পরীক্ষা আর্কাইভ

শিক্ষক নিবন্ধন (NTRCA) প্রস্তুতি [১৯তম]

পরীক্ষাশিক্ষক নিবন্ধন (NTRCA) প্রস্তুতি [১৯তম]তারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়09 minutes
মোট প্রশ্ন২০
সিলেবাস
পরীক্ষা – ১৮ বিষয়: সাধারণ জ্ঞান (কম্পিউটার বিষয়ক) টপিক: কম্পিউটার সংক্রান্ত মৌলিক বিষয় - ইতিহাস, সংগঠন, প্রকারভেদ ইত্যাদি।
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

শিক্ষক নিবন্ধন (NTRCA) প্রস্তুতি [১৯তম]

শিক্ষক নিবন্ধন (NTRCA) প্রস্তুতি [১৯তম] · তারিখ অনির্ধারিত · ২০ প্রশ্ন

.
Analytical & Differential Engine আবিষ্কার করেন কে?
  1. জন নেপিয়ার
  2. ব্লেইজ প্যাসকেল
  3. লেডি অ্যাডা লাভলেস
  4. চার্লস ব্যাবেজ
ব্যাখ্যা

• জন নেপিয়ার:
- জন নেপিয়ার (১৫৫০ - ১৬১৭) ছিলেন একজন বিখ্যাত স্কটিশ গণিতবিদ, পদার্থবিদ এবং জ্যোতির্বিদ, যিনি মূলত লগারিদম (Logarithms) আবিষ্কারের জন্য বিশ্বজুড়ে পরিচিত।
- নেপিয়ারের হাড় (Napier's Bones) এটি একটি ম্যানুয়ালি পরিচালিত গণনা যন্ত্র বা ক্যালকুলেটর, যা গুণ ও ভাগ করার কাজে ব্যবহৃত হতো।

• ব্লেইজ প্যাসকেল:
- ব্লেইজ প্যাসকেল (১৬২৩ - ১৬৬২) ছিলেন একজন প্রখ্যাত ফরাসি গণিতবিদ, পদার্থবিদ এবং দার্শনিক।
-  তিনি বিশ্বের অন্যতম প্রথম যান্ত্রিক ক্যালকুলেটর তৈরি করেন, যা প্যাসকেলাইন (Pascaline) নামে পরিচিত

• লেডি অ্যাডা লাভলেস:
- লেডি অ্যাডা লাভলেস (১৮১৫-১৮৫২) ছিলেন একজন ব্রিটিশ গণিতবিদ ও লেখিকা, যাকে বিশ্বের প্রথম কম্পিউটার প্রোগ্রামার হিসেবে গণ্য করা হয়। তিনি চার্লস ব্যাবেজের অ্যানালিটিক্যাল ইঞ্জিনের জন্য প্রথম প্রোগ্রাম বা অ্যালগরিদম লেখেন।
- সর্বপ্রথম বাইনারি ইন্সট্রাকশনের সূচনা করেন। 

• চার্লস ব্যাবেজ:
- চার্লস ব্যাবেজ (১৭৯১–১৮৭১) ছিলেন একজন প্রখ্যাত ইংরেজ গণিতবিদ, দার্শনিক ও যন্ত্র প্রকৌশলী, যাকে আধুনিক কম্পিউটারের জনক বলা হয়। তিনি প্রথম ডিজিটাল প্রোগ্রামযোগ্য কম্পিউটারের ধারণা তৈরি করেছিলেন।
- তিনি ১৮২২ সালে 'ডিফারেন্স ইঞ্জিন' এবং ১৮৩৩ সালে 'অ্যানালিটিক্যাল ইঞ্জিন' তৈরির পরিকল্পনা করেন যা আধুনিক কম্পিউটারের ভিত্তি।

উৎস:
১। কম্পিউটার ও তথ্যপ্রযুক্তি-১, এসএসসি ও দাখিল (ভোকেশনাল)।
২। Britannica [Link]

.
MARK-1 কম্পিউটারটি যৌথভাবে কোন প্রতিষ্ঠান এবং ব্যক্তি আবিষ্কার করেন?
  1. IBM ও Blaise Pascal
  2. IBM ও Howard Aiken
  3. Apple ও Howard Aiken
  4. Microsoft ও John Napier
ব্যাখ্যা

• মার্ক-১ (Mark-I):
- ১৯৪৪ সালে ড. হাওয়ার্ড এইচ আইকেন মার্ক-১ (Mark-I) নামের পৃথিবীর প্রথম ইলেকট্রো-মেকানিক্যাল কম্পিউটার তৈরি করেন। মার্ক-১ ছিল হার্ভাড বিশ্ববিদ্যালয় ও আইবিএম কোম্পানির যৌথ উদ্যোগের একটি ফসল।

মার্ক-১ (Mark-1)-এর বৈশিষ্ট্যসমূহ:
১. মার্ক-১ দৈর্ঘ্য ছিল ৫১ ফুট এবং প্রন্থ ছিল ৮ ফুট।
২. ওজন ছিল প্রায় ৫ টন।
৩. সাত লক্ষেরও অধিক যন্ত্র সংযোগের জন্য প্রায় ৫০০ মাইল লম্বা তার ব্যবহার করা হয়েছিল।
৪. গিয়ার ও চাকার পরিবর্তে চৌম্বক রিলে ব্যবহৃত হয়।
৫. মার্ক-১-এর সাহায্যে যোগ, বিয়োগ, গুণ, ভাগ এবং ত্রিকোণমিতিক ফাংশন ছাড়াও অনেক জটিল গাণিতিক কাজ করা যেত।
৬. মার্ক-১ দ্বারা দু'টি সংখ্যার যোগ ও গুণ করতে যথাক্রমে ০.৩ ও ৪.৫ সেকেন্ড সময় প্রয়োজন হতো।
মার্ক-১ কম্পিউটারটি ১৫ বছর চালু ছিল। প্রদর্শনের জন্য এটি বর্তমানে হার্ভাড বিশ্ববিদ্যালয়ে সংরক্ষিত আছে।

উৎস: মৌলিক কম্পিউটার শিক্ষা (বিবিএ প্রোগ্রাম)- উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

.
দ্বিতীয় প্রজন্মের কম্পিউটারে ভ্যাকুয়াম টিউবের পরিবর্তে কী ব্যবহৃত হতো?
  1. মাইক্রোপ্রসেসর
  2. আইসি (IC)
  3. ট্রানজিস্টর
  4. সিলিকন চিপ
ব্যাখ্যা

