পরীক্ষা আর্কাইভ

Science Expert

পরীক্ষাScience Expertতারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়07 minutes
মোট প্রশ্ন১৪
সিলেবাস
পরীক্ষা – ১৭ টপিক: - পৌষ্টিকতন্ত্র ও রেচনতন্ত্র প্রজননতন্ত্র ও কঙ্কালতন্ত্র [ক্লাস – ৩৬,৩৭] (২য় রাউন্ড)
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

Science Expert

Science Expert · তারিখ অনির্ধারিত · ১৪ প্রশ্ন

.
পিত্তরসের প্রধান বৈশিষ্ট্য কী? 
  1. অম্লীয়, লালচে তরল 
  2. অম্লীয়, বাদামী তরল 
  3. ক্ষারজাতীয়, স্বচ্ছ তরল 
  4. ক্ষারজাতীয়, হলদে সবুজ তরল 
ব্যাখ্যা

যকৃত (Liver): 
- মানুষের মধ্যচ্ছদার ঠিক নিচে পাকস্থলির ডানদিকে বিস্তৃত গাঢ় লালচে বর্ণের ত্রিকোণাকার ও পিত্তরস নিঃসরণকারী গ্রন্থিকে যকৃত বলা হয়। 
- যকৃতের বেশির ভাগ অংশ দেহের ডানদিকে অবস্থিত। 
- যকৃত মানবদেহের সর্বাপেক্ষা বৃহৎ গ্রন্থি। 
- একজন পূর্ণ বয়স্ক মানুষের যকৃতের ওজন প্রায় ১.৫-২.০ কেজি। 
- এটি চারটি অসম্পূর্ণ খণ্ড নিয়ে বিভক্ত। ডান খণ্ডটি অপেক্ষাকৃত বড় এবং এই খণ্ডের নিচে পেয়ালার মতো পিত্তরস ধারণকারী একটি থলে থাকে, একে পিত্তথলি বলে। 
- পিত্তথলি ৭-৮ সে.মি. লম্বা, পিত্তথলি থেকে পিত্ত ডিওডেনামে উন্মুক্ত হয়। 
- পিত্তরস হলদে সবুজ বর্ণের একটি ক্ষার জাতীয় তরল পদার্থ, এতে শতকরা ৮০% পানি ও ২০% অন্যান্য রাসায়নিক উপাদান থাকে। 
- যকৃত থেকে ক্ষরণকৃত পিত্তরসে, খাদ্য পরিপাকে সাহায্যকারী কোন এনজাইম না থাকায় খাদ্য পরিপাকে এদের প্রত্যক্ষ কোন ভূমিকা নেই। তবে এরা শর্করা, প্রোটিন, ভিটামিন প্রভৃতি খাদ্যকে পরিপাকের পর রক্তস্রোতে পরিবাহিতকরণে সাহায্য করে। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

.
মেরুদণ্ড কতটি অস্থিখণ্ডক (vertebra) দ্বারা গঠিত?
  1. ৩০ 
  2. ২৯
  3. ৩৩
  4. ২৩ 
ব্যাখ্যা

মেরুদণ্ড (Vertebral column): 
- অ্যাটলাস অস্থি থেকে কক্কিক্স অস্থি পর্যন্ত বিস্তৃত দণ্ডাকৃতির যে গঠন মানবদেহের কেন্দ্রীয় অক্ষ গঠন করে তাকে মেরুদণ্ড বা শিরদাঁড়া বলে। 
- ৩৩টি অসম আকৃতির সীমিত সঞ্চালনক্ষম অস্থিখণ্ডক সমন্বয়ে মেরুদণ্ড গঠিত, এ সকল অস্থিখণ্ডককে কশেরুকা (vertebra) বলে। 
- কশেরুকাগুলো কোমলাস্থি নির্মিত চাকতি দ্বারা পরস্পর যুক্ত থাকে। 
- এদের সিমফাইসিস স্থির অবস্থায় বা চলমান অবস্থায় এটি দেহের ভারসাম্য রক্ষা করে। 

