পরীক্ষা আর্কাইভ

ব্যাংক নিয়োগ বিষয়ভিত্তিক প্রস্তুতি

পরীক্ষাব্যাংক নিয়োগ বিষয়ভিত্তিক প্রস্তুতিতারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়10 minutes২৯ বৈধ · অসম্পূর্ণ
মোট প্রশ্ন৩০
সিলেবাস
Exam - 11 Subject: বাংলা ব্যাকরণ Topic: ধ্বনি, শব্দ, ধ্বনি পরিবর্তন, শব্দের উচ্চারণ, লিঙ্গ, দ্বিরুক্ত শব্দ, যুক্তবর্ণ, শব্দ ও পদের গঠন, শব্দের উৎস, শব্দের শ্রেণি বিভাগ। বাগ্‌ধারা ও প্রবাদ-প্রবচন, বিপরীতার্থক শব্দ, শব্দার্থ/ প্রতিশব্দ, শব্দজোড় (সমোচ্চারিত ভিন্নার্থক শব্দ), উপসর্গ, অনুসর্গ, বানান ইত্যাদি।
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

ব্যাংক নিয়োগ বিষয়ভিত্তিক প্রস্তুতি

ব্যাংক নিয়োগ বিষয়ভিত্তিক প্রস্তুতি · তারিখ অনির্ধারিত · ৩০ প্রশ্ন

.
ধ্বনি কোনটির মাধ্যমে প্রকাশ পায়?
  1. লেখা
  2. ছবি
  3. উচ্চারণ
  4. চিহ্ন
সঠিক উত্তর:
উচ্চারণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উচ্চারণ
ব্যাখ্যা

বাংলা ব্যাকরণে ধ্বনি এবং বর্ণ দুটি ভিন্ন ধারণা, এবং এদের মধ্যে পার্থক্য প্রধানত তাদের প্রকৃতি এবং ইন্দ্রিয়গ্রাহ্যতার মধ্যে নিহিত। নিচে এই পার্থক্য বিশ্লেষণ করা হলো:

ধ্বনি:
ধ্বনি হলো মুখ থেকে উচ্চারিত শব্দ বা কথনের একক, যা কান দিয়ে শোনা যায়। এটি একটি শ্রুতিগ্রাহ্য (auditory) উপাদান। ধ্বনি ভাষার মৌখিক রূপের অংশ এবং এটি উচ্চারণের মাধ্যমে প্রকাশ পায়।
উদাহরণ: ‘ক’ ধ্বনি বা ‘আ’ ধ্বনি উচ্চারণের সময় শোনা যায়। ধ্বনির সংখ্যা ভাষার উচ্চারণ প্রক্রিয়ার উপর নির্ভর করে।

বর্ণ:
বর্ণ হলো ধ্বনির লিখিত রূপ বা চিহ্ন, যা চোখ দিয়ে দেখা যায়। এটি একটি দৃষ্টিগ্রাহ্য (visual) উপাদান। বাংলা বর্ণমালায় স্বরবর্ণ (যেমন: অ, আ, ই) এবং ব্যঞ্জনবর্ণ (যেমন: ক, খ, গ) রয়েছে, যা ধ্বনিকে লিখিত আকারে প্রকাশ করে।

উদাহরণ: যখন আমরা ‘ক’ উচ্চারণ করি, তখন তা ধ্বনি হিসেবে শোনা যায়, কিন্তু যখন লিখি ‘ক’, তখন তা বর্ণ হিসেবে দেখা যায়।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান; বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ), ভাষা শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

.
কোনটি তুর্কি ভাষার শব্দ?
  1. বাদশাহ
  2. কোর্মা
  3. ডিপো
  4. দাম
সঠিক উত্তর:
কোর্মা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কোর্মা
ব্যাখ্যা

• 'কোর্মা' - তুর্কি ভাষার শব্দ।

• তুর্কি ভাষার শব্দ:
- কাঁচি, খোকা, বাবুর্চি, উজবুক, কোর্মা, তুরুক, বেগম, বাবা, বিবি।

অন্যদিকে,
• বাদশাহ (বিশেষণ)- এটি ফারসি ভাষার শব্দ।
• ‘ডিপো’ ফরাসি ভাষার শব্দ।
• ‘দাম’ - গ্রিক ভাষার শব্দ।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

.
নিচের কোনটি শুদ্ধ বানান?
  1. শুশ্রুষা
  2. শুশ্রূষা
  3. সুশ্রুষা
  4. সুশ্রূষা
সঠিক উত্তর:
শুশ্রূষা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শুশ্রূষা
ব্যাখ্যা

• শুদ্ধ বানান - শুশ্রূষা (বিশেষ্য)।
- সংস্কৃত শব্দ।
- প্রকৃতি প্রত্যয় = [শুশ্রূষা+√কৃ+ইন্+ঈ]
অর্থ: পরিচর্যা, সেবা।

আরো কয়েকটি শুদ্ধ বানান:
• মুহুর্মুহু,
• মনীষী,
• শুশ্রূষা,
• ত্রিভুজ,
• পাষাণ,
• মরীচিকা,
• মুমূর্ষু।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

