পরীক্ষা আর্কাইভ

প্রাইমারি প্রধান শিক্ষক নিয়োগ - ২০২৫

পরীক্ষাপ্রাইমারি প্রধান শিক্ষক নিয়োগ - ২০২৫তারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়12 minutes
মোট প্রশ্ন৩৫
সিলেবাস
পরীক্ষা - ১ বিষয়: বাংলা টপিক: কাজী নজরুল ইসলাম, পঞ্চপান্ডব, হুমায়ূন আহমেদ, হুমায়ুন আজাদ, ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত, নির্মলেন্দু গুণ, প্রমথ চৌধুরী, বিহারীলাল চক্রবর্তী, মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়, মুনীর চৌধুরী, রুদ্র মুহম্মদ শহীদুল্লাহ, শওকত ওসমান, শামসুর রহমান, সুকান্ত ভট্টাচার্য, সুফিয়া কামাল, জহির রায়হান, স্বর্ণকুমারী দেবী, মুক্তিযুদ্ধ ও ভাষা আন্দোলনের সাহিত্যকর্ম, সমসাময়িক সাহিত্য। উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, মাধ্যমিক সাহিত্যপাঠ বই (NCTB ও উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়), বাংলাপিডিয়া ও যেকোনো ভালো গাইড বই।
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

প্রাইমারি প্রধান শিক্ষক নিয়োগ - ২০২৫

প্রাইমারি প্রধান শিক্ষক নিয়োগ - ২০২৫ · তারিখ অনির্ধারিত · ৩৫ প্রশ্ন

.
শওকত ওসমান রচিত উপন্যাস-  
  1. পূর্ণ স্বাধীনতা চূর্ণ স্বাধীনতা
  2. ক্রীতদাসের হাসি
  3. তস্কর লস্কর
  4. কাঁকর মণি
ব্যাখ্যা

শওকত ওসমান রচিত উপন্যাস- ' ক্রীতদাসের হাসি'। 

• 'ক্রীতদাসের হাসি':
- 'ক্রীতদাসের হাসি’ উপন্যাসে শওকত ওসমান স্বৈরাচারী শাসকের অধীনে মানুষের দুঃখ-কষ্ট, অধিকারহীনতা ও সমাজের অন্ধকার বাস্তবতাকে তুলে ধরেছেন।
- আইয়ুব খানের দমনমূলক শাসনব্যবস্থাকে ব্যঙ্গ করেই উপন্যাসটি নির্মিত।
- উপন্যাসটির প্রধান চরিত্র- হাবসি ক্রীতদাস তাতারী, মেহেরজান, এবং আব্বাসীয় খলিফা হারুন-অর-রশিদ।
- এ উপন্যাসে লেখক তাতারীর হাসি এবং মেহেরজানের সঙ্গে তার সম্পর্কের মধ্য দিয়ে সমাজের শোষণ ও বঞ্চনার প্রতীকী উপস্থাপন করেছেন।
--------------------------------------
শওকত ওসমান:
- শওকত ওসমান ছিলেন এক বিশিষ্ট কথাসাহিত্যিক ও প্রাবন্ধিক।  
- তিনি ১৯১৭ সালের ২ জানুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার সবলসিংহপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর আসল নাম ছিল শেখ আজিজুর রহমান।
- নাটক, গল্প, উপন্যাস, প্রবন্ধ, রসাত্মক লেখা থেকে শুরু করে শিশু-কিশোর সাহিত্যে পর্যন্ত তাঁর অবদান ছিল উল্লেখযোগ্য। 

• তাঁর সাহিত্যকর্মের মধ্যে উল্লেখযোগ্য উপন্যাসগুলো হলো:
- জননী;
- ক্রীতদাসের হাসি।

• তাঁর মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস:   
- জাহান্নাম হইতে বিদায়;
- দুই সৈনিক;
- নেকড়ে অরণ্য;
- জলাঙ্গী।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য নাটক:
- আমলার মামলা;
- পূর্ণ স্বাধীনতা চূর্ণ স্বাধীনতা;
- তস্কর লস্কর;
- কাঁকর মণি।

• শওকত ওসমান এর বিখ্যাত গল্প হল: জন্ম যদি তব বঙ্গে;
• আর তাঁর ভাষা আন্দোলনভিত্তিক উপন্যাস : আর্তনাদ।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলাপিডিয়া।

.
হুমায়ূন আহমেদ রচিত 'সৌরভ' উপন্যাসটির পটভূমি-   
  1. মুক্তিযুদ্ধ
  2. ভাষা আন্দোলন
  3. গ্রামীণ জীবন 
  4. ১৯৪৭ এর দেশভাগ 
ব্যাখ্যা

হুমায়ূন আহমেদ রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস- সৌরভ।

• সৌরভ:
- হুমায়ূন আহমেদের মুক্তিযুদ্ধকেন্দ্রিক প্রথম উপন্যাস ‘সৌরভ’।

- উপন্যাসটি ১৯৮৪ সালে প্রকাশিত হয়। 
- উপন্যাসটিতে মুক্তিযুদ্ধের সময়কার ঢাকা শহরের সাধারণ মানুষের ভয়, আতঙ্ক ও দৈনন্দিন বেঁচে থাকার সংগ্রামকে কেন্দ্র করে কাহিনি গড়ে উঠেছে। 
------------------------------------
• হুমায়ূন আহমেদ:
- হুমায়ূন আহমেদ ছিলেন একজন প্রখ্যাত বাংলাদেশি ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, গীতিকার, চলচ্চিত্র পরিচালক এবং শিক্ষাবিদ।
- তিনি বিংশ শতাব্দীর অন্যতম জনপ্রিয় বাঙালি সাহিত্যিক।
- তিনি স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের সাহিত্যে অসামান্য প্রভাব ফেলেছেন।
- তাঁর জনপ্রিয় চরিত্রের মধ্যে রয়েছে হিমু, মিসির আলি এবং শুভ্র।

- তাঁর উল্লেখযোগ্য নাটক:
• আজ রবিবার;
• কোথাও কেউ নেই।

- হুমায়ূন আহমেদের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস:
• সৌরভ;
• জোছনা ও জননীর গল্প;
• শ্যামল ছায়া;
• ১৯৭১;
• অনীল বাগচীর একদিন;
• আগুনের পরশমনি।

- এছাড়া তাঁর উল্লেখযোগ্য উপন্যাসের মধ্যে আছে:
• নন্দিত নরকে;
• শঙ্খনীল কারাগার;
• লীলাবালি;
• বাদশা নামদার।

- দেয়াল হুমায়ূন আহমেদ রচিত সর্বশেষ উপন্যাস।

- তাঁর উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্র:
• আগুনের পরশমণি;
• শ্রাবণ মেঘের দিন এবং
• শ্যামল ছায়া, ইত্যাদি। 

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; 
বাংলাপিডিয়া।

.
ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত সম্পাদিত পত্রিকার নাম-   
  1. মোসলেম ভারত
  2. লহরি 
  3. সওগাত
  4. সংবাদ প্রভাকর
ব্যাখ্যা

‘সংবাদ প্রভাকর’ পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা ও সম্পাদক ছিলেন ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত।

ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত:
- ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত ছিলেন একজন কবি ও সাংবাদিক।
- ১২১৮ বঙ্গাব্দের ২৫ ফাল্গুন (মার্চ ১৮১২) পশ্চিমবঙ্গের চবিবশ পরগনা জেলার কাঞ্চনপল্লী বা কাঁচড়াপাড়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে মধ্যযুগ ও আধুনিক যুগের মিলনকারী কবি হিসেবে পরিচিত।
- 'ভ্রমণকারী বন্ধু' ছিল তাঁর ছদ্মনাম।
- ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত ছিলেন যুগসন্ধিক্ষণের কবি (১৭৬১ – ১৮৬০)।
- তাকে যুগসন্ধিক্ষণের  কবি বলা হয় কারণ তার রচনায় মধ্যযুগের সাহিত্যরীতি ও বিষয়বস্তু যেমন ছিল, তেমনি আধুনিক যুগের প্রভাবও ছিল স্পষ্ট।
- তিনি ছিলেন দুই যুগের মেলবন্ধনের প্রতীক।
- ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত ১৮৩১ সালে সংবাদ প্রভাকর নামক সাপ্তাহিক পত্রিকা প্রকাশ শুরু করেন।
- অল্পদিনের মধ্যেই এটি বন্ধ হলেও ১৮৩৬ সালে পুনরায় প্রকাশিত হয়।
- পরবর্তীতে ১৮৩৯ সালে ‘সংবাদ প্রভাকর’ বাংলা ভাষার প্রথম দৈনিক পত্রিকায় পরিণত হয়।
- এছাড়া ‘সংবাদ প্রভাকর’ ছাড়াও ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত সংবাদ রত্নাবলী, পাষণ্ডপীড়ন ও সংবাদ সাধুরঞ্জন প্রভৃতি পত্রিকাও সম্পাদনা করেছিলেন।
--------------------- 
অন্যদিকে, 
- ‘সওগাত’ পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন- মোহাম্মদ নাসিরউদ্দীন।
- 'মোসলেম ভারত' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন মুহাম্মদ মোজাম্মেল হক,।
- ‘লহরি' পত্রিকার ও সম্পাদক ছিলেন- মুহাম্মদ মোজাম্মেল হক

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা – সৌমিত্র শেখর;
লাল নীল দীপাবলী বা বাঙলা সাহিত্যের জীবনী – হুমায়ুন আজাদ।

.
‘হঠাৎ আলোর ঝলকানি’ কোন ধরনের সাহিত্য?
  1. কাব্যগ্রন্থ
  2. প্রবন্ধ
  3. নাটক
  4. উপন্যাস
ব্যাখ্যা

‘হঠাৎ আলোর ঝলকানি’ বুদ্ধদেব বসুর রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ।  

• ‘হঠাৎ আলোর ঝলকানি’:
- ‘হঠাৎ আলোর ঝলকানি’ প্রবন্ধের প্রেক্ষাপট মূলত তাঁর ব্যক্তিগত জীবনকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে ।
- রচনায় লেখক তাঁর ফেলে আসা শহর, মানুষ ও পরিবেশকে চিত্রিত করেছেন।
- প্রবন্ধে বিশেষভাবে ফুটে উঠেছে লেখকের শৈশব ও কৈশোরের পূর্ববঙ্গ (বর্তমান বাংলাদেশ)-এর স্মৃতি ও দেশভাগের যন্ত্রণা।
- প্রবন্ধটি বাংলা সাহিত্যের আধুনিকতার দৃষ্টিকোণে একটি গুরুত্বপূর্ণ আত্মজীবনীমূলক গদ্য হিসেবে বিবেচিত হয়।
-----------------------------
বুদ্ধদেব বসু:
- বুদ্ধদেব বসু ছিলেন বাঙালি কবি, প্রাবন্ধিক, নাট্যকার, গল্পকার, অনুবাদক, সম্পাদক ও সাহিত্য সমালোচক।
- বুদ্ধদেব বসু ১৯০৮ সালের ৩০ নভেম্বর কুমিল্লায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পরিবারের আদি নিবাস বিক্রমপুরের মালখানগর।
- তিনি কবি হিসেবে উল্লেখযোগ্য হলেও সম্পাদক হিসেবেও সুপরিচিত ছিলেন।
- তাঁর সম্পাদিত ‘কবিতা’ পত্রিকাটি কলকাতা থেকে ১৯৩৫ সালে প্রকাশিত হয়।
- তিনি পঞ্চপান্ডব কবিদের মধ্যকার একজন। 
- তাকে কল্লোল গোষ্ঠীর কবি হিসেবেও অভিহিত করা হয়। 
- ১৮ মার্চ ১৯৭৪ সালে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য প্রবন্ধগ্রন্থের মধ্যে রয়েছে:
- হঠাৎ আলোর ঝলকানি;
- কালের পুতুল;
- সাহিত্যচর্চা;
- স্বদেশ ও সংস্কৃতি;
- সঙ্গ নিঃসঙ্গতা ও রবীন্দ্রনাথ ইত্যাদি। 

