পরীক্ষা আর্কাইভ

ডেইলি কুইজ [২০০ দিন]

পরীক্ষাডেইলি কুইজ [২০০ দিন]তারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়09 minutes
মোট প্রশ্ন১৯
সিলেবাস
“Award Mania: Season - 8” এর জন্য প্রযোজ্য -------------------------------------------- বিষয় - বাংলা ভাষা ও ব্যাকরণ টপিকসমূহ: ১. পদ-প্রকরণ [পদ ও এর শ্রেণিবিভাগ] ২. বাক্য প্রকরণ [বাক্য ও বাক্যের প্রকারভেদ; বাক্য ও উক্তির পরিবর্তন; কারক ও বিভক্তি; বাচ্য ও বাচ্যের পরিবর্তন।]
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

ডেইলি কুইজ [২০০ দিন]

ডেইলি কুইজ [২০০ দিন] · তারিখ অনির্ধারিত · ১৯ প্রশ্ন

.
যেই তার দর্শন পেলাম, সেই আমরা প্রস্থান করলাম।' - এটি কোন জাতীয় বাক্য?
  1. মৌলিক বাক্য
  2. সরল বাক্য
  3. যৌগিক বাক্য
  4. জটিল বাক্য
ব্যাখ্যা
জটিল বাক্য:
- যে-সে, যারা-তারা, যিনি-তিনি, যা-তা প্রভৃতি সাপেক্ষ সর্বনাম এবং যদি-তবে, যদিও-তবু, যেহেতু-সেহেতু, যত-তত, যেটুকু-সেটুকু, যেমন-তেমন, যখন-তখন প্রভৃতি সাপেক্ষ যোজক দিয়ে যখন অধীন বাক্যগুলো যুক্ত থাকে, তাকে জটিল বাক্য বলে।

যেমন:
- যদি তুমি যাও, তবে তার দেখা পাবে।
- যখন বৃষ্টি নামল, তখন আমরা ছাতা খুঁজতে শুরু করলাম।
- যে ছেলেটি এখানে এসেছিল, সে আমার ভাই।
- যেই তার দর্শন পেলাম, সেই আমরা প্রস্থান করলাম।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
.
'আমারে তুমি করিবে ত্রাণ' - এ বাক্যে 'আমারে' পদটি কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. সম্প্রদানে ৬ষ্ঠী
  2. অপাদানে ৫মী
  3. কর্তায় ২য়া
  4. কর্মে ২য়া
ব্যাখ্যা
• 'আমারে তুমি করিবে ত্রাণ, এ নহে মোর প্রার্থনা' বাক্যে 'আমারে' কর্ম কারকে দ্বিতীয়া বিভক্তি।

কর্ম কারক:
- যাকে আশ্রয় করে কর্তা ক্রিয়া সম্পাদন করে, তাকে কর্ম কারক বলে।
- বাক্যের মুখ্য কর্ম ও গৌণ কর্ম – উভয় ধরনের কর্মই কর্ম কারক হিসেবে গণ্য হয়।
- সাধারণত মুখ্য কর্ম কারকে বিভক্তি হয় না, তবে গৌণ কর্ম কারকে ‘কে’ বিভক্তি হয়।
যেমন:
- সে রােজ সকালে এক প্লেট ভাত খায়।
- শিক্ষককে জানাও।
- অসহায়কে সাহায্য করাে।

- কাব্যভাষায় কর্মকারকে ‘রে বিভক্তি হয়।
যেমন –
- আমারে তুমি করিবে ত্রাণ এ নহে মাের প্রার্থনা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ- ২০২১)।
.
বস্তু বা দ্রব্যবাচক বিশেষ্যের উদাহরণ কোনটি?
  1. বহর
  2. গমন
  3. বই
  4. সুখ
ব্যাখ্যা
বস্তু-বিশেষ্য:
- কোনো দ্রব্য বা বস্তুর নামকে বস্তু-বিশেষ্য বলে।
যেমন:
- ইট, লবণ, টেবিল, বই ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- সমষ্টিবাচক বিশেষ্য - বহর।
- ভাববাচক বিশেষ্য - গমন।
- গুণবাচক বিশেষ্য - সুখ।

