পরীক্ষা আর্কাইভ

১৪০ দিনে ৫১তম বিসিএস প্রস্তুতি

পরীক্ষা১৪০ দিনে ৫১তম বিসিএস প্রস্তুতিতারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়17 minutes৪১ বৈধ · অসম্পূর্ণ
মোট প্রশ্ন৪২
সিলেবাস
পরীক্ষা - ৮৫ বিষয় - সাধারণ বিজ্ঞান টপিক - আধুনিক বিজ্ঞান ও অন্যান্য ১. মানবদেহ ও এর শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া, রোগের কারণ ও প্রতিকার, সংক্রামক রোগ, রোগ জীবাণুর জীবনধারণ, মা ও শিশু স্বাস্থ্য, আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতি, ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া, মাইক্রোবায়োলজি, ইম্যুনাইজেশন এবং ভ্যাকসিনেশন, এইচআইভি, এইডস, টিবি, পোলিও, আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতি - এপিকালচার, সেরিকালচার, পিসিকালচার, হর্টিকালচার ইত্যাদি। ২. ইলেকট্রনিক্স, আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থা, শক্তির উৎস ও প্রয়োগ, শক্তির রূপান্তর, নবায়নযোগ্য শক্তির উৎস, পারমাণবিক শক্তি, খনিজ উৎস ও জীবাশ্ম ইত্যাদি। এবং বিষয় - বাংলা ভাষা ও ব্যাকরণ টপিক - বাক্য প্রকরণ [প্রয়োগ ও অপপ্রয়োগ; বানান ও বাক্যশুদ্ধি; যতিচিহ্ন ও এর ব্যবহার; পরিভাষা; বাগ্‌ধারা; সমার্থক শব্দ/প্রতিশব্দ; বিপরীতার্থক শব্দ; শব্দজোড় ও প্রায় সমোচ্চারিত শব্দ; এক কথায় প্রকাশ/বাক্য সংক্ষেপ বিবিধ।] ------------------ [এই রুটিনে সারাবছর জুড়ে পরীক্ষা চলমান থাকে। আজ বা যেকোন সময় পরীক্ষা শুরু করা হলেও নির্দিষ্ট সময়ে পুরো সিলেবাস সম্পন্ন হবে]
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

১৪০ দিনে ৫১তম বিসিএস প্রস্তুতি

১৪০ দিনে ৫১তম বিসিএস প্রস্তুতি · তারিখ অনির্ধারিত · ৪২ প্রশ্ন

.
অশুদ্ধ বানান কোনটি?
  1. আরম্ভ
  2. আশ্বস্ত
  3. জাজ্বল্যমান
  4. নীপিড়ীত
সঠিক উত্তর:
নীপিড়ীত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নীপিড়ীত
ব্যাখ্যা

• অশুদ্ধ বানান - নীপিড়ীত
- শুদ্ধ বানান - নিপীড়িত।
- এটি একটি বিশেষণ পদ।
- শব্দটি সংস্কৃত ভাষা হতে আগত।

শব্দের অর্থ:
- নির্যাতিত, নিগৃহীত।

অন্যদিকে,
শুদ্ধ বানান: আরম্ভ।
শুদ্ধ বানান - 'জাজ্বল্যমান'।
শুদ্ধ বানান - আশ্বস্ত।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

.
'Memorandum' এর বাংলা পরিভাষা -
  1. স্মারকলিপি
  2. সারগ্রন্থ
  3. ইশতেহার
  4. পাণ্ডুলিপি
সঠিক উত্তর:
স্মারকলিপি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্মারকলিপি
ব্যাখ্যা

• 'Memorandum' এর বাংলা পরিভাষা - স্মারকলিপি

অন্যদিকে,
Manual - সারগ্রন্থ। 
Manifesto - ইশতেহার। 
Manuscript - পাণ্ডুলিপি। 

উৎস: বাংলা একাডেমি প্রশাসনিক পরিভাষা অভিধান এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

.
কোন শব্দে সমার্থ শব্দের বাহুল্যজনিত অশুদ্ধি ঘটেছে?
  1. সমূল
  2. সুবুদ্ধিমান
  3. অদ্যাপি
  4. কদাপি
সঠিক উত্তর:
সুবুদ্ধিমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুবুদ্ধিমান
ব্যাখ্যা

• সমার্থ শব্দের বাহুল্যজনিত অশুদ্ধি - সুবুদ্ধিমান
- এর শুদ্ধ প্রয়োগ - সুবুদ্ধি/বুদ্ধিমান।

অন্যদিকে,
- সমূল,
- অদ্যাপি এবং 
- কদাপি।
শব্দগুলোর বানান শুদ্ধ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

.
একাধিক বাক্য সংযোজক অব্যয়ের দ্বারা যুক্ত না হলে কোন চিহ্ন বসে?
  1. কোলন ড্যাশ
  2. কোলন
  3. কমা
  4. সেমিকোলন
সঠিক উত্তর:
সেমিকোলন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সেমিকোলন
ব্যাখ্যা

সেমিকোলন (;):
- একাধিক বাক্যের মধ্যে নিকট সম্পর্ক থাকলে তাদের মাঝে যোগসূত্র রক্ষার জন্য সেমিকোলন ব্যবহার করা হয়।
- সেমিকোলনচিহ্ন কমার চেয়ে দ্বিগুণ সময় বিরতি নেয়।
যেমন:

১. দুটো বাক্যের মধ্যে ভাব বা অর্থের সম্বন্ধ থাকলে সেমিকোলন বসে।
যেমন:
- দিনটা ভালো নয়; মাঝে মাঝে বৃষ্টি পড়ছে।
- কথাটা বলা সহজ; করা কঠিন।

২. একাধিক বাক্য সংযোজক অব্যয়ের দ্বারা যুক্ত না হলে সেমিকোলন বসে।
যেমন:
- আগে স্কুলের পড়া; পরে গল্পের বই।

৩. যেসব অব্যয় বৈপরীত্য বা অনুমান প্রকাশ করে, তাদের আগে সেমিকোলন বসে।
যেমন:
- মনোযোগ দিয়ে পড়; তাহলেই ভালো ফল করবে।
- ছেলেটি মেধাবী; কিন্তু ভারি অলস।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।

.
"ভূতপূর্ব" বলতে কী বোঝায়?
  1. যা পূর্বে ছিল এখন নেই
  2. যা পূর্বে দেখা যায়নি এমন
  3. যা পূর্বে শোনা যায়নি
  4. যা কখনো নষ্ট হয় না
সঠিক উত্তর:
যা পূর্বে ছিল এখন নেই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যা পূর্বে ছিল এখন নেই
ব্যাখ্যা

- যা পূর্বে ছিল এখন নেই - ভূতপূর্ব

অন্যদিকে,
- যা পূর্বে দেখা যায়নি এমন - অদৃষ্টপূর্ব।
- যা পূর্বে শোনা যায়নি - অশ্রুতপূর্ব।
- যা কখনো নষ্ট হয় না - অবিনশ্বর।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

.
'শারি' ও 'সারি' শব্দের অর্থ যথাক্রমে -
  1. পুরুষ শালিক ও গানবিশেষ
  2. পঙ্‌ক্তি ও আস্বাদ
  3. গানবিশেষ ও পুরুষ শালিক
  4. স্ত্রী শালিক ও পঙ্‌ক্তি
সঠিক উত্তর:
স্ত্রী শালিক ও পঙ্‌ক্তি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্ত্রী শালিক ও পঙ্‌ক্তি
ব্যাখ্যা

• ‘শারি’ শব্দের অর্থ - স্ত্রী শালিক
• ‘সারি’ শব্দের অর্থ - পঙ্‌ক্তি

কিছু গুরুত্বপূর্ণ শব্দজোড়:
• ‘শব’ শব্দের অর্থ - লাশ।
• ‘সব’ শব্দের অর্থ - সকল।
• ‘স্বাদ’ শব্দের অর্থ - আস্বাদ।
• ‘সাদ’ শব্দের অর্থ - ইচ্ছা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

.
'Glaucous' এর বাংলা পরিভাষা -
  1. চকচকে
  2. শব্দপঞ্জি
  3. আনুতোষিক
  4. গুটিকা
সঠিক উত্তর:
চকচকে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চকচকে
ব্যাখ্যা

• 'Glaucous' এর বাংলা পরিভাষা - চকচকে

Glossary - শব্দপঞ্জি। 
Gratuity - আনুতোষিক। 
Globule - গুটিকা। 

উৎস: বাংলা একাডেমি, প্রশাসনিক পরিভাষা। 

.
'স্বর' শব্দের অর্থ কী?
  1. তির
  2. আঁশ
  3. সুর
  4. সব
সঠিক উত্তর:
সুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুর
ব্যাখ্যা

• 'স্বর' শব্দের অর্থ - সুর

অন্যদিকে,
• শর - তির।
• শকল - আঁশ।
• সকল - সব।

শব্দজোড়:
- বাংলা ভাষায় এমন কিছু শব্দ আছে, যেগুলোর উচ্চারণ এক অথবা প্রায় এক, কিন্তু অর্থ ভিন্ন; এমন যুগল শব্দকে শব্দজোড় বলে।
- অধিকাংশ ক্ষেত্রে এদের বানান ভিন্ন হয়, তবে উচ্চারণ এক হওয়ায় কানে শুনে এদের পার্থক্য করা যায় না।
- বাক্যে ব্যবহৃত হলে প্রসঙ্গ বিবেচনায় এসব শব্দের পার্থক্য বোঝা যায় ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

.
'তা' প্রত্যয়ের অপপ্রয়োগ ঘটেছে কোন শব্দে?
  1. অলসতা
  2. একতা
  3. কৃপণতা
  4. দৈন্যতা
সঠিক উত্তর:
দৈন্যতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দৈন্যতা
ব্যাখ্যা

• 'দৈন্যতা' শব্দে 'তা' প্রত্যয়ের অপপ্রয়োগ ঘটেছে।
- শুদ্ধ প্রয়োগ: দৈন্য, দীনতা।

বানানের নিয়ম:
'তা' 'ত্ব' এবং 'য' হলো বিশেষ্যবাচক প্রত্যয়। যা কেবল বিশেষণ শব্দকে বিশেষ্য করে। তাই বিশেষ্য শব্দের সঙ্গে আবারো 'তা' 'ত্ব' বা য যুক্ত করলে তা ভুল হবে।
যেমন:
- দৈন্যতা শব্দটি অপপ্রয়োগ বা অশুদ্ধ। কারণ 'দীন' বিশেষণ শব্দের সঙ্গে-বিশেষ্যবাচক 'য' প্রত্যয় যোগ করে 'দৈন্য' বিশেষ্য শব্দ গঠিত হয়। - ফলে 'দৈন্য' শব্দের সঙ্গে আবারো বিশেষ্যবাচক 'তা' প্রত্যয় যুক্ত হলে তা ভুল বলে গণ্য হয়েছে।

অন্যদিকে, 
- অলসতা, 
- একতা, 
- কৃপণতা। 
শব্দগুলোর প্রয়োগ শুদ্ধ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

১০.
'বন' শব্দের সমার্থক শব্দ - 
  1. কানন
  2. অরবিন্দ
  3. পঙ্কজ
  4. শাখী
সঠিক উত্তর:
কানন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কানন
ব্যাখ্যা

'বন' শব্দের সমার্থক শব্দ:
- অরণ্য, জঙ্গল, কানন, বনানী, বনবাদাড়, কুঞ্জ, কান্তার, বিপিন, অটবী।

