পরীক্ষা আর্কাইভ

বাংলাবিদ (সাহিত্য)

পরীক্ষাবাংলাবিদ (সাহিত্য)তারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়07 minutes
মোট প্রশ্ন১৪
সিলেবাস
পরীক্ষা - ১০: টপিক: বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগের লেখকগণ শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, জহির রায়হান, তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়, দীনবন্ধু মিত্র, হাসান আজিজুল হক, হাসান হাফিজুর রহমান, হুমায়ুন আজাদ, হুমায়ূন আহমেদ, কাজী মোতাহার হোসেন, কামিনী রায়, কালীপ্রসন্ন সিংহ, কুসুমকুমারী দাশ, কায়কোবাদ, গোলাম মোস্তফা, চণ্ডীচরণ মুনশী, জাহানারা ইমাম, দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার, দ্বিজেন্দ্রলাল রায়, রফিক আজাদ, হুমায়ুন কবির, হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়, সোমেন চন্দ, হরপ্রসাদ শাস্ত্রী, সুকান্ত ভট্টাচার্য, সুকুমার রায়, সুধীন্দ্রনাথ দত্ত, সৈয়দ আলী আহসান, সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী, রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ।। উৎস: ষষ্ঠ থেকে উচ্চ-মাধ্যমিক শ্রেণি পর্যন্ত বাংলা সাহিত্যপাঠ বোর্ড বই [NCTB ও উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়], যেকোনো একজন ভালো একাডেমিক লেখকের বই; বাংলাপিডিয়া; বাজারে প্রচলিত যেকোনো ভালো গাইড বই।[গাইড বই থেকে পড়ার ক্ষেত্রে কনফিউজিং বিষয়গুলো ক্রসচেক করে পড়া উত্তম।] [এই টপিকের উপর কোন ভিডিও লেকচার নাই]
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলাবিদ (সাহিত্য)

বাংলাবিদ (সাহিত্য) · তারিখ অনির্ধারিত · ১৪ প্রশ্ন

.
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস নয় কোনটি ?
  1. পণ্ডিত মশাই
  2. দেনা পাওনা
  3. শেষের কবিতা 
  4. শেষ প্রশ্ন
ব্যাখ্যা

শেষের কবিতা শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস নয়। এটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের একটি উপন্যাস। 

শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- তিনি বাংলা সাহিত্যের একজন অমর কথাশিল্পী।
- জন্ম: ১৮৭৬ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর, হুগলি জেলার দেবানন্দপুরে।
- তাঁর উপন্যাসের মূল বিষয় হচ্ছে পল্লীর জীবন ও সমাজ।
- ব্যক্তি জীবনের মন ও চেতনার ওপর সমাজ ও সংস্কারের প্রভাব তিনি গভীরভাবে তুলে ধরেছেন।
- ব্যক্তির ইচ্ছা ও মুক্তি প্রায়শই সমাজ কর্তৃক নিয়ন্ত্রিত হওয়ায় তাঁকে রক্ষণশীল বলা হয়।
- নারীর প্রতি সামাজিক নির্যাতন ও তাদের বঞ্চিত জীবনের চিত্রায়ণে তিনি বিপ্লবী লেখক, বিশেষত গ্রামের অবহেলিত ও বঞ্চিত নারীর প্রতি তাঁর মমত্ববোধ ও শ্রদ্ধা অতুলনীয়।
- সামাজিক বৈষম্য, কুসংস্কার ও শাস্ত্রীয় অনাচারের বিরুদ্ধে তিনি উচ্চকণ্ঠ।
- বার্মায় বসবাসকালে আঁকা তাঁর ‘মহাশ্বেতা’ অয়েল পেইন্টিং একটি বিখ্যাত চিত্রকর্ম।
- মৃত্যু: ১৯৩৮ সালের ১৬ জানুয়ারি, কলকাতা।

রচিত উপন্যাসসমূহ:
- বড়দিদি,
- বিরাজ বৌ,
- পণ্ডিত মশাই,
- পরিণীতা,
- পল্লী সমাজ,
- বামুনের মেয়ে,
- দেনা পাওনা,
- পথের দাবী,
- শেষ প্রশ্ন,
- দেবদাস,
- চরিত্রহীন,
- দত্তা,
- গৃহদাহ,
- বিপ্রদাস, ইত্যাদি