বিশেষ্য পদ:
যেসব শব্দ দিয়ে ব্যক্তি, প্রাণী, স্থান, বস্তু, ধারণা ও গুণের নাম বোঝায়, সেগুলোকে বিশেষ্য বলে। যেমন নজরুল, বাঘ, ঢাকা, ইট, ভোজন, সততা ইত্যাদি। বিশেষ্য সাধারণত ছয় প্রকার:
১. নাম-বিশেষ্য,
২. জাতি-বিশেষ্য,
৩. বস্তু-বিশেষ্য,
৪. সমষ্টি-বিশেষ্য,
৫. গুণ-বিশেষ্য এবং
৬. ক্রিয়া-বিশেষ্য।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
.
ওখানে কেন গেলে? - এর ভাববাচ্য রূপ কোনটি?
  1. ওখানে কে যাবে?
  2. ওখানে কেন যাওয়া হলো?
  3. ওখানে কে যায়?
  4. ওখানে কেন যাও?
ব্যাখ্যা
কর্তাবাচ্য থেকে ভাববাচ্যে রূপান্তর করার নিয়ম:
- কর্তাবাচ্যের বাক্যকে ভাববাচ্যে রূপান্তরিত করতে হলে একটি ক্রিয়াবিশেষ্যকে নিয়ন্ত্রকের ভূমিকায় আসতে হয়।
যেমন:
কর্তাবাচ্য: তুমি কখন এলে?
ভাববাচ্য: কখন আসা হলো?

কর্তাবাচ্য: ওখানে কেন গেলে?
ভাববাচ্য: ওখানে কেন যাওয়া হলো?

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
.
'যে' কোন শ্রেণির সর্বনাম শব্দ?
  1. ব্যতিহারিক
  2. অনির্দিষ্টতাজ্ঞাপক
  3. সংযোগজ্ঞাপক
  4. সামীপ্যবাচক
ব্যাখ্যা
'যে' - সংযোগজ্ঞাপক সর্বনামের উদাহরণ।

সর্বনাম পদ:
- বাক্যে বিশেষ্য পদের পরিবর্তে যে পদ ব্যবহৃত হয়, তাকেই সর্বনাম পদ বলে।
- বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত সর্বনামসমূহকে নিম্নলিখিত কয়েকটি ভাগে ভাগ করা হয়ে থাকে।

যথা:
১. ব্যক্তিবাচক বা পুরুষবাচক সর্বনাম: আমি, আমরা, তুমি, তোমরা, সে, তারা, তাহারা, তিনি, তাঁরা, এ, এরা, ও, ওরা ইত্যাদি।
২. আত্মবাচক সর্বনাম: স্বয়ং, নিজে, খোদ, আপনি।
৩. সামীপ্যবাচক সর্বনাম: এ, এই, এরা, ইহারা, ইনি ইত্যাদি।
৪. দূরত্ববাচক সর্বনাম: ঐ, ঐসব।
৫. সাকুল্যবাচক সর্বনাম: সব, সকল, সমুদয়, তাবৎ।
৬. প্রশ্নবাচক সর্বনাম: কে, কি, কী, কোন, কাহার, কার, কিসে?
[প্রশ্ন তৈরির জন্য প্রশ্নবাচক সর্বনাম প্রয়োগ করা হয়। যেমন - কী দিয়ে ভাত খায়?]
৭. অনির্দিষ্টতাজ্ঞাপক সর্বনাম: কোন, কেহ, কেউ, কিছু।
৮. ব্যতিহারিক সর্বনাম: আপনা আপনি, নিজে নিজে, আপসে, পরস্পর ইত্যাদি।
৯. সংযোগজ্ঞাপক সর্বনাম: যে, যিনি, যাঁরা, যারা, যাহারা ইত্যাদি।
১০. অন্যাদিবাচক সর্বনাম: অন্য, অপর, পর ইত্যাদি।
১১. সাপেক্ষ সর্বনাম: যেমন - যারা তারা, যে-সে, যেমন-তেমন (যেমন কর্ম তেমন ফল) ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ ও ২০২১ সংস্করণ)।
.
প্রত্যক্ষ উক্তিতে চিরন্তন সত্যের উদ্ধৃতি থাকলে পরোক্ষ উক্তিতে পরিবর্তন হয় না -
  1. ক্রিয়ার কালের
  2. যতচিহ্ন
  3. নাম বিভক্তির
  4. ক্রিয়া বিশেষণ
ব্যাখ্যা
• প্রত্যক্ষ উক্তিতে চিরন্তন সত্যের উদ্ধৃতি থাকলে পরোক্ষ উক্তিতে ক্রিয়ার কালের কোনো পরিবর্তন হয় না।
যেমন:
প্রত্যক্ষ উক্তি: শিক্ষক বললেন, “চাঁদ পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করে।”
পরোক্ষ উক্তি: শিক্ষক বললেন যে, চাঁদ পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করে।

