পরীক্ষা আর্কাইভ

১৯তম জুডিসিয়াল সার্ভিস (BJS) প্রস্তুতি

পরীক্ষা১৯তম জুডিসিয়াল সার্ভিস (BJS) প্রস্তুতিতারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়12 minutes
মোট প্রশ্ন২২
সিলেবাস
পরীক্ষা - ২৭ সাধারণ বিজ্ঞান পরীক্ষা - ১ বিষয়: সাধারণ জ্ঞান (বিজ্ঞান) টপিক: প্রাত্যহিক জীবনে বিজ্ঞান (পদার্থ বিজ্ঞান ও রসায়ন বিজ্ঞান সংশ্লিষ্ট) পদার্থ বিজ্ঞান গুরুত্বপূর্ণ টপিক: বিভিন্ন পরিমাপক যন্ত্র, বলবিদ্যা, ধাতু ও অধাতু, চৌম্বক, তরঙ্গ ও শব্দ, কাজ, ক্ষমতা ও শক্তি, তাপ, আলো, মহাকর্ষ ও অভিকর্ষ, ইত্যাদি, রসায়ন বিজ্ঞান গুরুত্বপূর্ণ টপিক: পদার্থের অবস্থা, পরমাণুর গঠন, পর্যায় সারণি, রাসায়নিক বিক্রিয়া, এসিড, ক্ষার, লবণ, জৈব রসায়ন। উৎস: বিজ্ঞান বোর্ড বই (NCTB ও উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়), যেকোনো ভালো গাইড বই।
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

১৯তম জুডিসিয়াল সার্ভিস (BJS) প্রস্তুতি

১৯তম জুডিসিয়াল সার্ভিস (BJS) প্রস্তুতি · তারিখ অনির্ধারিত · ২২ প্রশ্ন

.
বৈদ্যুতিক শক্তি ও চৌম্বকত্বকে একত্রিত করে বিজ্ঞানীরা যে বল আবিষ্কার করেন, তার নাম কী?
  1. মহাকর্ষ বল
  2. নিউক্লিয়ার বল
  3. দুর্বল নিউক্লিয় বল 
  4. বিদ্যুৎ চৌম্বকীয় বল
ব্যাখ্যা

প্রকৃতির রহস্য উদঘাটন:
- প্রাচীনকালে চীন দেশে একটুকরো লোড স্টোনকে সমজাতীয় অন্য একটি লোড স্টোনের টুকরোকে অদৃশ্য একটা শক্তি দিয়ে আকর্ষণ করতে দেখা গিয়েছিল, বিশেষ ধরনের এই পদার্থের বিশেষ এই ধর্মটির নাম দেওয়া হয়েছিল চৌম্বকত্ব (Magnetism) । 
- একইভাবে প্রাচীন গ্রিসে আম্বর নামের পদার্থকে পশম দিয়ে ঘষা হলে সেটি এই দুটি পদার্থকে একটি অদৃশ্য শক্তি দিয়ে আকর্ষণ করত, এই বিশেষ ধর্মের নাম দেওয়া হলো ইলেকট্রিসিটি বা বৈদ্যুতিক শক্তি (Electricity)। 
- অষ্টাদশ শতাব্দীতে এটি নিয়ে ব্যাপক গবেষণা হয় এবং বিজ্ঞানীরা আবিষ্কার করেন এটি একই বলের দুটি ভিন্ন রূপ এবং এই বলটির নাম দেওয়া হয় বিদ্যুৎ চৌম্বকীয় বল (Electromagnetism)। 
- পরবর্তীতে তেজস্ক্রিয়তা আবিষ্কৃত হওয়ার পর বিটা রশ্মি নামে একটা বিশেষ বিকিরণ ব্যাখ্যা করার সময় 'দুর্বল নিউক্লিয় বল' নামে নতুন এক ধরনের বল আবিষ্কৃত হয়। 
- পদার্থবিজ্ঞানীরা পরে দেখালেন বিদ্যুৎ চৌম্বকীয় বল এবং দুর্বল নিউক্লিয় বল একই বলের ভিন্ন ভিন্ন রূপ, তাদেরকে একত্র করে সেই বলের নাম দেওয়া হলো ইলেকট্রো উইক ফোর্স। পদার্থবিজ্ঞানীরা ধারণা করেন, প্রকৃতিতে মহাকর্ষ বল এবং নিউক্লিয়ার বল নামে আরও যে দুটি বল রয়েছে ভবিষ্যতে সেগুলোও একই সূত্রের আওতায় আনা যাবে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

.
সাবানকে শক্ত করতে কোন পদার্থ ব্যবহার করা হয়?
  1. সোডিয়াম ক্লোরাইড
  2. সোডিয়াম সিলিকেট
  3. সোডিয়াম কার্বোনেট 
  4. সোডিয়াম সালফেট
ব্যাখ্যা

- সাবান তৈরির প্রক্রিয়ায় সোডিয়াম সিলিকেট একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এর প্রধান কারণগুলো হলো- সাবানকে শক্ত ও স্থায়িত্ব বৃদ্ধি করা, বাইন্ডার হিসেবে কাজ করা এবং ফিলার হিসেবে ব্যবহার করা হয়। 

সাবান: 
- সাবান হচ্ছে উচ্চতর ফ্যাটি এসিডের সোডিয়াম বা পটাশিয়াম লবণ। 
- সাবানের রাসায়নিক নাম হলাে সােডিয়াম স্টিয়ারেট (C17H35COONa).
- সাবানের আয়নিক গ্রুপ হলো COO-Na+
- সাবান বহুল প্রচলিত পরিষ্কারক সামগ্রী হিসেবে দেহ এবং কাপড়-চোপড় পরিষ্কারের জন্য ব্যবহৃত হচ্ছে। সাবান এবং প্রাকৃতিক উপাদান ছাড়াও আধুনিক জীবনে পরিষ্কারক হিসেবে ডিটারজেন্ট, ইমালশান, পলিশ ইত্যাদি ব্যবহৃত হচ্ছে। 
- সাবান তৈরির প্রধান কাঁচামাল হচ্ছে তেল বা চর্বি। তেল বা চর্বিকে সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড বা পটাশিয়াম হাইড্রোক্সাইড দ্রবণ দ্বারা আর্দ্র বিশ্লেষণ করলে সোডিয়াম সাবান বা পটাশিয়াম সাবান উৎপন্ন হয়। 
- সাবান তৈরির সময় উপজাত হিসেবে গ্লিসারিন পাওয়া যায়। 
- সোডিয়াম সিলিকেট সাবানকে শক্ত করতে ব্যবহার করা হয়। 

