পরীক্ষা আর্কাইভ

বাংলাবিদ (ব্যাকরণ)

পরীক্ষাবাংলাবিদ (ব্যাকরণ)তারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়07 minutes
মোট প্রশ্ন১৮
সিলেবাস
বাংলাবিদ ব্যাকরণ: পরীক্ষা ⎯ ১ টপিক: বাংলা ভাষা, বাংলা ব্যাকরণ ও আলোচ্য বিষয়, বাংলা লিপি, উপাদান ও উপকরণ [লাইভ ক্লাস ⎯ ১, ২ ও ৪১]
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলাবিদ (ব্যাকরণ)

বাংলাবিদ (ব্যাকরণ) · তারিখ অনির্ধারিত · ১৮ প্রশ্ন

.
ভাষা-পরিবারের নাম নয় কোনটি?
  1. দ্রাবিড়ীয়
  2. অস্ট্রো-এশীয় 
  3. সেমীয়-হেমীয়
  4. অস্ট্রীয়
ব্যাখ্যা

• ভাষা-পরিবারের নাম নয়- অস্ট্রীয়। 

• বাংলা ভাষা পরিবার:

- বাঙালি জনগোষ্ঠী যে ভাষা দিয়ে তাদের মনের ভাব প্রকাশ করে তার নাম বাংলা ভাষা।

- পৃথিবীর ভাষাগুলোকে ইন্দো-ইউরোপীয়, চীনা-তিব্বতীয়, আফ্রিকীয়, সেমীয়-হেমীয়, দ্রাবিড়ীয়, অস্ট্রো-এশীয় প্রভৃতি ভাষা-পরিবারে ভাগ করা হয়ে থাকে। ইংরেজি, জার্মান, ফরাসি, হিস্পানি, রুশ, পর্তুগিজ, ফারসি, হিন্দি, উর্দু, নেপালি, সিংহলি প্রভৃতি ভাষার মতো বাংলা ভাষায় ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষা পরিবারের সদস্য। 

- ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষা-পরিবারের আদি ভাষা বহু বিবর্তনের মধ্য দিয়ে বাংলা ভাষায় পরিণত হয়েছে। এই বিবর্তনে যেসব গুরুত্বপূর্ণ স্তর বাংলা ভাষাকে অতিক্রম করেতে হয়েছে।
সেগুলো হলো:
ইন্দো-ইউরোপীয় -  ইন্দো-ইরানীয় - ভারতীয় আর্য - প্রাকৃত - বাংলা।

- বাংলা ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষাবংশের শতম শাখার একটি ভাষা।
- বাংলা ভাষার নিকটতম আত্মীয় অহমিয়া ও ওড়িয়া। ধ্রুপদি ভাষা 'সংস্কৃত' এবং 'পালির' সঙ্গে বাংলা ভাষার রয়েছে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ-২০২১) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

.
বাংলা সাহিত্যে চলিত রীতির প্রবর্তক কে?
  1. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  2. প্রমথ চৌধুরী
  3. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর 
  4. রামমোহন রায় 
ব্যাখ্যা

• বাংলা সাহিত্যে চলিত রীতির প্রবর্তক প্রমথ চৌধুরী।

প্রমথ চৌধুরীর চলিত ভাষা নিয়ে গবেষণা:
- বাংলা ভাষার সাধু ও চলিত রূপের মধ্যে তুলনামূলক গবেষণা করেন প্রমথ চৌধুরী। বাংলা গদ্যে চলিত রীতির প্রবর্তক ও বিদ্রূপাত্মক প্রাবন্ধিক হলেন প্রমথ চৌধুরী।

- 'বীরবলেন হালখাতা' তাঁর রচিত প্রথম চলিত রীতির গদ্য রচনা। প্রমথ চৌধুরী রচিত 'বীরবলের হালখাতা' ১৯০২ সালে ভারতী পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়। এ গদ্য/প্রবন্ধ রচনায় তিনি প্রথম চলিত রীতির প্রয়োগ ঘটান।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসাএবং বাংলাপিডিয়া।

