পরীক্ষা আর্কাইভ

বার কাউন্সিল ও বিজেএস জব সল্যুশন

পরীক্ষাBJS & BARতারিখ২৫ অক্টোবর, ২০২৩সময়50 minutes৯৯ বৈধ · অসম্পূর্ণ
মোট প্রশ্ন১০০
সিলেবাস
বার কাউন্সিল এনরোলমেন্ট পরীক্ষা-২০২০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বার কাউন্সিল ও বিজেএস জব সল্যুশন

BJS & BAR · ২৫ অক্টোবর, ২০২৩ · ১০০ প্রশ্ন

.
নিম্বের কোন ব্যক্তি পদাধিকার বলে জাস্টিস অব দি পিস?
  1. জেলা ম্যাজিস্ট্রেট
  2. মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট
  3. পুলিশ সুপারিন্টেনডেন্ট
  4. বিশেষ ক্ষমতাপ্রাপ্ত ম্যাজিস্ট্রেট
ব্যাখ্যা
♦ফৌজদারী কার্যবিধি, ১৮৯৮ এর ২৫ ধারায় ‘পদাধিকার বলে জাস্টিস অব দি পিস' শিরোনামে বলা আছে যে, সমগ্র বাংলাদেশে সুপ্রীমকোর্টের বিচারপতিগণ এবং দায়রা জজ, চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট,মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটগণ স্ব স্ব এলাকায় Justice of the Peace থাকবেন।
♦ফৌজদারী কার্যবিধি, ১৮৯৮ এর  ২২ ধারা অনুযায়ী মফম্বল এলাকার জন্য সরকার বিদেশি নাগরিক ব্যতীত উপযুক্ত যেকোনো ব্যক্তিকে জাস্টিস অব দি পিস নিয়োগ দিতে পারেন।
♦অর্থাৎ সুপ্রিম কোর্টের প্রত্যেক বিচারক পদাধিকারবলে সমগ্র বাংলাদেশের জাস্টিস অফ দি পিস। দায়রা বিচারকগণ, চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটগণ এবং মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটগণ পদাধিকারবলে তাদের অধিক্ষেত্রভুক্ত এলাকার জন্য জাস্টিস অফ দি পিস ।
.
কোনটি প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেটের সাধারণ ক্ষমতা নয়?
  1. বিচারের জন্য সোপর্দ করা
  2. জামিনদারকে রেহাই দেওয়া
  3. দোষস্বীকারোক্তি লিপিবদ্ধ করা
  4. দণ্ডবিধিভুক্ত যেকোনো অপাধ আমলে গ্রহণ
ব্যাখ্যা
♦ফৌজদারী কার্যবিধির ৩৬ ধারা এবং তৃতীয় তফসিলে ম্যাজিস্ট্রেটের সাধারণ ক্ষমতা নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। তৃতীয় তফসিলে নির্ধারিত এবং সকল বিচারিক ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপর অর্পিত ক্ষমতাসমূহ 'সাধারণ 'ক্ষমতা' বলে গণ্য হবে। যেখানে মোট ১৫টি সাধারণ ক্ষমতার বিধান রয়েছে।

♦তৃতীয় তফসিলে প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেটের সাধারণ ক্ষমতাঃ

১) দ্বিতীয় শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেটের সাধারণ ক্ষমতাদি।
২) জমিল মালিক, কৃষক প্রভৃতি বরাবর পরোয়ানা প্রদানের ক্ষমতা। ৭৮ধারা
৩) তদন্ত প্রসঙ্গ ব্যতিরেকে অপর কোন ক্ষেত্রে তল্লাশি ওয়ারেন্ট জারি করার ক্ষমতা। ৯৮ ধারা
৪) বেআইনীভাবে বা অন্যায়ভাবে আটক ব্যক্তিকে খুজে বের করার লক্ষ্যে তল্লাশি ওয়ারেন্ট জারি করার ক্ষমতা। ১০০ ধারা
৫) জামিনদারকে মুক্তি প্রদানের ক্ষমতা। ১২৬ক ধারা
৬) পুলিশী তদন্তকালীন বিবৃতি ও দোষ স্বীকারোক্তি লিপিবদ্ধ করার ক্ষমতা। ১৬৪ ধারা  
৭) স্থানীয় অধিক্ষেত্রের বাইরে কৃত অপরাধের জন্য সমন কিংবা পরোয়ানা প্রদানের ক্ষমতা। ১৮৬ ধারা
৮) বিচারের জন্য পাঠানোর ক্ষমতা। ২০৫গ ধারা
৯) বাদি যেক্ষেত্রে উপস্থিত না থাকে সেক্ষেত্রে কার্যক্রম বন্ধ রাখার ক্ষমতা। ২৪৯ ধারা
১০) নিজে মোকদ্দমার অনুসন্ধানকালীন অপরাধের সাথে জড়িত ব্যক্তিকে ক্ষমা প্রদর্শন করার ক্ষমতা। ৩৩৭ ধারা
১১) কমিশন কর্তৃক সাক্ষ্য গ্রহণ করার ক্ষমতা। ৫০৩ ধারা
১২) নতুন জামানত দাবি করার ক্ষমতা। ৫১৪ক ধারা
১৩) অপহৃত নারী প্রত্যর্পণ করতে বাধ্য করার ক্ষমতা।৫৫২ ধারা
১৪)স্বামী দ্বারা স্ত্রীকে ধর্ষণের অপরাধ আমলে নেয়া ও তাকে বিচারের জন্য সোপর্দ করার ক্ষমতা।৫৬১ ধারা
১৫) মুক্তিপ্রাপ্ত অপরাধকারীদের সম্পর্কে আদেশ প্রদানের ক্ষমতা।৫৬৫ ধারা

♦তৃতীয় তফসিল অনুসারে ফৌজদারী কার্যবিধির ১২৬ক ধারার অধীন জামিনদারকে রেহাই দেওয়া, ১৬৪ ধারার অধীন দোষস্বীকারোক্তি লিপিবদ্ধ করা এবং ২০৫গ ধারার অধীন বিচারের জন্য সোপর্দ বা প্রেরণ করা প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিস্টেটের সাধারণ ক্ষমতা।
সেহেতু দণ্ডবিধিভুক্ত যে-কোন অপরাধ আমলে গ্রহণ প্রথম ম্যাজিস্ট্রেটের সাধারণ ক্ষমতা না।
.
পলাতক আসামির ক্রোককৃত সম্পত্তিতে অন্য কোনো ব্যক্তি ক্রোকের কত দিনের মধ্যে তার নিজ স্বার্থ দাবি করতে পারে?
  1. ১ মাস
  2. ৩ মাস
  3. ৬ মাস
  4. ১ বছর
ব্যাখ্যা
♦ফৌজদারী কার্যবিধির ধারা ৮৮ (৬ক) সম্পত্তি ক্রোকের আদেশের তারিখ হতে ৬ মাসের মধ্যে যে ব্যক্তির বিরুদ্ধে হুলিয়া জারী করা হয়েছে সে ব্যতীত অন্য কোনো ব্যক্তি ক্রোকী আদালতে আপত্তি দাখিল করতে পারে যে উক্ত সম্পত্তিতে তার স্বার্থ আছে এবং এটা ক্রোকযোগ্য না।
.
সরকার The Code of Criminal Procedure, 1898 এর কোন ধারাবলে অশ্লীলতার অভিযোগে কোনো পুস্তক বাজেয়াপ্ত করে?
  1. 99
  2. 99A
  3. 99B
  4. 99C
ব্যাখ্যা
♦The Code of Criminal Procedure, 1898 এর Section 99A তে কতিপয় প্রকাশনা বাজেয়াপ্ত ঘোষণা করা এবং তার জন্য তল্লাশী পরোয়ানা জারির ক্ষমতা:
সংবাদপত্র বা পুস্তক বা দলিলসমূহে নিম্নোক্ত বিষয়বস্তু বিদ্যমান থাকলে তা সরকার বাজেয়াপ্ত ঘোষণা করতে পারে এবং তল্লাশী পরোয়ানা ইস্যু করতে পারে:
১) রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, স্পীকার, প্রধান বিচারপতির জন্য মানহানিকর।
২) মারাত্মক শিষ্টাচারহীন বা গালিগালাজপূর্ণ বা অশ্লীল।
৩) আমলযোগ্য অপরাধ করতে উত্তেজিত করে এমন শব্দ বা তিরস্কার।
৪) যা প্রকাশ করা পেনাল কোড, ১৮৬০-এর ধারা ১২৩৩, ১২৪এ, ১৫৩৩, ১৯২,২৯৫এ, ৫০৫, ৫০৫এ অনুযায়ী দণ্ডণীয়।

♦৯৯বি ধারা অনুযায়ী- উপরিউক্ত উপাদানযুক্ত সংবাদপত্র, পুস্তক, দলিল বাজেয়াপ্ত ঘোষণা করা হলে, স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি দুই মাসের মধ্যে HCD এর নিকট ঘোষণা বাতিলের আবেদন করতে পারে।
৯৯সি ধারা অনুযায়ী ৩ জন বিচারক নিয়ে গঠিত HCD এর স্পেশাল বেঞ্চ আবেদন শ্রবণ করে সিদ্ধান্ত দিতে পারেন।
.
মহানগর এলাকার বেআইনি সমাবেশ ছত্রভঙ্গ করার জন্য সামরিক শক্তি প্রয়োগের আদেশ দিতে পারেন কে?
  1. পুলিশ কমিশনার
  2. স্বরাষ্ট সচিব
  3. সেনাবাহিনী প্রধান
  4. চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট
ব্যাখ্যা
♦The Code of Criminal Procedure, 1898 এর ১২৯ ধারায় সামরিক শক্তি প্রয়োগের বিধান আছে। ১২৯ ধারা মতে অন্য কোনভাবে বেআইনী সমাবেশ ছত্রভঙ্গ করা না গেলে মেট্রোপলিটন এলাকায় পুলিশ কমিশনার এবং মেট্রোপলিটন এলাকার বাহিরে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সামরিক শক্তি প্রয়োগ করার নির্দেশ দিতে পারেন।
♦ তবে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের সাথে যোগাযোগ করতে না পারলে পরিস্থিতি সাপেক্ষে সেনাবাহিনীর কোন কমিশনপ্রাপ্ত অফিসার সামরিক শক্তি প্রয়োগ করে বেআইনী সমাবেশ ছত্রভঙ্গ করতে পারেন এবং প্রয়োজনে গ্রেফতার ও আটক করতেপারেন।
♦বেআইনী সমাবেশ ছত্রভঙ্গ করতে আসা প্রতিরক্ষা বাহিনীর কমিশন প্রাপ্ত বা নন কমিশন প্রাপ্ত কর্মকর্তারা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বা পুলিশ কমিশনারের নির্দেশ অনুসারে কাজ করবেন।
.
কোন ব্যক্তি আত্মহত্যা করেছে মর্মে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সংবাদ পেলে তিনি সুরতহাল করার জন্য কাকে জানাবেন?
  1. নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট
  2. জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট
  3. সেনাবাহিনী প্রধান
  4. চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট
ব্যাখ্যা
♦ফৌজদারী কার্যবিধি ১৮৯৮, ধারা ১৭৪ মতে কোনো ব্যক্তি আত্মহত্যা করেছে বা অপর কোনো ব্যক্তি বা প্রাণী কর্তৃক বা কোনো যন্ত্র দ্বারা বা কোনো দূর্ঘটনার ফলে নিহত হয়েছে বা এইরুপ পরিস্থিতিতে মারা গেছে যাতে যুক্তিসংগতভাবে সন্দেহ হতে পারে যে, অপর কোনো ব্যক্তি কোনো অপরাধ করেছে, সেই বিষয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বা সরকার কর্তৃক বিশেষভাবে ক্ষমতাপ্রাপ্ত অন্যান্য পুলিশ কর্মকর্তা সুরতহাল করতে ক্ষমতাসম্পন্ন নিকটতম নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট সংবাদ প্রদান করবে।
.
ফৌজৈদারি কার্যবিধির ২০০ ধারার জবানবন্দী গ্রহণ করা বাধ্যতামূলক, যদি অভিযোগটি ________ হয়।
  1. মৌখিক
  2. থানায় পাঠানো
  3. অপর আদালত কর্তৃক প্রদত্ত
  4. লিখিত
ব্যাখ্যা
♦ফৌজৈদারি কার্যবিধির ২০০ ধারা মতে মৌখিক নালিশের ক্ষেত্রে ম্যাজিস্ট্রেট অবশ্যই তাৎক্ষণিকভাবে শপথপূর্বক নালিশকারীর জবানবন্দি গ্রহণ করতে বাধ্য
♦যেক্ষেত্রে লিখিত আকারে নালিশ করা হয়, সেই ক্ষেত্রে ১৯২ ধারার অধীন মামলা স্থানান্তর করার পূর্বে নালিশকারী বা উপস্থিত সাক্ষীর (যদি থাকে) জবানবন্দি গ্রহণ বা পরীক্ষা করার প্রয়োজন নেই [ধারা ২০০(ক))। আমলযোগ্য অপরাধ বিষয়ে নালিশী দরখাস্ত প্রাপ্তির পর ম্যাজিস্ট্রেট ২০০ ধারার অধীন আমলে গ্রহণ না করে নালিশী দরখাস্তটি পুলিশের নিকট পাঠাতে পারে প্রাথমিক তথ্য বিবরণীভুক্ত করার জন্য এবং এই ক্ষেত্রে নালিশকারীর জবানবন্দি গ্রহণ প্রয়োজনীয় না।
♦লিখিত নালিশের ক্ষেত্রে ম্যাজিস্ট্রেট নালিশকারীর শপথপূর্বক জবানবন্দি গ্রহণ করতে বাধ্য না যদি লিখিত নালিশটি ২০০ ধারার (ক), (কক) বা (গ) ধারায় উল্লেখিত শর্তসমূহ পূরণ করে।
♦মৌখিক অভিযোগ হলে:
১. ম্যাজিস্ট্রেট শপথপূর্বক লিখিত আকারে জবানবন্দি গ্রহণ করে লিপিবদ্ধ করবে।
২. ম্যাজিস্ট্রেট জবানবন্দির সারাংশ লিপিবদ্ধ করবে।
৩. অভিযোগকারী, সাক্ষীর [উপস্থিত থাকলে] স্বাক্ষর নেবে। [স্বাক্ষর নেওয়া বাধ্যতামূলক)
8. ম্যাজিস্ট্রেট নিজে স্বাক্ষর করবে। [স্বাক্ষর করা বাধ্যতামূলক]
লিখিত অভিযোগ হলে: অভিযোগকারী কর্তৃক স্বাক্ষরিত হতে হবে [ম্যাজিস্ট্রেট স্বাক্ষর আছে কিনা যাচাই করে নিবে]।
♦অভিযোগ/নালিশী দরখাস্ত গ্রহণকালে মামলাকারীকে পরীক্ষা করা ম্যাজিস্ট্রেটেরজন্য বাধ্যতামূলক।
♦২০০ ধারা অনুসারেই একজন ফরিয়াদি ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট নালিশ করে এবং অভিযোগকারীকে পরীক্ষা করা বা জবানবন্দি নেওয়ার উদ্দেশ্য হচ্ছে সত্য-মিথ্যা, অহেতুক, বিচারযোগ্য কি না তা যাচাই করে দেখা। মিথ্যা অভিযোগ করলে ২৫০ ধারায় ব্যবস্থা নেওয়া যাবে।
.
The Code of Criminal Procedure, 1898, এর ২০৩ ধারা মতে নালিশ খারিজ করলে এ বিরুদ্ধে চলবে________
  1. আপিল
  2. রিভিশন
  3. রিভিউ
  4. কোনটি নয়
ব্যাখ্যা
♦The Code of Criminal Procedure, 1898,  এর ২০৩ ধারায় ম্যাজিস্ট্রেট নালিশ খারিজের আদেশ দিলে তার বিরুদ্ধে রিভিশন দায়ের করা যায়।
♦যেক্ষেত্রে ২০৩ ধারায় ম্যাজিস্ট্রেট অভিযোগ খারিজ করে, সেই ক্ষেত্রে দায়রা জজ বা হাইকোর্ট বিভাগ ৪৩৬ এবং ৪৩৯ ধারায় অধিকতর অনুসন্ধানের [further inquiry] নির্দেশ দিতে পারে।
.
একজন লোক H এর জমির ধান কেটে চুরি করলে তাদের বিরুদ্ধে The penal code, 1860 এর কোন ধারায় চার্জ হবে?
  1. ৩৭৯
  2. ৩৭৯ ও ৪৪৭
  3. ৪৪৭
  4. কোনটি নয়
ব্যাখ্যা
♦জমির ধান কেটে চুরি করার জন্য ৩৭৯ ধারার অধীন চার্জ গঠনের সাথে ৪৪৭ ধারার অধীন যৌথভাবে চার্জ গঠন করার কোন সুযোগ নেই কারণ জমি হতে দণ্ডায়মান ধান কাটা এবং নিয়ে যাওয়ার জন্য উক্ত জমিতে প্রবেশ করতে হয়। সুতরাং ৪৪৭ ধারার অধীন জমিতে প্রবেশের জন্য চার্জ গঠনের প্রয়োজন নেই ।
♦অর্থাৎ জমির ধান কেটে চুরি করার জন্য ৩৭৯ ধারার অধীন চার্জ গঠন করা হবে।
১০.
বাংলাদেশে ফৌজদারি আদালত কয় শ্রেণির?
ব্যাখ্যা
♦ফৌজদারী কার্যবিধির ৬ ধারা অনুসারে ফৌজদারী আদালত ২ প্রকার যথা ১) দায়রা আদালত এবং ২) ম্যাজিস্ট্রেট আদালত।
১১.
আসামির অনুপস্থিতিতে বিচার করার জন্য কমপক্ষে কয়টি জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় বিজ্ঞাপন প্রকাশিত হতে হবে?
