পরীক্ষা আর্কাইভ

ভূগোল, পরিবেশ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা

পরীক্ষাভূগোল, পরিবেশ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনাতারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়07 minutes
মোট প্রশ্ন১৮
সিলেবাস
পরীক্ষা – ৯ টপিক: বাংলাদেশের আবহাওয়া ও জলবায়ু এবং জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ সমূহ; প্রাকৃতিক দুর্যোগের ধরণ ও প্রকৃতি, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা [Live Class – 14 & 15]
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

ভূগোল, পরিবেশ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা

ভূগোল, পরিবেশ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা · তারিখ অনির্ধারিত · ১৮ প্রশ্ন

.
মিয়ানমারের সাথে বাংলাদেশের কয়টি প্রধান আন্তঃসীমান্ত নদী রয়েছে? 
  1. ১টি
  2. ৩টি
  3. ২টি
  4. ৪টি
সঠিক উত্তর:
৩টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩টি
ব্যাখ্যা

সীমান্তবর্তী নদী:
- আন্তঃসীমান্তবর্তী নদী হলো এমন নদী যা অন্তত এক বা একাধিক দেশের রাজনৈতিক সীমান্ত অতিক্রম করে।
- বাংলাদেশে মোট ৫৭টি আন্তঃসীমান্তবর্তী নদী রয়েছে।
-  বাংলাদেশ-মিয়ানমার আন্তঃসীমান্ত নদী ৩টি, (সাঙ্গু, মাতামুহুরী, নাফ)। 
- এই তিনটি নদীর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নদী হলো নাফ নদী।
- নাফ নদী কক্সবাজার জেলার দক্ষিণ-পূর্ব সীমান্ত বরাবর প্রবাহিত হয়ে বঙ্গোপসাগরে মিশেছে।
-  বঙ্গোপসাগরে মিশে নাফ নদী বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে প্রধান আন্তর্জাতিক সীমান্ত গঠন করে।
- নাফ নদী বাংলাদেশের টেকনাফ ও মিয়ানমারের রাখাইন/মংডু অঞ্চলকে আলাদা করে।
- অন্য দুটি নদী, মাতামুহুরী ও সাঙ্গু, মিয়ানমার থেকে উৎপন্ন হয়ে বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে।

উৎস: প্রথম আলো পত্রিকা।

.
নিচের কোনটি বন্যার মানবসৃষ্ট কারণ? 
  1. অতিরিক্ত বৃষ্টি
  2. নদী ভাঙন 
  3. ভৌগোলিক অবস্থান
  4. অপরিকল্পিত নগরায়ণ
সঠিক উত্তর:
অপরিকল্পিত নগরায়ণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অপরিকল্পিত নগরায়ণ
ব্যাখ্যা

বন্যা:
- বন্যা বলতে সাধারণত প্রাকৃতিক বা মানবসৃষ্ট বিভিন্ন কারণে- জলাশয়, নদী বা খালের পানি উপচে পড়ে পার্শ্ববর্তী স্থলভূমি প্লাবিত হওয়াকে বোঝায়। 
- বন্যা সংঘটিত হওয়ার পেছনে প্রাকৃতিক ও মানবসৃষ্ট- উভয় ধরনের কারণই দায়ী।
- প্রাকৃতিক কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে-
• উজানে অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত,
• ভৌগোলিক অবস্থান,
• মৌসুমি জলবায়ুর প্রভাব,
• নদীর গভীরতা ক্রমশ কমে যাওয়া,
• হিমালয় অঞ্চলের বরফ গলে অতিরিক্ত পানি প্রবাহ,
•বঙ্গোপসাগরের তীব্র জোয়ার-ভাটা এবং
• ভূমিকম্পের প্রভাব।

অন্যদিকে,
•মানবসৃষ্ট কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে-
• নদী অববাহিকায় ব্যাপক বৃক্ষনিধন,
• গঙ্গা নদীর উপর নির্মিত ফারাক্কা বাঁধ,
• অন্যান্য নদীর উপর নির্মিত বাঁধসমূহের প্রভাব এবং
অপরিকল্পিত নগরায়ণ। 
- এসব প্রাকৃতিক ও মানবসৃষ্ট কারণের সম্মিলিত প্রভাবে বন্যা সৃষ্টি হয়ে মানুষের জীবন, সম্পদ ও পরিবেশের ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও দৈনিক ইনকিলাব পত্রিকা। 

.
দেশের সর্বশেষ আবিষ্কৃত গ্যাসক্ষেত্রটি কোন জেলায় অবস্থিত? [ জানুয়ারি, ২০২৬]
  1. সিলেট
  2. ভোলা 
  3. জামালপুর 
  4. লক্ষিপুর
সঠিক উত্তর:
জামালপুর 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জামালপুর 
ব্যাখ্যা

গ্যাসক্ষেত্র:
- বাংলাদেশের সর্বশেষ  আবিষ্কৃত ৩০তম গ্যাসক্ষেত্র জামালপুরের মাদারগঞ্জে আবিষ্কৃত হয়েছে।
- এই গ্যাসক্ষেত্রটি তারতাপাড়া গ্রামের কাছে শনাক্ত করা হয়েছে।