.
'প্রমিত রীতির' অপর নাম কী?
  1. মান রীতি
  2. আদর্শ রীতি
  3. প্রচলিত রীতি
  4. সহজ রীতি
ব্যাখ্যা

• প্রমিত রীতি:
- বিশ শতকের সূচনায় কলকাতার শিক্ষিত লোকের কথ্য ভাষাকে লেখ্য রীতির আদর্শ হিসেবে চালু করার চেষ্টা হয়। এটি তখন চলিত রীতি নামে পরিচিতি পায়। একুশ শতকের সূচনা নাগাদ এই চলিত রীতিরই নতুন নাম হয় ‘প্রমিত রীতি’। এটি ‘মান রীতি’ নামেও পরিচিত।

প্রমিত রীতির সাধারণ বৈশিষ্ট্য:
- প্রমিত রীতিতে ক্রিয়া, সর্বনাম ও অনুসর্গ হ্রস্বতর।
- প্রমিত রীতিতে প্রয়োজন অনুযায়ী সব ধরনের শব্দ ব্যবহার করা যায়।
যেমন: তৎসম ‘বৎসর’-ও লেখা যায় আবার তদ্ভব ‘বছর’-ও লেখা যায়।
- প্রমিত রীতিতে কথ্য রীতির বহু শব্দ বর্জনীয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।

.
বাংলা ভাষার বোন ভাষা বলা হয়-  
  1. বৈদিক ভাষাকে
  2. পালি ভাষাকে 
  3. অসমীয়া ভাষাকে
  4. সিংহলি ভাষাকে
ব্যাখ্যা

• বাংলা ও অসমীয়া ভাষাকে 'বোন ভাষা’ বলা হয়।

- কারণ, বাংলা, অসমীয়া ও উড়িয়া- এই তিনটি ভাষা একই উৎস থেকে উৎপন্ন, অর্থাৎ মাগধী প্রাকৃত ভাষা থেকে। তাই এদেরকে একই পরিবারের ভাষা বলা হয়। এবং বঙ্গকামরূপি ভাষা থেকে জন্ম বলে বাংলাকে অসমিয়া ভাষার সহোদর বা 'বোন ভাষা’ (sister languages) বলা হয়। 

উৎস:
➤ সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় – Origin and Development of the Bengali Language গ্রন্থে, তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে বাংলা, অসমীয়া ও ওড়িয়া ভাষা—এই তিনটি ভাষা মাগধী প্রাকৃত থেকে উদ্ভূত এবং তাই এরা বোন ভাষা।

➤ হারপ্রসাদ শাস্ত্রী – বাংলা ভাষার ইতিহাস গ্রন্থে বলা হয়েছে যে বাংলা, অসমীয়া ও ওড়িয়া একই উৎসভিত্তিক, অর্থাৎ তারা একে অপরের "বোন ভাষা"।

➤ বাংলা একাডেমি: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও ইতিহাস, বাংলা একাডেমির প্রকাশনাগুলোতেও (যেমন বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, ভাষাতত্ত্ব ও ব্যুৎপত্তি, ইত্যাদি) এই বক্তব্যের সমর্থন রয়েছে।

➤ বিশ্বকোষ (বাংলাপিডিয়া) Banglapedia (National Encyclopedia of Bangladesh)–এও উল্লেখ আছে যে বাংলা, অসমীয়া ও ওড়িয়া ভাষা পূর্বভারতীয় আর্যভাষাগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত এবং এরা একে অপরের বোন ভাষা।

.
'বাক্যতত্ত্বের' আলোচ্য বিষয় নয় কোনটি?
  1. বাক্য রূপান্তর
  2. বাক্যের উপাদান লোপ
  3. বাক্যের ব্যঞ্জনা
  4. বাক্যের যোগ্যতা
ব্যাখ্যা

