• ষ-ত্ব বিধান:
- সংস্কৃত ভাষায় মূর্ধন্য ষ ব্যবহারের নিয়ম আছে।
- সেই কারণে বাংলা ভাষায় যেসব অবিকৃত সংস্কৃত শব্দ ব্যবহৃত হয়, সেগুলোর বানানেও মূর্ধন্য ষ-এর ব্যবহার প্রচলিত।
- অবিকৃত সংস্কৃত শব্দে কোন নিয়মে মূর্ধন্য ষ লেখা হবে—এই বিধানকেই ষ-ত্ব বিধান বলা হয়।
- বাংলা ভাষায় মূর্ধন্য ষ-এর জন্য আলাদা কোনো বিশেষ উচ্চারণ নেই।
- তাই খাঁটি বাংলা শব্দ ও বিদেশি শব্দের বানানে মূর্ধন্য ষ ব্যবহারের প্রয়োজন হয় না।
• 'ষ' ব্যবহারের নিয়ম:
- ই-কারান্ত ও উ-কারান্ত উপসর্গের পরে কিছু ধাতুতে মূর্ধন্য ষ ব্যবহৃত হয়।
- যেমন:
- অভি + সেক → অভিষেক,
- অনু + সঙ্গ → অনুষঙ্গ,
- প্রতি + সেধক → প্রতিষেধক,
- অনু + স্থান → অনুষ্ঠান।
--------------------
• 'ষ' ব্যবহারের অন্যান্য নিয়ম:
• ঋ-কার ও র-এর পরে মূর্ধন্য ষ হয়।
- যেমন:
- কৃষক, তৃষ্ণা, বর্ষা, উৎকৃষ্ট, বৃষ্টি, দৃষ্টি, বর্ষণ।
• ট ও ঠ-এর পরে মূর্ধন্য ষ ব্যবহৃত হয়।
- যেমন: কষ্ট, কাষ্ঠ, সুষ্ঠু, নষ্ট।
• কিছু শব্দে স্বভাবতই সব সময় মূর্ধন্য ষ থাকে।
- যেমন:
- আষাঢ়, ঊষা, ঊষর, আভাষ, অভিলাষ, ঈষৎ, ঈর্ষা, কষায়, কোষ, পাষণ্ড, পাষাণ, ভাষা, ভাষণ, মানুষ, সরিষা, ঔষধ, ওষধি, ঘোষণা, পৌষ, কলুষ, শোষণ, ষড়যন্ত্র, সুষম।
• অ ও আ ছাড়া অন্যান্য স্বরধ্বনি এবং ক ও র-এর পরে মূর্ধন্য ষ হয়।
- যেমন: ভবিষ্যৎ, মুমূর্ষু, বিষয়, সুষমা।
উৎস: বাংলা ২য় পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।