পরীক্ষা আর্কাইভ

শিক্ষক নিবন্ধন (NTRCA) প্রস্তুতি [১৯তম]

পরীক্ষাশিক্ষক নিবন্ধন (NTRCA) প্রস্তুতি [১৯তম]তারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়09 minutes
মোট প্রশ্ন২২
সিলেবাস
পরীক্ষা – ১৩: বিষয়: বাংলা ব্যাকরণ টপিক: প্রকৃতি - প্রত্যয়, বাংলা বানান রীতি, ণ-ত্ব ও ষ-ত্ব বিধান, যুক্তাক্ষর বিশ্লেষণ।
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

শিক্ষক নিবন্ধন (NTRCA) প্রস্তুতি [১৯তম]

শিক্ষক নিবন্ধন (NTRCA) প্রস্তুতি [১৯তম] · তারিখ অনির্ধারিত · ২২ প্রশ্ন

.
বাংলা একাডেমির প্রমিত বানানরীতি অনুযায়ী নিচের কোন শব্দটির বানান ভুল?
  1. জার্মানি
  2. হাঙ্গেরী
  3. ইতালি 
  4. মালদ্বীপ 
সঠিক উত্তর:
হাঙ্গেরী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হাঙ্গেরী
ব্যাখ্যা

বাংলা একাডেমির প্রমিত বানানরীতি অনুযায়ী ‘হাঙ্গেরী’ শব্দটির বানান ভুল।
--------------------
• দেশের নাম লিখতে ই-কার ব্যবহার: 
- যে কোনো দেশের নাম লিখার সময় সাধারণভাবে ই-কার ব্যবহার করা যায়।
- উদাহরণস্বরূপ—
- গ্রিস, জার্মানি, ইতালি, হাঙ্গেরি ইত্যাদি।
- তবে কিছু দেশের ক্ষেত্রে এটি ব্যতিক্রম,
- যেখানে ই-কার প্রয়োগ করা হয় না।
- এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য—শ্রীলঙ্কা, মালদ্বীপ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 

.
শুদ্ধ বানান কোনটি?   
  1. দেবী
  2. দাদী
  3. মাসী
  4. সহযোগীতা  
সঠিক উত্তর:
দেবী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দেবী
ব্যাখ্যা

• শুদ্ধ বানান- দেবী। 
----------------------
• সংস্কৃত বা তৎসম স্ত্রীবাচক শব্দে ঈ-কারের ব্যবহার:
- বাংলা ভাষায় খাঁটি সংস্কৃত বা তৎসম স্ত্রীবাচক শব্দের শেষে সর্বদা ঈ-কার বসে।
- উদাহরণস্বরূপ—
- জননী, নারী, স্ত্রী, সাধ্বী, গাভী, দেবী, কুমারী ইত্যাদি। 
-------------
• ব্যতিক্রম: 
- তৎসম না হওয়া অন্যান্য শব্দের ক্ষেত্রে ঈ-কারের পরিবর্তে ই-কার ব্যবহার করা হয়।
- যেমন—
- মাসি, পিসি, দাদি

- এছাড়াও, তৎসম শব্দে যদি ঈ-কারান্ত শব্দের সঙ্গে ‘-ত’, ‘-তা’ বা ‘-ত্ব’ প্রত্যয় যুক্ত হয়, তবে ঈ-কার ই-কারে পরিবর্তিত হয়ে লেখা হয়।
- যেমন-
- 'দায়ী' থেকে 'দায়িত্ব',
- 'সহযোগী' থেকে 'সহযোগিতা', 
- 'মন্ত্রী' থেকে 'মন্ত্রিত্ব। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 

.
'নাচন' শব্দের সঠিক প্রকৃতি-প্রত্যয় কোনটি?
  1. √নচ + অন
  2. √নাচ + ওন
  3. √নাচ্‌ + আন 
  4. √নাচ্‌ + অন
সঠিক উত্তর:
√নাচ্‌ + অন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
√নাচ্‌ + অন
ব্যাখ্যা

'নাচন' শব্দের সঠিক প্রকৃতি-প্রত্যয়- √নাচ্‌ + অন। 
----------------------------- 
• বাংলা কৃৎ প্রত্যয়:
- বাংলা ভাষায় অনেক নিজস্ব (দেশজ) ধাতু রয়েছে, যেগুলো সংস্কৃত বা তৎসম নয়।
- এই দেশজ ধাতুগুলোর সঙ্গে যে প্রত্যয় যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ তৈরি করে, সেগুলোকেই বলা হয় বাংলা কৃৎ প্রত্যয়।
- কৃৎপ্রত্যয় যোগে যে শব্দ তৈরি হয়, তাকে বলা হয় কৃদন্ত শব্দ।
- অর্থাৎ ধাতু + কৃৎপ্রত্যয় = কৃদন্ত শব্দ।

- বাংলা কৃৎপ্রত্যয়ের মধ্যে ‘অন’ প্রত্যয় বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
- এই প্রত্যয়টি মূলত ক্রিয়াবাচক বিশেষ্য গঠনে ব্যবহৃত হয়।
- অর্থাৎ কোনো কাজ বা ক্রিয়ার ভাব প্রকাশ করতে ‘অন’ প্রত্যয় ধাতুর সঙ্গে যুক্ত হয়।