• দ্বিতীয় প্রজন্মের কম্পিউটার:
- ১৯৬০ থেকে ১৯৬৪ সাল পর্যন্ত সময় কালকে কম্পিউটারের দ্বিতীয় প্রজন্ম বলে ধরা হয়।
- দ্বিতীয় প্রজন্মের কম্পিউটারগুলোতে ভ্যাকুয়াম টিউবের পরিবর্তে ট্রানজিস্টর ব্যবহার করা হয়েছিল।
- টিউবের তুলনায় ট্রানজিস্টর আকারে ছোট, বিদ্যুৎ খরচ কম, দামে সস্তা এবং দ্রুত গতিসম্পন্ন হওয়ায় দ্বিতীয় প্রজন্মের কম্পিউটারগুলো আকৃতিতে ছোট, দ্রুতগতি ও অধিক নির্ভরযোগ্য ছিল।
- দ্বিতীয় প্রজন্মের কম্পিউটারগুলো অত্যন্ত দ্রুতগতিতে কাজ করলেও স্থায়িত্ব ছিল অনেক বেশি।
- এ প্রজন্মের কম্পিউটারে সর্বপ্রথম হাইলেভেল ভাষার ব্যবহার শুরু হয়।
- আবার চুম্বকীয় কোর মেমরি এবং উচ্চগতিসম্পন্ন ইনপুট-আউটপুট ব্যবস্থাও এ প্রজন্মের কম্পিউটারে ব্যবহৃত হয়।
- IBM 1401, CDC 1604, RCA 301, RCA 501, BCR 300, GE 200, Honey well 200, 1600 IBM 1620 ইত্যাদি দ্বিতীয় প্রজন্মের কম্পিউটারের উদাহরণ।

দ্বিতীয় প্রজন্মে কম্পিউটারের বৈশিষ্ট্যসমূহ:
১। ভ্যাকুয়াম টিউবের পরিবর্তে ট্রানজিস্টরের ব্যবহার।
২। ম্যাগনেটিক কোর মেমরির ব্যবহার।
৩। আকৃতির সংকোচন ও অধিক নির্ভরযোগ্যতা।
৪। উচ্চগতিসম্পন্ন ও উন্নতমানের ইনপুট-আউটপুট ব্যবস্থার প্রচলন।
৫। অপেক্ষাকৃত বেশি তথ্য ধারণক্ষমতা।
৬। উচ্চস্তরের ভাষার ব্যবহার (যেমন- COBOL, FORTRAN)।
৭। টেলিফোন লাইন ব্যবহার করে এক কম্পিউটার থেকে অন্য কম্পিউটারে ডেটা আদান-প্রদানের ব্যবস্থা; ইত্যাদি।

উৎস: মৌলিক কম্পিউটার শিক্ষা (বিবিএ প্রোগ্রাম)- উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

.
নিচের কোনটি এনালগ কম্পিউটারের কাজের একটি উদাহরণ?
  1. জটিল গাণিতিক হিসাব সম্পন্ন করা
  2. ভোল্টেজের ওঠানামা পরিমাপ করা
  3. ডাটাবেস তৈরি করা
  4. ইন্টারনেট ব্রাউজিং করা
ব্যাখ্যা

• এনালগ কম্পিউটার:
- এনালগ কম্পিউটার হলো এমন এক ধরনের গণনাকারী যন্ত্র যা অবিচ্ছিন্ন ভৌত রাশি (যেমন- চাপ, তাপমাত্রা, ভোল্টেজ, বা গতির) পরিবর্তনের মাধ্যমে সরাসরি ডেটা পরিমাপ ও সমাধান করে।
- এগুলি সাধারণত বৈজ্ঞানিক ও শিল্পক্ষেত্রে, যেমন- রকেট বা ইঞ্জিনের গতি বিশ্লেষণে ব্যবহৃত হতো।
- ডিজিটাল কম্পিউটারের মতো এটি সংখ্যা ব্যবহার করে না, বরং দ্রুত Simulation বা মডেলিংয়ের জন্য পরিচিত।

• এনালগ কম্পিউটারের মূল বৈশিষ্ট্য:
কার্যপদ্ধতি: এটি বৈদ্যুতিক ভোল্টেজ বা যান্ত্রিক মুভমেন্ট ব্যবহার করে সমস্যার সমাধান করে।

উদাহরণ: স্লাইড রুল, স্পিডোমিটার, থার্মোমিটার, এবং পুরনো দিনের ডিফারেনশিয়াল অ্যানালাইজার।

সুবিধা: নিরবিচ্ছিন্ন ডেটা সরাসরি প্রক্রিয়া করে বলে দ্রুত ফলাফল প্রদান করতে পারে।

অসুবিধা: ডিজিটাল কম্পিউটারের তুলনায় কম নিখুঁত (precision কম) এবং এদের মেমোরি ক্ষমতা নেই।

বর্তমান অবস্থা: বর্তমানে দ্রুততর ও নির্ভুল ডিজিটাল কম্পিউটারের কারণে এনালগ কম্পিউটারের ব্যবহার কমে গেছে, তবে কিছু বিশেষ শিল্পক্ষেত্রে এখনো ব্যবহৃত হয়

উৎস: Britannica [Link]

.
চতুর্থ প্রজন্মের কম্পিউটারের ক্ষেত্রে নিচের কোনটি সঠিক?
  1. বহু মাইক্রোপ্রসেসর এবং ইলেকট্রনিক যন্ত্রাংশবিশিষ্ট একীভূত বর্তনীর ব্যবহার
  2. ইন্টিগ্রেটেড সার্কিটের ব্যবহার শুরু হয়
  3. ম্যাগনেটিক কোর মেমরির ব্যবহার
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

• চতুর্থ প্রজন্মের কম্পিউটার:
- ১৯৭১ থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত চতুর্থ প্রজন্ম শুরু হয়েছে বলে ধরা হয়। ১৯৭০ সালের প্রথম দিকে IC (Integrated Circuit)-এর দ্রুত উন্নয়নের ফলে LSI (Large Scale Integration) এবং VLSI (Very Large Scale Integration) চিপের আবির্ভাব ঘটে। একটি একক VLSI সিলিকন চিপের মধ্যে এক মিলিয়নেরও অধিক ডায়োড, ট্রানজিস্টর, রেজিস্টার, ক্যাপাসিটর ইত্যাদি একীভূত থাকে। কম্পিউটার তৈরিতে বড় ধরনের বিপ্লব পরিলক্ষিত হয় ১৯৭১ সালে IC এবং VLSI বর্তনীর সাহায্যে নির্মিত মাইক্রোপ্রসেসর আবিষ্কারের মধ্য দিয়ে। মূলত মাইক্রোপ্রসেসর হলো সিলিকনের তৈরি এক ধরনের VLSI চিপ।

