পরীক্ষা আর্কাইভ

৪৯তম বিসিএস ⎯ রাষ্ট্রবিজ্ঞান [৩৪১]

পরীক্ষা৪৯তম বিসিএস ⎯ রাষ্ট্রবিজ্ঞান [৩৪১]তারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়01 hr 30 mins
মোট প্রশ্ন১১৬
সিলেবাস
Full model test - 3
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

৪৯তম বিসিএস ⎯ রাষ্ট্রবিজ্ঞান [৩৪১]

৪৯তম বিসিএস ⎯ রাষ্ট্রবিজ্ঞান [৩৪১] · তারিখ অনির্ধারিত · ১১৬ প্রশ্ন

.
'Amend' এর বাংলা পরিভাষা কোনটি?
  1. ক্ষতিপূরণ দান করা
  2. সংশোধন করা
  3. সংবেদনশীল
  4. পরিবর্ধন করা
ব্যাখ্যা

• 'Amend' এর বাংলা পরিভাষা - সংশোধন করা।

অন্যদিকে,
• 'Amenable' অর্থ - সংবেদনশীল; চালিত বা নিয়ন্ত্রিত হতে আগ্রহী এমন; বাধ্য; অনুগত।
• 'Amends' অর্থ - ক্ষতিপূরণ দান করা।
• 'Augmenting' অর্থ - পরিবর্ধন করা।

উৎস: বাংলা একাডেমি, প্রশাসনিক পরিভাষা এবং অভিগম্য অভিধান।

.
'বাতাস' শব্দের সমার্থক শব্দ কোনটি?
  1. উদক
  2. হিমানী
  3. প্রভঞ্জন
  4. পায়োদ
ব্যাখ্যা

• 'বাতাস' শব্দের সমার্থক শব্দ:
বায়ু, হাওয়া, পবন, সমীর, সমীরণ, অনিল, মরুৎ, প্রভঞ্জন।

অন্যদিকে,
• 'পানি' শব্দের সমার্থক শব্দ: অম্বু, জল, নীর, সলিল, অপ, উদক, তোয়, জীবন ইত্যাদি।
• 'তুষার' শব্দের সমার্থক শব্দ: বরফ; হিমানী; নীহার।
• 'মেঘ' শব্দের সমার্থক শব্দ: জলধর; জীমূত; বারিদ; নীরদ; পায়োদ; ঘন।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান; অভিগম্য অভিধান এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

.
আঠার শতকের শ্রেষ্ঠ কবি ছিলেন-
  1. বিদ্যাপতি
  2. চণ্ডীদাস
  3. মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
  4. ভারতচন্দ্র রায়
ব্যাখ্যা

• ভারতচন্দ্র রায়:
- কবি রায়গুণাকর ভারতচন্দ্র আঠার শতকের শ্রেষ্ঠ কবি। তিনি মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি হিসেবেও মর্যাদার অধিকারী। মঙ্গলকাব্য ধারার শেষ কবি ভারতচন্দ্র বিদ্যাসুন্দর কাহিনিরও শ্রেষ্ঠ কবি রূপে পরিগণিত।

- কবি ভারতচন্দ্রের প্রতিভার শ্রেষ্ঠ নিদর্শন 'অন্নদামঙ্গল' কাব্য। 'কালিকামঙ্গল' ও 'বিদ্যাসুন্দর' এই কাব্যের অংশমাত্র।
- ভারতচন্দ্র ছিলেন 'ব্যাকরণ অভিধান সাহিত্য নাটক অলঙ্কার সঙ্গীত শাস্ত্রের অধ্যাপক এবং পুরাণ-আগম-পারসী-নাগরী -বেত্তা।'

- ভারতচন্দ্রের জন্মকাল নিয়ে মতানৈক্য আছে। ঈশ্বরগুপ্ত কর্তৃক উল্লেখিত ১৭১২ সাল সঠিক জন্মসাল নয়। বিভিন্ন তথ্য ও অনুমান মিলিয়ে সিদ্ধান্ত করা হয়েছে যে, ভারতচন্দ্র আঠার শতকের গোড়ার দিকে ১৭০৫ থেকে ১৭১০ সালের মধ্যে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। ড. আশুতোষ ভট্টাচার্য সর্বশেষ তথ্য বিবেচনা করে ১৭০৭ সালে ভারতচন্দ্রের জন্ম হয়েছিল বলে মনে করেন। রায়গুণাকর ভারতচন্দ্র বর্তমান বর্ধমান বিভাগের ভুরসুট পরগনায় আধুনিক হাওড়া জেলার পেঁড়ো (পান্ডুয়া) গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।

- চল্লিশ বৎসর বয়সে ভারতচন্দ্র নবদ্বীপের রাজা কৃষ্ণচন্দ্র রায়ের সভাকবি নিযুক্ত হন। তাঁর মাসিক বেতন হয় চল্লিশ টাকা। কবি মহারাজ কৃষ্ণচন্দ্রকে প্রতিদিন কবিতা রচনা করে শোনাতেন। তাঁর কবিত্বে মুগ্ধ হয়ে রাজা তাঁকে 'গুণাকর' উপাধি প্রদান করেন এবং প্রচুর ভূসম্পত্তি উপহার দেন।

- ভারতচন্দ্র মহারাজ কৃষ্ণচন্দ্রের আদেশে 'অন্নদামঙ্গল' কাব্য রচনা করেন। কবি গ্রন্থোৎপত্তি সম্পর্কে বলেছেন যে, একদিকে দেবীর আদেশ, অন্যদিকে রাজার আদেশে কাব্য রচনা করেছেন।

অন্যদিকে,
• বিদ্যাপতি ছিলেন মিথিলার কবি। মিথিলার রাজসভার কবি বিদ্যাপতি মৈথিলি ভাষায় সুন্দর পদাবলি ও অন্যান্য গীতিকবিতা রচনা করে সকলকে মুগ্ধ করেছেন বলে তাঁকে 'মৈথিল কোকিল' বলা হয়। তিনি ছিলেন ব্রজবুলি বৈষ্ণব কবি এবং পদসঙ্গীত ধারার রূপকার। তাঁর শ্রেষ্ঠ কীর্তি হচ্ছে ব্রজবুলিতে রচিত রাধাকৃষ্ণ বিষয়ক পদ।

• চণ্ডীদাস চৈতন্যপূর্ব যুগের কবি ছিলেন। চণ্ডীদাসকে বাংলা ভাষার প্রথম মানবতাবাদী কবি বলা হয়।

• মুকুন্দরাম চক্রবর্তীর উপাধি ছিল কবিকঙ্কন।মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যে মানব রসের তিনি প্রথম এবং একমাত্র স্রষ্টা। মুকুন্দরাম চক্রবর্তীকে দুঃখ-বর্ননার কবি হিসাবেও আখ্যায়িত করা হয়।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহাবুবুল আলম।

.
যোগতন্ত্রশাস্ত্র মতে 'মীননাথ' চর্যাপদের কোন কবির অপর নাম?
  1. কাহ্নপা
  2. ভুসুকুপা
  3. লুইপা
  4. শবরপা
ব্যাখ্যা

• লুইপা:
- 'চয্যাচর্যবিনিশ্চয়'-এর প্রথম কবি লুইপা। তিব্বতি ঐতিহ্যে প্রাপ্ত চুরাশি জন সিদ্ধাচার্যের নামের তালিকায় লুইয়ের নাম আদিতম। অনেক পণ্ডিত লুইপাকে প্রথম চর্যাগীতি রচয়িতা বলে মনে করেন। তাঁর জীবনকাল ৭৩০-৮১০ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যে। সে সময় ছিল রাজা ধর্মপালের রাজত্বকাল। হিন্দিভাষীরা লুইপাকে মগধ বা বিহারের অধিবাসী বলে দাবি করেন।

- যোগতন্ত্রশাস্ত্রেও লুইপার উল্লেখ রয়েছে। তন্ত্রশাস্ত্রের লুইপার অন্য নাম মীননাথ বা মৎস্যেন্দ্রনাথ। মৎস্যের সঙ্গে নামের মিল থাকায় কোনো কোনো পণ্ডিত লুইকে শবরপা-এর শিষ্য ও ধীবর সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত বলে উল্লেখ করেন। এ লুইপা আদি সিদ্ধাচার্য (সকল সিদ্ধাচার্যের গুরু) বলে অনেকের ধারণা।

- লুইপাকে সংস্কৃত টীকাকার মুনি দত্ত আদি সিদ্ধাচার্য বলে উল্লেখ করেছেন। তবে, তারানাথের মতে, লুইপা চতুর্থ সিদ্ধাচার্য, আর সরহ হলেন আদি সিদ্ধাচার্য। তাঁর মতে, লুইপা ছিলেন উড্ডীয়ান-রাজ উদয়নের কর্মচারী। তিনি শবর পা-র শিষ্যত্ব গ্রহণ করেছিলেন। চর্যাগীতির লুইপা আর তন্ত্রশাস্ত্রের লুইপা অভিন্ন নয় বলেই মনে করা হয়। কেননা বলা হয়েছে, লুইপা ছিলেন গৌড় অঞ্চলের অধিবাসী। আর তন্ত্রশাস্ত্রের মীননাথ বা মৎস্যেন্দ্রনাথের বাড়ি দক্ষিণবঙ্গে। তিনি ছিলেন গোরক্ষনাথের গুরু। তাই ধারণা করা হয়, লুইপা ও মীননাথ অভিন্ন ব্যক্তি নয়।

- হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর ধারণা লুইপা ছিলেন বাঙালি। রাহুল সাংস্কৃত্যায়নের মতে, লুইপা রাজা ধর্মপালের সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

- লুইপা বহু গ্রন্থ রচনা করেছেন। তিব্বতি অনুবাদের মাধ্যমে লুইয়ের বৌদ্ধ দর্শন বিষয়ক তিনটি গ্রন্থের নাম পাওয়া যায়। এগুলো হলো: 'শ্রীভগবদভিসময়', 'অভিসময়বিভঙ্গ' ও 'তত্ত্বস্বভাবদোহাকোষগীতিকাদৃষ্টিনাম'। প্রথম দুটি বই দর্শনের এবং তৃতীয়টি দোঁহা ও গানের।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহাবুবুল আলম।

.
"সবাই এসো আলোর মিছিলে হে নবীন তরুণ দল।" এখানে 'মিছিল' কোন ভাষার শব্দ?
  1. বাংলা
  2. ফারসি
  3. ওলন্দাজ
  4. ফরাসি
ব্যাখ্যা



মিছিল (বিশেষ্য পদ),
- এটি ফারসি ভাষার শব্দ।
অর্থ:
- শোভাযাত্রা (মহরমের মিছিল)।
- মোকদ্দমা ও তৎসম্বন্ধীয় নথিপত্র।
- বিন্যাস, সিজিল।
- সমান, সমকক্ষ।

• ফারসি ভাষা থেকে আগত কিছু শব্দ হলো:
গ্রেপ্তারি, গ্রেফতার, দারোগা, দারোয়ান, সাদা, খরগোশ, কাজি, খোয়াব, চেহারা, কাগজ, চশমা, চাকর, চারপায়, ছয়লাপ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

.
ধ্বনি উৎপাদনের মূল উৎস-
  1. নাসিকা
  2. মুখ
  3. ফুসফুস
  4. কণ্ঠ
ব্যাখ্যা

• ধ্বনি:
- ভাষার ক্ষুদ্রতম একক ধ্বনি। কোনো ভাষার উচ্চারিত শব্দকে সূক্ষ্মভাবে বিশ্লেষণ করলে তার যে অবিভাজ্য ক্ষুদ্রতম অংশ পাওয়া যায়, তা-ই ধ্বনি। মানুষের বাগ্‌যন্ত্রের সহায়তায় উচ্চারিত ধ্বনি থেকেই ভাষার সৃষ্টি। বস্তুত ভাষাকে বিশ্লেষণ করলে চারটি মৌলিক উপাদান পাওয়া যায়। এই উপাদানগুলো হলো-ধ্বনি, শব্দ, বাক্য ও অর্থ।

- মানুষ তার মনের ভাব প্রকাশ করার জন্য 'কথা' বলে। মানুষের 'কথা' হলো অর্থযুক্ত কিছু ধ্বনি। ব্যাকরণ শাস্ত্রে মানুষের কণ্ঠনিঃসৃত শব্দ বা আওয়াজকেই ধ্বনি বলা হয়। বস্তুত অর্থবোধক ধ্বনিসমূহই মানুষের বিভিন্ন ভাষার বাধ্বনি। ধ্বনিই ভাষার মূল ভিত্তি।

- ধ্বনি নির্গত হয় মুখ দিয়ে। ধ্বনি উৎপাদনে মুখ, নাসিকা, কণ্ঠ প্রভৃতি বাক্-প্রত্যঙ্গ ব্যবহৃত হলেও ধ্বনি উৎপাদনের মূল উৎস হলো ফুসফুস। ফুসফুসের সাহায্যে আমরা শ্বাস গ্রহণ ও ত্যাগ করি। ফুসফুস থেকে বাতাস বেরিয়ে আসার সময় বিভিন্ন বাক্-প্রত্যঙ্গের সংস্পর্শে আসে। ফুসফুস থেকে বাতাস স্বরযন্ত্রের মধ্য দিয়ে বেরিয়ে আসার সময় মুখের বিভিন্ন জায়গায় ঘষা খায়। এই ঘর্ষণের ফলে মুখে নানা ধরনের ধ্বনির সৃষ্টি হয়।

- অর্থাৎ ফুসফুস নির্গত বাতাস স্বরযন্ত্রের মধ্য দিয়ে মুখগহ্বরে প্রবেশের পর বিভিন্ন বাক্-প্রত্যঙ্গের সংস্পর্শে আঘাত লাগার দরুন ধ্বনি গঠিত বা তৈরি হয়। ধ্বনি গঠনে বিভিন্ন বাক্- প্রত্যঙ্গের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, সপ্তম শ্রেণি।

.
'ঘরানা' শব্দটি কোন প্রত্যয় যোগে গঠিত?
  1. সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়
  2. বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়
  3. সংস্কৃত কৃৎ প্রত্যয়
  4. বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয়
ব্যাখ্যা

• আনা (য়ানা) -আনি (য়ানি) বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয়: ভাব, অভ্যাস বা আচরণ অর্থে বিশেষ্য শব্দ গঠন করে।
যেমন:
ঘর + আনা = ঘরানা,
গরিব + আনা = গরিবানা,
বাবু + আনা = বাবুয়ানা,
বিবি + আনা = বিবিয়ানা ইত্যাদি।

আবার,
বাবু + আনি = বাবুআনি > বাবুয়ানি।

• এরূপ কিছু বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয় হলো-
-ওয়ান, -খানা, -খোর, -গর, -গিরি, -চা > চি, -চী > চি, -তর (তরো), -দান, -দানি, -সার, -নবিশ, -বন্দি, -বাজ /-বাজি, -সহি, সই, -স্তান।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

.
যুক্তবর্ণের অশুদ্ধ গঠন কোনটি?
  1. জ্‌ + ঞ = জ্ঞ
  2. ঞ্‌ + ক = ঙ্ক
  3. ঞ্‌ + জ = ঞ্জ
  4. ঞ্‌ + চ = ঞ্চ
ব্যাখ্যা

• যুক্তবর্ণের অশুদ্ধ গঠন- ঞ্‌ + ক = ঙ্ক।
- শুদ্ধরূপ: ঙ্‌ + ক = ঙ্ক।

---------------
• যুক্তবর্ণ:

একাধিক বর্ণ যুক্ত হয়ে যুক্তবর্ণ তৈরি হয়। যুক্ত হওয়া বর্ণগুলোকে দেখে কখনো সহজে চেনা যায়, কখনো সহজে চেনা যায় না। এদিক দিয়ে যুক্তবর্ণ দুই রকম: স্বচ্ছ ও অস্বচ্ছ।

গুরুত্বপূর্ণ কিছু যুক্তবর্ণ হলো-
- জ্‌ + ঞ = জ্ঞ;
- ঞ্‌ + জ = ঞ্জ;
- ঞ্‌ + চ = ঞ্চ;
- ঞ্‌ + ছ = ঞ্ছ;
- ষ্‌ + ণ = ষ্ণ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

.
'অনাবশ্যকীয় ব্যাপারে কৌতূহল ভালো নয়।' বাক্যে কোন ধরনের অশুদ্ধি ঘটেছে??
  1. বিশেষণের বাহুল্য প্রয়োগজনিত ভুল
  2. বহুবচনের অপপ্রয়োগজনিত অশুদ্ধি
  3. সমাস ঘটিত অশুদ্ধি
  4. বাচ্যজনিত অশুদ্ধি
ব্যাখ্যা

• বিশেষ্যের জায়গায় বিশেষণের কিংবা বিশেষণের বাহুল্য প্রয়োগজনিত ভুল:
বাক্যের মধ্যে ব্যবহৃত বিশেষ্য পদকে বিশেষণ কিংবা বিশেষণ পদকে বিশেষ্য ভেবে পদ পরিবর্তন করলে এ ধরনের ভুল হয়।
যেমন- আবশ্যক শব্দটি বিশেষণ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এর বদলে ঈয় প্রত্যয় যোগ করে আবশ্যকীয় শব্দের ব্যবহার যথাযথ নয়।
যেমন
অশুদ্ধ: অনাবশ্যকীয় ব্যাপারে কৌতূহল ভালো নয়।
শুদ্ধ: অনাবশ্যক ব্যাপারে কৌতূহল ভালো নয়।

অশুদ্ধ: ইহার আবশ্যক নাই।
শুদ্ধ: হার আবশ্যকতা নাই।

অশুদ্ধ: রাঙ্গামাটি পার্বতীয় এলাকা।
শুদ্ধ: রাঙ্গামাটি পার্বত্য এলাকা।

অশুদ্ধ: বাংলাদেশ একটি উন্নতশীল দেশ।
শুদ্ধ: বাংলাদেশ একটি উন্নয়নশীল দেশ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

১০.
বিশেষণ পদ নয় কোনটি?
  1. নিখুঁত
  2. সুকঠিন
  3. দুঃসহ
  4. সততা
ব্যাখ্যা

• বিশেষণ পদ নয়- সততা।
- 'সততা' গুণবাচক বিশেষ্য পদ।

• আদ্য প্রত্যয় বা উপসর্গযুক্ত বিশেষণ: এ ধরনের বিশেষণ আদ্যপ্রত্যয় বা উপসর্গযোগে গঠিত হয়।
যেমন:
- নিখুঁত (নি + খুঁত) কাজ।
- সুকঠিন (সু + কঠিন) প্রতিজ্ঞা।
- দুঃসহ (দুঃ + সহ) দারিদ্র্য।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

১১.
নিচের কোন বানানটি অশুদ্ধ?
  1. প্রশস্ত
  2. অভ্যস্ত
  3. গৃহস্ত
  4. ব্যস্ত
ব্যাখ্যা

• শুদ্ধ বানান: গৃহস্থ।
- এটি বিশেষ্য পদ।
- সংস্কৃত ভাষার শব্দ।
অর্থ:
- সংসার ধর্ম পালন করে এমন,
- গৃহী।

অন্যদিকে,
• প্রশস্ত, অভ্যস্ত ও ব্যস্ত বানানগুলো শুদ্ধ।

• এরূপ কিছু শুদ্ধ শব্দ- ঠোঁটস্থ, মুখস্থ, দ্বারস্থ, অস্ত, কণ্ঠস্থ, গ্রস্ত।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

১২.
১৯৪৭ সালের দেশভাগকে কেন্দ্র করে রচিত উপন্যাস কোনটি?
  1. কালো ঘোড়া
  2. কালো বরফ
  3. খেলাঘর
  4. একটি কালো মেয়ের কথা
ব্যাখ্যা

• 'কালো বরফ' উপন্যাস:
- ১৯৭৭ সালের ২১-৩০ আগস্ট মাহমুদুল হক রচনা করেন 'কালো বরফ' উপন্যাসটি, কিন্তু এর প্রকাশকাল অনেক পরে ১৯৯২ সালে।
- এটি ছেচল্লিশের দাঙ্গা ও ১৯৪৭ সালের দেশভাগকে কেন্দ্র করে রচিত।
- উপন্যাসটিতে হিন্দু-মুসলমানের বিরোধ-দাঙ্গা, দ্বেষ-ক্ষোভ এবং মিলন-বিরহ পরিস্ফুটিত হয়েছে।
- উপন্যাসের প্রধান চরিত্র- আব্দুল খালেক।

অন্যদিকে,
-----------------
• 'খেলাঘর' (১৯৮৮): এটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস। চরিত্র: রেহানা, মুকল ও ইয়াকুব। ২০০৬ সালে উপন্যাসটির চলচ্চিত্রায়ন করা হয়।

• 'একটি কালো মেয়ের কথা' উপন্যাস: বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম নিয়ে রচিত তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপন্যাস- 'একটি কালো মেয়ের কথা'। এটি প্রকাশিত হয় ১৯৭১ খ্রিষ্টব্দে। এটি তাঁর সর্বশেষ উপন্যাস।

• "কালো ঘোড়া" লেখক ইমদাদুল হক মিলন রচিত একটি উপন্যাস। ১৯৮১ সালে পশ্চিম জার্মানির সিনডেল ফিঙেন শহরে বসে তিনি এই উপন্যাসটি রচনা করেন এবং এটি বাংলাদেশের একটি নিবিড় গ্রামকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়। ‘কালোঘোড়া’ মুক্তিযুদ্ধের উপন্যাস। ১৯৭১ এর সেই জেগে ওঠার দিনে বাংলাদেশের একটি গ্রামে কেমন চেহারা নিয়েছিল মুক্তিযুদ্ধ, কেমন করে মুক্তিযুদ্ধ প্রভাবিত করেছিল গ্রামের প্রতিটি মানুষকে, কেমন করে মুক্তিযোদ্ধারা এসে আশ্রয় পায় এক বালকের কাছে, কেমন করে প্রাণ হারায় এব বোবা যুবতী, স্বাধীনতা বিরোধী চক্রের হোতা কেমন করে নিহত হয় মুক্তেোদ্ধাদের হাতে আর কেমন করেই বা মুক্তিযোদ্ধাদের আশ্রয়দাতা সেই বালক নিজের অজান্তে হয়ে ওঠে এক মহান মুক্তিযোদ্ধা, প্রাণের বিনিময়ে যে রক্ষা করতে চায় সহযোদ্ধাদের কে, এরকম অনেকগুলো বিষয়কে ‘কালোঘোড়া’ উপন্যাসে উপজীব্য করেছেন ইমদাদুল হক মিলন।

উৎস: 'কালো বরফ' ও "কালো ঘোড়া" উপন্যাস; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১৩.
'অপর্ণা' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কোন নাটকের চরিত্র?
  1. ডাকঘর
  2. মুক্তধারা
  3. বিসর্জন
  4. প্রায়শ্চিত্ত
ব্যাখ্যা

• 'বিসর্জন' নাটক:
- 'বিসর্জন' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত একটি নাটক। 'রাজর্ষি' উপন্যাসের প্রথমাংশ অবলম্বনে 'বিসর্জন' নাটকটি রচিত হয়।

- 'বিসর্জন' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মঞ্চসফল এবং জনপ্রিয় নাটকগুলির অন্যতম। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর স্বয়ং এই নাটকের প্রধান দুটি চরিত্র রঘুপতি ও জয়সিংহের ভূমিকায় বিভিন্ন সময়ে অভিনয় করেন।

- উদার ধর্মবোধ এবং সংকীর্ণ ধর্মীয় বিশ্বাসের মধ্যে দ্বন্দ্ব যেমন এই নাটকের প্রধান উপকরণ, তেমনই বিশ্বাসের উগ্রতা এবং মানব সম্পর্কের নিবিড়তা এই নাটকের প্রধান বৈশিষ্ট্য।
- রবীন্দ্রনাথ রচিত বিসর্জন নাটকে গোমতী নদীর কথা উল্লেখ আছে। নাটকটি অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত।

উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- রঘুপতি,
- জয়সিংহ,
- অপর্ণা,
- গুণবতী,
- গোবিন্দমাণিক্য।

অন্যদিকে,
• 'ডাকঘর' নাটকের উল্লেখযোগ্য চরিত্র: অমল, সুধা, ঠাকুর্দা প্রমুখ।
• 'মুক্তধারা' নাটকের উল্লেখযোগ্য চরিত্র: অভিজিৎ, রণজিত, সুমন, অম্বা, বিভূতি।
• "প্রায়শ্চিত্ত" নাটকের চরিত্রগুলো: ধনঞ্জয়, সুরমা, উদয়াদিত্য, বিভা ইত্যাদি।

-------------------
তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য নাটক:
- রুদ্র চন্দ্র,
- বাল্মিকী প্রতিভা,
- কালের যাত্রা,
- তাসের দেশ,
- ডাকঘর,
- মালিনী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১৪.
নিম্নের কত তারিখে অস্ট্রেলিয়া ফিলিস্তিনকে আনুষ্ঠানিকভাবে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে?
  1. ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
  2. ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
  3. ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
  4. ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
ব্যাখ্যা

• ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি:
- ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ যুক্তরাজ্য, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া ও পর্তুগাল ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দিয়েছে।
- বিশ্বের ধনী দেশগুলোর জোট জি-৭-এর সদস্যদের মধ্যে প্রথম ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দিল যুক্তরাজ্য ও কানাডা।
- এর পর দিন ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ জাতিসংঘের সদর দপ্তর এক অনুষ্ঠানে ফিলিস্তিনকে আনুষ্ঠানিকভাবে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য দেশ ফ্রান্স।
- এ নিয়ে জাতিসংঘের ১৯৩ সদস্যদেশের দেড় শ’র বেশি দেশ ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে।
- এর মধ্যে এশিয়া, আফ্রিকা, লাতিন ও মধ্য আমেরিকার দেশই বেশি।
- ১৯৮৮ সালের ১৬ নভেম্বর ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেয় বাংলাদেশ।
- জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী পাঁচ সদস্যের মধ্যে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে এ পর্যন্ত শুধু যুক্তরাষ্ট্র স্বীকৃতি দেয়নি।

সূত্র- প্রথম আলো পত্রিকা প্রতিবেদন।

১৫.
যুক্তরাষ্ট্রের 'ফেডারেল সিভিল সার্ভিস কমিশন' কত সালে গঠিত হয়?
  1. ১৮৮৩ সালে
  2. ১৮৮৫ সালে
  3. ১৮৮৭ সালে
  4. ১৮৮৯ সালে
ব্যাখ্যা

• ফেডারেল সিভিল সার্ভিস কমিশন:
- মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সংবিধিবদ্ধভাবে ফেডারেল সিভিল সার্ভিস কমিশন গঠিত হয় ১৮৮৩ সালে।
- The Pendleton Civil Service Reform Act-1883 এর মাধ্যমে।
- ১৯৭৮ সালে ফেডারেল সিভিল সার্ভিস কমিশনে সংস্কার করে একে তিনটি প্রতিষ্ঠানে বিকেন্দ্রীকরণ করা হয়। এগুলো হলো:
- অফিস অব দ্য পার্সোনেল ম্যানেজমেন্ট
- দ্য মেরিট সিস্টেম প্রোটেকশন বোর্ড
- দ্য ফেডারেল লেবার রিলেশন অথরিটি।

উৎস: অফিস অব দ্য পার্সোনেল ম্যানেজমেন্ট ওয়েবসাইট।

১৬.
‘জাপাদ-২০২৫’ নামক সামরিক মহড়া চালিয়েছে -
  1. রাশিয়া ও চীন
  2. জাপান ও ভারত
  3. চীন ও পাকিস্তান
  4. রাশিয়া ও বেলারুশ
ব্যাখ্যা

• জাপাদ-২০২৫:
- জাপাদ-২০২৫ হলো রাশিয়া ও বেলারুশের যৌথ সামরিক মহড়া।
- এই মহড়া ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ শুরু হয় এবং ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ শেষ হয়।
- এই মহড়ায় প্রায় ১ লাখ সেনা অংশগ্রহণ করে, যার মধ্যে ভারী অস্ত্র, বোমারু বিমান, যুদ্ধজাহাজ এবং প্যারাট্রুপারদের সমন্বয়ে ব্যাপক সামরিক কৌশল প্রদর্শন করা হয়।
- যুক্তরাষ্ট্রসহ ২৩টি দেশের প্রতিনিধিরা মহড়া দেখতে বেলারুশে উপস্থিত ছিলেন।
- মহড়ার মূল উদ্দেশ্য ছিল সীমান্তবর্তী অঞ্চলে সম্ভাব্য আগ্রাসন প্রতিহত করার জন্য প্রস্তুতি প্রদর্শন।

তথ্যসূত্র- প্রথম আলো পত্রিকা প্রতিবেদন।

১৭.
In modern theory, legitimacy depends mainly on—(আধুনিক তত্ত্বে বৈধতা নির্ভর করে—)
  1. Military power (সামরিক শক্তি)
  2. Consent of the people (জনগণের সম্মতি)
  3. Religion (ধর্ম)
  4. Wealth (সম্পদ)
ব্যাখ্যা

- বৈধতা (Legitimacy) বলতে বোঝায় শাসন বা কর্তৃত্বের সেই অধিকার যা জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য ও ন্যায়সঙ্গত বলে বিবেচিত হয়।
- প্রাচীন যুগে: বৈধতা অনেক সময় ধর্ম (ধর্মীয় অনুমোদন) বা বংশানুক্রমিক রাজতন্ত্রের ওপর নির্ভর করত। যেমন: "Divine Right of Kings" – রাজা দেবতার প্রতিনিধি।
- আধুনিক যুগে: আধুনিক রাজনৈতিক তত্ত্বে বৈধতা নির্ভর করে জনগণের সম্মতির ওপর।
- জনগণ যদি সরকারকে ন্যায়সঙ্গত মনে করে এবং তার কর্তৃত্ব স্বীকার করে, তখনই সরকার বৈধ হয়।
- গণতান্ত্রিক তত্ত্ব অনুযায়ী সরকারের বৈধতার প্রধান উৎস জনগণ।
- মুক্ত ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণ সম্মতি দেয়।
- বৈধতা বজায় রাখতে সরকারকে আইন ও ন্যায়নীতি মেনে চলতে হয়।
- জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারাও বৈধতার অংশ।
- সামরিক শক্তি (Military power) ক্ষমতা দেয়, কিন্তু জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্যতা (legitimacy) দেয় না।
- আধুনিক রাষ্ট্রে ধর্মের ভূমিকা সীমিত; ধর্মীয় বৈধতা এখন প্রাধান্য হারিয়েছে।
- ধনী হওয়া বৈধতার ভিত্তি নয়, তবে অর্থনীতি উন্নত করলে বৈধতা বাড়তে পারে।
সূত্রঃ পৌরনীতি ও সুশাসন ( একাদশ-দ্বাদশ)-প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক

১৮.
Political Science primarily studies— (রাষ্ট্রবিজ্ঞান মূলত অধ্যয়ন করে—)
  1. Religion (ধর্ম)
  2. Power and authority (ক্ষমতা ও কর্তৃত্ব)
  3. Culture (সংস্কৃতি)
  4. Trade (বাণিজ্য)
ব্যাখ্যা

- রাষ্ট্রবিজ্ঞানকে অন্যান্য সমাজবিজ্ঞানের থেকে আলাদা করে যে মূল বৈশিষ্ট্য, তা হলো ক্ষমতা (Power) ও কর্তৃত্ব (Authority) এর অধ্যয়ন।
- ক্ষমতা (Power): ক্ষমতা হলো অন্যদের আচরণ, সিদ্ধান্ত বা কর্মকাণ্ডকে প্রভাবিত বা নিয়ন্ত্রণ করার সক্ষমতা। এটি জবরদস্তি, প্রভাব বা প্রলোভনের মাধ্যমে হতে পারে।
- কর্তৃত্ব (Authority): কর্তৃত্ব হলো বৈধ ক্ষমতা যেখানে জনগণ সেই ক্ষমতা মানতে বাধ্য থাকে কারণ এটি বৈধ/আইনসম্মত উৎস থেকে আসে।
- ধর্ম রাষ্ট্রবিজ্ঞানের মূল বিষয় নয়, বরং সমাজবিজ্ঞানের বা ধর্মতত্ত্বের অংশ।
- সংস্কৃতি অধ্যয়ন করে নৃতত্ত্ব বা সমাজবিজ্ঞান।
- বাণিজ্য অধ্যয়ন করে অর্থনীতি।
- রাষ্ট্রবিজ্ঞান বোঝার জন্য দুটি প্রশ্ন গুরুত্বপূর্ণ কে শাসন করবে? (Who governs?) , কিভাবে শাসন করবে? (How will they govern?) এই দুই প্রশ্নের উত্তরই ক্ষমতা ও কর্তৃত্বের বণ্টন ও প্রয়োগ এর সাথে সরাসরি সম্পর্কিত। তাই রাষ্ট্রবিজ্ঞানকে বলা হয় Power and Authority এর বিজ্ঞান।
সূত্রঃ Political Theory – R.C. Agarwal.

