি ভাত খেয়ে ঘুমিয়ে পড়লেন।" - এটি কোন ধরনের বাক্য?
  1. সরল
  2. মিশ্র
  3. জটিল
  4. যৌগিক
ব্যাখ্যা

সরল বাক্য:
- যে বাক্যে একটি মাত্র কর্তা বা উদ্দেশ্য এবং একটিমাত্র সমাপিকা ক্রিয়া বা বিধেয় থাকে তাকে সরল বাক্য বলে।

যেমন:
- নিপা স্কুলে যায়।
- পাখিগুলাে নীল আকাশে উড়ছে।
- তিনি ভাত খেয়ে ঘুমিয়ে পড়লেন।
- দুর্বিষহ বানানটি অধিকাংশ ব্যক্তি ভুল লিখে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

.
নিচের কোন স্বরবর্ণগুচ্ছ মাত্রাহীন?
  1. উ, ঊ, ঋ, এ
  2. ঋ, এ, ঐ, ও
  3. এ, ঐ, ও, ঔ
  4. অ, আ, ই, ঈ
ব্যাখ্যা

বর্ণমালা:
- ধ্বনির প্রতীককে বলা হয় বর্ণ। এই বর্ণ কানে শোনার বিষয়কে চোখে দেখার বিষয়ে পরিণত করে। ভাষার সবগুলো বর্ণকে একত্রে বলা হয় বর্ণমালা।
- বাংলা বর্ণমালায় মোট বর্ণ ৫০টি। স্বরবর্ণ ১১টি এবং ব্যঞ্জনবর্ণ ৩৯ টি।
- মাত্রাহীন বর্ণ- বাংলা বর্ণমালায় মাত্রাহীন বর্ণ ১০টি। এর মধ্যে স্বরবর্ণ ৪টি এ, ঐ, ও, ঔ এবং ব্যঞ্জনবর্ণ ৬টি (ঙ ঞ, ৎ, ং, ঃ, ঁ)।
- অর্ধমাত্রা বর্ণ- বাংলা বর্ণমালায় অর্ধমাত্রার বর্ণ ৮ টি। এর মধ্যে স্বরবর্ণ ১টি (ঋ) এবং ব্যঞ্জনবর্ণ ৭টি (খ, গ, ণ, থ, ধ, প, শ)।
- পূর্ণমাত্রা বর্ণ- ৩২টি। এর মধ্যে স্বরবর্ণ ৬টি এবং ব্যঞ্জনবর্ণ ২৬টি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম ও দশম শ্রেণি (২০২৪ সংস্করণ)।

.
জটিল বাক্যে খণ্ডবাক্যগুলো কীভাবে ব্যবহৃত হয়?
  1. স্বাধীনভাবে
  2. সরাসরি ক্রিয়া রূপে
  3. পরস্পর সাপেক্ষভাবে
  4. বিচ্ছিন্নভাবে
ব্যাখ্যা

জটিল বাক্য:
- যে বাক্যে প্রধান খণ্ডবাক্যের অধীন এক বা একের বেশি অপ্রধান খণ্ডবাক্য থাকে বা একটি প্রধান খণ্ডবাক্যের এক বা একাধিক বাক্য পরস্পর সাপেক্ষভাবে ব্যবহৃত হলে তাকে জটিল বা মিশ্র বাক্য বলে।

যে-সে, যারা-তারা, যিনি-তিনি, যাঁরা-তাঁরা, যা-তা প্রভৃতি সাপেক্ষ সর্বনাম এবং যদি-তবে, যদিও-তবুও, যেহেতু-সেহেতু, যত-তত, যেটুকু-সেটুকু, যেমন-তেমন, যখন-তখন প্রভৃতি সাপেক্ষ যোজক দিয়ে যখন অধীন বাক্যগুলো যুক্ত থাকে, তাকে জটিল বাক্য বলে।
যেমন:
- যে রক্ষক, সে ভক্ষক।
- যে ছেলেটি এখানে এসেছিল, সে আমার ভাই।
- যে বইটি আমি কিনেছি, সেটি খুব দামি।
- যদি তুমি যাও, তবে তার দেখা পাবে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২-সংস্করণ)।

.
‘সালাম’ ও ‘লাল’ শব্দ দুটির প্রথম ধ্বনি দুটি কোন শ্রেণির ব্যঞ্জন?
  1. মূর্ধন্য
  2. দন্ত্য
  3. দন্তমূলীয়
  4. ওষ্ঠ্য
ব্যাখ্যা

দন্তমূলীয় ব্যঞ্জন:
- যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা উপরের পাটির দাঁতের গােড়ার সঙ্গে লেগে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলােকে দন্তমূলীয় ব্যঞ্জন বলে।
- নানা, সাল, লাল, সালাম প্রভৃতি শব্দের ন, র, ল, স দন্তমূলীয় ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

অন্যদিকে,
দন্ত্য ব্যঞ্জন:
- যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা উপরের পাটির দাঁতে লেগে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলােকে দন্ত্য ব্যঞ্জন বলে।
যেমন- 
- তাল, থালা, দাদা, ধান প্রভৃতি শব্দের ত, থ, দ, ধ দন্ত্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

.
‘দর্শনীয়’ শব্দটির মূল ধাতু বা প্রকৃতি কোনটি?
  1. দর্শন
  2. দৃশ্
  3. দর্শ
  4. দ্রশ্য
ব্যাখ্যা