আবার,
• প্রত্যক্ষ উক্তিকে পরোক্ষ উক্তিতে পরিবর্তন করার সময়ে কালবাচক ও স্থানবাচক শব্দের পরিবর্তন হয়।
যেমন:
প্রত্যক্ষ উক্তি: লোকটি বললেন, “আমি আগামীকাল এখানে আবার আসব।”
পরোক্ষ উক্তি: লোকটি বললেন যে, তিনি পরদিন সেখানে আবার যাবেন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি ( সংস্করণ- ২০২১)।
.
‘তাই, ও, আর’ অব্যয়গুলোর নাম কী?
  1. অনুসর্গ অব্যয়
  2. অনুকার অব্যয়
  3. সমুচ্চয়ী অব্যয়
  4. অনন্বয়ী অব্যয়
ব্যাখ্যা
• তাই, ও, আর অব্যয়গুলোর নাম - সমুচ্চয়ী অব্যয়।

সমুচ্চয়ী অব্যয়:

- যে অব্যয় পদ একটি বাক্যের সঙ্গে অন্য একটি বাক্যের অথবা বাক্যস্থিত একটি পদের সঙ্গে অন্য একটি পদের সংযোজন, বিয়োজন বা সংকোচন ঘটায়, তাকে সমুচ্চয়ী অব্যয় বা সম্বন্ধবাচক অব্যয় বলে।

সংযোজক অব্যয়:
(i) উচ্চপদ ও সামাজিক মর্যাদা সকলেই চায়। এখানে 'ও' অব্যয়টি বাক্যস্থিত দুটি পদের সংযোজন করছে।
(ii) তিনি সৎ, তাই সকলেই তাঁকে শ্রদ্ধা করে। এখানে 'তাই' অব্যয়টি দুটি বাক্যের সংযোজন ঘটাচ্ছে। আর, অধিকন্তু, সুতরাং শব্দগুলোও সংযোজক অব্যয়।

বিয়োজক অব্যয়:
(i) হাসেম কিংবা কাসেম এর জন্য দায়ী। এখানে 'কিংবা' অব্যয়টি দুটি পদের (হাসেম এবং কাসেমের) বিয়োগ সম্বন্ধ ঘটাচ্ছে।
(ii) 'মন্ত্রের সাধন কিংবা শরীর পাতন'। এখানে 'কিংবা' অব্যয়টি দুটি বাক্যাংশের বিয়োজক। আমরা চেষ্টা করেছি বটে, কিন্তু কৃতকার্য হতে পারিনি। এখানে 'কিন্তু' অব্যয় দুটি বাক্যের বিয়োজক। বা, অথবা, নতুবা, না হয়, নয়তো শব্দগুলো বিয়োজক অব্যয়। 

সংকোচক অব্যয়:
- তিনি বিদ্বান, অথচ সৎ ব্যক্তি নন। এখানে 'অথচ' অব্যয়টি দুটি বাক্যের মধ্যে ভাবের সংকোচ সাধন করেছে।
- কিন্তু, বরং শব্দগুলোও সংকোচক অব্যয়।