• অর্থতত্ত্ব:
- ব্যাকরণের যে অংশে শব্দ, বর্গ ও বাক্যের অর্থ নিয়ে আলোচনা করা হয়, সেই অংশের নাম অর্থতত্ত্ব। একে বাগর্থতত্ত্বও বলা হয়।
- বিপরীত শব্দ, প্রতিশব্দ, শব্দজোড়, বাগ্‌ধারা প্রভৃতি বিষয় অর্থতত্ত্বের অন্তর্ভুক্ত।
- এছাড়া শব্দ, বর্গ ও বাক্যের ব্যঞ্জনা নিয়েও ব্যাকরণের এই অংশে আলোচনা থাকে।

অন্যদিকে,
---------------
• বাক্যতত্ত্ব:
- বাক্যতত্ত্বে বাক্য নিয়ে আলোচনা করা হয়। 'বাক্যের নির্মাণ এবং এর গঠন' বাক্যতত্ত্বের মূল আলোচ্য।
- বাক্যের মধ্যে পদ ও বর্গ কীভাবে বিন্যস্ত থাকে, বাক্যতত্ত্বে তা বর্ণনা করা হয়।
- এছাড়া এক ধরনের বাক্যকে অন্য ধরনের বাক্যে রূপান্তর, বাক্যের বাচ্য, উক্তি ইত্যাদি বাক্যতত্ত্বের আলোচ্য বিষয়।
- কারক বিশ্লেষণ, বাক্যের যোগ্যতা, বাক্যের উপাদান লোপ, যতিচিহ্ন প্রভৃতিও বাক্যতত্ত্বে আলোচিত হয়ে থাকে।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।

.
পর্তুগিজ ভাষায় বাংলা ব্যাকরণ রচনা করেন কে?
  1. জন ক্লার্ক মার্শম্যান
  2. ম্যানোয়েল দ্যা আসসুম্পসাঁউ
  3. হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও
  4.  নাথিনিয়েল ব্রাসি হ্যালহেড
ব্যাখ্যা

ম্যানোয়েল দ্যা আসসুম্পসাঁউ পর্তুগিজ ভাষায় রচিত Vocabulario em Idioma Bengalla E Portugues (1743) গ্রন্থের একটা অধ্যায়ে পর্তুগিজ ভাষায় প্রথম বাংলা ব্যাকরণ লেখেন। কিন্তু সেটা কোনো গ্রন্থ ছিল না, একটা অধ্যায় ছিল মাত্র।

উল্লেখ্য:
• বাংলা ভাষার প্রথম ব্যাকরণগ্রন্থ লেখেন এন বি নাথিনিয়েল ব্রাসি হ্যালহেড। এটি ইংরেজিতে লেখা হয়। এই বইয়ের নাম ছিল - A Grammar of the Bengal Language (1778)।

• আর বাংলা ভাষায় বাংলা ব্যাকরণ প্রথম লেখেন রাজা রামমোহন রায়। এই বইয়ের নাম ছিল ‘গৌড়ীয় ব্যাকরণ’ (১৮৩৩)।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ)।

.
বাক্যের মৌলিক উপাদান কোনটি?
  1. শব্দ
  2. বর্ণ 
  3. ধ্বনি 
  4. অক্ষর 
ব্যাখ্যা

- ভাষার মূল উপাদান- 'ধ্বনি'।
- বাক্যের মৌলিক উপাদান/ক্ষুদ্রতম - শব্দ।
- ভাষার মূল উপকরণ/প্রাণ - বাক্য।
- ভাষার মূল উপদান/ক্ষুদ্রতম একক - ধ্বনি এবং
- বর্ণ হচ্ছে শব্দের গঠনগত একক।

উল্লেখ্য,
বাক্যের ক্ষুদ্রতম একক/উপাদান হলো 'ধ্বনি'। কিন্তু বাক্যের মৌলিক উপাদান শব্দ। বাক্যের ক্ষেত্রে মৌলিক কথাটি উল্লেখ থাকলে উত্তর শব্দ হবে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

.
বাংলা কোন ভাষাবংশের শতম শাখাভুক্ত ভাষা?
  1. প্রাকৃত
  2. ইন্দো-ইউরোপীয়
  3. ভারতীয় আর্য
  4. ইন্দো-ইরানীয়
ব্যাখ্যা