- চতুর্থ প্রজন্মের কম্পিউটারগুলো মাইক্রোপ্রসেসর ব্যবহার করে তৈরি করা হতো। মাইক্রোপ্রসেসর ব্যবহারের ফলে কম্পিউটারের আকার আরো ছোট হয়ে যায়, দাম কমে যায় এবং বিদ্যুৎ খরচ কমে যায়। ফলে কাজ করার ক্ষমতা, কাজের গতি ও নির্ভরশীলতা বহুগুণে বেড়ে যায়। সাথে সাথে মেমরিও উন্নতি ঘটে ব্যাপক ফলে শুরু হয়ে যায় কম্পিউটারের বহুমুখী ব্যবহার এবং তৈরি হতে শুরু হয় পার্সোনাল কম্পিউটার। Windows, DOS অপারেটিং সিস্টেম দুটির ব্যবহার এ প্রজন্ম থেকেই শুরু হয়েছিল।

- ১৯৮১ সালে IBM কোম্পানি ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে প্রথম মাইক্রোকম্পিউটার তৈরি করা শুরু করে। IBM -3033, IBM -4341, TRS -40, Pentium Series, IBM পিসি ইত্যাদি এ প্রজন্মের কম্পিউটার। 

• চতুর্থ প্রজন্মের কম্পিউটারের বৈশিষ্ট্যসমূহ:
১। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (Artificial Intelligence) ব্যবহার।
২। বহু মাইক্রোপ্রসেসর এবং ইলেকট্রনিক যন্ত্রাংশবিশিষ্ট একীভূত বর্তনীর ব্যবহার।
৩। বর্তনীগুলোতে অপটিক্যাল ফাইবারের ব্যবহার।
৪। উন্নত মেমরির তথা ম্যাগনেটিক বাবল মেমরির ব্যবহার।
৫। মানুষের কণ্ঠস্বরের মাধ্যমে প্রদত্ত নির্দেশের অনুধাবন।
৬। তথ্য ধারণক্ষমতার ব্যাপক উন্নয়ন।
৭। অত্যন্ত শক্তিশালী ও উচ্চগতিসম্পন্ন মাইক্রোপ্রসেসরের ব্যবহার।
৮। সুপার কম্পিউটারের উন্নয়ন।
৯। প্যাকেজ প্রোগ্রামের প্রচলন।
১০। ইন্টারনেটসহ কম্পিউটার নেটওয়ার্কব্যবস্থা চালু ইত্যাদি।

উৎস: মৌলিক কম্পিউটার শিক্ষা (বিবিএ প্রোগ্রাম)- উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

.
নিচের কোনটি ALU-এর কাজের অন্তর্ভুক্ত নয়?
  1. যোগ ও বিয়োগ
  2. গুণ ও ভাগ
  3. ডাটা স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ
  4. লজিক অপারেশন
ব্যাখ্যা

• সিস্টেম ইউনিট (CPU):
- কম্পিউটারের প্রধান অংশ হলো সিস্টেম ইউনিট বা সেন্ট্রাল প্রসেসিং ইউনিট (CPU)।
- মানুষের মত কম্পিউটারেও মস্তিষ্ক বা প্রসেসর বিদ্যমান রয়েছে।
- কম্পিউটারের সব রকমের কার্যাবলি নিয়ন্ত্রণ, প্রক্রিয়াকরণ ও তাদের মধ্যে সমন্বয় সাধন করাই হচ্ছে এ অংশের কাজ। এ কাজগুলোর মধ্যে রয়েছে ইনপুট ও আউটপুট এর যন্ত্রাংশসমূহ নিয়ন্ত্রণ, মেমোরি থেকে ডাটা উত্তোলন ডাটা প্রক্রিয়াকরণ ও মেমোরিতে ডাটা সংরক্ষণ ইত্যাদি।
- প্রক্রিয়াকরণ বা প্রসেসিং ইউনিটের প্রধান অংশ তিনটি। যথা:

অ্যারিথমেটিক লজিক ইউনিট (ALU):
- এ অংশের কাজ হলো গাণিতিক ও যৌক্তিক কাজগুলো করা। গাণিতিক কাজগুলোর মধ্যে রয়েছে যোগ, বিয়োগ, গুণ, ভাগ ইত্যাদি। আর যৌক্তিক কাজগুলো হতে পারে ছোট-বড় নির্ণয় করা, সমান কী-না যাচাই করা ইত্যাদি।

কন্ট্রোল ইউনিট:
- কম্পিউটারের সব রকমের কার্যাবলি নিয়ন্ত্রণ ও তাদের মধ্যে সমন্বয় সাধন করাই হচ্ছে এ অংশের কাজ। এ কাজগুলোর মধ্যে রয়েছে ইনপুট ও আউটপুট এর যন্ত্রাংশসমূহ নিয়ন্ত্রণ, মেমোরি থেকে ডাটা উত্তোলন ও মেমোরিতে ডাটা সংরক্ষণ ইত্যাদি।

মেমোরি বা স্মৃতি:
- প্রক্রিয়াকরণের পূর্বে প্রদত্ত উপাত্ত প্রক্রিয়াকালীন সময়ে অন্তবর্তীকালীন ফলাফল এবং প্রক্রিয়াকরণের শেষে চূড়ান্ত ফলাফল জমা রাখার জন্য কম্পিউটারের যে অংশগুলো (প্রাইমারি ও সেকেন্ডারি মেমোরি) কাজ করে তাকে মেমোরি ইউনিট বলে।
- ডাটা স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করে।

উৎস: কম্পিউটার ও তথ্যপ্রযুক্তি-১, এসএসসি ও দাখিল (ভোকেশনাল)।

.
কম্পিউটারের বাহ্যিক (External) হার্ডওয়্যারের উদাহরণ কোনটি?
  1. RAM
  2. Power supply
  3. Video card
  4. Joystick
ব্যাখ্যা

• হার্ডওয়্যার (Hardware):
- কম্পিউটার সিস্টেম পরস্পর সম্পর্কিত বিভিন্ন ধরনের উপাদান নিয়ে গঠিত, যা ব্যবহারকারী প্রদত্ত কোনো প্রোগ্রামের নির্দেশাবলি পালন করে এবং ফলাফল প্রদান করে।
- কম্পিউটারব্যবস্থায় হার্ডওয়‍্যার অন্যতম উপাদান। কম্পিউটার তৈরিতে ব্যবহৃত বিভিন্ন ধরনের ডিভাইস বা যন্ত্র এবং যন্ত্রাংশসমূহকে বলা হয় কম্পিউটার হার্ডওয়্যার।
- সাধারণত কম্পিউটার হার্ডওয়‍্যারকে আমরা দেখতে পারি এবং স্পর্শ করতে পারি।
- ইন্টিগ্রেটেড সার্কিট, মাইক্রোপ্রসেসর, মাদারবোর্ড প্রভৃতি যন্ত্রপাতি নিয়ে সুষ্ঠুভাবে সম্পাদন ও সহায়তা করার জন্য রয়েছে অন্য ডিভাইসসমূহ যেমন-ডিস্ক, ডিস্ক ড্রাইভ, কি-বোর্ড, মাউস, মনিটর, প্রিন্টার ইত্যাদি যন্ত্রপাতি। উল্লিখিত সকল যন্ত্রপাতিই কম্পিউটারের হার্ডওয়্যার।