কশেরুকার প্রকারভেদ: 
- দেহের বিভিন্ন অঞ্চলে অবস্থানের ভিত্তিতে ৩৩টি কশেরুকাকে ৫টি ভাগে ভাগ করা হয়। 
যথা- 
(১) গ্রীবাদেশীয় (cervical) কশেরুকা- ৭টি, 
(২) বক্ষদেশীয় (thoracic) কশেরুকা- ১২টি, 
(৩) কটিদেশীয় (lumbar) কশেরুকা- ৫টি, 
(৪) শ্রোণিদেশীয় (sacral) কশেরুকা- ৫টি (একীভূত) ও 
(৫) পুচ্ছদেশীয় (coccygeal) কশেরুকা- ৪টি (একীভূত)। 
- পুচ্ছ অঞ্চলের ৪টি কশেরুকা একীভূত হয়ে যথাক্রমে ১টি স্যাক্রাম (sacrum) ও ১টি কক্কিক্স (coccyx) গঠন করে। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

.
অগ্ন্যাশয়ের অন্তঃক্ষরা অংশ কোন হরমোন নিঃসরণ করে?
  1. এড্রিনালিন ও গ্লুকাগন
  2. ইনস্যুলিন ও গ্লুকাগন
  3. অ্যাড্রিনালিন ও করটিসল 
  4. থাইরক্সিন ও ট্রাইআইডোথাইরনিন
ব্যাখ্যা

অগ্ন্যাশয় (Pancreas): 
- অগ্ন্যাশয় পাকস্থলীর পিছনে আড়াআড়িভাবে অবস্থিত একটি গুরুত্বপূর্ণ মিশ্রগ্রন্থি। 
- এটি একাধারে পরিপাকে অংশগ্রহণকারী এনজাইম ও রক্তের গ্লুকোজ নিয়ন্ত্রণকারী হরমোন নিঃসৃত করে। 
অর্থাৎ, অগ্ন্যাশয় বহিঃক্ষরা ও অন্তঃক্ষরা গ্রন্থির মতো কাজ করে। 
- অগ্ন্যাশয়রস অগ্ন্যাশয় নালির মাধ্যমে যকৃৎ-অগ্ন্যাশয়নালি দিয়ে ডিওডেনামে প্রবেশ করে। 
- অগ্ন্যাশয় থেকে অগ্ন্যাশয়রস নিঃসৃত হয়। 
- অগ্ন্যাশয়রসে ট্রিপসিন, লাইপেজ ও অ্যামাইলেজ নামক উৎসেচক থাকে। 
- এসব এনজাইম শর্করা, আমিষ এবং স্নেহজাতীয় খাদ্যের পরিপাকে সহায়তা করে। তাছাড়াও অম্ল-ক্ষারের সাম্যতা, পানির সাম্যতা, দেহতাপ প্রভৃতি নিয়ন্ত্রণ করে। 
- অন্তঃক্ষরা গ্রন্থি হিসেবে অগ্ন্যাশয়ের একটি অংশ অতি প্রয়োজনীয় কিছু হরমোন যেমন: গ্লুকাগন ও ইনস্যুলিন নিঃসরণ করে। 
- গ্লুকোজ নিয়ন্ত্রণ ও অন্যান্য শারীরবৃত্তীয় কাজে এ হরমোন দুটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

.
দেহের সবচেয়ে লম্বা, ভারী ও শক্ত অস্থি কোনটি? 
  1. ফিমার
  2. ফিবুলা
  3. রেডিয়াস 
  4. হিউমেরাস
ব্যাখ্যা

ফিমার: 
- মানবদেহে ২০৬ টি অস্থি বিদ্যমান। 
- ফিমার হচ্ছে মানবদেহে সবচেয়ে বড় অস্থি। 
- ফিমার দেহের সবচেয়ে লম্বা, ভারী ও শক্ত অস্থি। 
- এর ঊর্ধ্ব প্রান্তে একটি গােল মস্তক, গ্রীবা ও ছােট-বড় ট্রোকেল্টার অবস্থিত। 
- নিম্নপ্রান্ত দুটি কল্ডাইল বিশিষ্ট। 
- ফিমারের মস্তক শ্রেণিচক্র অ্যাসিটামুলামের সাথে যুক্ত থাকে, এর প্রান্তে Patella নামক চ্যাপ্টা সিগময়েড় অস্থি থাকে। 
- তারপরে রয়েছে পর্যায়ক্রমে টিবিয়া, ফিবুলা, হিউমেরাস, আলনা, রেডিয়াস। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।