• বাংলা ভাষা পরিবার:
- বাঙালি জনগোষ্ঠী যে ভাষা দিয়ে তাদের মনের ভাব প্রকাশ করে তার নাম বাংলা ভাষা।

- পৃথিবীর ভাষাগুলোকে ইন্দো-ইউরোপীয়, চীনা-তিব্বতীয়, আফ্রিকীয়, সেমীয়-হেমীয়, দ্রাবিড়ীয়, অস্ট্রো-এশীয় প্রভৃতি ভাষা-পরিবারে ভাগ করা হয়ে থাকে। ইংরেজি, জার্মান, ফরাসি, হিস্পানি, রুশ, পর্তুগিজ, ফারসি, হিন্দি, উর্দু, নেপালি, সিংহলি প্রভৃতি ভাষার মতো বাংলা ভাষায় ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষা পরিবারের সদস্য। 

- ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষা-পরিবারের আদি ভাষা বহু বিবর্তনের মধ্য দিয়ে বাংলা ভাষায় পরিণত হয়েছে। এই বিবর্তনে যেসব গুরুত্বপূর্ণ স্তর বাংলা ভাষাকে অতিক্রম করেতে হয়েছে।
সেগুলো হলো:
ইন্দো-ইউরোপীয় -  ইন্দো-ইরানীয় - ভারতীয় আর্য - প্রাকৃত - বাংলা।

- বাংলা ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষাবংশের শতম শাখার একটি ভাষা।
- বাংলা ভাষার নিকটতম আত্মীয় অহমিয়া ও ওড়িয়া। ধ্রুপদি ভাষা 'সংস্কৃত' এবং 'পালির' সঙ্গে বাংলা ভাষার রয়েছে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ-২০২১) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

.
'বিপরীত শব্দ' ব্যাকরণের কোন তত্ত্বে আলোচিত হয়?
  1. শব্দতত্ত্বে 
  2. বাক্যতত্ত্বে 
  3. অর্থতত্ত্বে
  4. ধ্বনিতত্ত্বে
ব্যাখ্যা

'বিপরীত শব্দ' ব্যাকরণের অর্থতত্ত্বে আলোচিত হয়।

• ব্যাকরণের আলোচ্য বিষয়:
- ব্যাকরণের আলোচ্য বিষয়কে অন্তত চারটি ভাগে ভাগ করা যায়।
যথা-
১। ধ্বনিতত্ত্ব।
২। রূপতত্ত্ব।
৩। বাক্যতত্ত্ব ও
৪। অর্থতত্ত্ব।

• অর্থতত্ত্ব:
- ব্যাকরণের যে অংশে শব্দ, বর্গ ও বাক্যের অর্থ নিয়ে আলোচনা করা হয়, সেই অংশের নাম অর্থতত্ত্ব।
- একে বাগর্থতত্ত্বও বলা হয়।
- বিপরীত শব্দ, প্রতিশব্দ, শব্দজোড়, বাগ্‌ধারা প্রভৃতি বিষয় অর্থতত্ত্বের অন্তর্ভুক্ত।
- এছাড়া শব্দ, বর্গ ও বাক্যের ব্যঞ্জনা নিয়েও ব্যাকরণের এই অংশে আলোচনা থাকে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২-সংস্করণ)।

১০.
ভাষার সৃষ্টি হয়- 
  1. ধ্বনির সাহায্যে
  2. বর্ণের সাহায্যে
  3. বাক্যের সাহায্যে
  4. পদের সাহায্যে
ব্যাখ্যা

• ভাষার সংজ্ঞা:
মানুষ তার মনের ভাব অন্যের কাছে প্রকাশ করার জন্য কণ্ঠধ্বনি এবং হাত, পা, চোখ ইত্যাদি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের সাহায্যে ইঙ্গিত করে থাকে। কণ্ঠধ্বনির সাহায্যে মানুষ যত বেশি পরিমাণ মনোভাব প্রকাশ করতে পারে, ইঙ্গিতের সাহায্যে ততটা পারে না। আর কণ্ঠধ্বনির সহায়তায় মানুষ মনের সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম ভাবও প্রকাশ করতে সমর্থ হয়। কণ্ঠধ্বনি বলতে মুখগহ্বর, কণ্ঠ, নাক ইত্যাদির সাহায্যে উচ্চারিত বোধগম্য ধ্বনি বা ধ্বনি সমষ্টিকে বোঝায়।