উৎস: 
বাংলাপিডিয়া;
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 

.
কাজী নজরুল ইসলাম রচিত উপন্যাস কোনটি?
  1. মাল্যবান
  2. আলেয়া
  3. ঝিলিমিলি
  4. বাঁধনহারা
ব্যাখ্যা

কাজী নজরুল ইসলাম রচিত উপন্যাস- 'বাঁধনহারা'। 

• কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম ছিলেন একজন বাঙালি কবি, ঔপন্যাসিক, গীতিকার, দার্শনিক, এবং বাংলাদেশের জাতীয় কবি।
- তিনি ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ (২৪ মে ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তার ডাকনাম ছিল দুখু মিয়া।
- বাংলা সাহিত্যে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’ নামে পরিচিত।
- ১৯৭২ সালের ২৪ মে কাজী নজরুল ইসলাম তার পরিবারসহ স্বাধীন বাংলাদেশে ফিরে আসেন।
- বাংলা সাহিত্যে তাঁর অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ১৯৭৪ সালের ৯ ডিসেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় তাকে ডক্টরেট (ডি.লিট) প্রদান করে।
- পরবর্তীতে ১৯৭৬ সালের জানুয়ারিতে বাংলাদেশ সরকার তাকে নাগরিকত্ব প্রদান করে।
- এবং ২১ ফেব্রুয়ারি ‘একুশে পদক’ প্রদান করার মধ্য দিয়ে কবিকে সম্মান জানানো হয়।
- ২৯ আগস্ট, ১৯৭৬ সালে (১২ ভাদ্র ১৩৮৩) কবি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
- মৃত্যুর পর জাতীয় কবিকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মসজিদের উত্তর পাশে সমাহিত করা হয়।

• বাঁধনহারা:
- কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম উপন্যাস ‘বাঁধন-হারা' (১৯২৭)।
- এটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম পত্রোপন্যাস।
- এতে ১৮টি পত্র রয়েছে।
- কাজী নজরুল ইসলাম করাচীতে অবস্থানকালে ‘বাধন-হারা' উপন্যাস রচনা শুরু করেন।
- এটি মুসলিম ভারত পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়।
- উপন্যাসের নায়ক নুরুল হুদা।
- অন্যান্য চরিত্রের মধ্যে রয়েছে - রবিউল, রাবেয়া, সােফিয়া, মাহবুবা প্রমুখ।

তাঁর বিখ্যাত উপন্যাস:
- বাঁধনহারা,
- মৃত্যুক্ষুধা ও
- কুহেলিকা।

উল্লেখ্য,
• আলেয়া ও ঝিলিমিলি হচ্ছে- কাজী নজরুল ইসলাম রচিত নাটক।
• মাল্যবান হচ্ছে জীবনানন্দ দাশের রচিত উপন্যাস। 

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা – সৌমিত্র শেখর;
বাংলাপিডিয়া। 

.
বাংলা চলিত গদ্যরীতির প্রবর্তক ছিলেন- 
  1. প্রমথ চৌধুরী 
  2. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর 
  3. রাজা রামমোহন রায় 
  4. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
ব্যাখ্যা

প্রমথ চৌধুরী:
- প্রমথ চৌধুরী ছিলেন একজন বাঙালি প্রাবন্ধিক, কবি এবং লেখক।
- তাকে বাংলা চলিত গদ্যরীতির প্রবর্তক বলা হয়।
- তিনি ১৮৬৮ সালের ৭ আগস্ট যশোরে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতা দুর্গাদাস চৌধুরী ছিলেন জমিদার।
- তাঁর ছদ্মনাম ছিল বীরবল, এবং তিনি নিজেকে “বাংলা সাহিত্যের বীরবল” হিসেবে পরিচয় দিয়েছিলেন।
- তিনি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ভাইয়ের মেয়ে ইন্দ্রাদেবীকে বিয়ে করেন।
- তিনি সবুজপত্র পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।
- পত্রিকাটি ১৯১৪ সালে প্রথম প্রকাশিত হয়।
- তিনি মাসিক সবুজপত্র প্রকাশের মাধ্যমে বাংলা চলিত গদ্যরীতির সূচনা করেন, যা তাঁর জীবনের সর্বোচ্চ কীর্তি হিসেবে বিবেচিত হয়।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনা-
• কাব্যগ্রন্থ: সনেট পঞ্চাশত।
• গল্পগ্রন্থ: নীললোহিত ও চার ইয়ারির কথা।
• প্রবন্ধগ্রন্থ: তেল নুন লাকড়ি ও বীরবলের হালখাতা।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা – সৌমিত্র শেখর;
বাংলাপিডিয়া।

.
'দীপনির্বাণ' উপন্যাসে কোন ইতিহাসের ঘটনা তুলে ধরা হয়েছে?
  1. মুঘল সাম্রাজ্যের উত্থান
  2. ব্রিটিশ আক্রমণ
  3. মুহম্মদ ঘোরীর দিল্লি বিজয়
  4. আকবরের শাসন
ব্যাখ্যা

• রাজপুতদের অন্তর্দ্বন্দ্বের সুযোগে মুহম্মদ ঘোরীর দিল্লি আক্রমণ উপন্যাসে প্রতিফলিত হয়েছে।
------------------------- 
• দীপনির্বাণ নিয়ে কিছু কথা:
- দীপনির্বাণ উপন্যাসটি দ্বাদশ শতকের ভারতের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে লেখা।
- এখানে রাজপুত রাজাদের অন্তর্দ্বন্দ্ব ও মুহম্মদ ঘোরীর দিল্লি আক্রমণ তুলে ধরা হয়েছে।
- এটি স্বর্ণকুমারী দেবীর প্রথম ঐতিহাসিক উপন্যাস। 
- উপন্যাসটি দেশপ্রেম, আত্মত্যাগ ও জাতীয়তাবাদী চেতনায় অনুপ্রাণিত।
------------------
• স্বর্ণকুমারী দেবী:
- স্বর্ণকুমারী দেবী (১৮৫৫-১৯৩২) ছিলেন আধুনিক বাংলা সাহিত্যের প্রথম প্রজন্মের একজন উল্লেখযোগ্য মহিলা সাহিত্যিক।
- স্বর্ণকুমারী দেবী ছিলেন বাংলা সাহিত্যের প্রথম মহিলা উপন্যাসিক।
- তিনি জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়ির সদস্য এবং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বড় বোন ছিলেন।
- স্বর্ণকুমারী দেবী কবি, ঔপন্যাসিক, সঙ্গীতজ্ঞ ও সমাজ সংস্কারক হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেন।
- তিনি ‘দীপনির্বাণ’ নামে প্রথম বাংলা উপন্যাস রচনা করেন, যা তাকে প্রথম বাংলা মহিলা ঔপন্যাসিক হিসেবে পরিচিতি দেয়।
- এছাড়াও কবিতা, নাটক ও প্রবন্ধ লিখেছেন। ‘

• তাঁর অন্যান্য উল্লেখযোগ্য উপন্যাস:
- দীপনির্বাণ;
- ছিন্নমুকুল;
- মালতী;
- মিবাররাজ।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা – সৌমিত্র শেখর;
বাংলাপিডিয়া।

.
‘পেহলাদ' মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত কোন ছোটগল্পের চরিত্র?
  1. প্রাগৈতিহাসিক
  2. দিবারাত্রির কাব্য
  3. পুতুলনাচের ইতিকথা
  4. অতসীমামী 
ব্যাখ্যা

'পেহলাদ' "প্রাগৈতিহাসিক" ছোটগল্পের একটি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র। 

"প্রাগৈতিহাসিক":
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিখ্যাত ছোটগল্প "প্রাগৈতিহাসিক" ছোটগল্পের গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রগুলো হলো- ভিখু, পেহলাদ, পাঁচী ও বসির।
- ভিখু (ডাকাত) ও পেহলাদ হচ্ছে গল্পের প্রধান আকর্ষণ।
- গল্পটি ১৯৩৭ সালে প্রকাশিত হয়।
- এই গল্পটি ভিখু নামের ডাকাত ও তার সঙ্গী পেহলাদের সম্পর্ক এবং তাদের হিংস্র প্রবৃত্তি তুলে ধরে।
- গল্পে লেখক মানুষের ভেতরের প্রাচীন ও পাশবিক প্রবৃত্তিকে ফুটিয়ে তুলেছেন।
- এখানে পেহলাদ সেই আদিমতার প্রতীক হিসেবে কাজ করে।
--------------------------------------
• মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়:
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় ছিলেন একজন প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক।
- তিনি ১৯০৮ সালের ২৯ মে বিহারের সাঁওতাল পরগনার দুমকা শহরে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম প্রবোধকুমার।
- স্নাতক পর্যায়ের পড়াশোনার সময় বিচিত্রা পত্রিকায় তাঁর প্রথম গল্প অতসী মামী (১৯২৮) প্রকাশিত হয়।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য উপন্যাস:
- জননী;
- পদ্মানদীর মাঝি;
- দিবারাত্রির কাব্য;
- পুতুলনাচের ইতিকথা।

• তাঁর ঐতিহাসিক ছোটগল্প হচ্ছে:
- প্রাগৈতিহাসিক,
- সরীসৃপ,
- বৌ,
- সমুদ্রের স্বাদ।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; 
বাংলাপিডিয়া। 

.
শামসুর রাহমান সম্পাদিত পত্রিকা-
  1. দৈনিক পূর্বদেশ
  2. দৈনিক ইত্তেফাক
  3. দৈনিক আজকাল
  4. দৈনিক বাংলা
ব্যাখ্যা

শামসুর রাহমান দৈনিক বাংলা পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।

• শামসুর রাহমান:
-  শামসুর রাহমান ছিলেন একজন বিশিষ্ট কবি ও সাংবাদিক।
- তিনি ১৯২৯ সালের ২৩ অক্টোবর পুরান ঢাকার ৪৬ নম্বর মাহুতটুলীতে জন্মগ্রহণ করেন।
- তার পৈত্রিক বাড়ি ঢাকা জেলার রায়পুর থানার পাড়াতলী গ্রামে। 
- শামসুর রাহমান বাংলা সাহিত্যের দ্বিতীয়ার্ধের অন্যতম প্রধান কবি হিসেবে পরিচিত।
- মুক্তিযুদ্ধকালে তিনি “মজলুম আদিব” ছদ্মনামে লিখতেন।
- তিনি দৈনিক বাংলা পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।