  1. আদালতের এখতিয়ারাধীন
ব্যাখ্যা
♦The Code of Criminal Procedure, 1898 এর ধারা ৩৩৯খ অনুপস্থিতিতে বিচার:
♦(১) যেক্ষেত্রে ৮৭ ও ৮৮ ধারার বিধান পালন করার পর আদালতের বিশ্বাস করার কারণ থাকে যে, আসামিকে যাতে গ্রেফতার ও বিচারে সোপর্দ করা না হয়, সেজন্য সে পলায়ন করেছে বা আত্মাগোপন করেছে এবং তাকে গ্রেফতার করার আশু সম্ভাবনা নেই, সেক্ষেত্রে নালিশী অপরাধ আমলে গ্রহণকারী আদালত বহুল প্রচারিত কমপক্ষে দুইটি বাংলা দৈনিক সংবাদপত্রে প্রকাশিত আদেশ দ্বারা উক্ত ব্যক্তিকে আদেশে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সেই আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিবেন এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি উক্ত নির্দেশ পালনে ব্যর্থ হলে তার অনুপস্থিতিতে তার বিচার অনষ্ঠিত হবে।
♦(২) আসামিকে হাজির করার পর কিংবা আসামি হাজির হওয়ার পর অথবা জামিনে মুক্ত হওয়ার পর আসামি পলায়ন করলে বা হাজির হতে ব্যর্থ হলে, সেক্ষেত্রে (১) উপধারায় বর্ণিত পদ্ধতি প্রযোজ্য হবে না এবং নালিশী অপরাধের জন্য এরূপ ব্যক্তির বিচার করতে উপযুক্ত আদালত এরূপ করার কারণ লিপিবদ্ধ করে তার অনুপস্থিতিতেই এরূপ ব্যক্তির বিচার করবেন।
১২.
আদালত আসমিকে জরিমানা দণ্ডে দণ্ডিত করলে তা আদায়ের কর্তৃত্ব দিয়ে পরোয়ানা দেওয়া যায় কাকে?
  1. জেলা কালেক্টরকে
  2. দেওয়ানি আদালতের বিচারককে
  3. থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে
  4. আদালতের নজিরকে
ব্যাখ্যা
♦ফৌজদারী কার্যবিধির ধারা ৩৮৬ মতে আদালত আসামীকে জরিমানা দণ্ডে দণ্ডিত করলে, অর্থদণ্ড প্রদানকারী আদালত অনাদায়ী অপরাধীর অস্থাবর এবং স্থাবর বা উভয় সম্পত্তি দেওয়ানী কার্যপদ্ধতি অনুসারে পরোয়ানা কার্যকর করে পাওনা আদায়ের জন্য জেলা কালেক্টরকে ক্ষমতা দিতে পারে।
১৩.
দোষ স্বীকার করার পেক্ষিতে প্রদত্ত রায়ের বিরুদ্ধে আসমি কোন প্রশ্নে আপিল করতে পারেন?
  1. দণ্ড
  2. আইন
  3. এখতিয়ার
  4. কেবল আইন
ব্যাখ্যা
♦দোষস্বীকারের ভিত্তিতে প্রদত্ত দণ্ডের ক্ষেত্রে ৪১২ ধারা অনুসারে কোন আপীল করা যায় না। কিন্তু ৪১২ ধারা অনুসারে দণ্ডের মাত্র বা বৈধতার বিষয়ে আপীল করা যায়।
♦অর্থাৎ দোষ স্বীকার করার পেক্ষিতে প্রদত্ত রায়ের বিরুদ্ধে আসমি দণ্ডের মাত্র বা বৈধতার প্রশ্নে আপিল করতে পারেন।
১৪.
নালিশি মামলায় আসামি খালাস পেলে উক্ত আদেশের বিরুদ্ধে _____দিনের মধ্যে আপিল করতে হয় -
  1. ৩০
  2. ৬০
  3. ৯০
  4. ১৮০
ব্যাখ্যা
♦ ফৌজদারী কার্যবিধি, ১৮৯৮ এর ধারা ৪১৭ মতে খালাস আদেশের বিরুদ্ধে নালিশকারী আপীল করতে পারে ৬০ দিনের মধ্যে এবং পাবলিক প্রসিকিউটর আপীল করতে পারে ৬ মাসের মধ্যে। যেহেতু নালিশী মামলায় খালাস দেওয়া হয়েছে, সেহেতু নালিশকারী ৬০ দিনের মধ্যে আপীল করতে পারবে।
১৫.
খালাসের আদেশের বিরুদ্ধে The Code of Criminal Procedure, 1898, অনুযায়ী আপিল দায়েরের তামাদি মেয়াদ _________।
  1. ৬ মাস
  2. ৩ মাস
  3. ১৮০ দিন
  4. ৯০ দিন
ব্যাখ্যা
♦যদি আইনের ভুল ব্যাখ্যার কারণে ন্যায়বিচার ব্যর্থ হয় তবেই ফরিয়াদি খালাসের বিরুদ্ধে আপিল করতে পারে।
♦The Code of Criminal Procedure, 1898 ধারা ৪১৭(৩) মতে খালাস আদেশের বিরুদ্ধে ফরিয়াদিকে খালাস আদেশ প্রদানের ৬০ দিনের মধ্যে আপিল করতে হয়।
♦The Limitation Act, 1908 এর অনুচ্ছেদ ১৫৭ অনুযায়ী  খালাস আদেশের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ খালাস আদেশ প্রদানের ৬ মাসের মধ্যে আপিল করতে পারে। [
♦ খালাসের বিরুদ্ধে আপিল গৃহীত না হলে বা প্রত্যাখ্যাত হলে উক্ত আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করা যাবে না।
১৬.
ম্যজিস্ট্রেট কর্তৃক প্রদত্ত খালাস আদেশের বিরুদ্ধে আপিল দায়ের করতে হবে ____________এর নিকট।
  1. হাইকোর্ট বিভাগ
  2. চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট
  3. দায়রা জজ
  4. জেলা ম্যাজিস্ট্রেট
ব্যাখ্যা
♦ফৌজদারী কার্যবিধির ধারা ৪১৭ মতে ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক প্রদত্ত খালাসের বিরুদ্ধে আপীল করতে হবে দায়রা জজের নিকট এবং দায়রা জাজ কর্তৃক প্রদত্ত খালাস আদেশের বিরুদ্ধে আপীল করতে হবে হাইকোর্ট বিভাগের নিকট। 
১৭.
The Code of Criminal Procedure, 1898, এর কোন ধারার বিধান অনুযায়ী হাইকোর্ট বিভাগের direction of the nature of a habeas corpus ইস্যু করার ক্ষমতা রয়েছে?
  1. ৪৯১
  2. ৫৬১(এ)
  3. ৪৯৪
  4. ৫১৭
ব্যাখ্যা
♦ফৌজদারী কার্যবিধির ৪৯১ ধারায় হাইকোর্ট বিভাগ direction of the nature of a habeas corpus ইস্যু করতে পারে। যখন কোন ব্যক্তিকে বেআইনীভাব আটক করা হয়, তখন বন্দী হাজির রিট ( writ of habeas corpus] পিটিশন দায়ের করা যায়। যে কোন ব্যক্তি বন্দী হাজির রিট দায়ের করতে পারবে। বন্দী হাজির অর্থ হলো বন্দীকে আদালতে হাজির করা।
১৮.
জামিননামা বাজেয়াপ্তির ক্ষেত্রে মুচলেকাবদ্ধ ব্যক্তি কর্তৃৃক জরিমানার টাকা পরিশোধ করা না হলে তাকে কত সময় পর্যন্ত দেওয়ানি কারাগরে আটক রাখা যাবে?
  1. ১ মাস
  2. ৩ মাস
  3. ৬ মাস
  4. ১ বছর
ব্যাখ্যা
♦ফৌজদারী কার্যবিধির ৫১৪ ধারা অনুযায়ী জামিননামা বাজেয়াপ্তির ক্ষেত্রে মুচলেকাবদ্ধ ব্যক্তি কর্তৃক জরিমানার টাকা পরিশোধ করা না হলে বা ক্রোক এবং বিক্রয়ের মাধ্যমে আদায় করা সম্ভব না হলে, জামিননামার অর্থ পরিশোধের জন্য দায়ী ব্যক্তিকে ৬ মাস পর্যন্ত দেওয়া কারাগারে আটক রাখা যাবে।
১৯.
কোন জব্দকৃত সম্পত্তির দাবীদার ___________ এর মধ্যে তা দাবি না করলে সেটি সরকারের হেফাজতে চলে যায়।
  1. ১ মাস
  2. ৬ মাস
  3. ৩ মাস
  4. মামলা নিষ্পত্তি কালতক
ব্যাখ্যা
♦ফৌজদারী কার্যবিধির  ৫২৩ ধারা অনুযায়ী ৫১ ধারা অনুসারে গৃহীত মাল বা চোরাইমাল আটকের সঙ্গে সঙ্গে তা কোন ম্যাজিস্ট্রেটকে জানাতে হবে। জব্দকৃত মালের মালিক অজ্ঞাত হলে ম্যাজিস্ট্রেট উক্ত সম্পত্তি আটক রাখতে পারবেন এবং একটি ঘোষণা দিবেন যে, উক্ত সম্পত্তিতে কারো কোন দাবী থাকলে এক মাসের মধ্যে তার সামনে হাজির হয়ে উক্ত দাবী প্রতিষ্ঠা করতে হবে।
♦যেহেতু প্রশ্নটিতে জব্দকৃত সম্পত্তির দাবীদার কর্তৃক দাবী প্রতিষ্ঠার মেয়াদ জানতে চাওয়া হয়েছে, সেহেতু উত্তর হবে ১ মাস। কারণ ৫২৩ (২) ধারা অনুসারে হাজির হয়ে দাবী প্রতিষ্ঠার জন্য ম্যাজিস্ট্রেট দাবীদারকে সময় দিবে ১ মাস। পূর্বে এই মেয়াদটি ৬ মাস ছিল। ১৯৭৩ সালে সংশোধন করে ১ মাস করা হয়।
২০.
একই ডাকাত দল H ও K এর বাড়িতে যথাক্রমে রাত ২ ও ৪ টায় ডাকাতি করলে তাদের বিরুদ্ধে কয়টা মামলা হবে?
  1. ভিকটিমের ইচ্ছা মতে
ব্যাখ্যা
♦The Code of Criminal Procedure, 1898 এর ২৩৪ ধারার বিধান- একই ধরনের অনধিক ৩টি অপরাধ ১ বছরের মধ্যে হলে একত্রে অভিযোগ গঠন করে একটি মামলায় বিচার করা যাবে। ২৩৯ ধারায় কোন কোন ব্যক্তিকে একই সাথে অভিযুক্ত করা যায় এই বিষয়ে বিধান আছে।
২১.
কোন আসামী কারাদণ্ড ভোগকালে মারা গেলে তার উপর আরোপিত অর্থদণ্ডের বিষেয়ে কী হবে?
  1. অপরাধী মৃত্যুর কারণে অর্থদণ্ড মওকুফ হয়ে যাবে
  2. অর্থদণ্ডের অর্ধেক আদায় হয়ে যাবে
  3. অপরাধীর উত্তরাধিকারীর ব্যক্তিগতভাবে অর্থদণ্ডের জন্য দায়ী হবে
  4. অপরাধীর সম্পত্তি থেকে অর্থদণ্ড আদায় করা যাবে
ব্যাখ্যা
দণ্ডবিধির ৭০ ধারা অনুসারে, কারাবাসকালে আদায়যোগ্য অর্থদণ্ড অপরাধীর মৃত্যু হলেও সম্পত্তি দায়মুক্ত হবে না। অর্থাৎ মৃত ব্যক্তির সম্পত্তি হতে আদায়যোগ্য হবে।
২২.
একজন বিচারকের সরল বিশ্বাসে সম্পাদিত বিচারিক কাজ অপরাধের অন্তর্ভুক্ত নয় মর্মে পেনাল কোডের কত ধারায় বর্ণিত আছে?
  1. ৭৯
  2. ৭৭
  3. ৭৫
  4. ৭০
ব্যাখ্যা
♦পেনাল কোডের ৭৭ ধারার অধীন বিচারকের কার্য ফৌজদারী দায় হতে অব্যাহতি পাবে যদি বিচারক বিচারিক কার্যসম্পাদনকালে এমন কার্যটি করে এবং আইনে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে কার্যটি সম্পাদন করে এবং এমন ক্ষমতা আইন দ্বারা তাকে দেওয়া হয়েছে বলে সরল বিশ্বাসে বিশ্বাস করে।
২৩.
নিচের কোন ক্ষেত্রে পেনাল কোড অনুযায়ী, শরীরের আত্মরক্ষামূলক অধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে মৃত্যু ঘটানো যায়?
  1. অপরাধমূলক অনুপ্রবেশ
  2. ইভ টিজিং
  3. অপহরণের অভিপ্রায়ে আঘাত
  4. আঘাত
ব্যাখ্যা
♦দণ্ডবিধির ১০০ ধারামতে দেহ বা শরীরকে প্রতিরক্ষার জন্য নিম্নলিখিত ৬টি ক্ষেত্রে আক্রমণকারীর মৃত্যু পর্যন্ত ঘটানো যায়। যথা-
i) এমন আক্রমন যা মৃত্যু ঘটাতে পারে
ii) এমন আক্রমন যা গুরুতর আঘাত তৈরী করতে পারে
iii) ধর্ষণের ক্ষেত্রে
IV) অপ্রকৃত কাম লালসার ক্ষেত্রে
v) মনুষ্যহরণ বা অপহরণের চেষ্টা করলে
vi) আইনের আশ্রয় নিতে বাধা দিতে অবৈধভাবে আটক করলে
♦অর্থাৎ, অপহরণের অভিপ্রায়ে আঘাত সঠিক উত্তর
২৪.
A, B কে C এর ঘর পোড়ানোর জন্য প্ররোচিত করে। B, C এর ঘরে আগুন দেয় ও চুরি করে। A ________?
  1. চুরি ও ঘর পোড়াতে প্ররোচনার জন্য দায়ী হবে
  2. চুরিতে প্ররোচনার জন্য দায়ী হবে
  3. ঘর পোড়াতে প্ররোচনার জন্য দায়ী হবে
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
♦দণ্ডবিধির ১১১ ধারা মতে যখন একটি কাজের জন্য সহায়তা করা হয়েছে কিন্তু সে কাজটি ভিন্ন অপর একটি কাজ সম্পাদিত হয়েছে, তখন যে কাজটি সম্পাদিত হয়েছে তার জন্য প্রত্যক্ষভাবে সহায়তা করা হলে যে অপরাধ হত সে অপরাধের জন্য যেভাবে এবং যতটুকু পর্যন্ত দণ্ডের বিধান করা হয়েছে, সহায়তাকারী সেভাবে এবং ততটুকু পর্যন্ত দণ্ডে দণ্ডিত হবে,
♦তবে শর্ত থাকে যে, যে কাজটি সম্পাদিত হয়েছে সে কাজটি সহায়তার একটি সম্ভাব্য পরিণতি হতে হবে, এবং যে প্ররোচনা, সাহায্য বা ষড়যন্ত্র কর্তৃক সহায়তা করা হয়েছে কাজটি সে প্ররোচনা, সাহায্য বা ষড়যন্ত্রের প্রভাবেই সম্পাদিত হতে হবে। 
♦আলোচ্য প্রশ্নে A, B কে C এর ঘর পোড়ানোর জন্য প্ররোচিত করে। B, C এর ঘরে আগুন দেয় এবং চুরি করে। এখানে প্ররোচনা করা হয়েছিল ঘরে আগুন দেওয়ার কিন্তু B চুরিও করে। এখানে চুরি হলো আগুন দেওয়া হতে ভিন্ন অপরাধ। যেহেতু ঘরে আগুন দেওয়ার সম্ভাব্য ফলাফল চুরি না,
♦সেহেতু শুধুমাত্র ঘরে আগুন দেওয়ার প্ররোচনার জন্য A দায়ী হবে কিন্তু চুরি বা চুরি করতে প্ররোচনার জন্য দায়ী হবেনা। B ঘরে আগুন দেওয়া ও চুরি উভয় অপরাধের জন্য দায়ী হবে।
২৫.
পেনাল কোডের কোন অধ্যায়ে রাষ্ট্রবিরোধী অপরাধ সম্পর্কিত বিধান রয়েছে?
  1. তৃতীয়
  2. চতুর্থ
  3. পঞ্চম
  4. ষষ্ঠ
ব্যাখ্যা
♦দণ্ডবিধি ১৮৬০ আইনে মোট অধ্যায় ২৩ টি এবং দণ্ডবিধির মোট ধারা ৫১১ টি (মূল দণ্ডবিধিতে ৪৮৮টি ধারা ছিল)। গুরুত্বপূর্ণ কিছু অধ্যায়ের নাম: দ্বিতীয় অধ্যায়: সাধারণ ব্যাখ্যা সমূহ, তৃতীয় অধ্যায়: শাস্তি, চতুর্থ অধ্যায়: সাধারণ ব্যতিক্রম সমূহ, পঞ্চম অধ্যায়: অপরাধে সহায়তা বা প্ররোচনা, পঞ্চম-ক অধ্যায়: অপরাধ মূলক ষড়যন্ত্র, ষষ্ঠ অধ্যায়: রাষ্ট্রবিরোধী অপরাধ, নবম অধ্যায়: সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীর সংক্রান্ত অপরাধ, নবম-ক অধ্যায়: নির্বাচন সংক্রান্ত অপরাধ, ষোড়শ অধ্যায়: মানবদেহ সংক্রান্ত অপরাধ, সপ্তদশ অধ্যায়: সম্পত্তির বিরুদ্ধে অপরাধ,  বিংশ অধ্যায়: বিবাহ সংক্রান্ত অপরাধ, একবিংশ অধ্যায়: মানহানি, ত্রয়োবিংশ অধ্যায়: অপরাধ সংগঠনের উদ্যোগ।
♦পেনাল কোডের ষষ্ঠ অধ্যায় অধ্যায়ে রাষ্ট্রবিরোধী অপরাধ সম্পর্কিত বিধান রয়েছে।
২৬.
পেনাল কোডের কোন ধারার বিধান অনুযায়ী অপরাধ সংঘটনে অংশগ্রহণ না করা সত্বেও শুধু সাধারণ উদ্দেশ্য থাকায় অপরাধ সংঘটনের অপরাধে অভিযুক্ত হতে হয়?