অন্যদিকে,
'পদ্ম' শব্দের সমার্থক শব্দ:
- কমল, উৎপল, পঙ্কজ, কুমুদ, কুবলয়, শতদল, অরবিন্দ, রাজীব, নলিনী, সরোজ।

'বৃক্ষ' শব্দের সমার্থক শব্দ:
- গাছ, পাদপ, দ্রুম, বনানী, তরু, বিটপী, শাখী, পণী, শৃঙ্গী, শিখরী, মহীরুহ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

১১.
শুদ্ধ বানান -
  1. কণিণিকা
  2. কণীনিকা
  3. কনীনিকা
  4. কনীণিকা
সঠিক উত্তর:
কনীনিকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কনীনিকা
ব্যাখ্যা

• শুদ্ধ বানান - কনীনিকা
- এটি একটি সংস্কৃত শব্দ।
- শব্দটি বিশেষ্য পদ।

শব্দের অর্থ:
- চোখের তারা,
- কড়ে আঙুল,
-ছোটো বোন।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

১২.
কোনটি অশুদ্ধ বাক্য?
  1. দশের লাঠি একের বোঝা।
  2. কালীদাস খ্যাতমান কবি।
  3. এটা লজ্জাকর ব্যাপার।
  4. সব মাছের দাম কত?
সঠিক উত্তর:
কালীদাস খ্যাতমান কবি।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কালীদাস খ্যাতমান কবি।
ব্যাখ্যা

অশুদ্ধ: কালীদাস খ্যাতমান কবি।
শুদ্ধ: কালিদাস খ্যাতিমান কবি।

অন্যদিকে,
শুদ্ধ বাক্য - দশের লাঠি একের বোঝা।
শুদ্ধ বাক্য - এটা লজ্জাকর ব্যাপার।
শুদ্ধ বাক্য - সব মাছের দাম কত?

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

১৩.
'কুলীন' এর বিপরীতার্থক শব্দ -
  1. সরল
  2. শূদ্র
  3. অকপট
  4. অকুটিল
সঠিক উত্তর:
শূদ্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শূদ্র
ব্যাখ্যা

• 'কুলীন' এর বিপরীতার্থক শব্দ - শূদ্র

উল্লেখ্য,
'কুলীন' শব্দের অর্থ - কল্পিত অভিজাত বংশে জাত, আচার বিনয় বিদ্যা প্রভৃতি গুণসম্পন্ন।
'অন্ত্যজ' শব্দের অর্থ - অনগ্রসর বংশে জাত, শূদ্র, চণ্ডাল।
'অকুটিল' শব্দের অর্থ - সরল, অকপট।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

১৪.
'সম্মুখে অগ্রসর হয়ে অভ্যর্থনা' এর এক কথায় প্রকাশ -
  1. প্রত্যুৎগমন
  2. অস্তায়মান
  3. অনতিক্রম্য
  4. অগমনীয়
সঠিক উত্তর:
প্রত্যুৎগমন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রত্যুৎগমন
ব্যাখ্যা

• 'সম্মুখে অগ্রসর হয়ে অভ্যর্থনা' এর এক কথায় প্রকাশ - প্রত্যুৎগমন

অন্যদিকে,
যা অস্ত যাচ্ছে - অস্তায়মান।
যা অতিক্রম করা যায় না- অনতিক্রম্য।
যা গমন করা যাচ্ছে।- গমনীয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণি এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা

১৫.
কোন শব্দটির প্রয়োগ শুদ্ধ?
  1. বিপদোদ্ধার
  2. অদ্যাবধি
  3. দুরাবস্থা
  4. বাগেশ্বরী
সঠিক উত্তর:
অদ্যাবধি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অদ্যাবধি
ব্যাখ্যা

অদ্যাবধি - শব্দটির প্রয়োগ শুদ্ধ।

অন্যদিকে,
নিম্নরূপ শব্দগুলোতে সন্ধিজনিত অশুদ্ধি ঘটেছে:
শুদ্ধ: বিপদুদ্ধার। 
অশুদ্ধ: বিপদোদ্ধার। 

শুদ্ধ: দুরবস্থা। 
অশুদ্ধ: দুরাবস্থা। 

শুদ্ধ: বাগীশ্বরী। 
অশুদ্ধ: বাগেশ্বরী। 

উৎস: ভাষা শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ।

১৬.
'অন্ধকার' শব্দের সমার্থক শব্দ - 
  1. যামিনী
  2. জীমূত
  3. শর্বর
  4. উদক
সঠিক উত্তর:
শর্বর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শর্বর
ব্যাখ্যা

'অন্ধকার' শব্দের সমার্থক শব্দ:
- তিমির, তম, আঁধারি, তম্রিস, তমস, তমসা, তমিস্রা, শর্বর, আলোকহীনতা ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
'বিভাবরী' শব্দের সমার্থক শব্দ:
- রাত, রাত্রি, রজনী, নিশি, নিশা, নিশীথ, নিশীথিনী, যামী, যামিনী, শর্বরী।

'অম্বুবাহ' শব্দের সমার্থক শব্দ:
- জলদ, জলধর, নীরদ, মেঘ, ঘন, জীমূত, অভ্র, বারিদ।

'পানি' সমার্থক শব্দ হলো:
- জল, বারি, সলিল, উদক, অম্বু, নীর, পয়ঃ, তোয়, অপ, জীবন, পানীয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

১৭.
শুদ্ধ বাক্য কোনটি?
  1. বিদ্যান মূর্খ অপেক্ষা শ্রেয়।
  2. এ কথা প্রমাণ হয়েছে।
  3. তার সৌজন্যতায় মুগ্ধ হয়েছি।
  4. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
কোনটিই নয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

• উপরিউক্ত অপশনে বাক্যগুলো অশুদ্ধ। তাই সঠিক উত্তর - কোনটিই নয়

অশুদ্ধ বাক্য: বিদ্যান মূর্খ অপেক্ষা শ্রেয়।
শুদ্ধ বাক্য: বিদ্বান মূর্খ অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ।

অশুদ্ধ বাক্য: এ কথা প্রমাণ হয়েছে।
শুদ্ধ বাক্য: এ কথা প্রমাণিত হয়েছে।

অশুদ্ধ বাক্য: তার সৌজন্যতায় মুগ্ধ হয়েছি।
শুদ্ধ বাক্য: তার সৌজন্যে মুগ্ধ হয়েছি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

১৮.
'নকড়া ছকড়া করা' বাগ্‌ধারার অর্থ -
  1. বিশৃঙ্খল অবস্থা
  2. বড়ো বড়ো কথা বলা
  3. তুচ্ছ জ্ঞান করা
  4. তোষামুদে
সঠিক উত্তর:
তুচ্ছ জ্ঞান করা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তুচ্ছ জ্ঞান করা
ব্যাখ্যা

• 'নকড়া ছকড়া করা' বাগ্‌ধারার অর্থ - তুচ্ছ জ্ঞান করা

অন্যদিকে,
'নয়-ছয়' অর্থ - অপচয়/বিশৃঙ্খল অবস্থা।
'ছক্কাপাঞ্জা করা' অর্থ - বড়ো বড়ো কথা বলা।
'ধামাধরা' অর্থ - তোষামুদে।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

১৯.
'ক্ষিপ্র' এর বিপরীতার্থক শব্দ -
  1. সত্বর
  2. নম্র
  3. দ্রুত
  4. কোমল
সঠিক উত্তর:
নম্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নম্র
ব্যাখ্যা

• 'ক্ষিপ্র' এর বিপরীতার্থক শব্দ - নম্র

উল্লেখ্য,
'ক্ষিপ্র' শব্দের অর্থ- দ্রুত, শীঘ্র, সত্বর
'মন্থর' শব্দের অর্থ- চটপটে নয় এমন, অলস, নত, নম্র

আবার,
'কর্কশ' এর বিপরীতার্থক শব্দ - কোমল।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

২০.
শুদ্ধ বাক্য কোনটি?
  1. তিনি সস্ত্রীক ঢাকায় থাকেন।
  2. তোমাকে দেখে সে আশ্চর্য হয়েছে।
  3. বাংলাদেশ একটি উন্নতশীল দেশ।
  4. সবগুলোই
সঠিক উত্তর:
তিনি সস্ত্রীক ঢাকায় থাকেন।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তিনি সস্ত্রীক ঢাকায় থাকেন।
ব্যাখ্যা

• শুদ্ধ বাক্য: তিনি সস্ত্রীক ঢাকায় থাকেন।

অন্যদিকে,
অশুদ্ধ বাক্য: তোমাকে দেখে সে আশ্চর্য হয়েছে।
শুদ্ধ বাক্য: তোমাকে দেখে সে আশ্চর্যান্বিত হয়েছে।

অশুদ্ধ বাক্য: বাংলাদেশ একটি উন্নতশীল দেশ।
শুদ্ধ বাক্য: বাংলাদেশ একটি উন্নতিশীল / উন্নয়নশীল দেশ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

২১.
'নষ্ট হয় না' এর এক কথায় প্রকাশ -
  1. অস্থায়ী
  2. নশ্বর
  3. ক্ষণস্থায়ী
  4. অবিনশ্বর
সঠিক উত্তর:
অবিনশ্বর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অবিনশ্বর
ব্যাখ্যা

• 'নষ্ট হয় না' এর এক কথায় প্রকাশ - অবিনশ্বর

অন্যদিকে,
- 'যা স্থায়ী নয়' এক কথায় বলে - অস্থায়ী।
- 'ক্ষণকাল ব্যাপিয়া স্থায়ী' এক কথায় বলে - ক্ষণস্থায়ী।
- 'নষ্ট হওয়ার স্বভাব যার' এক কথায় বলে - নশ্বর।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

২২.
শুদ্ধ বানান কোনটি?
  1. বিশেষতো
  2. বুভুক্ষু
  3. ব্যাঙ্গ
  4. মনঃকষ্ট
অনির্ধারিত
ব্যাখ্যা

• শুদ্ধ বানান - মনঃকষ্ট; বুভুক্ষু।
অপশনে দ্বৈত উত্তর থাকায় প্রশ্নটি বাতিল করা হয়েছে।

• শুদ্ধ বানান - মনঃকষ্ট
- শব্দটি বিশেষ্য।
- এটি সংস্কৃত শব্দ।

শব্দের অর্থ:
- মনের দুঃখ, মনোবেদনা।

অন্যদিকে,
বিশেষতো - বিশেষত;
বুভুক্ষু - বুভুক্ষু;
ব্যাঙ্গ- ব্যঙ্গ।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।

২৩.
'সূর্য' শব্দের সমার্থক শব্দ নয় - 
  1. আদিত্য
  2. অরুণ
  3. তপন
  4. দ্যুতি
সঠিক উত্তর:
দ্যুতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দ্যুতি
ব্যাখ্যা

'সূর্য' শব্দের সমার্থক শব্দ:
- রবি, তপন, ভাস্কর, আদিত্য, প্রভাকর, দিবাকর, বিভাবসু, অংশুমালী, অরুণ

অন্যদিকে,
'কিরণ' এর সমার্থক শব্দ:
- আলোক, দ্যুতি, ঔজ্জ্বল্য, প্রভা, অংশু, কর, দীপ্তি, আভা, বিভা, ময়ুখ, ভাতি, জেল্লা, জৌলুস, নুর ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

২৪.
নিচের কোনটি রক্তরসের কাজ?
  1. রক্তের অম্ল-ক্ষারের ভারসাম্য রক্ষা করা।
  2. রক্ত জমাট বাঁধার প্রয়োজনীয় উপাদানগুলো পরিবহণ করা।
  3. শ্বসনের ফলে কোষের সৃষ্ট CO2 কে বাইকার্বনেট হিসেবে ফুসফুসে পরিবহণ করা।
  4. উপরের সবগুলো
সঠিক উত্তর:
উপরের সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা

• রক্তরস বা প্লাজমা:
- রক্তের তরল অংশকে রক্তরস বা প্লাজমা বলে।
- রক্তরসের প্রায় ৯০% পানি, বাকি ১০% দ্রবীভূত অবস্থায় থাকে বিভিন্ন রকমের জৈব এবং অজৈব পদার্থ।
- অজৈব পদার্থগুলোর মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের খনিজ পদার্থের আয়ন, যেমন- সোডিয়াম, পটাশিয়াম, ক্যালসিয়াম, ক্লোরিন, ম্যাগনেসিয়াম, ফসফরাস, লৌহ, আয়োডিন O2, CO2 এবং নাইট্রোজেন জাতীয় গ্যাসীয় পদার্থ।
- জৈব পদার্থগুলো হলো:
১. খাদ্যসার: গ্লুকোজ, অ্যামিনো এসিড, স্নেহপদার্থ, ভিটামিন ইত্যাদি।
২. রেচন পদার্থ: ইউরিয়া, ইউরিক এসিড, অ্যামোনিয়া, ক্রিয়েটিনিন ইত্যাদি।
৩. প্রোটিন: ফাইব্রিনোজেন, গ্লোবিউলিন, অ্যালবুমিন, প্রোথ্রম্বিন ইত্যাদি।
৪. প্রতিরক্ষামূলক দ্রব্যাদি: অ্যান্টিটক্সিন, অ্যান্ড্রুটিনিন ইত্যাদি।
৫. অন্তঃক্ষরা গ্রন্থির নিঃসৃত বিভিন্ন হরমোন।
৬. কোলেস্টেরল, লেসিথিন, বিলিরুবিন ইত্যাদি নানা ধরনের যৌগ।

• রক্তরসের কাজগুলো হচ্ছে:
১. রক্তকোষসহ রক্তরসে দ্রবীভূত খাদ্যসার দেহের বিভিন্ন অংশে বাহিত করা।
২. টিস্যু থেকে বর্জ্য পদার্থ নির্গত করে, সেগুলো রেচনের জন্য বৃক্কে পরিবহণ করা।
৩. শ্বসনের ফলে কোষের সৃষ্ট CO2 কে বাইকার্বনেট হিসেবে ফুসফুসে পরিবহণ করা।
৪. রক্ত জমাট বাঁধার প্রয়োজনীয় উপাদানগুলো পরিবহণ করা।
৫. হরমোন, এনজাইম, লিপিড প্রভৃতি দেহের বিভিন্ন অংশে বহন করা।
৬. রক্তের অম্ল-ক্ষারের ভারসাম্য রক্ষা করা।

উৎস: বিজ্ঞান- নবম ও দশম শ্রেণি।

২৫.
কক্ষ তাপমাত্রায় অর্ধপরিবাহীর আপেক্ষিক রোধের ক্রম কত?
  1. 10-4 Ωm
  2. 10-8 Ωm
  3. 1012 Ωm
  4. শূন্য
সঠিক উত্তর:
10-4 Ωm
উত্তর
সঠিক উত্তর:
10-4 Ωm
ব্যাখ্যা

• পরিবাহী:
- যে সব পদার্থের মধ্য দিয়ে আধান সহজে এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্তে প্রবাহিত হতে পারে সে সব পদার্থকে পরিবাহী বলে, যেমন-রুপা, তামা, লোহা ইত্যাদি। মূলতঃ সকল ধাতব পদার্থই পরিবাহী।
- পরিবাহী পদার্থের আপেক্ষিক রোধ 10-8 Ωm ক্রমের।
- পরিবাহীতে অনেক মুক্ত ইলেকট্রন থাকে। পরিবাহীর দুই প্রান্তে সামান্য বিভব পার্থক্য ঘটালেই ইলেকট্রনগুলো তড়িৎ প্রবাহের সৃষ্টি করে।
- পরিবাহী পদার্থকে তাপ প্রয়োগ করলে এর তড়িৎ প্রবাহে বাধা দান করার ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।

• অপরিবাহী:
যেসব পদার্থের মধ্য দিয়ে আধান প্রবাহিত হতে পারে না সে সব পদার্থকে অপরিবাহী বলে, যেমন-কাচ, কাঠ, প্লাস্টিক ইত্যাদি। মূলতঃ প্রায় সকল অধাতব পদার্থই অপরিবাহী।
- অপরিবাহী পদার্থের আপেক্ষিক রোধ 1012 Ωm ক্রমের।
- অপরিবাহীতে মুক্ত ইলেকট্রন থাকে না। তাই অপরিবাহীর দুই প্রান্তে অনেক বিভব পার্থক্য ঘটালেও তড়িৎ প্রবাহের সৃষ্টি হয় না। অপরিবাহী তড়িৎ প্রবাহে বাধা দান করে।

• অর্ধপরিবাহী:
- কিছু কিছু পদার্থ আছে যেমন- জার্মেনিয়াম, সিলিকন ইত্যাদি যার তড়িৎ পরিবহণ ক্ষমতা পরিবাহী এবং অপরিবাহী পদার্থের মাঝামাঝি অর্থাৎ যার মধ্য দিয়ে তড়িৎ প্রবাহ করতে পারে কিন্তু তা পরিবাহীর চেয়ে অনেক কম, কিন্তু অপরিবাহীর চেয়ে বেশী এদেরকে অর্ধপরিবাহী বলে।
- পরিবাহী এবং অর্ধপরিবাহীর মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য হলো, পরিবাহীর তাপমাত্রা বৃদ্ধি করলে তড়িৎ প্রবাহের ক্ষমতা হ্রাস পায়, কিন্তু অর্ধপরিবাহীর তাপমাত্রা বৃদ্ধি করলে তড়িৎ প্রবাহের ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। এর অর্থ হলো তাপমাত্রা বৃদ্ধি করলে পরিবাহীর রোধ বৃদ্ধি পায়, আর অর্ধপরিবাহীর রোধ হ্রাস পায়।
- অর্ধপরিবাহী পদার্থের আপেক্ষিক রোধ 10-4 Ωm ক্রমের।

উৎস:
পদার্থ বিজ্ঞান (এসএসসি প্রোগ্রাম)- উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২৬.
উদ্যানচর্চা বিষয়ক বিজ্ঞানকে বলা হয়-
  1. হর্টিকালচার
  2. বোটানি
  3. প্লান্টকালচার 
  4. পিসিকালচার
সঠিক উত্তর:
হর্টিকালচার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হর্টিকালচার
ব্যাখ্যা

• হর্টিকালচার:
- হর্টিকালচার হলো ফসল উৎপাদন ও উদ্যানচর্চার বিজ্ঞান ও শিল্প, যা মূলত ফুল, ফল, সবজি, ঔষধি ও সুগন্ধি উদ্ভিদ, বনজ উদ্ভিদ ইত্যাদির চাষ এবং ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সম্পর্কিত।
- এটি কৃষি বিজ্ঞানের একটি উপশাখা হলেও এর লক্ষ্য মানুষের খাদ্য, সুগন্ধি, সৌন্দর্য এবং পরিবেশের উন্নতি।

 • হর্টিকালচারের প্রধান শাখা:
- ফলবীজ (Pomology): ফলমূল উৎপাদন ও ব্যবস্থাপনা।
উদাহরণ: আম, কলা, লিচু, আপেল, কমলা।

- সবজি চাষ (Olericulture): সবজি উৎপাদন ও সংরক্ষণ।
উদাহরণ: টমেটো, গাজর, পটল, বাঁধাকপি।

- ফুলচাষ (Floriculture): ফুল ও শোভামূলক উদ্ভিদ উৎপাদন।
উদাহরণ: গোলাপ, জবা, শাপলা, লিলি।

- সুগন্ধি ও ঔষধি উদ্ভিদ (Aromatic & Medicinal Plants): গন্ধযুক্ত ও ঔষধি উদ্ভিদ উৎপাদন।
উদাহরণ: লবঙ্গ, পুদিনা, তুলসী, হরিতকি।

- ল্যান্ডস্কেপ হর্টিকালচার (Landscape Horticulture): উদ্যান, পার্ক, রাস্তার গাছপালা, বাগান ও সবুজ পরিবেশের পরিকল্পনা ও রক্ষণাবেক্ষণ।
 
• হর্টিকালচারের গুরুত্ব:
১। পুষ্টি ও খাদ্য নিরাপত্তা: ফল ও সবজি মানুষের পুষ্টি ও ভিটামিন সরবরাহ করে।

২। আর্থিক গুরুত্ব: ফুল, ফল ও ঔষধি উদ্ভিদ বিক্রয় থেকে আয় বৃদ্ধি।

৩। পরিবেশগত গুরুত্ব: সবুজায়ন ও বায়ু, মাটি ও পানি সংরক্ষণে সাহায্য।

৪। সৌন্দর্য ও পর্যটন: ফুলবাগান, উদ্যান ও ল্যান্ডস্কেপ শিল্পে সৌন্দর্য বৃদ্ধি।

৫। স্বাস্থ্য ও ঔষধি ব্যবহার: ঔষধি উদ্ভিদ ও সুগন্ধি উদ্ভিদ থেকে জীবনমান উন্নয়ন।

অপরদিকে,
পিসিকালচার হলো মাছ চাষের বিজ্ঞান ও শিল্প, যা মূলত মাছের প্রজনন, বৃদ্ধি এবং বাজারজাতকরণ সম্পর্কিত।এটি পানির মাধ্যমে খাদ্য উৎপাদনের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপায় এবং কৃষি ও প্রাণি সম্পদের উপশাখা।

উৎস: Britannica [Link]

২৭.
কার্বনের কোন আইসোটোপটি অস্থিতিশীল বা তেজস্ক্রিয়?
  1. 12C
  2. 13C
  3. 14C
  4. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
14C
উত্তর
সঠিক উত্তর:
14C
ব্যাখ্যা

• তেজস্ক্রিয়তা:
- প্রকৃতিতে এমন কতকগুলি পরমাণু পাওয়া যায় যারা স্বতঃস্ফূর্তভাবে উচ্চ ভেদনদক্ষমতা সম্পন্ন গামা রশ্মি, বিটা কণিকা ও আলফা কণিকা বিকিরণ করে। ইউরেনিয়াম, থোরিয়াম, রেডিয়াম প্রভৃতি এ ধরণের পরমাণু। স্বতঃস্ফূর্তভাবে রশ্মি বিকিরণের প্রক্রিয়াকেই তেজস্ক্রিয়তা বলে।
- ১৮৯৬ খ্রিস্টাব্দে ফরাসী বিজ্ঞানী হেনরী বেকেরেল (Henry Becquerel) আকস্মিকভাবে এ রশ্মি আবিষ্কার করেন। তাঁর নাম অনুসারে এই রশ্মির নাম দেয়া হয় "বেকেরেল রশ্মি”। পরবর্তিতে মাদাম কুরী (Madame Marie Curie) এবং তাঁর স্বামী পিয়ারে কুরী (Pierre Curie) নানা পদার্থের তেজস্ক্রিয়তা নিয়ে গবেষণা শুরু করেন। এই রশ্মি বর্তমানে তেজস্ক্রিয় রশ্মি (Radioactive rays) নামে পরিচিত।
- পরমাণুর নিউক্লিয়াস থেকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে রশ্মি বিকিরণের প্রক্রিয়াকেই তেজস্ক্রিয়তা বলে।