• শামসুর রাহমানের অসংখ্য কাব্যগ্রন্থ রয়েছে।
• উল্লেখযোগ্য কিছু কাব্যগ্রন্থ হলো:
- প্রথম গান, দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে (প্রথম কাব্যগ্রন্থ);
- রৌদ্র করোটিতে;
- বিধ্বস্ত নীলিমা;
- বন্দী শিবির থেকে;
- নিজ বাসভূমে;
- বুক তার বাংলাদেশের হৃদয়;
- এবং উদ্ভট উটের পিঠে চলেছে স্বদেশ। 

• এছাড়া তাঁর শিশুতোষ গ্রন্থ- এলাটিং বেলাটিং।

• তাঁর উপন্যাস:
- অদ্ভুত আঁধার এক;
- অক্টোপাস,
- এলো সে অবেলায়,
- নিয়ত মন্তাজ।

উৎস: 
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; 
বাংলাপিডিয়া।

১০.
“নদী ও নারী” উপন্যাসের রচয়িতা কে? 
  1. হুমায়ূন আহমেদ
  2. হুমায়ুন আজাদ
  3. হুমায়ুন কবির 
  4. রফিক আজাদ 
ব্যাখ্যা

• “নদী ও নারী” হুমায়ুন কবির' রচিত উপন্যাস।

• হুমায়ুন কবির:
- হুমায়ুন কবির ছিলেন একজন ভারতীয় বাঙালি দার্শনিক, লেখক, কবি, রাজনীতিবিদ ও শিক্ষাবিদ।
- হুমায়ুন কবির ১৯০৬ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি ফরিদপুর জেলার কোমরপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর সম্পূর্ণ নাম হুমায়ুন জহিরউদ্দিন আমির-ই-কবির। ১৯৬৯ সালের ১৮ আগস্ট হৃদরোগে তিনি মারা যান।

- হুমায়ুন কবিরের একমাত্র বাংলা উপন্যাস “নদী ও নারী”।
- এটি মূলত পদ্মা নদীর বিশালতা, চরভূমি এবং চরবাসীর জীবন, সম্পর্ক ও টিকে থাকার সংগ্রামকে কেন্দ্র করে লেখা।
- উপন্যাসটি প্রথমে ১৯৪৫ সালে ইংরেজিতে ‘Men and Rivers’ নামে প্রকাশিত হয়।
- পরে ১৯৫২ সালে “নদী ও নারী” নামে বাংলায় অনূদিত হয়।
- উপন্যাসে নতুন জেগে ওঠা চরভূমিতে মানুষের জীবন-সংগ্রাম, প্রেম, সম্পর্ক এবং প্রকৃতির সঙ্গে তাদের মিথস্ক্রিয়ার চিত্রণ করা হয়েছে।

• তার উল্লেখযোগ্য রচনাবলী:
- নদী ও নারী (উপন্যাস);
- ইমানুয়েল কান্ট;
- শরৎ সাহিত্যের মূলতত্ত্ব;
- বাংলার কাব্য (সমালোচনা গ্রন্থ)।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলাপিডিয়া।

১১.
‘বাংলাদেশ' অমিয় চক্রবর্তী রচিত কোন ধরনের রচনা? 
  1. উপন্যাস
  2. কবিতা
  3. কাব্যগ্রন্থ 
  4. গান 
ব্যাখ্যা

‘বাংলাদেশ' অমিয় চক্রবর্তী রচিত একটি কবিতা। 

• অমিয় চক্রবর্তী:
- অমিয় চক্রবর্তী (১০ এপ্রিল, ১৯০১ – ১২ জুন, ১৯৮৬) ছিলেন একজন বিশিষ্ট কবি, গবেষক ও শিক্ষাবিদ।
- তিনি পশ্চিমবঙ্গের হুগলীর শ্রীরামপুরে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি পঞ্চপান্ডবদের মধ্যের একজন।
- অমিয় চক্রবর্তী পাটনা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বি.এ. (১৯২১) পাস করে শান্তিনিকেতনের গবেষণা বিভাগে যোগ দেন।
- পরে ১৯২৬–১৯৩৩ সাল পর্যন্ত তিনি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সাহিত্য সচিব হিসেবে কাজ করেন।  
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ হলো কবিতাবলী এবং তিনি মোট ১৫টি কাব্যগ্রন্থ রচনা করেছেন।
- অমিয় চক্রবর্তীর ইংরেজি ভাষায় ৯টি বই প্রকাশিত হয়েছে।
-  বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় তাঁকে ‘দেশিকোত্তম’ (১৯৬৩) এবং ভারত সরকার ‘পদ্মভূষণ’ (১৯৭০) উপাধিতে ভূষিত করেছে।
- তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ কবিতা রচনা করেন যা তাঁর অনিঃশেষ কাব্যগ্রন্থে সংকলিত আছে।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থগুলোর মধ্যে রয়েছে:
- খসড়া,
- অনিঃশেষ
- এক মুঠো,
- মাটির দেয়াল,
- অভিজ্ঞান বসন্ত ইত্যাদি। 

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলাপিডিয়া।

১২.
"হোক, তবু বসন্তের প্রতি কেন এই তব তীব্র বিমুখতা?"
কহিলাম, "উপেক্ষায় ঋতুরাজে কেন কবি দাও তুমি ব্যথা?"-পঙ্‌ক্তিদ্বয়ের লেখক কে? 
  1. সুকান্ত ভট্টাচার্য
  2. কুসুমকুমারী দাস 
  3. শামসুর রাহমান
  4. সুফিয়া কামাল
ব্যাখ্যা

• কবিতা- তাহারেই পড়ে মনে।
কবি- সুফিয়া কামাল।

"হোক, তবু বসন্তের প্রতি কেন এই তব তীব্র বিমুখতা?"
কহিলাম, "উপেক্ষায় ঋতুরাজে কেন কবি দাও তুমি ব্যথা?"
কহিল সে কাছে সরে আসি-
"কুহেলি উত্তরূ তলে মাঘের সন্ন্যাসী-
গিয়াছে চলিয়া ধীরে পুষ্পশূন্য দিগন্তের পথে
রিক্ত হস্তে! তাহারেই পড়ে মনে, ভুলিতে পারি না কোন মতে।"

- এই পঙ্‌ক্তিদ্বয় সুফিয়া কামালের ‘তাহারেই পড়ে মনে’ কবিতার অংশ।
- কবিতার মূলভাব হলো প্রিয়জন হারানোর গভীর শোক। 
- স্বামীর মৃত্যুর পর কবির মনে এমন দুঃখ জমে আছে যে বসন্তের আগমনও তাকে আনন্দ দিতে পারে না।
- প্রকৃতির সৌন্দর্য তার কাছে অর্থহীন হয়ে ওঠে।
- এই কবিতায় কবির অন্তরের বিষাদ, শূন্যতা ও একাকীত্ব স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে।
- সংলাপধর্মী রীতিতে কবি নিজের চাপা কষ্ট প্রকাশ করেছেন;
- যা প্রিয়জন হারানোর মানবিক বেদনা ও জীবনের চিরন্তন দুঃখকে সহজভাবে তুলে ধরে।
------------------------------------------
সুফিয়া কামাল:
- সুফিয়া কামাল ছিলেন বাংলাদেশের একজন কিংবদন্তি কবি, লেখক, নারী অধিকার কর্মী এবং বাঙালি জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের পথিকৃৎ।
- তিনি ‘জননী সাহসিকা’ নামে পরিচিত।
- কারণ তিনি কেবল সাহিত্যেই নয়, ভাষা আন্দোলন, নারীবাদী সংগ্রাম এবং সামাজিক উন্নয়নের কাজে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন।
- নারী আন্দোলনের নেত্রী হিসেবে তিনি নারীমুক্তি ও সমান অধিকারের জন্য আজীবন সংগ্রাম করেছেন।

• তাঁর  উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- সাঁঝের মায়া;
- উদাত্ত পৃথিবী।

• তাঁর বিখ্যাত গল্প: ‘কেয়ার কাঁটা’। 
- স্মৃতিকথার ক্ষেত্রে কবির উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ- ‘একাত্তরের ডায়েরী’।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলাপিডিয়া। 

১৩.
‘বাতাসে লাশের গন্ধ’- কবিতাটির রচয়িতা কে? 
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. জয় গোস্বামী
  3. রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ
  4. কাজী নজরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা

‘বাতাসে লাশের গন্ধ’ কবিতাটির রচয়িতা- রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ।

• রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ:
- রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ ছিলেন একজন প্রতিবাদী ও রোমান্টিক কবি, গীতিকার এবং সাহিত্যিক।
- তিনি ১৬ অক্টোবর ১৯৫৬ সালে বরিশাল জেলায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল বাগেরহাট জেলার মোংলা উপজেলায়।
- তার প্রকৃত নাম শেখ মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ।
- পরে তিনি ‘রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ’ নামটি গ্রহণ করেন।
- মাত্র ৩৫ বছর বয়সে ২১ জুন ১৯৯১ সালে তাঁর মৃত্যু ঘটে।
- স্বল্পায়ু জীবনে তিনি একাধিক কাব্যগ্রন্থ এবং অসংখ্য গান রচনা করেছেন।

রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহর উল্লেখযোগ্য কবিতা হলো:
- ‘বাতাসে লাশের গন্ধ’,
- ‘উপদ্রুত উপকূলে’,
- ‘ফিরে চাই স্বর্ণগ্রাম’,
- ‘মানুষের মানচিত্র’,
- ‘ছোবল’,
- ‘দিয়েছিলে সকল আকাশ’,
- ‘মৌলিক মুখোশ’ ইত্যাদি।

- এছাড়া, তিনি ‘ভালো আছি ভালো থেকো’সহ অর্ধশতাধিক গান রচনা করেছেন ও সুর দিয়েছেন।
- তার কাব্যনাট্য ‘বিষ বিরিক্ষের বীজ’ও উল্লেখযোগ্য।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলাপিডিয়া।

১৪.
‘প্রকৃতির কবি’ বলা হয় কাকে?
  1. জীবনানন্দ দাশ
  2. সুকান্ত ভট্টাচার্য
  3. বিষ্ণু দে
  4. বুদ্ধদেব বসু
ব্যাখ্যা

জীবনানন্দ দাশকে ‘প্রকৃতির কবি’ উপাধি দিয়েছিলেন - বুদ্ধদেব বসু।

• জীবনানন্দ দাশ:
- জীবনানন্দ দাশ ছিলেন বিংশ শতাব্দীর একজন প্রধান আধুনিক বাঙালি কবি, লেখক ও প্রাবন্ধিক।
- জীবনানন্দ দাশ ছিলেন একজন কালসচেতন ও ইতিহাসচেতন কবি। 
- জীবনানন্দ দাশের জন্ম ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে।
- তাঁর পিতা সত্যানন্দ দাশ এবং মা কুসুমকুমারী দাশ দুজনেই সাহিত্যচর্চার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। 
- জীবনানন্দ দাশের প্রথম কাব্য রচিত হয়েছে নজরুল, সত্যেন্দ্রনাথ ও মোহিতলালের কাব্যধারার অনুসরণে।   
- কিন্তু তাঁর দ্বিতীয় কাব্য তিনি নিজস্ব মৌলিক ধারায় রচনা করেছেন। 
- রবীন্দ্রনাথের নিবিড় প্রকৃতিচেতনা তাঁর কবিতায় গভীরভাবে প্রকাশ পেয়েছে। 
- তাঁকে বলা হয় ‘রূপসী বাংলার কবি’, কারণ তাঁর কাব্যে বাংলার প্রকৃতি, মাটি, মানুষ ও স্মৃতিমগ্ন সৌন্দর্য গভীরভাবে প্রকাশ পেয়েছে। 
- এছাড়াও তাঁকে বলা হয়:
• ‘ধূসরতার কবি’,
• ‘নিঃসঙ্গতার কবি’,
• ‘তিমির-হননের কবি’,
• পরাবাস্তবতার কবি,
• বিপন্ন মানবতার নীলকন্ঠ কবি,
• শুদ্ধতম কবি, 
এবং বুদ্ধদেব বসু তাঁকে উপাধি দিয়েছিলেন ‘প্রকৃতির কবি’।
- ১৯৫৪ সালের ২২ অক্টোবর কলকাতায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা – সৌমিত্র শেখর;
বাংলাপিডিয়া।