অনুগামী সমুচ্চয়ী অব্যয়:
- যে, যদি, যদিও, যেন প্রভৃতি কয়েকটি শব্দ সংযোজক অব্যয়ের কাজ করে থাকে। তাই তাদের অনুগামী সমুচ্চয়ী অব্যয় বলে।
যেমন-
১. তিনি এত পরিশ্রম করেন যে তার স্বাস্থ্যভঙ্গ হওয়ার আশঙ্কা আছে।
২. আজ যদি (শর্ত বাচক) পারি, একবার সেখানে যাব।
৩. এভাবে চেষ্টা করবে যেন কৃতকার্য হতে পার।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
.
'তাকে কোথাও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না' - বাক্যে নিম্নরেখ পদটি কী ধরনের ক্রিয়াবিশেষণ?
  1. ধরনবাচক
  2. নেতিবাচক
  3. পদাণু
  4. স্থানবাচক
ব্যাখ্যা
নেতিবাচক ক্রিয়াবিশেষণ:
- না, নি ইত্যাদি দিয়ে ক্রিয়ার নেতিবাচক অবস্থা বােঝায়।
- এগুলাে সাধারণত ক্রিয়ার পরে বসে।
যেমন:
- সে এখন যাবে না
- তিনি বেড়াতে যাননি
- এমন কথা আমার জানা নেই
- তাকে কোথাও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না

অন্যদিকে,
স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ:
- ক্রিয়ার স্থান নির্দেশ করে স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ।
যেমন:
- মিছিলটি সামনে এগিয়ে যায়।
- তাকে কোথাও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।

পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ:
- বাক্যের মধ্যে বিশেষ কোনাে ভূমিকা পালন না করলেও কি, যে, বা, না, তাে প্রভৃতি পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ হিসেবে কাজ করে।
যেমন:
- কি: আমি কি যাব?
- যে: খুব যে বলেছিলেন আসিবেন!

ধরনবাচক ক্রিয়াবিশেষণ:
- কোনাে ক্রিয়া কীভাবে সম্পন্ন হয়, ধরন বাচক ক্রিয়া বিশেষণ তা নির্দেশ করে।
যেমন:
- টিপ টিপ বৃষ্টি পড়ছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
.
'যথা ধর্ম তথা জয়' - এটি কোন অব্যয়ের উদাহরণ?
  1. বাক্যালংকার অব্যয়
  2. নিত্য সম্বন্ধীয় অব্যয়
  3. বিয়োজক অব্যয়
  4. অনুকার অব্যয়
ব্যাখ্যা
নিত্য সম্বন্ধীয় অব্যয়:
- কতকগুলো যুগ্ম শব্দ পরস্পরের ওপর নির্ভরশীল, সেগুলো নিত্য সম্বন্ধীয় অব্যয় রূপে পরিচিত।
যেমন: যথা-তথা, যখন-তখন, যেমন-তেমন, যে রূপ- সে রূপ ইত্যাদি।
উদাহরণ-
- যথা ধর্ম তথা জয়।
- যত গর্জে তত বর্ষে না।

অন্যদিকে,
বিয়োজক অব্যয়:
মন্ত্রের সাধন কিংবা শরীর পাতন।
এখানে ''কিংবা'' বিয়োজক' অব্যয়।
এরকম- কিংবা, বা, অথবা, নতুবা, না হয়, নয়তো, ইত্যাদি।

অনুকার অব্যয়:
- যে সকল অব্যয় অব্যক্ত রব, শব্দ বা ধ্বনির অনুকরণে গঠিত হয়, সেগুলোকে অনুকার অব্যয় বলে।
যেমন:
বজ্রের ধ্বনি - কড় কড়।
বাতাসের ধ্বনি - শনশন।
নূপুরের আওয়াজ - রুম ঝুম।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১০.
"আমার হৃদয় মন্দিরে আশার বীজ উপ্ত হইল।" - বাক্যটিতে কোন দোষ আছে?
  1. বাহুল্য দোষ
  2. উপমার ভুল প্রয়োগ
  3. বাগ্‌ধারার দোষ
  4. গুরুচণ্ডালী দোষ
ব্যাখ্যা
উপমার ভুল প্রয়ােগ:
- উপমা ভাষাবিশেষের সম্পদ। বিশেষ অর্থে প্রসঙ্গ অনুযায়ী এসব উপমা প্রয়ােগ করা হয়ে থাকে।
- সঠিকভাবে এসব উপমা ব্যবহার না করলে বাক্য তার যােগ্যতা হারায়।

