পরীক্ষা আর্কাইভ

১৯তম জুডিসিয়াল সার্ভিস (BJS) প্রস্তুতি

পরীক্ষা১৯তম জুডিসিয়াল সার্ভিস (BJS) প্রস্তুতিতারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়14 minutes
মোট প্রশ্ন৩৩
সিলেবাস
পরীক্ষা – ৪৮: আইন বিষয়াবলী - ১৯ Subject: Muslim Law Topic: Muslim Law of Inheritance, Family Courts Act, 2023, Dissolution of Muslim Marriages Act, 1939 (DMMA 1939), Muslim Family Laws Ordinance, 1961 (MFLO 1961), Muslim Marriage and Divorce Registration Act, 1974 etc.
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

১৯তম জুডিসিয়াল সার্ভিস (BJS) প্রস্তুতি

১৯তম জুডিসিয়াল সার্ভিস (BJS) প্রস্তুতি · তারিখ অনির্ধারিত · ৩৩ প্রশ্ন

.
পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩ এর অধীনে মোকদ্দমা দায়েরের জন্য কোর্ট ফি কত?
  1. ১০০ টাকা
  2. ২০০ টাকা
  3. ৫০০ টাকা
  4. ১০০০ টাকা
সঠিক উত্তর:
২০০ টাকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২০০ টাকা
ব্যাখ্যা
⇒ পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩ এর ধারা ২৫ অনুসারে, এই আইনের অধীনে কোনো মোকদ্দমা দায়ের করার জন্য ২০০ টাকা কোর্ট ফি প্রদান করতে হবে। এই ফি পরিশোধের মাধ্যমে মোকদ্দমা দায়েরের প্রক্রিয়া শুরু হয়।

⇒ পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩ এর-২৫ ধারার বিধান: কোর্ট ফি: 
- পারিবারিক আদালতে এই আইনের অধীন কোনো মোকদ্দমার আরজি দাখিল করিতে প্রদেয় কোর্ট ফি হইবে ২০০ (দুইশত) টাকা।
.
মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১ অনুসারে সালিশি পরিষদের গঠন পদ্ধতি কোন ধারায় উল্লেখ আছে?
  1. ধারা ২
  2. ধারা ৩
  3. ধারা ৫
  4. ধারা ৭
সঠিক উত্তর:
ধারা ২
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধারা ২
ব্যাখ্যা
⇒ The Muslim Family Laws Ordinance, 1961-এর ধারা ২-এ "Arbitration Council" বা সালিশি পরিষদের সংজ্ঞা ও গঠন পদ্ধতি উল্লেখ করা হয়েছে।
- এই ধারায় বলা হয়েছে যে সালিশি পরিষদ তিনজন সদস্য নিয়ে গঠিত হবে —
- একজন চেয়ারম্যান (যিনি সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা বা সিটি কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান/মেয়র হবেন)।
- প্রত্যেক পক্ষের ১ জন করে প্রতিনিধি, অর্থাৎ দুই পক্ষের সম্মতিতে ২ জন প্রতিনিধি থাকবেন।

তাছাড়া, ধারা ২-এ আরও বলা হয়েছে—
- যদি কোনো পক্ষ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রতিনিধি মনোনীত করতে ব্যর্থ হয়, তবে সে পক্ষের প্রতিনিধি ছাড়া সালিশি পরিষদ গঠিত হবে।
- যদি চেয়ারম্যান অমুসলিম হন বা দায়িত্ব পালনে অক্ষম হন, তবে সালিশি পরিষদের একজন মুসলিম সদস্যকে চেয়ারম্যান হিসেবে নিযুক্ত করা হবে।
.
মুসলিম উত্তরাধিকার আইন অনুযায়ী, নিচের কোন ব্যক্তি উত্তরাধিকার থেকে বঞ্চিত হবে?
  1. বৈধ সন্তান
  2. জারজ সন্তান
  3. নাবালক সন্তান
  4. তালাক প্রাপ্ত স্ত্রীর সন্তান
সঠিক উত্তর:
জারজ সন্তান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জারজ সন্তান
ব্যাখ্যা

⇒ যারা উত্তরাধিকার থেকে বঞ্চিত হবে:
(১) কোনো মুসলিম কোনো অমুসলিমের ওয়ারিশ হবে না এবং কোনো অমুসলিম কোনো মুসলিমের ওয়ারিশ হবে না।
(২) হত্যাকারী নিহত ব্যক্তির ওয়ারিশ হবে না। (এ বিধির উদ্দেশ্য হিসেবে বলা হয়, কেউ তাড়াতাড়ি উত্তরাধিকার পাওয়ার জন্য যেন কাউকে হত্যা করতে উদ্যত না হয় সেজন্যই এ বিধি প্রণীত হয়েছে।) 
(৩) জারজ সন্তান ওয়ারিশ হবে না।

⇒ মুসলিম উত্তরাধিকার আইন অনুযায়ী, জারজ সন্তান (অর্থাৎ, যিনি অবৈধ সম্পর্কের মাধ্যমে জন্মগ্রহণ করেছেন) উত্তরাধিকার লাভের অধিকারী হবেন না। মুসলিম আইন অনুসারে, জারজ সন্তান তার বাবা-মায়ের সম্পত্তি থেকে উত্তরাধিকার লাভ করতে পারে না, কারণ তাকে অবৈধ সন্তান হিসেবে গণ্য করা হয়।
এদিকে, বৈধ সন্তান (যে সন্তান বৈধ বিবাহের মাধ্যমে জন্মগ্রহণ করেছে) অবশ্যই উত্তরাধিকারী হবে। নাবালক সন্তান (অপ্রাপ্তবয়স্ক সন্তান) ও উত্তরাধিকার লাভের অধিকারী হয়, তবে তার জন্য সম্পত্তির তত্ত্বাবধান তার অভিভাবক করবে। তালাকপ্রাপ্ত স্ত্রীর সন্তানও উত্তরাধিকার পাবে, কারণ সে বৈধ সম্পর্কের মধ্যে জন্মগ্রহণ করেছে এবং তালাকপ্রাপ্ত স্ত্রীর সন্তান হিসাবে তার অধিকার থাকে।
সুতরাং, জারজ সন্তান উত্তরাধিকার থেকে বঞ্চিত হয়।

.
মুসলিম বিবাহ বিচ্ছেদ আইন, ১৯৩৯ অনুযায়ী, একজন মুসলিম মহিলা বিবাহ বিচ্ছেদ চাইতে পারেন যদি স্বামীর অবস্থান অজানা থাকে:
  1. ১ বছর
  2. ২ বছর
  3. ৪ বছর
  4. ৭ বছর
সঠিক উত্তর:
৪ বছর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৪ বছর
ব্যাখ্যা
মুসলিম বিবাহ বিচ্ছেদ আইন, ১৯৩৯ এর ধারা ২(১) অনুযায়ী, একজন মুসলিম মহিলা বিবাহ বিচ্ছেদ চাইতে পারেন যদি তার স্বামীর অবস্থান ৪ বছর ধরে অজানা থাকে। অর্থাৎ, যদি স্বামী ৪ বছর বা তার বেশি সময় ধরে নিখোঁজ থাকেন এবং তার কোনো খোঁজ না পাওয়া যায়, তাহলে মহিলা আদালতে বিবাহ বিচ্ছেদের জন্য আবেদন করতে পারেন।

- এই বিধানটি এমন ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হয় যখন স্বামী দীর্ঘ সময় ধরে অনুপস্থিত থাকেন এবং তার কোনো সংবাদ বা অবস্থান জানা যায় না।
- এই সময়সীমা (৪ বছর) আইনে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, যা মহিলাকে আইনি সুরক্ষা প্রদান করে যাতে তিনি দীর্ঘ সময় ধরে অনিশ্চয়তার মধ্যে না থাকেন।
- এই ভিত্তিতে ডিক্রি পাস হওয়ার পর, যদি স্বামী ৬ মাসের মধ্যে আদালতে উপস্থিত হয়ে তার বৈবাহিক দায়িত্ব পালনে প্রস্তুত হন, তাহলে আদালত ডিক্রি বাতিল করতে পারেন।
.
পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩ কবে কার্যকর হয়?
  1. ১ জানুয়ারি, ২০২৩
  2. ২৬ মার্চ, ২০২৩
  3. ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৩
  4. ১১ নভেম্বর, ২০২৩
সঠিক উত্তর:
১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৩
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৩
ব্যাখ্যা
⇒ পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩ ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৩ তারিখে কার্যকর হয়।
- এই আইনটি Family Courts Ordinance, 1985 কে রহিত করে সময়োপযোগী করে পুনঃপ্রণয়ন করা হয়েছে।
- এই আইনের মাধ্যমে পারিবারিক বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য একটি আধুনিক ও কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে।
- আইনটি কার্যকর হওয়ার তারিখটি আইনের প্রস্তাবনায় স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
.
মুসলিম বিবাহ ও তালাক (নিবন্ধন) আইন, ১৯৭৪ অনুযায়ী নিকাহ রেজিস্ট্রার কে?
  1. আদালত কর্তৃক নিযুক্ত ব্যক্তি
  2. সরকার কর্তৃক নিযুক্ত ব্যক্তি
  3. স্বয়ং বিবাহ সম্পাদনকারী ব্যক্তি
  4. স্থানীয় কমিটি কর্তৃক নিযুক্ত ব্যক্তি
সঠিক উত্তর:
সরকার কর্তৃক নিযুক্ত ব্যক্তি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সরকার কর্তৃক নিযুক্ত ব্যক্তি
ব্যাখ্যা
⇒ মুসলিম বিবাহ ও তালাক (নিবন্ধন) আইন, ১৯৭৪-এর ধারা ৪ অনুযায়ী, সরকার বিবাহ নিবন্ধনের জন্য নির্দিষ্ট সংখ্যক নিকাহ রেজিস্ট্রার নিয়োগ করে। এই রেজিস্ট্রারগণ নির্দিষ্ট এলাকার জন্য সরকার কর্তৃক লাইসেন্সপ্রাপ্ত ব্যক্তি, যাদের দায়িত্ব হলো মুসলিম বিবাহ ও তালাক নিবন্ধন করা।
সুতরাং, মুসলিম বিবাহ ও তালাক (নিবন্ধন) আইন, ১৯৭৪ অনুসারে, নিকাহ রেজিস্ট্রার হলেন সরকার কর্তৃক নিযুক্ত ব্যক্তি।

