পরীক্ষা আর্কাইভ

১৪০ দিনে ৫১তম বিসিএস প্রস্তুতি

পরীক্ষা১৪০ দিনে ৫১তম বিসিএস প্রস্তুতিতারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়17 minutes
মোট প্রশ্ন৪০
সিলেবাস
বিষয় - বাংলা ভাষা ও ব্যাকরণ টপিকসমূহ: ১. ধ্বনিতত্ত্ব [ণ-ত্ব ও ষ-ত্ব বিধান; সন্ধি] ২. শব্দপ্রকরণ [লিঙ্গ/পুরুষবাচক-স্ত্রীবাচক শব্দ; সংখ্যাবাচক শব্দ; দ্বিরুক্ত বাচক শব্দ/শব্দ দ্বিত্ব; বচন; পদাশ্রিত নির্দেশক।] এবং বিষয় - আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি টপিক - আন্তর্জাতিক সংগঠন এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠান i) জাতিসংঘ - History, মূল সংস্থা, প্রতিষ্ঠার সাথে জড়িত ব্যক্তি, জাতিসংঘ ও বাংলাদেশ, জাতিসংঘ ও নোবেল পুরস্কার, শান্তিরক্ষা কার্যক্রম (গুরুত্বপূর্ণগুলো), জাতিসংঘ মিশন সমূহ; ii) Bretton Woods - সংস্থাসমূহ [বিশ্বব্যাংক ও বিশ্বব্যাংক গ্রুপ, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল ও GATT/WTO)। ------------------------- [এই রুটিনে সারাবছর জুড়ে পরীক্ষা চলমান থাকে। আজ বা যেকোন সময় পরীক্ষা শুরু করা হলেও নির্দিষ্ট সময়ে পুরো সিলেবাস সম্পন্ন হবে]
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

১৪০ দিনে ৫১তম বিসিএস প্রস্তুতি

১৪০ দিনে ৫১তম বিসিএস প্রস্তুতি · তারিখ অনির্ধারিত · ৪০ প্রশ্ন

.
'আশ্চর্য' শব্দটির সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. আশ + চর্য
  2. আ + চর্য
  3. আশ্‌ + অর্য
  4. আঃ + চর্য
সঠিক উত্তর:
আ + চর্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আ + চর্য
ব্যাখ্যা
• 'আশ্চর্য' শব্দের সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ - আ + চর্য।
- এটি নিপাতনে সন্ধি বিচ্ছেদের উদাহরণ।
-----------------------
• নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি:
কতগুলাে সন্ধি কোনাে নিয়মে সাধিত হয় না এমন সন্ধিকে নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি বলে।

•নিচে কতগুলো নিপাতনে সিদ্ধ ব্যঞ্জন সন্ধির উদাহরণ দেয়া হলো: 
- বন্ + পতি = বনস্পতি,
- ষট্ + দশ = ষােড়শ,
- বৃহৎ + পতি = বৃহস্পতি,
- মনস্ + ঈষা = মনীষা,
- এক + দশ = একাদশ।
- পর্ + পর = পরস্পর
- আ + চর্য = আশ্চর্য,
- গাে + পদ = গােষ্পদ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
.
শব্দদ্বিত্ব কত প্রকার?
  1. দুই প্রকার
  2. তিন প্রকার
  3. চার প্রকার
  4. ছয় প্রকার
সঠিক উত্তর:
তিন প্রকার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তিন প্রকার
ব্যাখ্যা
• শব্দদ্বিত্ব:
- অভিন্ন বা সামান্য পরিবর্তিত হয়ে দুইবার ব্যবহৃত হওয়া শব্দকে শব্দদ্বিত্ব বলে।

• শব্দ দ্বিত্ব তিন প্রকার।
যথা:

• অনুকার দ্বিত্ব:
- পরপর প্রয়োগ হওয়া কাছাকাছি চেহারার শব্দকে অনুকার দ্বিত্ব বলে।
- এতে প্রথম শব্দটি অর্থপূর্ণ হলেও প্রায় ক্ষেত্রে দ্বিতীয় শব্দটি অর্থহীন হয় এবং প্রথম শব্দের অনুকরণে তৈরি হয়।
- এই অনুকরণ প্রক্রিয়ায় দ্বিতীয় শব্দের শুরুতে ট, ফ, ব, ম, শ প্রভৃতি ধ্বনি যুক্ত থাকতে দেখা যায়।
- তাতে শব্দের খানিকটা অনির্দিষ্ট, সাধারণ বা গুরুত্বহীন করা হয়।
যেমন: অঙ্ক-টঙ্ক, ঝাল-টাল, মোটা-সোটা, নরম-সরম, ব্যাপার-স্যাপার, বুঝে-সুঝে, অল্প-সল্প, বুদ্ধি-শুদ্ধি, গুটি-শুটি, আম-টাম।

• ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব:
- কোনো প্রাকৃতিক ধ্বনির অনুকরণে যেসব শব্দ তৈরি হয় , সেগুলোকে ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব বলে।
যেমন: টুং টুং, ঠুক ঠুক, শোঁ শোঁ, খক খক, দুম দুম, হিস হিস, শোঁ শোঁ, ফুসুর ফুসুর।

• পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব:
- পুনরায় আবৃত্ত হলে তাকে পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব বলে।
যেমন: জ্বর জ্বর, পর পর, কবি কবি, কথায় কথায়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
.
নিচের কোন সন্ধি বিচ্ছেদটি সঠিক নয়?
  1. অতি + ইত = অতীত
  2. অভি + ঈষ্ট = অভীষ্ট
  3. প্রতি + ইতি = প্রতীতি
  4. অতি + ইন্দ্র = অতীন্দ্র
সঠিক উত্তর:
অভি + ঈষ্ট = অভীষ্ট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অভি + ঈষ্ট = অভীষ্ট
ব্যাখ্যা
• "অভি + ঈষ্ট = অভীষ্ট" ; সন্ধি বিচ্ছেদটি সঠিক নয়।
- এর সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ: "অভি + ইষ্ট= অভীষ্ট"।
-------------------- 
স্বরসন্ধির নিয়মে গঠিত কিছু শব্দ হলো:

• সূত্র: ই + ই = ঈ:
- অতি + ইত = অতীত,
- অভি + ইষ্ট= অভীষ্ট,
- প্রতি + ইতি = প্রতীতি,
- অতি + ইন্দ্র = অতীন্দ্র।

• সূত্র: ই + ঈ = ঈ:
- গিরি + ঈশ = গিরীশ,
- অধি+ ঈশ্বর = অধীশ্বর,
- ক্ষিতি + ঈশ = ক্ষিতীশ,
- অভি + ঈপ্সা = অভীপ্সা।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
.
কোনটি পরিমাপের ক্ষেত্রে সংখ্যাশব্দের ব্যবহার করা হয়?
  1. দূরত্ব
  2. দৈর্ঘ্য
  3. আয়তন
  4. সবগুলোই
সঠিক উত্তর:
সবগুলোই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবগুলোই
ব্যাখ্যা
• সংখ্যাবাচক শব্দ:
- যেসব শব্দ দিয়ে সংখ্যা বোঝায়, সেগুলোকে সংখ্যাবাচক শব্দ বা সংখ্যাশব্দ বলে।
- দূরত্ব, দৈর্ঘ্য, আয়তন, খণ্ড, তাপমাত্রা ইত্যাদি পরিমাপের ক্ষেত্রে সংখ্যাশব্দের ব্যাপক ব্যবহার হয়।
- সংখ্যাশব্দ দুই রকমের: ক্রমবাচক ও পূরণবাচক।
• ক্রমবাচক: এক, দুই, তিন।
• পূরণবাচক: প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
.
'তনূর্ধ্ব' এর সন্ধি বিচ্ছেদ -
  1. তনু + ঊর্ধ্ব
  2. তনু + উর্ধ্ব
  3. তনূ + উর্ধ্ব
  4. তনুঃ + উর্ধ্ব
সঠিক উত্তর:
তনু + ঊর্ধ্ব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তনু + ঊর্ধ্ব
ব্যাখ্যা
সন্ধির নিয়ম:
• প্রথম পদের শেষের হষ-উ বা দীর্ঘ-ঊ ধ্বনির সঙ্গে দ্বিতীয় পদের প্রথম হ্রষ-উ বা দীর্ঘ-উ ধ্বনির যোগে দীর্ঘ-ঊ হয়। বানানে তা দীর্ঘ-উ-কার হয়ে আগের বর্ণের সঙ্গে যুক্ত হয়।
যেমন:
- লঘু + উর্মি = লঘূর্মি,
- তনু + ঊর্ধ্ব = তনূর্ধ্ব,
- বধূ + উক্তি = বধূক্তি,
- বধূ + উৎসব = বধূৎসব,
- বধূ + উচিত = বধূচিত,
- ভূ + উর্ধ্ব = ভূর্ধ্ব,
- সরযূ + উর্মি = সরযূর্মি ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
.
"ঋ, র, ষ - এর পরে মূর্ধন্য ‘ণ’ হয়" - এই সূত্র অনুসারে গঠিত শব্দ কোনটি?
  1. রুক্সিণী
  2. বর্ণ
  3. কৃপণ
  4. ব্রাহ্মণ
সঠিক উত্তর:
বর্ণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বর্ণ
ব্যাখ্যা
• ঋ, র, ষ - এর পরে মূর্ধন্য ‘ণ’ হয়।
যেমন:
- ঋণ, তৃণ, বর্ণ, বর্ণনা, কারণ, মরণ, ভীষণ, ভাষণ, উষ্ণ, ব্যাকরণ ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- ঋ, র, ষ - এর পরে স্বরধ্বনি, ষ, য়, ব, হ,ং এবং ক - বর্গীয় ও প - বর্গীয় ধ্বনি থাকলে তার পরবর্তী 'ন' মূর্ধন্য 'ণ' হয়।
যেমন:
- কৃপণ (ঋ-কারের পরে প্‌, তার পরে ণ), হরিণ (র-এর পরে ণ,) এরূপ- রুক্সিণী, ব্রাহ্মণ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
.
"পহেলা" কোন ধরনের পূরণবাচক সংখ্যাশব্দ?
  1. সাধারণ
  2. তারিখ
  3. ভগ্নাংশ
  4. ক্রমবাচক
সঠিক উত্তর:
তারিখ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তারিখ
ব্যাখ্যা
সংখ্যা শব্দ দুই প্রকার:
যথা-
- ক্রমবাচক শব্দ,
- পূরণবাচক শব্দ।