১৫.
‘আঠারো বছর বয়স’ কবিতাটি কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত?
  1. ঘুম নেই
  2. ছাড়পত্র
  3. অভিযান
  4. পূর্বাভাস
ব্যাখ্যা

‘আঠারো বছর বয়স’ কবিতাটি ছাড়পত্র কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত।

• ছাড়পত্র:
- ছাড়পত্র কাব্যগ্রন্থটি সুকান্ত ভট্টাচার্যের রচিত।
- এটি তার মৃত্যুর পর ১৯৪৮ সালে প্রকাশিত হয়।
- এই কাব্যগ্রন্থের কবিতাগুলো তিনি ১৯৪৩ থেকে ১৯৪৭ সালের মধ্যে রচনা করেছিলেন।
- গ্রন্থটি মূলত মার্কসবাদী চেতনা দ্বারা প্রভাবিত এবং গণমানুষের দুঃখ-কষ্ট, শোষণ ও সাম্প্রদায়িক সহিংসতার বিরুদ্ধে প্রতিক্রিয়ার প্রকাশ ঘটায়।
- এছাড়াও এতে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ এবং ১৯৪৩ সালের দুর্ভিক্ষের প্রতিফলনও দেখা যায়।
- 'ছাড়পত্র' কাব্যগ্রন্থটি সুকান্তকে বিদ্রোহী কবি হিসেবে পরিচিতি দেয়।
- এই কাব্যগ্রন্থটির উল্লেখযোগ্য কবিতাগুলোর মধ্যে আছে:
- ‘আঠারো বছর বয়স’,
- ‘বোধন’,
- ‘মজুরদের ঝড়’,
- ‘ঠিকানা’,
- এবং ‘কলম’।
------------------------------------------
সুকান্ত ভট্টাচার্য:
- সুকান্ত ভট্টাচার্য ১৯২৬ জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি কিশোর কবি, মাকর্সবাদী কবি এবং মানবতার কবি হিসেবে পরিচিত।
- তাঁর কাব্যে পৃথিবীর মানুষের, শোষিত মানুষের জীবন-যন্ত্রণা, বিক্ষোভ ও বিদ্রোহের কথা উচ্চারিত হয়েছে।
- নজরুলের পরে সুকান্তের কবিতায় সবচেয়ে বেশি বিদ্রোহের বাণী লক্ষ্য করা যায়।
- সুকান্ত ভট্টাচার্য ১৯৪৭ সালের ১৩ মে মাত্র ২০ বছর বয়সে যক্ষ্মা রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন।

• সুকান্ত ভট্টাচার্য রচিত কাব্যগ্রন্থগুলো:
- পূর্বাভাস,
- ঘুম নেই,
- ছাড়পত্র,
- অভিযান।

উৎস: 
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর;
বাংলাপিডিয়া।

১৬.
‘রক্তাক্ত প্রান্তর’ কোন গ্রন্থের অনুসরণে লেখা হয়েছে?  
  1. বিষাদ সিন্ধু
  2. পদ্মা নদীর মাঝি
  3. মেঘনাদবধ কাব্য
  4. মহাশ্মশান
ব্যাখ্যা

• ‘রক্তাক্ত প্রান্তর’: 
- মুনীর চৌধুরীর উল্লেখযোগ্য নাটক ‘রক্তাক্ত প্রান্তর’ ১৭৬১ সালের পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে রচিত।
- নাটকটি কায়কোবাদের ‘মহাশ্মশান’ কাব্য থেকে অনুপ্রাণিত।
- এই নাটকে তিনি যুদ্ধবিরোধী চেতনা, সাম্প্রদায়িকতার ঊর্ধ্বে মানবিক প্রেম এবং যুদ্ধের ভয়াবহ পরিণতি তুলে ধরেছেন।
- নাটকের মূল বার্তা হলো—যুদ্ধ কখনো প্রকৃত বিজয় আনে না;
- বরং এটি মানবজীবনের জন্য এক গভীর ট্র্যাজেডি।
------------------------------------------
মুনীর চৌধুরী:
- মুনীর চৌধুরী ছিলেন একজন প্রখ্যাত বাংলাদেশি শিক্ষাবিদ, নাট্যকার, সাহিত্যসমালোচক, ভাষাবিজ্ঞানী ও বুদ্ধিজীবী।
- তিনি তৎকালীন ঢাকা জেলার মানিকগঞ্জ শহরে ২৭ নভেম্বর ১৯২৫ সালে জন্মগ্রহণ করেন।
- ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা রাখার কারণে তিনি পাকিস্তান সরকারের হাতে বন্দী হন।
- কারাগারে থাকাকালীনই তাঁর বিখ্যাত নাটক ‘কবর’ (১৯৫৩) রচনা করেন।
- ১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বর পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর সহযোগী আল-বদর বাহিনী তাঁকে তাঁর বাড়ি থেকে অপহরণ করে এবং সেদিনই তাঁকে হত্যা করা হয়।

• মুনীর চৌধুরীর বিখ্যাত নাটক:
- রক্তাক্ত প্রান্তর,
- চিঠি,
- কবর,
- দণ্ডকারণ্য। 

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলাপিডিয়া। 

১৭.
ভাষা আন্দোলনভিত্তিক প্রথম কবিতা কোনটি?
  1. স্মৃতিস্তম্ভ
  2. বর্ণমালা আমার দুঃখিনী বর্ণমালা
  3. কাঁদতে আসিনি, ফাঁসির দাবি নিয়ে এসেছি
  4. একুশের গান
ব্যাখ্যা

• কবিতা- কাঁদতে আসিনি ফাঁসির দাবি নিয়ে এসেছি।
• কবি- মাহবুব-উল-আলম চৌধুরী।

"যারা আমার মাতৃভাষাকে নির্বাসন দিতে
চেয়েছে তাদের জন্যে
আমি ফাঁসির দাবি করছি।
যাদের আদেশে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে তাদের জন্য
ফাঁসি দাবি করছি
যারা এই মৃতদেহের উপর দিয়ে
ক্ষমতার আসনে আরোহণ করেছে
সেই বিশ্বাসঘাতকদের জন্য।
আমি ওদের বিচার দেখতে চাই।
----------------------------------------------
মাহবুব উল আলম চৌধুরী:
- মাহবুব উল আলম চৌধুরী (১৯২৭–২০০৭) ছিলেন একজন কবি, সাংবাদিক ও ভাষা আন্দোলনের সক্রিয় কর্মী।
- তাঁর বিখ্যাত কবিতা ‘কাঁদতে আসিনি, ফাঁসির দাবি নিয়ে এসেছি’।
- তিনি ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় ভাষা আন্দোলনের মিছিলে পুলিশের গুলিতে ছাত্র হত্যার প্রতিবাদে এই কবিতাটি লিখেন। 
- এই কবিতাটি একুশে ফেব্রুয়ারি নিয়ে লেখা প্রথম কবিতা হিসেবে স্বীকৃত।
- কবিতাটিতে শোক নয়, বরং অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ, ন্যায়বিচারের দাবি চাওয়া হয়েছে।
- এছাড়া, ভাষা শহীদদের আত্মত্যাগের চেতনাও কঠোরভাবে প্রকাশ পেয়েছে।
-------------------------------
উল্লেখ্য, 
- ভাষা আন্দোলনভিত্তিক উল্লেখযোগ্য কিছু কবিতা হলো-
- মহাদেব সাহার একুশের গান,
- শামসুর রাহমানের বর্ণমালা আমার দুঃখিনী বর্ণমালা,
- আলাউদ্দিন আল আজাদের স্মৃতিস্তম্ভ।
- এই কবিতাগুলো ভাষা শহিদদের আত্মত্যাগকে স্মরণ করে এবং মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষার সংগ্রামকে তুলে ধরে। 

উৎস: 
বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস — মাহবুবুল আলম;
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা – সৌমিত্র শেখর;
বাংলাপিডিয়া।

১৮.
জহির রায়হান রচিত ভাষা আন্দোলনভিত্তিক ছোটগল্প কোনটি? 
  1. প্রথম বধ্যভূমি
  2. একুশের গল্প
  3. মৌন নয়
  4. রক্তাক্ত প্রান্তর
ব্যাখ্যা

“একুশের গল্প” জহির রায়হান রচিত ভাষা আন্দোলনভিত্তিক প্রথম সার্থক ছোটগল্প।

“একুশের গল্প” 
- জহির রায়হান রচিত ‘একুশের গল্প’- এর পটভূমি হচ্ছে ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন।
- জহির রায়হান 'একুশের গল্পে' এক তরুণের আত্মত্যাগের গল্প বলতে চেয়েছেন।
- গল্পে দেখা যায় যে, চার বছর আগে ১৯৫২ সালে হাইকোর্টের মোড়ে মাথায় গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পুলিশ তপুকে নিয়ে গিয়েছিল।
- দীর্ঘ চার বছর পর একটি কঙ্কালের মাথার খুলিতে গুলির ছিদ্র দেখে তার বন্ধু রাহাত বুঝতে পারে সেটিই তপু।
- কঙ্কালের মধ্যে তপুকে নতুন করে খুঁজে পাওয়ার এক ধরনের আকাঙ্ক্ষা জাগে রাহাতের মনে।
- কিন্তু আনন্দ ও আকাঙ্ক্ষার সঙ্গেই গভীর বেদনা ও হৃদয়ের রক্তক্ষরণের মতো যন্ত্রণা যুক্ত হয়।
- এই অনুভূতিগুলো সরাসরি না প্রকাশ করে লেখক ইঙ্গিত ও ব্যঞ্জনার মাধ্যমে প্রকাশ করেছেন। 

জহির রায়হান:
- জহির রায়হান (১৯৩৫–১৯৭২) ছিলেন বাংলা সাহিত্য ও চলচ্চিত্রের এক বহুমুখী প্রতিভা।
- তিনি ঔপন্যাসিক, গল্পকার, সাংবাদিক এবং চলচ্চিত্র নির্মাতা হিসেবে অসাধারণ অবদান রেখে গেছেন।
- জহির রায়হান বাংলা সাহিত্য ও চলচ্চিত্রের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র।
- তাঁর লেখনী ও নির্মাণ বাঙালির ইতিহাস, সংস্কৃতি ও সংগ্রামকে নতুন মাত্রায় তুলে ধরেছে।
- মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি নিখোঁজ হন। 
- তাঁর অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি একুশে পদক ও স্বাধীনতা পুরস্কার লাভ করেন।

