পরীক্ষা আর্কাইভ

১৯তম জুডিসিয়াল সার্ভিস (BJS) প্রস্তুতি

পরীক্ষা১৯তম জুডিসিয়াল সার্ভিস (BJS) প্রস্তুতিতারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়22 minutes
মোট প্রশ্ন৪১
সিলেবাস
Exam - 16 Muslim Law topic: Full syllabus
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

১৯তম জুডিসিয়াল সার্ভিস (BJS) প্রস্তুতি

১৯তম জুডিসিয়াল সার্ভিস (BJS) প্রস্তুতি · তারিখ অনির্ধারিত · ৪১ প্রশ্ন

.
The Arabic word fatwa can mean-
  1. Explanation.
  2. Clarification.
  3. Belief
  4. A & B
ব্যাখ্যা
⇒ The Arabic word fatwa can mean “explanation” or “clarification.” It refers, in simple terms, to an edict or ruling by a recognized religious authority on a point of Islamic law. The process of issuing a fatwa usually begins when a Muslim, confronted with a problem of life, belief or law, is unsure what to do.

Let’s say, for example, that a Muslim man wonders whether he should accept the teaching position he has been offered at a religious school or continue working in his father-in-law’s better-paying commercial enterprise. Faced with such a question, the man may turn to a recognized religious authority to request an expert ruling, or fatwa, on the matter.

In general, Muslims solicit fatwas when in doubt regarding some point of conduct or when entangled in a dispute because they wish to avoid deviating from God’s dictates. They may believe that straying from the path of righteous conduct could jeopardize their entry into heaven. For them, the stakes are high.

⇒ Who issues a fatwa?
When seeking a fatwa, a Muslim can turn to a local cleric or a group of Islamic law scholars – ulama – who collaborate to render decisions, or to a trusted institution of religious learning.

Given the subjects that fatwas must address – matters ranging from personal hygiene, marital relations, inheritance law, lifestyle, or allegiance owed to one’s nation – an encyclopedic knowledge of Islamic law is required, including familiarity with fatwas that have already been issued.
.
মুসলিম আইনে, বিবাহ হলো -
  1. একটি পবিত্র চুক্তি
  2. একটি দেওয়ানি চুক্তি
  3. ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠান
  4. একটি স্বর্গীয় কার্য
ব্যাখ্যা
⇒ ইসলামি আইনে বিবাহ হলো Civil Contract বা দেওয়ানি চুক্তি। ইসলামী আইনে বিয়ে হলো একজন নারী ও পুরুষের মধ্যে পবিত্র বন্ধন। ধর্মীয় ও সামাজিক উদ্দেশ্য ছাড়াও এ বন্ধন সৃষ্টি হয় একটা আইনগত চুক্তির মাধ্যমে। বিয়ের মাধ্যমে স্বামী-স্ত্রী একে অন্যের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন ও বৈধ সন্তান জন্মদানের অধিকার লাভ করে। এ ছাড়াও বিয়ের মাধ্যমে তাদের একে অন্যের ওপর যাবতীয় দায়িত্ব ও কর্তব্য জন্মায়।

Abdul Kadir Vs. Salima মামলায় ভারতের সুপ্রিম কোর্ট বিবাহকে দেওয়ানি চুক্তি বলে আখ্যায়িত করেছে। অপর পক্ষে পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট Khurshid Bibi মামলায় বলেন- বিবাহ যদিও দেওয়ানি চুক্তির ন্যায় একটি চুক্তি, এটি পুরোপুরি দেওয়নি চুক্তি নয়। কিন্তু Anwar Hossain vs Momtaz Begum 18, CLC, HCD, 51 মামলায় বাংলাদেশর সুপ্রিম কোর্ট ঘোষণা করেন যে, বিবাহ একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয় বরং এটি একটি দেওয়ানি চুক্তি।
.
যখন কোন নির্দিষ্ট সমস্যার ক্ষেত্রে একাধিক সমাধান থাকে, তখন ইসলামি আইনজ্ঞরা সর্বাধিক গ্রহণীয় সমাধান গ্রহণ করবে এটা কি নামে পরিচিত?
  1. কিয়াস
  2. ইজমা
  3. ইসতিসলাহ
  4. ইসতিহসান
ব্যাখ্যা
ইসতিহসান: ইসতিহসান অর্থ সমর্থন বা অনুমোদন। এ শব্দটি 'কোরআন এবং হাদিসের ব্যাখ্যা হিসাবে ব্যবহৃত হয়। ইসলামী আইনের অপ্রধান উৎসগুলোর মধ্যে ইমাম আবু হানিফা একেও একটি উৎসরূপে গণ্য করেন।

-কোন নির্দিষ্ট সমস্যার একাধিক সমাধান থাকলে তখন ইসলামী আইনজ্ঞগণ সর্বাধিক গ্রহণীয় যে সমাধান গ্রহণ করেন তা হলো ইসতিহসান।

যখন কতিপয় আইন কোনো ক্ষেত্রে উপস্থাপন করা হয় এবং প্রযোজ্য বলে প্রতীয়মান হয়, তখন দুর্বলভিত্তিক আইনের ওপর দৃঢ়ভিত্তিক আইন প্রাধান্য লাভ করবে এবং সমর্থনীয় বা অনুমোদনযোগ্য হবে, এটাই 'ইসতিহসান। এখানে দুর্বলভিত্তিক আইন বলতে কোরআন ও হাদিসের তুলনায় দুর্বলভিত্তিক 'ইজমা' বা কিয়াসের আইনকে বুঝানো হয়েছে। কোরআন এবং হাদিস হলো দৃঢ়ভিত্তিক আইন। ইসতিহসান দ্বারা কিয়াস প্রত্যাখ্যান এবং যুক্তিযুক্ততার আইনকে সমর্থন করা বুঝায়।

যে নীতির বলে আইনবিদগণ তাদের ব্যক্তিগত বিচার বুদ্ধির ওপর নির্ভর করতে পারেন, সে নীতিকেই হানাফীগণ ইসতিহসান বলে। তাদের মতে কিয়াসভিত্তিক আইন অভ্রান্ত নয়। এমনকি ইজমাকেও অভ্রান্ত বলা যায় না। প্রয়োজনবোধে ঐগুলোর পরিবর্তে স্বাধীন বিচারবুদ্ধি প্রয়োগ করাই ইসতিহসানের মূল মর্ম। হানাফীগণ বলেন যে, ইসতিহসানও এক প্রকার কিয়াস, তবে কিয়াস অপেক্ষা ইসতিহসানের এখতিয়ার ব্যাপক। ইমাম আবু হানিফা এ নীতির প্রতিষ্ঠাতা।

⇒ মুসলিম আইনের উৎস প্রধানত ৪টি।
১. পবিত্র কোরআন
২. হাদিস
৩. ইজমা
৪. কিয়াস

⇒  অন্যান্য উৎসগুলো হলো
ক. ইসতিহসান [Istihsan]
খ. ইসতিসলাহ [Istislah]
গ. ইসতিদলাল
ঘ. ইজতিহাদ
ঙ. তকলিদ
.
মুসলিম আইনে তালাক আহসান এবং তালাক হাসান হলো-
  1. জিহার
  2. ইলা
  3. তালাক-উস-বিদাত
  4. তালাক-উস-সুন্নাহ
ব্যাখ্যা
তালাক-উস-সুন্নাহ (অনুমোদিত তালাক):
তালাক-উস-সুন্নাহ [Talaq-us-Sunna] হলো হযরত মোহাম্মদ (সা:) এর সুন্নত বা হাদিসে বর্ণিত নিয়ম অনুযায়ী তালাক। তালাক-উস-সুন্নাহ [Talaq-us-Sunna] দুই প্রকার হতে পারে;

ক. তালাক আহসান [Ahsan] (সর্বাধিক অনুমোদিত তালাক)
খ. তালাক হাসান [Hasan] (অনুমোদিত তালাক)

- তালাক-ই-আহসান (Ahsan): স্ত্রীর তুহরে (পবিত্র সময়) একবার তালাক উচ্চারণ করা হলে এবং স্ত্রীর ইদ্দতকাল (৩টি ঋতুকাল পর্যন্ত) তার সাথে যৌন সম্পর্ক (Consummation) না রাখলে, ইদ্দতকাল শেষ হওয়ার সাথে সাথে তালাক কার্যকর হবে এবং অপ্রত্যাহারযোগ্য হবে। এটি সর্বাপেক্ষা অনুমোদিত তালাক।