উৎস: উচ্চ মাধ্যমিক রসায়ন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি এবং রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।

.
এক হর্স পাওয়ার (H.P) কত ওয়াটের সমান?
  1. 746 W
  2. 764 W
  3. 646 W
  4. 664 W
ব্যাখ্যা

- ক্ষমতার একটি প্রচলিত একক হলো হর্স পাওয়ার (HP), যা সাধারণত ইঞ্জিন বা মোটরের ক্ষমতা প্রকাশে ব্যবহৃত হয়। এক হর্স পাওয়ার সমান ৭৪৬ ওয়াট। 

ক্ষমতা (Power): 
- ক্ষমতা, কাজ ও সময়ের মধ্যে সম্পর্ক নির্ধারণ করে। 
- একটি নির্দিষ্ট সময়ে কি পরিমাণ কাজ সম্পন্ন হয় তা দ্বারা ক্ষমতার পরিমাপ করা হয়। 
- ক্ষমতা P দ্বারা প্রকাশ করা হয়। 
সুতরাং, ক্ষমতা = বল × বেগ 
বা, P = Fv 
অর্থাৎ, কোন যন্ত্রে F পরিমাণ বল প্রয়োগের ফলে যন্ত্রটি যদি বলের দিকে v বেগ প্রাপ্ত হয় তবে বল এবং বেগের গুণফল হবে ঐ যন্ত্রের ক্ষমতা। 
- ক্ষমতার এস. আই একক ওয়াট। 
- হর্স পাওয়ার বা অশ্বক্ষমতা (HP) নামে ক্ষমতার আর একটি একক ব্যবহার করা হয়। 
- এক হর্স পাওয়ার বা অশ্বক্ষমতা (H.P) = 746 W. 
- ক্ষমতার মাত্রা [ML2T -3]. 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

.
পরমাণুর কেন্দ্রে কোনটি অবস্থান করে?
  1. ইলেকট্রন
  2. শুধুমাত্র প্রোটন
  3. প্রোটন এবং নিউট্রন
  4. ইলেকট্রন এবং প্রোটন
ব্যাখ্যা

- পরমাণুর কেন্দ্রকে বলা হয় নিউক্লিয়াস, এই নিউক্লিয়াস পরমাণুর একটি ক্ষুদ্র ও ঘনত্বপূর্ণ অঞ্চল যেখানে ধনাত্মক আধানযুক্ত প্রোটন এবং আধানহীন (নিরপেক্ষ) নিউট্রন অবস্থান করে। পরমাণুর প্রায় সমস্ত ভর এই নিউক্লিয়াসেই পুঞ্জীভূত থাকে। 

মৌলিক কণিকা: 
- যে সব সূক্ষ্ম কণিকা দ্বারা পরমাণু গঠিত তাদেরকে মৌলিক কণিকা বলা হয়। 
- পরমাণুর মৌলিক কণিকাগুলো হলো- ইলেকট্রন, প্রোটন ও নিউট্রন। 
- স্বাভাবিক অবস্থায় পরমাণুর প্রোটন ও ইলেকট্রন সংখ্যা সমান থাকে। 
- কিন্তু নিউট্রন সংখ্যা কখনো সমান আবার কখনো বেশি থাকতে পারে। 
- পরমাণুর কেন্দ্রে নিউক্লিয়াস থাকে। 
- নিউক্লিয়াসে প্রোটন ও নিউট্রন অবস্থান করে। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

.
সরল দোলন গতি হলো এক ধরনের–
  1. অর্ধবৃত্তাকার গতি
  2. উপবৃত্তাকার গতি
  3. সরল রৈখিক গতি
  4. রৈখিক পর্যাবৃত্ত গতি
ব্যাখ্যা

- সরল দোলন গতি হলো এক বিশেষ ধরনের রৈখিক পর্যাবৃত্ত গতি। 

সরল দোলন গতি: 
- কম্পনশীল কোনো বস্তুকণার ত্বরণ সাম্যাবস্থান থেকে কণাটির সরণের সমানুপাতিক এবং সর্বদাই সাম্যাবস্থান অভিমুখী হলে, ঐ কণার গতিকে সরল দোলন গতি বলা হয়। অথবা, যদি কোনো পর্যাবৃত্ত গতি সম্পন্ন বস্তুর ত্বরণ তার সাম্যাবস্থান থেকে সরণের সমানুপাতিক এবং বিপরীতমুখী অর্থাৎ সর্বদা সাম্য বিন্দু অভিমুখী হয় তবে ঐ বস্তুর গতিকে সরল দোলন গতি বলে। 

সরল দোলন গতির বৈশিষ্ট্য: 
- সরল দোলন গতির কতগুলো নির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্য আছে। 
- এই বৈশিষ্ট্যসমূহ দিয়ে কোনো কণার গতি সরল দোলন গতি কিনা তা নির্ধারণ করা হয়। 
- নিচে সরল দোলন গতির বৈশিষ্ট্যসমূহ দেয়া হলো- 
১। সরল দোলন গতি হলো এক ধরনের রৈখিক পর্যাবৃত্ত গতি। অর্থাৎ, কোনো বস্তুকণা একই সময়ে বারবার একটি নির্দিষ্ট সরলরেখাংশ বরাবর এদিক-ওদিক যাওয়া-আসা করে। 
২। সরল দোলন গতি বিশিষ্ট কণার ত্বরণ সর্বদা তার সাম্যাবস্থান অভিমুখী হয়। 
৩। কণাটির ত্বরণ সাম্যাবস্থান থেকে সরণের সমানুপাতিক। 
৪। কণাটি যে মুহূর্তে সাম্যাবস্থান অতিক্রম করে সেই মুহূর্তে গতিবেগ সর্বোচ্চ হয়। সরণের শেষ সীমায় গতিবেগ মুহূর্তের জন্য শূন্য হয় এবং তারপরেই কণাটি বিপরীত দিকে যাত্রা শুরু করে। 
৫। সরল দোলন গতির পর্যায়কাল তার বিস্তারের উপর নির্ভরশীল নয়। বিভিন্ন বাহ্যিক কারণে বিস্তার হ্রাস পেতে থাকলেও পর্যায়কাল অপরিবর্তিত থাকে। 
৬। সরল দোলন গতি সম্পন্ন কণার স্পন্দন সীমা সাম্যাবস্থান থেকে উভয় দিকে সমান দূরে অবস্থান করে। 
৭। সরল দোলন গতি সম্পন্ন কণার সরণ সাইন বা কোসাইন অপেক্ষক দ্বারা প্রকাশ করা যায়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