ক্রমবাচক সংখ্যাশব্দ:
- একের পর এক যে সংখ্যাগুলো আসে, সেগুলো ক্রমবাচক সংখ্যাশব্দ বলে।
যেমন:
- এক, দুই, তিন, চার, পাঁচ ইত্যাদি। 

পূরণ বাচক সংখ্যাশব্দ:
- পূরণবাচক সংখ্যাশব্দ দিয়ে কোনো সংখ্যার ক্রমিক অবস্থান ও পরিমাণকে বোঝায়।
- পূরণবাচক শব্দ তিন ধরনের হয়।
যেমন:
- সাধারণ পূরণবাচক: প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয় , চতুর্থ ইত্যাদি। 
- তারিখ পূরণবাচক: পহেলা, দোসরা, তেসরা, চৌঠা ইত্যাদি। 
- ভগ্নাংশ পূরণবাচক: আধ, সাড়ে পোয়া, দেড় আড়াই তেহাই, চৌথ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
.
'স্বাগত' শব্দটি কোন সন্ধি?
  1. বিসর্গসন্ধি
  2. স্বরসন্ধি
  3. নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি
  4. ব্যঞ্জনসন্ধি
সঠিক উত্তর:
স্বরসন্ধি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্বরসন্ধি
ব্যাখ্যা
• 'স্বাগত' শব্দটি স্বরসন্ধির উদাহরণ।

স্বরসন্ধির নিয়ম:
- উ-কার কিংবা ঊ-কারের পর উ-কার কিংবা ঊ-কার ভিন্ন অন্য স্বর থাকলে উ বা ঊ স্থানে ব-ফলা হয় এবং লেখার সময় ব-ফলা পূর্ববর্তী বর্ণের সাথে লেখা হয়।

যেমন-
- সু + অল্প = স্বল্প
- অনু + এষণ = অন্বেষণ,
- তনু + ঈ = তন্বী,
- অনু + ইত = অন্বিত,
- সু + আগত = স্বাগত ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
.
'নিয়ম' শব্দের বহুবচনে কোন লগ্নক ব্যবহৃত হয়?
  1. সব
  2. আবলি
  3. মালা
  4. কুঞ্জ
সঠিক উত্তর:
আবলি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আবলি
ব্যাখ্যা
• একের বেশি সংখ্যা বোঝাতে যেসব লগ্নক বিশেষ্য বা সর্বনামের সঙ্গে যুক্ত হয়, সেগুলোকে বচন বলে।
- যেসব শব্দের সঙ্গে বহুবচন লগ্নক যুক্ত হয় না, সেগুলোকে একবচন শব্দ এবং যেগুলোর সঙ্গে বহুবচন লগ্নক যুক্ত হয় সেগুলোকে বহুবচন শব্দ বলা হয়।

• প্রাণী বা বস্তুর নামকে বহুবচন করতে ‘সব’, ‘সমূহ’, ‘আবলি’, ‘মালা' ইত্যাদি লগ্নক যােগ করতে হয়।
যেমন:
সব - ভাইসব, পাখিসব।
সমূহ - গ্রন্থসমূহ, বৃক্ষসমূহ।
আবলি - নিয়মাবলি, রচনাবলি।
মালা - মেঘমালা, পর্বতমালা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১০.
"ণ-ত্ব ও ষ-ত্ব বিধান" অনুসারে কোন বানানটি শুদ্ধ?
  1. মাস্টার
  2. পোশাক
  3. ধূলিসাৎ
  4. সবগুলোই
সঠিক উত্তর:
সবগুলোই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবগুলোই
ব্যাখ্যা
যে সব ক্ষেত্রে ষ-ত্ব বিধান প্রযোজ্য নয়:
• আরবি, ফারসি, ইংরেজি ইত্যাদি বিদেশি ভাষা থেকে আগত শব্দে য হয় না। এ সম্বন্ধে সতর্ক হতে হবে। যেমন- জিনিস, পোশাক, মাস্টার, পোস্ট ইত্যাদি।

• সংস্কৃত 'সাৎ' প্রত্যয়যুক্ত পদেও 'ষ' হয় না।
যেমন- অগ্নিসাৎ, ধূলিসাৎ, ভূমিসাৎ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১১.
বিদেশি স্ত্রীবাচক শব্দ কোনটি?
  1. খানম
  2. জেনানা
  3. মালেকা
  4. সবগুলোই
সঠিক উত্তর:
সবগুলোই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবগুলোই
ব্যাখ্যা
বিদেশি স্ত্রীবাচক শব্দ:
- যেসব স্ত্রীবাচক শব্দ বিদেশি ভাষা থেকে আগত তাদের কে বিদেশি স্ত্রীবাচক শব্দ বলে।
যেমন-
- খান - খানম,
- মরদ - জেনানা,
- মালেক - মালেকা,
- মুহতারিম - মুহাতারিমা,
- সুলতান - সুলতানা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৮ সংস্করণ)।
১২.
'বৃষ্টির ঝমঝমানি আমাদের অস্থির করে তোলে।'- এখানে ধ্বন্যাত্মক দ্বিরুক্তিটি কোন পদ নির্দেশ করছে?
  1. বিশেষ্য
  2. বিশেষণ
  3. ক্রিয়া
  4. ক্রিয়া বিশেষণ
সঠিক উত্তর:
বিশেষ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিশেষ্য
ব্যাখ্যা
• ধ্বন্যাত্মক দ্বিরুক্তি:
- কোনো কিছুর স্বাভাবিক বা কাল্পনিক অনুকৃতিবিশিষ্ট শব্দের রূপকে ধ্বন্যাত্মক শব্দ বলে।
- এ জাতীয় ধ্বন্যাত্মক শব্দের দুইবার প্রয়োগের নাম ধ্বন্যাত্মক দ্বিরুক্তি।
- ধ্বন্যাত্মক দ্বিরুক্তি দ্বারা বহুত্ব, আধিক্য ইত্যাদি বোঝায়। 

• বিভিন্ন পদরূপে ধ্বন্যাত্মক দ্বিরুক্ত শব্দের ব্যবহার:
- বিশেষ্য: বৃষ্টির ঝমঝমানি আমাদের অস্থির করে তোলে।
- বিশেষণ: 'নামিল নভে বাদল ছলছল বেদনায়।'
- ক্রিয়া: কলকলিয়ে উঠল সেথায় নারীর প্রতিবাদ।
- ক্রিয়া বিশেষণ: 'চিকচিক করে বালি কোথা নাহি কাদা।'

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৩.
'পাবক' এর সন্ধি বিচ্ছেদ -
  1. পয়ঃ + অক
  2. পৌ + য়ক
  3. পৌ + অক
  4. পৌ + ইক
সঠিক উত্তর:
পৌ + অক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পৌ + অক
ব্যাখ্যা
• সন্ধি বিচ্ছেদ:
- এ, ঐ, ও, ঔ- কারের পরে এ, ঐ স্থানে যথাক্রমে অয়, আয় এবং ও, ঔ স্থানে যথাক্রমে অব্‌, আব্‌ হয়।
যেমন,
- ভৌ + উক = ভাবুক,
- পৌ + অক = পাবক,
- গো + আদি = গবাদি,
- গো + এষণা = গবেষণা,
- পো + ইত্র = পবিত্র,
- নৌ + ইক = নাবিক ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৪.
'কবি কবি' কোন ধরনের দ্বিরুক্ত শব্দ -
  1. বিভক্তিযুক্ত দ্বিত্ব
  2. অনুকার দ্বিত্ব
  3. পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব
  4. ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব
সঠিক উত্তর:
পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব
ব্যাখ্যা
• পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব:
- পুনরায় আবৃত্ত হলে তাকে পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব বলে।
- পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব বিভক্তিহীন বা বিভক্তিযুক্ত হতে পারে।
যেমন- জ্বর জ্বর, পর পর, কবি কবি, হাতে হাতে, কথায় কথায়, জোরে জোরে ইত্যাদি।

• বিভক্তিহীন পুনরাবৃত্ত:
ভালো ভালো (কথা), কত কত (লোক), হঠাৎ হঠাৎ (ব্যথা), ঘুম ঘুম (চোখ), উড়ু উড়ু (মন), গরম গরম (জিলাপি), হায় হায় (করা)।

• বিভক্তিযুক্ত পুনরাবৃত্ত:
কথায় কথায় (বাড়া), মজার মজার (কথা), ঝাঁকে ঝাঁকে (চলা), চোখে চোখে (রাখা), মনে মনে (হাসা), সুরে সুরে (বলা), পথে পথে (হাঁটা)।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১৫.
কোন নির্দেশকটি একবচনে ব্যবহৃত হয়?
  1. গুলা
  2. গুলি
  3. গুলো
  4. খানি
সঠিক উত্তর:
খানি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খানি
ব্যাখ্যা
• একবচনে ব্যবহৃত পদাশ্রিত নির্দেশক- 'খানি'।

• একবচনে- টা, টি, খানা, খানি, গাছা ইত্যাদি নির্দেশক ব্যবহৃত হয়।
যেমন: টাকাটা, বাড়িটা, বইখানি ইত্যাদি।

• বহুবচনে- গুলি, গুলা, গুলো ইত্যাদি নির্দেশক সংযুক্ত হয়।
যেমন: মানুষগুলি, লোকগুলো, আমগুলো ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৬.
ক্ষুদ্রার্থে 'ইকা' প্রত্যয়যোগে স্ত্রীবাচক শব্দ নয় কোনটি?
  1. অধ্যাপিকা
  2. পুস্তিকা
  3. মালিকা
  4. নাটিকা
সঠিক উত্তর:
অধ্যাপিকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অধ্যাপিকা
ব্যাখ্যা
• ক্ষুদ্রার্থে 'ইকা' প্রত্যয় যোগে গঠিত স্ত্রীবাচক শব্দ। 
- নাটক - নাটিকা;
- মালা - মালিকা; 
- গীত - গীতিকা;
- পুস্তক - পুস্তিকা। 
(এগুলো স্ত্রী প্রত্যয় নয়, ক্ষুদ্রার্থক প্রত্যয়।)