- তালাক-ই-হাসান (Hasan): স্বামী তার স্ত্রীর পরপর ৩টি তুহরের প্রত্যেক তুহরেই ১ বার করে তালাক উচ্চারণ করবে এবং তুহর কালে স্ত্রীর শারীরিক সম্পর্ক হতে বিরত থাকবে। তৃতীয় উচ্চারণের সঙ্গে সঙ্গেই তালাক কার্যকর হবে। এই ক্ষেত্রে তালাক অপ্রত্যাহারযোগ্য।
.
যখন ইসলামি আইনের প্রথম তিনটি উৎস অর্থাৎ কুরআন, হাদিস এবং ইজমা কোন নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে না তখন ঐগুলি হতে তুলনামূলক আলোচনার মাধ্যমে প্রাপ্ত যে সাদৃশ্যমূলক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়, তাকে বলা হয়-
  1. ইসতিহসান
  2. ইসতিসলাহ
  3. কিয়াস
  4. তকলিদ 
ব্যাখ্যা
⇒ মুসলিম আইনের উৎস প্রধানত ৪টি।
১. পবিত্র কোরআন
২. হাদিস
৩. ইজমা
৪. কিয়াস

অন্যান্য উৎসগুলো হলো
ক. ইসতিহসান [Istihsan]
খ. ইসতিসলাহ [Istislah]
গ. ইসতিদলাল
ঘ. ইজতিহাদ
ঙ. তকলিদ 

ইসলামিক শরীয়া আইনের মূল উৎস হল ইসলাম ধর্মের ধর্মীয় গ্রন্থ কোরআন শরীফ, যা মুসলমানদের পূর্ণাঙ্গ জীবন বিধান হিসেবে যুগ যুগ ধরে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। 

দ্বিতীয়ত, ইসলাম ধর্মের দূত বা বার্তা বাহক হিসেবে মহানবী হযরত মোহাম্মদ (সাঃ), তার জীবদ্দশায় কোরআন এর প্রতিটি নীতি ও বিধান অনুসারে যেভাবে জীবন যাপন করতেন এবং জীবন-যাত্রায় কোরআনের ব্যাখ্যাগুলোর সংকলনই হলো আল-হাদিস। এছাড়া, কোন প্রশ্নের উত্তর যদি সরাসরি পবিত্র কোরআন বা সুন্নাহ তে না পাওয়া গেলে তার মীমাংসার জন্য মহানবী (সাঃ) এর সঙ্গী ও শিষ্যদের মধ্যে ঐক্য মৈত্যের ভিত্তিতে যে সকল সমাধান দেয়া আছে তার সংকলনকে ইজমা বলা হয়। এবং আলোচ্য এই তিনটি উৎসের মধ্যে তুলনামূলক আলোচনায় সাদৃশ্য মূলক সিদ্ধান্তগুলোই কিয়াস।
এরপরও অনেক অমিমাংসিত প্রশ্নের সমাধান বা সন্দেহ দূর করণ কিংবা স্পষ্টতা আনয়নের জন্য যুগ যুগ ধরে ইসতিহসান , ইসতিসলাহ এবং ইসতিহাদ বা যৌক্তিক ও বাস্তব সম্মত ব্যাখ্যার মাধ্যমে এই আইনটিকে সমৃদ্ধ করা হয়ে থকে।

পৃথিবীতে ইসলামিক আইন অনুসারে পরিচালিত কিছু রাষ্ট্রের সকল আইনই শরীয়া আইন অনুসারে পরিচালিত হয়ে থাকে। উল্লেখ্য, পৃথিবীর বেশ কিছু দেশে যদিও ইসলামিক শরীয়া আইনের ব্যাপক সমালোচনা করা হয়ে থাকে কিন্তু পশ্চিম বিশ্বেও এখন ইসলামিক আইনের অনেক ব্যবহার দেখা।

বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগ ও আপীল বিভাগ এর বিভিন্ন রায়ের পর্যালোচনায় ইসলামিক আইনের নানা দিকের উপর আলোক পাত করা হয়েছে।

মুসলিম অধ্যুষিত বাংলাদেশ একটি নতুন রাষ্ট্র হলেও এর একটি সমৃদ্ধ ইতিহাস রয়েছে। তত্কালীন বৃহৎ সমগ্র ভারত উপমহাদেশের ইতিহাস পর্যালোচনা করলেও ইসলামিক শাসন ব্যবস্থার কয়েক শতকের সমৃদ্ধতা পরিলক্ষিত হয়। এর ধারাবাহিকতা হিসেবে এদেশের আইন ব্যবস্থায় পারিবারিক আইনের ক্ষেত্রে বেশ কিছু শরীয়া আইনের প্রতিফলন ঘটেছে, যার মধ্যে ১৯৬১ সনের মুসলিম পারিবারিক আইন অন্যতম।
.
মোহরানা বা দেনমোহরের জন্য মোকদ্দমা দায়ের করার তামাদি মেয়াদ কত?
  1. ১ বৎসর
  2. ২ বৎসর
  3. ৩ বৎসর
  4. ৪ বৎসর
ব্যাখ্যা
- The Limitation Act, 1908 এর ১০৩ অনুচ্ছেদে তাৎক্ষণিক পরিশোধযোগ্য (Promt/মু’অজ্জল) মোহরানা আদায়ের জন্য আর  ১০৪ অনুচ্ছেদে বিলম্বিত (Differed/মু’আজ্জল) মোহরানা আদায়ে জন্য মোকদ্দমা দায়ের করার বিধান আছে। উভয়ক্ষেত্রে মোকদ্দমা দায়েরের তামাদির মেয়াদ ৩ বছর।
.
An individual who is qualified to exercise ijtihad in the evaluation of Islamic law is called-
  1. Imam
  2. Mujtahid
  3. Mujahideen
  4. Muslim
ব্যাখ্যা
⇒ An individual who is qualified to exercise ijtihad in the evaluation of Islamic law is called mujtahid (Arabic: مُجْتَهِد, "diligent"). an authoritative interpreter of the religious law of Islame specially : a living religious teacher that is recognized by the Shiʽa as competent to exercise private judgment in formulating authoritative answers to legal questions.

⇒ There are some specific criteria that must be satisfied for a person to be eligible to make an ijtihad. The person who can make an ijtihad is known as 'Mujtahid' who must have, inter alia, an in depth knowledge and understanding of Islam.

⇒ Ijtihad is one of the dependent sources of Islamic law. If a matter not resolved expressly in a Quran, Sunnah and by way of Ijma the jurist must not leave the matter unresolved rather he should strive hard to find out the solution under the light of Quran and Sunnah.

⇒ In Islamic law the use of individual reasoning in general is called Ijtihad or Ijtihad al-ra'y, and Mujtahid is the qualified lawyer who uses it. "Exertion" is the literal meaning of Ijtihad. In general usage, this Arabic word denotes the utmost effort, physical or mental, expended in a particular activity. In its Islamic and technical legal connotation, it denotes the thorough exertion of the jurist's mental faculty in finding a solution for a case of law. Ijtihad therefore is 'the logical deduction on a legal or theological question by a Mujtahid or learned and enlightened doctor, as distinguished from Ijma, which is the collective opinion of a council of divines.'
.
হানাফী আইন অনুযায়ী কত শ্রেণির ব্যক্তি অগ্রক্রয়ের অধিকার প্রয়োগ করতে পরেন?
  1. ২ শ্রেণির
  2. ৩ শ্রেণির
  3. ৪ শ্রেণির
  4. ৫ শ্রেণির
ব্যাখ্যা
অগ্রক্রয়ের অধিকার প্রয়োগ:

হানাফী আইন অনুযায়ী ৩ শ্রেণির ব্যক্তির অগ্রক্রয়ের অধিকার প্রয়োগের অধিকার আছে।

১) শাফি-ই-শরিক [Shafi-e-sharik ]
২) শাফি-ই-খালিত [Shafi-e-Khalit]
৩) শাফি-ই-জার [Shafi-e-jar]

- শাফি-ই-শরিক [Shafi-e-sharik ]
শাফি-ই-শরিক [Shafi-e-sharik | হলো সম্পত্তিতে কোন সহ-অংশীদার। যেমন; 'ক' এবং 'খ' হলো 'ম' এর সন্তান। সুতরাং 'ম' এর সম্পত্তির যৌথ মালিক হলো 'ক' এবং 'খ'। যদি 'ক' তার সম্পত্তি 'গ' এর নিকট বিক্রয় করে তাহলে 'খ' অগ্রক্রয়ের অধিকার প্রয়োগ করতে পারবে। আবার 'খ' তার সম্পত্তি 'গ' এর নিকট বিক্রয় করলে, 'ক' অগ্রক্রয়ের অধিকার প্রয়োগ করতে পারবে।

- শাফি-ই-খালিত [Shafi-e-Khalit]
শাফি-ই-খালিত [Shafi-e-Khalit] অর্থ হলো সুবিধাসমূহের ক্ষেত্রে অংশগ্রহণকারী (Participator in immunities]। এটা বলতে এমন ব্যক্তিকে বোঝায় যে কোন সুখাধিকার যেমন পথে চলাচলের অধিকার ইত্যাদিতে অধিকারী।