• ‘দর্শনীয়’ শব্দটির মূল ধাতু বা প্রকৃতি - দৃশ্
- 'দর্শনীয়' শব্দের সঠিক প্রকৃতি ও প্রত্যয়: √ দৃশ্ + অনীয়।

প্রকৃতি- প্রত্যয়:

- 'নন্দন' শব্দটির সঠিক প্রকৃতি প্রত্যয়: √ নন্দি+অন।
- 'দাপট' শব্দের সঠিক প্রকৃতি প্রত্যয়: দাপ + অট।
- 'শ্রমী' এর সঠিক প্রকৃতি- প্রত্যয়: '√ শ্রম্‌ + ইন্‌ '।
- 'দর্শনীয়' শব্দের সঠিক প্রকৃতি ও প্রত্যয় : √ দৃশ্‌ + অনীয়'।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

.
অশুদ্ধ বানান -
  1. অন্যূন
  2. পিপিলীকা
  3. প্রজ্বলিত
  4. মুহূর্ত
ব্যাখ্যা

• অশুদ্ধ বানান - পিপিলীকা
- শুদ্ধ বানান 'পিপীলিকা'
- বিশেষ্য পদ। 
- সংস্কৃত শব্দ।

 অর্থ:
- পিঁপড়া,
- পিঁপড়ে।

অন্যদিকে,
- অন্যূন, প্রজ্বলিত এবং মুহূর্ত - শব্দগুলোর বানান শুদ্ধ।

উৎস: বাংলা বানান অভিধান, বাংলা একাডেমি।

.
কোনটি শুদ্ধ বাক্য?
  1. সে সম্ভ্রান্তশালী পরিবারে জন্মগ্রহণ করেছে।
  2. তোমার সাথে গোপনীয় পরামর্শ আছে।
  3. সকল ছাত্রগণ পাঠে মনোযোগী নয়।
  4. আমি সাক্ষী দিব না।
ব্যাখ্যা

শুদ্ধ বাক্য: তোমার সাথে গোপনীয় পরামর্শ আছে।

অন্যদিকে,
অশুদ্ধ বাক্য: সে সম্ভ্রান্তশালী পরিবারে জন্মগ্রহণ করেছে।
শুদ্ধ বাক্য: সে সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেছে।

অশুদ্ধ বাক্য: সকল ছাত্রগণ পাঠে মনোযোগী নয়।
শুদ্ধ বাক্য: সকল ছাত্র পাঠে মনোযোগী নয়।

অশুদ্ধ বাক্য: আমি সাক্ষী দিব না।
শুদ্ধ বাক্য: আমি সাক্ষ্য দিব না।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

১০.
'ক' এবং 'খ'—এই দুটি ধ্বনি নিচের কোন শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত?
  1. ঘোষ ধ্বনি
  2. উষ্ম ধ্বনি
  3. অঘোষ ধ্বনি
  4. নাসিক্য ধ্বনি
ব্যাখ্যা

ঘোষ ব্যঞ্জন:
যেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ধ্বনিদ্বারের কম্পন অপেক্ষাকৃত বেশি, সেসব ধ্বনিকে বলা হয় ঘোষধ্বনি।
যথা: ব, ভ, ম, দ, ধ, ন, র, ল, ড, ঢ, ড়, ঢ়, জ, ঝ, গ, ঘ, ঙ, হ।

অঘোষ ব্যঞ্জন:
যেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ধ্বনিদ্বারের কম্পন অপেক্ষাকৃত কম, সেসব ধ্বনিকে বলা হয় অঘোষধ্বনি।
যথা: প, ফ, ত, থ, স, ট, ঠ, চ, ছ, শ, ক, খ

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২-সংস্করণ)।

১১.
শুদ্ধ বাক্য কোনটি?
  1. মেয়েটি দারুণ সুবুদ্ধিমতী।
  2. দারিদ্র্য বাংলাদেশের প্রধান সমস্যা।
  3. মেয়েটি সুকেশা ও সুহাসি।
  4. আজকাল বিদ্বান মহিলার অভাব নেই।
ব্যাখ্যা

শুদ্ধ বাক্য: দারিদ্র্য বাংলাদেশের প্রধান সমস্যা।

অন্যদিকে,
অশুদ্ধ বাক্য: মেয়েটি সুকেশা ও সুহাসি।
শুদ্ধ বাক্য: মেয়েটি সুকেশী ও সুহাসিনী।

অশুদ্ধ বাক্য: মেয়েটি দারুণ সুবুদ্ধিমতী।
শুদ্ধ বাক্য: মেয়েটি দারুণ বুদ্ধিমতী।

অশুদ্ধ বাক্য: আজকাল বিদ্বান মহিলার অভাব নেই।
শুদ্ধ বাক্য: আজকাল বিদুষী মহিলার অভাব নেই।

উৎস: ভাষা শিক্ষা হায়াৎ মামুদ এবং উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১২.
শুদ্ধ বানান -
  1. কোষ্ঠকাটিন্য
  2. আমাবশ্যা
  3. অত্যাধিক
  4. ঊর্ধ্ব
ব্যাখ্যা

• শুদ্ধ বানান - ঊর্ধ্ব
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।
- শব্দটি সংস্কৃত ভাষা হতে আগত।

অন্যদিকে,
- কোষ্ঠকাটিন্য - কোষ্ঠকাঠিন্য। 
- আমাবশ্যা - অমাবস্যা।
- অত্যাধিক - অত্যধিক।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বানান অভিধান।

