পরীক্ষা আর্কাইভ

৪৫ দিনে ৫০তম বিসিএস প্রস্তুতি [বিষয়ভিত্তিক] - Archived

পরীক্ষা৪৫ দিনে ৫০তম বিসিএস প্রস্তুতি [বিষয়ভিত্তিক] - Archivedতারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়14 minutes
মোট প্রশ্ন৪০
সিলেবাস
পরীক্ষা - ৫: বিষয়ের: বাংলা সাহিত্য সিলেবাস: ১. প্রাচীন যুগ ২. মধ্যযুগ ৩. ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সাহিত্য ৪. বাংলা সাহিত্যের গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র, সংলাপ, উক্তি। ৫. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও কাজী নজরুল ইসলাম উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ষষ্ঠ থেকে উচ্চমাধ্যমিক সাহিত্য পাঠ বোর্ড বই, বাংলাপিডিয়া, লাল নীল দীপাবলি, যেকোনো গাইড বই ইত্যাদি।
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

৪৫ দিনে ৫০তম বিসিএস প্রস্তুতি [বিষয়ভিত্তিক] - Archived

৪৫ দিনে ৫০তম বিসিএস প্রস্তুতি [বিষয়ভিত্তিক] - Archived · তারিখ অনির্ধারিত · ৪০ প্রশ্ন

.
বৌদ্ধ ধর্মের তত্ত্বকথা রয়েছে নিচের কোন গ্রন্থে?
  1. গীতগোবিন্দম্
  2. শূন্যপুরাণ
  3. শ্রীকৃষ্ণকীর্তন
  4. ভাগবত 
ব্যাখ্যা

• 'শূন্যপুরাণ':
- রামাই পণ্ডিত রচিত 'ধর্মপূজার শাস্ত্রগ্রন্থ'- 'শূন্যপুরাণ'।
- এটি বিশেষভাবে ধর্মপূজাপদ্ধতি। তে বৌদ্ধ ধর্মের তত্ত্বকথা রয়েছে।
- গদ্যপদ্যে মিশ্রিত এই গ্রন্থটি একপ্রকারের চম্পুকাব্য।
- গ্রন্থটি ৫১টি অধ্যায়ে বিভক্ত। এর প্রথম ৫টি অধ্যায় সৃষ্টিতত্ত্ব সম্বন্ধীয়।
-গ্রন্থটি অন্ধকার যুগের সাহিত্য নিদর্শন। কারো মতে এটি ত্রয়োদশ থেকে অষ্টাদশ শতাব্দীর মধ্যে রচিত।
- শূন্যপুরাণ নামহীন অবস্থায় পাওয়া গিয়েছিল। বিশ্বকোষ প্রণেতা নাগেন্দ্রনাথ বসু তিনটি পুথির পাঠ সংগ্রহ করে ১৩১৪ বঙ্গাব্দে 'বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ' শূন্যপুরাণ নামকরন করে প্রকাশ করেন। 'নিরঞ্জনের উষ্মা' শূন্যপুরাণের  অন্তর্গত একটি কবিতা।

অন্যদিকে, 
• গীতগোবিন্দম্: জয়দেবের বিখ্যাত রচনা 'গীতগোবিন্দম্' কাব্যটি আদি বৈষ্ণব পদাবলির নিদর্শন। এটি একটি সংস্কৃত গীতিকাব্য। রাধাকৃষ্ণের প্রেমলীলা এর মুখ্য বিষয়।
• 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' কাব্য: মধ্যযুগে রচিত বাংলা ভাষার প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন'। শ্রীকৃষ্ণকীর্তন গীতি-আলেখ্য। রাধাকৃষ্ণের প্রণয়লীলা এর বিষয়বস্তু।
• 'ভাগবত' পুরাণ বিষ্ণুভক্তি বা বৈষ্ণবধর্মকেন্দ্রিক। বিশেষত ভগবান কৃষ্ণের লীলা, গোপীগণ ও ভক্তির মাহাত্ম্য এখানে বিশদভাবে বর্ণিত।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

.
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপন্যাস নয় কোনটি?
  1. অনিল বাগচীর একদিন
  2. জাহান্নম হইতে বিদায়
  3. জীবন আমার বোন
  4. কালো বরফ
ব্যাখ্যা

• 'কালো বরফ' উপন্যাস:
- ১৯৭৭ সালের ২১-৩০ আগস্ট মাহমুদুল হক রচনা করেন 'কালো বরফ' উপন্যাসটি, কিন্তু এর প্রকাশকাল অনেক পরে ১৯৯২ সালে।
- এটি ছেচল্লিশের দাঙ্গা ও ১৯৪৭ সালের দেশভাগকে কেন্দ্র করে রচিত।
- উপন্যাসটিতে হিন্দু-মুসলমানের বিরোধ-দাঙ্গা, দ্বেষ-ক্ষোভ এবং মিলন-বিরহ পরিস্ফুটিত হয়েছে।
- উপন্যাসের প্রধান চরিত্র- আব্দুল খালেক।

অন্যদিকে, 
• 'অনিল বাগচীর একদিন' ১৯৯২ সালে প্রকাশিত হুমায়ূন আহমেদ রচিত মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপন্যাস।
• 'জাহান্নম হইতে বিদায়' বইটি শওকত ওসমানের একটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস।
• মাহমুদুল হক রচিত 'জীবন আমার বোন' একটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

.
'হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধ গান ও দোহা' শিরোনামে চর্যাপদের পুথি প্রকাশ করেন কে?
  1. প্রবোধচন্দ্র বাগচী
  2. সুকুমার সেন 
  3. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী 
  4. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা

হরপ্রসাদ শাস্ত্রী নেপালের রাজ দরবারের গ্রন্থাগার থেকে ১৯০৭ সালে চর্যাপদ আবিষ্কার করেন এবং ১৯১৬ সালে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে 'হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধ গান ও দোহা' শিরোনামে প্রকাশ করে।
• মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর 'হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধ গান ও দোহা' গ্রন্থে চারটি পুঁথি সংকলিত হয়েছে।
সেগুলো হলো: 
- চর্যাচর্যবিনিশ্চয়, 
- সরোজবজ্রের দোহাকোষ,
- কৃষ্ণচার্য পাদের দোহাকোষ,
- ডাকার্ণব।

• এগুলোর মধ্যে চর্যাচর্যবিনিশ্চয় পুঁথিটি বাংলা, অন্য তিনটি বাংলা নয়, অপভ্রংশে রচিত। তবে চর্যাপদের মতই সেগুলোর সংস্কৃত টিকা সংযোজিত আছে।
• চারটি গ্রন্থ একত্রে ১৯১৬ সালে "হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধগান ও দোহা" নামে প্রকাশিত হয়।

-------------------
• হরপ্রসাদ শাস্ত্রী:
- হরপ্রসাদ শাস্ত্রী বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে এক স্মরণীয় নাম।
- তিনি একাধারে শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক, বহুভাষাবিদ, দার্শনিক, পণ্ডিত, প্রত্নতত্ত্ববিদ ও ঐতিহাসিক।
- তার উপাধি ছিলো মহামহোপাধ্যায়। ১৮৯৮ সালে তাকে এই উপাধি প্রদান করা হয়।
- তিনি ১৯০৭ সালে নেপালের রাজদরবারের গ্রন্থশালা থেকে বাংলা সাহিত্যের আদিগ্রন্থ চর্যাপদ আবিষ্কার করেন।
- ১৯১৬ সালে 'বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ' থেকে তার সম্পাদনায় 'হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধগান ও দোহা' নামে চর্যাপদ প্রকাশিত হয়।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

.
মৈমনসিংহ গীতিকায় কয়টি গীতিকা স্থান পেয়েছে
  1. ১০টি 
  2. ১১টি 
  3. ১২টি 
  4. ২৩টি 
ব্যাখ্যা

• মৈমনসিংহ গীতিকা:
- এটি বৃহত্তর ময়মনসিংহ জেলার নেত্রকোনা ও কিশোরগঞ্জের নিম্নাঞ্চলের প্রাচীন পালাগানের সংকলন।
- কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. দীনেশচন্দ্র সেনের আগ্রহে এগুলো সংগ্রহ করেন চন্দ্রকুমার দে।
- এ পালাগানগুলো সংগ্রহ ও সম্পাদনা করে মৈমনসিংহ গীতিকা ১৯২৩ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশ করেন দীনেশচন্দ্র সেন। গ্রন্থটি বিষয়মাহাত্ম্য ও শিল্পগুণে শিক্ষিত মানুষেরও মন জয় করে।
- মৈমনসিংহ গীতিকা বিশ্বের ২৩টি ভাষায় মুদ্রিত হয়। মৈমনসিংহ গীতিকায় ১০টি গীতিকা স্থান পেয়েছে।

যথা:
- মহুয়া,
- মলুয়া,
- চন্দ্রাবতী,
- কমলা,
- দেওয়ান ভাবনা,
- দস্যু কেনারামের পালা,
- রূপবতী,
- কঙ্ক ও লীলা,
- কাজলরেখা ও
- দেওয়ানা মদিনা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

.
'রাজলক্ষ্মী' শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের কোন উপন্যাসের অন্তর্ভুক্ত চরিত্র?
  1. পল্লীসমাজ
  2. শ্রীকান্ত
  3. বিরাজবৌ
  4. গৃহদাহ
ব্যাখ্যা

• 'শ্রীকান্ত' উপন্যাস:
- 'শ্রীকান্ত' শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের আত্মজৈবনিক উপন্যাস।
- শ্রীকান্ত উপন্যাসটি ৪টি খণ্ডে প্রকাশিত হয়।
- প্রথম খণ্ড মাসিক 'ভারতবর্ষে' (১৯১৬-১৭) 'শ্রীকান্তের ভ্রমণ কাহিনী নামে প্রকাশ পায়। লেখকের নাম মুদ্রিত হয় 'শ্রীশ্রীকান্ত শর্মা'।
- ২য় ও ৩য় খণ্ডও মাসিক 'ভারতবর্ষে' প্রকাশিত হয়। তবে ৪র্থ খণ্ড প্রকাশিত হয় 'বিচিত্র' পত্রিকায়।

উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- শ্রীকান্ত,
- ইন্দ্রনাথ,
- রাজলক্ষ্মী,
- অন্নদিদি।

অন্যদিকে, 
• 'পল্লীসমাজ' উপন্যাসের প্রধান চরিত্র: রমা, রমেশ, বেণী, বলরাম।
• শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের উপন্যাস বিরাজবৌ। এই উপন্যাসের চরিত্র নীলাম্বর ও পীতাম্বর দুই ভাই।
• 'গৃহদাহ' উপন্যাসে ত্রিভুজ প্রেমের চিত্র অঙ্কিত হয়েছে। উপন্যাসের নায়িকা অচলা। মহিম ও সুরেশ দুই পুরুষের প্রতি অচলার আকর্ষণ বিকর্ষণ উপন্যাসের আলোচ্য বিষয়।

---------------------
• শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- ১৮৭৬ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর হুগলি জেলার দেবানন্দপুরে শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় জন্মগ্রহণ করেন।
- শরৎচন্দ্রের প্রথম উপন্যাস বড়দিদি (১৯০৭) ভারতী পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত গল্পের নাম 'মন্দির'। তিনি 'মন্দির' গল্পের জন্য ১৯০৩ সালে কুন্তলীন সাহিত্য পুরস্কার লাভ করেন।
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত রাজনৈতিক উপন্যাস হলো 'পথের দাবী' যা ১৯২৬ সালে প্রকাশিত হয়। এটি ব্রিটিশ সরকার বাজেয়াপ্ত করেছিল।

শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত অন্যান্য উপন্যাস:
- চরিত্রহীন,
- পণ্ডিতমশাই,
- পল্লীসমাজ,
- দেবদাস,
- শ্রীকান্ত,
- পরিণীতা,
- বিরাজবৌ,
- দত্তা,
- চরিত্রহীন,
- বামুনের মেয়ে,
- শেষ প্রশ্ন,
- দেনাপাওনা,
- পথের দাবী,
- বিপ্রদাস ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা বাংলাপিডিয়া।

.
মর্সিয়া সাহিত্যে হিন্দু কবি হলেন-
  1. রামপ্রসাদ সেন 
  2. রামনিধি গুপ্ত 
  3. রাধারমণ গোপ
  4. রাধামন গোপ
ব্যাখ্যা

• মর্সিয়া সাহিত্য:
- কারবালা ও ইসলামি বিয়োগান্তক কাহিনি নিয়ে মূলত মুসলমানদের রচিত সাহিত্যই মর্সিয়া সাহিত্য।
- মর্সিয়া সাহিত্যের আদিকবি হলেন শেখ ফয়জুল্লাহ। তার গ্রন্থের নাম 'জয়নাবের চৌতিশা' (১৫৭০)।
- মর্সিয়া সাহিত্যে একজন হিন্দু কবি হলেন রাধারমণ গোপ।তাঁর গ্রন্থ: ইমামগণের কেচ্ছা, আফৎনামা।
- 'মুক্তল হোসেন' হলো মুহম্মদ খান রচিত পারসি থেকে অনূদিত বাংলা মর্সিয়া সাহিত্যগ্রন্থ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

.
বাংলা সাহিত্যের প্রথম রোম্যান্টিক সংলাপ - 
  1. তুমি অধম তাই বলিয়া আমি উত্তম না হইব কেন?
  2. বড় প্রেম শুধু কাছেই টানে না, দূরেও ঠেলিয়া দেয়।
  3. এই খেদ আমার মনে, ভালবেসে মিটলোনা সাধ। 
  4. পথিক তুমি পথ হারাইয়াছ।
ব্যাখ্যা

• 'কপালকুণ্ডলা' উপন্যাস:
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের রচিত দ্বিতীয় সার্থক উপন্যাস 'কপালকুণ্ডলা'। এটি প্রকাশিত হয় ১৮৬৬ সালে।
- অরণ্যে এক কাপালিক-পালিতা নারী কপালকুণ্ডলাকে কেন্দ্র করে উপন্যাসটির কাহিনি গড়ে উঠেছে।
- বঙ্কিমের জীবৎকালেই এই উপন্যাসের আটটি সংস্করণ হয়।
- "পথিক তুমি পথ হারাইয়াছ।" কপালকুণ্ডলা উপন্যাসের এই সংলাপ, বাংলা সাহিত্যের প্রথম রোম্যান্টিক সংলাপ
- তুমি অধম তাই বলিয়া আমি উত্তম না হইব কেন?- এই উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য বাক্য।
- গরিশচন্দ্র ঘোষ এই উপন্যাসের নাট্যরূপ দেন।
- উপন্যাসটির উল্লেখযোগ্য চরিত্র: কপালকুণ্ডলা, নবকুমার, কাপালিক ইত্যাদি।

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের উপন্যাস সমূহ:
- কপালকুণ্ডলা,
- মৃণালিনী,
- বিষবৃক্ষ,
- ইন্দিরা,
- যুগলাঙ্গুরীয়,
- চন্দ্রশেখর,
- রাধারানী,
- রজনী,
- কৃষ্ণকান্তের উইল,
- রাজসিংহ।

অন্যদিকে, 
• 'বড় প্রেম শুধু কাছেই টানে না, দূরেও ঠেলিয়া দেয়।'- পঙ্‌ক্তিটির রচয়িতা শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়। পঙ্‌ক্তিটি তিনি 'শ্রীকান্ত' নামক আত্মজৈবনিক উপন্যাসে উদ্ধৃত করেছেন।
•  তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিখ্যাত উপন্যাস 'কবি'। উপন্যাসের ক্লাসিক সংলাপ- 'এই খেদ আমার মনে, ভালবেসে মিটলোনা সাধ, কুলালোনা এই জীবনে। হায়! জীবন এতো ছোট কেন? এই ভুবনে।'

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

.
'মধুসূদন' কোন উপন্যাসের নায়ক চরিত্র?
  1. নৌকাডুবি
  2. যোগাযোগ
  3. মালঞ্চ
  4. শেষের কবিতা
ব্যাখ্যা

• 'যোগাযোগ' উপন্যাস:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের যোগাযোগ উপন্যাস প্রথমে তিন পুরুষ নামে বিচিত্রা মাসিক পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। পরে উপন্যাসের নাম হয় যোগাযোগ।
- নায়িকা কুমুদিনী ও নায়ক মধুসূদনের ব্যক্তিত্বের তীব্র বিরোধ উপন্যাসের কেন্দ্র।
- শেষ পর্যন্ত স্বামীর কাছে কুমুদিনীর দ্বিধান্বিত সমর্পণে কাহিনির সমাপ্তি হলেও কুমুদিনীর মধ্যে এক বিদ্রোহী নারীর রূপ স্পষ্ট হয়।

অন্যদিকে, 
• 'নৌকাডুবি' উপন্যাসের মূল চরিত্রগুলো হচ্ছে: রমেশ, হেমনলিনী, কমলা, অন্নদাবাবু, নলিনাক্ষ।
• মালঞ্চ' রবীন্দ্রনাথের পরকীয়া নির্ভর ত্রিভুজ প্রেমের উপন্যাস। উল্লেখযোগ্য চরিত্র: নীরজা, আদিত্য, সরলা।
• 'শেষের কবিতা' উপন্যাসের চরিত্রগুলো হলো: অমিত, লাবণ্য, কেতকী রায় এবং শোভনলাল।

---------------
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত অন্যান্য উপন্যাস:
- ঘরে-বাইরে,
- চোখের বালি,
- শেষের কবিতা,
- যোগাযোগ,
- নৌকাডুবি,
- দুইবোন,
- মালঞ্চ,
- গোরা,
- রাজর্ষি,
- চার অধ্যায় ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; 'যোগাযোগ' উপন্যাস এবং বাংলাপিডিয়া।

.
কোন ভাষাচার্যের মতে চর্যাগীতির ভাষা বাংলা এবং তাতে শৌরসেনী অপভ্রংশের প্রভাব রয়েছে?
  1. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী 
  2. বিজয়চন্দ্র মজুমদার
  3. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
  4. সুকুমার সেন
ব্যাখ্যা

চর্যাপদের ভাষা নিয়ে বিভিন্ন পণ্ডিতের মতে:
• পণ্ডিত হরপ্রসাদ শাস্ত্রী স্বীকার করেছেন যে, চর্যাকাররা 'বাঙ্গালা' ও তন্নিকটবর্তী দেশের লোক। যদিও অনেকের ভাষায় একটু-আধটু ব্যাকরণের প্রভেদ আছে, তবুও চর্যার ভাষাকে বাংলা বলে উল্লেখ করেছেন। এ অভিমতের পক্ষে তিনি কোনো যুক্তি উপস্থাপন করেন নি। অন্যদিকে, সব পণ্ডিত যে তাঁর সঙ্গে অভিন্ন মত পোষণ করেছেন এমন নয়।

• ভাষাতাত্ত্বিক বিজয়চন্দ্র মজুমদার এ বলে মত প্রকাশ করেছেন যে, সামগ্রিকভাবে চর্যার ভাষাকে বাংলা বলা যাবে না। তাতে হিন্দি ও ওড়িয়া আছে। এটি মিশ্র ভাষা হিসেবে পরিচিত হতে পারে।

ভাষাচার্য সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় চর্যাগীতির ভাষা নিয়ে প্রথম ভাষাতাত্ত্বিক বিশদ আলোচনা করেন দি অরিজিন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অব দি বেঙ্গলি ল্যাঙ্গুয়েজ গ্রন্থে। তিনি তাতে সুস্পষ্টভাবে এ অভিমত দেন যে, চর্যাগীতির ভাষা বাংলা এবং তাতে শৌরসেনী অপভ্রংশের প্রভাব রয়েছে। যেমন: আইসন, জইসন, জিম, তিম ইত্যাদি পুরোপুরি বাংলার রূপ পাচ্ছিল না। কেননা চর্যাগীতিগুলো যখন রচিত হয় তখন বাংলা ভাষা পুরোপুরি অপভ্রংশের খোলস ত্যাগ করতে পারে নি।