- শাফি-ই-জার [Shafi-e-jar]
শাফি-ই-জার [Shafi-e-jar) অর্থ হলো সংলগ্ন বা পার্শবর্তী স্থাবর সম্পত্তির মালিক (owners of adjoining immovable property)। হানাফী আইন অনুযায়ী যে ভূমি বিক্রয় হবে তার সংলগ্ন জমির মালিক অগ্রক্রয়ের অধিকার প্রয়োগ করতে পারে।
.
The Muslim Personal Law (Shariat) Application Act, 1937 এর ২ ধারা অনুসারে কোন বিষয়ে মুসলিম ব্যক্তিগত আইন প্রয়োগ করা বাধ্যতামূলক না?
  1. দানের ক্ষেত্রে
  2. উইলের ক্ষেত্রে
  3. ট্রাস্টের ক্ষেত্রে
  4. উপরিউক্ত সকল ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা বাধ্যতামূলক
ব্যাখ্যা
২। মুসলমানদের প্রতি ব্যক্তিগত আইনের প্রয়োগ:
বিপরীত প্রথা এবং রীতি থাকা সত্ত্বেও, (কৃষিভূমি সংক্রান্ত বিরোধ ব্যতীত) চুক্তি বা উপহার অথবা ব্যক্তিগত আইনের বিধানাবলীর অধীন অর্জিত বা উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত ব্যক্তিগত সম্পত্তিসহ নারীর বিশেষ সম্পত্তি, বিবাহ-বন্ধন, তালাক, ইলা, জিহার, লিয়ান, খুলা ও মুবারাসহ বিবাহ-বিচ্ছেদ, ভরণপোষণ, দেনমোহর (dower), অভিভাবকত্ব, উপহার, ট্রাস্ট এবং ট্রাস্ট-সম্পত্তি, এবং (দাতব্যালয় ও দাতব্য প্রতিষ্ঠান এবং দাতব্য ও ধর্মীয় সম্পত্তি ব্যতীত) ওয়াকফ্ সংক্রান্ত সকল প্রশ্নে, যে সকল মামলায় পক্ষগণ মুসলমান সেই সকল মামলার, সিদ্ধান্ত-বিধি হইবে মুসলিম ব্যক্তিগত আইন (শরিয়ত)।

⇒ Section 2. Application of Personal Law to Muslims:

Notwithstanding any custom or usage to the contrary, in all questions (save questions relating to agricultural land) regarding intestate succession, special property of females, including personal property inherited or obtained under contract or gift or any other provision of Personal Law, marriage, dissolution of marriage, including talaq, ila, zihar, lian, khula and mubaraat, maintenance, dower, guardianship, gifts, trusts and trust properties, and waqfs (other than charities and charitable institutions and charitable and religious endowments) the rule of decision in cases where the parties are Muslims shall be the Muslim Personal Law (Shariat).
১০.
বৈধ ইজমার শর্ত নয় কোনটি?
  1. ইজমা কোনো সময় কোরআন ও হাদিসের বিপরীত হবে না;
  2. কোনো এক বিষয়ে ঐকমত্য স্থাপিত হলে এটি পুনরায় আলোচিত বা রদ হবে না;
  3. একটি ইজমা পরবর্তী কোনো সুবিবেচিত ইজমা দ্বারা বাতিল হতে পারে;
  4. কোনটি নয়
ব্যাখ্যা
 ইজমার শর্তসমূহ: বৈধ ইজমার শর্তসমূহ নিম্নরূপ- 

(১) ইজমা কোনো সময় কোরআন ও হাদিসের বিপরীত হবে না;
(২) কোনো এক বিষয়ে ঐকমত্য স্থাপিত হলে এটি পুনরায় আলোচিত বা রদ হবে না;
(৩) একটি ইজমা পরবর্তী কোনো সুবিবেচিত ইজমা দ্বারা বাতিল হতে পারে এবং
(৪) কোনো যুগের মুসলিম আইন-বিজ্ঞানীগণ বিশেষ প্রশ্নে দুই রকমের ইজমা প্রতিষ্ঠিত করলে, এর পর তৃতীয় মত গ্রহণযোগ্য নয়।

উল্লিখিত প্রশ্নে সবগুলো অপশন বৈধ ইজমার শর্ত। তাই সঠিক উত্তর 'ঘ'(কোনটি নয়)। 
১১.
The second important source of Islamic law is-
  1. Quran
  2. Qiyas
  3. Hadith.
  4. Ijma
ব্যাখ্যা
⇒ Sunnah/Hadith as a source of law: Hadith is the second source of Islamic law. In some cases, it interprets the Qur'an, complements the Qur'an and lays down new principles and laws as well. There are mainly three types of Hadith, which include the words spoken by Prophet (sm), the works done by Prophet (sm) and the works to which the Prophet (sm) consented as valid.

⇒ Hadith has come to us through the chains of narration (sanad). Depending on the number and personal qualities of the narrators at different stages, hadith also have been graded in different categories like, mashhur, mutawatir, wahid, etc. Hadith, the narration of which could not be proved as completely reliable is known as 'weak' or 'dhaif Hadith.
১২.
স্বামী কত বছর যাবৎ নিখোঁজ থাকলে একজন বিবাহিতা স্ত্রীলোক বিবাহ বিচ্ছেদের আবেদন করতে পারেন?
  1. ২ বছর
  2. ৪ বছর
  3. ৭ বছর
  4. ১২ বছর
ব্যাখ্যা
• ১৯৩৯ সালের মুসলিম বিবাহ বিচ্ছেদ আইনের ২ ধারা অনুযায়ী, স্ত্রী যেসব কারণে আদালতে তালাক চাইতে পারেন সেগুলো হলো-

⇒ চার বছর পর্যন্ত স্বামী নিরুদ্দেশ থাকলে;
⇒ দুই বছর স্বামী তার স্ত্রীর ভরণপোষণ দিতে ব্যর্থ হলে;
⇒ স্বামীর সাত বছর কিংবা তার চেয়ে বেশি কারাদণ্ড হলে;
⇒ স্বামী কোনো যুক্তিসঙ্গত কারণ ছাড়া তিন বছর যাবত দাম্পত্য দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে;
⇒ বিয়ের সময় পুরষত্বহীন থাকলে এবং তা মামলা দায়ের করা পর্যন্ত বহাল থাকে;
⇒ স্বামী দুই বছর ধরে অপ্রকৃতিস্থ বা পাগল থাকলে অথবা কুষ্ঠরোগে বা মারাত্মক যৌন ব্যধিতে আক্রান্ত থাকলে;

⇒ বিয়ে অস্বীকার করলে। অর্থাৎ যদি কোনো মেয়ের বাবা বা অভিভাবক মেয়েকে ১৮ বছর বয়স হওয়ার আগে বিয়ে দেন এবং সেই মেয়েটি ১৯ বছর হওয়ার আগে বিয়ে অস্বীকার করে বিয়ে ভেঙে দিতে পারে। তবে শর্ত হলো, মেয়েটির সঙ্গে স্বামীর দাম্পত্য সম্পর্ক (সহবাস) যদি স্থাপিত না হয়ে থাকে তখনই কেবল বিয়ে অস্বীকার করে আদালতে বিচ্ছেদের ডিক্রি চাওয়া যাবে;

⇒ স্বামী ১৯৬১ সালের মুসলিম পারিবারিক আইনের বিধান লঙ্ঘন করে একাধিক স্ত্রী গ্রহণ করলে;

⇒ স্বামীর নিষ্ঠুরতার কারণে। নিম্নলিখিত আচরণগুলো ‘নিষ্ঠুরতা’ হিসেবে গণ্য হবে-

(ক) অভ্যাসগত আচরণে স্ত্রীকে আঘাত করা (দৈহিক আঘাত ছাড়াও মানসিক আঘাতও এর অন্তর্ভুক্ত, যা তার জীবন শোচনীয় বা দুর্বিষহ করে তুলেছে);
(খ) অন্য কোনো খারাপ নারীর সঙ্গে জীবনযাপন বা মেলামেশা;
(গ) স্ত্রীকে অনৈতিক জীবনযাপনে বাধ্য করা;
(ঘ) স্ত্রীর সম্পত্তি নষ্ট করা;
(ঙ) স্ত্রীকে নিজস্ব ধর্মপালনে বাধা দেয়া;
(চ) যদি স্বামীর একাধিক স্ত্রী থাকে, তাদের সঙ্গে পবিত্র কোরআনের নির্দেশ অনুসারে সমান ব্যবহার না করা;
(ছ) এছাড়া মুসলিম আইনে বিয়েবিচ্ছেদের জন্য বৈধ বলে স্বীকৃত অন্য যে কোনো কারণে স্ত্রী পারিবারিক আদালতে বিয়ে বিচ্ছেদের দাবি করতে পারবে।
১৩.
How many schools of thought exist in the Sunni sect of Islamic law?
  1. two
  2. three
  3. four
  4. five
ব্যাখ্যা
⇒ Schools of Islamic law:
⇒ There are two different sects among the Muslims. They are Sunni and Shia. Most of the Muslims around the world are Sunni.
⇒ Islamic law and what it means to be a practising Muslim has changed and developed over centuries of thinking. Following the death of the prophet Muhammad pbuh, there have always been differences of opinion in how best to understand the message of God.