- তারতাপাড়া গ্রামে নতুন কূপ খননের পর প্রাথমিক পরীক্ষায় গ্যাসের সন্ধান পাওয়া গেছে। 
- এই কূপ থেকে প্রতিদিন ৭.৩ মিলিয়ন ঘনফুট হারে গ্যাস উৎপন্ন হচ্ছে।
- কাজটি পরিচালনা করেছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেড (বাপেক্স)।
-  এটি দেশের গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলনের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

উল্লেখ্য, 
- বাংলাদেশে বর্তমানে ২৯টি চলমান প্রাকৃতিক গ্যাসক্ষেত্র রয়েছে। 
- সর্বশেষ আবিষ্কৃত চলমান গ্যাসক্ষেত্রের নাম হলো ভোলা জেলার ইলিশা-১ (Ilisha-1)।
- ইলিশা-১- ২০২২ সালে আবিষ্কৃত হয় এবং ২০২৩ সালের মে মাসে এর আবিষ্কারের ঘোষণা দেওয়া হয়। 
- এটি দেশের ২৯তম গ্যাসক্ষেত্র হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে।
- ভোলা নর্থ গ্যাসক্ষেত্রের পরে ভোলার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কার এই ইলিশা-১।
- এর আগে ভোলায় 'ভোলা নর্থ' এবং 'শাহবাজপুর' নামে আরও দুটি গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কৃত হয়েছে।

উৎস: প্রথম আলো।[লিঙ্ক]

.
বাংলাদেশে প্রচুর ঘূর্ণিঝড় হওয়ার কারণ- 
  1. নদীর মোহনা বেশি হওয়ার কারণে
  2. সমুদ্র থেকে দূরত্ব বেশি হওয়ার কারণে
  3. বঙ্গোপসাগরের ফানেল আকৃতির কারণে 
  4. পাহাড় বেশি হওয়ার কারণে
সঠিক উত্তর:
বঙ্গোপসাগরের ফানেল আকৃতির কারণে 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বঙ্গোপসাগরের ফানেল আকৃতির কারণে 
ব্যাখ্যা

ঘূর্ণিঝড়:
- ঘূর্ণিঝড় হলো এক ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ।
- এই বায়ুমণ্ডলীয় দুর্যোগ বাতাসের প্রচণ্ড ঘূর্ণায়মান গতি এবং নিম্নচাপের কারণে সৃষ্টি হয়। 
- এটি সাধারণত গ্রীষ্মমণ্ডলীয় অঞ্চলে ঘটে।
- বাংলাদেশের দক্ষিণে বঙ্গোপসাগরের আকৃতি ফানেলের মতো হওয়ার কারণে বাংলাদেশে ঘূর্ণিঝড়ের তীব্রতা বেশি হয়। 
- ফানেল আকারের কারণে ঝড় সহজে উপকূলের দিকে চলে আসে।
- এবং জলোচ্ছ্বাস আরও শক্তিশালী হয়।
- বঙ্গোপসাগরের উপর নিম্নচাপ তৈরি হলে এই ঝড় বাংলাদেশের উপকূলে আঘাত হানে। 
- বিশেষ করে এপ্রিল-মে ও অক্টোবর-নভেম্বর মাসে বাংলাদেশে ঘূর্ণিঝড় বেশি সংঘটিত হয়।
- ঘূর্ণিঝড়ের ফলে প্রচণ্ড বাতাস, ভারী বৃষ্টি ও জলোচ্ছ্বাস উপকূলে অনেক ক্ষয়ক্ষতি করে।
- ঘরবাড়ি, রাস্তা, কৃষিজমি ও মাছ চাষের ক্ষেত্র ধ্বংস হয়।
- বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থানও ঘূর্ণিঝড় সংঘটনের জন্য দায়ী। 

উৎস:
১. বাংলাপিডিয়া;
২. Britannica.

.
বর্তমানে ভূমিকম্পের তীব্রতা পরিমাপের জন্য কোন স্কেলটি ব্যবহার করা হয়?
  1. সিসমোগ্রাফ 
  2. মোমেন্ট ম্যাগনিচিউড স্কেল 
  3. মারকেলি স্কেল 
  4. কোনটি নয় 
সঠিক উত্তর:
মোমেন্ট ম্যাগনিচিউড স্কেল 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মোমেন্ট ম্যাগনিচিউড স্কেল 
ব্যাখ্যা