• তাঁর উপন্যাসসমূহ:
- শেষ বিকেলের মেয়ে,
- হাজার বছর ধরে (যার জন্য তিনি আদমজী পুরস্কার পান),
- আরেক ফাল্গুন,
- বরফ গলা নদী,
- তুলাসিন্ধু সেতুবন্ধ,
- অপূর্ব, ব্যারিকেড,
- ক্ষয়িষ্ণু,
- ডায়মন্ড নেকলেস ও
- আমি কেন সিরাজী।

• তাঁর গল্পগ্রন্থগুলোর মধ্যে রয়েছে:
- সোনার হরিণ,
- মহামৃত্যু,
- জন্মান্তর,
- ম্যাসাকার এবং
- মানুষের ঘরবাড়ি।

• তাঁর পরিচালিত চলচ্চিত্র:
- কখনও আসেনি,
- কাঁচের দেয়াল,
- জীবন থেকে নেয়া,
- বেহুলা,
- সঙ্গম।

• তাঁর পরিচালিত তথ্যচিত্র: স্টপ জেনোসাইড।
• সূর্য গ্রহণ: এটি জহির রায়হানের লেখা ভাষা আন্দোলনভিত্তিক গল্প।

অন্যদিকে,
• 'মৌন নয়': শওকত ওসমানের লেখা ভাষা আন্দোলনের পটভূমির গল্প।
• 'প্রথম বধ্যভূমি': রাবেয়া খাতুনের ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপটের গল্প।
• ‘রক্তাক্ত প্রান্তর': মুনীর চৌধুরীর উল্লেখযোগ্য নাটক যা ১৭৬১ সালের পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে রচিত।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলাপিডিয়া।

১৯.
বিহারীলাল চক্রবর্তীকে ভোরের পাখি উপাধি দিয়েছেন- 
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. রাজশেখর বসু
  3. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  4. বুদ্ধদেব বসু 
ব্যাখ্যা

বাংলা সাহিত্যে 'ভোরের পাখি' বলা হয়- বিহারীলাল চক্রবর্তীকে।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাকে এ উপাধি দিয়েছেন। 

বিহারীলাল চক্রবর্তী:
- বিহারীলাল চক্রবর্তী বাংলা সাহিত্যের একজন কবি এবং গীতিকার ছিলেন।
- তিনি রবীন্দ্রনাথের কাব্যগুরু হিসেবে ও পরিচিত।
- বিহারীলাল চক্রবর্তী বাংলা সাহিত্যের প্রথম গীতি-কবি হিসেবে পরিচিত।
- ১৮৩৫ সালের ২১ মে কলকাতায় তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পূর্বপুরুষদের আদি নিবাস ছিল ফরাসডাঙ্গায় এবং তাঁদের আদি পারিবারিক পদবি ছিল ‘চট্টোপাধ্যায়’।
- বাংলা সাহিত্যে প্রথম বিহারীলাল গীতি কবিতা শুনিয়েছে বলে তাকে বাংলা গীতি কবিতার ভোরের পাখি বলা হয়।
- রবীন্দ্রনাথ বিহারীলাল চক্রবর্তীকে 'ভোরের পাখি' উপাধি দিয়েছেন। 
- বিহারীলাল চক্রবর্তীকে 'ভোরের পাখি' বলা হয় কারণ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর মনে করতেন যে তাঁর গীতিকবিতা বাংলা কবিতার নবজাগরণের সূচনা করেছিল, ঠিক যেমন ভোরের প্রথম পাখির ডাক নতুন দিনের আগমনী বার্তা বহন করে।
- এছাড়াও তাঁর কাব্যধারা ছিল বিশুদ্ধ গীতিকাব্য। 

• বিহারীলালের শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ- সারদামঙ্গল।

• বিহারীলালের রচনাবলির মধ্যে রয়েছে:
- সঙ্গীতশতক;
- বন্ধুবিয়োগ;
 - প্রেমপ্রবাহিণী;
- নিসর্গসন্দর্শন;
- বঙ্গসুন্দরী;
- সারদামঙ্গল;
- নিসর্গসঙ্গীত;
- সাধের আসন এবং
- ধূমকেতু।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলাপিডিয়া।

২০.
'আমাকে কি মাল্য দেবে দাও'- পঙ্‌ক্তিটি কে লিখেছেন??  
  1. আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ 
  2. আল মাহমুদ 
  3. মহাদেব সাহা 
  4. নির্মলেন্দু গুণ 
ব্যাখ্যা

• কবিতা- আমাকে কি মাল্য দেবে দাও।
• কবি- নির্মলেন্দু গুণ।

"তোমার পায়ের নিচে আমিও অমর হব,
 আমাকে কী মাল্য দেবে দাও।
এই নাও আমার যৌতুক, এক বুক রক্তের প্রতিজ্ঞা।
ধুয়েছি অস্থির আত্মা শ্রাবণের জলে, আমিও প্লাবন হব,
শুধু চন্দনচর্চিত হাত একবার বোলাও কপালে।
আমি জলে
স্থলে
অন্তরীক্ষে উড়াব গাণ্ডীব,
তোমার পায়ের কাছে নামাবো পাহাড়।
আমিও অমর হব, আমাকে কী মাল্য দেবে দাও"।
---------------------------------------
‘আমাকে কি মাল্য দেবে দাও’:
- ‘আমাকে কি মাল্য দেবে দাও’ কবিতাটি নির্মলেন্দু গুণের রচনা।
- এটি মূলত ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন ও একুশে ফেব্রুয়ারির প্রেক্ষাপটে রচিত।
- কবিতায় শহীদদের আত্মত্যাগ, বীরত্ব ও স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা প্রকাশ পেয়েছে।
- কবিতায় “মাল্য” প্রদানের মাধ্যমে শহীদদের বীরত্বকে সম্মান জানানো হয়েছে। 
-------------------------
নির্মলেন্দু গুন:
-  নির্মলেন্দু গুন বাংলাদেশের অন্যতম জনপ্রিয় কবি।
- তিনি ১৯৪৫ সালে নেত্রকোণার বারহাট্টার কাশবন গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর ডাকনাম ছিল রতন।
- তাকে “বাংলাদেশের কবিদের কবি” হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়।
- তাঁর কবিতায় প্রেম, বিপ্লব, গ্রামীণ মানুষের জীবনযাত্রা, সমাজের বাস্তবতা এবং রাজনৈতিক চেতনা গভীরভাবে প্রকাশ পেয়েছে। 
- কবিতা ছাড়াও তিনি অনুবাদকৃত কবিতা এবং ছোটগল্প রচনা করেছেন।

• তাঁর প্রধান কাব্যগ্রন্থের মধ্যে রয়েছে-
- প্রেমাংশুর রক্ত চাই,
- না প্রেমিক না বিপ্লবি,
- চাষাভূষার কাব্য,
- নিশিকাব্য।

• তাঁর অনুবাদকৃত কবিতার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো-
- রক্ত আর ফুলগুলি,
- তোহু,
- রাজনৈতিক কবিতা।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য ছোটগল্প- 
-  অন্তর্জাল,
- আপনদলের মানুষ।
---------------------------------
উল্লেখ্য, 
- আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ লিখিত ভাষা আন্দোলনভিত্তিক কবিতা হচ্ছে- চিঠি।
- আল মাহমুদ লিখিত ভাষা আন্দোলনভিত্তিক কবিতা হচ্ছে- একুশের কবিতা।
- মহাদেব সাহা লিখিত ভাষা আন্দোলনভিত্তিক কবিতা হচ্ছে- একুশের গান। 

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
দৈনিক ইনকিলাব;
বাংলাপিডিয়া। 

২১.
‘সাতটি তারার তিমির’ জীবনানন্দ দাশ রচিত কী ধরনের সাহিত্যকর্ম?
  1. উপন্যাস
  2. কাব্যগ্রন্থ
  3. নাটক
  4. প্রবন্ধ
ব্যাখ্যা

‘সাতটি তারার তিমির’ জীবনানন্দ দাশ রচিত কাব্যগ্রন্থ। 

• জীবনানন্দ দাশ:
- জীবনানন্দ দাশ ছিলেন বিংশ শতাব্দীর একজন প্রধান আধুনিক বাঙালি কবি, লেখক ও প্রাবন্ধিক।
- জীবনানন্দ দাশের জন্ম ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে।
- তাঁর পিতা সত্যানন্দ দাশ এবং মা কুসুমকুমারী দাশ দুজনেই সাহিত্যচর্চার সঙ্গে জড়িত ছিলেন।
- তাঁকে বলা হয় ‘রূপসী বাংলার কবি’, কারণ তাঁর কাব্যে বাংলার প্রকৃতি, মাটি, মানুষ ও স্মৃতিমগ্ন সৌন্দর্য গভীরভাবে প্রকাশ পেয়েছে।   

• তার রচিত বিখ্যাত উপন্যাসগুলো হলো:
- কল্লাণী,
- মাল্যবান,
- বিভা,
- সুতীর্থ ,
- চারজন।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য প্রবন্ধ- কবিতার কথা।

তার উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থের মধ্যে রয়েছে:
- ‘সাতটি তারার তিমির’,
- ‘বনলতা সেন’,
- ‘রূপসী বাংলা’,
- ‘ধূসর পাণ্ডুলিপি',
- ‘ঝরাপালক’,
- বেলা অবেলা কালবেলা,
- রূপসী বাংলা।
• তাঁর কাব্যগ্রন্থ বনলতা সেন ১৯৫৩ সালে নিখিলবঙ্গ রবীন্দ্রসাহিত্য সম্মেলনে পুরস্কৃত হয়। 

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা – সৌমিত্র শেখর;
বাংলাপিডিয়া।

২২.
শামসুর রহমানকে কোন উপাধিতে অভিহিত করা হয়?
  1. তিমির হননের কবি 
  2. প্রকৃতির কবি
  3. ধূসরতার কবি 
  4. নাগরিক কবি
ব্যাখ্যা

শামসুর রহমানকে নাগরিক কবি উপাধিতে অভিহিত করা হয়।

• শামসুর রাহমান:

- শামসুর রাহমান ছিলেন একজন বিশিষ্ট কবি ও সাংবাদিক।
- শামসুর রাহমান বাংলা সাহিত্যের দ্বিতীয়ার্ধের অন্যতম প্রধান কবি হিসেবে পরিচিত।
- তিনি ১৯২৯ সালের ২৩ অক্টোবর পুরান ঢাকার ৪৬ নম্বর মাহুতটুলীতে জন্মগ্রহণ করেন।
- শামসুর রাহমানের জন্ম তার নানাবাড়িতে।
- তার পৈত্রিক বাড়ি ঢাকা জেলার রায়পুর থানার পাড়াতলী গ্রামে।
- তার পিতা মুখলেসুর রহমান চৌধুরী এবং মাতা আমেনা বেগম।
- শামসুর রাহমানের ডাক নাম ছিল- বাচ্চু।
- শামসুর রাহমানকে প্রধানত “নাগরিক কবি” বলা হয়।
- কারণ তার কবিতায় নগর জীবনের প্রতিচ্ছবি ফুটে ওঠে।
- মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি “মজলুম আদিব” ছদ্মনামে লিখতেন।
-  তিনি দৈনিক বাংলা পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।
- শামসুর রাহমান তাঁর কবিতায় সাধারণ মানুষ কীভাবে জীবন যাপন করে, শহরের মানুষদের দৈনন্দিন সমস্যা, সুখ–দুঃখ ও সমাজের নানা ঘটনা তুলে ধরেছেন।
- এই অনন্য কবি-কীর্তি ও সত্যনিষ্ঠ কাব্যচর্চার জন্য তাকে বাংলা একাডেমি পুরস্কার এবং একুশে পদক দিয়ে সম্মানিত করা হয়েছে।
- তিনি ২০০৬ সালের ১৭ আগস্ট ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন।