যেমন:
- আমার হৃদয় মন্দিরে আশার বীজ উপ্ত হল।
- এখানে উপমার ভুল প্রয়ােগ ঘটেছে, কারণ বীজ মন্দিরে বপন করা হয় না, বপন করা হয় ক্ষেতে। 
- বাক্যটি হবে 'আমার হৃদয় ক্ষেত্রে আশার বীজ উপ্ত হল।'

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১১.
একটি সার্থক বাক্য গঠনে কী কী শর্ত থাকতে হয়?
  1. আসত্তি ও যোগ্যতা
  2. আকাঙ্ক্ষা ও আসত্তি, বাকবিধি ও যোগ্যতা
  3. আকাঙ্ক্ষা ও আসত্তি
  4. আসত্তি, যোগ্যতা ও আকাঙ্ক্ষা
ব্যাখ্যা
• একটি আদর্শ বাক্যের জন্যে ৩টি গুণ থাকা থাকা জরুরি।

আকাঙ্ক্ষা:
- বাক্যের অর্থ স্পষ্টকরণে এক পদের পর অন্য পদ শোনার যে ইচ্ছা বা প্রয়াস তাকে আকাঙ্ক্ষা বলে।
উদাহরণ- কাজল নিয়মিত লেখাপড়া।
- উপরের বাক্যটি অসম্পূর্ণ। অর্থাৎ বাক্যে আকাঙ্ক্ষা পূর্ণ হয়নি।
- বাক্যটিকে এভাবে পরিপূর্ণ করা যায়- কাজল নিয়মিত লেখাপড়া করে।

আসত্তি:
- বাক্যের অর্থসঙ্গতি রক্ষায় সুনির্দিষ্ট পদবিন্যাসই হলো আসত্তি।
উদাহরণ: নিয়মিত করে হাসান লেখাপড়া।
- বাক্যটির পদগুলো সন্নিবেশ না হওয়ায় অন্তর্নিহিত ভাব প্রকাশ হয়নি। তাই এটি আদর্শ বাক্য নয়।
- পরিপূর্ণ বাক্য গঠনে বাক্যের পদ্গুলো সাজাতে হবে- হাসান নিয়মিত লেখাপড়া করে।

যোগ্যতা:
- বাক্যের অন্তর্গত পদসমূহের বিশ্বাসযোগ্য ভাবসম্মিলনের নাম হল যোগ্যতা।
উদাহরণ: বর্ষার রৌদ্র প্লাবনের সৃষ্টি করে।
- বাক্যটি ভাব প্রকাশের যোগ্যতা হারিয়েছে। কেননা রোদ কখনো প্লাবন সৃষ্টি করতে পারে না।
- তাই যোগ্যতাসম্পন্ন বাক্যটি হবে- ‘বর্ষার বৃষ্টি প্লাবনের সৃষ্টি করে’।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াত মাহমুদ এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, সৌমিত্র শেখর।
১২.
যে বাক্যে একটি মাত্র উদ্দেশ্য ও একটি মাত্র বিধেয় থাকে, তাকে কোন বাক্য বলে?
  1. সরল বাক্য
  2. যৌগিক বাক্য
  3. খণ্ড বাক্য
  4. জটিল বাক্য
ব্যাখ্যা
সরল বাক্য:
- যে বাক্যে একটি মাত্র উদ্দেশ্য ও একটি মাত্র বিধেয় থাকে তাকে সরল বাক্য বলে।
যেমন- রহিমা প্রত্যহ বিদ্যালয়ে যায়। বাক্যটিতে 'রহিমা' উদ্দেশ্য এবং 'প্রত্যহ বিদ্যালয়ে যায়' বিধেয়।

অন্যদিকে,
জটিল বাক্য: একটি মূল বাক্যের অধীনে এক বা একাধিক আশ্রিত বাক্য বা বাক্যাংশ থাকলে জটিল বাক্য তৈরি হয়।
যেমন-
যদি তোমার কিছু বলার থাকে, তবে এখনই বলে ফেলো।