⇒  মুসলিম বিবাহ ও তালাক (নিবন্ধন) আইন, ১৯৭৪-এর ধারা ৪ এর বিধান নিকাহ রেজিস্ট্রার:
এই আইনের অধীন বিবাহ নিবন্ধনের উদ্দেশ্যে সরকার প্রয়োজনীয় সংখ্যক ব্যক্তিকে, যাহারা নিকাহ রেজিস্ট্রার নামে অভিহিত হইবে, তাহাদের জন্য নির্ধারিত এলাকার জন্য লাইসেন্স প্রদান করিবে:
তবে শর্ত থাকে যে, কোন একটি এলাকার জন্য একাধিক নিকাহ রেজিস্ট্রার লাইসেন্সপ্রাপ্ত হইবেন না:
আরও শর্ত থাকে যে, সরকার যখনই উপযুক্ত মনে করিবে, তখনই নিকাহ রেজিস্ট্রারের জন্য নির্ধারিত এলাকার সীমা বৃদ্ধি, হ্রাস বা পরিবর্তন করিতে পারিবে।
---------- 
⇒ The Muslim Marriages and Divorces (Registration) Act, 1974-Section 4. Nikah Registrars:
For the purpose of registration of marriages under this Act, the Government shall grant licenses to such number of persons, to be called Nikah Registrars, as it may deem necessary for such areas as it may specify: 
Provided that not more than one Nikah Registrar shall be licensed for any one area : 
Provided further that the Government may, whenever it deems fit so to do, extend, curtail or otherwise alter the limits of any area for which a Nikah Registrar has been licensed.
.
মুসলিম উত্তরাধিকার আইনে নিচের কোনটি দূরবর্তী আত্মীয়বর্গ (Zabil Arham) এর উদাহরণ?
  1. মা
  2. স্ত্রী
  3. চাচা
  4. কন্যা
সঠিক উত্তর:
চাচা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চাচা
ব্যাখ্যা
⇒  মুসলিম উত্তরাধিকার আইনে উত্তরাধিকারীরা তিন শ্রেণিতে বিভক্ত:
১) অংশীদার (Zawil Furud) – যাদের নির্দিষ্ট অংশ কোরআনে নির্ধারিত রয়েছে।
২) অবশিষ্টাংশ ভোগী (Asaba) – যারা অংশীদারদের পরে অবশিষ্ট সম্পত্তি পায়।
৩) দূরবর্তী আত্মীয়বর্গ (Zawil Arham) – যারা অংশীদার বা আসাবা নয়, কিন্তু মৃতের আত্মীয়।

⇒ দূরবর্তী আত্মীয়বর্গ (Zawil Arham) তাদের বলা হয়, যারা অংশীদার (Zawil Furud) বা আসাবা নয়, তবে মৃতের আত্মীয়।
- চাচা সাধারণত আসাবা হলেও, যদি আসাবা না থাকে, তবে তিনি Zawil Arham হিসেবে উত্তরাধিকার পান।

⇒ প্রত্যেক অপশন বিশ্লেষণ করে পাই:
(ক) মা – মা হলেন নির্ধারিত অংশীদার (Zawil Furud)। তিনি সাধারণত মৃত সন্তান রেখে গেলে ১/৬ এবং সন্তান না থাকলে ১/৩ অংশ পান। সুতরাং, তিনি দূরবর্তী আত্মীয়বর্গ নন।
(খ) স্ত্রী – স্ত্রীও নির্ধারিত অংশীদার (Zawil Furud)। স্বামী মারা গেলে তিনি সন্তান থাকলে ১/৮ এবং সন্তান না থাকলে ১/৪ অংশ পান। ফলে, তিনি দূরবর্তী আত্মীয়বর্গের অন্তর্ভুক্ত নন।
(গ) চাচা – চাচা সাধারণত আসাবা হন। তবে, যদি কোনো আসাবা উত্তরাধিকারী না থাকে, তাহলে চাচা দূরবর্তী আত্মীয়বর্গ (Zawil Arham) হিসেবে বিবেচিত হতে পারেন। ফলে, এই অপশনটি সঠিক।
(ঘ) কন্যা – কন্যা নির্দিষ্ট অংশীদার (Zawil Furud)। একমাত্র কন্যা থাকলে সে ১/২ পায়, একাধিক কন্যা থাকলে তারা ২/৩ ভাগ করে নেয়। তাই কন্যাও দূরবর্তী আত্মীয়বর্গের অন্তর্ভুক্ত নয়।
.
মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১ অনুসারে সালিশি পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে কাকে বোঝানো হয় না?
  1. পৌরসভার মেয়র
  2. জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান
  3. সিটি কর্পোরেশনের মেয়র
  4. ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান
সঠিক উত্তর:
জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান
ব্যাখ্যা
⇒ মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১ এর ধারা ২ অনুযায়ী, সালিশি পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে নিম্নলিখিত ব্যক্তিদের বোঝানো হয়:
→ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান,
→ পৌরসভার মেয়র,
→ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র।
→ এই আইনে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান-কে সালিশি পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে বোঝানো হয়নি।

⇒ মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১ এর ধারা ২ এর বিধান:
এই ধারা অনুযায়ী, সালিশি পরিষদের চেয়ারম্যান হবেন:
ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান,
পৌরসভার মেয়র,
সিটি কর্পোরেশনের মেয়র।
এই তিন ধরনের স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের প্রধান ব্যক্তিরাই সালিশি পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে পারেন।

অর্থাৎ জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সালিশি পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে বিবেচিত হন না। কারণ, আইনটি স্থানীয় পর্যায়ের বিবাহ সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য ইউনিয়ন, পৌরসভা ও সিটি কর্পোরেশন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সালিশি পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে উল্লেখ করেছে। জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এই কাঠামোর বাইরে। 
.
ইসলামী পরিভাষায় ‘ফারায়েয’ কী বোঝায়?
  1. মৃত ব্যক্তির ওসিয়ত
  2. মৃত ব্যক্তির ঋণ পরিশোধ
  3. মৃত ব্যক্তির জানাজার নামাজ
  4. মৃত ব্যক্তির উত্তরাধিকার সম্পত্তি বণ্টনের বিধান
সঠিক উত্তর:
মৃত ব্যক্তির উত্তরাধিকার সম্পত্তি বণ্টনের বিধান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মৃত ব্যক্তির উত্তরাধিকার সম্পত্তি বণ্টনের বিধান
ব্যাখ্যা
⇒ 'ফারায়েয' (فرائض) শব্দটি আরবি 'ফরীযাহ' (فريضة) এর বহুবচন, যার অর্থ হলো ফরযকৃত বা নির্ধারিত বিষয়।
- ইসলামী শরীয়তে ‘ফারায়েয’ বলতে মৃত ব্যক্তির সম্পত্তি তার উত্তরাধিকারীদের মধ্যে নির্দিষ্ট নিয়ম অনুযায়ী বণ্টনের বিধানকে বোঝায়।
একজন ব্যক্তি মারা গেলে তার সম্পত্তি কয়েকটি পর্যায়ে ব্যবস্থাপনা করা হয়:
১. প্রথমে তার দাফন-কাফনের খরচ মেটানো হয়।
২. এরপর তার ঋণ (যদি থাকে) পরিশোধ করা হয়।
৩. তারপর যদি সে কোনো বৈধ ওসিয়ত করে থাকে (এক-তৃতীয়াংশ সীমার মধ্যে), তা বাস্তবায়ন করা হয়।
৪. সবশেষে বাকি সম্পত্তি শরীয়তের নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী উত্তরাধিকারীদের মধ্যে বণ্টন করা হয়, যাকে ‘ফারায়েয’ বলা হয়। 

অর্থাৎ , 'ফারায়েয' ওসিয়ত, ঋণ পরিশোধ বা জানাজার নামাজের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত নয়; বরং এটি উত্তরাধিকার সম্পত্তি বণ্টনের শরীয়ত নির্ধারিত বিধানকে বোঝায়।
১০.
মুসলিম বিবাহ বিচ্ছেদ আইন, ১৯৩৯ অনুযায়ী, নিচের কোনটি বিবাহ বিচ্ছেদের ভিত্তি নয়?
  1. স্ত্রীর অন্য ধর্মে ধর্মান্তর
  2. বিবাহের সময় স্বামী পুরুষত্বহীন
  3. স্বামীর ২ বছর ধরে ভরণপোষণ প্রদানে ব্যর্থতা
  4. স্বামীর ৭ বছর বা তার বেশি সময়ের জন্য কারাদণ্ড
সঠিক উত্তর:
স্ত্রীর অন্য ধর্মে ধর্মান্তর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্ত্রীর অন্য ধর্মে ধর্মান্তর
ব্যাখ্যা
মুসলিম বিবাহ বিচ্ছেদ আইন, ১৯৩৯ এর ধারা ২ অনুযায়ী, একজন মুসলিম মহিলা বিবাহ বিচ্ছেদের জন্য উক্ত ধারায় লিখিত ভিত্তিগুলোর যেকোনো একটির উপর আবেদন করতে পারেন। তবে, স্ত্রীর অন্য ধর্মে ধর্মান্তর এই আইনে বিবাহ বিচ্ছেদের সরাসরি ভিত্তি নয়। 

স্ত্রীর অন্য ধর্মে ধর্মান্তর:
এই আইনের ধারা ৪ অনুযায়ী, একজন মুসলিম মহিলার ইসলাম ত্যাগ বা অন্য ধর্মে ধর্মান্তর স্বয়ংক্রিয়ভাবে তার বিবাহ বিচ্ছেদ করে না।
তবে, ধর্মান্তরের পর তিনি এই আইনের ধারা ২ এর অন্যান্য ভিত্তিতে (যেমন নিষ্ঠুরতা, ভরণপোষণে ব্যর্থতা ইত্যাদি) বিবাহ বিচ্ছেদের জন্য আবেদন করতে পারেন।
তাই, ধর্মান্তর সরাসরি বিবাহ বিচ্ছেদের ভিত্তি নয়।

অন্য অপশন গুলার মধ্যে: 
 খ) বিবাহের সময় স্বামী পুরুষত্বহীন:
এই আইনের ধারা ২(৫) অনুযায়ী, যদি স্বামী বিবাহের সময় পুরুষত্বহীন থাকে এবং বিয়ের পরেও পুরুষত্বহীন অব্যাহত থাকে, তাহলে এটি বিবাহ বিচ্ছেদের একটি বৈধ ভিত্তি।
গ) স্বামীর ২ বছর ধরে ভরণপোষণ প্রদানে ব্যর্থতা:
এই আইনের ধারা ২(২) অনুযায়ী, যদি স্বামী ২ বছর ধরে স্ত্রীর ভরণপোষণ প্রদানে ব্যর্থ হয়, তাহলে এটি বিবাহ বিচ্ছেদের একটি বৈধ ভিত্তি।
ঘ) স্বামীর ৭ বছর বা তার বেশি সময়ের জন্য কারাদণ্ড :
এই আইনের ধারা ২(৩) অনুযায়ী, যদি স্বামী ৭ বছর বা তার বেশি সময়ের জন্য কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন, তাহলে এটি বিবাহ বিচ্ছেদের একটি বৈধ ভিত্তি।