• তেজস্ক্রিয়তা দুই প্রকার। যথা: প্রাকৃতিক তেজস্ক্রিয়তা ও কৃত্রিম তেজস্ক্রিয়তা।
প্রাকৃতিক তেজস্ক্রিয়তা : কোনো পদার্থ হতে স্বতঃস্ফূর্ত ভাবে যে তেজস্ক্রিয়তা ঘটে তাকে প্রাকৃতিক তেজস্ক্রিয়তা বলে।
কৃত্রিম তেজস্ক্রিয়তা : কৃত্রিম উপায়ে কোনো মৌলকে তেজস্ক্রিয় মৌলে পরিণত করলে যে তেজস্ক্রিয়তা ঘটে তাকে কৃত্রিম তেজস্ক্রিয়তা বলে।

- নিউক্লিয়াসের ভেতরে প্রোটনের সংখ্যা ৮২ অতিক্রম করলেই (পারমাণবিক সংখ্যা ৮২ থেকে বেশি) যে নিউক্লিয়াসগুলো তেজস্ক্রিয় হয়ে থাকে তা নয়, অন্য পরমাণুর নিউক্লিয়াসও তেজস্ক্রিয় হতে পারে। 
- পরমাণুর শ্রেণিবিন্যাস করা হয় তার ইলেকট্রনের সংখ্যা দিয়ে, যেটা প্রোটনের সংখ্যার সমান। একটি মৌলের বাহ্যিক ধর্ম, প্রকৃতি, এবং রাসায়নিক গুণাগুণ নির্ভর করে বাইরের ইলেকট্রনের শ্রেণিবিন্যাসের ওপর। 
- কোনো একটি মৌলের পরমাণুতে তার ইলেকট্রন এবং প্রোটনের সংখ্যা সুনির্দিষ্ট হলেও নিউট্রনের সংখ্যা ভিন্ন হতে পারে। ভিন্ন নিউট্রন সংখ্যায় নিউট্রনযুক্ত একই প্রোটন সংখা বিশিষ্ট নিউক্লিয়াসের পরমাণুকে বলা হয় সেই মৌলের আইসোটোপ।
- কোনো একটি মৌলের একটি আইসোটোপ স্থিতিশীল হতে পারে আবার সেই মৌলের অন্য একটি আইসোটোপ অস্থিতিশীল বা তেজস্ক্রিয় হতে পারে।

- উদাহরণ হিসেবে কার্বন মৌলটির কথা বলা যেতে পারে যার নিউক্লিয়াসে ছয়টি প্রোটন এবং এর প্রধাণত তিনটি আইসোটোপ:

12C : 6টি প্রোটন এবং 6টি নিউট্রন
13C : 6টি প্রোটন এবং 7টি নিউট্রন
14C : 6টি প্রোটন এবং 8টি নিউট্রন

কার্বনের এই তিনটি আইসোটোপের মাঝে 14C আইসোটোপটি অস্থিতিশীল বা তেজস্ক্রিয়।
- 14C (কার্বন–১৪) স্বতঃস্ফূর্তভাবে β-কণা নির্গত করে নাইট্রোজেন–১৪ এ রূপান্তরিত হয়।
- এই আইসোটোপটি রেডিওকার্বন ডেটিং-এ ব্যবহৃত হয়।

উৎস:
১। পদার্থ বিজ্ঞান- নবম ও দশম শ্রেণি।
২। পদার্থ বিজ্ঞান (এসএসসি প্রোগ্রাম)- উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২৮.
HIV ভাইরাস কোন রক্ত কোষের ক্ষতিসাধন করে?
  1. প্লাজমা
  2. লোহিত রক্ত কোষ 
  3. শ্বেত রক্ত কোষ
  4. অণুচক্রিকা
সঠিক উত্তর:
শ্বেত রক্ত কোষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শ্বেত রক্ত কোষ
ব্যাখ্যা

এইডস (Acquired Immune Deficiency Syndrome বা AIDS):
বর্তমান বিশ্বে এইডস একটি মারাত্মক ঘাতক ব্যাধি হিসেবে পরিচিত। 1981 সালে রোগটি আবিষ্কৃত হয়।
Acquired Immune Deficiency Syndrome-এর শব্দগুলোর আদ্যক্ষর দিয়ে এ রোগটির নামকরণ
করা হয়েছে AIDS।
- UNAIDS কর্তৃক প্রকাশিত পরিসংখ্যান থেকে জানা যায় যে সারা বিশ্বে বর্তমানে প্রায় 40.8 মিলিয়ন মানুষ HIV-এ জীবাণু দ্বারা আক্রান্ত। এর মধ্যে প্রায় 53 শতাংশ হলো নারী।
- বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে HIV/AIDS এর প্রায় সব দেশেই বিস্তার আছে এবং এটি এখনো একটি বিশ্বব্যাপী জনস্বাস্থ্য সমস্যা।
Human Immune Deficiency Virus সংক্ষেপে HIV ভাইরাসের আক্রমণে এইডস হয়।
- HIV ভাইরাস শ্বেত রক্ত কোষের ক্ষতিসাধন করে (CD4 T-লিম্ফোসাইট নামক শ্বেত রক্তকোষ) এবং এ কোষের এন্টিবডি তৈরিসহ রোগ প্রতিরোধ-সংক্রান্ত কাজে বিঘ্ন ঘটায়। ফলে শ্বেত রক্ত কোষের সংখ্যা  ও এন্টিবডির পরিমাণ ক্রমশ কমতে থাকে।
- এই ভাইরাস মানবদেহে সুপ্ত অবস্থায় অনেক দিন থাকতে পারে।
- এই ভাইরাসের আক্রমণে রোগীর দেহে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বিনষ্ট হয়ে যায় বলে রোগীর মৃত্যু অনিবার্য হয়ে পড়ে। কারণ এইডস রোগীর রোগ প্রতিরোধক ক্ষমতা পুনরুদ্ধার করার মতো কোনো ঔষধ এখনও আবিষ্কার হয়নি।

• রক্ত:
- রক্ত এক ধরনের ক্ষারীয়, ঈষৎ লবণাক্ত এবং লালবর্ণের তরল যোজক টিস্যু। ধমনি, শিরা ও কৈশিকনালির মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে রক্ত অভ্যন্তরীণ পরিবহণে অংশ নেয়।
- উষ্ণ রক্তবাহী প্রাণীর দেহে রক্ত তাপমাত্রার ভারসাম্য রক্ষা করে।
- রক্তের উপাদান দুটি- রক্তরস (55%) এবং রক্তকোষ (45%)।
- রক্তরস (Plasma) রক্তের তরল অংশ, এর রং ঈষৎ হলুদাভ। এর প্রায় 91-92% অংশ পানি এবং ৪-9% অংশ জৈব ও অজৈব পদার্থ। এসব রক্তরসের ভিতর বিভিন্ন ধরনের প্রোটিন এবং বর্জ্য পদার্থ থাকে।
- রক্তকোষ তিন ধরনের, যথা- লোহিত রক্তকোষ (Erythrocyte বা Red blood cells বা RBC), শ্বেত রক্তকোষ (Leukocyte বা white blood cells বা WBC) এবং অণুচক্রিকা (Thrombocytes বা Blood platelet)।
- লোহিত রক্তকোষ হিমোগ্লোবিন নামে একটি লৌহজাত যৌগ থাকে, যার জন্য রক্ত লাল হয়। হিমোগ্লোবিন অক্সিজেনের সঙ্গে যুক্ত হয়ে একটি অক্সিহিমোগ্লোবিন যৌগ গঠন করে এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে অক্সিজেন পরিবহণ করে।
- শ্বেত রক্তকোষ জীবাণু ধ্বংস করে দেহের প্রকৃতিগত আত্মরক্ষায় অংশ নেয়। মানবদেহে বেশ কয়েক ধরনের শ্বেত রক্তকোষ থাকে।    - অণুচক্রিকা রক্ত জমাট বাঁধায় অংশ নেয়। 

উৎস: জীববিজ্ঞান- নবম ও দশম শ্রেণি।

২৯.
মানবদেহে শ্বসন প্রক্রিয়ায় গ্যাসীয় বিনিময় হচ্ছে -
  1. অক্সিজেন ও কার্বন ডাই-অক্সাইড বিনিময়
  2. অক্সিজেন ও নাইট্রোজেন বিনিময়
  3. নাইট্রোজেন ও কার্বন ডাই-অক্সাইড বিনিময়
  4. অক্সিজেন ও হাইড্রোজেন বিনিময়
সঠিক উত্তর:
অক্সিজেন ও কার্বন ডাই-অক্সাইড বিনিময়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অক্সিজেন ও কার্বন ডাই-অক্সাইড বিনিময়
ব্যাখ্যা

• গ্যাসীয় বিনিময়:
- গ্যাসীয় বিনিময় বলতে অক্সিজেন ও কার্বন ডাই-অক্সাইড বিনিময়কে বুঝায়।
- এটি মূলত বায়ু ও ফুসফুসের রক্তনালির ভিতরে ঘটে।
- সব ধরনের গ্যাসীয় বিনিময়ের মূলে রয়েছে ব্যাপন প্রক্রিয়া।
- গ্যাসীয় বিনিময়কে দুটি পর্যায়ে ভাগ করা হয়, অক্সিজেন শোষণ ও কার্বন ডাই-অক্সাইড ত্যাগ।

• অক্সিজেন শোষণ:
- ফুসফুসের বায়ুথলি বা অ্যালভিওলি ও রক্তের চাপের পার্থক্যের জন্য অক্সিজেন ব্যাপন প্রক্রিয়ায় রক্তে প্রবেশ করে।
- ফুসফুস থেকে ধমনির রক্তে অক্সিজেন প্রবেশ করার পর রক্তে অক্সিজেন দুভাবে পরিবাহিত হয়। সামান্য পরিমাণ অক্সিজেন রক্তরসে দ্রবীভূত হয়ে পরিবাহিত হয়।
- বেশির ভাগ অক্সিজেনই হিমোগ্লোবিনের লৌহ অংশের সাথে হালকা বন্ধনের মাধ্যমে অক্সিহিমোগ্লোবিন নামে একটি অস্থায়ী যৌগ গঠন করে। অক্সিহিমোগ্লোবিন থেকে অক্সিজেন সহজে বিচ্ছিন্ন হতে পারে।

হিমোগ্লোবিন + অক্সিজেন  →  অক্সিহিমোগ্লোবিন (অস্থায়ী যৌগ)
অক্সিহিমোগ্লোবিন  →  মুক্ত অক্সিজেন + হিমোগ্লোবিন

- রক্ত কৈশিকনালিতে পৌঁছার পর অক্সিজেন পৃথক হয়ে প্রথমে লোহিত রক্তকণিকার আবরণ ও পরে কৈশিকনালির প্রাচীর ভেদ করে লসিকাতে প্রবেশ করে। অবশেষে লসিকা থেকে কোষ আবরণ ভেদ করে কোষে পৌঁছে।