.
তাপ পরিমাপের যন্ত্র কোনটি?
  1. হাইগ্রোমিটার
  2. ক্যালরিমিটার
  3. থার্মোমিটার
  4. ব্যারোমিটার
ব্যাখ্যা

- ক্যালরিমিটার বস্তুর গ্রহণ করা বা বর্জন করা তাপের পরিমাণ পরিমাপ করতে ব্যবহৃত হয়। এটি সাধারণত ক্যালরিমিতির মূলনীতির (গৃহীত তাপ = বর্জিত তাপ) ওপর ভিত্তি করে কাজ করে। 

তাপ: 
- তাপ হলো বস্তুর বা পদার্থের অভ্যন্তরস্থ অণুসমূহের গতির সঙ্গে সম্পর্কিত এক প্রকার শক্তি যা ঠান্ডা ও গরমের অনুভূতি সৃষ্টি করে। 
- তাপের এস.আই (S.I) একক জুল। 
- তাপের মেট্রিক পদ্ধতির একটি একক হচ্ছে ক্যালরি যা এখনো পুষ্টি বিজ্ঞানে ব্যবহৃত হয়। 
- তাপ পরিমাপের যন্ত্র ক্যালরিমিটার। 
- তাপের প্রবাহ তাপের পরিমাণের ওপর নির্ভর করে না। 
- দুটি বস্তুর তাপের পরিমাণ এক হলেও এদের তাপমাত্রার পরিমাণ ভিন্ন হতে পারে। 

অন্যদিকে, 
- হাইগ্রোমিটার: এটি বাতাসের আর্দ্রতা (বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ) পরিমাপ করার জন্য ব্যবহৃত হয়।
- থার্মোমিটার: এটি বস্তুর তাপমাত্রা (বস্তু কতটা গরম বা ঠান্ডা) পরিমাপ করতে ব্যবহৃত হয়, তাপের মোট পরিমাণ নয়।
- ব্যারোমিটার: এটি বায়ুমণ্ডলীয় চাপ পরিমাপ করার যন্ত্র। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

.
আধুনিক পর্যায় সারণিতে মোট কতটি পর্যায় আছে?
  1. ৭ 
  2. ১০ 
  3. ১৫ 
  4. ১৮ 
ব্যাখ্যা

- আধুনিক পর্যায় সারণিতে মোট ৭টি পর্যায় (অনুভূমিক সারি) এবং ১৮টি গ্রুপ (উল্লম্ব কলাম) রয়েছে। 

পর্যায় সারণি: 
- ১৯১৪ সালে বিজ্ঞানী বোর মৌলের পরমাণুর ইলেকট্রন বিন্যাসের ভিত্তিতে বিস্তৃত আকারে একটি পর্যায় সারণি তৈরি করেন। এটি দীর্ঘ পর্যায় সারণি বা বোরের সারণি নামেও পরিচিত। 
- বোরের পর্যায় সারণিকে আধুনিক পর্যায় সারণি বলা হয়। 
- মৌলের পরমাণুর ইলেকট্রন বিন্যাসই পর্যায় সারণির মূল ভিত্তি। 
- এই পর্যায় সারণিতে মৌলগুলোকে পর্যায় ও গ্রুপ বরাবর ভাগ করা হয়েছে। 
- সমগ্র পর্যায় সারণিকে ৭টি পর্যায় ও ১৮টি গ্রুপ হিসেবে ভাগ করা রয়েছে। 
- প্রতিটি পর্যায়ের বাম দিক থেকে গ্রুপ-১ এর মৌল দিয়ে শুরু করে গ্রুপ-১৮ তে গিয়ে শেষ হয়েছে।

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

.
অ্যামিটার কী পরিমাপ করতে ব্যবহৃত হয়?
  1. রোধ
  2. তড়িৎ প্রবাহ
  3. বিভব পার্থক্য 
  4. ক্ষমতা
ব্যাখ্যা

- অ্যামিটার (Ammeter) একটি বৈদ্যুতিক যন্ত্র যা কোনো বর্তনীর মধ্য দিয়ে প্রবাহিত তড়িৎ প্রবাহ (Electric Current) সরাসরি অ্যাম্পিয়ার এককে পরিমাপ করতে ব্যবহৃত হয়। 

অ্যামিটার: 
- অ্যামিটার একটি বৈদ্যুতিক যন্ত্র। 
- অ্যামিটারের সাহায্যে বর্তনীর তড়িৎ প্রবাহ সরাসরি অ্যাম্পিয়ার এককে পরিমাপ করা যায়। 
- অ্যামিটার বর্তনীর সাথে শ্রেণি সংযোগে যুক্ত থাকে। 
- এই যন্ত্রে মূলত একটি গ্যালভানোমিটার থাকে। গ্যালভানোমিটার হচ্ছে সেই যন্ত্র যার সাহায্যে বর্তনীতে তড়িৎ প্রবাহের অস্তিত্ব ও পরিমাণ নির্ণয় করা যায়। 
- এই গ্যালভানোমিটারে বিক্ষেপ নির্ণয়ের জন্য একটি সূচক বা কাঁটা লাগানো থাকে। সূচকটি অ্যাম্পিয়ার, মিলিঅ্যাম্পিয়ার বা মাইক্রোঅ্যাম্পিয়ার এককে দাগকাটা একটি স্কেলের উপর ঘুরতে পারে। 
- বিদ্যুৎ কোষের মতো অ্যামিটারেও দুটি সংযোগ প্রান্ত থাকে, একটি ধনাত্মক ও একটি ঋণাত্মক প্রান্ত। 
- সাধারণত ধনাত্মক প্রান্ত লাল এবং ঋণাত্মক প্রান্ত কালো রঙের হয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।

.
রেডিও ও ঘড়ি তৈরিতে ব্যবহৃত খনিজ পদার্থ কোনটি?
  1. মাইকা 
  2. ম্যাগনেটাইট
  3. কোয়ার্টজ
  4. চুনাপাথর
ব্যাখ্যা

- রেডিও এবং ঘড়ি তৈরিতে কোয়ার্টজ (Quartz) ব্যবহৃত হয়। কারণ, এর একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য রয়েছে যাকে পাইজোইলেকট্রিক এফেক্ট বলা হয়। যখন কোয়ার্টজ স্ফটিকের ওপর যান্ত্রিক চাপ বা বিদ্যুৎ প্রয়োগ করা হয়, তখন এটি অত্যন্ত নিখুঁতভাবে কম্পিত হয়। ঘড়িতে এই কম্পন ব্যবহার করে নির্ভুল সময় নির্ধারণ করা হয় এবং রেডিওতে নির্দিষ্ট ফ্রিকোয়েন্সি বা তরঙ্গ বজায় রাখতে এটি ব্যবহৃত হয়। 