ভূমিকম্পের তীব্রতা পরিমাপ:
- ভূমিকম্প হলো একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ।
- এই দুর্যোগ পৃথিবীর অভ্যন্তরস্থ শিলায় জমে থাকা শক্তির হঠাৎ মুক্তির ফলে সৃষ্টি হয়।
- এর ফলে ভূত্বকের কিছু অংশ আন্দোলিত হয়ে ভূ-অভ্যন্তর থেকে ভূপৃষ্ঠ পর্যন্ত কম্পন অনুভূত হয়, যা মৃদু কম্পন থেকে প্রবল ধ্বংসযজ্ঞ পর্যন্ত হতে পারে।
- ভূমিকম্প মূলত টেকটোনিক প্লেটের চলাচল বা আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের কারণে ঘটে থাকে।
- আগে ভূমিকম্পের তীব্রতা নির্ণয়ে রিখটার স্কেল (Richter Scale) ব্যবহার করা হতো।
- যা ১৯৩৫ সালে চার্লস এফ. রিখটার উদ্ভাবন করেন।
- তবে এই স্কেলটি শুধু মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্প (magnitude ৩–৭) পর্যন্ত যথাযথ ফল দিত।
- বর্তমানে বিজ্ঞানীরা ব্যবহার করেন মোমেন্ট ম্যাগনিচিউড স্কেল (Moment Magnitude Scale).

অন্যদিকে,
- সিসমোগ্রাফ: এটি একটি যন্ত্র, যা ভূমিকম্পের কম্পন রেকর্ড করে।
- মারকেলি স্কেল: এটি ভূমিকম্পের ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা বা intensity পরিমাপ করে।

উৎস:
১. প্রথম আলো;
২. Britannica.

.
খরার প্রভাবে বাংলাদেশের কোন অঞ্চলে কৃষি উৎপাদন কমে যায়?
  1. উপকূলীয় অঞ্চলে
  2. পার্বত্য চট্টগ্রামে
  3. মধ্যাঞ্চলে
  4. উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে 
সঠিক উত্তর:
উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে 
ব্যাখ্যা

খরা:
- খরা হলো দীর্ঘ সময় ধরে চলা শুষ্ক আবহাওয়ার অবস্থা।
- খরা মূলত স্বাভাবিকের তুলনায় বৃষ্টিপাত কম হওয়া, অতিরিক্ত বাষ্পীভবন ও উদ্ভিদের প্রস্বেদনের কারণে সৃষ্টি হয়।
• খরা এর ফলে:
- জলসম্পদের ঘাটতি দেখা দেয়;
- নদী–খাল ও কুয়া শুকিয়ে যায়;
- ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নেমে যায়;
- এবং পানির সংকট তীব্র আকার ধারণ করে।
• খরার প্রধান কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে:
- অপর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত,
- দীর্ঘস্থায়ী গরম ও শুষ্ক আবহাওয়া,
- বেশি তাপমাত্রাজনিত বাষ্পীভবন;
- এবং ভূ-পৃষ্ঠ ও ভূগর্ভস্থ জলের স্বল্পতা।
- এসব কারণে মাটির আর্দ্রতা কমে যায় এবং স্বাভাবিক জলচক্র ব্যাহত হয়।
- খরার প্রভাবে বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে কৃষি উৎপাদন কমে যায়, ফসল নষ্ট হয় এবং খাদ্য সংকট দেখা দেয়।
- পাশাপাশি পানীয় জল ও সেচ ব্যবস্থায় সমস্যা তৈরি হয়।
- অর্থনীতিতে বড় ধরনের ক্ষতি হয় এবং পরিবেশগতভাবে ভূমি অনুর্বর হয়ে মরুকরণের ঝুঁকি বাড়ে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও প্রথম আলো পত্রিকা।

.
ভূমিকম্পের অপ্রধান কারণের অন্তর্ভুক্ত নয় কোনটি? 
  1. ভূমিধস
  2. আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত
  3. ভূগর্ভস্থ চাপ
  4. টেকটোনিক প্লেটের সরণ
সঠিক উত্তর:
টেকটোনিক প্লেটের সরণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
টেকটোনিক প্লেটের সরণ
ব্যাখ্যা

ভূমিকম্পের অপ্রধান কারণ:
- ভূমিকম্পের অপ্রধান কারণের অন্তর্ভুক্ত নয়- টেকটোনিক প্লেটের সরণ।
- পৃথিবীর ভূত্বক বিভিন্ন প্লেট বা ফলকে গঠিত।
- এই প্লেটের সঞ্চালন ভূমিকম্পের প্রধান কারণ। 
- টেকটোনিক প্লেটের সংঘর্ষ, বিচ্যুতি বা ঘর্ষণের ফলে জমে থাকা শক্তি হঠাৎ মুক্ত হয়ে বড় আকারের ভূমিকম্প সৃষ্টি করে।

• অপ্রধান কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে:
- শিলাচ্যুতি বা শিলায় ভাঁজ পড়া,
- ভূগর্ভস্থ বাষ্পের চাপ,
- ভূত্বকের তাপ বিকিরণ,
- আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত,
- পাহাড়ি শিলাখণ্ডের ধস;
- এবং মানুষের কার্যকলাপ (যেমন খনন বা বড় বাঁধ নির্মাণ)।
- এগুলো মূলত টেকটোনিক প্লেটের সরণের কারণে সৃষ্ট বড় ভূমিকম্পের সঙ্গে ছোটখাটো কম্পন বা মানুষের সৃষ্টি কম্পন ঘটাতে পারে।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