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলাপিডিয়া।

.
রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ কী ধরনের কবি হিসেবে পরিচিত?
  1. গণমানুষের কবি
  2. প্রতিবাদী কবি
  3. নাগরিক কবি
  4. মার্কসবাদী কবি
ব্যাখ্যা

রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ প্রতিবাদী কবি হিসেবে পরিচিত। 

রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ:
- জন্ম: ১৯৫৬ সালের ১৬ অক্টোবর, বরিশাল।
- পৈতৃক নিবাস: বাগেরহাট জেলার মংলা থানার সাহেবের মেঠ গ্রাম।
- প্রকৃত নাম: শেখ মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ; পরে নিজেই ‘রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ’ নাম গ্রহণ করেন।
- ছাত্রজীবনেই প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ: ‘উপদ্রুত উপকূল’ (১৯৭৯), ‘ফিরে চাই স্বর্ণগ্রাম’ (১৯৮১)।
- কবিতায় বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠা ও প্রতিবাদের সুর প্রতিফলিত হওয়ায় তিনি একজন প্রতিবাদী কবি হিসেবে পরিচিত।

রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহর অন্যান্য উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- ছোবল,
- গল্প,
- দিয়েছিলে সকল আকাশ,
- মৌলিক মুখোশ,
- একগ্লাস অন্ধকার। 

অন্যদিকে,
ক) দিলওয়ারকে গণমানুষের কবি বলা হয়। 
গ) শামসুর রাহমানকে নাগরিক কবি বলা হয়। 
ঘ) সুকান্ত ভট্টাচার্য বাংলা সাহিত্যের মার্কসবাদী ভাবধারার প্রতিবাদী ও প্রগতিশীল চেতনার কবি বলা হয়। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলাপিডিয়া। 

.
দীনবন্ধু মিত্র রচিত প্রহসন নয় কোনটি?
  1. জামাই বারিক
  2. সধবার একাদশী
  3. বৈকুন্ঠের খাতা
  4. বিয়ে পাগলা বুড়ো
ব্যাখ্যা

বৈকুন্ঠের খাতা হল ১৮৯৭ খ্রীস্টাব্দে প্রকাশিত একটি প্রহসনধর্মী বাংলা নাটক। এটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচনা করেন।

দীনবন্ধু মিত্র:
- দীনবন্ধু মিত্র পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার চৌবেড়িয়া গ্রামে এক দরিদ্র পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
- কলেজ জীবনে তিনি ঈশ্বর গুপ্তের প্রভাব থেকে সংবাদ প্রভাকর, সাধুরঞ্জন প্রভৃতি পত্রিকায় কবিতা লেখা শুরু করেন।
- তাঁর শ্রেষ্ঠ নাটক হলো ‘নীলদর্পণ’, যা তৎকালীন সমাজে বিশেষ আলোড়ন সৃষ্টি করে এবং কৃষকদের নীলবিদ্রোহে উদ্দীপনা যোগায়।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত ১৮৬১ সালে A Native ছদ্মনামে Nil Darpan or The Indigo Planting Mirror নামে নাটকটি অনুবাদ করেন। 

জনপ্রিয় কবিতা:
- সুরধুনী কাব্য (১ম ও ২য় খন্ড),
- দ্বাদশ কবিতা। 

প্রহসন:
- সধবার একাদশী,
- বিয়ে পাগলা বুড়ো,
- জামাই বারিক। 

নাটক:
- নীলদর্পণ,
- লীলাবতী,
- নবীন তপস্বিনী,
- কমলে কামিনী। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলাপিডিয়া। 

.
‘অনল প্রবাহ’ কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. কালীপ্রসন্ন সিংহ
  2. সোমেন চন্দ
  3. দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
  4. সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী
ব্যাখ্যা

‘অনল প্রবাহ’ কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা হচ্ছে সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী। 

অনল প্রবাহ:
- সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজীর রচিত মুসলিম জাগরণমূলক কাব্য।
- ১৯০০ সালে প্রকাশিত হয়।
- এটি তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ এবং প্রকাশিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ব্রিটিশ সরকার তা বাজেয়াপ্ত করেছিল।
- প্রথম সংস্করণে মোট নয়টি কবিতা ছিল, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য: অনল প্রবাহ, তুর্যধ্বনি, মূর্ছনা, বীর-পূজা, অভিভাষণ, মরক্কো সংকটে।

সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী:
- সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী একজন লেখক, বাগ্মী ও কৃষক নেতা।
- জন্ম: ১৮৮০ সালের ১৩ জুলাই, সিরাজগঞ্জ জেলা।
- তাঁর নামের সঙ্গে ‘সিরাজী’ উপাধি যুক্ত।

রচিত কাব্যগ্রন্থসমূহ:
- অনল প্রবাহ,
- উদ্বোধন,
- নব উদ্দীপনা,
- স্পেন বিজয় কাব্য,
- আকাঙ্ক্ষা,
- উচ্ছ্বাস,
- সঙ্গীত সঞ্জীবনী,
- প্রেমাঞ্জলি। 

প্রবন্ধসমূহ:
- স্বজাতি প্রেম,
- তুর্কি নারী জীবন,
- স্পেনীয় মুসলান সভ্যতা। 

ভ্রমণ কাহিনী:
- তুরস্ক ভ্রমণ। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

.
কোনটি দ্বিজেন্দ্রলাল রায় রচিত ঐতিহাসিক নাটক?
  1. কৃষ্ণকুমারী
  2. প্রায়শ্চিত্ত
  3. রক্তাক্ত প্রান্তর
  4. সাজাহান 
ব্যাখ্যা

সাজাহান দ্বিজেন্দ্রলাল রায় রচিত একটি ঐতিহাসিক নাটক। 

সাজাহান:
- সাজাহান নাটকের রচয়িতা দ্বিজেন্দ্রলাল রায়। 
- এর প্রকাশকাল ১৯০৯ সালে। 
- এটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক ঐতিহাসিক নাটক হিসেবে গণ্য।
- সাজাহান নাটকের বিষয়বস্তু ছিলো মোগল সম্রাট সাজাহানের জীবন কাহিনি। 
- উল্লেখযোগ্য গান: ‘ধনধান্য পুষ্পে ভরা আমাদের এই বসুন্ধরা’, যা নাটকের অংশ।

দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
- জন্ম: ১৯ জুলাই ১৮৬৩, নদীয়া জেলার কৃষ্ণনগরে।
- বাংলা সমবেত কণ্ঠসঙ্গীতের প্রবর্তক।
- বাংলা নাটকে প্রথম দ্বন্দ্বমূলক চরিত্র সৃষ্টি করেছেন।

নাটকসমূহ:
- ঐতিহাসিক নাটক: সাজাহান, মেবার পতন, নূরজাহান, প্রতাপসিংহ, তারাবাঈ, সিংহল বিজয়, তাপসী
- রোমান্টিক নাটক: সীতা, ভীষ্ম, সোহরাব-রুস্তম
- সামাজিক নাটক: পরপারে, বঙ্গনারী।

অন্যদিকে,
- প্রায়শ্চিত্ত হচ্ছে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত ঐতিহাসিক নাটক। 
- বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক ঐতিহাসিক ও ট্রাজেডি নাটক মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত কৃষ্ণকুমারী।
- রক্তাক্ত প্রান্তর হচ্ছে মুনীর চৌধুরী রচিত একটি বিখ্যাত নাটক। 
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

.
‘ভাত দে হারামজাদা’ কবিতার রচয়িতা কে?
  1. হুমায়ুন আজাদ
  2. রফিক আজাদ
  3. গোলাম মোস্তফা
  4. হুমায়ূন আহমেদ
ব্যাখ্যা

‘ভাত দে হারামজাদা’ কবিতার রচয়িতা হচ্ছে রফিক আজাদ। 

ভাত দে হারামজাদা:
- 'ভাত দে হারামজাদা' রফিক আজাদ রচিত একটি বিখ্যাত কবিতা।
- এ কবিতার একটি বিখ্যাত পঙক্তি হচ্ছে- 'ভাত দে হারামজাদা, তা-না হলে মানচিত্র খাবো'।
- 'ভাত দে হারামজাদা' কবিতাটি 'সীমাবদ্ধ জলে, সীমিত সবুজে' কাব্যগ্রন্থে সংকলিত হয়েছে।