অন্যদিকে,
অধ্যাপক - অধ্যাপিকা; ক্ষুদ্রার্থে 'ইকা' প্রত্যয়যোগে গঠিত স্ত্রীবাচক শব্দ নয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৭.
"গাছা, গাছি" - এসব পদাশ্রিত নির্দেশকের ব্যবহার লক্ষ্য করা যায়-
  1. মোটা ও খাটো পদার্থের ক্ষেত্রে
  2. সরু বা চিকন এবং লম্বা জিনিসের ক্ষেত্রে
  3. তুচ্ছার্থক পদার্থের ক্ষেত্রে
  4. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
সরু বা চিকন এবং লম্বা জিনিসের ক্ষেত্রে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সরু বা চিকন এবং লম্বা জিনিসের ক্ষেত্রে
ব্যাখ্যা
• পদাশ্রিত নির্দেশক: 
- গাছ, গাছা, গাছি সাধারণত সরু বা চিকন এবং লম্বা জিনিসের ক্ষেত্রে এসব পদাশ্রিত নির্দেশকের ব্যবহার লক্ষ্য করা যায়।
যেমন- মালাগাছি, চুড়িগাছ, লাঠিগাছা, সুতোগাছি ইত্যাদি।

- সরু জিনিস লম্বায় ছোট হলে এসব নির্দেশক পদ ব্যবহৃত হয় না। যেমন- সুইগাছি, কাঁটা (উলের কাঁ) গাছা হয় না।

- জীববাচক পদার্থের এসব পদাশ্রিত নির্দেশকের ব্যবহার নেই। যেমন সাপ, কেঁচো, লম্বা এবং সরু হলেও কেউ সাপগাছি, কেঁচোগাছা বলবে না।

• 'গোটা এক বচনবাচক শব্দটি আগে বসিয়ে খানা, খানি যোগ করে কোন জিনিসকে নির্দিষ্ট করা যায়। যেমন- গোটা আমখানা খেতে হবে কিন্তু।

উৎস : ভাষা-শিক্ষা - ড. হায়াৎ মামুদ, বাংলা একাডেমির ব্যাকরণ, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাকরণ।
১৮.
জাতিসংঘের পতাকার রং কী?
  1. লাল ও সাদা
  2. সবুজ ও সাদা
  3. নীল ও সাদা
  4. কালো ও সাদা
সঠিক উত্তর:
নীল ও সাদা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নীল ও সাদা
ব্যাখ্যা
জাতিসংঘের পতাকা:
- জাতিসংঘের পতাকা সারা বিশ্বের মানুষের জন্য উচ্চাকাঙ্ক্ষার প্রতীক।
- জাতিসংঘের মূল প্রতীকটি ১৯৪৫ সালে জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক সংস্থার সম্মেলনের সময় ডিজাইনারদের একটি দল দ্বারা তৈরি করা হয়েছিল।
- জাতিসংঘ পতাকা গৃহীত হয়: ৭ ডিসেম্বর ১৯৪৬।
- জাতিসংঘের পতাকার রং নীল ও সাদা।
- পতাকার জমিন নীল এবং মাঝখানে পৃথিবীর মানচিত্র।
- মানচিত্রের ২ পাশে সাদা রং-এর জলপাই গাছের দু'টি ডাল।
- জলপাই পাতাকে শান্তির প্রতীক বলা হয়।
- নীল ঢ়ং যুদ্ধের লাল রঙের বিপরীতে শান্তির প্রতীক হিসেবে প্রতিনিধিত্ব করে।
- জাতিসংঘের পতাকার ডিজাইন দলের নেতৃত্বে ছিলেন অলিভার লিঙ্কন লুন্ডকুইস্ট।

উৎস: UN ওয়েবসাইট।
১৯.
SDR এর মূল্য নির্ধারিত হয় কোন ভিত্তিতে?
  1. IMF-এর পরিচালকের ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী
  2. আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সংগঠনের নীতি অনুযায়ী
  3. একটি দেশের মুদ্রার ভিত্তিতে
  4. পাঁচটি প্রধান মুদ্রার একত্রিত মানের ভিত্তিতে
সঠিক উত্তর:
পাঁচটি প্রধান মুদ্রার একত্রিত মানের ভিত্তিতে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পাঁচটি প্রধান মুদ্রার একত্রিত মানের ভিত্তিতে
ব্যাখ্যা
SDR:
- SDR-এর পূর্ণরূপ: Special Drawing Rights.
- SDR হলো আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (IMF) দ্বারা তৈরি একটি বিশেষ ধরনের মুদ্রা।
- এটা কোনো দেশের স্থানীয় মুদ্রা নয় বরং একটি আন্তর্জাতিক "মুদ্রা ইউনিট" যা বিভিন্ন দেশ তাদের আর্থিক প্রয়োজন মেটাতে ব্যবহার করতে পারে।
- এটা এমনভাবে তৈরি হয়েছে যেন বিশ্বের দেশগুলো একে ব্যবহার করে তাদের অর্থনৈতিক সমস্যা সমাধান করতে পারে।
- উদাহরণ হিসেবে, যদি কোনো দেশের মুদ্রার দাম কমে যায় বা তারা আর্থিক সংকটে পড়ে, তখন তারা SDR ব্যবহার করে IMF থেকে সাহায্য নিতে পারে।

⇒ SDR এর মূল্য কয়েকটি প্রধান মুদ্রা: মার্কিন ডলার (USD), ইউরো (EUR), চীনা রেনমিনবি (CNY), জাপানি ইয়েন (JPY) এবং ব্রিটিশ পাউন্ড (GBP) ওপর নির্ভর করে।
- এটা সরাসরি কোনো দেশের মুদ্রার মতো ব্যবহার হয় না, কিন্তু আন্তর্জাতিক লেনদেন বা দেশগুলোর মধ্যে অর্থ সাহায্য দেওয়ার জন্য কাজ করে।
= অর্থাৎ, SDR হল IMF এর তৈরি একটি আন্তর্জাতিক মুদ্রা যা দেশের জন্য সাহায্য বা সংকট কাটাতে ব্যবহৃত হয়।
- এর মাধ্যমে একটি দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়ে যায়।
- নিয়মিত এসডিআরের মূল্যমান হালনাগাদ করা হয়।
- SDR-এর মান প্রতিদিন লন্ডনের সময় দুপুরের দিকে পর্যবেক্ষণ করা স্পট এক্সচেঞ্জ হারের উপর ভিত্তি করে নির্ধারণ করা হয়।
- IMF ১৯৬৯ সালে SDR গঠনতন্ত্র সংশোধন করেছিল।

উৎস: IMF ওয়েবসাইট।
২০.
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে প্রতিটি রাষ্ট্র সর্বোচ্চ কত জন প্রতিনিধি পাঠাতে পারে?
  1. ২ জন
  2. ৫ জন
  3. ৭ জন
  4. ১০ জন
সঠিক উত্তর:
৫ জন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৫ জন
ব্যাখ্যা
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ:
- জাতিসংঘের সকল সদস্য রাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ গঠিত।
- সাধারণ পরিষদের বর্তমান সদস্য সংখ্যা ১৯৩টি।
- সদস্য দেশগুলোর ভোটে নির্বাচিত সাধারণ পরিষদের সভাপতির মেয়াদ এক বছর।
- সাধারণত সেপ্টেম্বর মাসের ৩য় মঙ্গলবার নিউইয়র্কে সাধারণ পরিষদের অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়।
- জাতিসংঘ সনদের চতুর্থ অধ্যায় (৯ - ২২ নং অনুচ্ছেদ) এ জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ সম্পর্কে আলোকপাত করা হয়েছে।

⇒ জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে প্রতিটি রাষ্ট্র সর্বোচ্চ ৫ জন প্রতিনিধি পাঠাতে পারে।
- এই প্রতিনিধির মধ্যে সাধারণত একটি প্রধান প্রতিনিধি (অধিকাংশ ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপ্রধান, পররাষ্ট্রমন্ত্রী বা রাষ্ট্রদূত) এবং সহকারী প্রতিনিধি থাকতে পারে।
- তবে, প্রয়োজন অনুযায়ী, দেশটি আরও প্রতিনিধির উপস্থিতির অনুমতি পেতে পারে, তবে ৫ জনের বেশি প্রতিনিধির অনুমতি নেই।

উল্লেখ্য,
- জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের প্রথম অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়েছিল ১৯৪৬ সালের ২৩ অক্টোবর থেকে ১৬ ডিসেম্বর লন্ডনের ওয়েস্ট মিনিস্টার হলে (সেন্ট্রাল হল ওয়েস্টমিনিস্টার)।
- এই অধিবেশনে ৫১টি দেশ অংশগ্রহণ করেছিল, যা ছিল জাতিসংঘের প্রতিষ্ঠার পর প্রথম বৈঠক।

⇒ জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ তার ৭৯তম অধিবেশন:
- সেপ্টেম্বর, ২০২৪-এ জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৯তম অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়।
- জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৯তম অধিবেশনের সভাপতি ফিলেমন ইয়াং।
- ক্যামেরুনের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ফিলেমন ইয়াং জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৯তম অধিবেশনের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন।

উৎস: UN General Assembly ওয়েবসাইট।
২১.
GATT চুক্তির প্রধান লক্ষ্য কী ছিল?
  1. সামরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি করা
  2. প্রযুক্তি সম্প্রসারণ করা
  3. বাণিজ্যিক শুল্ক কমানো
  4. কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি করা
সঠিক উত্তর:
বাণিজ্যিক শুল্ক কমানো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাণিজ্যিক শুল্ক কমানো
ব্যাখ্যা
GATT:
- GATT-এর পূর্ণরূপ: General Agreement on Tariffs and Trade.
- প্রতিষ্ঠিত হয়: ১৯৪৭ সালে।
- কার্যকর হয়: ১৯৪৮ সালে। 