১৯.
Who classified governments into monarchy, aristocracy, and polity? (কে সরকারকে রাজতন্ত্র, অভিজাততন্ত্র ও মধ্যতন্ত্রে ভাগ করেছিলেন?)
  1. Plato (প্লেটো)
  2. Rousseau (রুশো)
  3. Montesquieu (মন্টেস্কু)
  4. Aristotle (এরিস্টটল)
ব্যাখ্যা

- এরিস্টটল (Aristotle) ছিলেন প্রাচীন গ্রিসের দার্শনিক ও রাজনৈতিক চিন্তাবিদ। তাঁকে বলা হয় “Father of Political Science” (রাষ্ট্রবিজ্ঞানের জনক) কারণ তিনি প্রথম সরকার ও রাষ্ট্রকে বৈজ্ঞানিকভাবে বিশ্লেষণ করেছিলেন তার 'The Politics' গ্রন্থে।
- তিনি সরকারকে শাসকের সংখ্যা ও শাসনের উদ্দেশ্য এই দুই মানদণ্ডে ভাগ করেন। এর ভিত্তিতে তিনি সরকারের ছয়টি রূপ চিহ্নিত করেন।
- আদর্শ/সাধারণ রূপ (Ideal forms):
Monarchy (রাজতন্ত্র): একজন শাসক জনগণের কল্যাণে শাসন করেন।
Aristocracy (অভিজাততন্ত্র): অল্পসংখ্যক শ্রেষ্ঠ/যোগ্য ব্যক্তি জনগণের স্বার্থে শাসন করেন।
Polity (মধ্যতন্ত্র): জনগণের বৃহত্তর অংশ শাসনে অংশ নেয় এবং জনগণের কল্যাণে কাজ করে।
- দূষিত/বিকৃত রূপ (Corrupt forms):
Tyranny (স্বৈরতন্ত্র): একজন শাসক নিজের স্বার্থে শাসন করেন।
Oligarchy (ধনিকতন্ত্র): ধনী বা ক্ষমতাবানদের স্বার্থে শাসন করা।
Democracy (গণতন্ত্র – এরিস্টটলের মতে তখন দূষিত রূপ): দরিদ্র সংখ্যাগরিষ্ঠ নিজেদের স্বার্থে শাসন করে।
- এরিস্টটলের এই শ্রেণিবিন্যাস আধুনিক রাজনৈতিক বিজ্ঞানের ভিত্তি স্থাপন করেছে। আজও সরকার ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে তাঁর এই তত্ত্ব উদ্ধৃত হয়।
সূত্রঃ পৌরনীতি ও সুশাসন ( একাদশ-দ্বাদশ)-প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক

২০.
Which system is least adaptable to social change? (সামাজিক পরিবর্তনের সাথে সবচেয়ে কম খাপ খায় কোন ব্যবস্থা?)
  1. Dictatorial (স্বৈরাচারী)
  2. Parliamentary (সংসদীয়)
  3. Federal (যুক্তরাষ্ট্রীয়)
  4. Democratic (গণতান্ত্রিক)
ব্যাখ্যা

- স্বৈরাচারী শাসনব্যবস্থা (Dictatorial system) হলো এমন একটি ব্যবস্থা যেখানে সমস্ত ক্ষমতা একজন ব্যক্তি বা একটি গোষ্ঠীর হাতে কেন্দ্রীভূত থাকে।
- স্বৈরাচারী সরকার জনগণের মতামতকে গুরুত্ব দেয় না। ফলে সমাজে নতুন দাবি বা পরিবর্তনের প্রতি সাড়া দেওয়া হয় না।
- সামাজিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রম কড়া নিয়ন্ত্রণে রাখা হয়। পরিবর্তনের সুযোগ সীমিত।
- স্বৈরাচারী শাসন ভিন্নমত বা বিরোধিতা সহ্য করে না। ফলে সামাজিক পরিবর্তনের যে স্বাভাবিক প্রক্রিয়া, তা দমন করা হয়।
- বাইরে থেকে স্থিতিশীল মনে হলেও ভেতরে এটি স্থবির (rigid) হয়ে থাকে এবং সমাজের প্রয়োজনীয় পরিবর্তনের সাথে খাপ খাওয়াতে অক্ষম হয়।
- গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা সামাজিক পরিবর্তনের সাথে দ্রুত মানিয়ে নিতে পারে, কারণ জনগণের অংশগ্রহণ থাকে।
- সংসদে আলোচনা ও বিতর্কের মাধ্যমে পরিবর্তনের সুযোগ থাকে।
- যুক্তরাষ্ট্রীয় ব্যবস্থায় বিভিন্ন স্তরে শাসন থাকায় সামাজিক পরিবর্তনের প্রভাব সহজে মানিয়ে নেওয়া যায়।
- স্বৈরাচারী ব্যবস্থা সামাজিক পরিবর্তনের সাথে সবচেয়ে কম খাপ খায়।
সূত্রঃ রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনসমূহ– সৈয়দ নুরুল হক

২১.
Presidential systems often face— (রাষ্ট্রপতি শাসনব্যবস্থায় প্রায়শই দেখা যায়—)
  1. Stable government (স্থায়ী সরকার)
  2. Flexible constitution (নমনীয় সংবিধান)
  3. Deadlock between executive and legislature (নির্বাহী ও আইনসভার মধ্যে অচলাবস্থা)
  4. Weak judiciary (দুর্বল বিচার বিভাগ)
ব্যাখ্যা

- রাষ্ট্রপতি শাসনব্যবস্থা (Presidential system) হলো এমন একটি ব্যবস্থা যেখানে রাষ্ট্রপতি একই সঙ্গে রাষ্ট্রপ্রধান ও সরকারপ্রধান। তিনি জনগণের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত হন এবং নির্দিষ্ট মেয়াদে দায়িত্ব পালন করেন।
- রাষ্ট্রপতি নির্বাহী বিভাগের প্রধান, আর আইনসভা (Congress/Parliament) আলাদা। উভয়ের মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য থাকে, কিন্তু সমন্বয়ের অভাবে সংঘাত সৃষ্টি হতে পারে।
- রাষ্ট্রপতি ও আইনসভার মধ্যে দ্বন্দ্ব দেখা দিলে তাৎক্ষণিকভাবে সরকার পরিবর্তন করা সম্ভব হয় না। ফলে দীর্ঘ সময় অচলাবস্থা চলতে পারে।
- যদি রাষ্ট্রপতি একদলীয় হন কিন্তু আইনসভায় অন্য দল সংখ্যাগরিষ্ঠ হয়, তবে নীতিনির্ধারণে বাধা সৃষ্টি হয়।
- যেমন: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে (USA) প্রায়ই রাষ্ট্রপতি ও কংগ্রেসের মধ্যে নীতি নিয়ে Deadlock দেখা যায়।
- রাষ্ট্রপতি শাসনব্যবস্থায় সরকার স্থায়ী হয়, কারণ নির্দিষ্ট মেয়াদ থাকে। তবে Deadlock সমস্যাটা বেশি গুরুত্ব পায়।
- রাষ্ট্রপতি শাসনব্যবস্থায় সংবিধান সাধারণত কঠোর হয় (Rigid), নমনীয় নয়।
- রাষ্ট্রপতি শাসনব্যবস্থায় সাধারণত বিচার বিভাগ স্বাধীন ও শক্তিশালী হয়।
সূত্রঃ পৌরনীতি ও সুশাসন ( একাদশ-দ্বাদশ)-প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক

২২.
Dictatorial regimes often rely on— (স্বৈরাচারী শাসন প্রায়শই নির্ভর করে—)
  1. Free media (মুক্ত গণমাধ্যম)
  2. Minority rights (সংখ্যালঘু অধিকার)
  3. Local government (স্থানীয় সরকার)
  4. Propaganda and coercion (প্রচার ও জবরদস্তি)
ব্যাখ্যা

- স্বৈরাচারী বা একনায়কতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা সাধারণত জনসমর্থন স্বতঃস্ফূর্তভাবে অর্জন করতে পারে না। তাই তারা জনগণের উপর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার জন্য দুটি প্রধান কৌশল ব্যবহার করে প্রচার ও জবরদস্তি।
- প্রচার (Propaganda):রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম ও তথ্যযন্ত্রকে ব্যবহার করে জনগণের কাছে বিকৃত বা একপাক্ষিক তথ্য পৌঁছে দেওয়া হয়।
শাসকের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করে উপস্থাপন করা হয়, যেন তিনি জাতির ত্রাতা বা একমাত্র নেতৃত্বের প্রতীক। ভিন্নমতকে বিকৃত করে বা রাষ্ট্রদ্রোহী হিসেবে প্রচার করা হয়।
- জবরদস্তি (Coercion): পুলিশ, সেনা ও গোপন পুলিশ বাহিনী ব্যবহার করে বিরোধিতা দমন করা হয়। বিরোধী দল, শ্রমিক সংগঠন বা ছাত্র আন্দোলন কঠোরভাবে দমন করা হয়। ভয়ের পরিবেশ সৃষ্টি করে জনগণকে নীরব আনুগত্যে বাধ্য করা হয়।
- স্বৈরাচারীরা মুক্ত গণমাধ্যমকে ভয় পায়, কারণ এটি সত্য উন্মোচন করে। তাই তারা এটিকে নিয়ন্ত্রণ বা দমন করে।
- স্বৈরাচারী শাসনে সংখ্যালঘুর অধিকার সাধারণত লঙ্ঘিত হয়, সুরক্ষিত নয়।
- স্থানীয় সরকার গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করে, কিন্তু স্বৈরাচারীরা স্থানীয় ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণে অনাগ্রহী।
- স্বৈরাচারী শাসনব্যবস্থা টিকে থাকে প্রচারযন্ত্র ও ভয়ভীতি (Propaganda and coercion)-এর উপর নির্ভর করে।
সূত্রঃ রাজনৈতিক সংগঠন এবং ব্রিটেন ও যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক ব্যবস্থা– ড. রবিউল ইসলাম

২৩.
The social contract theory mainly explains— (সামাজিক চুক্তি তত্ত্ব মূলত ব্যাখ্যা করে—)
  1. Family origin (পরিবারের উৎপত্তি)
  2. Origin of sovereignty (সার্বভৌমত্বের উৎপত্তি)
  3. Role of morality (নৈতিকতার ভূমিকা)
  4. Military expansion (সামরিক শক্তি বৃদ্ধি)
ব্যাখ্যা

- সামাজিক চুক্তি তত্ত্ব (Social Contract Theory) হলো একটি রাজনৈতিক তত্ত্ব যা বোঝায় কিভাবে মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে রাষ্ট্র ও সরকারের সৃষ্টি করেছে এবং কেন তারা সরকারের অধীনে আইন ও নিয়ম মেনে চলে।
- থমাস হবস, জন লক এবং রুশোর মত চিন্তাবিদরা প্রথমে মানুষের প্রাকৃতিক অবস্থার কথা আলোচনা করেছেন। হবস বলেছিলেন, প্রাকৃতিক অবস্থায় “মানুষ মানুষের জন্য যুদ্ধ” করে; ফলে নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলার জন্য রাষ্ট্র প্রয়োজন।
- মানুষ স্বেচ্ছায় তাদের কিছু স্বাধীনতা সরকারের হাতে হস্তান্তর করে। সরকার তার পরিবর্তে নিরাপত্তা ও আইনের শাসন নিশ্চিত করে।
- এই তত্ত্ব ব্যাখ্যা করে, রাষ্ট্রের সার্বভৌম ক্ষমতা মানুষ থেকে আসে। অর্থাৎ জনগণই সরকারের বৈধতা নিশ্চিত করে।
- সামাজিক চুক্তি তত্ত্ব পরিবারের উৎপত্তি নয়, বরং রাষ্ট্র ও শাসনের উৎপত্তি ব্যাখ্যা করে।
- যদিও নৈতিকতার সঙ্গে সম্পর্ক আছে, তত্ত্ব মূলত রাষ্ট্র ও শাসনের বৈধতার উৎস ব্যাখ্যা করে।
- সামরিক শক্তি বৃদ্ধি সামাজিক চুক্তি তত্ত্বের বিষয় নয়।
- Social Contract Theory মানুষের সম্মতিতে রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বের উৎপত্তি ব্যাখ্যা করে।
সূত্রঃ রাজনৈতিক তত্ত্ব পরিচিতি- এম রফিকুল ইসলাম

২৪.
Which system ensures maximum executive accountability? (কোন শাসনব্যবস্থায় নির্বাহী সর্বাধিক জবাবদিহি করে?)
  1. Parliamentary (সংসদীয়)
  2. Presidential (রাষ্ট্রপতিশাসিত)
  3. Dictatorial (স্বৈরাচারী)
  4. Military (সামরিক)
ব্যাখ্যা

- সংসদীয় শাসনব্যবস্থা (Parliamentary System) হলো এমন একটি ব্যবস্থা যেখানে নির্বাহী শাখা (Executive) এবং আইনসভা (Legislature) একে অপরের সঙ্গে সংযুক্ত থাকে এবং সংসদের প্রতি দায়বদ্ধ থাকে।
- প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রীরা সংসদে তাদের নীতি ও সিদ্ধান্তের জন্য জবাবদিহি করতে বাধ্য।
- যদি সংসদ নির্বাহীর প্রতি অসন্তুষ্ট হয়, তারা No-confidence motion মাধ্যমে সরকারকে সরাতে পারে।
- সংসদ নিয়মিত বিতর্ক, প্রশ্নোত্তর, কমিটি এবং বাজেট প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্বাহীর কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করে।
- সংসদ নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মাধ্যমে জনগণের স্বার্থ প্রতিফলিত হয়, ফলে নির্বাহীর কার্যক্রম জনগণের প্রতি দায়বদ্ধ থাকে।
- রাষ্ট্রপতি নির্বাহী হিসেবে শক্তিশালী হলেও, অনেক ক্ষেত্রে আইনসভা এবং রাষ্ট্রপতির মধ্যে শক্তিশালী ক্ষমতার বিভাজন থাকে। Deadlock সৃষ্টি হতে পারে।
- নির্বাহী এককভাবে ক্ষমতা ব্যবহার করে; জনগণ বা সংসদের কাছে জবাবদিহি নেই।
- সামরিক শাসনমূলক ব্যবস্থা সম্পূর্ণ অজবাবদিহি।
- সংসদীয় শাসনব্যবস্থা হলো সেই শাসনব্যবস্থা যেখানে নির্বাহী সর্বাধিক জবাবদিহি করে এবং সংসদ ও জনগণের প্রতি দায়বদ্ধ থাকে।

সূত্রঃ পৌরনীতি ও সুশাসন ( একাদশ-দ্বাদশ)-প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক

২৫.
A totalitarian regime is distinct because— (সর্বাত্মকবাদ স্বতন্ত্র কারণ—)
  1. It allows opposition (এটি বিরোধীদের অনুমতি দেয়)
  2. It controls both public and private life (এটি ব্যক্তিগত ও সামাজিক উভয় জীবন নিয়ন্ত্রণ করে)
  3. It allows free media (এটি মুক্ত গণমাধ্যম অনুমতি দেয়)
  4. It is federal (এটি যুক্তরাষ্ট্রীয়)
ব্যাখ্যা

- সর্বাত্মকবাদী শাসনব্যবস্থা (Totalitarian Regime) এমন একটি সরকার যা রাষ্ট্রের ক্ষমতা কেন্দ্রভূত করে এবং সার্বিক নিয়ন্ত্রণ প্রয়োগ করে। এর লক্ষ্য শুধু রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ নয়, বরং নাগরিকদের ব্যক্তিগত জীবন, সামাজিক আচরণ এবং মানসিক চিন্তাভাবনায়ও নিয়ন্ত্রণ স্থাপন করা।
- সর্বাত্মকবাদী শাসনব্যবস্থায় বিরোধী দল, মতামত ও সমালোচনা দমন করা হয়। (a) ভুল।
- নাগরিকদের জীবনের প্রতিটি দিক শিক্ষা, ধর্ম, সংস্কৃতি, পরিবার, দৈনন্দিন কার্যকলাপ রাষ্ট্র দ্বারা নিয়ন্ত্রিত।
- সংবাদপত্র, রেডিও, টেলিভিশন ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম সরকার কর্তৃত্বাধীন।
- সাধারণত এক নেতা বা একটি রাজনৈতিক দল সকল ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত করে।
- প্রচার ও জবরদস্তি জনগণকে সরকার সমর্থনে বাধ্য করা হয়।
- সর্বাত্মকবাদী শাসনব্যবস্থা অন্যান্য শাসনব্যবস্থার থেকে আলাদা কারণ এটি নাগরিকদের রাজনৈতিক, সামাজিক ও ব্যক্তিগত জীবনের উপর সর্বাত্মক নিয়ন্ত্রণ স্থাপন করে।
সূত্রঃ Political Theory – R.C. Agarwal

২৬.
The French model of government is special because— (ফরাসি ধাঁচের সরকার ব্যবস্থা বিশেষ কারণ—)
  1. It is purely presidential (সম্পূর্ণ রাষ্ট্রপতিশাসিত)
  2. It is totalitarian (সর্বাত্মকবাদী)
  3. It is semi-presidential with dual executive (আংশিক রাষ্ট্রপতি শাসন ও দ্বৈত নির্বাহী)
  4. It is unitary (এককেন্দ্রীক)
ব্যাখ্যা

- ফরাসি ধাঁচের সরকার ব্যবস্থা (French Model of Government), বিশেষ করে French Fifth Republic (1958)–এর সংবিধান অনুযায়ী, একটি Semi-Presidential System যেখানে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী উভয়েই নির্বাহী ক্ষমতা ভাগ করে নেন।
দ্বৈত নির্বাহী (Dual executive): রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রপ্রধান, জাতীয় ঐক্যের প্রতীক, প্রতিরক্ষা ও বৈদেশিক নীতি পরিচালনা করেন।প্রধানমন্ত্রী সরকারপ্রধান, সংসদের প্রতি জবাবদিহি এবং অভ্যন্তরীণ নীতি বাস্তবায়ন করেন।
- রাষ্ট্রপতি সরাসরি জনগণের ভোটে নির্বাচিত হন (Presidential system-এর বৈশিষ্ট্য)। প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভা সংসদের প্রতি দায়বদ্ধ (Parliamentary system-এর বৈশিষ্ট্য)।
- যদি রাষ্ট্রপতি ও সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠ দল আলাদা হয়, তবে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীকে একসঙ্গে ক্ষমতা ভাগাভাগি করতে হয়। একে বলা হয় co-habitation।
- সম্পূর্ণ রাষ্ট্রপতিশাসিত নয়, কারণ এখানে প্রধানমন্ত্রীও রয়েছে এবং সংসদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।
- সর্বাত্মকবাদী নয়, ফ্রান্স একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র।
- ফ্রান্স অবশ্যই একটি unitary রাষ্ট্র, তবে ফরাসি মডেলের বৈশিষ্ট্য প্রধানত দ্বৈত নির্বাহী।
সূত্রঃ Political Theory – R.C. Agarwal.

২৭.
Law differs from morality because law— (আইন নৈতিকতা থেকে ভিন্ন কারণ আইন—)
  1. Is voluntary (ঐচ্ছিক)
  2. Is enforced by organized authority (রাষ্ট্রীয় কর্তৃপক্ষ দ্বারা প্রয়োগ করা হয়)
  3. Is private (ব্যক্তিগত)
  4. Is unwritten (অলিখিত)
ব্যাখ্যা

- আইন (Law) এবং নৈতিকতা (Morality) উভয়ই মানুষের আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে, তবে এদের মধ্যে মৌলিক পার্থক্য রয়েছে।
- আইন হলো রাষ্ট্র কর্তৃক প্রণীত নিয়মাবলি। এটি আদালত, পুলিশ এবং অন্যান্য রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান দ্বারা বলপ্রয়োগের মাধ্যমে কার্যকর হয়। উদাহরণ: কর ফাঁকি, হত্যা, চুরি এগুলো আইনের আওতায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
- নৈতিকতা হলো সমাজ কর্তৃক স্বীকৃত ভালো-মন্দের মানদণ্ড। এটি ব্যক্তির বিবেক ও সামাজিক চাপের মাধ্যমে কার্যকর হয়, কিন্তু রাষ্ট্রীয় শাস্তির আওতায় পড়ে না। উদাহরণ: মিথ্যা বলা, কৃতজ্ঞ না হওয়া এগুলো নৈতিকভাবে ভুল হলেও আইনের দৃষ্টিতে সবসময় অপরাধ নয়।
- আইন হলো রাষ্ট্র কর্তৃক প্রণীত এবং রাষ্ট্রীয় কর্তৃপক্ষ দ্বারা বলপ্রয়োগে কার্যকর। কিন্তু নৈতিকতা হলো ব্যক্তিগত ও সামাজিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, কোনো রাষ্ট্রীয় বলপ্রয়োগ নেই।
- নৈতিকতা ঐচ্ছিক হতে পারে, কিন্তু আইন বাধ্যতামূলক।
- আইন ব্যক্তিগত নয়; এটি রাষ্ট্রীয়।
- আইন লিখিত (written law) হতে পারে; সব আইন অলিখিত নয়।
- আইন নৈতিকতা থেকে ভিন্ন কারণ আইন রাষ্ট্রীয় কর্তৃপক্ষ দ্বারা বলপ্রয়োগের মাধ্যমে কার্যকর হয়।
সূত্রঃ পৌরনীতি ও সুশাসন ( একাদশ-দ্বাদশ)-প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক

২৮.
The British Constitution is called flexible because— (ব্রিটিশ সংবিধান নমনীয় বলা হয় কারণ—)
  1. It is codified (লিখিত)
  2. Judiciary controls it (বিচার বিভাগ নিয়ন্ত্রণ করে)
  3. Parliament can easily amend it (সংসদ সহজে সংশোধন করতে পারে)
  4. It is federal (যুক্তরাষ্ট্রীয়)
ব্যাখ্যা

- ব্রিটিশ সংবিধান বিশ্বে সবচেয়ে প্রাচীন এবং একে বলা হয় “Flexible Constitution” (নমনীয় সংবিধান)। এর প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো
অলিখিত ও প্রথাভিত্তিক (Uncodified and based on conventions):
- ব্রিটিশ সংবিধান একক কোনো লিখিত নথি নয়; এটি আইন, প্রথা, আদালতের রায় এবং সাংবিধানিক রীতিনীতির সমষ্টি।
- ব্রিটেনে সংসদ সর্বোচ্চ আইন প্রণয়নকারী প্রতিষ্ঠান। সংসদের কোনো আইনকে আদালত বাতিল করতে পারে না।
- যুক্তরাষ্ট্রের মতো কঠোর প্রক্রিয়ার প্রয়োজন নেই। ব্রিটিশ সংসদ একটি সাধারণ আইন (ordinary law) পাস করেই সাংবিধানিক পরিবর্তন আনতে পারে।
- উদাহরণ: ভোটাধিকার প্রসার, লর্ডস চেম্বারের ক্ষমতা হ্রাস ইত্যাদি।
- ব্রিটিশ সংবিধান লিখিত নয় বরং অলিখিত ও প্রথাভিত্তিক।
- বিচার বিভাগ নিয়ন্ত্রণ করে না কারণ সংসদ সর্বময় (Parliamentary sovereignty)।
- ব্রিটেন হলো এককেন্দ্রীক রাষ্ট্র (Unitary State), ফেডারেল নয়।
- ব্রিটিশ সংবিধানকে Flexible বলা হয় মূলত কারণ সংসদ এটি সহজে সংশোধন করতে পারে।
সূত্রঃ রাজনৈতিক সংগঠন এবং ব্রিটেন ও যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক ব্যবস্থা– ড. রবিউল ইসলাম

২৯.
The principle of separation of powers is mainly intended to— (ক্ষমতার স্বতন্ত্রীকরণ নীতির মূল উদ্দেশ্য হলো—)
  1. Strengthen executive power (কার্যনির্বাহী ক্ষমতা শক্তিশালী করা)
  2. Prevent concentration of power (ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণ রোধ করা)
  3. Make judiciary supreme (বিচার বিভাগকে সর্বোচ্চ করা)
  4. Reduce political parties (রাজনৈতিক দল কমানো)
ব্যাখ্যা

- ক্ষমতার স্বতন্ত্রীকরণ (Separation of Powers) তত্ত্বটি প্রথমভাবে বিশদভাবে ব্যাখ্যা করেছিলেন মঁতেস্কু (Montesquieu) তাঁর The Spirit of the Laws (1748) গ্রন্থে। এই তত্ত্ব অনুযায়ী, রাষ্ট্রের ক্ষমতা যদি একক কোনো অঙ্গ বা ব্যক্তির হাতে কেন্দ্রীভূত হয়, তবে তা স্বৈরাচার, ক্ষমতার অপব্যবহার ও জনগণের স্বাধীনতার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াবে।
- তিনি ক্ষমতাকে তিন ভাগে ভাগ করার প্রস্তাব দেন- আইনসভা (Legislature) → আইন প্রণয়ন করবে,নির্বাহী (Executive) → আইন বাস্তবায়ন করবে,বিচার বিভাগ (Judiciary) → আইন ব্যাখ্যা ও বিচার করবে। এভাবে প্রতিটি অঙ্গকে নির্দিষ্ট ক্ষমতা দিয়ে নিয়ন্ত্রণ ও ভারসাম্য (Check and Balance) ব্যবস্থা তৈরি করা হয়। এর উদ্দেশ্য হলো, কোনো অঙ্গ যাতে সর্বময় ক্ষমতা অর্জন করতে না পারে।
- ক্ষমতার স্বতন্ত্রীকরণের মূল লক্ষ্য হলো ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণ রোধ করা এবং গণতন্ত্রে স্বাধীনতা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা।
সূত্রঃ পৌরনীতি ও সুশাসন ( একাদশ-দ্বাদশ)-প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক

৩০.
Interest groups can become a threat to democracy when— (স্বার্থগোষ্ঠী গণতন্ত্রের জন্য হুমকি হয় যখন—)
  1. They demand rights peacefully (তারা শান্তিপূর্ণভাবে অধিকার দাবি করে)
  2. They publish reports (তারা প্রতিবেদন প্রকাশ করে)
  3. They promote violence (তারা সহিংসতা উস্কে দেয়)
  4. They hold seminars (তারা সেমিনার আয়োজন করে)
ব্যাখ্যা