  1. ৩৪
  2. ১৪৯
  3. ১৮৬
  4. ১৩৯
ব্যাখ্যা
♦পেনাল কোডের ১৪৯ ধারায় বেআইনী সমাবেশের দায় সম্পর্কে বলা হয়েছে। পেনাল কোডের ১৪৯ ধারা অনুযায়ী কোন বেআইনী সমাবেশের যেকোন সদস্য কর্তৃক সাধারণ উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের জন্য কোন অপরাধ সংঘটিত হলে, অথবা সমাবেশের সদস্যগণ সাধারণ উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের জন্য উক্ত অপরাধ সংঘটিত হতে পারে মর্মে জ্ঞাত থাকলে তাদের প্রত্যেকে উক্ত অপরাধের জন্য দায়ী হবে।
♦পেনাল কোডের ৩৪ ধারায় যৌথভাবে দায়ী করতে হলে অভিযুক্তদের অংশগ্রহণ থাকতে হবে। ৩৪ ধারার ক্ষেত্রে উপস্থিতি প্রয়োজনীয় না। অন্যদিকে ১৪৯ ধারা প্রয়োগ করতে হলে অপরাধ সংঘটনের অংশগ্রহণ প্রয়োজনীয় না বরং সাধারণ উদ্দেশ্য নিয়ে অপরাধ সংঘটনের সময় বেআইনী সমাবেশে উপস্থিত ছিল এটাই তাকে দায়ী করার জন্য যথেষ্ট ।
২৭.
The Penal Code, 1860 এর ধারায় সরকারি কর্মচারী কর্তৃক যথাযতভাবে জারিকৃত আদেশ অমান্যকরণের শাস্তির বিষয়ে উল্লেখ আছে?
  1. ১৮৮
  2. ১৯১
  3. ২০০
  4. ২১৩
ব্যাখ্যা
♦দণ্ডবিধির ১৮৮ ধারায় সরকারি কর্মচারী দ্বারা বিধিসঙ্গতভাবে জারিকৃত আদেশ অমান্য করার শাস্তি- ১৮৮ ধারায় ২ ধরণের শাস্তি রয়েছে।
♦i) উক্ত আদেশ অমান্যের ফলে কোন ব্যক্তির বিঘ্ন সৃষ্টি, বিরক্তি বা ক্ষতি সাধিত হলে বা সম্ভাবনা দেখা দিলে শাস্তি- অনধিক এক মাস বিনাশ্রম কারাদন্ড বা অনধিক দুইশত টাকা অর্থদন্ড বা উভয়দন্ড ।
♦ii) উক্ত আদেশ অমান্যের ফলে মানবদেহ, স্বাস্থ্য বা নিরাপত্তার প্রতি বিপদ সংঘটিত হলে কিংবা দাঙ্গা বা কলহ সৃষ্টির সম্ভাবনা দেখা দিলে শাস্তি- অনধিক ৬ মাস কারাদন্ড বা অনধিক এক হাজার টাকা অর্থদন্ড বা উভয়দন্ড।
২৮.
The Penal Code, 1860 এর কোন ধারায় অসাধুভাবে আদালতে মিথ্যা দাবি উথাপন করার শাস্তির বিধান রয়েছে?
  1. ২০৭
  2. ২০৮
  3. ২০৯
  4. ২১৩
ব্যাখ্যা
♦দণ্ডবিধির ২০৯ ধারা অনুসারে, অসাধুভাবে আদালতে মিথ্যা দাবী উত্থাপন করার জন্য কোন ব্যক্তি যেকোন বর্ণনার কারাবাস যা ২ বৎসর পর্যন্ত হতে পারে এবং অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হবে।
২৯.
ক একটি বিনিময় বিলে এই উদ্দেশ্যে তার নিজ নাম স্বাক্ষর করে যে, এটি একই নামের অন্য কোনো ব্যক্তি ড্র করেছে বলে বিশ্বাস করা হয়। ক এর অপরাধ -
  1. অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গ
  2. প্রতারণা
  3. জালিয়াতি
  4. সবকটি
ব্যাখ্যা
♦দণ্ডবিধি ৪৬৪ ধারা অনুযায়ী যে সব কাজ জালিয়াতি বলে গণ্য হবে তা হলো-
(i) কোন ব্যক্তি নিজে যদি এই উদ্দেশ্যে স্বাক্ষর করে যে, তার স্বাক্ষর বা নামটি একই নামের অন্য কোন ব্যক্তির বলে চালিয়ে দেবেন;
(ii) যখন কোন ব্যক্তি অন্য কারো স্বাক্ষর জালিয়াতি করে স্বাক্ষর করে;
(iii) যদি কোন ব্যক্তি কোন বিলে পৃষ্ঠাঙ্কন করে এই উদ্দেশ্যে যে, তা অন্য কেউ করেছে বলে চালিয়ে দেবেন:
(iv) যদি কোন ব্যক্তি অন্য কোন ব্যক্তির সাথে ষড়যন্ত্র করে তার নামে কোন সম্পত্তি নামমাত্র মূল্যে ইজারা নেয় কিন্তু তার উদ্দেশ্য ছিল মূলত তৃতীয় কোন ব্যক্তিকে তার অধিকার থেকে বঞ্চিত করা; অথবা
(v) যদি কোন ব্যক্তি নিজেকে দেউলিয়া ঘোষণা করার উদ্দেশ্যে অন্য কোন ব্যক্তির কাছে সম্পদ গচ্ছিত রাখে এবং সে উদ্দেশ্য কোন প্রমিসরি নোট তৈরি করে।
♦কোন ব্যক্তির নিজের নাম স্বাক্ষরও জালিয়াতির সামিল হতে পারে। নিজের নামে স্বাক্ষর করলেই জালিয়াতি হবে বিষয়টা এমন নয়। বরং নিজের নাম স্বাক্ষর জালিয়াতি হতে পারে যদি স্বাক্ষরটা দ্বারা কোন মিথ্যা দলিল। তৈরী করা হয় কোন অধিকার দাবী করতে, কোন ব্যক্তিকে ক্ষতি করতে বা প্রতারণা করতে ইত্যাদি। যেহেতু A একটি বিনিময় বিলে এই উদ্দেশ্যে তার নিজ নাম স্বাক্ষর করে যে, এটি একই নামের অন্য কোনো ব্যক্তি ড্র (Draw) করেছে বলে বিশ্বাস করা হয়, সেহেতু জালিয়াতি করেছে বলে গণ্য হবে। [দণ্ডবিধি, ধারা ৪৬৪ এর ব্যাখ্যা ১ এর মাঝে তা উল্লেখ আছে।]
৩০.
খুন বলে গণ্য হওয়া দণ্ডনীয় নরহত্যা এবং খুন বলে গন্য না হওয়া দণ্ডনীয় নরহত্যার মধ্যে মূখ্য পার্থক্যকারী উপাদান কোনটি?
  1. খুনের অভিপ্রায়
  2. আঘাতের গুরুতর প্রকৃতি
  3. ব্যবহৃত অস্ত্রের গুরুতর প্রকৃতি
  4. যে পরিস্থিতিতে অপরাধ সংঘটিত হয়েছে
ব্যাখ্যা
♦খুন বলে গন্য হওয়া দণ্ডনীয় নরহত্যা এবং খুন বলে গন্য না হওয়া দণ্ডনীয় নরহত্যার মধ্যে মূখ্য পার্থক্যকারী উপাদান হলো ৩০০ ধারায় উল্লেখিত ৫টি ব্যতিক্রম পরিস্থিতি।
♦দণ্ডবিধি এর ৩০০ ধারায় উল্লিখিত খুনের সংজ্ঞায় ৫ টি ব্যতিক্রম আছে। যথা -
১. মারাত্মক বা আকস্মিক প্ররোচনায় সংযম হারাইয়া প্ররোচনাকারীকে বা ভুলক্রমে বা দূর্ঘটনাক্রমে অন্য ব্যক্তির মৃত্যু ঘটায়।
২. অপরাধী সরলমনে আত্মরক্ষার বা সম্পত্তি রক্ষায় কোনোরূপ পরিকল্পনা ব্যতীত মৃত্যু ঘটায়।
৩. অপরাধকারী সরকারি কর্মচারী হিসেবে বা কর্মচারীর সাহায্যকারী হিসেবে দায়িত্ব সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনে আইনানুগ বলিয়া সরল মনে কর্তব্য পালন করতে যেয়ে মৃত্যু ঘটালে।
৪. পরিকল্পনা ব্যতীত আকস্মিক বিবাদের সময় উত্তেজনায় মৃত্যু ঘটলে।
৫. ১৮ বছরের ঊর্ধ্বে স্বীয় সম্মতিতে মৃত্যু ঘটলে।
♦অর্থাৎ খুন বলে গণ্য হওয়া দণ্ডনীয় নরহত্যা এবং খুন বলে গন্য না হওয়া দণ্ডনীয় নরহত্যার মধ্যে মূখ্য পার্থক্যকারী উপাদান হল যে পরিস্থিতিতে অপরাধ সংঘটিত হয়েছে।
৩১.
যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে আসামী কর্তৃক ‍খুনের উদ্যোগে আঘাত করা হলে সর্বোচ্চ শাস্তি কী?
  1. ২০ বছররের কারাদণ্ড
  2. যাবজ্জীবন কারাদণ্ড
  3. মৃত্যুদণ্ড
  4. ২৫ বছরের কারাদণ্ড
ব্যাখ্যা
♦দণ্ডবিধির ৩০৭ ধারা অনুযায়ী খুনের উদ্যোগ বা চেষ্টা | Attempt to murder। শাস্তিযোগ্য অপরাধ। ৩০৭ ধারা অনুসারে খুনের উদ্যোগের শাস্তি অর্থদণ্ডসহ যেকোনো বর্ণনার ১০ বৎসর কারাদণ্ড। কিন্তু খুনের উদ্যোগের কার্যের ফলে যদি জখম হয়, তাহলে অপরাধী যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে বা অর্থদণ্ডসহ যেকোনো বর্ণনার ১০ বৎসর পর্যন্ত কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে।
♦অন্যদিকে যাবজ্জীবন কারাদন্ডে দন্ডিত ব্যক্তি খুনের উদ্যোগ গ্রহণ করলে এবং উক্ত কার্যের ফলে কোন ব্যক্তি আহত হলে অপরাধী মৃত্যুদন্ডে দন্ডিত হবে।
♦অর্থাৎ, যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত ব্যক্তি আঘাত দিয়ে খুনের চেষ্টা করলে তাকে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করা যাবে।
৩২.
কোনো quick with child নারীর জীবন বাঁচানোর উদেশ্য ব্যতীত সদবিশ্বাস ছাড়া ইচ্ছাকৃতভাবে তার গর্ভপাত করার সর্বোচ্চ শাস্তি কত বছরের কারাদণ্ড?
ব্যাখ্যা
♦দণ্ডবিধির ৩০৭ ধারা মতে যেক্ষেত্রে নারী সন্তানের বিচলন [quick with child] অনুভব করে এবং সেই ক্ষেত্রে নারীর জীবন বাঁচানোর উদ্দেশ্য ব্যতীত সদবিশ্বাস ছাড়া ইচ্ছাকৃতভাবে তার গর্ভপাত করা হলে, শান্তি হতে পারে- অর্থদণ্ডসহ ৭ বৎসর পর্যন্ত যেকোন বর্ণনার কারাদণ্ড।
৩৩.
X , Y কে একটি ঘরে যেতে বাধ্য করত, সেখানে তালাবদ্ধ করে রাখে। X কী অপরাধ করেছে?
  1. অবৈধ বাধা
  2. অবৈধ অবরোধ
  3. অপহরণ
  4. বলর্পূবক বাধা
ব্যাখ্যা
♦দণ্ডবিধির ধারা ৩৪০ অনুযায়ী, যদি কোন ব্যক্তিকে আইনের বিধানের বিরুদ্ধে অথবা কোন আদালতের আদেশ ছাড়াই অবৈধভাবে আটক করা হয়, তাহলে সেটি অবৈধ আটক হিসেবে গণ্য হবে।
♦অবৈধ অবরোধ বা অবৈধ আটক একই বিষয়। যেহেতু ঘরটি চারপাশ বেষ্টিত তাই উক্ত ঘরের বাইরে যেতে Y বাধাগ্রস্থ হয়। সুতরাং X, Y-কে অন্যায়ভাবে/বেআইনীভাবে আটক বা অবরোধ [wrongful confinement] করেছে বলে গণ্য হবে।
৩৪.
সর্বনিম্ন কতজন ব্যক্তির অংশগ্রহণে দস্যুতা সংঘটিত হতে পারে?
ব্যাখ্যা
♦দণ্ডবিধির ৩৯০ ধারা অনুযায়ী চুরি করার উদ্দেশ্যে বা বলপূর্বক গ্রহণের সময় কোন ব্যক্তির মৃত্যু ঘটালে, আঘাত দান করলে বা আটক করে রাখলে অথবা মৃত্যু, আঘাত বা অবৈধ বাধার তাৎক্ষণিক ভয় (instant fear) দেখানো হলে তখন তা দস্যুতা বা Robbery বলে গণ্য হবে।
♦দস্যুতাকে হিংস্রতম চুরি বা হিংস্রতম বলপ্রয়োগ গ্রহণ বলা হয়। কেননা প্রত্যেক দস্যুতার অপরাধের মধ্যে চুরি বা বলপূর্বক গ্রহণ থাকতে হবে।
♦দস্যুতার মধ্যে নিম্নলিখিত উপাদান বিদ্যমান-
i)এক বা একাধিক ব্যক্তি তবে ৫ জনের কম যৌথভাবে অপরাধটি সংঘটিত করেছিল;
ii) আঘাতের ভয় বা মৃত্যুভয় দেখিয়ে বা অবৈধ আটকের ভয় দেখিয়েছিল;
iii) অসাধুভাবে সম্পত্তিটি প্রদানে বাধ্য করেছিল; এবং
iv) প্রত্যেক দস্যুতার অপরাধের মধ্যে চুরি বা বলপূর্বক গ্রহণ থাকতে হবে।
দস্যুতার সর্বনিম্ন সদস্য ১ জন এবং সর্বোচ্চ সদস্য ৪ জন। অন্যদিকে ডাকাতির সর্বনিম্ন সদস্য ৫ জন। দস্যুতার সদস্য যদি ৫ বা ততোধিক হয় তখন দস্যুতা ডাকাতিতে পরিণত হয়।
৩৫.
The Penal Code, 1860 এর কত ধারায় বিচারিক কার্যধারায় নিযুক্ত কোনো সরকারি কর্মচারিকে ইচ্ছাকৃত অবজ্ঞা বা বাধাগ্রস্থ করার শাস্তির বিষয়ে বলা হয়েছে?
  1. ২২৮
  2. ২২৭
  3. ২২৫
  4. ২২৪
ব্যাখ্যা
দণ্ডবিধির ২২৮ ধারার বিধান হল বিচার বিষয়ক কার্যক্রমের কোন পর্যায়ে বিচারকের আসন গ্রহণকারী কোন সরকারী কর্মচারীকে ইচ্ছাকৃতভাবে অপমান করা বা তাহার কার্যে বাধা দেওয়ার শাস্তিঃ কোন সরকারী কর্মচারী কোন বিচার বিভাগীয় কার্যক্রমের যেকোন পর্যায়ে নিয়ত থাকাকালে কোন ব্যক্তি যদি ইচ্ছাকৃতভাবে তাকে অপমান করে বা তার কাজে বাধা প্রদান করে, তবে সে ব্যক্তি ছয় মাস পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের বিনাশ্রম কারাদণ্ডে অথবা এক হাজার টাকা পর্যন্ত যেকোন পরিমাণ অর্থ দণ্ডে, অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।
৩৬.
নিচের কোনটি অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গের উপাদান নয়?
  1. সম্পত্তি অর্পণ
  2. সম্পত্তি প্রতারণামূলকভাবে আত্মসাৎকরণ
  3. সম্পত্তি অসাধুভাবে আত্মসাৎকরণ
  4. আইনের নির্দেশনা লঙ্ঘন বা আইনানুগ চুক্তি ভঙ্গ
ব্যাখ্যা
♦দণ্ডবিধির ৪০৫ ধারায় অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গকে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে। ৪০৫ ধারা অনুসারে অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গের ক্ষেত্রে, অভিযুক্তকে বিশ্বাসভরে সম্পত্তি অর্পণ থাকতে হবে এবং অতপর তিনি আইনের নির্দেশনা লংঘন করে বা যে চুক্তি অনুসারে তাকে সম্পত্তি অর্পণ করা হয়েছিল সেই চুক্তিভঙ্গ করে সম্পত্তিটি অসাধুভাবে আত্মসাৎ করেছে বা নিজ ব্যবহারে পরিণত করেছে, সেই ক্ষেত্রে এটা অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গ হতে পারে।
♦সুতরাং সম্পত্তি প্রতারণামূলক আত্মসাৎকরণ অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গের উপাদান না।  বিশ্বাসভঙ্গের ক্ষেত্রে অসাধুভাবে আত্মসাৎকরণ Idishonest misappropriation] থাকতে হবে, প্রতারণামূলকভাবে আত্মসাৎকরণ [misappropriation by cheating) থাকার প্রয়োজন নেই।

♦অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গের শর্ত/ উপাদান:
•বিশ্বাসের ভারপ্রাপ্ত হয়ে বা আধিপত্যের মাধ্যমে
•কারো স্থাবর বা অস্থাবর সম্পত্তি
•অসাধুভাবে
•আত্মসাৎ, নিজের ব্যবহারে পরিণত বা হস্তান্তর করলে বা কাউকে এরূপ করার অনুমতি দান করলে।
৩৭.
A, B এর পকেট মারার উদ্দেশ্যে তার পকেটে হাত দেয়। কিন্তু B এর পকেট শূণ্য থাকায় A পকেট মারতে পারেনি। A শাস্তি হতে পারে অপরাধের সর্বোচ্চ সাজার মেয়াদের -
  1. অর্ধেক
  2. এক চতুর্থাংশ
  3. এক তৃতীয়াংশ
  4. এক পঞ্চমাংশ
ব্যাখ্যা
♦৫১১ ধারা অনুসারে যে ব্যক্তি যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে বা কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় অপরাধসমূহ সংঘটনের উদ্যোগ গ্রহণ করে বা সেটা অনুযায়ী কোন কাজ করে এবং অনুরূপ উদ্যোগের শাস্তির ব্যাপারে দণ্ডবিধিতে কোন স্পষ্ট বিধান না থাকলে উক্ত অপরাধের জন্য নির্ধারিত যেকোন বর্ণনার কারাদণ্ডে যার মেয়াদ উক্ত অপরাধের জন্য ব্যবস্থিত কারাদণ্ডের দীর্ঘতম মেয়াদের অর্ধেক মেয়াদ পর্যন্ত বা অর্থদণ্ডে বা উভয় প্রকার হতে পারে।
A, B এর পকেট মারার উদ্দেশ্যে তার পকেটে হাত দেয়। কিন্তু B এর পকেট শূন্য থাকায় A পকেট মারতে ব্যর্থ হয়। এটা মূলত চুরির উদ্যোগ। দণ্ডবিধিতে চুরির শাস্তি ৩৭৯ ধারায় উল্লেখ আছে। কিন্তু চুরির উদ্যোগ যেমন পকেট মারার উদ্যোগ গ্রহণের কোন শাস্তির বিধান দণ্ডবিধিতে নেই। সেহেতু A এর শান্তি নির্ধারিত হবে ৫১১ ধারা অনুসারে এবং ৫১১ ধারা অনুসারে, ৩৭৯ ধারায় চুরির জন্য নির্ধারিত সর্বোচ্চ কারাবাসের অর্ধেক দণ্ডে A দণ্ডিত হতে পারে।
৩৮.