উদাহরণসরূপ—
- √বাঁচ্ + অন → বাঁচন,
- √নাচ্ + অন → নাচন,
- √কাঁদ্ + অন → কাঁদন,
- √বাঁধ্ + অন → বাঁধন,
- √চল্ + অন → চলন। 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ। 

.
'দ্ধ' যুক্তাক্ষরে কোন দুটি বর্ণ রয়েছে?
  1. দ্‌ + ব
  2. দ + দ
  3. দ্‌ + ত
  4. দ্‌ + ধ 
সঠিক উত্তর:
দ্‌ + ধ 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দ্‌ + ধ 
ব্যাখ্যা

'দ্ধ' যুক্তবর্ণে যে দুটি বর্ণ রয়েছে তা হলো— দ্ + ধ। 

- 'দ্ধ' (দ্ + ধ) যুক্তবর্ণ দিয়ে গঠিত কিছু বাংলা শব্দ:
- অকালবৃদ্ধা, অগ্নিশুদ্ধি, অনবরুদ্ধা, অনুদ্ধত, অনুসিদ্ধান্ত, অযোদ্ধা, অর্থসিদ্ধি, অল্পবুদ্ধি, অশ্রদ্ধা, উদ্ধতচারী, উদ্ধতভাষী, উদ্ধতস্বভাব, রুদ্ধ, যুদ্ধ, বুদ্ধ, শুদ্ধ, বৃদ্ধ, লব্ধ, উদ্ধত, উদ্বোধন, বদ্ধ, সিদ্ধ, তদ্ধিত, প্রবন্ধ, প্রবুদ্ধ, পদ্ধতি, বুদ্ধি ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান। 

.
বাংলা একাডেমির প্রমিত বানানরীতি অনুযায়ী নিচের কোন শব্দটির বানান ভুল?
  1. গীতাঞ্জলি
  2. রুপালি
  3. কবিতাবলি
  4. সোনালী  
সঠিক উত্তর:
সোনালী  
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সোনালী  
ব্যাখ্যা

বাংলার একাডেমির প্রমিত বানানরীতি অনুযায়ী 'সোনালী' শব্দটির বানান ভুল। 
-------------------
• ‘আলি’ প্রত্যয়যুক্ত শব্দের বানান:

• আলি প্রত্যয়: 
- কোনো মূল শব্দের সঙ্গে ‘আলি’ যুক্ত হলে তা ই-কারে লেখা হয়।
- যেমন—
- স্বর্ণ+আলি = স্বর্ণালি,
- সোনা+আলি = সোনালি,
- রূপা+আলি = রূপালি,
- বর্ণ+আলি = বর্ণালি।
----------------------------- 
অন্যদিকে, 
- 'বলি', ‘আবলি’ ও ‘অঞ্জলি’- প্রত্যয়যুক্ত শব্দের ক্ষেত্রে ও সর্বদা ই-কার বসে।

• বলি, আবলি প্রত্যয়: 
- মূল শব্দের সঙ্গে 'বলি', ‘আবলি’ যুক্ত হলে তা ই-কারে লেখা হয়।
- যেমন—
- কবিতা + বলি = কবিতাবলি, 
- রচনা + বলি = রচনাবলি, 
- শব্দ + আবলি = শব্দাবলি, 
- তথ্য + আবলি = তথ্যাবলি, 
- কার্য + আবলি = কার্যাবলি।

• অঞ্জলি প্রত্যয়:
- মূল শব্দের সঙ্গে ‘অঞ্জলি’ যুক্ত হলে তা ই-কারে লেখা হয়।
- যেমন—
- গীতা + অঞ্জলি = গীতাঞ্জলি, 
- পুষ্প + অঞ্জলি = পুষ্পাঞ্জলি, 
- শ্রদ্ধা + অঞ্জলি = শ্রদ্ধাঞ্জলি।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান। 

.
কোনটি অশুদ্ধ বানান?  
  1. অধিকারীত্ব
  2. অধিকারিণী 
  3. বিলাসিনী
  4. অপক্ষপাতিত্ব  
সঠিক উত্তর:
অধিকারীত্ব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অধিকারীত্ব
ব্যাখ্যা

অশুদ্ধ বানান- অধিকারীত্ব ।
- শুদ্ধ বানান- অধিকারিত্ব।

• অধিকারিত্ব- 
- পদ: বিশেষ্য।
- বিশেষ্যের প্রকার: ভাববাচক / গুণবাচক বিশেষ্য।
- প্রকৃতি–প্রত্যয়:
- প্রকৃতি: অধিকার; প্রত্যয়: ত্ব (তদ্ধিত প্রত্যয়)।
- অর্থ:
• অধিকারের অবস্থা;
• মালিকানা;
• আইনি দাবি বা স্বীকৃত অধিকার। 
---------------------------- 
নিয়ম: 
- কোনো শব্দের শেষে যদি দীর্ঘ ঈ-কার থাকে এবং শব্দটি যদি ‘ইন’ ভাগান্ত হয়, তবে সেই শব্দের পরে ত্ব / তা / নি ইত্যাদি প্রত্যয় যুক্ত হলে শব্দের শেষের দীর্ঘ ঈ-কার পরিবর্তিত হয়ে হ্রস্ব ই-কার হয়ে যায়।
- এটি বাংলা বানানরীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম।