.
স্ক্যাপুলার কোন অংশ হিউমেরাসের মস্তকের সঙ্গে সংলগ্ন থাকে?
  1. ক্ল্যাভিকল
  2. স্ক্যাপুলার কাঁটা
  3. অ্যাক্রোমিয়ন 
  4. গ্লিনয়েড গহ্বর 
ব্যাখ্যা

বক্ষ অস্থিচক্র (Pectoral girdle): 
- মানুষের দেহের দুই পাশে স্কন্ধ অঞ্চলে দুটি বক্ষ অস্থিচক্র অবস্থিত। 
- এরা পরস্পর থেকে পৃথকভাবে অবস্থান করে। 
- এদের একজোড়া ক্ল্যাভিকল ও একজোড়া স্ক্যাপুলা থাকে। 
- ক্ল্যাভিকল বাঁকা অস্থি, এ অস্থির কোন মজ্জাগহ্বর নেই। 
- প্রতিটি স্ক্যাপুলা প্রশস্ত চ্যাপ্টা ত্রিকোণাকার অস্থি। 
- এটি বক্ষ পিঞ্জরের উপরের প্রান্তের দু'পাশে অবস্থিত। 
- এর পশ্চাৎ তলে আনুভূমিকভাবে একটি কাঁটা থাকে একে স্ক্যাপুলার কাঁটা বলে। 
- স্ক্যাপুলার যে অংশে হিউমেরাসের মস্তক সংলগ্ন থাকে তাকে গ্লিনয়েড গহ্বর বলে। 
- স্ক্যাপুলার পার্শ্বীয় প্রান্তের বর্ধিত অংশকে অ্যাক্রোমিয়ন বলে। 
- বাহুর পেশিকে সংযোগ দেয়া ও হিউমেরাসকে সঞ্চালন করা বক্ষ অস্থিচক্রের প্রধান কাজ। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

.
মানুষের মুখবিবরে কত জোড়া লালাগ্রন্থি থাকে?
  1. এক 
  2. দুই 
  3. তিন 
  4. চার 
ব্যাখ্যা

মুখবিবর: 
- মুখ পরবর্তী অংশটি মুখবিবর। 
- মুখ বিবরের ঊর্ধ্ব প্রাচীর তালুর অস্থি ও পেশি দিয়ে, সামনের প্রাচীর ঠোঁটের পেশি দিয়ে এবং পার্শ্ব প্রাচীর গালের পেশি দিয়ে গঠিত। 
- তালুর অগ্রভাগ অস্থিনির্মিত এবং শক্ত, পেছনের অংশ মাংসল ও নরম। 
- তালুর পেছনের অংশের মধ্যভাগ থেকে একটি অপেক্ষাকৃত সরু আলজিহবা মুখবিবরে ঝুলে থাকে। 
- মানুষের ঊর্ধ্ব ও নিম্ন চোয়াল দাঁতযুক্ত, এছাড়া মুখবিবরে তিন জোড়া লালাগ্রন্থি থাকে। 
- নিম্নে চোয়ালের অস্থির সাথে জিহ্বাযুক্ত থাকে। 
- পৃষ্ঠতলের উপর থাকে স্বাদকোরক এগুলো বিভিন্ন রাসায়নিক বস্তুর প্রতি সংবেদনশীল। 
- জিহ্বার অগ্রভাগ মিষ্টি, দুই পার্শ্ব নোনা, পশ্চাৎ ভাগের দুই পার্শ্ব টক এবং পেছনের দিক তিক্ত স্বাদ গ্রহণ করে।
- দাঁত খাদ্য দ্রব্যকে কাটা, ছেঁড়া ও পেষণে সাহায্য করে। 
- জিহ্বা খাদ্য দ্রব্যের স্বাদ গ্রহণ করে এবং পেষণের সময় লালারস মিশ্রিত করে খাদ্য দ্রব্যকে পিচ্ছিল করে পেছনে ঠেলে দেয়। 
- লালাগ্রন্থি থেকে নিঃসৃত “মিউসিন” খাদ্যকে পিচ্ছিল করে আর টায়ালিন ও মল্টেজ এনজাইম খাদ্য পরিপাকে সহায়তা করে। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