এই ধ্বনিই ভাষার মূল উপাদান। এই ধ্বনির সাহায্যে ভাষার সৃষ্টি হয়। আবার ধ্বনির সৃষ্টি হয় বাগ্যন্ত্রের দ্বারা। গলনালি, মুখবিবর, কণ্ঠ, জিহ্বা, তালু, দাঁত, নাক ইত্যাদি বাক্ প্রত্যঙ্গকে এক কথায় বলে বাগ্যন্ত্র। এই বাগযন্ত্রের দ্বারা উচ্চারিত অর্থবোধক ধ্বনির সাহায্যে মানুষের ভাব প্রকাশের মাধ্যমকে ভাষা বলে।

সকল মানুষের ভাষাই বাগযন্ত্রের দ্বারা সৃষ্ট। তবুও একই ধ্বনি বা ধ্বনিসমষ্টির অর্থ বিভিন্ন মানবগোষ্ঠীর ক্ষেত্রে বিভিন্ন রকম হতে পারে। এ কারণে বিভিন্ন মানবগোষ্ঠীর জন্য আলাদা আলাদা ভাষার সৃষ্টি হয়েছে।

মানুষের কণ্ঠনিঃসৃত বাক্ সংকেতের সংগঠনকে ভাষা বলা হয়। অর্থাৎ বাগযন্ত্রের দ্বারা সৃষ্ট অর্থবোধক ধ্বনির সংকেতের সাহায্যে মানুষের ভাব প্রকাশের মাধ্যমই হলো ভাষা।

উৎস : ভাষা-শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

১১.
'এককথায় প্রকাশ' ব্যাকরণের কোন অংশে আলোচিত হয়?
  1. অর্থতত্ত্বে 
  2. বাক্যতত্ত্বে 
  3. রূপতত্ত্বে 
  4. ধ্বনিতত্ত্বে  
ব্যাখ্যা

• বাক্যতত্ত্ব বা পদক্রম (Syntax): 
বাক্য সংক্রান্ত সবকিছু আলোচিত হবে। যেমন: বাক্য প্রকরণ, বাক্যে পদ-সংস্থাপন, বাক্য সংকোচন বা এককথায় প্রকাশ ইত্যাদি।

গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার মধ্যে রয়েছে-
১. বাচ্য: বাচ্যে (Voice) বাক্যের গঠনগত পরিবর্তন হয়। সুতরাং বাচ্য বাক্যতত্ত্বে আলোচিত হয়।
২. উক্তি: উক্তিতে (Narration) বাক্যের গঠনগত পরিবর্তন হয়। সুতরাং উক্তি বাক্যতত্ত্বে আলোচিত হয়।
৩. যতি বা ছেদ বা বিরামচিহ্ন যতি বা ছেদ বা বিরাম চিহ্ন বাক্যে ব্যবহৃত হয়। সুতরাং যতি বা ছেদ বা বিরাম চিহ্ন বাক্যতত্ত্বে আলোচিত হবে।
৪. পদ পরিবর্তন: শব্দ যখন বাক্যে ব্যবহৃত হয় তখন তাকে পদ বলে। পদ যেহেতু বাক্যে ব্যবহৃত হয় সেহেতু পদ পরিবর্তন বাক্যতত্ত্বে আলোচিত হবে।
যেমন:
দরিদ্রকে দান কর।
দরিদ্র লোকটিকে দান কর।

সরল লোকটিকে ভালো লাগে।
সরলতা একটি গুণ।

৫. কারক: ক্রিয়া পদের সঙ্গে নাম পদের সম্পর্ক হলো কারক। সুতরাং কারক বাক্যতত্ত্বে আলোচিত হবে।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২১-সংস্করণ)।