.
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা চক্রে দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতি কমানোর ধাপ কোনটি?
  1. প্রশমন
  2. প্রতিরোধ
  3. সাড়াদান
  4. পুনরুদ্ধার
সঠিক উত্তর:
প্রশমন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রশমন
ব্যাখ্যা

• দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা চক্র:
-
দুর্যোগ হলো এমন একটি আকস্মিক এবং গুরুতর ঘটনা, যা প্রাকৃতিক বা মানবসৃষ্ট কারণে ঘটে এবং জীবন, সম্পদ ও পরিবেশের   ব্যাপক ক্ষতি সাধন করে।
- দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা চক্র হলো একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া।
- এর ছয়টি ধাপ রয়েছে: প্রতিরোধ, প্রশমন, প্রস্তুতি, সাড়াদান, পুনরুদ্ধার, এবং উন্নয়ন।
- এই চক্রে ঝুঁকি হ্রাস থেকে শুরু করে দুর্যোগ পরবর্তী পুনর্গঠন পর্যন্ত সব কার্যক্রম অন্তর্ভুক্ত।
- দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা চক্রে দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতি কমানোর ধাপ হচ্ছে- প্রশমন প্রক্রিয়া।

উল্লেখ্য, 
• প্রতিরোধ (Prevention): দুর্যোগ ঘটতেই না পারে এমন ব্যবস্থা গ্রহণ, যেমন: বন্যাপ্রতিরোধী বাঁধ নির্মাণ।
• প্রশমন (Mitigation): দুর্যোগের প্রভাব কমানোর দীর্ঘমেয়াদী পদক্ষেপ, যেমন: ভূমিকম্প-সহনশীল ভবন তৈরি।
• প্রস্তুতি (Preparedness): দুর্যোগের আগে প্রস্তুতি নেওয়া, যেমন: মহড়া, ত্রাণ সামগ্রী মজুদ রাখা, পরিকল্পনা তৈরি।
• সাড়াদান (Response): দুর্যোগ চলাকালীন বা সঙ্গে সঙ্গে জরুরি সাহায্য প্রদান, যেমন: উদ্ধার, খাদ্য, আশ্রয় ও স্বাস্থ্যসেবা।
• পুনরুদ্ধার (Recovery): দুর্যোগের পর স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনা, যেমন: অবকাঠামো ও অর্থনীতি পুনর্গঠন।
• উন্নয়ন (Development): ভবিষ্যতের জন্য ঝুঁকি হ্রাস ও শক্তিশালী ব্যবস্থা তৈরি, যা পরবর্তী চক্রের প্রস্তুতি ও প্রশমনে সাহায্য করে।
- এই ধাপগুলো চক্রাকারে চলতে থাকে, যার মূল লক্ষ্য মানুষের জীবন, সম্পদ রক্ষা এবং স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা।

উৎস: ভূগোল ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

.
বাংলাদেশে সবচেয়ে গুরুতর ঝুঁকিপূর্ণ ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চল কোনগুলো? 
  1. রাজশাহী, পাবনা, বরিশাল
  2. সিলেট, ময়মনসিংহ, রংপুর
  3. খুলনা, যশোর, বরগুনা
  4. কিশোরগঞ্জ, ময়মনসিংহ, কুমিল্লা 
সঠিক উত্তর:
সিলেট, ময়মনসিংহ, রংপুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সিলেট, ময়মনসিংহ, রংপুর
ব্যাখ্যা

• ঝুঁকিপূর্ণ ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চল:
- ২০২০ সালের National Building Code অনুসারে, বাংলাদেশকে চারটি ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চলে ভাগ করা হয়েছে:
• খুবই গুরুতর ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চল,
• গুরুতর ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চল,
• মাঝারি ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চল,
• এবং কম ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চল।
- সবচেয়ে গুরুতর ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হলো:
• উত্তর-পূর্বাঞ্চল, বিশেষ করে সিলেট, ময়মনসিংহ এবং রংপুর বিভাগ।
- এসব জায়গায় ইন্ডিয়ান ও বার্মা টেকটোনিক প্লেটের সংযোগ বড় ধরনের কম্পনের সম্ভাবনা বাড়ায়। 
- তাছাড়া, উত্তর-পূর্বাঞ্চলও (মৌলভীবাজার, রাঙামাটি, বান্দরবান) সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ, কারণ ডাউকি ফল্টের মতো বড় সক্রিয় ফল্টলাইন এখানে রয়েছে।

উল্লেখ্য, 
• দেশের পূর্বাঞ্চল এবং উত্তর-পূর্বের কিছু জেলা, যেমন: খাগড়াছড়ি, কক্সবাজার, সিলেট, ফরিদপুর ও পার্শ্ববর্তী এলাকা উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ জোনে রয়েছে। 
- এই অঞ্চলগুলোতে ভূমিকম্পের প্রভাব তীব্র (Z=0.2).