সঠিক উত্তর:
ক) স্ত্রীর অন্য ধর্মে ধর্মান্তর - কারণ, ধর্মান্তর সরাসরি বিবাহ বিচ্ছেদের ভিত্তি নয়, তবে এটি অন্যান্য ভিত্তিতে আবেদন করার সুযোগ দেয়।
১১.
"The Muslim Family Laws Ordinance, 1961" অনুসারে, যদি "P" এর পুত্র "A" উত্তরাধিকার খোলার বা আরম্ভের আগে মারা যান, তাহলে "A"-এর সন্তান "X" এবং "Y" কী পাবে?
  1. "A" এর অংশের সমান
  2. "A" এর অংশের অর্ধেক
  3. "A" এর অংশের দ্বিগুণ
  4. কিছুই পাবে না
সঠিক উত্তর:
"A" এর অংশের সমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
"A" এর অংশের সমান
ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: ক) "A" এর অংশের সমান।

→ The Muslim Family Laws Ordinance, 1961-এর ধারা ৪ অনুযায়ী, যদি কোনো ব্যক্তি তার উত্তরাধিকারী হওয়ার আগেই মারা যান, তাহলে তার সন্তানরা তার অংশের উত্তরাধিকারী হবে।
এটি প্রতিস্থাপনমূলক উত্তরাধিকার (Doctrine of Representation) নামে পরিচিত, যার ফলে সন্তানরা তাদের পিতার উত্তরাধিকারী হওয়ার পূর্ণ অধিকার পায়।

ধাপে ধাপে বিশ্লেষণ:
- "P" হলেন মূল ব্যক্তি, যার মৃত্যুর পর তার সম্পত্তি উত্তরাধিকারীদের মধ্যে বণ্টিত হবে।
- "A" হলেন "P" এর পুত্র, অর্থাৎ তিনি সাধারণত "P" এর উত্তরাধিকারী হতেন।
- কিন্তু "A" উত্তরাধিকার খোলার (P-এর মৃত্যুর) আগে মারা গেছেন।
- ধারা ৪ অনুযায়ী, "A"-এর সন্তানরা ("X" ও "Y") মিলে "A"-এর অংশ পাবে।
- অর্থাৎ, "X" ও "Y" সমান ভাগে তাদের পিতার (A) অংশ পাবে।

সঠিক উত্তর: ক) "A" এর অংশের সমান।
- কারণ, "X" এবং "Y" একসাথে "A" এর অংশের সমান পাবে, যা প্রতি শাখা অনুসারে (Per Stirpes) বণ্টনের নিয়ম অনুযায়ী নির্ধারিত হয়।
১২.
মুসলিম উত্তরাধিকার আইনে মৃত ব্যক্তির পিতার অংশ কত হবে যদি মৃত ব্যক্তির সন্তান থাকে?
  1. ১/২
  2. ১/৩
  3. ১/৪
  4. ১/৬
সঠিক উত্তর:
১/৬
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১/৬
ব্যাখ্যা
মুসলিম উত্তরাধিকার আইনে মৃত ব্যক্তির পিতা (বাবা) একজন নির্ধারিত অংশীদার (Zawil Furud)। 
মুসলিম উত্তরাধিকার আইনে পিতা (Father) হলেন একজন প্রাথমিক উত্তরাধিকারী, যার অংশ কোরআনে নির্ধারিত রয়েছে এবং তাকে কখনই সম্পূর্ণভাবে বঞ্চিত করা যায় না।
পিতা বিভিন্ন পরিস্থিতিতে সম্পত্তির অংশ পেতে পারেন।

⇒ পিতার তিনটি অবস্থা:

(ক) ১/৬
অবস্থা: যদি মৃত ব্যক্তির সন্তান থাকে, তাহলে পিতা ১/৬ অংশ পাবেন।

(খ) ১/৬ + অবশিষ্টাংশ
অবস্থা: যদি মৃত ব্যক্তির সন্তান না থাকে, তবে পিতা প্রথমে ১/৬ অংশ পাবেন এবং বাকি অবশিষ্ট সম্পত্তি তিনি আসাবা (Asaba) হিসেবে পাবেন।
কারণ: পিতা আংশিক অংশীদার হলেও, বাকি সম্পত্তি আসাবা হিসেবে পাওয়ার অধিকারী হন। অর্থাৎ, তিনি সম্পত্তির বাকী অংশ ভোগ করবেন।

(গ) অবশিষ্টাংশ
অবস্থা: যদি মৃত ব্যক্তির সন্তান ও অন্য কোনো আসাবা না থাকে, তবে পিতা সম্পূর্ণ সম্পত্তি পাবেন।
কারণ: কোনো অংশীদার বা আসাবা না থাকলে, পিতা আসাবা হিসেবে পুরো সম্পত্তি পেয়ে যাবেন।
১৩.
নিম্নলিখিত কোন বিষয়টি মুসলিম ব্যক্তিগত আইন (শরিয়ত) প্রয়োগ আইন, ১৯৩৭ এর আওতায় পড়ে না?
  1. বিবাহ
  2. ভরণপোষণ
  3. কৃষি জমি
  4. উত্তরাধিকার
সঠিক উত্তর:
কৃষি জমি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কৃষি জমি
ব্যাখ্যা
⇒ মুসলিম ব্যক্তিগত আইন (শরিয়ত) প্রয়োগ আইন, ১৯৩৭ এর ২ নং ধারায় বলা হয়েছে যে, এই আইনটি মুসলিমদের জন্য বিবাহ, বিবাহ-বিচ্ছেদ, ভরণপোষণ, উত্তরাধিকার, হাদিয়া, মোহরানা, অভিভাবকত্ব এবং এ ধরনের অন্যান্য বিষয় এর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। তবে, এই আইনের আওতায় কৃষি জমি সংক্রান্ত বিষয়গুলি আছে না। অর্থাৎ, কৃষি জমি সম্পর্কিত আইন বা বিতর্কগুলি মুসলিম ব্যক্তিগত আইন (শরিয়ত) অনুসারে নিষ্পত্তি হবে না; এগুলো অন্য আইনসমূহের অধীনে চলে।
তবে, কৃষি জমি সম্পর্কিত প্রশ্ন এই আইনের আওতাভুক্ত নয়, এটি অন্য বৈধ বিধান দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়।

⇒ মুসলিম ব্যক্তিগত আইন (শরিয়ত) প্রয়োগ আইন, ১৯৩৭ এর ২ ধারার বিধান মুসলিমদের ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত আইন প্রযোজ্য হওয়া:
কোনো প্রচলিত রীতিনীতি বা প্রথার বিপরীতে, নিম্নলিখিত বিষয়ে (কৃষিজমি সংক্রান্ত বিষয় ব্যতীত) মুসলিমদের মধ্যে সিদ্ধান্তের মূল ভিত্তি মুসলিম ব্যক্তিগত আইন (শরিয়ত) হইবে—
- উত্তরাধিকার (ইন্তেকালের পর সম্পত্তির বণ্টন),
- নারীদের বিশেষ সম্পত্তি (যেমন ব্যক্তিগত সম্পত্তি, যা উত্তরাধিকার, চুক্তি, হাদিয়া বা ব্যক্তিগত আইনের অন্য কোনো বিধানের মাধ্যমে অর্জিত),
- বিবাহ, বিবাহ-বিচ্ছেদ (যেমন তালাক, ইলা, জিহার, লিয়ান, খুলা ও মুবারাত),
- ভরণপোষণ, মোহরানা, অভিভাবকত্ব,
- হাদিয়া (উপহার), ট্রাস্ট ও ট্রাস্ট সম্পত্তি,
- ওয়াকফ (তবে দাতব্য প্রতিষ্ঠান, দাতব্য ও ধর্মীয় দান ব্যতীত)।
------------
⇒ The Muslim Personal Law (Shariat) Application Act, 1937- Section-2: Application of Personal Law to Muslims
- Notwithstanding any custom or usage to the contrary, in all questions (save questions relating to agricultural land) regarding intestate succession, special property of females, including personal property inherited or obtained under contract or gift or any other provision of Personal Law, marriage, dissolution of marriage, including talaq, ila, zihar, lian, khula and mubaraat, maintenance, dower, guardianship, gifts, trusts and trust properties, and waqfs (other than charities and charitable institutions and charitable and religious endowments) the rule of decision in cases where the parties are Muslims shall be the Muslim Personal Law (Shariat).
১৪.
উত্তরাধিকারের ক্ষেত্রে "per stirpes" নীতি প্রয়োগের বিধান মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১-এর কোন ধারায় উল্লেখ করা হয়েছে?
  1. ২ ধারায়
  2. ৪ ধারায়
  3. ৬ ধারায়
  4. ৮ ধারায়
সঠিক উত্তর:
৪ ধারায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৪ ধারায়
ব্যাখ্যা
⇒ "Per stirpes" নীতি বা উত্তরাধিকারী হিসেবে একটি পরিবারের শাখার প্রতি অংশ দেওয়া, যেখানে প্রত্যেক শাখা সমানভাবে উত্তরাধিকার লাভ করে, এটি মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১-এর ৪ ধারা-তে উল্লেখ করা হয়েছে।

- এটি মূলত এমন একটি প্রক্রিয়া যেখানে মৃত ব্যক্তির উত্তরাধিকারী হিসাবে তার সন্তান বা সন্তানের সন্তানদের মধ্যে ভাগ বণ্টন করা হয়। এই নীতির মাধ্যমে, একটি শাখার সদস্যরা তাদের পূর্বপুরুষের সম্পত্তি অংশীদার হতে পারে, যদি তাদের বাবা বা মা মারা গিয়ে থাকেন।
অর্থাৎ এই ধারায় বলা হয়েছে যে, যদি কোনো ব্যক্তি তার পিতামাতার জীবিত অবস্থায় মারা যায়, তবে তার সন্তানরা তার স্থানে উত্তরাধিকারী হবে।

- এছাড়াও, ৪ ধারায় মুসলিমদের উত্তরাধিকার সংক্রান্ত বিষয়গুলি আলোচনা করা হয়েছে, যেখানে এটি বলা হয়েছে যে যদি কোনো ব্যক্তি কোনো উত্তরাধিকারী রেখে যায়, তবে তার সম্পত্তি কিভাবে ভাগ করা হবে, তা নির্ধারণ করা হয়।
১৫.
পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩ এর অধীনে নিম্নলিখিত কোন বিষয়ে মোকদ্দমা দায়ের করা যায় না?
  1. দেনমোহর
  2. ভরণপোষণ
  3. বিবাহ বিচ্ছেদ
  4. ফৌজদারি মামলা
সঠিক উত্তর:
ফৌজদারি মামলা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফৌজদারি মামলা
ব্যাখ্যা
⇒ পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩ এর ধারা ৫ অনুসারে, পারিবারিক আদালতের এখতিয়ার শুধুমাত্র পারিবারিক বিরোধ সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোর মধ্যে সীমাবদ্ধ। এর মধ্যে রয়েছে: বিবাহ বিচ্ছেদ, দেনমোহর, ভরণপোষণ, শিশু সন্তানদের অভিভাবকত্ব ও তত্ত্বাবধান ইত্যাদি।