The Penal Code, 1860 এর কত ধারায় 'Defamation' সংজ্ঞায়িত হয়েছে?
  1. ৪৯৮
  2. ৪৯৯
  3. ৫০০
  4. ৫০১
ব্যাখ্যা
♦The Penal Code, 1860 এর ৪৯৯ ধারায় মানহানি (Defamation) সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে: কোন ব্যক্তি যদি অন্য কোন ব্যক্তির খ্যাতি বা সুনাম নষ্ট করার উদ্দেশ্যে বা তার খ্যাতি বা সুনাম নষ্ট হবে বলে জানা সত্ত্বেও বা তার বিশ্বাস করার কারণ থাকা সত্ত্বেও কথিত বা পঠিত হওয়ার উদ্দেশ্যে কথা বা চিহ্ন বা দৃশ্যমান চিত্রের সাহায্যে সে ব্যক্তি সম্পর্কে কোন নিন্দা প্রকাশ করে, তবে নিম্নে নির্দেশিত ব্যতিক্রমসমূহ ছাড়া অন্যান্য ক্ষেত্রে, সে ব্যক্তি উক্ত অন্য ব্যক্তির মানহানি করে বলে গণ্য হয়।
৩৯.
The Penal Code, 1860 এর ৩২০ ধারা অনুসারে কত শ্রেণির আঘাতকে গুরুতর আঘাত বলা হয়েছে?
ব্যাখ্যা
♦The Penal Code, 1860 এর ৩২০ ধারা অনুযায়ী ৮ শ্রেণির আঘাতকে গুরুতর আঘাত বলা হয়েছে। যথা:
(i) পুরুষত্বহীনকরণ
(ii) স্থায়ীভাবে চোখের দৃষ্টি রহিতকরণ
(iii) স্থায়ীভাবে কানের শ্রুতিশক্তি রহিতকরণ
(iv) যে কোন অঙ্গ বা গ্রন্থির অনিষ্ট সাধন
(v) যে কোন অঙ্গ বা গ্রন্থির স্থায়ী ক্ষতিকরণ
(vi) মাথা বা মুখমন্ডলের স্থায়ী বিকৃতি
(vii) হাড় বা দাঁত ভাঙ্গা
(viii) কোন ব্যক্তিকে ২০ পর্যন্ত তীব্র যন্ত্রণা দেয় এমন আঘাত।
৪০.
The Penal Code, 1860 অনুযায়ী নিচের কোনটি গুরুতর আঘাত?
  1. পায়ে ১ ইঞ্চি পরিমাণ কাটার আঘাত
  2. বাহুতে আঘাত
  3. ঘাড়ে ১.৫ ইঞ্চি পরিমাণ আঘাত
  4. বাম কর্ণের শ্রবণশক্তি স্থায়ীভাবে রহিতকরণ
ব্যাখ্যা
♦দণ্ডবিধির ৩২০ ধারায় ৮ শ্রেণীর জখমকে গুরুতর জখম' হিসাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
৮ শ্রেণির গুরুতর আঘাত হল। যথা:
(i) পুরুষত্বহীনকরণ 
(ii) স্থায়ীভাবে চোখের দৃষ্টি রহিতকরণ 
(iii) স্থায়ীভাবে কানের শ্রুতিশক্তি রহিতকরণ 
(iv) যে কোন অঙ্গ বা গ্রন্থির অনিষ্ট সাধন 
(v) যে কোন অঙ্গ বা গ্রন্থির স্থায়ী ক্ষতিকরণ 
(vi) মাথা বা মুখমন্ডলের স্থায়ী বিকৃতি 
(vii) হাড় বা দাঁত ভাঙ্গা 
(viii) কোন ব্যক্তিকে ২০ পর্যন্ত তীব্র যন্ত্রণা দেয় এমন আঘথা
♦অর্থাৎ স্থায়ীভাবে কানের শ্রবণশক্তি রহিতকরণ ৩২০ ধারা অনুসারে গুরুতর আঘাত।
৪১.
The Evidence Act, 1872 এ Admission সম্পর্কে বলা হয়েছে ______ধারায়?
  1. ১৭ থেকে ৩২
  2. ১৭ থেকে ৩১
  3. ১৭ থেকে ৩৩
  4. ১৬ থেকে ৩১
ব্যাখ্যা
♦সাক্ষ্য আইনের ১৭ ধারায় স্বীকৃতির সংজ্ঞা রয়েছে। সাক্ষ্য আইনের ১৭ ধারামতে মৌখিক বা লিখিত বিবৃতি যা মামলার বিচার্য বিষয় বা প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে কোন সিদ্ধান্তের সূচনা করে,তাকে স্বীকৃতি বা admission বলে। সাক্ষ্য আইনের ১৭ থেকে ৩১ ধারা এবং দেওয়ানি কার্যবিধির ১২ নং আদেশে স্বীকৃতি সংক্রান্ত বিভিন্ন বিধান রয়েছে।
♦স্বীকৃতির প্রকারভেদ- স্বীকৃতি সাধারনত ২ প্রকার। যথা-
i) মৌখিক স্বীকৃতি (oral admission); এবং
ii) লিখিত স্বীকৃতি (written admission)।
৪২.
The Evidence Act, 1872 এর ২৪ ধারা অনুযায়ী The Penal Code, 1860 'Confession' caused by ________ is irrelevant in criminal proceeding.
  1. Inducement
  2. Threat
  3. Promise
  4. সবগুলো সঠিক
ব্যাখ্যা
♦সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২ ধারা ২৪ অনুযায়ী অভিযুক্ত কর্তৃক প্রদত্ত অপরাধমূলক স্বীকারোক্তি ফৌজদারী কার্যধারায় অপ্রাসঙ্গিক, যদি আদালতের নিকট মন হয় যে, অপরাধমূলক স্বীকারোক্তি প্ররোচনা [inducement], হুমকি [threat] বা প্রতিশ্রুতি [promise] দ্বারা গ্রহণ করা হয়েছে।
৪৩.
নিম্নের কোনটি 'Judicial Notice' এর বিষয় নয়?
  1. রোহিঙ্গা বিষয়ে বাংলাদেশ-মায়ানমার বিরোধ
  2. বাংলাদেশের সীমানা
  3. সনদপ্রাপ্ত সকল আইনজীবীর নাম
  4. ইসরাইলের জাতীয় প্রতাকা
ব্যাখ্যা
♦সাক্ষ্য আইনের ৫৭ ধারায় বলা হয়েছে আদালত কোন কোন বিষয় অবশ্যই বিচারিক দৃষ্টিগোচরে (জুডিশিয়াল নোটিশ) নিবেন।
৫৭ ধারা অনুযায়ী আদালত নিম্নলিখিত বিষয়ে অবশ্যই জুডিশিয়াল নোটিশ নিবেন-
i) বাংলাদেশের সকল আইন;
ii) সশস্ত্র বাহিনীর জন্য প্রনীত যুদ্ধবিধি বা অস্ত্র ও রসদ (articles of war);
iii) সংসদের কার্যসমূহঃ
iv) বাংলাদেশের আদালত, নৌ ও সামুদ্রিক এখতিয়ার সম্পন্ন আদালত এবং নোটারি পাবলিকের সীলমোহর;
v) সরকারি পদে নিয়োগের গেজেটে উল্লেখিত নাম, পদ, স্বাক্ষর, যোগদানের সময়;
vi) বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক স্বীকৃত রাষ্ট্র, রাষ্ট্রপ্রধান, জাতীয় পতাকা
vii) সময় ও ভৌগলিক বিভাগসমুহ, রোজা, ছুটির দিন সমুহ;
viii) বাংলাদেশের ভৌগলিক সীমানা;
ix) আদালতের সদস্যবৃন্দ ও এ্যাডভোকেটগন;
x) বাংলাদেশের সাথে অপর কোন রাষ্ট্র বা সংগঠনের বিরোধ:
xi) স্থল, জল ও সমুদ্রপথের নিয়মাবলী।
[বিশেষ নোট- সাক্ষ্য আইনের ৫৭ ধারায় জুডিশিয়াল নোটিশের অন্তর্গত ১১টি বিষয়ের তালিকা রয়েছে; কিন্তু এই তালিক স্বয়ং সম্পূর্ন নয়।]
♦ব্যাখ্যা : বাংলাদেশের সাথে অপর রাষ্ট্র বা সংগঠনের বিরোধ আরম্ভ হওয়া, চলতে থাকা ও অবসান হওয়া আদালত বিচারিক দৃষ্টিগোচরে নিতে বাধ্য। যেহেতু রোহিঙ্গা নিয়ে বাংলাদেশের সাথে মায়ানমারের বিরোধ শুরু হয়েছে এবং চলমান আছে সেহেতু এটা বিচারিক দৃষ্টিগোচরের বিষয়। বাংলাদেশের সীমানা এবং আইন অনুসারে আদালতে উপস্থিত হয়ে মোকদ্দমা পরিচালনায় ক্ষমতাপ্রাপ্ত সকল অ্যাডভোকেটের নামও বিচারিক দৃষ্টিগোচরের বিষয়। সুতরাং ক, খ এবং গ উত্তর হবে না কারণ প্রশ্নে জানতে চাওয়া হয়েছে কোনটি বিচারিক দৃষ্টিগোচরের বিষয় না। সরকার কর্তৃক স্বীকৃত প্রত্যেক রাষ্ট্র বা সার্বভৌম বা রাজা বা রাণীর অস্তিত্ব, উপাধি ও জাতীয় পতাকা আদালত বিচারিক দৃষ্টিগোচরে নিবে। যেহেতু ইসরাইলকে বাংলাদেশ স্বীকৃতি দেয়নি এবং ইসরাইলের পতাকাও বাংলাদেশ স্বীকৃতি দেয়নি, সেহেতু এটা বিচারিক দৃষ্টিগোচরের বিষয় না। সুতরাং সঠিক উত্তর (ঘ)।
৪৪.
নিম্নের কোন বিষটি Shall presume এর অন্তর্ভুক্ত?
  1. Document of power of Attorney
  2. Foreign judicial record
  3. Telagraphic message
  4. 30 years old document
ব্যাখ্যা
♦সাক্ষ্য আইনের ৮৬ ধারায় বিদেশী বিচারিক রেকর্ড, ৮৮ ধারায় তারবার্তা এবং ৯০ ধারায় ৩০ বৎসরের পুরাতন দলিল সম্পর্কে অনুমানের ক্ষেত্রে 'may presume' শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছে। অর্থাৎ এই ক্ষেত্রে আদালত অনুমান করতে পারে আবার নাও পারে। কিন্তু ৮৫ ধারায় পাওয়ার অব অ্যাটর্নি দলিলের ক্ষেত্রে 'Shall Presume' শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছে। অর্থাৎ আদালত এই ক্ষেত্রে অনুমান করতে বাধ্য।
৪৫.
A আদালতকে বিশ্বাস করাতে চায় যে, B চুরির কথা C এর নিকট স্বীকার করেছে। এক্ষেত্রে প্রমাণের দায়____এর।
  1. A
  2. B
  3. C
  4. রাষ্ট্র
ব্যাখ্যা
♦প্রমাণের দায়ভার বা প্রমাণের দায়িত্ব (Burden of proof) - দেওয়ানি ও ফৌজদারি উভয় মামলার ক্ষেত্রেই প্রমাণের দায়ভার বা প্রমাণের দায়িত্ব শব্দদ্বয় বিশেষ তাৎপর্য এবং পক্ষগণের আইনগত অধিকার বহন করে। সাধারণ অর্থে প্রমাণের দায়ভার অর্থ হলো প্রমাণ দাখিলের দায় বা দায়িত্ব। প্রমাণের দায়ভার অর্থ হলো মোকদ্দমার কোনো পক্ষ কর্তৃক আদালতের বিচার্য বিষয় সংশ্লিষ্ট তথ্য বা তথ্যাবলি প্রমাণ করার দায়িত্ব। সুতরাং প্রমাণের দায়ভার (Burden of proof) কথাটির অর্থ হল মামলার সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়াবলীর অস্তিত্ব সাক্ষ্যের দ্বারা আদালতের সন্তুষ্টি অনুযায়ী প্রমাণ করে মামলাকে প্রতিষ্ঠিত করার দায়িত্ব।
♦সাক্ষ্য আইনের ১০১ ধারা থেকে ১১৪ ধারা পর্যন্ত প্রমাণের দায়ভার বা প্রমাণের দায়িত্ব (Burden of proof) সম্পর্কে বলা হয়েছে।
কোন ব্যক্তি যখন কোন বিষয়ের অস্তিত্ব প্রমাণ করতে বাধ্য থাকেন, তখন বলা হয় যে, বিষয়টি প্রমাণ করার দায়িত্ব সেই ব্যক্তির উপর ন্যস্ত। তবে এর ব্যতিক্রম আছে, যেমন- যে বিষয় বিরূদ্ধ পক্ষের ভাল জানা আছে তা প্রমাণ করার প্রয়োজন নেই ।
♦সাক্ষ্য আইন, ধারা ১০৩ অনুসারে B চুরির কথা C এর নিকট স্বীকার করেছে। স্বীকারোক্তির বিষয়টি যেহেতু A দাবী করেছে সেহেতু স্বীকারোক্তির বিষয়টি A অবগত। সুতরাং স্বীকারোক্তি প্রমাণের ভার A এর উপর বর্তাবে।
৪৬.
The Evidence Act, 1872 অনুযায়ী কে সাক্ষ্য প্রদানের জন্য উপযুক্ত নয়?
  1. বোবা
  2. অল্পবয়স্ক বুদ্ধিমান বালক
  3. বার্ধক্যের কারণে প্রশ্ন বুঝতে অক্ষম
  4. এমন বিকৃত মস্তিষ্ক ব্যক্তি যিনি প্রশ্ন বুঝতে ও উত্তর দানে সক্ষম।
ব্যাখ্যা
♦The Evidence Act, 1872 এর ১১৮ ধারা অনুসারে, কোন ব্যক্তি সাক্ষ্য দানে যোগ্য কিনা সেটা নির্ভর করে, তার নিকট জিজ্ঞাসিত প্রশ্নের যুক্তিযুক্ত উত্তর প্রদানে সে সক্ষম কিনা, বিকৃত মস্তিক ব্যক্তি যিনি প্রশ্ন বুঝতে ও উত্তর দানে সক্ষম অল্প বয়স্ক বুদ্ধিমান বালক সাক্ষ্য প্রদানে উপযুক্ত এবং বোবা ব্যক্তি ১১৯ ধারা অনুসারে সাক্ষ্য দানে যোগ্য। । বার্ধক্যের কারণে প্রশ্ন বুঝতে অক্ষম ব্যক্তি সাক্ষ্য প্রদানের উপযুক্ত না। কিন্তু কোন ব্যক্তি বয়স্ক হওয়ার পরও যদি তার জিজ্ঞাসিত প্রশ্নের যুক্তিযুক্ত উত্তর প্রদানে সক্ষম হয়, তাহলে সেও সাক্ষ্য প্রদানে উপযুক্ত।
♦অর্থাৎ বার্ধক্যের কারণে প্রশ্ন বুঝতে অক্ষম ব্যক্তি  সাক্ষ্য প্রদানের জন্য উপযুক্ত নয়।
৪৭.
কোন বিষয়ে আদালত ইঙ্গিতবাহী প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করার অনুমতি দিতে পারে-
  1. undisputed
  2. documentary evidence
  3. controversial
  4. oral evidence
ব্যাখ্যা
♦সাক্ষ্য আইনের ১৪২ ধারা অনুযায়ী সাধারণত জবানবন্দী বা পুনঃজবানবন্দীতে নির্দেশক প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করা যায় না, বিরুদ্ধ পক্ষ আপত্তি না তুললে অথবা আদালতের অনুমতি নিয়ে জবানবন্দী বা পুনঃজবানবন্দীতেও ইঙ্গিতবাহী প্রশ্ন জিজ্ঞেস করা যায়।
কখন নির্দেশক বা ইঙ্গিতবাহী প্রশ্ন [Leading qustion] জিজ্ঞেস করা যায়:
i) ভূমিকামূলক বিষয়ে (introductory matters);
ii) অবিতর্কিত বা স্বীকৃত বিষয়ে (undisputed matters);
iii) যথেষ্টমানে প্রমানিত বিষয়ে (matters that have been sufficiently proved); এবং
iv) নির্দিষ্ট পরিচয় দানকারী, বৈসাদৃশ্যমূলক,স্মৃতিচারনমূলক বিষয়ে Leading qustion করা যায়।
৪৮.
ইঙ্গিতবাহী প্রশ্ন করা যায়_______এর ক্ষেত্রে-
  1. examination-in-chief
  2. re-examination
  3. cross-examination
  4. সবগুলো
ব্যাখ্যা
♦প্রশ্নকারী প্রশ্নের যে উত্তর আশা বা ইচ্ছা করে প্রশ্নের মধ্যে তার ইঙ্গিত থাকলে, সেই প্রশ্নকে ইঙ্গিতবাহী প্রশ্ন বলে। সাক্ষ্য আইনের ১৪৩ ধারায় বলা হয়েছে, জেরায় ইঙ্গিতবাহী প্রশ্ন করা যেতে পারে leading questions may be asked in cross-examination.
৪৯.
The Evidence Act, 1872 এর ১৪৬ ধারার বিধান মতে জেরায় কোন ধরনের প্রশ্নের মাধ্যমে সাক্ষীর বিশ্বাসযোগ্যতা বিনষ্ট করা যায়?
