পরীক্ষা আর্কাইভ

বাংলাবিদ (ব্যাকরণ)

পরীক্ষাবাংলাবিদ (ব্যাকরণ)তারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়07 minutes
মোট প্রশ্ন
সিলেবাস
পরীক্ষা – ১৬ টপিক: বাচ্য, উক্তি ও যতিচিহ্ন - দ্বিরুক্ত শব্দ, সংখ্যাবাচক শব্দ, বচন [লাইভ ক্লাস - ৩৩ ও ৩৪]
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলাবিদ (ব্যাকরণ)

বাংলাবিদ (ব্যাকরণ) · তারিখ অনির্ধারিত · প্রশ্ন

.
নিচের কোনটি অনুকার শব্দদ্বিত্ব?
  1. কচরমচর
  2. ফটাফট
  3. ভটভট
  4. গবাগব
সঠিক উত্তর:
কচরমচর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কচরমচর
ব্যাখ্যা
⇒ অনুকার দ্বিত্ব:
পরপর প্রয়োগ হওয়া কাছাকাছি চেহারার শব্দকে অনুকার দ্বিত্ব বলে। এতে প্রথম শব্দটি অর্থপূর্ণ হলেও প্রায় ক্ষেত্রে দ্বিতীয় শব্দটি অর্থহীন হয় এবং প্রথম শব্দের অনুকরণে তৈরি হয়। এই অনুকরণ প্রক্রিয়ায় দ্বিতীয় শব্দের শুরুতে ট, ফ, ব, ম, শ প্রভৃতি ধ্বনি যুক্ত থাকতে দেখা যায়। তাতে শব্দকে খানিকটা অনির্দিষ্ট, সাধারণ বা গুরুত্বহীন করা হয়।

যেমন-
কচর-মচর, অঙ্ক-টঙ্ক, চাকর-বাকর, ঝিকিমিকি, এলোমেলো, অল্পসল্প, ব্যাপার-স্যাপার, বুঝে-সুঝে ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- ফটাফট ও গবাগব শব্দের মাঝখানে স্বরধ্বনির আগমনে তৈরি  ধ্বন্যাত্মক দ্বিরুক্ত শব্দ।
- ভটভট ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্বের উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
.
বচন লগ্নকের ব্যবহার ছাড়া বহুবচনের উদাহরণ রয়েছে কোন বাক্যে?
  1. মাঝিরা নৌকা চালায়।
  2. কলমগুলোর দাম অনেক।
  3. পাখিসব করে রব।
  4. সমাজে নারীর ক্ষমতায়ন নিয়ে তিনি গবেষণা করেছেন।
সঠিক উত্তর:
সমাজে নারীর ক্ষমতায়ন নিয়ে তিনি গবেষণা করেছেন।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সমাজে নারীর ক্ষমতায়ন নিয়ে তিনি গবেষণা করেছেন।
ব্যাখ্যা

• অনেক ক্ষেত্রে বচন লগ্নক ব্যবহৃত না হলেও বহুবচন হতে পারে।
যেমন:
- বাজারে লোক কম।
- মৌমাছি মৌচাক বানায়।
- সমাজে নারীর ক্ষমতায়ন নিয়ে তিনি গবেষণা করছেন।

অন্যদিকে,
- মাঝিরা নৌকা চালায়।- বাক্যে একবচন ‘মাঝি’ শব্দের সঙ্গে ‘রা’ লগ্নক যুক্ত হয়ে বহুবচন ‘মাঝিরা’ হয়েছে।
- কলমগুলোর দাম অনেক।- ‘গুলো’ লগ্নক যুক্ত হয়ে বহুবচন ‘কলমগুলো’ হয়েছে।
- পাখিসব করে রব।- বাক্যে ‘সব’ লগ্নক যুক্ত হয়ে বহুবচন ‘পাখিসব’ হয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২৩ সংস্করণ)।

.
সাধারণ পূরণবাচক সংখ্যাশব্দের নারীবাচক রূপের ব্যবহার আছে কোনটিতে?
  1. নবমী
  2. ষোলোই
  3. তেসরা
  4. ষোড়শ
সঠিক উত্তর:
নবমী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নবমী
ব্যাখ্যা

বাংলা সংখ্যাবাচক শব্দের "পূরণবাচক সংখ্যাশব্দ" ৩ প্রকার।
যথা:
১. সাধারণ পূরণবাচক,
২. তারিখ পূরণবাচক,
৩. ভগ্নাংশ পূরণবাচক।

⇒ সাধারণ পূরণবাচক শব্দ:
ক্রমবাচক সংখ্যার পর্যায় বা অবস্থানকে নির্দেশ করতে সাধারণ পূরণবাচক শব্দ ব্যবহৃত হয়। যেমন - প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয়, চতুর্থ ইত্যাদি।
- এগুলো আবার সংক্ষিপ্তরূপেও লেখা যায়। যেমন - ১ম, ২য়, ৩য় ইত্যাদি।