১২.
'A Grammar of the Bengalee Language' গ্রন্থটি কার রচনা?
  1. মানোএল দা আসসুম্পসাঁউ
  2. ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
  3. নাথানিয়েল ব্রাসি হ্যালহেড
  4. উইলিয়াম কেরি 
ব্যাখ্যা

• ১৮০১ সালে উইলিয়াম কেরি ইংরেজি ভাষায় বাংলা ব্যাকরণ রচনা করেন। উইলিয়াম কেরির ইংরেজি ভাষায় রচিত বাংলা ব্যাকরণ 'A Grammar of the Bengalee Language' (১৮০১)। ১৮৪৬ খ্রিস্টাব্দে জন রবিনসন এই গ্রন্থের বঙ্গানুবাদ প্রকাশ করেন।

- ১৮০১ সালে প্রকাশিত উইলিয়াম কেরি-এর A Grammar of the Bengalee Language বাংলা ভাষার দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ ব্যাকরণ, যা ইংরেজি ভাষারীতি অনুসরণ করে রচিত হয়েছিল এবং এটি ছিল বাংলা হরফে মুদ্রিত প্রথম ব্যাকরণগুলোর মধ্যে একটি। 

- এর পূর্বে নাথানিয়েল ব্রাসি হ্যালহেড ১৭৭৮ সালে A Grammar of the Bengal Language রচনা করেন, যা ছিল বাংলা হরফ ব্যবহৃত সর্বপ্রথম ব্যাকরণ। 

-----------------------
• প্রথম বাংলা ব্যাকরণ প্রকাশিত হয় ১৭৪৩ সালে পর্তুগিজ ভাষায়। এর লেখক ছিলেন মানোএল দা আসসুম্পসাঁউ। তাঁর বাংলা-পর্তুগিজ অভিধানের ভূমিকা অংশ হিসেবে তিনি এটি রচনা করেন।

• এরপর ১৭৭৮ সালে প্রকাশিত হয় নাথানিয়েল ব্রাসি হ্যালহেড প্রণীত ইংরেজি ভাষায় রচিত পূর্ণাঙ্গ একটি বাংলা ব্যাকরণ।
- বইটির নাম ‘এ গ্রামার অব দি বেঙ্গল ল্যাঙ্গুয়েজ'।

• রামমোহন রায় প্রথমে ইংরেজি ভাষায় বাংলা ব্যাকরণ রচনা করেন। ১৮৩৩ সালে প্রকাশিত রামমোহন রায়ের ‘গৌড়ীয় ব্যাকরণ' বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম বাংলা ব্যাকরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ- ২০২১) এবং বাংলাপিডিয়া।

১৩.
চলিত রীতির বৈশিষ্ট্য নয় কোনটি?
  1. সহজবোধ্য 
  2. তৎসম শব্দবহুল
  3. পরিবর্তনশীল
  4. এ রীতি সংক্ষিপ্ত
ব্যাখ্যা

• চলিত রীতির বৈশিষ্ট্য নয়- তৎসম শব্দবহুল। 

------------------
• চলিত রীতি:
- চলিত রীতি পরিবর্তনশীল।
- একশ বছর আগে যে চলিত রীতি সে যুগের শিষ্ট ও ভদ্রজনের কথিত ভাষা বা মুখের বুলি হিসেবে প্রচলিত ছিল, কালের প্রবাহে বর্তমানে তা অনেকটা পরিবর্তিত রূপ লাভ করেছে। এ রীতি তদ্ভব শব্দবহুল।
- চলিত রীতি সংক্ষিপ্ত ও সহজবোধ্য এবং বক্তৃতা, আলাপ-আলোচনা ও নাট্যসংলাপের জন্য বেশি উপযোগী।
- সাধু রীতিতে ব্যবহৃত সর্বনাম ও ক্রিয়াপদ চলিত রীতিতে পরিবর্তিত ও সহজতর রূপ লাভ করে।
- বহু বিশেষ্য ও বিশেষণের ক্ষেত্রেও এমনটি ঘটে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

১৪.
ব্রাহ্মী লিপির কয়টি রূপ?
  1. চারটি 
  2. তিনটি 
  3. দুইটি 
  4. একটি 
ব্যাখ্যা