⇒ Different interpretations on what Islamic law should be, is reflected in the diverse range of schools of thought or ways of studying and practising Islam.
Among Sunni, there are four most famous Imams, which eventually have created four different schools of thought. They are: Hanafi, Shafi, Maliki and Hanabali.

The Hanbali School is named after Ahmad Ibn Hanbal (d. 855)
The Shafi'i is named after al-Shafi'I (d. 819)
The Maliki is named after Anas bin Malik (d. 795)
The Hanafi School is named after Abu Hanifa (d. 767)

⇒ The main difference between Sunni and Shia Muslims is based on whether or not they believe that Prophet Muhammad explicitly designated a successor.
⇒ Sunni Muslims believe that the Prophet did not explicitly declare a successor. Shia Muslims believe that the Prophet publicly designated his cousin and son-in-law, Hazrat Ali (peace be upon him), as the first in a line of hereditary Imams from the Prophet’s family to lead the community after him.
১৪.
হেবা কখন কার্যকর হয়?
  1. দখল হস্তান্তরের সাথে সাথে
  2. হেবা নিবন্ধনের সাথে সাথে
  3. হেবাকারীর মৃত্যুর পর
  4. ৩ মাসের মধ্যে
ব্যাখ্যা
⇒ দান হলো এমন একটি চুক্তি যার মাধ্যমে এক ব্যক্তি কর্তৃক অপর ব্যক্তিকে কোনো প্রকার মূল্য বা প্রতিদান ছাড়া সম্পত্তির তাৎক্ষণিক হস্তান্তর করা হয় যা অপর ব্যক্তি বা তার পক্ষে কেউ গ্রহণ। করে। দান আরবি ভাষায় হিবা নামে পরিচিত। প্রত্যেক সুস্থ সাবালক মুসলিম দান করতে পারে।

⇒ একটি দানের আবশ্যিক উপাদানগুলো হলো-
ক. Offer (প্রস্তাব)
খ. Acceptance (গ্রহণ)
গ. Delivery of possession (সম্পত্তির দখল অর্পণ)

⇒ তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে সম্পত্তির প্রকৃত দখল অর্পণ প্রয়োজনীয় না। দানের ক্ষেত্রে দুটি পক্ষ থাকে। একটা হলো Donor বা দাতা অর্থাৎ যে দান করে, অপরপক্ষ হলো উড়হবব বা গ্রহীতা অর্থাৎ যার বরাবর দান করা হয়।

⇒ সমস্ত সম্পত্তি দান করা যায় এবং দান হস্তান্তর করার সাথে সাথেই কার্যকর হয়,
আর উইলকারীর মৃত্যুর পর উইল কার্যকর হয়।
১৫.
মুসলিম আইনে যদি স্বামী স্ত্রীর দেনমোহর পরিশোধ না করে মারা যায়, সেই ক্ষেত্রে স্ত্রী-
  1. কোন দেনমোহর পাবে না
  2. স্বামীর সম্পত্তি দখলে রাখতে পারে
  3. স্বামীর সম্পত্তি দখলে রাখতে পারবে না
  4. নির্ধারিত দেনমোহরের অর্ধেক পাবে
ব্যাখ্যা
- দেনমোহর হলো স্বামীর পক্ষ থেকে স্ত্রীর নিকট অনিরাপদ ঋণ [Unsecured debt]।
- তালাকের পরবর্তী সময়ে যদি স্বামীর মৃত্যু হয় তবে স্বামীর রেখে যাও প্রাপ্ত সম্পত্তি থেকে দেনমোহর পরিশোধ করতে হবে। এর ব্যত্যয় ঘটানোর সুযোগ নেই।
- স্ত্রী বেঁচে থাকা অবস্থায়, তার মৃত স্বামীর সম্পত্তি হতে নিজে ঋণ পুনরুদ্ধার করতে পারে।
- স্ত্রী তার স্বামীর সম্পত্তিতে দখল বহাল রাখতে পারে যতক্ষণ পর্যন্ত না তার দেনমোহর পরিশোধ হয়। এটাকে স্ত্রীর The Widow's Right to Retention বলে।
- যদি স্বামীর পূর্বে স্ত্রী মারা যায়, তাহলে তার উত্তরাধিকারীরা এমনকি স্বামী উক্ত দেনমোহরে অধিকারী হয়ে যায়।
- অর্থাৎ মুসলিম আইনে যদি স্বামী স্ত্রীর দেনমোহর পরিশোধ না করে মারা যায়, সেই ক্ষেত্রে স্ত্রী স্বামীর সম্পত্তি দখলে রাখতে পারে।
১৬.
যদি মৃত ব্যক্তির যখন কোন পুত্র না থাকে তখন একমাত্র কন্যার অংশ-
  1. ১/৩ অংশ
  2. ১/৬ অংশ
  3. ১/৮ অংশ
  4. ১/২ অংশ
ব্যাখ্যা
- কন্যা দুটি শর্তে মৃত ব্যক্তির সম্পত্তির ১/২ অংশের উত্তরাধিকারী হবে।

• যদি মৃতব্যক্তির কোনো পুত্র না থাকে;

• যদি কন্যা শুধু একজন হয়।

অর্থাৎ যদি মৃত ব্যক্তির যখন কোন পুত্র না থাকে তখন একমাত্র কন্যা সম্পত্তির ১/২ অংশের উত্তরাধিকারী হবে।
১৭.
There are two different sects among the Muslims. They are-
  1. Hanafi and Shafi.
  2. Sunni and Shia.
  3. Maliki and Hanabali.
  4. None of Them
ব্যাখ্যা
⇒ Schools of Islamic law:
⇒ There are two different sects among the Muslims. They are Sunni and Shia. Most of the Muslims around the world are Sunni.
⇒ Among Sunni, there are four most famous Imams, which eventually have created four different schools of thought. They are: Hanafi, Shafi, Maliki and Hanabali.
⇒ The main difference between Sunni and Shia Muslims is based on whether or not they believe that Prophet Muhammad explicitly designated a successor.
⇒ Sunni Muslims believe that the Prophet did not explicitly declare a successor. Shia Muslims believe that the Prophet publicly designated his cousin and son-in-law, Hazrat Ali (peace be upon him), as the first in a line of hereditary Imams from the Prophet’s family to lead the community after him.
১৮.
মুসলিম আইনে নিম্নলিখিত কোন বিবাহটি অনিয়মিত বিবাহ?
  1. ইদ্দত পালনকারী মহিলাকে বিবাহ
  2. সাক্ষী ছাড়া বিবাহ
  3. একই সাথে দুই বোনেকে বিবাহ করা
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
⇒ অনিয়মিত বিবাহের সংজ্ঞা (Definition of irregular marriage):

যে বিবাহ মূলত বে-আইনী নয়, কিন্তু এতে বৈধ বিবাহের কোনো নিয়ম লঙ্ঘন করা হয়েছে বলে প্রমাণিত হয়, তবে ঐ বিবাহকে অনিয়মিত বিবাহ বা ফাসিদ বিবাহ বলে। অর্থাৎ যে বিবাহ ত্রুটিপূর্ণ, কিন্তু বাতিল নয় এটিই অনিয়মিত বিবাহ।

যেমন: সাক্ষী ছাড়া বিবাহ, ইদ্দতের মধ্যে বিবাহ, স্ত্রীর বোন বিবাহ করা ইত্যাদি।
১৯.
"যা জনকল্যাণমূলক তাই গ্রাহ্য" এটি কীসের মূল বক্তব্য?
  1. ইসতিহসান [Istihsan]
  2. ইসতিসলাহ [Istislah]
  3. ইসতিদলাল
  4. ইজতিহাদ
ব্যাখ্যা
⇒ ইসতিসলাহ : ইমাম মালেকের মতে, যা জনকল্যাণমূলক তাই গ্রাহ্য; এটি ইসতিসলাহের মূল বক্তব্য। ইমাম মালেক এ নীতির প্রবর্তক এবং এ নীতিকেই ইসতিসলাহ বলা হয়।
 
তাঁর মতে এটি আইনের একটি উৎস। মালেকী মাযহাবের আইনবিজ্ঞানীদের অনেকের মতেই এ নীতি মোটেই জনপ্রিয় হয়নি। মালিকী মাযহাবের আইনবিজ্ঞানীদের অনেকের মতেই এ নীতি এতই অস্পষ্ট এবং অনির্দিষ্ট যে, এর ওপর ভিত্তি করে কোনো আইনগত সিদ্ধান্ত সম্ভব নয়। মালেকী মাযহাবের আইন-বিজ্ঞানীগণ কখনও এ উৎসের পূর্ণ সুযোগ গ্রহণ করেননি।

⇒ মুসলিম আইনের উৎস প্রধানত ৪টি।
১. পবিত্র কোরআন
২. হাদিস
৩. ইজমা
৪. কিয়াস

⇒  অন্যান্য উৎসগুলো হলো
ক. ইসতিহসান [Istihsan]
খ. ইসতিসলাহ [Istislah]
গ. ইসতিদলাল
ঘ. ইজতিহাদ
ঙ. তকলিদ 