  1. অশালীন
  2. কুৎসাজনক
  3. বিভ্রান্তিকর
  4. চরিত্র আঘাত করে এমন
ব্যাখ্যা
♦সাক্ষ্য আইনের ১৪৬ ধারা অনুসারে, চরিত্রে আঘাত করে সাক্ষীর বিশ্বাসযোগ্যতা সম্পর্কে দূর্বলতা সৃষ্টি করার জন্য বা সাক্ষীর বিশ্বাসযোগ্যতা বিনষ্ট করার জন্য জেরায় প্রশ্ন করা বৈধ।
♦সাক্ষ্য আইন (সংশোধন), ২০২২ এর ১৪৬ ধারা অনুযায়ী জেরায় তিন ধরনের প্রশ্ন করা বৈধ। যে সকল প্রশ্ন যা দ্বারা সাক্ষীর
(i)  সত্যবাদিতা পরীক্ষা করা যায়
(ii)  তার পরিচয় মর্যাদা জানা যায়
(iii) তার চরিত্র আঘাত করে বিশ্বাতযোগ্যতা সম্পর্কে দুর্বলতা সৃষ্টি করা যায
♦তবে শর্ত থাকে যে, ধর্ষণের অপরাধ বা ধর্ষণের চেষ্টার জন্য একটি মামলায় ক্লজ(৩) এর অধীন ভিকটিমের সাধারণ অনৈতিক চরিত্র বা পূর্ববর্তী যৌন আচরণ সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদে কোন প্রশ্ন উত্থাপন করা যাবে না।
৫০.
নিম্নের কোন ক্ষেত্রে সাক্ষী উত্তর প্রদানে বাধ্য?
  1. মামলা সংশ্লিষ্ট বিষয়ে প্রশ্ন করলে
  2. সাক্ষীর পরিচয় আবিষ্কার করার উদ্দেশ্যে উপস্থাপিত প্রশ্ন
  3. সাক্ষীকে কোন অপরাধের সাথে জড়িত করতে পারে এমন মামলা সংশ্লিষ্ট বিষয়ে
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
♦১৪৬ ধারায় উল্লেখিত জেরায় যে সকল প্রশ্ন করা আইনসম্মত হয়, উক্তরূপ কোন প্রশ্ন যদি এমন বিষয় সম্পর্কিত হয়, যা সংশ্লিষ্ট মোকদ্দমা বা কার্যক্রমের সাথে প্রাসঙ্গিক, তবে সেক্ষেত্রে ১৩২ ধারার বিধান প্রযোজ্য হবে।
♦কারণ ১৩২ ধারায় বিধান করা হয়েছে, জেরায় যে সকল প্রশ্ন করা আইনসম্মত এরূপ প্রশ্নের উত্তর সাক্ষীকে কোন অপরাধের সাথে জড়িত করবে এই অজুহাতে উত্তর দান করা হতে সাক্ষীকে অব্যাহতি দেওয়া যায় না। অর্থাৎ তিনি উত্তর দিতে বাধ্য থাকবে।
৫১.
The Evidence Act, 1872 এর কোন ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে বিচারক কোন সাক্ষীকে কোন প্রশ্ন করতে পারেন?
  1. ১৫১
  2. ১৫৭
  3. ১৬৫
  4. ১৬৭
ব্যাখ্যা
♦The Evidence Act, 1872 এর-১৬৫ ধারায়- বিচারক কর্তৃক প্রশ্ন জিজ্ঞেস করার বা কিছু দাখিল করার আদেশ প্রদানের ক্ষমতা- বিচারক প্রাসঙ্গিক ঘটনা উদঘাটন করার জন্য অথবা উপযুক্ত প্রমাণ সংগ্রহের জন্য যে কোন সাক্ষীকে যে কোন সময় যে কোন প্রশ্ন জিজ্ঞেস করতে পারবেন, অথবা প্রাসঙ্গিক বা অপ্রাসঙ্গিক ঘটনা সম্পর্কে পক্ষগণকে যে কোন প্রশ্ন জিজ্ঞেস করতে পারবেন এবং যে কোন দলিল বা বস্তু উপস্থাপন করার আদেশ দিতে পারবেন।
♦তবে শর্ত থাকে যে, এই আইন অনুসারে যে সকল ঘটনা প্রাসঙ্গিক ও যথারীতি প্রমাণিত বলে ঘোষিত হবে, তার ভিত্তিতেই মামলার রায় দান করতে হবে।
♦পক্ষগণ বা তাদের প্রতিনিধিগণ বিচারকের কোন প্রশ্ন বা আদেশ সম্পর্কে কোন আপত্তি করতে পারবে না। অনুরূপ কোন প্রশ্নের উত্তরে সাক্ষী যা বলবে ঐ সম্পর্কে আদালতের অনুমতি ব্যতীত সাক্ষীকে কোন জেরা করতেও পারবে না।
৫২.
বাংলাদেশে প্রচলিত সাক্ষ্য আইন অনুযায়ী কোনটি সরকারী দলিল নয়?
  1. শ্রীলংকার আইনসভার কার্য বিবরণী
  2. ইংল্যান্ডের আদালতের রায়
  3. বাংলাদেশের জাতীয় সংগ্রহশালার রেজিস্টার
  4. অংশীদারী চুক্তি
ব্যাখ্যা
♦The Evidence Act, 1872 এর ৭৪ ধারায় সরকারী দলিল (Public Document)- সরকারীভাবে রক্ষিত দলিলকে সরকারী দলিল বা Public document বলে। কোন সার্বভৌম কর্তৃপক্ষ যেমন-সংসদের আইন, সরকারি সংস্থা বা ট্রাইবুনাল সমূহের নথিপত্র অর্থাৎ দেশী বিদেশী আইন, বিচার বা শাসন বিভাগীয় কোন কর্মচারীর কার্যাবলির লিখিত বিবরণ ও নথিপত্রকে সরকারী দলিল বা Public Document বলে।
♦অন্যভাবে বলা যায়, সরকারী দলিল বলতে সেই সমস্ত দলিলকে বোঝায় যে সমস্ত দলিল কোন সার্বভৌম কর্তৃপক্ষের সরকারী প্রতিষ্ঠানে বা ট্রাইব্যুনালের এবং বাংলাদেশের কোন অংশের বা কমনওয়েলথের বা বিদেশে সরকারী অফিসার, আইন প্রণয়নকারী, বিচার বিভাগীয় বা শাসন বিভাগীয় কার্যাবলী বা কাজের লিপিবদ্ধ বিবরণকে অন্তর্ভুক্ত করে।
♦যেহেতু বিদেশী রাষ্ট্রের বা কমনওয়েলথয়ের বা বাংলাদেশের যেকোন অংশের আইনসভার, বিচার বিভাগের বা শাসন বিভাগের বা সরকারী কর্মকর্তার কার্য বা কার্যের রেকর্ড সরকারী দলিল, সেহেতু শ্রীলংকার আইনসভার কার্যবিবরণী এবং ইংল্যান্ডের আদালতের রায় এবং বাংলাদেশের জাতীয় সংগ্রহশালার রেজিস্টার হলো সরকারী দলিল। সুতরাং অংশীদারী চুক্তি সরকারী দলিল নয়।
৫৩.
'Cases in which statement of relevant fact by person who is dead or cannot be found, etc., is relevant'. বিধানটি The Evidence Act, 1872 এর কত ধারায় উল্লেখ আছে?
  1. ৩২
  2. ৩৩
  3. ৩৪
  4. ৩৫
ব্যাখ্যা
সাক্ষ্য আইনের ৩২ ধারা অনুসারে, ৪ শ্রেণীর ব্যক্তির সাক্ষ্য প্রাসঙ্গিক করা হয়েছে যথা ১) মৃত ব্যক্তি [Who is dead]; বা ২) খুঁজে পাওয়া যায় না এমন ব্যক্তি [Who cannot be found]; বা ৩) যে ব্যক্তি সাক্ষ্য দিতে অক্ষম হয়েছে [Who has become incapable of giving evidence]; বা ৪) অযৌক্তিক বিলম্ব বা বায় ছাড়া যে ব্যক্তিকে হাজির করা যায় না [Whose attendance cannot be procured without unreasonable delay and expense].
৫৪.
The Evidence Act, 1872 এর ৬০ ধারা অনুযায়ী Oral evidence must be _______
  1. direct
  2. indirect
  3. Circumstantial
  4. সবগুলো হতে পারবে।
ব্যাখ্যা
♦সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২ অনুসারে, মৌখিক সাক্ষ্য অবশ্যই প্রত্যক্ষ হতে হবে [Oral evidence must be direct]। অর্থাৎ যে বিষয় দেখা যায়, সেই বিষয়ে কোন সাক্ষ্য দিতে হলে সেই ব্যক্তি সাক্ষ্য দিতে পারবে যে বিষয়টি দেখেছে বলে দাবি করে।
৫৫.
'The Court may presume that evidence which could be and is not produced would, if produced, be unfavourable to the person who withholds it'. বিধানটি কত ধারায় উল্লেখ আছে?
  1. 114 (b)
  2. 114 (e)
  3. 114 (f)
  4. 114(g)
ব্যাখ্যা
♦সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২ এর ১১৪ ধারায় ৯টি ক্ষেত্রে আদালত কোন ঘটনার অস্তিত্ব অনুমান করতে পারবে। উল্লেখিত ক্ষেত্রগুলোর মধ্যে ১১৪ (ছ) [114 (g)] ধারায় বলা হয়েছে, যে সাক্ষ্য হাজির করা যেতো, কিন্তু হাজির করা হয় নাই, তা হাজির হলে যে লোক হাজির হতে দেয়নি, তার বিপক্ষে যেতো বলে আদালত অনুমান করতে পারে।
♦সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২ এর ১১৪ ধারায় বলা আছে, The court may presume the existence of any fact which it thinks likely to have happened, regard being had to the common course of natural events, human conduct and public and private business, in their relation to the facts of the particular case. 
The Court may presume – 
(a) that a man who is in possession of stolen goods soon after the theft, is either the thief or has received the goods knowing them to be stolen, unless he can account for his possession; া
(b) that an accomplice is unworthy of credit, unless he is corroborated in material particulars; 
(c) that a bill of exchange, accepted or endorsed, was accepted or endorsed for good consideration; 
(d) that a thing or state of things which has been shown to be in existence within a period shorter than that within which such things or states of things usually cease to exist, is still in existence; 
(e) that judicial and official acts have been regularly performed; 
(f) that the common course of business has been followed in particular cases; 
(g) that evidence which could be and is not produced would, if produced, be unfavourable to the person who withholds it
(h) that, if a man refuses to answer a question which he is not compelled to answer by law, the answer, if given, would be unfavourable to him; 
(i) that when a document creating an obligation is in the hands of the obligor, the obligation has been discharged. 
But the Court shall also have regard to such facts as the following, in considering whether such maxims do or do not apply to the particular case before it
৫৬.
The Specific Relief Act, 1877 এর ৫ ধারা মোতাবেক মোট কয় প্রকারের সুনির্দিষ্ট প্রতিকার প্রদান করা যায়?
ব্যাখ্যা
♦The Specific Relief Act, 1877 এর ৫ ধারা মোতাবেক মোট ৫ প্রকারের সুনির্দিষ্ট প্রতিকার প্রদান করা যায়।
♦আদালত ৫টি উপায়ে সুনির্দিষ্ট প্রতিকার মঞ্জুর করা হয়:
১) সম্পত্তির দখল গ্রহণ এবং তা দাবীদারকে অর্পণ।
২) যা করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে একটি পক্ষকে তেমন কাজ করার আদেশ।
৩) যা না করার বিষয়ে বাধ্যবাধকতা রয়েছে তেমন কাজ থেকে বিরত থাকার আদেশ।
৪) পক্ষ সমূহের অধিকার নির্ধারণ ও ঘোষণা
৫) একজন রিসিভার বা তত্ত্বাবধায়ক নিয়োগ।
৫৭.
The Specific Relief Act, 1877 এর ৯ ধারায় দখল পুনরুদ্ধারের জন্য মামলা দায়েরের সময়সীমা বেদখলের তারিখ থেকে -
  1. ১ বছর
  2. ৬ মাস
  3. ৩ মাস
  4. ৬০ দিন
ব্যাখ্যা
♦তামাদি আইন, ১৯০৮ এর ৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী The Specific Relief Act, 1877 এর ৯ ধারায় দখল পুনরুদ্ধারের জন্য মামলা দায়ের করতে হয় দখলচ্যুত হওয়ার তারিখ হতে ৬ মাসের মধ্যে।
৫৮.
The Specific Relief Act, ১1877 অনুযায়ী নিম্নের কোন ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞার দাবি করা যেতে পারে?
  1. বিবাদী কর্তৃক ক্রমাগত এমন লংঘন রোধ করার জন্য যেক্ষেত্রে বাদীর মৌন সম্মতি আছে
  2. যেক্ষেত্রে বিবাদী বাদীর পক্ষে সম্পত্তির জিম্মাদার এবং বাদীকে সম্পত্তি ভোগে বাধা দেয়
  3. কোন ফৌজদারিকার্যধারা স্থগিত রাখার জন্য
  4. সুনির্দিষ্ট কার্যকর করা যায়না এমন কোন চুক্তির শর্তভঙ্গ বন্ধ করার জন্য
ব্যাখ্যা
♦সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৫৬ ধারামতে নিম্নলিখিত ১১টি ক্ষেত্রে আদালত নিষেধাজ্ঞা মঞ্জুর করবে না। যথা-
i) বিচারাধীন কার্যধারা স্থগিত;
ii) অধীনস্ত নয় এরূপ আদালতের কার্যধারা স্থগিত;
iii) আইন প্রনয়নকারী সংস্থার নিকট আবেদনে বাধা;
iv) সরকারী দপ্তর বা বিদেশি সরকারের কার্যে হস্তক্ষেপ;
v) ফৌজদারি কার্যধারা স্থগিত;
vi) অবলবৎযোগ্য চুক্তিভঙ্গ নিরোধের প্রশ্নে
vii) উৎপাত (nuisance) নয় এমন কাজ নিরোধের জন্য;
viii) বাদীর মৌন সম্মতির প্রশ্নে;
ix) অন্য কোন পদ্ধতিতে একই প্রতিকারের ক্ষেত্রে;
x) বাদীর আচরন আদালতের সাহায্য পেতে বঞ্চিত করলে; অথবা
xi) মামলার বিষয়বস্তুতে বাদীর কোন স্বার্থ না থাকলে আদালত নিষেধাজ্ঞা মঞ্জুর করবে না।
♦৫৬ ধারামতে আদালত ১১ টি ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা মঞ্জুর করবে না।
♦সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৫৬ (viii) অনুসারে একটি ক্রমাগত লঙ্ঘন রোগ করার জন্য সেক্ষে বাদীর মৌন সম্মতি আছে ৫৬(v) অনুসারে কোন ফৌজদারী কার্যধারা স্থগিত করার জন্য এবং ৫৬ (vi) অনুসারে, যে চুক্তির কার্য সম্পাদন সুনির্দিষ্টভাবে বলবৎ করা যায় না, এরুপ কোন চুক্তিভঙ্গ নিরোধের উদ্দেশ্যে নিষেধাজ্ঞা মঞ্জুর করবে না।
♦অন্যদিকে ৫৪ (ক) ধারা অনুসারে, যেক্ষেত্রে বিবাদী বাদীর পক্ষে সম্পত্তির জিম্মাদার, সেই ক্ষেত্রে আদালত চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা মঞ্জুর করতে পারে।
৫৯.
The Specific Relief Act, 1877 অনুযায়ী নিম্নের কোন ক্ষেত্রে চুক্তি সুনির্দিষ্টভাবে বলবৎযোগ্য নয়?
  1. যেক্ষেত্রে আর্থিক ক্ষতিপূরণ পর্যাপ্ত প্রতিকার
  2. যেক্ষেত্রে শর্তাবলী পক্ষগণের ব্যক্তিগত যোগ্যতা বা সংকল্পের উপর নির্ভরশৌল
  3. যেক্ষেত্রে চুক্তি সম্পাদনে ক্রমাগত ৩ বছরের অধিক সময় প্রয়োজন
  4. উপরের সবগুলো সঠিক
ব্যাখ্যা
♦যে সকল চুক্তি সুনির্দিষ্টভাবে বলবৎযোগ্য না সেগুলো সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, ১৮৭৭ এর ২১ ধারায় বলা হয়েছে। ২১ ধারা অনুসারে, যেক্ষেত্রে আর্থিক ক্ষতিপূরণ পর্যাপ্ত প্রতিকার বা যেক্ষেত্রে শর্তাবলী পক্ষগণের ব্যক্তিগত যোগ্যতা বা সংকল্পের উপর নির্ভরশীল বা যেক্ষেত্রে চুক্তি সম্পাদনে ক্রমাগত ৩ বছরের অধিক সময় প্রয়োজন, সেই সকল চুক্তি সুনির্দিষ্টভাবে বলবৎযোগ্য না।
৬০.
The Specific Relief Act, 1877 এর ২২ ধারায় বিধান মতে কয়টি বিশেষ ক্ষেত্র বিবেচনায় আদালত Solatium এর আদেশ দিতে পারেন?
  1. ২টি
  2. ৩টি
  3. ৪টি
  4. ৫টি
ব্যাখ্যা
♦Solatium অর্থ হলো সান্ত্বনাপ্রদ ক্ষতিপূরণ। সম্পত্তি হস্তান্তরের চুক্তি প্রমাণিত হলেও বিক্রেতার কাষ্টলাঘবের জন্য ক্রেতাকে সান্ত্বনাপ্রদ ক্ষতিপূরণ প্রদানে চুক্তি বলবৎ অগ্রাহ্য করা যায়।
♦সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, ১৮৭৭ এর ধারা ২২ অনুযায়ী, চুক্তি বলবৎকরণের মোকদ্দমায় যদি বিবাদী দেখাতে পারে যে, বিবাদীর প্রতি বাদীর অন্যায় সুবিধা আছে এবং  যেক্ষেত্রে চুক্তির সুনির্দিষ্ট বলবৎকরণ বিবাদীর প্রতি কষ্ট বা কঠোরতা [hardship] সৃষ্টি করবে কিন্তু চুক্তি বলবৎ না করলে বাদীকে এমন ধরণের কোন কঠোরতায় জড়াবে না, সেই ক্ষেত্রে আদালত চুক্তি বলবৎকরণের ডিক্রি না দিতে বিবেচনামূলক ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারে এবং চুক্তি বলবৎকরণের ডিক্রি না দিয়ে বিবাদীকে ক্ষতিপূরণ (solatium) মঞ্জুর করতে পারে।
♦সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, ১৮৭৭ এর ২২ ধারার অধীন ২টি ক্ষেত্রে চুক্তির সুনির্দিষ্ট বলবৎকরণের ডিক্রি না দিয়ে আদালত ক্ষতিপূরণ |solatium] প্রদান করতে বিবেচনামূলক ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারে যথা:
(১) যেক্ষেত্রে বিবাদীর প্রতি বাদীর অন্যায় সুবিধা আছে এবং
(২) যেক্ষেত্রে চুক্তির সুনির্দিষ্ট বলববরণ বিবাদীর প্রতি কষ্ট সৃষ্টি করবে কিন্তু চুক্তি বলবৎ না করলে বাদীকে এমন ধরণের কোন কঠোরতায় জড়াবে না।
৬১.