রফিক আজাদ:
- রফিক আজাদের জন্ম ১৯৪২ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি, টাঙ্গাইল জেলার ঘাটাইল থানার গুণী নামক গ্রামে।
- তাঁর ডাক নাম ছিলো ‘জীবন’।
- কর্মজীবন: সাংবাদিকতা, শিক্ষকতা ও সরকারি চাকরিতে নিয়োজিত ছিলেন।
- বাংলা একাডেমি থেকে প্রকাশিত মাসিক সাহিত্য পত্রিকা ‘উত্তরাধিকার’ এর সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
- মৃত্যু: ২০১৬ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে।

প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থসমূহ:
- সীমাবদ্ধ জলে, সীমিত সবুজে,
- অসম্ভবের পায়ে,
- চুনিয়া আমার আর্কেডিয়া,
- প্রেমের কবিতা,
- হাতুড়ির নিচে জীবন,
- অপর অরণ্যে,
- করো অশ্রুপাত,
- প্রেম ও বিরহের কবিতা,
- পাগলা গারদ থেকে প্রেমিকার চিঠি,
- সশস্ত্র সুন্দর,
- অঙ্গীকারের কবিতা। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

.
কাজী মোতাহার হোসেন রচিত ‘সঞ্চয়ন’ একটি -
  1. গল্পসংকলন
  2. প্রবন্ধসংকলন
  3. কবিতাসংকলন
  4. নাট্যসংকলন
ব্যাখ্যা

কাজী মোতাহার হোসেন রচিত ‘সঞ্চয়ন’ একটি প্রবন্ধসংকলন। 

কাজী মোতাহার হোসেন:
- কাজী মোতাহার হোসেন (১৮৯৭–১৯৮১) একজন প্রখ্যাত শিক্ষাবিদ, বিজ্ঞানী ও সাহিত্যিক ছিলেন।
- তিনি ‘শিখা’ পত্রিকার মুখপত্র হিসেবে কাজ করেছেন এবং ঢাকায় ‘মুসলিম সাহিত্য সমাজ’ প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।
- এছাড়া তিনি ‘বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলন’ এর সাথে যুক্ত ছিলেন।
- ১৯২৬ সালে কাজী আবদুল ওদুদ, সৈয়দ আবুল হুসেন ও আবুল ফজলের সহযোগিতায় মুসলিম সাহিত্য সমাজ প্রতিষ্ঠা করেন এবং সংস্থার মুখপত্র ‘শিখা’ পত্রিকা অল্প সময় সম্পাদনা করেন। 
- শিক্ষা ও গবেষণায় তাঁর অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৬০ সালে পাকিস্তান সরকার তাঁকে ‘সিতারা-ই-ইমতিয়াজ’ খেতাবে ভূষিত করে।

উল্লেখযোগ্য প্রকাশনাসমূহ:
- সঞ্চয়ন,
- নজরুল কাব্য পরিচিত,
- সে পথ লক্ষ্য করে,
- সিম্পোজিয়াম গণিত শাস্ত্রের ইতিহাস,
- আলোক বিজ্ঞান। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

.
হুমায়ূন আহমেদের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস কোনটি?
  1. আগুনের পরশমণি
  2. নেকড়ে অরণ্য
  3. নিষিদ্ধ লোবান
  4. রাইফেল রোটি আওরাত
ব্যাখ্যা

হুমায়ূন আহমেদের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস আগুনের পরশমণি। 

আগুনের পরশমণি:

- ‘আগুনের পরশমণি’ উপন্যাসের উপজীব্য হলো মুক্তিযুদ্ধ।
- উপন্যাসে ঢাকায় মুক্তিযুদ্ধে গেরিলা অপারেশনের সাহসিকতা, গেরিলাদের গোপন তৎপরতা এবং স্বাধীনতা সমর্থক ও বিরোধীদের চরিত্র তুলে ধরা হয়েছে।
- গল্পের শুরু হয় অপরিচিত গেরিলা মুক্তিযোদ্ধা বদিউল আলমকে আশ্রয় দেয়া থেকে, যাকে মতিন সাহেব নামে একজন ভদ্রলোক আশ্রয় দেন।
- উপন্যাসে বদিউলের সঙ্গে ওই ভদ্রলোকের কন্যার মানবিক দুর্বলতাও যুদ্ধকালীন পরিবেশে ফুটে উঠেছে।

