অধ্যায়-৩: ইকোসিস্টেম ইকোলজি
২। পরভোজী বা হেটেরোট্রফিক উপাদান (Heterotrophic components): ইকোসিস্টেমের স
উপাদানের অন্তর্ভুক্ত যেসব জীব খাদ্য উৎপাদনে অক্ষম এবং যারা খাদ্যের জন্য প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে উৎপাদ উপর নির্ভর করে তাদের পরভোজী উপাদান বা খাদক বা কনজিউমার (Consumer) বলে। ইকোসিস্টেমে এই খাদক বা কনজিউমারকে প্রধানত দুটি ভাগে ভাগে করা হয়, যথা-ম্যাক্রোকনজিউমার (Macroconsumer) মাইক্রোকনজিউমার (Microconsumer)।
(1) ম্যাক্রোকনজিউমার (Macroconsumer): বৃহৎ আকৃতিসম্পন্ন খাদক বা কনজিউমার
ম্যাক্রোকনজিউমার বলে। এই প্রকার খাদক প্রাণী কতগুলো শ্রেণিতে বিভক্ত, যথা-শাকাশী বা হার্বিভোরস এ মাংসাশী বা কার্নিভোরস (Carnivores)। শাকাশী খাদকদের প্রাথমিক খাদক বা প্রথম শ্রেণির খাদক বলে। মাংসা খাদক আবার দু-প্রকার, যথা- গৌণ খাদক বা দ্বিতীয় শ্রেণির খাদক বা প্রগৌণ খাদক বা তৃতীয় শ্রেণির খাদকা সুতরাং পুষ্টিস্তর অনুসারে ম্যাক্রোকনজিউমারকে তিনটি শ্রেণিতে ভাগ করা যায়, যথা
৫) প্রাথমিক বা প্রাইমারি খাদক (Primary consumer): যে শ্রেণির খাদক সরাসরি উৎপাদকনে
খাদ্যরূপে গ্রহণ করে তাকে প্রাথমিক খাদক বা প্রথম শ্রেণির খাদক বলে। যেহেতু এরা উদ্ভিদ ভক্ষণ করে সেহেত এদের শাকাশী বা হার্বিভোরাস প্রাণী বলে। উদাহরণ কীটপতঙ্গ, শামুক, গিণিপিগ, খরখোশ, গরু, ছাগল, ভেড় ইত্যাদি তৃণভোজী প্রাণী।
b) গৌণ বা সেকেন্ডারি খাদক (Secondary consumer): যে শ্রেণির খাদক প্রাথমিক খাদককে খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করে তাকে গৌণ খাদক বা দ্বিতীয় শ্রেণির খাদক বলে। উদাহরণ ছোট মাছ, ব্যাঙ, গিরগিটি, টিকটিকি, ছোটো পাখি, কুকুর, বিড়াল ইত্যাদি।
জীব। ৫) টারসিয়ারি খাদক বা প্রগৌণ খাদক (Tertiary consumer): যে শ্রেণির খাদক গৌণ খাদককে খাদ্য হিসেবে যেন গ্রহণ করে তাকে প্রগৌণ খাদক বা তৃতীয় শ্রেণির খাদক বলে। একে সর্বোচ্চ শ্রেণির খাদকও বলা হয়। শোল, বোয়াল, জাম্পার হাঙর, বাঘ, সিংহ ইত্যাদি। এক্ষেত্রে উল্লেখ করা যায় যে, কোন কোন সময় প্রগৌণ বা তৃতীয় শ্রেণির খাদককে খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করে চতুর্থ শ্রেণির খাদক। উদাহরণ- ময়ূর, বাজপাখি ইত্যাদি।
*
(ii) মাইক্রোকনজিউমার (Microconsumer): ক্ষুদ্র আকৃতিসম্পন্ন আণুবীক্ষণিক খাদক বা কনজিউমারকে মাইক্রোকনজিউমার বলে। এদের সাধারণ বিয়োজক (Decomposer) বলা হয়। মৃতজীবী ব্যাকটেরিয়া, ছত্রাক ইত্যাদি মাইক্রোকনজিউমারের উদাহরণ। এরা উৎপাদক ও খাদক প্রাণীর মৃতদেহের শটন বা বিয়োজন ঘটিয়ে নিজেদের খাদ্য সংগ্রহ করে। এরা প্রথম ধাপে মৃতদেহের জটিল জৈব যৌগ থেকে সরল জৈব যৌগ গঠন করে, এরা জৈব যৌগকে অজৈব যৌগে পরিণত করে পরিবেশে ফিরিয়ে দেয়। উৎপাদকেরা পরিবেশ হতে এইসব উপাদান পুনরায় গ্রহণ করে খাদ্য উৎপাদন করে।
উপরোক্ত আলোচনার ভিত্তিতে বলা যায় যে, ইকোসিস্টেমের দুটি প্রধান পর্যায় রয়েছে যাদের একটি হলো অত্যাবশ্যক পর্যায় এবং অপরটি অনত্যাবশ্যক পর্যায়।