উল্লিখিত প্রশ্নের ফৌজদারি মামলা পারিবারিক আদালতের এখতিয়ারের বাইরে, কারণ এটি ফৌজদারি আইনের অধীন পড়ে।

- ফৌজদারি মামলা সাধারণত ফৌজদারি আদালতে নিষ্পত্তি করা হয়।

⇒ পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩ এর ৫ ধারার বিধান: পারিবারিক আদালতের এখতিয়ার:
মুসলিম পারিবারিক আইনের বিধানাবলি সাপেক্ষে, পারিবারিক আদালতে নিম্নরূপ সকল বা যেকোনো বিষয় সম্পর্কিত বা উহা হইতে উদ্ভূত যেকোনো মোকদ্দমা গ্রহণ, বিচার এবং নিষ্পত্তির এখতিয়ার থাকিবে, যথা :-
(ক) বিবাহ বিচ্ছেদ;
(খ) দাম্পত্য অধিকার পুনরুদ্ধার;
(গ) দেনমোহর;
(ঘ) ভরণপোষণ; এবং
(ঙ) শিশু সন্তানদের অভিভাবকত্ব ও তত্ত্বাবধান।
১৬.
মুসলিম বিবাহ বিচ্ছেদ আইন, ১৯৩৯ অনুযায়ী, যদি স্বামী ৭ বছর বা তার বেশি সময়ের জন্য কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন, তাহলে বিবাহ বিচ্ছেদের ডিক্রি কখন পাস করা যাবে?
  1. রায় হওয়ার পর
  2. রায় চূড়ান্ত হওয়ার পর
  3. ২ বছর কারাবাসের পর
  4. ৫ বছর কারাবাসের পর
সঠিক উত্তর:
রায় চূড়ান্ত হওয়ার পর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রায় চূড়ান্ত হওয়ার পর
ব্যাখ্যা
মুসলিম বিবাহ বিচ্ছেদ আইন, ১৯৩৯ এর ধারা ২(৩) অনুযায়ী, যদি স্বামী ৭ বছর বা তার বেশি সময়ের জন্য কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন, তাহলে বিবাহ বিচ্ছেদের ডিক্রি পাস করা যাবে। 
- এই ধারা অনুযায়ী, স্বামী যদি ৭ বছর বা তার বেশি সময়ের জন্য কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন, তাহলে স্ত্রী বিবাহ বিচ্ছেদের জন্য আবেদন করতে পারেন।
তবে, এই ডিক্রি পাস করার আগে আদালতকে নিশ্চিত হতে হবে যে রায় চূড়ান্ত হয়েছে। অর্থাৎ, রায়ের বিরুদ্ধে কোনো আপিল বা পুনর্বিচারের আবেদন থাকলে, যতক্ষণ না তা নিষ্পত্তি হয়, ততক্ষণ ডিক্রি পাস করা যাবে না।

প্রদত্ত অপশন গুলোর বিশ্লেষণ:
ক) রায় হওয়ার পর : এটি সঠিক নয়, কারণ রায় চূড়ান্ত হওয়ার আগে ডিক্রি পাস করা যায় না।
খ) রায় চূড়ান্ত হওয়ার পর: এটি সঠিক উত্তর। রায় চূড়ান্ত হওয়ার পরই কেবল ডিক্রি পাস করা যাবে।
গ) ২ বছর কারাবাসের পর: এটি ভুল, কারণ কারাবাসের সময় নয়, রায়ের চূড়ান্ততা বিবেচ্য।
ঘ) ৫ বছর কারাবাসের পর: এটি ভুল, কারণ কারাবাসের সময় নয়, রায়ের চূড়ান্ততা বিবেচ্য।

সঠিক উত্তর: খ) রায় চূড়ান্ত হওয়ার পর। কারণ, এই আইন অনুযায়ী, ডিক্রি পাস করার আগে রায় চূড়ান্ত হওয়া আবশ্যক।
১৭.
মুসলিম বিবাহ ও তালাক (নিবন্ধন) আইন, ১৯৭৪ অনুযায়ী, বিবাহ সম্পাদনের পর নিবন্ধনের জন্য কত দিনের মধ্যে রেজিস্ট্রারের কাছে রিপোর্ট করতে হবে?
  1. ১৫ দিন
  2. ৩০ দিন
  3. ৪৫ দিন
  4. ৬০ দিন
সঠিক উত্তর:
৩০ দিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩০ দিন
ব্যাখ্যা
⇒ মুসলিম বিবাহ ও তালাক (নিবন্ধন) আইন, ১৯৭৪-এর ধারা ৫(২) অনুযায়ী, যদি কোনো নিকাহ রেজিস্ট্রার ব্যতীত অন্য কেউ মুসলিম বিবাহ সম্পাদন করেন, তাহলে বর (বরপক্ষ) বিবাহের তারিখ থেকে ৩০ দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট নিকাহ রেজিস্ট্রারের কাছে তা রিপোর্ট করতে বাধ্য।
→ ধারা ৫(৪) অনুসারে, যদি কেউ এই আইনের বিধান লঙ্ঘন করে অর্থাৎ ৩০ দিনের মধ্যে রিপোর্ট না করে, তাহলে তিনি সর্বোচ্চ দুই বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড, তিন হাজার টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হতে পারেন।
→ সুতরাং, মুসলিম বিবাহ ও তালাক (নিবন্ধন) আইন, ১৯৭৪ অনুযায়ী, বিবাহ সম্পাদনের পর ৩০ দিনের মধ্যে নিকাহ রেজিস্ট্রারের কাছে রিপোর্ট করতে হবে।

⇒ মুসলিম বিবাহ ও তালাক (নিবন্ধন) আইন, ১৯৭৪-এর ধারা ৫ এর বিধান বিবাহ সম্পাদনের রিপোর্ট ও নিবন্ধন:
(১) যদি নিকাহ রেজিস্ট্রার নিজে বিবাহ সম্পাদন করেন, তাহা হইলে তিনি অবিলম্বে বিবাহ নিবন্ধন করিবেন।
(২) যদি নিকাহ রেজিস্ট্রার অন্য কোন ব্যক্তি বিবাহ সম্পাদন করেন, তাহা হইলে বিবাহের বরকে উক্ত সম্পাদনের তারিখ হইতে ত্রিশ দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট নিকাহ রেজিস্ট্রারকে ইহা রিপোর্ট করিতে হইবে। 
(৩) যদি নিকাহ রেজিস্ট্রারের নিকট বিবাহ সম্পাদনের রিপোর্ট করা হয়, তাহা হইলে তিনি অবিলম্বে বিবাহ নিবন্ধন করিবেন।
(৪) এই ধারার কোন বিধান লঙ্ঘনকারী ব্যক্তি অপরাধ করিয়াছেন বলিয়া গণ্য হইবেন এবং তিনি দুই বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড বা তিন হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।
---------
⇒ The Muslim Marriages and Divorces (Registration) Act, 1974-Section 5. Solemnization of a marriage to be reported and registered:
(1) Where a marriage is solemnized by the Nikah Registrar himself, he shall register the marriage at once. 
(2) Where a marriage is solemnized by a person other than the Nikah Registrar, the bridegroom of the marriage shall report it to the concerned Nikah Registrar within thirty days from the date of such solemnization. 
(3) Where solemnization of a marriage is reported to a Nikah Registrar under sub-section (2), he shall register the marriage at once. 
(4) A person who contravenes any provision of this section commits an offence and he shall be liable to be punished with simple imprisonment for a term which may extend to two years or with fine which may extend to three thousand taka, or with both.
১৮.
মুসলিম উত্তরাধিকার আইনে স্ত্রীর অংশ কত হবে যদি স্বামীর সন্তান না থাকে?
  1. ১/২
  2. ১/৩
  3. ১/৪
  4. ১/৮
সঠিক উত্তর:
১/৪
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১/৪
ব্যাখ্যা
স্ত্রী (Wife):
- স্ত্রীও স্বামীর মতো কুরআনের প্রাথমিক উত্তরাধিকারী। স্ত্রীর ক্ষেত্রে দুটি অবস্থা রয়েছে, এবং স্ত্রীর অংশ কখনোই সম্পূর্ণভাবে বঞ্চিত হয় না।
- ইসলামের আবির্ভাবের পূর্বে, স্ত্রী মৃত স্বামীর সম্পত্তি থেকে কিছুই পেতেন না। তবে ইসলামী আইন অনুযায়ী, স্ত্রীর উত্তরাধিকার নির্ধারিত হয়েছে।

স্ত্রীর দুটি অবস্থা:
(ক) ১/৪ (১/৪ অংশ):
- অবস্থা: যদি মৃত ব্যক্তি কোনো সন্তান বা পুত্র সন্তান না রেখে মারা যান, তবে স্ত্রীর অংশ হবে ১/৪।
- শর্ত: মৃত ব্যক্তি যদি কোনো সন্তান বা পুত্র সন্তান না রেখে মারা যান, তবে স্ত্রী তার স্বামীর সম্পত্তির ১/৪ অংশ পাবেন।

(খ) ১/৮ (১/৮ অংশ):
- অবস্থা: যদি মৃত ব্যক্তি কোনো সন্তান বা পুত্র সন্তান রেখে যান, তবে স্ত্রীর অংশ হবে ১/৮।
- শর্ত: মৃত ব্যক্তি যদি সন্তান বা পুত্র সন্তান রেখে মারা যান (যত নিচের স্তরের সন্তানই হোক), তবে স্ত্রী তার স্বামীর সম্পত্তির ১/৮ অংশ পাবেন।

একাধিক স্ত্রী থাকলে বণ্টনের নিয়ম:
- যদি একাধিক স্ত্রী থাকে, তবে তারা সমানভাবে ভাগ পাবেন।
- সংখ্যার ভিত্তিতে ভাগ বাড়বে না। অর্থাৎ, একাধিক স্ত্রীর মধ্যে তাদের অংশ সমান হবে, কোনো স্ত্রীর ভাগ বাড়বে না।