.
বিষমীভবন হলো - 
  1. দুটি স্বরধ্বনি একই রকম হওয়া
  2. স্বরধ্বনির প্রভাবে ব্যঞ্জনধ্বনির পরিবর্তন
  3. দুটো সমবর্ণের একটির পরিবর্তন
  4. দুটি ব্যঞ্জনধ্বনি একই রকম হওয়া
সঠিক উত্তর:
দুটো সমবর্ণের একটির পরিবর্তন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দুটো সমবর্ণের একটির পরিবর্তন
ব্যাখ্যা

• বিষমীভবন:
দুটো সমবর্ণের একটির পরিবর্তনকে বিষমীভবন বলে।
যেমন - 
শরীর > শরীল, 
লাল > নাল, 
লাঙ্গল > নাঙ্গল ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• সমীভবন:
উচ্চারণের সময় পাশাপাশি অবস্থিত দুটি ব্যঞ্জনধ্বনি একই রকম হয়ে যাওয়াকে বলে সমীভবন।
যেমন- 
জন্ম > জম্ম,
কাঁদনা > কান্না,
স্বর্ণ > সন্ন ইত্যাদি।

স্বরসঙ্গতি:
একটি স্বরধ্বনির প্রভাবে শব্দে অপর স্বরের পরিবর্তন ঘটলে তাকে বরসঙ্গতি বলে।
যেমন,
– দেশি > দিশি, বিলাতি > বিলিতি, মুলা > মুলাে ইত্যাদি।

ব্যঞ্জন বিকৃতি:
- শব্দের মধ্যে কোনো কোনো ব্যঞ্জনধ্বনি পরিবর্তিত হয়ে নতুন ব্যঞ্জন ধ্বনিতে পরিণত হওয়াকে বলে ব্যঞ্জন বিকৃতি।
উদাহরণ: কবাট > কপাট, ধোবা > ধোপা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

.
কোনটি অনুকার দ্বিত্ব?
  1. দুম দুম
  2. হাতে হাতে
  3. গুনগুন
  4. বুদ্ধিশুদ্ধি
সঠিক উত্তর:
বুদ্ধিশুদ্ধি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বুদ্ধিশুদ্ধি
ব্যাখ্যা

• অনুকার দ্বিত্ব:
- পরপর প্রয়োগ হওয়া কাছাকাছি চেহারার শব্দকে অনুকার দ্বিত্ব বলে। এতে প্রথম শব্দটি অর্থপূর্ণ হলেও প্রায় ক্ষেত্রে দ্বিতীয় শব্দটি অর্থহীন হয় এবং প্রথম শব্দের অনুকরণে তৈরি হয়। এই অনুকরণ প্রক্রিয়ায় দ্বিতীয় শব্দের শুরুতে ট, ফ, ব, ম, শ প্রভৃতি ধ্বনি যুক্ত থাকতে দেখা যায়।

যেমন:
- বুঝে-সুঝে,
- অল্পস্বল্প,
- বুদ্ধিশুদ্ধি,
- গুটিশুটি,
- অঙ্ক-টঙ্ক,
- আম-টাম।

অন্যদিকে,
ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব - ঠুকঠুক, গুনগুন; দুম দুম।
পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব - হাতে হাতে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১সংস্করণ)।

.
'অপরাহ্ণ' শব্দটির সঠিক উচ্চারণ কোনটি?
  1. অপরান্‌হ
  2. অপোরান্নো
  3. অপোরান্‌হো
  4. অপোরান্নও
সঠিক উত্তর:
অপোরান্‌হো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অপোরান্‌হো
ব্যাখ্যা

• 'অপরাহ্ণ' এর সঠিক উচ্চারণ- 'অপোরান্‌হো'। 

• আরো কিছু সঠিক উচ্চারণ: 
- 'সম্মান' এর সঠিক উচ্চারণ — 'শম্‌মান্‌'।
- 'সৌজন্য' এর সঠিক উচ্চারণ- 'শোউজোন্‌নো'।
- 'কাকলি' এর সঠিক উচ্চারণ- (কাকোলি),
- 'প্রণতি' এর সঠিক উচ্চারণ-(প্রোনোতি),
- 'অবগতি' এর সঠিক উচ্চারণ- (অবোগোতি) ইত্যাদি।   

উৎস: ভাষাশিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ, বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান। 

.
'শাখামৃগ' কোনটির সমার্থক শব্দ?
  1. হাতি
  2. ময়ূর
  3. হরিণ
  4. বানর
সঠিক উত্তর:
বানর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বানর
ব্যাখ্যা

• 'শাখামৃগ' - এর সমার্থক শব্দ- বানর।

• বানরের সমার্থক শব্দ:
- শাখামৃগ, বাঁদর, বান্দর।

অন্যদিকে,
• 'ময়ূর' শব্দের অর্থ - কলাপী, কেকা, কেকী, শিখী, শিখণ্ডী।

• 'হরিণ' এর সমার্থক শব্দ: মৃগ, কুরঙ্গ, সুনয়ন, সারঙ্গ।

• 'হাতি' এর সমার্থক শব্দ:
গজ, দ্বিপ, দ্বিরদ, ঐরাবত হস্তী, করী, দন্তী, দন্তাবল, নগজ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