খণ্ডবাক্য:
- একাধিক বাক্য মিলে একটি জটিল বাক্য তৈরি হলে বাক্যের অন্তর্গত প্রতিটি বাক্য যদি স্বাধীন বাক্য না হয়ে অন্য কোনো বাক্যের অংশ হিসেবে ব্যবহৃত হয়, তবে তাকে খণ্ড বাক্য বলে।
যেমন- যদি তুমি আস তাহলে আমি যাব। এখানে 'তুমি আস এবং আমি যাব' বাক্যাংশ দুটি খণ্ড বাক্য।

যৌগিক বাক্য: এক বা একাধিক বাক্য বা বাক্যাংশ যোজকের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে যৌগিক বাক্য গঠন করে।
যেমন-
রহমত রাতে রুটি খায় আর রহিমা খায় ভাত।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৩.
গুণবাচক বিশেষণ ব্যবহৃত হয়েছে কোন বাক্যে?
  1. কবেকার কথা।
  2. নিপুণ কারিগর।
  3. প্রথমা কন্যা।
  4. সবুজ মাঠ।
ব্যাখ্যা
গুণবাচক বিশেষণ:
- যে বিশেষণ দিয়ে গুণ বা বৈশিষ্ট্য বােঝায়, তাকে গুণবাচক বিশেষণ বলে।
যেমন – ছেলেটি চালাক/ চালাক ছেলে, ঠান্ডা পানি – এখানে ‘চালাক’ ও ঠান্ডা হলাে গুণবাচক বিশেষণ।
এভাবেই, 'নিপুণ কারিগর' এ কারিগর এর গুণ 'নিপুণ' এর মাধ্যমে গুণবাচক বিশেষণ প্রকাশ পেয়েছে।

অন্যদিকে,
- সর্বনামজাত বিশেষণ - কবেকার কথা বলছ? 
- ক্রমবাচক বিশেষণ - প্রথমা কন্যা।
- রূপবাচক বিশেষণ - সবুজ মাঠ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ ও ২০২১ সংস্করণ)।
১৪.
যে বাক্যে কর্মই কর্তৃস্থানীয় হয়ে বাক্য গঠন করে থাকে, তাকে কোন বাচ্যের বাক্য বলে?
  1. কর্মকর্তৃবাচ্য
  2. কর্মপ্রবচনীয় অব্যয়
  3. কর্মবাচ্য
  4. ভাববাচ্য
ব্যাখ্যা
কর্মকর্তৃবাচ্য:
- যে বাক্যে কর্মপদই কর্তৃস্থানীয় হয়ে বাক্য গঠন করে, তাকে কর্মকর্তৃবাচ্যের বাক্য বলে।
যেমন:
- কাজটা ভালো দেখায় না।
- বাঁশি বাজে ঐ মধুর লগনে।

অনুরূপ, জল পড়ে পাতা নড়ে। বাক্যে কর্মপদই কর্তৃস্থানীয় হয়ে বাক্য গঠন করেছে।

অন্যদিকে,
কর্মবাচ্য:
- যে বাক্যের ক্রিয়া কর্মকে অনুসরণ করে, তাকে কর্মবাচ্য বলে।
যেমন:
• চিঠিটা পড়া হয়েছে ।

ভাববাচ্য:
- যে বাক্যের ক্রিয়া-বিশেষ্য বাক্যের ক্রিয়াকে নিয়ন্ত্রণ করে, তাকে ভাববাচ্য বলে।
যেমন:
• আমার যাওয়া হল না।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ ২০১৯)।
১৫.
'দুয়ারে দাঁড়ায়ে প্রার্থী' - এ বাক্যে 'দুয়ার' শব্দটি কোন ধরনের অধিকরণ?
  1. অভিব্যাপক অধিকরণ
  2. আধারাধিকরণ
  3. ভাবাধিকরণ
  4. ঐকদেশিক অধিকরণ
ব্যাখ্যা
ঐকদেশিক আধারাধিকরণ:
- বিশাল স্থানের যে কোনো অংশে ক্রিয়া সংঘটিত হলে তাকে ঐকদেশিক আধারাধিকরণ বলে।
যেমন -
- পুকুরে মাছ আছে। (পুকুরের যে কোনো একস্থানে)
- বনে বাঘ আছে। (বনের যে কোনো এক অংশে)
- আকাশে চাঁদ উঠেছে। (আকাশের কোনো এক অংশে)