খনিজ পদার্থ: 
- পৃথিবীর অধিকাংশই খনিজই মাটি কিংবা শিলা থেকে পাওয়া খনিজ পদার্থ যার বেশির ভাগ খনিজ পদার্থই কঠিন অবস্থায় পাওয়া যায়। এখন পর্যন্ত প্রকৃতিতে প্রায় ২৫০০ রকমের খনিজ পদার্থ পাওয়া গেছে। 
- খনিজ পদার্থ ধাতব ও অধাতব দুটোই হতে পারে। 
যথা- 
১। ধাতব খনিজ পদার্থ: লোহা, তামা, সোনা, রূপা ইত্যাদি। 
২। অধাতব খনিজ পদার্থ: কোয়ার্টজ, মাইকা কিংবা খনিজ লবণ ইত্যাদি। 

- মাইকা বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতিতে বিদ্যুৎ নিরোধক হিসেবে ব্যবহার করা হয়। 
- ম্যাগনেটাইট লোহা বা আয়রন তৈরিতে ব্যবহার করা হয়। 
- চুনাপাথর ঘরবাড়ি তৈরিতে এবং সিমেন্ট, সোডা, গ্লাস, লোহা ও স্টীল উৎপাদনে ব্যবহৃত হয়। এছাড়াও মাটি এসিডিক হলে এটি ব্যবহার করে মাটিকে প্রশমন করা হয়। 
- কোয়ার্টজ কাঁচ, সিরিজ কাগজ, রেডিও বা ঘড়ি তৈরিতে ব্যবহার করা হয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি এবং ব্রিটানিকা।

১০.
শব্দের তীব্রতা পরিমাপক যন্ত্র কোনটি?
  1. ওডোমিটার
  2. ক্রনোমিটার
  3. ম্যানোমিটার
  4. অডিওমিটার
ব্যাখ্যা

- শব্দের তীব্রতা পরিমাপক যন্ত্র- অডিওমিটার। 

অন্যদিকে, 
- সমুদ্রের দ্রাঘিমা পরিমাপক যন্ত্র - ক্রনোমিটার। 
- গ্যাসের চাপ নির্ণায়ক যন্ত্র - ম্যানোমিটার। 
- মোটর গাড়ির গতি নির্ণায়ক যন্ত্র- ওডোমিটার। 

আরোও কিছু গূরুত্বপূর্ণ নির্ণায়ক যন্ত্র: 
- উড়োজাহাজের গতি নির্ণায়ক যন্ত্র- ট্যাকোমিটার। 
- উচ্চতা নির্ণায়ক যন্ত্র- অ্যালটিমিটার। 
- তরলের আপেক্ষিক গুরুত্ব নির্ণায়ক যন্ত্র - হাইড্রোমিটার। 
- পানির তলায় তেলের সঞ্চায়ক যন্ত্র - গ্রাডিমিটার। 

উৎস: এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা।

১১.
সাধারণত অ্যালকোহল বলতে কোন পদার্থকে বোঝায়?
  1. ইথানল
  2. মিথানল
  3. মেথিলেটেড স্পিরিট
  4. রেকটিফাইড স্পিরিট 
ব্যাখ্যা

- সাধারণত অ্যালকোহল বলতে মূলত ইথানল (C2H5OH) বোঝানো হয়, যা পানীয়, ওষুধ ও শিল্পে ব্যবহৃত হয়

অ্যালকোহল: 
- অ্যালকোহল বলতে সাধারণভাবে ইথানলকে বোঝায়। 
- স্টার্চ থেকে গাঁজন ক্রিয়ার মাধ্যমে ইথানল উৎপাদন করা হয়। এটি একটি শক্তিশালী জৈব দ্রাবক। 
- ৯৫.৬% ইথানল ও ৪.৪% পানির মিশ্রণকে রেকটিফাইড স্পিরিট বলে। রেকটিফাইড স্পিরিটকে হোমিও ওষুধে ব্যবহার করা হয়। 
- ইথানলকে পারফিউম, কসমেটিক্স, ফার্মাসিউটিক্যাল শিল্পে ব্যাপক ভাবে ব্যবহার করা হয়। 
- ইথানল পানীয় হিসেবেও ব্যবহৃত হয়। পানীয় হিসেবে ইথানলকে ব্যবহার না করার জন্য রেটিফাইড স্পিরিটের সাথে সামান্য মিথানল যোগ করে দেয়া হয়। 

- রেকটিফাইড স্পিরিটের সাথে মিথানল যুক্ত থাকলে এটি সম্পূর্ণভাবে পানের অযোগ্য হয়, এ মিশ্রণকে মেথিলেটেড স্পিরিট বলে। 
- ঔষধ শিল্পে ও খাদ্যে শিল্পে ব্যবহৃত অ্যালকোহলের মধ্যে মিথানল যোগ করা হয় না। 
- ইথানলকে মোটর ইঞ্জিনের জ্বালানী হিসেবেও ব্যবহার করা যায়। পেট্রোলিয়াম জাতীয় উপাদানের সাথে প্রায় ৩০% ইথানল যোগ করে এ ধরনের জ্বালানী তৈরী করা হয়। এভাবে ব্যবহৃত অ্যালকোহলকে পাওয়ার অ্যালকোহল বলে। অ্যালকোহলকে জ্বালানী হিসেবে ব্যবহার করলে জীবাশ্ম জ্বালানীর উপর চাপ কম পড়ে। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১২.
মহাকর্ষ বল কী? 
  1. পৃথিবীর নিজস্ব শক্তি
  2. পৃথিবীর অভ্যন্তরীণ তাপমাত্রা
  3. বস্তুর ভরের পরিমাণ 
  4. পৃথিবী এবং বস্তুর মধ্যে আকর্ষণ শক্তি 
ব্যাখ্যা

- মহাকর্ষ হলো মহাবিশ্বের যেকোনো দুটি বস্তুর মধ্যকার পারস্পরিক আকর্ষণ বল। তবে যখন এই আকর্ষণ বল পৃথিবী এবং অন্য কোনো বস্তুর মধ্যে কাজ করে, তখন তাকে বিশেষভাবে 'অভিকর্ষ' বা মাধ্যাকর্ষণ বলা হয়। প্রদত্ত অপশনগুলোর মধ্যে পৃথিবী ও বস্তুর মধ্যকার এই আকর্ষণ বলই মহাকর্ষ বা মাধ্যাকর্ষণ বলের সঠিক প্রতিফলন। 