উল্লেখ্য,
- শুল্ক ও বাণিজ্য সম্পর্কিত সাধারণ চুক্তি বা GATT হলো অনেক দেশের মধ্যে একটি আইনি চুক্তি।
- এর সামগ্রিক উদ্দেশ্য ছিল শুল্ক (tariffs), কোটা (quotas) ও ভর্তুকির (subsidies) মতো বাণিজ্য বাধাগুলি হ্রাস বা দূর করে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের প্রশার করা।
- ১৯৪৭ সালের ৩০ অক্টোবর, ২৩টি দেশ GATT স্বাক্ষর করেছে।
- এই চুক্তির পিছনে উদ্দেশ্য ছিল দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার ও বিশ্ব বাণিজ্যকে পুনর্গঠন।
- এই চুক্তি কার্যকর হয়েছিল ১৯৪৮ সালের ১লা জানুয়ারী।
- ১৫ এপ্রিল, ১৯৯৪ সালে উরুগুয়ে রাউন্ডের সমাপ্তি হয় GATT চুক্তি সংশোধনের মাধ্যমে।
- এর ফলে World Trade Organization গঠনের সিদ্ধান্ত হয়।
- যার ফলে ১৯৯৫ সালে জন্ম হয় World Trade Organization (WTO)-এর।

উৎস: World Trade Organization ওয়েবসাইট।
২২.
১৯৬৫ সালের পূর্বে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের সদস্য সংখ্যা কত ছিল?
  1. ৫টি
  2. ৬টি
  3. ৯টি
  4. ১১টি
সঠিক উত্তর:
১১টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১১টি
ব্যাখ্যা
নিরাপত্তা পরিষদ (UN Security Council):
- জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের ১৫ সদস্য নিয়ে গঠিত।
- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের বিজয়ী পাঁচ পরাশক্তি নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য।
- স্থায়ী সদস্য: চীন, ফ্রান্স, রাশিয়া, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র।
- এই পাঁচ পরাশক্তিকে একত্রে পি-৫ নামে অভিহিত করা হয়।

⇒ নিরাপত্তা পরিষদের সুপারিশের ভিত্তিতে এর সাধারন পরিষদ কোন দেশকে নতুন সদস্য হিসাবে অন্তর্ভূক্ত করে।
- নিরাপত্তা পরিষদ জাতিংঘের মহাসচিব ও আন্তর্জাতিক আদালতের বিচারক নিয়োগের ক্ষেত্রেও সুপারিশ করে।
- মহাসচিব নিযুক্ত হন নিরাপত্তা পরিষদের সুপারিশক্রমে সাধারণ পরিষদের দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের ভোটে।

উল্লেখ্য,
- ১৯৬৫ সাল পর্যন্ত নিরাপত্তা পরিষদের মোট সদস্য সংখ্যা ছিলো ১১টি, এর মধ্যে ৫টি স্থায়ী এবং ৬টি অস্থায়ী।
- ১৯৬৩ সালের ১৭ ডিসেম্বর গৃহিত জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের A/RES/1991(XVIII) রেজ্যুলেশনের মাধ্যমে নিরাপত্তা পরিষদের অস্থায়ী সদস্য সংখ্যা ৬টি থেকে ১০টিতে উন্নীত করা হয়।
- এটি কার্যকর হয় ১৯৬৫ সালের ৩১ আগস্ট।
- ফলে ১৯৬৬ সাল থেকে নিরাপত্তা পরিষদের মোট সদস্য দাড়ায় ১৫টিতে।
- কোন প্রস্তাব পাশের জন্যে পাঁচটি স্থায়ীসহ মোট ৭টি সদস্য থেকে ৯টি সদস্যের বিধান গৃহিত হয়।
- ১৯৬৩ সালে সনদের ২৩নং অনুচ্ছেদ সংশোধনের মাধ্যমে নিরাপত্তা পরিষদের সদস্য ১১ থেকে বাড়িয়ে ১৫ করা হয় যা ১৯৬৫ সাল থেকে কার্যকর হয়।

⇒ জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের অস্থায়ী সদস্য নির্বাচিত হয় ২ বছরের জন্য।
- বর্তমানে নিরাপত্তা পরিষদের দশটি অস্থায়ী সদস্য দেশ হলো: ইকুয়েডর (২০২৪), জাপান (২০২৪), মাল্টা (২০২৪), মোজাম্বিক (২০২৪), সুইজারল্যান্ড (২০২৪), আলজেরিয়া (২০২৫), গায়ানা (২০২৫), কোরিয়া (২০২৫), সিয়েরা লিওন (২০২৫), স্লোভেনিয়া (২০২৫)।

উৎস: UN Security Council ওয়েবসাইট।
২৩.
বিশ্বব্যাংক কী ধরনের প্রকল্পে সহায়তা করে?
  1. মুক্তবাণিজ্য সম্প্রসারণ
  2. পরিবেশ সংরক্ষণ
  3. এইডস
  4. বর্ণিত সবগুলো
সঠিক উত্তর:
বর্ণিত সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বর্ণিত সবগুলো
ব্যাখ্যা
বিশ্বব্যাংক:
- বিশ্বব্যাংক গঠনের সিদ্ধান্ত হয় ১৯৪৪ সালের ৪ জুলাই।
- যুক্তরাষ্ট্রের নিউ হ্যাম্পশায়ার শহরে ২৯টি দেশ ব্রেটন উডস চুক্তিতে স্বাক্ষর করে।
- আনুষ্ঠানিক প্রতিষ্ঠা লাভ করে ২৭ ডিসেম্বর, ১৯৪৫ সালে।
- কার্যক্রম শুরু করে জুন, ১৯৪৬ সালে।
- বর্তমান সদস্য ১৮৯টি দেশ।
- সর্বশেষ সদস্য দেশ নাউরু; ১২ এপ্রিল, ২০১৬ সাল।
- সদরদপ্তর: ওয়াশিংটন ডি. সি, যুক্তরাষ্ট্র।
- বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট অজয় বঙ্গ।
- বিশ্বব্যাংক বলতে IBRD (International Bank for Reconstruction and Development) কে বুঝানো হয়।

⇒ বিশ্বব্যাংকের কাজ:
- বিশ্বব্যাংকের উদ্দেশ্য হলো ধনী ও দরিদ্র রাষ্ট্রসমূহের মধ্যকার অর্থনৈতিক বৈষম্য কমিয়ে আনা।
- বিশ্বব্যাংকের চেষ্টা থাকে ধনী রাষ্ট্রের সম্পদকে দরিদ্র রাষ্ট্রের প্রবৃদ্ধিতে রূপান্তর করা।
- দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য হলো, টেকসই দারিদ্র্য বিমোচন।
* দারিদ্র্যের সবচেয়ে বড় কারণ, যুদ্ধ। তাই সদ্য যুদ্ধ থেকে মুক্তি লাভ করা দেশসমূহকে পুনর্গঠনে সাহায্য করে বিশ্বব্যাংক।
* মধ্যম আয়ের দেশসমূহকে দারিদ্রমুক্ত থাকার পথ দেখানো।
* জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিরোধে রাষ্ট্রসমূহকে সাহায্য করা।
* এইডস থেকে মুক্তি।
* মুক্তবাণিজ্য সম্প্রসারণ।
* স্বল্প সুদে ঋণ প্রদান করা; সুদ মুক্ত ধার দেওয়া; অনুদান প্রদান; শিক্ষা, অবকাঠামো ইত্যাদির উন্নয়ন; রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক, কৃষি ইত্যাদি খাতের আধুনিকায়ন; প্রাকৃতিক সম্পদের ব্যবস্থাপনা ইত্যাদি কাজও করে থাকে বিশ্বব্যাংক।

উৎস: World Bank ওয়েবসাইট।
২৪.
ডাম্বারটন ওকস সম্মেলন কবে অনুষ্ঠিত হয়?
  1. ১৯৪১ সালে
  2. ১৯৪২ সালে
  3. ১৯৪৩ সালে
  4. ১৯৪৪ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯৪৪ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৪৪ সালে
ব্যাখ্যা
ডাম্বারটন ওকস সম্মেলন:
- ওয়াশিংটনের ডাম্বারটন ওকস ভবনে ২১ আগস্ট- ৭ অক্টোবর, ১৯৪৪ পর্যন্ত জাতিসংঘ গঠনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
- এই সম্মেলনের প্রধান উদ্দেশ্য ছিল জাতিসংঘের সংবিধান বা চার্টার তৈরির প্রক্রিয়া শুরু করা।
- অংশগ্রহণকারী দেশগুলি: সোভিয়েত ইউনিয়ন, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, চীন।
- এই চারটি দেশ ছিল দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের অন্যতম প্রধান মিত্র শক্তি এবং তাদের মধ্যে এই সম্মেলনে জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠার মূল কাঠামো নিয়ে আলোচনা করা হয়।

⇒ - এ সম্মেলনে জাতিসংঘের প্রস্তাব প্রথম প্রণীত ও গৃহীত হয়। প্রস্তাবগুলো হলো:
- জাতিসংঘ গঠনের রূপরেখা, লক্ষ্য ও দায়িত্ব নির্ধারণ,
- সমস্ত সদস্যদের সমন্বয়ে গঠিত একটি সাধারণ পরিষদ,
- এগারো সদস্যের একটি নিরাপত্তা পরিষদ (যার মধ্যে পাঁচটি স্থায়ী হবে এবং বাকি ছয়টি সাধারণ পরিষদ দ্বারা দুই বছরের মেয়াদের জন্য নির্বাচিত হবে),
- একটি আন্তর্জাতিক বিচার আদালত,
- একটি সচিবালয়।

অন্যদিকে,
- FAO প্রতিষ্ঠিত হয় - ভার্জিনিয়া সম্মেলন।
- ৫টি স্থায়ী রাষ্ট্রকে ভেটো প্রদানের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে -ইয়াল্টা সম্মেলন।
- ডাম্বারটন ওকস সম্মেলনে যা আলোচনা এবং সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছিল তা পরবর্তীতে সান ফ্রান্সিসকো সম্মেলন-এর ভিত্তি হিসেবে ব্যবহৃত হয়, যেখানে ১৯৪৫ সালে জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠার জন্য চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়।