- স্বার্থগোষ্ঠী (Interest Group) হলো এমন সংগঠন যারা নির্দিষ্ট কোনো পেশা, অর্থনৈতিক বা সামাজিক গোষ্ঠীর স্বার্থ রক্ষার জন্য কাজ করে। তারা সাধারণত লবিং, আলোচনার মাধ্যমে, শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ বা মতামত প্রকাশের মাধ্যমে সরকারের নীতি ও সিদ্ধান্ত প্রভাবিত করার চেষ্টা করে।
- গণতন্ত্রে স্বার্থগোষ্ঠী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে কারণ তারা জনগণের বিভিন্ন স্তরের চাহিদা ও স্বার্থ সরকার পর্যন্ত পৌঁছে দেয়। কিন্তু যখন এই গোষ্ঠীগুলো সহিংসতা, ভীতি প্রদর্শন বা বেআইনি কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে নিজেদের দাবি আদায় করতে চায়, তখন তারা গণতন্ত্রের জন্য হুমকি হয়ে ওঠে।
- সহিংসতা, ভীতি প্রদর্শন বা বেআইনি কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক পরিবেশ নষ্ট হয়,আইনের শাসন দুর্বল হয়,জনগণের মৌলিক স্বাধীনতা ক্ষতিগ্রস্ত হয় ও সরকারের নীতি নির্ধারণ প্রক্রিয়া জোরপূর্বক প্রভাবিত হয়।
- স্বার্থগোষ্ঠী শান্তিপূর্ণভাবে কাজ করলে গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করে, কিন্তু সহিংসতা উস্কে দিলে গণতন্ত্রকে দুর্বল করে।
সূত্রঃ পৌরনীতি ও সুশাসন ( একাদশ-দ্বাদশ)-প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক

৩১.
Coalition governments arise mostly in— (জোট সরকার সাধারণত গঠিত হয়—)
  1. Proportional representation systems (অনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব পদ্ধতিতে )
  2. One-party systems (একদলীয় ব্যবস্থায়)
  3. Dictatorial regimes (স্বৈরাচারী শাসনে)
  4. Military rule (সামরিক শাসনে)
ব্যাখ্যা

- জোট সরকার (Coalition Government) তখন গঠিত হয় যখন কোনো একক দল সংসদে স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা (absolute majority) অর্জন করতে পারে না। এই পরিস্থিতিতে একাধিক রাজনৈতিক দল মিলিত হয়ে সরকার গঠন করে।
- অনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব পদ্ধতি (Proportional Representation system)-এ আসন বণ্টন ভোটের শতকরা হারের ভিত্তিতে হয়। ফলে সংসদে অনেক ছোট ছোট দলও প্রতিনিধিত্ব পায়। এতে এককভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে এবং জোট সরকার গঠনের প্রয়োজন হয়।
- একদলীয় ব্যবস্থায় (One-party system) জোট সরকার গঠনের প্রশ্নই আসে না, কারণ শুধু একটি দল থাকে।
- স্বৈরাচারী শাসন (Dictatorial regimes) ও সামরিক শাসন (Military rule)-এ জোট সরকার থাকে না, কারণ ক্ষমতা এককভাবে কেন্দ্রীভূত থাকে।
- জোট সরকার সবচেয়ে বেশি গঠিত হয় অনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব পদ্ধতিতে।
সূত্রঃ Political Theory – R.C. Agarwal

৩২.
Judicial review strengthens— (বিচারিক পুনর্বিবেচনা শক্তিশালী করে—)
  1. Legislative supremacy (আইনসভার সর্বোচ্চতা)
  2. Executive dominance (নির্বাহী কর্তৃত্ব)
  3. Rule of law (আইনের শাসন)
  4. Bureaucracy (আমলাতন্ত্র)
ব্যাখ্যা

- বিচারিক পুনর্বিবেচনা (Judicial Review) হলো আদালতের সেই ক্ষমতা, যার মাধ্যমে আইনসভা বা নির্বাহী কর্তৃপক্ষ কর্তৃক গৃহীত কোনো আইন বা কার্যক্রম সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হলে তা বাতিল করা যায়।
- এটি গণতন্ত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, যার মূল উদ্দেশ্য হলো সংবিধানের সর্বোচ্চতা (Supremacy of Constitution) রক্ষা করা। সরকারের সব অঙ্গকে আইনের সীমার মধ্যে রাখা। নাগরিকদের মৌলিক অধিকার সুরক্ষিত করা।
- বিচারিক পুনর্বিবেচনা সরাসরি আইনের শাসন (Rule of Law) কে শক্তিশালী করে। কারণ এটি নিশ্চিত করে যে রাষ্ট্রের কোনো অঙ্গ বা ব্যক্তি আইন ও সংবিধানের ঊর্ধ্বে নয়।
সূত্রঃ রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনসমূহ– সৈয়দ নুরুল হক

৩৩.
Panchayati Raj in India is an example of— (ভারতের পঞ্চায়েত রাজ একটি উদাহরণ—)
  1. Federalism (ফেডারেল ব্যবস্থা)
  2. Local self-government (স্থানীয় স্বায়ত্তশাসন)
  3. Elite domination (এলিটদের আধিপত্য)
  4. Presidentialism (প্রেসিডেন্সিয়াল পদ্ধতি)
ব্যাখ্যা

- পঞ্চায়েত রাজ (Panchayati Raj) হলো ভারতের গ্রামীণ স্তরের স্থানীয় স্বায়ত্তশাসন ব্যবস্থা (Local Self-Government)। এর মূল উদ্দেশ্য হলো জনগণের কাছে প্রশাসন পৌঁছে দেওয়া এবং সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা।
- এটি প্রথম আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হয় ১৯৫৯ সালে রাজস্থান রাজ্যে, পরে ধাপে ধাপে অন্যান্য রাজ্যে।
- ভারতের সংবিধানের ৭৩তম সংশোধনী (1992) দ্বারা পঞ্চায়েত রাজ সাংবিধানিক স্বীকৃতি পায়।
- এই ব্যবস্থায় গ্রাম, ব্লক এবং জেলা পর্যায়ে তিন স্তরের স্থানীয় সরকার থাকে।
- এর মাধ্যমে গ্রামীণ জনগণ নিজেদের সমস্যা ও উন্নয়নমূলক কাজের জন্য সরাসরি সিদ্ধান্ত গ্রহণে অংশগ্রহণ করতে পারে।
সূত্রঃ Political Theory – R.C. Agarwal

৩৪.
Elite theory suggests— (এলিট তত্ত্ব অনুসারে—)
  1. Parties dominate bureaucracy (দলগুলো আমলাতন্ত্রকে নিয়ন্ত্রণ করে)
  2. Democracy is absolute (গণতন্ত্র পুরোপুরি কার্যকর)
  3. All citizens equally influence politics (সকল নাগরিক সমানভাবে রাজনীতিতে প্রভাব ফেলে)
  4. Power is concentrated in the hands of few (ক্ষমতা অল্প কিছু মানুষের হাতে কেন্দ্রীভূত)
ব্যাখ্যা

- এলিট তত্ত্ব (Elite Theory) অনুসারে, সমাজ ও রাষ্ট্রের ক্ষমতা সব নাগরিকের হাতে সমানভাবে থাকে না। বরং ক্ষমতা অল্প সংখ্যক ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর হাতে কেন্দ্রীভূত থাকে।
- এই “এলিট”রা হতে পারে রাজনৈতিক নেতা, শিল্পপতি, উচ্চবিত্ত, আমলা বা অন্য প্রভাবশালী গোষ্ঠী।
- গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাতেও ক্ষমতা সবসময় সাধারণ জনগণের হাতে থাকে না; সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় এলিটদের প্রভাব সর্বাধিক থাকে।
- রবার্ট মিচেলস (Robert Michels) এই তত্ত্বকে “Iron Law of Oligarchy” হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
- এলিট তত্ত্ব মূলত বলে যে ক্ষমতা কয়েকজন মানুষের হাতে কেন্দ্রীভূত থাকে, এবং সাধারণ নাগরিকের প্রভাব সীমিত।
সূত্রঃ রাজনৈতিক তত্ত্ব পরিচিতি- এম রফিকুল ইসলাম

৩৫.
Bureaucracy is often criticized for— (আমলাতন্ত্র সমালোচিত হয়—)
  1. Political neutrality (রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা)
  2. Red-tapism (আমলাতান্ত্রিক জটিলতা)
  3. Efficient governance (কার্যকর প্রশাসন)
  4. Policy advice (নীতিগত পরামর্শ প্রদান)
ব্যাখ্যা

- আমলাতন্ত্র (Bureaucracy) হলো এমন একটি প্রশাসনিক ব্যবস্থা, যেখানে সরকার বা কোনো বড় প্রতিষ্ঠানে আইন প্রয়োগ এবং সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের জন্য নিয়োগপ্রাপ্ত অ-নির্বাচিত বেসামরিক কর্মকর্তা বা পেশাদার কর্মীরা কাজ করেন।
- এই ব্যবস্থায় কর্মীদের মধ্যে দায়িত্ব ভাগ করা হয়, একটি স্পষ্ট শ্রেণিবিন্যাস থাকে এবং আনুষ্ঠানিক নিয়মকানুন অনুসরণ করা হয়, যা রাজনৈতিক সরকার পরিবর্তন হলেও তাদের চাকরি ধরে রাখতে সাহায্য করে।
- Red-tapism বলতে বোঝায় প্রশাসনিক কাজের মধ্যে অতিরিক্ত নিয়ম-কানুন, দীর্ঘ প্রক্রিয়া এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের ধীরগতির কারণে নীতি বাস্তবায়নে বিলম্ব।
- এটি নাগরিকদের জন্য ঝামেলা সৃষ্টি করে এবং প্রশাসনের কার্যকারিতা হ্রাস করে।
- আমলাতন্ত্র সাধারণত রাজনৈতিক নিরপেক্ষ, কার্যকর প্রশাসন এবং নীতি পরামর্শে সক্ষম, কিন্তু এই দিকগুলো সমালোচনার মূল বিষয় নয়।
সূত্রঃ রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনসমূহ– সৈয়দ নুরুল হক

৩৬.
Public opinion becomes effective when— (জনমত কার্যকর হয় যখন—)
  1. Media is free (মিডিয়া স্বাধীন থাকে)
  2. People remain silent (জনগণ নীরব থাকে)
  3. Rulers ignore feedback (শাসকরা প্রতিক্রিয়া উপেক্ষা করে)
  4. Elections are postponed (নির্বাচন স্থগিত করা হয়)
ব্যাখ্যা

- জনমত (Public Opinion) হলো জনগণের মূল্যায়ন, মনোভাব ও মতামতের সমষ্টি যা সামাজিক ও রাজনৈতিক নীতিতে প্রভাব ফেলতে পারে।
- জনমত কার্যকর হয় যখন মিডিয়া স্বাধীন থাকে। কারণ স্বাধীন মিডিয়া জনগণের চাহিদা, সমস্যার তথ্য এবং সরকারের কার্যক্রম সম্পর্কে তথ্য পৌঁছে দেয়।
- জনগণকে তাদের মত প্রকাশের সুযোগ দিতে হয়, এবং সরকারকে সেই প্রতিক্রিয়া গুরুত্ব সহকারে নিতে হয়।
- যদি মিডিয়া সন্ত্রস্ত বা নিয়ন্ত্রিত হয়, জনগণ নীরব থাকে, বা শাসক প্রতিক্রিয়া উপেক্ষা করে, তখন জনমত প্রভাবশালী হতে পারে না।
- স্বাধীন মিডিয়ার মাধ্যমে এবং জনমতের মুক্ত প্রকাশের মাধ্যমে জনমত কার্যকর হয়।
সূত্রঃ রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনসমূহ– সৈয়দ নুরুল হক

৩৭.
Which country is famous for proportional representation? (কোন দেশ অনুপাতিক প্রতিনিধিত্বের জন্য পরিচিত?)
  1. UK (যুক্তরাজ্য)
  2. USA (যুক্তরাষ্ট্র)
  3. Switzerland (সুইজারল্যান্ড)
  4. Bangladesh (বাংলাদেশ)
ব্যাখ্যা

- অনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (Proportional Representation - PR) হলো ভোটের ফলাফলের অনুপাতে সংসদে আসনের বণ্টন পদ্ধতি। অর্থাৎ, একটি রাজনৈতিক দল যদি মোট ভোটের ৩০% পায়, তাহলে তার ৩০% আসন পাওয়ার অধিকার থাকে।
- সুইজারল্যান্ড (Switzerland) এই পদ্ধতির জন্য সুপরিচিত। এখানে ছোট ও মধ্যম আকারের দলগুলিও সংসদে প্রতিনিধিত্ব পায়।
- যুক্তরাজ্য (UK) ও যুক্তরাষ্ট্র (USA) মূলত First-Past-The-Post (FPTP) পদ্ধতি ব্যবহার করে, যেখানে একক আসনের বিজয়ী সর্বাধিক ভোট প্রাপ্ত ব্যক্তি হয়।
- বাংলাদেশও প্রধানত FPTP পদ্ধতি ব্যবহার করে, তাই সেখানে অনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব সীমিত।
- অনুপাতিক প্রতিনিধিত্বের সুবিধা হলো ছোট দল ও সংখ্যালঘুর প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা এবং একদলীয় একচেটিয়াভাবে ক্ষমতা অর্জন রোধ করা।
সূত্রঃ Political Theory – R.C. Agarwal.

৩৮.
The term “electorate” refers to— (“নির্বাচকমন্ডলী” বলতে বোঝায়—)
  1. Candidates (প্রার্থী)
  2. Eligible voters (যোগ্য ভোটার)
  3. Political leaders (রাজনৈতিক নেতা)
  4. Election officers (নির্বাচন কর্মকর্তা)
ব্যাখ্যা

- নির্বাচকমন্ডলী বা Electorate হলো সেই নাগরিকদের সমষ্টি যারা ভোট দেওয়ার যোগ্য এবং নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারে।
- যোগ্যতা সাধারণত নাগরিকত্ব, নির্দিষ্ট বয়স, এবং কখনও কখনও ভোটারের রেজিস্ট্রেশনের মাধ্যমে নির্ধারিত হয়।
- ভোটাররা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে সরকারের নীতি ও নেতৃত্ব নির্বাচন করতে সহায়তা করে।
- প্রার্থী, রাজনৈতিক নেতা বা নির্বাচন কর্মকর্তা ভোটারের অংশ নয়; তারা ভোট প্রক্রিয়ায় ভিন্ন ভূমিকা পালন করে।
- electorate বলতে মূলত সেই সকল নাগরিককে বোঝায় যারা নির্বাচনে ভোট দেওয়ার অধিকার রাখে।
সূত্রঃ পৌরনীতি ও সুশাসন ( একাদশ-দ্বাদশ)-প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক

৩৯.
The term “iron law of oligarchy” was coined by— (“অলিগার্কির লৌহ আইন” প্রবর্তন করেছিলেন—)
  1. Michels (মিচেলস)
  2. Mosca (মস্কা)
  3. Pareto (পারেতো)
  4. Weber (ওয়েবার)
ব্যাখ্যা

- রবার্ট মিচেলস (Robert Michels) “Iron Law of Oligarchy” তত্ত্ব প্রবর্তন করেছিলেন।
- এই তত্ত্ব অনুযায়ী, সব বৃহৎ রাজনৈতিক সংগঠন এবং সামাজিক গোষ্ঠী একটি অলিগার্কি (কেন্দ্রীভূত ক্ষমতা) সৃষ্টি করে, অর্থাৎ ক্ষমতা কয়েকজন নেতার হাতে কেন্দ্রীভূত হয়ে যায়।
- সাধারণ সদস্যরা প্রায়ই সিদ্ধান্ত গ্রহণে কম প্রভাবশালী থাকে।
- মিচেলস দেখিয়েছিলেন যে গণতান্ত্রিক সংগঠনও সময়ের সঙ্গে অলিগার্কিতে পরিণত হতে পারে, কারণ প্রশাসনিক দক্ষতার কারণে নেতৃত্ব কেন্দ্রীভূত হয়ে যায়।
- Mosca, Pareto, Weber ক্ষমতার তত্ত্ব নিয়ে কাজ করেছেন, তবে “Iron Law of Oligarchy” প্রবর্তন করেছিলেন Michels।
সূত্রঃ রাজনৈতিক তত্ত্ব পরিচিতি- এম রফিকুল ইসলাম

৪০.
The central concern of ancient political thought was— (প্রাচীন রাজনৈতিক চিন্তার মূল উদ্বেগ ছিল—)
  1. Economic growth (অর্থনৈতিক বৃদ্ধি)
  2. Ethical basis of politics (রাজনীতির নৈতিক ভিত্তি)
  3. Military conquest (সামরিক বিজয়)
  4. Industrialization (শিল্পায়ন)
ব্যাখ্যা

- প্রাচীন রাজনৈতিক চিন্তাধারার মূল লক্ষ্য ছিল রাজনীতিকে নৈতিক ও ন্যায়ভিত্তিক করা।
- সক্রেটিস, প্লেটো ও এরিস্টটল রাজনীতিকে কেবল ক্ষমতা অর্জনের মাধ্যম হিসেবে দেখেননি; বরং তারা বিশ্বাস করতেন রাজনীতি হলো মানুষকে নৈতিক উন্নতি ও কল্যাণের পথে পরিচালিত করার উপায়।
- প্লেটো তাঁর Ideal State এ ন্যায়বিচারকে কেন্দ্রস্থলে রেখেছিলেন।
- এরিস্টটল বলেছিলেন রাষ্ট্র গঠনের উদ্দেশ্য শুধু বেঁচে থাকা নয়, বরং সুন্দরভাবে বেঁচে থাকা।
- একইভাবে, কনফুসিয়াস ও ইমাম গাজ্জালী রাজনীতিকে নৈতিকতার সাথে একীভূত করেছেন।
- প্রাচীন রাজনৈতিক চিন্তাবিদদের প্রধান দৃষ্টি ছিল নৈতিকতা ও ন্যায়ের ভিত্তিতে রাষ্ট্র ও রাজনীতি গঠন করা।
সূত্রঃ প্রাচ্যের রাষ্ট্রচিন্তা - এম রফিকুল ইসলাম

৪১.
Taoist influence on Chinese culture was— (তাওবাদের চীনা সংস্কৃতির ওপর প্রভাব ছিল—)
  1. Harmony with art, medicine, and lifestyle (শিল্প, চিকিৎসা ও জীবনযাপনে সামঞ্জস্য)
  2. Militarization (সামরিকীকরণ)
  3. Industrialization (শিল্পায়ন)
  4. Centralized authority (কেন্দ্রীভূত কর্তৃত্ব)
ব্যাখ্যা

- তাওবাদ (Taoism) চীনের একটি দার্শনিক ও ধর্মীয় চিন্তাধারা যা প্রকৃতির সাথে সামঞ্জস্য রেখে জীবনযাপনের উপর গুরুত্ব দেয়। - এর মূলনীতি হলো “Dao” বা “পথ”, যা প্রাকৃতিক নিয়ম ও মহাবিশ্বের স্রোত অনুসারে চলার নির্দেশনা দেয়।
- তাওবাদী দর্শন চীনা চিত্রকলা, কবিতা ও ক্যালিগ্রাফিতে প্রকৃতির সাথে সামঞ্জস্য ও সরলতার ধারণা প্রতিফলিত করেছে।
- চীনা প্রথাগত চিকিৎসা (Traditional Chinese Medicine) যেমন আকুপাংচার ও হারবাল মেডিসিন তাওবাদী ভারসাম্য ও Qi (জীবনীশক্তি) ধারণার ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে।
- সরলতা, নম্রতা, ধ্যান ও প্রকৃতির সাথে মিল রেখে বেঁচে থাকার উপর গুরুত্ব দেয়।
- তাওবাদ সামরিকীকরণ বা শিল্পায়নকে সমর্থন করেনি, বরং অহস্তক্ষেপ (non-interference) এবং শান্তি প্রচার করেছে।
- চীনা সংস্কৃতিতে তাওবাদের সবচেয়ে বড় প্রভাব ছিল শিল্প, চিকিৎসা এবং জীবনযাপনে সামঞ্জস্য ও ভারসাম্য রক্ষা।
সূত্রঃ প্রাচ্যের রাষ্ট্রচিন্তা – বায়োজীদ আলম

৪২.
Plato’s tripartite division of society includes— (প্লেটোর সমাজকে তিন ভাগে বিভক্ত করেছেন—)
  1. Rulers, warriors, producers (শাসক, যোদ্ধা, উৎপাদক)
  2. Rich, poor, middle (ধনী, গরিব, মধ্যবিত্ত)
  3. Men, women, slaves (পুরুষ, নারী, দাস)
  4. Educated, uneducated, priests (শিক্ষিত, অশিক্ষিত, পুরোহিত)
ব্যাখ্যা

- প্লেটো তাঁর Ideal State বা আদর্শ রাষ্ট্রের তত্ত্বে সমাজকে তিন ভাগে বিভক্ত করেছিলেন, যেখানে প্রতিটি শ্রেণির নিজস্ব কাজ বা দায়িত্ব ছিল।
শাসক (Rulers/Philosopher Kings): তারা সমাজের জ্ঞানী ও দার্শনিক অংশ। তাদের কাজ হলো রাষ্ট্র পরিচালনা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা।
যোদ্ধা (Warriors/Guardians): তারা রাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকে। সাহস, শৃঙ্খলা ও আনুগত্য তাদের প্রধান গুণ।
উৎপাদক (Producers): কৃষক, কারিগর, ব্যবসায়ী ইত্যাদি এই শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত। তারা সমাজের আর্থিক ভিত্তি ও উৎপাদন কাজে যুক্ত।
- প্লেটো বিশ্বাস করতেন যে সমাজের প্রতিটি শ্রেণি নিজ নিজ ভূমিকা সঠিকভাবে পালন করলে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে। তিনি বলেছিলেন: “Justice means each class performing its own duty without interfering with others.”
সূত্রঃ পাশ্চাত্যের রাষ্ট্রচিন্তা– রাখী বর্মন

৪৩.
Aristotle’s best practicable state was— (এরিস্টটলের মতে সর্বোত্তম ব্যবহারিক রাষ্ট্র হলো—)
  1. Democracy (গণতন্ত্র)
  2. Polity (মধ্যতন্ত্র)
  3. Monarch (রাজতন্ত্র)
  4. Aristocracy (অভিজাততন্ত্র)
ব্যাখ্যা

- এরিস্টটল সরকারব্যবস্থাকে দুইভাবে ভাগ করেছিলেন— শ্রেষ্ঠ বা আদর্শ সরকার (Ideal forms) → Monarchy (রাজতন্ত্র), Aristocracy (অভিজাততন্ত্র), Polity (পলিটি)। দূষিত বা অবক্ষয়িত সরকার (Perverted forms) → Tyranny (স্বৈরতন্ত্র), Oligarchy (অল্পসংখ্যকের শাসন), Democracy (জনতার শাসন – এরিস্টটলের কাছে এটি নেতিবাচক অর্থে ব্যবহৃত)।
- Polity সম্পর্কে তাঁর বক্তব্য: Polity হলো মিশ্র সরকারব্যবস্থা যেখানে রাজতন্ত্র, অভিজাততন্ত্র ও গণতন্ত্রের ভালো দিকগুলো একত্রিত থাকে। এটি মধ্যবিত্ত শ্রেণির স্বার্থ রক্ষা করে এবং সমাজে স্থিতিশীলতা আনে।
- গণতন্ত্রকে তিনি ভিড়ের শাসন মনে করলেও, Polity-কে তিনি “the best practicable form of government” বলেছেন, কারণ বাস্তবে এটি সবচেয়ে স্থিতিশীল ও কার্যকর।
- এরিস্টটলের মতে বাস্তব জীবনে সর্বোত্তম রাষ্ট্রব্যবস্থা হলো Polity (মধ্যতন্ত্র)।
সূত্রঃ পৌরনীতি ও সুশাসন ( একাদশ-দ্বাদশ)-প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক

৪৪.
Socrates was executed because— (সক্রেটিসকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল কারণ—)
  1. He refused taxes (তিনি কর দিতে অস্বীকার করেছিলেন)
  2. He joined rebellion (তিনি বিদ্রোহে যোগ দিয়েছিলেন)
  3. He supported monarchy (তিনি রাজতন্ত্রকে সমর্থন করেছিলেন)
  4. He corrupted youth and questioned gods (তিনি তরুণদের বিভ্রান্ত করেছিলেন এবং দেবতাদের প্রশ্ন করেছিলেন )
ব্যাখ্যা

- সক্রেটিস (Socrates) ছিলেন প্রাচীন গ্রিসের এক মহান দার্শনিক, যিনি যুক্তি, প্রশ্নোত্তর ও নৈতিক জ্ঞানকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়েছিলেন। কিন্তু তাঁর চিন্তাধারা এবং শিক্ষণ পদ্ধতি এথেন্সের প্রচলিত সামাজিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ছিল।
- তাঁকে অভিযোগ করা হয়েছিল যে তিনি তরুণদের প্রচলিত বিশ্বাস থেকে বিচ্যুত করেছিলেন এবং রাষ্ট্র-স্বীকৃত দেবতাদের অস্তিত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন।
- এথেন্সের আদালত তাঁকে মৃত্যুদণ্ড দেয়, এবং শাস্তি হিসেবে তাঁকে হেমলক বিষ পান করতে বাধ্য করা হয়। যদিও তিনি পালানোর সুযোগ পেয়েছিলেন, তবুও তিনি রাষ্ট্রের আইন মান্য করার জন্য মৃত্যুদণ্ড মেনে নেন।
- সক্রেটিসের মৃত্যু প্রমাণ করে যে প্রাচীন এথেন্সে দার্শনিক সত্য-অনুসন্ধান কখনও কখনও রাষ্ট্র ও ধর্মীয় কর্তৃত্বের জন্য হুমকি বলে মনে করা হতো।
সূত্রঃ পাশ্চাত্যের রাষ্ট্রচিন্তা– রাখী বর্মন

৪৫.
Imam Gazzali emphasized that ruler’s authority must— (ইমাম গাজ্জালীর মতে শাসকের ক্ষমতা অবশ্যই—)
  1. Be independent of religion (ধর্ম থেকে স্বাধীন হতে হবে)
  2. Be legitimized by religion (ধর্ম দ্বারা বৈধ হতে হবে)
  3. Depend on army only (শুধু সেনাবাহিনীর উপর নির্ভর করতে হবে)
  4. Depend on wealth (ধন-সম্পদের উপর নির্ভর করতে হবে)
ব্যাখ্যা

- ইমাম আবু হামিদ আল-গাজ্জালী (1058–1111 খ্রি.) ইসলামী চিন্তাধারার অন্যতম শ্রেষ্ঠ দার্শনিক ও আলেম। তিনি রাজনীতি ও ধর্মের সম্পর্ক নিয়ে বিশেষভাবে জোর দিয়েছিলেন।
- তাঁর মতে, রাষ্ট্র ও রাজনীতি ধর্ম থেকে আলাদা নয়, বরং ধর্মীয় নীতিমালা দ্বারা পরিচালিত হতে হবে।
- শাসকের ক্ষমতা তখনই বৈধ হবে, যখন তা ইসলামী নৈতিকতা ও শরিয়াহ দ্বারা স্বীকৃত হবে।
- তিনি বলেছিলেন যে, ধর্ম ছাড়া রাজনীতি অন্ধ, আর রাজনীতি ছাড়া ধর্ম অসম্পূর্ণ।
- গাজ্জালীর রাজনৈতিক দর্শন অনুযায়ী শাসকের প্রধান দায়িত্ব হলো ধর্ম রক্ষা করা, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা, এবং জনগণের কল্যাণ নিশ্চিত করা।
- ইমাম গাজ্জালী মনে করতেন, শাসকের ক্ষমতার বৈধতা আসতে হবে ধর্মীয় স্বীকৃতি ও নৈতিকতার ভিত্তি থেকে।
সূত্রঃ প্রাচ্যের রাষ্ট্রচিন্তা - এম রফিকুল ইসলাম

৪৬.
Confucianism emphasizes— (কনফুসিয়াসবাদ জোর দেয়—)
  1. Material gain (ভৌত অর্জন)
  2. Violence (সহিংসতা)
  3. Social harmony and respect (সামাজিক সম্প্রীতি ও শ্রদ্ধাবোধ)
  4. Class struggle (শ্রেণি সংগ্রাম)
ব্যাখ্যা

- কনফুসিয়াসবাদ (Confucianism) চীনা দার্শনিক কনফুসিয়াসের (551–479 খ্রি. পূ.) শিক্ষা ও চিন্তাধারার ভিত্তিতে গড়ে ওঠা একটি নৈতিক-সামাজিক দর্শন।
- কনফুসিয়াস বিশ্বাস করতেন যে সমাজে স্থিতিশীলতা ও শান্তি আসবে তখনই, যখন মানুষ নৈতিকতা, দায়িত্ববোধ ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ অনুসরণ করবে।
- তাঁর দর্শনের মূলনীতি হলো:
Ren (মানবিকতা/দয়া): মানুষের প্রতি সহানুভূতি ও ভালোবাসা।
Li (শৃঙ্খলা/আচার): সঠিক আচরণ, ভদ্রতা ও সামাজিক নিয়ম মানা।
Xiao (পিতৃভক্তি): পরিবারে বড়দের সম্মান করা ও আনুগত্য।
- কনফুসিয়াসবাদ সহিংসতা বা ভৌত অর্জনের ওপর নয়, বরং নৈতিকতা, শিক্ষা এবং সামাজিক সম্প্রীতির ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছিল।
- Confucianism-এর মূল লক্ষ্য ছিল সমাজে শান্তি ও স্থিতিশীলতা আনতে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সামাজিক সম্প্রীতির চর্চা।
সূত্রঃ প্রাচ্যের রাষ্ট্রচিন্তা - এম রফিকুল ইসলাম