• ১১-১৮ পর্যন্ত সংখ্যার পূর্ণ পূরণবাচক ও সংক্ষিপ্ত দুই রকম।
যেমন: একাদশ (১১শ) ও এগারোতম।
এভাবে- ষোড়শ (১৬শ) ও ষোলোতম, সপ্তদশ (১৭শ) সতেরোতম-অষ্টাদশ পর্যন্ত।

• ১৯ থেকে ৯৯ পর্যন্ত সংখ্যার সংক্ষিপ্ত  পূরণবাচকে শুধু  ‘তম’ প্রত্যয় যোগ করা হয়। যথা: উনিশতম, বিংশতম ইত্যাদি।

• বাংলা ভাষায় সাধারণ পূরণবাচকের নারীবাচক রূপের ব্যবহার আছে।
যেমন - প্রথমা, দ্বিতীয়া, অষ্টমী, নবমী, দশমী, ত্রয়োদশী, ষোড়শী ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
ষোলোই, তেসরা তারিখ পূরণবাচক শব্দ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

.
নিচের কোন বাক্যে পুনরাবৃত্ত দ্বিরুক্ত শব্দের প্রয়োগ ঘটেছে?
  1. বুঝেসুঝে কাজ করো।
  2. আমি জ্বর জ্বর অনুভব করছি।
  3. টং টং করে বেজেই চলেছে।
  4. সাঁ সাঁ করে তিরগুলো ছুটে যাচ্ছে।
সঠিক উত্তর:
আমি জ্বর জ্বর অনুভব করছি।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আমি জ্বর জ্বর অনুভব করছি।
ব্যাখ্যা
• আমি জ্বর জ্বর অনুভব করছি।- বাক্যে ব্যবহৃত জ্বরজ্বর শব্দটি পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব শব্দের উদাহরণ।

অভিন্ন বা সামান্য পরিবর্তিত চেহারায় কোনো শব্দ পরপর দুইবার ব্যবহৃত হলে তাকে শব্দদ্বিত্ব বলে। শব্দদ্বিত্ব তিন ধরনের:
- অনুকার দ্বিত্ব,
- ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব ও
- পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব।

⇒ পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব:
পুনরায় আবৃত্ত হলে তাকে পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব বলে। পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব বিভক্তিহীন বা বিভক্তিযুক্ত হতে পারে। যেমন: জ্বর জ্বর, পর পর, কবি কবি, হাতে হাতে, কথায় কথায়, জোরে জোরে ইত্যাদি।

বিভক্তিহীন পুনরাবৃত্ত: ভালো ভালো (কথা), কত কত (লোক), হঠাৎ হঠাৎ (ব্যথা), ঘুম ঘুম (চোখ), উড় উড় (মন), গরম গরম (জিলাপি), হায় হায় (করা)।
বিভক্তিযুক্ত পুনরাবৃত্ত: কথায় কথায় (বাড়া), মজার মজার (কথা), ঝাঁকে ঝাঁকে (চলা), চোখে চোখে (রাখা), মনে মনে (হাসা), সুরে সুরে (বলা), পথে পথে (হাঁটা)।

অন্যদিকে,
বুঝেসুঝে অনুকার দ্বিত্বশব্দের উদাহরণ।
টং টং ও সাঁ সাঁ ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্বশব্দের উদাহরণ।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
.
নিচের কোনটি ভাববাচ্যের দৃষ্টান্ত?
  1. আমি আগামীকাল বাড়ি ফিরব।
  2. শরতে শিউলি ফোটে।
  3. তুমি কখন এলে?
  4. আমার যাওয়া হলো না।
সঠিক উত্তর:
আমার যাওয়া হলো না।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আমার যাওয়া হলো না।
ব্যাখ্যা
⇒ ভাববাচ্য:
যে বাক্যের ক্রিয়া-বিশেষ্য বাক্যের ক্রিয়াকে নিয়ন্ত্রণ করে, তাকে ভাববাচ্য বলে।
যেমন:
- আমার যাওয়া হলো না।
- কোথা থেকে আসা হলো।

এখানে ‘যাওয়া’ , ‘আসা’ এগুলো হলো ক্রিয়া-বিশেষ্য।  

অন্যদিকে,
• আমি আগামীকাল বাড়ি ফিরব।- বাক্যটি কর্তাবাচ্যের দৃষ্টান্ত।
• শরতে শিউলি ফোটে।-  বাক্যটি কর্তাবাচ্যের দৃষ্টান্ত।
• তুমি কখন এলে?- বাক্যটি কর্তাবাচ্যের দৃষ্টান্ত।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২৩ সংস্করণ)।