• কম্পিউটারের অভ্যন্তরীণ হার্ডওয়্যারের অংশসমূহ:
-CPU (central processing unit).
-Drive (e.g., Blu-ray, CD-ROM, DVD, floppy drive, hard drive, and SSD).
-Fan (heat sink)
-Modem
-Motherboard
-Network card
-Power supply
-RAM
-Sound card
-Video card 

• কম্পিউটারের বাহ্যিক হার্ডওয়্যারের অংশসমূহ: 
-Flat-panel, monitor, and LCD
-Game pad
-Joystick
-Keyboard
-Microphone
-Mouse
-Printer
-Projector
-Scanner
-Speakers
-USB thumb drive 

উৎস:
১। Computer Hope Website [Link]
২। মৌলিক কম্পিউটার শিক্ষা (বিবিএ প্রোগ্রাম)- উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

.
সিপিইউ (CPU)-এর গাণিতিক ও যুক্তি অংশের সাথে কোন মেমোরির প্রত্যক্ষ সংযোগ থাকে?
  1. সেকেন্ডারি মেমোরি
  2. বাহ্যিক মেমোরি
  3. প্রধান মেমোরি
  4. অক্সিলিয়ারি মেমোরি
ব্যাখ্যা

• প্রধান মেমোরি বা মুখ্য মেমোরি (Main/Primary Memory):
- প্রধান মেমোরি কম্পিউটারের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ যা মাইক্রোপ্রসেসরের কাজের জায়গা বা ওয়ার্কপ্লেস হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
- এটি প্রোগ্রাম চলাকালীন সময়ে প্রয়োজনীয় তথ্য ও ফলাফল অস্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করে।
- আধুনিক কম্পিউটারে প্রধান মেমোরি অর্ধপরিবাহী বা সেমিকন্ডাক্টর দিয়ে তৈরি হয়। সেমিকন্ডাক্টরের মধ্য দিয়ে বিদ্যুৎ আংশিকভাবে চলাচল করতে পারে। এর প্রধান কাঁচামাল হলো সিলিকন।
- প্রধান মেমোরির মূল ভিত্তি হলো ফ্লিপ-ফ্লপ নামক ইলেকট্রনিক সার্কিট, যা ০ বা ১ বাইনারি বিট সংরক্ষণ করতে সক্ষম।
- কম্পিউটারে ব্যবহৃত প্রধান মেমোরিকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়। যথা: ক. র‍্যাম (RAM) ও খ. রম (ROM)।

ক. RAM (Random Access Memory):
- র‍্যাম কম্পিউটারের একটি অস্থায়ী মেমোরি যা ডেটা সংরক্ষণ এবং প্রক্রিয়াকরণে ব্যবহৃত হয়।
- সংরক্ষিত ডেটা যে কোনো ক্রমে অ্যাক্সেস করা যায় বিধায় একে র‍্যান্ডম অ্যাক্সেস মেমোরি (RAM) বলে। এছাড়াও ডেটা পড়া এবং লেখা উভয়ই সম্ভব হওয়ায় একে রিড/রাইট মেমোরিও বলা হয়।
- কম্পিউটার চালু করার সাথে সাথে অপারেটিং সিস্টেম এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় প্রোগ্রাম র‍্যামে লোড হয়। কিন্তু বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেলে সংরক্ষিত ডেটা মুছে যায়, তাই একে ভোলাটাইল বা অস্থায়ী মেমোরি বলে।
- এটি চলমান প্রোগ্রাম এবং বারবার পরিবর্তনশীল ডেটা সংরক্ষণের জন্য ব্যবহৃত হয়।
- সিপিইউ (CPU)-এর গাণিতিক ও যুক্তি অংশের (ALU) সাথে প্রধানত রেজিস্টার (Register) এবং প্রাথমিক মেমরি বা মেইন মেমরি (RAM - Random Access Memory)-এর প্রত্যক্ষ সংযোগ থাকে। ALU-এর কাজের জন্য প্রয়োজনীয় ডেটা ও নির্দেশাবলী সরাসরি এই মেমোরি থেকে গ্রহণ করে এবং প্রসেসিংয়ের পর ফলাফল আবার রেজিস্টার বা র‍্যাম-এ জমা রাখে।

খ. রম (ROM):
- কম্পিউটার ROM হচ্ছে Read-Only Memory যা কম্পিউটারের স্থায়ী মেমোরি হিসেবে পরিচিত।
- কম্পিউটার এর স্মৃতিতে কিছু প্রোগ্রাম এবং ডকুমেন্ট এমন ভাবে দেওয়া থাকে যা আমরা কোনভাবেই রিরাইট, ডিলিট বা কিচ্ছু করতে পারি না। কম্পিউটারের সেই স্মৃতিকেই মুলত বলা হয় ROM বা রিড অনলি মেমোরি।
- ROM এর উৎকৃষ্ট উদাহরণ হচ্ছে, CD ROM, Hard Disk, SSD, Pen Drive ইত্যাদি।

রেজিস্টার (Register): এটি সিপিইউ-এর ভেতরে থাকা সবচেয়ে দ্রুতগতির ক্ষুদ্র মেমোরি, যা ALU-কে সরাসরি ডেটা সরবরাহ করে।

উৎস: 
১। Geeksforgeeks [Link]
২। Computer & ICT Cloud

.
কোনো ফাইল বা ফোল্ডারের নাম বদলানোর (Rename) জন্য কোন ফাংশন কী ব্যবহার করা হয়?
  1. F1
  2. F2
  3. F5
  4. F12
ব্যাখ্যা