মহাকর্ষ: 

- মানুষ লাফ দিয়ে উপরের দিকে উঠতে চাইলে বেশি দূর উঠতে পারে না, আবার ভূপৃষ্ঠে ফিরে আসে কারণ পৃথিবী তাদেরকে তার নিজের দিকে টানে বা আকর্ষণ করে। 
- মহাবিশ্বের প্রত্যেকটি বস্তুকণা পরস্পরকে আকর্ষণ করে, এই আকর্ষণ বলকে মহাকর্ষ বল বলে। এই ঘটনাকে (Phenomenon) বলে মহাকর্ষ। 
- পৃথিবী সকল বস্তুকে তার নিজের দিকে টানে। শুধু পৃথিবী নয়, এ মহাবিশ্বের সকল বস্তুকণাই একে অপরকে নিজের দিকে আকর্ষণ করে। 
- এ বিশ্বের যেকোনো দুটি বস্তুর মধ্যে যে আকর্ষণ বল তাই মহাকর্ষ বল। 

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।

১৩.
কোন ধরনের পদার্থ যেকোনো পাত্রের পুরো আয়তন দখল করে?
  1. কঠিন
  2. তরল 
  3. বায়বীয় 
  4. পলিমার
ব্যাখ্যা

- বায়বীয় বা গ্যাসীয় পদার্থের নির্দিষ্ট কোনো আকার বা আয়তন নেই, একে যে কোনো পাত্রে রাখলে এটি সেই পাত্রের পুরো আয়তন দখল করে নেয়। বায়বীয় পদার্থের অণুগুলোর মধ্যে আকর্ষণ বল অত্যন্ত কম এবং গতিশক্তি অনেক বেশি থাকে, ফলে অণুগুলো সবদিকে ছড়িয়ে পড়ে এবং বদ্ধ পাত্রের পুরো জায়গা জুড়ে অবস্থান করে। 

পদার্থ: 
- যে বস্তুর নির্দিষ্ট ভর আছে এবং জায়গা দখল করে তাকে পদার্থ বলে। 
- কক্ষ তাপমাত্রায় কোনো কোনো পদার্থ কঠিন, তরল এবং বায়বীয় এই তিন অবস্থায় থাকতে পারে। 

কঠিন পদার্থ: 
- কঠিন পদার্থের নির্দিষ্ট ভর, নির্দিষ্ট আকার এবং নির্দিষ্ট আয়তন থাকে। 
যেমন- ইট, কাঠ, পাথর, মোবাইল ফোন, শুষ্ক ব্যাটারি, বই, গ্লাস, প্লেট ইত্যাদি। 
- সব পদার্থের কণাগুলোর মধ্যেই এক ধরনের আকর্ষণ বল থাকে। একে আন্তঃকণা আকর্ষণ বল বলা হয়। 
- কঠিন পদার্থের কণাগুলোর মধ্যে আন্তঃকণা আকর্ষণ বল সবচেয়ে অনেক বেশি। এ কারণে কঠিন পদার্থের কণাগুলো খুব কাছাকাছি এবং নির্দিষ্ট অবস্থানে থাকে। 

তরল পদার্থ: 
- তরল পদার্থের নির্দিষ্ট ভর ও নির্দিষ্ট আয়তন আছে কিন্তু নির্দিষ্ট কোনো আকার নেই। 
যেমন- দুধ, সরিষার তৈল, পানি, পারদ, কেরোসিন তৈল, সয়াবিন তৈল, তরল পানীয়, ফলের জুস, অ্যালকোহল ইত্যাদি। 
- তরল পদার্থকে যে পাত্রে রাখা হয় তরল পদার্থ সেই পাত্রের আকার ধারণ করে। 
- তরলের কণাগুলো কঠিনের পদার্থের কণাগুলোর চেয়ে তুলনামূলকভাবে বেশি দূরত্বে থাকায় এদের মধ্যে আন্তঃকণা আকর্ষণ বল কঠিনের চেয়ে কম হয়। 

বায়বীয় পদার্থ: 
- গ্যাসীয় বা বায়বীয় পদার্থের নির্দিষ্ট ভর আছে কিন্তু নির্দিষ্ট আকার কিংবা নির্দিষ্ট আয়তন নেই। 
যেমন- অক্সিজেন, কার্বন ডাই-অক্সাইড, হাইড্রোজেন, নাইট্রোজেন, অ্যামোনিয়া ইত্যাদি। 
- যেকোনো পরিমাণ গ্যাসীয় পদার্থ যেকোনো আয়তনের পাত্রে রাখলে গ্যাসীয় পদার্থ সেই পাত্রের পুরো আয়তন দখল করে। 
- গ্যাসীয় পদার্থের কণাগুলো কঠিন ও তরলের চেয়ে বেশি দূরে দূরে অবস্থান করে বলে এদের আন্তঃকণা আকর্ষণ বল খুবই কম। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।

১৪.
কোনো রঙের আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য বেশি হলে, তার বিক্ষেপণ কেমন হবে? 
  1. কম 
  2. বেশি 
  3. মধ্যম 
  4. অনির্ধারিত
ব্যাখ্যা

- আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য যত বেশি হবে, তার বিক্ষেপণ তত কম হবে । উদাহরণস্বরূপ, লাল আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য সবচেয়ে বেশি হওয়ায় এর বিক্ষেপণ সবচেয়ে কম হয়, একারণেই দূর থেকে স্পষ্টভাবে দেখার জন্য ট্রাফিক সিগন্যাল বা বিপদ সংকেতে লাল আলো ব্যবহার করা হয়। 

আলাের তরঙ্গদৈর্ঘ্য: 
- দৃশ্যমান আলাের তরঙ্গদৈর্ঘ্যের ক্রম যথাক্রমে বেগুনি < নীল < আসমানী < সবুজ < হলুদ < কমলা < লাল। 
- আলাের তরঙ্গদৈর্ঘ্য কম হলে তার বিক্ষেপণ বেশি হয়, আবার আলাের তরঙ্গদৈর্ঘ্য বেশি হলে তার বিক্ষেপণ কম হয়। 
- লাল রঙের আলাের তরঙ্গদৈর্ঘ্য বেশি তাই এর বিক্ষেপণ কম। 
- যে বর্ণের আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য যত বেশি, তার প্রতিসরণ, বিচ্যুতি ও বিক্ষেপণ তত কম। 
- বেগুনি আলোর তরঙ্গ দৈর্ঘ্য সবচেয়ে কম বলে এর বিক্ষেপণ, প্রতিসরণ ও বিচ্যুতি সবচেয়ে বেশি। 
- লাল আলোর তরঙ্গ দৈর্ঘ্য সবচেয়ে বেশি বলে এর বিক্ষেপণ, প্রতিসরণ ও বিচ্যুতি সবচেয়ে কম। 