সামীপ্য অর্থেও ঐকদেশিক অধিকরণ হয়।
যেমন -
- ঘাটে নৌকা বাঁধা আছে (ঘাটের কাছে)।
- দুয়ারে দাঁড়ায়ে প্রার্থী, ভিক্ষা দেহ তারে (দুয়ারের কাছে)।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৬.
ভাববাচ্যের বাক্যকে কর্তৃবাচ্যে রূপান্তরিত করলে কর্তায় কোন বিভক্তি হয়?
  1. দ্বিতীয়া
  2. তৃতীয়া
  3. প্রথমা
  4. সপ্তমী
ব্যাখ্যা
ভাববাচ্য:
- বাক্যের ক্রিয়া-বিশেষ্য বাক্যের ক্রিয়াকে নিয়ন্ত্রণ করে, তাকে ভাববাচ্য বলে। ভাববাচ্যের বাক্যকে কর্তৃবাচ্যে রূপান্তরিত করতে হলে কর্তায় প্রথমা বিভক্তি যুক্ত হয়।
যেমন:
- আমার যাওয়া হলো না।
- কোথা থেকে আসা হলো।

বাচ্য:
- বাক্যের প্রকাশভঙ্গিকে বাচ্য বলে। বাক্যের মধ্যে ক্রিয়ার ভূমিকা বদলে গিয়ে একই বক্তব্যের প্রকাশ আলাদা হয়ে যায়।
- ক্রিয়া কখনো কর্তাকে অনুসরণ করে, ক্রিয়া কখনো কর্মকে অনুসরণ করে, আবার কিছু কখনো বাক্যের মধ্যে মুখ্য হয়ে ওঠে।
- প্রকাশভঙ্গির এই ভিন্নতা অনুযায়ী বাচ্য তিন প্রকার:
১. কর্তাবাচ্য,
২. কর্মবাচ্য ও
৩. ভাববাচ্য।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিত, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২৩ সংস্করণ)।
১৭.
'সে যেন আসে' - এটি কোন বাচ্যের উদাহরণ?
  1. কর্তৃবাচ্য
  2. কর্মবাচ্য
  3. ভাববাচ্য
  4. কর্মকর্তৃবাচ্য
ব্যাখ্যা
কর্তৃবাচ্য:
- যে বাক্যে কর্তার অর্থ-প্রধান্য রক্ষিত হয় এবং ক্রিয়াপদ কর্তার অনুসারী হয়, তাকে কর্তৃবাচ্য বলে।
যেমন:
- ছাত্ররা অঙ্ক করছে।
- শিক্ষক ছাত্রদের পড়ান।
- রোগী পথ্য সেবন করে।
- সে যেন আসে

অন্যদিকে,
কর্মবাচ্য:
- যে বাক্যে কর্মের সাথে ক্রিয়ার সম্বন্ধ প্রধানভাবে প্রকাশিত হয়, তাকে কর্মবাচ্য বলে।
যেমন:
- আলেকজান্ডার কর্তৃক পারস্য দেশ বিজিত হয়।
- চোরটা ধরা পড়েছে।

ভাববাচ্য:
- বাক্যের ক্রিয়া-বিশেষ্য বাক্যের ক্রিয়াকে নিয়ন্ত্রণ করে, তাকে ভাববাচ্য বলে। ভাববাচ্যের বাক্যকে কর্তৃবাচ্যে রূপান্তরিত করতে হলে কর্তায় প্রথমা বিভক্তি যুক্ত হয়।
যেমন:
- আমার যাওয়া হলো না।