নিম্নের কোন ক্ষেত্রে আদালত চুক্তি রদের আদেশ দিতে পারেন?
  1. যেক্ষেত্রে চুক্তিটি বাদী কর্তৃক অবসানযোগ্য
  2. যেক্ষেত্রে ভুল তথ্য সরবরাহে চুক্তিটি সম্পাদিত হয়েছে
  3. যেক্ষেত্রে চুক্তির বিষয়বস্তু অস্তিত্বহীন
  4. যেক্ষেত্রে সুবিধা-অসুবিধার ভারসাম্য বাদীর অনুকূলে
ব্যাখ্যা
♦The Specific Relief Act, 1877 এর ৩৫ ধারায় বিধান মতে  নিচের চুক্তিগুলো আদালত রদ করতে পারেন-
১) যে চুক্তিটি বাতিলযোগ্য (Voidable) বা বাদী কর্তৃক অবসানযোগ্য (Terminable by the plaintiff).
২) যে চুক্তিটি অবৈধ এবং বাদীর চেয়ে বিবাদী অধিকতর দোষী ।
৩) আদালত কর্তৃক বিক্রয় বা ইজারার ডিক্রি হওয়ার পর ক্রেতা বা ইজারাগ্রহীতা আদালতের নির্দেশমত ক্রয়মূল্য বা অন্য অর্থ পরিশোধ করতে ব্যর্থ হলে ।
♦অর্থাৎ  বাদী কর্তৃক সমাপ্তযোগ্য বা অবসানযোগ্য বা রদযোগ্য চুক্তি (contract terminable by plaintiff] সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৩৫ ধারা অনুসারে আদালত রদের আদেশ দিতে পারে।
৬২.
The Specific Relief Act, 1877 অনুযায়ী রিসিভার নিয়োগের ক্ষেত্রে কোনটি সঠিক?
  1. রিসিভার নিয়োগের পদ্ধতি The Specific Relief Act, 1877 দ্বারা নিয়ন্ত্রিত
  2. রিসিভার নিয়োগের পদ্ধতি The Code of Civil Procedure, 1908 দ্বারা নিয়ন্ত্রিত
  3. রিসিভার নিয়োগে আদালত তার স্বেচ্ছাধীন ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারেনা
  4. The Specific Relief Act, 1877 এর অধীনে রিসিভার নিয়োগের কোনো সুযোগ নেই
ব্যাখ্যা
♦The Specific Relief Act, 1877  এর ৪৪ ধারা অনুযায়ী রিসিভার নিয়োগ আদালতের ইচ্ছাধীন বিষয়ঃ মামলার বিচারাধীন সময় রিসিভার নিয়োগের বিষয়টি আদালতের ইচ্ছাধীন ক্ষমতার উপর নির্ভরশীল।
♦দেওয়ানী কার্যবিধি আইনের উল্লেখ, তার নিযুক্ত পন্থা এবং তার অধিকার, ক্ষমতা কর্তব্য ও দায়- দায়িত্বসমূহ দেওয়ানী কার্যবিধি আইন কর্তৃক নিয়ন্ত্রিত।
৬৩.
The Specific Relief Act, 1877 এর ৫২ ধারায় কোন প্রকার প্রতিকারের বিধান রয়েছে?
  1. বাধ্যতামূলক
  2. বিধিবদ্ধ
  3. নিরোধমূলক
  4. নেতিবাচক
ব্যাখ্যা
♦The Specific Relief Act, 1877 এর ৫২ ধারায় বিধান করা হয়েছে, নিষেধাজ্ঞা, স্থায়ী বা অস্থায়ী যারা আদালতের বিবেচনামূলক ক্ষমতাবলে নিরোধমূলক প্রতিকার মাঞ্জুর করা হয়। [Preventive relief is granted at the discretion of the Court by injunction, temporary or perpetual]
৬৪.
The Specific Relief Act, 1877 এর ৮ ও ৯ ধারার দখল পুনরূদ্ধারের মামলার বিষয়ে কোনটি সঠিক নয়?
  1. ৯ ধারার অধীনে স্বত্ব সাব্যস্তক্রমে দখল পুনরূদ্ধারের মামলায় বাধা হবে না
  2. ৮ ধারার মতে ৯ ধারায় স্বত্ব বিবেচনার সুযোগ নেই
  3. উভয় ধারায় সরকারের বিরুদ্ধে মামলা চলবে
  4. ৯ ধারায় মামলার তামাদি নির্দিষ্ট মেয়াদ আছে
ব্যাখ্যা
♦The Specific Relief Act, 1877 এর ৮ ধারায় সরকারের বিরুদ্ধে মোকদ্দমা দায়ের করা যায় কিন্তু ৯ ধারায় সরকারের মোকদ্দমা দায়ের করা যায় না।
৬৫.
The Specific Relief Act, 1877 এর ৫৬ ধারায় নিষেধাজ্ঞার প্রতিকার নামঞ্জুর করার ক্ষেত্র কয়টি?
  1. ৭ টি
  2. ৯ টি
  3. ১০ টি
  4. ১১ টি
ব্যাখ্যা
♦কোন কোন ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা মঞ্জুর করা যায় না তা সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৫৬ ধারায় আলোচনা করা হয়েছে। ৫৬ ধারা অনুসারে ১১টি ক্ষেত্রে আদালত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাখ্যান করতে পারে।
♦সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৫৬ ধারামতে নিম্নলিখিত ১১টি ক্ষেত্রে আদালত নিষেধাজ্ঞা মঞ্জুর করবে না। যথা-
i) বিচারাধীন কার্যধারা স্থগিত;
ii) অধীনস্ত নয় এরূপ আদালতের কার্যধারা স্থগিত;
iii) আইন প্রনয়নকারী সংস্থার নিকট আবেদনে বাধা;
iv) সরকারী দপ্তর বা বিদেশি সরকারের কার্যে হস্তক্ষেপ;
v) ফৌজদারি কার্যধারা স্থগিত;
vi) অবলবৎযোগ্য চুক্তিভঙ্গ নিরোধের প্রশ্নে
vii) উৎপাত (nuisance) নয় এমন কাজ নিরোধের জন্য;
viii) বাদীর মৌন সম্মতির প্রশ্নে;
ix) অন্য কোন পদ্ধতিতে একই প্রতিকারের ক্ষেত্রে;
x) বাদীর আচরন আদালতের সাহায্য পেতে বঞ্চিত করলে; অথবা
xi) মামলার বিষয়বস্তুতে বাদীর কোন স্বার্থ না থাকলে আদালত নিষেধাজ্ঞা মঞ্জুর করবে না।
৬৬.
কোনটি অন্তর্বর্তীকালীন মুনাফা (mesne profit) হিসাবে গণ্য হবে না?
  1. X, L এর সম্পত্তি অন্যায়ভাবে দখল করে তা হতে লাভ পেল
  2. অনুপ্রবেশকারী X, L এর বাড়ি দাবি করে ও ভাড়া সংগ্রহ করে
  3. X, L এর সম্পত্তি অবৈধ দখল করে সেখানে বাড়ি বানিয়ে ভাড়া দিল
  4. X অনুমতি ছাড়া L এর জমিতে চাষ করে লাভ পেল
ব্যাখ্যা
♦ দেওয়ানী কার্যবিধির ২(১২) ধারা অনুসারে, মধ্যবর্তী মুনাফা বা Mesne Profit হলো যে মুনাফা বা উপকার যা কোন ব্যক্তি অন্য কারো সম্পত্তি অবৈধভাবে দখল করে থাকাকালীন সময়ে লাভ করেছে। এটি সাধারণত ভাড়া বা মুনাফার রূপে হয়। যখন একজনের দখলদারি অকারণে অপর কেউ তার সম্পত্তি হতে বঞ্চিত হয়ে থাকে, তখন দখলদার ক্ষতিপূরণের রূপে মধ্যবর্তী মুনাফা পরিশোধ করতে বাধ্য থাকে।
♦তবে বেআইনীভাবে দখলদার ব্যক্তি উক্ত সম্পত্তির কোন উন্নয়ন করলে এবং সেই উন্নয়নের ফলে কোন মুনাফা হলে, উক্ত মুনাফা মধ্যবর্তী মুনাফা | Mesne Profits) বলে গণ্য হবে না,
♦প্রশ্নের অপশন (গ)-তে বলা হয়েছে, X, L এর সম্পত্তি অবৈধ দখল করে সেখানে বাড়ি বানিয়ে ভাড়া দিল। এই ক্ষেত্রে X, I. এর সম্পত্তিতে বাড়ি বানিয়ে উন্নয়ন করেছে এবং উক্ত উন্নয়ন হতে ভাড়া বাবদ মুনাফা করছে। যেহেতু X. L এর সম্পত্তিতে বাড়ি বানিয়ে উন্নয়ন করেছে, সেহেতু সেখান থেকে ভাড়া বাবদ যে মুনাফা গ্রহণ করেছে, সেই মুনাফা মধ্যবর্তী মুনাফা | Mesne Profits] বলে গণ্য হবে না। 
৬৭.
কোন ক্ষেত্রে বাদীপক্ষের ত্রুটি সংশোধনের সুযোগ না দিয়ে Order VII, Rule 11 এ আরজি প্রত্যাখ্যান করা যায় না?
  1. প্রার্থিত প্রতিকারের মূল্যায়ন কম করা হলে
  2. আরজিতে মামলার কারণ উল্লেখ না থাকলে
  3. মামলার আরজি কার্টিজ পেপারে উপস্থাপন না করলে
  4. আরজির সাথে প্রত্যেক বিবাদীর জন্য সমন ও আরজির কপি না দিলে
অনির্ধারিত
ব্যাখ্যা
♦প্রশ্নটি ভুল আছে। অর্থাৎ প্রশ্নটি হওয়া উচিৎ ছিল 'কোন ক্ষেত্রে বাদীপক্ষকে ত্রুটি সংশোধনের সুযোগ না দিয়ে Order VII, rule-11 এ আরজি প্রত্যাখ্যান করা যায়?'
প্রশ্নটির শেষে 'না' শব্দটি বাদ দিতে হবে।

♦তাহলে সঠিক উত্তর হতো - খ) আরজিতে মামলার কারণ উল্লেখ না থাকলে 
♦প্রশ্ন অনুসারে অপশনে তিনটি সঠিক উত্তর থাকায় প্রশ্নটির উত্তর তুলে দেয়া হয়েছে।

 ♦প্রশ্নটি যেভাবে দেওয়া আছে যদি সেইভাবে উত্তর করা হয়, তাহলে অপশন ক, গ এবং ঘ উভয় সঠিক। আরজিতে প্রার্থিত প্রতিকারের মূল্যমান কম করা হলে বা প্রয়োজনের তুলনায় কম মূল্যের স্ট্যাম্পযুক্ত কাগজে আরজি লেখা হলে, আদালত উক্ত ক্ষেত্রে সরাসরি আরজি প্রত্যাখ্যানের আদেশ দিবে না বরং প্রার্থিত প্রতিকারের মূল্যমান সংশোধন করতে এবং আরজি প্রয়োজনীয় কার্টিজ পেপারে উপস্থাপন করার জন্য ২১ দিন সময় দিবে। যদি উক্ত ২১ দিনের মধ্যে বাদী এমন আদেশ পালনে ব্যর্থ হয়, তাহলে আদালত আরজি প্রত্যাখ্যান করবে। অন্যদিকে আরজির সাথে প্রত্যেক বিবাদীর জন্য সমন ও আরজির কপি না দিলে', প্রয়োজনীয় সমন ও আরজির কপি সরবরাহ করার জন্য আদালত বাদীকে ২১ দিন সময় দিবে। বাদী ব্যর্থ হলে, আদালত আরজি প্রত্যাখ্যান করবে। কিন্তু আরজিতে মামলার কারণ উল্লেখ না থাকলে, আদালত আরজি সংশোধনের সুযোগ না দিয়ে সরাসরি আরজি প্রত্যাখ্যান করতে পারে।
৬৮.
Precepts কোন আদালত ইস্যু করে?
  1. সহকারী জজ আদালত
  2. যুগ্ম জেলা জজ আদালত
  3. ডিক্রি প্রদানকারী আদালত
  4. জেলা জজ আদালত
ব্যাখ্যা
♦দেওয়ানী কার্যবিধির ৪৬ ধারায় Precept সম্পর্কিত বিধান করা হয়েছে। Precept অর্থ হলো বিচারকের আদেশপত্র বা নির্দেশাত্রা বা অনুরোধলিপি। । ডিক্রিদারের আবেদনক্রমে ডিক্রি প্রদানকারী আদালত উপযুক্ত মনে করলে অন্য কোনো এখতিয়ারসম্পন্ন আদালতকে ডিক্রিটি জারি করার অনুরোধ করতে পারে, এবং এইরূপ আদালত ডিক্রিজারি করতে এবং অনুরোধপত্রে নির্ধারিত দেনাদারের সম্পত্তি ক্রোক করতে পারে।
৬৯.
ডিক্রির তারিখ থেকে কত সময়ের মধ্যে ডিক্রি জারির জন্য আবেদন করলে দায়িকের প্রতি কারণ দর্শানোর নোটিশ দিতে হবে না?
  1. ৬ মাস
  2. ১ বছর
  3. ২ বছর
  4. ৩ বছর
ব্যাখ্যা
♦দেওয়ানী কার্যবিধি আদেশ-২১, বিধি-২২ তে ডিক্রি জারির আবেদনের ক্ষেত্রে নোটিশ প্রদানের বিধান রয়েছে- সাধারণত নোটিশ ব্যতীত ডিক্রি জারির আবেদন করা হয়, তবে নিম্নলিখিত ক্ষেত্রে ডিক্রি জারির মামলা করলে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিতে হবে। যথ‍্যেছ
♦দেওয়ানি কার্যবিধির ৫০(১) ধারা অনুযায়ী, দেনাদারের (Judgement debtor) মৃত্যু হলে তার বৈধ প্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে ডিক্রি জারি করা যাবে। এক্ষেত্রে বৈধ প্রতিনিধির বিরুদ্ধে ডিক্রি জারির আবেদন হলে নোটিশ দিতে হয়। অর্থাৎ দেনাদারের বৈধ প্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে জারির আবেদন করতে হলে নোটিশ দিতে হয়।
ডিক্রির তারিখ থেকে ২ বছর পর ডিক্রি জারির দরখাস্ত করা হলে দেনাদারকে (Judgement debtor) নোটিশ দিতে হয়। 
♦এছাড়া কোন বিদেশী রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ডিক্রি জারির আবেদন করলে নোটিশ দিতে হয়।
৭০.
স্থানীয় তদন্ত বা পরিদর্শনে কোন কাজটি করা যায় না?
  1. বিরোধীয় বিষয় ব্যাখ্যা করা
  2. সম্পত্তির দখলকার নির্ধারণ
  3. সম্পত্তির বাজার দর নিরূপণ
  4. ক্ষতিপূরণের পরিমাণ নির্ধারণ
ব্যাখ্যা
♦ধারা-৭৫(খ)+আদেশ-২৬,বিধি-৯: স্থানীয় তদন্তের জন্য কমিশন নিয়োগ (local investigation)- দেওয়ানী কার্যবিধির ২৬ নং আদেশের ৯ নং বিধিমতে আদালত নিম্নলিখিত ক্ষেত্রে স্থানীয় তদন্তের জন্য কমিশন নিয়োগ করতে পারে। যথা-
i) মামলার বিরোধীয় বিষয় ব্যাখ্যা করার জন্য; অথবা
ii) কোন সম্পত্তির বাজার দর, অন্তবর্তীকালীন মুনাফা, ক্ষতিপূরণের টাকা, বাৎসরিক প্রকৃত মুনাফা নির্ণয় করতে স্থানীয় তদন্তের জন্য আদালত কমিশন নিয়োগ দিতে পারে ।
♦অনধিক ৩ মাসের মধ্যে স্থানীয় তদন্তের প্রতিবেদন জমা দিতে হবে।
♦অর্থাৎ সম্পত্তির দখলকার নির্ধারণ স্থানীয় তদন্ত কমিশনের কাজ না।
৭১.
দেওয়ানি কার্যবিধির কত ধারায় Interpleader Suit দায়ের বিধান রয়েছে।
  1. ৯০
  2. ৮৮
  3. ৯২
  4. ৮২
ব্যাখ্যা
♦দেওয়ানী কার্যবিধির ৮৮ ধারায় এবং ৩৫ আদেশে স্বার্থবিহীন মামলা [Interpleader Suit] সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে। দুই বা ততোধিক ব্যক্তি অপর কোনো ব্যক্তির নিকট পাওনা টাকা বা কোনো স্থাবর বা অস্থাবর সম্পত্তি দাবি করে এবং যার নিকট তা দাবি করা হয় উক্ত সম্পত্তির উপর তার খরচার দাবি বাতীত যদি অন্য কোনো দাবিদাওয়া না থাকে এবং তিনি প্রকৃত মালিকের নিকট উক্ত সম্পত্তি বা অর্থ অর্পণ করতে প্রস্তুত থাকে, তবে সেই সম্পত্তি বা অর্থ কার নিকট অর্পণ করতে হবে সেই বিষয়ে আদালতের সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য এবং নিজের খরচার দাবী আদায়ের জন্য উক্তরুপ দাবিদারগণের সকলের বিরুদ্ধে যে মামলা দায়ের করা যায় তাহলো স্বার্থবিহীন মামলা  [Interpleader Suit]।
৭২.