উৎস: i) UN ওয়েবসাইট। 
ii) Britannica.
২৫.
ব্রেটন উডস সম্মেলনে নিম্নের কোন সংস্থাটি প্রতিষ্ঠিত হয়নি?
  1. আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (IMF)
  2. বিশ্বব্যাংক
  3. বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা (WTO)
  4. উপরের কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা (WTO)
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা (WTO)
ব্যাখ্যা
Bretton Woods Conference:
- ১৯৪৪ সালের ১-২২ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের নিউ হ্যাম্পশায়ার শহরে ব্রেটন উডস সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
- জার্মানি ও জাপানের প্রত্যাশিত পরাজয়ের পর যুদ্ধবিদ্ধস্ত দেশ সমূহের পুনর্গঠন ও আর্থিক সহায়তা এবং আন্তর্জাতিক বানিজ্যের রূপরেখা নির্ধারণের জন্য বিশ্বের ৪৪টি দেশের নেতারা এই সম্মেলনে অংশ নেন।
- এই সম্মেলনের প্রধান উদ্যোক্তা ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের হ্যারি ডেক্সটার হোয়াইট এবং ব্রিটিশ অর্থনীতিবিদ জন মেনার্ড কেইনস।
- তাদের দুই জনকে World Bank ও IMF- এর Founding Fathers বলা হয় ৷
- এই সম্মেলনের ফলে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (IMF) ও বিশ্বব্যাংক প্রতিষ্ঠিত হয়।

অন্যদিকে,
⇒ বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা World Trade Organization:
- বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা বা ওয়ার্ল্ড ট্রেড অর্গানাইজেশন (WTO) হলো একমাত্র আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান, যা বিভিন্ন দেশের মধ্যে বাণিজ্যের নিয়ম নিয়ে কাজ করে।
- এর কেন্দ্রস্থলে WTO চুক্তি রয়েছে।
- এই চুক্তিটি আলোচনার মাধ্যমে বিশ্বের বেশির ভাগ ব্যবসায়ী দেশগুলোর দ্বারা স্বাক্ষরিত হয় এবং তাদের সংসদে অনুমোদিত হয়।
- এর মূল লক্ষ্য হলো বৈদেশিক বাণিজ্য যতটা সম্ভব সাবলীল ও অবাধে করা যায়।

উৎস: i) World Bank Group.
ii) U.S. Department of State (.gov).
২৬.
জাতিসংঘের কোন মহাসচিবের সময়ে বাংলাদেশ জাতিসংঘের সদস্যপদ লাভ করে?
  1. উ থান্ট
  2. ড. বুট্রোস বুট্রোস ঘালি
  3. ট্রিগভেলী
  4. কুর্ট ওয়ার্ল্ডহেইম
সঠিক উত্তর:
কুর্ট ওয়ার্ল্ডহেইম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কুর্ট ওয়ার্ল্ডহেইম
ব্যাখ্যা
ট্রিগভেলী (১৯৪৬-৫২):
- জাতিসংঘের প্রথম মহাসচিব ছিলেন নরওয়ের ট্রিগভেলী।
- তিনি ফেব্রুয়ারি ১৯৪৬ - নভেম্বর ১৯৫২ মেয়াদে জাতিসংঘের মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করেন।

উ থান্ট (১৯৬১-৭১):
- জাতিসংঘের তৃতীয় মহাসচিব ছিলেন মিয়ানমারের উ থান্ট। 
- তিনি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন জাতিসংঘের মহাসচিব পদে ছিলেন।

কুর্ট ওয়ার্ল্ডহেইম (১৯৭২-৮১):
- চতুর্থ মহাসচিব ছিলেন অস্ট্রিয়ার কুর্ট ওয়ার্ল্ডহেইম।
- তার সময়ে বাংলাদেশ জাতিসংঘের সদস্যপদ লাভ করে। 

ড. বুট্রোস বুট্রোস ঘালি (১৯৯২-৯৬):
- ড. বুট্রোস বুট্রোস ঘালি (Boutros Boutros-Ghali) জাতিসংঘের ষষ্ঠ মহাসচিব ছিলেন।
- তিনি মিশরের নাগরিক এবং আফ্রিকা মহাদেশ থেকে প্রথম জাতিসংঘের মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

উৎস: জাতিসংঘ ওয়েবসাইট।
২৭.
WTO কোন ধরনের বাণিজ্য ব্যবস্থা প্রণয়ন করতে সহায়তা করে?
  1. কৃষি সম্পর্কিত বাণিজ্য ব্যবস্থা
  2. আঞ্চলিক ও স্থানীয় বাণিজ্য ব্যবস্থা
  3. একক দেশীয় বাণিজ্য ব্যবস্থা
  4. বহুপাক্ষিক এবং বৈশ্বিক বাণিজ্য ব্যবস্থা
সঠিক উত্তর:
বহুপাক্ষিক এবং বৈশ্বিক বাণিজ্য ব্যবস্থা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বহুপাক্ষিক এবং বৈশ্বিক বাণিজ্য ব্যবস্থা
ব্যাখ্যা
WTO:
- WTO-এর পূর্ণরূপ: World Trade Organization.
- এটি বিশ্বের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক জোট।
- প্রতিষ্ঠিত হয়: ১ জানুয়ারি, ১৯৯৫।
- বর্তমান সদস্য: ১৬৬টি দেশ।
- সদরদপ্তর: জেনেভা, সুইজারল্যান্ড।
- মহাপরিচালক: এনগোজি ওকোনজো ইওয়েলা।
- প্রতিষ্ঠাকালীন নাম: General Agreement on Tariffs and Trade (GATT).

⇒ বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার কার্যাবলি:
- বহুপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি পরিচালনা।
- বহুপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি বিষয়ে সব আলোচনা বিশ্ব-বাণিজ্য সংস্থার মাধ্যমে সম্পাদন করা হবে।
- মন্ত্রীপরিষদের অধিবেশনে (Ministerial Conference of WTO) গৃহীত সিদ্ধান্তগুলি রূপায়ণের জন্য বিশ্ববাণিজা সংস্থা সাহায্য করবে।
- বিশ্ব-বাণিজ্য সংস্থা বিবাদ নিষ্পত্তি সংক্রান্ত বিধি ও পদ্ধতিগুলি বলবৎ করার ব্যবস্থা করবে।
- বিশ্ব-বাণিজ্য সংস্থা বাণিজ্য নীতি পর্যালোচনার ব্যবস্থা করবে।
- বিশ্ব-বাণিজ্য সংস্থা রাষ্ট্রসঙ্ঘেরণ অন্যান্য সংস্থার সঙ্গে সংযোগ রক্ষা করবে।

উৎস: World Trade Organization ওয়েবসাইট।
২৮.
কত তারিখে জাতিপুঞ্জ বিলুপ্ত হয়?
  1. ১৮ এপ্রিল, ১৯৪৬
  2. ১৯ এপ্রিল, ১৯৪৬
  3. ২০ এপ্রিল, ১৯৪৬
  4. ২১ এপ্রিল, ১৯৪৬
সঠিক উত্তর:
২০ এপ্রিল, ১৯৪৬
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২০ এপ্রিল, ১৯৪৬
ব্যাখ্যা
জাতিপুঞ্জ:
- প্রথম বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী সময়ে বিশ্বশান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে জাতিপুঞ্জের (League of Nations) আত্মপ্রকাশ হয়।
- প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর ভার্সাই চুক্তির একটি অংশ হিসেবে স্বাক্ষরিত হয় জাতিপুঞ্জের চুক্তিপত্র।
- জাতিপুঞ্জ ১৯২০ সালে আত্মপ্রকাশ করে।
- জাতিপুঞ্জ গঠনের প্রস্তাবক ছিলেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট উড্রো উইলসন।
- এর প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য ৪১টি।
- সদর দপ্তর: জেনেভা, সুইজারল্যান্ড।
- জাতিপুঞ্জ বিলুপ্ত হয়: ২০ এপ্রিল, ১৯৪৬।

উল্লেখ্য,
- যুক্তরাষ্ট্রের ২৮তম প্রেসিডেন্ট উড্রো উইলসন ১৯১৮ সালের ৮ জানুয়ারি মার্কিন কংগ্রেসে প্রথম বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী সময়ে শান্তি প্রতিষ্ঠায় একটি বক্তব্য প্রদান করেন।
- তাতে ছিল ইউরোপে শান্তি প্রতিষ্ঠার ও জাতিপুঞ্জ গঠনের আহ্বান।
- এ বক্তব্যটি ছিল ১৪ দফা বিশিষ্ট।
- এই প্রস্তাবনার ১৪ নং পয়েন্টে জাতিপুঞ্জ প্রতিষ্ঠার কথা বলা হয়।

⇒ সুদীর্ঘ আলোচনা এবং বিতর্কের পর এই প্রস্তাবনাকে একটি নীতিমালায় রূপান্তরিত করা হয়।
- আন্তর্জাতিক নেতাদের সমঝোতার মাধ্যমে শেষপর্যন্ত ১৯১৯ সালের ২৫ জানুয়ারি লিগ অফ নেশনস নামে একটি সংগঠন গঠনের জন্য চূড়ান্ত প্রস্তাবনা পেশ করা হয়।
- সেবছর ২৮ জুন প্রথম বিশ্বযুদ্ধের চূড়ান্ত সমাপ্তি ঘটিয়ে স্বাক্ষর করা ভার্সাই চুক্তির প্রথম অংশে এই সংগঠন গঠন করার প্রস্তাবনা যুক্ত করা হয়।
- জাতিপুঞ্জের নিয়মপত্রে স্বাক্ষর করেন বিশ্বযুদ্ধে অংশ নেওয়া ৩১ দেশসহ ৪৪ দেশের রাষ্ট্রনায়কগণ।
- ১৯২০ সালের ১০ জানুয়ারি থেকে ভার্সাই চুক্তি কার্যকর হয়।

[জাতিপুঞ্জের বিলুপ্তির তারিখ নিয়ে বিভ্রান্তি রয়েছে। ব্রিটানিকা অনুসারে ১৯ এপ্রিল, ১৯৪৬ তারিখে জাতিপুঞ্জ বিলুপ্ত হয়। কিন্তু জাতিসংঘের ওয়েবসাইট অনুসারে, ২০ এপ্রিল, ১৯৪৬ তারিখে জাতিপুঞ্জ বিলুপ্ত হয়। তাই ২০ এপ্রিল, ১৯৪৬ অধিক গ্রহণযোগ্য। বিস্তারিত জানার জন্য তথ্যকল্পদ্রুপ-৩০ দেখতে পারেন।]

উৎস: United Nations ওয়েবসাইট।
২৯.
International Finance Corporation (IFC) প্রধানত কোন ধরনের দেশকে সহায়তা প্রদান করে?
  1. উন্নত দেশ
  2. উন্নয়নশীল দেশ
  3. যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ
  4. বর্ণিত সবগুলো
সঠিক উত্তর:
উন্নয়নশীল দেশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উন্নয়নশীল দেশ
ব্যাখ্যা
বিশ্বব্যাংক গ্রুপ:
- বিশ্বব্যাংক ৫টি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়ে গঠিত। প্রতিষ্ঠানগুলো হলো:
1. International Bank for Reconstruction and Development (IBRD).
2. International Finance Corporation (IFC).
3. Multilateral Investment Guarantee Agency (MIGA).
4 International Center for Settlement of Investment Disputes (ICSID).
5.International Development Association (IDA).