• সুনীতিকুমারের মতকে সুকুমার সেন সমর্থন করে চর্যাগীতির ভাষাকে বাংলা বলেই অভিমত ব্যক্ত করেছেন। তবে তিনি শৌরসেনী প্রভাবের বদলে অবহট্ঠের প্রভাবের পক্ষে অভিমত দিয়েছেন। সেই সঙ্গে তিনি বলেছেন, অসমিয়া ভাষীদের দাবিও অযৌক্তিক নয়।

উৎস: চর্যাগীতি পাঠ, মাহাবুবুল হক। 

১০.
মমতাজউদদীন আহমদ রচিত নাটক - 
  1. নরকে লাল গোলাপ
  2. আমি বীরাঙ্গনা বলছি
  3. হাঙর নদী গ্রেনেড
  4. কি চাহ শঙ্খচিল
ব্যাখ্যা

• 'কী চাহ শঙ্খচিল' নাটক:
- 'কি চাহ শঙ্খচিল'- মমতাজউদদীন আহমদ রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক নাটক।

- ১৯৮৩-৮৪ সালে এসে 'কী চাহ শঙ্খচিল' নাটকে মমতাজউদদীন আহমদ লিখলেন এক অনন্য প্রেম, স্বাধীনতা আর প্রতিবাদের কথা।
- যেখানে শঙ্খচিল আসলে হয়ে উঠলো সেই একাত্তরের শকুন।যে ছিল স্বাধীনতাকালীন সময়ের অশুভ শক্তি।
- যেখানে আমরা দেখি নাটকের প্রধান চরিত্র রৌশনারা হানাদারদের দ্বারা লাঞ্ছিত হওয়ার আগেই সন্তানসম্ভবা হয়। আর লোভী স্বামী বীরাঙ্গনা স্ত্রীর নাম ভাঙিয়ে হয় অর্থের মালিক।
- নাটকটির মাধ্যমে বোঝা যায় কতখানি আত্মত্যাগের বিনিময়ে এসেছে স্বাধীনতা, এসেছে বাংলার এই মুক্তি।

অন্যদিকে, 
• 'নরকে লাল গোলাপ' গ্রন্থটি আলাউদ্দীন আল আজাদ রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক নাটক।
• ড. নীলিমা ইব্রাহীম রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রবন্ধ- 'আমি বীরাঙ্গনা বলছি'।
• 'হাঙর নদী গ্রেনেড' উপন্যাসের রচয়িতা সেলিনা হোসেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১১.
কোনটি শওকত আলী রচিত মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপন্যাস?
  1. দুই সৈনিক
  2. যাত্রা
  3. জলাংগী
  4. সৌরভ
ব্যাখ্যা

• 'যাত্রা' উপন্যাস:
- যুদ্ধের প্রথম দিকের ঘটনা ও সময় নিয়ে রচিত উপন্যাস শওকত আলীর 'যাত্রা'। যুদ্ধ শুরুর প্রাক্কালে দলে দলে মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যাচ্ছে; আবার পেছন ফিরে তাকাচ্ছে। এ পলায়ন শুধু চেতনাগত নয়, মানসিকভাবেও পলায়ন।
- উপন্যাসের প্রধান চরিত্র অধ্যাপক রায়হান মুক্তিযুদ্ধ প্রত্যক্ষ করেছেন।
- একসময় প্রগতিশীল রাজনীতিক রায়হান মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেবেন কি নেবেন না- এ সংশয় ও দ্বিধায় শেষাবধি যুদ্ধে যাওয়ার সিদ্ধান্তে আসতে পারেননি।
- ১৯৭২ সালে রচিত হয় 'যাত্রা' উপন্যাসটি। তবে প্রকাশ পায় ১৯৭৬ সালে।

অন্যদিকে,
শওকত ওসমান মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক উপন্যাস:
- জাহান্নম হইতে বিদায়,
- দুই সৈনিক; 
- নেকড়ে অরণ্য;
- জলাংগী। 

হুমায়ূন আহমেদ রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস:
- জোছনা ও জননীর গল্প,
- আগুনের পরশমণি,
- শ্যামল ছায়া,
- সৌরভ,
- ১৯৭১,
- অনিল বাগচীর একদিন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১২.
সেক শুভোদয়া গ্রন্থকে 'dog sanskirt' বলে উল্লেখ করেছেন কে?
  1. ড. সুকুমার সেন
  2. ড. মুহম্মদ এনামুল হক
  3. ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
  4. ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ 
ব্যাখ্যা

• সেক শুভোদয়া:
- 'সেক শুভোদয়া' এর রচয়িতা হলেন হলায়ুধ মিশ্র।
- অশুদ্ধ বাংলা ও সংস্কৃত ভাষায় মিশ্রিত একটি গ্রন্থ হলো- সেক শুভোদয়া। এটি সংস্কৃত গদ্য-পদ্যে লেখা চম্পুকাব্য।
- অনেকে একে রাজা লক্ষ্মণ সেনের সভাকবি হলায়ুধ মিশ্রের রচনা বলে মনে করেন।
- ড. মুহম্মদ এনামুল হকের মতে, সেক শুভোদয়া খ্রিস্টীয় ত্রয়োদশ শতাব্দীর একেবারের গোড়ার দিকের রচনা। গদ্য ও পদ্য মিলিয়ে গ্রন্থটিতে ২৫টি অধ্যায় আছে।
- এই গ্রন্থটিতে বেশকিছু বাংলা ছড়া ও বাগধারার ব্যবহার লক্ষ্য করা যায়। তবে প্রচুর ভুল সংস্কৃত ব্যবহারও আছে। তাই ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় একে 'dog sanskirt' বলেছেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহবুবুল আলম।

১৩.
রামায়ণের প্রথম বাংলা অনুবাদক - 
  1. কবীন্দ্র পরমেশ্বর
  2. কাশীরাম দাস
  3. চন্দ্রাবতী 
  4.  কৃত্তিবাস ওঝা
ব্যাখ্যা

রামায়ণের প্রথম বাংলা অনুবাদ করেন কৃত্তিবাস ওঝা।
- রামায়ণ সংস্কৃত ভাষার কাব্য। সংস্কৃত ভাষায় রামায়ণ রচনা করেন বাল্মীকি। 
- কৃত্তিবাসী রামায়ণে রামচন্দ্র আরাধ্য অবতার তুলসীচন্দনে লিপ্ত বিগ্রহ। কৃত্তিবাসের শ্রেষ্ঠত্ব স্বীকার করতে গিয়ে ড. দীনেশ সেন মন্তব্য করেছেন, 'গৌড়েশ্বর ধন্য যিনি কবিকে রামায়ণ অনুবাদের ভার দিয়া বঙ্গদেশের শ্রেষ্ঠ হিতসাধন করিয়াছিলেন।' যুগপ্রভাবে সংস্কৃত আদর্শের মহাকাব্যিক শিল্পকলা ক্রমশ শিথিল হয়ে অজস্র কাহিনিতে রূপান্তরিত হয়েছে। 

------------------
• কৃত্তিবাস ওঝা:
- সংস্কৃত রামায়ণের প্রথম অনুবাদক কবি।
- তিনিই রামায়ণের শ্রেষ্ঠ অনুবাদক। তাঁর রচিত রামায়ণের অন্যনাম 'শ্রীরাম পাঞ্চালী'।
- বাল্মীকির সংস্কৃত রামায়ণ অনুসরণে কৃত্তিবাস পয়ার ছন্দে বাংলা রামায়ণ রচনা করেন।
- কৃত্তিবাসী রামায়ণ ১৮০২-৩ সালে শ্রীরামপুর মিশন প্রেস থেকে সর্বপ্রথম পাঁচ খণ্ডে মুদ্রিত হয়।

অন্যদিকে, 
- মহাভারত প্রথম বাংলায় অনুবাদ করেন- কবীন্দ্র পরমেশ্বর।
- মহাভারতের শ্রেষ্ঠ অনুবাদক- কাশীরাম দাস।
- চন্দ্রাবতী রামায়ণের প্রথম মহিলা অনুবাদক।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম  এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৪.
'কালের যাত্রার ধ্বনি শুনিতে কি পাও' - পঙ্‌ক্তিটি কার রচনা?
  1. কাজী নজরুল ইসলাম 
  2. শামসুর রাহমান 
  3. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর 
  4. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় 
ব্যাখ্যা

• 'কালের যাত্রার ধ্বনি শুনিতে কি পাও'- পঙ্‌ক্তিটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের রচনা। 

"শেষের কবিতা" উপন্যাস:

• বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহাবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া অনুসারে, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের "শেষের কবিতা" একটি গীতিধর্মী উপন্যাস। তবে বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর অনুসারে শেষের কবিতা (১৯২৯) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত উপন্যাস।

• "শেষের কবিতা" উপন্যাসটি সমন্বয়সুষমা ও কবিত্বমণ্ডিত বিশ্লেষণশক্তির দিক দিয়ে রবীন্দ্রনাথের পরবর্তী উপন্যাসগুলোর মধ্যে শ্রেষ্ঠস্থান দাবি করতে পারে। বিষয়ের ঐক্য ও আলোচনার সমগ্রতায়, অবান্তর বস্তুর প্রায় সম্পূর্ণ বর্জনে অন্যান্য উপন্যাস থেকে 'শেষের কবিতা' যথেষ্ট উৎকর্ষ লাভ করেছে।

• কোনো পুরুষ বা নারীর পক্ষে এক সঙ্গে দুজনকে ভালোবাসা সম্ভব এবং সে ভালোবাসা এক পাত্রসম্পর্কিত (স্বামী/স্ত্রী), অপর পাত্র নিঃসম্পর্ক হতে পারে। এটিই শেষের কবিতা উপন্যাসের আখ্যানবস্তুর ভাববীজ।

• অমিত, লাবণ্য, কেতকী, শোভনলাল প্রমুখ চরিত্রের মাধ্যমে প্রেমের বিচিত্র বিকাশ দেখানো হয়েছে।
• 'শেষের কবিতা' উপন্যাসের ভাষা যে কেবল কবিত্বময় তা নয়, উপন্যাসের বক্তব্যকে সুস্পষ্ট করার জন্য অনেক কবিতাও ব্যবহার করেছেন। উপন্যাসের কাঠামোগত এই অভিনবত্ব রবীন্দ্রনাথ খুব সার্থকতা সহকারে এ উপন্যাসে রূপায়িত করে তুলেছেন।