• বাংলা লিপির সৃষ্টি:
- এই উপমহাদেশে আর্য ভাষার প্রাচীনতম যে বর্ণমালার সন্ধান পাওয়া যায় তা খ্রিষ্টপূর্ব তৃতীয় শতকের, অশোকের অনুশাসনের সময়ের।
- বগুড়ার মহাস্থানগড়ে যে লিপি পাওয়া গেছে উভয় প্রাপ্ত লিপির সাদৃশ্য আছে। এই লিপিকে ব্রাহ্মী লিপি বলে।
- ব্রাহ্মী লিপি কুষাণ ও গুপ্ত রাজাদের আমলে পরিবর্তিত হয়ে তিনটি রূপ ধারণ করে। যথা:
১. সারদা (কাশ্মির ও পাঞ্জাবে প্রচলিত রূপ),
২. নাগর (রাজস্থান ও মালব; গুজরাট ও মধ্যপ্রদেশে প্রচলিত রূপ) ও
৩. কুটিল (ভারতের পূর্বাঞ্চলে প্রচলিত রূপ)।

- বাংলা লিপি ব্রাহ্মী লিপির এই কুটিল রূপ থেকে সৃষ্টি হয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১৫.
'ক্রিয়া' নিয়ে ব্যাকরণের কোন অংশে আলোচনা থাকে?
  1. অর্থতত্ত্বে 
  2. ধ্বনিতত্ত্বে 
  3. রূপতত্ত্বে 
  4. বাক্যতত্ত্বে 
ব্যাখ্যা

• রূপতত্ত্ব:
- রূপতত্ত্বে শব্দ ও তার উপাদান নিয়ে আলোচনা করা হয়।
- এই আলোচনায় বিশেষ্য, সর্বনাম, বিশেষণ, ক্রিয়া, ক্রিয়াবিশেষণ ইত্যাদি স্থান পায়।
- বিশেষ গুরুত্ব পায় 'শব্দগঠন প্রক্রিয়া'।

অন্যদিকে,
----------------
• অর্থতত্ত্ব:
- ব্যাকরণের যে অংশে শব্দ, বর্গ ও বাক্যের অর্থ নিয়ে আলোচনা করা হয়, সেই অংশের নাম অর্থতত্ত্ব। একে বাগর্থতত্ত্বও বলা হয়।
- বিপরীত শব্দ, প্রতিশব্দ, শব্দজোড়, বাগ্‌ধারা প্রভৃতি বিষয় অর্থতত্ত্বের অন্তর্ভুক্ত।
- এছাড়া শব্দ, বর্গ ও বাক্যের ব্যঞ্জনা নিয়েও ব্যাকরণের এই অংশে আলোচনা থাকে।

• ধ্বনিতত্ত্ব:
- ধ্বনিতত্ত্বের আলোচ্য বিষয় ধ্বনি।
- লিখিত ভাষায় ধ্বনিকে যেহেতু বর্ণ দিয়ে প্রকাশ করা হয়, তাই বর্ণমালা সংক্রান্ত আলোচনা এর অন্তর্ভুক্ত।
- ধ্বনিতত্ত্বের মূল আলোচ্য বাগ্‌যন্ত্র, বাগ্‌যন্ত্রের উচ্চারণ-প্রক্রিয়া, ধ্বনির বিন্যাস, স্বর ও ব্যঞ্জনধ্বনির বৈশিষ্ট্য, ধ্বনিদল প্রভৃতি।

বাক্যতত্ত্ব:
- বাক্যতত্ত্বে বাক্য নিয়ে আলোচনা করা হয়।
- 'বাক্যের নির্মাণ এবং এর গঠন' বাক্যতত্ত্বের মূল আলোচ্য।
- বাক্যের মধ্যে পদ ও বর্গ কীভাবে বিন্যস্ত থাকে, বাক্যতত্ত্বে তা বর্ণনা করা হয়।
- এছাড়া এক ধরনের বাক্যকে অন্য ধরনের বাক্যে রূপান্তর, বাক্যের বাচ্য, উক্তি ইত্যাদি বাক্যতত্ত্বের আলোচ্য বিষয়।
- কারক বিশ্লেষণ, বাক্যের যোগ্যতা, বাক্যের উপাদান লোপ, যতিচিহ্ন প্রভৃতিও বাক্যতত্ত্বে আলোচিত হয়ে থাকে।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।