- উদাহরণ—
• অধিকারী → অধিকারিণী
• অধিকারী → অধিকারিত্ব,
• বিলাসী → বিলাসিনী,
• অপক্ষপাতী → অপক্ষপাতিত্ব,
• মনোযোগী → মনোযোগিতা।
- এখানে প্রতিটি ক্ষেত্রে মূল শব্দের শেষে দীর্ঘ ঈ-কার থাকলেও প্রত্যয় যুক্ত হওয়ার সময় তা হ্রস্ব ই-কারে রূপান্তরিত হয়েছে।

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।

.
'আণবিক' শব্দের সঠিক প্রকৃতি-প্রত্যয় কোনটি? 
  1. অণু + ইক
  2. অণু + ষ্ণিক্‌ 
  3. আন + ইক 
  4. ক + খ 
সঠিক উত্তর:
ক + খ 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক + খ 
ব্যাখ্যা

আণবিক এর প্রকৃতি–প্রত্যয়:
- প্রকৃতি: অণু (নাম প্রকৃতি / ধাতু);
- প্রত্যয়: ষ্ণিক্‌ (ইক) – সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়।
- অণু শব্দের সঙ্গে তদ্ধিত প্রত্যয় ইক যুক্ত হয়ে ‘আণবিক’ শব্দ গঠিত হয়েছে।

- সংস্কৃত বা তৎসম শব্দের পরে যে প্রত্যয় যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠন করে, তাকে সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয় বলা হয়।
- যেমন:
- অণু + ইক (ষ্ণিক) = আণবিক।
- পুষ্প + ইত = পুষ্পিত। 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ। 

.
কোন বর্গের আগে কখনও 'ণ' হয় না?
  1. ট-বর্গ 
  2. প-বর্গ  
  3. ত-বর্গ 
  4. চ-বর্গ  
সঠিক উত্তর:
ত-বর্গ 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ত-বর্গ 
ব্যাখ্যা

ত-বর্গীয় বর্ণের ক্ষেত্রে ‘ণ’ প্রযোজ্য নয়। 
------------------ 
• ণ-ত্ব-বিধান:
- যে রীতি অনুসারে বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত তৎসম বা সংস্কৃত শব্দের বানানে ‘ণ’ ব্যবহৃত হয় তাকে ণত্ব-বিধান বলে।

- যেসব ক্ষেত্রে ণ-ত্ব বিধান প্রযোজ্য নয়:
• সমাসবদ্ধ শব্দে সাধারণত ণ-ত্ব বিধান প্রযোজ্য হয় না, সেখানে ‘ন’ ব্যবহৃত হয়।
- যেমন:
- ত্রিনয়ন, সর্বনাম, দুর্নীতি, দুর্নাম, দুর্নিবার, পরনিন্দা, অগ্রনায়ক।

ত-বর্গীয় বর্ণের সঙ্গে যুক্ত ন কখনও ‘ণ’ হয় না।
- যেমন: অন্ত, গ্রন্থ।

• বাংলা (দেশি), তদ্ভব ও বিদেশি শব্দে ‘ণ’ লেখার প্রয়োজন হয় না।
- যেমন:
- দেশি শব্দ: কোণ, গণ্ড, ছাগল।
- তদ্ভব শব্দ: কান, সোনা, চুন।
- বিদেশি শব্দ: কোরআন, ইরান, নিশান, হর্ন, গভর্নর। 

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ। 

.
বাংলা একাডেমির প্রমিত বানানরীতি অনুযায়ী নিচের কোন শব্দটির বানান শুদ্ধ?
  1. রৌদ্রকরোজ্জল
  2. রৌদ্রকরজ্জ্বল
  3. রৌদ্রকরোজ্জ্বল
  4. রৌদ্রকরুজ্জল 
সঠিক উত্তর:
রৌদ্রকরোজ্জ্বল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রৌদ্রকরোজ্জ্বল
ব্যাখ্যা

শুদ্ধ বানান = ‘রৌদ্রকরোজ্জ্বল’।
- এই শব্দে জ্জ্ব (জ + জ + ব-ফলা) যুক্ত রূপ ব্যবহৃত হয়েছে।
- শব্দটি রৌদ্র + করোজ্জ্বল—এই দুই অংশের সন্ধির মাধ্যমে গঠিত।
- ব্যাকরণগত দিক থেকে এটি একটি বিশেষণ পদ।
- উৎসগতভাবে এটি সংস্কৃত শব্দ।
- শব্দটির প্রকৃতি–প্রত্যয় বিশ্লেষণ করলে পাওয়া যায়: রৌদ্র + কর + উজ্জ্বল।
- ‘রৌদ্রকরোজ্জ্বল’ শব্দটির অর্থ হলো—সূর্যের আলোয় উদ্ভাসিত বা উজ্জ্বল।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান। 