.
ধ্বনি কোন ধরনের উপাদান?
  1. দৃষ্টিগ্রাহ্য
  2. শ্রুতিগ্রাহ্য
  3. স্পর্শগ্রাহ্য
  4. উভয়ই দৃষ্টি ও শ্রুতি
সঠিক উত্তর:
শ্রুতিগ্রাহ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শ্রুতিগ্রাহ্য
ব্যাখ্যা

বাংলা ব্যাকরণে ধ্বনি এবং বর্ণ দুটি ভিন্ন ধারণা, এবং এদের মধ্যে পার্থক্য প্রধানত তাদের প্রকৃতি এবং ইন্দ্রিয়গ্রাহ্যতার মধ্যে নিহিত। নিচে এই পার্থক্য বিশ্লেষণ করা হলো:

ধ্বনি:
ধ্বনি হলো মুখ থেকে উচ্চারিত শব্দ বা কথনের একক, যা কান দিয়ে শোনা যায়। এটি একটি শ্রুতিগ্রাহ্য (auditory) উপাদান। ধ্বনি ভাষার মৌখিক রূপের অংশ এবং এটি উচ্চারণের মাধ্যমে প্রকাশ পায়। উদাহরণ: ‘ক’ ধ্বনি বা ‘আ’ ধ্বনি উচ্চারণের সময় শোনা যায়। ধ্বনির সংখ্যা ভাষার উচ্চারণ প্রক্রিয়ার উপর নির্ভর করে।

বর্ণ:
বর্ণ হলো ধ্বনির লিখিত রূপ বা চিহ্ন, যা চোখ দিয়ে দেখা যায়। এটি একটি দৃষ্টিগ্রাহ্য (visual) উপাদান। বাংলা বর্ণমালায় স্বরবর্ণ (যেমন: অ, আ, ই) এবং ব্যঞ্জনবর্ণ (যেমন: ক, খ, গ) রয়েছে, যা ধ্বনিকে লিখিত আকারে প্রকাশ করে।

উদাহরণ: যখন আমরা ‘ক’ উচ্চারণ করি, তখন তা ধ্বনি হিসেবে শোনা যায়, কিন্তু যখন লিখি ‘ক’, তখন তা বর্ণ হিসেবে দেখা যায়।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান; বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ), ভাষা শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

.
নিচের কোন বানানটি শুদ্ধ?
  1. মুহর্মুহু
  2. বহ্ণি
  3. জাজ্বল্যমান
  4. আশ্বস্থ
সঠিক উত্তর:
জাজ্বল্যমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জাজ্বল্যমান
ব্যাখ্যা

• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
'জাজ্বল্যমান'- শুদ্ধ বানান।

এর অর্থ:
- অতিশয় উজ্জ্বল।

• অশুদ্ধ বানান - 'জাজ্জ্বল্যমান'।

অন্য অপশনের শুদ্ধ বানানগুলো হলো:
• মুহর্মুহু - মুহুর্মুহু। 
• আশ্বস্থ - আশ্বস্ত।
• বহ্ণি - বহ্নি।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।

১০.
অর্থানুসারে 'অসুখ' কোন ধরনের শব্দ?
  1. মৌলিক শব্দ
  2. যৌগিক শব্দ
  3. রূঢ়ি শব্দ
  4. যোগরূঢ় শব্দ
সঠিক উত্তর:
যোগরূঢ় শব্দ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যোগরূঢ় শব্দ
ব্যাখ্যা

• অর্থগতভাবে শব্দসমূহ তিন ভাগে বিভক্ত। যথা:
১. যৌগিক শব্দ,
২. রূঢ় বা রূঢ়ি শব্দ,
৩. যোগরূঢ় শব্দ।

• যোগরূঢ় শব্দ:
সমাসনিষ্পন্ন যেসব শব্দ তার ব্যাসবাক্যের কোনো অর্থ প্রকাশ না করে, তৃতীয় কোনো অর্থ প্রকাশ করে, সেসব শব্দকে বলা হয় যোগরূঢ় শব্দ।
যেমন:
- 'অসুখ' ব্যুৎপত্তিগত অর্থ-'সুখের অভাব'। ব্যবহারিক অর্থ-'রোগ'। তাই 'অসুখ' একটি যোগরূঢ় শব্দ। 
- পঙ্কজ: পঙ্কে জন্মে যা। শৈবাল, শালুক, পদ্মফুল প্রভৃতি উদ্ভিদ পঙ্কে জন্মে থাকে। কিন্তু 'পঙ্কজ' শব্দটি একমাত্র 'পদ্মফুল' অর্থেই ব্যবহৃত হয়। তাই 'পঙ্কজ' একটি যোগরূঢ় শব্দ।

- শাখার ন্যায় মৃগ শাখামৃগ সমাসবদ্ধ শব্দটি ক্রান্তীয় ও উপক্রান্তীয় অঞ্চলে বিচরণ করে এবং লম্বা লেজ ও লোমাবৃত দেহবিশিষ্ট মাঝারি আকৃতির স্তন্যপায়ী বৃক্ষচর প্রাণীকে বোঝায়। তবে ব্যবহারীক অর্থে শাখামৃগ শব্দটি শুধু 'বানর'কে বোঝাতে ব্যবহৃত হয়। তাই 'শাখামৃগ' একটি যোগরূঢ় শব্দ।