উপন্যাসের কতিপয় বাক্য আজ প্রবাদের মর্যাদা পেয়েছে। যথা:
- ফ্যাশনটা হলো মুখোশ, স্টাইলটা হলো মুখশ্রী।
- কালের যাত্রার ধ্বনি শুনিতে কি পাও-এই কবিতা দিয়ে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শেষের কবিতা উপন্যাসের সমাপ্তি টানেন।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহাবুবুল আলম; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৫.
চর্যাগীতি রচনার দিক থেকে দ্বিতীয় স্থানের অধিকারী কবি কে?
  1. ভুসুকুপা
  2. কাহ্নপা 
  3. শবরপা 
  4. লুইপা 
ব্যাখ্যা

• ভুসুকুপা:
- চর্যাগীতি রচনার দিক থেকে দ্বিতীয় স্থানের অধিকারী হলেন ভুসুকুপা।
- তাঁর রচিত আঁটটি পদ চর্যাপদ গ্রন্থে সংগৃহীত হয়েছে।সেগুলো হলো: ৬, ২১, ২৩, ২৭, ৩০, ৪১, ৪৩, ৪৯।

- নানা কিংবদন্তি বিচারে ভুসুকুপা নামটিকে ছন্দ নাম বলে মনে করেন। তাঁর প্রকৃত নাম শান্তিদেব। ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহর মতে শান্তিদেব ভুসুকু সাত শতকের দ্বিতীয়ার্ধে বর্তমান ছিলেন। তবে অনেকে এই শান্তিদেব ভুসুকু ও চর্যা রচয়িতা ভুসুকুকে পৃথক ব্যক্তি বলে অনুমান করেছেন। কারও কারও অনুমান চর্যার ভুসুকুর সময় একাদশ শতকের মধ্যভাগ।

- তিনি সৌরাষ্ট্রের রাজপুত্র ছিলেন এবং শেষ জীবনে নালন্দায় বৌদ্ধ ভিক্ষু হিসেবে নিঃসঙ্গভাবে অবস্থান
- ভুসুকুর জীবৎকালে শেষ সীমা ৮০০ সাল। ধর্মপালের রাজত্বকালে (৭৭০-৮০৬ সাল) ভুসুকুপা জীবিত ছিলেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

১৬.
'মহুয়া' পালার রচয়িতা কে?
  1. দ্বিজ ঈশান 
  2. দ্বিজ কানাই
  3. নয়ানচাঁদ ঘোষ
  4. চন্দ্রাবতী
ব্যাখ্যা

• 'মহুয়া' পালা:
- নমশূদ্রের ব্রাহ্মণ কবি দ্বিজ কানাই ১৬৫০ খ্রিস্টাব্দের দিকে 'মহুয়া পালা' রচনা করেন বলে অধ্যাপক দীনেশচন্দ্রের ধারণা।
- এই পালার কাহিনীর সঙ্গে কবির ব্যক্তিগত প্রেমবঞ্চনার বেদনার সাদৃশ্য রয়েছে।
- 'মহুয়া' পালাটিতে ময়মনসিংহ গীতিকার বৈশিষ্ট্য চমৎকারভাবে ফুটে উঠেছে।

মহুয়ার পালার প্রধান কয়েকটি চরিত্র:
- মহুয়া,
- নদের চাঁদ,
- হুমরা বেদে,
- সাধু।

মহুয়া পালার পঙ্‌ক্তি:
'ছয় মাসের শিশু কইন্যা পরমা সুন্দরী।।
রাত্রি নিশাকালে হুমরা তারে করল চুরী।।'

অন্যদিকে, 
• 'কমলা' পালার রচয়িতা দ্বিজ ঈশান। 
• 'চন্দ্রাবতী' পালার রচয়িতা নয়ানচাঁদ ঘোষ। 
• দস্যু কেনারামের পালার রচয়িতা চন্দ্রাবতী। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১৭.
এম আর আখতার মুকুল রচিত মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গ্রন্থ কোনটি?
  1. একাত্তরের দিনগুলি
  2. একাত্তরের কথামালা
  3. একাত্তরের বর্ণমালা
  4. একাত্তরের রণাঙ্গন
ব্যাখ্যা

• 'একাত্তরের বর্ণমালা':
- 'একাত্তরের বর্ণমালা' হলো বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে লেখা একটি বিখ্যাত বই, যা লিখেছেন এম. আর. আখতার মুকুল।  যিনি মুক্তিযুদ্ধের সময় 'চরমপত্র' নামক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে মুক্তিযোদ্ধাদের সাহস জুগিয়েছিলেন।
- এই বইটিতে তিনি মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস তুলে ধরেছেন, যা ১৯৮৯ সালে প্রকাশিত হয়েছিল এবং এতে মুক্তিযুদ্ধের বিভিন্ন স্মৃতি ও ঘটনা বর্ণমালায় সাজানো হয়েছে।

-----------------------
• এম আর আখতার মুকুল:

- তিনি সাংবাদিক, লেখক, সম্পাদক এবং মুক্তিযুদ্ধের সময় স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে প্রচারিত সাড়া জাগানো অনুষ্ঠান 'চরমপত্র'-এর কথক।
- জন্ম ১৯২৯ সালের ৯ আগস্ট বগুড়া জেলার মহাস্থানগড়ের অন্তর্গত চিংগাসপুর গ্রামে।
-পিতা বিশিষ্ট সাহিত্যিক সা'দত আলি আখন্দ, মাতা রাবেয়া খাতুন।
মুক্তিযুদ্ধের সময় রণাঙ্গন পরিদর্শন শেষে তাঁর রচিত এবং স্বকণ্ঠে প্রচারিত 'চরমপত্র' অনুষ্ঠানটি ছিল মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস।

তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:
- একাত্তরের বর্ণমালা,
- মুজিবের রক্তলাল,
- ভাসানী মুজিবের রাজনীতি,
- পঞ্চাশ দশকে আমরা ও ভাষা আন্দোলন ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• 'একাত্তরের দিনগুলি' (ডায়েরি) জাহানারা ইমাম রচিত।
• 'একাত্তরের কথামালা' বেগম নূরজাহান রচিত গ্রন্থ।
• 'একাত্তরের রণাঙ্গন' শামসুল হুদা চৌধুরী রচিত গ্রন্থ।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং 'একাত্তরের বর্ণমালা' গ্রন্থ।

১৮.
'ওরা আমার মুখের ভাষা কাইরা নিতে চায়
ওরা কথায় কথায় শিকল পরায় আমার হাতে-পায়ে'- বিখ্যাত পঙ্‌ক্তিদ্বয়ের কার রচনা?
  1. আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী
  2. মাহবুব-উল-আলম চৌধুরী 
  3. গাজীউল হক
  4. আব্দুল লতিফ
ব্যাখ্যা

ওরা আমার মুখের ভাষা কাইরা নিতে চায়
ওরা কথায় কথায় শিকল পরায় আমার হাতে-পায়ে'- বিখ্যাত লাইনগুলোর রচয়িতা আব্দুল লতিফ।

• "ওরা আমার মুখের ভাষা কাইরা নিতে চায়" গানটির/কবিতাটির রচয়িতা হলেন কিংবদন্তি গণসংগীত শিল্পী আবদুল লতিফ; এটি তাঁর লেখা এবং সুর করা একটি কালজয়ী গান, যা ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের আগে রচিত হয়েছিল এবং ভাষা আন্দোলনের চেতনার প্রতীক হয়ে উঠেছিল।

ওরা আমার মুখের ভাষা কাইরা নিতে চায়
কথা: আব্দুল লতিফ
সুর: আব্দুল লতিফ

ওরা আমার মুখের ভাষা কাইরা নিতে চায়
ওরা আমার মুখের ভাষা কাইরা নিতে চায়
ওরা কথায় কথায় শিকল পরায় আমার হাতে-পায়ে
ওরা কথায় কথায়
ওরা কথায় কথায় শিকল পরায় আমাদেরই হাতে-পায়ে
ওরা আমার মুখের ভাষা কাইরা নিতে চায়
ওরা আমার মুখের ভাষা কাইরা নিতে চায়

-––––––––––––––––––
ভাষা আন্দোলনভিত্তিক সাহিত্য:
• চট্টগ্রামে কবি মাহবুব-উল-আলম চৌধুরী লেখেন তাঁর বিখ্যাত কবিতা 'কাঁদতে আসিনি ফাঁসির দাবি নিয়ে এসেছি'।
• ঢাকায় কবি আলাউদ্দিন আল আজাদ লেখেন তাঁর বিখ্যাত কবিতা 'স্মৃতির মিনার'।

ভাষা আন্দোলনকে কেন্দ্র করে অসংখ্য গান রচিত হয়েছে, যার মধ্যে সবচেয়ে বিখ্যাত হলো আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী রচিত 'আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো' এবং গাজীউল হক রচিত 'ভুলব না, ভুলব না, একুশে ফেব্রুয়ারি ভুলব না' – এই গান দুটি ভাষার চেতনা ও শহীদদের আত্মত্যাগকে অমর করে রেখেছে। এছাড়া, ভাষা আন্দোলন নিয়ে বিভিন্ন কবি-গীতিকার যেমন: শামসুল হক, শামসুর রাহমান প্রমুখের গান ও কবিতা রয়েছে যা এই আন্দোলনকে স্মরণীয় করে রেখেছে। 

এছাড়া ভাষা আন্দোলনের সময় আরও অনেক গান রচিত হয়েছিল যা 'একুশে সংকলন' (১৯৫৩) এর মতো সংকলনে প্রকাশিত হয়েছিল, যেখানে অনেক কবি-গীতিকার অংশ নিয়েছিলেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং 'ওরা আমার মুখের ভাষা কাইরা নিতে চায়' গান। 

১৯.
'জন্ম যদি তব বঙ্গে' শওকত ওসমান রচিত কোন ধরনের সাহিত্য রচনা?
  1. গল্পগ্রন্থ 
  2. নাটক 
  3. উপন্যাস 
  4. কাব্যনাট্য 
ব্যাখ্যা