⇒  ইসলামিক শরীয়া আইনের মূল উৎস হল ইসলাম ধর্মের ধর্মীয় গ্রন্থ কোরআন শরীফ, যা মুসলমানদের পূর্ণাঙ্গ জীবন বিধান হিসেবে যুগ যুগ ধরে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।
২০.
মোট সম্পত্তির কত অংশের বেশি উইল করা যাবে না?
  1. ২/৩ অংশ
  2. ১/৪ অংশ
  3. ১/৩ অংশ
  4. ১/২ অংশ
ব্যাখ্যা
• কোন মুসলমানের সম্পত্তি তার মৃত্যুর পর কিভাবে পরিচালিত বা প্রাপ্ত হবে, সেই মর্মে তার সম্পত্তি সম্পর্কে তার অভিপ্রায়ের আইনগত ঘোষনাই হলো উইল বা অসিয়ত।

• আবার, কোনো ব্যক্তির নিজের মৃত্যু পরবর্তীকালের জন্য, তার বৈধ বিষয় সম্পত্তির মূলস্বত্ব কিংবা তার মুনাফার অধিকার চিরকালীন বা নির্দিষ্ট মেয়াদে অপর কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে বিনিময় ছাড়া হস্তান্তর করার চুড়ান্ত ইচ্ছা প্রকাশ করার নাম উইল বা অসিয়ত। ইসলামি আইন অনুসারে নির্দিষ্ট পরিমাণ সম্পত্তি হস্তান্তর করতে পারে।

• যে ব্যক্তি উইল করে তাকে Testator বা ইচ্ছা পত্রকারী এবং যার বরাবর উইল করা হয় তাকে খবমধঃবব বা উত্তরদানগ্রহী বলা হয়।

- একজন মুসলমান তার দাফন-কাফনের ব্যয়ভার এবং ঋণ পরিযোধের পর অবশিষ্ট সম্পত্তির ১/৩ অংশের অধিক উইলের মাধ্যমে হস্তান্তর করতে পারে না। যদি ১/৩ অংশের অধিক উইল করা হয় তবে উইলকারির উত্তরাধিকারীগণের সম্মতি লাগবে, অন্যথায় উইল ১/৩ অংশের বেশী কার্যকর হবে না।

- উইল করার ক্ষমতা অসীম নয়। কোনো উইল এর মাধ্যমে এক-তৃতীয়াংশের বেশি সম্পত্তি উইল করা যাবে না। কোনো মুসলিম তার মৃত্যুর পর কাফন-দাফন সংক্রান্ত খরচাদি এবং ঋণ পরিশোধের পর অবশিষ্ট সম্পত্তির এক-তৃতীয়াংশের বেশি উইল করতে পারবে না।

- কোনো ব্যক্তি তার মোট সম্পত্তির এক তৃতীয়াংশের অধিক উইল করলে তা কার্যকর হবে না। তবে তার উত্তরাধিকারীগণ উক্ত উইলো সম্মতি দিলে তা কার্যকর হবে।
২১.
মুসলিম আইন অনুসারে একই শ্রেণিভুক্ত দুই বা ততোধিক অগ্রক্রয়াধিকারী থাকলে-
  1. কেউ পাবেন না
  2. মূল মালিকের সিদ্ধান্ত প্রাধান্য পাবে
  3. প্রয়োজন বিবেচনায় বণ্টন করা হবে
  4. প্রত্যেকেই সমান অংশ দাবি করতে পারবেন
ব্যাখ্যা
- একই শ্রেণীভুক্তি অগ্রক্রয়াধিকারীদের মধ্যে অগ্রক্রয়:

- মুসলিম আইনানুসারে একই শ্রেণিভুক্ত দুই বা ততোধিক অগ্রক্রয়াধিকারী থাকলে, প্রত্যেকেই সমান অংশ দাবি করতে পারবে।
- কারণ অগ্রক্রয়াধিকারীদের একই শ্রেণীর মধ্যে নৈকট্যের ক্রমকে মুসলিম আইন স্বীকৃতি প্রদান করেনা।
- যখন দুই বা ততোধিক ব্যক্তি কোন পথাধিকারের fright to way! অংশ গ্রহণের যুক্তিতে অগ্রক্রয়ের দাবি করে তখন তাদের সকলেই সমান অধিকার লাভ করবে,
- যদিও তাদের মধ্যে কোন একজন পার্শ্ববর্তী বা সংলগ্ন প্রতিবেশী।
২২.
পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ আইন, ২০১৩ অনুযায়ী পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ না করার সর্বোচ্চ কারাদণ্ড কত ?
  1. ৩ মাস
  2. ৬ মাস
  3. ১ বছর
  4. ৩ বছর
ব্যাখ্যা
পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ আইন, ২০১৩:
- সন্তান কর্তৃক পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ আইন, ২০১৩ প্রণয়ন করা হয়।
- এই আইনের ৩ ধারায় প্রত্যেক সন্তানকে তার পিতা-মাতার ভরণ পোষণ নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।
- ৪ ধারা অনুযায়ী প্রত্যেক সন্তান তার পিতার অবর্তমানে দাদা-দাদীকে; এবং মাতার অবর্তমানে নানা-নানীকে ধারা ৩ এ বর্ণিত ভরণ-পোষণ প্রদানে বাধ্য থাকবে এবং এই ভরণ পোষণ পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ হিসাবে গণ্য হবে।

- পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ আইন, এর ৫ ধারা অনুযায়ী পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ না করার দণ্ড:
- কোন সন্তান কর্তৃক ধারা ৩ এর যে কোন উপ-ধারার বিধান কিংবা ধারা ৪ এর বিধান লংঘন অপরাধ বলে গণ্য হবে এবং
- উক্ত অপরাধের জন্য অনূর্ধ্ব ১ (এক) লক্ষ টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হবে; বা
- উক্ত অর্থদণ্ড অনাদায়ের ক্ষেত্রে অনূর্ধ্ব ৩ (তিন) মাস কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে।
২৩.
Marz-ul-maut means-
  1. Gifts made during one's deathbed.
  2. A conditional gift.
  3. A long-standing disease.
  4. Either (A) or (B) or (C)
ব্যাখ্যা
⇒ Marz-ul-maut-
The concept of Marz-ul-Maut in Islam is actually a doctrine of death-bed gifts. The governing tenet of Muslim personal civil law is the Shariat. One of the provisions relates to Marz-ul-Maut (death bed Gifts). This can only be executed in case there is genuine apprehension that the testator will die.
২৪.
মুসলিম আইনে যদি স্ত্রী স্বামীকে খুলা তালাক দেয়, তাহলে স্ত্রী-
  1. সমস্ত নির্ধারিত দেনমোহর পাওয়ার অধিকারী হবে।
  2. নির্ধারিত দেনমোহরের অর্ধেক পাওয়ার অধিকারী হবে।
  3. অন্য কোনোরূপ চুক্তি না থাকলে দেনমোহর পাওয়ার অধিকারী হয় না।
  4. যদি দেনমোহর অনির্ধারিত থাকে তাহলে উপযুক্ত দেনমোহর পাওয়ার অধিকারী হবে।
ব্যাখ্যা
- খুলা তালাকের ফলাফল (Effect of Khula) :
- অন্য কোনোরূপ চুক্তি না থাকলে খুলা তালাকের ক্ষেত্রে স্ত্রী মোহরানা পাওয়ার অধিকারী হয় না।
- তবে ইদ্দত পালনকালে স্ত্রী তার গর্ভস্থ সন্তান স্বামীর নিকট হতে ভরণপোষণ পাওয়ার অধিকারী হবে।

- খুলা শব্দের ব্যাখ্যা (Explanation of the khula): খুলা শব্দটির আক্ষরিক অর্থ হলো পোশাক খুলে ফেলা বা ত্যাগ করা অর্থাৎ স্ত্রীর ওপর হতে কর্তৃত্ব প্রত্যাহার করা। খুলা হলো এক প্রকার তালাক। এ শ্রেণীর তালাক পক্ষদের সম্মতিক্রমে কার্যকরী হয়। খুলা তালাক প্রদানের বিনিময়ে স্বামী-স্ত্রীর ওপর যাবতীয় অধিকার ও কর্তৃত্ব ত্যাগ করে।
- অর্থাৎ যখন কোনো স্ত্রী তাকে নিযুক্ত করে দেওয়ার জন্য তার স্বামীকে কোনো প্রতিদান দেয় বা দিতে সম্মত হয় এবং স্বামী সেই প্রস্তাব গ্রহণ করে তখন এ পদ্ধতির মাধ্যমে বিবাহ বিচ্ছেদ হলে তাকে খুলা বলা হয়।