অর্থাৎ স্ত্রী কখনোই সম্পূর্ণভাবে বঞ্চিত হন না। যদি মৃত ব্যক্তি সন্তান না রেখে মারা যান, স্ত্রীর অংশ হবে ১/৪, এবং যদি সন্তান বা পুত্র সন্তান থাকে, স্ত্রীর অংশ হবে ১/৮। একাধিক স্ত্রীর ক্ষেত্রে, তারা সমানভাবে ভাগ পাবেন।
১৯.
পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩ এর অধীনে ডিক্রি বাস্তবায়নের জন্য আদালত কতদিনের মধ্যে আবেদন করতে হবে?
  1. ১ মাস
  2. ৩ মাস
  3. ৬ মাস
  4. ১ বছর
সঠিক উত্তর:
১ বছর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১ বছর
ব্যাখ্যা
পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩ এর ধারা ১৭(৩) অনুসারে, ডিক্রি বাস্তবায়নের জন্য আদালতে আবেদন করতে হবে ডিক্রি প্রদানের তারিখ থেকে ১ বছরের মধ্যে। এই সময়সীমা ডিক্রিদার (যিনি ডিক্রি পেয়েছেন) কর্তৃক ডিক্রিটি বাস্তবায়নের জন্য আবেদন করার জন্য নির্ধারিত হয়েছে।
এই সময়সীমা মেনে চলা জরুরি, কারণ সময়সীমা অতিক্রম করলে ডিক্রি বাস্তবায়নের জন্য আবেদন করা যাবে না।
- এই বিধানটি ডিক্রিদারকে ডিক্রি বাস্তবায়নের জন্য পর্যাপ্ত সময় দেয়, পাশাপাশি আইনি প্রক্রিয়াকে সুশৃঙ্খল রাখে।
------------
⇒ পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩ এর ১৭ ধারার বিধান: ডিক্রি বলবৎকরণ:
(১) পারিবারিক আদালত নির্ধারিত ফরমে ও পদ্ধতিতে ডিক্রি প্রদান করিবে এবং উহার বিবরণ নির্ধারিত ডিক্রি রেজিস্টার বহিতে লিপিবদ্ধ করিবে।
(২) যদি ডিক্রির দাবি পূরণকল্পে আদালতের সম্মুখে কোনো অর্থ পরিশোধ করা হয় বা কোনো সম্পত্তি হস্তান্তর করা হয়, তাহা হইলে উপরিউক্ত রেজিস্ট্রারে অনুরূপ পরিশোধ বা হস্তান্তরের বিষয় লিপিবদ্ধ করিতে হইবে।

(৩) যেক্ষেত্রে ডিক্রি অর্থ পরিশোধ সম্পর্কিত হয় এবং আদালত কর্তৃক নির্ধারিত সময়ে ডিক্রিকৃত অর্থ পরিশোধিত না হয়, সেইক্ষেত্রে উক্তরূপ নির্ধারিত সময় অতিবাহিত হইবার ১ (এক) বৎসরের মধ্যে ডিক্রিদার কর্তৃক আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ডিক্রিটি বাস্তবায়ন করা হইবে, যথা:
(ক) দেওয়ানি কার্যবিধির অধীন কোনো দেওয়ানি আদালত কর্তৃক প্রদত্ত অর্থের ডিক্রির ন্যায়; অথবা
(খ) ফৌজদারি কার্যবিধির অধীন ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক প্রদত্ত জরিমানা প্রদানের আদেশের ন্যায় এবং উক্তরূপে বাস্তবায়নের পর ডিক্রির আদায়কৃত অর্থ ডিক্রিদারকে প্রদান করিতে হইবে।
(৪) উপধারা (৩) এর দফা (ক) এর অধীন ডিক্রি বাস্তবায়নের উদ্দেশ্যে, পারিবারিক আদালত দেওয়ানি আদালত হিসাবে গণ্য হইবে এবং দেওয়ানি আদালতের সকল ক্ষমতা উহার থাকিবে।
(৫) উপধারা (৩) এর দফা (খ) এর অধীন ডিক্রি বাস্তবায়নের উদ্দেশ্যে পারিবারিক আদালতের বিচারক একজন প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট হিসাবে গণ্য হইবেন এবং ফৌজদারি কার্যবিধির অধীন উক্ত ম্যাজিস্ট্রেটের সকল ক্ষমতা তাহার থাকিবে এবং তিনি ডিক্রিকৃত বকেয়া অর্থ আদায়ের জন্য উক্ত কার্যবিধিতে এ জরিমানা আদায়ের জন্য বর্ণিত পদ্ধতিতে ওয়ারেন্ট জারি করিতে পারিবেন এবং ওয়ারেন্ট জারির পর অপরিশোধিত সম্পূর্ণ ডিক্রিকৃত অর্থ বা উহার কোনো অংশের জন্য রায় দেনাদারকে অনধিক ৩ (তিন) মাস অথবা পরিশোধ হওয়া পর্যন্ত, যাহা পূর্বে ঘটে, কারাদণ্ডের আদেশ প্রদান করিতে পারিবে।
(৬) যেক্ষেত্রে কোনো ডিক্রি অর্থ পরিশোধ সংক্রান্ত না হয়, সেইক্ষেত্রে উক্ত ডিক্রি দেওয়ানি আদালতের অর্থ সংক্রান্ত ডিক্রি ব্যতীত অন্য কোনো ডিক্রির ন্যায় বাস্তবায়ন করিতে হইবে এবং এতদুদ্দেশ্যে আদালত একটি দেওয়ানি আদালত হিসাবে গণ্য হইবে এবং দেওয়ানি কার্যবিধির অধীন উক্ত আদালতের সকল ক্ষমতা উহার থাকিবে।
(৭) ডিক্রি প্রদানকারী পারিবারিক আদালত স্বয়ং ডিক্রি বাস্তবায়ন করিবে অথবা ডিক্রি প্রদানকারী আদালত ডিক্রি বাস্তবায়নের জন্য অন্য কোনো পারিবারিক আদালতে উহা বদলি করিতে পারিবে এবং উক্ত ডিক্রি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে যে আদালতে বদলি করা হইয়াছে সেই আদালতের ডিক্রি প্রদানকারী পারিবারিক আদালতের সকল ক্ষমতা থাকিবে, যেন উক্ত আদালতই ডিক্রি প্রদান করিয়াছে।
(৮) আদালত, উপযুক্ত বিবেচনা করিলে, তৎকর্তৃক প্রদত্ত ডিক্রির অর্থ কিস্তিতে পরিশোধ করিবার আদেশ প্রদান করিতে পারিবে এবং যেরূপ উপযুক্ত মনে করিবে সেইরূপ কিস্তির সংখ্যা নির্ধারণ করিয়া দিতে পারিবে।
২০.
মুসলিম বিবাহ বিচ্ছেদ আইন, ১৯৩৯ অনুযায়ী, মহর সম্পর্কে নিচের কোনটি সত্য?
  1. মহরের অধিকার অর্ধেক কমে যায়
  2. মহরের অধিকার বিলুপ্ত করা হয়
  3. মহরের অধিকার স্বামীর কাছে স্থানান্তরিত হয়
  4. মহরের অধিকার বিবাহ বিচ্ছেদের দ্বারা প্রভাবিত হয় না
সঠিক উত্তর:
মহরের অধিকার বিবাহ বিচ্ছেদের দ্বারা প্রভাবিত হয় না
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মহরের অধিকার বিবাহ বিচ্ছেদের দ্বারা প্রভাবিত হয় না
ব্যাখ্যা
মুসলিম বিবাহ বিচ্ছেদ আইন, ১৯৩৯ এর ধারা ৫ অনুযায়ী, মহর (দেনমোহর) সম্পর্কে একটি স্পষ্ট বিধান রয়েছে। এই ধারাটি বিবাহ বিচ্ছেদের পরও মহরের অধিকার সংরক্ষণ করে। এই আইনে যা কিছুই থাকুক না কেন, মহরের অধিকার (দেনমোহর) অক্ষুণ্ণ থাকবে।
অর্থাৎ, বিবাহ বিচ্ছেদের পরও স্ত্রী তার মহরের সম্পূর্ণ বা যেকোনো অংশ পাবার অধিকার রাখেন।
এই বিধানটি মুসলিম পারিবারিক আইনের মূলনীতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ, যা মহরকে স্ত্রীর একটি মৌলিক অধিকার হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।

মুসলিম বিবাহ বিচ্ছেদ আইন, ১৯৩৯ এর ধারা ৫ এর বিধানের উদ্দেশ্য হলো, বিবাহ বিচ্ছেদের পরও স্ত্রীর আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। মহর হলো স্ত্রীর একটি আইনগত অধিকার, যা বিবাহ বিচ্ছেদের পরেও তার প্রাপ্য।

সঠিক উত্তর: ঘ) মহরের অধিকার বিবাহ বিচ্ছেদের দ্বারা প্রভাবিত হয় না।
কারণ, এই আইন অনুযায়ী, বিবাহ বিচ্ছেদের পরও মহরের অধিকার অক্ষুণ্ণ থাকে এবং স্ত্রী তার মহরের সম্পূর্ণ বা যেকোনো অংশ পাবার অধিকার রাখেন।
২১.
শরীয়া আইন অনুযায়ী মোট কোরানিক অংশীদার কত জন?
  1. ৫ জন
  2. ৭ জন
  3. ১২ জন
  4. ১৪ জন
সঠিক উত্তর:
১২ জন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১২ জন
ব্যাখ্যা
⇒ শরীয়া আইন অনুযায়ী মোট ১২ জন কোরানিক অংশীদার রয়েছে।
- কোরানিক অংশীদার হলেন তারা যারা কোরআনে নির্ধারিত উত্তরাধিকারী, অর্থাৎ যারা মুসলিম উত্তরাধিকার আইনে (শরীয়া আইনে) কোনো মৃত ব্যক্তির সম্পত্তি পাওয়ার অধিকারী।
- কোরআনে ১২ জন নির্দিষ্ট অংশীদারের নাম উল্লেখ করা হয়েছে, যাদের মধ্যে কিছু পুরুষ এবং কিছু মহিলা রয়েছেন।
কোরানিক অংশীদার সর্বমোট ১২ জন। এর মধ্যে ৮ জন মহিলা ও ৪ জন পুরুষ। যথা-
১. স্বামী (Husband)
২. স্ত্রী (Wife)
৩. বাবা (Father)
৪. মা (Mother)
৫. কন্যা (Daughter)
৬. পুত্রের কন্যা (Son's Daughter)
৭. দাদা (True Grandfather)
৮. দাদি (True Grandmother)
৯. আপন বোন (Full Sister)
১০. বৈমাত্রেয় বোন (Consanguine Sister)
১১. বৈপিত্রেয় বোন (Uterine Sister)
১২. বৈপিত্রেয় ভাই (Uterine Brother)
২২.
মুসলিম বিবাহ ও তালাক (নিবন্ধন) আইন অনুসারে, নিকাহ রেজিস্ট্রারকে তার সংরক্ষিত রেজিস্টার কতদিন পর্যন্ত তার হেফাজতে রাখতে বাধ্য?
  1. চিরকাল
  2. ৫ বছর
  3. ১০ বছর
  4. রেজিস্টার পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত
সঠিক উত্তর:
রেজিস্টার পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রেজিস্টার পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত
ব্যাখ্যা
⇒ মুসলিম বিবাহ ও তালাক (নিবন্ধন) আইন, ১৯৭৪-এর ধারা ১২ অনুসারে, নিকাহ রেজিস্ট্রারকে তার সংরক্ষিত রেজিস্টার যতদিন পূর্ণ না হয়, ততদিন তা নিজের হেফাজতে রাখতে হবে।
যখন রেজিস্টার সম্পূর্ণ পূর্ণ হয়ে যাবে, তখন তিনি তা সংশ্লিষ্ট রেজিস্ট্রারের (Registrar) কাছে হস্তান্তর করতে বাধ্য।
এছাড়া, যদি নিকাহ রেজিস্ট্রার তার দায়িত্ব ছেড়ে দেন, অন্যত্র চলে যান বা তার লাইসেন্স বাতিল হয়, তাহলে তিনি তার কাছে থাকা অপূর্ণ রেজিস্টারও সংশ্লিষ্ট রেজিস্ট্রারের কাছে জমা দিতে বাধ্য।