• কার্বন ডাই-অক্সাইড পরিবহণ:
- খাদ্য জারণ প্রক্রিয়ায় কোষে কার্বন ডাই-অক্সাইড তৈরি করে।
- এই কার্বন ডাই-অক্সাইড প্রথমে কোষ আবরণ ভেদ করে আন্তঃকোষীয় তরল ও লসিকাতে প্রবেশ করে এবং সেখান থেকে কৈশিকনালির প্রাচীর ভেদ করে রক্তরসে প্রবেশ করে।
- কার্বন ডাই-অক্সাইড প্রধানত সোডিয়াম বাইকার্বোনেট (NaHCO3) রূপে রক্তরসের মাধ্যমে এবং পটাশিয়াম বাই কার্বোনেট (KHCO3) রূপে লোহিত রক্তকণিকা দিয়ে পরিবাহিত হয়ে ফুসফুসে আসে, সেখানে কৈশিকনালি ও বায়ুথলি ভেদ করে দেহের বাইরে নির্গত হয়।

উৎস: জীববিজ্ঞান- নবম ও দশম শ্রেণি।

৩০.
প্রসূতি মায়ের জন্য প্রয়োজনীয় দৈনিক মোট ক্যালরি গ্রহণের পরিমাণ-
  1. ২৬০০ ক্যালরি
  2. ২১০০ ক্যালরি
  3. ১৯৫০ ক্যালরি
  4. ৫০০ ক্যালরি
সঠিক উত্তর:
২৬০০ ক্যালরি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২৬০০ ক্যালরি
ব্যাখ্যা

প্রসূতি মায়ের খাদ্য:
- প্রসব-পরবর্তী নবজাতকের দুধের চাহিদা পূরণ ও মায়ের স্বাস্থ্য পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য এই সময় মায়ের বেশি পুষ্টিকর খাদ্যের প্রয়োজন।
- প্রসূতি মাকে দৈনিক গড়ে ৬৫০ থেকে ৮৫০ মিলিলিটার দুধ উৎপাদন করতে হয়। এই দুধ উৎপাদনের জন্য মাকে অতিরিক্ত ৫০০ ক্যালরি গ্রহণ করতে হয়।
- দৈনিক প্রসূতি মায়ের মোট ক্যালরি গ্রহণের পরিমাণ হচ্ছে (২১০০ + ৫০০) = ২৬০০ ক্যালরি।
- দুধের প্রোটিন তৈরির জন্য মাকে দৈনিক ৭০ - ৭৫ গ্রাম প্রোটিন জাতীয় খাদ্য, যেমন- মাছ, মাংস, ডিম, ডাল গ্রহণ করতে হবে।
 - ক্যালসিয়াম ও লৌহসমৃদ্ধ খাবার খেতে হবে। দুধ, কাঁটাসহ ছোট মাছ, ডিম, সবুজ শাক-সবজি, যকৃত ইত্যাদিতে ক্যালসিয়াম ও লৌহ পাওয়া যায়।
- শারীরিক সুস্থতার জন্য বেশি পরিমাণে শাক-সবজি ও ফল খেতে হবে। প্রসবের পর এক মাস ফলিক এসিড খেতে হবে।
- বিশুদ্ধ পানি, দুধ ও পানি জাতীয় খাদ্য বেশি পরিমাণে খেতে হবে।
- মায়ের দুধ শিশুর আদর্শ খাদ্য। এই দুধে শিশুর জন্য প্রয়োজনীয় সব কয়টি পুষ্টি উপাদান থাকে। তাই দুগ্ধ উৎপাদন ও মায়ের দুর্বলতা রোধের জন্য মাকে নিয়মিত সুষম খাদ্য গ্রহণ করতে হবে।
- প্রসূতি মাকে পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিতে হবে। দৈনিক হালকা হাঁটা-চলা ও ঘরের হালকা কাজ করতে পারবে।

উৎস: গার্হস্থ্য বিজ্ঞান ২য় পত্র (এইচএসসি প্রোগ্রাম)- উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩১.
নিচের কোনটি মানবদেহের লুপ্তপ্রায় অঙ্গ?
  1. ফ্লিপার
  2. ককসিক্স
  3. অ্যাপেন্ডিক্স
  4. খ ও গ
সঠিক উত্তর:
খ ও গ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ ও গ
ব্যাখ্যা

- বিভিন্ন জীবের অঙ্গপ্রত্যঙ্গের বাহ্যিক গঠনকে অঙ্গসংস্থান বলে। এদের সাদৃশ্য ও বৈসাদৃশ্যের আলোচনাকে তুলনামূলক অঙ্গসংস্থান বলে।

(ক) সমসংস্থ অঙ্গ:
- পাখির ডানা, বাদুড়ের ডানা, তিমির ফ্লিপার, সিলের অগ্রপদ, ঘোড়ার অগ্রপদ, মানুষের হাত-এর সবগুলোই সমসংস্থ অঙ্গ।
- আপাতদৃষ্টিতে এদের আকৃতিগত পার্থক্য দেখা গেলেও অভ্যন্তরীণ কাঠামো পরীক্ষা করলে দেখা যায় যে এদের অস্থিবিন্যাসের মৌলিক প্রকৃতি একই ধরনের অর্থাৎ সকল প্রাণীর জন্যই এখানকার অস্থিগুলো উপর থেকে নিচের দিকে পরপর সাজানো রয়েছে। বাইরে থেকে দেখতে যে বৈসাদৃশ্য রয়েছে, সেটি ভিন্ন ভিন্ন পরিবেশের সাথে অভিযোজিত হওয়ার জন্য ঘটেছে।
- পাখি ও বাদুড়ের 'অগ্রপদ' ওড়ার জন্য, তিমির ফ্লিপার সাঁতারের জন্য, ঘোড়ার অগ্রপদ দৌড়ানোর জন্য ও মানুষের অগ্রপদ কোনো জিনিস ধরা ও অন্যান্য সৃজনশীল কাজের জন্য পরিবর্তিত হয়েছে।

(খ) সমবৃত্তি অঙ্গ:
- বিভিন্ন প্রাণীর যে অঙ্গগুলোর উৎপত্তি, বিকাশ এবং গঠন ভিন্ন হলেও তারা একই কাজ করে, সেই অঙ্গগুলোকে সমবৃত্তি অঙ্গ বলে। যেমন-পতঙ্গ কিংবা বাদুড়ের ডানা উড়ার জন্য ব্যবহৃত হয়। 
- এদের উৎপত্তি ও গঠন সম্পূর্ণ আলাদা হলেও একই পরিবেশের প্রভাবে তারা একই রকম কাজ করার জন্য অভিযোজিত হয়েছে অর্থাৎ বাদুড় এবং পতঙ্গ দুটিই প্রয়োজনের তাগিদে উড়তে সাহায্য করার উপযোগী অঙ্গ তৈরি করেছে। 
- এরকম সমবৃত্তি অঙ্গগুলো জৈব অভিব্যক্তি সমর্থন করে।

(গ) লুপ্তপ্রায় অঙ্গ:
- জীবদেহে এমন কতকগুলো অঙ্গ দেখা যায়, যেগুলো কিছু জীবদেহে সক্রিয় থাকে কিন্তু অপর জীবদেহে নিষ্ক্রিয় অবস্থায় থাকে, এমন অঙ্গগুলোকে লুপ্তপ্রায় অঙ্গ বা নিষ্ক্রিয় অঙ্গ বলে। 
- প্রাণীদেহের মধ্যে বহু লুপ্তপ্রায় অঙ্গ রয়েছে। মানুষের সিকাম এবং সিকাম-সংলগ্ন ক্ষুদ্র অ্যাপেন্ডিক্সটি নিষ্ক্রিয়, কিন্তু স্তন্যপায়ীভুক্ত তৃণভোজী প্রাণীদের (যেমন- ঘোড়া কিংবা গিনিপিগের) দেহে এগুলো সক্রিয়।
- মানুষের দেহে লেজ নেই, তবু মেরুদণ্ডের শেষ প্রান্তে ককসিক্স নামক লুপ্তপ্রায় অঙ্গ রয়েছে। এই ককসিক্স মানুষের পূর্বপুরুষে সুগঠিত ছিল। 
- লুপ্তপ্রায় অঙ্গ বহনকারী প্রাণীটির উৎপত্তি ঘটেছে এমন উদবংশীয় প্রাণী থেকে, যার দেহে একসময় উক্ত অঙ্গটি সক্রিয় ছিল।

উৎস: বিজ্ঞান- নবম ও দশম শ্রেণি।

৩২.
রেশম উৎপাদনের জন্য রেশমকীট মূলত কোন গাছের পাতায় পালন করা হয়?
  1. অর্জুন
  2. আম
  3. বহেরা
  4. তুঁত
সঠিক উত্তর:
তুঁত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তুঁত
ব্যাখ্যা

• সেরিকালচার (Sericulture):
- রেশমকীট মূলত তুঁত গাছের পাতা খেয়ে বেড়ে ওঠে এবং কোকুন তৈরি করে, যা থেকে রেশম সুতা সংগ্রহ করা হয়। এই প্রক্রিয়াকে সেরিকালচার (Sericulture) বলা হয়।
- রেশম পোকার বিভিন্ন প্রজাতি রয়েছে। এদের মধ্যে Bombyx mori রেশম চাষে বেশি ব্যবহার করা হয়।
- এ পোকা তুঁত গাছের পাতা খেয়ে জীবন ধারণ করে বিধায় রেশম চাষীকে তুঁত গাছ চাষ করতে হয়।
- রেশম চাষ এর ইংরেজি হলো Sericulture। ল্যাটিন শব্দ 'Serio' থেকে Sericulture শব্দের উৎপত্তি হয়েছে বলে ধারণা করা হয়। 'Serio' শব্দের অর্থ Silk বা রেশম।
- রেশম পোকার খাদ্যের জন্য তুঁত গাছ চাষ করে এই পোকার লার্ভা পালন করে তাদের সৃষ্ট গুটি বা কোকুন থেকে রেশম সুতা আহরণ করার পদ্ধতিকে রেশম চাষ বলা হয়।
- তুঁত গাছ চাষ ও রেশম পোকার লার্ভা পালন ছাড়াও এ পোকার বিভিন্ন প্রজাতির মধ্যে প্রজনন ঘটিয়ে অধিক উৎপাদনশীল রেশম পোকা উদ্ভাবন করা আধুনিক রেশম চাষের অন্তর্ভুক্ত।
- এ দেশের মাটি, আবহাওয়া ও জলবায়ু রেশম চাষের জন্য বেশ উপযোগী।

উৎস: কৃষি শিক্ষা প্রথমপত্র (এইচএসসি প্রোগ্রাম)- বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩৩.
ORS সাধারণত কোন রোগের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়?
  1. জন্ডিস
  2. ডায়রিয়া
  3. টাইফয়েড
  4. পোলিও
সঠিক উত্তর:
ডায়রিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ডায়রিয়া
ব্যাখ্যা

- ORS (Oral Rehydration Solution) ডায়রিয়া, কলেরা বা বমি ইত্যাদির ফলে শরীর থেকে অতিরিক্ত পানি ও লবণ বের হয়ে যাওয়া রোধে ব্যবহৃত হয়।
- ORS হলো এক ধরনের দানাদার মিশ্রণ যা পানির সাথে মিশিয়ে খাওয়ানো হয় শরীরের পানিশূন্যতা প্রতিরোধ বা পূরণ করার জন্য।
- এটি সাধারণত ডায়রিয়া বা পাতলা পায়খানা হওয়ার সময় ব্যবহৃত হয়, যখন শরীর থেকে প্রচুর পানি ও লবণ বেরিয়ে যায়।
- এটি শরীরের পানিশূন্যতা (Dehydration) প্রতিরোধ করে এবং লবণ-পানির ভারসাম্য বজায় রাখে।
- ORS-এ থাকা উপাদানসমূহ:
১। লবণ (সোডিয়াম ক্লোরাইড),
২। গ্লুকোজ,
৩। পটাশিয়াম ক্লোরাইড,
৪। সোডিয়াম বাইকার্বনেট বা সাইট্রেট।