৪৭.
According to Plato, the ideal ruler is— (প্লেটোর মতে আদর্শ শাসক হচ্ছেন—)
  1. Warrior (যোদ্ধা)
  2. Merchant (বণিক)
  3. Slave owner (দাসমালিক)
  4. Philosopher king (দার্শনিক রাজা)
ব্যাখ্যা

- প্লেটো (Plato) তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ Republic-এ আদর্শ রাষ্ট্র (Ideal State) এবং আদর্শ শাসকের ধারণা তুলে ধরেন।
- তাঁর মতে, রাষ্ট্রকে শাসন করার জন্য শুধু রাজনৈতিক দক্ষতা বা সামরিক শক্তিই যথেষ্ট নয়, বরং শাসকের মধ্যে জ্ঞান, প্রজ্ঞা ও নৈতিকতা থাকা অপরিহার্য। এজন্য তিনি Philosopher King (দার্শনিক রাজা)-এর ধারণা দেন।
- প্লেটোর মতে, দার্শনিকরাই সত্য, ন্যায় ও কল্যাণের প্রকৃত ধারণা বোঝেন। তাই তাঁরাই জনস্বার্থে সঠিকভাবে রাষ্ট্র পরিচালনা করতে সক্ষম।
- সাধারণ শাসকরা প্রায়ই লোভ, স্বার্থ ও অজ্ঞতার কারণে ভুল পথে চলে যায়। কিন্তু একজন দার্শনিক রাজা নৈতিকতা ও প্রজ্ঞার ভিত্তিতে রাষ্ট্রকে সঠিক পথে পরিচালিত করবেন।
- প্লেটোর দৃষ্টিতে আদর্শ শাসক হচ্ছেন দার্শনিক রাজা, যিনি জ্ঞান ও ন্যায়ের আলোকে সমাজকে কল্যাণের দিকে পরিচালিত করবেন।
সূত্রঃ পাশ্চাত্যের রাষ্ট্রচিন্তা– রাখী বর্মন

৪৮.
The main criticism of Plato by Aristotle was— (এরিস্টটল প্লেটোর প্রধান সমালোচনা করেছিলেন—)
  1. Unrealistic idealism (অবাস্তব আদর্শবাদ)
  2. Rejection of democracy (গণতন্ত্রকে প্রত্যাখ্যান করা)
  3. Emphasis on ethics (নীতিশাস্ত্রের উপর জোর)
  4. Class divisions (শ্রেণি বিভাজন)
ব্যাখ্যা

- প্লেটো (Plato) তাঁর Republic গ্রন্থে একটি Ideal State (আদর্শ রাষ্ট্র) কল্পনা করেছিলেন, যেখানে শাসক হবেন দার্শনিক রাজা, সমাজ তিন ভাগে বিভক্ত (শাসক, যোদ্ধা, উৎপাদক), এবং রাষ্ট্র পরিচালনা হবে জ্ঞান ও ন্যায়ের ভিত্তিতে। কিন্তু এরিস্টটল (Aristotle) এই ধারণাকে অবাস্তব ও কল্পনাপ্রসূত বলে সমালোচনা করেছিলেন। তাঁর মতে, প্লেটোর রাষ্ট্রব্যবস্থা বাস্তব সমাজে কার্যকর করা সম্ভব নয়।
- মানুষ প্রকৃতিগতভাবে ভিন্ন, তাই সম্পূর্ণ সমতার ভিত্তিতে কমিউনিজম বা সম্পত্তির যৌথ মালিকানা (Plato’s communism of wives and property) বাস্তবসম্মত নয়।
- এরিস্টটল বিশ্বাস করতেন, রাষ্ট্রকে গড়তে হলে মানুষের প্রকৃত আচরণ, সামাজিক বাস্তবতা ও ব্যবহারিক শাসনব্যবস্থাকে বিবেচনা করতে হবে।
- তিনি “best practicable state” বা Polity (পলিটি)-কে সর্বোত্তম রাষ্ট্রব্যবস্থা হিসেবে প্রস্তাব করেন।
- এরিস্টটল প্লেটোর দর্শনের প্রধান দুর্বলতা হিসেবে দেখিয়েছিলেন অবাস্তব আদর্শবাদ (Unrealistic idealism)।
সূত্রঃ পাশ্চাত্যের রাষ্ট্রচিন্তা– রাখী বর্মন

৪৯.
Taoist philosophy views power as— (তাওবাদী দর্শনে ক্ষমতা হলো—)
  1. Domination (প্রভুত্ব)
  2. Non-interference (হস্তক্ষেপহীনতা)
  3. Aggression (আক্রমণাত্মকতা)
  4. Military force (সামরিক শক্তি)
ব্যাখ্যা

- তাওবাদ (Taoism), যা লাওৎসি (Lao Tzu) প্রচার করেছিলেন, মূলত Dao বা Tao (“পথ” বা “স্বাভাবিক নিয়ম”) ধারণার ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠে।
- তাওবাদী দর্শনে প্রকৃতি ও সমাজের নিয়মে অযথা হস্তক্ষেপ না করার (non-interference / Wu Wei) ওপর জোর দেওয়া হয়।
- ক্ষমতা মানে কারো ওপর জবরদস্তি বা শাসন নয়, বরং মানুষকে তার স্বাভাবিক প্রবাহে চলতে দেওয়া।
- সুশাসন তখনই কার্যকর হয়, যখন শাসক জনগণের জীবনে অপ্রয়োজনীয়ভাবে হস্তক্ষেপ না করে বরং তাদের স্বাধীনভাবে বিকশিত হতে দেয়।
- তাওবাদের মতে, ক্ষমতার শ্রেষ্ঠ রূপ হলো অহস্তক্ষেপী নেতৃত্ব (leadership through non-interference)।
- তাওবাদী দর্শন ক্ষমতাকে জোর-জবরদস্তি বা সামরিক প্রভাব হিসেবে দেখে না; বরং হস্তক্ষেপহীন, প্রাকৃতিক সুষমার ভিত্তিতে শাসনের কথা বলে।
সূত্রঃ প্রাচ্যের রাষ্ট্রচিন্তা – বায়োজীদ আলম

৫০.
Hobbes argued that to avoid chaos, people should— (হবসের মতে, বিশৃঙ্খলা এড়াতে মানুষকে কী করা উচিত—)
  1. Follow moral virtues only (শুধুমাত্র নৈতিক গুণাবলি অনুসরণ করা)
  2. Engage in class struggle (শ্রেণী সংগ্রামে লিপ্ত হওয়া)
  3. Live freely without rules (নিয়ম ছাড়া স্বাধীনভাবে বসবাস করা)
  4. Enter a social contract and submit to a sovereign (সামাজিক চুক্তিতে প্রবেশ করে সার্বভৌম শাসকের অধীনস্থ হওয়া)
ব্যাখ্যা

- থমাস হবস তাঁর "Leviathan" (১৬৫১) গ্রন্থে প্রাকৃতিক অবস্থাকে (state of nature) অত্যন্ত বিপজ্জনক ও সহিংস বলে বর্ণনা করেছেন, যেখানে মানুষের জীবন ছিল— “একাকী, দরিদ্র, নৃশংস, পশুসুলভ ও সংক্ষিপ্ত।” এই অবস্থায় মানুষ একে অপরের বিরুদ্ধে যুদ্ধরত থাকত, যাকে বলা হয়— “সবার বিরুদ্ধে সবার যুদ্ধ।”
- এই বিশৃঙ্খলা থেকে মুক্তি পেতে হবসের মতে মানুষকে একটি সামাজিক চুক্তি (Social Contract) করতে হয়। এই চুক্তির মাধ্যমে মানুষ নিজেদের কিছু স্বাধীনতা ত্যাগ করে একটি সার্বভৌম শাসকের হাতে ক্ষমতা অর্পণ করে। সার্বভৌমই শান্তি, নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখবে।
- হবস বিশ্বাস করতেন যে বিশৃঙ্খলা এড়ানোর একমাত্র উপায় হলো সার্বভৌম শাসকের অধীন সামাজিক চুক্তি।তাঁর মতে, প্রাকৃতিক অবস্থায় মানুষের জীবন ছিল অত্যন্ত বিপজ্জনক, যেখানে— কেউ নিরাপদ ছিল না, প্রত্যেকে নিজের স্বার্থ রক্ষার জন্য অন্যের সঙ্গে সংঘাতে লিপ্ত হতো, এবং এর ফলে চলত “সবার বিরুদ্ধে সবার যুদ্ধ” (war of all against all)। এই অবস্থায় মানুষের জীবন হত— “solitary, poor, nasty, brutish, and short” (একাকী, দরিদ্র, নৃশংস, পশুসুলভ ও সংক্ষিপ্ত)। এই বিশৃঙ্খলা থেকে মুক্তির একমাত্র উপায়, হবসের মতে, হলো সামাজিক চুক্তি (Social Contract)।
সূত্রঃ আধুনিক রাষ্ট্রচিন্তা-মোহাম্মদ মোক্তার হোসেন।

৫১.
For Hobbes, rebellion against the sovereign— (হবসের মতে, সার্বভৌমের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ—)
  1. Is morally justified (নৈতিকভাবে ন্যায়সঙ্গত)
  2. Is necessary for democracy (গণতন্ত্রের জন্য প্রয়োজনীয়)
  3. Threatens social order (সামাজিক শৃঙ্খলার জন্য হুমকি)
  4. Enhances liberty (স্বাধীনতা বৃদ্ধি করে)
ব্যাখ্যা

- থমাস হবস তাঁর “Leviathan” গ্রন্থে বলেছেন যে মানুষ প্রাকৃতিক অবস্থায় (state of nature) ছিল অনিরাপদ, সহিংস ও বিশৃঙ্খল অবস্থায়। সেখানে জীবন ছিল “solitary, poor, nasty, brutish and short” অর্থাৎ একাকী, দরিদ্র, নৃশংস, পশুসুলভ ও সংক্ষিপ্ত।
- এই অবস্থা থেকে মুক্তি পেতে মানুষ একটি সামাজিক চুক্তি (Social Contract) করে। এই চুক্তির মাধ্যমে মানুষ নিজেদের কিছু স্বাধীনতা ত্যাগ করে এবং এক শক্তিশালী সার্বভৌম শাসকের হাতে ক্ষমতা অর্পণ করে। এই সার্বভৌমের প্রধান দায়িত্ব হলো সমাজে শান্তি, নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখা।
- হবসের মতে, একবার যখন সার্বভৌম ক্ষমতা প্রতিষ্ঠিত হয়, তখন তার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করা মানেই সামাজিক শৃঙ্খলা ধ্বংস করা। বিদ্রোহ হলে সমাজ আবার প্রাকৃতিক অবস্থার বিশৃঙ্খলা ও সহিংসতার দিকে ফিরে যাবে।
- হবসের মতে, সার্বভৌমের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ন্যায়সঙ্গত নয়। বিদ্রোহ গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার পথ নয়, বরং সমাজকে অরাজকতায় ঠেলে দেয়।
শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে মানুষকে সার্বভৌমকে নিঃশর্তভাবে মান্য করতে হবে।
- হবসের মতে সার্বভৌমের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করা মানে সমাজের শান্তি ও স্থিতিশীলতা ধ্বংস করা।
সূত্র: পাশ্চাত্যের রাষ্ট্রচিন্তা – রাখী বর্মন।

৫২.
Locke called the foundation of political authority— (লক রাজনৈতিক ক্ষমতার ভিত্তি কী বলে—)
  1. Divine decree (দৈব নির্দেশ)
  2. Military power (সামরিক শক্তি)
  3. Wealth (সম্পদ)
  4. Consent of the governed (শাসিতদের সম্মতি )
ব্যাখ্যা

- জন লক (John Locke) ছিলেন একজন প্রখ্যাত ইংরেজ দার্শনিক, যাকে আধুনিক গণতান্ত্রিক চিন্তার অন্যতম ভিত্তি স্থাপনকারী হিসেবে ধরা হয়। তিনি তাঁর গ্রন্থ “Two Treatises of Government” (১৬৯০)-এ রাজনৈতিক ক্ষমতার উৎস ও বৈধতা সম্পর্কে ব্যাখ্যা করেন।
- লকের মতে,প্রাকৃতিক অধিকার (Natural Rights): প্রতিটি মানুষ জন্মগতভাবে তিনটি মৌলিক অধিকার নিয়ে জন্মায়— জীবন (Life), স্বাধীনতা (Liberty) ও সম্পত্তি (Property)।
- সামাজিক চুক্তি (Social Contract): এই অধিকারগুলো রক্ষার জন্য মানুষ পারস্পরিক চুক্তির ভিত্তিতে একটি সরকার গঠন করে।
- শাসিতদের সম্মতি (Consent of the Governed): সরকারের ক্ষমতার বৈধতা আসে জনগণের সম্মতি থেকে। অর্থাৎ, সরকার জনগণের অনুমোদন ব্যতীত বৈধ নয়।
- বিদ্রোহের অধিকার (Right to Revolution): যদি কোনো সরকার জনগণের প্রাকৃতিক অধিকার লঙ্ঘন করে, তবে জনগণ সেই সরকারকে প্রত্যাখ্যান করে নতুন সরকার প্রতিষ্ঠার অধিকার রাখে।
- লকের মতে রাজনৈতিক ক্ষমতার আসল ভিত্তি হলো “শাসিতদের সম্মতি”। এ কারণেই তাঁকে আধুনিক গণতন্ত্রের “Father of Liberalism” বা “Father of Democracy” বলা হয়।
সূত্র: পাশ্চাত্যের রাষ্ট্রচিন্তা – রাখী বর্মন।

৫৩.
According to Locke, if the government violates natural rights— (লকের মতে, যদি সরকার প্রাকৃতিক অধিকার লঙ্ঘন করে—)
  1. Citizens must obey unconditionally (নাগরিকরা শর্তহীনভাবে আজ্ঞাবহ হতে হবে)
  2. Citizens should migrate (নাগরিকদের অভিবাসন করা উচিত)
  3. Citizens have the right to revolt (নাগরিকদের বিদ্রোহ করার অধিকার রয়েছে)
  4. Citizens should ignore the violation (নাগরিকরা লঙ্ঘনকে উপেক্ষা করবে)
ব্যাখ্যা

- জন লক (John Locke) প্রখ্যাত ইংরেজ দার্শনিক ও প্রাকৃতিক অধিকার তত্ত্বের প্রবক্তা। তিনি "Natural Rights" এবং "Social Contract" তত্ত্বে গভীর অবদান রেখেছেন।
- লকের মূল মতবাদ:
প্রাকৃতিক অধিকার (Natural Rights): মানুষ জন্মগতভাবে অধিকারী: জীবন, স্বাধীনতা ও সম্পত্তি। সরকার এই অধিকার রক্ষা করার জন্য প্রতিষ্ঠিত হয়।
সামাজিক চুক্তি (Social Contract): নাগরিকরা সরকারের প্রতি আনুগত্য প্রদর্শন করে, যদি সরকার তাদের প্রাকৃতিক অধিকার রক্ষা করে।
বিদ্রোহের অধিকার (Right to Revolt): যদি সরকার অন্যায়ভাবে নাগরিকদের প্রাকৃতিক অধিকার লঙ্ঘন করে, নাগরিকদের বিদ্রোহ করার অধিকার আছে। এটি লকের গণতান্ত্রিক ও স্বাধীনতার তত্ত্বের মূল ভিত্তি।
- লকের মতে, আনুগত্য সরকার প্রাকৃতিক অধিকার রক্ষা করলে প্রযোজ্য।
- সবাই অভিবাসন করতে পারে না, এটি কার্যকর সমাধান নয়।
- লক এটি নৈতিক ও রাজনৈতিকভাবে গ্রহণযোগ্য মনে করেন না।
- জন লকের মতে, সরকার যদি নাগরিকদের প্রাকৃতিক অধিকার লঙ্ঘন করে, নাগরিকদের বিদ্রোহ করার অধিকার রয়েছে।
সূত্র: আধুনিক রাষ্ট্রচিন্তা- মোহাম্মদ মোক্তার হোসেন।

৫৪.
The theory of separation of powers prevents— (ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ তত্ত্ব কি রোধ করে—)
  1. Efficient governance (কার্যকর শাসন)
  2. Tyranny and abuse of power (স্বৈরতন্ত্র ও ক্ষমতার অপব্যবহার)
  3. Class inequality (শ্রেণী বৈষম্য)
  4. Political participation (রাজনৈতিক অংশগ্রহণ)
ব্যাখ্যা

Separation of Powers (ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ ) হলো রাষ্ট্রের তিনটি প্রধান শাখা— Executive (নির্বাহী),Legislature (আইন বিভাগ),Judiciary (বিচার বিভাগ)-একসাথে নয়, পৃথকভাবে পরিচালিত হওয়া উচিত।
- ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণের উদ্দেশ্য: কোনো এক শাখা এককভাবে ক্ষমতা ধরে রাখলে জনগণ ও প্রতিষ্ঠানগুলো দমন হতে পারে।বিভাজন নিশ্চিত করে যে কোনো শাখা অন্য শাখার ওপর একতরফাভাবে আধিপত্য করতে পারে না।
- ক্ষমতার অপব্যবহার প্রতিরোধ: Legislative শাখা আইন তৈরি করে, Executive তা প্রয়োগ করে, Judiciary তা পর্যবেক্ষণ ও ব্যাখ্যা করে। একে অপরের উপর checks and balances প্রয়োগের মাধ্যমে ক্ষমতার অপব্যবহার কমানো যায়।
- ক্ষমতা বিভাজন প্রয়োগ করলে governance কিছু ক্ষেত্রে ধীরগতি হতে পারে; এটি মূল উদ্দেশ্য নয়।
- ক্ষমতা বিভাজন সামাজিক বৈষম্য রোধে সরাসরি প্রভাব ফেলে না।
- রাজনৈতিক অংশগ্রহণ নাগরিক অধিকার ও ভোটাধিকার দ্বারা নির্ধারিত; বিভাজনের উদ্দেশ্য নয়।
- ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ তত্ত্ব মূলত স্বৈরতন্ত্র ও ক্ষমতার অপব্যবহার প্রতিরোধ করতে ব্যবহৃত হয়, যাতে রাষ্ট্র ও নাগরিকদের উপর ন্যায্য ও ভারসাম্যপূর্ণ শাসন প্রতিষ্ঠা করা যায়।
সূত্র: আধুনিক রাষ্ট্রচিন্তা- মোহাম্মদ মোক্তার হোসেন।

৫৫.
Montesquieu argued that political liberty is best protected when—(মন্টেস্কুর মতে রাজনৈতিক স্বাধীনতা সবচেয়ে ভালোভাবে কিভাবে রক্ষা হয়—)
  1. Power is centralized (ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত থাকে)
  2. Powers are separated among legislative, executive, and judicial branches (শক্তি আইনসভা, নির্বাহী ও বিচার বিভাগের মধ্যে বিভক্ত থাকে)
  3. Sovereignty is absolute (সার্বভৌমত্ব সম্পূর্ণ হয়)
  4. People obey a single ruler (মানুষ এক শাসকের অধীন আজ্ঞাবহ থাকে)
ব্যাখ্যা

- Montesquieu (মন্টেস্কু) একজন প্রখ্যাত ফরাসি দার্শনিক, যিনি Separation of Powers (ক্ষমতা বিভাজন) তত্ত্বের প্রবক্তা।
- Political Liberty (রাজনৈতিক স্বাধীনতা): নাগরিকদের অধিকার ও স্বাধীনতা সংরক্ষণের জন্য শাসনের বিভিন্ন শাখা আলাদা থাকা উচিত।
- Division of Powers (ক্ষমতার বিভাজন):
Legislative (বিধানসভা): আইন প্রণয়ন করে।
Executive (নির্বাহী): আইন প্রয়োগ করে।
Judiciary (বিচার বিভাগ): আইন ব্যাখ্যা ও রক্ষা করে।
- লক্ষ্য: কোনো শাখা এককভাবে অত্যাচার বা ক্ষমতার অপব্যবহার করতে না পারে। Checks and balances নিশ্চিত করে নাগরিক অধিকার রক্ষা করা।
- কেন্দ্রীভূত ক্ষমতা স্বৈরতন্ত্রের দিকে নিয়ে যায়।
- একটি শাসকের হাতে সর্বাধিক ক্ষমতা থাকলে স্বাধীনতা রক্ষা করা যায় না।
- মানুষ এক শাসকের অধীন গণতান্ত্রিক স্বাধীনতার বিপরীত।
- মন্টেস্কুর মতে, রাজনৈতিক স্বাধীনতা সবচেয়ে ভালোভাবে রক্ষা হয় যখন ক্ষমতা আইনসভা, নির্বাহী ও বিচার বিভাগের মধ্যে বিভক্ত থাকে, যাতে কোনো শাখা এককভাবে অত্যাচার করতে না পারে।
সূত্র: আধুনিক রাষ্ট্রচিন্তা- মোহাম্মদ মোক্তার হোসেন।

৫৬.
Rousseau’s concept of General Will refers to— (রুশোর সাধারণ ইচ্ছা ধারণা কী বোঝায়—)
  1. Majority opinion (সংখ্যাগরিষ্ঠ মতামত)
  2. Collective interest of all citizens (সমস্ত নাগরিকের যৌথ স্বার্থ )
  3. Sovereign’s desire (সার্বভৌমের ইচ্ছা)
  4. Individual freedom only (শুধু ব্যক্তিগত স্বাধীনতা)
ব্যাখ্যা

- ফরাসি দার্শনিক জ্যঁ-জ্যাক রুশো তার গ্রন্থ The Social Contract-এ General Will (সাধারণ ইচ্ছা) ধারণাটি ব্যাখ্যা করেন।
- সাধারণ ইচ্ছা কোনো ব্যক্তির বা শাসকের ইচ্ছা নয়, বরং সমস্ত নাগরিকের মিলিত ও যৌথ স্বার্থের প্রকাশ।
- এটি সংখ্যাগরিষ্ঠ মতের সমান নয়; কারণ সংখ্যাগরিষ্ঠ কখনো কখনো ব্যক্তিগত বা গোষ্ঠীগত স্বার্থে সিদ্ধান্ত নিতে পারে। কিন্তু সাধারণ ইচ্ছা সর্বদা সামষ্টিক কল্যাণ বা সবার মঙ্গলকেই লক্ষ্য করে।
- রুশো মতে, প্রকৃত রাজনৈতিক বৈধতা আসে তখনই, যখন আইন ও রাষ্ট্রের সিদ্ধান্ত General Will-এর প্রতিফলন ঘটায়।
- General Will মানে হলো এমন এক যৌথ ইচ্ছা, যা প্রতিটি নাগরিকের সাধারণ মঙ্গলকে প্রতিনিধিত্ব করে, ব্যক্তিগত বা গোষ্ঠীগত স্বার্থকে নয়।
সূত্রঃ রাজনৈতিক তত্ত্ব পরিচিতি- এম রফিকুল ইসলাম

৫৭.
Rousseau differed from Hobbes because he believed— (রুশো হবস থেকে আলাদা কেন—)
  1. Humans are naturally good (মানুষ স্বভাবতই ভালো)
  2. Humans are naturally evil (মানুষ স্বভাবতই মন্দ)
  3. Rebellion is always wrong (বিদ্রোহ সর্বদা ভুল)
  4. Absolute monarchy is necessary (সর্বময় রাজতন্ত্র প্রয়োজনীয়)
ব্যাখ্যা

- থমাস হবস (Thomas Hobbes) এবং জ্যঁ-জ্যাক রুশো (Jean-Jacques Rousseau) দুজনেই Social Contract তত্ত্বের প্রবক্তা, তবে মানুষের স্বভাব সম্পর্কে তাদের ধারণা সম্পূর্ণ ভিন্ন ছিল।
হবসের মতে: মানুষ প্রকৃতিগতভাবে স্বার্থপর, ভয় ও সহিংসতায় ভরপুর। প্রাকৃতিক অবস্থায় জীবন ছিল “solitary, poor, nasty, brutish, and short” (একাকী, দরিদ্র, নোংরা, নিষ্ঠুর ও ক্ষণস্থায়ী)। তাই শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য মানুষকে তার স্বাধীনতা সার্বভৌম শাসকের হাতে সমর্পণ করতে হবে। এর ফলে হবস absolute monarchy (সর্বময় রাজতন্ত্র) সমর্থন করেন।
রুশোর মতে: মানুষ প্রকৃতিগতভাবে ভালো, শান্তিপ্রিয় ও সহানুভূতিশীল। কিন্তু ব্যক্তিগত সম্পত্তির উদ্ভবের ফলে বৈষম্য, প্রতিযোগিতা ও লোভ তৈরি হয় এবং মানুষ দুর্নীতিগ্রস্ত হয়। রুশো বিশ্বাস করতেন, রাষ্ট্র ও আইন এমন হতে হবে যা General Will (সাধারণ ইচ্ছা) প্রকাশ করে এবং মানুষের প্রাকৃতিক সৎ স্বভাব রক্ষা করে। তিনি হবসের মতো সর্বময় রাজতন্ত্রে নয়, বরং জনগণের সার্বভৌমত্বে আস্থা রাখেন।
- হবস মানুষের স্বভাবকে মন্দ ও বিপজ্জনক মনে করেছিলেন, কিন্তু রুশো বিশ্বাস করতেন মানুষ স্বভাবতই ভালো।
সূত্র: আধুনিক রাষ্ট্রচিন্তা- মোহাম্মদ মোক্তার হোসেন।

৫৮.
The theory of surplus value explains— (উদ্বৃত্ত মূল্য তত্ত্ব কী বোঝায়—)
  1. How labor creates profit for capitalists (কিভাবে শ্রমিকদের শ্রম পুঁজিপতিদের জন্য মুনাফা তৈরি করে)
  2. How kings gain authority (রাজারা কিভাবে কর্তৃত্ব লাভ করে)
  3. How states emerge naturally (রাষ্ট্র কিভাবে স্বাভাবিকভাবে উদ্ভব হয়)
  4. How democracy functions (গণতন্ত্র কিভাবে কাজ করে)
ব্যাখ্যা

- কার্ল মার্ক্স (Karl Marx) তার Das Kapital গ্রন্থে উদ্বৃত্ত মূল্য তত্ত্ব (Theory of Surplus Value) ব্যাখ্যা করেন।
শ্রমিক তার শ্রমশক্তি বিক্রি করে মজুরি পায়। কিন্তু শ্রমিকের শ্রম দ্বারা যে মূল্য সৃষ্টি হয়, তা শ্রমিকের মজুরির চেয়ে অনেক বেশি। এই অতিরিক্ত অংশটিই হলো Surplus Value (অতিরিক্ত মূল্য), যা পুঁজিপতির কাছে মুনাফা হিসেবে জমা হয়।
উদাহরণ: একজন শ্রমিক দিনে ৮ ঘণ্টা কাজ করে। ৪ ঘণ্টার শ্রমেই তার মজুরির সমান মূল্য তৈরি হয়ে যায়। বাকি ৪ ঘণ্টার শ্রম দ্বারা যে মূল্য তৈরি হয়, সেটি শ্রমিক পায় না; বরং পুঁজিপতি তা লাভ হিসেবে গ্রহণ করে।
- উদ্বৃত্ত মূল্য তত্ত্ব মূলত ব্যাখ্যা করে—কিভাবে শ্রমিকের শ্রম শোষণ করে পুঁজিপতিরা মুনাফা অর্জন করে।
সূত্র: আধুনিক রাষ্ট্রচিন্তা- মোহাম্মদ মোক্তার হোসেন।

৫৯.
Mao’s policies emphasized— (মাও-এর নীতি কী জোর দেয়—)
  1. Market liberalization (বাজার উদারীকরণ)
  2. Class struggle and ideological purity (শ্রেণি সংগ্রাম ও আদর্শগত শুদ্ধতা)
  3. Religious tolerance (ধর্মীয় সহনশীলতা)
  4. Decentralized governance (বিকেন্দ্রীকৃত শাসনব্যবস্থা)
ব্যাখ্যা

- মাও সেতুং (Mao Zedong) ছিলেন চীনের কমিউনিস্ট বিপ্লবের নেতা এবং গণপ্রজাতন্ত্রী চীনের প্রতিষ্ঠাতা। তার নীতির মূল লক্ষ্য ছিল মার্ক্সবাদ-লেনিনবাদকে চীনের বাস্তবতায় রূপান্তর করা।
- তিনি বিশ্বাস করতেন শ্রেণি সংগ্রাম (Class Struggle) হলো সমাজ পরিবর্তনের চালিকাশক্তি।
- মাও-এর মতে, শুধু অর্থনৈতিক পরিবর্তন নয়, আদর্শগত শুদ্ধতা (Ideological Purity) বজায় রাখা জরুরি, যাতে জনগণ কমিউনিস্ট নীতির প্রতি অনুগত থাকে।
- তার নীতির প্রতিফলন দেখা যায়— Great Leap Forward (1958–62): কৃষি ও শিল্পে সমবায়ীকরণ ও দ্রুত আধুনিকীকরণের প্রচেষ্টা।
Cultural Revolution (1966–76): “বুর্জোয়া” বা পুঁজিবাদী প্রভাব দূর করে বিপ্লবী মানসিকতা জোরদার করা।
- মাও-এর নীতি জোর দিত শ্রেণি সংগ্রাম চালিয়ে যাওয়া এবং কমিউনিস্ট আদর্শকে নির্মল রাখা।
সূত্র: আধুনিক রাষ্ট্রচিন্তা- মোহাম্মদ মোক্তার হোসেন।