অন্যদিকে, 
- জীবনানন্দ দাশকে বলা হয়- তিমির হননের কবি, প্রকৃতির কবি ও ধূসরতার কবি। 

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলাপিডিয়া। 

২৩.
‘একাত্তরের বর্ণমালা’ গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. এম. আর. আখতার মুকুল
  2. জীবনানন্দ দাশ
  3. শামসুল হুদা 
  4. শামসুর রাহমান
ব্যাখ্যা

• ‘একাত্তরের বর্ণমালা’ গ্রন্থের রচয়িতা- এম. আর. আখতার মুকুল। 
- এটি মূলত ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ ও তৎকালীন সময়ের প্রেক্ষাপটে লেখা, যা সময় ও ইতিহাস সচেতনতার প্রতিফলন।

• এম. আর. আখতার মুকুল:
- এম. আর. আখতার মুকুল (১৯২৯-২০০৪) একজন প্রখ্যাত সাংবাদিক, লেখক।
- তিনি বগুড়া জেলার চিংগাসপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। 
- তিনি মুক্তিযুদ্ধের সময় স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে প্রচারিত জনপ্রিয় অনুষ্ঠান চরমপত্র-এর কথক।
- মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ের স্মৃতি ও ইতিহাসকে কেন্দ্র করে তিনি একাত্তরের বর্ণমালা নামের একটি গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থ রচনা করেছেন।
- এছাড়া তার উল্লেখযোগ্য গ্রন্থগুলোর মধ্যে রয়েছে:
• রূপালী বাতাস,
• আমরাই বাঙ্গালী,
• আমাকে কথা বলতে দিন,
• খালেদা থেকে খন্দকার,
• আমি বিজয় দেখেছি, ইত্যাদি।
- দীর্ঘদিন ক্যান্সারের সঙ্গে লড়াই করার পর ২০০৪ সালে তিনি মারা যান।

উল্লেখ্য,
- একাত্তরের রণাঙ্গন গ্রন্থের রচয়িতা হচ্ছে- শামসুল হুদা। 

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা – সৌমিত্র শেখর;
বাংলাপিডিয়া।

২৪.
'কাশবনের কন্যা’ উপন্যাসের পটভূমি কোন অঞ্চলের জীবনকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে?
  1. ফরিদপুর অঞ্চলের জেলে সমাজ
  2. খুলনা অঞ্চলের মৎস্য ব্যবসায়ী
  3. বরিশাল অঞ্চলের জেলে সম্প্রদায়
  4. নোয়াখালী অঞ্চলের কৃষক সমাজ
ব্যাখ্যা

শামসুদ্দিন আবুল কালামের কাশবনের কন্যা’ উপন্যাসটি- বরিশাল অঞ্চলের জেলে সম্প্রদায়ের গ্রামীণ জীবন ও তাদের বাস্তব অভিজ্ঞতাকে কেন্দ্র করে রচিত।
-------------------------------------
কাশবনের কন্যা’:
- কাশবনের কন্যা’ উপন্যাসে বরিশাল এলাকার জেলে মানুষের সাধারণ গ্রামীণ জীবন তুলে ধরা হয়েছে।
- এখানে তাদের দৈনন্দিন কাজকর্ম, সুখ-দুঃখ, ভালোবাসা, ঝগড়া এবং প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের গভীর সম্পর্ক দেখা যায়।
- কাশবন, নদী-নালা ও গ্রামের পরিবেশ গল্পকে আরও জীবন্ত করে তুলেছে।
- উপন্যাসে শামসুদ্দীন আবুল কালাম সহজ ভাষা ও বরিশালের মুখের ভাষা ব্যবহার করে গ্রামীণ জীবন ও মানুষের অনুভূতিকে সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন।

- উপন্যাসের প্রধান চরিত্র জোবেদা একজন সাহসী ও প্রথাবিরোধী নারী, যিনি সমাজের পুরনো নিয়ম মানতে চান না। 
- বন্ধ্যাত্বের কারণে সমাজ তাকে অবহেলা করলেও তিনি হাল না ছেড়ে নিজের জীবন নতুনভাবে গড়তে চান।
- শিকদারের সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্কের মধ্য দিয়ে গ্রামীণ মানুষের আবেগ, অভিমান ও ভালোবাসার সূক্ষ্ম প্রকাশ ঘটেছে।
---------------------------- 
শামসুদ্দিন আবুল কালাম:
- শামসুদ্দিন আবুল কালাম ১৯২৬ সালে বরিশালের নলছিটি থানার কামদেবপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম আবুল কালাম শামসুদ্দীন।
- ১৯৯৭ সালে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। 

- শামসুদ্দীন আবুল কালামের  রচনাসমূহ হলো:

• তাঁর বিখ্যাত উপন্যাস:
- পুঁই ডালিমের কাব্য, 
- কাশবনের কন্যা,
- ভাওয়াল গড়ের উপকথা,
- আলমনগরের উপকথা,
- কাঞ্চনমালা,
- জায়জঙ্গল,
- সমুদ্র বাসর,
- কাঞ্চনগ্রাম।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য গল্পগ্রন্থ:
- অনেক দিনের আশা,
- ঢেউ,
- পথ জানা নাই,
- দুই হৃদয়ের তীর,
- শাহের বানু।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞেসা- ড. সৌমিত্র শেখর;
বাংলাপিডিয়া।

২৫.
নিম্নের কোন সাহিত্যিক ‘পঞ্চকবি’র অন্তর্ভুক্ত নয়? 
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. শওকত ওসমান 
  3. নজরুল ইসলাম
  4. অতুলপ্রসাদ সেন
ব্যাখ্যা

শওকত ওসমান ‘পঞ্চকবি’র অন্তর্ভুক্ত নন।

পঞ্চকবি: 
-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম, দ্বিজেন্দ্রলাল রায়, অতুলপ্রসাদ সেন ও রজনীকান্ত সেন— এ পাঁচজন কবি ও গীতিকারকে ‘পঞ্চকবি’ বলা হয়।
- শওকত ওসমান এদের অন্তর্ভুক্ত নয়। 
- এদের প্রত্যেকেই দেশপ্রেম, মানবপ্রেম ও আধ্যাত্মিক ভাবনায় অনুপ্রাণিত সঙ্গীত রচনা করেছেন।
- রবীন্দ্রনাথের গানে রয়েছে দার্শনিকতা;
- নজরুলের গানে পাওয়া যায় বিদ্রোহের ছোঁয়া;
- দ্বিজেন্দ্রলালের গানে বিরাজমান ঐতিহাসিক চেতনা;
- অতুলপ্রসাদের গানে রয়েছে ভক্তি ও প্রেমের অপূর্ব সংমিশ্রণ ;
- আর রজনীকান্তের গানে ছিল গভীর আধ্যাত্মিকতা ও আত্মসমর্পণবোধ।
- এদের সম্মিলিত অবদানই বাংলা কাব্যসঙ্গীতকে এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাতে সাহায্য করেছে। 
------------------------------------
উল্লেখ্য,
- শওকত ওসমান:
- শওকত ওসমান ছিলেন এক বিশিষ্ট কথাসাহিত্যিক ও প্রাবন্ধিক।  
- তিনি ১৯১৭ সালের ২ জানুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার সবলসিংহপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর আসল নাম ছিল শেখ আজিজুর রহমান।

• তাঁর সাহিত্যকর্মের মধ্যে উল্লেখযোগ্য উপন্যাসগুলো হলো:
- জননী;
- ক্রীতদাসের হাসি।

• তাঁর মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস:   
- জাহান্নাম হইতে বিদায়;
- দুই সৈনিক;
- নেকড়ে অরণ্য;
- জলাঙ্গী।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য নাটক:
- আমলার মামলা;
- পূর্ণ স্বাধীনতা চূর্ণ স্বাধীনতা;
- তস্কর লস্কর;
- কাঁকর মণি।

• শওকত ওসমান এর বিখ্যাত গল্প হল: জন্ম যদি তব বঙ্গে;
• আর তাঁর ভাষা আন্দোলনভিত্তিক উপন্যাস : আর্তনাদ।

উৎস:
বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস – মাহবুবুল আলম;
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলাপিডিয়া। 

২৬.
'জ্যোৎস্না ও জননীর' গল্প কী ধরনের সাহিত্যকর্ম?
  1. ভাষা আন্দোলনভিত্তিক উপন্যাস 
  2. ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানভিত্তিক উপন্যাস 
  3. মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস 
  4. কোনটিই নয় 
ব্যাখ্যা

• 'জ্যোৎস্না ও জননীর গল্প' হুমায়ূন আহমেদ এর রচিত মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপন্যাস।

• 'জ্যোৎস্না ও জননীর গল্প':
- হুমায়ূন আহমেদের ‘জোছনা ও জননীর গল্প’ উপন্যাসের প্রেক্ষাপট হলো বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ।
- গল্পটি একটি সাধারণ গ্রাম্য পরিবারের জীবনকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়েছে।
- ‘জোছনা ও জননীর গল্প’ উপন্যাসে মাওলানা ইরতাজউদ্দিন কাশেমপুরী, তাঁর ভাই শাহেদ, শাহেদের স্ত্রী আসমানী ও মেয়ে রুনি— এই চরিত্রগুলো মাধ্যমে লেখক যুদ্ধের বাস্তবতা, ত্যাগ এবং সাধারণ মানুষের সংগ্রাম ফুটিয়ে তুলেছেন।
- লেখক ইতিহাস ও কল্পনার মিশ্রণে মুক্তিযুদ্ধকালীন মানুষের সংগ্রাম ও স্বাধীনতার চেতনা উপস্থাপন করেছেন।
-----------------------------------------
হুমায়ূন আহমেদ:
- হুমায়ূন আহমেদ ছিলেন একজন প্রখ্যাত বাংলাদেশি ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, গীতিকার, চলচ্চিত্র পরিচালক এবং শিক্ষাবিদ।
- তিনি বিংশ শতাব্দীর অন্যতম জনপ্রিয় বাঙালি সাহিত্যিক।
- তিনি স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের সাহিত্যে অসামান্য প্রভাব ফেলেছেন।
- তাঁর জনপ্রিয় চরিত্রের মধ্যে রয়েছে হিমু, মিসির আলি এবং শুভ্র।
- তাঁর মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস:
• অনীল বাগচীর একদিন,
• সৌরভ,
•  শ্যামল ছায়া,
• আগুনের পরশমণি,
• ১৯৭১। 