এরূপ-
আরো কিছু শব্দ হলো: মন্দির, জলদ, রাজপুত, জলধি, মহাযাত্রা ইত্যাদি।

---------------
• যৌগিক শব্দ:
যৌগিক শব্দের ব্যুৎপত্তিগত অর্থ ও প্রচলিত অর্থের মধ্যে কোন পার্থক্য নেই অর্থাৎ একই রকম।
যেমন:
- বাংলা 'মিতালি' শব্দের ব্যুৎপত্তিগত অর্থ 'মিতার ভাব, বন্ধুত্ব' (মিতা শব্দের পরে 'ভাব' অর্থে তদ্ধিত প্রত্যয় 'আলি' যোগে 'মিতালি' শব্দটি গঠিত হয়েছে) এবং শব্দটি এই অর্থেই ভাষায় ব্যবহৃত হয়। অর্থাৎ 'মিতালি' শব্দটির ব্যুৎপত্তিগত অর্থ ও ব্যবহারিক অর্থ একই। ফলে 'মিতালি' বাংলাতে যৌগিক শব্দ।

এরূপ শব্দ হলো: গায়ক, কর্তব্য, বাবুয়ানা, মধুর, দৌহিত্র, চিকামারা ইত্যাদি।

• রূঢ় বা রূঢ়ি শব্দ:
যে সব শব্দের অর্থ তাদের প্রকৃতি ও প্রত্যয়ের অর্থের অনুগামী না হয়ে ভিন্ন অর্থ প্রকাশ করে, সেসব শব্দকে বলা হয় রূঢ় বা রূঢ়ি শব্দ।
যেমন: গবেষণা, তৈল, প্রবীণ, সন্দেশ, জেঠামি, বাঁশি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ), ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

১১.
'ডুলি' শব্দের অর্থ কী?
  1. কেদারা
  2. পালকি
  3. পাতিল
  4. অলঙ্কার
সঠিক উত্তর:
পালকি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পালকি
ব্যাখ্যা

• 'ডুলি' শব্দের অর্থ - পালকি।

অন্যদিকে,
- 'চেয়ার' শব্দের অর্থ - কেদারা।
- 'পাতিল' শব্দের অর্থ - তিজেল।
- আভরণ শব্দের অর্থ - অলঙ্কার।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।

১২.
"কবাট > কপাট" - কোন ধরনের ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ?
  1. সমীভবন 
  2. ব্যঞ্জন বিকৃতি
  3. ব্যঞ্জন দ্বিত্ব 
  4. ঘোষীভবন 
সঠিক উত্তর:
ব্যঞ্জন বিকৃতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যঞ্জন বিকৃতি
ব্যাখ্যা

• ব্যঞ্জন বিকৃতি:
শব্দ-মধ্যে কোনো কোনো সময় কোনো ব্যঞ্জন পরিবর্তিত হয়ে নতুন ব্যঞ্জনধ্বনি ব্যবহৃত হয়। একে বলে ব্যঞ্জন বিকৃতি।
যেমন -
- কবাট > কপাট, 
- ধোবা > ধোপা, 
- ধাইমা > দাইমা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

১৩.
'পাবক' এর প্রতিশব্দ কোনটি?
  1. লোচন
  2. বিধু
  3. অনল
  4. লহরী
সঠিক উত্তর:
অনল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনল
ব্যাখ্যা

• 'পাবক' এর প্রতিশব্দ- 'অনল'।

অন্যদিকে, 
• 'চক্ষু' শব্দের প্রতিশব্দ - লোচন। 
• 'বিধু' - 'চাঁদ' এর প্রতিশব্দ।
• 'ঢেউ' শব্দের প্রতিশব্দ- লহরী।
  
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি ( ২০২২  সংস্করণ)।

১৪.
কোনটি অস্বচ্ছ যুক্তবর্ণ?
  1. ল্ট
  2. ন্ধ
  3. শ্চ
  4. ষ্ট 
সঠিক উত্তর:
ন্ধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ন্ধ
ব্যাখ্যা

• ন্ধ - অস্বচ্ছ যুক্তবর্ণ।

যুক্তবর্ণ:
- একাধিক বর্ণ যুক্ত হয়ে যুক্তবর্ণ তৈরি হয়। যুক্ত হওয়া বর্ণগুলোকে দেখে কখনো সহজে চেনা যায়, কখনো সহজে চেনা যায় না। এদিক দিয়ে যুক্তবর্ণ দুই রকম: স্বচ্ছ ও অস্বচ্ছ।

স্বচ্ছ যুক্তবর্ণ:
- জ, ব্দ, ম্ফ, ল্ক, ল্গ, ল্ট, ল্ড, ল্প, ল্ফ, শ্চ, ষ্ট ইত্যাদি।

অস্বচ্ছ যুক্তবর্ণ:
- দ্ধ (দ+ধ), ন্ধ (ন্+ধ), ব্ধ (ব্+ধ), ভ্র (ভ্+র), ষ্ণ (ষ্‌ + ণ) ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিত, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ ২০২১)।

১৫.
শুদ্ধ বানান — 
  1. অর্নব
  2. যামিনি
  3. সূচ্যগ্রমোদিনী
  4. শ্বাশত
অনির্ধারিত
ব্যাখ্যা