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।

১৫.
কার্বনকে বায়ুতে পোড়ালে প্রধানত কোন গ্যাস উৎপন্ন হয়?
  1. নাইট্রোজেন ডাই-অক্সাইড
  2. কার্বন মনোক্সাইড
  3. কার্বন ডাই-অক্সাইড
  4. সালফার ডাই-অক্সাইড
ব্যাখ্যা

-  কার্বনকে বাতাসের অক্সিজেনে পোড়ালে রাসায়নিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO2) গ্যাস উৎপন্ন হয়। এটি একটি দহন বিক্রিয়া যেখানে কার্বন (C) এবং অক্সিজেন (O2) মিলে একটি নতুন যৌগ তৈরি করে। অন্যদিকে, বাতাসে পর্যাপ্ত অক্সিজেন থাকলে কার্বন ডাই-অক্সাইড উৎপন্ন হয়; তবে অক্সিজেনের সরবরাহ সীমিত বা অপর্যাপ্ত হলে তখন কার্বন মনোক্সাইড (CO) উৎপন্ন হতে পারে। সাধারণ দহনে প্রধানত কার্বন ডাই-অক্সাইডই উৎপন্ন হয়।

প্রশমন বিক্রিয়া: 
- এসিড দ্রবণ ও ক্ষার দ্রবণ যোগ করলে রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটে। বিক্রিয়ার সময় এসিড তার এসিড ধর্ম এবং ক্ষার তার ক্ষার ধর্মকে হারিয়ে ফেলে লবণ ও পানি উৎপন্ন করে থাকে। 
- এসিড জলীয় দ্রবনে হাইড্রোজেন আয়ন (H+) ও ক্ষার জলীয় দ্রবণে হাইড্রোক্সিল আয়ন (OH-) দান করে থাকে। এসিডের হাইড্রোজেন আয়ন (H+) ও ক্ষারের হাইড্রোক্সিল আয়ন (OH-) যুক্ত হয়ে পানি উৎপন্ন করে। 
যেমন- HCl(aq) + NaOH(aq) → NaCl(aq) + H2O(l)

দহন বিক্রিয়া: 
- এই প্রক্রিয়ায় কোন মৌল বা যৌগকে বায়ুর অক্সিজেনের উপস্থিতিতে পুড়িয়ে তার সাথে সংযুক্ত উপাদান মৌলগুলোকে অক্সাইড যৌগে পরিণত করা হয়। 
যেমন- কার্বনকে বায়ুতে পোড়ালে কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্যাস উৎপন্ন হয়। 

পানিযোজন বিক্রিয়া: 
- আয়নিক যৌগ দ্রবণ থেকে কেলাস গঠনের সময় এক বা একাধিক সংখ্যক পানির অণু সংযুক্ত করার প্রক্রিয়াকে পানি যোজন বিক্রিয়া বলে। 
- আয়নিক যৌগের কেলাসের সাথে সংযুক্ত পানিকে কেলাস পানি বলে। 

বিয়োজন বিক্রিয়া: 
- বিয়োজন বিক্রিয়া সংযোজন বিক্রিয়ার ঠিক বিপরীত ক্রিয়া। এ প্রক্রিয়ায় যৌগের অণু ভেঙ্গে একাধিক মৌল বা যৌগে পরিণত হয়। 
- প্রকৃতপক্ষে যৌগের অণু উহার উপাদানসমূহে বিভক্ত হয়। 
যেমন- মারকারী (II) অক্সাইড উচ্চ তাপে বিয়োজিত হয়ে উহার সরলতম উপাদান মারকারী ও অক্সিজেনে পরিণত হয়। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৬.
যেসব পরমাণুর নিউক্লিয়াসে প্রোটন সংখ্যা একই কিন্তু ভর সংখ্যা ভিন্ন, তাদের কী বলা হয়?
  1. আইসোটোন
  2. আইসোবার
  3. আইসোমার 
  4. আইসোটোপ
ব্যাখ্যা

- যেসব পরমাণুর নিউক্লিয়াসে প্রোটন সংখ্যা একই কিন্তু ভর সংখ্যা ভিন্ন, তাদের আইসোটোপ (Isotope) বলা হয়। একই প্রোটন সংখ্যা থাকায় আইসোটোপগুলো একই মৌলের ভিন্ন ভিন্ন পরমাণু হয়, তবে ভিন্ন নিউট্রন সংখ্যার কারণে এদের ভর সংখ্যা ভিন্ন হয়। 

• আইসোবার: 
- যেসব পরমাণুর নিউক্লিয়াসের ভর সংখ্যা সমান, কিন্তু প্রোটন সংখ্যা ভিন্ন তাদেরকে পরস্পরের আইসোবার বলে। 

• আইসোটোন: 
- যে সকল পরমাণুর নিউক্লিয়াসের নিউট্রন সংখ্যা সমান কিন্তু ভর সংখ্যা ভিন্ন, তাদেরকে আইসোটোন বলা হয়। 

• আইসোটোপ: 
- যেসব পরমাণুর নিউক্লিয়াসের প্রোটন সংখ্যা একই, কিন্তু ভর সংখ্যা ভিন্ন তাদেরকে আইসোটোপ বলে। 

• আইসোমার: 
- যেসব পরমাণুর নিউক্লিয়াসের পারমাণবিক সংখ্যা ও ভর সংখ্যা একই তাদেরকে আইসোমার বলা হয়। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।

১৭.
শূন্য মাধ্যমে শব্দের বেগ কত?
  1. কম
  2. শূন্য
  3. অসীম
  4. সর্বাধিক
ব্যাখ্যা

- শব্দ হলো একটি যান্ত্রিক তরঙ্গ, যার চলাচলের জন্য অবশ্যই একটি জড় মাধ্যমের (যেমন: কঠিন, তরল বা গ্যাসীয়) প্রয়োজন হয়। যেহেতু শূন্য মাধ্যমে (Vacuum) কোনো অণু বা পরমাণু থাকে না যা তরঙ্গ সঞ্চালন করতে পারে, তাই শূন্য মাধ্যমে শব্দ সঞ্চালিত হতে পারে না। এই কারণেই শূন্য মাধ্যমে শব্দের বেগ ০ মিটার/সেকেন্ড বা শূন্য হয়। 