১৬.
সাধু রীতির শব্দ কোনটি?
  1. শুকনা
  2. মাথা
  3. বুনো
  4. জুতো
ব্যাখ্যা

• বাংলা ভাষারীতি:
- বাংলা, ইংরেজি, আরবি, হিন্দি প্রভৃতি ভাষার মৌখিক বা কথ্য এবং লৈখিক বা লেখ্য এই দুটি রূপ দেখা যায়।
- ভাষার মৌখিক রূপের আবার রয়েছে একাধিক রীতি: একটি চলিত কথ্য রীতি, অপরটি আঞ্চলিক কথ্য রীতি।
- বাংলা ভাষার লৈখিক বা লেখ্য রূপেরও রয়েছে দুটি রীতি: একটি চলিত রীতি, অপরটি সাধু রীতি।

• সাধু ও চলিত রীতির পার্থক্য:
সাধু - চলিত:
মস্তক - মাথা;
জুতা - জুতো;
তুলা - তুলো;
শুষ্ক / শুকনা - শুকনো;
বন্য - বুনো।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (২০১৯ সংস্করণ)।

১৭.
ধ্রুপদী ভাষা কোনটি?
  1. সংস্কৃত
  2. বাংলা
  3. মারাঠি
  4. উপরের সবগুলোই 
ব্যাখ্যা

• ধ্রুপদী ভাষা:
ধ্রুপদী ভাষা হলো সেই প্রাচীন ভাষাগুলোর সমষ্টি যেগুলোর একটি সমৃদ্ধ সাহিত্যিক ঐতিহ্য রয়েছে এবং যারা ১৫০০ বছর বা তারও বেশি পুরনো।

এই ভাষাগুলো সাধারণত অত্যন্ত প্রাচীন এবং এদের নিজস্ব সাহিত্যিক ধারা গড়ে উঠেছে, যেমন- সংস্কৃত, তামিল, গ্রিক, লাতিন, চীনা এবং আরবি। সম্প্রতি, ভারত সরকার বাংলা, মারাঠি, পালি, প্রাকৃত এবং অসমিয়াকেও ধ্রুপদী ভাষার মর্যাদা দিয়েছে।  

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ), ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলাপিডিয়া।

১৮.
'বিরাম চিহ্ন' ব্যাকরণের কোন অংশের আলোচ্য বিষয়?
  1. শব্দতত্ত্ব  
  2. ধ্বনিতত্ত্ব 
  3. বাক্যতত্ত্ব
  4. অর্থতত্ত্ব 
ব্যাখ্যা

• যতি বা ছেদ বা বিরাম চিহ্ন বাক্যে ব্যবহৃত হয়। সুতরাং যতি বা ছেদ বা বিরাম চিহ্ন বাক্যতত্ত্বে আলোচিত হবে।

---------------
• বাক্যতত্ত্ব:
- বাক্যতত্ত্বে বাক্য নিয়ে আলোচনা করে। বাক্যের নির্মাণ ও গঠন বাক্যতত্ত্বের আলোচ্য বিষয়।
- বাক্যের মধ্যে পদ ও বর্গ কীভাবে বিন্যস্ত থাকে, বাক্যতত্ত্বে তা বর্ণনা করে।
- তাছাড়া এক ধরনের বাক্যকে অন্য ধরনের বাক্যে রূপান্তর, বাক্যের বাচ্য, উক্তি ইত্যাদি বাক্যতত্ত্বের আলোচ্য বিষয়।
- কারক বিশ্লেষণ, বাক্যের যোগ্যতা, বাক্যের উপাদান লোপ, যতিচিহ্ন প্রভৃতিও বাক্যতত্ত্বে আলোচনা করা হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ)।