১৩.
কোন স্বরবর্ণটির কোনো সংক্ষিপ্ত রূপ বা 'কার' নেই?
ব্যাখ্যা

অনুবর্ণ: 
- ব্যঞ্জনবর্ণের বিকল্প রূপকে অনুবর্ণ বলে।

• অনুবর্ণ ৩টি- 
যথা :
- ফলা
- রেফ
- বর্ণ সংক্ষেপ।

• স্বরবর্ণের সংক্ষিপ্ত রূপকে 'কার' বলে।
- স্বরবর্ণে কার আছে ১০টি।
- 'অ' স্বরবর্ণের সংক্ষিপ্ত রূপ নেই। তাই 'অ' একটি নিলীন বর্ণ।

• ব্যঞ্জনবর্ণের সংক্ষিপ্ত রূপকে ফলা বলে।
- ব্যঞ্জনবর্ণে ফলা আছে মোট ৬টি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।

১৪.
‘চূর্ণ’ শব্দটির সঠিক প্রকৃতি-প্রত্যয় কোনটি?
  1. √চুর্ণ + ষ্ণিক
  2. √চুর্ + ক্ত
  3. √চুর + না
  4. √চূর্ণ + ই
ব্যাখ্যা

• ক্ত-প্রত্যয় পরে থাকলে ধাতুর মধ্যে বিভিন্ন রকমের পরিবর্তন হয়। এখানে এরূপ কয়েকটি প্রকৃতি- প্রত্যয়ের উদাহরণ দেওয়া হলো।
যেমন:
- √গম্ + ক্ত = গত,
- √গ্রন্থ + ক্ত = গ্রথিত,
- √চুর্ + ক্ত = চূর্ণ,
- √ছিদ্‌ + ক্ত = ছিন্ন,
- √জন্‌ + ক্ত = জাত,
- √দা + ক্ত = দত্ত,
- √সৃজ্ + ক্ত = সৃষ্ট ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

১৫.
‘সৌভাগ্য’ শব্দটিতে কোন সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়টি যুক্ত হয়েছে?
  1. ষ্ণ্য
  2. ষ্ণ
  3. ইষ্ণু
অনির্ধারিত
ব্যাখ্যা

অপশনে একাধিক সঠিক উত্তর থাকায় প্রশ্নটি বাতিল করা হয়েছে।

'সৌভাগ্য' শব্দটির সঠিক প্রকৃতি ও প্রত্যয় হলো সুভগ + য (ষ্ণ্য)।
- 'য' বুঝাতে 'ষ্ণ্য' প্রত্যয় ব্যবহৃত হয়।

• দুটি শব্দের দ্বারা গঠিত সমাসবদ্ধ শব্দের অথবা উপসর্গযুক্ত শব্দের সঙ্গে তদ্ধিত প্রত্যয় যুক্ত হয়ে উপসর্গসহ শব্দের বা শব্দ দুটির মূল স্বরের বৃদ্ধি হয়।
যথা-
• পরলোক + ষ্ণিক = পারলৌকিক।
• সুভগ + ষ্ণ্য =  সৌভাগ্য।
• পঞ্চভূত + ষ্ণিক = পাঞ্চভৌতিক।
• সর্বভূমি + ষ্ণ = সার্বভৌম।

সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়ে গঠিত কিছু প্রকৃতি ও প্রত্যয়:
- তেজঃ + বিন = তেজস্বী,
- সুভগ + ষ্ণ্য = সৌভাগ্য,
- কুসুম + ইত = কুসুমিত,
- সর্বজন + নীন = সর্বজনীন,
- নীল + ইমন = নীলিমা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

১৬.
অশুদ্ধ বাক্য -
  1. তারা বাড়ি যাচ্ছে।
  2. এ কথা প্রমাণিত হয়েছে।
  3. বিদ্বান মূর্খ অপেক্ষা শ্রেয়।
  4. বাংলাদেশ একটি উন্নতশীল দেশ।
ব্যাখ্যা

অশুদ্ধ বাক্য: বাংলাদেশ একটি উন্নতশীল দেশ।
শুদ্ধ বাক্য: বাংলাদেশ একটি উন্নতিশীল / উন্নয়নশীল দেশ।

​অন্যদিকে,
শুদ্ধ বাক্য: তারা বাড়ি যাচ্ছে।
শুদ্ধ বাক্য: এ কথা প্রমাণিত হয়েছে।
শুদ্ধ বাক্য: বিদ্বান মূর্খ অপেক্ষা শ্রেয়।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

১৭.
'প, ফ, ব, ভ' — এই ধ্বনিগুলো উচ্চারণস্থান অনুযায়ী কোন শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত?
  1. দন্ত স্পৃষ্ট
  2. কণ্ঠ স্পৃষ্ট
  3. ওষ্ঠ স্পৃষ্ট
  4. তালু স্পৃষ্ট
ব্যাখ্যা