দেওয়ানি রিভিশন The Code of Civil Procedure, 1908 এর কোন ধারার বিষয়বস্তু?
  1. ১০৭
  2. ১১৩
  3. ১১৪
  4. ১১৫
ব্যাখ্যা
♦The Code of Civil Procedure, 1908 এর  ১১৫ ধারায় রিভিশন, ১১৪ ধারায় রিভিউ এবং ১০৭ ধারায় দেওয়ানী আপীলের ক্ষেত্রে আপীল আদালতের এখতিয়ার নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।
♦The Code of Civil Procedure, 1908 এর ১১৫ ধারা অনুযায়ী বিধান হলো রিভিশন । রিভিশন বলতে বুঝায় উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন আদালত কর্তৃক নিম্ন আদালতের কোন মামলার সিদ্ধান্ত সঠিক করার জন্য সংশোধন করা। রিভিশন করতে হয় উচ্চ আদালতে।
♦১১৫ ধারা অনুযায়ীধরনের আদালতের রিভিশন এখতিয়ার আছে।
১) জেলা জজ ও
২)হাইকোর্ট বিভাগ
৭৩.
দেওয়ানি মোকদ্দমায় রায় বা ডিক্রির করণিক ও গাণিতিক ভুল সংশোধন করা যায় The Code of Civil Procedure, 1908 ______
  1. ১৫১
  2. ১৫২
  3. ১৫৩
  4. Order VI, Rule-17 অনুযায়ী
ব্যাখ্যা
♦The Code of Civil Procedure, 1908 এর ১৫২ ধারা মতে রায়, ডিক্রি বা আদেশে করণিক [Clerical] বা গাণিতিক (Arithmetical) ভুল অথবা কোন আকস্মিক ভ্রান্তি [Accidental slip] বা বিচ্যুতির [Omission] কারণে কোন ভুল হলে যে কোন সময় আদালত নিজ উদ্যোগে কিংবা কোন পক্ষের আবেদনে তা শুদ্ধ বা সংশোধন করতে পারে।
৭৪.
দেওয়ানি কার্যধারার কোনো ত্রুটি সংশোধনের জন্য আদালত এখতিয়ার প্রয়োগ করেন The Code of Civil Procedure, 1908 এর -
  1. ১৫২ ধারায়
  2. ১৫৩ ধারায়
  3. ১৫১ ধারায়
  4. Order VI, Rule-17 অনুযায়ী
ব্যাখ্যা
♦দেওয়ানি কার্যধারার ১৫৩ ধারায়  মতে মোকদ্দমার কার্যধারায় কোন প্রকৃত প্রশ্ন বা বিচার্য বিষয় নির্ধারণের উদ্দেশ্যে আদালত যে কোন সময় কোন মামলার কার্যধারার ত্রুটি সংশোধন [amend any defect or error in any proceeding in a suit] করতে পারবে।
৭৫.
মামলায় পক্ষের অপসংযোগ বা অসংযোগ দোষে মামলা -
  1. খারিজ হবে
  2. আরজি প্রত্যাখ্যান করা যায়
  3. আরজি ফেরত দেয়া যায়
  4. ব্যর্থ হবে না।
ব্যাখ্যা
♦দেওয়ানী কার্যবিধির ১ আদেশের ৯ বিধিতে বলা হয়েছে, কোন মোকদ্দমায় পক্ষসমূহের অ- সংযুক্ত এবং অপসংযোগ এর কারণে কোন মোকদ্দমা ব্যর্থ হবেনা [No suit shall be defeated by reason of the misjoinder or non-joinder of parties]
৭৬.
আদালত কোন ক্ষেত্রে প্লিডিংস Strike out করতে বা সংশোধনের আদেশ দিতে পারেন?
  1. প্লিডিংস অপ্রয়োজনীয় হলে
  2. প্লিডিংস এ মানহানিকর কথা থাকলে
  3. প্লিডিংস এ বিব্রতকর কথা থাকলে
  4. সবগুলো সঠিক
ব্যাখ্যা
♦দেওয়ানী কার্যবিধির ৬ আদেশের ১৬ বিধি অনুসারে, আদালত মোকদ্দমার যে কোন পর্যায়ে প্রিন্ডিংসের (আরজি বা লিখিত জবাবের) যে কোন বিষয় কর্তন বা সংশোধন করতে আদেশ দিতে পারে যদি উল্লেখিত বিষয়টি অপ্রয়োজনীয় হয় [Unnecessary) বা কুৎসাজনক হয় (Scandalous) বা মোকদ্দমার সুষ্ঠ বিচার বাধাগ্রস্থ, বা বিলম্বিত করতে পারে। [Tend to prejudice, embarrass or delay the fair trial of the suit]
৭৭.
লিখিত জবাব দাখিলের ________ দিনের মধ্যে ইস্যু গঠন করতে হয়?
  1. ১০
  2. ১৫
  3. ২১
ব্যাখ্যা
♦দেওয়ানী কার্যবিধির ১৪ আদেশের বিধি ১ অনুযায়ী যখন ঘটনা কিংবা আইনের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে যখন একপক্ষ দৃড়ভাবে ঘোষণা করে এবং অন্য পক্ষ অস্বীকার করে, তখনই বিচার্য বিষয় উদ্ভব হয়। মামলার প্রথম শুনানীর সময় কিংবা লিখিত জবাব দাখিলের (যেটা পরে ঘটে) তার ১৫ দিনের মধ্যে বিচার্য বিষয় প্রণয়ন করতে হবে।
৭৮.
The Code of Civil Procedure, 1908 এর Order XVI, Rule 12 অনুসারে উপযুক্ত হেতু ছাড়াই কোনো সাক্ষী আদালতে উপস্থিত হতে ব্যর্থ হলে উক্ত সাক্ষীকে আদালত কত টাকা পর্যন্ত জরিমানা আরোপ করতে পারেন?
  1. ৫০০
  2. ১০০০
  3. ১৫০০০
  4. ২০০০
ব্যাখ্যা
♦দেওয়ানী কার্যবিধির ১৬ আদেশের ১২ বিধি অনুযায়ী আদালতের আদেশ অনুযায়ী সাক্ষী হাজির হতে ব্যর্থ হলে, আদালত তাকে অনধিক ৫০০ টাকা জরিমানা আরোপ করতে পারে।
৭৯.
দেওয়ানি মোকদ্দমায় চূড়ান্ত শুনানিকালে উভয়পক্ষ সময়ের আবেদন করলে মুলতুবি খরচার টাকা পাবেন-
  1. বাদী দরখাস্তকারী
  2. বিবাদী দরখাস্তকারী
  3. আদালত
  4. রাষ্ট্র
ব্যাখ্যা
♦দেওয়ানী কার্যবিধির ১৭ আদেশ, বিধি ১(৫)-তে বলা হয়েছে: যে ক্ষেত্রে মোকদ্দমার উভয়পক্ষ মুলতবির দরখাস্ত দাখিল করে এবং আদালত খরচসহ মুলতবির দরখাস্ত মঞ্জুর করেন; সে ক্ষেত্রে আদালত উভয়পক্ষকে রাষ্ট্রের রাজস্ব খাতে মুলতবির খরচ প্রদান/জমা করার আদেশ দিবেন।
♦ খরচের টাকার অধিকারী হবে:
 i. বাদী মুলতবি চাইলে- বিবাদী পাবে।
ii. বিবাদী মুলতবি চাইলে- বাদী পাবে।
iii. উভয়পক্ষ মুলতবি চাইলে- রাষ্ট্র পাবে।
৮০.
The Code of Civil Procedure, 1908 এর Order XVII অনুসারে খরচ প্রদান না করার কারণে কোনো মোকদ্দমা নিষ্পত্তিকৃত হলে নির্ধারিত খরচ প্রদানে মোকদ্দমাটি সরাসরি পুনরুজ্জীবিত করা যায় নিষ্পত্তির ______ দিনের মধ্যে?
  1. ১৫
  2. ৩০
  3. ৪৫
  4. ৬০
ব্যাখ্যা
♦The Code of Civil Procedure, 1908 এর আদেশ ১৭ বিধি ১ (৭) অনুযায়ী মুলতুবির খরচ প্রদানে ব্যর্থ হওয়ার কারণে যদি ১৭ আদেশের বিধি ১ এর ৩ এবং ৪ উপ-বিধির অধীন কোন মোকদ্দমা খারিজ কিংবা একতরফা নিষ্পত্তি হয়, যে পক্ষের কারণে খারিজ বা একতরফা নিষ্পত্তি হয়েছে সেই পক্ষ খারিজ বা একতরফা নিষ্পত্তির তারিখ হতে ত্রিশ (৩০) দিনের মধ্যে ২০০০ টাকা খরচা জমা দিয়ে মোকদ্দমাটি পুনরায় চালুর জন্য বা পুনরুজ্জীবিত করার আবেদন করলে, আদালত আবেদনটি মঞ্জুর করতে পারে।
৮১.
আপিল বিভাগের কোনো আদেশ কার্যকর করার পদ্ধতি কী?
  1. যে আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করা হয়েছে সে আদালত করবে
  2. সংশ্লিষ্ট জেলা জজ আদালত কার্যকর করবে
  3. আপিল বিভাগে আবেদন করা
  4. হাইকোর্ট বিভাগে আবেদন করা
ব্যাখ্যা
♦দেওয়ানী কার্যবিধির  ১০৯ থেকে ১১২ ধারা এবং Order XLV - এ আপিল বিভাগে আপিল-সংক্রান্ত বিধান রয়েছে।
♦৪৫ অর্ডারের ১৫ রুলতে বলা হয়েছে:
♦কোনো ব্যক্তি আপিল বিভাগ প্রদত্ত কোনো আদেশ কার্যকর করতে চাইলে, তাকে 
•লিখিতভাবে আবেদন করতে হবে।
•আপিলে প্রদত্ত ডিক্রি বা আদেশের সত্যায়িত নকল আবেদনের সাথে জমা দিতে হবে।
•আবেদন সেই আদালতেই করতে হবে; যে আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করা হয়েছিল (to the court from which the appeal to Appellate Division was preferred)
অর্থাৎ আবেদন আপিল বিভাগে করবে না ,যে আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করা হয়েছে সে আদালত করবে।
৮২.
The Code of Civil Procedure, 1908 এর কোন বিধানটি নিষেধাজ্ঞা সম্পর্কিত নয়?
  1. Order XXXIX, rule 1 & 2
  2. Order XXXIX, rule 5 (A)
  3. Section 94(c)
  4. Section 94(e)
ব্যাখ্যা
♦প্রশ্নটির অপশন বিশ্লেষণ করলে পাওয়া যায় যে দেওয়ানী কার্যবিধির,
(ক) Order XXXIX, Rule 1 & 2:- আদালত অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা মঞ্জুর করতে পারে।
(খ) Order- XXXIX, Rule 5 (A):-  অপরপক্ষের শুনানি ব্যতীত অন্তর্বর্তী বা অস্থায়ীনিষেধাজ্ঞার আদেশ দেওয়া যাবে না।
(গ) Section 94 (c):- ন্যায়বিচারের উদ্দেশ্য যাতে ব্যাহত না হয় সে জন্য আদালত অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা মঞ্জুর করতে পারে এবং কেউ তা অমান্য করলে দোষী ব্যক্তিকে দেওয়ানি কারাগারে আটক এবং তার সম্পত্তি ক্রোক ও নিলাম বিক্রয়ের আদেশ প্রদান করতে পারে।|
(ঘ) Section 94(e):- আদালতের কাছে যেরূপ ন্যায্য ও সুবিধাজনক মনে হয়; সেরূপ অন্তবর্তীকালীন আদেশ (Interlocutory Order) জারি করতে পারে ।
♦অর্থাৎ The Code of Civil Procedure, 1908 এর Section 94(E) [Interlocutory Order]  বিধানটি নিষেধাজ্ঞা সম্পর্কিত নয়.
♦দেওয়ানি আদালতের অতিরিক্ত কার্যক্রম: CPC'র ৯৪ ধারায় Supplementary Proceeding বা অতিরিক্ত কার্যক্রম সম্পর্কে বলা আছে। ন্যায়বিচারের উদ্দেশ্য যেন ব্যাহত না হয় সে জন্য আদালত ক্ষেত্রবিশেষে নিম্নোক্ত আদেশ দিতে পারে। ৯৪ ধারা মোতাবেক -
a) দেওয়ানি কারাগারে পাঠানোর আদেশ ।
b) সম্পত্তি ক্রোকের আদেশ ।
c) অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার আদেশ ।
d) Receiver নিয়োগের আদেশ ।
e) আদালত যেরূপ উপযুক্ত মনে করবে সেরূপ অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ [Interlocutory Order]
৮৩.
রায় প্রচারের পূর্বে শর্তধীনে বিবাদী পক্ষের কোনো সম্পত্তি ক্রোক সংক্রান্ত বিধান দেওয়ানি কার্যবিধির কোথায় বলা আছে?
  1. Order XXXVIII rule 5
  2. Order XXI rule 54
  3. Order XXI rule 32
  4. Order XXXVIII rule 4
ব্যাখ্যা
♦দেওয়ানী কার্যবিধির আদেশ ৩৮ বিধি ৫ অনুযায়ী যেক্ষেত্রে বিবাদী তার বিরুদ্ধে জারিকৃত ডিক্রি জারিকরণে বাধাদান বা বিলম্বিত করার উদ্দেশ্যে তার সম্পত্তির সমগ্র বা কোন অংশ হস্তান্তর করতে উপক্রম করেছে (ইত্যাদি), সেই ক্ষেত্রে আদালত নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা জামানত হিসাবে দাখিল করার জন্য বা উক্ত সম্পত্তি বা উহার মূল্য বা ডিক্রি পরিশোধ হওয়ার মতো উপযুক্ত অংশ আদালতের এখতিয়ারে ন্যস্ত করার জন্য; বা বিবাদী কেন জামানত দাখিল করবেনা, উহার কারণ দর্শাতে হাজির হওয়ার জন্য বিবাদীকে নির্দেশ দিতে পারে। আদালত উক্ত আদেশের সাথে এইরুপ নির্দিষ্ট সম্পত্তির সমগ্র বা উহার কোন অংশ শর্ত সাপেক্ষে ক্রোকেরও নির্দেশ দিতে পারে।
৮৪.
দেওয়ানি মামলায় রিভিউ দরখাস্ত মঞ্জুর আদেশের বিরুদ্ধে প্রতিকার কী?
  1. রিভিশন
  2. আপিল
  3. রেফারেন্স
  4. ১৫১ ধারার অধীন দরখাস্ত করা
ব্যাখ্যা
♦দেওয়ানী কার্যবিধি, ১৯০৮ এর আদেশ ৪৩ বিধি ১ অনুযায়ী ৪৭ আদেশের ৪ বিধির অধীন রিভিউ আবেদন মঞ্জুর করে কোন আদেশ দিলে তার বিরুদ্ধে আপীল করা যায়। 
♦দেওয়ানী কার্যবিধি, ১৯০৮ এর আদেশ ৪৩ বিধি ১ তে মোট ২৫টি আদেশ রয়েছে যেগুলার বিরুদ্ধে আপীল করা যায়।
৮৫.
The Code of Civil Procedure, 1908 অনুযায়ী Public nuisance প্রতিরোধে নিয়েধাজ্ঞার জন্য কে মামলা করতে পারেন?
  1. Government Pleader
  2. Attorney Genereal
  3. Public Prosecutor
  4. জেলা প্রসাশক
ব্যাখ্যা
♦দেওয়ানী কার্যবিধি, ১৯০৮ এর ৯১ ধারা অনুসারে, গণ-উপদ্রবের ক্ষেত্রে অ্যাটনী জেনারেল অথবা দুই বা ততোধিক ব্যক্তি অ্যাটনী জেনারেলের লিখিত সম্মতিক্রমে কোন বিশেষ ধরনের ক্ষতি না হয়ে থাকলেও কোন ঘোষণা এবং নিষেধাজ্ঞা অথবা মোকদ্দমার পরিস্থিতির আলোকে অন্য কোন যথাযথ প্রতিকারের দাবীতে একটি মোকদ্দমা দায়ের করতে পারে।
৮৬.
তামাদি আইনের ৫ ধারায় বর্ণিত তামাদির মেয়াদ বৃদ্ধির বিষয়টি নিচের কোন ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়?
  1. আপিল
  2. রিভিউ
  3. রিভিশন
  4. মূল মামলা
ব্যাখ্যা
♦তামাদি আইন, ১৯০৮ এর ৫ ধারার অধীন বিলম্ব মওকুফের আবেদন করা যায়। কিন্তু তামাদি আইনের ৫ ধারার বিধান মূল মোকদ্দমা [suit) এর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য না। অর্থাৎ কোন মোকদ্দমা দায়েরে বিলম্ব হলে উক্ত বিলম্ব মওকৃষ্ণের জন্য ৫ ধারায় আবেদন করা হলে, আবেদনটি গ্রহণযোগ্য না।
♦১৯০৮ সালের তামাদি আইনের ৫ ধারায় বর্ণিত বিলম্ব মওকুফের বিষয়টির আইনগত মূল্য অপরিসীম। এই ধারা মতে কোন আপীলকারী বা দরখাস্তকারী যদি প্রমান করতে পারেন যে নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যেও কোন আপীল , রিভিউ বা রিভিশন করতে না পারার পর্যাপ্ত কারণ ছিল মর্মে আদালতকে সন্তোষ্ট করতে পারে সে ক্ষেত্রে তামাদির মেয়াদ বৃদ্ধি করা যেতে পারে তখন এই ব্যবস্থাকেই আইনের ভাষায় বিলম্ব মওকুফ বলে।
♦১৯০৮ সালের তামাদি আইনের ৫ ধারাটি কেবরমাত্র আপীল এবং রিভিউ ,রিভিশন সহ অন্যান্য উল্লেখিত ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে এমনকি ফৌজদারী মামলার আপীলের ক্ষেত্রেও ৫ ধারা প্রযোজ্য হবে।
♦মূল মামলার ক্ষেত্রে এ তামাদি আইনের ৫ ধারাটি প্রযোজ্য হবে না। কারণ অধিকাংশ দেওয়ানী মামলার ক্ষেত্রে তামাদির মেয়াদ ৩ বৎসর হতে ১২ বৎসর পর্যন্ত সম্প্রসারিত কিন্তু এই ধারার বিধান মতে আপীল এবং আবেদনের তামাদির মেয়াদ ৭ দিন হতে ৬ মাস। যেহেতু আপীরের সময়সীমা কম সেহেতু যুক্তিসংগত কারনে আপীল দাযের করতে কিংবা রিভিশন সহ অন্যান্য দরখাস্ত দাখিল করতে বিলম্ব হলে এই ধারা মতে উপযুক্ত কারণ সাপেক্ষে সেই বিলম্ব মওকুফ করা যাইতে পারে। তাই মূল মামলায় অনেক সময় পাওয়া যায় বিধায় মূল মামলা ৫ ধারা ব্যবহার যোগ্য নহে।
৮৭.