.
থাইরয়েড গ্রন্থি থেকে কোন হরমোন নিঃসৃত হয়? 
  1. রিলাক্সিন
  2. থাইরক্সিন
  3. অ্যান্ড্রোজেন
  4. টেস্টোস্টেরন
ব্যাখ্যা

মানব প্রজননে হরমোন এর ভূমিকা: 
- হরমোন এক ধরনের জৈব রাসায়নিক পদার্থ যা নালিহীন গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত হয়। 
- হরমোন নির্দিষ্ট অথচ স্বল্প মাত্রায় নিঃসৃত হয়ে নানাবিধ শারীরবৃত্তীয় কাজ নিয়ন্ত্রণ করে। 
- নির্দিষ্ট মাত্রার চেয়ে বেশি বা কম নিঃসৃত হলে দেহের বিভিন্ন কাজের ব্যাঘাত ঘটে এবং দেহে নানা রকম অস্বাভাবিকতা দেখা দেয়। 
- মানব দেহে প্রজনন সংক্রান্ত হরমোনগুলো হলো-
শুক্রাশয় এর অনাল গ্রন্থি: 
- এ অনাল গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত হরমোনের নাম- টেস্টোস্টেরণ এবং অ্যান্ড্রোজেন। 
- এ হরমোন শুক্রাণু উৎপাদন করে। দাঁড়ি ও গোফ গজায়। গলার স্বর বদলায়। 

পিটুইটারী গ্রন্থি: 
- এ গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত হরমোন হলো- (ক) বৃদ্ধি উদ্ধীপক হরমোন এবং (খ) উৎপাদক হরমোন। 
- এ হরমোন জনন গ্রন্থির বৃদ্ধি, ক্ষরণ ও কাজ নিয়ন্ত্রণ করে। মাতৃদেহের স্তন দুগ্ধ ক্ষরণ নিয়ন্ত্রণ করে। জরায়ুর সংকোচন নিয়ন্ত্রণ করে। 

থাইরয়েড গ্রন্থি: 
- এ গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত হরমোন হলো- থাইরক্সিন। 
- এ হরমোন দৈহিক ও মানসিক বৃদ্ধি করে। যৌন লক্ষণ প্রকাশ ও বিপাকে সহায়তা করে। 

ডিম্বাশয় এর অনাল গ্রন্থি: 
- এ অনাল গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত হরমোন হলো- (ক) ইস্ট্রোজেন, (খ) প্রোজেস্টেরন এবং (গ) রিলাক্সিন। 
- এ হরমোন নারী সুলভ লক্ষণগুলো সৃষ্টি করে। ঋতুচক্র নিয়ন্ত্রণ করে। গর্ভাবস্থায় জরায়ু, ভ্রূণ ও অমরা ইত্যাদির বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ করে। ডিম্বাণু উৎপাদনে বিশেষ ভূমিকা রাখে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

.
নেফ্রন কী? 
  1. বৃক্কের রক্তপ্রবাহ নিয়ন্ত্রণকারী অঙ্গ
  2. অন্ত্রের পুষ্টি শোষণ একক
  3. লিভারের প্রধান কার্যকারী একক
  4. বৃক্কের গাঠনিক ও কার্যকরী একক
ব্যাখ্যা