'জন্ম যদি তব বঙ্গে' শওকত ওসমান রচিত একটি গল্পগ্রন্থ। ১৯৭৫ সালে গল্পগ্রন্থটি প্রথম প্রকাশিত হয়। 
- এই বইয়ের সব গল্প স্বাধীনতা সংগ্রামের পটভূমিকায় ১৯৭১-১৯৭২ সনে লিখিত ও প্রকাশিত।

এই গল্পগ্রন্থের উল্লেখযোগ্য গল্পগুলো হলো: 
- আলোক-অন্বেষা,
- বারুদের গন্ধ লোবানের ধোঁয়া,
- সারেঙ সুখানী,
- বার্তাবহ,
- জন্ম যদি তব বঙ্গে,
- রক্ত চিহ্ন,
- দুই ব্রিগেডিয়ার,
- ক্ষমাবতী,
- ভারতীয় গোয়েন্দা।

-----------------
শওকত ওসমান রচিত কয়েকটি উপন্যাস-
- ক্রীতদাসের হাসি,
- সমাগম,
- রাজা উপাখ্যান,
- দুই সৈনিক,
- নেকড়ে অরণ্য,
- পতঙ্গ পিঞ্জর,
- রাজসাক্ষী,
- পুরাতন খঞ্জর,
- বনি আদম,
- জননী।

শওকত ওসমান রচিত নাটক-
- তস্কর নস্কর,
- পূর্ণ স্বাধীনতা চূর্ণ স্বাধীনতা,
- আমলার মামলা।

শওকত ওসমান রচিত গল্পগ্রন্থ-
- ঈশ্বরের প্রতিদ্বন্দী,
- পিঁজরাপোল,
- জন্ম যদি তব বঙ্গে ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলাপিডিয়া এবং 'জন্ম যদি তব বঙ্গে' গল্পগ্রন্থ।

২০.
২৪নং বিলুপ্ত পদটি কার রচনা?
  1. তন্ত্রীপা 
  2. শবরপা 
  3. কাহ্নপা
  4. ভুসুকুপা 
ব্যাখ্যা

• কাহ্নপা:
- তিনি বৌদ্ধ সিদ্ধাচার্য ও চর্যাপদকর্তা ছিলেন।
- প্রকৃত নাম কৃষ্ণাচার্য পাদ, অপভ্রংশে হয়েছে কাহ্নপা, কনহপা, কাহ্নিল পা ইত্যাদি।
-বাংলা সাহিত্যের আদি নিদর্শন চর্যাপদের কবিগোষ্ঠীর মধ্যে তিনিই ছিলেন শ্রেষ্ঠ।
- পালরাজ দেবপালের রাজত্বকালে (আনু. ৯০০-৫০) তিনি বর্তমান ছিলেন।
- চর্যাপদের ২৩জন কবির মধ্যে কাহ্নপার পদসংখ্যা সর্বাধিক, মোট ১৩টি।
- কাহ্নপা রচিত ২৪নং পদটি পাওয়া যায়নি।

উল্লেখ্য, 
• অনুদ্ধারকৃত/বিলুপ্ত পদের সংখ্যা: সাড়ে ৩টি। প্রাপ্ত সাড়ে ৪৬টি পদের মধ্যে ভুসুকুপা রচিত ২৩নং পদটি খণ্ডিত আকারে পাওয়া গেছে। পদটির ৬টি পদ পাওয়া গেছে কিন্তু বাকি ৪টি পদ পাওয়া যায়নি। এছাড়াও চর্যাপদের ২৪নং (কাহ্নপা রচিত), ২৫নং (তন্ত্রীপা রচিত) এবং ৪৮নং (কুক্কুরীপা রচিত) পদগুলো পাওয়া যায়নি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

২১.
'সাহিত্যের উদ্দেশ্যে সকলকে আনন্দ দান করা কারো মনোরঞ্জনের বিষয় নহে' উক্তিটির রচয়িতা কে?
  1. মোতাহের হোসেন চৌধুরী
  2. সুফিয়া কামাল 
  3. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর 
  4. প্রমথ চৌধুরী
ব্যাখ্যা

প্রমথ চৌধুরীর কিছু বিখ্যাত উক্তি:
- সুশিক্ষিত লোক মাত্রই স্বশিক্ষত (বইপড়া)।
- ভাষা মানুষের মুখ হতে কলমের মুখে আসে, উল্টোটা করতে গেলে মুখে শুধু কালি পড়ে (ভাষার কথা)।
- জীবনে জ্যাঠামি, সাহিত্যে ন্যাকামি সহ্য করতে পারতেন না-প্রমথ চৌধুরী (সাহিত্যে খেলা)।
- মনোজগতে বাতি জ্বালানোর জন্যে সাহিত্যচর্চার বিশেষ প্রয়োজন। 
- জ্ঞানের প্রদীপ যেখানেই জ্বালো না কেন, তাহার আলোক চারদিক ছড়াইয়া পড়িবে।
- সাহিত্যের উদ্দেশ্যে সকলকে আনন্দ দান করা কারো মনোরঞ্জনের বিষয় নহে (সাহিত্যে খেলা)।
- ব্যাধিই সংক্রামক স্বাস্থ্য নয়।

-------------------
• প্রমথ চৌধুরী:
- প্রমথ চৌধুরী সাহিত্যিক, বাংলা চলিত গদ্যরীতির প্রবর্তক। তিনি ১৮৬৮ সালের ৭ আগষ্ট যশোরে জন্মগ্রহণ করেন।
- প্রমথ চৌধুরীর সাহিত্যিক ছদ্মনাম 'বীরবল।'
- প্রমথ চৌধুরী রচিত 'বীরবলের হালখাতা' ১৯০২ সালে ভারতী পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়। এই গ্রন্থে তিনি প্রথম চলিত রীতির প্রয়োগ ঘটান।
- বাংলা কাব্য সাহিত্যে তিনিই প্রথম ইতালীয় সনেটের প্রবর্তন করেন।
- তিনি 'সবুজপত্র' পত্রিকাটি সম্পাদনা করেন।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- সনেট পঞ্চাশৎ,
- পদচারণ।

তাঁর রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- তেল নুন লকড়ি,
- বীরবলের হালখাতা,
- নানাকথা,
- আমাদের শিক্ষা,
- রায়তের কথা,
- নানাচর্চা,
- আত্মকথা। 
- প্রবন্ধসংগ্রহ ইত্যাদি।

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- চার ইয়ারী কথা,
- আহুতি,
- নীললোহিত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

২২.
মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক কোন উপন্যাস অবলম্বনে 'গেরিলা' চলচ্চিত্রটি নির্মিত?
  1. রাইফেল রোটি আওরাত
  2. নিষিদ্ধ লোবান
  3. অলাতচক্র 
  4. নেকড়ে অরণ্য
ব্যাখ্যা

• 'নিষিদ্ধ লোবান' উপন্যাস:
-'নিষিদ্ধ লোবান' সৈয়দ শামসুল হকের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস।
'নিষিদ্ধ লোবান' (১৯৮১) উপন্যাসে মুক্তিযুদ্ধে পাক হানাদার বাহিনী কর্তৃক নারী নির্যাতন, লিবিডো ক্রিয়া, লালসা ও রিরংসাবৃত্তির অভীপ্সা অভিব্যঞ্জিত হয়েছে।
-'নিষিদ্ধ লোবান' উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত চলচ্চিত্র 'গেরিলা'।

'নিষিদ্ধ লোবান' উপন্যাসের কাহিনি সংক্ষেপ:
এ উপন্যাসের কাহিনি গড়ে উঠেছে বিলকিস নামের এক নারীকে নিয়ে যে মুক্তিযুদ্ধের শুরুতে তার পিতামাতা, ভাইবোন, আত্মীয়স্বজন, ঘরবাড়ি হারায়। তার স্বামী নিখোঁজ হয়ে যায়। ঘটনাচক্রে তার সঙ্গে পরিচয় হয় প্রদীপকুমার তথা সিরাজের। পাকিস্তানি সৈন্যরা যখন তাদের গুলিতে নিহত মুক্তিযোদ্ধাদের লাশ দাফনে নিষেধাজ্ঞা জারি করে তখন রাতের অন্ধকারে লাশগুলো দাফন করতে গিয়ে তারা পাকিস্তানি মিলিটারির হাতে ধরা পড়ে। কিন্তু অভাবনীয়ভাবে বিলকিস প্রতিবাদে অবিচল থাকে।

উৎস: 'নিষিদ্ধ লোবান' বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

২৩.
"প্রহরশেষের আলোয় রাঙা সেদিন চৈত্রমাস, তোমার চোখে দেখেছিলাম আমার সর্বনাশ।"- বিখ্যাত উক্তিটি কোন উপন্যাসের অন্তর্ভুক্ত?
  1. দেবদাস
  2. চোখের বালি 
  3. চার অধ্যায়
  4. গৃহদাহ
ব্যাখ্যা

• 'চার অধ্যায়' উপন্যাস:
- 'চার অধ্যায়' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত একটি রাজনৈতিক উপন্যাস। অসহযোগ আন্দোলনের পর বাংলায় নতুন করে যে হিংসাত্মক বিপ্লব-প্রচেষ্টা দেখা দিয়েছিলো, 'চার-অধ্যায়' উপন্যাসে তার তত্ত্ববিশ্লেষণ এবং নিরপেক্ষ মূল্য নির্ধারণের চেষ্টা আছে।
- 'চার অধ্যায়' কাহিনির সঙ্গে রবীন্দ্রনাথের 'রবিরার' গল্পের সম্পর্ক রয়েছে।
- সন্ত্রাসবাদের সমালোচনা করে এই উপন্যাসটি রচিত। উপন্যাসের চরিত্রে ইন্দ্রনাথ সন্ত্রাসবাদীদের নেতা। তিনি একদিকে অতিমানবিক অন্যদিকে নিষ্ঠুর ও মানবতাশূন্য। ইন্দ্রনাথ এর নির্দেশে অতীন ও এলার প্রেমের সমাপ্তি এই উপন্যাসের মূখ্য কাহিনি।
- সমকালীন বিপ্লবপন্থী আন্দোলনের প্রতি রবীন্দ্রনাথের বিরূপ মনোভাব এই উপন্যাসের মূলসুর। গ্রন্থটি ব্রিটিশ সরকার কর্তৃক বন্দীদের প্রতি উৎসর্গ করেন।
- উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য উক্তি "প্রহরশেষের আলোয় রাঙা সেদিন চৈত্রমাস, তোমার চোখে দেখেছিলাম আমার সর্বনাশ।"

উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- অতীন,
- এলা,
- ইন্দ্রনাথ।

উৎস: 'চার অধ্যায়' উপন্যাস; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস; মাহবুবুল আলম এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

২৪.
'রোহিণী' বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত কোন উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র? 
  1. কৃষ্ণকান্তের উইল
  2. বিষবৃক্ষ
  3. চন্দ্রশেখর
  4. রাজসিংহ
ব্যাখ্যা

• 'কৃষ্ণকান্তের উইল' উপন্যাস:
- 'কৃষ্ণকান্তের উইল' (১৮৭৮) বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের অন্যতম শ্রেষ্ঠ এবং সমকালে বিতর্কিত উপন্যাস।
- এই উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র বিধবা নারী 'রোহিণী'কে অবলম্বন করে -বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় নিজেই শিল্পবোধ ও নৈতিক আদর্শের দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়েন।
- ঔপন্যাসিকের জীবদ্দশায় এই গ্রন্থের চারটি সংস্করণ হয়। প্রধান চরিত্র: রোহিণী, গোবিন্দলাল, ভ্রমর ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 
• 'বিষবৃক্ষ' উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র- নগেন্দ্রনাথ, কুন্দনন্দিনী, সূর্যমুখী, হীরা ইত্যাদি।
• 'চন্দ্রশেখর' উপন্যাসের প্রধান চরিত্রগুলি হলো- চন্দ্রশেখর, শৈবলিনী এবং প্রতাপ।
• 'রাজসিংহ' উপন্যাসের প্রধান চরিত্রগুলির মধ্যে আছেন- রাজসিংহ, ঔরঙ্গজেব এবং জেবউন্নিসা।

------------------------
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত অন্যান্য উপন্যাস:
- কপালকুণ্ডলা,
- মৃণালিনী,
- বিষবৃক্ষ,
- ইন্দিরা,
- যুগলাঙ্গুরীয়,
- চন্দ্রশেখর,
- রাধারানী,
- রজনী,
- কৃষ্ণকান্তের উইল,
- রাজসিংহ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

২৫.
নিচের কোনটি মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক কাব্যনাট্য?
  1. বন্দী শিবির থেকে
  2. পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়
  3. পূর্ণ স্বাধীনতা চূর্ণ স্বাধীনতা
  4. তোমাকে পাওয়ার জন্য হে স্বাধীনতা
ব্যাখ্যা

'পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়':
- 'পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়' সৈয়দ শামসুল হক রচিত মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক কাব্যনাট্য।
- এটি রচিত হয়েছে ১লা মে থেকে ১৩ই জুন, ১৯৭৫; লন্ডনের হ্যাম্পস্টেড শহরে, আর প্রকাশ পেয়েছে ১৯৭৬ সালে। এটি বাঙালির মুক্তির চেতনায় উজ্জীবনমূলক নাটক।
- নাটকটিতে ১৯৭১ সালের বাংলাদেশ শত্রু মুক্ত হওয়ার সময়কালে একটি প্রত্যন্ত গ্রামের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।
- 'পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়' মূলত মুক্তিযোদ্ধাদের আগমনের পদধ্বনি।

তাঁর রচিত কাব্যনাট্যগুলো হলো:
- পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়,
- নূরলদীনের সারাজীবন,
- এখানে এখন।

অন্যদিকে, 
• "বন্দী শিবির থেকে" হলো বাংলাদেশের বিখ্যাত কবি শামসুর রাহমান রচিত একটি বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ, যা ১৯৭২ সালে প্রকাশিত হয়েছিল এবং এতে মুক্তিযুদ্ধের সময়ের আবেগ, সংগ্রাম ও স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা ফুটে উঠেছে। 

• "পূর্ণ স্বাধীনতা চূর্ণ স্বাধীনতা" একটি নাটক, যা লিখেছেন বিখ্যাত লেখক শওকত ওসমান। নাটকটি ১৯৯০ সালে প্রকাশিত হয়। 
• 'তোমাকে পাওয়ার জন্য হে স্বাধীনতা' কবি শামসুর রাহমান রচিত একটি কাব্য। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

২৬.
'ইমাম-বিজয়' আখ্যানকাব্যটি কার রচনা?
  1. ফকির গরীবুল্লাহ
  2. শাহ মুহাম্মদ সগীর
  3. সৈয়দ সুলতান
  4. দৌলত উজির বাহরাম খান
ব্যাখ্যা

• 'ইমাম-বিজয়' আখ্যানকাব্যের রচয়িতা দৌলত উজির বাহরাম খান।

• দৌলত উজির বাহরাম খান:
- দৌলত উজির বাহরাম খান (আনুমানিক ১৬শ শতক) মধ্যযুগীয় বাংলা ভাষার কবি।
- তাঁর আত্মপরিচয় থেকে জানা যায় যে, তিনি চট্টগ্রামের ফতেয়াবাদ অথবা জাফরাবাদের অধিবাসী ছিলেন।
- তাঁর পিতা মোবারক খান ছিলেন চট্টলাধিপতির উজির এবং জনৈক পূর্বপুরুষ হামিদ খান ছিলেন গৌড় সুলতান হুসেন শাহের প্রধান অমাত্য।
পীরভক্ত বাহরাম খানের প্রকৃত নাম আসাউদ্দীন।
- তিনি অল্প বয়সে পিতৃহীন হলে চট্টগ্রামের অধিপতি নেজাম শাহ সুর তাঁকে পিতৃপদ (উজির) প্রদান করেন।

দৌলত উজির বাহরাম খান দুটি আখ্যানকাব্য রচনা করেন:
- লায়লী-মজনু ও
- ইমাম-বিজয়।
উভয় কাব্যের উৎস আরবি সাহিত্য।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।

২৭.
'বাইশা' বলা হয় কোন মঙ্গলকাব্যের কবিদের কে?
  1. চণ্ডীমঙ্গল 
  2. মনসামঙ্গল 
  3. অনদামঙ্গল 
  4. ধর্মমঙ্গল 
ব্যাখ্যা

• মনসামঙ্গল কাব্য:
- সাপের দেবী মনসার স্তব, স্তুতি, কাহিনি ইত্যাদি নিয়ে রচিত কাব্য 'মনসামঙ্গল'। একে পদ্মপুরাণ বলে অভিহিত করা হয়।
- বাংলার প্রাকৃত জীবন, এবং লৌকিক জীবনাচার থেকে উদ্ভব ঘটেছে, মনসামঙ্গল কাব্যের।
- মনসামঙ্গল কাব্যের কবিদের কে বলা হয়- বাইশা। 'বাইশা' বলতে বোঝায় বাইশজন কবি রচিত মনসামঙ্গলের বিভিন্ন অংশের সংকলন।
- মনসামঙ্গল কাব্য ধারার উল্লেখযোগ্য কবিরা হলেন- নারায়ন দেব, বিজয়গুপ্ত, বিপ্রদাস পিপিলাই, দ্বিজ বংশীদাস, কেতকাদাস ক্ষেমানন্দ প্রভৃতি।
- মনসামঙ্গল কাব্যের আদি কবি কানা হরিদত্ত।

মনসামঙ্গল কাব্যের প্রধান চরিত্রগুলো হলো:
- সাপের দেবী মনসা,
- চাঁদ সওদাগর,
- বেহুলা,
- লখিন্দর,
- সনকা।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

২৮.
'জীবন আমার বোন' উপন্যাসের প্রধান চরিত্র কোনটি?
  1. জাহিদুল কবির খোকা
  2. সুদীপ্ত শাহীন
  3. রায়হান 
  4. বদিউল আলম
ব্যাখ্যা

• 'জীবন আমার বোন' উপন্যাস:
- মাহমুদুল হকের বহুল পঠিত উপন্যাস 'জীবন আমার বোন'।
- 'জীবন আমার বোন' উপন্যাসটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৭৬ সালে। এটি লেখকের তৃতীয় উপন্যাস।
- 'জীবন আমার বোন' দেশ-কালের সীমানা ছাড়িয়ে মানবজাতির স্বাধীনতা ও জীবনদর্শনের এক গভীর আলেখ্য। এটি মুক্তিযুদ্ধের পটভূমিতে রচিত হলেও, এর দার্শনিক গভীরতা এটিকে একটি সর্বজনীন সাহিত্যকর্মে রূপান্তরিত করে।
- জাহেদুল কবির খোকা উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র।

উপন্যাসের অন্যান্য চরিত্রগুলো হলো-
- রঞ্জু,
- মুরাদ,
- ইয়াসিন,
- রহমান,
- লুলু চৌধুরী।

অন্যদিকে, 
• 'রাইফেল রোটি আওরাত' উপন্যাস: 'রাইফেল রোটি আওরাত' (১৯৭৩) আনোয়ার পাশা রচিত একটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস। অধ্যাপক সুদীপ্ত শাহীন এই উপন্যাসের অন্যতম গুরুতপূর্ণ চরিত্র।

• 'যাত্রা' উপন্যাস: শওকত আলী রচিত 'যাত্রা' একটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস। উপন্যাসটি ১৯৭৬ সালে প্রকাশিত হয়।'যাত্রা' উপন্যাসটির কেন্দ্রীয় চরিত্র অধ্যাপক রায়হান। 

• 'আগুনের পরশমণি' উপন্যাস: হুমায়ূন আহমেদ রচিত মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপন্যাস আগুনের পরশমণি। এই উপন্যাসে অপরিচিত গেরিলা মুক্তিযোদ্ধা বদিউল আলমকে আশ্রয় দেয় মতিন সাহেব নামে একজন ভদ্রলোক। এভাবেই এই উপন্যাসের কাহিনি শুরু হয়েছে।
---------------
• মাহমুদুল হক:
- তিনি ১৯৪০ সালে ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ১৯৭৭ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার লাভ করেন।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- কালো বরফ,
- জীবন আমার বোন,
- অনুর পাঠশালা,
- নিরাপদ তন্দ্রা,
- অশরীরী,
- চিক্কোর কাবুল,
- খেলাঘর,
- মাটির জাহাজ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং 'জীবন আমার বোন' উপন্যাস।