⇒ মুসলিম বিবাহ ও তালাক (নিবন্ধন) আইন, ১৯৭৪-এর ধারা ১২ এর বিধান রেজিস্টারের হেফাজত:
প্রত্যেক নিকাহ রেজিস্ট্রার ধারা ৮ অনুযায়ী তাহার দ্বারা সংরক্ষিত প্রত্যেক রেজিস্টার নিরাপদে রাখিবেন এবং উক্ত রেজিস্টার পূর্ণ হইলে বা তিনি জেলা ত্যাগ করিলে বা লাইসেন্স হারাইলে, উহা রেজিস্ট্রারের নিকট হেফাজতের জন্য প্রদান করিবেন। 
---------------
⇒ The Muslim Marriages and Divorces (Registration) Act, 1974-Section-12. Custody of registers:
Every Nikah Registrar shall keep safely each register maintained by him under section 8 until the same is filled, and shall then or earlier if he leaves the district or ceases to hold a licence, make over the same to the Registrar for safe custody.
২৩.
মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশের উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের জন্য কে বিধি প্রণয়ন করতে পারে?
  1. আদালত
  2. সরকার
  3. সালিশি পরিষদ
  4. স্থানীয় প্রশাসন
সঠিক উত্তর:
সরকার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সরকার
ব্যাখ্যা
⇒ মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১-এর ধারা ১১ অনুযায়ী, সরকার এই অধ্যাদেশের উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের জন্য বিধি (নিয়ম) প্রণয়ন করতে পারে। এই বিধি প্রণয়ন করার পর, তা সরকারী গেজেটে প্রকাশিত হবে এবং আইন হিসেবে কার্যকর হবে। আদালত, সালিশি পরিষদ, বা স্থানীয় প্রশাসন এই বিধি প্রণয়ন করার ক্ষমতা রাখে না।

⇒ মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১-এর ধারা ১১ এর বিধান নিয়ম তৈরি করার ক্ষমতা:
(১) সরকার এই অধ্যাদেশের উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের জন্য নিয়ম তৈরি করতে পারে।
(২) এই সেকশনের অধীনে নিয়ম তৈরি করার সময়, সরকার তা নির্ধারণ করতে পারে যে, কোনো নিয়মের লঙ্ঘন করলে সাধারণ কারাদণ্ড, যা এক মাস পর্যন্ত হতে পারে, অথবা জরিমানা, যা পাঁচশো টাকা পর্যন্ত হতে পারে, অথবা উভয় দণ্ড হতে পারে।
(৩) এই সেকশনের অধীনে তৈরি করা নিয়মগুলো সরকারী গেজেটে প্রকাশিত হবে এবং সেগুলো তখন থেকে এই অধ্যাদেশে আইন হিসেবে কার্যকর হবে।
-------------
The Muslim Family Laws Ordinance, 1961 Section- 11. Power to make rules
(1) The Government may make rules to carry into effect the purposes of this Ordinance.
(2) In making rules under this section, the Government may provide that a breach of any of the rules shall be punishable with simple imprisonment which may extend to one month, or with fine which may extend to five hundred taka, or with both. 
(3) Rules made under this section shall be published in the official Gazette, and shall thereupon have effect as if enacted in this Ordinance.
২৪.
পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩ এর অধীনে মোকদ্দমার শুনানি কখন রুদ্ধদ্বার কক্ষে অনুষ্ঠিত হতে পারে?
  1. সর্বদা
  2. শুধুমাত্র বাদীর অনুরোধে
  3. শুধুমাত্র বিবাদীর অনুরোধে
  4. আদালত উপযুক্ত মনে করলে
সঠিক উত্তর:
আদালত উপযুক্ত মনে করলে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আদালত উপযুক্ত মনে করলে
ব্যাখ্যা
⇒ পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩ এর ধারা ১২(১) অনুসারে, পারিবারিক আদালত বা পারিবারিক আপিল আদালত যখন উপযুক্ত মনে করবে, তখন মোকদ্দমার শুনানি রুদ্ধদ্বার কক্ষে (In Camera) অনুষ্ঠিত করতে পারবে।
- এছাড়াও, যদি উভয় পক্ষ (বাদী ও বিবাদী) রুদ্ধদ্বার কক্ষে শুনানির জন্য অনুরোধ করেন, তাহলে আদালত সেটি মেনে নিতে পারে।
এই বিধানের উদ্দেশ্য হলো পারিবারিক বিরোধের গোপনীয়তা রক্ষা করা এবং পক্ষগণের ব্যক্তিগত ও পারিবারিক গোপনীয়তা বজায় রাখা।
এটি বিশেষ করে সংবেদনশীল পারিবারিক বিষয়ে প্রযোজ্য, যেমন বিবাহ বিচ্ছেদ, ভরণপোষণ বা শিশু সন্তানের অভিভাবকত্ব সংক্রান্ত মামলা।
--------- 
⇒ পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩ এর ১২ ধারার বিধান: রুদ্ধদ্বার কক্ষে বিচার:
(১) পারিবারিক আদালত বা পারিবারিক আপিল আদালত, উপযুক্ত মনে করিলে, এই আইনের অধীন কোনো মোকদ্দমার কার্যধারার সম্পূর্ণ বা কোনো অংশবিশেষ রুদ্ধদ্বার কক্ষে অনুষ্ঠান করিতে পারিবে।
(২) যেক্ষেত্রে মোকদ্দমার কার্যধারা উভয়পক্ষ রুদ্ধদ্বার কক্ষে অনুষ্ঠানের জন্য আদালতকে অনুরোধ করেন, সেইক্ষেত্রে আদালত উহা রুদ্ধদ্বার কক্ষে অনুষ্ঠান করিবে।
২৫.
আউল নীতি ইসলামী আইনে কীভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়?
  1. কুরআনের মাধ্যমে
  2. হাদীসের মাধ্যমে
  3. ইজমার মাধ্যমে
  4. কিয়াসের মাধ্যমে
সঠিক উত্তর:
ইজমার মাধ্যমে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইজমার মাধ্যমে
ব্যাখ্যা
আউল নীতি:
‘আউল’ শব্দের আভিধানিক অর্থ হচ্ছে ‘বৃদ্ধি হওয়া’। শরীয়তের নিয়মানুযায়ী, যাবিল ফুরুজ বা অংশীদারদের অংশ প্রদানের পর তাদের অংশাবলীর যোগফল যদি মূল সম্পদ হতে বেড়ে যায় বা ১ এর চেয়ে বেশি হয়, তাহলে যে নিয়মে তা সমাধান করা হয়, সেটাই আউল। কুরআনে অংশীদারদের যে তালিকা রয়েছে, তাদের বিভিন্ন বিন্যাস ও সমাবেশে কখনো কখনো তা ১ এর চেয়ে বেশি হওয়া গাণিতিকভাবে এবং অনুপাতভিত্তিক বন্টনে একটি স্বাভাবিক ঘটনা হলেও, এ বিন্যাস খুব সহজলভ্য নয়। তাই হাদীসে এর কোনো উদাহরণ নেই, তবে চার খলিফার আমলে এটি আলোচিত হয় এবং পরবর্তীতে শরীয়তের তৃতীয় উৎস ইজমার মাধ্যমে ইসলামী আইন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়।
অর্থাৎ, 
- আউল নীতি ইসলামী আইনশাস্ত্রে ইজমার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হয়। ইজমা হলো ইসলামী ঐকমত্য বা আলেমদের সম্মিলিত সিদ্ধান্ত, যা শর্ত পূর্ণ হলে শরীয়তের তৃতীয় উৎস হিসেবে কাজ করে।
- যদিও কুরআন এবং হাদীসে আউল নীতির সরাসরি উল্লেখ নেই, তবে ইসলামী ঐকমত্য বা ইজমা দ্বারা চার খলিফার আমলে এই নীতি প্রতিষ্ঠিত হয়।
- পরবর্তীতে এটি ইসলামী সম্পত্তি বণ্টন আইন হিসেবে স্বীকৃত হয়। ইজমা দ্বারা এই নীতি প্রতিষ্ঠিত হওয়ার কারণ হলো, এটি তখনকার সময়ের আলেমদের মধ্যে একটি ঐক্যবদ্ধ সিদ্ধান্ত ছিল, যা শরীয়তের প্রাকৃতিক বা গাণিতিক জটিলতা কাটানোর জন্য গৃহীত হয়েছিল।
২৬.
মুসলিম বিবাহ ও তালাক (নিবন্ধন) আইন, ১৯৭৪ অনুযায়ী, তালাক-ই-তাফওয়েজ নিবন্ধনের জন্য কী প্রয়োজন?
  1. স্বাক্ষরিত চুক্তি
  2. নিবন্ধিত দলিল
  3. মৌখিক আবেদন
  4. আদালতের আদেশ
সঠিক উত্তর:
নিবন্ধিত দলিল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিবন্ধিত দলিল
ব্যাখ্যা
⇒ মুসলিম বিবাহ ও তালাক (নিবন্ধন) আইন, ১৯৭৪-এর ধারা ৬(৩) অনুসারে, তালাক-ই-তাফওয়েজ (Talaq-e-Tafweez) বা প্রতিনিধিত্বমূলক তালাক নিবন্ধনের জন্য একটি নিবন্ধিত দলিল (Registered Document) অথবা বিয়ের নিবন্ধন রেজিস্টারে থাকা স্বামীর তালাক দেওয়ার ক্ষমতা অর্পণের প্রমাণ থাকা আবশ্যক।

তালাক-ই-তাফওয়েজ:
তালাক-ই-তাফওয়েজ হলো স্বামীর দ্বারা স্ত্রীকে তালাক প্রদানের ক্ষমতা প্রদান করা। এটি সাধারণত বিয়ের সময় নির্দিষ্ট চুক্তিতে উল্লেখ থাকে এবং যদি স্ত্রী সেই ক্ষমতা প্রয়োগ করে, তবে সেটি বৈধ তালাক হিসেবে গণ্য হয়।