নেফ্রনের গঠন: 
- বৃক্কের লম্বচ্ছেদ অনুবীক্ষণ যন্ত্রে পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যায় যে, এর ভেতরে অসংখ্য কুণ্ডলীকৃত সূক্ষ্ম নালিকা দেখা যায়, এদেরকে নেফ্রন (nephron) বলে। 
- নেফ্রন হলো বৃক্কের গাঠনিক ও কাজের একক। 
- প্রচুর রক্তনালি ও কিছু যোজক কলাসহ প্রতিটি বৃক্কে প্রায় ১০ লক্ষ নেফ্রন থাকে। 
- প্রতিটি নেফ্রনের দৈর্ঘ্য প্রায় ৩ সে.মি.। 
- প্রতিটি নেফ্রনকে ৬টি অঞ্চলে ভাগ করা যায়। 
যথা- 
১. রেনাল করপাসল (Renal corpuscle), 
২. নিকটবর্তী প্যাঁচানো নালিকা (Proxinal convoluted tubule), 
৩. হেনলির লুপের অবরোহন বাহু (Descending limb of Henle's loop), 
৪. হেনলির লুপের আরোহন বাহু (Ascending limb of Henle's loop), 
৫. দূরবর্তী প্যাঁচানো নালিকা (Distal convoluted tubule) ও 
৬. সংগ্রাহী নালিকা (Collecting tubule)। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

.
তরুণাস্থির ম্যাট্রিক্সকে কী বলা হয়?
  1. কনড্রিন
  2. কলাজেন
  3. হায়ালিন 
  4. ইলাস্টিন
ব্যাখ্যা

তরুণাস্থি বা কোমলাস্থির গঠন (Structure of cartilage): 
- দেহের অভ্যন্তরের নমনীয়, নরম ও স্থিতিস্থাপক যোজক কলাকে তরুণাস্থি বা কার্টিলেজ বলে। 
- মানুষের নাক, কান, হিউমেরাস ও ফিমারের মস্তক, বিভিন্ন অস্থিসন্ধি, শ্বাসনালি, আন্তঃকশেরুকা চাকতি ইত্যাদিতে তরুণাস্থি থাকে। 
- তরুনাস্থির ম্যাট্রিক্সকে কনড্রিন (chondrin) বলে, ইহা অর্ধকঠিন, নমনীয় ও স্থিতিস্থাপক। 
- কনড্রিন কনড্রোমিউকয়েড ও কনড্রোঅ্যালবুনয়েড নামক দু'ধরনের প্রোটিন নিয়ে গঠিত। 
- তরুণাস্থির কোষকে কনড্রোসাইট বলে। 
- কনড্রোসাইটগুলো এককভাবে অথবা গুচ্ছাকারে ল্যাকুনা নামক গহ্বরে অবস্থান করে। 
- তরুণাস্থি পেরিকন্ড্রিয়াম নামক আবরণীতে আবৃত থাকে। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১০.
অমরা গ্রন্থি থেকে কোন হরমোন নিঃসৃত হয়?
  1. প্রোজেস্টেরন
  2. থাইরক্সিন
  3. অ্যাড্রানালিন
  4. ইস্ট্রোজেন
ব্যাখ্যা

• অ্যাড্রেনাল গ্রন্থি: 
- এই গুন্থি থেকে নিঃসৃত হরমোন হলো- অ্যাড্রানালিন হরমোন। এ হরমোন যৌন অঙ্গের বৃদ্ধি করে এবং যৌন লক্ষণ প্রকাশে সহায়তা করে।

• ডিম্বাশয় এর অনাল গ্রন্থি: 
- এই অনাল গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত হরমোন হলো- (ক) ইস্ট্রোজেন, (খ) প্রোজেস্টেরন এবং (গ) রিলাক্সিন। এ হরমোন নারী সুলভ লক্ষণগুলো সৃষ্টি করে, ঋতুচক্র নিয়ন্ত্রণ করে, গর্ভাবস্থায় জরায়ু, ভ্রূণ ও অমরা ইত্যাদির বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ করে এবং ডিম্বাণু উৎপাদনে বিশেষ ভূমিকা রাখে। 