• মধ্য ও উত্তর-পশ্চিমের কিছু অংশ, যেমন: ঢাকা, পাবনা, দিনাজপুর, নোয়াখালী, বগুড়া ও আশেপাশের অঞ্চল মাঝারি ঝুঁকিপূর্ণ জোনের অন্তর্ভুক্ত।
- এখানে ঝুঁকির মাত্রা: Z=0.20, (Seismic Zone Coefficient).
- ঢাকা ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকায় ঘনবসতিপূর্ণ এবং দুর্বল নির্মাণশৈলীর কারণে বড় ধরনের ভূমিকম্পের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।

• সাধারণত দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম অংশ, যেমন: বরিশাল, খুলনা, যশোর, রাজশাহী,সাতক্ষীরা ও পার্শ্ববর্তী এলাকা কম ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত। 
- এখানে ভূমিকম্পের প্রভাব: Z=0.12, (Seismic Zone Coefficient).

উৎস:
১. হাউজিং এন্ড বিল্ডিং রিসার্চ ইনস্টিটিউট ওয়েবসাইট;
২. BBC Website;
৩. প্রথম আলো পত্রিকা।

১০.
নদী ভাঙনের প্রধান কারণ কোনটি? 
  1. নদীর গতিপথ পরিবর্তন
  2. উজানে প্রচুর বৃষ্টি
  3. মূল নদীর গভীরতা কমা
  4. হিমালয়ের বরফগলা পানির প্রবাহ
সঠিক উত্তর:
নদীর গতিপথ পরিবর্তন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নদীর গতিপথ পরিবর্তন
ব্যাখ্যা

• নদীভাঙন: 
- নদীভাঙন হলো এমন একটি প্রক্রিয়া যেখানে নদীর তীব্র স্রোত, বন্যা বা অতিরিক্ত জলপ্রবাহের কারণে নদীর পাড় ও পাশের জমি ক্ষয় হয়ে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়।
- নদীভাঙনের একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হলো নদীর গতিপথ পরিবর্তন।
- নদী যখন স্বাভাবিক প্রবাহ ছেড়ে ডান বা বাম দিকে সরে যায়, তখন স্রোতের চাপ নদীতীরের ওপর বেড়ে যায়।
- এর ফলে তীরের মাটি ধীরে ধীরে কেটে যেতে থাকে এবং ক্ষয় বৃদ্ধি পায়।
- এই ধারাবাহিক ক্ষয়ের ফলেই নদীভাঙন ঘটে।

উল্লেখ্য,
- নদী ভাঙন মূলত প্রাকৃতিক ও মানবসৃষ্ট—এই দুই ধরনের কারণে ঘটে।
• প্রাকৃতিকভাবে:
- নদীর বাঁক ও মোহনায় স্রোত বেশি থাকায় ভাঙন তীব্র হয়। 
- নদী যখন এঁকেবেঁকে প্রবাহিত হয়, তখন বাইরের পাড়ে ভাঙন ধরে এবং ভেতরের দিকে পলি জমে।
- এছাড়া নদীর নাব্যতা কমে গেলে পানির চাপ বেড়ে গিয়ে ভাঙন আরও বাড়ে।

• মানবসৃষ্ট কারণের মধ্যে রয়েছে:
- নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করা, যা নদীতীরকে দুর্বল করে তোলে।
- অপরিকল্পিত বাঁধ ও স্থাপনা নদীর স্বাভাবিক প্রবাহে বাধা সৃষ্টি করে ভাঙনের ঝুঁকি বাড়ায়।
- নদী অববাহিকায় বন উজাড় হলে মাটির বাঁধন কমে যায় এবং ক্ষয়প্রবণতা বৃদ্ধি পায়।
- তাছাড়া নদীতীরের মাটি যদি বেলে বা পলিযুক্ত নরম হয়, তবে স্রোতের চাপে তা সহজেই ভেঙে পড়ে।

উৎস: 
১. দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর;
২. বাংলাপিডিয়া;
৩. প্রথম আলো পত্রিকা। 

১১.
ঘূর্ণিঝড়ের সৃষ্টি ও ঘূর্ণনের জন্য কোন বল প্রভাব ফেলে?
  1. ইলেকট্রোম্যাগনেটিক বল
  2. কোরিওলিস বল
  3. যান্ত্রিক বল
  4. মহাকর্ষ বল
সঠিক উত্তর:
কোরিওলিস বল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কোরিওলিস বল
ব্যাখ্যা

• ঘূর্ণিঝড়:
- ঘূর্ণিঝড় হলো নিম্নচাপের কারণে সৃষ্ট একটি প্রবল ঘূর্ণায়মান সামুদ্রিক ঝড়, যেখানে তীব্রবেগে বাতাস, ভারী বৃষ্টি ও বজ্রপাত ঘুরতে থাকে।
- ঘূর্ণিঝড় হলো আবহাওয়া জনিত বায়ুমণ্ডলীয় দুর্যোগ।
- কোরিওলিস বলের কারণে উত্তর ও দক্ষিণ গোলার্ধে ঘূর্ণিঝড়ের ঘূর্ণনের দিক আলাদা হয়।
- উত্তর গোলার্ধে এটি ঘড়ির কাঁটার বিপরীত দিকে ঘুরে।
- এবং দক্ষিণ গোলার্ধে এটি ঘড়ির কাঁটার দিকে ঘুরে।