অপশনের সবগুলোই অশুদ্ধ বানান। সঠিক উত্তর না থাকায় প্রশ্নটি বাতিল করা হয়েছে। 

• অশুদ্ধ শব্দের শুদ্ধ বানান হলো —

সূচ্যগ্রমোদিনী→ এর শুদ্ধ বানান: সূচ্যগ্রমেদিনী।
অর্নব → এর শুদ্ধ বানান: অর্ণব।
যামিনি → এর শুদ্ধ বানান: যামিনী।
শ্বাশত → এর শুদ্ধ বানান- শাশ্বত।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।

১৬.
"তন্বী" - শব্দটি কোন প্রক্রিয়ায় গঠিত?
  1. সন্ধিযোগে 
  2. প্রত্যয়যোগে
  3. বিভক্তিযোগে
  4. ক এবং খ উভয়ই 
সঠিক উত্তর:
ক এবং খ উভয়ই 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক এবং খ উভয়ই 
ব্যাখ্যা

• তন্বী শব্দটি— (প্রত্যয় ও সন্ধি) উভয় সাধিত শব্দ।

• সন্ধিসাধিত- (তনু + ঈ);
• প্রত্যয়সাধিত - তনু + ঈ; এখানে 'ঈ' একটি প্রত্যয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

১৭.
'শিষ্ট' - এর বিপরীত শব্দ কোনটি?
  1. অশিষ্ট 
  2. দুষ্ট
  3. অসভ্য
  4. সবগুলোই
সঠিক উত্তর:
সবগুলোই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবগুলোই
ব্যাখ্যা

• 'শিষ্ট' অর্থ - শান্ত; ভদ্র; বিনীত।
• 'অশিষ্ট' অর্থ- অসভ্য; অভদ্র; অভব্য। 

অর্থ্যাৎ,
- 'শিষ্ট' এর বিপরীত শব্দ হলো - অশিষ্ট; 'দুষ্ট'; অসভ্য।

এছাড়াও-
ধৃষ্ট— নম্র।
দূর— নিকট।
ঠকা— জেতা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২সংস্করণ)।

১৮.
কোনটি যৌগিক শব্দ?
  1. পঙ্কজ
  2. গবেষণা
  3. মিতালি
  4. প্রবীণ
সঠিক উত্তর:
মিতালি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মিতালি
ব্যাখ্যা

• অর্থগতভাবে শব্দসমূহ তিন ভাগে বিভক্ত।
যথা:
১. যৌগিক শব্দ,
২. রূঢ় বা রূঢ়ি শব্দ,
৩. যোগরূঢ় শব্দ।

• যৌগিক শব্দ:
যৌগিক শব্দের ব্যুৎপত্তিগত অর্থ ও প্রচলিত অর্থের মধ্যে কোন পার্থক্য নেই অর্থাৎ একই রকম।
যেমন:
- বাংলা 'মিতালি' শব্দের ব্যুৎপত্তিগত অর্থ 'মিতার ভাব, বন্ধুত্ব' (মিতা শব্দের পরে 'ভাব' অর্থে তদ্ধিত প্রত্যয় 'আলি' যোগে 'মিতালি' শব্দটি গঠিত হয়েছে) এবং শব্দটি এই অর্থেই ভাষায় ব্যবহৃত হয়। অর্থাৎ 'মিতালি' শব্দটির ব্যুৎপত্তিগত অর্থ ও ব্যবহারিক অর্থ একই। ফলে 'মিতালি' বাংলাতে যৌগিক শব্দ।

এরূপ শব্দ হলো: গায়ক, কর্তব্য, বাবুয়ানা, মধুর, দৌহিত্র, চিকামারা ইত্যাদি।

-----------------
• যোগরূঢ় শব্দ:
সমাসনিষ্পন্ন যেসব শব্দ তার ব্যাসবাক্যের কোনো অর্থ প্রকাশ না করে, তৃতীয় কোনো অর্থ প্রকাশ করে, সেসব শব্দকে বলা হয় যোগরূঢ় শব্দ।
যেমন:
- 'অসুখ' ব্যুৎপত্তিগত অর্থ-'সুখের অভাব'। ব্যবহারিক অর্থ-'রোগ'। তাই 'অসুখ' একটি যোগরূঢ় শব্দ। 
- পঙ্কজ: পঙ্কে জন্মে যা। শৈবাল, শালুক, পদ্মফুল প্রভৃতি উদ্ভিদ পঙ্কে জন্মে থাকে। কিন্তু 'পঙ্কজ' শব্দটি একমাত্র 'পদ্মফুল' অর্থেই ব্যবহৃত হয়। তাই 'পঙ্কজ' একটি যোগরূঢ় শব্দ।

- শাখার ন্যায় মৃগ শাখামৃগ সমাসবদ্ধ শব্দটি ক্রান্তীয় ও উপক্রান্তীয় অঞ্চলে বিচরণ করে এবং লম্বা লেজ ও লোমাবৃত দেহবিশিষ্ট মাঝারি আকৃতির স্তন্যপায়ী বৃক্ষচর প্রাণীকে বোঝায়। তবে ব্যবহারীক অর্থে শাখামৃগ শব্দটি শুধু 'বানর'কে বোঝাতে ব্যবহৃত হয়। তাই 'শাখামৃগ' একটি যোগরূঢ় শব্দ।