কীবোর্ডের ফাংশন কী হচ্ছে ১২টি। 

কীবোর্ডের ফাংশন কী এর কাজসমূহ: 
-F1 : সাহায্যকারী কী হিসেবে ব্যবহৃত হয়। F1 চাপলে প্রতিটি প্রোগ্রামের ‘হেল্প’ চলে আসবে।
-F2 : সাধারণত কোনো ফাইল বা ফোল্ডারের নাম বদলের (রিনেম) জন্য ব্যবহূত হয়।
-F3: এটি চাপলে মাইক্রোসফট উইন্ডোজসহ অনেক প্রোগ্রামের সার্চ সুবিধা চালু হয়।
-F4 : Alt+F4 চেপে সক্রিয় সব প্রোগ্রাম বন্ধ করা হয়। 
-F5 : মাইক্রোসফট উইন্ডোজ, ইন্টারনেট ব্রাউজার ইত্যাদি রিফ্রেশ করা হয় F5 চেপে। 
-F6 : এটা দিয়ে মাউস কার্সারকে ওয়েব ব্রাউজারের ঠিকানা লেখার জায়গায় (অ্যাড্রেসবার) নিয়ে যাওয়া যায়।
-F7 : ওয়ার্ডে লেখার বানান ও ব্যাকরণ ঠিক করা হয় এ কি চেপে।
-F8 : অপারেটিং সিস্টেম চালু হওয়ার সময় কাজে লাগে এই কী। 
-F9 : কোয়ার্ক এক্সপ্রেস ৫.০-এর মেজারমেন্ট টুলবার খোলা যায় এই কী দিয়ে।
-F10 : ওয়েব ব্রাউজার বা কোনো খোলা উইন্ডোর মেনুবার নির্বাচন করা হয় এ কী চেপে।
-F11: ওয়েব ব্রাউজার পর্দাজুড়ে দেখা যায় ।
-F12 : ওয়ার্ডের Save as উইন্ডো খোলা হয় এ কী চেপে।

উৎস:
১। Computer Hope Website [Link]
২। Computer & ICT Cloud

১০.
আইসি (IC) দিয়ে তৈরি প্রথম কম্পিউটারের নাম কী?
  1. IBM-360
  2. ENIAC
  3. MARK-1
  4. UNIVAC
ব্যাখ্যা

- আইসি (IC) বা ইন্টিগ্রেটেড সার্কিট ব্যবহার করে তৈরি প্রথম কম্পিউটারের নাম হলো IBM System/360 (সংক্ষেপে IBM-360)। 
- ১৯৫৮ সালে রবার্ট নইসি (Robert Noyce) এবং জ্যাক কিলবি (Jack Kilby) IC (Integrated Circuit) আবিষ্কার করে ইলেকট্রনিক জগতে যুগান্তকারী পরিবর্তনের সূচনা করেন। মাইক্রোইলেকট্রনিকসের অগ্রযাত্রা মূলত তখন থেকে শুরু হয়।
- একটি মাত্র IC-তে অনেকগুলো ট্রানজিস্টর, রেজিস্টার, ক্যাপাসিটর এবং অন্যান্য উপকরণ মিশিয়ে একটি ক্ষুদ্র সিলিকন পাতের ওপর স্থাপন করা থাকে।
- তৃতীয় প্রজন্মের কম্পিউটারগুলো IC ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছিল। ফলে কম্পিউটারের আকার আরো ছোট হয়ে আসে, দাম কমে যায়, বিদ্যুৎ খরচ কমে যায়, কাজের গতি ও নির্ভরশীলতা বহুগুণে বেড়ে যায়। একই সাথে কম্পিউটারের মেমরিব্যবস্থারও উন্নতি ঘটে।

অপরদিকে,
- ENIAC হলো প্রথম প্রজন্মের ডিজিটাল কম্পিউটার।
- MARK-1 হলো পৃথিবীর প্রথম ইলেক্ট্রো-মেকানিক্যাল কম্পিউটার।
- UNIVAC হলো সর্বপ্রথম বাণিজ্যিক ভিত্তিতে তৈরি ইলেকট্রনিক কম্পিউটার এবং এ যন্ত্রেই সর্বপ্রথম চুম্বক-ফিতা ব্যবহার করা হয়েছিল।

উৎস:
১। Guinnessworldrecords [Link]
২। মৌলিক কম্পিউটার শিক্ষা (বিবিএ প্রোগ্রাম)- উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১১.
কম্পিউটারের হার্ডওয়্যার ও ব্যবহারিক প্রোগ্রামের মধ্যে যোগসূত্র রক্ষা করে কোনটি?
  1. অ্যান্টিভাইরাস
  2. অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যার
  3. সিস্টেম সফটওয়্যার
  4. এমএস অফিস
ব্যাখ্যা

• সিস্টেম সফটওয়্যার (System Software):
- সিস্টেম সফটওয়্যার হলো কম্পিউটারের নিয়ন্ত্রক। এটি কম্পিউটারের হার্ডওয়্যার ও ব্যবহারিক প্রোগ্রামের মধ্যে যোগসূত্র রচনা ও রক্ষা করে
- সিস্টেম সফটওয়‍্যার ছাড়া কম্পিউটার অচল। তাই কম্পিউটারকে সঠিকভাবে পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণের জন্য যে সকল প্রোগ্রাম বা প্রোগ্রাম সমষ্টি দরকার তাদেরকে সিস্টেম সফটওয়‍্যার বলে।
- সিস্টেম সফটওয়‍্যার কম্পিউটারের বিভিন্ন ইনপুট-আউটপুট ডিভাইসের মধ্যে কাজের সমন্বয় রক্ষা করে ব্যবহারিক প্রোগ্রাম চালনার জন্য কম্পিউটারকে তৈরি রাখে। আবার কম্পিউটারের বিভিন্ন ইউনিটের মধ্যে কাজের সমন্বয় রক্ষা করে।
- DOS, Windows Xp, Linux, Unix, Mac OS, Solaries ইত্যাদি হলো সিস্টেম সফটওয়‍্যারের উদাহরণ।
- আবার Compiler, Interpretor, Assembler প্রোগ্রামসমূহও সিস্টেম সফটওয়‍্যারের অন্তর্গত।
- সিস্টেম সফটওয়‍্যারকে প্রধানত তিন ভাগে ভাগ করা যায়। যথা:
১। সিস্টেম ম্যানেজমেন্ট বা সিস্টেম নিয়ন্ত্রণ প্রোগ্রাম (System Management or Control Program)
২। সিস্টেম ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম (System Development Program) এবং
৩। সিস্টেম সাপোর্ট প্রোগ্রাম (System Support Program)

উৎস: মৌলিক কম্পিউটার শিক্ষা (বিবিএ প্রোগ্রাম)- উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১২.
নিচের কোন হার্ডওয়্যারটি কম্পিউটারের ভেতরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে (Heat sink) ব্যবহৃত হয়?
  1. Fan
  2.  Modem
  3. Sound card
  4. Network card
ব্যাখ্যা