১০.
জ্ঞান শব্দের যুক্তবর্ণের সঠিক রূপ কোনটি?
  1. জ্‌+ঞ
  2. ঞ+গ
  3. ঞ+জ
  4. জ্‌+গ+ঞ
সঠিক উত্তর:
জ্‌+ঞ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জ্‌+ঞ
ব্যাখ্যা

• জ্ঞ যুক্তাক্ষরে জ্‌ + ঞ- এই দুটি বর্ণ রয়েছে। 
জ্ঞান শব্দের যুক্তবর্ণের সঠিক রূপ- জ্‌ + ঞ। 

• জ্ঞ (জ্‌ + ঞ) যুক্তবর্ণ দিয়ে গঠিত কিছু বাংলা শব্দ:
- বিজ্ঞান, সংজ্ঞা, অভিজ্ঞ, যজ্ঞ, প্রজ্ঞা, অজ্ঞ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান। 

১১.
কোন বানানটি শুদ্ধ? 
  1. শিরচ্ছেদ
  2. শিরশ্ছেদ
  3. শিরোচ্ছেদ
  4. শিরোশ্ছেদ 
সঠিক উত্তর:
শিরশ্ছেদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শিরশ্ছেদ
ব্যাখ্যা

শুদ্ধ বানান- শিরশ্ছেদ।

• শিরশ্ছেদ—
- এটি পারিভাষিক বা তৎসম শব্দ।
- সন্ধি–বিচ্ছেদ: শিরঃ + ছেদ। 
- পদ: বিশেষ্য। 
- অর্থ:
- কোনো ব্যক্তির মাথা শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন করে হত্যা করা বা মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা। 

- প্রকৃতি–প্রত্যয়:
- প্রকৃতি: শিরস্ (নাম প্রকৃতি);
- ধাতু: √ছেদ্;
- প্রত্যয়: অ (অচ্)।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান। 

১২.
বাংলা ভাষায় কৃৎ-প্রত্যয় দ্বারা সাধিত শব্দ কোনটি? 
  1. খেলনা
  2. খেলুনি
  3. রাধনী 
  4. রাধন
সঠিক উত্তর:
খেলনা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খেলনা
ব্যাখ্যা

'খেলনা'' শব্দটি বাংলা কৃৎ প্রত্যয় সাধিত শব্দ।
- কারণ 'খেলনা'' শব্দটি 'খেল' ধাতু এবং 'অনা' প্রত্যয়ের সংযোগে গঠিত হয়েছে।
- এখানে 'খেল' হলো ক্রিয়ামূল বা ধাতুরূপ এবং 'অনা' হলো বাংলা কৃৎ প্রত্যয়।
--------------------------- 
বাংলা কৃৎ প্রত্যয়:
- বাংলা কৃৎ প্রত্যয় হলো- বাংলা ভাষা থেকে আসা কৃৎ প্রত্যয়।
- অ, অক, অন, অনা, অনি, অন্ত, আ, আই, আও, আন, আনি, আল, ই - ইত্যাদি বাংলা কৃৎ প্রত্যয় এর উদাহরণ।
- বাংলা কৃৎ প্রত্যয় বোঝাতে ধাতুর আগে সাধারণত চিহ্ন (√) ব্যবহার করা হয়।

- উদাহরণ:
- √খেল+অনা = খেলনা, 
- √রাঁধ+না = রাঁধনা ˃ রান্না, 
- √মার+অ = মার, 
- √কাঁদ+অ = কাঁদকাঁদ, 
- √মর+অ = মরমর, 
- √কাঁদ+অন = কাঁদন, 
- √দে+অন = দেওন, 
- √বাঁধ+অনি = বাঁধুনি, 
- √আঁট+অনি = আঁটুনি, 
- √ডুব+অন্ত = ডুবন্ত, 
- √মুড়+অক = মোড়ক, 
- √ফুট+আ = ফোটা, 
- √মান+আন = মানান/মানানো, 
- √ধুন+আরী = ধুনারী, 
- √মিশ+আল = মিশাল, 
- √বহ+তা = বহতা, 
- √ঘাট+তি = ঘাটতি, 
-√উঠ+তি = উঠতি, 
- √কাঁদ+না = কাঁদনা ˃ কান্না, 
- √হাস + ই = হাসি।

উৎস:
বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ);
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৩.
কোনটি কৃদন্ত শব্দের উদাহরণ? 
  1. দোলনা
  2. কর্তব্য
  3. বহতা
  4. সবগুলো 
সঠিক উত্তর:
সবগুলো 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবগুলো 
ব্যাখ্যা

কৃৎ প্রত্যয় যোগে গঠিত শব্দকে কৃদন্ত শব্দ বলা হয়। 
-------------------- 
• কৃৎ প্রত্যয়:
- ক্রিয়ামূলের পরে যে প্রত্যয় যুক্ত হয় তাকে কৃৎ প্রত্যয় বলে।
- কিছু  কৃৎ প্রত্যয় এর উদাহরণ:
• খেলনা: খেল্ (ক্রিয়ামূল) + অন/আ (কৃৎ প্রত্যয়),
• দোলনা: দুল্ (ক্রিয়ামূল) + অনা (কৃৎ প্রত্যয়),
• কর্তব্য: কৃ (ক্রিয়ামূল) + তব্য (কৃৎ প্রত্যয়),
• মিশুক: মিশ্ (ক্রিয়ামূল) + উক (কৃৎ প্রত্যয়)।