এরূপ-
আরো কিছু শব্দ হলো: মন্দির, জলদ, রাজপুত, জলধি, মহাযাত্রা ইত্যাদি।

---------------

• রূঢ় বা রূঢ়ি শব্দ:
যে সব শব্দের অর্থ তাদের প্রকৃতি ও প্রত্যয়ের অর্থের অনুগামী না হয়ে ভিন্ন অর্থ প্রকাশ করে, সেসব শব্দকে বলা হয় রূঢ় বা রূঢ়ি শব্দ।
যেমন: গবেষণা, তৈল, প্রবীণ, সন্দেশ, জেঠামি, বাঁশি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ), ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

১৯.
পুনরাবৃত্ত শব্দদ্বিত্বের উদাহরণ - 
  1. আম টাম
  2. কথায় কথায়
  3. জ্বলজ্বল
  4. টসটস
সঠিক উত্তর:
কথায় কথায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কথায় কথায়
ব্যাখ্যা

• অভিন্ন বা সামান্য পরিবর্তিত চেহারার কোনো শব্দ পরপর দুইবার ব্যবহৃত হলে তাকে শব্দদ্বিত্ব বলে।
শব্দদ্বিত্ব তিন ধরণের:
১.অনুকার দ্বিত্ব
২.ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব
৩.পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব

অনুকার দ্বিত্ব:
- পরপর প্রয়োগ হওয়া কাছাকাছি চেহারার শব্দকে অনুকার দ্বিত্ব বলে।
- এতে প্রথম শব্দটি অর্থপূর্ণ হলেও প্রায় ক্ষেত্রে দ্বিতীয় শব্দটি অর্থহীন হয় এবং প্রথম শব্দের অনুকরণে তৈরি হয়।
যেমন: মোটাসোটা, আম টাম, এলোমেলো ইত্যাদি। 

ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব:
কোনো প্রাকৃতিক ধ্বনির অনুকরণে যেসব শব্দ তৈরি হয়, সেগুলোকে ধ্বন্যাত্মক শব্দ বলে।
আর ধ্বন্যাত্মক শব্দের পনেরাবৃত্তিকে ধ্বান্যাত্মক দ্বিত বলে।
যেমন- কুটুস- কুটুস, কুট কুট, জ্বলজ্বল, খক খক, খুটুর খুটুর, টুং টুং, ঝমঝম, টসটস।  

পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব:
পুনরায় আবৃত্ত হলে তাকে পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব বলে।
যেমন: গরম গরম, জ্বর জ্বর, পর পর, কবি কবি, কথায় কথায়, ঘুম ঘুম ইত্যাদি।  

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১সংস্করণ)।

২০.
'কোকিল' এর প্রতিশব্দ নয় কোনটি?
  1. অন্যপুষ্ট
  2. কলকন্ঠ
  3. মধুসখা
  4. পরভৃৎ
সঠিক উত্তর:
পরভৃৎ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পরভৃৎ
ব্যাখ্যা

• কোকিল শব্দের প্রতিশব্দ:
- পরভৃত, পিক, অন্যপুষ্ট, কলকন্ঠ, বসন্তদূত, মধুসখা ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 
'পরভৃৎ' অর্থ- কাক। এটা কোকিল এর প্রতিশব্দ নয়।

• কাকের সমার্থক শব্দ- বায়স, কঙ্খ, বৃক, বলিভূক।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

২১.
নিচের কোনটি ফারসি ভাষার শব্দ?
  1. কার্নিশ
  2. চাবুক
  3. কেটলি
  4. বাবা
সঠিক উত্তর:
চাবুক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চাবুক
ব্যাখ্যা

• 'চাবুক' ফারসি ভাষার শব্দ।

⇒ ফারসি ভাষা থেকে আগত আরো কিছু শব্দ হলো: 
গ্রেপ্তারি, গ্রেফতার, দারোগা, লুঙ্গি, সাদা, আসমান, কাজি, খোয়াব, চেহারা, কাগজ, চশমা, চারপায়া, ছয়লাপ ইত্যাদি।

আরো কয়েকটি বিদেশি শব্দ:
• ফরাসি শব্দ: কার্নিশ, টারবাইন, রেস্টুরেন্ট, রেস্তোরাঁ ইত্যাদি।
• ‘ইংরেজি’ ভাষার শব্দ: অ্যাপ্রন, ইউরো, কেটলি, সিল্ক ইত্যাদি।
• ‘তুর্কি’ ভাষার শব্দ: তোপ, চাকু, বাবা, বাবুর্চি, মুচলেকা ইত্যাদি

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

২২.
কোন বাক্যটিতে ক্রিয়াজাত অনুসর্গের ব্যবহার রয়েছে?
  1. বহুদিন ধরে অপেক্ষা করে আছি।
  2. মাথার উপরে নিল আকাশ।
  3. কার কাছে গেলে জানা যাবে?
  4. এমন কাজ তাঁর দ্বারা হবে না।
সঠিক উত্তর:
বহুদিন ধরে অপেক্ষা করে আছি।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বহুদিন ধরে অপেক্ষা করে আছি।
ব্যাখ্যা