স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন:
- যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে দুটি বাক্‌প্রত্যঙ্গ পরস্পরের সংস্পর্শে এসে বায়ুপথে বাধা তৈরি করে, সেগুলোকে স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন বলে। এগুলো স্পর্শ ব্যঞ্জনধ্বনি নামেও পরিচিত। পথ, তল, টক, চর, কল শব্দের প, ত, ট, চ, ক স্পৃষ্ট ব্যঞ্জনধ্বনি।
উচ্চারণস্থান অনুযায়ী এগুলোকে এই পাঁচ ভাগে ভাগ করা যায়।
যথা:
• ওষ্ঠ স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন: প, ফ, ব, ভ।
• দন্ত স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন: ত, থ, দ, ধ।
• মূর্ধা স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন: ট, ঠ, ড, ঢ।
• তালু স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন: চ, ছ, জ, ঝ।
• কণ্ঠ স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন: ক, খ, গ, ঘ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২-সংস্করণ)।

১৮.
‘গরিবানা’ শব্দটিতে কোন ভাষার তদ্ধিত প্রত্যয় যুক্ত হয়েছে?
  1. সংস্কৃত
  2. দেশি
  3. বাংলা
  4. বিদেশি
ব্যাখ্যা

• বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয় ‘আনা’ যোগে গঠিত শব্দ হলো:

যেমন:
- গরিব + আনা = গরিবানা;
- ঘর + আনা = ঘরানা;
- বাবু + আনা = বাবুয়ানা;
- বিবি + আনা = বিবিআনা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

১৯.
'যে বইটি আমি কিনেছি, সেটি খুব দামি।' - এটি কোন প্রকার বাক্য?
  1. সরল
  2. যৌগিক
  3. জটিল
  4. খণ্ড
ব্যাখ্যা

জটিল বাক্য:
- যে বাক্যে প্রধান খণ্ডবাক্যের অধীন এক বা একের বেশি অপ্রধান খণ্ডবাক্য থাকে বা একটি প্রধান খণ্ডবাক্যের এক বা একাধিক বাক্য পরস্পর সাপেক্ষভাবে ব্যবহৃত হলে তাকে জটিল বা মিশ্র বাক্য বলে।

যেমন:
- যে রক্ষক, সে ভক্ষক।
- যে ছেলেটি এখানে এসেছিল, সে আমার ভাই।
- যে বইটি আমি কিনেছি, সেটি খুব দামি।
- যদি তুমি যাও, তবে তার দেখা পাবে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২-সংস্করণ)।

২০.
কোনটি মৌলিক শব্দ?
  1. গোলাপী
  2. লাল
  3. ভাইয়ে
  4. মাটির
ব্যাখ্যা

মৌলিক শব্দ:
- যেসব শব্দ বিশ্লেষণ করা যায় না বা ভেঙে আলাদা করা যায় না, সেগুলোকে মৌলিক শব্দ বলে।
যেমন-
- গোলাপ, নাক, লাল, তিন, ভাই, কলা, মাটি।

সাধিত শব্দ:
- যেসব শব্দ বিশ্লেষণ করা যায়, এক কথায় তাকেই বলা হয় সাধিত শব্দ।
- অন্যভাবে বলা যায়, মৌলিক শব্দ বা ধাতুর সাথে বিভিন্ন প্রকার প্রত্যয়, বিভক্তি, উপসর্গ যোগ করে যে শব্দ গঠিত হয়, তাকে বলা হয় সাধিত শব্দ ।
যেমন-
- দেশি, মাটির, বোনের, হাতগুলো, বউটি, গোলাপী, ভাইয়ে ইত্যাদি।

উৎস:
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ -সংস্করণ)।
২) বাংলা ২য় পত্র, নবম-দশম শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২১.
'সাগর' - কোন প্রকার বিশেষ্য?
  1. নাম-বিশেষ্য
  2. গুণ-বিশেষ্য
  3. জাতি-বিশেষ্য
  4. বস্তু-বিশেষ্য
ব্যাখ্যা

জাতি-বিশেষ্য: জাতি-বিশেষ্য সাধারণ-বিশেষ্য নামেও পরিচিত। এ ধরনের বিশেষ্য নির্দিষ্ট কোনো নামকে না বুঝিয়ে প্রাণী ও অপ্রাণীর সাধারণ নামকে বোঝায়। যেমন – মানুষ, গরু, ছাগল, ফুল, ফল, নদী, সাগর, পর্বত ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
নাম-বিশেষ্য: ব্যক্তি, স্থান, দেশ, কাল, সৃষ্টি প্রভৃতির সুনির্দিষ্ট নামকে নাম-বিশেষ্য বলা হয়। যেমন – স্থাননাম: ঢাকা, বাংলাদেশ, হিমালয়, পদ্মা কালনাম: সোমবার, বৈশাখ, জানুয়ারি, রমজান সৃষ্টিনাম: গীতাঞ্জলি, সঞ্চিতা, ইত্তেফাক, অপরাজেয় বাংলা।

বস্তু-বিশেষ্য: কোনো দ্রব্য বা বস্তুর নামকে বস্তু-বিশেষ্য বলে। যেমন – ইট, লবণ, আকাশ, টেবিল, বই ইত্যাদি।

সমষ্টি-বিশেষ্য: এ ধরনের বিশেষ্য দিয়ে ব্যক্তি বা প্রাণীর সমষ্টিকে বোঝায়। যেমন – জনতা, পরিবার, ঝাঁক, বাহিনী, মিছিল ইত্যাদি।

গুণ-বিশেষ্য: গুণগত অবস্থা ও ধারণার নামকে গুণ-বিশেষ্য বলে। যেমন – সরলতা, দয়া, আনন্দ, গুরুত্ব, দীনতা, ধৈর্য ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