IFC:
- IFC ১৯৫৬ সালের ২০ জুলাই প্রতিষ্ঠিত হয়।
- এটির বর্তমান সদস্য সংখ্যা ১৮৬টি।
- সদরদপ্তর: ওয়াশিংটন ডি.সি., যুক্তরাষ্ট্র।
- সংস্থাটি স্বল্প আয়ের উন্নয়নশীল দেশের বেসরকারি খাতে আর্থিক সহযোগীতা করে ও উপদেশ দিয়ে থাকে।

অন্যদিকে,
IDA:
- IDA-এর পূর্ণরূপ: International Development Association.
- যেসব দেশ IBRD থেকে ঋণ পায় না, IDA তাদের সহজ শর্তে ঋণ প্রদান করে থাকে।
- এজন্যে এটি Soft Loan Window নামে পরিচিত।
- IDA সদস্য দেশগুলোর যথাক্রমে বেসরকারি খাতের উন্নয়নে এবং বহুপাক্ষিক বিনিয়োগে গ্যারান্টি প্রদান করে থাকে।

MIGA:
- এটি ১৯৮৮ সালের ১২ এপ্রিল প্রতিষ্ঠিত হয়।
- MIGA প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্য হলো বৈদেশিক বিনিয়োগে মধ্যস্থতা এবং গ্যারান্টি প্রদানের মাধ্যমে উন্নয়নশীল দেশগুলোকে সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগে সহায়তা করে থাকে।

ICSID:
- ICSID-এর পূর্ণরূপ: International Center for Settlement of Investment Disputes.
- সংস্থাটি পুঁজি বিনিয়োগজনিত বিরোধ নিষ্পত্তির আন্তর্জাতিক কেন্দ্র।

উৎস: World Bank ওয়েবসাইট।
৩০.
কোন সম্মেলনের মাধ্যমে জাতিসংঘের নামকরণ করা হয়?
  1. ইয়াল্টা সম্মেলন
  2. ওয়াশিংটন সম্মেলন
  3. ডাম্বারটন ওকস সম্মেলন
  4. সানফ্রান্সিসকো সম্মেলন
সঠিক উত্তর:
সানফ্রান্সিসকো সম্মেলন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সানফ্রান্সিসকো সম্মেলন
ব্যাখ্যা
সানফ্রান্সিসকো সম্মেলন:
- সান ফ্রান্সিসকো সম্মেলন জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠা সম্মেলন হিসেবেও পরিচিত।
- ১৯৪৫ সালের ২৫ এপ্রিল - ২৬ জুন পর্যন্ত সান ফ্রান্সিসকো, যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত হয়।
- এটি ছিল দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর বিশ্বশক্তির মধ্যে সহযোগিতা প্রতিষ্ঠার এক গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ।

⇒ এই সম্মেলনের মূল উদ্দেশ্য ছিল জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠার জন্য একটি আন্তর্জাতিক সংস্থা গঠন করা, যা যুদ্ধ এবং সংঘাত প্রতিরোধ করবে এবং বিশ্বের শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রাখবে। সান ফ্রান্সিসকো সম্মেলনে ৫০টি দেশ অংশগ্রহণ করে এবং তারা জাতিসংঘের সংবিধান বা চার্টার অনুমোদন করে।
- এই সম্মেলনে প্রধানভাবে মিত্র শক্তি বা Allied Powers-এর ৫০টি দেশ অংশগ্রহণ করে, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল: যুক্তরাষ্ট্র, সোভিয়েত ইউনিয়ন, ব্রিটেন, চীন, ফ্রান্স।
- ১৯৪৫ সালের ২৪শে অক্টোবর নিরাপত্তা পরিষদের পাঁচ স্থায়ী সদস্যসহ অধিকাংশ প্রতিষ্ঠাতা রাষ্ট্র জাতিসংঘ সনদ অনুমোদন করে এবং একে স্বীকৃতি প্রদান করে।
- আনুষ্ঠানিকভাবে জন্ম হয় জাতিসংঘের।
- সেজন্য ২৪শে অক্টোবর জাতিসংঘের জন্ম দিনকে সারা বিশ্বব্যাপী জাতিসংঘ দিবস হিসেবে পালন করা হয়।

⇒ জাতিসংঘের নামকরণ:
- জাতিসংঘ (United Nations) নামটি প্রথমবারের মতো সান ফ্রান্সিসকো সম্মেলনে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়েছিল।
- এটি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ফ্রাঙ্কলিন ডি. রুজভেল্ট দ্বারা প্রস্তাবিত হয়েছিল।

উৎস: UN ওয়েবসাইট।
৩১.
কত সালে GATT থেকে WTO-তে পরিবর্তিত হয়?
  1. ১৯৯২ সালে
  2. ১৯৯৩ সালে
  3. ১৯৯৫ সালে
  4. ১৯৯৭ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯৯৫ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৯৫ সালে
ব্যাখ্যা
GATT:
- GATT-এর পূর্ণরূপ: General Agreement on Tariffs and Trade.
- প্রতিষ্ঠিত হয়: ১৯৪৭ সালে।
- কার্যকর হয়: ১৯৪৮ সালে।
- GATT মূলত একটা বাণিজ্যিক চুক্তি।
- উদ্দেশ্য: বিশ্বব্যাপী বাণিজ্য ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে নতুন কর্মসূচী প্রণয়ন করা এবং মুক্তবাজার অর্থনীতিকে গতিশীল করা।

উল্লেখ্য,
- ১৯৪৭ সালের ৩০ অক্টোবর, ২৩টি দেশ GATT স্বাক্ষর করেছে।
- এই চুক্তির পিছনে উদ্দেশ্য ছিল দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার ও বিশ্ব বাণিজ্যকে পুনর্গঠন।
- এই চুক্তি কার্যকর হয়েছিল ১৯৪৮ সালের ১ জানুয়ারী।

⇒ GATT প্রতিষ্ঠার পর বিভিন্ন বাণিজ্য আলোচনা "রাউন্ড" আকারে অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
- সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রাউন্ড ছিল কেটো রাউন্ড, টোকিও রাউন্ড এবং উরুগুয়ে রাউন্ড।
- GATT এর সবচেয়ে বৃহত্তম ও প্রভাবশালী রাউন্ড ছিল উরুগুয়ে রাউন্ড। এই রাউন্ডের মাধ্যমে WTO বা বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা প্রতিষ্ঠিত হয়।
- ১৫ এপ্রিল, ১৯৯৪ সালে GATT চুক্তি সংশোধনের মাধ্যমে উরুগুয়ে রাউন্ডের সমাপ্ত হয়।

⇒ GATT থেকে WTO-তে পরিবর্তন:
- ১৯৯৫ সালে WTO (World Trade Organization) প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর, GATT এর কার্যক্রম WTO এর মধ্যে চলে যায়।
- WTO আরও ব্যাপক এবং শক্তিশালী বাণিজ্য কাঠামো তৈরি করেছে।
- GATT ছিল এক ধরনের চুক্তি, কিন্তু WTO একটি আন্তর্জাতিক সংস্থা যা বাণিজ্য সম্পর্কিত সকল চুক্তি এবং নিয়মাবলী বাস্তবায়ন ও সমাধান নিশ্চিত করে।

উৎস: World Trade Organization ওয়েবসাইট।
৩২.
জাতিসংঘের বর্তমান মহাসচিব কোন মহাদেশের নাগরিক? [জানুয়ারি, ২০২৫]
  1. উত্তর আমেরিকা
  2. ইউরোপ
  3. আফ্রিকা
  4. এশিয়া
সঠিক উত্তর:
ইউরোপ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইউরোপ
ব্যাখ্যা
জাতিসংঘ:
- বিশ্বের বৃহত্তম আন্তর্জাতিক সংস্থা হলো জাতিসংঘ (United Nations Organization).
- জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠিত হয়: ২৪ অক্টোবর, ১৯৪৫।
- প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য: ৫১টি।
- বর্তমান সদস্য: ১৯৩টি।
- বর্তমান মহাসচিব: আন্তোনিও গুতেরেস।
- সদর দপ্তর: ম্যানহাটন, নিউইয়র্ক, যুক্তরাষ্ট্র।
- দাপ্তরিক ভাষা ৬টি: ইংরেজি, ফ্রেঞ্চ, চীনা, রুশ, স্প্যানিশ এবং আরবি।

উল্লেখ্য,
- আন্তোনিও গুতেরেস জাতিসংঘের নবম মহাসচিব।
- তিনি ইউরোপ মহাদেশের দেশ পর্তুগাল-এর নাগরিক।
- তিনি ১ জানুয়ারি, ২০১৭ সালে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন।
- জাতিসংঘের মহাসচিব নিযুক্ত হয় নিরাপত্তা পরিষদের সুপারিশক্রমে সাধারণ পরিষদের দুই-তৃতীয়াংশ ভোটে।
- জাতিসংঘের মহাসচিবের মেয়াদকাল ৫ বছর।