কর্মকর্তৃবাচ্য:
- যে বাক্যে কর্মপদই কর্তৃস্থানীয় হয়ে বাক্য গঠন করে, তাকে কর্মকর্তৃবাচ্যের বাক্য বলে।
যেমন:
- কাজটা ভালো দেখায় না।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৮.
ভাববাচ্যের কর্তায় কোন বিভক্তি যুক্ত হয়?
  1. দ্বিতীয়া, তৃতীয়া, শূন্য
  2. শূন্য, তৃতীয়া, ষষ্ঠী
  3. শূন্য, দ্বিতীয়া, ষষ্ঠী
  4. ষষ্ঠী, দ্বিতীয়া
ব্যাখ্যা
ভাববাচ্য:
- যে বাচ্যে কর্ম থাকে না এবং বাক্যে ক্রিয়ার অর্থই বিশেষভাবে ব্যক্ত হয় তাকে ভাববাচ্য বলে।
- ভাববাচ্যের ক্রিয়া সর্বদাই নাম পুরুষের হয়।
- ভাববাচ্যের কর্তায় ষষ্ঠী, দ্বিতীয়া অথবা তৃতীয়া বিভক্তি প্রযুক্ত হয়।

যেমন:
- আমার (কর্তায় ষষ্ঠী) খাওয়া হলো না।
- আমাকে (কর্তায় দ্বিতীয়া) এখন যেতে হবে।
- তোমার দ্বারা (কর্তায় তৃতীয়) এ কাজ হবে না।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৯.
বাক্যস্থিত পদসমূহের অর্থগত ও ভাবগত মেলবন্ধনের নাম কী?
  1. আসত্তি
  2. আকাঙ্ক্ষা
  3. পূর্ণতা
  4. যোগ্যতা
ব্যাখ্যা
যোগ্যতা:
- বাক্যস্থিত পদসমূহের অর্থগত এবং ভাবগত মিলবন্ধনের নাম যোগ্যতা।
- বাক্যে ব্যবহৃত পদগুলো অর্থগত ও ভাবগত দিক থেকে মিলে গেলে সে বাক্য যোগ্যতা সম্পন্ন হবে।
যেমন- বর্ষাকালে বেশি বৃষ্টি হয়। পাখিরা আকাশে উড়ে। এ বাক্য দুটি যোগ্যতা সম্পন্ন বলে অর্থ প্রকাশে কোনো সমস্যা হয়নি।
- কারণ বাক্য দুটিতে ভাবগত ও অর্থগত সমন্বয় রয়েছে। কিন্তু যদি বলা হয়, বর্ষার রোদ্রে প্লাবনের সৃষ্টি হয়। মাছেরা আকাশে উড়ে।
- তাহলে বাক্য দুটি যোগ্যতা হারাবে। কারণ বাস্তবতার সঙ্গে বাক্য দুটির কোনো মিল নেই।
- বাক্যের অর্থ ও বাস্তবতার সাথে মিল থাকতে হবে। অর্থাৎ বাক্যস্থিত পদসমূহের অন্তর্গত ও ভাবগত মিলন বন্ধন থাকতে হবে।

অন্যদিকে,
আকাঙ্ক্ষা:
- বাক্যের অর্থ স্পষ্টকরণে এক পদের পর অন্য পদ শোনার যে ইচ্ছা বা প্রয়াস তাকে আকাঙ্ক্ষা বলে।
উদাহরণ- কাজল নিয়মিত লেখাপড়া।
- উপরের বাক্যটি অসম্পূর্ণ। অর্থাৎ বাক্যে আকাঙ্ক্ষা পূর্ণ হয়নি।
- বাক্যটিকে এভাবে পরিপূর্ণ করা যায়- কাজল নিয়মিত লেখাপড়া করে।

আসত্তি:
- বাক্যের অর্থসঙ্গতি রক্ষায় সুনির্দিষ্ট পদবিন্যাসই হলো আসত্তি।
উদাহরণ: নিয়মিত করে হাসান লেখাপড়া।
- বাক্যটির পদগুলো সন্নিবেশ না হওয়ায় অন্তর্নিহিত ভাব প্রকাশ হয়নি। তাই এটি আদর্শ বাক্য নয়।
- পরিপূর্ণ বাক্য গঠনে বাক্যের পদ্গুলো সাজাতে হবে- হাসান নিয়মিত লেখাপড়া করে।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াত মাহমুদ এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, সৌমিত্র শেখর ও বাংলা দ্বিতীয় পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।