উৎস: ১। জীব বিজ্ঞান প্রথম পত্র (একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি)- ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান।
২। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) ও ইউনিসেফ (UNICEF) ওয়েবসাইট।

৩৪.
যকৃৎ থেকে নিঃসৃত রসের নাম কী?
  1. পাচক রস
  2. আন্ত্রিক রস
  3. পিত্তরস
  4. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
পিত্তরস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পিত্তরস
ব্যাখ্যা

• যকৃৎ (Liver):
- মধ্যচ্ছদার নিচে উদরগহ্বরের উপরে পাকস্থলীর ডান পাশে যকৃৎ অবস্থিত। এটি মানবদেহের সবচেয়ে বড় গ্রন্থি। এর রং লালচে খয়েরি।
যকৃতের ডান খণ্ডটি বাম খণ্ড থেকে আকারে কিছুটা বড়। প্রকৃতপক্ষে চারটি অসম্পূর্ণ খণ্ড নিয়ে যকৃৎ গঠিত। প্রতিটি খণ্ড ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র লোবিউল দিয়ে তৈরি। প্রত্যেকটি লোবিউলে অসংখ্য কোষ থাকে। এ কোষ পিত্তরস (bile) তৈরি করে।
- যকৃৎ পিত্তরস তৈরি করে। পিত্তরসের মধ্যে পানি, পিত্ত-লবণ, কোলেস্টেরল ও খনিজ লবণ প্রধান।
- পিত্তরস ক্ষারীয় গুণ সম্পন্ন। যকৃতে বিভিন্ন রকম জৈব রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটে, তাই একে রসায়ন গবেষণাগার বলা হয়।
- যকৃতের নিচের অংশ পিত্তথলি বা পিত্তাশয় সংলগ্ন থাকে। এখানে পিত্তরস জমা হয়। পিত্তরস গাঢ় সবুজ বর্ণের এবং তিক্ত স্বাদবিশিষ্ট। 
- পিত্তরস ডিওডেনামে এসে পরোক্ষভাবে পরিপাকে অংশ নেয়। পিত্তরসে কোনো উৎসেচক বা এনজাইম থাকে না। 
- পিত্তরস খাদ্যের অম্লভাব প্রশমিত করে এবং ক্ষারীয় পরিবেশ সৃষ্টি করে। এই পরিবেশ খাদ্য পরিপাকের অনুকূল। কেননা আম্লিক পরিবেশে খাদ্য পরিপাক হয় না।
- পিত্তরস চর্বিজাতীয় খাদ্যকে ক্ষুদ্র দানায় পরিণত করে, যা লাইপেজ সহযোগে পরিপাকে সহায়তা করে।
- যকৃৎ উদ্বৃত্ত গ্লুকোজ নিজদেহে গ্লাইকোজেনরূপে সঞ্চয় করে রাখে।
- পিত্তথলি পিত্তনালির সাহায্যে অগ্ন্যাশয় নালির সাথে মিলিত হয়। এটি যকৃৎ-অগ্ন্যাশয় নালির মাধ্যমে ডিওডেনামে প্রবেশ করে।

• গ্যাস্ট্রিকগ্রন্থি (Gastric glands):
গ্যাস্ট্রিকগ্রন্থি পাকস্থলীর প্রাচীরে থাকে। এ গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত রস (ট্রিপসিন, লাইপেজ, অ্যামাইলেজ) গ্যাস্ট্রিক রস বা পাচক রস নামে পরিচিত।

• আন্ত্রিকগ্রন্থি (Intestinal glands):
ক্ষুদ্রান্ত্রের প্রাচীরে ভিলাইয়ে আন্ত্রিকগ্রন্থি থাকে। এ গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত রসের নাম আন্ত্রিক রস।

উৎস: জীববিজ্ঞান- নবম ও দশম শ্রেণি।

৩৫.
কোন তেজস্ক্রিয় রশ্মিটি ঋণাত্মক চার্জ বহন করে?
  1. আলফা (α) রশ্মি
  2. বিটা (β) রশ্মি
  3. গামা (γ) রশ্মি
  4. উপরের সবগুলো
সঠিক উত্তর:
বিটা (β) রশ্মি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিটা (β) রশ্মি
ব্যাখ্যা

তেজস্ক্রিয়তা: 
- পরমাণুর নিউক্লিয়াস থেকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে রশ্মি বিকিরণের প্রক্রিয়াকেই তেজস্ক্রিয়তা বলে।

• তেজস্ক্রিয়তার বৈশিষ্ট্য:
১। তেজস্ক্রিয়তা একটি স্বতঃস্ফূর্ত ও অবিরাম ঘটনা। তাপ, চাপ, তড়িৎ ক্ষেত্র, চৌম্বক ক্ষেত্র অথবা কোনো ভৌত কারণ দ্বারা তেজস্ক্রিয়তা প্রভাবিত হয় না।
২। তেজস্ক্রিয় পদার্থ থেকে আলফা কণিকা (α), বিটা কণিকা (β) ও গামা রশ্মি (γ) নির্গত হয়।
৩। তেজস্ক্রিয়তার উৎপত্তিস্থল হলো নিউক্লিয়াস। পরমাণুর ভাঙ্গনের ফলেই তেজস্ক্রিয় রশ্মি নির্গত হয়। তেজস্ক্রিয়তার ফলে এক প্রকার পরমাণু অন্য এক প্রকার পরমাণুতে পরিণত হয়।
৪। এটি একটি অপ্রত্যাবর্তী প্রক্রিয়া।

অপশন আলোচনা:
• আলফা রশ্মি:
 ১। আলফা কণিকা দুটি প্রোটন ও দুটি নিউট্রন নিয়ে গঠিত অর্থাৎ এটি আয়নিত হিলিয়াম নিউক্লিয়াস। এর ভর  6.6 × 10-27 কেজি।
২। ইহা ধনাত্মক চার্জ বহন করে। এর পরিমাণ 3.2 × 10-19 কুলম্ব।
৩। এর শক্তি 1MeV হতে 9MeV পর্যন্ত হয়। 
৪। এই রশ্মি তড়িৎ ক্ষেত্র ও চুম্বক ক্ষেত্র দ্বারা বিক্ষিপ্ত হয়।
৫। এর আয়নিত করার ক্ষমতা খুব বেশী। β-কণিকার চেয়ে প্রায় 100 গুণ এবং γ-কণিকার চেয়ে প্রায় 1000 গুণ বেশী।
৬। ইহা সহজেই বস্তু দ্বারা শোষিত হয়। এর ভেদন ক্ষমতা খুব কম।

• বিটা রশ্মি:
১। বিটা কণিকা খুব হালকা। এরা ইলেকট্রন প্রবাহ। এর ভর 9.1 × 10-31 কেজি।
২। এরা ঋণাত্মক চার্জ বহন করে। এই চার্জের মান 1.6 × 10-19 কুলম্ব।
৩। তেজস্ক্রিয় বস্তু থেকে বিটা কণিকা প্রচন্ড বেগে নির্গত হয়। এর বেগ প্রায় 0.9 × 108 ms-1 পর্যন্ত হয়ে থাকে। 
৪। এই কণিকা তড়িৎ ক্ষেত্র ও চুম্বক ক্ষেত্র দ্বারা বিক্ষিপ্ত হয়।
৫। এর আয়নিত করার ক্ষমতা আছে, তবে আলফা কণিকা অপেক্ষা কম।
৬। ইহা সহজেই বস্তু দ্বারা শোষিত হয়। এর ভেদন ক্ষমতা আলফা কণিকা অপেক্ষা বেশী।

• গামা রশ্মি:
১। গামা রশ্মি অতি ক্ষুদ্র তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের তাড়িতচৌম্বকীয় তরঙ্গ।
২। এই রশ্মি আলোর বেগে গতিশীল।
৩। বিদ্যুৎ ক্ষেত্র ও চুম্বক ক্ষেত্র দ্বারা বিক্ষিপ্ত হয় না।
৪। ভেদন ক্ষমতা সবচেয়ে বেশি।
৫। শক্তি ও ফ্রিকোয়েন্সি সর্বাধিক।
৬। চার্জ ও ভর নেই।

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান (এসএসসি প্রোগ্রাম)- উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩৬.
নিচের কোন তথ্যটি সঠিক? 
  1. শিশুকে ৬ মাস পর্যন্ত কেবল বুকের দুধ দিতে হবে
  2. ডায়ারিয়া প্রতিরোধে মায়ের দুধ অত্যন্ত কার্যকর
  3. মায়ের দুধে প্রয়োজনীয় সকল পুষ্টি উপাদান সঠিক মাত্রায় থাকে
  4. উপরের সবগুলো
সঠিক উত্তর:
উপরের সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা

- জন্মের পর মায়ের দুধ শিশুর একমাত্র আদর্শ খাদ্য। জন্মগ্রহণের পর যত তাড়াতাড়ি সম্ভব শিশুকে মায়ের দুধ দিতে হবে।
- মায়ের প্রথম দুধকে শালদুধ বা Colostrum বলে। এই দুধ হলুদ বর্ণের গাঢ় আঠালো হয়।
- প্রতিদিন গড়ে ৮০-১০০ মি.লি. পরিমাণ শালদুধ উৎপাদিত হয়। প্রসবের পর ২/৩ দিন পর্যন্ত শালদুধ নির্গত হয়।
- শালদুধ শিশুর রোগ প্রতিরোধক ক্ষমতা বাড়ায়। ডায়রিয়া, জন্ডিস ও শ্বাসনালীর ইনফেকশন হতে শিশুদের রক্ষা করে।
- নবজাতককে বাইরের কোনো দুধ, চিনি, মধু, পানি দেওয়া থেকে সম্পূর্ণ বিরত থাকতে হবে। জন্মের এক ঘন্টার মধ্যে শালদুধ দিতে হবে। শিশুকে ৬ মাস পর্যন্ত কেবল বুকের দুধ দিতে হবে।

• মায়ের দুধের গুণাগুণ:
১। মায়ের প্রথম দুধ হলুদ বর্ণ, ঘন ও তরল থাকে, একে কলোস্ট্রাম বলে। একে শালদুধও বলা হয়। এই দুধ প্রোটিন, ভিটামিন ও অ্যান্টিবডিসমৃদ্ধ। এই দুধ শিশুর জীবনের প্রথম টিকা হিসেবে কাজ করে। ফলে শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। শিশু সুস্থ থাকে।
২। মায়ের দুধে প্রয়োজনীয় সকল পুষ্টি উপাদান, যেমন- গ্লুকোজ, প্রোটিন, স্নেহ, ভিটামিন, খনিজ লবণ সঠিক মাত্রায় থাকে। তাই মায়ের দুধ সুষম হয়।
৩। দুধের ল্যাকটোজ, ল্যাকটোএ্যালবুমিন ও ক্যাজিন শিশু সহজে হজম করতে পারে, ফলে শিশুর পেটের পীড়া হয় না। ডায়ারিয়া প্রতিরোধে একমাত্র মায়ের দুধ অধিক কার্যকর।
৪। মায়ের বুকের দুধ জীবাণুমুক্ত। শিশু তাৎক্ষণিক প্রয়োজনমতো গ্রহণ করতে পারে। মায়ের দুধ সহজপাচ্য ও স্বাস্থ্যসম্মতভাবে এবং সঠিক মাপমাত্রায় শিশুকে খাওয়ানো যায়।
৫। শিশুর শারীরিক ও মানসিক বিকাশে পরিপূর্ণ পুষ্টি যোগায়। বুকের দুধ খাওয়া শিশুরা অধিক বুদ্ধিমান হয়।
৬। অতিরিক্ত অর্থ ব্যয়ের প্রয়োজন হয় না।
৭। মা ও শিশুর বন্ধন সৃদৃঢ় হয়, যা শিশুর ব্যক্তিত্ব গঠনে সহায়তা করে।