৬০.
Marxist analysis is useful for understanding— (মার্কসবাদী বিশ্লেষণ বোঝার জন্য উপযোগী—)
  1. Political economy and power relations (রাজনৈতিক অর্থনীতি ও ক্ষমতার সম্পর্ক বোঝার জন্য)
  2. Only elections (শুধুমাত্র নির্বাচন)
  3. Rituals (আচার-অনুষ্ঠান)
  4. Communication strategies (যোগাযোগ কৌশল)
ব্যাখ্যা

- মার্কসবাদী বিশ্লেষণ (Marxist Analysis) কার্ল মার্ক্স এবং ফ্রিডরিখ এঙ্গেলসের তত্ত্বের ওপর ভিত্তি করে। এটি মূলত অর্থনৈতিক কাঠামো ও শ্রেণি সম্পর্ককে কেন্দ্রে রাখে।
- বিশ্লেষণ করে কিভাবে উৎপাদন পদ্ধতি ও সম্পদের বণ্টন সামাজিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সম্পর্ককে প্রভাবিত করে।
উদাহরণস্বরূপ: শ্রমিক ও পুঁজিপতির মধ্যে শ্রেণি সংঘর্ষ। রাষ্ট্র ও আইন কীভাবে পুঁজিপতি শ্রেণির স্বার্থ রক্ষা করে। অর্থনৈতিক ও সামাজিক বৈষম্যের প্রভাব রাজনৈতিক শক্তিতে।
- মার্কসবাদী বিশ্লেষণ আমাদের শেখায় কিভাবে অর্থনীতি ও ক্ষমতার সম্পর্ক সমাজের গঠন ও রাজনীতিকে প্রভাবিত করে।
সূত্রঃ রাজনীতি অধ্যয়ন পদ্ধতি – মোহাম্মদ আবদুস সালাম

৬১.
According to Marxist theory, the state primarily serves— (মার্কসবাদী তত্ত্ব অনুযায়ী রাষ্ট্র প্রধানত সেবা করে—)
  1. Elite interests (অভিজাতদের স্বার্থ)
  2. Bourgeoisie class (পুঁজিপতি শ্রেণির স্বার্থ)
  3. Working class (শ্রমিক শ্রেণি)
  4. Media institutions (মিডিয়া প্রতিষ্ঠানগুলো)
ব্যাখ্যা

- মার্কসবাদী তত্ত্ব (Marxist Theory) অনুযায়ী রাষ্ট্র কোনো নিরপেক্ষ প্রতিষ্ঠান নয়। রাষ্ট্র হলো শ্রেণি আধিপত্য বজায় রাখার যন্ত্র।
- পুঁজিপতি শ্রেণি (Bourgeoisie) অর্থ ও উৎপাদনের মাধ্যম নিয়ন্ত্রণ করে এবং রাষ্ট্রের মাধ্যমে নিজেদের স্বার্থ সুরক্ষিত করে।
- উদাহরণস্বরূপ: আইন, পুলিশ, সামরিক বাহিনী ইত্যাদি প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো মূলত পুঁজিপতি শ্রেণির ক্ষমতা রক্ষা ও শ্রমিক শ্রেণির শোষণ পরিচালনার জন্য ব্যবহৃত হয়।
- শ্রমিক শ্রেণির স্বার্থে রাষ্ট্র কার্যকর হয় না; বরং শ্রমিকদের শোষণ চালিয়ে যায়।
- মার্কসবাদী দৃষ্টিকোণ থেকে রাষ্ট্র হলো পুঁজিপতি শ্রেণির স্বার্থ সুরক্ষার একটি উপকরণ।
সূত্রঃ রাজনীতি অধ্যয়ন পদ্ধতি – মোহাম্মদ সানাউল্যাহ

৬২.
Marxist approach views politics as— (মার্কসবাদী পদ্ধতি রাজনীতিকে কিভাবে দেখায়—)
  1. Struggle between classes (শ্রেণি সংগ্রামের মধ্যে)
  2. Elite negotiation (অভিজাতদের মধ্যে সমঝোতা)
  3. System inputs (সিস্টেম ইনপুট)
  4. Communication process (যোগাযোগ প্রক্রিয়া)
ব্যাখ্যা

- মার্কসবাদী পদ্ধতি (Marxist Approach) রাজনীতিকে শ্রেণি সংগ্রামের (Class Struggle) দৃষ্টিকোণ থেকে বিশ্লেষণ করে।
- সমাজ মূলত দুই প্রধান শ্রেণিতে বিভক্ত: পুঁজিপতি (Bourgeoisie) – যারা উৎপাদনের উপায় নিয়ন্ত্রণ করে, শ্রমিক (Proletariat) – যারা শ্রম বিক্রি করে।
- রাষ্ট্র, আইন, অর্থনীতি ও রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানগুলি মূলত শ্রেণি শক্তি ও শোষণ বজায় রাখার জন্য কাজ করে।
- রাজনীতি কোনো নিরপেক্ষ বা স্বতন্ত্র প্রক্রিয়া নয়; বরং এটি শ্রেণি দ্বন্দ্বের প্রকাশ।
- উদাহরণ: শ্রমিকদের আন্দোলন, শ্রম বৈষম্য, শ্রম আইন ইত্যাদি সবই এই শ্রেণি সংগ্রামের ফল।
- মার্কসবাদী দৃষ্টিতে রাজনীতি হলো পুঁজিপতি ও শ্রমিক শ্রেণির মধ্যে শক্তি ও স্বার্থের সংগ্রাম।
সূত্রঃ রাজনীতি অধ্যয়ন পদ্ধতি – মোহাম্মদ সানাউল্যাহ

৬৩.
Freud’s psychoanalytic approach suggests— (ফ্রয়েডের সাইকোঅ্যানালিটিক পদ্ধতি নির্দেশ করে—)
  1. Institutions control behavior (প্রতিষ্ঠানগুলো আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে)
  2. Groups dictate decisions (গোষ্ঠী সিদ্ধান্ত নির্ধারণ করে)
  3. Leaders’ unconscious motives shape politics (নেতাদের অজানা মানসিক প্রেরণা রাজনীতিকে প্রভাবিত করে )
  4. Rationality is absolute (যুক্তি সর্বশক্তিমান)
ব্যাখ্যা

- সিগমুন্ড ফ্রয়েড (Sigmund Freud) মনস্তত্ত্ববিদ ও সাইকোঅ্যানালিসিসের প্রতিষ্ঠাতা। তার মনস্তাত্ত্বিক পদ্ধতি রাজনীতিকে মানব মন ও অজানা (Unconscious) প্রেরণার প্রভাব দিয়ে বিশ্লেষণ করে।
- ফ্রয়েড বলেন, নেতাদের ব্যক্তিগত অজানা আবেগ, আকাঙ্ক্ষা ও ভয় তাদের রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত ও আচরণকে প্রভাবিত করে।
উদাহরণ: নেতার অতীত ট্রমা বা ব্যক্তিগত সংবেদনশীলতা কৌশলগত সিদ্ধান্তে প্রতিফলিত হতে পারে। রাষ্ট্র বা প্রতিষ্ঠানগুলোয় অজানা মানসিক প্রেরণার ছাপ দেখা যায়।
- এই পদ্ধতি রাজনৈতিক বিশ্লেষণে মানবিক এবং মানসিক দিক বোঝার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
- ফ্রয়েডের মতে, রাজনৈতিক আচরণ ও সিদ্ধান্ত অনেকাংশে নেতাদের অজানা মানসিক প্রেরণা দ্বারা নির্ধারিত হয়।
সূত্রঃ রাজনীতি অধ্যয়ন পদ্ধতি – মোহাম্মদ সানাউল্যাহ

৬৪.
Propaganda is an example of— (প্রচারণা উদাহরণ—)
  1. Conflict (সংঘাত)
  2. Political communication (রাজনৈতিক যোগাযোগ)
  3. Decision-making (সিদ্ধান্ত গ্রহণ)
  4. Structural-functional process (গঠনমূলক-কার্যকর প্রক্রিয়া)
ব্যাখ্যা

- প্রচারণা (Propaganda) হলো রাজনৈতিক বা সামাজিক উদ্দেশ্য পূরণের জন্য মানুষের মন ও ধারণাকে প্রভাবিত করার কৌশল।
- এটি রাজনৈতিক যোগাযোগের (Political Communication) একটি প্রধান উদাহরণ।প্রচারণার মাধ্যমে সরকার, রাজনৈতিক দল বা নেতারা জনগণের মতামত, বিশ্বাস ও আচরণ পরিবর্তন করার চেষ্টা করে।
- উদাহরণ: নির্বাচনী প্রচারণা, রাষ্ট্রের স্লোগান, মিডিয়ায় প্রকাশিত বার্তা ইত্যাদি।
- লক্ষ্য হলো জনমত আকার দেওয়া, সমর্থন অর্জন করা এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্য সম্পন্ন করা।
- প্রচারণা হলো রাজনৈতিক যোগাযোগের একটি মাধ্যম, যা মানুষের মনোভাব ও রাজনৈতিক আচরণ প্রভাবিত করে।
সূত্রঃ রাজনীতি অধ্যয়ন পদ্ধতি – মোহাম্মদ সানাউল্যাহ

৬৫.
A criticism of decision-making and game theory approaches is— (সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও ক্রীড়া তত্ত্ব পদ্ধতির সমালোচনা হলো—)
  1. Too focused on institutions (প্রতিষ্ঠানগুলোতে অত্যধিক ফোকাস করা)
  2. Neglects elite behavior (অভিজাতদের আচরণ উপেক্ষা করা)
  3. Overly rational and ignores social context (অত্যধিক যুক্তিসঙ্গত এবং সামাজিক প্রেক্ষাপট উপেক্ষা করা)
  4. Ignores conflict (সংঘাত উপেক্ষা করা)
ব্যাখ্যা

- Decision-Making Approach ও Game Theory Approach রাজনীতিতে নীতিগত সিদ্ধান্ত এবং কৌশলগত নির্বাচনের উপর গুরুত্ব দেয়।
- এই পদ্ধতিগুলো প্রায়শই যৌক্তিক বেছে নেওয়া এবং কৌশলগত হিসাবকে কেন্দ্র করে।
- সমালোচনা হলো:তারা মানুষের সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটকে প্রায়শই উপেক্ষা করে। বাস্তবে রাজনৈতিক সিদ্ধান্তগুলো শুধুমাত্র যুক্তি ও কৌশলের দ্বারা নয়, ব্যক্তিগত আবেগ, সামাজিক চাপ এবং ঐতিহ্য দ্বারা প্রভাবিত হয়। এই পদ্ধতি কিছু সময় বাস্তব রাজনীতির জটিলতা পুরোপুরি ব্যাখ্যা করতে পারে না।
- সমালোচনা হচ্ছে যে Decision-Making এবং Game Theory পদ্ধতি অত্যধিক যুক্তিসঙ্গত এবং রাজনৈতিক ও সামাজিক বাস্তবতার প্রেক্ষাপটকে উপেক্ষা করে।
সূত্রঃ রাজনীতি অধ্যয়ন পদ্ধতি – সৈয়দ নুরুল হক

৬৬.
Conflict theory views politics as— (সংঘর্ষ তত্ত্ব রাজনীতিকে কিভাবে দেখায়—)
  1. Harmony among groups (গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে সাদৃশ্য)
  2. Continuous struggle over power and resources (ক্ষমতা ও সম্পদের উপর অবিরাম সংগ্রাম )
  3. Neutral decision-making (নিরপেক্ষ সিদ্ধান্ত গ্রহণ)
  4. Institutional processes (প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়া)
ব্যাখ্যা

- Conflict Theory (সংঘর্ষ তত্ত্ব) সমাজ ও রাজনীতিকে শক্তি ও সম্পদের জন্য ধারাবাহিক সংগ্রামের প্রেক্ষাপটে বিশ্লেষণ করে।
সমাজ বিভিন্ন শ্রেণি, গোষ্ঠী ও অংশীদারদের দ্বারা গঠিত।
- এই গোষ্ঠীগুলোর স্বার্থ সাধারণত মিলিত নয়, বরং প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। রাজনীতি মূলত ক্ষমতা অর্জন, নিয়ন্ত্রণ ও বিতরণের জন্য সংঘর্ষের মঞ্চ।
- উদাহরণ: শ্রমিক ও পুঁজিপতির দ্বন্দ্ব,রাজনীতি ও অর্থনৈতিক সম্পদের নিয়ন্ত্রণ। বর্ণ, ধর্ম বা সামাজিক শ্রেণির ভিত্তিতে সংঘর্ষ
- সংঘর্ষ তত্ত্বে রাজনীতি হলো ক্ষমতা ও সম্পদের জন্য চলমান সংগ্রাম, যেখানে সমাজের বিভিন্ন গোষ্ঠীর স্বার্থের সংঘর্ষ প্রতিফলিত হয়।
সূত্রঃ রাজনীতি অধ্যয়ন পদ্ধতি – সৈয়দ নুরুল হক

৬৭.
Decision-making theory in politics focuses on— (রাজনীতিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ তত্ত্ব ফোকাস করে—)
  1. Elite theory (অভিজাত তত্ত্ব)
  2. Group negotiation (গোষ্ঠী-সমঝোতা)
  3. How choices are made and their consequences (কিভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় এবং এর ফলাফল)
  4. Structural-functionalism (গঠনমূলক-কার্যতত্ত্ব)
ব্যাখ্যা

- Decision-Making Theory (সিদ্ধান্ত গ্রহণ তত্ত্ব) রাজনীতিতে মনস্তাত্ত্বিক, কৌশলগত এবং প্রাতিষ্ঠানিক দিক থেকে সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়াকে বিশ্লেষণ করে।
- মূল ফোকাস:
কিভাবে রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় – ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর মধ্যে তথ্য বিশ্লেষণ, বিকল্প মূল্যায়ন, ঝুঁকি ও লাভের হিসাব।
সিদ্ধান্তের ফলাফল কী হয় – রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক প্রভাব।
- এটি রাজনীতিকে শুধুমাত্র শক্তি বা প্রতিষ্ঠান অনুযায়ী নয়, বরং যুক্তি, কৌশল ও প্রক্রিয়ার ভিত্তিতে বোঝার চেষ্টা করে।
- উদাহরণ: রাষ্ট্রপতি বা প্রধানমন্ত্রী কোনো নীতি গ্রহণ করার আগে সম্ভাব্য বিকল্প বিশ্লেষণ, পরিণতি অনুমান এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণ।
- Decision-Making Theory রাজনীতিতে প্রধানত লক্ষ্য করে “কিভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় এবং এর ফলাফল কী।”
সূত্রঃ রাজনীতি অধ্যয়ন পদ্ধতি – সৈয়দ নুরুল হক

৬৮.
Role conflict occurs when— (ভূমিকা সংঘর্ষ ঘটে যখন—)
  1. Institutions are weak (প্রতিষ্ঠান দুর্বল)
  2. Expectations of different roles clash (বিভিন্ন ভূমিকার প্রত্যাশা সংঘর্ষে আসে)
  3. Laws are violated (আইন লঙ্ঘন করা হয়)
  4. Political parties compete (রাজনৈতিক দলগুলো প্রতিযোগিতা করে)
ব্যাখ্যা

- Role Conflict (ভূমিকা সংঘর্ষ) হলো একটি সামাজিক বা রাজনৈতিক পরিস্থিতি যেখানে একজন ব্যক্তি একই সময়ে বিভিন্ন ভূমিকা পালন করতে গিয়ে দ্বন্দ্বে পড়ে।
- প্রত্যেক সামাজিক বা রাজনৈতিক অবস্থানে কিছু অপেক্ষা (expectations) থাকে।
- যদি একজন ব্যক্তি একাধিক ভূমিকা পালন করে এবং এই প্রত্যাশাগুলো পরস্পরের সাথে বিরোধ করে, তখন ভূমিকা সংঘর্ষ ঘটে।
- উদাহরণ: একজন সংসদ সদস্য একই সময়ে দলীয় নীতি অনুসরণ করতে চায় কিন্তু নাগরিকের কল্যাণও বজায় রাখতে হবে।
একজন সরকারি কর্মকর্তা পরিবারের দায়িত্ব ও অফিসের নির্দেশের মধ্যে দ্বন্দ্ব অনুভব করতে পারে।
- ভূমিকা সংঘর্ষ ঘটে যখন একজন ব্যক্তির একাধিক ভূমিকার প্রত্যাশা পরস্পরের সাথে সংঘর্ষে আসে।
সূত্রঃ রাজনীতি অধ্যয়ন পদ্ধতি – সৈয়দ নুরুল হক

৬৯.
Interest groups influence policy by— (স্বার্থ গ্রুপগুলি নীতি প্রভাবিত করে—)
  1. Organizing collective action (সমষ্টিগত উদ্যোগ সংগঠিত করে)
  2. Creating new institutions (নতুন প্রতিষ্ঠান তৈরি করে)
  3. Controlling military (সামরিক নিয়ন্ত্রণ করে)
  4. Ignoring legislation (আইন উপেক্ষা করে)
ব্যাখ্যা

- Interest Groups (স্বার্থ গ্রুপ) হলো এমন সংগঠন বা গোষ্ঠী, যারা নির্দিষ্ট অর্থনৈতিক, সামাজিক বা রাজনৈতিক স্বার্থ রক্ষা করতে কাজ করে।
- তারা সরকার ও নীতি প্রণয়ন প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করার জন্য সমষ্টিগত উদ্যোগ (Collective Action) গ্রহণ করে।
কার্যক্রমের উদাহরণ:
- লবিং (Lobbying): আইন প্রণেতাদের উপর প্রভাব ফেলা।
প্রচারণা (Campaigns): জনমত গঠন করা।
প্রতিবাদ বা বিক্ষোভ: সরকারের নীতি পরিবর্তনের চেষ্টা করা।
- লক্ষ্য হলো নীতি বা আইনকে তাদের স্বার্থের উপযোগী করা, সরকার বা প্রশাসনের মাধ্যমে।
- Interest Groups নীতি প্রভাবিত করে মূলত সমষ্টিগত উদ্যোগ ও সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে।
সূত্রঃ রাজনীতি অধ্যয়ন পদ্ধতি – সৈয়দ নুরুল হক

৭০.
Pareto’s contribution to elite theory emphasizes— (পারেটোর এলিট তত্ত্বের অবদান জোর দেয়—)
  1. Citizen participation (নাগরিক অংশগ্রহণ)
  2. Group negotiation (গোষ্ঠী সমঝোতা)
  3. Decision-making models (সিদ্ধান্ত গ্রহণের মডেল)
  4. Circulation of elites (এলিটদের পর্যায়ক্রমিক পরিবর্তন/চক্র)
ব্যাখ্যা

- ভিলফ্রেডো পারেটো (Vilfredo Pareto) একজন ইতালীয় সমাজতত্ত্ববিদ এবং অর্থনীতিবিদ, যিনি এলিট তত্ত্ব (Elite Theory)-এর ওপর গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন।
- পারেটোর মূল ধারণা: সমাজ সর্বদা একটি ছোট এলিট শ্রেণি দ্বারা শাসিত হয়। তিনি উল্লেখ করেছিলেন যে সমাজে এলিটদের স্থায়িত্ব নয়, বরং তাদের পর্যায়ক্রমিক পরিবর্তন (Circulation of Elites) ঘটে। দক্ষ, সক্ষম বা প্রভাবশালী নতুন ব্যক্তি বা গোষ্ঠী পূর্ববর্তী এলিটদের স্থান নেয়।
- এটি বোঝায় যে ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু সবসময় কিছু সংখ্যক মানুষের হাতে থাকে, তবে সেই মানুষের পরিচয় বা গোষ্ঠী পরিবর্তিত হতে পারে।
উদাহরণ: রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক বা সামরিক এলিটদের মধ্যে নতুন প্রজন্মের আগমন পূর্ববর্তী এলিটদের স্থান নেয়, ফলে সমাজে নিরবিচ্ছিন্ন ক্ষমতার চক্র সৃষ্টি হয়।
- পারেটোর এলিট তত্ত্বে মূল জোর হলো “Circulation of Elites” – ক্ষমতার সংরক্ষণ কিন্তু শাসকগোষ্ঠীর পর্যায়ক্রমিক পরিবর্তন।
সূত্রঃ রাজনীতি অধ্যয়ন পদ্ধতি – সৈয়দ নুরুল হক

৭১.
According to elite theory, policy decisions are made by— (এলিট তত্ত্ব অনুযায়ী, নীতি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়—)
  1. Majority of voters (ভোটারদের সংখ্যাগরিষ্ঠ)
  2. Media agencies (মিডিয়া সংস্থা)
  3. Small influential group (ছোট, প্রভাবশালী গোষ্ঠী)
  4. International organizations (আন্তর্জাতিক সংস্থা)
ব্যাখ্যা

- Elite Theory (এলিট তত্ত্ব) অনুযায়ী, সমাজে সব ধরনের সিদ্ধান্ত বা ক্ষমতা সব মানুষ দ্বারা সমানভাবে বিতরণিত হয় না। নীতি এবং সিদ্ধান্তগুলো প্রায়শই ছোট, প্রভাবশালী গোষ্ঠী বা এলিটদের হাতে কেন্দ্রীভূত থাকে।
- এই এলিটরা রাজনীতি, অর্থনীতি, সামরিক শক্তি বা সামাজিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ক্ষমতা পরিচালনা করে। সাধারণ জনগণ প্রায়শই এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় সরাসরি অংশগ্রহণ করতে পারে না; তাদের প্রভাব সীমিত।
উদাহরণ: গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রনীতি বা অর্থনৈতিক নীতি প্রায়শই নির্বাচিত সরকার নয়, বড় ব্যবসায়ী, রাজনৈতিক নেতা বা সামরিক এলিটদের দ্বারা প্রভাবিত হয়।
- নির্বাচনে জনগণের ভোট থাকা সত্ত্বেও, নীতি তৈরিতে প্রকৃত প্রভাবশালী গোষ্ঠীই মূল ভূমিকা রাখে।
- এলিট তত্ত্বে নীতি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় একটি ছোট, প্রভাবশালী গোষ্ঠী দ্বারা, যেখানে সাধারণ জনগণের সরাসরি অংশগ্রহণ সীমিত।
সূত্রঃ রাজনীতি অধ্যয়ন পদ্ধতি – মোহাম্মদ সানাউল্যাহ

৭২.
Elite theory argues that— (এলিট তত্ত্বে যুক্তি দেওয়া হয়—)
  1. Power is widely distributed (ক্ষমতা বিস্তৃতভাবে বিতরণ করা হয়েছে)
  2. Power is concentrated in a small group (ক্ষমতা একটি ছোট গোষ্ঠীর মধ্যে কেন্দ্রীভূত)
  3. Citizens control political decisions (নাগরিকরা রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নিয়ন্ত্রণ করে)
  4. Media controls the elite (মিডিয়া এলিটকে নিয়ন্ত্রণ করে)
ব্যাখ্যা

- Elite Theory (এলিট তত্ত্ব) সামাজিক ও রাজনৈতিক তত্ত্বের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। এই তত্ত্বে বলা হয়, সমাজের সব ক্ষমতা সমানভাবে ছড়ানো নেই। বরং একটি ছোট, প্রভাবশালী গোষ্ঠী (Elite) সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক সিদ্ধান্ত নিয়ন্ত্রণ করে।
- সাধারণ জনগণ প্রায়শই ক্ষমতার কেন্দ্রে পৌঁছাতে পারে না; তাদের প্রভাব সীমিত। ক্ষমতার এই কেন্দ্রীভূত ধারা সমাজের স্থিতিশীলতা বজায় রাখে, তবে কখনও কখনও জনগণের স্বার্থের সঙ্গে বিরোধ তৈরি করতে পারে।
উদাহরণ: রাজনীতিতে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, বড় ব্যবসায়ী ও সেনা নেতা একত্রিত হয়ে নীতি নির্ধারণে প্রধান ভূমিকা রাখে।
সাধারণ ভোটার বা নাগরিকের সরাসরি প্রভাব তুলনামূলকভাবে কম।
- এলিট তত্ত্বে মূল যুক্তি হলো ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত এবং একটি ছোট প্রভাবশালী গোষ্ঠীর হাতে কেন্দ্রীভূত থাকে।
সূত্রঃ রাজনীতি অধ্যয়ন পদ্ধতি – মোহাম্মদ সানাউল্যাহ

৭৩.
In structural-functional analysis, change is viewed as— (কাঠামো-কার্যগত বিশ্লেষণে, পরিবর্তনকে দেখা হয়—)
  1. Disruptive only (শুধুমাত্র বিঘ্নকারী)
  2. Adaptive process (অভিযোজিত প্রক্রিয়া)
  3. Irrelevant (প্রাসঙ্গিক নয়)
  4. Random (এলোমেলো)
ব্যাখ্যা

- Structural-Functional Analysis (কাঠামো-কার্যগত বিশ্লেষণ) সমাজ এবং রাজনীতিকে একটি সামঞ্জস্যপূর্ণ কাঠামো ও কার্যকারিতা হিসেবে বিশ্লেষণ করে।
- এই তত্ত্বে পরিবর্তনকে নেতিবাচক বা এলোমেলো ঘটনা হিসেবে নয়, বরং সমাজ বা রাজনৈতিক ব্যবস্থার অভিযোজন এবং সমন্বয় প্রক্রিয়া হিসেবে দেখা হয়।
- পরিবর্তন একটি প্রাকৃতিক ও সমন্বয়মূলক প্রক্রিয়া, যা সমাজ বা রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানকে তাদের পরিবেশের সাথে মানিয়ে নিতে সাহায্য করে।
উদাহরণ: নতুন আইন বা নীতি প্রবর্তন → সামাজিক কাঠামোর সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া।
প্রযুক্তিগত পরিবর্তন → প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার অভিযোজন।
- Structural-Functional Analysis অনুযায়ী, পরিবর্তন হলো সমাজ ও রাজনীতির অভিযোজন এবং সামঞ্জস্য রক্ষার প্রক্রিয়া।
সূত্রঃ রাজনীতি অধ্যয়ন পদ্ধতি – মোহাম্মদ সানাউল্যাহ

৭৪.
Which is an example of a political function? (রাজনৈতিক কার্যকারিতার উদাহরণ কোনটি?)
  1. Art performance (শিল্পকলা প্রদর্শন)
  2. Religious ceremony (ধর্মীয় অনুষ্ঠান)
  3. Voting and legislation (ভোট ও আইন প্রণয়ন)
  4. Scientific research (বৈজ্ঞানিক গবেষণা)
ব্যাখ্যা

- Political Function (রাজনৈতিক কার্যকারিতা) হলো সেই কার্যকলাপ যা রাষ্ট্র, সরকার বা রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানগুলো দ্বারা ক্ষমতা, নীতি ও শাসন প্রক্রিয়া পরিচালনার জন্য সম্পাদিত হয়।
উদাহরণ: ভোটদান (Voting): নাগরিকরা তাদের প্রতিনিধি বা সরকার নির্বাচন করে।
আইন প্রণয়ন (Legislation): আইনসভা বা সংসদ নীতি নির্ধারণ করে।
- এর মাধ্যমে নাগরিকদের স্বার্থ ও সমাজের নিয়ম-নীতি পরিচালিত হয়।
- অন্য কার্যক্রম যেমন ধর্মীয় অনুষ্ঠান, শিল্পকলা বা বৈজ্ঞানিক গবেষণা সরাসরি রাজনৈতিক ক্ষমতা বা নীতির সঙ্গে সম্পর্কিত নয়।
- রাজনৈতিক কার্যকারিতা হলো এমন কাজ যা সরকার বা রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষমতা, নিয়ন্ত্রণ ও নীতি প্রণয়নের সঙ্গে সম্পর্কিত।
সূত্রঃ রাজনীতি অধ্যয়ন পদ্ধতি – সৈয়দ নুরুল হক

৭৫.
A limitation of system analysis approach is— (পদ্ধতি বিশ্লেষণ পদ্ধতির একটি সীমাবদ্ধতা হলো—)
  1. Ignores institutions (প্রতিষ্ঠানগুলো উপেক্ষা করে)
  2. Overlooks historical context (ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট উপেক্ষা করে)
  3. Focuses on elite power (এলিটদের ক্ষমতার উপর ফোকাস করে)
  4. Neglects group dynamics (গোষ্ঠী গতিশীলতা উপেক্ষা করে)
ব্যাখ্যা

- System Analysis Approach (পদ্ধতি বিশ্লেষণ পদ্ধতি) রাজনীতি ও সামাজিক প্রক্রিয়াকে একটি ইনপুট → প্রক্রিয়া → আউটপুট (Input → Process → Output) মডেলের মাধ্যমে বোঝার চেষ্টা করে।
মূল সুবিধা: নীতি প্রক্রিয়া, সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং ফলাফলের বিশ্লেষণ সহজ হয়। রাজনৈতিক সিস্টেমের স্থিতিশীলতা ও কার্যকারিতা বোঝা যায়।
সীমাবদ্ধতা: এটি প্রায়শই ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট (Historical Context) উপেক্ষা করে। অর্থাৎ, সমাজ ও রাজনীতির পরিবর্তন, ইতিহাস, সংস্কৃতি ও সামাজিক প্রভাবগুলো বিশ্লেষণে পর্যাপ্তভাবে ধরা হয় না। ফলে, বাস্তব রাজনীতির জটিলতা এবং ইতিহাসের ভূমিকা সঠিকভাবে বোঝা কঠিন হয়।
- System Analysis Approach-এর সীমাবদ্ধতা হলো এটি রাজনৈতিক বা সামাজিক পরিবর্তন ও ইতিহাসের প্রভাবকে পর্যাপ্তভাবে বিবেচনা করে না।
সূত্রঃ রাজনীতি অধ্যয়ন পদ্ধতি – সৈয়দ নুরুল হক