হুমায়ূন আহমেদ:
- হুমায়ূন আহমেদ ১৯৪৮ সালের ১৩ নভেম্বর নেত্রকোনা জেলার মোহনগঞ্জে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈত্রিক বাড়ি নেত্রকোনা জেলার কেন্দুয়া উপজেলার কুতুবপুর গ্রামে।
- শৈশবে তাঁর নাম ছিল শামসুর রহমান।
- ১৯৭৪ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে রসায়ন বিভাগে প্রভাষক পদে যোগ দেন।
- তিনি একাধারে কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চলচ্চিত্র নির্মাতা, গীতিকার এবং শিক্ষক ছিলেন।

মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাসসমূহ:
- আগুনের পরশমণি,
- অনিল বাগচির একদিন,
- সূর্যের দিন,
- শ্যামল ছায়া,
- জোছনা ও জননীর গল্প।

অন্যদিকে,
খ) নেকড়ে অরণ্য: এটি শওকত ওসমান রচিত একটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস।  
গ) নিষিদ্ধ লোবান: বাংলাদেশের প্রখ্যাত সাহিত্যিক সৈয়দ শামসুল হক রচিত একটি উপন্যাস, যা ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে
ঘ) রাইফেল রোটি আওরাত: এটি আনোয়ার পাশা রচিত একটি বিখ্যাত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলাপিডিয়া। 

.
কামিনী রায় রচিত কাব্যগ্রন্থ নয় কোনটি? 
  1. বেনু ও বীনা
  2. মাল্য ও নির্মাল্য
  3. আলো ও ছায়া
  4. দীপ ও ধূপ
ব্যাখ্যা

'বেনু ও বীনা' সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত রচিত কাব্যগ্রন্থ।

কামিনী রায়:
- কামিনী রায় ১৮৬৪ সালের ১২ অক্টোবর বাকেরগঞ্জের বাসন্ডা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতা চন্ডীচরণ সেন একজন ঐতিহাসিক উপন্যাস লেখক এবং পেশায় বিচারক ছিলেন।
- বাংলা সাহিত্যে অসাধারণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগত্তারিণী পদক লাভ করেন।
- কামিনী রায় ১৯৩৩ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর মৃত্যুবরণ করেন।

রচিত কাব্যগ্রন্থসমূহ:
- আলো ও ছায়া (প্রথম কাব্যগ্রন্থ, ১৮৮৯),
- মাল্য ও নির্মাল্য,
- অশোকসঙ্গীত,
- অম্বা (নাটককাব্য),
- দীপ ও ধূপ,
- জীবনপথে,
- পৌরাণিকী। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলাপিডিয়া। 

১০.
তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস কোনটি? 
  1. মানুষ শাবকের কথা
  2. হাঁসুলি বাঁকের উপকথা
  3. পথের পাঁচালী 
  4. পুতুলনাচের ইতিকথা
ব্যাখ্যা

তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের রচিত উপন্যাস হাঁসুলি বাঁকের উপকথা।

হাঁসুলী বাঁকের উপকথা:
- ‘হাঁসুলী বাঁকের উপকথা’ হল তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত একটি আঞ্চলিক উপন্যাস।
- উপন্যাসের কাহিনি বাশবাদি গ্রামে কাহার জাতির মানুষের জীবন, তাদের পুরনো বিশ্বাস ও কুসংস্কারের পরিবর্তনকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে।

তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়:
- তিনি একজন বিশিষ্ট কথাসাহিত্যিক ও রাজনীতিবিদ।
- তাঁর জন্ম ১৮৯৮ সালে পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলায়।
- প্রথম গল্প: ‘রসকলি’, এটি প্রকাশিত হয় কল্লোল পত্রিকায়।
- ত্রয়ী উপন্যাস: ধাত্রীদেবতা, গণদেবতা, পঞ্চগ্রাম।