২২.
‘চন্দ্র পৃথিবীর চারদিকে’ — এটুকু বললে বাক্যের কোন গুণের অভাব পরিলক্ষিত হয়?
  1. আসত্তি
  2. পদক্রম
  3. যোগ্যতা
  4. আকাঙ্ক্ষা
ব্যাখ্যা

আকাঙ্ক্ষা:
- বাক্যের অর্থ পরিষ্কারভাবে বোঝার জন্য এক পদের পর অন্য পদ শোনার যে ইচ্ছা তা-ই আকাঙ্ক্ষা।

যেমন:
- ‘চন্দ্র পৃথিবীর চারদিকে’- এটুকু বললে বাক্যটি সম্পূর্ণ মনোভাব প্রকাশ করে না, আরও কিছু ইচ্ছা থাকে।
- বাক্যটি এভাবে পূর্ণাঙ্গ করা যায় চন্দ্র পৃথিবীর চারদিকে ঘোরে।
- এখানে আকাঙ্ক্ষার নিবৃত্তি হয়েছে বলে এটি পূর্ণাঙ্গ বাক্য।

অন্যদিকে,
আসত্তি:
- মনোভাব প্রকাশের জন্য বাক্যে শব্দগুলো এমনভাবে পর পর সাজাতে হবে যাতে মনোভাব প্রকাশ বাধাগ্রস্ত না হয়।
- বাক্যের অর্থসঙ্গতি রক্ষার জন্য সুশৃঙ্খল পদবিন্যাসই আসত্তি।
 যেমন:
- কাল বিতরণী হবে উৎসব স্কুলে আমাদের পুরস্কার অনুষ্ঠিত।
- লেখা হওয়াতে পদ সন্নিবেশ ঠিকভাবে না হওয়ায় শব্দগুলোর অন্তর্নিহিত ভাবটি যথাযথ প্রকাশিত হয়নি।
- তাই এটি একটি বাক্য হয়নি।
- মনোভাব পূর্ণ ভাবে প্রকাশ করার জন্য পদগুলোকে নিম্নলিখিতভাবে যথাস্থানে সন্নিবিষ্ট করতে হবে।
 যেমন:
- কাল আমাদের স্কুলে পুরস্কার বিতরণী উৎসব অনুষ্ঠিত হবে।
- বাক্যটি আসত্তি সম্পন্ন।

যোগ্যতা:
- বাক্যস্থিত পদসমূহের অন্তর্গত এবং ভাবগত মিলকখনের নাম যোগ্যতা।
যেমন:
- বর্ষার বৃষ্টিতে প্লাবনের সৃষ্টি হয়। - এটি একটি যোগ্যতাসম্পন্ন বাক্য।
- কারণ, বাক্যটিতে পদসমূহের অর্থগত এবং ভাবগত সমন্বয় রয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

২৩.
'ব্রহ্ম' শব্দে ব্যবহৃত 'হ্ম' যুক্তবর্ণটি কোন দুটি বর্ণের যোগে গঠিত?
  1. হ্ + ন
  2. হ্ + ণ
  3. ম + হ
  4. হ্ + ম
ব্যাখ্যা

• 'ব্রহ্ম' শব্দে ব্যবহৃত 'হ্ম' যুক্তবর্ণটি 'হ্ + ম' দুটি বর্ণের যোগে গঠিত।

গুরুত্বপূর্ণ কিছু যুক্তবর্ণ:
- হ্ + ম = হ্ম,
- হ্ + উ = হু,
- হ্ + ঋ = হৃ,
- হ্ + ণ = হ্ণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি, (সংস্করণ-২০২১)।

২৪.
শুদ্ধ বানান কোনটি?
  1. স্বায়ত্তশাসন
  2. সায়ত্তশাসন
  3. সায়ত্বশাসন
  4. স্বায়ত্বশাসন
ব্যাখ্যা

• শুদ্ধ বানান - স্বায়ত্তশাসন
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।
- শব্দটি সংস্কৃত ভাষা হতে আগত।

শব্দের অর্থ:
- স্বশাসিত রাষ্ট্র (একনায়ক-শাসিত নয়)।

উৎস: বাংলা একাডেমী আধুনিক বাংলা অভিধান।

২৫.
"বরফ" শব্দটি কোন ভাষা হতে আগত?
  1. ফারসি
  2. পর্তুগিজ
  3. সংস্কৃত
  4. তুর্কি
ব্যাখ্যা

• ফারসি শব্দ - বরফ
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।
অর্থ:
- ঠান্ডায় জমে যাওয়া জল।
- তুষার।

কিছু  ফারসি শব্দ হলো:
- অন্দর, কানুন, আবহাওয়া, আমদানি-রপ্তানি, দরবার, শরবত, বরফ, সাহেব, সবজি, জমিদার, গোয়েন্দা, গোলাম, জিনিস, কাগজ, ইস্তফা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।

২৬.
‘স্থান’ শব্দটিতে কোন প্রত্যয়টি ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. অন
  2. ক্ত
  3. অনট
  4. তব্য
ব্যাখ্যা

• 'অনট': ('ট' ইৎ (বিলুপ্ত) হয়, 'অন' থাকে) প্রত্যয়ে গঠিত কয়েকটি শব্দ:

যেমন:
- √নন্দি + অনট = নন্দন।
- √ভুজ্‌ + অনট = ভোজন।  
- √শ্রু + অনট = শ্রবণ।
- √স্থা + অনট = স্থান।