২৯.
"দিবসহি বহুড়ী কাউহি ডর ভাই।
রাতি ভইলে কামরু জাই।।" পদটি কোন কবির রচনা?
  1. ঢেগুণপা 
  2. শবরপা 
  3. কুক্কুরীপা
  4. ডোম্বীপা
ব্যাখ্যা

• কুক্কুরীপা:
- ধারণা করা হয় কুক্কুরীপা খ্রিষ্টীয় অষ্টম শতকে বর্তমান ছিলেন। এবং তিনি তিব্বতের কাছাকাছি কোনো এক অঞ্চলের বাসিন্দা।
- কুক্কুরীপা চর্যাপদের ২, ২০ ও ৪৮নং পদের রচয়িতা। তাঁর রচিত ৪৮নং পদটি খুঁজে পাওয়া যায় নি।
- চতুর্থ সর্বোচ্চ পদ রচনা করেন কুক্কুরীপা (৩টি)।

কুক্কুরীপা রচিত অতিপরিচিত দুটি পঙ্‌ক্তি হলো:
"দিবসহি বহুড়ী কাউহি ডর ভাই।
রাতি ভইলে কামরু জাই।।" চর্যাপদের ২নং পদ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৩০.
শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যের খণ্ড নয় কোনটি?
  1. জন্মখণ্ড
  2. মিলন খণ্ড
  3. বিরহ খণ্ড
  4. ভারখণ্ড
ব্যাখ্যা

• শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যের খণ্ড নয়- মিলন খণ্ড।  

• শ্রীকৃষ্ণকীর্তন:
- বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগের প্রথম কাব্য হিসেবে 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' স্বীকৃত।এ গ্রন্থের লেখক বড়ু চণ্ডীদাস।
- এটি বাংলা ভাষায় কোন লেখকের প্রথম এককগ্রন্থ। মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যে চর্যাপদের পরেই শ্রীকৃষ্ণকীর্তনের স্থান।
- শ্রীকৃষ্ণকীর্তন গীতি-আলেখ্য। রাধাকৃষ্ণের প্রণয়লীলা এর বিষয়বস্তু।
- ১৯০৯ সালে (১৩১৬ বঙ্গাব্দে) বসন্তরঞ্জন রায় বিদ্বদ্বল্লভ পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়া জেলার কাকিল্যা গ্রামে মল্লরাজগুরু বৈষ্ণবমহন্ত শ্রীনিবাস আচার্যের দৌহিত্র বংশজাত শ্রী দেবেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়ের বাড়ির গোয়ালঘর থেকে শ্রীকৃষ্ণকীর্তনের পুথি আবিষ্কার করেন।
- ১৯১৬ সালে (১৩২৩ বঙ্গাব্দ) বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে বসন্তরঞ্জন রায়ের সম্পাদনায় পুথিটি 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' নামে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।
শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যে মোট ১৩টি খণ্ড রয়েছে।

এগুলো হলো-
- জন্মখণ্ড,
- তাম্বুল খণ্ড,
- দানখণ্ড,
- নৌকাখণ্ড,
- ভারখণ্ড,
- ছত্রখণ্ড,
- বৃন্দাবন খণ্ড,
- কালিয়দমন খণ্ড,
- যমুনা খণ্ড,
- হার খণ্ড,
- বাণ খণ্ড,
- বংশী খণ্ড ও
- বিরহ খণ্ড।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া। 

৩১.
'শশী' মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত কোন উপন্যাসের চরিত্র?
  1. শহরতলী
  2. পদ্মানদীর মাঝি
  3. দিবারাত্রির কাব্য
  4. পুতুল নাচের ইতিকথা
ব্যাখ্যা

•'পুতুল নাচের ইতিকথা' উপন্যাস:
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপন্যাস 'পুতুল নাচের ইতিকথা'।
- 'পুতুল নাচের ইতিকথা' উপন্যাস সম্পর্কে মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন- "সাহিত্যিকেরও বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি থাকা প্রয়োজন।"
এই উপন্যাসে সেই বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গির প্রয়োগ আছে।
- এই উপন্যাসে 'পুতুল' বলতে সেসকল মানুষকে বোঝানো হয়েছে যারা চারিত্রিক দৃঢ়তা নিয়ে দাড়াতে পারে না; পুতুলের মতো অন্যের অল্প ধাক্কাতেই চালিত হয়।
- উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র- শশী, কুসুম, গোপাল, সেনদিদি, যাদব পণ্ডিত ইত্যাদি।
- 'শরীর! শরীর! তোমার মন নাই, কুসুম?' উক্তিটি উপন্যাসে ডাক্তার শশী কুসুমকে উদ্দেশ্য করে বলে।

মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস:
- জননী,
- দিবারাত্রির কাব্য,
- পদ্মানদীর মাঝি,
- পুতুলনাচের ইতিকথা,
- শহরতলী,
- চিহ্ন,
- চতুষ্কোণ,
- সার্বজনীন,
- আরোগ্য ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৩২.
কোনটি শওকত ওসমান রচিত ভাষা আন্দোলনভিত্তিক উপন্যাস?
  1. যাপিত জীবন
  2. অলাতচক্র
  3. আর্তনাদ
  4. নিরন্তর ঘণ্টাধ্বনি
ব্যাখ্যা

ভাষা আন্দোলনভিত্তিক উপন্যাস 'আর্তনাদ'। এটি শওকত ওসমান রচনা করেন। উপন্যাসটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত হয়।

-------------------
• শওকত ওসমান:
- শওকত ওসমান কথাসাহিত্যিক, প্রাবন্ধিক।১৯১৭ সালের ২ জানুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার সবলসিংহপুর গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
-তাঁর প্রকৃত নাম শেখ আজিজুর রহমান; 'শওকত ওসমান' তাঁর সাহিত্যিক নাম।
- 'জাহান্নম হইতে বিদায়' শওকত ওসমান রচিত মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক উপন্যাস।

শওকত ওসমান রচিত কয়েকটি উপন্যাস-
- ক্রীতদাসের হাসি,
- রাজা উপাখ্যান,
- দুই সৈনিক,
- নেকড়ে অরণ্য,
- জলাঙ্গী,
- বনি আদম,
- জননী,
- চৌরসন্ধি।

অন্যদিকে, 
• সেলিনা হোসেন রচিত উপন্যাস-  'যাপিত জীবন' ও 'নিরন্তর ঘণ্টাধ্বনি'।
• 'অলাতচক্র' আহমদ ছফা রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৩৩.
'সে আমার সম্পত্তি নয়, সে আমার সম্পদ।' বিখ্যাত উক্তিটি কোন গল্পের অন্তর্ভুক্ত?
  1. হৈমন্তী
  2. সমাপ্তি
  3. পোস্টমাস্টার
  4. মহেশ
ব্যাখ্যা

• 'হৈমন্তী' ছোটগল্প:
- 'হৈমন্তী' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত একটি ছোটগল্প। গল্পে 'হৈমন্তী'র ডাকনাম ছিলো শিশির। -
- 'হৈমন্তী' ছোটগল্পটি মাসিক সবুজপত্র পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়।
- এটি রবীন্দ্রনাথের সমাজসমস্যামূলক ছোটগল্পগুলির মধ্যে অন্যতম।
- উল্লেখযোগ্য চরিত্র- হৈমন্তী (শিশির), গৌরীশংকর, অপু, বনমালী প্রমুখ।

গল্পের কিছু বিখ্যাত উক্তি:
- এ যে দুর্লভ, এ যে মানবী, ইহার রহস্যের কি অন্ত আছে।
- জ্যৈষ্ঠের খররোদ্রই তো জ্যৈষ্ঠের অশ্রুশূণ্য রোদন।
- আমি পাইলাম ইহাকে পাইলাম।
- সে আমার সম্পত্তি নয়, সে আমার সম্পদ।
- অধিকার ছাড়িয়া দিয়া অধিকার রাখিতে যাইবার মতো এমন বিড়ম্বনা আর নাই।
- আমি যাহা বুঝি না তাহা শিখাইতে গেলে কেবল কপটতা শেখানো হইবে।

উৎস: 'হৈমন্তী' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৩৪.
বাংলা ভাষায় বৈষ্ণব পদাবলির আদি কবি কে?
  1. জয়দেব 
  2. বিদ্যাপতি 
  3. চণ্ডীদাস
  4. জ্ঞানদাস 
ব্যাখ্যা

• চণ্ডীদাস:
- বাংলা ভাষায় বৈষ্ণব পদাবলির আদি রচয়িতা কবি চণ্ডীদাস।
- তাঁর রাধাকৃষ্ণ বিষয়ক পদাবলি যুগ যুগ ধরে বাঙালির হৃদয়কে সীমাহীন রসমাধুর্যে পরিপূর্ণ করে তুলেছে।
- চণ্ডীদাস রাধাকে কৃষ্ণপ্রেমে আত্মহারারূপে চিত্রিত করেছেন।
- দেহগত কামনা- বাসনা রাধাচরিত্রে প্রাধান্য পায় নি। কবি তাকে মর্ত্যলোক থেকে বহু দূরদুর্গম অধ্যাত্মতীর্থে স্থান দিয়েছেন।
- চণ্ডীদাস রাধার কামগন্ধহীন প্রেম অত্যন্ত সহজ সরল কথায় ছন্দে ও অলঙ্কার প্রয়োগে প্রস্ফুটিত করেছেন।
- কবি রাধার চরিত্রে মিলনের আনন্দের চেয়ে বিচ্ছেদের বেদনা তীব্রতর করে রূপ দিয়েছেন।

উল্লেখ্য, 
• বাঙালি কবি জয়দেবকে বৈষ্ণব পদাবলির প্রথম পদকর্তা বা পদাবলির আদিকবি বলা হয়। তাঁর রচিত রাধাকৃষ্ণের প্রেমলীলা অবলম্বনে রচিত 'গীতগোবিন্দম্' কাব্যটি আদি বৈষ্ণব পদাবলির নিদর্শন। তবে গ্রন্থটি বাংলা ভাষায় নয়, সংস্কৃত ভাষায় রচিত।