৭৬.
Inputs in the political system primarily include— (রাজনৈতিক সিস্টেমে ইনপুটগুলি প্রধানত অন্তর্ভুক্ত করে—)
  1. Legislation only (শুধুমাত্র আইন প্রণয়ন)
  2. Judicial verdicts (বিচারালয়ের রায়)
  3. Military decisions (সামরিক সিদ্ধান্ত)
  4. Public demands and support (জনতা থেকে আসা চাহিদা ও সমর্থন)
ব্যাখ্যা

- Political System (রাজনৈতিক সিস্টেম)-এ ইনপুট (Inputs) হলো সেই সব কার্যকলাপ ও প্রভাব যা রাজনৈতিক প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করে এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে ভূমিকা রাখে।
প্রধান ইনপুটগুলো:
Public demands (জনতার চাহিদা): নাগরিকরা কী চান, কোন নীতি বা সেবা চান তা প্রকাশ করা।
Public support (জনতার সমর্থন): সরকার বা নীতির প্রতি জনগণের সমর্থন।
- এই ইনপুটের মাধ্যমে সরকার নীতি নির্ধারণ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় প্রতিক্রিয়া দেয়। অন্য বিষয় যেমন আইন প্রণয়ন, বিচারালয়ের রায় বা সামরিক সিদ্ধান্ত হলো সিস্টেমের আউটপুট (Outputs), যা ইনপুটের ভিত্তিতে বা স্বাধীনভাবে তৈরি হতে পারে।
- রাজনৈতিক সিস্টেমে ইনপুট হলো প্রধানত জনগণের চাহিদা ও সমর্থন, যা নীতি প্রণয়ন ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করে।
সূত্রঃ রাজনীতি অধ্যয়ন পদ্ধতি – সৈয়দ নুরুল হক

৭৭.
The system analysis approach in political science primarily focuses on— (রাষ্ট্রবিজ্ঞানে সিস্টেম বিশ্লেষণ পদ্ধতি প্রধানত ফোকাস করে—)
  1. Individual behavior (ব্যক্তিগত আচরণ)
  2. Political structures only (শুধুমাত্র রাজনৈতিক কাঠামো)
  3. Interactions among political inputs, processes, and outputs (রাজনৈতিক ইনপুট, প্রক্রিয়া এবং আউটপুটের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক)
  4. Historical events (ঐতিহাসিক ঘটনা)
ব্যাখ্যা

- System Analysis Approach (সিস্টেম বিশ্লেষণ পদ্ধতি) রাজনীতিকে একটি সক্রিয় এবং আন্তঃসংযুক্ত প্রক্রিয়া হিসেবে বিশ্লেষণ করে।
- মূল ফোকাস হলো ইনপুট → প্রক্রিয়া → আউটপুট (Input → Process → Output) মডেলের মধ্যে সম্পর্ক।
Input (ইনপুট): জনগণের চাহিদা, সমর্থন, আর্থ-সামাজিক চাপ।
Process (প্রক্রিয়া): নীতি প্রণয়ন, প্রশাসনিক কার্যক্রম, সিদ্ধান্ত গ্রহণ।
Output (আউটপুট): আইন, নীতি, প্রশাসনিক কার্যক্রমের ফলাফল।
- সিস্টেম বিশ্লেষণ দেখায় কিভাবে ইনপুট এবং আউটপুট একে অপরকে প্রভাবিত করে এবং রাজনৈতিক কাঠামো ও কার্যকারিতা বজায় রাখে।
- এটি ইতিহাস বা ব্যক্তি-কেন্দ্রিক বিশ্লেষণ নয়, বরং সমগ্র রাজনৈতিক সিস্টেমের পারস্পরিক ক্রিয়ার ওপর গুরুত্ব দেয়।
- সিস্টেম বিশ্লেষণ পদ্ধতি রাজনীতিতে ইনপুট, প্রক্রিয়া এবং আউটপুটের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক বোঝার উপর কেন্দ্রীভূত।
সূত্রঃ রাজনীতি অধ্যয়ন পদ্ধতি – সৈয়দ নুরুল হক

৭৮.
Which statement best explains why the Cultural Revolution caused social disruption? (কেন সাংস্কৃতিক বিপ্লব সামাজিক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেছিল সবচেয়ে ভালোভাবে কোনটি ব্যাখ্যা করে?)
  1. It encouraged economic growth (এটি অর্থনৈতিক বৃদ্ধি উৎসাহিত করেছিল)
  2. It strengthened legal system (এটি আইনি ব্যবস্থা শক্তিশালী করেছিল)
  3. It attacked traditional authority and institutions (এটি ঐতিহ্যগত কর্তৃত্ব ও প্রতিষ্ঠানগুলোকে আক্রমণ করেছিল)
  4. It centralized power peacefully (এটি শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত করেছিল)
ব্যাখ্যা

- সাংস্কৃতিক বিপ্লব (Cultural Revolution, 1966–1976) সামাজিক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেছিল কারণ— ঐতিহ্য ও প্রতিষ্ঠান আক্রমণ:
“Four Olds” ধ্বংসের মাধ্যমে পুরনো চিন্তাভাবনা, শিক্ষা, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান এবং সামাজিক রীতি ভেঙে ফেলা হয়। স্কুল, বিশ্ববিদ্যালয়, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় স্থানগুলোতে দখল এবং ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হয়।
- রাজনৈতিক উৎপাত ও জনসাধারণের অংশগ্রহণ: ছাত্রসংগঠন Red Guards পুরনো নেতাদের ও বুর্জোয়া আদর্শের মানুষদের বিরুদ্ধে হিংসাত্মক আন্দোলন চালায়। প্রচুর মানুষ রাজনৈতিকভাবে “গুন্ডা” বা “শত্রু” হিসেবে চিহ্নিত হয়।
সামাজিক স্থিতিশীলতা নষ্ট: পরিবার, শিক্ষা, শ্রম এবং সামাজিক কাঠামোতে বিশৃঙ্খলা। জনগণ আতঙ্কিত এবং সমাজে আইনশৃঙ্খলা কঠিনভাবে বিঘ্নিত।
- Cultural Revolution সামাজিক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেছিল কারণ এটি পুরনো কর্তৃত্ব, নিয়মনীতি ও প্রতিষ্ঠানকে আক্রমণ করে সমাজের স্থিতিশীলতা নষ্ট করেছিল।
সূত্রঃ পূর্ব এশিয়ার সরকার ও রাজনীতিঃ চীন,জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া – রাখী বর্মন

৭৯.
The National People’s Congress in China primarily functions as— (চীনে জাতীয় জন প্রতিনিধিত্ব পরিষদের প্রধান কাজ হলো—)
  1. A ceremonial body (একটি আনুষ্ঠানিক প্রতিষ্ঠান)
  2. The highest legislative authority (সর্বোচ্চ আইন প্রণয়নকারী প্রতিষ্ঠান)
  3. Judicial oversight (বিচার বিভাগের তদারকি)
  4. Local governance (স্থানীয় সরকার)
ব্যাখ্যা

- জাতীয় জন প্রতিনিধিত্ব পরিষদ (National People’s Congress, NPC) চীনের সর্বোচ্চ আইন প্রণয়নকারী প্রতিষ্ঠান।
- আইন প্রণয়ন: নতুন আইন তৈরি করা, বিদ্যমান আইন সংশোধন বা বাতিল করা।
- চীনা কমিউনিস্ট পার্টির নীতি অনুযায়ী সিদ্ধান্ত অনুমোদন: NPC সাধারণত পার্টির নীতিমালা এবং সিদ্ধান্ত অনুমোদন করে, তাই কার্যত এটি পার্টির নির্দেশনা অনুসারে কাজ করে।
- প্রধান নির্বাহী ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ অনুমোদন: রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সরকারি পদে মনোনয়ন অনুমোদন করা।
- অর্থ ও বাজেট অনুমোদন: সরকারী বাজেট ও নীতি সংক্রান্ত সিদ্ধান্তকে বৈধতা প্রদান।
- যদিও NPC কখনও কখনও আনুষ্ঠানিক বা অনুমোদক হিসাবে দেখা হয়, তবে সংবিধান অনুসারে এটি চীনের সর্বোচ্চ আইন প্রণয়নকারী (highest legislative authority)।
সূত্রঃ পূর্ব এশিয়ার সরকার ও রাজনীতিঃ চীন,জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া – রাখী বর্মন

৮০.
The PRC Constitution is important because— (চীনের সংবিধান গুরুত্বপূর্ণ কারণ—)
  1. It enforces multiparty democracy (এটি বহুদলীয় গণতন্ত্র কার্যকর করে)
  2. It legitimizes the Communist Party’s rule (এটি কমিউনিস্ট পার্টির শাসন বৈধতা প্রদান করে)
  3. It limits Party power (এটি পার্টির ক্ষমতা সীমিত করে)
  4. It gives judiciary supremacy (এটি বিচার বিভাগের সর্বোচ্চ ক্ষমতা প্রদান করে)
ব্যাখ্যা

চীনের গণপ্রজাতন্ত্রী সংবিধান (People’s Republic of China Constitution, 1982) দেশের শাসন কাঠামোতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
কমিউনিস্ট পার্টির বৈধতা: সংবিধান স্পষ্টভাবে চীনা কমিউনিস্ট পার্টির (CPC) নেতৃত্বকে স্বীকৃতি দেয় এবং এর শাসনকে বৈধতা প্রদান করে। পার্টির নেতৃত্বকে রাষ্ট্র পরিচালনার মূল ভিত্তি হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।
রাষ্ট্র ও নাগরিক কাঠামো নির্ধারণ: রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, NPC, বিচার বিভাগ ও অন্যান্য সরকারি সংস্থার কাঠামো সংবিধানে নির্ধারিত। নাগরিকদের মৌলিক অধিকার এবং কর্তব্য সংবিধানে উল্লেখ আছে।
মাল্টিপার্টি বা বিচার বিভাগের স্বাধীনতা সীমিত: সংবিধান বহুদলীয় গণতন্ত্র বা বিচার বিভাগের সর্বোচ্চ ক্ষমতা স্বীকৃতি দেয় না।পার্টির নেতৃত্ব এবং নীতিমালা সর্বোচ্চ।
- PRC Constitution-এর মূল গুরুত্ব হলো চীনের কমিউনিস্ট পার্টির শাসন বৈধতা প্রদান করা এবং রাষ্ট্র পরিচালনায় পার্টির নেতৃত্বকে প্রতিষ্ঠা করা।
সূত্রঃ পূর্ব এশিয়ার সরকার ও রাজনীতিঃ চীন,জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া – রাখী বর্মন

৮১.
The success of post-war Japan illustrates that— (যুদ্ধোত্তর জাপানের সাফল্য প্রমাণ করে যে—)
  1. Economic growth requires authoritarian rule (অর্থনৈতিক উন্নতির জন্য স্বৈরতান্ত্রিক শাসন প্রয়োজন)
  2. Monarchy ensures development (রাজতন্ত্র উন্নয়ন নিশ্চিত করে)
  3. Political stability and reform can coexist (রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও সংস্কার একসাথে থাকতে পারে)
  4. Judiciary drives modernization (আধুনিকীকরণ বিচার বিভাগের মাধ্যমে পরিচালিত হয়)
ব্যাখ্যা

- যুদ্ধোত্তর জাপান (Post-War Japan, 1945-এর পর) একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ যা দেখায় যে—
রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও সংস্কার: যুদ্ধের পর জাপান একটি সংবিধানিক রাজতন্ত্র ও সংসদীয় গণতন্ত্র হিসেবে পুনর্গঠিত হয়।
Meiji Constitution-এর পরিবর্তে 1947 Constitution প্রবর্তন করা হয়, যা গণতান্ত্রিক সংস্কার এবং মানবাধিকার নিশ্চিত করে।
অর্থনৈতিক উন্নয়ন: সরকারি নীতি, শিল্পায়ন এবং বিদেশী সাহায্য মিলিত হয়ে জাপানকে দ্রুত অর্থনৈতিক উন্নয়নের পথে পরিচালিত করে। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা থাকায় নীতি কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন সম্ভব হয়।
শাসন ও সংস্কারের সমন্বয়: শক্তিশালী সংবিধান এবং সংসদীয় নীতি অনুসারে সরকার কার্যকরভাবে কাজ করতে পারে। যুদ্ধোত্তর পুনর্গঠন ও অর্থনৈতিক নীতি বাস্তবায়ন রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার কারণে সহজ হয়।
- যুদ্ধোত্তর জাপানের সাফল্য প্রমাণ করে যে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক/সাংবাদিক সংস্কার একসাথে থাকতে পারে, যা দেশের সমৃদ্ধি নিশ্চিত করে।
সূত্রঃ পূর্ব এশিয়ার সরকার ও রাজনীতিঃ চীন,জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া – রাখী বর্মন

৮২.
Japan’s modern constitution established— (জাপানের আধুনিক সংবিধান প্রতিষ্ঠা করেছে—)
  1. Parliamentary democracy (সংসদীয় গণতন্ত্র)
  2. Absolute monarchy (সর্বাত্মক রাজতন্ত্র)
  3. Military dictatorship (সামরিক স্বৈরাচার)
  4. Communist rule (কমিউনিস্ট শাসন)
ব্যাখ্যা

- জাপানের আধুনিক সংবিধান (1947 Constitution, বা “Post-War Constitution”) যুদ্ধোত্তর জাপানের জন্য একটি নতুন রাজনৈতিক কাঠামো তৈরি করেছে।
সংসদীয় গণতন্ত্র (Parliamentary Democracy): জনগণ ভোট দিয়ে House of Representatives ও House of Councillors-এ প্রতিনিধিরা নির্বাচন করে। সরকার প্রধান হিসেবে Prime Minister সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা হিসেবে নির্বাচিত হন।
রাজা/রানীর ভূমিকা আনুষ্ঠানিক (Ceremonial Monarch): রাজা/রানি রাষ্ট্রপ্রধান হলেও তাঁর ক্ষমতা সীমিত এবং আনুষ্ঠানিক।আইন প্রণয়ন, বাজেট অনুমোদন বা শাসন কার্যক্রমে সরাসরি অংশ নেন না।
মানবাধিকার ও শান্তি প্রতিষ্ঠা: সংবিধান নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করে। Article 9-এর মাধ্যমে জাপান যুদ্ধহীন এবং সামরিক আক্রমণ ব্যবহার থেকে বিরত থাকে।
- জাপানের আধুনিক সংবিধান সর্বাত্মক রাজতন্ত্র বা সামরিক শাসনের পরিবর্তে সংসদীয় গণতন্ত্র স্থাপন করেছে।
সূত্রঃ পূর্ব এশিয়ার সরকার ও রাজনীতিঃ চীন,জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া – রাখী বর্মন

৮৩.
Which of the following is a key function of the US Senate? (নিম্নলিখিত কোনটি মার্কিন সিনেটের প্রধান কাজ?)
  1. Draft laws alone (কেবল আইন প্রণয়ন করা)
  2. Approve treaties and presidential appointments (চুক্তি অনুমোদন এবং প্রেসিডেন্টের নিয়োগ অনুমোদন করা)
  3. Execute policies (নীতি বাস্তবায়ন করা)
  4. Conduct elections (নির্বাচন পরিচালনা করা)
ব্যাখ্যা

মার্কিন সিনেট (US Senate) হলো কংগ্রেসের উচ্চকক্ষ এবং এর প্রধান কার্যাবলী:
চুক্তি অনুমোদন (Treaty Ratification): প্রেসিডেন্ট যেকোনও আন্তর্জাতিক চুক্তি সম্পাদন করলে তা কার্যকর হতে হলে সিনেটে দুই-তৃতীয়াংশ ভোটে অনুমোদন প্রয়োজন।
প্রেসিডেন্টের নিয়োগ অনুমোদন (Confirmation of Appointments): সুপ্রিম কোর্ট বিচারপতি, কেবলমাত্র গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রিসভা সদস্য এবং রাষ্ট্রদূতদের নিয়োগের ক্ষেত্রে সিনেটের অনুমোদন বাধ্যতামূলক।
আইন প্রণয়ন: হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসের মতো আইন প্রণয়নের ক্ষমতা আছে, কিন্তু আইন কার্যকর হতে হলে উভয় কক্ষের অনুমোদন প্রয়োজন।
ইমপিচমেন্ট প্রক্রিয়া: হাউস ইমপিচমেন্ট প্রক্রিয়া শুরু করলে সিনেট বিচার করে এবং প্রেসিডেন্ট বা অন্যান্য কর্মকর্তা বরখাস্ত করতে পারে।
- সিনেটের প্রধান কাজ হলো চুক্তি অনুমোদন এবং প্রেসিডেন্টের গুরুত্বপূর্ণ নিয়োগ অনুমোদন, যা এটিকে মার্কিন সরকারের শক্তিশালী এবং প্রভাবশালী অংশ করে তোলে।
সূত্রঃ প্রধান প্রধান বৈদেশিক সরকার ও রাজনীতিঃ ব্রিটেন,যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স– রাখী বর্মন

৮৪.
The separation of powers in the USA ensures— (যুক্তরাষ্ট্রে ক্ষমতার বিভাজন নিশ্চিত করে—)
  1. Legislature dominates (আইনসভাই প্রাধান্য পায়)
  2. Executive dominates (নির্বাহী শাখাই প্রাধান্য পায়)
  3. Mutual accountability among branches (শাখাগুলোর মধ্যে পারস্পরিক দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করা)
  4. Judiciary controls military (বিচার বিভাগ সামরিক বাহিনী নিয়ন্ত্রণ করে)
ব্যাখ্যা

- যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান “Separation of Powers” বা ক্ষমতার বিভাজন নীতির ওপর ভিত্তি করে তৈরি। এর মূল উদ্দেশ্য হলো সরকারের কোন শাখাই অতিরিক্ত ক্ষমতাশালী না হয়।
Legislative (Congress): আইন প্রণয়ন।
Executive (President): আইন প্রয়োগ এবং প্রশাসন।
Judiciary (Supreme Court): সংবিধান অনুযায়ী আইন ও সিদ্ধান্ত যাচাই।
পারস্পরিক দায়বদ্ধতা (Checks and Balances): প্রত্যেক শাখা অন্য শাখাকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে।
উদাহরণ: প্রেসিডেন্ট ভেটো দিতে পারেন, কংগ্রেস সেই ভেটো অতিক্রম করতে পারে। সুপ্রিম কোর্ট আইনের সাংবিধানিকতা পরীক্ষা করে।
লক্ষ্য: ক্ষমতার কেন্দ্রিকরণ প্রতিরোধ,গণতান্ত্রিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা,আইন ও নীতি প্রণয়নে স্বচ্ছতা বজায় রাখা।
- যুক্তরাষ্ট্রে ক্ষমতার বিভাজন নিশ্চিত করে তিন শাখার মধ্যে পারস্পরিক দায়বদ্ধতা এবং ভারসাম্য, যাতে কোন শাখাই একতরফা শাসন করতে না পারে।
সূত্রঃ প্রধান প্রধান বৈদেশিক সরকার ও রাজনীতিঃ ব্রিটেন,যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স– রাখী বর্মন

৮৫.
The survival of the UK monarchy primarily depends on— (যুক্তরাজ্যের রাজতন্ত্রের টিকে থাকার প্রধান কারণ হলো—)
  1. Legal power of the monarch (রাজা বা রাণীর আইনি ক্ষমতা)
  2. Public support and tradition (জনসমর্থন এবং ঐতিহ্য)
  3. Military dominance (সামরিক প্রাধান্য)
  4. Economic control (অর্থনৈতিক নিয়ন্ত্রণ)
ব্যাখ্যা

যুক্তরাজ্যের রাজতন্ত্র (UK Monarchy) আজ প্রায় আনুষ্ঠানিক এবং সাংস্কৃতিক প্রতীক হিসেবে বিদ্যমান। এর টিকে থাকার মূল কারণ হলো:
জনসমর্থন (Public Support): সাধারণ জনগণ ও গণমাধ্যম রাজতন্ত্রকে সমর্থন করে। রাজপরিবারের জনপ্রিয়তা তাদের রাজনৈতিক কার্যকারিতা নয়, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক প্রভাব বজায় রাখে।
ঐতিহ্য (Tradition): শতাব্দী ধরে প্রতিষ্ঠিত পারিবারিক এবং রাষ্ট্রীয় ঐতিহ্য রাজতন্ত্রকে সংহত রাখে। বিভিন্ন আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠান যেমন রাজকীয় বিবাহ, সাম্রাজ্য দিবস, রাজকীয় উদযাপন জনগণের সঙ্গে সংযোগ বজায় রাখে।
সীমিত আইনি ক্ষমতা (Limited Legal Power): সংবিধান অনুযায়ী রাজা/রাণীর কার্যনির্বাহী ক্ষমতা প্রায় নেই। সরকার প্রধান এবং সংসদ রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে প্রধান ভূমিকা পালন করে।
- যুক্তরাজ্যের রাজতন্ত্র টিকে আছে আইনি ক্ষমতার কারণে নয়, বরং জনগণ এবং ঐতিহ্যগত সমর্থনের কারণে।
সূত্রঃ প্রধান প্রধান বৈদেশিক সরকার ও রাজনীতিঃ ব্রিটেন,যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স– রাখী বর্মন

৮৬.
The UK Parliament is supreme because— (যুক্তরাজ্য সংসদ সর্বোচ্চ কারণ হলো—)
  1. It can make or unmake any law (এটি যেকোনো আইন প্রণয়ন বা বাতিল করতে পারে)
  2. It controls the judiciary (এটি বিচার বিভাগ নিয়ন্ত্রণ করে)
  3. It elects the monarch (এটি রাজা/রাণী নির্বাচন করে)
  4. It controls local councils (এটি স্থানীয় কাউন্সিল নিয়ন্ত্রণ করে)
ব্যাখ্যা

যুক্তরাজ্যের সংসদ (UK Parliament) হলো সর্বোচ্চ আইন প্রণয়নকারী প্রতিষ্ঠান।
Parliamentary Sovereignty (সংসদীয় সর্বাধিকার): সংবিধান অনুযায়ী সংসদ যেকোনো আইন প্রণয়ন করতে পারে বা বাতিল করতে পারে। কোন আদালত বা সংবিধান সংসদের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করতে পারে না।
আইন প্রণয়নে স্বাধীনতা: আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে রাজা/রাণী কেবল আনুষ্ঠানিক অনুমোদন প্রদান করেন (Royal Assent)। প্রকৃত রাজনৈতিক ক্ষমতা সংসদের হাতে থাকে।
সীমাবদ্ধতা নেই: সংসদ দ্বারা প্রণীত আইনকে পরবর্তীতে অন্য সংসদ পরিবর্তন বা বাতিল করতে পারে। এই বৈশিষ্ট্যের কারণে এটি রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইনপ্রণেতা।
- যুক্তরাজ্যে Parliament সর্বোচ্চ কারণ এটি যেকোনো আইন প্রণয়ন বা বাতিল করতে পারে এবং কোন প্রতিষ্ঠান বা আদালত তা রোধ করতে পারে না।
সূত্রঃ প্রধান প্রধান বৈদেশিক সরকার ও রাজনীতিঃ ব্রিটেন,যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স– রাখী বর্মন

৮৭.
Public administration is different from private administration because it— (লোক প্রশাসন বেসরকারি প্রশাসন থেকে ভিন্ন কারণ এটি—)
  1. Seeks profit (লাভ অর্জন করা)
  2. Provides public welfare (সার্বজনীন কল্যাণ প্রদান করে)
  3. Operates in a small firm (ছোট প্রতিষ্ঠানে পরিচালনা করা)
  4. Focuses on individual gains (ব্যক্তিগত লাভের দিকে মনোযোগ দেওয়া)
ব্যাখ্যা

- লোক প্রশাসন (Public Administration) এবং বেসরকারি প্রশাসন (Private Administration)-এর মধ্যে মূল পার্থক্য হলো তাদের উদ্দেশ্য ও দৃষ্টিভঙ্গি।
Public Administration: রাষ্ট্রের নীতি ও সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করে জনগণের কল্যাণ নিশ্চিত করে।
Private Administration: ব্যক্তিগত বা কোম্পানির লাভ বৃদ্ধি ও বাজারে প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করতে কাজ করে।
সেবা প্রদান: লোক প্রশাসন জনসাধারণের জন্য শিক্ষা, স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা, পরিবহন ইত্যাদি সেবা নিশ্চিত করে। বেসরকারি প্রতিষ্ঠান মূলত গ্রাহক বা শেয়ারহোল্ডারের স্বার্থকে প্রাধান্য দেয়।
Public Administration: স্বার্থে নিরপেক্ষ, নীতিনিষ্ঠ এবং আইনের শাসন অনুযায়ী কাজ করে।
Private Administration: বাজার ও লাভের দিক থেকে পরিচালিত।
- লোক প্রশাসন বেসরকারি প্রশাসন থেকে আলাদা কারণ এটি মূলত জনগণের কল্যাণ এবং সামাজিক সেবা নিশ্চিত করার জন্য কাজ করে।
সূত্রঃ লোকপ্রশাসন পরিচিতি- মোঃ মাহাবুবুর রহমান

৮৮.
Which of the following best illustrates the scope of public administration— (নিম্নলিখিত কোনটি লোক প্রশাসনের পরিধি সবচেয়ে ভালোভাবে বোঝায়—)
  1. Managing a family business (পারিবারিক ব্যবসা পরিচালনা করা)
  2. Trading in the stock market (শেয়ার বাজারে লেনদেন)
  3. Governing public programs and services (সার্বজনীন কর্মসূচি ও সেবা পরিচালনা)
  4. Writing novels (উপন্যাস লেখা)
ব্যাখ্যা

Public Administration (লোক প্রশাসন) হলো রাষ্ট্র বা সরকারি সংস্থাগুলোর নীতি, কর্মসূচি ও প্রকল্প বাস্তবায়ন ও পরিচালনার প্রক্রিয়া।
পরিসর (Scope): নীতি বাস্তবায়ন (Policy Implementation): সরকারি নীতিমালা জনগণের কাছে কার্যকরভাবে পৌঁছে দেওয়া।
সেবা প্রদানে কার্যক্রম (Service Delivery): শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পরিবহন, নিরাপত্তা ইত্যাদি জনকল্যাণমূলক সেবা পরিচালনা।
সংগঠন ও তদারকি (Organization & Supervision): সরকারি সংস্থার কার্যক্রম সুসংগঠিত ও কার্যকর রাখা।
উদাহরণ: শিক্ষা বোর্ডের মাধ্যমে বিদ্যালয় ও কলেজের কার্যক্রম পরিচালনা। স্বাস্থ্য বিভাগ রোগ প্রতিরোধ ও হাসপাতাল সেবা নিশ্চিত করা। স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান রাস্তা, পানি ও বিদ্যুৎ সেবা প্রদান।
বেসরকারি প্রশাসন বনাম লোক প্রশাসনের পার্থক্য: পারিবারিক ব্যবসা বা শেয়ার বাজারে লেনদেন বেসরকারি প্রশাসনের অন্তর্ভুক্ত। সরকারি কর্মসূচি ও সেবা পরিচালনা লোক প্রশাসনের মূল পরিসর।
- Public Administration-এর পরিসর সবচেয়ে ভালোভাবে বোঝায় সরকারি বা জনগণের কল্যাণমূলক কর্মসূচি ও সেবা পরিচালনা।
সূত্রঃ লোকপ্রশাসন পরিচিতি- প্রফেসর এস এম মোঃ নূর নবী

৮৯.
Division of work leads to— (শ্রম বিভাজন কী নিশ্চিত করে—)
  1. Duplication of tasks (কাজের পুনরাবৃত্তি)
  2. Increased efficiency (দক্ষতা বৃদ্ধি)
  3. Random assignments (এলোমেলো কাজের বরাদ্দ)
  4. Centralized power (কেন্দ্রীভূত ক্ষমতা)
ব্যাখ্যা

- শ্রম বিভাজন (Division of Work) হলো প্রশাসনিক এবং সংগঠনমূলক একটি গুরুত্বপূর্ণ নীতি, যেখানে বড় কাজকে ছোট ছোট অংশে ভাগ করা হয়।
মূল লক্ষ্য: প্রতিটি কর্মী বা ইউনিটকে তাদের দক্ষতা অনুযায়ী নির্দিষ্ট কাজ দেওয়া। একই কাজের পুনরাবৃত্তি বা দ্ব্যর্থতা এড়ানো।
সুবিধা:
দক্ষতা বৃদ্ধি: প্রতিটি ব্যক্তি বা ইউনিট তাদের নির্দিষ্ট কাজের উপর বিশেষজ্ঞ হয়ে ওঠে।
দ্রুত কার্যক্রম: কাজ ভাগ করা থাকায় প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন হয়।
উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি: সীমিত সময়ে বেশি ফলাফল অর্জন সম্ভব।
উদাহরণ: একটি স্কুলে শিক্ষকরা বিভিন্ন বিষয় পড়ান; প্রশাসক প্রশাসনিক কাজ দেখেন; লজিস্টিক বিভাগ সরঞ্জাম ও উপকরণ সরবরাহ করে। এতে কাজের পুনরাবৃত্তি কমে এবং প্রশাসনিক কার্যক্রম কার্যকর হয়।
- Division of work নিশ্চিত করে দক্ষতা বৃদ্ধি, কাজের স্বচ্ছতা ও উৎপাদনশীলতা উন্নয়ন।
সূত্রঃ লোকপ্রশাসন পরিচিতি- প্রফেসর এস এম মোঃ নূর নবী

৯০.
Unity of command prevents (আদেশের ঐক্য কি প্রতিরোধ করে—)
  1. Conflicting orders from multiple supervisors (একাধিক সুপারভাইজার থেকে বিরোধপূর্ণ আদেশ)
  2. Specialization of work (কাজের বিশেষায়ন)
  3. Delegation of authority (কর্তৃত্ব হস্তান্তর)
  4. Bureaucracy formation (আমলাতন্ত্র গঠন)
ব্যাখ্যা