- খুলা প্রক্রিয়ায় বিবাহ বিচ্ছেদ করতে হলে নিম্নোক্ত বিষয়গুলোর দিকে লক্ষ্য রাখা দরকার-
(ক) স্ত্রীর পক্ষ হতে প্রস্তাব উত্থাপিত হতে হবে।
(খ) স্বামী কর্তৃক প্রস্তাব গ্রহণের স্বীকৃতি জানাতে হবে অর্থাৎ স্বামী ঐ প্রস্তাব গ্রহণ করবে।

- এ প্রসঙ্গে খুরশীদ বিবি বনাম মোঃ আমিন ১৯৬৭ সালের মামলার রায়টি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। এ মামলায় মহামান্য আদালত বলেন যে, স্ত্রী যদি আদালতকে এ মর্মে সন্তুষ্ট করতে পারেন যে, তাকে (স্ত্রীকে) তার স্বামীকে তালাক প্রদান করতে না দিলে তাকে জবরদস্তির সাথে বা জোরপূর্বক ঘৃণিত মিলনে বাধ্য করা হবে, তা হলে স্ত্রী তার বৈধ অধিকার প্রয়োগপূর্বক খুলা (Khula) তালাকের অধিকারিণী হবে অর্থাৎ খুলা তালাক দিতে পারবেন।
২৫.
মুসলিম আইনে 'ক' তার ৪ জন স্ত্রী থাকা অবস্থায়, ৫ম স্ত্রী গ্রহণ করলো তাহলে বিবাহটি-
  1. অনিয়মিত বিবাহ
  2. বৈধ বিবাহ
  3. বাতিল বিবাহ
  4. হারাম বিবাহ
ব্যাখ্যা
⇒ অনিয়মিত বিবাহের সংজ্ঞা (Definition of irregular marriage): 
যে বিবাহ মূলত বে-আইনী নয়, কিন্তু এতে বৈধ বিবাহের কোনো নিয়ম লঙ্ঘন করা হয়েছে বলে প্রমাণিত হয়, তবে ঐ বিবাহকে অনিয়মিত বিবাহ বা ফাসিদ বিবাহ বলে। অর্থাৎ যে বিবাহ ত্রুটিপূর্ণ, কিন্তু বাতিল নয় এটিই অনিয়মিত বিবাহ। 
- একজন মুলমানের একই সময়ে চারজন স্ত্রী থাকতে পারে, কিন্তু তার বেশি নয়। চারজন স্ত্রী থাকাকালে ঐ ব্যক্তি পঞ্চম স্ত্রী গ্রহণ করলে পঞ্চম বিবাহটি বাতিল হবে না, তবে এ বিয়েটি ফাসিদ বা অবৈধ বিবাহ হবে। এটি বাতিল বিবাহ নয়, কারণ, স্বামী অন্য স্ত্রীদের যেকোনো একজনকে তালাক দিয়ে পঞ্চম বিবাহকে বৈধ করতে পারে।
২৬.
মুসলিম আইনে কোন প্রকার শারীরিক সম্পর্ক ছাড়া তালাকের মাধ্যমে বিবাহ বিচ্ছেদ হলে স্ত্রী-
  1. যদি দেনমোহর অনির্ধারিত থাকে তাহলে উপযুক্ত দেনমোহর
  2. সমস্ত নির্ধারিত দেনমোহর পাবে
  3. কোন দেনমোহর পাবে না
  4. নির্ধারিত দেনমোহরের অর্ধেক পাবে
ব্যাখ্যা
- বিবাহ যদি শারীরিক সম্পর্কের কারণে আইনসিদ্ধ না হয় এবং পক্ষদ্বয়ের কার্য দ্বারা বিচ্ছেদ ঘটে:
- নিয়মিত বা বৈধ বিবাহের ক্ষেত্রে:
ক. যখন স্বামী কর্তৃক তালাকপ্রাপ্ত হয় - নির্দিষ্ট দেনমোহরের অর্ধেক (১/২) অংশ পাবে।
খ. যখন স্ত্রী কর্তৃক তালাকপ্রাপ্ত হয় - কোন দেনমোহর পাবে না।
২৭.
Mutah under Mohammedan law means-
  1. a temporary marriage
  2. a permanent marriage
  3. a joint venture marriage
  4. an illegal marriage.
ব্যাখ্যা
- Mutah Marriage is a kind of marriage among the Muslims recognized only by Ithna Asharia Shias.
- Mutah in general sense can be defined as a temporary union of male and female for a specific time period after payment of certain consideration.
- The literal meaning of word ‘Mutah’ is ‘enjoyment’.
- Therefore, Mutah Marriage may also be regarded as marriage for the purpose of pleasure. In earlier days of Islam, when the Arabs had to live away from their homes for a considerably longer period of time either on account of wars or on trade-journeys, they used to satisfy their sexual desires through prostitutes.
- However, in order to avoid the growth of prostitution in society and to confer legitimacy upon children of such unions, temporary marriage was recognized and permitted by Prophet for some time.
২৮.
কোন শর্তে দাদা মৃত ব্যক্তির সম্পত্তির ১/৬ অংশের উত্তরাধিকারী হবে?
  1. যদি মৃত ব্যক্তির পুত্র বা পুত্রের পুত্র না থাকে।
  2. যদি মৃত ব্যক্তির পুত্র বা পুত্রের পুত্র থাকে।
  3. যদি মৃত ব্যক্তির পিতা না থাকে।
  4. খ এবং গ উভয়ই
ব্যাখ্যা
⇒ দাদা দুটি শর্তে মৃত ব্যক্তির সম্পত্তির ১/৬ অংশের উত্তরাধিকারী হবে। 

• যদি মৃত ব্যক্তির পুত্র বা পুত্রের পুত্র থাকে;

• যদি মৃত ব্যক্তির পিতা না থাকে।

উল্লেখ্য
যদি মৃত ব্যক্তির পুত্র বা পুত্রের পুত্র না থাকে। তাহলে দাদা অবশিষ্টভোগী হিসেবে ১/৬ অংশের বেশি সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হবে।
২৯.
মুসলিম উত্তরাধিকার আইন অনুযায়ী কখন কোন মৃতব্যক্তির পিতা কেবল 'আসাবা' হিসেবে সম্পত্তি পাবে?
  1. যখন একজন ছেলে সন্তান থাকবে
  2. যখন কোনো ভাই বা ভাইয়ের সন্তান থাকবে না
  3. যখন কোনো সন্তান বা ছেলের সন্তান থাকবে না
  4. যখন কোনো সন্তান থাকবে না, কিন্তু এক বা একাধিক কন্যা থাকবে
ব্যাখ্যা
মৃত ব্যক্তির বাবা সর্বদাই ওয়ারিশ হবেন। তবে অবস্থাভেদে এর পরিমাণে তারতম্য হবে। যদি মৃত ব্যক্তির ছেলে, ছেলের ছেলে এভাবে নিচের দিকে কেউ থাকে তবে বাবা পাবে ১/৬ এক ষষ্ঠাংশ। যদি মৃত ব্যক্তির শুধু কন্যা বা ছেলের কন্যা এভাবে নিচের দিকে কেউ থাকে তবে বাবা ১/৬ এক ষষ্ঠাংশ পাবেন, তবে সেক্ষেত্রে অন্য ওয়ারিশদের মধ্যে সম্পত্তি বণ্টনের পর কিছু অবশিষ্ট থাকলে বাবা সেই অংশও অবশিষ্টভোগী হিসেবে পাবেন। আর যদি মৃত সন্তানের কোনো ছেলে-কন্যা বা ছেলের সন্তান কিছুই না থাকে তবে বাকি ওয়ারিশদের মধ্যে বিতরণ শেষে যা থাকবে তা সম্পূর্ণ পাবেন বাবা।