উল্লেখ্য,
- বাংলাদেশে সবচেয়ে ভয়ঙ্কর ঘূর্ণিঝড় ছিল ১৯৭০ সালের ভোলা ঘূর্ণিঝড়।
- এই ঝড় সর্বকালের সবচেয়ে মারাত্মক গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ঝড় হিসেবে পরিচিত।
- এই ঝড়ে প্রায় ৩ থেকে ৫ লক্ষ মানুষ প্রাণ হারিয়েছিলেন।
- এবং প্রায় ১০.৫ মিটার উচ্চতার জলোচ্ছ্বাস উপকূলে ধ্বংস সাধন করেছিল।

উৎস: Britannica ও বাংলাপিডিয়া।

১২.
বাংলাদেশে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর (DDM) কবে গঠিত হয়?
  1. ১৯৭৩ সাল
  2. ১৯৯২ সাল
  3. ২০১৫ সাল
  4. ২০১২ সাল
সঠিক উত্তর:
২০১২ সাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২০১২ সাল
ব্যাখ্যা

‘দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর':
- বাংলাদেশে ২০১২ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর ‘দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা আইন-২০১২’ অনুমোদিত হয়।
- এই আইনের মূল উদ্দেশ্য হলো:
• দুর্যোগ মোকাবেলার কার্যক্রমকে সমন্বিত,
• কার্যকর এবং শক্তিশালী করা।
- আইনের মাধ্যমে দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস, প্রস্তুতি, সাড়া প্রদান এবং পুনরুদ্ধার কার্যক্রমের জন্য একটি কাঠামো গড়ে তোলা হয়।
- এই আইনের ভিত্তিতে দুর্যোগ মোকাবেলা কার্যক্রম সমন্বিত ও কার্যকরভাবে পরিচালনার জন্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে ২০১২ সালে ‘দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর (ডিডিএম)’ প্রতিষ্ঠিত হয়।

উল্লেখ,
- এর পূর্বে ১৯৭৩ সালে ত্রাণ ও পুনর্বাসন অধিদপ্তর এবং ১৯৯২ সালে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ব্যুরো (DMB) কার্যকর ছিল, যা এই আইনের মাধ্যমে বিলুপ্ত হয়ে ‘দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর'- DDM-এ রূপান্তরিত হয়।

উৎস: Laws of Bangladesh ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর ওয়েবসাইট।

১৩.
২০৩০ সালের মধ্যে দক্ষিণ এশিয়ায় জলবায়ু পরিবর্তনের প্রধান প্রভাব কী হবে?
  1. বৃষ্টিপাত বন্ধ
  2. চরম তাপপ্রবাহের ঝুঁকি 
  3. সমুদ্রপৃষ্ঠের নিম্নতা
  4. বন্যা
সঠিক উত্তর:
চরম তাপপ্রবাহের ঝুঁকি 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চরম তাপপ্রবাহের ঝুঁকি 
ব্যাখ্যা

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব:
- জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ২০৩০ সালের মধ্যে দক্ষিণ এশিয়ার মানুষ চরম তাপপ্রবাহের ঝুঁকিতে রয়েছে। 
- বিশেষত হিমালয়ের হিমবাহ গলায় শুষ্ক মৌসুমে পানির অভাব বাড়বে।
- আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে বাংলাদেশের ৯০ শতাংশ মানুষ চরম জলবায়ু ঝুঁকির মুখে পড়বে।
- এর প্রভাব উচ্চ তাপমাত্রা, বন্যা, গ্রামীণ অর্থনীতি, কৃষি উৎপাদন ও কর্মসংস্থানেও দেখা দেবে।
- জাতিসংঘ এবং বিশ্বব্যাংকের পূর্বাভাস অনুযায়ী, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে দক্ষিণ এশিয়ার কোটি কোটি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হবে।-
- জলপ্রবাহ কমে যাওয়ার কারণ কোটি কোটি মানুষের জন্য জল সংকট, লবণাক্ততা বৃদ্ধি এবং বাস্তুচ্যুতি সৃষ্টি করবে।
- বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তানসহ দক্ষিণ এশিয়ার ঘনবসতিপূর্ণ দেশগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
- IPCC-এর মূল্যায়ন অনুযায়ী, ২০৫০ সালের মধ্যে প্রায় ৮০ লাখ মানুষ খরায় উদ্বাস্তু হতে পারে। 

উৎস: The Business Standard.[লিঙ্ক]

১৪.
বাংলাদেশের বার্ষিক গড় বৃষ্টিপাত কত?
  1. ২০৯ সে.মি.
  2. ২০৭ সে.মি.
  3. ২০৫ সে.মি.
  4. ২০৩ সে.মি.
সঠিক উত্তর:
২০৩ সে.মি.
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২০৩ সে.মি.
ব্যাখ্যা