উৎস: গার্হস্থ্য বিজ্ঞান ২য় পত্র (এইচএসসি প্রোগ্রাম)- উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩৭.
জন্মের কত দিনের মধ্যে শিশুকে পোলিও ভ্যাকসিন (OPV-0) দিতে হয়?
  1. ৪৫ দিন
  2. ৬০ দিন
  3. ৯০ দিন
  4. ৩০ দিন
সঠিক উত্তর:
৩০ দিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩০ দিন
ব্যাখ্যা

• টিকা দেওয়া বা ভ্যাকসিনেশন (Vaccination):
- ইমিউনিটি অর্জনের জন্য দেহের মধ্যে টিকা বা ভ্যাকসিন দেওয়ার পদ্ধতিতে টিকাকরণ বা ভ্যাকসিনেশন বলে।
- টিকা রোগ সৃষ্টিকারী অণুজীবের রোগ সৃষ্টির ক্ষমতাকে নষ্ট করে দেহে প্রবেশ করিয়ে ইমিউনিটি গড়ে তোলা হয়। এই পদ্ধতিতে সক্রিয় অনাক্রমীকরণের মাধ্যমে ইমিউনোলজিক্যাল মেমোরির (immunological memory) সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে রোগ সংক্রামক জীবাণু শরীরে প্রবশে করলে দেহ দ্রুততার সঙ্গে প্রবিষ্ট জীবাণুকে ধ্বংস করে।
- প্রকৃতপক্ষে, দেহে প্রবিষ্ট ভ্যাকসিনের বিরুদ্ধে অ্যান্টিজেন নির্দিষ্ট T ও B-লিম্ফোসাইটের সংখ্যা বৃদ্ধি পায় এবং মেমোরি সেল উৎপন্ন ভ্যাকসিনেশন প্রধানত অণুজীবের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হলেও বিভিন্ন বিষ (toxins), যেমন-সাপের বিষ (snake venoun), মাকড়সার বিষ প্রভৃতির বিরুদ্ধেও ব্যবহার করা হয়।
- জীবাণু বা পরজীবীর আক্রমণে রোগের লক্ষণ প্রকাশ পেলে ভ্যাকসিনেশন আর কোনো কাজে আসে না। 

• পোলিও:
পোলিও (Poliomyelitis) একটি ভাইরাসজনিত সংক্রামক রোগ, যা Poliovirus দ্বারা সৃষ্ট। এটি মূলত শিশুদের বেশি আক্রান্ত করে এবং স্নায়ুতন্ত্রে আক্রমণ করে স্থায়ী পক্ষাঘাত ঘটাতে পারে।
- পোলিও প্রতিরোধে ব্যবহৃত টিকাকে পোলিও ভ্যাকসিন বলা হয়। এটি শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি করে।

 • পোলিও টিকার প্রকারভেদ: 
১। OPV (Oral Polio Vaccine):
- মুখে খাওয়ানো টিকা।
- জীবিত কিন্তু দুর্বল ভাইরাস থাকে।
- বাংলাদেশে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত। 
- জন্মের একমাস বা ৩০ দিনের মধ্যে শিশুকে পোলিও ভ্যাকসিন (OPV-0) দিতে হয়। যা দ্রুত সুরক্ষার জন্য নিয়মিত টিকাদান তালিকার অংশ হিসেবে ৬, ১০ ও ১৪ সপ্তাহে দেওয়া ডোজের আগে দেওয়া হয়। 

২। IPV (Inactivated Polio Vaccine):
- ইনজেকশনের মাধ্যমে দেওয়া হয়।
- মৃত ভাইরাস ব্যবহার করা হয়।
- এটি পোলিও ভাইরাসের কারণে হওয়া পক্ষাঘাত প্রতিরোধে অত্যন্ত কার্যকর।
- সাধারণত শিশুদের পোলিও টিকাদান কর্মসূচির অংশ হিসেবে প্রথম ডোজ হিসেবে ২ মাস বয়সে দেওয়া হয়।



উৎস: জীববিজ্ঞান ২য় পত্র (এইচএসসি প্রোগ্রাম)- উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩৮.
কয়লার মূল উপাদান হচ্ছে-
  1. সালফার
  2. কার্বন
  3. আর্গন
  4. সিলিকন
সঠিক উত্তর:
কার্বন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কার্বন
ব্যাখ্যা

• প্রাকৃতিক জ্বালানির উৎস:
- বাংলাদেশে ব্যবহৃত প্রাকৃতিক জ্বালানির মধ্যে অন্যতম হলো প্রাকৃতিক গ্যাস, কয়লা এবং পেট্রোলিয়াম। 
- এছাড়া রান্নার কাজে ব্যবহৃত কাঠের খড়ি, গাছের পাতা, পাটকাঠি, ধানের গুঁড়া এবং খড় বা গোবর দিয়ে তৈরি লাকড়ি, এগুলোকেও প্রাকৃতিক জ্বালানি হিসেবে গণ্য করা যায়।
 
• কয়লা:
কয়লা হলো কালো বা কালচে বাদামি রঙের একধরনের পাললিক শিলা। এতে বিদ্যমান মূল উপাদান হচ্ছে কার্বন। তবে স্থানভেদে এতে ভিন্ন ভিন্ন পরিমাণে হাইড্রোজেন (H2), সালফার (S), অক্সিজেন (02) কিংবা নাইট্রোজেন (N2) থাকে।
- কয়লা একটি দাহ্য পদার্থ, তাই জ্বালানি হিসেবে এর বহুল ব্যবহার রয়েছে।
- প্রাকৃতিক গ্যাস আর খনিজ তেলের মতো কয়লা একটি জীবাশ্ম জ্বালানি (Fossil Fuel) হলেও এর গঠন প্রক্রিয়া আলাদা। প্রায় ৩৫০ মিলিয়ন বছর আগে জলাভূমিতে জন্মানো প্রচুর ফার্ন, শৈবাল, গুল্ম ও অন্যান্য গাছপালা মরে ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে কয়লা তৈরি হয়েছে।
- গাছপালায় বিদ্যমান জৈব পদার্থে থাকা কার্বন প্রথমে জলাভূমির তলদেশে জমা হয়। এভাবে জমা হওয়া কার্বনের স্তর আস্তে আস্তে পলি বা কাদার নিচে চাপা পড়ে যায় এবং বাতাসের সংস্পর্শ থেকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
- এরকম অবস্থায় কার্বনের স্তর আরও ক্ষয় হয়ে পানিযুক্ত, স্পঞ্জের মতো ছিদ্রযুক্ত জৈব পদার্থে পরিণত হয়, যাকে বলা হয় পিট (Peat)। পিট অনেকটা হিউমাসের মতো পদার্থ।
- পরবর্তী সময়ে উচ্চ চাপে ও তাপে এই পিট পরিবর্তিত হয়ে কার্বনসমৃদ্ধ কয়লায় পরিণত হয়।
- কয়লা তিন রকমের হয়। যেমন: অ্যানথ্রাসাইট, বিটুমিনাস এবং লিগনাইট।

উৎস: বিজ্ঞান- নবম ও দশম শ্রেণি।

৩৯.
ব্যাটারিতে রাসায়নিক শক্তিকে কোন শক্তিতে রূপান্তরিত করা হয়?
  1. আলোক শক্তি
  2. তাপশক্তি
  3. যান্ত্রিক শক্তি
  4. বিদ্যুৎ শক্তি
সঠিক উত্তর:
বিদ্যুৎ শক্তি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিদ্যুৎ শক্তি
ব্যাখ্যা

• শক্তির রূপান্তর (Energy Transformation/Conversion): 
- শক্তির রূপান্তর হলো এক ধরনের শক্তিকে অন্য রূপে পরিবর্তন করার প্রক্রিয়া, যেখানে শক্তির মোট পরিমাণ অপরিবর্তিত থাকে (শক্তির সংরক্ষণশীলতা নীতি অনুসারে) এবং এটি সৃষ্টি বা ধ্বংস হয় না; যেমন—রাসায়নিক শক্তি থেকে যান্ত্রিক শক্তি, বা বিদ্যুৎ শক্তি থেকে আলোক শক্তির উদাহরণ ইত্যাদি। 
- শক্তি রূপান্তরের উদাহরণ হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ শক্তি রাসায়নিক শক্তি। 
- বাসায় রান্না করার জন্য যে গ্যাস ব্যবহার করা হয়, সেটা রাসায়নিক শক্তির তাপশক্তিতে রূপান্তরের উদাহরণ। সে কারণে বাসা-বাড়িতে বৈদ্যুতিক শক্তি সরবরাহ করার সাথে সাথে গ্যাসও সরবরাহ করা হয়।
- রাসায়নিক শক্তিকে তাপে রূপান্তর করার কারণে  আলোক শক্তিও পাওয়া যায়। মোমবাতির আলো তার একটা উদাহরণ।
- গ্যাস, পেট্রল, ডিজেল বা এ ধরনের জ্বালানি ব্যবহার করে নানারকম ইঞ্জিনে যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তরিত করা হয়। যদিও ভালো করে দেখলে দেখা যাবে রাসায়নিক শক্তি প্রথমে তাপশক্তি এবং সেই তাপশক্তি আবার যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তরিত হচ্ছে।
- আধুনিক প্রযুক্তির যুগে রাসায়নিক শক্তির রূপান্তরের সবচেয়ে বড় উদাহরণটি হচ্ছে ব্যাটারি, যেখানে এই শক্তি বৈদ্যুতিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়। মোবাইল টেলিফোন থেকে শুরু করে গাড়ি কিংবা ঘড়ি থেকে মহাকাশযান এমন কোনো জায়গা খুঁজে পাওয়া যাবে না যেখানে ব্যাটারি ব্যবহার করে রাসায়নিক শক্তিকে বিদ্যুৎ শক্তিতে রূপান্তরিত করা হয়নি।
- রাসায়নিক শক্তির সবচেয়ে চমকপ্রদ উদাহরণ জীবন্ত প্রাণির শরীর, যেখানে খাদ্য থেকে রাসায়নিক শক্তি যান্ত্রিক কিংবা বিদ্যুৎশক্তিতে রূপান্তরিত হয়।

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান- নবম ও দশম শ্রেণি।

৪০.
কোনটির সাহায্যে পারমানবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে নিউক্লিয়ার রি-অ্যাক্টরকে নিয়ন্ত্রণ করা হয়?
  1. কন্ট্রোল অ্যান্টেনা
  2. রি-অ্যাক্টর অ্যান্টেনা
  3. কন্ট্রোল রড
  4. রি-অ্যাক্টর রড
সঠিক উত্তর:
কন্ট্রোল রড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কন্ট্রোল রড
ব্যাখ্যা