শব্দ: 
- শব্দ একটি যান্ত্রিক তরঙ্গ, কারণ বস্তুর কম্পনের ফলে শব্দ তরঙ্গ সৃষ্টি হয় এবং সেটি সঞ্চালনের জন্য স্থিতিস্থাপক মাধ্যমের দরকার হয়। 
- শব্দ একটি অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গ, কারণ এই তরঙ্গের প্রবাহের দিক এবং কম্পনের দিক একই। 
- কঠিন পদার্থের মাধ্যমে (যেমন: ইস্পাত, লোহা ইত্যাদি) শব্দের গতি সবচেয়ে বেশি। 
- তরল পদার্থের মাধ্যমে (যেমন: পানি) শব্দের গতি কঠিন পদার্থের চেয়ে কম। 
- বায়বীয় পদার্থের মাধ্যমে শব্দের গতি সবচেয়ে কম এবং শূন্য মাধ্যমে শব্দের বেগ শূন্য। 
- শব্দের বেগ মাধ্যমের তাপমাত্রা এবং আর্দ্রতার উপরও নির্ভর করে। 
- শব্দের তীব্রতা অন্যান্য তরঙ্গের মতো তার বিস্তারের বর্গের সমানুপাতিক। 
অর্থাৎ, তরঙ্গের বিস্তার বেশি হলে শব্দের তীব্রতা বেশি হবে এবং তরঙ্গের বিস্তার কম হলে শব্দের তীব্রতা কম হবে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১৮.
কোন বিজ্ঞানী প্রথম কাজ এবং তাপের মধ্যে সম্পর্ক স্থাপন করেন?
  1. জুল
  2. ফ্যারাডে
  3. নিউটন
  4. ম্যাক্সওয়েল
ব্যাখ্যা

- বিজ্ঞানী জুল প্রথম যান্ত্রিক কাজ এবং তাপের মধ্যে একটি সঠিক ও গাণিতিক সম্পর্ক স্থাপন করেন। তিনি পরীক্ষার মাধ্যমে প্রমাণ করেন যে, যান্ত্রিক শক্তি ও তাপ পরস্পর রূপান্তরযোগ্য এবং তারা পরস্পরের সমানুপাতিক ( W ∝ H)। তার এই যুগান্তকারী আবিষ্কারই পরবর্তীতে তাপগতিবিদ্যার প্রথম সূত্রের ভিত্তি স্থাপন করে। 

তাপগতিবিদ্যার প্রথম সূত্র: 

- কাজ তথা যান্ত্রিক শক্তিকে তাপে বা তাপশক্তিকে কাজে তথা যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তরিত করা হলে যান্ত্রিক শক্তি এবং তাপ পরস্পরের সমানুপাতিক হবে। 
সুতরাং, W ∝ H. 
বা, W = JH 
এখানে, W হলো কাজের পরিমাণ, H হলো তাপের পরিমাণ এবং J হচ্ছে জুলের ধ্রুবক। 
- J কে তাপের যান্ত্রিক সমতা বা জুল তুল্যাঙ্কও বলা হয়। 
- বিজ্ঞানী জুল সর্বপ্রথম কাজ ও তাপের মধ্যে সম্পর্ক স্থাপন করেন এবং এ সম্পর্কটি একটি সূত্রের সাহায্যে প্রকাশ করেন। এ সূত্রকে জুলের সূত্র আবার তাপগতিবিদ্যার প্রথম সূত্রও বলা হয়। 

উৎস: পদার্থ প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৯.
পর্যায় সারণির গ্রুপ–11 এর মৌলগুলোকে কী বলা হয়?
  1. ক্ষার ধাতু
  2. মৃৎক্ষার ধাতু
  3. মুদ্রা ধাতু
  4. হ্যালোজেন
ব্যাখ্যা

- পর্যায় সারণির গ্রুপ–১১ তে অবস্থিত মৌলগুলো (যেমন: কপার, সিলভার ও গোল্ড) প্রাচীনকাল থেকে বাণিজ্য ও বিনিময়ের মাধ্যম হিসেবে মুদ্রা তৈরিতে ব্যবহৃত হতো, এ কারণে আধুনিক পর্যায় সারণিতে এই গ্রুপের মৌলগুলোকে মুদ্রা ধাতু (Coinage Metals) বলা হয়। 

ক্ষার ধাতু: 
- পর্যায় সারণিতে হাইড্রোজেন ব্যতীত গ্রুপ-1 এ অবস্থিত মৌলসমূহকে ক্ষার ধাতু (alkali metal) বলা হয়। 
যেমন- Li, Na, K, Rb এর প্রত্যেকেই ক্ষার ধাতু। 
- এদের বিশেষ ধর্ম হলো এরা প্রত্যেকেই পানির সাথে বিক্রিয়া করে হাইড্রোজেন গ্যাস ও ক্ষার উৎপন্ন করে থাকে। 
- এরা প্রত্যেকেই একটি মাত্র ইলেকট্রনকে দান করে ধনাত্মক একযোজী আয়নে পরিণত হয় এবং আয়নিক বন্ধনের মাধ্যমে যৌগ গঠন করে। 

মৃৎক্ষার ধাতু: 
- পর্যায় সারণিতে গ্রুপ-2 এ অবস্থিত মৌলগুলোকে মৃৎক্ষার ধাতু (alkaline earth metal) বলা হয়। 
যেমন- Be, Mg, Ca, Sr প্রত্যেকেই মৃৎক্ষার ধাতু। 
- এরাও ক্ষার ধাতুর মতো তড়িৎ ধনাত্মক মৌল। দুটি করে ইলেকট্রনকে দান করে দ্বিধনাত্মক আয়নে পরিনত হয়। 
- অক্সিজেনের সাথে যুক্ত হয়ে অক্সাইড যৌগ গঠন করে। 
- এদের অক্সাইড সমূহ পানিতে দ্রবীভূত হয়ে ক্ষারীয় দ্রবন উৎপন্ন করে। মৃৎক্ষার ধাতুর মৌলগুলো বিভিন্ন যৌগ হিসেবে মাটিতে থাকে বলে এদের এরূপ নামকরণ করা হয়েছে। 