উৎস: জাতিসংঘ ওয়েবসাইট।
৩৩.
IMF নিম্নের কোন প্রতিবেদন প্রকাশ করে?
  1. World Economic Outlook
  2. World Development Report
  3. Piecing Together The Poverty Puzzle
  4. বর্ণিত সবগুলো
সঠিক উত্তর:
World Economic Outlook
উত্তর
সঠিক উত্তর:
World Economic Outlook
ব্যাখ্যা
IMF:
- IMF-এর পূর্ণরূপ: The International Monetary Fund বা আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল।
- গঠনের সিদ্ধান্ত: ৪ জুলাই, ১৯৪৪ সাল।
- আনুষ্ঠানিক প্রতিষ্ঠা: ২৭ ডিসেম্বর, ১৯৪৫ সাল।
- কার্যক্রম শুরু: মার্চ, ১৯৪৭।
- প্রতিষ্ঠার স্থান: নিউ হ্যাম্পশায়ার, যুক্তরাষ্ট্র।
- প্রতিষ্ঠাকালীন সম্মেলন: Bretton Woods Conference।
- বর্তমান সদস্য: ১৯১টি।
- সদরদপ্তর: ওয়াশিংটন ডিসি, যুক্তরাষ্ট্র।
- বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক: ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভা।
- এর রিজার্ভ মুদ্রা: ৫টি (ডলার, পাউন্ড, ইয়েন, ইউরো ও ইউয়ান)।

উল্লেখ্য,
- 'World Economic Outlook' প্রতিবেদন প্রকাশ করে IMF।
- World Economic Outlook প্রতিবেদনটি সাধারণত প্রতি বছর দুইবার এপ্রিল এবং অক্টোবর মাসে প্রকাশ করা হয়।
- এতে বিশ্ব অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, মুদ্রাস্ফীতি, বৈদেশিক বাণিজ্য, সরকারি ঋণ ইত্যাদি বিষয় নিয়ে বিশ্লেষণ ও পূর্বাভাস প্রদান করা হয়। 

অন্যদিকে,
- World Development Report ও Piecing Together The Poverty Puzzle প্রতিবেদন প্রকাশ করে বিশ্বব্যাংক।

উৎস: IMF ওয়েবসাইট।
৩৪.
নিম্নের কোন দেশ লীগ অব নেশনসে যোগ দেয়নি?
  1. যুক্তরাষ্ট্র
  2. ফ্রান্স
  3. জার্মানি
  4. ইতালি
সঠিক উত্তর:
যুক্তরাষ্ট্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যুক্তরাষ্ট্র
ব্যাখ্যা
লীগ অব নেশনস:
- এটি প্রথম বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী একটি আন্তর্জাতিক সংস্থা।
- ১৯২০ সালের ১০ জানুয়ারি প্যারিস শান্তি সম্মেলনে গঠিত হয় আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান ‘লীগ অব নেশনস’।
- প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর বিশ্বে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে লীগ অব নেশনস প্রতিষ্ঠিত হয়।
- লীগ অব নেশনস প্রতিষ্ঠার প্রধান উদ্যোক্তা ছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট উড্রো উইলসন।
- এর সদর দপ্তর স্থাপিত হয়েছিল সুইজারল্যান্ডের জেনেভায়।
- সদস্য রাষ্ট্রগুলোর রাজনৈতিক সীমানা অক্ষুণ্ণ রাখা, একে অপরকে আক্রমণ করতে নিরুৎসাহিত করা এবং কোনো সদস্য রাষ্ট্র অপর রাষ্ট্র কর্তৃক আক্রান্ত হলে সমবেতভাবে আক্রান্ত রাষ্ট্রকে সহায়তা করা, সংখ্যালঘু সমস্যা, ম্যান্ডেট ইত্যাদি বিষয়ে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা এ লীগ গঠনের উদ্দেশ্য ছিল।

⇒ যুক্তরাষ্ট্র কখনো লীগ অব নেশনসে যোগ দেয়নি।
- যুক্তরাষ্ট্র প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পরে লীগ অব নেশনস প্রতিষ্ঠার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল এবং প্রেসিডেন্ট উড্রো উইলসন এর প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন, তবে যুক্তরাষ্ট্রের সিনেট লীগ অব নেশনসে যোগদান অনুমোদন করেনি।
- ১৯১৯ সালে লীগ অব নেশনস প্রতিষ্ঠার জন্য ভার্সাই চুক্তি স্বাক্ষরিত হলে যুক্তরাষ্ট্রের সিনেট একে প্রত্যাখ্যান করে।
- তাদের এই সিদ্ধান্তের প্রধান কারণ ছিল যুক্তরাষ্ট্রের বাইরের রাষ্ট্রগুলোর বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার নীতি, যা তাদের মধ্যে আন্তর্জাতিক সংগঠনের অংশ হতে আপত্তি সৃষ্টি করেছিল।
- এর ফলে, যুক্তরাষ্ট্র কখনোই লীগ অব নেশনস এর সদস্য হতে পারেনি।
- পরবর্তীতে,১৯৪৫ সালে জাতিসংঘ (United Nations) প্রতিষ্ঠার সময় যুক্তরাষ্ট্র তখন জাতিসংঘের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হিসাবে যোগ দেয়।

উল্লেখ্য,
- লীগ অব নেশনস এর দুটি শক্তিশালী অঙ্গ ছিল।
- একটি কাউন্সিল এবং সাধারণ পরিষদ।
- বিশ্বের শক্তিধর ৫ টি রাষ্ট্র ব্রিটেন, যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স, ইতালি ও জাপান এই কাউন্সিলের সদস্য।
- সাংগঠনিক দুর্বলতা ও বিশ্বশান্তি বিধানে ব্যর্থ হয়ে জাতিপুঞ্জ বা লীগ অব নেশনসের আনুষ্ঠানিক বিলুপ্তি ঘটে ২০ এপ্রিল ১৯৪৬।

উৎস: i) Office of the Historian (.gov).
ii) UN ওয়েবসাইট।
৩৫.
বিশ্বব্যাংকের সদর দপ্তর কোথায় অবস্থিত?
  1. ওয়াশিংটন ডি.সি., যুক্তরাষ্ট্র
  2. লন্ডন, যুক্তরাজ্য
  3. নিউইয়র্ক, যুক্তরাষ্ট্র
  4. প্যারিস, ফ্রান্স
সঠিক উত্তর:
ওয়াশিংটন ডি.সি., যুক্তরাষ্ট্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ওয়াশিংটন ডি.সি., যুক্তরাষ্ট্র
ব্যাখ্যা
বিশ্বব্যাংক:
- বিশ্বব্যাংক বলতে IBRD (International Bank for Reconstruction and Development) কে বুঝানো হয়।
- প্রতিষ্ঠিত হয়: ২৭ ডিসেম্বর, ১৯৪৫ সালে।
- কার্যক্রম শুরু করে: জুন, ১৯৪৬ সালে।
- বর্তমান সদস্য ১৮৯টি দেশ।
- সদরদপ্তর: ওয়াশিংটন ডি. সি, যুক্তরাষ্ট্র।
- বর্তমান প্রেসিডেন্ট: অজয় বঙ্গ (বিশ্ব ব্যাংকের প্রেসিডেন্ট সবসময় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র দ্বারা মনোনীত এবং মার্কিন নাগরিক হয়ে থাকে)।
- প্রধান অঙ্গসংস্থা: ৫টি।

উল্লেখ্য,
- বিশ্বব্যাংক World development report (বিশ্ব উন্নয়ন প্রতিবেদন) প্রকাশ করে।
- বিশ্বব্যাংক প্রতি বছর মাথাপিছু আয়ের ভিত্তিতে বিশ্বের প্রতিটি দেশের একটি তুলনামূলক প্রতিবেদনসহ বিশ্ব উন্নয়ন প্রতিবেদন প্রকাশ করে।
- এটি ১৯৭৮ সাল থেকে বার্ষিক প্রকাশিত হয়।

এছাড়াও,
- ‘Piecing together the poverty puzzle’ নামক প্রতিবেদনটি World Bank প্রকাশ করে।

উৎস: World Bank ওয়েবসাইট।
৩৬.
জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ কতজন সৈন্য প্রেরণ করেছিল?
  1. ১৫ জন
  2. ২৫ জন
  3. ৪৫ জন
  4. ৫৫ জন
সঠিক উত্তর:
১৫ জন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৫ জন
ব্যাখ্যা
 জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশ:
- জাতিসংঘের উদ্যোগে গঠিত শান্তিরক্ষা বাহিনী এখন পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে শান্তিরক্ষায় নিয়োজিত।
- ১৯৪৮ সালে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশন শুরু হয়।
- জাতিসংঘের নিজস্ব কোন শান্তিরক্ষা বাহিনী নেই।
- পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ থেকে শান্তিরক্ষা বাহিনীর জন্য সদস্য সংগ্রহ করা হয়।
- বাংলাদেশের সেনাবাহিনীও জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছে।

উল্লেখ্য,
- ১৯৭৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর ১৩৬তম সদস্য হিসাবে বাংলাদেশ জাতিসংঘের সদস্যপদ লাভ করে।
- সর্বপ্রথম বাংলাদেশ ১৯৮৮ সালে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে সৈন্য পাঠায়।
- ১৯৮৮ সালে বাংলাদেশ দুটি অপারেশনে অংশগ্রহণ করে, একটি ইরাক-ইরান (UNIIMOG) এবং অন্যটি নামিবিয়া (UNTAG)।
- UNIIMOG মিশনে ১৫ জন সদস্য প্রেরণ করে আনুষ্ঠানিকভাবে শান্তিরক্ষী মিশন কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করে।

⇒ ১৯৮৮ সালে সেনাবাহিনীর ১৫ সদস্যের একটি পর্যবেক্ষকদল ইরাক-ইরান শান্তি রক্ষা কার্যক্রমে যোগ দেয়। 
- ১৯৮৯ সালে বাংলাদেশ পুলিশ নামিবিয়ায় জাতিসংঘ শান্তি রক্ষা কার্যক্রমে যোগ দেয়।
- ১৯৯৩ সালে বাংলাদেশ নৌবাহিনী মোজাম্বিকে এবং বাংলাদেশ বিমানবাহিনী বসনিয়া-হার্জেগোভিনায় জাতিসংঘ শান্তি রক্ষা কার্যক্রম শুরু করে।

⇒ বিগত চার দশক ধরে শান্তিরক্ষা মিশনে বিশেষ অবদান রাখছে বাংলাদেশ।
- বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ৪০টি দেশে ৬৩টি মিশনে অংশ গ্রহণ করেছে।

উৎস: i) United Nations in Bangladesh ওয়েবসাইট।
ii) ARMED FORCES DIVISION ওয়েবসাইট।
৩৭.
GATT চুক্তির সবচেয়ে গুরত্বপূর্ণ রাউন্ড কোনটি ছিল?
  1. টোকিও রাউন্ড
  2. জেনেভা রাউন্ড
  3. উরুগুয়ে রাউন্ড
  4. কেটো রাউন্ড
সঠিক উত্তর:
উরুগুয়ে রাউন্ড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উরুগুয়ে রাউন্ড
ব্যাখ্যা
GATT চুক্তির রাউন্ড:
- ১৯৪৭ সাল থেকে ১৯৯৩ সাল পর্যন্ত GATT চুক্তির দুর্বলতা ও সমস্যা সমাধানের জন্য মোট ৮টি রাউন্ড সম্পন্ন হয়। সেগুলো হলো:
1. Geneva (1947),
2. Annecy (1949),
3. Torquay (1950-51),
4. Geneva (1956),
5. Dillon (1960-61)
6. Kennedy Round (1964-67),
7. Tokyo Round (1973-79)
8. Uruguay Round (1986-94).