• নিউক্লিয়ার (পারমানবিক) বিক্রিয়া:
- নিউক্লিয়ার শক্তিকেন্দ্রে যেসব জ্বালানি ব্যবহার করা হয়, তার একটি হচ্ছে ইউরেনিয়াম (235)। এখানে 92টি প্রোটন এবং 143টি নিউট্রন রয়েছে। প্রকৃতিতে এর পরিমাণ খুব কম।
- প্রাকৃতিক ইউরোনিয়ামের মাত্র 0.7% এর অর্ধায়ু 704 মিলিয়ন বছর। এই ইউরেনিয়াম (235) নিউক্লিয়াস খুব সহজেই আরেকটা নিউট্রনকে গ্রহণ করতে পারে (যদি সে নিউট্রনের গতি কম হয়) তখন ইউরেনিয়াম (235) পুরোপুরি অস্থিতিশীল হয়ে যায়, এটা তখন 92Kr এবং 141Ba এই দুটো ছোট নিউক্লিয়াসে ভাগ হয়ে যায়। তার সাথে সাথে আরো তিনটা নিউট্রন বের হয়ে আসে যেটা নিচের সমীকরণে দেখানো হয়েছে।



- এই বিক্রিয়ায় যে তিনটি নিউট্রন বের হয়ে এসেছে, তারা আসলে প্রচণ্ড গতিতে বের হয়ে আসে, তাই খুব সহজে অন্য ইউরেনিয়াম (235) সেগুলো ধরে রাখতে পারে না। কোনোভাবে যদি এগুলোর গতিশক্তি কমানো যায়, তাহলে সেগুলো অন্য ইউরেনিয়াম (235) নিউক্লিয়াসে আটকা পড়ে সেটাকেও ভেঙে দিয়ে আরো কিছু শক্তি এবং আরো তিনটি নতুন নিউট্রন বের করবে।
- নিউক্লিয়ার শক্তিকেন্দ্রে এই কাজটি করা হয়, তাই বের হয়ে আসা নিউট্রনগুলোর গতি কমে আসার পর সেগুলো আবার অন্য নিউক্লিয়াসকে ভেঙে দেয় এবং এভাবে চলতেই থাকে। এই প্রক্রিয়াকে বলে চেইন রি-অ্যাকশন (Chain Reaction)।

• নিউক্লিয়ার (পারমানবিক) বিদ্যুৎকেন্দ্র:
- নিউক্লিয়ার চেইন রি-অ্যাকশন পদ্ধতিতে প্রচণ্ড তাপশক্তি বের হয়ে আসে, সেই তাপশক্তি ব্যবহার করে পানিকে বাষ্পীভূত করে সেই বাষ্প দিয়ে টারবাইন ঘুরিয়ে জেনারেটর থেকে বিদ্যুৎ তৈরি করা হয় এবং এ রকম বিদ্যুৎকেন্দ্রকে বলা হয় নিউক্লিয়ার বিদ্যুৎকেন্দ্র।    
- নিউক্লিয়ার বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে খুব সহজেই হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া সম্ভব। 
- এই নিউক্লিয়ার বিক্রিয়ার পর যে বর্জ্য পদার্থ তৈরি হয় সেগুলো ভয়ংকর রকম তেজস্ক্রিয়, তাই সেগুলো প্রক্রিয়া করার সময় অনেক রকম সাবধানতা নিতে হয়।
- নিউক্লিয়ার বিক্রিয়ার পর যে বাড়তি নিউট্রন বের হয় কোনোভাবে সেগুলোকে অন্য কোথাও শোষণ করিয়ে নিতে পারলেই নিউক্লিয়ার বিক্রিয়া বন্ধ হয়ে যায়। নিউট্রনকে শোষণ করার জন্য বিশেষ ধরনের রড নিউক্লিয়ার রি-অ্যাক্টরে থাকে যেগুলোকে বলে কন্ট্রোল রড। সেগুলো দিয়ে নিউক্লিয়ার রি-অ্যাক্টরকে নিয়ন্ত্রণ করা হয়।

• কন্ট্রোল রড:
- এগুলো বোরন, ক্যাডমিয়াম বা হাফনিয়ামের মতো পদার্থ দিয়ে তৈরি, যা নিউট্রন শোষণ করতে পারে।
- এই রডগুলোকে নিউক্লিয়ার রি-অ্যাক্টরের কোরের ভেতরে প্রবেশ করানো বা বের করে আনা হয়। নিউট্রন শোষণ করে এগুলো ফিশন বিক্রিয়ার হার নিয়ন্ত্রণ করে এবং বিদ্যুৎ উৎপাদন স্থিতিশীল রাখে।
- জরুরি পরিস্থিতিতে কন্ট্রোল রডগুলো দ্রুত চুল্লির ভেতরে ঢুকিয়ে চেইন বিক্রিয়া সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া যায়, যা একটি গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা ব্যবস্থা। 

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান- নবম ও দশম শ্রেণি।

৪১.
মানবদেহে শ্বসন প্রক্রিয়ায় নিচের কোনটি উৎপন্ন হয়?
  1. C02
  2. H20
  3. ATP
  4. উপরের সবগুলো
সঠিক উত্তর:
উপরের সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা

• মানব শ্বসন:
অক্সিজেন জীবনধারণের অপরিহার্য উপাদান। কোনো প্রাণীই অক্সিজেন ছাড়া বাঁচতে পারে না। মানবদেহে বাতাসের সাথে অক্সিজেন ফুসফুসে প্রবেশ করে এবং রক্তের মাধ্যমে দেহের সব অঙ্গে পৌঁছায়। দেহকোষে পরিপাক হওয়া খাদ্যের সাথে অক্সিজেনের বিক্রিয়া ঘটে, ফলে তাপ এবং শক্তি উৎপন্ন হয়। এই তাপ দেহকে উষ্ণ রাখে এবং প্রয়োজনীয় শক্তি যোগায়। অক্সিজেন এবং খাদ্য উৎপাদনের মধ্যে বিক্রিয়ার ফলে কার্বন ডাই-অক্সাইড ও পানি উৎপন্ন হয়। রক্ত উপাদানগুলোকে ফুসফুসে নিয়ে যায়। সেখানে অক্সিজেন শোষিত হয় এবং কার্বন ডাই-অক্সাইড ছেড়ে দেয়। যে প্রক্রিয়া দিয়ে অক্সিজেন গ্রহণ এবং কার্বন ডাই-অক্সাইড নিষ্কাশন করা হয়, তাকে শ্বাসকার্য বলে। যে জৈবিক প্রক্রিয়া জীবকোষের খাদ্যবস্তুকে বায়ুর অক্সিজেনের সাথে জারিত করে মজুত শক্তিকে ব্যবহারযোগ্য শক্তিতে রূপান্তর এবং কার্বন ডাই-অক্সাইড নিষ্কাশন করে, তাকে শ্বসন বলে। দেহের ভিতর গ্যাসীয় আদান-প্রদান একবার ফুসফুসে এবং পরে দেহের প্রতিটি কোষে পর্যায়ক্রমে সম্পাদিত হয়। শ্বসনের সরল বিক্রিয়াটি এরকম-

C6H1206 (গ্লুকোজ)  602 (অক্সিজেন)   ⇔   6C02 (কার্বন ডাই-অক্সাইড)  +  6H2O (পানি) +  ATP (শক্তি)

- মানবদেহে শ্বসন প্রক্রিয়ায় গ্লুকোজ ও ৬ অণু অক্সিজেনের বিক্রিয়ায় ৬ অণু কার্বন ডাই-অক্সাইড ও পানি এবং ATP বা শক্তি     উৎপন্ন হয়।
- প্রশ্বাসে অক্সিজেন গ্রহণ এবং নিঃশ্বাসে কার্বন ডাই-অক্সাইড দেহ থেকে বের করতেই হয়, তা না হলে আমাদের পক্ষে বেঁচে থাকা সম্ভব নয়। কারণ তিন-চার মিনিটের বেশি দেহে অক্সিজেনের সরবরাহ বন্ধ থাকলে মৃত্যু অনিবার্য।
- দেহের সচেতন, অচেতন উভয় অবস্থাতেই অবিরাম অক্সিজেন গ্রহণ এবং কার্বন ডাই-অক্সাইডের নির্গমন চলে। আর সাথে সাথে প্রতিনিয়ত দেহরক্ষার নানাবিধ প্রক্রিয়াও চলতে থাকে, যার ফলে প্রাণী বেঁচে থাকে।

উৎস: জীববিজ্ঞান- নবম ও দশম শ্রেণি।

৪২.
নিচের কোনটি সঠিক?
  1. ডায়াবেটিস ছোঁয়াচে বা সংক্রামক রোগ
  2. প্যানক্রিয়াস বা অগ্ন্যাশয় থেকে ইনসুলিন নামে এক ধরনের হরমোন নির্গত হয়
  3. মানুষের রক্তে গ্লুকোজের স্বাভাবিক মাত্রা হলো  ৯ - ১৪.৫ mmol/L
  4. উপরের সবগুলো
সঠিক উত্তর:
প্যানক্রিয়াস বা অগ্ন্যাশয় থেকে ইনসুলিন নামে এক ধরনের হরমোন নির্গত হয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্যানক্রিয়াস বা অগ্ন্যাশয় থেকে ইনসুলিন নামে এক ধরনের হরমোন নির্গত হয়
ব্যাখ্যা

ডায়াবেটিস, বহুমূত্র বা মধুমেহ রোগ:

- ডায়াবেটিস এক ধরনের বিপাকজনিত রোগ। দেহে গ্রহণকৃত খাদ্য গ্লুকোজে পরিণত হয়ে রক্তের মধ্যে আসে।
- দেহে গ্রহণকৃত খাদ্য গ্লুকোজে পরিণত হয়ে রক্তের মধ্যে আসে।
- প্যানক্রিয়াস বা অগ্ন্যাশয় থেকে ইনসুলিন নামে এক ধরনের হরমোন নির্গত হয়, যেটি রক্তের  গ্লুকোজকে শক্তিতে রূপান্তরিত করে।  - কারও ডায়াবেটিস হলে প্যানক্রিয়াস যথেষ্ট ইনসুলিন তৈরি করতে পারে না কিংবা শরীর ইনসুলিনকে ব্যবহার করতে পারে না। যে কারণে রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ বেড়ে যায়।
- মানুষের রক্তে গ্লুকোজের স্বাভাবিক মাত্রা হলো ৩.৯ - ৫.৬ mmol/L কিংবা (৭০ - ১০০ মি.গ্রা/ডেসি.লি.)। ডায়াবেটিস হলে রক্তে এর পরিমাণ দীর্ঘস্থায়ীভাবে অনেক বেড়ে যায়।
- ডায়াবেটিস ছোঁয়াচে বা সংক্রামক রোগ নয়
- ডায়াবেটিস হৃদযন্ত্রের রক্তপ্রবাহ রোগের ওপর পরোক্ষভাবে প্রভাব বিস্তার করে।
- ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তির রক্তে শর্করার পরিমাণ বেশি থাকায় এটি দেহের বিভিন্ন অঙ্গের, যেমন- হৃৎপিণ্ড, কিডনি, চোখ ইত্যাদির স্বাভাবিক কাজে বাধা সৃষ্টি করে। 
- ডায়াবেটিস রোগীদের রক্তে শর্করার মাত্রা দীর্ঘদিন অনিয়ন্ত্রিত থাকলে তাদের করোনারি হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা খুবই বেশি থাকে। এটি হৃৎপিণ্ডকে অচল করে দেয় এবং রোগী মারা যেতে পারে।
- এছাড়া দীর্ঘস্থায়ী ডায়াবেটিস রোগে রক্তচাপ বেড়ে যায় এবং এর থেকে উচ্চ রক্তচাপ বা হাইপারটেনশন হয়। উচ্চ রক্তচাপ করোনারি হৃদরোগের পূর্বলক্ষণ।

উৎস: বিজ্ঞান- নবম ও দশম শ্রেণি।