তামাদি আইনের ৬ ধারায় বর্ণিত বৈধ অপারগতার সুবিধা মামলা দায়েরসহ অন্য কোন ক্ষেত্রে নেওয়া যাবে?
  1. জারির আবেদন
  2. আপিল দায়ের
  3. রিভিশন দায়ের
  4. রিভিউ দায়ের
ব্যাখ্যা
♦তামাদি আইন, ১৯০৮ এর ৬ ধারায় বর্ণিত আইনগত বা বৈধ অপারগতার সুবিধা ২টি ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হয় ১) মোকদ্দমায় [Suit] এবং ২) ডিক্রি জারির আবেদন [An application for execution of decree] এর ক্ষেত্রে।
৮৮.
The Limitation Act, 1908 এর কত ধারায় "Easement” সম্পর্কে বলা হয়েছে?
  1. ২৮
  2. ২৭
  3. ২৬
  4. ২৫
ব্যাখ্যা
♦ তামাদি আইন, ১৯০৮ এর ২৬ ধারায় সুখাধিকার অর্জন [ Acquisition of right to easements) নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। মালিক না হয়েও অন্যের জমি ব্যবহার করার অধিকার হলো সুখাধিকার। সুখাধিকার [Easement] এমন এক ধরনের অধিকার যার মাধ্যমে একজন ব্যক্তি অন্য কোন ব্যক্তির জমি বিশেষ কোন উদ্দেশ্যে ব্যবহার করে যেমন আলো বাতাসের অধিকার, চলাচলের অধিকার ইত্যাদি।
৮৯.
দলিল বাতিল বা বাতিলযোগ্য বিষয়টি অবগত হওয়ার কত বছরের মধ্যে ক্ষতিগ্রস্থ পক্ষকে মামলা দায়ের করতে হয়?
  1. ১২
ব্যাখ্যা
♦তামাদি আইন, ১৯০৮ এর ৯১ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী দলিল বাতিল বা বাতিলযোগ্য বিষয়টি অবগত হওয়ার তিন বছরের মধ্যে ক্ষতিগ্রস্থ পক্ষকে মামলা দায়ের করতে হয়।
৯০.
চুক্তি বলবতকরণের জন্য মামলা দায়ের করার তামাদি মেয়াদ The Limitation Act, 1908 এর ১ম তফসিলের কত অনুচ্ছেদে বর্ণিত?
  1. ১৩
  2. ৯৫
  3. ১১৩
  4. ১১৪
ব্যাখ্যা
♦তামাদি আইন, ১৯০৮ এর ১১৩ অনুচ্ছেদ অনুসারে, চুক্তি বলবতকরণের জন্য মামলা দায়ের করার তামাদি মেয়াদ ১ বৎসর।
♦অর্থাৎ চুক্তি বলবতকরণের জন্য মামলা দায়ের করার তামাদি মেয়াদ The Limitation Act, 1908 এর ১ম তফসিলের ১১৩ অনুচ্ছেদে বর্ণিত।
৯১.
নিঃসম্বল হিসাবে আপিল করার অনুমতির দরখাস্ত দাখিলের তামাদি________ দিন।
  1. ১৫
  2. ৩০
  3. ৪৫
  4. ৬০
ব্যাখ্যা
♦তামাদি আইন, ১৯০৮ এর ১৭০ অনুচ্ছেদ অনুসারে নিঃসম্বল হিসাবে আপীল করার অনুমতির দরখাস্ত (for leave to appeal as pauper) দাখিলের তামাদির মেয়াদ ৩০ দিন
৯২.
বাদী সরকার হলে সম্পত্তি দখল উদ্ধারের মামলা করার তামাদি ________ বছর।
  1. ১২
  2. ২০
  3. ৩০
  4. ৬০
ব্যাখ্যা
♦তামাদি আইন, ১৯০৮ এর ১৪৯ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী বাদী সরকার হলে সম্পত্তি দখল উদ্ধারের মামলা করার তামাদি মেয়াদ ৬০ বছর
৯৩.
খালাসের আদেশের বিরুদ্ধে The Code of Criminal Procedure, 1898 অনুযায়ী আপিল দায়েরের তামাদি মেয়াদ ________?
  1. ৬ মাস
  2. ৩ মাস
  3. ১৮০ দিন
  4. ৯০ দিন
ব্যাখ্যা
♦প্রশ্নটি লেখাতে ভুল আছে। কারণ ফৌজদারী কার্যবিধিতে খালাস আদেশের বিরুদ্ধে আপীল করার তামাদির মেয়াদ ৬০ দিন উল্লেখ করা হয়েছে ৪১৭ (৩)) এবং এই সময় শুধুমাত্র নালিশকারী কর্তৃক খালাসের বিরুদ্ধে আপীল দায়েরের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। খালাসের বিরুদ্ধে আপীল দায়েরের সময় ৬ মাস উল্লেখ করা হয়েছে তামাদি আইন, ১৯০৮ এর ১৫৭ অনুচ্ছেদে এবং এই সময় শুধুমাত্র পাবলিক প্রসিকিউটর কর্তৃক খালাসের বিরুদ্ধে আপীল দায়েরের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। প্রশ্নটি সঠিক হবে যদি ৬ মাসের পরিবর্তে ৬০ দিন উত্তর করা হয় বা প্রশ্নে The Code of Criminal Procedure, 1898 এর পরিবর্তে the Limitation Act, 1908 লেখা হয়। খালাস আদেশের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ বা পাবলিক প্রসিকিউটর আপীল করলে, আপীল করার তামাদির মেয়াদ ৬ মাস। কিন্তু সি.আর মামলায় নালিশকারী বা অভিযোগকারী খালাস আদেশের বিরুদ্ধে আপীল করলে আপীল করার তামাদির মেয়াদ ৬০ দিন।
♦অর্থাৎ খালাস আদেশের বিরুদ্ধে ফরিয়াদিকে খালাস আদেশ প্রদানের ৬০ দিনের মধ্যে আপিল করতে হয়। [ধারা ৪১৭(৩)] এবং খালাস আদেশের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ খালাস আদেশ প্রদানের ৬ মাসের মধ্যে আপিল করতে পারে। [অনুচ্ছেদ ১৫৭, তামাদিআইন, ১৯০৮]
♦সুতরাং প্রশ্নটির সব কিছু বিবেচনা করে উত্তর ৬ মাস গ্রহণ করা হল।
৯৪.
দেওয়ানি মামলায় যুগ্ম জেলা জজ কর্তৃক প্রদত্ত রায়ের বিরুদ্ধে রিভিউ দায়ের করতে হবে রায়ের তারিখ থেকে কত দিনের মধ্যে?
  1. ২০
  2. ৩০
  3. ৬০
  4. ৯০
ব্যাখ্যা
♦তামাদি আইন, ১৯০৮ এর ১৭৩ অনুচ্ছেদ অনুসারে, যেকোন দেওয়ানী আদালতের নিকট দেওয়ানী কার্যবিধির অধীন রিভিউ করার তামাদির মেয়াদ ৯০ দিন।
৯৫.
হাইকোর্ট বিভাগ কর্তৃক মূল এখতিয়ার প্রয়োগকালে প্রদত্ত রায় পুনরীক্ষণের জন্য দরখাস্ত দাখিলের সময়_________ দিন।
  1. ২০
  2. ৩০
  3. ৪৫
  4. ৬০
ব্যাখ্যা
♦তামাদি আইন, ১৯০৮ মতে স্বল্প এখতিয়ারসম্পন্ন আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে রিভিউ বা পুনরীক্ষণ করার তামাদির মেয়াদ ১৫ দিন [১৬১ অনুচ্ছেদ] এবং হাইকোর্ট বিভাগ কর্তৃক মূল এখতিয়ার প্রয়োগকালে প্রদত্ত রায় পুনরীক্ষণের জন্য দরখাস্ত দাখিলের সময় ২০ দিন [১৬২ অনুচ্ছেদ] এবং দেওয়ানী আদালতে দেওয়ানী কার্যবিধির অধীন রিভিউ করার তামাদির মেয়াদ ৯০ দিন [১৭৩ অনুচ্ছেদ]।
৯৬.
একজন বার কাউন্সিল সদস্যের পদ শূণ্য হয় না-
  1. পদত্যাগ করলে
  2. চেয়ারম্যানের অনুমতি ব্যতিত পর পর তিনটি মিটিংয়ে অনুপস্থিত থাকলে
  3. ফৌজদারিমামলায় কারাদন্ড প্রাপ্ত হলে
  4. আইনজীবীর তালিকা থেকে পসৃত হলে
ব্যাখ্যা
♦The Bangladesh Legal Practitioners & Bar Council Rules, 1972 এর ৯১ বিধি অনুসারে, বার কাউন্সিল সদস্যের পদ শূন্য হবে যদি সে বার কাউন্সিলের সচিবের নিকট পদত্যাগ পত্র দাখিল করে পদত্যাগ করে বা আইনজীবীর তালিকা থেকে অপসারিত হয় বার কাউন্সিলের চেয়ারম্যানের অনুমতি ব্যতীত পর পর ৩টি মিটিং-এ অনুপস্থিত থাকে বা তিনি সুপ্রীম কোর্টের বিচারক হিসাবে পদোন্নত হয়।
♦অর্থাৎ ফৌজদারিমামলায় কারাদন্ড প্রাপ্ত হলে একজন বার কাউন্সিল সদস্যের পদ শূণ্য হয় না।
৯৭.
বার কাউন্সিল কর্তৃক গঠিত ট্রাইব্যুনালের কোন এখতিয়ার নেই -
  1. দেওয়ানি কার্যাবিধির কোনো দলিল উপস্থাপনের আদেশ দেওয়া
  2. হাইকোর্ট বিভাগের অনুমতিক্রমে কোনো আদালতের বিচারককে হাজির হতে বলা
  3. এখতিয়ার সম্পন্ন দেওয়ানি আদালতের মাধ্যমে বিরোধীয় বিষয়বস্তু জব্দ করা
  4. জারির উদ্দেশ্যে দেওয়ানি আদালত বরাবর সমন পাঠানো
ব্যাখ্যা
♦The Bangladesh Legal Practitioners & Bar Council Order, 1972 এর ৩৫ অনুচ্ছেদ অনুসারে কোন ব্যক্তিকে হাজির করতে বা দলিল দাখিলের ক্ষেত্রে বা সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণের উদ্দেশ্যে দেওয়ানী আদালতের যেরূপ ক্ষমতা আছে বার কাউন্সিল কর্তৃক গঠিত ট্রাইব্যুনালের সেই একই ক্ষমতা আছে। শর্ত হলো দেওয়ানী আদালতের মূলকর্তাকে বা বিচারককে [presiding officer] হাজির হতে বলার ক্ষমতা বার কাউন্সিল কর্তৃক গঠিত ট্রাইব্যুনালের থাকবে না। কিন্তু হাইকোর্ট বিভাগের পূর্বানুমতি নিয়ে দেওয়ানী আদালতের বিচারককে হাজির হতে বলতে পারবে বা ফৌজদারী আদালত বা রাজস্ব আদালতের কর্মকর্তার বা বিচারকের ক্ষেত্রে সরকারের পূর্বানুমতি নিয়ে হাজির হতে বলতে পারে।
৯৮.
নিম্নের কোন আচরণ একজন আইনজীবীর পেশাগত সদাচরণের লংঘন?
  1. পেশার প্রসারের উদ্দেশ্যে পত্রিকায় বিজ্ঞাপন প্ৰকাশ
  2. পেশার প্রসারের উদ্দেশ্যে বেতনভূক্ত সহকারী রাখা
  3. নিজের পরিচালনাধীন মামলা সংশ্লিষ্ট বিচারিক নিলামে ক্রেতা
  4. সবগুলো
ব্যাখ্যা
♦আইনজীবীদের জন্য অনুসৃত পেশাগত সদাচরণ ও নিয়মানুবর্তীতা (Canons of professional conduct and etiquettel এর অধ্যায় ১ এর ২ বিধি অনুসারে, কোন আইনজীবী তার পেশার প্রসারের উদ্দেশ্যে বিজ্ঞাপন কিংবা অন্য কোন উপায়ে পেশাগত নিয়োগ কিংবা দায়িত্ব লাভের চেষ্টা করতে পারবেনা। তবে প্রকাশনা, পেশাগত কার্ড, নামফলক বা প্রচালিত ডাইরেক্টরী ব্যবহার করতে পারবে।
♦অন্যদিকে, অধ্যায় ০২ এর বিধি ৫ অনুসারে, একজন আইনজীবী কোন উইল কিংবা ঋণের জন্য বন্ধককৃত কিংবা বিচারিক রায়ে নিলামকৃত সম্পত্তি নিজ নামে কিংবা বেনামে ক্রয় কিংবা পারিশ্রমিকের পরিবর্তে উক্ত সমুদয় সম্পত্তি কিংবা আংশিক সম্পত্তি গ্রহন করতে পারবেনা, যদি তিনি উক্ত সম্পত্তি সংক্রান্ত মামলার কোন পক্ষের আইনজীবী হিসাবে মামলা পরিচালনায় অংশগ্রহণ করে থাকে।
৯৯.
একজন আইনজীবীর ফি নির্ধারণের ক্ষেত্রে নিম্নের কোনটি বিবেচ্য বিষয় নয়?
  1. দায়িত্ব পালনে ব্যয়িত সময় ও শ্রম
  2. সংশ্লিষ্ট মামলায় দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে অন্য পেশাগত দায়িত্ব
  3. বিরোধীয় বিষয়বস্তুর মূল্যের তুলনায় মামলায় মক্কেলের লাভ
  4. অতিরিক্ত ফি প্রদানের মক্কেলের সক্ষমতা
ব্যাখ্যা
♦অচরণবিধি এর অধ্যায় ২, বিধি ১০ তে বলা আছে ফি নির্ধারণের ক্ষেত্রে একজন আইনজীবী তার পরামর্শ ও সেবারজন্য নিজের অতি মূল্যায়ন কিংবা অবমূল্যায়ন করবেনা। যদি কোন বিরোধপূর্ন সম্পত্তির মূল্য বিবেচনায় আইনজীবীর ফি কম বা না হওয়া যৌক্তিক হয়, সেক্ষেত্রে মক্কেলের সক্ষমতার কারণে উচ্চহারে ফি আদায় করা সমীচীন নহে। ফি নির্ধারনের ক্ষেত্রে সহআইনজীবীর পক্ষ হতে কোন যৌক্তিক অনুরোধ করা হলে তা সহৃদয়তার সাথে বিশেষ ভাবে বিবেচনা করতে হবে। কোন আইনজীবীর বিধবা স্ত্রী কিংবা তার এতিম সন্তানদের আইনী সহায়তা দেওয়ার প্রয়োজন হলে কোনরুপ ফি ব্যতিরেকে তাদেরকে আইনী সহায়তা দিতে হবে। ফি নির্ধারণের ক্ষেত্রে নিম্ন বর্ণিত বিষয়সমূহ বিবেচনায় রাখা সমীচীন হবে :
i) মামলার বিষয়বস্তুর নতুনত্ব, অভিনবত্ব ও প্রশ্নের জটিলতা নিরসনে কিরুপ দক্ষতা, শ্রম এবং সময় বিনিয়োগ করতে হবে।
ii) কোন মামলায় আইনীসেবা দেওয়ার জন্য নিয়োগপ্রাপ্ত হলে তা উক্ত আইনজীবীর জন্য অন্য মামলায় অংশগ্রহনের ক্ষেত্রে কোন প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করবে কিনা কিংবা উক্ত মামলায় তার সম্পৃক্ততা না হলে ভাল হতো কিংবা উক্ত মামলায় তার অংশ গ্রহনের ফলে অন্য একটি মামলায় তার ক্ষতি হবে না।
iii) সদৃশ মামলা পরিচালনার ক্ষেত্রে আইনজীবী সমিতিতে ফি নেওয়ার কি নিয়ম প্রচলিত আছে।
iv)মামলার বিরোধপূর্ণ বিষয়ের মূল্যমান ও মামলার ফলাফলে মক্কেল কী পরিমাণ সুফল লাভ করবে।
v) ক্ষতিপূরণ প্রাপ্তিতে কিরুপ অনিশ্চয়তা কিংবা নিশ্চয়তা বিদ্যমান, এবং 
vi. আইনীসেবা দেওয়ার জন্য নিয়োগের ধরণ অর্থাৎ উক্ত নিয়োগ সাময়িক নাকি দীর্ঘমেয়াদী। উপরোক্ত বিষয়ের কোনটিই ফি নির্ধারণের ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রক হিসাবে কাজ করেনা বরং সেবার প্রকৃত মূল্য নির্ধারণের ক্ষেত্রে নির্দেশনা হিসাবে কাজ করে।
ফি নির্ধারণের ক্ষেত্রে ইহা ভুললে চলবেনা যে, আইন পেশা সুবিচার নিশ্চিত করার একটি পেশা, উক্ত পেশা কেবল মাত্র অর্থ উপার্জনের কোন পেশা নহে।
১০০.
বার কাউন্সিল নির্বাচনের জন্য কমপক্ষে _________ দিন পূর্বে নির্বাচনসূচি প্রকাশের বাধ্যবাধকতা রয়েছে ।
  1. ১৫
  2. ৩০
  3. ৪৫
  4. ৬০
ব্যাখ্যা
♦ বাংলাদেশ লিগ্যাল প্রাক্টিশনারস এণ্ড বার কাউন্সিল রুল, ১৯৭২ এর ৩ বিধিতে বলা হয়েছে বার কাউন্সিলের নির্বাচনের সর্বনিম্ন ৪৫ দিন পূর্বে বার কাউন্সিলের চেয়ারম্যান নির্বাচনের তফসিল প্রকাশ করবে।