উৎস: বাংলা দ্বিতীয় পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।

২৭.
কোনগুলো উষ্মধ্বনি?
  1. শ, ষ, হ
  2. জ, থ, ষ
  3. প, ম, হ
  4. ত, ঝ, শ
ব্যাখ্যা

উষ্মধ্বনি:
- শ, ষ, স, হ - এ চারটি বর্ণে দ্যোতিত ধ্বনি উচ্চারণের সময় আমরা শ্বাস যতক্ষণ খুশি রাখতে পারি। এগুলােকে বলা হয় উষ্মধ্বনি বা শিশধ্বনি। এ বর্ণগুলোকে বলা হয় উষ্মবর্ণ।
- শ ষ স - এ তিনটি বর্ণে দ্যোতিত ধ্বনি অঘােষ অল্পপ্রাণ, আর 'হ' ঘােষ মহাপ্রাণ ধ্বনি।

অন্যদিকে,
- প, ম ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জন ধ্বনির উদাহরণ।
- ত, থ দন্ত্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।
- জ, ঝ, শ তালব্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।

২৮.
‘আর’ এবং ‘আবার’—এই শব্দগুলো কোন শ্রেণির অব্যয়?
  1. বাংলা অব্যয় 
  2. তৎসম অব্যয়
  3. সংস্কৃত অব্যয়
  4. বিদেশি অব্যয়
ব্যাখ্যা

অব্যয় পদ:
- যে পদ সর্বদা অপরিবর্তনীয় থেকে বাক্যের শোভা বর্ধন করে, কখনো একাধিক পদের, বাক্যাংশের বা বাক্যের সংযোগ বা বিয়োগ সম্বন্ধ ঘটায়, তাকে অব্যয় পদ বলে।
যথা-
১. বাংলা, 
২. তৎসম, 
৩. বিদেশি।

বাংলা অব্যয় শব্দ - আর, আবার, ও, হ্যাঁ।
তৎসম অব্যয় শব্দ - যদি, যথা, সহসা, আপাতত, বরং।
বিদেশী অব্যয় শব্দ - আলবত, বহুত, খুব, শাবাশ, খাসা, মাইরি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, ৯ম-১০ম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) ও বাংলা দ্বিতীয় পত্র, নবম-শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২৯.
কোন যৌগিক বাক্য নয়?
  1. এখনই যাও, নচেৎ তার দেখা পাবে না।
  2. যখন বিপদ আসে, তখন দুঃখও আসে।
  3. অন্ধকার হয়ে এসেছে অথচ সে বাসাই ফিরেনি।
  4. হামিদ বই পড়ছে, আর সীমা রান্না করছে।
ব্যাখ্যা

যৌগিক বাক্য:
- দুই বা ততোধিক স্বাধীন বাক্য যখন যোজকের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে একটি বাক্যে পরিণত হয়, তখন তাকে যৌগিক বাক্য বলে।
- এবং, ও, আর, অথবা, বা, কিংবা, কিন্তু, অথচ, সেজন্য, ফলে ইত্যাদি যোজক যৌগিক বাক্যে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। কমা (,), সেমিকোলন (;), কোলন (:), ড্যাশ (−) ইত্যাদি যতিচিহ্নও যোজকের কাজ করে।

যেমন:
- দোষ স্বীকার কর, তোমাকে শাস্তি দেয়া হবে না।
- হামিদ বই পড়ছে, আর সীমা রান্না করছে।
- তিনি সত্যের পূজারি, এজন্য তিনি জগতের সর্বত্র আদৃত।
- সে ভালো ফল করেছে তাই আমরা আনন্দিত হয়েছি।
- সে ঘর ঝাড়ু দিল, ঘর মুছল, তারপর পড়তে বসল ৷
- অন্ধকার হয়ে এসেছে অথচ সে বাসাই ফিরেনি।
- এখনই যাও, নচেৎ তার দেখা পাবে না।
- তোমরা চেষ্টা করেছ, কিন্তু আশানুরূপ ফল পাওনি এতে দোষের কিছু নেই।

অন্যদিকে,
- যখন বিপদ আসে, তখন দুঃখও আসে। - জটিল বাক্য।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৩০.
‘হাত, পা, কান, নাক’ — এই শব্দগুলো নিচের কোন শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত?
  1. তৎসম
  2. দেশি
  3. তদ্ভব
  4. ফারসি
ব্যাখ্যা

তদ্ভব শব্দ:
- প্রাচীন ভারতীয় আর্যভাষা থেকে বিবর্তিত যেসব শব্দ বাংলা ভাষায় একেবারেই স্বতন্ত্র, সেগুলােকে তদ্ভব শব্দ বলা হয়।
- উদাহরণ: হাত, পা, কান, নাক, জিভ, দাঁত; হাতি, ঘােড়া, সাপ, পাখি, কুমির ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 
দেশি শব্দ:
- বাংলাদেশের আদিম অধিবাসীদের সংস্কৃতির কিছু কিছু শব্দ আর্যদের প্রভাবে পরিবর্তিত না হয়ে অবিকৃতভাবে বাংলা ভাষায় রক্ষিত আছে, এসব শব্দকে বলা হয় দেশি শব্দ।
- প্রাচীনকালে এদেশের অধিবাসী ছিলেন অনার্য, দ্রাবিড়, কোল প্রভৃতি জাতি।
- তাদের ভাষা ও সংস্কৃতির কিছু শব্দ বাংলা ভাষায় রক্ষিত হয়েছে। এগুলোকে দেশী শব্দ বলা হয়।
- অনেক সময় এসব শব্দের মূল নির্ণয় করা যায় না।
- দেশি শব্দের উদাহরণ- পেট, ডাব, গজ, টোপ, ডিঙ্গা, চাউল ইত্যাদি।