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলাপিডিয়া।

২৭.
পঞ্চপাণ্ডবদের মধ্যে কোন সাহিত্যিক 'তন্বী' কাব্যগ্রন্থটি লিখেছেন?
  1. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  2. বুদ্ধদেব বসু 
  3. বিষ্ণু দে
  4. অমীয় চক্রবর্তী 
ব্যাখ্যা

পঞ্চপান্ডবের মধ্যে সুধীন্দ্রনাথ দত্ত রচিত কাব্যগ্রন্থ হচ্ছে-  তন্বী। 

সুধীন্দ্রনাথ দত্ত:
-  সুধীন্দ্রনাথ দত্ত ছিলেন কবি, প্রাবন্ধিক ও পত্রিকা সম্পাদক।
- তিনি পঞ্চপান্ডবদের একজন। 
- ১৯০১ সালের ৩০ অক্টোবর কলকাতার হাতীবাগানে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
-  সুধীন্দ্রনাথ দত্ত ত্রিশের দশকের রবীন্দ্রকাব্যধারার বিরোধী হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেন। 
- ফরাসি কবি মালার্মের প্রতীকী কাব্যধারার প্রভাব তার কবিতায় দেখা যায়।
- তার কবিতায় মূলত ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্য, মননশীলতা ফুটে উঠে। 
- সুধীন্দ্রনাথ দত্ত বহুসংখ্যক কাব্যগ্রন্থ রচনা করলেও কোন উপন্যাস রচনা করেননি। 
- তিনি বাংলা গদ্যের আধুনিক রূপের প্রবর্তক হিসেবেও পরিচিত।
- ১৯৬০ সালের ২৫ জুন কলকাতায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ হচ্ছে: 
- তন্বী,
- অর্কেস্ট্রা,
- ক্রন্দসী,
- উত্তরফাল্গুনী,
- সংবর্ত,
- দশমী।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য গদ্যগ্রন্থ হচ্ছে: 
- স্বগত,
- কুলায়,
- কালপুরুষ।
• তাঁর অনুবাদগ্রন্থ হচ্ছে: প্রতিধ্বনি। 

অন্যদিকে, 
• বুদ্ধদেব বসু রচিত উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ- নাম রেখেছি কোমল গান্ধার। 
• বিষ্ণু দে রচিত উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ-
- উর্বশী ও আর্টেমিস;
- চোরাবালি ইত্যাদি। 
• অমীয় চক্রবর্তী রচিত উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ- অনিঃশেষ। 

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলাপিডিয়া। 

২৮.
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কবি কাজী নজরুল ইসলামকে ডি.লিট.ডিগ্রি প্রদান করে-
  1. ১৯৭৬ সাল
  2. ১৯৭২ সাল
  3. ১৯৭৪ সাল
  4. ১৯৫২ সাল
ব্যাখ্যা

বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৭৪ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় তাঁকে সম্মানসূচক ডি.লিট প্রদান করে।

কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম ছিলেন একজন বাঙালি কবি, ঔপন্যাসিক, গীতিকার, দার্শনিক, এবং বাংলাদেশের জাতীয় কবি।
- তিনি ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ (২৪ মে ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- কাজী নজরুল ইসলামের পিতা কাজী ফকির আহমদ ছিলেন মসজিদের ইমাম।
- তিনি রবীন্দ্রনাথের অনুকরণমুক্ত কবিতা রচনায় বিশেষ অবদান রেখেছেন।
- সাহিত্যকর্ম ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে নজরুল পরাধীনতা, সাম্রাজ্যবাদ, উপনিবেশবাদ, মৌলবাদ, সাম্প্রদায়িকতা এবং শোষণের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করেছেন।
- এই কারণে ইংরেজ সরকার তাঁর কিছু গ্রন্থ ও পত্রিকা নিষিদ্ধ করেছে এবং তাঁকে কারাদণ্ড দণ্ডিতও করেছে।
- কাজী নজরুল ইসলামের প্রধান পাঁচটি নিষিদ্ধ গ্রন্থ হলো- যুগবাণী, বিষের বাঁশি, ভাঙার গান, প্রলয় শিখা এবং চন্দ্রবিন্দু।
- ১৯৭৬ সালের জানুয়ারিতে বাংলাদেশ সরকার তাকে নাগরিকত্ব প্রদান করে।
- এবং ২১ ফেব্রুয়ারি ‘একুশে পদক’ প্রদান করার মধ্য দিয়ে কবিকে সম্মান জানানো হয়।
- ২৯ আগস্ট, ১৯৭৬ সালে (১২ ভাদ্র ১৩৮৩) কবি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
- মৃত্যুর পর জাতীয় কবিকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মসজিদের উত্তর পাশে সমাহিত করা হয়।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা – সৌমিত্র শেখর;
প্রথম আলো; 
বাংলাপিডিয়া। 

২৯.
কোন সাহিত্যিককে 'কবিদের কবি' বলা হয়?   
  1. জসীম উদ্‌দীন 
  2. কাজী নজরুল ইসলাম
  3. নির্মলেন্দু গুণ 
  4. নুরুন্নেসা খাতুন 
ব্যাখ্যা

নির্মলেন্দু গুণ:
- নির্মলেন্দু গুণ একজন প্রখ্যাত ও জনপ্রিয় বাংলাদেশী কবি।
- তিনি ১৯৪৫ সালে নেত্রকোণার বারহাট্টার কাশবন গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- কবিতার পাশাপাশি তিনি গদ্য, ভ্রমণকাহিনী এবং ছবি আঁকার জন্য বিখ্যাত।
- তার কবিতায় প্রেম, শ্রেণী-সংগ্রাম ও স্বৈরাচারবিরোধী ভাব গভীরভাবে ফুটে উঠে।
- ১৯৭০ সালে তার প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘প্রেমাংশুর রক্ত চাই’ প্রকাশিত হয়।
- এই গ্রন্থের হুলিয়া কবিতা বিশেষভাবে জনপ্রিয়তা পায়।
- কবির রচিত স্বাধীনতা, এই শব্দটি কীভাবে আমাদের হলো- কবিতাটি এতই জনপ্রিয় যে তা মাধ্যমিক পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
- তাছাড়া, ষাটের দশক থেকে তার সহজ ভাষায় লিখা কবিতা তরুণ কবিদের গভীরভাবে প্রভাবিত করত। 
- এজন্য তাকে ‘কবিদের কবি’ বলা হয়।
- তিনি ১৯৮২ সালে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার, ২০০১ সালে একুশে পদক, ২০১৬ সালে স্বাধীনতা পুরস্কার লাভ করেন।

অন্যদিকে, 
- জসিম উদ্দিনকে বলা হয়- পল্লীকবি।
- কাজী নজরুল ইসলামকে বলা হয়- বিদ্রোহী কবি।
- নুরুন্নেসা খাতুনকে বলা হয়- সাহিত্য সরস্বতী।
 
উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা – সৌমিত্র শেখর;
দৈনিক ইনকিলাব। 

৩০.
'ভারতী' পত্রিকার নারী সম্পাদক ছিলেন-
  1. মৈত্রেয়ী দেবী
  2. আশাপূর্ণা দেবী
  3. স্বর্ণকুমারী দেবী
  4. কুসুমকুমারী দাশ
ব্যাখ্যা

• ‘ভারতী’ পত্রিকা:
- স্বর্ণকুমারী দেবী ছিলেন ‘ভারতী’ পত্রিকার নারী সম্পাদক।
- তিনি ১২৯১ থেকে ১৩০১ বঙ্গাব্দ পর্যন্ত প্রায় এক যুগ ধরে পত্রিকাটির সম্পাদনা করেন।
- 'ভারতী’ পত্রিকার সম্পাদক হিসাবে তিনি সাহিত্য ও নারী জাগরণে অবদান রেখেছেন।
- ‘ভারতী’ পত্রিকা ঠাকুর পরিবারের পারিবারিক পত্রিকা হিসেবে ১৮৭৭ সালে চালু হয়।
- প্রথমে এটি দ্বিজেন্দ্রনাথ ঠাকুর সম্পাদনা করেছিলেন।
- পরবর্তীতে জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুরের পরিকল্পনায় এটি একটি মাসিক পত্রিকা হিসেবে নিয়মিত প্রকাশিত হতে থাকে।
---------------------------------------
স্বর্ণকুমারী দেবী:
- স্বর্ণকুমারী দেবী ছিলেন আধুনিক বাংলা সাহিত্যের প্রথম প্রজন্মের একজন উল্লেখযোগ্য মহিলা সাহিত্যিক।
- স্বর্ণকুমারী দেবী ছিলেন বাংলা সাহিত্যের প্রথম মহিলা উপন্যাসিক।
- তিনি জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়ির সদস্য এবং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বড় বোন ছিলেন।
- স্বর্ণকুমারী দেবী কবি, ঔপন্যাসিক, সঙ্গীতজ্ঞ ও সমাজ সংস্কারক হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেন।
- তিনি ‘দীপনির্বাণ’ নামে প্রথম বাংলা উপন্যাস রচনা করেন, যা তাকে প্রথম বাংলা মহিলা ঔপন্যাসিক হিসেবে পরিচিতি দেয়।
- এছাড়াও তিনি বহু কবিতা, নাটক ও প্রবন্ধ লিখেছেন। 

• তাঁর অন্যান্য উল্লেখযোগ্য উপন্যাস:
- দীপনির্বাণ;
- ছিন্নমুকুল;
- মালতী;
- মিবাররাজ।

অন্যদিকে,
- মৈত্রেয়ী দেবী -‘মঙ্গলা’ উপন্যাসের রচয়িতা।
- আশাপূর্ণা দেবী - ‘প্রথম প্রতিশ্রুতি’, ‘সুবর্ণলতা’, ‘বকুল কথা’-র লেখিকা।
- কুসুমকুমারী দাশ - তাঁর রচিত বিখ্যাত কবিতা আমাদের দেশে হবে সেই ছেলে কবে।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা – সৌমিত্র শেখর;
বাংলাপিডিয়া।

৩১.
শওকত ওসমানের “আর্তনাদ” উপন্যাসটি কিসের পটভূমিতে রচিত? 
  1. ভাষা আন্দোলন
  2. স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন
  3. গ্রামীণ জীবন
  4. গোয়েন্দা কাহিনী 
ব্যাখ্যা