আইন অনুসারে তালাক-ই-তাফওয়েজ নিবন্ধনের জন্য নিম্নলিখিত দুটি উপায়ে প্রমাণ থাকতে হবে:
১) একটি দলিল, যা রেজিস্ট্রেশন অ্যাক্ট, ১৯০৮-এর অধীনে নিবন্ধিত থাকতে হবে, যেখানে স্বামী স্ত্রীকে তালাক দেওয়ার ক্ষমতা প্রদান করেছেন।
২) নিকাহ রেজিস্ট্রারের রেজিস্টারে থাকা বিয়ের নথিতে উল্লেখ থাকতে হবে যে স্বামী তালাক-ই-তাফওয়েজের ক্ষমতা স্ত্রীকে প্রদান করেছেন।

⇒ মুসলিম বিবাহ ও তালাক (নিবন্ধন) আইন, ১৯৭৪-এর ধারা ৬ এর বিধান তালাক নিবন্ধন:
(১) নিকাহ রেজিস্ট্রার মুসলিম আইন অনুযায়ী সম্পাদিত তালাক তাহার এখতিয়ারের মধ্যে নিবন্ধন করিতে পারিবেন, যদি তাহার নিকট উক্ত নিবন্ধনের জন্য আবেদন করা হয়।
(২) তালাক নিবন্ধনের জন্য আবেদন তালাক প্রদানকারী ব্যক্তি বা ব্যক্তিগণ কর্তৃক মৌখিকভাবে করা হইবে:
তবে শর্ত থাকে যে, যদি মহিলা পর্দানশীন হন, তাহা হইলে তাহার পক্ষে তাহার কর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত ওকালতনামা দ্বারা আবেদন করা যাইবে।
(৩) নিকাহ রেজিস্ট্রার তালাক-ই-তাফওয়েজ নামক তালাক নিবন্ধন করিবেন না, যদি না স্বামী কর্তৃক স্ত্রীকে তালাক প্রদানের ক্ষমতা অর্পণের জন্য ১৯০৮ সনের রেজিস্ট্রেশন আইন (১৯০৮ সনের ১৬ নং আইন) অনুযায়ী নিবন্ধিত দলিল বা বিবাহ নিবন্ধনের রেজিস্টারে উক্ত অর্পণের প্রমাণস্বরূপ সত্যায়িত নকল প্রদান করা হয়।
(৪) যদি নিকাহ রেজিস্ট্রার তালাক নিবন্ধনে অস্বীকৃতি জানান, তাহা হইলে তালাক নিবন্ধনের জন্য আবেদনকারী ব্যক্তি বা ব্যক্তিগণ উক্ত অস্বীকৃতির তারিখ হইতে ত্রিশ দিনের মধ্যে রেজিস্ট্রারের নিকট আপিল করিতে পারিবেন এবং রেজিস্ট্রার কর্তৃক প্রদত্ত আদেশ চূড়ান্ত হইবে।
------------- 
⇒ The Muslim Marriages and Divorces (Registration) Act, 1974-Section- 6. Registration of divorces: 
(1) A Nikah Registrar may register a divorce effected under Muslim Law within his jurisdiction on application being made to him for such registration. 
(2) An application for registration of a divorce shall be made orally by the person or persons who has or have effected the divorce: 
Provided that if the woman be a parda-nashin, such application may be made by her duly authorised vakil. 
(3) The Nikah Registrar shall not register a divorce of the kind known as Talaq-i-tafweez except on the production of a document registered under the Registration Act, 1908 (XVI of 1908), by which the husband delegated the power of divorce to the wife or of an attested copy of an entry in the register of marriages showing that such delegation has been made. 
(4) Where the Nikah Registrar refuses to register a divorce, the person or persons who applied for such registration may, within thirty days of such refusal, prefer an appeal to the Registrar and the order passed by the Registrar on such appeal shall be final.
২৭.
মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১ অনুসারে, বিদ্যমান বিবাহ বহাল থাকাকালীন একজন পুরুষ আরেকটি বিবাহ করতে চাইলে কী করতে হবে?
  1. সরাসরি বিয়ে করতে পারবে
  2. সালিশি পরিষদের লিখিত অনুমতি নিতে হবে
  3. স্থানীয় মসজিদের ইমামের অনুমতি নিতে হবে
  4. পারিবারিক আদালতের অনুমতি নিতে হবে
সঠিক উত্তর:
সালিশি পরিষদের লিখিত অনুমতি নিতে হবে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সালিশি পরিষদের লিখিত অনুমতি নিতে হবে
ব্যাখ্যা
⇒ মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১ অনুসারে, বিদ্যমান বিবাহ বহাল থাকাকালীন একজন পুরুষ যদি আরেকটি বিবাহ করতে চান, তবে তাকে সালিশি পরিষদের লিখিত অনুমতি নিতে হবে।
অর্থাৎ, উত্তর হবে খ) সালিশি পরিষদের লিখিত অনুমতি নিতে হবে।

- ধারা ৬ (১) অনুযায়ী, একজন পুরুষ যদি বিদ্যমান বিবাহের চলাকালীন আরেকটি বিবাহ করতে চান, তবে তাকে আরবিট্রেশন কাউন্সিল বা সালিশি পরিষদের পূর্বানুমতি লিপিবদ্ধভাবে নিতে হবে। যদি অনুমতি ছাড়া বিবাহ করা হয়, তবে তা নিবন্ধিত হবে না এবং পুরুষকে শাস্তি ভোগ করতে হতে পারে।

তবে, স্থানীয় মসজিদের ইমামের অনুমতি বা পারিবারিক আদালতের অনুমতি এই বিষয়ে প্রযোজ্য নয়।
২৮.
‘উমরিয়াতিন’-এর আওতায় মা কত ভাগ পাবেন যখন বাবার সাথে স্ত্রী বা স্বামী থাকেন?
  1. ১/৩ ভাগ
  2. ১/২ ভাগ
  3. ১/৪ ভাগ
  4. পিতার অংশের দ্বিগুণ
সঠিক উত্তর:
১/৩ ভাগ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১/৩ ভাগ
ব্যাখ্যা
উত্তর: ক) ১/৩ ভাগ
⇒ ‘উমরিয়াতিন’ নীতির আওতায়, যদি মা, বাবা এবং স্বামী বা স্ত্রী একত্রে থাকেন, তাহলে মা সম্পত্তির ১/৩ ভাগ পাওয়ার পরিবর্তে পিতার অংশ দেওয়ার পর অবশিষ্ট অংশ পাবেন।
- অর্থাৎ, মা প্রথমে ১/৩ ভাগ পাওয়ার অধিকারী হলেও, পিতার অংশ দেওয়ার পর বাকি অংশ তাঁর দিকে চলে আসে।
- এটি হজরত উমর (রা.)-এর ঘোষণা অনুযায়ী, যাতে মা পিতার অংশের দ্বিগুণ না পান এবং উমরিয়াতিন নীতির আওতায় সম্পত্তি বণ্টন সঠিকভাবে হয়।

Doctrine of Umariyatan (উমরিয়াতান নীতি):
উমরিয়াতান বা উমরিয়াতিন হলো ইসলামী উত্তরাধিকার আইনের একটি বিশেষ নীতি, যা ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা হজরত উমর (রা.)-এর দুটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের উপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত। এই নীতির মূল উদ্দেশ্য হলো মায়ের অংশকে পিতার অংশের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা, যাতে মা পিতার চেয়ে বেশি অংশ না পান। এটি মূলত দুইটি বিশেষ পরিস্থিতিতে প্রয়োগ করা হয়, যেগুলোকে আল-ঘররাওয়ানি বা "দুই প্রতারক" বলা হয়।

উমরিয়াতান নীতির উদ্দেশ্য:
১. মায়ের অংশকে ১/৩ থেকে কমিয়ে পিতার অংশের সাথে সামঞ্জস্য করা।
২. পিতা যেন মায়ের অংশের দ্বিগুণ পান, তা নিশ্চিত করা।
৩. মায়ের অংশের অসঙ্গতি দূর করা, যাতে তিনি পিতার চেয়ে বেশি অংশ না পান।

মাতা ১/৩ অংশ পাওয়ার শর্ত:
মাতা ১/৩ অংশ পাওয়ার অধিকারী হবেন যদি নিম্নলিখিত দুটি শর্ত পূরণ হয়:
১. মৃত ব্যক্তির কোনো সন্তান বা পুত্রের সন্তান (যেমন: নাতি-নাতনি) না থাকে।
২. মৃত ব্যক্তির একাধিক ভাই বা বোন না থাকে (এক ভাই বা এক বোন থাকলে মাতা ১/৩ পাবেন)।

উমরিয়াতান নীতির প্রয়োগ:
উমরিয়াতান নীতি বিশেষভাবে প্রয়োগ হয় যখন নিম্নলিখিত দুটি পরিস্থিতি তৈরি হয়:
১. বাবা, মা, স্বামী একসাথে উত্তরাধিকারী হলে।
২. বাবা, মা, স্ত্রী একসাথে উত্তরাধিকারী হলে।

- এই পরিস্থিতিতে মাতা সরাসরি ১/৩ অংশ না পেয়ে, পিতার অংশ বণ্টনের পর অবশিষ্ট সম্পত্তি থেকে ১/৩ অংশ পাবেন।
- এই নিয়ম প্রয়োগ না করলে মাতা পিতার চেয়ে বেশি অংশ পেতে পারেন, যা ইসলামী উত্তরাধিকার আইনের মূল নীতির সাথে সাংঘর্ষিক।
২৯.
মুসলিম বিবাহ বিচ্ছেদ আইন, ১৯৩৯ অনুযায়ী, যদি একজন মহিলাকে ১৮ বছর বয়সের আগে বিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তিনি কত বছর বয়সের আগে বিয়ে প্রত্যাখ্যান করতে পারেন?
  1. ১৮ বছর বয়সের আগে
  2. ১৯ বছর বয়সের আগে
  3. ২০ বছর বয়সের আগে
  4. ২১ বছর বয়সের আগে
সঠিক উত্তর:
১৯ বছর বয়সের আগে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯ বছর বয়সের আগে
ব্যাখ্যা
→ মুসলিম বিবাহ বিচ্ছেদ আইন, ১৯৩৯ এর ধারা ২(৭) অনুযায়ী, যদি একজন মহিলাকে ১৮ বছর বয়সের আগে বিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তিনি ১৯ বছর বয়সের আগে বিয়ে প্রত্যাখ্যান করতে পারেন। এই বিধানটি নাবালিকা বিবাহের ক্ষেত্রে মহিলাদের আইনি সুরক্ষা প্রদান করে।
- এই ধারা অনুযায়ী, যদি কোনো মহিলাকে তার ১৮ বছর বয়সের আগে বিয়ে দেওয়া হয় এবং তিনি সেই বিয়ে প্রত্যাখ্যান করতে চান, তাহলে তিনি ১৯ বছর বয়সের আগে তা করতে পারেন।
- তবে, এই বিয়ে প্রত্যাখ্যান করার জন্য একটি শর্ত হলো যে বিবাহ সম্পন্ন হয়নি হতে হবে। অর্থাৎ, যদি বিবাহ সম্পন্ন হয়ে যায়, তাহলে এই ভিত্তিতে বিয়ে প্রত্যাখ্যান করা যাবে না।
- এই বিধানের উদ্দেশ্য হলো, নাবালিকা বিবাহের ক্ষেত্রে মহিলাদের আইনি সুরক্ষা প্রদান করা। এটি তাদেরকে একটি নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে তাদের বিবাহের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করার সুযোগ দেয়।