- Unity of Command (আদেশের ঐক্য) হলো একটি প্রশাসনিক নীতি যা বলে প্রতিটি কর্মকর্তা বা কর্মচারীকে কেবল একজন সুপারভাইজারের কাছ থেকে নির্দেশ গ্রহণ করতে হবে।
মূল উদ্দেশ্য: কর্মীদের দ্ব্যর্থতা বা বিভ্রান্তি এড়ানো। কার্যক্রমে সুসংগতি ও নিয়মিত নেতৃত্ব নিশ্চিত করা।
ফলাফল: Conflicting Orders (বিরোধপূর্ণ আদেশ) এড়ানো: একজন কর্মী যখন একাধিক সুপারভাইজারের কাছ থেকে আদেশ পায় না, তখন দ্বন্দ্ব কমে। দায়িত্ব ও কর্তৃত্ব স্পষ্ট হয়। প্রশাসনিক কার্যক্রমে স্থায়িত্ব ও দক্ষতা বৃদ্ধি পায়।
উদাহরণ: একটি সরকারি অফিসে একজন কর্মকর্তার কাজের নির্দেশ শুধুমাত্র অফিস প্রধান থেকে আসে; অন্যান্য সুপারভাইজারের নির্দেশ উপেক্ষা করা হয়। এতে কর্মী বিভ্রান্ত হয় না এবং কাজ সঠিকভাবে সম্পন্ন হয়।
- Unity of command নিশ্চিত করে যে কর্মীরা একাধিক সুপারভাইজারের বিরোধপূর্ণ আদেশের শিকার হয় না, যা প্রশাসনিক কার্যকারিতা বাড়ায়।
সূত্রঃ লোকপ্রশাসন পরিচিতি- প্রফেসর এস এম মোঃ নূর নবী

৯১.
Centralization is suitable when— (কেন্দ্রীকরণ কখন উপযুক্ত—)
  1. Quick decision-making is needed (দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রয়োজন হলে)
  2. Local needs are diverse (স্থানীয় চাহিদা ভিন্ন হলে)
  3. Departments are independent (বিভাগগুলো স্বতন্ত্র হলে)
  4. Staff roles are undefined (স্টাফের ভূমিকা অজ্ঞাত হলে)
ব্যাখ্যা

কেন্দ্রীকরণ (Centralization) হলো প্রশাসনিক একটি নীতি যেখানে মূল সিদ্ধান্ত ও কর্তৃত্ব শীর্ষ নেতৃত্ব বা কেন্দ্রীয় কর্মকর্তার হাতে থাকে।
মূল লক্ষ্য: গুরুত্বপূর্ণ ও জটিল সিদ্ধান্ত দ্রুত নেওয়া। নীতি ও নির্দেশের একরূপতা বজায় রাখা।
কেন্দ্রীকরণের সুবিধা: দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ: জরুরি পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় কর্তৃত্ব দ্রুত পদক্ষেপ নিতে পারে।
নীতি ও সিদ্ধান্তের সামঞ্জস্য: সমস্ত ইউনিট একই নীতি অনুসরণ করে।
প্রভাবশালী নিয়ন্ত্রণ: প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ শক্তিশালী থাকে।
উদাহরণ: জরুরি প্রাকৃতিক বিপর্যয় (যেমন বন্যা বা ভূমিকম্প) মোকাবিলায় কেন্দ্র থেকে তাত্ক্ষণিক নির্দেশনা। সামরিক বাহিনীতে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত সাধারণত উচ্চপদস্থ কমান্ডারদের দ্বারা নেওয়া হয়।
- কেন্দ্রীকরণ উপযুক্ত যখন দ্রুত ও সমন্বিত সিদ্ধান্ত প্রয়োজন, যাতে প্রশাসনিক কার্যক্রম দ্রুত ও কার্যকর হয়।
সূত্রঃ লোকপ্রশাসন পরিচিতি- প্রফেসর এস এম মোঃ নূর নবী

৯২.
Decentralization is advantageous for— (বিকেন্দ্রীকরণ কিসের জন্য উপকারী—)
  1. Limiting communication (যোগাযোগ সীমিত করা)
  2. Reducing managerial authority (পরিচালনায় কর্তৃত্ব হ্রাস করা)
  3. Uniform policies only (শুধুমাত্র একরূপ নীতি)
  4. Enhancing local participation (স্থানীয় অংশগ্রহণ বৃদ্ধি)
ব্যাখ্যা

- Decentralization (বিকেন্দ্রীকরণ) হলো প্রশাসনিক একটি নীতি যেখানে কর্তৃত্ব ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা কেন্দ্রীয় পর্যায় থেকে নীচের পর্যায় বা স্থানীয় ইউনিটে স্থানান্তর করা হয়।
মূল লক্ষ্য: স্থানীয় চাহিদা অনুযায়ী দ্রুত ও কার্যকর সিদ্ধান্ত গ্রহণ। জনগণ এবং স্থানীয় কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি।
সুবিধা: স্থানীয় অংশগ্রহণ বৃদ্ধি: স্থানীয় জনগণ বা ইউনিট প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে অংশ নেয়।
দ্রুত সমস্যা সমাধান: স্থানীয় সমস্যা কেন্দ্রের অনুমোদনের অপেক্ষা না করে সমাধান করা যায়।
উদ্ভাবনী ও অভিযোজিত নীতি: স্থানীয় চাহিদা অনুযায়ী নতুন উদ্যোগ নেওয়া সম্ভব।
উদাহরণ: জেলা বা পৌরসভা স্বাস্থ্য, শিক্ষা, ও অবকাঠামো প্রকল্প পরিচালনা। স্থানীয় সরকার ইউনিটদের অনুমতি দিয়ে তারা নিজস্ব পরিকল্পনা ও বাজেট বাস্তবায়ন করে।
- Decentralization (বিকেন্দ্রীকরণ) মূলত স্থানীয় অংশগ্রহণ বৃদ্ধি, দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও স্থানীয় চাহিদা অনুযায়ী নীতি অভিযোজনের জন্য উপকারী।
সূত্রঃ লোকপ্রশাসন পরিচিতি- প্রফেসর এস এম মোঃ নূর নবী

৯৩.
A key characteristic of bureaucracy is— (আমলাতন্ত্রের একটি প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো—)
  1. Fixed rules and procedures (স্থির নিয়ম ও প্রক্রিয়া)
  2. Informal structure (অনানুষ্ঠানিক কাঠামো)
  3. Random appointments (এলোমেলো নিয়োগ)
  4. Limited specialization (সীমিত বিশেষায়ন)
ব্যাখ্যা

- আমলাতন্ত্র (Bureaucracy) হলো একটি প্রশাসনিক ব্যবস্থা যা নীতিমালা, নিয়ম, নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া এবং বিশেষায়িত কাজের ভিত্তিতে কাজ করে।
মূল বৈশিষ্ট্য: স্থির নিয়ম ও প্রক্রিয়া (Fixed Rules and Procedures): প্রশাসনিক কার্যক্রম একটি নির্দিষ্ট নিয়ম অনুযায়ী পরিচালিত হয়।
বিশেষায়ন (Specialization): কর্মীরা নির্দিষ্ট কাজ বা বিভাগের জন্য নিয়োগপ্রাপ্ত।
হায়ারার্কি (Hierarchy): প্রশাসনিক কর্তৃত্ব সুস্পষ্ট স্তরে বিভক্ত।
নিরপেক্ষতা ও অজ্ঞাতপদার্থতা (Impersonality): ব্যক্তিগত অনুভূতি বা সম্পর্কের পরিবর্তে নিয়ম ও নীতি অনুযায়ী কাজ করা হয়।
সুবিধা:প্রশাসনিক কার্যক্রমে একরূপতা ও ধারাবাহিকতা বজায় থাকে। কর্মীরা নিয়ম অনুযায়ী সিদ্ধান্ত গ্রহণে দক্ষ হয়। প্রশাসনিক ত্রুটি ও পক্ষপাত কমে।
উদাহরণ:সরকারি দপ্তর, যেমন কর অধিদপ্তর বা স্বাস্থ্য বিভাগ, যেখানে নির্দিষ্ট ফরম, পদ্ধতি ও দায়িত্বের সীমা থাকে।
- আমলাতন্ত্রের মূল বৈশিষ্ট্য হলো নিয়ম, পদ্ধতি এবং বিশেষায়িত কাজের মাধ্যমে প্রশাসনিক কার্যক্রমকে সুশৃঙ্খল ও কার্যকর রাখা।
সূত্রঃ লোকপ্রশাসন পরিচিতি- প্রফেসর এস এম মোঃ নূর নবী

৯৪.
The political role of bureaucracy includes— (আমলাতন্ত্রের রাজনৈতিক ভূমিকা—)
  1. Private business decisions (ব্যক্তিগত ব্যবসায়িক সিদ্ধান্ত নেওয়া)
  2. Supervising courts (আদালত তদারকি করা)
  3. Implementing government policies (সরকারের নীতি বাস্তবায়ন)
  4. Making laws (আইন প্রণয়ন করা)
ব্যাখ্যা

- আমলাতন্ত্র (Bureaucracy) হলো সরকারী প্রশাসনের মূল অংশ, যা নীতিমালা ও কর্মসূচি কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করে।
রাজনৈতিক ভূমিকা (Political Role): সরকারের সিদ্ধান্ত ও নীতিগুলো বাস্তবায়ন করা। সরকারি কর্মসূচি জনসাধারণের কাছে পৌঁছে দেওয়া। প্রশাসনিক তদারকি ও নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করা।
মূল কার্যক্রম: আইন বা নীতি অনুযায়ী কার্যক্রম পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন। সরকারি প্রকল্প ও সেবা প্রদান, যেমন স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও অবকাঠামো। সরকারের জনকল্যাণমূলক প্রোগ্রামগুলো বাস্তবায়ন করা।
উদাহরণ: শিক্ষা বিভাগের শিক্ষক ও প্রশাসক সরকারী শিক্ষানীতি বাস্তবায়ন করে। স্বাস্থ্য বিভাগ হাসপাতাল ও প্রতিষেধক কার্যক্রম পরিচালনা করে।
- আমলাতন্ত্রের রাজনৈতিক ভূমিকা হলো সরকারের নীতি ও কর্মসূচি কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করে জনকল্যাণ নিশ্চিত করা।
সূত্রঃ লোকপ্রশাসন পরিচিতি- প্রফেসর এস এম মোঃ নূর নবী

৯৫.
Classical approach in administration emphasizes— (ক্লাসিকাল পদ্ধতি কী ওপর জোর দেয়—)
  1. Human relations (মানবসম্পর্ক)
  2. Politics only (শুধু রাজনীতি)
  3. Judicial review (বিচার বিভাগের পর্যালোচনা)
  4. Structure, efficiency, and hierarchy (কাঠামো, দক্ষতা ও পদসোপান)
ব্যাখ্যা

- Classical Approach (ক্লাসিকাল প্রশাসনিক পদ্ধতি) হলো প্রশাসন অধ্যয়নের প্রাথমিক দৃষ্টিভঙ্গি, যা সংগঠন কাঠামো, কার্যকারিতা এবং কর্তৃত্বের হায়ারার্কিকে গুরুত্ব দেয়।
মূল বৈশিষ্ট্য: কাঠামো (Structure): প্রতিটি প্রশাসনিক ইউনিটের কার্যক্রম ও দায়িত্ব স্পষ্টভাবে নির্ধারিত।
দক্ষতা (Efficiency): সংস্থান ও সময়ের সর্বাধিক ব্যবহার নিশ্চিত করে।
পদসোপান (Hierarchy): প্রশাসনিক স্তর ও কর্তৃত্ব সুসংগঠিত।
লক্ষ্য: প্রশাসনিক কার্যক্রমকে সুশৃঙ্খল, নির্ভরযোগ্য এবং প্রেডিক্টেবল করা। দ্ব্যর্থতা ও অনিয়ম কমানো।
উদাহরণ: একটি সরকারি দপ্তরে অফিসিয়াল রিপোর্টিং চেইন, নিয়মিত সময়সূচী অনুযায়ী কাজের ভাগ এবং অফিসিয়াল প্রোটোকল অনুসরণ।
- Classical Approach প্রশাসনকে একটি সুসংগঠিত কাঠামো, কার্যকারিতা এবং স্তরভিত্তিক হায়ারার্কি অনুযায়ী পরিচালনার ওপর জোর দেয়।
সূত্রঃ লোকপ্রশাসন পরিচিতি- প্রফেসর এস এম মোঃ নূর নবী

৯৬.
If an organization suffers from overlapping authority, which principle should be reinforced— (যদি একটি সংস্থা কর্তৃত্বের ওভারল্যাপের কারণে সমস্যায় থাকে, কোন নীতি শক্তিশালী করা উচিত—)
  1. Unity of command (আদেশের ঐক্য)
  2. Span of contro (কর্মীর সংখ্যা নিয়ন্ত্রণের সীমা)
  3. Decentralization (ক্ষমতা বিকেন্দ্রীকরণ)
  4. Departmentalization (বিভাগীয়করণ)
ব্যাখ্যা

- Unity of Command (আদেশের ঐক্য) হলো প্রশাসনিক একটি নীতি যা বলে প্রতিটি কর্মকর্তা বা কর্মচারীকে কেবল একজন সুপারভাইজারের কাছ থেকে নির্দেশ গ্রহণ করতে হবে।
প্রয়োজন: সংস্থায় কর্তৃত্বের ওভারল্যাপ বা দ্ব্যর্থতা থাকলে কর্মীরা বিভ্রান্ত হয়। একাধিক সুপারভাইজারের কাছ থেকে conflicting আদেশ পেলে কার্যকারিতা কমে।
সুবিধা: কর্মীদের বিভ্রান্তি ও দ্ব্যর্থতা কমে। দায়িত্ব ও কর্তৃত্ব স্পষ্ট হয়। প্রশাসনিক কার্যক্রমে স্থায়িত্ব ও দক্ষতা বৃদ্ধি পায়।
উদাহরণ: একটি সরকারি অফিসে একজন কর্মকর্তার কাজের নির্দেশ শুধুমাত্র অফিস প্রধান থেকে আসে; অন্যান্য সুপারভাইজারের নির্দেশ উপেক্ষা করা হয়। এতে কাজের দ্বন্দ্ব কমে এবং প্রশাসনিক কার্যক্রম সুশৃঙ্খল হয়।
- যদি সংস্থায় overlapping authority থেকে সমস্যা হয়, Unity of Command নীতি প্রয়োগ করলে কার্যক্রমে সুসংগতি ও দক্ষতা নিশ্চিত করা যায়।
সূত্রঃ লোকপ্রশাসন পরিচিতি- প্রফেসর এস এম মোঃ নূর নবী

৯৭.
How does the cultural heritage of Bangladesh influence modern politics? (বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য আধুনিক রাজনীতিকে কীভাবে প্রভাবিত করে?)
  1. Shapes identity-based policies and nationalism (পরিচয়ভিত্তিক নীতি ও জাতীয়তাবাদকে প্রভাবিত করে)
  2. Encourages authoritarianism (স্বৈরাচারকে উৎসাহ দেয়)
  3. Discourages civic participation (নাগরিক অংশগ্রহণকে নিরুৎসাহিত করে)
  4. Reduces democratic values (গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ হ্রাস করে)
ব্যাখ্যা

- বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য যেমন ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি, ধর্মীয় ও আঞ্চলিক সাংস্কৃতিক মূল্যবোধ আধুনিক রাজনীতিতে গভীর প্রভাব ফেলে।
পরিচয় ও জাতীয়তাবাদ: ভাষা আন্দোলন এবং মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি বাংলাদেশিদের জাতীয় পরিচয় ও সাংস্কৃতিক গর্ব গড়ে তুলেছে।রাজনৈতিক দলগুলো প্রায়শই এই ঐতিহ্য ও পরিচয়কে কেন্দ্র করে নীতি ও কর্মসূচি নির্ধারণ করে।
নীতি ও সংবিধান: সংবিধানে “ভাষা ও সংস্কৃতি সংরক্ষণ” এবং “জাতীয় স্বাতন্ত্র্য রক্ষা” মূল নীতি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত। শিক্ষা, ভাষা, এবং সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানগুলো রাষ্ট্রের নীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব রাখে।
রাজনৈতিক আদর্শ ও আন্দোলন: রাজনৈতিক লড়াই ও জনগণকে সংগঠিত করার ক্ষেত্রে সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য প্রায়শই কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
উদাহরণ: ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি, এবং স্থানীয় সাংস্কৃতিক উৎসব।
- বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য আধুনিক রাজনীতিতে পরিচয়ভিত্তিক নীতি, জাতীয়তাবাদ ও জনগণের রাজনৈতিক অংশগ্রহণের দিকনির্দেশনা প্রদান করে।
সূত্রঃ বাংলাদেশের সমাজ ও সংস্কৃতি – মোঃ নুরুল ইসলাম

৯৮.
How did cultural identity influence the 1971 Liberation War? (সাংস্কৃতিক পরিচয় ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে কীভাবে প্রভাবিত করেছিল?)
  1. Had no effect (কোনও প্রভাব পড়েনি)
  2. Unified Bengalis against oppression (নির্যাতনের বিরুদ্ধে বাঙালিদের একত্রিত করেছিল)
  3. Encouraged regional division (আঞ্চলিক বিভাজন উত্সাহিত করেছিল)
  4. Supported Pakistan (পাকিস্তানের পাশে দাঁড়িয়েছিল)
ব্যাখ্যা

- সাংস্কৃতিক পরিচয় বিশেষ করে ভাষা, ইতিহাস, ও সাংস্কৃতিক স্বাতন্ত্র্য ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের মূল প্রেরণা ছিল।
ভাষা ও সাংস্কৃতিক স্বাতন্ত্র্য: ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের স্মৃতি বাঙালিদের মধ্যে একটি শক্তিশালী সাংস্কৃতিক পরিচয় ও জাতীয় চেতনা তৈরি করেছিল। এই পরিচয়ই পাকিস্তানি শাসকদের দমননীতি এবং ভাষা ও সাংস্কৃতিক অধিকার হরণের বিরুদ্ধে প্রতিবাদকে একত্রিত করেছিল।
রাজনৈতিক প্রভাব: সাংস্কৃতিক ঐক্য বাঙালিদের একত্রিত করে স্বাধীনতার দাবিতে আন্দোলন করতে উৎসাহিত করেছিল।রাজনৈতিক দলগুলোও এই সাংস্কৃতিক পরিচয়কে কেন্দ্র করে জনগণকে সংগঠিত ও আন্দোলনমুখী করেছিল।
- সাংস্কৃতিক পরিচয় মুক্তিযুদ্ধকে একটি জনগণপ্রিয় আন্দোলন হিসেবে শক্তিশালী করেছে। এটি শুধু রাজনৈতিক বা অর্থনৈতিক শোষণ নয়, সাংস্কৃতিক ও জাতীয় স্বাতন্ত্র্যের লড়াই হিসেবেও মুক্তিযুদ্ধকে পরিণত করেছিল।
- সাংস্কৃতিক পরিচয় বাঙালিদের একত্রিত করেছিল, শোষণ ও দমনবিরোধী আন্দোলনকে শক্তিশালী করেছে এবং ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধের মূল প্রেরণা হিসেবে কাজ করেছে।
সূত্রঃ বাংলাদেশের সমাজ ও সংস্কৃতি – মোঃ নুরুল ইসলাম

৯৯.
Cultural movements in Bangladesh historically influenced political change by— (বাংলাদেশে সাংস্কৃতিক আন্দোলন ঐতিহাসিকভাবে রাজনৈতিক পরিবর্তনকে কীভাবে প্রভাবিত করেছে?)
  1. Ignoring social issues (সামাজিক সমস্যাকে উপেক্ষা করা)
  2. Mobilizing mass participation for reforms (নীতিনির্ধারণ ও সংস্কারের জন্য জনগণকে সংগঠিত করা)
  3. Reducing nationalism (জাতীয়তাবাদ কমানো)
  4. Promoting foreign culture (বিদেশি সংস্কৃতি প্রচার করা)
ব্যাখ্যা

- বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক আন্দোলন যেমন ভাষা আন্দোলন (১৯৫২), সাহিত্য ও শিল্প আন্দোলন, এবং মুক্তিযুদ্ধের পূর্ববর্তী সাংস্কৃতিক প্রতিরোধ রাজনৈতিক পরিবর্তনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।
জনগণকে সংগঠিত করা: সাংস্কৃতিক আন্দোলন সাধারণ মানুষকে রাজনৈতিকভাবে সচেতন ও সক্রিয় করে তোলে। উদাহরণ: ভাষা আন্দোলন মানুষকে শিক্ষাগত ও রাজনৈতিক অধিকার নিয়ে সংগঠিত করেছিল।
নীতিমালা ও সংস্কার প্রভাবিত করা: আন্দোলনের মাধ্যমে শাসকদের নীতি ও সিদ্ধান্তে পরিবর্তন আনা সম্ভব হয়। উদাহরণ: ভাষা আন্দোলনের ফলশ্রুতিতে ১৯৫৬ সালের সংবিধানে বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়।
জাতীয়তাবাদ ও রাজনৈতিক চেতনা বৃদ্ধি: সাংস্কৃতিক আন্দোলন জাতীয় চেতনা ও স্বাধীনতার দাবিকে শক্তিশালী করে। উদাহরণ: মুক্তিযুদ্ধের আগে সাংস্কৃতিক আন্দোলন বাঙালিদের রাজনৈতিক ও সামাজিক ঐক্য বৃদ্ধি করেছিল।
- সাংস্কৃতিক আন্দোলন বাংলাদেশে জনগণকে সক্রিয়ভাবে সংগঠিত করেছে, নীতি ও সংস্কারের জন্য চাপ সৃষ্টি করেছে এবং রাজনৈতিক পরিবর্তনের পথ সুগম করেছে।
সূত্রঃ বাংলাদেশের সমাজ ও সংস্কৃতি – মোঃ নুরুল ইসলাম

১০০.
How does literacy and education affect political stability in Bangladesh? (শিক্ষা ও সাক্ষরতা বাংলাদেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতাকে কীভাবে প্রভাবিত করে?)
  1. Reduces participation (অংশগ্রহণ কমিয়ে দেয়)
  2. Encourages informed voting and civic engagement (সচেতন ভোটদান ও নাগরিক অংশগ্রহণকে উৎসাহিত করে)
  3. Promotes conflict (সংঘাত বাড়ায়)
  4. Reduces democracy (গণতন্ত্র কমিয়ে দেয়)
ব্যাখ্যা

শিক্ষা ও সাক্ষরতা রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি।
সচেতন ভোটদান: শিক্ষিত ভোটাররা প্রার্থীর যোগ্যতা, নীতি ও কর্মসূচি বুঝে সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম হয়। এর ফলে ভোট কেনাবেচা ও বিভ্রান্তি কমে যায়, রাজনৈতিক প্রক্রিয়া স্থিতিশীল হয়।
নাগরিক অংশগ্রহণ বৃদ্ধি: শিক্ষা মানুষকে অধিকার ও দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন করে। শিক্ষিত সমাজ সক্রিয়ভাবে রাজনৈতিক কার্যক্রম, সামাজিক আন্দোলন ও নীতি পর্যবেক্ষণে অংশগ্রহণ করে।
সংঘাত কমায়: অশিক্ষা ও অজ্ঞতা রাজনৈতিক উত্তেজনা ও গুজব ছড়ায়। শিক্ষিত জনগণ শান্তিপূর্ণ উপায়ে মত প্রকাশ করে, যা স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহায়ক।
গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ শক্তিশালী করে: শিক্ষা সহনশীলতা, আলোচনা ও সহযোগিতা শেখায়। এর মাধ্যমে রাজনৈতিক সংস্কৃতি আরও গণতান্ত্রিক হয়।
- শিক্ষা ও সাক্ষরতা রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সাহায্য করে সচেতন ভোটদান, নাগরিক অংশগ্রহণ ও গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি গড়ে তুলে।
সূত্রঃ বাংলাদেশের সমাজ ও সংস্কৃতি – ড. এ কে এম শওকত আলী খান

১০১.
Which of the following social issues often determines the popularity of political parties in Bangladesh? (বাংলাদেশে কোন সামাজিক সমস্যা প্রায়ই রাজনৈতিক দলের জনপ্রিয়তা নির্ধারণ করে?)
  1. Foreign investment (বিদেশি বিনিয়োগ)
  2. Military expenditure (সামরিক ব্যয়)
  3. Poverty and social welfare policies (দারিদ্র্য ও সামাজিক কল্যাণ নীতি)
  4. Space programs (মহাকাশ কর্মসূচি)
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশ একটি উন্নয়নশীল দেশ, যেখানে রাজনৈতিক দলের জনপ্রিয়তা অনেকাংশে নির্ভর করে দারিদ্র্য বিমোচন ও সামাজিক কল্যাণমূলক কার্যক্রমের ওপর।
দারিদ্র্য বিমোচন: বাংলাদেশের বৃহৎ জনগোষ্ঠী নিম্ন আয়ের বা দারিদ্র্যসীমার নিচে বাস করে। রাজনৈতিক দলগুলো চাকরির সুযোগ সৃষ্টি, গ্রামীণ উন্নয়ন ও খাদ্য নিরাপত্তা কর্মসূচি দিলে জনপ্রিয়তা বাড়ে।
সামাজিক কল্যাণ নীতি: বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা, শিক্ষা বৃত্তি, কৃষি ভর্তুকি ইত্যাদি সাধারণ মানুষের জীবনে সরাসরি প্রভাব ফেলে।
যে দল এসব নীতিকে গুরুত্ব দেয়, তারা সাধারণ মানুষের সমর্থন বেশি পায়।
ভোটার মনোভাব: দরিদ্র ও নিম্ন মধ্যবিত্ত শ্রেণি হলো বাংলাদেশের ভোটারদের বড় অংশ। তারা প্রায়শই ভোট দেওয়ার সময় দেখেন কোন দল বাস্তবে তাদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন করেছে।
- বিদেশি বিনিয়োগ বা মহাকাশ কর্মসূচি সাধারণ ভোটারের কাছে তেমন প্রভাব ফেলে না।
- সামরিক ব্যয়ও সরাসরি জনগণের দৈনন্দিন জীবনে প্রভাবিত করে না।
- দারিদ্র্য ও সামাজিক কল্যাণ নীতি (Poverty and social welfare policies) বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলের জনপ্রিয়তার মূল নির্ধারক।
সূত্রঃ বাংলাদেশের সমাজ ও সংস্কৃতি – ড. এ কে এম শওকত আলী খান

১০২.
How has Bangladesh's location between India and Myanmar influenced its foreign policy? (বাংলাদেশের ভারত ও মায়ানমারের মধ্যে অবস্থান কীভাবে এর বৈদেশিক নীতিকে প্রভাবিত করেছে?)
  1. Encourages regional cooperation (আঞ্চলিক সহযোগিতাকে উৎসাহিত করে)
  2. Makes it isolated (বাংলাদেশকে বিচ্ছিন্ন করে)
  3. No influence (কোন প্রভাব ফেলে না)
  4. Leads to colonialism (ঔপনিবেশিকতার দিকে নিয়ে যায়)
ব্যাখ্যা

- বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান অত্যন্ত কৌশলগত। এটি দক্ষিণ এশিয়া ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সংযোগস্থলে অবস্থিত, ভারত ও মায়ানমারের মাঝখানে এবং বঙ্গোপসাগরের তীরে। এই অবস্থান বাংলাদেশের বৈদেশিক নীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলেছে:
আঞ্চলিক সহযোগিতা বৃদ্ধি: ভারতের সঙ্গে ঐতিহাসিক, সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক বাংলাদেশের নীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। মায়ানমারের সঙ্গে সীমান্ত সমস্যা (রোহিঙ্গা ইস্যু) থাকলেও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য সহযোগিতা জরুরি। বাংলাদেশ তাই SAARC, BIMSTEC, BCIM, এবং ASEAN-এর সঙ্গে সংযোগ বাড়ানোর চেষ্টা করে।
বাণিজ্য ও যোগাযোগ: ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে বাংলাদেশ ট্রানজিট ও ট্রান্সশিপমেন্ট হাব হওয়ার সম্ভাবনা রাখে। ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চল এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্য রুট হিসেবে বাংলাদেশকে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে।
নিরাপত্তা ও কূটনীতি: সীমান্ত বিরোধ, পানি বণ্টন সমস্যা এবং শরণার্থী সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশকে ভারসাম্যপূর্ণ বৈদেশিক নীতি গ্রহণ করতে হয়েছে। এই অবস্থান বাংলাদেশকে অতিরিক্ত কূটনৈতিক সংবেদনশীলতা দেখাতে বাধ্য করেছে।
- বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান তাকে আঞ্চলিক সহযোগিতা ও ভারসাম্যপূর্ণ কূটনীতির দিকে পরিচালিত করেছে।
সূত্রঃ বাংলাদেশের ভূগোল– ড. মোঃ মনিরুল আলম

১০৩.
How does Bangladesh’s monsoon climate affect political decision-making? (বাংলাদেশের বর্ষার জলবায়ু রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণকে কীভাবে প্রভাবিত করে?)
  1. Promotes foreign investment (বিদেশি বিনিয়োগকে উৎসাহিত করে)
  2. Encourages urbanization (শহুরীকরণকে উৎসাহিত করে)
  3. Reduces population growth (জনসংখ্যা বৃদ্ধি কমিয়ে দেয়)
  4. Necessitates disaster management policies (দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা নীতির প্রয়োজনীয়তা সৃষ্টি করে)
ব্যাখ্যা