অনুসর্গ:
- বাংলা ভাষায় যে অব্যয় শব্দগুলো কখনো স্বাধীন পদ দেয়, আবার কখনো শব্দ বিভক্তির ন্যায় বাক্যে ব্যবহৃত হয়ে বাক্যের অর্থ প্রকাশ করতে সাহায্য করে, তাকে অনুসর্গ বলে।

অনুসর্গ ২ প্রকার:
- সাধারণ অনুসর্গ,
- ক্রিয়াজাত অনুসর্গ।

ক্রিয়াজাত অনুসর্গ:
- যেসব অনুসর্গ ক্রিয়াপদ থেকে তৈরি হয়েছে, সেগুলোকে ক্রিয়াজাত অনুসর্গ বলে।
যেমন:
• করে: ভালো করে খেয়ে নাও।
• ধরে: বহুদিন ধরে অপেক্ষা করে আছি।
• দিয়ে: মন দিয়ে লেখাপড়া করা দরকার।
• বলে: তুমি আসবে বলে আমি দাঁড়িয়ে আছি।

সাধারণ অনুসর্গ:
- যেসব অনুসর্গ ক্রিয়া ছাড়া অন্য শব্দ থেকে তৈরি হয়, সেগুলোকে সাধারণ অনুসর্গ বলে।
যেমন: 
• উপরে: মাথার উপরে নিল আকাশ।
• কাছে: কার কাছে গেলে জানা যাবে?
• দ্বারা: এমন কাজ তাঁর দ্বারা হবে না।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।

২৩.
"বানি" শব্দের অর্থ - 
  1. কথা
  2. ভরসা
  3. গয়না তৈরির মজুরি
  4. উক্তি
সঠিক উত্তর:
গয়না তৈরির মজুরি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গয়না তৈরির মজুরি
ব্যাখ্যা

• 'বানি' শব্দের অর্থ - গয়না তৈরির মজুরি।

অন্যদিকে,
- 'বাণী' শব্দের অর্থ - কথা, উক্তি।
- 'আশা' শব্দের অর্থ - প্রত্যাশা, ভরসা।
- আভরণ শব্দের অর্থ - অলঙ্কার।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।

২৪.
’উপকণ্ঠ’ শব্দে ’উপ’ উপসর্গটি কোন অর্থে ব্যবহৃত হয়?
  1. ক্ষুদ্র
  2. বিশেষ
  3. সদৃশ
  4. সামীপ্য
সঠিক উত্তর:
সামীপ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সামীপ্য
ব্যাখ্যা

• ’উপকণ্ঠ’ শব্দে ’উপ’ উপসর্গটি ’সামীপ্য’ অর্থে ব্যবহৃত হয়।

- উল্লেখ্য, ’উপ’ একটি তৎসম (সংস্কৃত) উপসর্গ।

’উপ’ উপসর্গটি অন্য যেসব অর্থে ব্যবহৃত হয়-
• ’সামীপ্য" অর্থে- উপকূল, উপকণ্ঠ।
• ’সদৃশ’ অর্থে- উপদ্বীপ, উপবন।
• ’ক্ষুদ্র’ অর্থে- উপগ্রহ, উপসাগর, উপনেতা
• ’বিশেষ’ অর্থে- উপনয়ন (পৈতা), উপভোগ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম ও দশম শ্রেণি ২০১৯ সালের সংস্করণ।

২৫.
নিত্য পুরুষবাচক শব্দ নয় কোনটি?
  1. বিচারপতি
  2. কৃতদার
  3. কবিরাজ
  4. সুলতান
সঠিক উত্তর:
সুলতান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুলতান
ব্যাখ্যা

• নিত্য পুরুষবাচক শব্দ নয় - সুলতান
- এর স্ত্রীবাচক শব্দ হলো - সুলতানা।

• বাংলা ভাষায় বহু বিশেষ্য পদ রয়েছে যাদের কোনটিতে পুরুষ ও কোনটিতে স্ত্রী বোঝায়। যে শব্দে পুরুষ বোঝায় তাকে পুরুষবাচক শব্দ বলে আর যে শব্দে স্ত্রী বোঝায় তাকে স্ত্রীবাচক শব্দ বলে।

• নিত্য পুরুষবাচক শব্দ:
কতগুলো শব্দে কেবল পুরুষ বোঝায় সেগুলোকে নিত্য পুরুষবাচক শব্দ বলে।
কিছু নিত্য পুরুষবাচক শব্দ:
- কবিরাজ,
- যোদ্ধা,
- সেনাপতি,
- দলপতি,
- ঢাকী,
- কৃতদার,
- রাষ্ট্রপতি,
- বিচারপতি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

২৬.
'সাকার' এর বিপরীত শব্দ কোনটি?
  1. বড় আকার 
  2. আকার
  3. নিরাকার
  4. অনাচার 
সঠিক উত্তর:
নিরাকার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিরাকার
ব্যাখ্যা