- কম্পিউটারের প্রসেসর (CPU) বা গ্রাফিক্স কার্ডের (GPU) মতো উপাদানগুলোর অতিরিক্ত তাপ নিয়ন্ত্রণ ও ঠান্ডা রাখতে ধাতব পাত বা হিট সিঙ্ক (Heat Sink) সরাসরি ব্যবহৃত হয়। 
- এটি সাধারণত অ্যালুমিনিয়াম বা তামা দিয়ে তৈরি, যা উপাদানের তাপ শোষণ করে বাতাস বা ফ্যানের সাহায্যে বাইরে বের করে দেয়। এর সাথে প্রায়শই কুলিং ফ্যান যুক্ত থাকে। 

হিট সিঙ্কের প্রধান কার্যাবলি:
- CPU/GPU থেকে তাপ শোষণ করে।
- শোষণ করা তাপ বায়ুতে ছড়িয়ে দেয়।
- কম্পিউটারের ভেতরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে রেখে স্থায়ী ক্ষতি থেকে রক্ষা করে। 
- হিট সিঙ্কের দক্ষতা বাড়াতে এর মাঝে থার্মাল পেস্ট (Thermal Paste) ব্যবহার করা হয়।

উৎস: Corsair Website [Link]

১৩.
নিচের কোনটি ক্ষুদ্রাকৃতির মাইক্রো প্রসেসর চিপ দিয়ে তৈরি?
  1. মাইক্রো কম্পিউটার
  2. মিনি কম্পিউটার
  3. মেইনফ্রেম কম্পিউটার
  4. সুপার কম্পিউটার
ব্যাখ্যা

- ডিজিটাল কম্পিউটারকে চারটি ভাগে ভাগ করা যায়।
যথা- মাইক্রো কম্পিউটার, মিনি কম্পিউটার, সুপার কম্পিউটার, এবং মেইনফ্রেম কম্পিউটার। 

মাইক্রো কম্পিউটার: 
- এ ধরনের কম্পিউটার বলতে ছোট বা ক্ষুদ্রাকৃতির  কম্পিউটারগুলোকেই বোঝায়। এই কম্পিউটারগুলো ক্ষুদ্রাকৃতির মাইক্রো প্রসেসর চিপ দিয়ে তৈরি বলে একে মাইক্রো কম্পিউটার বলা হয়। 
- একটি প্রধান মাইক্রো প্রসেসর, প্রধান মেমোরি,সহায়ক মেমোরি, এবং ইনপুট ও আউটপুট ডিভাইস নিয়ে একটি মাইক্রো কম্পিউটার গঠিত হয়। 
- এতে একটিমাত্র চিপের ওপর CPU (সেন্ট্রাল প্রসেসিং ইউনিট) থাকে এবং সাধারণত এক সময়ে একজন ব্যবহারকারী এটি ব্যবহার করতে পারেন।
- উদাহরণ হিসেবে ডেস্কটপ, ল্যাপটপ, ট্যাবলেট এবং স্মার্টফোন মাইক্রোকম্পিউটারের অন্তর্ভুক্ত। 

মিনি কম্পিউটার: 
- মিনি কম্পিউটারের কাজের ক্ষমতা ও কাজের গতি অপেক্ষাকৃত কম। 
- মেইনফ্রেম কম্পিউটার ও মিনি কম্পিউটারের মধ্যে কাজের ধরণ ও প্রক্রিয়াগত দিক থেকে কোন পার্থক্য নাই। 

সুপার কম্পিউটার: 
- সুপার কম্পিউটার হচ্ছে সবচেয়ে শক্তিশালী, ব্যয়বহুল ও দ্রুতগতিসম্পন্ন কম্পিউটার। 
- সুপার কম্পিউটার একসাথে একাধিক ব্যবহারকারী ব্যবহার করতে পারে। 
- সুপার কম্পিউটারে বিপুল পরিমাণ উপাত্ত সংরক্ষণের জন্য পর্যাপ্ত মেমরি এবং বিপুল পরিমাণ প্রক্রিয়াকরণ কাজের ক্ষমতা থাকে।

মেইনফ্রেম কম্পিউটার: 
- যে কম্পিউটার মিনি ও মাইক্রোকম্পিউটারের চেয়ে বড় এবং সুপার কম্পিউটারের চেয়ে ছোট তাকে মেইনফ্রেম কম্পিউটার বলে।
- এতে অনেকগুলো কম্পিউটার যুক্ত থাকে এবং এক সঙ্গে অনেক মানুষ কাজ করতে পারে।

উৎস: কম্পিউটার ও তথ্যপ্রযুক্তি-১, এসএসসি ও দাখিল (ভোকেশনাল)।

১৪.
নিচের কোনটি বড় মাপের আর্কিটেকচারাল নকশা বা মানচিত্র প্রিন্ট করার জন্য সবচেয়ে উপযোগী?
  1. লেজার প্রিন্টার
  2. ডট ম্যাট্রিক্স প্রিন্টার
  3. থার্মাল প্রিন্টার
  4. প্লটার
ব্যাখ্যা

• প্লটার (Plotter):
- প্লটার হলো বিশেষ ধরনের কম্পিউটার আউটপুট ডিভাইস বা প্রিন্টার, যা মূলত ভেক্টর গ্রাফিক্স ব্যবহার করে বড় আকারের নকশা, ম্যাপ, ইঞ্জিনিয়ারিং ড্রয়িং, বিলবোর্ড বা ব্যানার অত্যন্ত নিখুঁতভাবে প্রিন্ট করতে ব্যবহৃত হয়।
- এটি কলম, পেনসিল বা লেজার প্রযুক্তির মাধ্যমে চওড়া কাগজে বা বিভিন্ন মাধ্যমে উচ্চমানের গ্রাফিক্স তৈরি করে
- মূলত বৃহৎ আকারের ছবি, প্রতীক, মানচিত্র, আর্কিটেকচারাল ডিজাইন ইত্যাদির কাজে প্লটার ব্যবহৃত হয়। তাছাড়া ভবনের নকশা, বিশাল ও সূক্ষ্ণ যন্ত্রপাতির নকশা, মানচিত্র ইত্যাদির মুদ্রণ নেওয়ার জন্যও প্লটার ব্যবহৃত হয়।
- পিক্সেলের পরিবর্তে ভেক্টর বা রেখা ব্যবহার করায়, জ্যামিতিক নকশা অত্যন্ত সূক্ষ্ম হয়।
- কিছু প্লটার কাগজ বা ভিনাইল কাটার (Cutting) জন্যও ব্যবহৃত হয়।
- প্লটার সাধারণত ২ প্রকার। যথা-
১। ফ্ল্যাটবেড (Flat bed) প্লটার ও
২। ড্রাম (Drum) প্লটার