• কৃদন্ত শব্দ:
- ক্রিয়ামূল বা ধাতুর সাথে কৃৎ প্রত্যয় যুক্ত হয়ে যে নতুন শব্দ তৈরি হয়, তাই হলো কৃদন্ত শব্দ।

- কৃদন্ত শব্দের কিছু উদাহরণ:
• দোলনা: 'দুল্‌' ধাতুর সাথে '-অনা' কৃৎ প্রত্যয় যোগে গঠিত।
• কর্তব্য: 'কৃ' ধাতুর সাথে '-তব্য' কৃৎ প্রত্যয় যোগে গঠিত।
• বহতা: 'বহ্' ধাতুর সাথে '-তা' কৃৎ প্রত্যয় যোগে গঠিত।

আরও কিছু উদাহরণ- 
- জ্যান্ত: 'জীবিত' অর্থে এই কৃদন্ত শব্দটি ব্যবহৃত হয়।
- কোটাল: 'কোটা' ধাতুর সাথে '-আল' প্রত্যয় যোগে গঠিত।
- ভোজন: 'ভুজ্‌' ধাতুর সাথে '-অন' প্রত্যয় যোগে গঠিত।
- বেতন: 'বেচ' ধাতুর সাথে '-তন' প্রত্যয় যোগে গঠিত।
- নেতা: 'নে' ধাতুর সাথে '-তা' প্রত্যয় যোগে গঠিত।

উৎস: 
বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ);
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৪.
ণ-ত্ব বিধান মতে ঋ, র, ষ এর পরে যুক্ত হয়-
  1. ন অথবা ণ
  2. কোন নিয়ম নেই
সঠিক উত্তর:
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাখ্যা

ণ-ত্ব বিধান অনুযায়ী ঋ, র, ষ এর পরে যুক্ত হয়- 'ণ'। 
-----------------------------
• ণ-ত্ব-বিধান:
- যে রীতি অনুসারে বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত তৎসম বা সংস্কৃত শব্দের বানানে ‘ণ’ ব্যবহৃত হয় তাকে ণত্ব-বিধান বলে।

- ঋ, র বা ষ-এর পরে যদি স্বরধ্বনি, য, ব, হ কিংবা ক-বর্গ ও প-বর্গীয় ধ্বনি থাকে, তবে তার পরবর্তী দন্ত্য ন পরিবর্তিত হয়ে মূর্ধন্য ণ হয়। 
- যেমন—
- হরিণ (র-এর পরে ই, তারপর ণ),
- অর্পণ (র + প + অ + ণ),
- লক্ষণ (ষ-এর পরে ক, তারপর ণ), 
- কৃপণ (ঋ-কারের পরে প, তারপর ণ) ইত্যাদি। 
- যেমন: 
- অকর্মণ্য, অগ্রহায়ণ, আরোহণ, অপরাহ্ণ, উৎক্ষেপণ, ক্ষেপণাস্ত্র, গৃহিণী, গ্রহণ, গ্রামীণ, চর্বণ, দর্পণ, দ্রবণ, পার্বণ, ভ্রমণ, পূর্বাহ্ণ, শ্রবণ, সন্তর্পণ ইত্যাদি। 

উৎস:
বাংলা ২য় পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়; 
ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ। 

১৫.
কোনটি সংস্কৃত কৃৎ প্রত্যয় এর উদাহরণ?
  1. রান্না 
  2. কাঁদন 
  3. গমন
  4. বাঁধুনি 
সঠিক উত্তর:
গমন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গমন
ব্যাখ্যা

√গম্‌ + অন্‌ (অনট্‌) = গমন- সংস্কৃত কৃৎ প্রত্যয়।
------------------------
• কৃৎ প্রত্যয়:
- ক্রিয়ামূলের পরে যে প্রত্যয় যুক্ত হয় তাকে কৃৎ প্রত্যয় বলে।
- অর্থাৎ, ক্রিয়ামূল বা ধাতুর পরে যে বর্ণ বা বর্ণসমষ্টি যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ—যা বিশেষ্য বা বিশেষণ হিসেবে ব্যবহৃত হয়— গঠন করে তাদেরকে কৃৎপ্রত্যয় বলা হয়।

• কৃৎ প্রত্যয় দুই প্রকার:
- সংস্কৃত কৃৎ প্রত্যয় এবং
- বাংলা কৃৎ প্রত্যয়।

- এই প্রত্যয়গুলো ধাতু বা ক্রিয়াপদের সাথে যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ তৈরি করে।
- প্রত্যয় বোঝাতে ধাতুর আগে সাধারণত চিহ্ন (√) ব্যবহার করা হয়।

• বাংলা কৃৎ প্রত্যয়:
- বাংলা ভাষা থেকে আসা কৃৎ প্রত্যয়।
- অ, অক, অন, অনা, অনি, অন্ত, আ, আই, আও, আন, আনি, আল, ই - ইত্যাদি বাংলা কৃৎ প্রত্যয় এর উদাহরণ।
- উদাহরণ:
- √রাঁধ+না = রাঁধনা ˃ রান্না। 
- √কাঁদ+অন = কাঁদন। 
- √বাঁধ+অনি = বাঁধুনি। 