উপন্যাসসমূহ:
- হাঁসুলী বাঁকের উপকথা,
- গণদেবতা,
- আরগ্য নিকেতন,
- চৈতালি ঘূর্ণি,
- ধাত্রীদেবতা,
- কালিন্দী,
- কবি,
- পঞ্চপুণ্ডলী,
- রাধা ইত্যাদি। 

ছোটগল্প:
- রসকলি,
- বেদেনী,
- ডাকহরকরা। 

অন্যদিকে, 
- "মানুষ শাবকের কথা" হলো ভারতীয় লেখিকা তিলোত্তমা মজুমদার-এর প্রথম উপন্যাস। 
- "পথের পাঁচালী" হল প্রখ্যাত সাহিত্যিক বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত একটি বিখ্যাত উপন্যাস।
- "পুতুলনাচের ইতিকথা" মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃতীয় উপন্যাস

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 

১১.
জাহানারা ইমামের রচিত অনুবাদ গ্রন্থ কোনটি?
  1. জাগ্রত ধরিত্রী
  2. শবনম
  3. সুলতানার স্বপ্ন
  4. প্রতিধ্বনি
ব্যাখ্যা

জাহানারা ইমামের রচিত অনুবাদ গ্রন্থ হচ্ছে জাগ্রত ধরিত্রী। 

জাহানারা ইমাম:
- জাহানারা ইমাম ১৯২৯ সালের ৩ মে অবিভক্ত বাংলার মুর্শিদাবাদ জেলার সুন্দরপুর গ্রামের এক রক্ষণশীল পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি শহীদ জননী হিসেবে পরিচিত।
- ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়ন ও ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটি’ এর আহবায়ক হিসেবে তিনি ব্যাপক খ্যাতি লাভ করেন।
- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক স্মৃতিচারণমূলক গ্রন্থ ‘একাত্তরের দিনগুলি’ তাঁর সর্বাধিক পরিচিত কীর্তি।
- ১৯৮১ সালের দিকে জাহানারা ইমাম মুখের ক্যান্সারে আক্রান্ত হন এবং ১৯৯৪ সালের ২৬ জুন আমেরিকার মিশিগান স্টেটের ডেট্রয়েটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন।
 - পরে ঢাকায় তাঁকে সমাহিত করা হয়।

উল্লেখযোগ্য রচিত গ্রন্থসমূহ:
- গজকচ্ছপ,
- সাতটি তারার ঝিকিমিকি,
- অন্য জীবন,
- বুকের ভিতর আগুন,
- শেক্সপিয়রের ট্রাজেডি,
- নাটকের অবসান,
- নিঃসঙ্গ পাইন,
- ক্যান্সারের সঙ্গে বসবাস,
- প্রবাসের দিনগুলি। 

শিশুতোষ গ্রন্থ:
- গজকচ্ছপ,
- সাতটি তারার ঝিকিমিকি,
- বিদায় দে মা ঘুরে আসি। 

অনুবাদ গ্রন্থ:
- নদীর তীরে ফুলের মেলা,
- জাগ্রত ধরিত্রী,
- তেপান্তরের ছোট্ট শহর। 

অন্যদিকে, 
খ) "শবনম" সৈয়দ মুজতবা আলীর এক কালজয়ী প্রেমের উপন্যাস যা বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে অনন্য। উপন্যাসটি ১৯৬০ সালে প্রকাশিত হয়। এটি একটি মৌলিক রচনা।
গ) 'সুলতানার স্বপ্ন' রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের একটি অনুবাদ গ্রন্থ।
ঘ) 'প্রতিধ্বনি' (১৯৫৪) নামে সুধীন্দ্রনাথ দত্তের একটি অনুবাদগ্রন্থ রয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলাপিডিয়া। 

১২.
‘প্রেম পারিজাত’ কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. গোলাম মোস্তফা
  2. হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
  3. জহির রায়হান
  4. কায়কোবাদ
ব্যাখ্যা

‘প্রেম পারিজাত’ কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা হচ্ছে কায়কোবাদ। এটি ১৯৭০ সালে প্রকাশিত হয়।