• 'সাকার' শব্দের বিপরীত শব্দ - নিরাকার।

কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিপরীত শব্দ:
- 'বিধি' - নিষেধ।
- 'সৌম্য' - করাল।
- 'আচার'- অনাচার।
- 'ভীরু' - নির্ভীক।
- 'মহাজান' - খাতক।
- 'ভাটি' - উজান।
- 'বিষ' - অমৃত।
- 'সিক্ত' - শুষ্ক।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

২৭.
নিচের কোন বাগ্‌ধারা জোড়টি ভিন্নার্থক?
  1. পোয়া বারো - একাদশে বৃহস্পতি
  2. ব্যাঙের লাথি - ব্যাঙের সর্দি
  3. বিড়াল তপস্বী - ভিজে বেড়াল
  4. অকাল কুষ্মাণ্ড - গোবর গণেশ
সঠিক উত্তর:
ব্যাঙের লাথি - ব্যাঙের সর্দি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাঙের লাথি - ব্যাঙের সর্দি
ব্যাখ্যা

ভিন্ন অর্থে ব্যবহৃত বাগ্‌ধারা দুটি হলো:
• ‘ব্যাঙের লাথি’ বাগধারাটির অর্থ - নগন্য লোকের দ্বারা অপমান।
• ‘ব্যাঙের সর্দি’ বাগধারাটির অর্থ - অসম্ভব ব্যাপার।

অন্যদিকে,
প্রায় সমার্থক অর্থে ব্যবহৃত বাগধারাগুলো হলো:
• ‘বিড়াল তপস্বী’ বাগধারাটির অর্থ - ভণ্ড লোক।
• ‘ভিজে বেড়াল’ বাগধারাটির অর্থ - ভণ্ড লোক।

• ‘পোয়া বারো’ বাগধারার অর্থ - সৌভাগ্য।
• ‘একাদশে বৃহস্পতি’ বাগধারার অর্থ - সৌভাগ্যের বিষয়।

• ‘অকাল কুষ্মাণ্ড’ বাগধারার অর্থ - অপদার্থ, অকেজো।
• ‘গোবর গণেশ’ বাগধারার অর্থ - অপদার্থ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

২৮.
"ছেলেটা চৌধুরী সাহেবের মুখ রেখেছে।" - এখানে 'মুখ' কী অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. ক্ষমতা
  2. সম্মান
  3. কথা
  4. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
সম্মান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সম্মান
ব্যাখ্যা

বাক্যে অর্থভেদে ‘মুখ’ শব্দের কিছু ব্যবহার দেয়া হলো-
• ‘অঙ্গ বিশেষ’ অর্থে: তোমার মুখের গড়নটা সুন্দর।
• ‘প্রবেশ পথ’ অর্থে: গ্রামের মুখেই দোকানটা।
• ‘সম্মান’ অর্থে: ছেলেটা চৌধুরী সাহেবের মুখ রেখেছে।
• ‘কথা’ অর্থে: মুখে মধু অন্তরে বিষ।
• ‘ক্ষমতা’ অর্থে: যত বড় মুখ নয় তত বড় কথা।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

২৯.
কোনটি ইউরোপীয় ভাষার শব্দ নয়?
  1. আলমারি
  2. ক্যারাটে
  3. বালতি
  4. কার্তুজ
সঠিক উত্তর:
ক্যারাটে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্যারাটে
ব্যাখ্যা

• 'ক্যারাটে' - জাপানি ভাষার শব্দ, যা একটি মার্শাল আর্টের নাম। তাই এটি ইউরোপীয় ভাষার শব্দ নয়।
উল্লেখ্য,
- জাপান এশিয়া মহাদেশের একটি দেশ।
------------------------- 
বহু ইউরোপীয় ভাষার শব্দ বাংলায় নানা সূত্রে প্রবেশ করেছে- 
• পর্তুগিজ শব্দ- আলকাতরা, আলমারি, বালতি, পাদ্রি। 
• ফরাসি - কুপন, কার্তুজ, কোলাজ, দেতাঁত, রেস্তোরা, ক্যাপসুল। 
• লাতিন শব্দ- ক্যামেলিয়া, ক্যাম্পাস।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।

৩০.
"আমাদের বড় সাহেব খুব রাশভারী লোক, তাঁর সাথে বুঝেসুঝে কথা বলো।" - এখানে 'রাশভারী' বলতে কী বোঝাচ্ছে? 
  1. কৃপণ 
  2. ব্যয়কুণ্ঠ 
  3. গম্ভীর প্রকৃতি 
  4. কদরহীন লোক
সঠিক উত্তর:
গম্ভীর প্রকৃতি 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গম্ভীর প্রকৃতি 
ব্যাখ্যা

• 'রাশভারী' বাগ্‌ধারার অর্থ - গম্ভীর প্রকৃতি। 

• "আমাদের বড় সাহেব খুব রাশভারী লোক, তাঁর সাথে বুঝেসুঝে কথা বলো।" - এখানে 'রাশভারী' বলতে বোঝায়- গম্ভীর প্রকৃতি।

অন্যদিকে, 
• 'হাতভারী' অর্থ - ব্যয়কুণ্ঠ। 
• 'সাক্ষী গোপাল' অর্থ - নিষ্ক্রিয় দর্শক।
• 'ফেকলু পার্টি' বাগধারাটির অর্থ - কদরহীন লোক।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ; বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।