অর্থাৎ মুসলিম উত্তরাধিকার আইন অনুযায়ী "যখন কোনো সন্তান থাকবে না বা ছেলের সন্তান থাকবে না" এই দুই ক্ষেতেই মৃতব্যক্তির পিতা 'আসাবা' হিসেবে সম্পত্তি পাবে।
৩০.
হানাফি আইন অনুযায়ী সর্বনিম্ন দেনমোহর কত হতে পারে?
  1. ৩ দিরহাম
  2. ১০ দিরহাম
  3. ২০ দিরহাম
  4. কোন সর্বনিম্ন পরিমাণ নেই
ব্যাখ্যা
- Fixed dower বা নির্ধারিত দেনমোহরের ক্ষেত্রে দেনমোহর নির্ধারিত থাকে। অন্য দিকে proper dower বা যথার্থ দেনমোহরের ক্ষেত্রে দেনমোহর নির্ধারিত থাকে না।
- কুরআনে দেনমোহরের পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়নি। দেনমোহরের পরিমাণ কত হবে তা নিয়ে বিভিন্ন মাযহাবে মতানৈক্য রয়েছে।
- হানাফি আইন অনুসারে দেনমোহরের সর্বনিম্ন পরিমান ১০ দিরহাম বা সাত মিসকাল পরিমাণ রৌপ্য।
- মালিকি মতবাদ অনুসারে দেনমোহরের সর্বনিম্ন পরিমাণ ৩ দিরহাম।
- শাফেয়ি এবং শিয়া আইনে দেনমোহরের সর্বনিম্ন পরিমাণের উল্লেখ নেই। তবে কোনো মাযহাবে। দেনমোহরের সর্বোচ্চ পরিমাণ নিয়ে কিছু বলা নেই।
- বিবাহের চুক্তিতে যদি এমন কোনো শর্ত থাকে যে, দেনমোহর পরিশোধ করা হবে না, তাহলে সেক্ষেত্রে সে শর্তটি বাতিল বলে গণ্য হবে। তবে সে কারণে বিবাহটি অবৈধ হবে না।
৩১.
কোন শর্ত পূরণ সাপেক্ষে মাতা মৃত ব্যক্তির সম্পত্তির ১/৩ অংশের উত্তরাধিকারী হবে?
  1. যদি মৃত ব্যক্তির কোনো সন্তান বা পুত্রের সন্তান না থাকে।
  2. যদি মৃত ব্যক্তির একের অধিক ভাই/বোন না থাকে।
  3. যদি মৃত ব্যক্তির পিতা না থাকে।
  4. ক এবং খ উভয়ই
ব্যাখ্যা
⇒ দুটি শর্ত পূরণ সাপেক্ষে মাতা মৃত ব্যক্তির সম্পত্তির ১/৩ অংশের উত্তরাধিকারী হবে।

• যদি মৃত ব্যক্তির কোনো সন্তান বা পুত্রের সন্তান না থাকে।
• যদি মৃত ব্যক্তির একের অধিক ভাই/বোন না থাকে।
৩২.
উইল কখন কার্যকর হয়?
  1. উইলকারীর মৃত্যুর পর
  2. যখন করা হয় তখনই
  3. উইলের সম্পত্তি দখল হস্তান্তরের সাথে সাথে
  4. উইল নিবন্ধনের সাথে সাথে
ব্যাখ্যা
⇒ কোন মুসলমানের সম্পত্তি তার মৃত্যুর পর কিভাবে পরিচালিত বা প্রাপ্ত হবে, সেই মর্মে তার সম্পত্তি সম্পর্কে তার অভিপ্রায়ের আইনগত ঘোষনাই হলো উইল বা অসিয়ত।

⇒ আবার, কোনো ব্যক্তির নিজের মৃত্যু পরবর্তীকালের জন্য, তার বৈধ বিষয় সম্পত্তির মূলস্বত্ব কিংবা তার মুনাফার অধিকার চিরকালীন বা নির্দিষ্ট মেয়াদে অপর কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে বিনিময় ছাড়া হস্তান্তর করার চূড়ান্ত ইচ্ছা প্রকাশ করার নাম উইল বা অসিয়ত। ইসলামি আইন অনুসারে নির্দিষ্ট পরিমাণ সম্পত্তি হস্তান্তর করতে পারে।

⇒ যে ব্যক্তি উইল করে তাকে Testator বা ইচ্ছা পত্রকারী এবং যার বরাবর উইল করা হয় তাকে খবমধঃবব বা উত্তরদানগ্রহী বলা হয়

⇒ উইলের অপরিহার্য উপাদানগুলো হলো-

ক. যে ব্যক্তি উইল করে তাকে অবশ্যই তার জীবনকালের মধ্যেই উইলের ঘোষণা দিতে হবে। উইলকারীকে অবশ্যই উইল করার যোগ্য হতে হবে।

খ. উইলকারীকে অবশ্যই উইলগ্রহীতার পূর্বে মৃত্যুবরণ করতে হবে। অর্থাৎ উইলকারীর মৃত্যুর পর উইল কার্যকরী হয়।

গ. উইলকারী মৃত্যুর পর যার বরাবর উইল করা হয়েছে তাকে অবশ্যই উইলটি গ্রহণ করতে হবে। এ তিনটি শর্ত পূরণ সাপেক্ষে একটি উইল কার্যকর হয়।
৩৩.
মুসলিম আইনজ্ঞরা দেনমোহরকে বিবেচনা করেছে-
  1. বিক্রয় মূল্য হিসাবে
  2. প্রতিদান হিসাবে
  3. উপহার হিসাবে
  4. সম্মানের প্রতীক হিসাবে
ব্যাখ্যা
- মুসলিম আইন মোতাবেক দেনমোহর স্ত্রীর প্রতি সম্মান প্রদর্শনস্বরূপ স্বামীর প্রতি অর্পিত একটি গুরু দায়িত্ব।  আসাদ বনাম সালমা মামলায় বিচারপতি আসাদুজ্জামান বলেন যে, দেনমোহরকে বিক্রয় চুক্তির মূল্যের সাথে তুলনা করা হয়েছে; কারণ বিবাহ একটি দেওয়ানী চুক্তি এবং বিক্রয় হলো একটি রূপক বা প্রতিরূপ চুক্তি, যা সেলমান আইনবিদ কর্তৃক সমতা বা সদৃশ্য হিসাবে বর্ণিত হয়েছে।
দেনমোহরটি যদি স্ত্রীর মূল্য হয়, তা হলে এটি পরিশোধের বিষয়ে বিবাহোত্তর চুক্তিটি অবৈধ কারণ, এতে প্রতিদানের অভাব রয়েছে; কিন্তু এই জাতীয় চুক্তি বৈধ ও আইনে বলবৎযোগ্য বলে ঘাষণা করা হয়েছে।
৩৪.
মুসলিম আইনে নিম্নলিখিত কোন শব্দটি দেনমোহর বা Dower কে নির্দেশ করে?
  1. Hiba
  2. Mohr
  3. Farz
  4. Riza
ব্যাখ্যা
- মুসলিম আইনে দেনমোহর হলো অর্থ বা অন্য কোন সম্পত্তি যেটা বিবাহের প্রতিদান হিসাবে স্বামী স্ত্রীকে পরিশোধ করবে বা অর্পণ করবে বলে প্রতিজ্ঞা করে। বিবাহের চুক্তিতে দেনমোহরের পরিমাণ উল্লেখ থাকুক বা না থাকুক দেনমোহর অবশ্যই দিতে হবে।

- মোহরকে দেনমোহর বা মোহরানাও বলা যায়। বিভিন্ন আইনবিদ দেনমোহরের বিভিন্ন সংজ্ঞা প্রদান করেছেন।
- প্রখ্যাত আইনবিদ D.F. Mulla বলেন, "Mohr or dower is a sum of money or other property which the wife is entitled to receive from the husband in consideration of the marriage. "অর্থাৎ মোহর বা মোহরানা হলো কিছু টাকা বা অন্য কিছু সম্পত্তি যা বিবাহের প্রতিদানস্বরূপ স্ত্রী স্বামীর নিকট হতে পাওয়ার অধিকারী।
- Tyabji বলেন, "Mohr or dower is a sum that becomes payable by the husband to the wife on marriage being contracted."

অর্থাৎ মুসলিম আইনে 'Mohr' শব্দটি দেনমোহর বা Dower কে নির্দেশ করে।
৩৫.
যদি মৃত ব্যক্তির সন্তান বা পুত্রের সন্তান না থাকে তাহলে স্বামী মৃত ব্যক্তির রেখে যাওয়া সম্পত্তির কত অংশ পাবে?
  1. ১/৪ অংশ
  2. ১/২ অংশ
  3. ১/৮ অংশ
  4. ১/৬ অংশ
ব্যাখ্যা
- স্বামী দুটি অবস্থায় সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হয়।

ক) ১/২ অংশ 

খ) ১/৪ অংশ

ক. যদি মৃত ব্যক্তির সন্তান বা পুত্রের সন্তান না থাকে তাহলে স্বামী মৃত ব্যক্তির রেখে যাওয়া সম্পত্তির ১/২ অংশ পাবে।

খ. যদি মৃত ব্যক্তির সন্তান বা পুত্রের সন্তান থাকে তাহলে স্বামী মৃত ব্যক্তি রেখে যাওয়া সম্পত্তির ১/৪ অংশ পাবে।
৩৬.
ইসলামিক আইনে এক বস্তু হতে অন্য বস্তু অনুমান করা হলো-
  1. ইসতিহসান
  2. ইসতিসলাহ
  3. ইসতিদলাল
  4. তকলিদ
ব্যাখ্যা
ইসতিদলাল: 'ইসতিদলাল' শব্দের অর্থ হলো, এক বস্তু হতে অন্য বস্তু অনুমান করা। এটি স্বাভাবিক অনুমানের আইন। হানাফী মাযহাবের পণ্ডিতগণ তফসিরের ক্ষেত্রে এ শব্দের ব্যবহার করে থাকেন। শাফিয়ী এবং মালিকীগণ এ শব্দটিকে একটি বিশেষ অর্থে ব্যবহার করেছেন। তাদের মতে ইসতিদলাল বলতে যা বুঝায় তা তফসির বা কিয়াসের আওতায় আসে না, একে যুক্তির মাধ্যমে নির্ণীত সিদ্ধান্ত বলা যায়।