তৎসম শব্দ:
- প্রাচীন ভারতীয় আর্যভাষা থেকে বিবর্তিত যেসব বাংলা শব্দের লিখিত চেহারা সংস্কৃত ভাষার শব্দের অনুরূপ সেগুলােকে তৎসম শব্দ বলে।
যথা:
পৃথিবী, আকাশ, গ্রহ, বৃক্ষ।
- সংস্কৃত ব্যাকরণ অনুসরণ করে গঠিত পারিভাষিক শব্দকেও তৎসম শব্দ বলা হয়।
যথা:
অধ্যাদেশ, গণপ্রজাতন্ত্রী, মহাপরিচালক, সচিবালয় ইত্যাদি।

বিদেশি শব্দ:
- ঐতিহাসিক কারণে বাংলাদেশের সঙ্গে বিভিন্ন দেশের আন্তঃসম্পর্ক তৈরি হওয়ায় সেসব দেশের বহু শব্দ বাংলা ভাষায় স্থান করে নিয়েছে এই শব্দগুলােকে বিদেশি শব্দ বলে।
- এসব বিদেশি শব্দের মধ্যে রয়েছে আরবি, ফারসি, ইংরেজি, পর্তুগিজ, ফরাসি, ওলন্দাজ, তুর্কি, হিন্দি ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ, বাংলাপিডিয়া, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ), বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

৩১.
‘সামান্য একটু দুধ দাও’—এই বাক্যে ‘সামান্য’ কোন ধরনের বিশেষণ?
  1. বিশেষ্যের বিশেষণ
  2. ক্রিয়া বিশেষণ
  3. গুণবাচক বিশেষণ
  4. বিশেষণীয় বিশেষণ
ব্যাখ্যা

বিশেষণীয় বিশেষণ:
- যে পদ নাম-বিশেষণ অথবা ক্রিয়া বিশেষণকে বিশেষিত করে, তাকে বিশেষণীয় বিশেষণ বলে।
যেমন,
- সামান্য একটু দুধ দাও।
- অতিশয় মন্দ কথা।
- রকেট অতি দ্রুত চলে।

উৎস : বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান; মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২১ সংস্করণ)।

৩২.
'অঙ্কুর' শব্দে যুক্তবর্ণটি কোন দুটি বর্ণের মিলনে তৈরি?
  1. ঙ্‌ + গ
  2. ঙ্‌ + ক
  3. ঞ্‌ + ক
  4. ন্‌ + ক
ব্যাখ্যা

• 'অঙ্কুর' শব্দে যুক্তবর্ণটি 'ঙ্‌ + ক = ঙ্ক' দুটি বর্ণের মিলনে তৈরি।

• গুরুত্বপূর্ণ কিছু যুক্তবর্ণ:
- ত্ + ত = ত্ত,
- ভ্‌ + র = ভ্র,
- ত্‌ + থ = ত্থ,
- ঙ্‌ + গ = ঙ্গ,
- হ্‌ + ম = হ্ম। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।

৩৩.
অশুদ্ধ বানান কোনটি?
  1. মুমুক্ষু
  2. রুক্মিনী
  3. মোহিনী
  4. রোমহর্ষক
ব্যাখ্যা

• অশুদ্ধ বানান - রুক্মিনী
- শুদ্ধ বানান - রুক্মিণী।
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।
- শব্দটি সংস্কৃত ভাষা হতে আগত।

শব্দের অর্থ:
- বিদর্ভরাজ ভীষ্মকের কন্যা ও শ্রীকৃষ্ণের প্রধান মহিষী।

অন্যদিকে,
- মুমুক্ষু, মোহিনী এবং রোমহর্ষক - শব্দগুলোর বানান শুদ্ধ।

উৎস: বাংলা একাডেমী আধুনিক বাংলা অভিধান।

৩৪.
‘হেসে ওঠা’ কোন ধরনের ক্রিয়ার উদাহরণ?
  1. সংযোগ ক্রিয়া
  2. যৌগিক ক্রিয়া
  3. প্রযোজক ক্রিয়া
  4. মৌলিক ক্রিয়া
ব্যাখ্যা

যৌগিক ক্রিয়া:
- অসমাপিকা ক্রিয়ার সঙ্গে সমাপিকা ক্রিয়া যুক্ত হয়ে যখন একটি ক্রিয়া গঠন করে, তখন তাকে যৌগিক ক্রিয়া বলে।

যেমন:
- মরে যাওয়া, 
- কমে আসা, 
- এগিয়ে চলা,
- হেসে ওঠা, 
- উঠে পড়া, 
- পেয়ে বসা,
- সরে দাঁড়ানো, 
- বেঁধে দেওয়া,
- বুঝে নেওয়া।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিত, নবম - দশম শ্রেণি, (সংস্করণ ২০২১)।

৩৫.
শুদ্ধ বাক্য কোনটি?
  1. দশচক্রে ঈশ্বর ভূত।
  2. আমার আর বাঁচিবার স্বাদ নাই।
  3. আজকাল বিদ্বান মেয়ের অভাব নেই।
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