গড় বৃষ্টিপাত:
-
 ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলের মৌসুমি বায়ু বঙ্গোপসাগরের জলীয় বাষ্প নিয়ে আসে, যা বাংলাদেশে প্রবাহিত হয়ে বৃষ্টিপাত সৃষ্টি করে। 
- বাংলাদেশে সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত ঘটে সিলেট ও চট্টগ্রামের উপকূলীয় অঞ্চলে।
- বিশেষ করে সিলেট জেলার উত্তর অংশে যা ৫১০০ মি.মি. পর্যন্ত পৌঁছায়।
- বাংলাদেশের বার্ষিক গড় বৃষ্টিপাত সাধারণত ২০৩ সেন্টিমিটার (৮০ ইঞ্চি)।
- তবে অঞ্চলভেদে এর পরিমাণ ভিন্ন;
- পশ্চিম ও কেন্দ্রীয় অঞ্চলে বার্ষিক গড় বৃষ্টিপাতের পরিমাণ কম- প্রায় ১৫০ সে.মি. এবং
- দক্ষিণ-পূর্ব অঞ্চলে বেশি- প্রায় ৩০০ সে.মি.।
- দেশের মোট বৃষ্টিপাতের ৭০–৮০ শতাংশ বর্ষাকালে (জুন–অক্টোবর) ঘটে।
- বাংলাদেশ একটি বৃষ্টিবহুল দেশ হলেও, বৃষ্টিপাতের পরিমাণ স্থান ও ঋতুভেদে ভিন্নভাবে ঘটে, যা দেশের জলবায়ুর একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য।

উৎস: Bangladesh Meteorological Department ও প্রথম আলো পত্রিকা।

১৫.
দক্ষিণ-পূর্ব অয়ন বায়ু নিরক্ষরেখা অতিক্রম করে কোন বায়ুতে রূপান্তরিত হয়?
  1. দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু
  2. কর্কটক্রান্তি বায়ু
  3. উত্তর-পূর্ব মৌসুমি বায়ু
  4. উত্তরীয় পশ্চিমী বায়ু
সঠিক উত্তর:
দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু
ব্যাখ্যা

বায়ু:
- দক্ষিণ গোলার্ধের উষ্ণ মহাসাগর থেকে দক্ষিণ-পূর্ব বাণিজ্য বায়ু উৎপন্ন হয়।
- গ্রীষ্মকালে যখন উত্তর গোলার্ধে তাপীয় নিম্নচাপ সরে যায়, তখন এই বায়ু নিরক্ষরেখা অতিক্রম করে উত্তর গোলার্ধে প্রবেশ করে
- নিরক্ষরেখা পার হওয়ার পর কোরিওলিস বলের প্রভাবে বায়ু ডানদিকে বাঁকে;( ফেরেলের সূত্র অনুযায়ী)।
- এবং দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু হিসেবে প্রবাহিত হতে শুরু করে।
- ভারত মহাসাগরের উপর দিয়ে আসার সময় এই দক্ষিণ-পূর্ব বাণিজ্য বায়ু প্রচুর জলীয় বাষ্প সংগ্রহ করে। 
- স্থলভাগে প্রবেশ করলে, বিশেষ করে হিমালয় পর্বতমালার সঙ্গে সংঘর্ষের কারণে ভারী বৃষ্টিপাত ঘটে।
- এটি উত্তর ও উত্তর-পূর্ব ভারত, পশ্চিমবঙ্গ এবং বাংলাদেশসহ অঞ্চলে বর্ষাকালীন বৃষ্টিপাতের প্রধান কারণ।
- ফলস্বরূপ, দক্ষিণ-পূর্ব অয়ন বায়ু নিরক্ষরেখা অতিক্রম করে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুতে রূপান্তরিত হয়।
- এবং গ্রীষ্মকালীন ভারী বৃষ্টিপাতের মূল উৎস হিসেবে কাজ করে।

উৎস:  ভূগোল ও পরিবেশ – নবম-দশম শ্রেণি।

১৬.
গ্রীষ্মকালে সূর্য কোন রেখার ওপর লম্বভাবে কিরণ দেয়?
  1. কর্কটক্রান্তি রেখা
  2. মকরক্রান্তি রেখা
  3. বিষুব রেখা
  4. অর্কটিক সার্কেল
সঠিক উত্তর:
কর্কটক্রান্তি রেখা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কর্কটক্রান্তি রেখা
ব্যাখ্যা

গ্রীষ্মকাল:
- গ্রীষ্মকালে সূর্য কর্কটক্রান্তি রেখার (Tropic of Cancer) ওপর লম্বভাবে কিরণ দেয়।
- এটি সাধারণত ২১ জুন বা তার আশেপাশের দিনে ঘটে।
- যে দিনে সূর্য কর্কটক্রান্তি রেখার ওপর লম্বভাবে কিরণ দেয় সেই  দিনটিকে উত্তর অয়নান্ত (Summer Solstice) বলা হয়।
- এবং উত্তর গোলার্ধে এই দিনের দৈর্ঘ্য সবচেয়ে বেশি হয়।
- কর্কটক্রান্তি রেখা ২৩.৫° উত্তর অক্ষাংশে অবস্থিত এবং এটি সেই উত্তরতম অক্ষাংশ, যেখানে সূর্য সরাসরি মাথার ওপর অবস্থান করতে পারে।
- এই ঘটনা ঘটে কারণ পৃথিবীর অক্ষ টালযুক্ত (axial tilt), যার ফলে গ্রীষ্মকালে উত্তর গোলার্ধ সূর্যের দিকে সর্বাধিক ঝুঁকে থাকে।
- ফলস্বরূপ, কর্কটক্রান্তি রেখার ওপর সূর্যের আলো খাড়াভাবে পড়ে।