• অমরা গ্রন্থি: 
- অমরা থেকে নিঃসৃত হরমোন হলো- (ক) গোনাডোট্রপিক এবং (খ) প্রোজেস্টেরন। এ হরমোন ডিম্বাশয়ের অনাল গ্রন্থিকে উত্তেজিত করে এবং স্তন গ্রন্থির বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ করে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১১.
মানবদেহের পৌষ্টিক নালির অংশ নয় নিচের কোনটি?
  1. গলবিল 
  2. যকৃত
  3. মুখছিদ্র
  4. পাকস্থলী
ব্যাখ্যা

- মানবদেহের পৌষ্টিক নালির অংশ নয়- যকৃত, এটি পৌষ্টিক গ্রন্থি হিসেবে কাজ করে। 

পরিপাকতন্ত্র (Digestive system): 

- এই তন্ত্র খাদ্যগ্রহণ, পরিপাক, শোষণ এবং অপাচ্য খাদ্যাংশ নিষ্কাশনের সাথে জড়িত। 
- পরিপাকতন্ত্রের দুটি প্রধান অংশ থাকে। 
যথা: পৌষ্টিক নালি (digestive canal) এবং পৌষ্টিক গ্রন্থি (digestive glands)। 
- মুখছিদ্র, মুখগহ্বর, গলবিল, অন্ননালি, পাকস্থলী, ডিওডেনাম, ইলিয়াম, রেকটাম বা মলাশয় এবং পায়ুছিদ্র নিয়ে পৌষ্টিক নালি গঠিত। 
- মানুষের লালাগ্রন্থি, যকৃত এবং অগ্ন্যাশয় পৌষ্টিক গ্রন্থি হিসেবে কাজ করে।
- এসব গ্রন্থির নিঃসৃত রস খাদ্য পরিপাকে সহায়তা করে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১২.
অস্থির কেন্দ্রস্থলে কোনটি থাকে?
  1. কলাজেন
  2. ল্যাকুনা
  3. মজ্জাগহ্বর
  4. কনড্রিন
ব্যাখ্যা

অস্থির গঠন: 
- ম্যাট্রিক্সের জৈব উপাদানের সাথে ক্যালসিয়াম কার্বোনেট ও ক্যালসিয়াম ফসফেট জাতীয় অজৈব লবণ জমা হয়ে যে দৃঢ় ও কঠিন ভারবাহী কলা সৃষ্টি হয় তাকে অস্থি বলে। 
- এটি মূলতঃ অস্থিকোষ ও ম্যাট্রিক্স দ্বারা গঠিত। 
- ম্যাট্রিক্স এর ৪০% জৈব পদার্থ ও ৬০% অজৈব পদার্থ। 
- অস্থিতে ৩ প্রকার অস্থিকোষ থাকে। 
যথা- অস্টিওসাইট, অস্টিওব্লাস্ট ও অস্টিওক্লাস্ট। 
- সকল অস্থিকলার চারদিকে পেরিঅস্টিয়াম নামক তন্ত্রময় আবরণ থাকে। 
- এন্ডোঅস্টিয়াম নামক অপর একটি আবরণ অস্থির মজ্জাগহ্বরকে অস্থি থেকে পৃথক করে রাখে। 
- অস্থির কেন্দ্রস্থলে মজ্জাগহ্বর থাকে। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৩.
রেচনতন্ত্রের প্রধান কাজ কী?
  1. পুষ্টি শোষণ 
  2. হরমোন সৃষ্টিকরণ 
  3. শারীরিক তাপ নিয়ন্ত্রণ
  4. অপ্রয়োজনীয় বর্জ্য পদার্থ নিষ্কাশন
ব্যাখ্যা