- বাংলাদেশ একটি বর্ষাপ্রধান ও বন্যাপ্রবণ দেশ। এর জলবায়ু রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে বিশেষভাবে প্রভাব ফেলে—
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা নীতি: প্রতি বছর বর্ষার সময় বন্যা, নদীভাঙন, জলাবদ্ধতা এবং মাঝে মাঝে ঘূর্ণিঝড় রাজনৈতিক অগ্রাধিকারে চলে আসে। সরকারকে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ, নদী খনন, সাইক্লোন শেল্টার, দুর্যোগ তহবিল ইত্যাদি তৈরি করতে হয়।
অর্থনৈতিক প্রভাব: কৃষিনির্ভর বাংলাদেশের জন্য বর্ষা আশীর্বাদ হলেও অতিবৃষ্টি বা অনিয়মিত বৃষ্টিপাত ফসল নষ্ট করে। তাই সরকারকে কৃষি ভর্তুকি, খাদ্য নিরাপত্তা নীতি, এবং কৃষকদের পুনর্বাসনের সিদ্ধান্ত নিতে হয়।
রাজনৈতিক অঙ্গীকার: রাজনৈতিক দলগুলো তাদের ইশতেহারে দুর্যোগ মোকাবিলা, ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা এবং জলবায়ু অভিযোজন প্রকল্প অন্তর্ভুক্ত করে জনগণের আস্থা অর্জন করে।
আন্তর্জাতিক কূটনীতি: জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ঘন ঘন বন্যা ও ঘূর্ণিঝড় বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক জলবায়ু তহবিল ও সহযোগিতা চাইতে উদ্বুদ্ধ করেছে।
- বাংলাদেশের বর্ষার জলবায়ু সরাসরি রাজনৈতিক সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করে এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা নীতিকে রাজনৈতিক অগ্রাধিকারের শীর্ষে নিয়ে আসে।
সূত্রঃ বাংলাদেশের ভূগোল ও পরিবেশ– প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আবদুর রব

১০৪.
Frequent flooding in Bangladesh has led governments to focus on: (বাংলাদেশে প্রায়ই বন্যার কারণে সরকার কোন দিকে মনোনিবেশ করেছে?)
  1. Export policies (রপ্তানি নীতি)
  2. Disaster preparedness and rural planning (দুর্যোগ প্রস্তুতি ও গ্রামীণ পরিকল্পনা)
  3. Military expansion (সামরিক সম্প্রসারণ)
  4. Mining projects (খনি প্রকল্প)
ব্যাখ্যা

- বাংলাদেশ একটি বন্যাপ্রবণ দেশ, যেখানে বর্ষাকালে এবং অতিবৃষ্টির কারণে প্রায়ই ব্যাপক বন্যা দেখা দেয়। এর ফলে সরকার বিভিন্ন সময়ে দুর্যোগ মোকাবিলা ও গ্রামীণ উন্নয়নকে নীতি নির্ধারণের প্রধান অংশ করেছে।
দুর্যোগ প্রস্তুতি (Disaster preparedness): ঘূর্ণিঝড় ও বন্যার ক্ষতি কমাতে সাইক্লোন শেল্টার, আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা, উদ্ধার কার্যক্রম গড়ে তোলা হয়েছে। দুর্যোগ মন্ত্রণালয় ও স্থানীয় প্রশাসনকে শক্তিশালী করা হয়েছে।
গ্রামীণ পরিকল্পনা (Rural planning): গ্রামে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ, সেতু, রাস্তা, সেচব্যবস্থা ও উঁচু ঘর নির্মাণ করা হয়েছে। কৃষি খাতকে টিকিয়ে রাখতে ফসল বীমা, খাদ্য মজুত, কৃষি ভর্তুকি চালু করা হয়েছে।
রাজনৈতিক অঙ্গীকার: বিভিন্ন সরকার তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে বন্যা নিয়ন্ত্রণ, গ্রামীণ অবকাঠামো ও খাদ্য নিরাপত্তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। জনগণের আস্থা অর্জনের জন্য বন্যা-পরবর্তী পুনর্বাসন কর্মসূচি জোরদার করা হয়েছে।
- বাংলাদেশের ঘন ঘন বন্যা সরকারকে কেবল অর্থনৈতিক পরিকল্পনা নয়, বরং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও গ্রামীণ উন্নয়নকে রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের কেন্দ্রে রাখতে বাধ্য করেছে।
সূত্রঃ বাংলাদেশের ভূগোল ও পরিবেশ– প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আবদুর রব

১০৫.
How did the famine of 1943 affect political awareness in Bengal? (১৯৪৩ সালের দুর্ভিক্ষ বঙ্গে রাজনৈতিক সচেতনতা কীভাবে প্রভাবিত করলো?)
  1. Decreased political movements (রাজনৈতিক আন্দোলন কমিয়ে দেয়)
  2. Strengthened trade (বাণিজ্যকে শক্তিশালী করেছে)
  3. Increased resentment against colonial rule (ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ বৃদ্ধি পায়)
  4. Promoted rural education (গ্রামীণ শিক্ষাকে উৎসাহিত করেছে)
ব্যাখ্যা

- ১৯৪৩ সালের দুর্ভিক্ষে প্রায় ৩০ থেকে ৪০ লক্ষ মানুষ প্রাণ হারিয়েছিল। এই ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ের সময় ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক সরকার যথাযথ ত্রাণ ও খাদ্য সহায়তা দিতে ব্যর্থ হয়।
রাজনৈতিক ক্ষোভ বৃদ্ধি: মানুষ বুঝতে পারে যে ব্রিটিশ শাসন জনগণের কল্যাণে নয়, বরং যুদ্ধ ও সম্পদ শোষণের জন্য কাজ করছে। এর ফলে জনগণের মধ্যে ব্রিটিশবিরোধী মনোভাব তীব্র হয়।
জাতীয়তাবাদী চেতনা জোরদার: কংগ্রেস, মুসলিম লীগ এবং অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলো দুর্ভিক্ষের সময় সক্রিয় হয় এবং জনগণের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে। এই অভিজ্ঞতা সাধারণ মানুষকে রাজনৈতিক সচেতনতা ও স্বাধীনতার প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে আরও জাগ্রত করে।
ভবিষ্যৎ আন্দোলনের ভিত্তি: দুর্ভিক্ষের ভয়াবহতা পরবর্তী সময়ে বাংলার গণআন্দোলন, স্বাধীনতা সংগ্রাম ও পাকিস্তান আন্দোলনের রাজনৈতিক শক্তি বৃদ্ধি করে। জনগণ আরও স্পষ্টভাবে বুঝতে পারে যে ঔপনিবেশিক শাসন জনগণের স্বার্থের বিরুদ্ধে।
- ১৯৪৩ সালের দুর্ভিক্ষ শুধু একটি মানবিক বিপর্যয় ছিল না, বরং এটি বাংলার জনগণের মধ্যে ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক ক্ষোভ ও জাতীয়তাবাদী চেতনা বৃদ্ধির প্রধান কারণগুলোর একটি।
সূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস – ড. মুহাম্মদ আবদুর রহিম

১০৬.
The Partition of Bengal in 1905 had which political consequence? (১৯০৫ সালের বঙ্গবিভাজনের রাজনৈতিক ফলাফল কী ছিল?)
  1. Economic boom (অর্থনৈতিক উন্নতি)
  2. Anti-colonial sentiment and political mobilization (ঔপনিবেশিকবিরোধী মনোভাব ও রাজনৈতিক সংগঠন)
  3. Complete peace (সম্পূর্ণ শান্তি)
  4. Cultural isolation (সাংস্কৃতিক বিচ্ছিন্নতা)
ব্যাখ্যা

- ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গ ছিল ব্রিটিশ সরকারের একটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত, যেখানে বাংলাকে বঙ্গ ও আসাম মিলিয়ে পূর্ববঙ্গ এবং পশ্চিমবঙ্গ আলাদা করা হয়।
রাজনৈতিক ফলাফল:
ঔপনিবেশিকবিরোধী ক্ষোভ বৃদ্ধি: বঙ্গভঙ্গকে বাংলার মানুষ ব্রিটিশের "divide and rule" নীতি হিসেবে দেখেছিল।
ফলে সাধারণ মানুষ ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে জড়িয়ে পড়ে।
রাজনৈতিক আন্দোলনের সূচনা: স্বরাজ আন্দোলন ও বয়কট আন্দোলনের সূচনা হয়। বিদেশি কাপড় বর্জন, স্বদেশি শিল্পের প্রসার ও রাজনৈতিক সংগঠন গড়ে ওঠে।
জাতীয়তাবাদী চেতনার জাগরণ: বঙ্গভঙ্গের ফলে বাংলার জনগণ বুঝতে পারে স্বাধীনতার জন্য ঐক্যবদ্ধ রাজনৈতিক সংগ্রাম প্রয়োজন। এই সময়েই “বন্দে মাতরম” জাতীয়তাবাদের প্রতীক হয়ে ওঠে।
রাজনৈতিক সংগঠন মজবুতকরণ: কংগ্রেস ও অন্যান্য সংগঠন আরও শক্তিশালী হয়ে ওঠে। পরবর্তী স্বাধীনতা আন্দোলনের জন্য এটি ছিল একটি ট্রেনিং গ্রাউন্ড।
- ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গ শুধু একটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত ছিল না, বরং এটি ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের ইতিহাসে একটি মোড় ঘোরানো রাজনৈতিক ঘটনা।
সূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস – ড. মুহাম্মদ আবদুর রহিম

১০৭.
The main demand of the 1952 Language Movement was to: (১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের প্রধান দাবি ছিল—)
  1. Introduce English as the state language (ইংরেজি রাষ্ট্রভাষা হিসেবে প্রবর্তন করা)
  2. Recognize Bengali as a state language (বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা স্বীকৃতি দেওয়া)
  3. Promote Urdu nationally (জাতীয়ভাবে উর্দু প্রচার করা)
  4. Establish regional autonomy (আঞ্চলিক স্বায়ত্তশাসন প্রতিষ্ঠা করা)
ব্যাখ্যা

- ভাষা আন্দোলন ১৯৫২ বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক ঘটনা।
- পূর্ব পাকিস্তানে বাংলা ভাষার স্বীকৃতি রাষ্ট্রভাষা হিসেবে দেওয়া হোক।
- পাকিস্তানের সরকার তখন উর্দুকে একমাত্র রাষ্ট্রভাষা হিসেবে প্রবর্তন করতে চাচ্ছিল।
জনগণের প্রতিরোধ: শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ রাজপথে আন্দোলন চালায়। ঢাকায় ২১ ফেব্রুয়ারি 1952 তারিখে পুলিশের গুলিতে অনেক শহীদ হন।
রাজনৈতিক প্রভাব: আন্দোলনটি পূর্ব পাকিস্তানের জাতীয় চেতনা ও স্বায়ত্তশাসনের দাবিকে শক্তিশালী করে। পরবর্তীকালে এটি বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনের পথ প্রস্তুত করে।
সাংস্কৃতিক প্রভাব: ভাষা আন্দোলন বাংলা সাহিত্যে, গান ও সংস্কৃতিতে প্রেরণা যুগিয়েছে।
শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস প্রতি বছর স্মরণ করা হয়।
- ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের প্রধান দাবি ছিল বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা স্বীকৃতি দেওয়া।
সূত্রঃ পৌরনীতি ও সুশাসন ( একাদশ-দ্বাদশ)-প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক

১০৮.
Political instability in Bangladesh historically was caused by: (বাংলাদেশে রাজনৈতিক অস্থিরতার মূল কারণ—)
  1. Frequent military interventions and weak party system (প্রায়শই সামরিক হস্তক্ষেপ এবং দুর্বল দলীয় ব্যবস্থা)
  2. Foreign invasion only (শুধু বিদেশী আক্রমণ)
  3. Lack of cultural identity (সাংস্কৃতিক পরিচয়ের অভাব)
  4. Excessive rainfall (অতিরিক্ত বৃষ্টি)
ব্যাখ্যা

- বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে অস্থিরতার মূল কারণ ছিল সামরিক হস্তক্ষেপ এবং রাজনৈতিক দলের দুর্বলতা।
সামরিক হস্তক্ষেপ: ১৯৭৫ সালের বঙ্গবন্ধু হত্যা থেকে শুরু করে জিয়াউর রহমান ও এরশাদ পর্যন্ত সামরিক অভ্যুত্থান দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ভেঙেছে।
দুর্বল দলীয় ব্যবস্থা: রাজনৈতিক দলগুলো প্রায়শই ব্যক্তিবর্গকেন্দ্রিক এবং কার্যকর কর্মসূচি বা অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা বিহীন। ফলে সংসদীয় কার্যক্রম ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান দুর্বল হয়েছে।
পর্যায়ক্রমিক প্রভাব: সামরিক হস্তক্ষেপ এবং দুর্বল দলীয় ব্যবস্থা একত্রিত হয়ে রাজনৈতিক অস্থিরতা, অনিশ্চয়তা এবং ক্ষমতার লড়াই সৃষ্টি করেছে।
- বিদেশী আক্রমণ, সাংস্কৃতিক পরিচয়ের অভাব বা প্রাকৃতিক দুর্যোগ কখনো কখনো প্রভাব ফেললেও, দীর্ঘমেয়াদী রাজনৈতিক অস্থিরতার মূল চালিকা শক্তি নয়।
- বাংলাদেশে রাজনৈতিক অস্থিরতার মূল কারণ হলো প্রায়শই সামরিক হস্তক্ষেপ এবং দুর্বল দলীয় ব্যবস্থা ।
সূত্রঃ পৌরনীতি ও সুশাসন ( একাদশ-দ্বাদশ)-প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক

১০৯.
The first full-fledged military ruler of Bangladesh was: (বাংলাদেশের প্রথম পূর্ণাঙ্গ সামরিক শাসক—)
  1. Sheikh Mujibur Rahman (শেখ মুজিবুর রহমান)
  2. Hussain Muhammad Ershad (হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ)
  3. Ziaur Rahman (জিয়াউর রহমান)
  4. Abu Sayeed Chowdhury (আবু সায়েদ চৌধুরী)
ব্যাখ্যা

জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে প্রথম পূর্ণকালীন সামরিক শাসক হিসেবে পরিচিত।
খালেদ মোশাররফ (৩ নভেম্বর ১৯৭৫) এবং বিচারপতি আবু সাদাত মোস্তফা কামাল সায়েম অল্প সময়ের জন্য ক্ষমতায় ছিলেন। কিন্তু স্থায়ী ও পূর্ণাঙ্গ সামরিক শাসক হিসেবে ইতিহাসে জিয়াউর রহমানকেই বাংলাদেশের প্রথম সামরিক শাসক বলা হয়।
১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যা ও রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলার পর তিনি সামরিক ক্ষমতা গ্রহণ করেন।
রাষ্ট্রকে পুনঃস্থিতিশীল করতে তিনি কিছু আইনি ও প্রশাসনিক সংস্কার চালু করেন।
একই সঙ্গে তিনি দলীয় রাজনীতির পুনর্গঠন ও জাতীয় উন্নয়নে মনোনিবেশ করেন।
জিয়াউর রহমানের শাসনের পর সামরিক শাসন বাংলাদেশে একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক বাস্তবতা হিসেবে দেখা দেয়।
এর পর হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ সামরিক অভ্যুত্থান দ্বারা ক্ষমতা গ্রহণ করেন।
- বাংলাদেশের প্রথম সামরিক শাসক ছিলেন জিয়াউর রহমান।
সূত্রঃ পৌরনীতি ও সুশাসন ( একাদশ-দ্বাদশ)-প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক

১১০.
Role of opposition in Bangladesh’s parliamentary democracy includes: (বাংলাদেশের সংসদীয় গণতন্ত্রে বিরোধীদলের ভূমিকা—)
  1. Checking government power (সরকারের ক্ষমতা যাচাই করা)
  2. Supporting only ruling party (শুধুমাত্র সরকারকে সমর্থন করা)
  3. Ignoring legislative process (আইন প্রণয়নের প্রক্রিয়াকে উপেক্ষা করা)
  4. Controlling military (সেনাবাহিনী নিয়ন্ত্রণ করা)
ব্যাখ্যা

- বাংলাদেশের সংসদীয় গণতন্ত্রে বিরোধীদল একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এদের কাজ কেবল সরকারকে সমালোচনা করা নয়, বরং গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করা এবং জনগণের স্বার্থ রক্ষা করা।
সরকারের ক্ষমতা যাচাই (Accountability): বিরোধীদল সংসদে সরকারের সিদ্ধান্ত, বাজেট, আইন এবং নীতিমালা খতিয়ে দেখে এবং সরকার যেন স্বৈরতান্ত্রিক আচরণ না করে তা নিশ্চিত করে।
জনগণের কণ্ঠস্বর প্রকাশ: বিরোধীদল সাধারণ মানুষের দাবি, অভিযোগ ও সমস্যাকে সংসদে উত্থাপন করে। ফলে নীতিনির্ধারণে বিভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি প্রতিফলিত হয়।
গঠনমূলক সমালোচনা: বিরোধীদল ভুল নীতি বা সিদ্ধান্ত চিহ্নিত করে বিকল্প প্রস্তাবনা দেয়, যা সরকারের কার্যক্রমকে আরও কার্যকর করে।
গণতন্ত্রের ভারসাম্য রক্ষা: শাসক দল ও বিরোধীদলের সক্রিয় ভূমিকার ফলে সংসদে চেক অ্যান্ড ব্যালেন্স (Checks and Balances) বজায় থাকে।
- বাংলাদেশের সংসদীয় গণতন্ত্রে বিরোধীদলের মূল ভূমিকা হলো সরকারের ক্ষমতা যাচাই ও জনগণের স্বার্থ রক্ষা করা।
সূত্রঃ পৌরনীতি ও সুশাসন ( একাদশ-দ্বাদশ)-প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক

১১১.
The concept of a Caretaker Government in Bangladesh was intended to: (বাংলাদেশে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ধারণার উদ্দেশ্য ছিল—)
  1. Strengthen military rule (সামরিক শাসন জোরদার করা)
  2. Draft a new constitution (নতুন সংবিধান প্রণয়ন করা)
  3. Ensure free and fair elections (সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করা)
  4. Promote foreign trade (বিদেশি বাণিজ্য বৃদ্ধি করা)
ব্যাখ্যা

- বাংলাদেশে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ১৯৯০-এর দশকে রাজনৈতিক অস্থিরতা ও নির্বাচনকালীন সংকটের প্রেক্ষিতে প্রবর্তিত হয়।
- প্রধান উদ্দেশ্য ছিল নির্বাচনকালীন সময়ে একটি নিরপেক্ষ, অরাজনৈতিক সরকার গঠন, যাতে কোনো রাজনৈতিক দল রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা ব্যবহার করে নির্বাচনে প্রভাব ফেলতে না পারে।
গণআস্থা প্রতিষ্ঠা: তত্ত্বাবধায়ক সরকার জনগণের মধ্যে আস্থা সৃষ্টি করে, যাতে ভোটাররা মনে করে তাদের ভোটের মূল্য ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে।
সংবিধান সংশোধন: ১৯৯৬ সালে সংবিধানের ১৩তম সংশোধনীর মাধ্যমে এই ব্যবস্থা প্রবর্তন করা হয়।
নির্বাচনী নিরপেক্ষতা: প্রধান উপকারিতা ছিল— সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন আয়োজন, যা একটি কার্যকর গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র পরিচালনার পূর্বশর্ত।
- বাংলাদেশে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ধারণা আনার মূল লক্ষ্য ছিল— সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করা।
সূত্রঃ পৌরনীতি ও সুশাসন ( একাদশ-দ্বাদশ)-প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক

১১২.
Which factor most influenced Bangladesh's alignment with India during the Liberation War? (মুক্তিযুদ্ধের সময় ভারতের সাথে বাংলাদেশের সমন্বয়কে সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত করেছিল কোনটি?)
  1. Military support (সামরিক সহায়তা)
  2. Cultural ties (সাংস্কৃতিক সংযোগ)
  3. Economic interest (অর্থনৈতিক স্বার্থ)
  4. Geopolitical strategy (ভূ-রাজনৈতিক কৌশল )
ব্যাখ্যা

- ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশের ভারত সহায়তার প্রতি ঘনিষ্ঠ সমন্বয় ভূ-রাজনৈতিক কৌশলের কারণে সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত হয়েছিল।
কারণসমূহ:
সীমান্তের কৌশলগত গুরুত্ব: বাংলাদেশের অবস্থান ভারতের পূর্ব সীমান্তের কাছে হওয়ায় উভয় দেশের নিরাপত্তা এবং আঞ্চলিক প্রভাবের দিক থেকে এটি গুরুত্বপূর্ণ ছিল।
সামরিক সহায়তার সুবিধা: ভারতের কাছাকাছি অবস্থানের কারণে মুক্তিবাহিনীকে অস্ত্র, প্রশিক্ষণ ও লজিস্টিক সমর্থন সহজে প্রদান করা সম্ভব হয়।
আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা: পাকিস্তান-বাংলাদেশ সংঘাত ভারতের ভূ-রাজনৈতিক স্বার্থ রক্ষা এবং সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার সুযোগ দেয়।
আন্তর্জাতিক কূটনীতি: ভারতের ভূ-রাজনৈতিক লক্ষ্য অনুযায়ী বাংলাদেশকে সমর্থন করা আন্তর্জাতিক চাপ তৈরিতে সুবিধা দেয়।
- সামরিক সহায়তা ও সাংস্কৃতিক সংযোগ থাকলেও, মুখ্য কারণ ছিল ভূ-রাজনৈতিক কৌশল, যা রাজনৈতিক ও সামরিক সমন্বয় সহজ করেছে।
সূত্রঃ বাংলাদেশের বৈদেশিক সম্পর্ক - মোঃ হামিদুল হক

১১৩.
Economic considerations influence Bangladesh’s foreign policy by- (বাংলাদেশের বৈদেশিক নীতিতে অর্থনৈতিক বিবেচনা কীভাবে প্রভাব ফেলে?)
  1. Prioritizing trade agreements (বাণিজ্যিক চুক্তিকে অগ্রাধিকার দেওয়া)
  2. Limiting international alliances (আন্তর্জাতিক জোট সীমিত করা)
  3. Increasing military spending (সামরিক ব্যয় বৃদ্ধি করা)
  4. Reducing cultural exchanges (সাংস্কৃতিক বিনিময় হ্রাস করা)
ব্যাখ্যা

- বাংলাদেশের বৈদেশিক নীতি অর্থনৈতিক স্বার্থ এবং উন্নয়ন লক্ষ্যকে কেন্দ্র করে গঠিত হয়।
মূল প্রভাব:
বাণিজ্য ও বিনিয়োগ: বিদেশের সাথে বাণিজ্য চুক্তি, রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণ করতে নীতি নির্ধারণ করা হয়।
অর্থনৈতিক উন্নয়ন: দেশীয় অর্থনীতি এবং কর্মসংস্থান বৃদ্ধি করার জন্য বিদেশি প্রযুক্তি ও অর্থনৈতিক সহযোগিতাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়।
কূটনৈতিক সম্পর্ক: রাজনৈতিক সম্পর্ক এবং কূটনীতি প্রায়শই অর্থনৈতিক সুবিধা নিশ্চিত করার লক্ষ্য নিয়ে পরিচালিত হয়।
রূপান্তর নীতি: অর্থনৈতিক বিবেচনা আন্তর্জাতিক মঞ্চে বাংলাদেশের নীতি ও কূটনৈতিক অবস্থানকে প্রভাবিত করে।
- বাংলাদেশের বৈদেশিক নীতি অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও বাণিজ্যিক স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়ার মাধ্যমে পরিচালিত হয়।
সূত্রঃ বাংলাদেশের বৈদেশিক সম্পর্ক - অধ্যাপক ড. শওকত আরা হোসাইন

১১৪.
The biggest benefit of Bangladesh’s participation in SAARC is- (SAARC-এ বাংলাদেশের অংশগ্রহণের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো:)
  1. Military alliance (সামরিক জোট)
  2. Regional economic collaboration (আঞ্চলিক অর্থনৈতিক সহযোগিতা)
  3. Political unification (রাজনৈতিক একীকরণ)
  4. Cultural domination (সাংস্কৃতিক প্রাধান্য)
ব্যাখ্যা

- বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক সংস্থা SAARC-এ অংশগ্রহণের মাধ্যমে বিভিন্ন সুবিধা অর্জন করে, যার মধ্যে সর্বোচ্চ সুবিধা হলো আঞ্চলিক অর্থনৈতিক সহযোগিতা।
মূল দিকগুলো:
বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ: SAARC-এর মাধ্যমে রপ্তানি ও আমদানি সহজতর হয় এবং আঞ্চলিক বাজারে প্রবেশাধিকার বাড়ে।
অর্থনৈতিক সমন্বয়: দেশগুলো একে অপরের সঙ্গে অর্থনৈতিক নীতি ও উদ্যোগে সমন্বয় করতে পারে।
পর্যটন ও উদ্ভাবন: আঞ্চলিক পর্যটন, প্রযুক্তি বিনিময় এবং শিল্প উন্নয়নের সুযোগ বৃদ্ধি পায়।
শান্তি ও স্থিতিশীলতা: অর্থনৈতিক সহযোগিতা রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং আঞ্চলিক সম্পর্ক মজবুত করে।
- SAARC-এ বাংলাদেশের অংশগ্রহণ প্রধানত অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং আঞ্চলিক সহযোগিতাকে প্রাধান্য দেয়।
সূত্রঃ বাংলাদেশের বৈদেশিক সম্পর্ক – ড. মুহাম্মদ নূরুল ইসলাম

১১৫.
Regional cooperation in South Asia is complicated by- (দক্ষিণ এশিয়ায় আঞ্চলিক সহযোগিতা কোন কারণে জটিল?)
  1. Shared language (ভাষা ভাগাভাগি)
  2. Economic similarities (অর্থনৈতিক সাদৃশ্য)
  3. Political conflicts and trust deficits (রাজনৈতিক বিরোধ এবং আস্থা ঘাটতি)
  4. Religious uniformity (ধর্মীয় ঐক্য)
ব্যাখ্যা

- দক্ষিণ এশিয়ায় আঞ্চলিক সহযোগিতা অনেক সময় জটিল হয়ে যায় রাজনৈতিক এবং কূটনৈতিক কারণে।
মূল কারণসমূহ:
রাজনৈতিক বিরোধ: ভারত-পাকিস্তান, ভারত-চীন এবং অন্যান্য আঞ্চলিক বিরোধ আঞ্চলিক উদ্যোগ ও চুক্তিতে বাধা সৃষ্টি করে।
আস্থা ঘাটতি: দেশগুলো একে অপরের নীতি ও প্রতিশ্রুতিতে সম্পূর্ণ আস্থা রাখে না, যার ফলে সহযোগিতা সীমিত থাকে।
ভিন্ন রাজনৈতিক কাঠামো: প্রতিটি দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বাস্তবতা এবং সরকারের স্থিতিশীলতা ভিন্ন হওয়ায় সমন্বয় করা কঠিন।
অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা উদ্বেগ: এক দেশের সুবিধা অন্যের ক্ষতির আশঙ্কা সৃষ্টি করে আঞ্চলিক সমন্বয়কে প্রভাবিত করে।
- দক্ষিণ এশিয়ায় আঞ্চলিক সহযোগিতা প্রধানত রাজনৈতিক বিরোধ এবং আস্থা ঘাটতির কারণে জটিল।
সূত্রঃ বাংলাদেশের বৈদেশিক সম্পর্ক – ড. মুহাম্মদ নূরুল ইসলাম

১১৬.
Historical colonial experience shaped Bangladesh’s: (ঐতিহাসিক উপনিবেশিক অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের কোন দিককে প্রভাবিত করেছে?)
  1. Military strategy (সামরিক কৌশল)
  2. Nationalist identity and foreign policy outlook (জাতীয়তাবাদী পরিচয় এবং বৈদেশিক নীতি-দৃষ্টি)
  3. Cultural uniformity (সাংস্কৃতিক একরূপতা)
  4. Economic isolation (অর্থনৈতিক বিচ্ছিন্নতা)
ব্যাখ্যা

- বাংলাদেশের ঐতিহাসিক উপনিবেশিক অভিজ্ঞতা (প্রধানত ব্রিটিশ শাসন) দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিসরে গভীর প্রভাব ফেলেছে।
জাতীয়তাবাদী চেতনায় উদ্রেক: ব্রিটিশ শাসনের শোষণ, কর ব্যবস্থাপনা ও রাজনৈতিক বৈষম্য বাংলাদেশে স্বাধীনতা ও সাংস্কৃতিক স্বতন্ত্রতার জন্য লড়াইকে উদ্দীপিত করেছে।
রাজনৈতিক আন্দোলন ও সংস্কার: ভাষা আন্দোলন, বাঙালি সংস্কৃতিকে রক্ষা এবং রাজনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
বৈদেশিক নীতি প্রভাব: উপনিবেশিক অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের বাহ্যিক শক্তির প্রতি সতর্কতা, কূটনীতি এবং আঞ্চলিক সহযোগিতার দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি করেছে।
স্বাধীনতা আন্দোলনের শিক্ষা: উপনিবেশিক শাসন দেশের রাজনৈতিক নেতৃত্বকে শেখিয়েছে কীভাবে জাতীয় স্বার্থ এবং আন্তর্জাতিক সমন্বয় বজায় রাখতে হয়।
- ঐতিহাসিক উপনিবেশিক অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের জাতীয়তাবাদী পরিচয় এবং বৈদেশিক নীতি-দৃষ্টিকোণকে সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত করেছে।
সূত্রঃ বাংলাদেশের বৈদেশিক সম্পর্ক – ড. মুহাম্মদ নূরুল ইসলাম