উল্লেখ্য, 
- উত্তর অয়নান্তের সময় উত্তর গোলার্ধের বেশিরভাগ অঞ্চল আলোকিত থাকে।
- এটি গ্রীষ্মকাল নির্দেশ করে।
- এবং ২১ ই জুন উত্তর গোলার্ধে দীর্ঘতম দিন হিসেবে পরিচিত।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ – নবম-দশম শ্রেণি।

১৭.
নিচের কোনটি বাংলাদেশের জলবায়ুর সাথে সম্পর্কিত?
  1. অতি উষ্ণ
  2. সমভাবাপন্ন
  3. শুষ্ক
  4. চরমবায়ু 
সঠিক উত্তর:
সমভাবাপন্ন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সমভাবাপন্ন
ব্যাখ্যা

• জলবায়ু:
- জলবায়ু হলো কোনো স্থানের দীর্ঘমেয়াদী (৩০–৪০ বছর) আবহাওয়ার গড় অবস্থা।
∗ জলবায়ুর উপাদানগুলোর মধ্যে রয়েছে: 
- তাপমাত্রা,
- বায়ু চাপ,
- বায়ুপ্রবাহ,
- আর্দ্রতা ও বৃষ্টিপাত।
- বাংলাদেশের জলবায়ু প্রধানত ক্রান্তীয় মৌসুমি জলবায়ু দ্বারা প্রভাবিত।
- এতে উষ্ণ ও আর্দ্র গ্রীষ্মকাল এবং শুষ্ক শীতকাল লক্ষ্য করা যায়।
- ঐতিহ্যগতভাবে বাংলাদেশের জলবায়ু সমভাবাপন্ন, অর্থাৎ শীত বা গ্রীষ্ম চরম নয়।
• এর কারণ হলো:
- ভারত মহাসাগর ও বঙ্গোপসাগর থেকে আসা আর্দ্র মৌসুমি বায়ু এখানকার জলবায়ুকে নিয়ন্ত্রণ করে,
- এই আর্দ্র মৌসুমি বায়ু উষ্ণতা ও বৃষ্টিপাতও নিয়ন্ত্রণ করে।
- অক্ষাংশের ক্রান্তীয় অঞ্চলের অবস্থিতি, এবং
- সমুদ্রের নৈকট্যবর্তী হওয়ায় তাপমাত্রার চরমভাবাপন্নতা হ্রাস পায়। 

উল্লেখ্য,
- বর্তমানে বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাংলাদেশের জলবায়ু চরমভাবাপন্ন হয়ে উঠেছে।
- ঝড়, বন্যা, জলোচ্ছ্বাস ও খরার প্রকোপ বেড়েছে।
- সমুদ্রপৃষ্ঠের উষ্ণায়নের কারণে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা কৃষি ও জনজীবনে ঝুঁকি তৈরি করছে।
- বাংলাদেশের জলবায়ুতে মৌসুমী বায়ুর প্রভাব অত্যধিক হওয়ায় এটি ক্রান্তীয় মৌসুমি জলবায়ু নামেও পরিচিত।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৮.
বাংলাদেশের প্রথম আবিষ্কৃত গ্যাসক্ষেত্র কোনটি?
  1. হরিপুর
  2. ইলিশ-১
  3. ভোলা নর্থ
  4. চট্টগ্রাম
সঠিক উত্তর:
হরিপুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হরিপুর
ব্যাখ্যা

গ্যাসক্ষেত্র:
- বাংলাদেশে প্রথম গ্যাসক্ষেত্র আবিস্কৃত হয়েছিলো ১৯৫৫ সালে সিলেটের হরিপুরে।
- এ গ্যাসক্ষেত্র থেকে প্রথম গ্যাস উত্তোলন করা হয় ১৯৫৭ সালে।
- এ গ্যাসক্ষেত্রের আবিষ্কারক ছিল পাকিস্তান শেল অয়েল কোম্পানি।
- এটি দেশের জ্বালানি ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হয়।

উল্লেখ্য, 
• বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় প্রাকৃতিক গ্যাসক্ষেত্র হলো তিতাস গ্যাসক্ষেত্র। 
- এটি ১৯৬২ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পাকিস্তান শেল অয়েল কোম্পানি কর্তৃক আবিস্কৃত হয়।
• বাংলাদেশের ২৯তম গ্যাসক্ষেত্র হচ্ছে ইলিশা-১,ভোলা জেলা।
• আর সর্বশেষ গ্যাসক্ষেত্রের সন্ধান পাওয়া গেছে জামালপুরের মাদারগঞ্জে। [ডিসেম্বর,২০২৫]।

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও প্রথম আলো পত্রিকা।