শওকত ওসমানের “আর্তনাদ” উপন্যাসটি  ভাষা আন্দোলনের পটভূমিতে রচিত।

• “আর্তনাদ”:
- ঔপন্যাসিক শওকত ওসমানের আর্তনাদ (১৯৮৫) উপন্যাসটি ভাষা আন্দোলনকে কেন্দ্র করে রচিত হয়েছে। 
- এতে পূর্ব পাকিস্তানের স্বাধীনচেতা বাঙালি মধ্যবিত্ত ও পশ্চিম পাকিস্তানের ধর্মনির্ভর শাসকগোষ্ঠীর আদর্শিক দ্বন্দ্ব ফুটে উঠেছে।
- একুশের চেতনার মধ্য দিয়ে সমাজের ভাঙন ও নতুন চেতনার উদয় উপন্যাসে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
- উপন্যাসের কাহিনী পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের ভিন্ন চিন্তাধারা, ধর্মীয় রক্ষণশীলতা বনাম প্রগতিশীলতার দ্বন্দ্ব এবং এর ফলে সৃষ্ট সামাজিক ও রাজনৈতিক অস্থিরতা ঘিরে আবর্তিত হয়েছে।
- উপন্যাসটি একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের ভিত্তিপ্রস্তর হিসেবে কাজ করে।
--------------------------------------------
শওকত ওসমান:
- শওকত ওসমান ছিলেন এক বিশিষ্ট কথাসাহিত্যিক ও প্রাবন্ধিক।  
- তিনি ১৯১৭ সালের ২ জানুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার সবলসিংহপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর আসল নাম ছিল শেখ আজিজুর রহমান।
- নাটক, গল্প, উপন্যাস, প্রবন্ধ, রসাত্মক লেখা থেকে শুরু করে শিশু-কিশোর সাহিত্যে পর্যন্ত তাঁর অবদান ছিল উল্লেখযোগ্য।
- সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে বিশেষ অবদানের জন্য তিনি বহু পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন- 
- বাংলা একাডেমি পুরস্কার,
- আদমজী সাহিত্য পুরস্কার,
- পাকিস্তান সরকারের প্রেসিডেন্ট পুরস্কার,
- একুশে পদক,
- মাহবুবউল্লাহ ফাউন্ডেশন পুরস্কার,
- মুক্তধারা সাহিত্য পুরস্কার,
- স্বাধীনতা দিবস।
- দীর্ঘ দিন সাহিত্যচর্চার পর তিনি ১৯৯৮ সালে ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
দৈনিক জনকন্ঠ;
বাংলাপিডিয়া। 

৩২.
ভাষা-আন্দোলনভিত্তিক নাটক কোনটি?
  1. নিঃশব্দে যাত্রা
  2. নরকে লাল গোলাপ 
  3. কবর
  4. একুশের গান 
ব্যাখ্যা

ভাষা-আন্দোলনভিত্তিক নাটক হচ্ছে- কবর। 

• ‘কবর’ নাটক:
- মুনীর চৌধুরীর ‘কবর’ নাটকের মূল বিষয়বস্তু হচ্ছে- ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন।
- নাটকে দেখানো হয়েছে কিভাবে পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী ভাষাশহীদদের লাশ গুম করার ষড়যন্ত্র করে।
- নাটকের ঘটনাগুলো একটি কবরস্থানের আশেপাশকে ঘিরে আবর্তিত হয়েছে।
- একজন অসৎ নেতা ও তার দলবল শহীদদের মরদেহ লুকানোর পরিকল্পনা করলে একটি পাগল ভাষাশহীদদের আত্মার প্রতিরূপ হিসেবে এই ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ায়।
- এটি শুধু ভাষা আন্দোলনের গল্প নয়, বরং অন্যায় ও অত্যাচারের বিরুদ্ধে বাঙালির চিরন্তন প্রতিরোধের চিত্র।
- এই নাটকটি মুনীর চৌধুরী জেলে বসে লিখে আর জেলেই নাটকটি মঞ্চায়িত হয়। 
--------------------------------------------
মুনীর চৌধুরী:
- মুনীর চৌধুরী ছিলেন একজন প্রখ্যাত বাংলাদেশি শিক্ষাবিদ, নাট্যকার, সাহিত্যসমালোচক, ভাষাবিজ্ঞানী ও বুদ্ধিজীবী।
- তিনি তৎকালীন ঢাকা জেলার মানিকগঞ্জ শহরে ২৭ নভেম্বর ১৯২৫ সালে জন্মগ্রহণ করেন।
- ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা রাখার কারণে তিনি পাকিস্তান সরকারের হাতে বন্দী হন।
- কারাগারে থাকাকালীনই তাঁর বিখ্যাত নাটক ‘কবর’ (১৯৫৩) রচনা করেন।
- ১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বর পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর সহযোগী আল-বদর বাহিনী তাঁকে তাঁর বাড়ি থেকে অপহরণ করে এবং সেদিনই তাঁকে হত্যা করা হয়।

অন্যদিকে, 
- নিঃশব্দে যাত্রা ও নরকে লাল গোলাপ হচ্ছে আলাউদ্দিন আল আজাদ রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক নাটক। 
- একুশের গান মহাদেব সাহা রচিত ভাষা আন্দোলনভিত্তিক কবিতা। 

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলাপিডিয়া। 

৩৩.
সেলিনা হোসেন রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস-  
  1. ফেরারী সূর্য
  2. যাত্রা
  3. হাঙর নদী গ্রেনেড
  4. ওঙ্কার
ব্যাখ্যা

সেলিনা হোসেন রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস- ‘হাঙর নদী গ্রেনেড’।

• ‘হাঙর নদী গ্রেনেড’:
- সেলিনা হোসেনের ‘হাঙর নদী গ্রেনেড’ একটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস।
- এটি ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে গ্রামীণ জীবনের চিত্র তুলে ধরে।
- উপন্যাসে একটি মায়ের দেশপ্রেম এবং সন্তানের জন্য ত্যাগের গল্প বলা হয়েছে;
- যেখানে মা তার সন্তানকে বাঁচাতে নিজের একমাত্র সন্তানকে উৎসর্গ করেন।
- এটি মুক্তিযুদ্ধকালীন সামাজিক ও রাজনৈতিক বাস্তবতার গুরুত্বপূর্ণ দলিল হিসেবে বিবেচিত। 
-----------------------------------
সেলিনা হোসেন:
- সেলিনা হোসেন বাংলাদেশের একজন বিশিষ্ট ঔপন্যাসিক, গল্পকার ও গবেষক।
- সেলিনা হোসেন ১৪ জুন, ১৯৪৭ সালে রাজশাহী শহরে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস লক্ষ্মীপুর জেলার হাজিরপাড়া গ্রামে। 
- তার রচনায় ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ, নারী ও সমাজের জীবনচিত্র উঠে এসেছে।
- তিনি বাংলা একাডেমি ও বাংলাদেশ শিশু একাডেমির মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব পালন করেছেন।

• সেলিনা হোসেনের উল্লেখযোগ্য উপন্যাসের মধ্যে রয়েছে:
- ‘হাঙর নদী গ্রেনেড’,
- নিরন্তর ঘণ্টাধ্বনি, 
- ‘যাপিত জীবন’,
- ‘নীল ময়ূরের যৌবন’,
- ‘জ্যোস্নায় সূর্যজ্বালা’,
- ‘পদশব্দ’,
- ‘গায়ত্রী সন্ধ্যা’ (তিন খণ্ড),
- ‘ক্ষরণ’,
- ‘কাঁটাতারে প্রজাপতি’,
- ‘পোকামাকড়ের ঘরবসতি’।

অন্যদিকে, 
- ফেরারী সূর্য রাবেয়া খাতুন রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস।
- যাত্রা শওকত আলী রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস।
- ওঙ্কার আহমদ ছফা রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলাপিডিয়া। 

৩৪.
কাজী নজরুল ইসলামের 'প্রলয়োল্লাস' কবিতাটি কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত?
  1. চক্রবাক
  2. অগ্নিবীণা 
  3. দোলনচাঁপা
  4. বিষের বাঁশী
ব্যাখ্যা

• 'প্রলয়োল্লাস' কবিতাটি কাজী নজরুল ইসলামের 'অগ্নিবীণা' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত।

• অগ্নিবীণা: 
- কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ।
- এই কাব্যের সবচেয়ে জনপ্রিয় কবিতা হলো বিদ্রোহী, যার জন্য মূলত তাকে ‘বিদ্রোহী কবি’ হিসেবে আখ্যা দেয়া হয়।
- কাব্যগ্রন্থের প্রথম কবিতা হলো প্রলয়োল্লাস।
- নজরুল তাঁর কাব্যগ্রন্থটি বিপ্লবী বারীন্দ্রকুমার ঘোষকে উৎসর্গ করেছেন।

- অগ্নিবীণা তে মোট ১২টি কবিতা রয়েছে। এগুলো হলো:
• প্রলয়োল্লাস, 
• বিদ্রোহী,
• রক্তাম্বর-ধারিণী মা,
• আগমণী,
• ধূমকেতু,
• কামাল পাশা,
• আনোয়ার,
• রণভেরী,
• শাত-ইল-আরব,
• খেয়াপারের তরণী,
• কোরবানী,
• মহররম।
---------------------------------
কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম ছিলেন একজন বাঙালি কবি, ঔপন্যাসিক, গীতিকার, দার্শনিক, এবং বাংলাদেশের জাতীয় কবি।
- তিনি ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ (২৪ মে ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তার ডাকনাম ছিল দুখু মিয়া।
- বাংলা সাহিত্যে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’ নামে পরিচিত।
• নজরুলের বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ হলো —
- অগ্নিবীণা,
- বিষের বাঁশি,
- চক্রবাক,
- প্রলয় শিখা,
- দোলনচাঁপা,
- ও ভাঙার গান।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য গল্পগ্রন্থ:
- শিউলিমালা,
- বেদনার দান ও
- পদ্মগোখরা।

• তাঁর বিখ্যাত নাটক:
- আলেয়া,
- ঝিলিমিলি,
- মধুমালা ও
- পুতুলের বিয়ে।

• তাঁর বিখ্যাত উপন্যাস:
- বাঁধনহারা,
- মৃত্যুক্ষুধা ও
- কুহেলিকা।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা – সৌমিত্র শেখর;
জাতীয় তথ্য বাতায়ন;
বাংলাপিডিয়া। 

৩৫.
জহির রায়হান পরিচালিত চলচ্চিত্র নয় কোনটি?
  1. কাঁচের দেয়াল
  2. বেহুলা
  3. সঙ্গম 
  4. দুই দুয়ারী 
ব্যাখ্যা

জহির রায়হান পরিচালিত চলচ্চিত্র নয়- দুই দুয়ারী। 

• জহির রায়হান:
- জহির রায়হান (১৯৩৫–১৯৭২) ছিলেন বাংলা সাহিত্য ও চলচ্চিত্রের এক বহুমুখী প্রতিভা।
- তিনি ঔপন্যাসিক, গল্পকার, সাংবাদিক এবং চলচ্চিত্র নির্মাতা হিসেবে অসাধারণ অবদান রেখে গেছেন।
- জহির রায়হান বাংলা সাহিত্য ও চলচ্চিত্রের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র।
- তাঁর লেখনী ও নির্মাণ বাঙালির ইতিহাস, সংস্কৃতি ও সংগ্রামকে নতুন মাত্রায় তুলে ধরেছে।
- মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি নিখোঁজ হন। 
- তাঁর অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি একুশে পদক ও স্বাধীনতা পুরস্কার লাভ করেন।

• তাঁর পরিচালিত চলচ্চিত্র:
- কখনও আসেনি,
- কাঁচের দেয়াল,
- জীবন থেকে নেয়া,
- বেহুলা,
- সঙ্গম।
• তাঁর পরিচালিত তথ্যচিত্র: স্টপ জেনোসাইড।

উল্লেখ্য, 
• দুই দুয়ারী হুমায়ূন আহমেদ পরিচালিত একটি পারিবারিক চলচ্চিত্র। 

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
দৈনিক সমকাল; 
বাংলাপিডিয়া।