সঠিক উত্তর: খ) ১৯ বছর বয়সের আগে।
- কারণ, এই আইন অনুযায়ী, যদি একজন মহিলাকে ১৮ বছর বয়সের আগে বিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তিনি ১৯ বছর বয়সের আগে বিয়ে প্রত্যাখ্যান করতে পারেন।
৩০.
মুসলিম ব্যক্তিগত আইন (শরিয়ত) প্রয়োগ আইন, ১৯৩৭ এর অধীন কোনো ব্যক্তি সুবিধা পেতে চাইলে তাকে কোন বিষয়টি প্রমাণ করতে হবে?
  1. সে মুসলিম
  2. সে চুক্তি করতে সক্ষম
  3. সে বাংলাদেশে বসবাসকারী
  4. উপরের সবগুলো
সঠিক উত্তর:
উপরের সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
⇒ মুসলিম ব্যক্তিগত আইন (শরিয়ত) প্রয়োগ আইন, ১৯৩৭ এর ৩ নং ধারায় বলা হয়েছে যে, যদি কোনো ব্যক্তি এই আইনের সুবিধা পেতে চায়, তবে তাকে নিম্নলিখিত তিনটি বিষয় প্রমাণ করতে হবে:
১) সে মুসলিম – ব্যক্তি অবশ্যই মুসলিম হতে হবে।
২) সে চুক্তি করতে সক্ষম – ব্যক্তি ১৮৭২ সালের চুক্তি আইনের ১১ নং ধারার অধীনে চুক্তি করতে সক্ষম হতে হবে।
৩) সে বাংলাদেশে বসবাসকারী – ব্যক্তি অবশ্যই বাংলাদেশে বসবাসকারী হতে হবে।
এই তিনটি শর্ত পূরণ করলে, ব্যক্তি ঘোষণাপত্র দাখিল করে এই আইনের সুবিধা লাভ করতে পারবেন।

⇒ মুসলিম ব্যক্তিগত আইন (শরিয়ত) প্রয়োগ আইন, ১৯৩৭ এর ৩. ধারার বিধান: ঘোষণাপত্র দাখিলের ক্ষমতা:
(১) যে কোনো ব্যক্তি, যদি সে—
(ক) মুসলিম হয়,
(খ) ১৮৭২ সালের চুক্তি আইনের ১১ নং ধারার অর্থে চুক্তি করতে সক্ষম হয়, এবং
(গ) বাংলাদেশে বসবাস করে,
তবে সে নির্ধারিত কর্তৃপক্ষের নিকট নির্ধারিত ফরমে ঘোষণাপত্র দাখিল করিয়া জানাইতে পারিবে যে সে এই ধারার সুবিধা গ্রহণ করিতে চায়।
এই ঘোষণার পর, ঘোষণাকারী ব্যক্তি এবং তাহার অপ্রাপ্তবয়স্ক সন্তান ও তাহাদের বংশধরদের ক্ষেত্রে ২ নং ধারার বিধান প্রযোজ্য হইবে, এবং সেখানে উল্লিখিত বিষয়গুলোর পাশাপাশি দত্তক গ্রহণ, উইল এবং উত্তরাধিকারী নির্ধারণ সংক্রান্ত বিষয়গুলিও অন্তর্ভুক্ত হইবে।

(২) যদি নির্ধারিত কর্তৃপক্ষ কোনো ঘোষণাপত্র গ্রহণ করিতে অসম্মতি জানায়, তবে ঘোষণাকারী ব্যক্তি সরকারের নিযুক্ত নির্দিষ্ট কর্মকর্তা বরাবর আপিল করিতে পারিবে। যদি সেই কর্মকর্তা আপিলকারীর যোগ্যতা সম্পর্কে সন্তুষ্ট হন, তবে তিনি নির্ধারিত কর্তৃপক্ষকে ঘোষণাপত্র গ্রহণের আদেশ প্রদান করিতে পারিবেন।
---------
The Muslim Personal Law (Shariat) Application Act, 1937- Section-3. Power to make a declaration:
(1) Any person who satisfies the prescribed authority- 
(a) that he is a Muslim, and 
(b) that he is competent to contract within the meaning of section 11 of the Contract Act, 1872, and 
(c) that he is a resident of Bangladesh, 
may by declaration in the prescribed form and filed before the prescribed authority declare that he desires to obtain the benefit of the provisions of this section, and thereafter the provisions of section 2 shall apply to the declarant and all his minor children and their descendants as if in addition to the matters enumerated therein adoption, wills and legacies were also specified.

(2) Where the prescribed authority refuses to accept a declaration under sub-section (1), the person desiring to make the same may appeal to such officer as the Government may, by general or special order, appoint in this behalf, and such officer may, if he is satisfied that the appellant is entitled to make the declaration, order the prescribed authority to accept the same.
৩১.
সালিশি পরিষদের অনুমতি ছাড়া বিবাহ করলে মোহরানা কীভাবে আদায়যোগ্য হবে?
  1. আদালতের মাধ্যমে
  2. স্বেচ্ছায় পরিশোধ করতে হবে
  3. জরিমানার মতো আদায়যোগ্য
  4. ভূমি রাজস্বের বকেয়ার মতো আদায়যোগ্য
সঠিক উত্তর:
ভূমি রাজস্বের বকেয়ার মতো আদায়যোগ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভূমি রাজস্বের বকেয়ার মতো আদায়যোগ্য
ব্যাখ্যা
⇒ মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১-এর ধারা ৬ (৫) অনুযায়ী, যে পুরুষ সালিশি পরিষদের অনুমতি ছাড়াই আরেকটি বিবাহ করবেন, তাকে তার বিদ্যমান স্ত্রীর বা স্ত্রীরদের সমস্ত মোহরানা (দেউর) পরিশোধ করতে হবে। যদি তা পরিশোধ না করা হয়, তবে সেটি ভূমি রাজস্বের বকেয়া হিসেবে আদায়যোগ্য হবে।

অর্থাৎ, দেউর পরিশোধ না করলে, রাষ্ট্র এটি ভূমি রাজস্বের মতো আদায় করবে।
৩২.
পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩ এর অধীনে মোকদ্দমা দায়েরের জন্য আরজিতে কী কী তথ্য উল্লেখ করতে হবে?
  1. বাদীর নাম, বর্ণনা ও বাসস্থান
  2. বিবাদীর নাম, বর্ণনা ও বাসস্থান
  3. মোকদ্দমার কারণ সংক্রান্ত তথ্য
  4. উপরের সবগুলো
সঠিক উত্তর:
উপরের সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
⇒ পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩ এর ধারা ৬(৪) অনুসারে, মোকদ্দমা দায়েরের জন্য আরজিতে নিম্নলিখিত তথ্য উল্লেখ করতে হবে:
- বাদীর নাম, বর্ণনা ও বাসস্থান (ক)
- বিবাদীর নাম, বর্ণনা ও বাসস্থান (খ)
- মোকদ্দমার কারণ সংক্রান্ত তথ্য (গ)
- আদালতের এখতিয়ার সম্পর্কিত তথ্য
- বাদীর প্রার্থীত প্রতিকার
- মোকদ্দমার কারণ যেস্থানে ও তারিখে উদ্ভূত হয়েছে তার বিবরণ
- বাদী বা বিবাদী নাবালক বা অপ্রকৃতিস্থ হলে তৎসংশ্লিষ্ট বিবরণী
এই সমস্ত তথ্য আরজিতে উল্লেখ করা বাধ্যতামূলক, যাতে আদালত মোকদ্দমার বিষয়বস্তু ও পক্ষগণের পরিচয় স্পষ্টভাবে বুঝতে পারে এবং যথাযথভাবে বিচারকার্য পরিচালনা করতে পারে। তাই উপরের সবগুলো তথ্য (ক, খ, গ) আরজিতে উল্লেখ করতে হবে।
৩৩.
ইসলামী শরীয়া আইনের ‘রদ্দ’ শব্দের আভিধানিক অর্থ কী?
  1. বৃদ্ধি হওয়া
  2. সমন্বয় করা
  3. অংশীদারিত্ব বন্টন
  4. প্রত্যাবর্তন করা
সঠিক উত্তর:
প্রত্যাবর্তন করা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রত্যাবর্তন করা
ব্যাখ্যা
রদ্দ নীতি:
রদ্দ এর আভিধানিক অর্থ হলো "প্রত্যাবর্তন করা"। এটি আউলের বিপরীত নিয়ম। শরীয়তের নিয়মানুযায়ী, যাবিল ফুরুজ বা অংশীদারদের অংশ প্রদানের পর যদি তাদের অংশাবলীর যোগফল ১ এর চেয়ে কম হয় এবং মৃত ব্যক্তির কোনো আসাবা (যেমন পুত্র, পিতা ইত্যাদি) না থাকে, তাহলে অবশিষ্ট সম্পত্তি স্বামী/স্ত্রী ব্যতীত অন্যান্য অংশীদারদের কাছে পুনরায় বণ্টন করা হয়।

উদাহরণ
পরিস্থিতি: এক ব্যক্তি স্বামী, কন্যা এবং মাতাকে রেখে মৃত্যুবরণ করে।

সমাধান:
স্বামী: স্বামী পাবে এক-চতুর্থাংশ (১/৪) অংশ।
কন্যা: কন্যা পাবে অর্ধেক (১/২) অংশ।
মাতা: মাতা পাবে এক-ষষ্ঠাংশ (১/৬) অংশ।
যোগফল: ১/৪ + ১/২ + ১/৬ = ৩/১২ + ৬/১২ + ২/১২ = ১১/১২, যা ১ এর চেয়ে কম।
এখানে রদ্দ নীতি প্রয়োগ করতে হবে। অবশিষ্ট সম্পত্তি (১ - ১১/১২ = ১/১২) কন্যা এবং মাতার মধ্যে পুনরায় বণ্টন করা হবে।

পুনর্বণ্টন:
কন্যা: (১/২) / (১১/১২) = ৬/১১
মাতা: (১/৬) / (১১/১২) = ২/১১