সংস্কৃত কৃৎ প্রত্যয়:
- ধাতুর সঙ্গে যে সব সংস্কৃত প্রত্যয় যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠিত হয়, তাদেরকে সংস্কৃত কৃত প্রত্যয় বলা হয়।
- সংস্কৃত কৃত প্রত্যয়গুলো অনেক ক্ষেত্রে বাংলায় পরিবর্তিত রূপ পেয়েছে।

- যেমন:
- সংস্কৃত: ণক → বাংলা: অক। 
- সংস্কৃত: অনট → বাংলা: অন। 

- উদাহরণ:
√গৈ + অক (ণক্‌) = গায়ক।
√ণী + অক (ণক্‌) = নায়ক। 
√গম্‌ + অন্‌ (অনট্‌) = গমন। 


- আরও কিছু উদাহরণ:
√চ + অ = চয়।
√কৃ + অনীয় = করণীয়।
√রক্ষ + অনীয় = রক্ষণীয়। 


উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ। 

১৬.
কোন শব্দে উপসর্গের কারণে মূর্ধন্য ষ হয়েছে?  
  1. অনুষঙ্গ
  2. প্রতিষেধক
  3. অভিষেক
  4. সবগুলো 
সঠিক উত্তর:
সবগুলো 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবগুলো 
ব্যাখ্যা

ষ-ত্ব বিধান:
- সংস্কৃত ভাষায় মূর্ধন্য ষ ব্যবহারের নিয়ম আছে।
- সেই কারণে বাংলা ভাষায় যেসব অবিকৃত সংস্কৃত শব্দ ব্যবহৃত হয়, সেগুলোর বানানেও মূর্ধন্য ষ-এর ব্যবহার প্রচলিত।
- অবিকৃত সংস্কৃত শব্দে কোন নিয়মে মূর্ধন্য ষ লেখা হবে—এই বিধানকেই ষ-ত্ব বিধান বলা হয়।

- বাংলা ভাষায় মূর্ধন্য ষ-এর জন্য আলাদা কোনো বিশেষ উচ্চারণ নেই।
- তাই খাঁটি বাংলা শব্দ ও বিদেশি শব্দের বানানে মূর্ধন্য ষ ব্যবহারের প্রয়োজন হয় না।

'ষ' ব্যবহারের নিয়ম:
- ই-কারান্ত ও উ-কারান্ত উপসর্গের পরে কিছু ধাতুতে মূর্ধন্য ষ ব্যবহৃত হয়।
- যেমন:
- অভি + সেক → অভিষেক,
- অনু + সঙ্গ → অনুষঙ্গ,
- প্রতি + সেধক → প্রতিষেধক,
- অনু + স্থান → অনুষ্ঠান।
-------------------- 
• 'ষ' ব্যবহারের অন্যান্য নিয়ম:

• ঋ-কার ও র-এর পরে মূর্ধন্য ষ হয়।
- যেমন:
- কৃষক, তৃষ্ণা, বর্ষা, উৎকৃষ্ট, বৃষ্টি, দৃষ্টি, বর্ষণ।

• ট ও ঠ-এর পরে মূর্ধন্য ষ ব্যবহৃত হয়।
- যেমন: কষ্ট, কাষ্ঠ, সুষ্ঠু, নষ্ট।

• কিছু শব্দে স্বভাবতই সব সময় মূর্ধন্য ষ থাকে।
- যেমন:
- আষাঢ়, ঊষা, ঊষর, আভাষ, অভিলাষ, ঈষৎ, ঈর্ষা, কষায়, কোষ, পাষণ্ড, পাষাণ, ভাষা, ভাষণ, মানুষ, সরিষা, ঔষধ, ওষধি, ঘোষণা, পৌষ, কলুষ, শোষণ, ষড়যন্ত্র, সুষম।

• অ ও আ ছাড়া অন্যান্য স্বরধ্বনি এবং ক ও র-এর পরে মূর্ধন্য ষ হয়।
- যেমন: ভবিষ্যৎ, মুমূর্ষু, বিষয়, সুষমা।

উৎস: বাংলা ২য় পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

১৭.
নিচের কোনটি বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয়? 
  1. চোরাই
  2. বিবিয়ানা 
  3. থালা
  4. পুষ্পিত  
সঠিক উত্তর:
বিবিয়ানা 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিবিয়ানা 
ব্যাখ্যা

বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয়- বিবিয়ানা। 
--------------------------
• বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয়: 
- শব্দের পরে যেসব বিদেশি প্রত্যয় যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠিত হয় সেগুলোকে বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয় বলে।

- বাংলা শব্দসম্ভারে বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয়ের দুই রকম ব্যবহার দেখা যায়-
১. বিদেশি শব্দ + বিদেশি প্রত্যয় = বিদেশি শব্দ।
- উদাহরণ-
- মুসাফির + খানা = মুসাফিরখানা,
- বিবি + আনা = বিবিয়ানা। 