কায়কোবাদ:
- আধুনিক বাংলা সাহিত্যে প্রথম মুসলিম কবি হিসেবে খ্যাত কায়কোবাদ (১৮৫৭-১৯৫১)।
- তাঁর প্রকৃত নাম কাজেম আল কোরেশী, এবং ‘কায়কোবাদ’ তাঁর সাহিত্যিক ছদ্মনাম।
- কায়কোবাদ মুসলিম কবিদের মধ্যে প্রথম সনেট ও মহাকাব্য রচনা করেন।
- তাঁর শ্রেষ্ঠ কাব্য হলো ‘মহাশ্মশান’, যা ১৯০৪ সালে প্রকাশিত হয়।
- কায়কোবাদের সাহিত্যিক প্রতিভা অতি অল্প বয়স থেকেই প্রকাশ পায়।
- মাত্র তেরো বছর বয়সে তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘বিরহবিলাপ’ (১৮৭০) প্রকাশিত হয়।

কাব্যগ্রন্থসমূহ:
- অশ্রুমালা (গীতিকাব্য),
- কুসুমকানন,
- শিবমন্দির,
- অমিয়ধারা,
- বিরহবিলাপ,
- শ্মশানভষ্ম,
- মহররম শরীফ,
- প্রেম পারিজাত,
- মন্দাকিনী ধারা। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

১৩.
কুসুমকুমারী দাশ রচিত শিশুতোষ সাহিত্য কোনটি? 
  1. গোপীগাইন বাঘা বাইন
  2. পুতুলের বিয়ে
  3. কবিতা মুকুল
  4. বুড়ো আংলা
ব্যাখ্যা

কুসুমকুমারী দাশ রচিত শিশুতোষ সাহিত্য হচ্ছে কবিতা মুকুল। 

কুসুমকুমারী দাশ:
- কুসুমকুমারী দাশ ১৮৮২ সালে বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি জীবনানন্দ দাশের মা।
- তাঁর গদ্যগ্রন্থের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ‘পৌরাণিক আখ্যায়িকা’।
- শিশুদের জন্য তিনি ‘কবিতা মুকুল’ নামে একটি পুস্তিকা রচনা করেছেন।
- তাঁর কবিতা বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত হত, যেমন প্রবাসী, ব্রহ্মবাদী, এবং মুকুল
- প্রখ্যাত কবিতার পঙক্তি: “আমাদের দেশে হবে সেই ছেলে কবে, কথায় না বড় হয়ে কাজে বড় হবে।”
- কুসুমকুমারী দাশ ১৯৪৮ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

অন্যদিকে, 
ক) উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী রচিত শিশুতোষ সাহিত্য হচ্ছে গোপীগাইন বাঘা বাইন। 
খ) কাজী নজরুল ইসলাম শিশুতোষ সাহিত্য হচ্ছে পুতুলের বিয়ে।
গ) অবনীবন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত শিশুতোষ সাহিত্য হচ্ছে বুড়ো আংলা।  

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৪.
সুকান্ত ভট্টাচার্য রচিত কাব্যগ্রন্থ কোনটি? 
  1. চৈতালি
  2. লোক-লোকান্তর
  3. সর্বহারা
  4. পূর্বাভাস
ব্যাখ্যা

‘পূর্বাভাস’ হলো সুকান্ত ভট্টাচার্যের একটি বিখ্যাত বাংলা কাব্যগ্রন্থ।
- এই কাব্যগ্রন্থে সমাজের চিত্র এবং নিপীড়িত মানুষের কষ্ট ও দুঃখের বিষয়গুলো গভীরভাবে তুলে ধরা হয়েছে।

সুকান্ত ভট্টাচার্য:
- তাঁর জন্ম ১৫ আগস্ট, ১৯২৬ সালে।
- পরিচিতি: কিশোর কবি, মার্কসবাদী কবি ও মানবতার কবি।
- কাব্যে ফুটে উঠেছে মানুষের, বিশেষ করে শোষিত মানুষের জীবন-যন্ত্রণা, বিক্ষোভ ও বিদ্রোহের বিষয়।
- নজরুলের পর সুকান্তের কবিতায় সবচেয়ে বেশি বিদ্রোহের সুর লক্ষ্য করা যায়।

সুকান্ত ভট্টাচার্যের উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থসমূহ:
- পূর্বাভাস,
- হরতাল,
- ঘুম নেই,
- ছাড়পত্র,
- অভিযান। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।