• পরবর্তীতে বিদ্যাপতি ব্রজবুলি ভাষায় প্রথম বৈষ্ণব পদ রচনা করেন। অবাঙালি কবি বিদ্যাপতিকে ব্রজবুলি ভাষায় বৈষ্ণব পদাবলির আদি কবি বলা হয়। উনি অভিনব জয়দেব নামেও পরিচিত।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

৩৫.
গোবিন্দদাসের কাব্যগুরু ছিলেন-
  1. জয়দেব 
  2. বিদ্যপতি 
  3. চণ্ডীদাস 
  4. কানাহরি দত্ত 
ব্যাখ্যা

• গোবিন্দদাস:
- তিনি বৈষ্ণব পদকর্তা ছিলেন। পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার ভগবানগোলার নিকট তেলিয়াবুধুরি গ্রামে তাঁর জন্ম।
- শ্রীচৈতন্য ও চৈতন্যোত্তরকালে যে কয়জন কবি বৈষ্ণবপদ রচনা করে খ্যাতি অর্জন করেন, তাঁদের মধ্যে গোবিন্দদাস অন্যতম।
- গোবিন্দদাসের কাব্যগুরু ছিলেন মিথিলার কবি বিদ্যাপতি।বিদ্যাপতির ভাবশিষ্য ছিলেন গোবিন্দদাস।
- শ্রীজীব গোস্বামী গোবিন্দদাসকে 'কবীন্দ্র' উপাধিও প্রদান করেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৩৬.
'যে অরণ্যে আলো নেই' মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক কোন ধরনের সাহিত্য?
  1. প্রবন্ধ 
  2. উপন্যাস 
  3. গল্পগ্রন্থ 
  4. নাটক 
ব্যাখ্যা

• নীলিমা ইব্রাহিম রচিত 'যে অরণ্যে আলো নেই' একটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক নাটক। নাটকটি প্রকাশিত হয় ১৯৭৪ সালে।

--------------------
• নীলিমা ইব্রাহিম:
- নীলিমা ইব্রাহিম হলেন বাংলাদেশের একজন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক ও সমাজকর্মী।
- নীলিমা ইব্রাহিমের পুরো নাম ছিল নীলিমা রায় চৌধুরী।
- তিনি ১৯২১ সালের ১১ জানুয়ারি খুলনার বাগেরহাটে জমিদার বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন।

নীলিমা ইব্রাহিম রচিত উপন্যাস:
- বিশ শতকের মেয়ে,
- এক পথ দুই বাক,
- কেয়াবন সঞ্চারিনী,
- বহ্নিবলয়।

উৎস বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৩৭.
'ওসমান' চরিত্রটি আখতারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত কোন গ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত?
  1. খোয়াবনামা
  2. চিলেকোঠার সেপাই
  3. দোজখের ওম
  4. খোয়ারি
ব্যাখ্যা

• 'চিলেকোঠার সেপাই' উপন্যাস:
-'চিলেকোঠার সেপাই' বিশিষ্ট কথা সাহিত্যিক আখতারুজ্জামান ইলিয়াস এর লেখা। এটি তার একটি মহাকাব্যোচিত উপন্যাস।
- ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে লেখা উপন্যাস চিলেকোঠার সেপাই।
- উপন্যাসটির প্রধান চরিত্র ওসমান।
- কোন বাড়ির চিলেকোঠায় বাস করেও স্বাধীনতার লক্ষ্যে গড়ে ওঠা বৃহত্তর আন্দোলনের জোয়ারে সেদিন মিলিত হয়েছিল ওসমান।
- এখানে ইতিবাচক রাজনীতির উপস্থাপনায় বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের অব্যবহিত পূর্বরূপটি ওঠে এসেছে।

------------------------
• আখতারুজ্জামান ইলিয়াস:
- আখতারুজ্জামান ইলিয়াস (১৯৪৩-১৯৯৭) কথাসাহিত্যিক।
- তাঁর পূর্ণনাম আখতারুজ্জামান মুহম্মদ ইলিয়াস।
- আখতারুজ্জামান ইলিয়াস বাংলাদেশ লেখক শিবিরের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
- এদেশের প্রগতিশীল ও মানবতাবাদী সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক আন্দোলনের প্রতিও তাঁর পরোক্ষ সমর্থন ছিল। তাঁর লেখায় সমাজবাস্তবতা ও কালচেতনা গভীরভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।

তাঁর রচিত গ্রন্থসমূহ হলো:
• উপন্যাস:
-চিলেকোঠার সেপাই,
- খোয়াবনামা।
(এই দুটি হলো তার মহাকাব্যোচিত উপন্যাস)

• ছোটগল্প:
- অন্য ঘরে অন্য স্বর,
- খোয়ারি,
- দুধভাতে উৎপাত,
- দোজখের ওম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৩৮.
'দুর্গেশনন্দিনী' উপন্যাসের কেন্দ্রীয় নারী চরিত্র কোনটি?
  1. মৃণালিনী
  2. কপিলা 
  3. তিলোত্তমা
  4. বিমলা 
ব্যাখ্যা

• 'দুর্গেশনন্দিনী' উপন্যাস:
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত প্রথম বাংলা উপন্যাস 'দুর্গেশনন্দিনী'।
- এটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক উপন্যাস 'দুর্গেশনন্দিনী'। উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় ১৮৬৫ খ্রিষ্টাব্দে।
- এই উপন্যাসের কেন্দ্রীয় নারী চরিত্র: তিলোত্তমা।
- উপন্যাসের অন্যান্য উল্লেখযোগ্য চরিত্রগুলো হলো: বীরেন্দ্র সিংহ, ওসমান, জগৎসিংহ, তিলোত্তমা, আয়েশা, বিমলা প্রমুখ।

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস:
- কপালকুণ্ডলা,
- মৃণালিনী,
- বিষবৃক্ষ,
- ইন্দিরা,
- যুগলাঙ্গুরীয়,
- চন্দ্রশেখর,
- রাধারানী,
- রজনী,
- কৃষ্ণকান্তের উইল,
- রাজসিংহ।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৩৯.
'পণ্ডিত ঠাকুর' মধ্যযুগের কোন কবির উপাধি?
  1. গোবিন্দদাস 
  2. বিদ্যাপতি
  3. মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
  4. জয়দেব 
ব্যাখ্যা

• বিদ্যাপতি:
- বিদ্যাপতি বৈষ্ণব কবি এবং পদসঙ্গীত ধারার রূপকার। মিথিলার সীতামারী মহকুমার বিসফি গ্রামে এক বিদগ্ধ শৈব ব্রাহ্মণ পরিবারে তাঁর জন্ম। তাঁদের পারিবারিক উপাধি ছিল ঠক্কর বা ঠাকুর।
- বাঙালী কবি না হয়েও বাংলা সাহিত্যে তাঁর অবদান গুরুত্বপূর্ণ।
- বিদ্যাপতি মৈথিলী, অবহষ্ঠ ও সংস্কৃত ভাষায় বহু গ্রন্থ ও পদ রচনা করেন। শৈব বংশে জন্ম বলে তিনি বহু শৈবসঙ্গীতও রচনা করেন। কিন্তু ব্রজবুলিতে রচিত রাধাকৃষ্ণ-বিষয়ক পদগুলিই তাঁর শ্রেষ্ঠ কীর্তি। সুমধুর এই বৈষ্ণব পদাবলির জন্যই তিনি বাংলা সাহিত্যে অমর হয়ে আছেন।
- তিনি 'মৈথিল কোকিল' ও 'অভিনব জয়দেব' নামে খ্যাত।

তাঁর অন্যান্য উপাধি ছিল:
- নব কবিশেখর,
- কবিরঞ্জন,
- কবিকণ্ঠহার,
- পণ্ডিত ঠাকুর,
- সদুপাধ্যায় ও রাজপণ্ডিত।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

৪০.
"আমারে নিবা মাঝি লগে?" উক্তির রচয়িতা কে?
  1. জহির রায়হান
  2. হুমায়ূন আহমেদ 
  3. সৈয়দ অলিউল্লাহ
  4. মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা

• 'পদ্মা নদীর মাঝি' উপন্যাস:
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত 'পদ্মানদীর মাঝি' নামক উপন্যাসটি ১৯৩৪ সাল থেকে 'পূর্বাশা' পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হতে থাকে। পদ্মা তীরবর্তী ধীবর-জীবন এর মূল কাহিনি।

- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের 'পদ্মানদীর মাঝি' ইংরেজি, রুশ, চীনা, চেক, নরওয়েজিয়া, সুইডিশ প্রভৃতি ভাষায় অনূদিত হয়।
- কুবের-কপিলা এই দুই প্রধান চরিত্রের আন্তঃ-সম্পর্কও উপন্যাসটির ভিন্নমাত্রা সংযোজন করেছে।

- উপন্যাসে "আমারে নিবা মাঝি লগে?"- বিখ্যাত সংলাপটি কপিলা, কুবের কে উদ্দেশ্য করে বলে।

- এই উপন্যাসের রহস্যময় চরিত্র হোসেন মিয়া। নতুন চরে জীবনের গান শোনাতে আগ্রহী হোসেন একই সঙ্গে নির্মম ও দয়ার্দ্র, সরল ও ক্রুর, শ্রমী ও মাদক ব্যবসায়ী। ভালো-মন্দ, আলো-ছায়ায় ঘেরা হোসেন মিয়া এই উপন্যাসের এক অপরিহার্য চরিত্র। তবে তার রহস্যাবৃত চরিত্রের সন্ধান সকল মাঝির জানার সুযোগ নেই। তাই তিনি নিরীহ মাঝিদের কাছে ত্রাতার ভূমিকায় সম্মানিত।

উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র হলো-
- কুবের,
- কপিলা,
- মালা,
- ধনঞ্জয়,
- গণেশ,
- শীতলবাবু,
- হোসেন মিয়া ইত্যাদি।

উৎস বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।