২. বাংলা বা সংস্কৃত শব্দ + বিদেশি প্রত্যয় = মিশ্র শব্দ।
- উদাহরণ-
- চলন + সই = চলনসই,
- অংশী + দার = অংশীদার।  
-------------------------
অন্যদিকে,
- চোরাই ও থালা- বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়।
- পুষ্পিত- সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়। 

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ। 

১৮.
স্বভাবতই মূর্ধন্য ণ হয় কোন বানানে? 
  1. শোণিত
  2. ক্রন্দণ
  3. বন্ধণ
  4. কর্তণ 
সঠিক উত্তর:
শোণিত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শোণিত
ব্যাখ্যা

ণ-ত্ব বিধান:
- বাংলা ভাষায় সাধারণত মূর্ধন্য- ণ ধ্বনির ব্যবহার নেই।
- সেজন্য বাংলা (দেশি), তদ্ভব ও বিদেশি শব্দের বানানে মূর্ধন্য বর্ণ (ণ) লেখার প্রয়োজন হয় না।
- কিন্তু বাংলা ভাষায় বহু তৎসম বা সংস্কৃত শব্দে মূর্ধন্য- ণ এর ব্যবহার আছে।
- তৎসম বা সংস্কৃত শব্দে মূর্ধন্য - ণ এর ব্যবহার বাংলায় অবিকৃতভাবে রক্ষিত হয়।
- তৎসম শব্দের বানানে ণ - এর সঠিক ব্যবহারের নিয়মই ণ-ত্ব বিধান।
- ণ-ত্ব বিধান শুধু তৎসম শব্দের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য।
- যেমন— ঋণ, কারণ, মরণ, ভীষণ, ভাষণ ইত্যাদি।

- বাংলা ভাষায় এমন কিছু শব্দ আছে, যেগুলোর বানানে সব সময়ই মূর্ধন্য ণ ব্যবহৃত হয়।
- কোনো নিয়ম ছাড়াই স্বভাবতই মূর্ধন্য-ণ ব্যবহৃত হয় যেসব শব্দে— 
- মাণিক্য, গণ, বাণিজ্য, লবণ, মণ, বেণু, বীণা, কঙ্কণ, কণিকা, কল্যাণ, শোণিত, মণি, গুণ, পুণ্য, অনু, বিপণী, ক্ষণিকা, লাবণ্য, বাণী, গৌণ, কোণ, ভাণ, পণ।

- আবার কিছু শব্দে কখনোই মূর্ধন্য ণ হয় না;
- সেখানে সব সময় দন্ত্য ন-ই ব্যবহৃত হয়।
- যেমন—
- কর্তন, ক্রন্দন, বন্ধন ইত্যাদি।

উৎস:
বাংলা ২য় পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়; 
ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ। 

১৯.
‘মাধব’ শব্দের প্রকৃতি-প্রত্যয় কোনটি? 
  1.  মধু + ইমন্‌ 
  2. মধু + ঈমন্‌
  3. মাধ + ব্‌ 
  4. মধু + ব্‌  
সঠিক উত্তর:
 মধু + ইমন্‌ 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
 মধু + ইমন্‌ 
ব্যাখ্যা

‘মাধব’ শব্দের প্রকৃতি-প্রত্যয়: মধু + ইমন্‌।
- ‘মাধব’ শব্দটি 'মধু’ বিশেষণের সাথে সংস্কৃত তদ্ধিত ‘ইমন’ প্রত্যয়ের সংযুক্তিতে গঠিত। 
- এখানে ‘মধু’ হলো মূল শব্দ বা প্রকৃতি।
---------------------------
সংস্কৃত ‘ইমন’ (ইমন্) তদ্ধিত প্রত্যয়:
- সংস্কৃত ‘ইমন’ (ইমন্) তদ্ধিত প্রত্যয় হলো এমন একটি সংস্কৃত প্রত্যয় যা মূল শব্দের পরে যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ তৈরি করে।
- এটি মূলত ‘ইমন্’ শব্দাংশের রূপান্তর।
- এই প্রত্যয় শব্দের মাধ্যমে ‘অন্তরঙ্গতা’, ‘নিকটবর্তীতা’ বোঝাতে সাহায্য করে। 
- এই প্রত্যয় মূল শব্দকে বিশেষ্য বা বিশেষণ হিসেবে রূপান্তরিত করে এবং গুণ বা ভাব প্রকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

- উদাহরণস্বরূপ:
• মধু + ইমন্‌ = মাধব (মধুর বা মধুময়),
• গুরু + ইমন্‌ = গৌরব (গুরুত্ব),
• লঘু + ইমন্‌ = লাঘব (হালকা বা লঘুতা), 
• মহৎ + ইমন্‌ = মহিমা (মহত্ত্ব)। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

২০.
‘পরাহ্ন’ শব্দটি কী কারণে অশুদ্ধ? 
  1. বাহুল্যজনিত
  2. প্রত্যয়জনিত
  3. ণত্ব বিধি লঙ্ঘন
  4. সন্ধিজনিত 
সঠিক উত্তর:
ণত্ব বিধি লঙ্ঘন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ণত্ব বিধি লঙ্ঘন
ব্যাখ্যা