মুদ্রা ধাতু: 
- পর্যায় সারণির গ্রুপ-11 এর মাত্র তিনটি মৌলকে মুদ্রা ধাতু বলে। 
যেমন- কপার বা তামা (Cu), রূপা (Ag) ও সোনা (Au)। 
- এ মৌল তিনটির ধাতব উজ্জ্বলতা অসাধারণ। বর্তমান বাজারে সংকর ধাতুর তৈরী ধাতব মুদ্রা প্রচলিত আছে। 

• হ্যালোজেন: 
- পর্যায় সারণির গ্রুপ–17 এর মৌলগুলোকে (যেমন: F, Cl, Br, I) হ্যালোজেন বা লবণ উৎপাদনকারী বলা হয়।

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২০.
অচৌম্বক পদার্থের বৈশিষ্ট্য কোনটি?
  1. চুম্বক আকর্ষণ করে কিন্তু চুম্বকে পরিণত হয় না
  2. চুম্বক আকর্ষণ করে না কিন্তু চুম্বকে পরিণত হতে পারে
  3. চুম্বক আকর্ষণ করে এবং চুম্বকে পরিণত হতে পারে
  4. চুম্বক আকর্ষণ করে না এবং চুম্বকে পরিণত করা যায় না
ব্যাখ্যা

- অচৌম্বক পদার্থ বলতে সেই সকল পদার্থকে বোঝায় যাদের চুম্বক দ্বারা আকর্ষণ বা বিকর্ষণ করা যায় না, যেহেতু এসব পদার্থের মধ্যে কোনো চৌম্বক প্রবেশ্যতা নেই, তাই এদের সাধারণ উপায়ে চুম্বকেও পরিণত করা সম্ভব নয়। 

চৌম্বক পদার্থ: 
- যে সকল পদার্থকে চুম্বক আকর্ষণ করে এবং যাদের চুম্বকে পরিণত করা যায় তাদের চৌম্বক পদার্থ বলে। 
- বেশিরভাগ চৌম্বক পদার্থে লোহা থাকে তাই চৌম্বক পদার্থকে ফেরো চৌম্বক পদার্থ বলে। ফেরো শব্দটির অর্থ লোহা। 
- উদাহরণ: লোহা, ইস্পাত, নিকেল, কোবাল্ট ইত্যাদি। 

অচৌম্বক পদার্থ: 
- যে সকল পদার্থকে চুম্বক আকর্ষণ করে না এবং যাদের চুম্বকে পরিণত করা যায় না তাদের অচৌম্বক পদার্থ বলে। 
- উদাহরণ: অ্যালুমিনিয়াম, স্টিল, সোনা, রূপা, তামা, পিতল, দস্তা ইত্যাদি। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

২১.
সবল নিউক্লিয় বলের বাহক কণা কোনটি?
  1. গ্লুঅন
  2. ফোটন
  3. গ্রাভিটন 
  4. Z বোসন
ব্যাখ্যা

- সবল নিউক্লিয় বল হলো প্রকৃতির চারটি মৌলিক বলের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী বল। এই বল পরমাণুর নিউক্লিয়াসের ভেতরে প্রোটন ও নিউট্রনগুলোকে একত্রে ধরে রাখে। গ্লুঅন (Gluon) নামক ভরহীন কণা বিনিময়ের মাধ্যমে এই বলটি ক্রিয়াশীল হয়। 

মৌলিক বল: 
- যে সকল বল মূল বা স্বাধীন অর্থাৎ যে সকল বল অন্য কোনো বল থেকে উৎপন্ন হয় না বা অন্য কোনো বলের কোনো রূপ নয় বরং অন্যান্য বল এই সকল বলের কোনো না কোনো রূপের প্রকাশ তাদেরকে মৌলিক বল বলে। 
- এই মৌলিক বলগুলো হলো- 
১। মহাকর্ষ বল, 
২। তাড়িতচৌম্বক বল, 
৩। সবল নিউক্লিয় বল এবং 
৪। দুর্বল নিউক্লিয় বল। 
- সবল নিউক্লিয় বলের বাহক কণা- গ্লুঅন। 

অন্যদিকে,
- দুর্বল নিউক্লিয় বলের বাহক কণা- W এবং Z বোসন। 
- তাড়িতচৌম্বক বলের বাহক কণা- ফোটন। 
- মহাকর্ষ বলের বাহক কণা- গ্রাভিটন। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (শাহজাহান তপন)।

২২.
HCl + NaOH → NaCl + H2O -এই বিক্রিয়ায় NaCl কী ধরনের লবণ?
  1. অম্লীয়
  2. ক্ষারীয় 
  3. পূর্ণ সরল
  4. আংশিক লবণ
ব্যাখ্যা

- NaCl (সোডিয়াম ক্লোরাইড) একটি পূর্ণ সরল (Neutral) লবণ কারণ এটি একটি শক্তিশালী অ্যাসিড (HCl) এবং একটি শক্তিশালী ক্ষার (NaOH) এর প্রশমন বিক্রিয়ায় উৎপন্ন হয়। শক্তিশালী অ্যাসিড ও শক্তিশালী ক্ষার সম্পূর্ণরূপে একে অপরকে প্রশমিত করে। 

লবণ (Salt): 
- অ্যাসিড ক্ষারের সাথে বিক্রিয়া করে লবণ ও পানি উৎপন্ন করে।
- কোনো অ্যাসিডের হাইড্রোজেন কোনো ধাতু বা ধাতুর ন্যায় ক্রিয়াশীল মূলকের সাহায্যে সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে প্রতিস্থাপিত হয়ে লবণ উৎপন্ন করে।
যেমন- সোডিয়াম ক্লোরাইড (NaCl) একটি লবণ।
- HCI অ্যাসিডের H পরমাণুকে সোডিয়াম (Na) ধাতুর প্রতিস্থাপনে সোডিয়াম ক্লোরাইড (NaCl) নামক লবণ উৎপন্ন হয়েছে। 
যেমন- 
• HCl + NaOH → NaCl + H2
• এসিড + ক্ষার → লবণ + পানি 

- এছাড়াও K2SO4, KNO3, CaCO3, NaHCO3, Na2CO3, CuSO4 ইত্যাদি বিভিন্ন ধরনের লবণ। এই লবণগুলোর মধ্যে কোনোটি অম্লীয়, আবার কোনোটি ক্ষারীয়ও হতে পারে। 
১) পূর্ণ সরল লবণ: NaCl, KNO3, CaCO3 ইত্যাদি। 
২) অম্লীয় বা আংশিক লবণ: Mg(HSO4)2, NaHCO3 ইত্যাদি। 
৩) ক্ষারকীয় লবণ: Na2CO3, CuSO4 ইত্যাদি। 

উৎস: বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।