উৎস:
১। Lenovo [Link]
২। মৌলিক কম্পিউটার শিক্ষা (বিবিএ প্রোগ্রাম)- উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৫.
মূলত কোনটিকে কম্পিউটারের প্রসেসর বলা হয়ে থাকে?
  1. ALU
  2. CPU
  3. UPS
  4. RAM
ব্যাখ্যা

• মাইক্রোপ্রসেসর বা প্রসেসর (Processor):
- কম্পিউটারের কার্যব্যবস্থাকে সঠিকভাবে নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনা করার জন্য কম্পিউটারের যে অংশটি বা হার্ডওয়‍্যারটি সর্বাধিক ভূমিকা পালন করে, তাকে মাইক্রোপ্রসেসর বা প্রসেসর হিসেবে অভিহিত করা হয়।
মাইক্রোপ্রসেসর হলো সিলিকনের তৈরি এক ধরনের ভিএলএসআই (VLSI-Very Large Scale Integration) চিপ। একটি একক ভিএলএসআই সিলিকন চিপের মধ্যে এক মিলিয়নেরও অধিক ডায়োড, ট্রানজিস্টর, রেজিস্টার, ক্যাপাসিটর ইত্যাদি একীভূত থাকে।
- মাইক্রোপ্রসেসর মাইক্রোকম্পিউটারের কেন্দ্রীয় প্রক্রিয়াকরণ অংশ (CPU) হিসেবে কাজ করে। মাইক্রোপ্রসেসরকেই মাইক্রোকম্পিউটারের মস্তিষ্ক বা ব্রেইন বলা হয়। 
- বিটের সংখ্যার ওপর ভিত্তি করে মাইক্রোপ্রসেসরের নামকরণ করা হয়ে থাকে। যেমন: 4-বিট মাইক্রোপ্রসেসর, 16-বিট মাইক্রোপ্রসেসর, 32-বিট মাইক্রোপ্রসেসর, 64-বিট মাইক্রোপ্রসেসর ইত্যাদি।
- যুক্তরাষ্ট্রের ইন্টেল কর্পোরেশন ১৯৭১ সালে প্রথম মাইক্রোপ্রসেসর উদ্ভাবন করে। এটি ছিল Intel 4000 নামের 4 বিট মাইক্রোপ্রসেসর।  - বিভিন্ন বৈশিষ্ট্যের মাইক্রোপ্রসেসর তৈরিতে বিশ্বের বিভিন্ন ধরনের প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ইন্টেল কর্পোরেশন (Intel Corporation), মটোরোলা (Motorola), আইবিএম (IBM International Business Machine), এএমডি (AMD Advanced Micro Devices), কোয়ালকম (Qualcomm) ইত্যাদি।
- মাইক্রোপ্রসেসর প্রধানত তিনটি অংশে বিভক্ত। যথা-
১. নিয়ন্ত্রণ অংশ (Control Unit)
২. গাণিতিক যুক্তি অংশ (Arithmetic Logic Unit) ও
৩. রেজিস্টারসমূহ (Register Set)

উৎস: মৌলিক কম্পিউটার শিক্ষা (বিবিএ প্রোগ্রাম)- উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৬.
হাসপাতালের ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে (ICU) রোগীর রক্তচাপ ও হৃৎযন্ত্রের ক্রিয়া মাপার জন্য কোন কম্পিউটার ব্যবহৃত হয়?
  1. ল্যাপটপ
  2. অ্যানালগ কম্পিউটা
  3. ডিজিটাল কম্পিউটার
  4. হাইব্রিড কম্পিউটার
ব্যাখ্যা

হাইব্রিড কম্পিউটার (Hybrid Computer):
- অ্যানালগ ও ডিজিটাল উভয় কম্পিউটারের নীতির সমন্বয়ে যে কম্পিউটার গঠিত তাকে হাইব্রিড কম্পিউটার বলা হয়। একে সংকর কম্পিউটারও বলা হয়।
- হাইব্রিড কম্পিউটারে সাধারণত উপাত্ত সংগৃহীত হয় অ্যানালগ প্রক্রিয়ায় এবং সংগৃহীত উপাত্ত সংখ্যায় রূপান্তরিত করে ডিজিটাল অংশে প্রেরণ করা হয়। ডিজিটাল অংশ প্রাপ্ত উপাত্ত প্রক্রিয়াকরণের পর ফলাফল প্রদান করে।
- হাইব্রিড কম্পিউটার অত্যন্ত দামি। তাই কেবলমাত্র বিশেষ বিশেষ ক্ষেত্রে এটি ব্যবহৃত হয়; যেমন- মিসাইল, সমরাস্ত্র, বৈজ্ঞানিক গবেষণা, নভোযান, রাসায়নিক দ্রব্যের গুণাগুণ নির্ণয়, পরমাণুর গঠন-প্রকৃতি নির্ণয়, পরীক্ষাগারে ঔষধের মান নির্ণয় ইত্যাদিতে ব্যবহৃত হয়।
- এছাড়াও হাসপাতালের ইনটেনসিভ কেয়ার, শরীরের তাপমাত্রা, রোগীর রক্তচাপ, হৃত্যন্ত্রের ক্রিয়া ইত্যাদি ক্ষেত্রে এ ধরনের কম্পিউটার ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

উৎস: মৌলিক কম্পিউটার শিক্ষা, বিবিএ প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৭.
জাপানে অ্যাবাকাস যন্ত্রটি কী নামে পরিচিত?
  1. সরোবান
  2. স্কেটিয়া
  3. সুয়ানপান
  4. পিকো
ব্যাখ্যা

• অ্যাবাকাস:
- অ্যাবাকাস প্রাচীনতম গণনা যন্ত্র, যা একটি ফ্রেমে সাজানো গুটির স্থান পরিবর্তন করে গণনা করার কাজ পরিচালিত করে।
- গুটি গুলো সঞ্চালন করে অ্যাবাকাসের সাহায্যে যোগ, বিয়োগ, গুণ, ভাগ ইত্যাদি কাজ করা যেত।
- অ্যাবাকাস শব্দটির অর্থ গণনাকারী বোর্ড।
- খ্রীস্টপূর্ব পঞ্চম শতাব্দীতে অ্যাবাকাসের প্রথম ব্যবহার শুরু হয়েছিল চীনে।
- দ্বাদশ শতাব্দী পর্যন্ত ইউরোপ ও এশিয়ায় অ্যাবাকাস ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়েছিল।
- পঞ্চদশ শতাব্দীতে অ্যাবাকাস জাপানে প্রবর্তিত হয়।
- চীনে অ্যাবাকাসকে বলা হয় সুয়ানপান (Suanpan), জাপানে সরোবান (Soroban) এবং রাশিয়াতে বলা হয় স্কেটিয়া ( Sketia)।