ণ-ত্ব বিধি লঙ্ঘন করেছে বিধায় ‘পরাহ্ন’ শব্দটি অশুদ্ধ।
----------------------
• ণ-ত্ব বিধান:
- ণ-ত্ব বিধান বাংলা ভাষায় মূর্ধন্য ‘ণ’-এর সঠিক প্রয়োগের নিয়মাবলি নির্দেশ করে।
- ণ-ত্ব বিধান বাংলা ব্যাকরণের সেই নিয়ম যা নির্দেশ করে যে কখন তৎসম (সংস্কৃত থেকে আগত) শব্দে দন্ত্য ‘ন’ পরিবর্তিত হয়ে মূর্ধন্য ‘ণ’ হবে।
- মূলত এটি তৎসম শব্দের জন্য প্রযোজ্য, কারণ দেশি বা তদ্ভব শব্দে ‘ণ’ ব্যবহার হয় না।
- নিয়ম অনুযায়ী, যদি ঋ, র, ষ বর্ণের পরে দন্ত্য ‘ন’ থাকে, তবে তা ‘ণ’ হয়, যেমন: ঋণ, বর্ণ, ঘৃণা।
- এছাড়া, ঋ, র, ষ এর পরে যদি স্বরবর্ণ, ক-বর্গ, প-বর্গ, য, ব, হ বা অনুস্বার থাকে, তবুও ‘ণ’ হয়, যেমন: কৃপণ, নির্বাণ, গ্রহণ।

- প্র, পরা, পূর্ব, অপর- এইগুলার পর অহ্ন শব্দ থাকলে দন্ত্য 'ন' মূর্ধন্য 'ণ' হয়।
- যেমন: প্রাহ্ণ, পরাহ্ণ, পূর্বাহ্ণ, অপরাহ্ণ ইত্যাদি।

- ‘পরাহ্ন'’ শব্দে — প্র, পরা, পূর্ব, অপর- এইগুলার পর অহ্ন শব্দ থাকলে দন্ত্য 'ন' মূর্ধন্য 'ণ' হয় — নিয়ম অনুযায়ী ‘পরাহ্ণ' হবে।
- ‘ন' ব্যবহার করায় ‘পরাহ্ন’ শব্দটি ভুল। 
- এর শুদ্ধ রূপ হলো- পরাহ্ণ। 
------------------- 
উল্লেখ্য,
- মধ্যাহ্ন ও সায়াহ্ন শব্দে 'ণ' হবেনা কারণ- এখানে ‘অহ্ন’- 'মধ্য' ও 'সায়' শব্দের পরে আছে। 

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ। 

২১.
নিচের কোন বানানটি অশুদ্ধ?
  1. মুমূর্ষু
  2. স্বৈরিণী
  3. সাত্ত্বিক 
  4. সমীচিন
সঠিক উত্তর:
সমীচিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সমীচিন
ব্যাখ্যা

অশুদ্ধ বানান- সমীচিন।
- শুদ্ধ বানান- সমীচীন।
- এটি একটি বিশেষণ পদ।
- সন্ধি–বিচ্ছেদ: সমী + চীন। 
- সন্ধি নিয়ম: স্বরসন্ধির নিয়মে গঠিত।
- প্রকৃতি: সংস্কৃত শব্দ।
- এর অর্থ হলো: যথোচিত, যুক্তিযুক্ত বা সঙ্গত। 

অন্যদিকে,
- মুমূর্ষু, স্বৈরিণী, সাত্ত্বিক— এই শব্দগুলোর বানান সঠিকভাবে লেখা হয়েছে।

উৎস:
ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ। 
বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

২২.
‘শৈশব’ এর সঠিক প্রকৃতি ও প্রত্যয় কোনটি? 
  1. শিশু + ষ্ণ্য
  2. শিশু + জ্ঞ্য
  3. শিশু + ষ্ণ
  4. শৈ + শষ
সঠিক উত্তর:
শিশু + ষ্ণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শিশু + ষ্ণ
ব্যাখ্যা

• ‘শৈশব’ এর প্রকৃতি–প্রত্যয়:
- প্রকৃতি: শিশু (নাম প্রকৃতি / ধাতু);
- প্রত্যয়: ষ্ণ– সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়।
- 'শিশু' শব্দের সঙ্গে তদ্ধিত প্রত্যয় ‘ষ্ণ' যুক্ত হয়ে ‘শৈশব’ শব্দ গঠিত হয়েছে।
- শৈশব = শিশু + ষ্ণ। 

সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়: 
- সংস্কৃত বা তৎসম শব্দের পরে যে প্রত্যয় যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠন করে, তাকে সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয় বলা হয়।
- সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়গুলোর মধ্যে ষ্ণ প্রত্যয়টি উল্লেখযোগ্য।
- ‘ষ্ণ’ যোগে গঠিত কিছু শব্দ:
• দানব = দনু + ষ্ণ,
• লাঘব = লঘু + ষ্ণ,
• রাঘব = রঘু + ষ্ণ,
• পার্থ = পৃথ + ষ্ণ,
• গৌরব = গুরু + ষ্ণ,
• সৌজন্য = সুজন + ষ্ণ,
• মানব = মনু + ষ্ণ, 
• যাদব = যদু + ষ্ণ, 
• শৈব = শিব + ষ্ণ, 
• জিন + ষ্ণ = জৈন। 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।