⇒ মুসলিম আইনের উৎস প্রধানত ৪টি।
১. পবিত্র কোরআন
২. হাদিস
৩. ইজমা
৪. কিয়াস

⇒  অন্যান্য উৎসগুলো হলো
ক. ইসতিহসান [Istihsan]
খ. ইসতিসলাহ [Istislah]
গ. ইসতিদলাল
ঘ. ইজতিহাদ
ঙ. তকলিদ
৩৭.
'A' ও 'B' মুসলিম নর-নারী পরস্পরের সম্মতিতে কোন সাক্ষী ব্যতীত বিয়ে করলে তাদের বিয়ের আইনগত ফলাফল হবে-
  1. বাতিলযোগ্য
  2. অনিয়মিত
  3. অবৈধ
  4. নিয়মিত
ব্যাখ্যা
⇒ সাক্ষী ব্যতীত বিবাহ একটি অনিয়মিত বিবাহ।

⇒ মুসলিম আইনে বিবাহ তিন প্রকার:
১) বৈধ (Valid or Sahih)
২) বাতিল (Void or Batil )
৩)  অনিয়মিত (Irregular or fasid)

বৈধ (Valid or Sahih)
মুসলিম আইনের সকল নিয়ম মেনে যে বিবাহ সেটা বৈধ বিবাহ। একজন মুসলিম পুরুষ শুধুমাত্র একজন মুসলিম নারী ছাড়াও একজন কিতাবীয়া যেমন জিউস বা খ্রিষ্টান নারীর সাথে বৈধ বিবাহ করতে পারে। কোন মুসলিম নারী শুধুমাত্র মুসলিম পুরুষ ছাড়া অন্যকোন পুরুষের সাথে বৈধ বিবাহ করতে পারেনা। একটি বৈধ বিবাহ কোন মুসলিম নারীকে দেনমোহরের অধিকার, ভরণপোষণের অধিকার প্রদান করে এবং একই সাথে স্বামীর প্রতি বিশ্বাসী থাকার, শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনে এবং ইদ্দত পালনের বাধ্যবাধকতা আরোপ করে। এটা উত্তরাধিকারের পারস্পরিক অধিকার সৃষ্টি করে।

বাতিল (Void or Batil)
যে বিবাহটি বৈধ না সেটা বাতিল বা অনিয়মিত হতে পারে। বাতিল হলো এমন বিবাহ যেটা স্বয়ং রক্তের সম্পর্কে, বৈবাহিক সম্পর্কে বা প্রতিপালনের সম্পর্কের কারণে স্থায়ী এবং চূড়ান্তভাবে অবৈধ। এমন বিবাহ আইনের চোখে কোন বিবাহ না এবং এমন বিবাহের কোন আইনগত ফলাফল নেই। এই বিবাহ পক্ষগণের মধ্যে কোন পারস্পরিক আইনগত অধিকার বা দায়-দায়িত্ব সৃষ্টি করে না এবং এমন বিবাহের ফলে জন্মগ্রহণ করেছে এমন সন্তান অবৈধ। যেমন Blood relationship, Consanguinity or affinity এর কারণে নিষিদ্ধ বিবাহ হলো বাতিল বিবাহ। বাতিল বিবাহের ক্ষেত্রে কারণগুলো স্থায়ী প্রকৃতির এবং এমন কারণ অপসারিত করে বিবাহ বৈধ করার কোন সুযোগ নেই।

অনিয়মিত বিবাহ (Irregular or fasid)
অনিয়মিত বিবাহ অর্থ হলো যে বিবাহের কিছু আইনগত ত্রুটি থাকে এবং যেখানে সংশোধনের মাধ্যমে বিবাহের বৈধতা দেওয়া যায়। অনিয়মিত বিবাহ হলো এমন বিবাহ যেটা স্বয়ং অবৈধ না কিন্তু অন্যকোন কারণে অবৈধ এবং যেখানে নিষিদ্ধ কারণগুলো অস্থায়ী বা যেক্ষেত্রে অবৈধতা কোন ঘটনার প্রেক্ষাপটে সৃষ্ট যেমন সাক্ষীর অনুপস্থিতি। যে কারণে বিবাহটি অবৈধ বা অনিয়মিত উক্ত কারণ অপসারণ করার মাধ্যমে বিবাহটি বৈধ করা যায়।
৩৮.
যদি কোন সন্তান না থাকে তাহলে স্ত্রী স্বামীর সম্পত্তির কত অংশ পাবে?
  1. ১/২ অংশ
  2. ১/৮ অংশ
  3. ১/৬ অংশ
  4. ১/৪ অংশ
ব্যাখ্যা
- স্ত্রী দুটি অবস্থায় সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হয়।

i) ১/৪ অংশ।

ii)  ১/৮ অংশ।

ক) যদি মৃত ব্যক্তি কোনো সন্তান বা পুত্রের সন্তান না রেখে মারা যায়, তাহলে স্ত্রী মৃত ব্যক্তির রেখে যাওয়া সম্পত্তির ১/৪ অংশ পাবে।

খ) যদি মৃত ব্যাক্তি কোনো সন্তান বা পুত্রের সন্তান রেখে মারা যায়, তাহলে স্ত্রী মৃত ব্যক্তির রেখে যাওয়া সম্পত্তির ১/৮ অংশ পাবে।
৩৯.
Areeat শব্দটির সাথে সম্পর্কযুক্ত -
  1. বিক্রয়
  2. উইল
  3. ওয়াকফ
  4. দান
ব্যাখ্যা
আরিয়াত (Areeat): এর অর্থ সম্পত্তির মালিকানা হস্তান্তর বুঝায় না বরং আরিয়াত হলো এমন ধরনের দান যেক্ষেত্রে দাতার ইচ্ছাধীন সময়কাল পর্যন্ত সম্পত্তির আয় এবং লভ্যাংশ ভোগ করার অস্থায়ী অনুমতি দেওয়া হয়। আরিয়াত চাইলে রদ করা যায়।

অর্থাৎ আরিয়াত (Areeat) শব্দটির সাথে সম্পর্কযুক্ত হচ্ছে দান।
৪০.
A testator-
  1. Cannot revoke a bequest.
  2. Can revoke a bequest either expressly or impliedly.
  3. Can revoke a bequest expressly only.
  4. Can revoke a bequest impliedly.
ব্যাখ্যা
⇒ All Will can be revoked, either impliedly or expressly, either by conduct or by a specific document. By conduct, the Will can be presented to be revoked by the testator. A testator Can revoke a bequest either expressly or impliedly.

⇒ For example , a testator may make bequest of property in his Will to a person, but he may dispose of the said property even during his life time.

⇒ This is called implied revocation. Suppose, the testator makes a bequest of a vacant land in his Will, but subsequently the testator himself constructs a dwelling house therein, in such circumstance, the Will can be deemed to have been expressly revoked by the testator.

⇒ It has been experienced that when there is a Will, painful litigation in the family of the testator is prevented. Only in a very few cases, litigation crops up questioning the genuineness of the Will.
৪১.
মুসলিম আইনে ইজাব কি?
  1. প্রতিদান
  2. ইজমা
  3. গ্রহণ
  4. প্রস্তাব
ব্যাখ্যা
⇒ Marriage এর আরবি শব্দ হলো 'Nikah যার আক্ষরিক অর্থ হলো একত্রে আংশগ্রহণ Joining Together। বিবাহ হলো যৌন সহবাস এবং সন্তান উৎপাদনের বৈধতার চুক্তি।

ইসলামে বিবাহ হলো একটি চুক্তি (দেওয়ানী চুক্তি) কোন ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠান [Religious Sacramenti না। কারণ বিবাহের বৈধতার জন্য প্রস্তাব [Offer] এবং গ্রহণ (Acceptance) হলো বিবাহের দুইটি মৌলিক শর্ত এবং বিবাহের বৈধতার জন্য কোন নির্দিষ্ট ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান অনুসরণ করা বাধ্যতামূলক না।

⇒ আইনগত উপাদান/শর্তসমূহ
১. প্রস্তাব (Offer) বা (Ijab)
২. গ্রহণ ( Acceptance) বা (Qabul)
৩. সাক্ষীদের উপস্থিতি (Presence of Witnesses)

বিবাহের এক পক্ষ কর্তৃক অপর পক্ষকে প্রস্তাব প্রদান এবং অপর পক্ষ কর্তৃক উক্ত প্রস্তাব গ্রহণ হলো মুসলিম বিবাহের পূর্ব শর্ত। প্রস্তাব ও গ্রহণ একই বৈঠকে সম্পন্ন করতে হবে।

⇒ সাক্ষী (Witness) প্রাপ্ত বয়স্ক এবং যোগ্যতা সম্পন্ন সাক্ষীদের উপস্থিতিতে একপক্ষ কর্তৃক প্রস্তাব প্রদান করা হবে এবং অন্য পক্ষ কর্তৃক প্রস্তাব গ্রহণ করতে হবে।