উৎস: মৌলিক কম্পিউটার শিক্ষা, বিবিএ প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৮.
আধুনিক স্মার্টফোনে চার্জিং ও ডেটা আদান-প্রদানের জন্য নিচের কোনটি ব্যবহৃত হয়?
  1. USB
  2. VGA
  3. HDMI
  4. LAN Port
ব্যাখ্যা

- USB-এর পূর্ণরূপ হলো Universal Serial Bus (ইউনিভার্সাল সিরিয়াল বাস)।
- এটি একটি আধুনিক প্রযুক্তি যা কম্পিউটার ও ইলেকট্রনিক ডিভাইসের (যেমন: মাউস, কীবোর্ড, প্রিন্টার, স্ক্যানার, পেনড্রাইভ, ডিজিটাল ক্যামেরা ইত্যাদি) মধ্যে ডেটা আদান-প্রদান এবং বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য ব্যবহৃত হয়
- এটি প্লাগ-এন্ড-প্লে প্রযুক্তির মাধ্যমে সহজে সংযুক্ত করা যায় এবং বর্তমানে স্মার্টফোন চার্জিংয়েও ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়
- USB সমর্থিত ডিভাইসসমূহ এ জাতীয় পোর্টে সংযুক্ত করা হয়। সাধারণত কম্পিউটার সিস্টেম ইউনিটের সামনে বা পেছনে ২ থেকে ৪টি USB পোর্ট থাকে। 
- USB ধরন: USB 2.0, USB 3.0, এবং আধুনিক USB Type-C ।
- আগের প্রযুক্তির তুলনায় ডেটা ট্রান্সফার দ্রুততর এবং এটি সার্বজনীন অর্থাৎ, একটিমাত্র পোর্টের মাধ্যমে বিভিন্ন ধরণের ডিভাইস ব্যবহার করা সম্ভব।

উৎস:
১। Lenovo [Link]
২। মৌলিক কম্পিউটার শিক্ষা (বিবিএ প্রোগ্রাম)- উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৯.
ওয়েব ব্রাউজারকে পর্দাজুড়ে (Full Screen) দেখার জন্য কোন কী ব্যবহার করা হয়?
  1. F5
  2. F8
  3. F11
  4. F12
ব্যাখ্যা

কীবোর্ডের ফাংশন কী এর কাজসমূহ: 
-F1 : সাহায্যকারী কী হিসেবে ব্যবহৃত হয়। F1 চাপলে প্রতিটি প্রোগ্রামের ‘হেল্প’ চলে আসবে।
-F2 : সাধারণত কোনো ফাইল বা ফোল্ডারের নাম বদলের (রিনেম) জন্য ব্যবহূত হয়।
-F3: এটি চাপলে মাইক্রোসফট উইন্ডোজসহ অনেক প্রোগ্রামের সার্চ সুবিধা চালু হয়।
-F4 : Alt+F4 চেপে সক্রিয় সব প্রোগ্রাম বন্ধ করা হয়। 
-F5 : মাইক্রোসফট উইন্ডোজ, ইন্টারনেট ব্রাউজার ইত্যাদি রিফ্রেশ করা হয় F5 চেপে। 
-F6 : এটা দিয়ে মাউস কার্সারকে ওয়েব ব্রাউজারের ঠিকানা লেখার জায়গায় (অ্যাড্রেসবার) নিয়ে যাওয়া যায়।
-F7 : ওয়ার্ডে লেখার বানান ও ব্যাকরণ ঠিক করা হয় এ কি চেপে।
-F8 : অপারেটিং সিস্টেম চালু হওয়ার সময় কাজে লাগে এই কী। 
-F9 : কোয়ার্ক এক্সপ্রেস ৫.০-এর মেজারমেন্ট টুলবার খোলা যায় এই কী দিয়ে।
-F10 : ওয়েব ব্রাউজার বা কোনো খোলা উইন্ডোর মেনুবার নির্বাচন করা হয় এ কী চেপে।
-F11: ওয়েব ব্রাউজার পর্দাজুড়ে দেখা যায়।
-F12 : ওয়ার্ডের Save as উইন্ডো খোলা হয় এ কী চেপে।

উৎস:
১। Computer Hope Website [Link]
২। Computer & ICT Cloud

২০.
কম্পিউটারের অভ্যন্তরীণ কম্পোনেন্টগুলোতে শক্তি বা বিদ্যুৎ সরবরাহ করে কোন ডিভাইসটি?
  1. প্রসেসর
  2. মাদারবোর্ড
  3. হার্ডডিস্ক
  4. পাওয়ার সাপ্লাই ইউনিট
ব্যাখ্যা

• পাওয়ার সাপ্লাই ইউনিট (PSU):
- পাওয়ার সাপ্লাই ইউনিট এমন একটি ডিভাইজ যা কম্পিউটারের শক্তি জোগায়।
- কম্পিউটারের সাথে সংশ্লিষ্ট কম্পোনেটগুলো যথাযথভাবে কাজ করছে কি না তা নিশ্চিত করার জন্য সরবরাহ করা ভোল্টেজকে রেগুলেট করে।
- এটি কম্পিউটারের জন্য প্রয়োজনীয় ২৩০ ভোল্ট বিদ্যুৎ সাপ্লাইকে রূপান্তর রেগুলেটেড ডিসি ভোল্টেজে রূপান্তরিত করে।
- পাওয়ার সাপ্লাই একটি ধাতব বক্স, যা কম্পিউটারের কেসিংয়ের ওপরের কোনায় থাকে।
- সাধারণত কেসিংয়ের সাথে পাওয়ার সাপ্লাই ইনস্টল করা থাকে। যদি ইনস্টল করা না থাকে তাহলে পাওয়ার সাপ্লাই ইউনিটকে কেসিংয়ের যথাস্থানে স্থাপন করে স্ক্রু-গুলি সংযুক্ত করতে হবে। অতঃপর বিভিন্ন ক্যাবলসমূহ নির্ধারিত স্থানে সংযোজন করার পদক্ষেপ নিতে হবে।
- কাজের ধরন ও ক্যাবল ম্যানেজমেন্টের ওপর ভিত্তি করে এটি মডুলার, সেমি-মডুলার এবং নন-মডুলার -এই তিন ধরনের হয়।

উৎস: মৌলিক কম্পিউটার শিক্ষা (বিবিএ প্রোগ্রাম)- উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।