• সঠিক উত্তর - কোনটিই নয়। উপরিউক্ত বাক্যে সবগুলো বাক্যই অশুদ্ধ।

অশুদ্ধ: দশচক্রে ঈশ্বর ভূত।
শুদ্ধ: দশচক্রে ভগবান ভূত।

অশুদ্ধ: আমার আর বাঁচিবার স্বাদ নাই।
শুদ্ধ: আমার আর বাঁচার সাধ নাই।

অশুদ্ধ: আজকাল বিদ্বান মেয়ের অভাব নেই।
শুদ্ধ: আজকাল বিদুষী মেয়ের অভাব নেই।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর। 

৩৬.
তুর্কি ভাষা থেকে আগত শব্দ কোনটি?
  1. হরতন
  2. কুর্নিশ
  3. হরতাল
  4. বালতি
ব্যাখ্যা

• 'কুর্নিশ' শব্দটি তুর্কি ভাষা থেকে গৃহীত।
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।
অর্থ:
- সম্ভ্রমপূর্ণ অভিবাদন।

অন্যদিকে,
হরতন - ওলন্দাজ শব্দ।
হরতাল - গুজরাটি শব্দ।
বালতি - পর্তুগিজ শব্দ।

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।

৩৭.
‘করিম ও রহিম এ কাজটি করেছে’ — এখানে ‘ও’ কোন ধরনের যোজক?
  1. বিকল্প যোজক
  2. সাপেক্ষ যোজক
  3. বিরোধ যোজক
  4. সাধারণ যোজক
ব্যাখ্যা

সাধারণ যোজক:
- এ ধরনের যোজক দুটি শব্দ বা বাক্যকে যুক্ত করে।
যেমন:
- করিম রহিম এ কাজটি করেছে।

অন্যদিকে,
বিকল্প যোজক:
- এ ধরনের যোজক একাধিক শব্দ বা বাক্যের মধ্যে বিকল্প নির্দেশ করে।
যেমন:
- চা না-হয় কফি খান। লাল বা নীল কলমটা আনো।

সাপেক্ষ যোজক:
- এ ধরনের যোজক একে অন্যের পরিপূরক হয়ে বাক্যে ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- যত পড়ছি, ততই নতুন করে জানছি।

বিরোধ যোজক:
- এ ধরনের যোজক বাক্যের দুটি অংশের মধ্যে সংযোগ ঘটায় এবং প্রথম বাক্যের বক্তব্যের সঙ্গে বিরোধ তৈরি করে।যেমন:
- তাকে আসতে বললাম, তবুও এলো না।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

৩৮.
নিচের কোন শব্দটি রূঢ়ি শব্দের উদাহরণ?
  1. গায়ক
  2. সন্দেশ
  3. মহাযাত্রা
  4. পঙ্কজ
ব্যাখ্যা

রূঢ়ি শব্দ:
- যে শব্দ প্রত্যয় বা উপসর্গযোগে মূল শব্দের অর্থের অনুগামী না হয়ে অন্য কোনো বিশিষ্ট অর্থ জ্ঞাপন করে, তাকে রূঢ়ি শব্দ বলে।

যেমন:
- হস্তী: হস্ত + ইন, অর্থ -হস্ত আছে যার; কিন্তু হস্তী বলতে একটি পশুকে বোঝায়।
- গবেষণা (গো+এষণা) অর্থ - গরু খোঁজা। বর্তমান অর্থ ব্যাপক অধ্যয়ন ও পর্যালোচনা।
- বাঁশি: বাঁশ দিয়ে তৈরি যে কোনো বস্তু নয়, শব্দটি সুরের বিশেষ বাদ্যযন্ত্র, বিশেষ অর্থে প্রযুক্ত হয়।
- তৈল: শুধু তিলজাত স্নেহ পদার্থ নয়, শব্দটি যে কোনো উদ্ভিজ্জ পদার্থজাত স্নেহ পদার্থকে বোঝায়। যেমন - বাদাম তেল।
- প্রবীণ: শব্দটির অর্থ হওয়া উচিত ছিল প্রকৃষ্ট রূপে বীণা বাজাতে পারেন যিনি। কিন্তু শব্দটি ‘অভিজ্ঞতাসম্পন্ন বয়স্ক ব্যক্তি' অর্থে ব্যবহৃত হয়।
- সন্দেশ: শব্দ ও প্রত্যয়গত অর্থে ‘সংবাদ’। কিন্তু রূঢ়ি অর্থে ‘মিষ্টান্ন বিশেষ’

অন্যদিকে,
যৌগিক শব্দ - গায়ক।
যোগরূঢ় শব্দ - মহাযাত্রা, পঙ্কজ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৩৯.
শুদ্ধ বানান - 
  1. দেদিপ্যমান
  2. দেদীপ্যমান
  3. দেদীপ্যমাণ
  4. দেদিপ্যমাণ
ব্যাখ্যা

• শুদ্ধ বানান - দেদীপ্যমান

- এটি একটি বিশেষ্য পদ।
- শব্দটি সংস্কৃত ভাষা হতে আগত।

শব্দের অর্থ:
- অত্যন্ত উজ্জ্বল বা দীপ্তিময় দেখাচ্ছে এমন;
- অতিশয় দীপ্তিশীল;
- জাজ্বল্যমান।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বানান অভিধান।