⇒ উরুগুয়ে রাউন্ড:
- GATT চুক্তির রাউন্ডগুলোর মধ্যে সবচেয়ে গুরত্বপূর্ণ ও তাৎপর্যপূর্ণ রাউন্ড হচ্ছে উরুগুয়ে রাউন্ড।
- উরুগুয়ে রাউন্ডের সংলাপ ৮ বছর ধরে চলেছিল।
- এই রাউন্ড শুরু হয় ১৯৮৬ সালের সেপ্টেম্বরে।
- ১৫ এপ্রিল, ১৯৯৪ সালে উরুগুয়ে রাউন্ডের সমাপ্তি হয় GATT চুক্তি সংশোধনের মাধ্যমে।
- এর ফলে নতুন আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সংগঠন গঠনের সিদ্ধান্ত হয়।
- যার ফলে ১৯৯৫ সালে World Trade Organization (WTO) -এর জন্ম হয়।

উৎস: WTO ওয়েবসাইট।
৩৮.
জাতিসংঘের কোন মহাসচিব নোবেল পুরস্কার লাভ করেন?
  1. দ্যাগ হ্যামারশোল্ড
  2. কুর্ট ওয়ার্ল্ডহেইম
  3. কফি আনান
  4. ক ও গ
সঠিক উত্তর:
ক ও গ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক ও গ
ব্যাখ্যা
নোবেল পুরস্কার:
- জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠার পর থেকে জাতিসংঘ ও এর সাথে সম্পর্কিত ব্যাক্তিবর্গ মোট ১২ বার নোবেল শান্তি পুরস্কার লাভ করেন।
- জাতিসংঘের ২ জন মহাসচিব নোবেল (শান্তি) পুরস্কার লাভ করে।
- জাতিসংঘ মহাসচিব থাকাকালীন কঙ্গো সংকট নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ও জাতিসংঘকে একটি কার্যকরী বৈশ্বিক সংস্থা হিসাবে দাঁড় করানোর স্বীকৃতি স্বরুপ ১৯৬১ সালে দ্যাগ হ্যামারশোল্ড (মরণোত্তর) নোবেল শান্তি পুরস্কার লাভ করেন।
- বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠা ও উন্নত শান্তিপূর্ণ বিশ্ব নিশ্চিৎকরণে অবদান রাখার জন্য জাতিসংঘ ও কফি আনান ২০০১ সালে নোবেল শান্তি পুরস্কারে ভূষিত হন।

উল্লেখ্য,
⇒ দ্যাগ হ্যামারশোল্ড:
- জাতিসংঘের দ্বিতীয় মহাসচিব ছিলেন দ্যাগ হ্যামারশোল্ড।
- তিনি সুইডেনের অধিবাসী ছিলেন।
- তিনি ১৯৫৩ থেকে ১৯৬১ সাল পর্যন্ত এই পদে দায়িত্ব পালন করেন।
- ১৯৬১ সালে তিনি বিমান দুর্ঘটনায় মারা যান।
- ১৯৬১ সালে তিনি মরণোত্তর নোবেল শান্তি পুরস্কার লাভ করেন।
- ১৯৬১ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর তানজানিয়ার আরুশা শহরের কাছাকাছি একটি বিমান দুর্ঘটনায় তাঁর মৃত্যু হয়।
- তিনি একটি শান্তি মিশনের অংশ হিসেবে কঙ্গোতে যাচ্ছিলেন, যখন তাঁর বিমানটি দুর্ঘটনার শিকার হয়।

⇒ কফি আনান:
- জাতিসংঘের সপ্তম মহাসচিব ঘানার কফি আনান।
- তিনি আফ্রিকা মহাদেশ থেকে নিয়োগকৃত দ্বিতীয় জাতিসংঘের মহাসচিব।
- বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠা ও উন্নত শান্তিপূর্ণ বিশ্ব নিশ্চিৎকরণে অবদান রাখার জন্য কফি আনান ২০০১ সালে নোবেল শান্তি পুরস্কারে ভূষিত হন।

উৎস: UN ওয়েবসাইট।
৩৯.
বিশ্বব্যাংকের সর্বোচ্চ ঋণ গ্রহীতা দেশ কোনটি? [জানুয়ারি, ২০২৫]
  1. মেক্সিকো
  2. চীন
  3. ফ্রান্স
  4. ভারত
সঠিক উত্তর:
ভারত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভারত
ব্যাখ্যা
বিশ্বব্যাংক:
- বিশ্বব্যাংক গঠনের সিদ্ধান্ত হয় ১৯৪৪ সালের ৪ জুলাই।
- যুক্তরাষ্ট্রের নিউ হ্যাম্পশায়ার শহরে ২৯টি দেশ ব্রেটন উডস চুক্তিতে স্বাক্ষর করে।
- আনুষ্ঠানিক প্রতিষ্ঠা লাভ করে ২৭ ডিসেম্বর, ১৯৪৫ সালে।
- কার্যক্রম শুরু করে জুন, ১৯৪৬ সালে।
- বর্তমান সদস্য ১৮৯টি দেশ।
- সর্বশেষ সদস্য দেশ নাউরু; ১২ এপ্রিল, ২০১৬ সাল।
- সদরদপ্তর: ওয়াশিংটন ডি. সি, যুক্তরাষ্ট্র।
- বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট অজয় বঙ্গ।
- বিশ্বব্যাংক বলতে IBRD (International Bank for Reconstruction and Development) কে বুঝানো হয়।

⇒ বিশ্বব্যাংকের সর্বোচ্চ ঋণ গ্রহীতা দেশ - ভারত।

উল্লেখ্য,
- বিশ্বব্যাংক এর উদ্দেশ্য মধ্য আয়ের দেশ গুলোকে ঋণ প্রদান ও উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করে।
- বিশ্বব্যাংকের সর্বোচ্চ ঋণ গ্রহীতা দেশ ভারত।
- বিশ্বব্যাংকের প্রথম ঋণ গ্রহীতা দেশ ফ্রান্স।
- ফ্রান্স ১৯৪৭ সালে এই লোন নিয়েছিল।

উৎস: i) World Bank ওয়েবসাইট।
ii) FDI Intelligence. [link]
৪০.
কোন যুদ্ধকে কেন্দ্র করে জাতিসংঘের প্রথম শান্তিরক্ষা মিশন অনুষ্ঠিত হয়?
  1. ১ম আরব-ইসরাইল যুদ্ধ
  2. কোরীয় যুদ্ধ
  3. ২য় আরব-ইসরাইল যুদ্ধ
  4. কঙ্গো যুদ্ধ
সঠিক উত্তর:
১ম আরব-ইসরাইল যুদ্ধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১ম আরব-ইসরাইল যুদ্ধ
ব্যাখ্যা
জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশন:
- জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশন (United Nations Peacekeeping Mission) একটি আন্তর্জাতিক উদ্যোগ যা সংঘাতপ্রবণ দেশগুলোতে শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠা করতে সাহায্য করে।
- এই মিশনের প্রধান লক্ষ্য হলো সংঘর্ষমুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি করা, মানবাধিকার রক্ষা করা এবং রাজনৈতিক প্রক্রিয়া পরিচালনায় সহায়তা করা।
- বর্তমানে আফ্রিকা, মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ এবং এশিয়া জুড়ে জাতিসংঘের ১২টি শান্তিরক্ষা মিশন চলমান রয়েছে।

⇒ জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনের মূল উদ্দেশ্য:
- সংঘাতের মধ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং সশস্ত্র বিরোধী পক্ষদের মধ্যে যুদ্ধবিরতি বা শান্তিচুক্তি বাস্তবায়ন করা।
- যুদ্ধ বা সংঘাতের কারণে বিপর্যস্ত জনগণের জন্য মানবিক সাহায্য পৌঁছে দেওয়া।
- রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার জন্য জাতিসংঘ মিশন আঞ্চলিক সরকারের সহায়তায় কাজ করে থাকে। 
- যুদ্ধবিধ্বস্ত অঞ্চলে পুনর্গঠন কার্যক্রম পরিচালনা, যেমন অবকাঠামো পুনর্নির্মাণ, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা ইত্যাদি।

উল্লেখ্য,
- ১৯৪৮ সালে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশন শুরু হয়।
- ১৯৪৮ সালে সংঘটিত ১ম আরব-ইসরাইল যুদ্ধকে কেন্দ্র করে জাতিসংঘের প্রথম শান্তিরক্ষা মিশন অনুষ্ঠিত হয়।
- এই মিশনের নাম ছিল "United Nations Truce Supervision Organization (UNTSO)"।
- এটি ছিল জাতিসংঘের প্রথম শান্তিরক্ষা মিশন এবং এর মূল উদ্দেশ্য ছিল ১৯৪৮ সালে আরব-ইসরায়েল যুদ্ধের পর যুদ্ধবিরতি কার্যকর করা এবং যুদ্ধবিরতি চুক্তি সঠিকভাবে পালন হচ্ছে কিনা তা মনিটর করা।

উৎস: United Nations Peacekeeping.