রেচনতন্ত্র: 
- বিভিন্ন শারীরবৃত্তীয় বিপাক ক্রিয়ার ফলে শরীরে উপজাত দ্রব্য হিসেবে নাইট্রোজেন ঘটিত বর্জ্য পদার্থ তৈরি হয়। 
- এসব বর্জ্য পদার্থ সাধারণত দেহের জন্য ক্ষতিকর এবং দেহ থেকে নিষ্কাশনের প্রয়োজন হয়। 
- দেহ থেকে এসব অপ্রয়োজনীয় বর্জ্য পদার্থ নিষ্কাশন করার পদ্ধতিকে রেচন প্রক্রিয়া বলে। 
- যে তন্ত্রের সাহায্যে রেচন প্রক্রিয়া সম্পাদিত হয়, তাকে রেচনতন্ত্র বলে। 
- একজোড়া বৃক্ক, একজোড়া ইউরেটার, একটি মূত্রথলি এবং একটি মূত্রনালি (ইউরেথ্রা) নিয়ে মানুষের রেচন তন্ত্র গঠিত। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১৪.
করোটিকার (Cranium) কাজ কী? 
  1. পেটের অঙ্গ সুরক্ষা
  2. মস্তিষ্ক আবৃত রাখা
  3. বুকের অঙ্গ সুরক্ষা
  4. হাত-পা সংযুক্ত করা
ব্যাখ্যা

অক্ষীয় কঙ্কাল: 
- কঙ্কালতন্ত্রের যে অস্থিগুলো দেহের অক্ষ রেখা বরাবর অবস্থান করে কোমল, নমনীয় অঙ্গগুলোকে ধারণ করে ও রক্ষা করে এবং দেহ কাণ্ডের গঠনগুলো সংযুক্ত করে অবলম্বন দান করে তাদের একত্রে অক্ষীয় কঙ্কাল বলে। 
- অক্ষীয় কঙ্কাল প্রধানতঃ তিনটি অংশ নিয়ে গঠিত।
যথা- (ক) করোটি, (খ) মেরুদণ্ড ও (গ) বক্ষপিঞ্জর। 
• করোটি (skull): 
- মুখমণ্ডলীয় ও করোটিকার অস্থি সমন্বয়ে গঠিত মাথার কঙ্কালিক গঠনকে করোটি বলে। 
- করোটিতে মোট ২৯টি অস্থি থাকে। 

করোটিকা (Cranium): 
- করোটির যে অংশ মস্তিষ্ক আবৃত করে রাখে তাকে করোটিকা বলে। 
- করোটিকা ছয় প্রকারের মোট আটটি অস্থিপাত নিয়ে গঠিত। 

• মেরুদণ্ড (Vertebral column): 
- অ্যাটলাস অস্থি থেকে কক্কিক্স অস্থি পর্যন্ত বিস্তৃত দণ্ডাকৃতির যে গঠন মানবদেহের কেন্দ্রীয় অক্ষ গঠন করে তাকে মেরুদণ্ড বা শিরদাঁড়া বলে। 
- ৩৩টি অসম আকৃতির সীমিত সঞ্চালনক্ষম অস্থিখণ্ডক সমন্বয়ে মেরুদণ্ড গঠিত, এ সকল অস্থিখণ্ডককে কশেরুকা (vertebra) বলে। 
- কশেরুকাগুলো কোমলাস্থি নির্মিত চাকতি দ্বারা পরস্পর যুক্ত থাকে। 
- এদের সিমফাইসিস স্থির অবস্থায় বা চলমান অবস্থায় এটি দেহের ভারসাম্য রক্ষা করে। 

• বক্ষপিঞ্জর (Thoracic cage): 
- বক্ষদেশীয় ১২টি কশেরুকার সঙ্গে ১২ জোড়া পশুকা যুক্ত হয়ে যে খাঁচার মত আকৃতি গঠন করে তাকে বক্ষপিঞ্জর বলে। 
- এই খাঁচার ভেতরের গহ্বরকে বক্ষগহ্বর বলে, এই গহ্বরে হৃদপিণ্ড ও ফুসফুস অবস্থান করে। 
- দু'পাশের পর্যুকাগুলো স্টার্নাম নামক অস্থির সাথে যুক্ত থাকে। 
- বুকের কেন্দ্রীয় সম্মুখ অংশে অবস্থিত চাপা অস্থিটির নাম স্টার্নাম। 
- এটি ৩টি অংশে বিভক্ত। 
যথা- উপরের ত্রিকোণাকার ম্যানুব্রিয়াম, মাঝের লম্বা দেহ এবং নিচের ক্ষুদ্র জিফয়েড প্রসেস। 
- স্টার্নাম বুকের খাঁচার সামনের অংশ গঠন করে। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।